Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জলকন্যা – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প206 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ব্যাধি

    ভদ্রলোকের নাম রকিবউদ্দিন ভূঁইয়া। ভূঁইয়া গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক। কোটিপতি কিংবা কোটিপতির উপরে যদি কোন পতি থাকে সেই পতি। ভদ্রলোকের সঙ্গে কোথায় পরিচয় হয়েছিল মনে নেই। কোন পার্টি-টার্টি হবে, এই জাতীয় লোকদের সঙ্গে পার্টি ছাড়া দেখা হয় না। ভদ্রলোক বিনয়ী, কথা বলেন সুন্দর করে, তারপরেও তাকে আমার পছন্দ হয়নি। অসম্ভব বিত্তবান মানুষদের ভেতর চাপা অহংকার থাকে। তাদের বিনয়, ভদ্র ব্যবহার, সুন্দর কথাবার্তাতেও সেই অহংকার ঢাকা পড়ে না। নাটকের আবহ সঙ্গীতের মত, তাদের অহংকার সঙ্গীত সবসময় বাজতে থাকে।

    এই জাতীয় লোকদের আমি দ্রুত ভুলে যেতে চেষ্টা করি। রকিবউদ্দিন ভূঁইয়াকে আমি সম্ভবত সেই কারণেই ভুলে গিয়েছিলাম। চিটাগাং নিউমার্কেটের দোতলায় তাঁর সঙ্গে দেখা হল। আমি তাকে চিনতে পারলাম না। তিনি খানিকটা বিস্ময়ের সঙ্গে বললেন, চিনতে পারছেন না? আমি রকিব। রকিবউদ্দিন ভূঁইয়া।

    আমি বললাম, ঠিক মনে করতে পারছি না।

    হোটেল শেরাটনে দীর্ঘসময় আপনার সঙ্গে কথা বলেছি।

    আমি চিনতে পারার মত ভঙ্গি করে বললাম, ও আচ্ছা আচ্ছা।

    তিনি আহত গলায় বললেন, এখনো চিনতে পারছেন না?

    আমি বললাম, জ্বী না। আমার স্মৃতি শক্তি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মনে হয় আলজেমিয়ার ডিজিজ ফিজিজ হয়েছে। অতি পরিচিত কাউকে দেখলেও চিনতে পারি না।

    ভদ্রলোক দুঃখিত গলায় বললেন, ঐ দিন আমি বেগুনী রঙের একটা টাই পরেছিলাম। আপনি বলেছিলেন, টাইটার রঙটাতো খুব সুন্দর।

    তখন আমার মনে পড়ল। আমি বললাম, এখন মনে পড়েছে। আপনি ভুইয়া গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক।

    ভদ্রলোক হাসলেন। তাঁকে খুব আনন্দিত মনে হল। তাঁকে চিনতে পারছিলাম না এই অপমান তিনি বোধহয় সহ্য করতে পারছিলেন না। ইনি বোধহয় ধরেই নিয়েছিলেন একবার যাদের সঙ্গে তার পরিচয় হবে তারা ইহ জীবনে তাকে ভুলবে না। দেখা হওয়া মাত্র আরে রকিব ভাই বলে ছুটে আসবে।

    ভদ্রলোক হাসতে হাসতে বললেন, আমি ঐ বেগুনী টাইটা আলাদা করে রেখেছি। আমার স্ত্রীকে বলেছি, হুমায়ুন ভাই এই টাইটা পছন্দ করেছেন। বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠান ছাড়া আমি এই টাই আর পরব না।

    আমি বললাম, ও আচ্ছা। আমার ও আচ্ছাতে খুব যে আনন্দ প্রকাশিত হল, তা না।

    আপনার সঙ্গে এই ভাবে দেখা হয়ে যাবে জানলে বেগুনী টাইটা পরতাম।

    আমি আবারো বললাম, ও আচ্ছা। এছাড়া আর কি বলব ভেবে পাচ্ছিলাম না। ভদ্রলোকের হাত থেকে উদ্ধার পাওয়া আমার বিশেষ প্রয়োজন। রাত এগারোটায় তূর্ণা নিশীথায় ঢাকা যাব। এখন বাজছে সাড়ে নটা। রাতের খাওয়া এখনো হয়নি। নিরিবিলি ধরনের কোন হোটেল খুঁজে বের করতে হবে। চিটাগাং-এ হোটেল টোটেলগুলি কোন অঞ্চলে তাও জানি না।

    রকিব সাহেব বললেন, চিটাগাং-এ কি কোনো কাজে এসেছিলেন?

    আমি বললাম, হ্যাঁ। মনে মনে ভদ্রলোকের কথায় বিরক্ত হলাম। অকাজে নিশ্চয়ই কেউ ঢাকা-চিটাগাং করে না। অকারণ প্রশ্ন করার মানে কি?

    ঢাকা কবে ফিরবেন?

    আজই ফিরব।

    তূর্ণা নিশীথায়?

    জ্বী।

    আমি কি আপনার কাছে একটা প্রস্তাব রাখতে পারি?

    রাখুন।

    আমিও আজ ঢাকায় ফিরছি, বাই রোড। রাত এগারোটার দিকে রওনা হব। আমার সঙ্গে চলুন। গল্প করতে করতে যাব।

    আমি বেশ কঠিন গলায় বললাম, না।

    এখন ঢাকা-চিটাগাং হাইওয়ে এত সুন্দর হয়েছে…

    যত সুন্দরই হোক, আমি ঠিক করেছি ট্রেনে যাব।

    নতুন একটা লাক্সারী মাইক্রোবাস কিনেছি, ডাবল এসি, রিভলভিং সীটস, গাড়িতেই ফ্রিজ, টিভি…আপনাকে গাড়িটায় চড়াতে পারলে…

    অন্য আরেক সময় আপনার গাড়িতে চড়ব। দয়া করে এই বিষয়ে আর কথা বলবেন না।

    রকিব সাহেব শুকনো গলায় বললেন, আচ্ছা। ঠিক আছে।

    আমি হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। ভদ্রলোকের স্বভাব চিনেৰ্জোকের মত। যা ধরেন। ছাড়েন না। তাঁর হাত থেকে নিস্তার পেয়ে হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। যেভাবে চেপে ধরেছিলেন, তাতে মনে হয়েছিল ছাড়া পাব না। তার সঙ্গেই যেতে হবে। এবং সারা পথ শুনতে হবে জীবনের শুরুতে তিনি কেমন দরিদ্র ছিলেন। পরে কি করে বিত্ত সঞ্চয় করলেন। বিত্তবানরা এ জাতীয় গল্প অন্যদের শুনিয়ে খুব আরাম পায়, যারা ধৈর্য করে শোনে তারা যা পায় তার নাম নির্যাতন। সাধ করে নির্যাতনের ভেতর দিয়ে যাবার কোনো অর্থ হয় না। অন্যের অভাবের গল্প শুনতে যেমন ভাল লাগে না, অন্যের বিত্তের গল্প শুনতেও ভাল লাগে না।

    .

    রকিবউদ্দিন ভূঁইয়া সাহেবের ক্ষমতা আমি ছোট করে দেখেছিলাম। তিনি যে কি পরিমাণ কলকাঠি নাড়তে পারেন সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা ছিল না। তিনি কলকাঠি নাড়লেন। ট্রেনে উঠে দেখি ঠিক আমার টিকিটই ডাবল ইস্যু হয়েছে। অচেনা এক লোক আমার সীটে কম্বল গায়ে শুয়ে আছে। কম্পার্টমেন্টের এটেনডেন্টের সঙ্গে কথা বলতে গেলাম সে হাই তুলতে তুলতে বিরস গলায় বলল, স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে কথা। বলেন। আমার কিছু করার নাই, টিকিটতো আর আমি ইস্যু করি নাই।

    ট্রেন থেকে নেমে দেখি প্লাটফরমে দাঁড়িয়ে রকিব সাহেব সিগারেট টানছেন। আমাকে দেখে এগিয়ে এলেন। আমি বললাম, আপনি এখানে? তিনি বললেন, আপনাকে সি অফ করতে এসেছিলাম। সমস্যা কি?

    আমি সমস্যার কথা বললাম।

    তিনি বললেন, চলুন যাই স্টেশন মাস্টারের কাছে। মগের মুল্লুক নাকি? টিকিট ডাবল ইস্যু হবে? ছেলেখেলা?

    স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে দেনদরবার করতে করতে ট্রেন ছেড়ে দিল। বাধ্য হয়ে আমাকে রকিব সাহেবের মাইক্রোবাসে উঠতে হল। মাইক্রোবাস ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার মনে হল ট্রেনের পুরো ব্যাপারটা ভদ্রলোকের সাজানো। ডাবল টিকিট তাঁর কারণেই ইস্যু হয়েছে। তিনি আমাকে তার মাইক্রোবাসে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাই করছেন। আমার মনটাই খারাপ হয়ে গেলো।

    রকিব সাহেব।

    জ্বী।

    ট্রেনের পুরো ব্যাপারটা আপনার সাজানো। তাই না?

    জ্বী।

    এটা কেন করলেন?

    আপনাকে একটা গল্প বলতে চাচ্ছিলাম। সুযোগ পাচ্ছিলাম না। কাজেই সুযোগ তৈরি করে নিয়েছি। আমার ধারণা আপনি আমার উপর খুব রাগ করেছেন। হয়তোবা কিছুটা ঘৃণাও বোধ করছেন। তারপরেও আপনাকে গল্পটা শোনাবো।

    কি গল্প? কিভাবে পথের ফকির থেকে কোটিপতি হলেন সেই গল্প?

    জ্বি না সেই গল্প আমি কারো সঙ্গেই করি না।

    আমাকে যে গল্প করতে যাচ্ছেন সেটা কি সবার সঙ্গেই করেন?

    জ্বী না। আমার স্ত্রীকে বলার চেষ্টা করেছিলাম। সে পুরো গল্প মন দিয়ে শোনেনি। গল্পের মাঝখানে চা বানাতে গেছে, তার বান্ধবীকে টেলিফোন করেছে, ড্রাইভারকে পাঠিয়েছে ডিম কিনতে। তারপর থেকে আর কাউকে গল্পটা বলার চেষ্টা করিনি। আমি এমন একজন কাউকে চাচ্ছিলাম যে আমার গল্প মন দিয়ে শুনবে। ধরে নেয়া যেতে পারে আপনি এই গল্পের প্রথম এবং হয়তোবা শেষ শ্রোতা।

    শুরু করুন আপনার গল্প।

    গাড়ি চলছে প্রায় আশি কিলোমিটার বেগে। রাস্তায় প্রচুর ট্রাফিক। রকিব সাহেব স্টিয়ারিং ধরে বসে আছেন। আমি বসেছি তাঁর পাশে। গাড়িতে তৃতীয় ব্যক্তি নেই।

    আমি বললাম, আপনি কি গাড়ি চালাতে চালাতেই গল্প বলবেন?

    ভদ্রলোক হাসিমুখে বললেন, হ্যাঁ। আপনার ভয়ের কোনো কারণ নেই। আমি খুব ভাল ড্রাইভার। চোখ বন্ধ করেও গাড়ি চালাতে পারি। তারপরেও সাবধানের মা’র নেই। আপনি সীট বেল্ট বেঁধে নিন।

    আমি সীট বেল্ট বাঁধলাম।

    আপনার বা পাশে হ্যাংগারে চায়ের ফ্লাস্ক ঝুলছে। আপনি চা পছন্দ করেন। এই জন্যেই নিজে দাঁড়িয়ে থেকে চা বানিয়ে এনেছি।

    রকিব সাহেব সিগারেট ধরালেন। তাঁর দুহাত স্টিয়ারিং হুইলে। এর মধ্যেই গল্প শুরু হল। ঠোঁটে সিগারেট নিয়ে গল্প বলতে এই প্রথম কাউকে দেখছি।

    .

    আমার তখন আট বছর বয়স। নয়ও হতে পারে, ক্লাস থ্রতে পড়ি। স্কুল গরমের ছুটি হয়েছে। আমি বাবার সঙ্গে বেড়াতে যাচ্ছি বরিশাল। আমার বাবা দরিদ্র মানুষ ছিলেন। কিন্তু তাঁর নেশা ছিল ঘুরে বেড়ানো। বাংলাদেশের হেন জায়গা নেই যে তিনি না গিয়েছেন। বাবা একা বেড়াতেই পছন্দ করতেন। মাঝে মাঝে আমি এবং আমার বড় ভাই তাকে এমনভাবে চেপে ধরতাম যে আমাদের সঙ্গে না নিয়ে তার উপায় থাকত না। বাবার সঙ্গে যাবার সুযোগ বেশিরভাগ সময়ই আমার বড় ভাইয়ের ঘটতো। বাবা আমাকে সঙ্গে নিতে চাইতেন না কারণ ছোটবেলায় বেশিরভাগ সময়ই আমি অসুস্থ থাকতাম। বাবার সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া মানে প্রচুর হাঁটা, আমি একেবারেই হাঁটতে পারতাম না। ছেলে কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোয় কোনো আনন্দ নেই, কাজেই বাবা নানান অজুহাতে আমাকে বাতিল করে দিতেন।

    সেবার কেন জানি নিজ থেকেই তিনি আমাকে সঙ্গে নিতে রাজি হলেন। মা ছাড়তে রাজি হলেন না–আমি মাত্র এক সপ্তাহ জ্বর থেকে উঠেছি, শরীর খুব দুর্বল। এমন রুগ্ন অসুস্থ ছেলেকে মা ছাড়বেন না। কান্নাকাটি করে মা’র অনুমতি আদায় করলাম। এবং এক সন্ধ্যায় হাসিমুখে বাবার হাত ধরে বরিশালে যাবার স্টীমারে উঠলাম। স্টীমারের নাম অসট্রিচ। বিশাল এক স্টীমা’র। যেন পানির উপর ভাসমান ছোটখাট এক শহর। স্টীমারে করে এই প্রথম আমার বাইরে কোথাও যাওয়া। আমি একেবারে অভিভূত হয়ে পড়লাম। স্টীমা’র ছাড়ার পর বাবা আমাকে কোলে নিয়ে ঘুরে ঘুরে সব দেখালেন। ফার্স্টক্লাস কেবিন, ডেক, রেস্টুরেন্ট, পানি ঘর, ইনজিন ঘর। ইনজিন ঘর দেখে আমি হতভম্ব। প্রকান্ড একটা ঘরের এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত হাজার হাজার হাতুড়ির মত কি একটা যন্ত্র তালে তালে উঠছে আর নামছে–ভয়ংকর শব্দ হচ্ছে। আমি ভেবে পাচ্ছি না পৃথিবীর সপ্তম আশ্চর্যের তালিকায় স্টীমারের ইনজিন ঘরের নাম নেই কেন? এ পৃথিবীতে এরচে আশ্চর্যের আর কি হতে পারে?

    স্টীমারের হোটেলে রাতের খাবার খেলাম। ইলিশ মাছ, ভাত, বুটের ডাল। কি যে ভাল রান্না শুধু খেতেই ইচ্ছা করে। ভরপেট খেয়ে ঘুম পেয়ে গেল।

    খাওয়ার পর বাবা বললেন, পান খাবি? মিষ্টি পান?

    আমি ঠোঁট লাল করে পান খেলাম। বাবা আমাকে কাঠের একটা বেঞ্চে শুইয়ে দিলেন। আমার মাথার নিচে দিলেন তাঁর হ্যান্ডব্যাগ, গায়ে পাতলা একটা চাদর। বাবা বললেন, আরাম করে ঘুম দে। চাঁদপুর এলে ডেকে তুলব। দূর থেকে চাঁদপুর শহর দেখতে অসাধারণ লাগে। হাজার হাজার বাতি জ্বলে। বাতির ছায়া পড়ে পানিতে। দেখলে পাগল হয়ে যাবি। চাঁদপুর আসুক আমি ডেকে তুলব। আমি বললাম, আচ্ছা।

    জার্নির সময় আমার ঘুম হয় না। আমি সারাক্ষণ তোর পাশে বসে থাকব না। চা টা খাব, ডেকে ঘুরব, বুঝতে পারছিস?

    পারছি।

    হঠাৎ ঘুম ভেঙে যদি দেখিস আমি পাশে নেই তাহলে আবার ভয় পাবি নাতো?

    না।

    আমি একটু পরে পরে এসে তোর খোঁজ নিয়ে যাব।

    আচ্ছা।

    তোর যদি ঘুম ভেঙে যায়, এখানেই থাকবি। আমার খোঁজে বের হবি না। আমি যেখানেই থাকি তোর কাছে চলে আসব।

    আচ্ছা।

    বেড়াতে এসে মজা পাচ্ছিস তো বাবা?

    পাচ্ছি।

    বেশি মজা পাচ্ছিস, না অল্প মজা?

    বেশি মজা।

    বাবা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন। আমি প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়লাম। কতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলাম জানি না, ঘুম ভাঙ্গলো হৈ চৈ আর চিকারের শব্দে। জেগে উঠে দেখি স্টীমা’র থেমে আছে। খুব চেঁচামেচি হচ্ছে। আতংকে অস্থির হয়ে বাবাকে খুঁজলাম–দেখি বাবা পাশে নেই। শুধু বাবা না কেউই নেই। যে ঘরে শুয়ে ছিলাম সেই ঘরটা পুরো ফাঁকা। একা একা বসে থাকতে ভয় লাগছিল, বাবার নিষেধের কথা আর মনে রইল না, বের হলাম। স্টীমারের সব লোক ডেকের এক দিকে ভিড় করেছে। মনে হচ্ছে সবাই এক সঙ্গে কথা বলছে। লোকজনের কথাবার্তা থেকে বুঝলাম–একটা বাচ্চা ডেক থেকে পানিতে পড়ে গেছে। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। তারপর শুনলাম বাচ্চা না বয়স্ক একজন লোক। লোকটা একবার ডুবে যাচ্ছে, একবার ভাসছে। লোকটার উপর সার্চ লাইটের আলো ফেলা হয়েছে। নদীতে প্রবল স্রোত। স্রোত কেটে লোকটা আসতে পারছে না। তার কাছে মোটা দড়ি ছুঁড়ে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। দড়ি সে পর্যন্ত যাচ্ছে না, বাতাসের ঝাপটায় অন্যদিকে চলে যাচ্ছে।

    কখন যে আমি নিজেই লোকটাকে এক নজর দেখার জন্যে রেলিং এর কাছে চলে এসেছি এবং নদীর প্রবল স্রোতের দিকে তাকিয়েছি নিজেই জানি না। কাউকে দেখা যাচ্ছে না। চারদিকে ঘন কালো পানি। শুধু যে জায়গাটায় সার্চ লাইটের আলো পড়েছে সে জায়গাটা দেখা যাচ্ছে। সব লোক এক সঙ্গে হঠাৎ চেঁচিয়ে উঠলো–দেখা যায়, দেখা যায়। সার্চ লাইটের আলো সেইদিকে ঘুরে গেলো। আমিও দেখলাম–যে মানুষটা ডুবছে আর ভাসছে সে আর কেউ না, আমার বাবা। তখন আমার কোনো বোধশক্তি ছিল না। সিনেমা’র বড় পর্দার দিকে মানুষ যেভাবে তাকিয়ে থাকে, আমি সেই ভাবেই তাকিয়ে আছি। সিনেমা’র বড় পর্দায় অনেক রোমাঞ্চকর ঘটনা ঘটে। সেইসব ঘটনা দেখে আমরা ভয় পাই, রোমাঞ্চ বোধ করি। কিন্তু সেই ভয়, সেই রোমাঞ্চ কখনই আমাদের গভীরে প্রবেশ করে না। আমি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে সব দেখছি, কিন্তু সেই ভয় আমার ভেতরে ঢুকছে না। বাবা শেষবারের মত পানির উপর মাথা ভাসিয়ে ডুবে গেলেন। ডুবে যাবার আগে আকাশ পাতাল চিৎকার করে ডাকলেন, বাবলু। বাবলু। ও বাবলু।

    বাবলু হচ্ছে আমার ডাক নাম।
    আর এই হল আমার গল্প।

    .

    আমি রকিব সাহেবের দিকে তাকালাম। তার কপাল বেয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছে। তিনি বড় বড় নিঃশ্বাস ফেলছেন। মাইক্রোবাস চলছে প্রায় একশ কিলোমিটার বেগে। রকিব সাহেব ট্রাক, নাইট কোচ সব একের পর এক ওভারটেক করে যাচ্ছেন। স্পীড আরো বাড়ছে। রকিব সাহেব এক হাত স্টিয়ারিং হুইলে রেখে অন্য হাতে নির্বিকার ভঙ্গিতে সিগারেট ধরাতে ধরাতে শান্ত গলায় বললেন, গল্পটা আপনার কেমন লাগলো?

    আমি জবাব দিলাম না। রকিব সাহেব বললেন, আপনি খুব মন দিয়ে গল্পটা শুনেছেন। আপনাকে ধন্যবাদ। গল্পের শেষটা ইন্টারেস্টিং। শেষটা হচ্ছে–আমাকে অসহায় অবস্থায় রেখে বাবা মারা গেলেন, মৃত্যুর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর মাথায় ছিলাম আমি, যে কারণে মৃত্যুর পরেও তিনি আমার সঙ্গে সেঁটে রইলেন। এবং এখনো আছেন।

    আপনার কথা বুঝতে পারলাম না।

    অবিশ্বাস্য একটা ব্যাপার। বুঝতে না পারারই কথা। বাবা সবসময় আমার আশেপাশে থাকেন। এই যে আমি গাড়ি চালাচ্ছি তিনি কিন্তু পেছনের সীটে বসে আছেন। যতবার আমি স্পীড দিচ্ছি ততবার বলছেন–বাবলু আস্তে চালা। আপনি তা শুনতে পারছেন না। আপনার শুনতে পারার কথাও না।

    আমি বিস্মিত হয়ে বললাম, ব্যাপারটা কি সাইকোলজিকেল, না?

    রকিব সাহেব সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বললেন, আমি জানি আপনি তাই বলবেন। যে কোনো সেনসিবল মানুষই তাই বলবে। আমি নিজেও কিন্তু সেনসিবল মানুষ। এবং আমি জানি আসল ঘটনাটা কি। একবার কি হল শুনুন–জাপান থেকে যাচ্ছি লসএঞ্জেলেস, থাই এয়ারে। রাতের ডিনার শেষ করে ঘুমুতে যাব হঠাৎ শুনি বাবার গলা। বাবা বলছেন–বাবলু সীট বেল্ট বেঁধে নে। সামনে বিপদ।

    সীট বেল্ট বাঁধার তখন কথা না। প্লেনের যাত্রীরা সবাই রিল্যাক্স করছে। বড় পর্দায় ছবি দেখছে। আমি বাবার কথা শুনে সীট বেল্ট বাঁধলাম তার কিছুক্ষণের মধ্যে প্লেন ভয়াবহ এক এয়ার পকেটে পড়ল। কত যাত্রী যে সীট থেকে ছিটকে পড়ল। ভয়ংকর অবস্থা। প্লেন থেকে মে ডে ডিক্লেয়ার করা হয়েছিল।

    আপনার বাবা তাহলে বিপদ আপদে আপনাকে সতর্ক করে দেন।

    হ্যাঁ করেন।

    ভাল তো।

    মোটেই ভাল না। উনি আমার জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছেন। অতি তুচ্ছ ব্যাপারেও উনি নাক গলান। একবার ব্যাংককে গিয়েছি। ব্যাংককের ম্যাসাজ পার্লারের এত নামডাক। ভাবলাম দেখি ব্যাপারটা কি? দু হাজার বাথ দিয়ে টিকিট করলাম। পার্লারে ঢুকতে যাচ্ছি–হঠাৎ বাবা আমার কাঁধে হাত রেখে বললেন, বাবলু ছিঃ বাবা। এসব কি? ম্যাসাজ না নিয়ে চলে এলাম। দুহাজার বাথ জলে গেল। বাবা ছিলেন স্কুল শিক্ষক, তিনি তার স্কুল শিক্ষকের চিন্তা-ভাবনা নিয়ে আমাকে নিয়ন্ত্রণ করেন। আমি তাঁর কাছ থেকে মুক্তি চাই। স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই। তাঁকে যে এখন আমি কি পরিমাণে ঘৃণা করি তা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না।

    ঘৃণা করেন?

    অবশ্যই করি। আপনি হলেও করতেন। বাবার কারণে আমাকে গ্রামে হাই স্কুল দিতে হয়েছে। রাস্তা করে দিতে হয়েছে। এতিমখানা করতে হয়েছে। লোকে ভাবছে আমি বোধহয় ইলেকশন করব। গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করছি। আসল ব্যাপার হল আমার বাবা। সারাক্ষণ কানের কাছে ঘ্যান ঘ্যান–স্কুল করে দে। কলেজ করে দে। এতিমখানা করে দে। অসহ্য। এখন ধরেছেন হাসপাতাল করতে হবে। একশ বেডের হাসপাতাল। একশ বেডের হাসপাতালে কত টাকা লাগে তা উনার কল্পনার মধ্যেও নেই। টাকা গাছে ফলছে না। টাকা কষ্ট করে উপার্জন করতে হচ্ছে।

    হাসপাতাল করছেন?

    উপায় কি, করতে তো হবেই। সাভারে নব্বই একর জমি নিয়েছি। আরো নিতে হবে।

    রকিব সাহেব হঠাৎ গাড়ির গতি কমিয়ে ষাট কিলোমিটারে নিয়ে এলেন। আমার দিকে তাকিয়ে লজ্জিত গলায় বললেন, স্পীড বেশি দেয়ার জন্যে বাবা দারুণ হৈ চৈ শুরু করেছেন।

    তারপর তিনি আমার দিকে ঝুঁকে এসে প্রায় ফিস ফিস করে বললেন, যখন বাবার গলা শুনতে ইচ্ছা করে তখন আমি ইচ্ছা করে স্পীড দেই। ডেঞ্জারাস টার্ন নেই। বাবা ধমক দেন। উনার গলা শুনে ভাল লাগে।

    আমি কিছু বললাম না। চুপ করে রইলাম। রকিব সাহেব বললেন, আপনি যে বললেন সাইকোলজিকেল–সেটা হতে পারে। বাচ্চা বয়সে একটা ভয়াবহ মৃত্যু দেখেছি, আমার মাথার ভেতর সেটা ঢুকে মাথাকে এলোমেলো করে দিয়েছে। সাইকিয়াট্রিস্ট দিয়ে চিকিৎসা করালে হয়তো সুস্থ হব। আমি কিন্তু চিকিৎসা করাতে চাই। আমি চাই এই ব্যাধি আমার থাকুক। আমৃত্যু থাকুক। এই চাওয়াটা কি অন্যায়?

    না অন্যায় না।

    ভাই, আপনি আমার হাসপাতালটার জন্যে খুব সুন্দর একটা নাম দেবেন। আমি আমার বাবার নামে হাসপাতাল দিতে চেয়েছিলাম। বাবার তাতে ভয়ংকর আপত্তি। রেগেমেগে এমন ধমকানো আমাকে ধমকিয়েছেন–মনে করলেই হাসি আসে-হা হা হা। হা-হা-হা।

    রকিব সাহেব প্রাণ খুলে হাসছেন। ব্যাধিগ্রস্ত কোনো মানুষকে আমি এত সুন্দর করে কখনো হাসতে দেখিনি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleশিশুসাহিত্য – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article বলপয়েন্ট – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }