Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জরা হটকে এবং অন্যান্য – নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেন এক পাতা গল্প132 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    কান্যকুব্জের রাত্রি – নবনীতা দেবসেন

    কান্যকুব্জের রাত্রি

    [এই গল্পটি আমার দিল্লির জার্নালিস্ট বান্ধবী মাহ্মুদা আমাকে বলেছিল। বছর দশেক আগেকার কথা। মাহ্মুদার গল্প আমি তারই মুখে বসিয়ে দিলাম।]

    মাহ্মুদার গল্প

    আমরা কয়েকজন সাংবাদিক সেবারে গিয়েছি উত্তরপ্রদেশের ইলেকশন কভার করতে। আমরা যাবো লখনৌ থেকে ফারুকাবাদ। পথে চারটে মীটিং হবে। রাত্রিবাস কনৌজে। তিন ঘণ্টার স্টপ। নেতারা যাচ্ছেন হেলিকপ্টার করে। পেছু পেছু আমরা। ওঁরা আগে আগে পৌঁছে যাচ্ছেন, আমরা ঘণ্টাখানেক, ঘণ্টা দেড়েক বাদে। তারপর মীটিং হচ্ছে, সাংবাদিকরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে এক একটা গাড়ি ভাড়া করে যাচ্ছি, দু’তিনজন করে এক একটা গাড়িতে। আমি, আর ফোটোগ্রাফার প্রদীপ বাসু, আমরা একসঙ্গে যাচ্ছি। আমাদের গাড়ির ড্রাইভার আব্দুর রহমানের বয়েস ত্রিশ—বত্রিশ হবে, খুব চমৎকার ছেলে। আমাদের সঙ্গে দিব্যি জমে গেছে। ঠিক ঠিক ধাবাতে গাড়ি থামাচ্ছে, আমার জন্যে সুন্দর চা, প্রতীপের ঠাণ্ডা বীয়ার, সব ঠিকঠাক পাওয়া যাচ্ছে, আর রহমান তো গল্প করেই আমাদের জমিয়ে দিচ্ছে। রহমান বলছে আজকাল এত হিন্দু মুসলমানের দাঙ্গা কেন হয়। হিন্দু মুসলমান তো সত্যিই ভাই ভাই হয়ে বাস করে আসছে জন্ম জন্ম ধরে। হিন্দু—মুসলমানের প্রেমপ্রীতির প্রয়োজন নিয়ে সর্বত্র নেতারা এত লম্বা লম্বা বক্তৃতা দিচ্ছেন, অথচ এই যে প্রেমপ্রীতির অভাব আজকাল দেখা দিয়েছে সে তো ঐ নেতাদের জন্যেই! রাজনীতির চাল চেলে মানুষের বুকে ঘৃণা বিদ্বেষ ঢুকিয়ে দিয়েছিল এই নেতারাই—নিজেদের সুবিধে হবে বলে। এখন সেই বিদ্বেষ এমনই মরণবাড় বেড়েছে, যে নেতারা নিজেরাই আর সামাল দিতে পারছে না। নিজেদেরও যখন ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে, তখনই এসেছে ”প্যার করো” বলতে। অথচ প্যারের কোনো অভাব ছিল না একদিন। রহমান বলল—”এই যে গাড়িটা আমি চালাই, এ এক লখনৌয়ের হিন্দু রাজাবাবুর গাড়ি। তাঁর দয়াতেই আমি মানুষ। আমার যা কিছু সব তাঁর জন্যে। আমার বাবা তাঁর বাবার ঘোড়ার সহিস ছিলেন। আমার মা যখন অন্য একজনকে নিকাহ করে চলে যান লখনৌ ছেড়ে, আমি বাবার কাছেই বড় হচ্ছিলাম। সেই বাবাও হঠাৎ মারা গেলেন। গলায় ক্যানসার হয়েছিল বাবার। আমি তখনও নেহাৎ ছেলেমানুষ। রাজাবাবুই আমায় ছেলের মতো করে মানুষ করেছেন। ইস্কুলে দিয়ে পড়াশুনো শিখিয়েছেন, গাড়ি চালানো শিখিয়েছেন, এই গাড়িটা পর্যন্ত উনিই আমাকে দিয়েছেন। উনি আমার মা—বাপ—মনিব সব কিছু ছিলেন হিন্দু—মুসলমানের ফারাক কোনোদিন বুঝিনি, ওঁর কাছে সবাই সমান ছিল। এই যে আপনি মুসলিম, আর স্যার যে হিন্দু, আপনাদের কি কোনও অসুবিধে হচ্ছে, ম্যাডাম?”

    আমি তাড়াতাড়ি বলি, ”আমি মুসলিম মেয়ে, প্রদীপ হিন্দু ছেলে কিন্তু আমরা কেউ কারোর আত্মীয় নই। আমরা সহকর্মী মাত্র। দিল্লিতে আমার স্বামী আছেন, তিনি শিখ পাঞ্জাবী, আর প্রদীপের এক বৌ আর দুটো ছেলে।”

    —”তবে? তবে?” রহমান মহা উৎসাহে বলে উঠল—ওই তো একই হলো! আপনার স্বামী তো শিখ, সে ঐ হিন্দুই হলো—মুসলমান স্বামী তো নয়? এই তো আপনারা দিব্যি মিলেমিশে ঘর—সংসার করছেন? দেশটাও তো একটা বড় সংসারই ম্যাডাম—দেশের মানুষ মিলেমিশে ঘর করতে কেন পারবে না? দেশের মানুষের মধ্যে প্রেমপ্রীতির অভাব আসলে নেই। দরকার শুধু এই রাজনীতির নেতাদের মেরে ধরে তাড়িয়ে দেওয়া। এরাই যত নষ্টের মূলে।”

    কথা বলতে বলতে পথ ফুরিয়ে যাচ্ছে। রাত হয়েছে, কনৌজ এখনো আসেনি। ক্লান্তিতে, ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসছে। প্রদীপ একথা—ওকথা বলে বলে রহমানকে প্রাণপণ চেষ্টায় জাগিয়ে রাখছে। আমি মাঝে মাঝেই ঘুমিয়ে পড়ছি। হঠাৎ শুনি হাসতে হাসতে রহমান বলছে—”স্যার, অপ ভি জরাসা সো যাইয়ে না? মুঝপর পুরা ভরোসা রাখিয়ে, মুঝে নিন্দ নহী আয়েগী ম্যাঁয় যবতক স্টিয়ারিং মে হুঁ—”

    প্রদীপ বললে—”বাঃ এত রাত্রি হয়েছে, আপনি সারাদিন একটানা গাড়ি চালাচ্ছেন, ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন, ঘুমিয়ে যে পড়বেন না, তার নিশ্চয়তা কী?”

    রহমান একটু চুপ করে থেকে গম্ভীর গলায় বললে—”স্যার, এর উত্তরে আমি যা বলতে পারি, আপনি তা বিশ্বাস করবেন না। আপনি কেন, আজকালকার কোনও মানুষই একথা মানতে চাইবে না। আমি সেটা বুঝি। যে কথার প্রমাণ দেওয়া যায় না, দুয়িনাতে সে কথার কোনো মূল্য নেই। তাই নিশ্চয়তা যে কী, আপনাকে তা বোঝানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”

    আমার কৌতূহল হলো, আমি বলে উঠি,—”আমায় বলুন, আমায় বলুন, আমার কোনও প্রমাণ চাই না। আপনার মুখের কথাটাই যথেষ্ট।”

    রহমান খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে বললে—”রাত্তিরবেলায় ঘুম পায় না ম্যাডাম, রাত্তিরে হেডলাইটের আলো চোখে বিঁধে যায়, সাবধানে গাড়ি চালাতে হয়। ঘুম আসে ঠিক সকালের দিকে। ভোরের দিকে যখন একটা আলগা হাওয়া দেয়, আঁধারটা কেটে যায়, ফর্সা হয়ে আসে চারিদিক, মুখে—চোখে ঠাণ্ডা বাতাসটা যেই লাগে, শরীরটা রিল্যাক্স করে যায়, রাত্রের অন্ধকারের টেনশনটা কেটে যায়, অমনি দু’চোখ ঘুমে ভারী হয়ে ওঠে—চোখের পাতা জড়িয়ে আসতে থাকে। ঐ সময়টাতেই বেশির ভাগ অ্যাকসিডেন্ট হয় এই সব হাইওয়েতে। ঐ সময়টায় খুব সাবধানে থাকতে হয়। একবার আমার একটা এক্সপিরিয়েন্স হয়েছিল। লখনৌ থেকে এই গাড়িতে কিছু মাল নিয়ে তিনজন বিজনেসমেনকে নিয়ে গিয়েছিলাম মেরঠে। ওদের আমি পৌঁছে দিলাম, মালপত্র নামিয়ে দিলাম, দিয়ে ফেরৎ রওনা হয়েছি। পথে ভোর হয়ে এল, আমার চোখও ঘুমে জুড়ে আসতে লাগল। সামনের ধাবাটা এলেই থামতে হবে, চা খেতে হবে, এই ভাবছি, আর ভাবতে ভাবতে ঘুমের সঙ্গে যুদ্ধ করছি, হঠাৎ মনে হলো আমাকে দু’হাতে ধরে কে যেন ভীষণ জোরে ঝাঁকুনি দিচ্ছে। প্রচণ্ড ঝাঁকুনি খেয়ে আমার শরীর থেকে ঘুম ছেড়ে গেল, আমি চেয়ে দেখি একটা প্রকাণ্ড গাছ ঠিক আমার গাড়ির দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে। প্রাণপণ জোরে গাড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে তো কোনোরকমে বেঁচে গেলাম, ম্যাডাম, আপনি বললে বিশ্বাস করবেন না, স্পষ্ট শুনলাম রাজাবাবুর গলা—বলছেন, ”শাবাশ রহমান বেটা, জীতা রহো।” রাজাবাবু তার অল্প কিছুদিন আগেই মারা গেছে। এখনও তাঁরই বাড়ির কোয়ার্টারে আমার বিবি, বাচ্চারা, সবাই আছে। রাজাবাবুর তো বালবাচ্চা ছিল না। আমি কানে স্পষ্ট রাজাবাবুর গলা শুনেছিলাম ম্যাডাম। আমার বিশ্বাস রাজাবাবুই সেদিন আমাকে ঝাঁকুনি দিয়ে জাগিয়ে দিয়েছিলেন, বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন। সেই থেকেই আমার ভোররাত্রে ঘুম পায় না আর। কি স্যার, বিশ্বাস হলো?”

    প্রদীপ বলল—”আমি আরও এরকম কহানী শুনেছি রহমানসাব, যাঁরা হাইওয়েতে গাড়ি চালান তাঁদের সত্যিই নানা ধরনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়।”

    আমিও চুপ করে থাকি না। আমি এবার বলি—”এরকম মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী বন্ধু ভূতের কথা আমি শুনেছি আগে, আপনার কথা আমার খুবই বিশ্বাস হয়। আপনি মিছিমিছিই ভাবছিলেন যে আমরা বিশ্বাস করব না। পৃথিবীতে কত কিছুই তো ঘটে, আমরা যার সবটা বুঝি না।”

    রহমান খুশি হয়ে বললে—”যাক, তবু ভালো আপনারা যে আমার কথাটা বুঝতে পারলেন! ওই যে কনৌজ এসে গেছে, চমৎকার একটা ডাকবাংলো জানি আমি এখানে—চলুন দেখি যদি ফাঁকা থাকে।”

    ডাকবাংলো ফাঁকাই ছিল। দুটি মাত্র কামরা। একটায় আমি, একটাতে প্রদীপ। রহমান গাড়িতে থাকবে। গাড়ির পার্টস—টার্টসের জন্যে উদ্বেগে কিনা জানি না, সে গাড়িতেই শোবে। খালি কামরা না থাকলেও, ড্রয়িংরুমটা তো ছিল, সেখানে বড় একটা সোফাও আছে, তাতে দিব্যি একজন মানুষ শুয়ে থাকতে পারে। কিন্তু রহমান রাত্রে গাড়ি ছেড়ে থাকবে না। ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার আমাদের অতি চমৎকার রান্না করে দিল অত রাত্রে। লম্বা লম্বা দেরাদুন রাইসের ভাত, সরু সরু আলুভাজা পেঁয়াজ—লংকা দিয়ে ফার্স্টক্লাস ডিমের কারি। খেয়েদেয়ে শুতে না শুতেই ঘুম!

    হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। বাথরুমে কিসের শব্দ হচ্ছে। বাথরুমের ওপাশে প্রদীপের ঘর, এপাশে আমার। দুদিকে দুটো দরজা। যে যখন বাথরুমে যাবে, তখন অন্যদিকের দরজাতে ছিটকিনি লাগাবে, ফের বেরুবার সময়ে খুলে দেবে। এখানে এই নিয়ম। কেয়ার—টেকার ভাল করে দেখিয়ে দিয়েছে। বাথরুমের তো আলো জ্বলছে না, অথচ দিব্যি জল পড়ার শব্দ হচ্ছে। আমার বাথরুমে কী হচ্ছে জানা দরকার। ঘরের আলোটা জ্বেলে, বাথরুমের দরজাটা ঠেলে হাট করে খুলে ফেলে, আলো জ্বেলে ঢুকে দেখি কেউ নেই। বেসিনের কল থেকে জল পড়ছে। কল বন্ধ করে দিয়ে এসে শুয়ে পড়ি। বুকের মধ্যেটা অদ্ভুত ছমছম করতে থাকে।

    আবার আমার ঘুম ভেঙে গেল। আবার বাথরুমে জল পড়ার শব্দ। এবার আরো জোরে। আবার ঘরময় আলো জ্বেলে, বাথরুমের আলো জ্বেলে ঢুকে দেখি এবারে স্নানের কল থেকে মোটা ধারায় জল পড়ছে বালতিতে। বালতি প্রায় ভরে এসেছে। কল বন্ধ করে এসে শুয়ে পড়ি। এবার বেশ ভয় ভয় করছে। গা ছম ছমের চেয়ে বেশি।

    বাথরুমে জলের আওয়াজে ফের ঘুম ভেঙে গেল। তৃতীয়বার। এবার যেন খুব জোরে শব্দ হচ্ছে। ঢুকে দেখি বেসিনের কল, স্নানের কল, দুটো থেকেই জল পড়ছে তোড়ে। বালতি উপচে জল পড়ছে মেঝেতে। জোরে দুটো কলই বন্ধ করে দিই, আমার সমস্ত শরীরে কাঁটা দিচ্ছে। আমি আশ্চর্য হয়ে ভাবি এত জোর শব্দ হচ্ছে আর প্রদীপ কিছু শুনতে পাচ্ছে না? ঘর থেকে বেরিয়ে যেই আলোটা নিবিয়েছি, অমনি স্পষ্ট শুনলাম—আবার জোরে জল পড়া শুরু হয়ে গেল। আমার বুকের মধ্যের ধড়ফড়ানি আর থামানো যাচ্ছে না, আমি আর এঘরে শুতে পারলাম না। দরজার ফাঁক দিয়ে দেখতে পেলাম ড্রয়িংরুমে আলো জ্বলছে। এবার দরজা খুলে ড্রয়িংরুমে যাই। দেখি যদি কেয়ারটেকারকে পাওয়া যায়—ওকে বলা দরকার। নইলে প্রদীপকে ডাকতে হবে। এ জিনিস আমি একা একা আর সইতে পারছি না।

    ড্রয়িংরুমে ঢুকে আমি অবাক। এক মাঝবয়সী ভদ্রলোক সোফাতে বসে আছেন। ঘরভর্তি দামী চুরুটের গন্ধ। ভদ্রলোকের পাশে একতাড়া ম্যাগাজিন—পুরনো ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের একটা কপি পড়ছেন। ইনডিয়া স্পেশাল নাম্বার। ১৯৬৬—র। বলিষ্ঠ চেহারা, কাঁচাপাকা চুল, কাঁচাপাকা গোঁফ, টকটকে রং, কাটাকাটা নাক—চোখ, অত্যন্ত সুপুরুষ। আমার পরনে সালোয়ার কুর্তা ছিল, ভাগ্যিস নাইটি নয়! আমাকে দেখে উনি উঠে দাঁড়ালেন—ছ’ফুটের এক সেন্টিমিটারও কম হবেন না। পরনে সিল্কের শার্ট, কালো ট্রাউজার্স। যারপরনাই ভদ্র, সম্ভ্রান্ত চেহারা। ভদ্রলোক আমাকে দেখে সপ্রতিভ সুরে বললেন—’গুড মরনিং ম্যাডাম—তিনটে বেজে গেছে—আপনি কি রোজ এত ভোরবেলাতেই ওঠেন?” হঠাৎ ওঁকে দেখে তো আমি বেশ ঘাবড়ে গেছি। এ আবার কে? এল কখন।

    —”আপনি কখন এলেন—” বলেই ফেলি।

    —”এই তো সাড়ে বারোটা নাগাদ। আপনারা তখন ঘুমিয়ে পড়েছেন। ঘর ছিল না বলে এখানেই বিশ্রাম নিচ্ছি। কেয়ারটেকারটি সত্যিই খুব ভালমানুষ—রামফল। রামফল আমাকে এখানে বিশ্রাম করতে অ্যালাও করে গেছে।”

    —”আপনি তো বড় সোফাটায় শুয়ে কতক্ষণ একটু ঘুমিয়ে নিতে পারতেন। হাত—পা ছড়িয়ে।”

    ভদ্রলোক হেসে বললেন—”থ্যাংকিউ। কিন্তু সত্যিই আমার ঘুম পায়নি। আমি একটু পত্রিকাটত্রিকাগুলো দেখছি। এখুনিতো সকাল হয়ে যাবে। বসুন?”

    হঠাৎ খেয়াল হলো ভদ্রলোক এতক্ষণ দাঁড়িয়েই রয়েছেন। ”আপনি বসুন” বলে আমিও একটু বসি। ওর পাশেই একগাদা পুরনো ম্যাগাজিন। ১৯৬৪—র টাইম ম্যাগাজিন, মলাটে কেনেডির ছবি। ১৯৬৮—র টাইম ম্যাগাজিন, মলাটে মার্টিন লুথার কিং।

    —”কোথায় যাচ্ছেন?”

    —”এই এদিকেই একটু কাজ ছিল। সকাল হলে কনৌজ যাব। শহরে।”

    —”কোথা থেকে আসছেন?”

    —”লখনৌ।”

    ভদ্রলোক বিজনেস করেন, ট্রান্সপোর্টের ব্যবসা আছে লখনৌতে। পুরোপুরি গল্পের বইয়ের ”লখনৌয়ি সৌজন্যের” প্রতিমূর্তি যেন, অভিজাত পরিবারের মানুষ সন্দেহ নেই। ওঁকে বাথরুমে জলপড়ার সমস্যাটা বলা যায়। শুনে হেসে ফেললেন মিস্টার দুবে। ”এসব তো খুব পুরনো দিনের বাংলো, সেই সাহেবদের তৈরি। এখানে ওরকম হয়। ভয়ের কিছু নেই, ওসব ভৌতিক কাণ্ড নয়, নিশ্চয়ই ওয়াশারগুলো নষ্ট হয়ে গেছে, তাই কল যতবারই বন্ধ করেছেন, ততবারই খুলে যাচ্ছে। নিস্তব্ধ রাত্রে জল পড়ার শব্দ বড় ভয়ংকর শোনায়। জায়গাটা তো অপরিচিত।”

    মিস্টার দুবের কথায় মনে ভরসা পেলাম। উনিও যেন আমার মনের কথাটা বুঝে বললেন, ”যান, এবার শুয়ে পড়ুন গে, ওই জলের শব্দটব্দ স্রেফ ইগনোর করে ঘুমিয়ে পড়ুন। সকালে তো আবার বেরুবেন।” মিষ্টি হেসে আমার মনে বল যোগালেন মিস্টার দুবে। এবার গিয়ে শুয়ে সত্যিই ঘুমিয়ে পড়লাম, যদিও তখনও বাথরুমে জলের অবিশ্রাম শব্দ।

    সকালে উঠে দেখি মিস্টার দুবে নেই। প্রদীপ আমার আগে উঠে পড়েছে, কিন্তু সে ওঠার আগেই উনি চলে গেছেন। প্রদীপের সঙ্গে দেখা হয়নি ওঁর। উনি যেখানে বসেছিলেন সেখানে পুরনো ম্যাগাজিনগুলো খুঁজতে গিয়ে দেখি ম্যাগাজিনগুলো আর নেই। কি আশ্চর্য! ডাকবাংলোর ম্যাগাজিনগুলো মেরে দিলেন। এমন সম্ভ্রান্ত ভদ্রলোক? সত্যি, মানুষ বড় আশ্চর্য জীব। ভাবতেও পারিনি!

    আমরা বেরিয়ে পড়লাম। যেতে যেতে রহমানকেই বলি—”রাত্রে এক ভদ্রলোক যে এসেছিলেন, তিনি কখন চলে গেলেন?”

    রহমান বলল, ”কই কেউ তো আসেনি? আর কোনও গাড়ি তো ঢোকেনি বাংলোর কম্পাউন্ডে?” আমি বুঝলুম সব । প্রদীপ যেজন্যে জলের শব্দ শুনতে পায়নি, রহমানও সেই জন্যেই নিশ্চয় মিস্টার দুবের গাড়ি দেখেনি। সবই মদিরা দেবীর মায়া। রাত্রে ফিরে খুব মদ্যপান করা হয়েছে নিশ্চয়। গাড়ি যতক্ষণ হাইওয়েতে থাকে ততক্ষণ ড্রাইভাররা সব টীটোটলার। আর গাড়ি থামলেই অকূলে ঝাঁপ, অসীম তৃষ্ণা।

    রহমান বলছে—”ফারুকাবাদের মীটিং ক’টার সময়ে ম্যাডাম?” কথা ছিল ভোর তিনটেয় হবে, সেটা এখন পেছিয়ে গেছে সকাল সাতটায়। মক্ষিরানীর পাখায় গোলমাল হয়েছে, নেতাদের থেমে পড়তে হয়েছে মাঝপথে। হেলিকপ্টার বিগড়েছে। অতিরিক্ত যাত্রীর ভার চাপিয়েছিল বোধহয়—ভক্তবৃন্দ সকলেই যে হেলিকপ্টারে চড়ে সঙ্গে যেতে চায়! ফলে দুটো মীটিং ক্যানসেল হলো, হোলনাইট প্রোগ্রামটা করা চলল না, আর আমরাও একটু বিশ্রাম পেলাম।

    —”আমরা যখন মীটিং করি, আপনি তখন কী করেন রহমানসাব?”

    প্রদীপের কথার জবাবে রহমান হেসে ওঠে—”আমিও তো মীটিং শুনলাম দু’একটা। তারপর দেখি ওঁরা একই কথা বলছেন সর্বত্র। তখন বোরড হয়ে ম্যাগাজিনগুলো পড়ি। আমার গাড়িতে অনেক পুরনো ম্যাগাজিন আছে, ভাল ভাল। সবই রাজাবাবুর ম্যাগাজিন।”

    প্রদীপ বলল, ”পুরনো ম্যাগাজিন? কই, কই, দেখি?”

    —”এই তো এখানেই কয়েকটা আছে”—বলতে বলতে বাঁহাতে গ্লাভ কম্পার্টমেন্টটা খুলে রহমান দু’একটা বই এগিয়ে দেয়। ১৯৬৪—র টাইম ম্যাগাজিন, মলাটে কেনেডির ছবি, ১৯৬৬—র ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, ইনডিয়া স্পেশাল নাম্বার, ১৯৬৮—র টাইম ম্যাগাজিন, মলাটে মার্টিন লুথার কিং।

    —”রহমানসাব—” আমি শুনতে পেলাম আমি বলছি, ”আপনার রাজাবাবুর নাম কি মিস্টার দুবে?”

    একগাল আহ্লাদ দিয়ে রহমান বলে উঠল—”আপনি ওঁকে চিনতেন নাকি, ম্যাডাম?”

    নবকল্লোল, ডিসেম্বর ১৯৯৭

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপ্রবাসে দৈবের বশে – নবনীতা দেবসেন
    Next Article ইহজন্ম – নবনীতা দেবসেন

    Related Articles

    নবনীতা দেবসেন

    মায়া রয়ে গেল – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেনের গল্প

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    করুণা তোমার কোন পথ দিয়ে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণের নবনীতা – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণ সমগ্র ১ – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }