Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জন্মভূমি মাতৃভূমি – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প186 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জন্মভূমি মাতৃভূমি – ১১

    ১১

    ফেব্রুয়ারির শেষ। বাতাসে হালকা শীতের ছোঁয়া। সহদেববাবু বৈঠকখানার ইজিচেয়ারে সোজা হয়ে বসে কাগজ পড়ছিলেন। ছাই রঙের আলোয়ানটা কাঁধ থেকে আলতো ঝুলছে। সকালে একবার এ-ঘরে আসে কাগজটা। কাগজঅলা এখানেই দিয়ে যায়। তারপর ভেতরে যায়। সুমিতের পড়া হয়ে গেলে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখবার সময় পান তিনি। বাড়ির ভেতর থেকে রান্নার শব্দ এবং গন্ধ মাঝে মাঝে তীব্রভাবে ভেসে আসে। ডালে সম্বরা দেবার গন্ধ। পাকা লঙ্কা ফোড়নের ঝাঁঝ। সদর দিয়ে একবার দুধ নিয়ে, আরেকবার বাজার নিয়ে চলে গেল দুই নাতি। নিস্তব্ধ সকালবেলা, দু’ চারটে শব্দের ফোড়নে যেন আরও শুনশান। সেন্টার স্প্রেডটা ভালো করে পড়া হয়ে গেল। কানট্রি নোটবুক। লেটার্স টু দি এডিটরে প্রায় লেখেন। সেই চিঠি নিয়ে বিকেলবেলা তুমুল আলোচনা হবে। আশুবাবু আসবেন, গৌতম চাটুজ্জে আসবে। আজও একটা বেরিয়েছে। আসাম-সমস্যা নিয়ে। আসামের সমস্যা তো পশ্চিমবঙ্গের থেকে আলাদা কিছু নয়! অথচ আগাপাশতলা অনুপ্রবেশকারী নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই বাসের মতো বিপজ্জনকভাবে এখনও তো পশ্চিমবঙ্গ চলছে! আর্তনাদ করছে কিন্তু কই রক্তচক্ষু তো দেখাচ্ছে না? তাহলে বাঙালির মধ্যেই কি শুধু মানবধর্ম বেঁচে আছে? নাঃ, ইংরেজিটা এখনও ভালোই লেখেন তিনি। লেখার মধ্যে বেশ জোর আছে। অল্পবয়সে রাজনৈতিক বক্তৃতা করেছেন তো ভেতরের এই শক্তির জোরেই! আহা! কি দেশ কি হয়ে গেল! কত আশা, কত ভরসার স্বাধীনতা! কিভাবে শুধু মুষ্টিমেয় কটা মানুষকে গদীতে বসাবার জন্যে ভারত ভাগ করলে এরা। মহাত্মাজীর নীরবতায় কি গভীর আঘাতই পেয়েছিলেন সেদিন! কথা দিয়েছিলেন তাঁর মৃতদেহের ওপর দিয়ে ভারত ভাগ হবে। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের লজ্জা তাঁকে স্পর্শ করেনি? সেই চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরও তো রাজনীতিতে মাথা গলাতে ছাড়লেন না। কিভাবে আত্মকলহের সুযোগ নিল ইংরেজরা। ছি! ছি! এই কি এডমাণ্ড বার্ক, ডেভিড হেয়ার, উইলিয়াম জোনসের দেশের লোকের কাজ! একবার ভাগাভাগির পথটা দেখিয়ে দিয়েছে, আর···। সামনে ছায়া পড়ল। কে? সদর খোলা। রোদ এসে ঘর ভাসিয়ে দিচ্ছে। তারই মধ্যে দীর্ঘ ছায়া। সহদেববাবু চোখ তুলে অবাক হয়ে গেলেন।

    ‘স্বদেশ নাকি? নাতিবাবু?’ উঠে দাঁড়ালেন সহদেবাবু। বাবু মাথা নীচু করবার আগেই তাকে ধরে ফেলেছেন। বিজয়া দশমীর কোলাকুলি করেই যাচ্ছেন, করেই যাচ্ছেন, সহদেব মুখার্জি। বড় আদরের দেশ তাঁর। দরিদ্র, দুর্নীতিগ্রস্ত, সমস্যাপীড়িত, রুগ্ন তবু নিজের দেশ। ছেলেবেলার ভক্তি, যৌবনের ধ্যানজ্ঞান। নিজের এই দেশের কথা মনে করেই প্রথম নাতির নাম রেখেছিলেন। এই স্বদেশ যুবক, অকপট, বুদ্ধিমান। তেজস্বী অথচ নম্র। তাঁর দেশকে এই রকম চেহারায় আসতে দেখলে সুখে মরতে পারবেন।

    বাবু হাসিমুখে বলল—‘দাদু, তোমার পাঞ্জা আগের মতন আছে তো? লড়ব কিন্তু।’

    —‘তা লড়ো না ভাই। তবে জয়পত্রী আমি আগে থেকেই তোমার হাতে তুলে দিচ্ছি।’

    সাড়া পেয়ে রীণা ভেতর থেকে উঁকি মেরেছে। হাতে মাছভাজার খুন্তি। শাড়ির খানিকটা মাথায়, খনিকটা কোমরে জড়ানো। বাবু বলল—আরে বাস, ন কাকিমা তুমি যে এখনও সুইট সেভেনটিনেই রয়ে গেছো। টুলটুল কোথায়? বাবলু? সুমন?’

    —‘টুলটুল ভেতরে, পড়ছে। বাবলু কলেজ। সুমন কোচিংয়ে। তুই এরকম হঠাৎ।

    —‘আমি এরকম হঠাৎই আসি।’

    বাবু একলাফে রীণাকে পেরিয়ে গেল। জুতোটা খুলে দুতিন লাফে দোতলার সিঁড়ি পেরিয়ে ছাদ। রীণা সিঁড়ির দিকে ঊর্ধ্বমুখে তাকিয়ে ছিলো, মুখে হাসি। বাবু তো তারও ছেলের মতো। মা-বাবা ছাড়া আমেরিকা থেকে যখন আসত তখন শাশুড়ি আর তার কাছেই তো থাকত।

    চিলেকুঠুরিটা এককালে ঠাকুরঘর ছিল। তাছাড়াও আগে এ-ঘরে প্রচুর আচার আমসত্ত্ব থাকত। যমুনাপিসি বলে একজন পুরনো লোক ছিল এ-বাড়ির। সে সারা শীতকাল অজস্র আচার করত। এখন এখানে থাকে রাশি রাশি ঠাকুর দেবতার মূর্তি, মানুষেরও ছবি। পুজো হয় না, পরিষ্কারও হয় না, মাকড়সার জালে ছেয়ে গেছে সব। যে দু’ একটা মূর্তি পুজো করা অত্যাবশ্যক বলে মনে হয়েছে সেগুলো এখন বড়মার ভাঁড়ার ঘরে। এ-ঘরের দেবকুল, পিতৃকুল সম্পূর্ণ বিস্মৃত। বাবু খুঁজতে লাগল। শীতলা, তারা, চতুর্ভুজ বিষ্ণু, রাধাকৃষ্ণ, সরস্বতীর পট, কমলে কামিনী, লক্ষ্মী। ওই তো পেছন দিকে বেঁকে রয়েছে দিদুর ছবি। এটা অপেক্ষাকৃত অল্প বয়সের। যে সময়ে ছ সাত বছরে বাবু তাঁর পায়ে পায়ে ঘুরত। এই দিদুকে বাবু ভালো করে চেনে। মাথায় আধঘোমটা। একদিক থেকে চুলের রাশ বুকের ওপর এসে পড়েছে। কপালে সিঁদুর টিপ। শাড়ির পাড় লাল। রঙ করা ছবি। বুদ্ধিভরা, মায়াভরা চোখ দিদুর। চিবুকে কি গভীর মমতা। মা যাহা ছিলেন। বাবু ছবিটার দিকে তাকিয়ে রইল অনেকক্ষণ। ফিসফিস করে বলল—‘আমি এসে গেছি দিদু। একটু দেরি হয়ে গেল। কিন্তু তুমি তো এখনও আছে, তাই না?’

    —‘কে? কে ওখানে?’

    চমকে পেছন ফিরে তাকিয়ে বাবু দেখল—ভীষণ ফ্যাকাশে, অদ্ভুত দর্শন এক মহিলা, মাথার চুলগুলো উঠে গেছে। কপাল অবধি ঘোমটা তুলে দিয়ে ঘরের দরজায় হাত রেখে দাঁড়িয়ে। সে উঠে দাঁড়িয়ে বলল—‘আমি বাবু, স্বদেশ। এ-ঘরে দিদুর ছবি খুঁজতে এসেছিলুম।’

    —‘আমি তোমার বড় জ্যাঠাইমা। চিনতে পারছো না, না? কী করে পারবে? রোগে রোগে শরীর এমনি হয়েছে।’

    পেছনে মেজজেঠী এসে দাঁড়িয়েছেন, বললেন,—‘থাক দিদি, সবে এসেছে। কী বলছো ওকে।’

    হঠাৎ মনে পড়ল, নীচু হয়ে দুজনকে প্রণাম করল বাবু।

    বড় জেঠিমা বললেন—‘আহা, কি সুন্দর ছেলে রে শান্তি। দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। দ্যাখ শান্তি, কতদূর থেকে এসে ও আগে ঠাকুর পেন্নাম করছে। আমি ঠাকুরঘরের মোটে যত্ন নেইনি। তাই-ই বোধহয় আমার এ রোগ হল।’

    বাবু বলল—‘কী বলছো জ্যাঠাইমা! এসব ভাবনার কোনও মানে হয়?’

    মেজ জেঠিমা বললেন, ‘কতক্ষণ ছাদে দাঁড়িয়ে থাকবে? নীচে চলো। তোমার বড়দির সঙ্গে দেখা করবে না?’

    দুজনে আস্তে আস্তে ধরে ধরে বড় জ্যাঠাইমাকে নামিয়ে ওঁর ঘরে শুইয়ে দিল। বাইরে আসতে আসতে মেজ জেঠিমা বললেন—‘দিদির মাথাটাও আস্তে আস্তে কেমন হয়ে যাচ্ছে। থেকে থেকেই আমায় বলবে ওপরে ঠাকুরঘরে নিয়ে যেতে। এইসব উল্টো-পাল্টা ভাবছে তা তো বুঝিনি। আসছে পুন্নিমেয় সত্যানারায়ণের শিন্নি দিতে বলছে।’

    বাবু খুব অভিজ্ঞ লোকের মতো বলল—‘দাও না জেঠিমা, যাতে ওঁর মনে শান্তি আসে তাই করো। শান্তিটাই আসল।’

    একটা বাড়ি এতো বিবর্ণ, প্রাণহীন হতে পারে, ভেতরকার আবহাওয়া এমনি কবরখানার মতো ভয়াবহ রকমের শীতল হতে পারে, না এলে, না দেখলে বিশ্বাস করতুম না। মণি লিখেছিল, কিন্তু মণি একেক সময় ভাবাবেগে বড্ড অতিকথন করে। তাছাড়া মণি হঠাৎ এখানে এসে এ-বাড়িতে প্রাণশক্তি অনুভব করবে এটা আশা করাও অন্যায়। ও তো এখানে আরোপিত! কিন্তু এখন দেখছি মণির কথাই ঠিক। আমার ছোটবেলার স্মৃতির বাড়ি, যেখানে আমি বারবার ফিরে এসেছি, সে অন্যরকম। অনেক বড়, অনেক খোলামেলা। রোদ, হাওয়া, ফুলগাছ। ঝারি করে জল দিতুম আমরা। আমি, সুনীলদা, শুচিদি। সবাই চলে গেছে। সুনীলদা ধানবাদে। শুচিদি মধ্যপ্রাচ্যে। বড়পিসি নিয়মিত আসে না। বাড়ি নদীর মতো। প্রিয় মানুষদের যাওয়া-আসা না থাকলে স্রোতহীন নদীর মতো মজে যায়। এ-বাড়িটাও বোধহয় তাই। বাড়িটা অনেকগুলো ভুল করেছিল, সেই ভুলের স্বরূপ কি আমি জানি না। কিন্তু সেই জন্যেই এ-বাড়ির স্রোত বন্ধ হয়ে গেছে। ওপরের ওই ঠাকুরঘরটায় কিছু মূর্তি আর পট ছিল, নিয়মিত পুজো হত। তাই ঘরটা থাকত পরিষ্কার, ফুল ধূপ আর ধুনোর গন্ধে ভরপুর। ছাদে এলে কত কথা বলতেন দিদু। তিয়াত্তর সালে দিদুকে শেষ দেখেছি। বলতেন—‘জানিস বাবু, এই ঠাকুরঘরটা এক হিসেবে আমাদের জীবনের কেন্দ্র। কেন না এখানে আমাদের মনোযোগ, ধ্যান, ভক্তি আর প্রার্থনা আমরা সমর্পণ করছি। বদলে পাচ্ছি আত্মবিশ্বাস, শান্তি। ঠাকুর-দেবতারা নিজেরা, তাঁদের চারটে করে হাত, একাধিক মুখ, আয়ুধ এ সব আসল নয়। আসল হল এর পেছনে যে মহৎ কল্পনাশক্তি কাজ করেছিল সেটা, সেই ভাবটা। অন্যায়, অবিচার, হিংস্রতা, লোভ—এসবকে আমি হত্যা করছি, আকাশের মতো এক বিরাটত্বকে আমার মধ্যে আসন পেতে বসাচ্ছি—এই ভাবটা নিয়ে আমি এখানে বসি। আমার তো আর কিছু করার জো নেই! তোরা এগুলোকে হাতে-কলমে করবার সুযোগ পাবি।’ একটু মুখ উঁচু করে দিদু কথাগুলো বলতেন, আমার মনের মধ্যে কেটে কেটে বসে যেত কথাগুলো। হিউসটনে আমার মিশন স্কুলে যিশুকে কেন্দ্র করে কত কি-ই হত। যিশু একজন ঐতিহাসিক মানব। আর পাঁচজন মানুষের মতো, অথচ বড়। তাই আমার মনে নানা প্রশ্ন জাগত দিদুদের এই অদ্ভুত দর্শন দেবতাদের পুজো করায়। দিদু ছোট বলে মোটেই আমাকে, আমার প্রশ্নকে তুচ্ছ করতেন না। এইভাবে উত্তর দিতেন। আমার মনে হত দিদুর আরও অনেক কথা বলার আছে, আমি বুঝব না বলে বলেন না। সেই না-বলা-কথাগুলো দিদুর কপালে, ঠোঁটে কি এক রহস্যময় আলো ফেলত। একমাত্র ছাদে বা ঠাকুরঘরেই এই দিদুকে দেখা যেত। নীচে নামলেই দিদু অন্যরকম। ঘোমটা-মাথায় এ-ঘর-ও-ঘর করছেন, রান্না করছেন, বড়দির ধমক খাচ্ছেন, আমি পেছন-পেছন ঘুরছি। দিদুর বাবা স্বাধীনতা-আন্দোলনে মারা যান। আমার দাদুও কিছুদিন জেল খেটেছিলেন। দিদু বলতেন—‘তের বছর বয়সে নোলকপরা ছোট্ট পিতৃহীন মেয়েটি, সবাই বিয়ে দিয়ে দিলে। আরেকটা জীবন পেলে নিশ্চয় অন্যভাবে কাটাতুম।’ বড় পিসির ছেলে দীপকদা যখন নকশাল হয়ে গেল, দিদু ওকে চুপিচুপি টাকা দিতেন, ওর পাঠানো অস্ত্রশস্ত্র নিজের তোরঙ্গে শাড়ির তলায় রেখে দিতেন আমি জানি। দীপকদা নিরুদ্দেশ হয়ে যেতে, দিদু গুম হয়ে গিয়েছিলেন। আমাকে বলতেন—‘দীপককে ওরা মেরে ফেলেছে এ কখনও সত্যি হতে পারে না। দীপকের মধ্যে আগুন আছে।’

    দাদুকে দেখে আজ একটা কথা আমার মনে হল, দাদু খুব ভালো, কিন্তু দাদু একচক্ষু হরিণ। দেশের মুক্তির জন্য যারা লড়াই করে নিজেদের অন্তঃপুরের মানুষদের মুক্তির জন্য তারা একটু লড়াই করবে না? আর এ লড়াই তো বেশির ভাগটাই নিজের ভেতরকার স্বার্থপরতার সঙ্গে লড়াই! দিদুর দুহাতে একটা কিসের শৃঙ্খল ছিল, একটু ইচ্ছে করলেই দাদু সেটা ভেঙে দিতে পারতেন। এই যে বড়জেঠি, মেজজেঠি ওঁদের হাতেও শেকল। শেকল স্বভাবের মধ্যেও ঢুকে গেছে। ওঁরা বোঝেন না, একটা বোবা কষ্টের মধ্যে থাকেন।

    টুলটুল কথায় কথায় বলল—‘জানো বাবুদা, আমি এই অন্ধকার বাড়িটা থেকে বেরিয়ে যেতে চাই। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।’

    টুলটুলের ওপর আমার অনেক ভরসা ছিল। ছোটবেলায় টুলটুলটা খুব জলি ছিল। ও আমি আর বাবলু মিলে দিদু আর কাকিমাকে অনেক জ্বালিয়েছি। খুব দুরন্ত ছিল ও। আমাদের সঙ্গে সমান তালে ক্রিকেট-ফুটবল খেলত। এখন খুব শান্ত হয়ে গেছে। শান্তও না, মন মরা।

    আমি বললুম—‘চাকরি-টাকরি করলে, আর্থিক স্বাধীনতা পেলে দেখবি সব অন্যরকম লাগবে।’

    টুলটুল বলল—‘সে-ও তো আরেক রকমের দাসত্ব। তার চেয়ে আমার বাবাকে বলো বিয়ে দিয়ে দিতে।’ একটু লাজুক চোখে চেয়ে বলল—‘বিদেশ যাবার চান্স আছে এমন বর দেখতে বোলো, হ্যাঁ?’

    আরে রাম রাম! এ বলে কি? আমরা, এতো কষ্ট করে শেকড় ছিঁড়ে-খুঁড়ে এদেশে এলুম, আমাদের প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিচ্ছেন হাওয়ার বেগে একবিংশ শতাব্দীতে পৌঁছে দেবেন। আর এখানকার মেয়ে কি না বিদেশে পালাতে চাইছে!

    টুলটুল আঙুলে আঁচল জড়াতে জড়াতে বলল—‘তোমাদের পূর্বপুরুষেরা লোকের হাতের রান্না খেতে পারেন না। মা কতদিন মামার বাড়ি যায় না জানো? অত বাঁধাবাঁধি আমার ভালো লাগে না। বাড়িতে বন্ধুবান্ধবদের ডাকতে পারি না। দাদু এমন করে তাদের ঠিকুজি-কুলুজি নিতে শুরু করেন যে আমার লজ্জা করে।’

    মাকে ফোন করে আমি ন কাকীর কাছে থেকে গেলুম দিনটা। মার বোধহয় অভিমান হল, ‘আচ্ছা’ বলে ফোন রেখে দিল।

    এতগুলো বছর বিদেশবাসের পর, মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে সব চেয়ে মূল্যবান বলে চিনেছি। সেই হিসেবে এই নাগরিক সভ্যতায় ক্রমেই মরুভূমি তার জিহ্বা বিস্তার করছে। প্রাইভেসি-রক্ষার তাগিদে সঙ্কুচিত হয়ে চলেছে পরিবারের সীমা। শেষ পর্যন্ত শুধু একটি জীবনবিন্দু। বৃদ্ধাবাস। মরুভূমির মধ্যে ওয়েসিস কি আর নেই। প্রোফেসর সোয়েনগার্টেন আর তাঁর স্ত্রী এলসা ছিলেন হার্ভার্ডে। আগেকার কালের গুরুপত্নীর মতো এলসা প্রোফেসরের সমস্ত ছাত্রের খোঁজ খবর রাখতেন। ফ্লু হয়েছে, মাথা তুলতে পারছি না, তিনদিন নিজের ঘরে বড়ি গিলে শুয়ে আছি। হঠাৎ জ্ঞান হতে দেখি এলসা গরম দুধের কাপ নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। থিসিস শেষ হবার পর আমার সম্মানে পার্টি দিলেন প্রোফেসর। রবিনসভিলে নিজে হাতে কাঠের কুটির বানিয়ে থাকেন ন্যাচারর‍্যালিস্ট ডেরেক। নিজের আনন্দে নিজেই মগ্ন হয়ে আছেন, পুরো রবিনসভিল গ্রামটাই ওঁর পরিবার। ওঁর অসুখ করলে পুরো গ্রামটাই ওঁর দেখাশোনা করে। আমার বন্ধু কুপারের পরিবার ছিল অবিকল একটি হিন্দু যৌথ পরিবারের মতো। গ্রীনিচ্ গ্রামে বিশাল খামার ওদের। তিন ভাই তিনটে কটেজ। এক একদিন এক এক জনের কুটিরে খাওয়া-দাওয়া হয়। কুপারের মা ছিলেন অত্যন্ত স্নেহপ্রবণ মহিলা!

    আমি আপাতত এই ভূতের বাসায় থাকব। দেখব এদের অসুখটা কোথায়। কি অসুখে এত বড় বাড়ি মানুষ থাকলেও জনহীন, অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে প্রাণ নেই। দাদু দেখছি নিজের স্বপ্ন এবং স্বপ্নভঙ্গ নিয়েই মশগুল। একই সঙ্গে উনি সপ্তদশ আর বিংশ শতকে পা রেখে চলেছেন। চারপাশে যে কিছু প্রিয়জন রয়েছে, তাদের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক যে কখনও বজ্ৰ-আঁটুনিতে, কখনও অতি-উদাসীনতায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সে চেতনা দাদুর নেই।

    সন্ধেবেলায় মেজ জেঠু অফিস থেকে ফিরলে গল্প হল অনেক। আমাকে দেখে খুব খুশী। বললেন—‘আর কটা মাস পরেই রিটায়ার করছি, কি যে করবো!’

    —‘সুনীলদার কাছে ধানবাদে চলে যাবে!’

    —‘ওরে বাবা ওখানে যা ভয়াবহ গরম আর পাথুরে শীত! ও আমার সইবে না।—’

    —‘তাহলে নেশা করো।’

    —‘সে কিরে? ও কি বলছিস?’

    আমি হেসে বললুম—‘ভ্রমণের নেশা। দুজনে মিলে থেকে থেকেই বেরিয়ে পড়বে। সব সময়ে যে খুব দূরে যেতে হবে তার মানে নেই। পশ্চিমবঙ্গ টুরিস্ট ব্যুরোতে খোঁজ নাও। অনেক ছোটখাটো জায়গা আছে কাছাকাছি।’

    —‘এটা তো মন্দ বলিসনি? তবে তোর জেঠি পারবে না। সংসারও আছে।’

    আমি বললুম—‘মেজজেঠিমার আবার সংসার কী? ওঁকে না নিয়ে গেলে তোমার ভ্রমণ নেশায় আমার আপত্তি আছে।’

    —‘মাকে দেখাশোনা করবে কে?’

    —‘বড়দি এখনো যথেষ্ট সক্ষম আছেন। নিজেরটা এখনও নিজে চালিয়ে নিতে পারেন।

    —‘বউদি!’

    —‘কেন বড়জ্যাঠা করবেন। দুচারদিনের জন্য সবাই পারবেন, পারতে হবে।—’

    ছাত্রজীবনের কথা বলতে লাগলেন মেজজেঠু। বললেন, ‘জানিস। বাবার হাতে পায়ে ধরেছিলুম। এঞ্জিনিয়ারিং পড়বার জন্যে। বলেছিলেন—মিস্ত্রি হবার জন্যে অত টাকা কে দেবে। ফিজিক্সে হাই সেকেন্ড ক্লাস পেলুম। বাবা এম-এস-সি পড়তে দিলেন না—চাকরি পাচ্ছো, ঢুকে যাও। ওই এক কথা। আমার সেই ফিজিক্সের ডিগ্রি মার্চেণ্ট অফিসের কোন্ কাজে লাগল? তোরা সুযোগ পাচ্ছিস। তোদের বাবারা তোদের জন্য করছে। তোদের ভাগ্যই আলাদা।’

    জীবনের এতগুলো দিন কাটিয়ে এসেও এঞ্জিনিয়ারিং পড়তে না পারার দুঃখ মেজজেঠু বেচারির যায়নি।

    আমি বললুম—‘আমার কিন্তু ছোট্ট একটু আনন্দের কারণ আছে। স্কুলের পর আর বাবা মার পয়সা খরচ করতে হয়নি আমার জন্য।’

    —‘স্কলারশিপ পেতিস?’

    —‘তা-ও পেয়েছি। চাকরিও করেছি। গ্যারাজে চাকরি করেছি। ব্যাঙ্কে করেছি। কুলির কাজ পর্যন্ত করেছি দরকার পড়লে।’

    মেজজেঠু অন্যমনস্ক হয়ে বললেন, ‘হ্যাঁ ওদেশে এরকম অনেকেই করে শুনেছি। ভালো ভালো। আমাদের এখানে কেউ ভাবতেও পারে না। সুনীলের জন্যে আমার হাজার হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। বিয়েতে কাকাবাবু পণটনও নিতে দিলেন না কিছুতেই যে পুষিয়ে নেবো।’

    খুব হাসি পেয়ে গেল আমার। এইটা দাদুর বিংশ শতকে পা-রাখা চেহারা।

    একটু পরে সুমন আর বাবলু এসে বসল। তক্তপোশের একধারে বসে মেজজেঠিমা উল বুনছেন। সুমনটা খুব ছেলেমানুষ। বলল—‘বাবুদা, তুমি কোথায় শোবে?’

    আমি খুব গম্ভীর ভাবে বললুম—‘বড়দির কাছে।’ ওর চোখ দুটো গোল্লা গোল্লা হয়ে গেল। বড়দির কাছে যে কেউ স্বেচ্ছায় শুতে পারে ওর ধারণায় বোধহয় সেটা আসে না।

    মেজজেঠিমা বলেন—‘তুই না হয় এ বেলা আমার কাছে খা।’

    আমি বললুম, ‘এই দ্যাখো, মুশকিল করলে। নকাকিমা আবার সকালবেলায় নাকি জমিয়ে খাওয়াতে পারেনি, এবেলা কিসব রাজসূয় আয়োজন করেছে। কাল সকালে তোমার কাছে খাব এখন।’

    —‘কি তুই ভালোবাসিস বল!’

    ‘এনিথিং অ্যান্ড এভরিথিং।’

    ‘তার মানেই আমাদের কিছুই তোর ভালো লাগে না।’

    ‘কী করে তুমি এমন একটা কনক্লুশনে এলে গো জেঠিমা। য়ু আর গ্রেট। তবে একটা জিনিস খাওয়াতে পারো। মানকচু আর নারকোল দিয়ে দিদু একটা কি ব্যাপার করত। দারুণ খেতে হত। ঝাল-ঝাল, মিষ্টি-মিষ্টি!’

    ‘ঠিক আছে দেখি পারি কিনা। তাছাড়া চেতল মাছ আনতে দেবো এখন। মুঠ খাবি চেতল মাছের।’

    আমার মুখে এসে গিয়েছিল বাবলু, টুলটুল, আর সুমনও খাবে জেঠিমা। খুব সামলে নিয়েছি। ওঁদের একরকম ব্যবস্থা। স্বতস্ফূর্তভাবে যা করছেন তার ওপর কিছু চাপাতে গেলে হয়ত ওঁর আনন্দটুকু মাটি হয়ে যাবে। অতএব নিজের আনন্দ কুরবানি দিয়ে আমাকে এই ব্যবস্থাই মেনে নিতে হবে। যথেষ্ট বড় হয়ে গেছি। চাকরি করছি। বাজার থেকে নিজেই মাছ-টাছ এনে বলতে পারতুম, ‘লাগাও জেঠিমা, ন কাকিমা, বুলবুল হাত লাগা, আমিও লাগাচ্ছি।’ কিন্তু মনে হচ্ছে ওরকম কিছু করতে গেলেই মেজজেঠু বলে উঠবেন, ‘চুপ করো জ্যাঠা ছেলে।’

    টুলটুলের সঙ্গে গল্প করলুম রাত পর্যন্ত। ও এবার এম-এ ফাইনাল দেবে। রেজাল্ট বেরোতে এত দেরি করেছে যে ওর প্রায় দুবছর দেরি হয়ে গেল। ওর খালি এক কথা কিছুই ভালো লাগে না। ধমক দিলুম, এতো ডিপ্রেস্‌ড্ হয়ে থাকার জন্য। বলল, ‘ভালো লাগবে কী করে বলো তো? কিছুই তো পারি না। গান-বাজনা-খেলাধুলো কিচ্ছু না। কোনরকমে পাশ করতে পারি আর হাতা-খুন্তি নাড়তে পারি।’

    টুলটুলটা বেঁচে থাকায় কোনও আনন্দ খুঁজে পাচ্ছে না। নিজের মধ্যে অস্তিত্বের কৈফিয়ৎ খুঁজছে। কি যে করা যায়! মস্ত বড় কিছু একটা করতে না পারলে জীবন বৃথা এই ধরনের একটা অবসেশন এদের মধ্যে ঢুকে গেছে। এটা কাটাতেই হবে। ও ঘুমোতে চলে গেলে আমি উঠে পড়লুম। আমাকে যেন কিসের নেশায় পেয়েছে। যত রাত হয়, যত চারদিক নিঝুম হয় তত একটা অন্য শব্দ কায়াহীন বৃষ্টির মতো রিম্‌ঝিম্ করতে করতে ভাঙাচোরা চকমিলোনো বাড়িটার আনাচ-কানাচ থেকে ঝরে ঝরে পড়ে। কখনও মনে হয় অনেক ঘোড়ার খুরের শব্দ পাচ্ছি। হাওয়ায় তরোয়াল চালানোর শাঁই শাঁই শব্দ। কারা যেন হুড়মুড় করে পালাচ্ছে। দূরে কোথাও কামান গর্জন করে উঠল। ছপাৎ ছপাৎ করে জলে লাফিয়ে পড়ছে কারা। অস্পষ্ট সব শব্দ উড়ে বেড়াচ্ছে। দালানে, বড় হল ঘরটায়, শব্দ শুধু শব্দ। বড়দির পাশে একটা শতরঞ্চি আর বালিশ নিয়ে শুয়ে পড়লুম। বড়দি শুধু একবার চেয়ে দেখলেন, কিছু বললেন না। অনেকক্ষণ পরেও দেখি বড়দি বসেই আছেন, বসেই আছেন।

    ‘ঘুমোবে না বড়দি।’

    ‘ঘুম আসে না দাদা।’

    ‘তবে গল্প করো।’

    ‘গল্প কোথায় পাবো?’

    ‘তোমার ছোটবেলার গল্প করো।’

    বড়দি হেসে উঠলেন, ‘আমার ছোটবেলা? আমি তো জন্ম থেকেই বুড়ি রে।’

    ‘বলো না বড়দি প্লীজ। ধরো তোমার বাবা-মার কথা, তোমার বিয়ের আগেকার কথা।’

    ‘তারাপ্রসন্ন আচার্যির নাম শুনেছিস?’

    শুনিনি কিন্তু খুব উৎসাহের সঙ্গে বললুম—‘হ্যাঁ।’

    ‘সেই বাবু তারাপ্রসন্নর দ্বিতীয় পক্ষের মেয়ে ছিলুম। আট মহলা বাড়ি, মাটিতে পা পড়তো না, এ মহল থেকে ও মহলে যেতে পালকি আসত। গা ভরা ঝমর ঝমর গয়না। কোলে পুতুল। কাঁখে পুতুল। আমার মা ছিলেন ডাকসাইটে সুন্দরী আর বিদূষী। সংস্কৃত জানতেন, ইংরেজি জানতেন। বাড়িতে টুলো পণ্ডিত রেখে, মেম রেখে শেখানো হয়েছিল সব। বাবা দুম করে মারা যেতে সব্বাই একধার থেকে বলল অত বিদূষী বলেই বেধবা হল। মারও মাথা মুড়িয়ে দিল, আমাকেও তোর বুড়ো দাদুর সঙ্গে বে দিয়ে দিল। ব্যস, ছেলেবেলা শেষ।’

    ‘বুড়ো দাদু কেন বড়দি? তোমার সঙ্গে যখন বিয়ে হয় বড়দার কত বয়স ছিল!’

    ‘আমার আট আর তার উনিশ।’

    আমি হো হো করে হেসে উঠলুম—‘বাবলুর বয়সী এক ছোকরাকে তুমি বুড়ো বলছ?’

    ‘এই মোচ্ কুস্তিগীরের মতো চেহারা। চোখ যেন বাঘের মতো। বুড়ো বলব না? বুড়ো কি আর দেহে হয় রে? মনে হয়। রসকষ বলতে কিচ্ছুটি ছিল না। খালি শাসন খালি শাসন। পুতুল খেলনা আমার ছুঁড়ে ফেলে দিত। শাশুড়িকে সব সময় নালিশ। মা ব্যাটার কাছে আর ব্যাটা মায়ের কাছে সদাসর্বদা চুকলি কাটছে। ছোটটি পেয়ে তিনি কি মারটাই দিতেন। তার ওপর ছিল যখন তখন ছড়াকাটা।’

    ‘ছড়া? কীরকম ছড়া বড়দি?’

    ‘শুনবি? ‘বড় মানুষের কালো ঝি/ তার মুয়ে আবার এত বচন কি?

    ‘বড়মানুষের কালো বিটি/ তার অমন মুখে ঝাঁটা পিটি।’

    ‘রীতিমতো কবি ছিলেন তো দেখছি তোমার শাশুড়ি!’

    ফোকলা মুখে দুষ্টু হাসি হেসে বড়দি বললেন, ‘আমিও ছড়া কাটতে কম যেতুম না। শুনবি?’

    ‘নিশ্চয়, নিশ্চয়।’ আমি উৎসাহের চোটে উঠে বসলুম।

    বড়দি বললেন, ‘কটা মায়ের কটা ব্যাটা

    হাতে আবার লাঠি সোঁটা

    চোর পিট’ গে’, ডাকু পিট গে,’ গোরা পিট গে’ যা।

    তা না মায়ের মুখে চুকলি খেয়ে বউয়ের পিঠে ঘা?’

    দুজনে মিলে খুব খানিকটা হাসলুম।

    বড়দি বললেন, ‘ছেলেমেয়ে কতকগুলো হয়ে হয়ে মরে গেল। শাশুড়ি বলতেন, ‘বাঁচবে কি? রাক্ষুসীর পুত রাক্ষুসী নিজেই গিলে খায়।’ ভয়ে কান্না পর্যন্ত গিলে ফেলতুম!’

    ‘কেন বড়দি? তোমার অত বিদূষী মা; তোমার অত ধনী বাপের বাড়ি কেউ দেখাশোনা করত না?’

    ‘ওরে না রে না, সেসব দিনে সব বউ ঝিকে শ্বশুরবাড়ির খোয়ার সহ্য করতে হত। আর মা যে এদের রকম সকম দেখে আমার এক সিন্দুক গয়না আটকে রেখেছিলেন! আমাকে খালি বলত—গয়নার বাক্সের চাবি দাও। আর আমি বলতুম, চাবি মায়ের কাছে। তাইতে তো আরও চটে যেত মায়ে ব্যাটায়। একে তো ওই খোয়ার, তার ওপর ইস্ত্রীধন গয়নাটুকু হাতে তুলে দিয়ে মরি আর কি!’

    ‘তবে তো তুমি খুব বড়লোক বড়দি!’

    ‘তা বই কি! দশ লাখ টাকার গয়না তো হবেই কমপক্ষে। বেশি তো কম নয়, বড়দি উদাস গলায় বললেন, বাউটি, পৈছে, বাজু, খাড়ু, মফ্ চেন, সীতে হার, কাঁকন, কণ্ঠী, চিক, সে কত! সোনাই তাল তাল, তা পরে ছিল হীরে, পান্না, চুনী, সব আলাদা আলাদা সেট।’

    ‘ছিল কেন বলছো, বড়দি। সব দিয়ে দিয়েছ?’

    ‘দিয়ে দিয়েছিই বটে, তোকে চুপিচুপি বলছি দাদা, কারুকে বলিসনি। আমার সে গয়না যে দিয়েছিল সেই গর্ভধারিণী মা-ই নিয়েছে।’

    ‘সে কি?’

    ‘আহা, মায়ের আমার শেষ জীবনে সে কি কষ্ট! জ্ঞাত-গুষ্টি যা ছিল সব লুটেপুটে নিচ্ছে। বিদ্যে থাকলে কী হবে? ভালোমানুষ বেধবা কাউকে কিচ্ছুটি বলতে পারতেন না। শেষ বয়সের আতপান্ন আর একটু দুধ-কলা। আফিম খেতেন। সেই আফিম, সে-ও বুঝি যোগাড় হয় না। আমার গচ্ছিত গয়না দিয়েই মার জীবন চলল। মা মরতে সিন্দুক খুলে দেখি ভোঁ ভাঁ। তা হয়েছে, হয়েছে বেশ হয়েছে। ও জন্যে আমি দুঃখু করি না।

    আমি অবাক হয়ে রইলুম। এই বড়দি নাকি স্বার্থপর, দোর্দণ্ডপ্রতাপ! দজ্জাল! আস্তে আস্তে জিজ্ঞেস করলুম—‘আমার দিদুর কথা বলো বড়দি!’

    ‘তোর দিদু ছিল রাঙা টুকটুকে। এই চোখ, এই নাক, এ-ই কোঁকড়া চুল। সে আসতে বুঝি তোর বড়দা আর তার মার দুঃখু ঘুচল। বড় হয়ে যখন ঘর করতে এলো চা দেবে ছোট বউমা, পান সেজে দেবে ছোট বউমা। আপিস থেকে ফিরে সে মানুষ আগে আদর করবে তোর বাবাকে। সে কি আদর! তোর বড়জ্যাঠা বললে—ডাক্তারি পড়ব, —না। মেজ বললে—এঞ্জিনিয়ারি পড়ব—না।’

    আমার চোখের সামনে থেকে কুয়াশা সরে গেল। কালোকালো নোলকপরা বড়লোকের আদরের দুলালী। অনাদরে, অবহেলায়, অপমানে পাগল-পাগল, দু চোখে হিংসার পান্না ঝলসাচ্ছে। ভেতরে কঠিন সব সংকল্প জন্মাচ্ছে। দাঁতে দাঁত। প্রতিহিংসা। ছোট্ট এতটুকু সংসারের পরিসর। তারই মধ্যে সে ব্লাডি মেরি, ক্যাথারিন দা গ্রেট। কী করবে? যা পেয়েছে সুদসুদ্ধু তাকে তো তা ফেরত দিতে হবে! আমি বড়দির ফাটা পায়ে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলুম। চিরকালই একা ছিলেন, এখন আরো একা। দিদুর তবু আমি ছিলুম। সুনাম ছিল। বাড়িসুদ্ধু ছেলে-মেয়ে বউয়ের ওপর অধিকার আর শাসন জারি করেও বড়দি একেবারে নিঃস্ব। আস্তে আস্তে উনি ঘুমিয়ে পড়লেন। বড়দির ঘরে রাজ্যের পুরনো জিনিসের গন্ধ। এত জিনিস জমিয়ে রেখেছেন অথচ সুখস্মৃতির কোন সঞ্চয় নেই। তবু গন্ধটার একটা নিজস্ব আবেদন আছে। বুক ভরে সেই পুরনো-পুরনো একাকিত্বের গন্ধ নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলুম। অন্ধকার দালানে আবার সেই ঝিন ঝিন ঝিন ঝিন শব্দ চারিদিকে। ফাঁকা মাঠ দিয়ে পালকি চলছে, রে রে করে যেন সশস্ত্র ডাকাত পড়ল। কারা ইনিয়ে বিনিয়ে কাঁদছে। খুব ঢাকঢোল বাজছে কোথাও, বাতাসে মানুষের চামড়া পোড়ার দুর্গন্ধ। বাইরের দিকে এলুম। কার্নিশে পায়রাগুলো বু বু বু আওয়াজ করছে। ওদিকের ঘর থেকে দাদুর কাশির শব্দ ভেসে এলো। দোতলায় চলে এলুম। তারপর ছাদ। হু হু করে ঠাণ্ডা হাওয়া দিচ্ছে। ঝড়ো হাওয়া। ভাগনার্স গ্যাপে মাথার ওপর দিয়ে হাজার হাজার বাজপাখি ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে ছুটে চলেছে। ঠাকুরঘরের দরজাটা খুলে দিয়ে আলো জ্বেলে দিলুম। ঝুল পড়া বাল্‌বটা থেকে আলোর চেয়ে ভুতুড়ে একটা আবছায়াই হল বেশি। লক্ষ্মীর পটের পেছন থেকে দিদুর চোখ আমার দিকে চেয়ে হেসে উঠল। বাঁ দিকের দেয়ালে বড়দাদু। ওপর দিকে মালা জপছেন একজন শুষ্ক বৃদ্ধা। নিশ্চয় দাদুদের মা।

    বড়দাদু বললেন, ‘আমরা অনেক ভুল করেছি ভাই। তোমরা কোরো না।’

    ‘করেছ? স্বীকার করছো তাহলে?’

    ‘নিশ্চয়। অনেক অন্যায়, অনেক অবিচার করেছি। তাতে করে মানুষ পাল্টে গেছে। যার যা হবার কথা ছিল সে তা হয়নি।’

    দিদুর দিকে চাইলুম। দিদু বললেন, ‘তুই আমার মুক্তি, তুই এদেরও মুক্তি বাবু। তোর ওপর থেকে আমি আমার একার দাবীর হাত তুলে নিলুম।’

    নীচে নেমে এসে দাদুর পাশে শুয়ে পড়লুম। দাদু চিত হয়ে শুয়ে ঘড়ঘড় শব্দ করছেন গলায়। আস্তে পাশ ফিরিয়ে দিলুম। ভোর রাত্রে খুব সুন্দর এক পশলা ঘুম হল। সকালে খেতে বসে দেখি টুলটুল, সুমন, বাবলুরও নেমন্তন্ন। কি আনন্দ! চার ভাইবোনে মেজজেঠিমাকে খুব শাবাশ দিয়ে খেলুম। তারপর দাদুকে নিয়ে বাড়ি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঝড়ের খেয়া – বাণী বসু
    Next Article গান্ধর্বী – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }