Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জরা হটকে এবং অন্যান্য – নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেন এক পাতা গল্প132 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ছোটবাবুর জমিদারী পরিদর্শন – নবনীতা দেবসেন

    ছোটবাবুর জমিদারী পরিদর্শন

    খবরের কাগজ থেকে চোখ তুলে ঠাকুদ্দা বললেন, ”হাঁপানিয়া গ্রামে একটা ইশকুল করে দিয়েছি, সেটার উদ্বোধন হচ্ছে রোববার—আমি যেতে পারছি না, তোমার বাবাও যেতে পারছেন না, বাড়ি থেকে তো কাউকে একবার যেতে হয়। খোকা, তুমি আজ বাদে কাল কলেজে পড়বে, আমার ইচ্ছে তুমি যাও। একটু একটু করে বেরুতে থাকো, জমিদারীগুলো তো চিনে—টিনেও নেওয়া দরকার।

    ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিয়ে বসে রয়েছি। মন দিয়ে ”স্বাধীনতা” পড়ি আর ”সোভিয়েত দেশ” পড়ি। বাড়িতে নয় মেজ জামাইবাবুর বাড়িতে। ”কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো”টা পড়া হয়ে গেছে, কিন্তু ”ডাস ক্যাপিটাল”টা কিছুতেই শেষ করতে পারছি না। ঠাকুদ্দার কথায় উৎসাহিত হয়ে উঠলুম। গ্রাম—ট্রামে আমাদের যাওয়াই হয় না একেবারে—জমিদারী—টারি দেখাশুনো করা দূরে থাক। সঙ্গে সঙ্গেই মা অ্যাটাচিকেস গুছিয়ে দিলেন।

    শনিবার সকালে আমীনবাবু এসে আমাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। রবিবার মিটিং করে ফিরব। ট্রেন যখন মাঝে একটা স্টেশন দাঁড়িয়েছে, আমীনবাবু ব্যস্ত হয়ে দরজা দিয়ে উঁকিঝুঁকি দিতে শুরু করে দিলেন। আর সঙ্গে সঙ্গেই একটা ঝাঁকায় করে কয়েক হাঁড়ি মিষ্টি উঠল গাড়িতে। আমীনবাবু একটি হাঁড়ি খুলে মিষ্টির সাইজটা পরীক্ষা করে নিলেন, তারপর ময়রা নেমে গেল। আহা কী অপরূপ সেই মিষ্টান্নের চেহারা। আমার তো বেজায় লোভ হয়ে গেল। কিন্তু আমি যে হচ্ছি ছোটদাদাবাবু, আমীনবাবুর সামনে আমার লোভটা প্রকাশ করা মানায় না। আমীন বুড়ো মানুষ। তাঁর অনেক ছোট ছেলে দেখা আছে। আমীন মিষ্টি হেসে বললেন—”আজ থাক? কালকে খাবে’খন। এখনও রস ঢোকেনি” একটু লজ্জা পেয়ে, তাড়াতাড়ি কোলে ”সোভিয়েত দেশ” পত্রিকা খুলে বসি। সুন্দর করে মেঠাইতে গোলাপজল ছিটিয়েছে। সুগন্ধে সারা কামরা ‘ম’ ‘ম’ করছে। রস ঢুকছে। ঢুকুক রসটা।

    পূর্বস্থলী নামে একটি স্টেশনে আমীনবাবু মিষ্টির ঝাঁকাটি নামালেন, খোকাবাবুকেও। স্টেশনে গাড়ি আসার কথা গ্রাম থেকে। হাঁপানিয়া এখান থেকে বেশ কয়েক মাইল দূরে। একটা ছোকরা দাঁড়িয়ে আছে। আর একজন রোগামতন লোক। আমীনবাবুকে দুজনেই পেন্নাম করল খুব খাতির করে। আমীন আমাকে দেখিয়ে দিলেন—’ইনিই এসেছেন জমিদারমশায়ের প্রতিনিধি, তাঁর সাক্ষাৎ নাতি। বাপ—ঠাকুদ্দার জমিদারীর খোঁজখবর নেয়া এখন থেকেই শুরু করা দরকার।”—শুনে রোগা লোক আর ছোকরা আমাকে ভক্তিসহকারে ‘শতকোটি প্রণাম’ জানাল পা ছুঁয়ে। আমি তো লাফিয়ে সরে আসি। রোগা লোকটার সব চুল প্রায় পাকা। আমাকে প্রণাম করবে কি? আমীন বললেন, ‘জগু, গাড়োয়ান কই?”

    লোকটা তখন আঙুল দিয়ে ছোকরাকে দেখিয়ে দিল। ছোকরাকে আপাদমস্তক লক্ষ্য করে আমীনবাবু বললে, ”এ তো কচি ছেলে। এ পারবে? দশ মাইল আমাদের গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যেতে?” ছেলে তখন মন দিয়ে নাক খুঁটছিল—সে—কর্ম ছেড়ে, ঘাড় কাৎ করে, ধবধবে হেসে বললে—”হিঁ কত্তা। খুব পারব।” প্ল্যাটফর্ম থেকে বেরিয়ে দেখা গেল বিছানা পাতা, ছই ঢাকা দেয়া চমৎকার গরুর গাড়ি নিয়ে হৃষ্টপুষ্ট দুটি বলদ দাঁড়িয়ে আছে। গাড়োয়ানের খুব পৈটিক গোলযোগ তা সেই ছেলেকে পাঠিয়েছে। ছেলেটার পরনে ফর্সা গেঞ্জি আর খাটো ধুতি। আমি পরে আছি নীল শার্ট আর সাদা প্যান্ট। শহরে অতটুকু ছেলেরা ধুতি পরে না। কিন্তু কোনো অনুষ্ঠানে ধুতি শার্ট পরার রেওয়াজ ছিল যুবকদের। পাঞ্জাবি পরাটা বেশি সাজগোজ করা হয়ে যেত, বিয়েবাড়ির যোগ্য। অন্যান্য অনুষ্ঠানে ধুতি—শার্ট। সেই ফ্যাশানটাই হেমন্ত, দ্বিজেন, সাগর, সুবীরের মধ্যে দেখা গেছে। কালকের উদ্বোধনীতে পরবার জন্যে বাক্সে আছে ঘি—রঙের সিল্কের শার্ট আর সোনার বোতাম। এ ধুতি পরা ছোকরার বয়েস আমার থেকে কম। ছোকরা আর জগুকে নিয়ে মিষ্টির ঝাঁকা গাড়িতে তুলে, রওনা দিলুম হাঁপানিয়া গ্রামের দিকে। শীতের বেলা বুঝি এখনই পড়ে এসেছে। কাল সকালে সুধারানী মেমোরিয়াল গার্লস প্রাইমারি ও জুনিয়ার স্কুল খোলা হবে। ঠাকুদ্দা বলেছেন তিন বছরের মধ্যে হাইস্কুল করে দেবেন।

    গাড়ি চলতে চলতে একটা বাঁক নিল। আমীনবাবু আর জগু দুজনেই হাঁহাঁ করে উঠলেন, ”এ কী? এটা আবার কোন রাস্তা?” ছোকরা বললে, ”শটকাট পথ।” জগু বললে, ”কিন্তু এই পথটা যে একদম ভালো নয় রে। বড্ডো এবড়ো—খেবড়ো হয়ে রয়েছে। সাইকেল পর্যন্ত চালাতে পারি না এটাতে। ঘুর হয় হোক তুই বড় রাস্তা দিয়ে চল। এ পথে অত ঝাঁকুনিতে ছোটবাবুর হাড়পাঁজরা ঝরঝর করবে, গায়ে বেদনা হয়ে যাবে।” শুনেই আমার গায়ে ব্যথা হবার যোগাড়। কিন্তু গাড়ি আর বাঁকানো গেল না। ছোকরা গাড়োয়ানটি অতি অবাধ্য। সে কারুর কথাই শুনলে না। ওই শর্টকাটেই চলল। ”বাবা বলে দিয়েচে, এই রাস্তা ভাল”—তার মুখে এই এক বাক্যি। পথের মধ্যে বড় বড় গর্ত উঁচু—নিচু খাদ—খোন্দল, যেন মধ্যপ্রদেশের সেই বেহড়ের মিনি সংস্করণ। দুপাশে বড় বড় ঘাসের বন। নাকি নলখাগড়া একেই বলে? কে জানে। জগুর মুখে আর বাক্যি নেই, সে চুপচাপ ছোকরার পাশে বসে আছে। যে—সে রাস্তা তো নয়, যেন চন্দ্রগ্রহের রাস্তা। তখনও অবশ্য চাঁদে মানুষ যায়নি, চাঁদ কেমন দেখতে আমরা জানি না। এখন ভাবতে গেলে মনে হচ্ছে। ভয়ংকর বন্ধুর পথে, গাড়ি টালমাটাল হয়ে চলল। মাঝে মাঝে আমরা আর আমীনবাবুর মাথা ঠোকাঠুকি হয়ে যাচ্ছে। গর্তে ভরা, কত উপত্যকা, কত মালভূমি। আমাদের গরুরা তার ওপর দিয়ে সার্কাসের কসরৎ করতে করতে চলেছে। আর আমীনবাবু সমানেই বিড়বিড় করে গাল দিয়ে চলেছেন।

    বিড়বিড়টা চীৎকারে পরিণত হলো যখন হঠাৎ একটা বিশাল টাল খেয়ে গাড়িটা উলটে পড়ল ঘাসবনের ভেতরে, ঝপাৎ করে জল—কাদার মধ্যে। মহাভাগ্যি আমার, আমি পড়লুম রাস্তার ওপর, শুকনো ডাঙাতে। জগু, সেই রোগা লোকটি আর আমীনবাবু ঘাসবনে। ঘাসবন এতই ঘন যে গাড়ি তাতে আটকে রইল। ওঁরাও। গাড়োয়ান ছোকরার কী হলো কে জানে। সে ছুটে পালাল, আর সঙ্গে সঙ্গে দড়িদড়া ছিঁড়ে পালিয়ে গেল বলদ দুটোও। ধুলো ঝেড়ে উঠে দাঁড়ালুম। আমার সর্বাঙ্গে এখন গোলাপজলের গন্ধ, গায়ে মাথায় রস চটচট করছে। আমার চারিদিকে সেই সমস্ত বড় বড়, চমৎকার, অতি লোভনীয়, গজমোতির মতন মেঠাই ধুলোয় গড়াগড়ি খাচ্ছে। ট্রেনে আমার অত ইচ্ছে করেছিল খেতে, তখন কেন যে আমীনবাবু খেতে দিলেন না। আহা, এখন তো সবটাই নষ্ট।

    জগু নামে রোগা লোকটাই আগে উঠল, তারপর আমীনবাবুকে তৃণশয্যা থেকে উৎপাটন করল। গা ঝেড়েঝুড়ে আমার কাছে এসে আমার অবস্থা ভাল করে নিরীক্ষণ করে আমীনবাবু বললেন, ”শীতকাল। সন্ধ্যাবেলায় তো ডোবার জলে খোকাবাবুর চান করা চলবে না। দেখি যদি ভিজে গামছা দিয়ে ভাল করে রগড়ে রগড়ে গা মুছিয়ে দিলে রসটা ওঠে। নইলে তো পিঁপড়েতে ছিঁড়ে ফেলবে। এখেনে আবার কাঠপিঁপড়ের রাজত্ব।” একেই আমার সারা গায়ে রসে চিটচিটে, তার চতুর্দিকে ভাল ভাল রাজভোগ গড়াগড়ি খাচ্ছে এবং আমাদের গাড়ি দয়ে পড়েছে, গাড়োয়ানও নেই, বলদও নেই। এর মধ্যে লাল পিঁপড়ে? হা ভগবান। এখন কী হবে? আমীনবাবু কাছাকোঁচা গুছিয়ে বেরিয়ে পড়লেন লোকের খোঁজে সেই রোগা লোকটার সঙ্গে।

    একটু পরে লোকজন এবং আরেকটা গরুর গাড়ি নিয়ে ওঁরা ফিরলেন। গ্রামে বিরাট সম্বর্ধনা অপেক্ষা করছিল। কিন্তু ছোটবাবুর রসালো মূর্তি দেখে সবাই ঘাবড়ে গেল। ততক্ষণে রসটি শুকিয়ে চুল সব খোঁচা খোঁচা। আমি তো এদিকে পিঁপড়ের ভয়ে মরছি। ”যা থাকে কপালে” বলে ডোবার মধ্যেই ঝাঁপিয়ে পড়লুম। ”শীতের সন্ধ্যে” বললে তো কাঠপিঁপড়ে শুনবে না। ওফ! হাড় হিমকরা ঠাণ্ডা জল। হি হি করে কাঁপতে কাঁপতে উঠে এসে দেখি মস্ত এক গেলাস গরম দুধ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন আমীনবাবু। ”ছোটবাবুর” স্বাস্থ্য তাঁর জিম্মায়। আমীনবাবুর ভিজে গামছার সাজেশন আমি গ্রহণ করলাম না বলে তিনি ক্ষুণ্ণ এবং উদ্বিগ্ন। গরম দুধের পরে এবার তো ভাত খেতে বসতে হবে। স্কুলের হেডমাস্টারমশাইয়ের বাড়িতে আমরা উঠেছি, কিন্তু সেখানে ভাত খাওয়া হবে না। কেননা তিনি অব্রাহ্মণ। আমীনবাবু আমার ভাত খাবার ব্যবস্থা করেছেন এক বামুনবাড়িতে। তখন ভারত স্বাধীন হয়েছে। তবুও বাংলার গ্রামে এরকম কানুন চলত। আমি নেহাৎ ছেলেমানুষ নই কিন্তু জমিদারের নাতি বলে কথা! তাই আমাকে আতপ চাল, আর কাঁচা আনাজ ধরে দিয়ে ঠাকুর, স্বপাকে অন্ন রেঁধে নিন”, বলতে পারছে না প্রজারা।

    বামুনবাড়িটি মাটির, কিন্তু পরিষ্কার—পরিচ্ছন্ন। দাওয়ায় সুন্দর করে একটি কার্পেটের কাজকরা আসন পেতে, একলা আমাকে সোনার মতন ঝকঝকে কাঁসার থালাতে বামুনগিন্নি ভাত বেড়ে দিলেন। এদিকে ডোবায় চান করে গায়ের রসে টইটম্বুর ভাবটা কমে গেলেও, শীতের দিব্যি কাঁপুনি লাগছে, গরম দুধেও কমেনি, শালমুড়ি দিয়েও কমছে না। গরম গরম ভাতে ঘি, সাতরকম ভাজা, আর গোল করে থালার ধারে বাটির সারি তাতে সব তরিতরকারি। একটা মস্ত বড় বাটি থেকে মনে হলো যেন দুটি চোখ আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। বেশ সকাতর, করুণ চাউনি। নিশ্চয় মনের ভুল। আঁধার নেমে গেছে, শীতের রাত, দাওয়ায় লণ্ঠন জ্বলছে, তার আবছায়া, গা—ছমছমে আলোর মধ্যে নিশ্চয় ভুলভাল দেখছি। ডোবার জলে ঠাণ্ডা লেগে জ্বরটর এসে গেল না তো? জ্বরে লোকে প্রলাপ বকে। প্রলাপ দ্যাখেও কি? যতবার ভাবি আর তাকাবো না, ঠিক ততবারই ওই বাটিটার দিকে চোখ চলে যায়। আর দুটি কাতর চোখের প্রার্থনা নজরে আসে। শেষে মনে হলে এটা ভুল হতে পারে না।

    —”ওই বাটিতে যেন দুটো চোখের মতন কী যেন?”

    —”ওঃ ওই চোখ? ও তো পাঁঠার মুড়োর। পাঁঠার মুড়ো চমৎকার রান্না করেন যে আপনাদের বামুনজেঠিমা। খেয়ে দেখবেন, ভালো লাগবে।”

    ওরে বাবা! পাঁঠার চোখ? আর সেই পাঁঠা আমাকে সামনে বলছে—”ওগো, আমাকে খেয়ো না, আমাকে ছেড়ে দাও।” ওই বাটি আমি ছুঁলুম না, আর অন্যান্য বাটিও প্রায় না ছুঁয়েই খাওয়া সেরে উঠে পড়লুম, চমৎকার ক্ষীর আর পাটালি দিয়ে খাওয়া শেষ করে। বামুন আর বামুনগিন্নি খুব দুঃখিত। শহরের ছেলেরা কিছুই খায় না। ওদের পেট এইটুকুনি। যেন চড়াইপাখির পেট। হতো একটা গ্রামের ছেলে, ঠিক ওই বয়সের? দেখিয়ে দিত, খাওয়া কাকে বলে। আমিও দেখিয়ে দিতে পারতুম, তবে ওই দুটি চোখকে নয়।

    এদিকে আমীনবাবু পথ থেকে কুড়িয়ে সবকটা মিষ্টি তুলে এনেছেন। তারপর সেগুলো ভলো করে মুছে, ঝেড়ে, তাতে বেশ করে খোয়া ক্ষীরের গুঁড়ো মাখানো হয়েছে। পরদিন সকালে ইস্কুলের উদ্বোধনে ওই মেঠাই বিলি হবে। শুনে তো আমি হাঁ হাঁ করে আছড়ে পড়ি। ও কী কথা? ও কী কথা? সে কখনো হয়? যেই না বলা, অমনি আমীনবাবু খেপে লাল—”ছোটবাবু, সবকথায় কথা বলতে হয় না। তোমাদের হাতে পড়লে জমিদারী আর টিকবে না। সব উড়ে—পুড়ে যাবে। সম্পত্তি রাখা তোমার কম্মো নয়। পঞ্চাশ টাকার মিষ্টি। সব ফেলে দেবো? আমি কি পাগল হয়েছি না আমি বেইমান?”

    সকালে উঠে দেখি সেই গাড়োয়ানের ছেলেটা, যে গাড়ি উলটে দিয়ে পালিয়েছিল, বিশাল এক গেলাস দুধ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হাতে করে নিয়ে দেখি গেলাসটা ঠাণ্ডা। মুখে দিয়ে দেখি ব্যাপারটা দুধ না তালের রস। মানে তাল গাছের রস। যেমন খেজুরের রস হয় রোজ সকালে এখানে টাটকা তালের রস খাওয়া অভ্যেস। একটু বেলা পড়লেই সেটা আর রস থাকে না, তাড়ি হয়ে যায়। এরকম খেজুর রস খাবার কথা জানতুম। তালের রস খেয়ে দেখলুম চমৎকার খেতে। গ্রামে বাথরুমের বালাই নেই। ছোকরা আমার সঙ্গে চলল মাঠে, পেতলের গাড়ু করে জল নিয়ে। এক জায়গায় একটা গাছের কাছে এসে বললে—”ছোটবাবু। এই যে, আমরা ব্যাটাছেলেরা এখন যাব ডানদিকে। আর ওই বাঁদিকে মেয়েছেলেরা মাঠে যায়।” শুনেই তো আমার হয়ে গেল। ডাইনে—বাঁয়ে কোনোদিকেই না গিয়ে ”থাক। আজ আমার দরকার নেই” বলে আবার সোজা পালিয়ে এলুম। সেখানে এলো লুচি হালুয়া। এটা নাকি খেতে পারি। অন্নটা শুধু ব্রাহ্মণবাড়িতে। তারপর এক গেলাস চা নিয়ে আমি বসে আছি, রোদে পা ছড়িয়ে, একটিমাত্র আরামকেদারায়। কে যেন আমার পায়ের কাছে একটা খালি থালা রেখে গেল। তাতে কিন্তু খাবার—দাবার কিচ্ছু নেই। এখানে সকালে কাগজ আসে না। রীডিং মেটিরিয়াল বলতে সঙ্গে এনেছি ”ডাস ক্যাপিটাল”—ইঁটের মতন বইটা কিছুতেই এগোচ্ছে না। সেটা নিয়েই বসেছি। হঠাৎ মনে হলো নিচে থালায় টং টং শব্দ হচ্ছে। একটু পরে টের পেলুম গাঁয়ের লোকেরা ওইখানে আমাকে দূর থেকে প্রণাম করছে, আর দু’এক টাকা করে প্রণামী দিয়ে যাচ্ছে। এই তো প্রথম আমাকে তারা চোখে দেখছে। মুখ দেখানি দেবে না? আমি প্রচণ্ড লজ্জিত। আমিনবাবু ধারেকাছে নেই। আমি কোঁচানো ধুতি, সিল্কের শার্ট, সোনার বোতাম পরে, শাল জড়িয়ে বসে আছি। ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট আসছেন, তাঁর জন্যে অপেক্ষা করছি। জেলার গণ্যমান্যরা সকলেই এসে গেছেন। গান্ধীটুপি মাথায় জেলা কংগ্রেসের প্রতিনিধি এসেছেন। আমীনবাবু বললেন—”ইশকুল ওপেন করবেন ডি. এম সাহেব। তাঁর পরেই তুমি।”

    —”আমি মানে?”

    —”মানে তুমি বক্তৃতা দেবে।”

    —”আমি বক্তৃতা দেবো?”

    —”নিশ্চয়ই। তোমার গ্রাম। তোমারই ঠাকুর্দাদার তাতে তৈরি করে দেওয়া গার্লস ইশকুল তোমারই ঠাকমার নামে। তুমি তাতে বক্তৃতা না দিলে মানায়? তোমাকে দু’চার কথা কিছু বলতেই হবে। শিক্ষিত ছেলে তোমরা।”

    ম্যাজিস্ট্রেট বাঙালী। তিনি এসে গেলেন। লাল ফিতে কাঁচি দিয়ে কেটে ইশকুল ওপেন করলেন। গ্রামের মেয়েরা শাঁখ বাজাল। সাত—আটটি ছোটো—বড়ো মেয়ে পরিষ্কার, খাটো লালপেড়ে শাড়ি পরে এসেছিল। তারাই এ ইশকুলের প্রথম ছাত্রী হবে। তারা একপাশে লাইন করে দাঁড়িয়ে ছিল। হেডমাস্টারমশাই তাদের নিয়ে একটা ক্লাসরুমে ঢুকবেন, চকখড়ি, ডাস্টার, ব্ল্যাকবোর্ড, সবই সাজানো আছে সেই ঘরে। ডি. এম.—এর বক্তৃতার পরই আমাকে কিছু বলতে হবে। ঠাকুদ্দার হয়ে ডি. এম. বেশ সুন্দর করে বললেন স্ত্রীশিক্ষা বিষয়ে মিনিট পনেরো। তারপর আমি। মাইক ম্যাজিক জানে। মাইক দু’হাতে মুঠো করে ধরে আমি উদ্দীপ্ত কণ্ঠে একখানা যা বক্তৃতা দিয়ে ফেললুম, আমি নিজে তাতে যত অবাক, উপস্থিতি ব্যক্তিবর্গেরও তাতে অপার বিস্ময়। শুধু আমীনবাবু আমাকে হাত ধরে টেনে বসিয়ে দিয়েছিলেন। আর ডি.এম.ও ফিসফিস করে ধমকে বলেছিলেন—”সব কথার একটা জায়গা আছে। স্থান, কাল, পাত্র ভুলে গেলে তো চলবে না?” অথচ কথাগুলো আমি যা বলেছিলুম, তাতে শ্রোতাদের উদ্বুদ্ধ, অনুপ্রেরিত হওয়া উচিত ছিল। আপত্তিকর কিছুই বলিনি। আমি বলেছিলাম অবিকল ”স্বাধীনতা”র ভাষায়—”বন্ধুগণ, আমার কিষাণ মজদুর ভাইরা, যুগ যুগ ধরে যারা তোমাদের লাঞ্ছনা গঞ্জনা, বঞ্চনা ছাড়া কিছুই দেয়নি, যারা তোমাদের শাসনের নামে শোষণ করেছে, তোমাদের রক্তঢালা ধান কেড়ে নিয়ে যারা শহরে চারতলা বাড়ি তুলেছে, তোমাদেরই মাথার ঘাম পায়ে ফেলা টাকায় যারা শহরের রাস্তায় মোটরগাড়ি হাঁকিয়ে বেড়াচ্ছে, তোমরা তাদের এত সহজেই ক্ষমা করে দিলে? জমিদারমশাই একটা ইশকুল করেই না হয় দিয়েছেন গাঁয়ের মেয়েদের জন্যে—এটা তো বহুবছর আগেই করা উচিত ছিল। অন্তত একশো বছর আগে। আজ ভারত স্বাধীন হয়েছে। সরকারই এবার গ্রামে গ্রামে ইশকুল গড়ে দেবে। জমিদারের কৃপার মুখ চেয়ে আর তোমাদের বসে থাকতে হবে না। শাসক ইংরেজ চলে গেছে, কিন্তু তোমাদের শোষণ ঘোচেনি। নিজেদের প্রাপ্য জোর করে দখল করে নিতে হবে।” এতদূর বলেছি, আমীনবাবু জোরে জোরে আমার কাঁধে টোকা দিলেন। আমি গ্রাহ্য না করে বক্তৃতা চালিয়ে যাই।

    ”জমিদারমশাই ইশকুল করে দিয়েছেন বলেই যেন তোমরা ভুলে যেও না যে জমিদার শোষকশ্রেণী। আর শোষকশ্রেণী কখনোই কিষাণ মজদুরের বন্ধু হয় না, হতে পারে না—” বক্তৃতা শেষ করা হলো না। কনুই ধরে হ্যাঁচকা এক টান মেরে ”এবার থামো” বলে আমীনবাবু আমাকে বসিয়ে দিলেন। তখন জেলা কংগ্রেসের সেই ভদ্রলোক উঠে জলদগম্ভীর কণ্ঠে অপূর্ব এক ভাষণ শুরু করলেন। তাতে ঠাকুদ্দার প্রশংসা, ঠাকুদ্দার বাবার প্রশংসা। অজস্র হাততালি পড়ল। তারপরে সেই ক্ষীরের গুঁড়ো মাখানো ধূলিধূসরিত পথে গড়াগড়ি মেঠাই সমবেত ভদ্রমণ্ডলীর মধ্যে বিতরিত হলো। লোকে বেশ খুশি হয়েই খেল। তাদের পরে কিছু হয়েছিল কিনা জানতে পারিনি।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরেই আবার ভাত খেতে বামুনবাড়ি যাওয়া। আজকে সবাই কেমন গম্ভীর। তারপর সেই গরুর গাড়ি চড়ে পূর্বস্থলীর দিকে রওনা। আমি বারবার একটা সাইকেল চাইলুম। গরুর গাড়ির চেয়ে বরং সাইকেলে চলে গেলে সুবিধে বেশি। কিন্তু ”ছোটোবাবুকে” সাইকেলে পাঠানোর কথা কেউ কানেই তুলল না। এবার ছোকরা নয়, তার বাবা, আসল গাড়োয়ানই গাড়ি নিয়ে চলল, তার অসুখ সেরেছে। বড় রাস্তা দিয়েই যাওয়া হলো। ‘শটকাটে’ নয়।

    কলকাতায় এসে আমীনবাবু ঠাকুদ্দাকে কী বলেছিলেন জানি না, ঠাকুদ্দা আমাকে বললেন—”ছিঃ ছিঃ ওইরকম যাচ্ছেতাই বক্তৃতা দিয়ে এসেছ? আমাদের বাড়ির ছেলে হয়ে? আর কোনোদিন তোমায় কোনওখানে পাঠাবো না।” ঠাকুদ্দা বললেন—

    —সেলামীগুলো কৈ?

    —সেলামী? সে আবার কী?

    —কেন, ওরা থালা রাখেনি? তোমার চেয়ারের সামনে?

    —রেখেছিল তো।

    —তাতে টাকা পড়েনি?

    —হ্যাঁ—টং টং করে অনেক টাকা পড়েছিল।

    —সেগুলো গেল কোথায়?

    —সে তো আমি জানি না।

    —কে জানবে তাহলে?

    —থালার কথা আমীনবাবু জানেন।

    —ছিঃ ছিঃ তুমি সেলামীটুকুও সামলাতে পারোনি? সেও আমীন জানে? নাঃ। জমিদারী তুমি রাখতে পারবে না। এই তোমার শেষ যাওয়া। আর তোমাকে কখনো পাঠাব না।

    ঠাকুদ্দা তাঁর কথা রেখেছিলেন, আমাকে আর সেলামী কুড়োতে কোথাও যেতে হয়নি। কেননা ঠিক তারপরেই, আমারই ভবিষ্যদ্বাণী সফল করে, জমিদারী প্রথা উঠে গেল। কিন্তু সুধারানী মেমোরিয়্যাল গার্লস এখন হাই স্কুল। সম্প্রতি তার পঞ্চাশ বছরের সুবর্ণজয়ন্তী উৎসবের উদ্বোধনের আমন্ত্রণ এসেছে আমার কাছে। এই আমন্ত্রণ, এক ঔপন্যাসিকের কছে তাঁর প্রিয় পাঠকদের দাবি। ওরা কি জানে, ওঁদের এই সুধারাণী আমার ঠাকুমা?

    নবকল্লোল, এপ্রিল ১৯৯৮

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রবাসে দৈবের বশে – নবনীতা দেবসেন
    Next Article ইহজন্ম – নবনীতা দেবসেন

    Related Articles

    নবনীতা দেবসেন

    মায়া রয়ে গেল – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেনের গল্প

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    করুণা তোমার কোন পথ দিয়ে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণের নবনীতা – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণ সমগ্র ১ – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }