Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জন্মভূমি মাতৃভূমি – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প186 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জন্মভূমি মাতৃভূমি – ১৪

    ১৪

    স্বর্ণেন্দু হঠাৎ এইভাবে সেরিব্র্যাল অ্যাটাকে মারা যাবে, ভাবতেও পারি নি। একেবারে সুস্থ সবল মানুষটা। অথচ শরীর ভরা যন্ত্রণা নিয়ে এখনও দিন চলছে বড় বউদির। যতবার যাই বলেন, ‘সেজোঠাকুরপো এবার আমায় ছেড়ে দাও, আর পারছি না।’ বাকি জীবনটা খুব নিশ্চিন্তে আপনজনদের মধ্যে কাটাব বলে এসেছিলুম। বাবার বড় ছেলে। বিদেশে গিয়ে সব সময়ে ভেতরে একটা কাটা খচখচ করত। বুঝি নিজের কর্তব্যে গাফিলতি করেছি। সেই যন্ত্রণা থেকে, পাবলিশ অর পেরিশের তাড়না থেকে মুক্তি পেয়েছি। কিন্তু মুক্তি যাদের পাবার নয়, তাদের হাতকড়া বোধহয় ফাঁকা আকাশ থেকে পড়ে। বাবাকে আমি সুখী করতে পারলুম না। বাধাটা ওঁর নিজেরই মধ্যে কোথাও আছে। স্বাস্থ্য ভালো আছে এখনও, ইচ্ছে করলেই জীবনটাকে উপভোগ করতে পারতেন। কিন্তু ভেতরে কোথাও মানসিক জটিলতা আছে, আমরা নাগাল পাই না। বাবা এখনও লিপ্ত থাকতে ভালোবাসেন। মাসখানেক ছুটকির ওখানে ছিলেন। বরাবরের চাপা স্নেহ ছিল ওর ওপর। কতকটা সংস্কারবশে, কতকটা বড়মার ভয়ে দূরে সরেছিলেন। এখন বোধহয় মনে মনে আফসোস করেন। কিন্তু মাসখানেক পর আবার সেই বউবাজারের বাড়ি। রীণা আর সুমিতের সংসার এখনও বাবার মর্জিমতো চলে। কষ্ট হয় ওদের জন্য। বাইরে বাবা কত উদার, আমাদের কাছে কত ন্যায়পরায়ণ। কিন্তু ওই গর্তটুকুর মধ্যে বাবা এখনও গর্তের ব্যাঙের মতোই ব্যবহার করেন। টুলটুলকে একা ছাড়বেন না। কোনও অল্পবয়সী ছেলের বাষ্প বাড়িতে দেখলেই অস্থির হয়ে পড়েন। রীণা বেচারি একেবারে নড়তে পারে না বাড়ি থেকে। বাবু মাঝে মাঝে ওখানে গিয়ে থাকে, ওখান থেকেই ইনস্টিট্যুটে যায়। বাবু থাকলে রীণা এবং সুমিতের ছেলেমেয়েরা আনন্দে থাকে। আমি তাই বাধা দিই না। কমলিকাও মনে হয় ব্যাপারটা মেনে নিয়েছে। কিন্তু সুকৃত বা আমার কাছে বাবা একেবারেই থাকতে চান না। ওঁর কি ইচ্ছে ছিল নিউইয়র্ক থেকে ফিরে আমরা ও বাড়িতেই থাকি? সুকৃতের ফ্ল্যাট কিনে চলে যাওয়াটাও বাবা ভালো মনে নিতে পারেননি। অথচ, একসঙ্গে তাল পাকিয়ে থাকলে ঠোকাঠুকি ছাড়া আর কিছুই হয় না। ও বাড়ির পার্টিশন আমিই জোর করে করালুম। বাবার যেন তেমন ইচ্ছে ছিল না। বলেছিলুম, ‘দেখো, এবার বড়দা-মেজদার ব্যবহার পাল্টে যাবে।’

    ম্লান মুখে হেসেছিলেন বাবা। আমরা আসার দিন বাবা বলেছিলেন, বাড়িটা বলতে গেলে ওঁরই করা। জ্যাঠামশাইয়ের শেয়ার কমই ছিল। সেই নিয়েই কি কোনও খেদ রয়ে গেল বাবার মনে? আমি এসে কতকগুলো পারিবারিক সমস্যার মধ্যে মাথা গলিয়ে বাবাকে অসুখী করলুম কি না বুঝতে পারছি না। আমার দিক থেকে মনে করছি সব কেমন ঠিকঠাক করে দিলুম! কত আত্মত্যাগ করলুম! সুকৃতকেও রাজি করিয়েছি, কত কৃতিত্ব আমার! ওদিকে হয়ত ওই বৃদ্ধ ভাবছেন সারা জীবনের সঞ্চয়, স্ত্রীর সম্পত্তি দিয়ে তিল তিল করে গড়া বুকের পাঁজরের মতো ওই বাড়ি বেহাত হয়ে গেল। বাবাদের পৈতৃক যা কিছু ছিল বড়দা মেজদা তো সবই আত্মসাৎ করেছেন! একজনের উপকার করতে গেলে অন্যদের ওপর অবিচার করা হয়ে যায়। কর্মচক্র এমনই এক দুষ্টচক্র। আমি চাইলুম সুমিতের তিনটি ছেলেমেয়ে, একটু ছড়িয়ে ভালোভাবে থাক। সুকৃত একবার ক্ষীণস্বরে বলেছিল, ‘ফ্ল্যাট করেছি ঠিকই দাদা, কিন্তু জমি বলে তো কিছু নেই!’ মত দিল অবশ্য। কিন্তু হয়ত বাধ্য হয়েই দিল। চক্ষুলজ্জায়। এইসব পারিবারিক জটিলতার প্রশ্ন ওখানে ছিল না। ছুটকির পুনর্বাসন চেয়েছিলুম আমাদের বাড়িতে। হল। কিন্তু আমার হাত দিয়ে নয়, মৃত্যুর হাত দিয়ে।

    অ্যালবার্ট সোয়াইটজার সভ্যতার অর্থ করেছেন রেভারেন্স ফর লাইফ। আমরা তাঁর চেয়ে ছোটমাপের মানুষ, তাঁর এই সংজ্ঞার দিকে প্রগাঢ় শ্রদ্ধা নিয়ে চেয়ে থাকি। অতটা পারি না। কিন্তু আশপাশের যেসব মানুষের সঙ্গে জন্মসূত্রে, কর্মসূত্রে, বিবাহসূত্রে, বসবাসসূত্রে জড়িয়ে পড়েছি তাদের জন্য কিছু করতে না পারলে জীবনের অর্থ কী? অথচ করতে চাইলেই কি পারা যায়? বড় বউদির চিকিৎসার ব্যবস্থা করলুম, কিন্তু সেই সঙ্গে আমার মাধ্যমেই তিনি জানতে পারলেন, তিনি বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছিলেন, স্বামীর অনেক টাকা থাকা সত্ত্বেও। এই ভয়ানক কথা জানবার পর, চিকিৎসিত হয়েও বউদি একেবারে মলিন হয়ে গেছেন। তাহলে কি মিথ্যেটাই ভালো ছিল? বেশি কথা কি? নিজের মেয়ের জন্যেই কিছু করতে পারলুম না। মণি খুব একটা ধাক্কা খেয়েছে। হঠাৎই যেন ও খুব বড় হয়ে গেছে। ওর কাছে, বাবুর কাছে আমার আজকাল নিজেকে খুব শিশু মনে হয়। মণির ডিপ্রেশন দেখে আমার বুক ভেঙে যায়। ও এবং কমলিকা কি এই শিক্ষা-ব্যবস্থায় ওকে নিয়ে আসার জন্য আমাকে মনে মনে দোষী করে? নিজের সুখের জন্য আমি কি মণির অসুবিধে ঘটালুম? কিন্তু ও যে সেই বিপজ্জনক বয়ঃসীমায় পৌঁছে গিয়েছিল যখন ওদেশে ছেলেমেয়েরা নিজস্ব জীবনযাপন করতে আরম্ভ করে! ওদের ভাবতে শেখানো হয় ওরা সব জেনে ফেলেছে, জীবনটা এবার বাবা-মার হাত থেকে বুঝে নিক। মা বাবা হাত ধুয়ে ফেলে। কৈশোরের ওই স্পর্শকাতর দিনগুলোর এমনি বোঝা মাথার ওপর পড়ায় অনেকেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। অনেক ছেলেমেয়ে দেখেছি যাদের ষোলতে মনে হয় ছত্রিশ কি ছেচল্লিশ। মুখে রেখা, চোখে স্বপ্নহীন শূন্যতা; ঠোঁটে চাপা কাঠিন্য। কেউ কেউ হয়ত স্বাধীনচেতা, স্বাবলম্বী হয়। কিন্তু বেশিরভাগই প্রথম দলের।

    আচ্ছা, মণি তো এভাবেও জিনিসটা নিলে পারে! এই পরীক্ষা-ব্যবস্থার শিকার লক্ষ লক্ষ ছেলেমেয়ে। ওর কেসটা আলাদা কিছু না। ওর সমবয়স্কদের সঙ্গে ও যদি একাত্ম হয়ে থাকতে পারে, তাহলে কষ্টটা ওর আপনি কমে যাবে। এসব জিনিস আপনা-আপনিই মনের মধ্যে ঘটতে থাকে। বুঝিয়ে হয় না। যুক্তি মানেই প্রতি-যুক্তি। তর্ক মানেই তকাতর্কি। মন তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমতাশীল। পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেবার জন্য তার মধ্যে যে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু হয়ে আছে তার ওপরই আমার ভরসা বেশি। ওর বন্ধুগুলো তো বেশ! সত্রাজিৎ, নাদিয়া, নবনীতা! ইতিমধ্যে আমি আর কি করতে পারি! হাসিতামাশা করে বাড়ির আবহাওয়াটা হালকা রাখতে পারি, যাতে অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়া ওর পক্ষে সহজ হয়।

    ছুটকির জন্যও আমার এই চেষ্টা। কাল ছুটকি প্রথম এল ওই ঘটনার পর। শর্মি সঙ্গে আছে। ওর বড় মেয়ে বোম্বাইতে থাকে, খবর পেয়ে এসেছিল, ছিলও অনেকদিন। এখন চলে গেছে। দেখলুম, ছুটকি কালো পাড় সাদা শাড়ি পরেছে। সাদা ব্লাউস। ওর রং চাপা, মাথা-ভর্তি কোঁকড়া চুল, মুখটা খুব সুগঠিত, সুডৌল, নাক চোখ মুখ যেন কেউ যত্ন করে কেটে কেটে বসিয়ে দিয়েছে। বড়মার মুখশ্রীর তীক্ষ্ণতাটা ওর আছে, কাঠিন্য নেই। বয়সের তুলনায় অনেক ছেলেমানুষ লাগে। অনেক যত্ন, অনেক ভালোবাসা পেলে তবে মেয়েদের চেহারায় এমন শ্ৰী আসে। ওর আত্মীয়স্বজন কেউ ছিল না। স্বর্ণেন্দু তাই দশহাতে ওকে ঘিরে রেখেছিল। স্বর্ণেন্দু মারা যাবার পর থেকেই ওর এই বেশ দেখছি। প্রথমটা কিছু বলতে বাধো-বাধো ঠেকেছিল। কাল বললুম, ‘হ্যাঁরে ছুটকি, তুই তো খুব সাহসিকা, আনকনভেনশনাল অনেক কিছু করিস। তা এটা কি করছিস?’

    ‘কোনটা সেজদা?’

    ‘এই সাদা কাপড়, কালো পাড়। তোকে একদম মানাচ্ছে না।’

    শর্মি বলল, ‘বলো তো মামু, মা আমার কথা একদম শোনে না।’

    আমি বললুম, ‘তুই হয়ত বলার মতো করে বলতেও পারিস না।’

    ছুটকি বলল, ‘বলাবলির কী আছে? বয়সটা তো আমার বাড়ছে বই কমছে না।’

    আমি বললুম, ‘এসব করিসনি। হাস্যকর আজকালকার দিনে। আমরা প্রাণপণে তোদের কাঁধ থেকে জোয়ালগুলো নামাতে চাইছি। আর তোরাও প্রাণপণে বোকা বলদের মতো সেগুলো আঁকড়ে আছিস।’

    মণি ছিল, বলল, ‘ছুটকি! লোকের চোখে নিজেকে দাগী করে রেখে তুমি কি সুখ পাও? তোমাদের সমাজ তোমাকে এইরকম আত্মনির্যাতন থেকে আনন্দ পেতে শিখিয়েছে, না? নিজেকে এভাবে অপমান করো না প্লীজ।’

    ওর কথা শুনে আমি অবাক। অবশ্য ও অনেক বড় হয়ে গেছে। কিন্তু ঠিক এতটা আমি ওর কাছ থেকে আশা করিনি। বাংলাটাও সুন্দর বলছে! কিন্তু ‘তোমাদের সমাজ’ কথাটা আমার কানে খট্ করে লাগল। ওটা কি কথার কথা? না এখনও এদেশের সঙ্গে ও একাত্ম হতে পারেনি!’

    বাবু ফিরেছে, ও একপ্লেট পকৌড়া নিয়ে বারান্দায় বসে পড়ল।

    ‘কী নিয়ে কথা হচ্ছে তোমাদের?’

    কমলিকা সারাক্ষণ চুপ করে বসে ছিল। ছুটকি এলেই ওর চোখ ছলছল করে। এখন বাবুর কফি আনবার ছল করে উঠে গেল। এই অপ্রিয় প্রসঙ্গের মধ্যে বোধহয় ও থাকতে চায় না। বাবুর ব্যক্তিত্বে কেমন একটা সহজ আপন-করা ভাব আছে, সবাই ওকে কাছে টানে, ওকে দেখলে আজকাল আমার ভরসা বাড়ে। আমি বললুম, ‘ছুটকির এইসব সাদা কাপড়-টাপড় পরা তুই অ্যাপ্রুভ করিস? কিছু বল তো!’

    বাবু বলল, ‘টকটকে ফর্সা রঙে সাদা সবচেয়ে মানায়। যেমন, বড়পিসি, যেমন দিদিমা। যাদের গায়ের রং একটু গাঢ় তাদের সাদা অ্যাভয়েড করাই ভাল। তাছাড়া, পিসে ওর ওয়ার্ডরোবটা অত যত্ন করে সাজিয়ে দিয়ে গেল, ও যদি সেটাকে পুরোপুরি ইগনোর করে, তাহলে···।’

    ছুটকি কেঁদে ফেলল।

    বাবু যেন লক্ষ্য করল না। একই ভাবে বলে চলল, ‘আচ্ছা ছুটকি, তুমি বরাবর হালকা নীল, পীচ, লাইল্যাক এই সবের পক্ষপাতী ছিলে না? তোমার এসথেটিক সেন্স আমার দারুণ মনে হয়েছে। তোমাদের ফিলম ওয়ার্ল্ডের যেসব ডল আসতো তোমাদের বাড়ি পার্টি উপলক্ষ্যে, তাদের পাশে তোমাকে একদম তাজা ফুলের মতো দেখাত। এক ঘর কাগজের শস্তা ফুলের মাঝখানে। আমার কথা যদি শোনো তো সব সময়ে ইউনিফর্মের মতো সাদাটা পরোনা। মাঝে মাঝে পরবে।’

    শর্মি, বাবু আর মণি চলে গেল। আজকাল মণির এই এক ঝোঁক হয়েছে, ক্যাসেট চালিয়ে, দরজা বন্ধ করে এখন তিনজনে নাচবে।

    অন্ধকার হয়ে গেছে, মুখ দেখা যাচ্ছে না ভাল। ছুটকির সাদা কাপড় শুধু অন্ধকারের মধ্যে ফুটে রয়েছে। ছুটকি ধরা গলায় বলল, ‘সেজদা তুমি হঠাৎ আমার আনকনভেনশন্যালিটির কথা তুললে কেন? তুমিও কি মনে করো আমাদের পাপের জন্যই ও এভাবে চলে গেল?’

    ‘ছি ছি! তুই কি কথার কী মানে করলি? পাপ-টাপ কি বলছিস রে? আর “তুমিও” বলছিস কেন? কেউ কি তোকে এসব বলেছে না কি?’

    ‘বলেনি, তবে ভাবে বোধহয়।’

    ‘কে?’

    ‘মা, কাকাবাবু। সে সময়ে কাকাবাবু পাপ কথাটা উচ্চারণ করেছিলেন সেজদা, সারাজীবন ভুলতে পারিনি। স্বর্ণেন্দুকে এতো ভালোবাসতুম, ও ছাড়া আমার উপায় ছিল না। ভীষণ ইনভলভড্ হয়েও পড়েছিলাম। কিন্তু কাকাবাবুর কথাটা কাঁটার মতো বিঁধে ছিল সারাজীবন। দাম্পত্য সুখ যাকে বলে, সেজদা সত্যি বলছি তোমায় কোনদিন ভালো করে এনজয় করতে পারিনি। ওকে কষ্টই দিয়েছি শুধু।’

    আমি বললুম, ‘বড়মার স্বামী আর কাকাবাবুর স্ত্রী তাহলে কোন্ পাপের ফলে অকালে গত হলেন বল?

    তো বোধহয় ষাট পূর্ণ হয়নি।

    ছুটকি চুপ করে রইল।

    আমি বললুম, ‘কার আয়ু কখন শেষ হয় কে বলতে পারে। আমরা সবাই তো প্রোগ্র্যাম্‌ড্!’

    কমলিকা মৃদুস্বরে বলল, ‘তুমি আবার কবে থেকে অদৃষ্টবাদী হয়ে উঠলে?’

    আমি চমকে বললুম, ‘অদৃষ্টবাদ বলতে পুরোপুরি যা বোঝায় সেভাবে আমি কথাটা বলিনি কিন্তু। অদৃষ্টবাদের সঙ্গে আরও কতগুলো গাদাবোট আছে। সবসময় সঙ্গে সঙ্গে চলে। যা ঘটার তা ঘটবেই, যাই করো না কেন, নিয়তিকে আটকানো যায় না। ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি সেদিকে যাচ্ছি না। কিন্তু আমাদের সিস্টেমের কর্মক্ষমতার একটা সীমা আছে তো, ফুরিয়ে যাবার সময়টা ধার্যই করা থাকে!’

    কমলিকা বলল, ‘স্বর্ণেন্দুদা অত রিচ ফুড খেতেন। ওদের বাড়িতে পেঁয়াজ রসুন লঙ্কাবাটা ছাড়া রান্না হত না। এই গরম দেশে প্রতিদিন মাংস। তাতে বাটি বাটি ঘি। না হলে স্বর্ণেন্দুদা চেঁচামেচি করতেন। ড্রিঙ্ক-ট্রিঙ্কও ভালোই করতেন। ছুটকির কথা তো একেবারেই শুনতেন না। আমি তো মনে করি সেইজন্যেই উনি এতো তাড়াতাড়ি চলে গেলেন। প্রোগ্র্যাম্‌ড্ না আরও কিছু। তোমরা আমাদের কথা ভাবো না। ভীষণ স্বার্থপর আসলে, এবং অসংযমী।’

    ‘বাঃ, তুমি তো বেশ জেনারালাইজ করে ফেললে! থার্ড পার্সন থেকে চট করে সেকেন্ড পার্সন-এ চলে এলে তো বেশ?’

    কমলিকা বলল, ‘কেন এলাম তুমি ভালোই জানো। ব্রীফকেসে ওষুধ নিয়ে ঘুরছো। পকেটে কার্ডিওলজিস্টের প্রেসক্রিপশন। অথচ আমি বিন্দু-বিসর্গ জানি না। জীবনটা কি ছেলেখেলা?’

    ছুটকি বলল, ‘সে কি রে সেজদা! তোর হার্টের গোলমাল হয়েছে, কাউকে জানাসনি? সেজবউদি জানে না? তোদের হল কি?’

    ‘তেমন কিছু তো নয়। সামান্য একটু অ্যানজাইনার ব্যথা। যবে থেকে জ্যোতি বলেছে আমি নিয়মিত চেকআপ করাই। বলবার মতো কিছু নয় বলেই বলিনি।’

    কমলিকা বলল, ‘উঁহু। বলোনি কারণ তাহলেই আমি তোমার খাওয়া-দাওয়ার ধরা-কাট করব। গতিবিধির ওপর পাহারা বসাবো···’

    আমি বললুম, ‘তা ঠিক নয়। সাবধান তো আমি নিজেই হয়েছি। স্মোক করা ছেড়ে দিয়েছি বললেই হয়। তবে অসুস্থ লোকের মতো থাকতে আমার একেবারে ভাল লাগে না, এটা ঠিক।’

    ‘তাই বলে তুমি বউদিকে লুকোবে?’ ছুটকি ভীষণ ব্যস্ত ও বিরক্ত হয়ে বলল। কমলিকা অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে আছে। বুঝতে পারছি মুখটা থমথম করছে।

    কেন লুকিয়েছি ওকে কি বোঝাবো? আমি নিজেই যে জানি না। বাবার বড় ছেলে। আমাদের বাড়ির বড়মা-তন্ত্রে বাবা পর্যন্ত অসহায় বালকের মতো বাস করতেন। সেখানে স্বাধীন চিত্তবৃত্তির সঙ্কল্প টিকিয়ে রাখতে গিয়ে অনেক সংযম, অনেক স্বাবলম্বন স্বভাবের মধ্যে ঢুকে গেছে। অসুখের কথা কি ছেলেবেলাতেও কাউকে বলতুম? খুব ছোটতে মা ধরে ফেলতেন। কিন্তু তারপর থেকে নিজের ব্যবস্থা নিজেই করে নিয়েছি। কমলিকা জেনে গেল ব্যাপারটা। আমি কোনও সদুত্তর দিতে পারিনি। আজ আমার কপালে দুঃখ আছে।

    আসলে আমি সবাইকে খুব সুখী, হাসিখুশী দেখতে চাই। আমার জন্য কারো মুখে দুশ্চিন্তার ছায়া পড়ুক এ আমি চাই না। জীবন তো একটাই। চারপাশে যেসব অশুভ ছায়া নাছোড়বান্দার মতো ঘোরাফেরা করছে তাদের অগ্রাহ্য করাটা তাই ভীষণ জরুরি। আমার অসুখের কথা শুধু কমলিকার কাছ থেকেই নয়, আমার নিজের সচেতন মনের কাছ থেকেও আমি গোপন করে রাখি। যা করার করব, কিন্তু নিজেকে কোনমতেই সুস্থ সবল মানুষ ছাড়া আর কিছু ভাবব না। এ চিন্তাধারা কি ভুল? ভুল হলেও আমার কিছু করার নেই। আমি যে এভাবেই তৈরি!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঝড়ের খেয়া – বাণী বসু
    Next Article গান্ধর্বী – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }