Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জয়তু জয়ন্ত – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমার রায় এক পাতা গল্প122 Mins Read0
    ⤷

    জয়তু জয়ন্ত!

    এক

    গোয়েন্দা-পুলিশের পদস্থ কর্মচারী সুন্দরবাবু হয়েছেন অত্যন্ত অপ্রসন্ন! স্নেহাস্পদ সুহৃদের এতটা অঃধপতন তিনি সহ্য করতে প্রস্তুত নন আদৌ৷ জয়ন্তকে তিনি যে সহোদরের মতোই ভালোবাসেন সে বিষয় সন্দেহ নাস্তি৷ অপরাধবিদ্যা বিশারদ বলে বাজারে তার খ্যাতি-প্রতিপত্তির সীমা নেই৷ অথচ সে নাকি তার এই দুর্লভ খ্যাতির মূলে কুঠরাঘাত করতে উদ্যত হয়েছে-অন্তত সুন্দরবাবুর মত হচ্ছে তাই৷

    জয়ন্তের অপরাধ, অপরাধবিদ্যা ছেড়ে সে পড়েছে সম্মোহনবিদ্যার মোহে৷ সব কাজ ভুলে সে ‘হিপ্নোটিজম’ বা সম্মোহনবিদ্যাকে আয়ত্তে আনতে নিযুক্ত হয়েছে এবং সর্বদাই তার মুখে শোনা যায় ওই একই আলোচনা৷ এমনকী চিত্তাকর্ষক হত্যা বা ডাকাতি বা চুরির মামলার কথা তুললেও সে একটুও আকৃষ্ট হতে চায় না৷

    ফলে সুন্দরবাবু দস্তুরমতো অসুবিধায় পড়েছেন৷ জটিল মামলা হাতে পেলে জয়ন্তের সঙ্গে পরামর্শ না করলে তাঁর পেটের ভাত হজম হত না৷ কিন্তু আজকাল এ সম্পর্কীয় কোনো প্রশ্ন করলে সে নিরুত্তর হয়ে থাকে এবং বেশি পীড়াপীড়ি করলে উঠে যায় বিরক্ত মুখে৷

    তার বন্ধু মানিককে ডেকে সুন্দরবাবু আহত স্বরে বললেন, ‘দেখলে ভায়া, জয়ন্তের আচরণটা দেখলে! মুখের উপরে অপমান, হুম!’

    মানিক বলে, ‘আরে মশাই, আপনি কি জয়ন্তকে চেনেন না? সে যখন যা নিয়ে মাতে, একেবারে তার মধ্যে তলিয়ে গিয়ে তল খুঁজতে চায়৷ সে এখন ‘হিপ্নোটিজম’ সম্বন্ধে রাশি রাশি বই আনিয়ে পড়ছে, এ বিষয়ে যাঁরা পণ্ডিত তাঁদের কাছে গিয়ে ধরনা দিচ্ছে, নিজেও যখন-তখন হাতেনাতে পরীক্ষা চালাচ্ছে, সুতরাং এই সঙ্গে অন্য যা-তা কথা নিয়ে অন্যমনস্ক হতে চাইবে কেন?’

    সুন্দরবাবু তপ্তকন্ঠে বলেন, ‘যা-তা কথা মানে? অপরাধবিদ্যার চেয়ে সম্মোহনবিদ্যার মর্যাদা বেশি নাকি? কী যে বল মানিক, ছিঃ!’

    মানিক বলে, ‘আপাতত জয়ন্ত তাই মনে করে বটে! হয়তো জয়ন্ত সম্মোহনবিদ্যাকে নিজের কোনো কাজে লাগাতে চায়৷’

    -‘নিজের কাজে লাগাতে চায়? হুম, জয়ন্তের কাজ তো অপরাধ নিয়েই, বাজারে শখের গোয়েন্দা বলেই তার যা কিছু খাতির৷ সম্মোহনবিদ্যা তার কোন কাজে লাগবে শুনি?’

    -‘আমি জানি না, জয়ন্ত জানে৷ তাকেই জিজ্ঞাসা করুন না!’

    -‘তাকে জিজ্ঞাসা করব? জবাব না পেয়ে আবার অপদস্থ হব? ধ্যেৎ, আমার বয়ে গেছে, আমি এই চললুম’-বলেই টেবিলের উপর থেকে টুপিটা তুলে রাগে গসগস করতে করতে সুন্দরবাবু জুতো মসমসিয়ে সবেগে প্রস্থান৷

    আর একদিন সন্ধ্যাকালে এসে দরজার কাছে দাঁড়িয়েই তিনি অসন্তুষ্ট নেত্রে দেখলেন, ঘরের ভিতরে কে একটা লোক ইজিচেয়ারের উপরে রয়েছে অর্ধশয়ান অবস্থায় এবং তার সামনের টেবিলের উপরে ঝুঁকে পড়ে জয়ন্ত নিম্নস্বরে বলছে, ‘ঘরের আলো কমিয়ে দিয়েছি৷ এইবারে আপনি চোখ মুদে ফেলুন৷ এখনি আপনার ঘুম আসবে৷’

    ঘরের এক কোণ থেকে সুন্দরবাবুকে দেখতে পেয়েই মানিক সন্তর্পণে বাইরে এসে তাঁকে নিয়ে খানিক তফাতে গিয়ে বললে, ‘এখন আর জয়ন্তের সঙ্গে কথা কইবার চেষ্টা করবেন না৷’

    -‘কেন?’

    -‘যোগনিদ্রায় গোলযোগ হতে পারে!’

    -‘ওরে বাবা, যোগনিদ্রা আবার কী চিজ?’

    -‘হিপ্নোটিজম-এর আর এক বাংলা নাম হচ্ছে যোগনিদ্রা৷’

    -‘হুম৷’

    -‘যোগনিদ্রায় কৃত্রিম উপায়ে ঘুম পাড়াবার চেষ্টা হয়৷ ঘরের ভিতরে লোকটিকে যোগনিদ্রায় অভিভূত করা হচ্ছে৷ এর পরে লোকটি হবে জয়ন্তের হাতে কলের পুতুলের মতো৷’

    -‘জানি হে জানি, ওরকম ম্যাজিক ঢের দেখেছি৷ বলি, এই ছেলেখেলা আরও কতদিন চলবে?’

    -‘আমি জানি না, জয়ন্ত জানে৷’

    সেই একঘেয়ে বুলি-‘আমি জানি না, জয়ন্ত জানে!’ সুন্দরবাবু এতটা ক্রোধাবিষ্ট হলেন যে তাঁর মুখ দিয়ে আর বাক্য নিঃসরণ হল না৷ স্বল্পালোকিত ঘরের দিকে একটা বিষাক্ত দৃষ্টিবাণ ছুড়ে তিনি তৎক্ষণাৎ ভুঁড়ি দুলিয়ে গটগটিয়ে সে স্থান ত্যাগ করলেন৷

    দুই

    সম্মেহন বা যোগনিদ্রা নিয়ে তখনও জয়ন্তের পরীক্ষাকার্য চলছে একটানা৷ সেদিনও সকালে চা পান করবার সময়ে সে হিপ্নোটিজম সংক্রান্ত কী একখানা ইংরেজি পুস্তকের উপরে চোখ বুলিয়ে যাচ্ছিল৷

    এমন সময়ে ঘরের ভিতরে সুন্দরবাবুর আবির্ভাব৷ তিনি অভিমান করে জয়ন্তের সঙ্গে কথা কওয়া ছেড়েছেন বটে, কিন্তু ওখানকার জিভে-জল-আনা প্রভাতি চায়ের আসরটি ছাড়তে পারেননি৷ প্রতিদিন যথাক্রমে এসে পড়েন, প্রচুর তরল ও নিরেট পদার্থ উদরদেশে পাঠিয়ে দেন, মানিকের সঙ্গে খেতে খেতে বাক্য বিনিময় করেন এবং ডানহাতের কাজ ফুরিয়ে গেলেই দাঁড়িয়ে উঠে বলেন, ‘তাহলে আসি ভাই মানিক, আর বসবার সময় নেই-ডিউটি ইজ ডিউটি!’

    আজ যেন সুন্দরবাবুকে কেমন চিন্তান্বিত বলে মনে হল৷ তিনি মাত্র দুই পেয়ালা চা, চারখানা টোষ্ট ও চারটে এগপোচ গলাঃধকরণ করেই উঠে পড়বার উপক্রম করলেন৷

    বিস্মিত কন্ঠে মানিক শুধোলে, ‘সে কী দাদা, এর মধ্যেই? ব্যাপার কী?’

    -‘হুম! ডিউটি ইজ ডিউটি!’

    -‘এমন কী ডিউটি?’

    -‘একটা মহা ধড়িবাজ আসামির পাল্লায় পড়ে একেবারে জব্দ হয়ে আছি৷’

    -‘মামলাটা কীসের?’

    জয়ন্তের দিকে চকিতে একটা চোরা কটাক্ষ নিক্ষেপ করে সুন্দরবাবু বললেন, ‘বাপরে এই যোগনিদ্রার আশ্রমে ফৌজদারি মামলার কথা তুললে কি আর রক্ষা আছে? হাতে মাথা কাটা যেতে পারে যে!’

    সুন্দরবাবুকে অভাবিত ভাবে চমকিত করে জয়ন্ত বই থেকে মুখ তুলে আচম্বিতে প্রশ্ন করলে, ‘আপনি কি মনে করেন, ফৌজদারি মামলার সঙ্গে সম্মোহনের কোনোই সম্পর্ক থাকতে পারে না?’

    -‘কেবল আমি কেন, তুমিও কি তাই মনে কর না?’

    -‘না, না, এক-শো বার না!’

    -‘তবে সম্মোহনের খাতিরে আমাদের তুমি বয়কট করেছ কেন?’

    -‘আমি পরীক্ষা করে দেখছি ‘হিপ্নোটিজম’ বা সম্মোহনবিদ্যার সাহায্যে ক্রিমিনোলজি বা অপরাধবিদ্যা আরও খানিকটা অগ্রসর হতে পারে কি না?’

    -‘তা সম্ভবপর হলেও পুলিশের কাজে লাগবে না৷’

    -‘কেন?’

    -‘আদালতের আইন সম্মোহনবিদ্যাকে মানবে না৷’

    -‘জানি সুন্দরবাবু, জানি৷ তবু যে সম্মোহনবিদ্যাকে গোয়েন্দার কাজে খাটানো যায়, আমার হাতের এই বইখানা পড়লে আপনারও সে সন্দেহ থাকবে না৷’

    সুন্দরবাবু কৌতূহলী কন্ঠে বললেন, ‘বটে, বটে, তাই নাকি?’

    -‘আজ্ঞে হ্যাঁ৷ অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরির অপরাধ-বিশেষজ্ঞদের কৃপায় আমরা এ সম্পর্কে অনেক নতুন নতুন তথ্য জানতে পেরেছি৷ ভিয়েনা শহরের ডা. ম্যাক্সিমিলিয়ান ল্যাঙ্গ সনার সম্মোহনবিদ্যার মহিমায় দেশবিদেশের পুলিশকে নানাভাবে সাহায্য করেছেন৷ লিওনার্ড হ্যারেলসন নামে আমেরিকার আর এক বিখ্যাত গোয়ান্দাও সম্মোহনকে নিজের কাজে লাগিয়ে আশ্চর্যরূপে উপকৃত হয়েছেন৷ এই কেতাবে তাঁদের কীর্তির কাহিনি লেখা আছে৷ পড়ে দেখবেন?’

    সুন্দরবাবু মুখভঙ্গি করে বললেন, ‘ও আমার পোড়াকপাল, মামলার পর মামলার হামলা সামলাতে সামলাতেই জীবন জরজর হয়ে উঠল, কেতাব পড়বার ফুরসত কোথায় ভাই, ওসব তোমাদেরই শোভা পায়৷ কিন্তু কী বললে? হিপ্নোটিজম পুলিশের কাজেও লাগে? কিন্তু আমার হাতের এই মামলাতে তোমার ওই যোগনিদ্রা বোধ হয় কিছু সুবিধা করে উঠতে পারবে না৷’

    -‘সংক্ষেপে মামলাটার কথা বলুন না, তাহলেই বুঝতে পারব৷’

    এতদিন পরে জয়ন্ত তার উদাসীনতার খোলস ত্যাগ করলে বলে সুন্দরবাবুর মুখে ফুটল খুশির হাসি৷ মামলার বিবরণ বলবার আগে তিনি খোশমেজাজে একটা চুরোটে অগ্নিসংযোগ করলেন৷

    তিন

    -‘জয়ন্ত, খুব সংক্ষেপেই তোমাকে মামলার বিবরণ বলব৷

    ‘যামিনীকান্ত চক্রবর্তীর দেশ হচ্ছে পূর্ববঙ্গে, কিন্তু কলকাতা শহরে এসে কাপড়ের ব্যাবসা ফেঁদে তিনি রোজগার করেন বেশ দু-পয়সা৷ এখানে বাসা বেঁধেছেন শ্যামবাজার অঞ্চলে৷

    ‘তাঁর মেয়ের নাম হাসিনী, বয়স সতেরো৷ পিতার একমাত্র সন্তান৷ রং, গড়ন আর মুখশ্রী-সব দিক দিয়ে দেখবার মতো সুন্দরী৷ তাকালে লোকে আর চোখ ফেরাতে পারে না৷ হাসিনী কুমারী৷

    ‘অর্ধশিক্ষিত পিতার একমাত্র দুলালি কন্যা হাসিনী, লেখাপড়া নামমাত্র জানলেও কেবলমাত্র চোখে দেখে এমন হালফ্যাশনের সাজগোজ করতে শিখেছিল যে অনায়াসেই তাকে বিদুষী ও আপ-টু-ডেট শহুরে মেয়ে বলে চালিয়ে দেওয়া চলত৷

    ‘সে উচ্চাঙ্গ সাহিত্যের আনন্দ আবিষ্কার করত সচিত্র চলচ্চিত্র-পত্রিকাগুলোর মধ্যে এবং প্রায় নিত্যই সন্ধ্যার পর সাগ্রহে যাত্রা করত শহরের কোনো-না-কোনো থিয়েটার বা চলচ্চিত্রালয়ের দিকে৷ সিনেমা-অভিনেত্রীদের জীবনের মধ্যেই লাভ করত সে যা-কিছু অ্যাডভেঞ্চার ও রোমান্সের সন্ধান এবং অদূর ভবিষ্যতে একদিন-না-একদিন সিনেমার পর্দার উপরে নিজেও দেখবে নিজেকে-এই ছিল তার একমাত্র উচ্চাকাঙ্খা!’

    জয়ন্ত বাধা দিয়ে বললে, ‘সংক্ষেপে মোদ্দা ব্যাপারটা বলুন না দাদা, গৌরচন্দ্রিকাতেই এত বর্ণনা কেন?’

    -‘তা একটু বর্ণনা দিতে হবে বই কী ভায়া, এটা যে হাসিনী-হরণ-কাহিনি!’

    -‘হরণের কারণ?’

    -‘খুব স্পষ্ট৷ অর্থলোভ৷’

    -‘বটে! তা হরণ করলে কে?

    -‘নকুল বিশ্বাস৷ পুলিশ-জানিত অতি চতুর পুরাতন পাপী, একবার জালনোট, আর একবার ভুয়ো চেক চালাতে গিয়ে ধরা পড়েছে, কিন্তু আইনের ফাঁকিতে জেল না খেটে বেঁচে গিয়েছে দুই বারই৷ নচ্ছারটার উপর অনেকদিন থেকেই আমার বড়ো আক্রোশ, কিন্তু এবারেও সে হয়তো আমাদের কলা দেখাবে, কারণ তাকে গ্রেপ্তার করে বোধ হয় জেল খাটাতে পারব না, আবার সে আমাদের ভোগা দেবে৷’

    -‘কেন?’

    -‘নকুল যে হাসিনীকে নিয়ে পালিয়েছে, এবিষয়ে কোনোই সন্দেহ নেই৷ কেবল হাসিনী নয়, সেইসঙ্গে অদৃশ্য হয়েছে- হাসিনীর গায়ের দশ হাজার টাকার জড়োয়া গহনা আর তার বাপের নগদ পাঁচ হাজার টাকা৷ পালাবার সময়ে দু-জন সাক্ষী স্বচক্ষে তাদের দেখেছে৷ আরও সাক্ষী আছে৷ কিন্তু নকুল বলে, তারা হচ্ছে পুলিশের সাজানো সাক্ষী, ঘটনার দিন সে ছিল শ্রীরামপুরে তার মামার বাড়িতে৷ সেখানেও তদন্ত করতে যাওয়া হয়-কিন্তু যেমন ভাগনে তেমনি মামা, ঘুঁটের এপিঠ-ওপিঠ, সেও নকুলের কথায় সায় দেয়৷’

    -‘আর হাসিনী?’

    -‘তার পাত্তা নেই, নকুল তাকে কোথায় গুম করে ফেলেছে কেউ তা বলতে পারে না৷ এখন আমার অবস্থাটা বুঝছ তো জয়ন্ত? নকুলকে আমি কেবল ছেড়ে দিতেই বাধ্য হব না, আমার দুর্নাম হবে যে, মিথ্যা সাক্ষী সাজিয়ে আমি একজন নিরপরাধীকে জেলে পাঠাতে চেয়েছি৷ এমন মামলায় তোমার সম্মোহনবিদ্যা আমার কোন কাজে লাগবে বলো? একে তো ও বিদ্যাটা আইনের ক্ষেত্রে ঘষা টাকার মতো অচল, তার উপরে নকুলের মতো ধড়িবাজ ব্যক্তিকে কেউ সম্মোহিত করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস নেই৷ কারণ আমি অভিজ্ঞ ব্যক্তির মুখেই শুনেছি, দুর্বল যার ইচ্ছাশক্তি, সেই-ই সম্মোহিত হয় প্রবল ইচ্ছাশক্তির প্রভাবে৷ কিন্তু আমি জোর করেই বলতে পারি, নকুলের ইচ্ছাশক্তি আর কারুরই চেয়ে দুর্বল নয়৷’

    জয়ন্ত বললে, ‘ওসব সেকেলে ধারণা ছেড়ে দিন দাদা, কারণ বহু পরীক্ষার পর আজকাল প্রমাণিত হয়েছে যে, বুদ্ধি যার যতই প্রখর আর ইচ্ছাশক্তি যতই প্রবল, তত বেশি তাড়াতাড়ি সে যোগনিদ্রার প্রভাবে নিজের সত্তা হারিয়ে ফেলে৷ কিন্তু ওকথা যাক৷ এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আজ সন্ধ্যার পর অর্থাৎ রাত দশটার সময়ে শ্রীমান নকুলকে খুব ভালো করে খাইয়ে-দাইয়ে পূর্ণোদরে একবার আমার সামনে নিয়ে আসতে পারবেন কি?’

    সুন্দরবাবু চমৎকৃত ভাবে বললেন, ‘হুম, এ আবার তোমার কী খেয়াল?’

    -‘খেয়াল নয়, বলুন না পারবেন কি না?’

    -‘কেন পারব না-আলবত পারব!’

    -‘বেশ, ওই কথাই রইল! আমি একলা থাকব আমার পাঠাগারে নকুলকেও একলা ভিতরে পাঠিয়ে দেবেন, কিন্তু তার হাতে যেন হাতকড়া না থাকে৷’

    -‘বা রে, যদি চম্পট দেয়?’

    -‘নিশ্চয়ই সে এত বোকা নয় যে, পালিয়ে গিয়ে নিজেই নিজেকে অপরাধী বলে প্রমাণিত করবে৷ তা ছাড়া বাইরে দরজার পাশেই মানিকের সঙ্গে স্বয়ং আপনি ওত পেতে থাকবেন, সে পালাবে কেমন করে?’

    -‘কিন্তু কোন ওজরে তাকে এখানে নিয়ে আসব?’

    -‘তাকে বলবেন, সরকার তার পক্ষ সমর্থনের জন্য আমাকে উকিল নিযুক্ত করেছেন৷ জানেন তো, ছাত্রজীবনে আমি ওকালতিটাও পাস করে রেখেছিলুম৷’

    সুন্দরবাবু প্রায় হতভম্বের মতো বললেন, ‘তোমার উদ্দেশ্য আমি কিছুই বুঝতে পারছি না৷’

    -‘আপাতত কিছুই বোঝবার দরকার নেই৷ কিন্তু মনে রাখবেন, মাছ, মাংস, ডিম আর ভালো মিষ্টান্নে নকুলচন্দ্রের উদরগহ্বর একেবারে কানায় কানায় ভরপুর করে ফেলতে হবে৷ সে যদি চায়, দু-তিন পেগ পর্যন্ত হুইস্কি কি ব্রান্ডি দিতেও নারাজ হবেন না! ঠিক রাত দশটার সময় আমার পাঠাগারে পানভোজনে পরিতৃপ্ত নকুলচন্দ্রকে আমি দর্শন করতে চাই৷’

    চার

    কাঁটায় কাঁটায় রাত দশটার সময়ে প্রবেশ করলে জয়ন্তের পাঠাগারের মধ্যে৷

    একের নম্বরের উন্মার্গগামী উড়ুক্কু বখাটে-মার্কা চেহারা- যদিও তার মুখশ্রী ও দেহের রং-গড়ন মন্দ নয়৷ চোখের তলায় গাঢ় কালিমা জমাট হয়ে যেন তার উচ্ছৃঙ্খল জীবনের পরিচয় দিতে চায়৷ দৃষ্টি কঠিন, কুটিল ও চাতুর্যপূর্ণ৷ বয়স পঁইত্রিশের বেশি নয়৷

    সন্দিগ্ধ নজরে সে ঘরের চারিদিকটা একবার ভালো করে দেখে নিলে৷ দূরে টেবিলের উপরে একটা আবরণ-ঢাকা অল্পশক্তি বিজলিবাতির ম্লান আলোকে অস্পষ্ট দেখা যায়, সারা দেওয়ালে রয়েছে সারি সারি বইভরা আলমারি৷ পাওয়া যায়, ধূপের স্নিগ্ধ সুগন্ধ; সেইসঙ্গে যোগ দিয়ে বাতাসকে ভারাক্রান্ত করে তুলেছে ফুলদানিতে রক্ষিত গুচ্ছ গুচ্ছ সুরভিগন্ধা রজনীগন্ধা৷ সেই শান্ত পরিবেশকে সংগীতপূর্ণ করে তুলে এক কোণে চেয়ারে বসে একটি লোক নিজের মনে অঙ্গুলিচালনা করছে সেতারের তারে এবং ছন্দে ছন্দে ধ্বনিত হয়ে উঠছে কোনো ঝিমিয়ে-পড়া নিদ্রালু রাগিণীর রিনিরিনি, চারিদিকে বিলিয়ে দিচ্ছে যেন একটা রহস্য অলস নিদুটিমন্ত্র!

    সেতারের ঘুমপাড়ানি সুর থামিয়ে জয়ন্ত বললে, ‘আসুন! বসুন!’

    বিদ্রোহপূর্ণ উদ্ধত স্বরে নকুল বললে, ‘আমাকে কেন এখানে আনা হয়েছে?’

    জয়ন্ত স্থির নেত্রে তার পানে তাকিয়ে বললে, ‘কেন, আপনি কি শোনেননি? সরকার আপনাকে সাহায্য করতে চান৷’

    -‘সাহায্যের প্রয়োজন নেই৷ আমার নিজের উকিল আছে৷’

    -‘তাই নাকি? তা আমি জানতুম না৷ বেশ, বেশ৷ কিন্তু এলেন যখন একটু বিশ্রাম করে যান৷’ জয়ন্ত সামনের ইজিচেয়ারের দিকে অঙ্গুলিনির্দেশ করলে৷

    নকুল বসে পড়ল যেন নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই৷ অনুভব করলে, জয়ন্তের দৃষ্টি তখনও তার উপরে স্থির হয়ে আছে-সে দৃষ্টি যেন মর্মচ্ছেদী, অত্যন্ত অস্বস্তিকর!

    কিছুক্ষণের স্তব্ধতা৷ সেতারের রাগিণী বোবা হয়েছে বটে, কিন্তু জয়ন্তের আঙুল তারে তারে তুলতে লাগল ক্রিং ক্রিং ক্রিং ক্রিং-

    সে ধ্বনি আর থামল না-বাক্যলাপের ভিতরেও সমান জেগে রইল!

    জয়ন্ত খুব মৃদুস্বরে শুধোলে, ‘আপনার মুখ এমন শ্রান্ত কেন?’

    নীরস হাসি হেসে নকুল বললে, ‘মুরগিকে জবাই করবার আগে ভালো করে খাইয়ে-দাইয়ে মোটা করে তোলা হয়৷ হয়তো সেই উদ্দেশেই পুলিশ আজ আমার জন্যে রাজভোগের ব্যবস্থা করেছিল৷ এমন দমসম করে খাওয়া হয়েছে যে এখন কেবল ঘুমোতে পারলেই বাঁচি৷ কিন্তু পুলিশ আমাকে ঘুমোতে দিলে না, একরকম জোর করেই এখানে টেনে আনলে৷ এ বোধ হয় যন্ত্রণা দেবার নতুন পদ্ধতি৷’

    ক্রিং ক্রিং ক্রিং ক্রিং-সেতারের ধ্বনি জেগে রইল, জেগে রইলই৷ সেই ক্রিং ক্রিং ধ্বনি আগেকার নিদ্রালু রাগিণীরই কোনো- না-কোনো পর্দা ধরে বেজে উঠছে!

    জয়ন্ত বললে, ‘না, না, যন্ত্রণা পাবেন কেন, আপনি অনায়াসেই ঘুমিয়ে পড়তে পারেন৷’

    -‘মাথার উপরে পুলিশের ডান্ডা নিয়ে? আর এই অস্থানে? এই আনকো জায়গায়?’

    -‘ওসব কথা ভুলে যান৷ ঘুম পেয়েছে, ঘুমিয়ে পড়ুন৷ কেউ আপনাকে বিরক্ত করতে আসবে না! ঘুমিয়ে পড়ুন৷’

    ক্রিং, ক্রিং, ক্রিং, ক্রিং!

    অবাক হয়ে নকুল ভাবতে লাগল, সবই যেন অস্বাভাবিক! লোকটার মতলব কী? ও অমন করে একদৃষ্টিতে আমার পানে তাকিয়ে কেন? এ ঘরটার সবখানেই থমথম করছে কেমন যেন ঘুম-ঘুম ভাব! ওই আলো-আঁধারি, ওই ফুল আর ধূপের গন্ধ, সেতারের ওই ক্রিং ক্রিং-সবই যেন ঘুমকে ডেকে আনে! লোকটাও চুপিচুপি খালি খালি বলে কেন-ঘুমিয়ে পড়ুন, ঘুমিয়ে পড়ুন? না, ওর অপলকে চোখের দিকে আর তাকানো যায় না! ওই লোলুপ চোখ দুটো যেন আমারই চোখের ভিতর দিয়ে আমার মনের গহনে অনধিকার প্রবেশ করতে চায়-না, না, প্রবেশ করতে চায় কি, ওই দীপ্ত দৃষ্টির খানিকটা অংশ যেন এর মধ্যেই সার্চলাইটের মতো বুকের ভিতরে ঢুকে পড়ে আমার মনের গুমটিঘরে উঁকিঝুঁকি মারবার চেষ্টা করছে-যেন যাকে লুকিয়ে রেখেছি, পাহারা এড়িয়ে তাকে খুঁজে বার করবে বলে৷ না, না, ওই সর্বনেশে সর্বগ্রাসী দৃষ্টির দিকে তার তাকানো উচিত নয়-উচিত নয়!

    নকুল নিমীলিত করে ফেললে নিজের দৃষ্টি৷

    ক্রিং ক্রিং ক্রিং ক্রিং-এ যেন ঘুম-পাড়ানিয়া ঘুমন্ত রাত্রির স্বপ্নসংগীত!

    জয়ন্ত দূর থেকেই যেন নকুলের কানে কানে বললে, ‘ঘুমিয়ে পড়ুন, ঘুমিয়ে পড়ুন, ঘুমিয়ে পড়ুন৷’

    নকুলের মাথাটা হঠাৎ একদিকে কাত হয়ে এলিয়ে পড়ল- দুই বাহুও শিথিল দেহের দুই পার্শ্বে৷

    এই তো যোগনিদ্রা!

    জয়ন্ত একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সোজা হয়ে উঠে বসে আস্তে আস্তে হাততালি দিলে এবং সুন্দরবাবুর সঙ্গে মানিকের ঘরের ভিতরে প্রবেশ৷

    নকুলের মুদ্রিত চোখ দুটো আবার খুলে গেল৷

    সুন্দরবাবু হতাশভাবে বললেন, ‘ও জয়ন্ত, নকুলকে তাহলে ঘুম পাড়াতে পারলে না?’

    জয়ন্ত বললে, ‘এ হচ্ছে জাগ্রত সুষুপ্তি৷ একেই বলে যোগনিদ্রা৷ ও চোখ খুলে তাকিয়ে আছে বটে, কিন্তু কিছুই দেখতে পাচ্ছে না৷ ওর কাছে লুপ্ত এখন বাইরের জগৎ!’

    মানিক বললে, ‘অঃতপর?’

    -‘অঃতপর নকুল আমার প্রশ্রের সঠিক উত্তর দেবে৷ . . . নকুল . . . নকুল, শুনছ?’

    প্রায় শোনা যায় কি না যায় এমনি মৃদুস্বরে নকুল বললে, ‘অ্যাঁ?’

    -‘তুমি কি এখন ঘুমিয়ে পড়েছ?’

    -‘হ্যাঁ৷’

    -‘তুমি হাসিনীকে চেনো?’

    -‘চিনি৷’

    -‘সে এখন কোথায়?’

    -‘শহরতলির পঞ্চানন দাস লেনে৷’

    -‘বাড়ির নম্বর-‘

    -‘তেইশ৷’

    -‘সেখানে তাকে নিয়ে গেল কে?’

    -‘আমি৷’

    -‘ব্যাপারটা বুঝতে পারছি না৷ সব কথা ভালো করে খুলে বলো৷’

    তখন নকুল তেমনি প্রায়-অস্ফুট স্বরে যেসব কথা প্রকাশ করলে, সংক্ষেপে তা হচ্ছে এই ঃ

    প্রথমে সিনেমাগৃহে নকুলের সঙ্গে হাসিনীর পরিচয় হয়৷ তারপর বিভিন্ন ছবিঘরে তাদের পরিচয় ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে ধীরে ধীরে৷ হাসিনীর মুখেই প্রকাশ পায়, তার জীবনের প্রধান উচ্চাকাঙ্খা: সে ছবির পর্দায় আত্মপ্রকাশ করবার জন্যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ৷ নকুল তার সেই দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণ করতে ইতস্তত করেনি৷ হাসিনীকে জানায়, এক প্রখ্যাত স্টুডিয়োর মালিক ও বহু বিখ্যাত চিত্রপরিচালক তার বিশেষ বন্ধু, সে অনুরোধ করলে তাঁরা তাকে হিরোইনের ভূমিকা দিতে আপত্তি করবেন না৷ হাসিনী তাই শুনেই আগ্রহে উন্মুখ হয়ে ওঠে৷ নকুল বলে, তার বাবা নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে মত দেবেন না৷ হাসিনী বলে, চিত্রনটী হবার জন্য তার বাবার অমতেই সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে চায়৷ তারপর একবার ছবির পর্দায় দেখা দিলেই তার বাবা তাকে ক্ষমা করতে বাধ্য হবেন, কারণ তার বাবা তাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন, আর সে ছাড়া তার বাবার আর কোনো সন্তান নেই৷ নকুল বলে, ছবিওয়ালারা তাকে গ্রহণ করতে রাজি হলেও তাকে নিয়ে ছবি তুলতে সময় লাগবে কয়েক মাস, বাবাকে লুকিয়ে পালালে সেই কয়েক মাসের খরচ চালাবার জন্যে যে অর্থের প্রয়োজন নকুলের তা দেবার ক্ষমতা নেই৷ হাসিনী বলে, নিজের খরচ নিজেই চালাবার ব্যবস্থা না করে সে বাড়ি ছেড়ে পালাবে না৷ তারপর এক নির্দিষ্ট দিনে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে নকুলের সঙ্গে প্রথমে তারই বন্ধু শ্রীনাথ সেনের বউবাজারের হোটেলে গিয়ে ওঠে৷ দিনকয়েক যায়৷ তারপর ছবির স্টুডিয়োয় যাবার জন্যে হাসিনী বিশেষ অধীর হয়ে উঠলে নকুল নিজের আসল মনের কথা প্রকাশ করে বলে, সে তাকে আগে বিবাহ করবে, তারপর স্টুডিয়োয় নিয়ে যাবে৷ সেই কথা শুনেই হাসিনী গোলমাল শুরু করে দেয়৷ ইতিমধ্যে তাদের নিয়ে পুলিশের জোর তদন্ত আরম্ভ হয়৷ নকুল তখন ভয় পেয়ে হাসিনীকে স্থানান্তরিত করে শ্রীনাথের শহরতলির বসতবাড়িতে নিয়ে যায়৷ এখন সেইখানেই সে বন্দিনি হয়ে আছে৷

    জয়ন্ত শুধোলে, ‘হাসিনীর দশ হাজার টাকার গহনা আর নগদ পাঁচ হাজার টাকার খবর কী?’

    নকুল বললে, ‘আমি সেসব আমার কাছে গচ্ছিত রাখতে চেয়েছিলুম, কিন্তু হাসিনী কিছুতেই কিছু হাতছাড়া করতে রাজি হয়নি৷’

    -‘তুমি কি ভেবেছিলে, হাসিনী তোমাকে পছন্দ করে?’

    -‘হ্যাঁ, ভেবেছিলুম সে সাধারণ চরিত্রের মেয়ে৷ আমাকে বিবাহ করতে আপত্তি করবে না, আর আমিও সহজেই তার পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হব৷’

    -‘তারপর?’

    -‘তারপর বুঝলুম সে ভয়ানক মেয়ে৷ তার কাছে বিবাহের কথা তুলতেই সে আগুনমূর্তি হয়ে উঠল, আমাকে আর কাছে ঘেঁষতেই দিলে না!’

    নকুল মৌন হবার পর জয়ন্ত মুখ ফিরিয়ে বললে, ‘সুন্দরবাবু, সব শুনলেন?’

    সুন্দরবাবু বললে, ‘হুম, আশ্চর্য!’

    জয়ন্ত বললে, ‘কেমন করে যোগনিদ্রার সঙ্গে অপরাধবিদ্যার সম্পর্ক স্থাপন করা যায়, বুঝলেন তো? এখন তেইশ নম্বর পঞ্চানন দাস লেনে গিয়ে হাসিনী দেবীকে উদ্ধার করলেই, আপনি বাজিমাত করতে পারবেন, তাহলে আদালতে আর যোগনিদ্রার নামোল্লেখও করতে হবে না, কারণ বন্দিনির মুখেই জাহির হবে নকুলের শয়তানির কাহিনি৷ জেগে ওঠবার পর যোগনিদ্রার কোনো কথাই নকুলেশ্বরেরও আর মনে পড়বে না৷’

    মানিক বললে, ‘সব শুনে হাসিনী দেবীর উপর আমার শ্রদ্ধা হচ্ছে৷ সুন্দরবাবুর বর্ণনায় আমরা হাসিনী দেবীর একপেশে ছবি দেখেছি৷ তাঁর পূর্ণাঙ্গ নারীত্বের কোনো পরিচয়ই পাইনি৷’

    জয়ন্ত বললে, ‘সিনেমার মোহ হাসিনী দেবীর আসল চরিত্রকে এতটুকু আচ্ছন্ন করতে পারেনি-বাস্তবের এক আঘাতে তাঁর সমস্ত মোহ ছুটে গিয়েছে৷ সচরাচর এটা দেখা যায় না৷’

    সুন্দরবাবু বললেন, ‘আমারও মানরক্ষা হল, নকুলদেরও বাড়াভাতে ছাই পড়ল, হাসিনী দেবীকে বিবাহ করে সে আর ধনী শ্বশুরের সম্পত্তির উত্তরধিকারী হতে পারলে না৷’

    জয়ন্ত বললে, ‘আমি তাহলে এখন নকুলের ঘুম ভাঙাই, আপনিও আবার হাতকড়া বার করুন৷’

    জয়ন্তের কথা মিলে গেল অক্ষরে অক্ষরে৷

    পুলিশ যথাসময়ে গিয়ে ঘেরাও করে ফেললে, শ্রীনাথের শহরতলির বসতবাড়ি৷

    শ্রীনাথ পলাতক-দূরে থেকেই সে পুলিশের গাড়ি আবিষ্কার করে ফেলেছিল এবং সেপাইরা আসছে যে তারই বাড়ির দিকে, এটুকু বুঝতেও তার বিলম্ব হয়নি৷

    হাসিনী বাইরে এসে দাঁড়াল বেশ সপ্রতিভ মুখেই৷ সুন্দরবাবু শুধোলেন, ‘এখন কী করবে? বাড়ি যাবে, না সিনেমা-অভিনেত্রী হবে?’

    হাসিনীর দুই চক্ষু বিদ্যুৎকণিকার মতো জ্বলে উঠেই নিবে গেল৷ শান্ত কন্ঠে বললে, ‘বাড়ি যাব৷ ভুল বুঝে এইসব করেছি, উপায় নেই৷’

    -‘বাবার কাছে যেতে ভয় পাবে না?’

    -‘বাবা বকবেন বটে, কিন্তু তিনি আমাকে ভালোবাসেন৷ তাঁর পায়ে ধরে ক্ষমা চাইব৷ তিনি আমাকে পায়ে ঠেলতে পারবেন না৷’

    সন্ধ্যার সময়ে জয়ন্তের কাছে গিয়ে দুই বাহু শূন্যে আন্দোলন করে সুন্দরবাবু বললেন, ‘জয়ন্ত জয়ন্ত! ধন্য তোমার যোগনিদ্রা-হুম!’

    মানিক বললে, ‘আমেন! অর্থাৎ তথাস্তু!’

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঐতিহাসিক সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Next Article রবিন হুড – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    Related Articles

    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    মানুষের গড়া দৈত্য – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    হেমেন্দ্রকুমারের গল্প – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 8, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রহস্য-রোমাঞ্চ সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    রবিন হুড – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    ঐতিহাসিক সমগ্র – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    হেমেন্দ্রকুমার রায়

    কিশোর রহস্য উপন্যাস – হেমেন্দ্রকুমার রায়

    January 7, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }