Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জলঙ্গীর অন্ধকারে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প273 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জলঙ্গীর অন্ধকারে – ৫

    ‘নে, আর কত ঘুমাবি? এবার উঠে পড়৷’

    সোহমের ধাক্কাতে ঘুম ভেঙে বিছানায় উঠে বসল মল্লার৷ খোলা দরজা দিয়ে বাইরের ঝলমলে রোদ দেখা যাচ্ছে৷ চূর্ণী আর সোহমের পোশাকের দিকে তাকিয়ে সে বুঝতে পারল ওরা ঘরের বাইরে বেরবার জন্য ইতিমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে৷ চূর্ণী বলল, ‘বুনো কখন চা দিয়ে গেছে তা এখন ঠান্ডা জল হয়ে গেল৷’ মল্লার হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল প্রায় সাড়ে ন’টা বাজে৷ বেশ লজ্জা লাগল তার৷ আসলে গত রাত্রে শ্মশান থেকে ঘরে ফেরার পর সেই অভিজ্ঞতার রেশ থেকে মুক্ত হয়ে ঘুম আসতে আরও অনেকক্ষণ লেগেছিল৷ তাই তার উঠতে এত দেরি হল৷

    মল্লারের প্রথমে মনে হল, গতরাতের অভিজ্ঞতার কথা জানায় দু’জনকে৷ কিন্তু তারপরেই ভাবল কথাটা জানার পর তার এই হঠকারিতার জন্য নিশ্চয়ই তাকে সকালে বন্ধুদের থেকে গালাগালি খেতে হবে৷ সকালে উঠে কারই বা তিরস্কার শুনতে ভালো লাগে? তাই সে সম্ভাবনা এড়াবার জন্য মল্লার ভাবল পরে যে কোনও সময় কথাটা বলবে তাদের৷

    বিছানা ছেড়ে উঠে চটপট তৈরি হয়ে নিল মল্লার৷ তারপর ঠান্ডা চা আর কেক-বিস্কুট দিয়ে টিফিন সেরে চূর্ণী আর সোহমের সঙ্গে ঘর ছেড়ে আশ্রমের মাঠে নেমে এল৷ চারপাশে কোথাও কুয়াশার লেশমাত্র নেই৷ সূর্যালোকে ঝলমল করছে চারদিক৷ তারা তমসাময়কে দেখতে পেল না৷ ছেলেদের ঘরগুলোর দিকে তাকিয়ে তাদের দেখতে না পেয়ে চূর্ণী বলল, ‘একটা জিনিস খেয়াল করে দেখেছিস? বাচ্চাগুলো কিন্তু বিকালের আগে খুব একটা ঘরের বাইরে বেরোয় না৷’

    সোহম বলল, ‘এ সময় হয়তো ওরা লেখাপড়া করে৷ তবে কাল রাতে যখন ওদের ঘরের সামনে আগুন জ্বালিয়ে মাংস রান্না হচ্ছিল তখন ওরা ওখানে খুব নাচনাচি করছিল তা আমি আর মল্লার দেখেছি৷ ওদের দেখে মনে হল খুব আনন্দ করছিল ওরা৷’

    চূর্ণী বলল, ‘চল, নদীর পাড়ে একবার ঘুরে আসি, তারপর ছেলেগুলো কী করছে দেখতে যাব৷’

    চূর্ণীর কথা শুনে মল্লার আর সোহম তাকে নিয়ে এগলো জলঙ্গীর পাড়ে যাবার জন্য৷ সোহম হাঁটতে হাঁটতে বলল, ‘আজ ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে-সঙ্গেই একটা শব্দে ঘুম ভেঙে গিয়েছিল আমার৷ কারা যেন জোর গলায় হরিধ্বনি দিতে দিতে শ্মশানে মড়া পোড়াতে যাচ্ছিল৷ সেই শব্দ ঘরে শুয়েও আমার কানে এসেছিল৷ তোরা টের পেয়েছিস?’

    ভোরের দিকে গাঢ় ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল মল্লার৷ তার সে শব্দ টের পাওয়ার কথা নয়৷ চূর্ণী বলল, ‘না, পাইনি৷ আর না পেয়ে ভালোই হয়েছে৷ শববাহকদের হরিবোল শব্দ পাখির ডাকের মতো নয় যে তা শুনে ঘুম ভাঙাতে হবে৷’

    নিজেদের মধ্যে কথা বলতে বলতে কিছুক্ষণের মধ্যেই বেড়ার ঝাঁপ টেনে তারা আশ্রমের বাইরে বেরিয়ে পড়ল৷ আর এরপরই দেখতে পেল শ্মশানের দিক থেকে একদল লোক আসছে৷ তাদের মধ্যে ভেজা শরীরে কাছা পরা লোকও আছে৷ তাদের দেখেই বোঝা যাচ্ছে শবদাহ করে ফিরছে৷ সম্ভবত ভোরবেলা এই লোকগুলোর দেওয়া হরিধ্বনি শুনেই ঘুম ভেঙে গিয়েছিল সোহমের৷ লোকগুলো মল্লারদের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় বেশ একটু কৌতূহলী দৃষ্টিতে তাকাল তাদের দিকে৷ মল্লারের কানে গেল, একজন লোক অপর একজনকে বলল, ‘মড়ার আশ্রমে লোকজনও আসে দেখছি৷’

    ওরা চলে যাওয়ার পর মল্লাররা গিয়ে দাঁড়াল নদীর পাড়ে৷ পানকৌড়ির দল উড়ে বেড়াচ্ছে জলের উপর৷ জলের দিকে তাকিয়ে আজ জলের স্রোত একটু বেশিই মনে হল তাদের৷ জলঙ্গীর কালো জলে কচুরিপানাগুলো যেন একটু দ্রুত গতিতেই ভেসে যাচ্ছে৷ নদীর দু’পাশে বেশ অনেকটা দূর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে সূর্যালোকে৷ শ্মশানের দিকে যাবার পথটাও দেখা যাচ্ছে৷ সেদিকে তাকিয়ে মল্লারের গত রাতের কথা মনে পড়ল৷ দিনের আলোতে দেখা এ পথটাই গত রাতে কেমন অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল কুয়াশার আড়ালে৷ তিন হাত দূরের জিনিস পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল না! চারপাশের এই দেখা জায়গাই কেমন অজানা অপার্থিব হয়ে উপস্থিত হয়েছিল মল্লারের সামনে৷

    নদীর পাড়ে শীতের মিঠে রোদে দাঁড়িয়ে গল্প শুরু করল ওরা৷ কিছুক্ষণ পর দেখতে পেল বুনো আসছে শ্মশানের দিক থেকে৷ সে মল্লারদের কাছাকাছি আসার পর খেয়াল করল বুনোর হাতে ধরা আছে সরা চাপা দেওেয়া একটা মাটির ছোট হাঁড়ি৷ সোহম তাকে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কোথায় গিয়েছিলে?’

    বুনো হেসে বলল, ‘মাছ ধরার চার আনতে৷ দুপুরে মাছ ধরব৷’—এ কথা বলে সে আশ্রমের ভিতরে ঢুকে গেল৷ সে চলে যাবার পর আরও কিছুক্ষণ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে গল্প করে তারাও আশ্রমে ফিরে গেল বাচ্চা ছেলেগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য৷ ছেলেদের থাকার জায়গা সেই ব্যারাকের মতো বাড়িটার দাওয়াতে উঠে পড়ল৷ কিন্তু ছেলেগুলোর কোনও গলার শব্দ তাদের কানে এল না৷ গতকাল ছেলেগুলো সামনের যে ঘরটাতে ছিল যে ঘরে উকি দিল মল্লাররা৷ সে ঘরে কেউ নেই৷

    বাড়িটাতে আরও বেশ কয়েকটা ঘর আছে৷ মল্লাররা দেখল যে ঘরগুলোর দরজা ভিতর থেকে বন্ধ৷ কাউকে দেখতে না পেয়ে সোহম হাঁক দিল, ‘কেউ আছ?’

    চূর্ণী বলে উঠল, ‘সঞ্জীবন, নবজীবন তোমরা কেউ আছ?’

    বার কয়েক হাঁক দেবার পর একটা দরজার ঝাঁপ খুলে দাঁড়াল সঞ্জীবন৷ তাকে দেখেই মল্লাররা বুঝতে পারল তাদের হাঁকডাক শুনেই ঘুম থেকে উঠে এল সে৷ হাত দিয়ে চোখ ঘষে নিয়ে মল্লারদের দেখে হাসল৷ এরপর আরও দুটো ঘরের দরজা খুলে গেল৷ দরজা খুলে দাঁড়াল আরও কয়েকটা বাচ্চা৷ তাদের অবিন্যস্ত পোশাক দেখে মল্লাররা বুঝতে পারল তারাও সদ্য ঘুম ভাঙার পর দরজা খুলে দাঁড়িয়েছে৷

    ছেলেগুলোর শোবার ব্যবস্থা কেমন দেখার জন্য তারা সঞ্জীবনের সঙ্গে সে ঘরটাতে ঢুকল৷ আলো থেকে অন্ধকার ঘরে ঢোকাতে কয়েক মূহূর্ত প্রথমে কিছুটা ঠাহর করতে পারল না৷ তারপর সোহম দেখল ঘরে জানলার মতো যে জায়গাটা আছে সেখানে সম্ভবত শীত আটকাবার জন্যই পর্দার মতো করে মোটা চটের কাপড় টাঙানো হয়েছে৷ মল্লার এগিয়ে গিয়ে চটটা সরিয়ে দিতেই পুবের আলো প্রবেশ করল ঘরে৷ মাঝারি একটা ঘর৷ তার উপর মামুলি বিছানা, চাদর, কম্বল৷ দেওয়ালের গায়ে টাঙানো দড়িতে ঝুলছে ছেলেগুলোর জামা৷ সঞ্জীবন একটা খাট ছেড়ে নেমে দরজা খুলছে৷ অন্য দুটো খাটের একটাতে বসে চোখ কচলাচ্ছে একটা ছেলে৷ আর একটা খাটে আর একটা বাচ্চা তখনও কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমচ্ছে৷ মল্লার সঞ্জীবনকে প্রশ্ন করল, ‘তোমরা এত দেরি করে ঘুম থেকে উঠলে কেন? সকালে পড়তে বসবে না?’

    সঞ্জীবন জবাব দিল, ‘কাল চড়ুইভাতি করে রাতে ঘুমতে দেরি হয়েছিল, তাই ঘুম ভাঙতে দেরি হল৷’

    মল্লারদের দেখতে পেয়ে অন্য ঘরগুলো থেকেও বেশ কয়েকটা ছেলেও এরপর সে ঘরে ঢুকে দাঁড়াল। সবাই ঘুম থেকে উঠে এসেছে। কেউ চোখ কচলাচ্ছে বা কেউ হাই তুলছে। চূর্ণী প্রশ্ন করল, ‘কাল মাংস কেমন খেলে তোমরা? পেট ভরে খেয়েছ তো?’

    এবার ছেলেগুলোর মুখে হাসি ফুটে উঠল। একসঙ্গে বেশ কয়েকজন ছেলে বলে উঠল ‘হ্যাঁ, খেয়েছি৷ পেট ভরে খেয়েছি৷’

    মল্লার বলল, ‘এই যে তোমরা বেড়ার ঘরের মধ্যে এত কষ্ট করে থাকো, ভালো পোশাক পরতে পারো না, ইচ্ছা হলে মাংস খেতে পারো না, কিন্তু কেউ যদি বলে যে, তোমাদের ভালো ঘরে থাকতে দেবে, ভালো জামা পরতে দেবে৷ তাহলে তার সঙ্গে এখান থেকে যাবে তোমরা?’

    কয়েক মুহূর্তর জন্য ঘরের ভিতর নিস্তব্ধতা নেমে এল৷ তারপর নবজীবন নামের ছেলেটা প্রথমে বলল, ‘জীবনবাবা আমাদের সঙ্গে গেলে যাব, নইলে যাব না৷’

    মল্লার এবার তাকাল অন্য ছেলেগুলোর মুখের দিকে৷ সঞ্জীবন এরপর বেশ দৃঢ়ভাবে বলল, ‘জীবনবাবাকে ছেড়ে আমরা কোথাও যাব না৷’

    সোহম হেসে প্রশ্ন করল, ‘কেন যাবে না?’

    উজ্জীবন সঙ্গে সঙ্গে বলল, ‘জীবনবাবা আমাদের নতুন জীবন দিয়েছেন, তিনি আমাদের খুব ভালোবাসেন তাই৷’

    উপস্থিত অন্য ছেলেগুলো বলল, ‘আমরা জীবনবাবাকেও খুব ভালোবাসি৷’

    কিন্তু এরপরই মল্লারের মনে হল ছেলেগুলোর মুখের হাসি মুছে গিয়ে তাদের মুখমণ্ডলের কেমন যেন শঙ্কার ভাব ফুটে উঠতে শুরু করেছে৷ মল্লারদের প্রশ্ন শুনে ছেলেগুলো হয়তো ভাবতে শুরু করেছে যে মল্লাররা তাদের নিয়ে যাবার জন্য আশ্রমে এসে হাজির হয়েছে! ছেলেগুলোর মনের ভাব অনুমান করে মল্লার তাদের আশ্বস্ত করার জন্য বলল, ‘আমি তোমাদের এমনি জিগ্যেস করলাম কথাটা৷ আমরা তোমাদের কোথাও নিয়ে যাবার জন্য এখানে আসিনি৷ যদি তোমাদের সাহায্য করা যায় সে জন্যই আশ্রমটা দেখতে এসেছি৷ বুঝতে পারলাম জীবনবাবাকে তোমরা খুব ভালোবাসো৷ আর তিনিও তোমাদের ভালোবাসেন৷’

    মল্লারের কথা শুনে ছেলেগুলোর মুখে আবার ধীরে ধীরে হাসি ফুটে উঠল। বাচ্চাগুলোর মধ্যে আকারে যে সব থেকে ছোট, সে নিষ্পাপভাবে জানতে চাইল, ‘আজও কি তোমরা আমাদের মাংস খাওয়াবে?’

    প্রশ্নটা শুনে মল্লার একটু অস্বস্তিবোধ করল৷ আজও তাদের মাংস খাওয়াতে হলে অন্তত দু-হাজার টাকা খরচ করতে হবে তাদের৷ চূর্ণী ব্যাপারটা সামলে নিয়ে বলল, ‘পর পর দু-দিন মাংস খাওয়া ঠিক নয়৷ তবে দেখি তোমাদের অন্য কিছু খাওয়াতে পারি কিনা?’

    সে কথা শুনে হাসল ছেলেগুলো৷ এরপরই সোহমেরই প্রথম একটা ব্যাপার চোখে পড়ল৷ এ ঘরের তৃতীয় তক্তপোশে যে ছেলেটা ঘুমোচ্ছিল, সে কথাবার্তার শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠে বসেছে৷ কম্বলটা খসে গেছে তার শরীর থেকে৷ জানলার মতো বেড়ার ফোকর দিয়ে আলো সোজা এসে পড়েছে তার গায়ে৷ সোহম তার দিকে তাকিয়ে বিস্মিতভাবে জানতে চাইল ‘ওটা কীসের দাগ?’

    সোহমের দৃষ্টি অনুসরণ করে বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে মল্লার আর চূর্ণীও বেশ অবাক হয়ে গেল৷ বছর আটেকের ছেলেটার বুক থেকে পেট পর্যন্ত একটা লম্বা দাগ দেখা যাচ্ছে৷ যেন সে জায়গা কোনও সময় চেরা হয়েছিল বা অপারেশন করা হয়েছিল৷

    ছেলেটা কোনও জবাব দেওয়ার আগেই জবাবটা এল তমসাময়ের কাছ থেকে৷ দরজার বাইরে এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি৷ সোহমের প্রশ্নর জবাবে তমসাময় বললেন, ‘রেল স্টেশনে ঘুরে বেড়াত ও৷ একদিন ট্রেনের ধাক্কায় এই অবস্থা হয়৷ ওর বাঁচারই কথা ছিল না৷ তারপর আমি ওকে এখানে এনে আশ্রয় দিয়েছি৷’

    ছেলেটাকে দেখে বেশ কষ্ট হল মল্লারদের৷ কেমন যেন করুণ দৃষ্টিতে চেয়ে আছে বাচ্চাটা৷

    ছেলেগুলোর সঙ্গে আরও কিছু মামুলি কথাবার্তার পর তারা সে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে এল৷ দাওয়া থেকে একসঙ্গে নামার পর তমসাময় বললেন; আমার ঘর থেকে দেখলাম আপনারা এদিকে আসছেন তাই আমিও চলে এলাম৷ কাল ওরা খুব আনন্দ করে মাংস খেয়েছে৷ ছেলেগুলোর সঙ্গে কথা বলে আর কী বুঝলেন?’

    সোহম হেসে বলল, ‘বুঝলাম, আপনাকে ওরা খুব ভালোবাসে আর আপনিও ওদের ভালোবাসেন৷’

    তমসাময় মুখে হাসি ফুটিয়ে বললেন, ‘আমি যথা সম্ভব চেষ্টা করি ওদের ভালো রাখার জন্য৷ আরও অনেক কিছু করার সাধ আছে কিন্তু সাধ্য নেই৷ তবে শিশুরা সরল নিষ্পাপ হয়৷ ওরা বোঝে যে আমি ওদের ভালো রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করি৷’

    হাঁটতে হাঁটতে চূর্ণী তাঁর পার্স থেকে একটা দুশো টাকার নোট বার করে সেটা তমসাময়ের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, ‘এটা ছেলেদের জন্য দিলাম৷ সম্ভব হলে আজ ওদের একটু মিষ্টি কিনে দেবার ব্যবস্থা করবেন৷’

    তমসাময় এরপর কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ঠিক সেই সময় আশ্রমের প্রবেশ পথের বাইরে বেশ কয়েকবার গাড়ির হর্নের শব্দ শোনা গেল৷ যেন কেউ দরজা খোলার জন্য হর্ন বাজাচ্ছে৷

    শব্দটা শুনে মৃদু বিস্মিতভাবে তমসাময় বললেন, ‘গাড়ি নিয়ে কে এল, কারও তো আসার কথা নয়!’

    আবারও বাজতে শুরু করল গাড়ির হর্ন৷ সেই শব্দে রান্না ঘরের বাইরে বেরিয়ে তমসাময়ের দিকে তাকাল বুনো৷ তিনি দূর থেকে হাতের ইশারায় বুনোকে বললেন, ‘ব্যাপারটা দেখার জন্য৷ বুনো সেদিকে গিয়ে আশ্রমের প্রবেশ পথের বাঁশের ঝাপটা ফাঁক করে সম্ভবত যারা এসেছে তাদের পরিচয় জানতে চাইল৷ তারপর সে প্রবেশ মুখটা উন্মুক্ত করতেই একটা কালো রঙের এসইউভি গাড়ি প্রবেশ করল৷ তারপর সম্ভবত মল্লারদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই এগিয়ে আসতে লাগল তাদের দিকে৷

    গাড়িটা সোজা এসে থামল তাদের সামনে৷ গাড়ির মাথায় নীল আলো বসানো৷ সামনে লাগানো আছে পিতলের অশোকস্তম্ভ৷ যা দেখে মনে হচ্ছে সরকারি গাড়ি৷ চালকের আসনের পাশে বসে আছে একজন লোক৷ আর পিছনের আসনে আরও একজন৷ চালক আর তার পাশের আসনের লোকটা প্রথমে গাড়ি থেকে নামল৷ তাদের গায়ে জ্যাকেট, পায়ে জুতো৷ বেশ শক্ত সমর্থ চেহারা তাদের৷ সেই লোক দু’জনের একজন গাড়ির পিছনের দরজাটা খুলে দিতেই একজন মাঝবয়সি ভদ্রলোক নামলেন গাড়ি থেকে৷ তাঁর পরনে ধূসর রঙের কোট-প্যান্ট, লাল রঙের টাই, চোখে দামি চশমা, পায়ে পালিশ করা শ্যু৷ ভদ্রলোকের চেহারাতে বেশ একটা গাম্ভীর্য আছে৷

    গাড়ি থেকে নেমে তিনি কয়েক ধাপ এগিয়ে এসে মল্লারদের ভালো করে দেখে নিয়ে গম্ভীরভাবে প্রশ্ন করলেন, ‘এই অনাথ আশ্রম কে চালান?’

    প্রশ্ন শুনে তমসাময় হাত জোড় করে ভদ্রলোককে নমস্কার জানিয়ে বললেন, ‘আমার নাম তমসাময় শাস্ত্রী৷ এই আশ্রম আমিই চালাই৷’

    জবাব শুনে কোট পরা লোকটা বললেন, ‘শুনছিলাম এক সন্ন্যাসী এই আশ্রম চালান৷ কিন্তু আপনার পোশাক দেখে তো সন্ন্যাসী বলে মনে হয় না৷’

    তমসাময় হেসে বললেন, ‘ঠিকই শুনেছেন৷ তবে এক সময় রক্তাম্বর পরতাম৷ প্রয়োজন না হলে সে বস্ত্র এখন আর পরি না৷’

    এ কথা বলে তমসাময় বললেন, ‘আপনাদের পরিচয়? কোথা থেকে আসছেন আপনারা?’

    কোট প্যান্ট পরা লোকটা জবাব দিলেন, ‘আমার নাম রমেন বক্সী৷ চাইল্ড ওয়েলফেয়ার ডিপার্টমেন্ট অর্থাৎ সরকারি শিশু কল্যাণ দপ্তরের অফিসার আমি৷ এই আশ্রমের খবর পেয়ে আমি খোঁজ নিতে এসেছি৷’

    ভদ্রলোকের পরিচয় জানার পর তমসাময় বললেন, ‘বলুন কী জানতে চান?’

    ‘আপনার এই আশ্রমের সরকারি অনুমোদন আছে? জানেন নিশ্চয়ই অনাথ আশ্রম চালাতে হলে সরকারি অনুমতির দরকার হয়?’—প্রশ্ন করলেন সরকারি আধিকারিক৷

    তমসাময় বললে, ‘হ্যাঁ জানি৷ এখনও সরকারি অনুমোদন না পেলেও তা পাবার জন্য আমি সরকারের কাছে আবেদনও করেছি৷ বেশ কয়েকবার সরকারি অফিসে তদ্বিরও করেছি৷ একবার সরকারি লোকেরা আশ্রম দেখেও গিয়েছেন৷ আমি আপনাকে আবেদনপত্রর কপি দেখাতে পারি৷’

    মিস্টার বক্সী বললেন, ‘ও, বুঝলাম৷ তা কতজন বাচ্চা আছে এখানে? আর তাদের দেখাশোনার জন্য কতজন লোক আছেন?’

    তমসাময় বললেন, ‘দশজন বাচ্চা আছে এখানে৷ আর লোক বলতে দু’জন৷ যে আপনাদের দরজা খুলে দিল সে, আর আমি৷ আমরা দু’জনই ছেলেদের দেখাশোনা করি৷’

    বক্সী এরপর মল্লারদের দেখিয়ে তমসাময়কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এনারা কারা?’

    তমসাময় জবাব দিলেন, ‘ওনারা কলকাতা থেকে এই আশ্রম দেখতে এসেছেন, এই আশ্রমকে সাহায্য করার ইচ্ছা নিয়ে৷’

    কথাটা শুনে অফিসার মল্লারদের দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলেন, ‘আপনারা এনজিও চালান?’ সোহম জবাব দিল ‘না, আমরা এনজিও-র লোক নই৷ আমরা তিন বন্ধু মিলে ঠিক করেছি কোনও অনাথ আশ্রমকে কিছু সাহায্য করব৷ সেই মর্মে কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম৷ তমসাময়বাবু আবেদন জানিয়েছেন, তাই আশ্রম দেখতে এসেছিলাম৷’

    ‘কবে এসেছেন?’ প্রশ্ন করলেন ভদ্রলোক৷

    সোহম জবাব দিল, ‘পরশু রাতে এসেছি৷ কাল সকালে ফিরে যাব৷’

    ‘কী করেন আপনারা? সঙ্গে পরিচয়পত্র আছে?’

    মল্লারের পার্সেই তার সরকারি ব্যাঙ্কের পরিচয়পত্র ছিল৷ সেটা সে বার করে বাড়িয়ে দিল মিস্টার বক্সীর দিকে৷

    সেই সচিত্র পরিচয়পত্রটা লোকটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখলেন৷ সোহম বলল, ‘আর আমাদের দু’জনের পরিচয়পত্র ঘরে রাখা আছে৷ দেখতে চাইলে নিয়ে আসছি৷’

    বক্সী আই কার্ডটা মল্লারের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘থাক, আর আনার দরকার নেই৷’

    এ কথা বলার পর তিনি তমসাময়কে বললেন, ‘চলুন বাচ্চাগুলোকে এবার দেখব৷’

    তমসাময় বলল, ‘চলুন, আপনাকে দেখাই ওদের৷ কোনও কিছু প্রশ্ন করলে করবেন৷’

    মিস্টার বক্সী আর তার সঙ্গী দু’জনকে নিয়ে তমসাময় এগলেন বাচ্চাদের থাকার জায়গার দিকে৷ কৌতূহলবশত মল্লাররাও অনুসরণ করল তাদের৷ মিস্টার বক্সী আর তার সঙ্গীরা ভালো করে চারপাশে তাকাতে তাকাতে আশ্রমটাকে যেন জরিপ করতে করতে হাঁটতে লাগলেন৷ বাড়িটার কাছাকাছি পৌঁছে সরকারি অফিসার জানতে চাইলেন, ‘যাদের দেখতে চাইছি তারা এ আশ্রমে কীভাবে এসেছে?’

    তমসাময় বললেন, ‘ওদের কাউকে রেল স্টেশন থেকে, কাউকে বাস স্ট্যান্ড বা বাজার থেকে এখানে এনেছি৷ পিতৃমাতৃহীন, অভিভাবকহীন অবস্থায় ওরা সেখানে ঘুরে বেড়াত৷ দেখার কেউ ছিল না৷ ওদের কোনও দাবিদারও নেই৷ ওদের কাউকে আবার কেউ শ্মশান বা গ্রামের হাসপাতালের বাইরেও ফেলে গিয়েছিল মৃতপ্রায় অবস্থায়৷’

    তমসাময় সবাইকে নিয়ে পৌঁছে গেলেন ছেলেগুলোর থাকার জায়গাতে৷ গতদিন যে ঘরটাতে মল্লাররা প্রথম ছেলেগুলোকে দেখেছিল বাড়ির সে ঘরে মিস্টার বক্সীকে দাঁড়াতে বলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পাশের ঘরগুলো থেকে বাচ্চাদের নিয়ে সে ঘরে উপস্থিত হলেন তমসাময়৷

    মিস্টার বক্সী আর তার সঙ্গীরা বেশ কিছুক্ষণ ধরে প্রত্যেকটা বাচ্চাকে ভালো করে দেখলেন৷ সরকারি আধিকারিক ছেলেগুলোর উদ্দেশে এরপর প্রশ্ন করলেন, ‘তোমাদের এখানে কেউ জোর করে ধরে আনেনি তো? আটকে রাখেনি তো?’

    নবজীবন জবাব দিল, ‘না, কেউ জোর করেনি৷’ অন্য বাচ্চাগুলোও মাথা নাড়িয়ে তার কথা সমর্থন করল৷

    ‘তোমরা এখানে দু’বেলা খেতে পরতে পাও? তার জন্য তোমাদের দিয়ে কি কোন কাজ করানো হয়?’ জানতে চাইলেন বক্সী৷

    সঞ্জীবন এবার জবাব দিল ‘হ্যাঁ, খেতে, পরতে পাই৷ তার জন্য আমাদের কোনও কাজ করতে হয় না৷’

    ‘এখানে তোমাদের কেউ মারধর করে?’ প্রশ্ন করলেন তিনি৷

    সব ছেলেগুলো একসঙ্গে বলে উঠল, ‘না, কেউ মারে না আমাদের৷’

    ছেলেদের কথা শুনে মিস্টার বক্সী, তমসাময়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আশা করি ওরা আপনার শেখানো বুলি বলছে না৷’

    তমসাময় বললেন, ‘আমি ওদের কিছু শেখাইনি৷ ইচ্ছা হলে আমার অবর্তমানে আপনারা ওদের যত খুশি প্রশ্ন করতে পারেন৷’

    সরকারি আধিকারিক এরপর ছেলেগুলোর উদ্দেশে শেষ প্রশ্ন করলেন, ‘তোমাদের বাবা-মায়ের কাছে যেতে ইচ্ছা করে না? বাড়ি যেতে ইচ্ছা করে না?’

    তমসাময়ের কথার সত্যতা যাচাই করার জন্যই সম্ভবত প্রশ্নটা করলেন তিনি৷ কিন্তু তার এই প্রশ্নের জবাবে উজ্জীবন নামের ছেলেটা বলল, ‘আমাদের বাবা-মা নেই, কোনও ঘর-বাড়িও নেই৷ এটাই আমাদের বাড়ি৷’

    ‘তমসাময়ের ঠোঁটের কোণে এবার যেন আত্মপ্রত্যয়ের হাসি ফুটে উঠল৷’

    সরকারি আধিকারিক মিস্টার বক্সী বললেন, ‘ঠিক আছে৷ ওদের সঙ্গে যা কথা বলার তা হয়ে গেছে৷ চলুন এবার বাইরে যাই৷’

    সকলে এরপর সেই বাড়ি ছেড়ে মাঠে নেমে পড়ল৷ বক্সী বললেন, ‘এই ছেলেগুলোর নাম আর বয়সের তালিকা দিতে হবে আমাকে৷ অফিসে জমা রাখতে হবে৷ আর সরকারের কাছে আবেদনপত্রর একটা কপিও আমাকে দেবেন৷ ব্যাপারটা আমি ভেরিফাই করে দেখব৷’

    তমসাময় বললেন, ‘আমার ঘরে চলুন সব দিচ্ছি৷ একটু চেষ্টা করে দেখবেন, যদি তাড়াতাড়ি অনুমতিটা মেলে৷ আশ্রম ফেলে রেখে সরকারি দপ্তরে বার বার ছোটাছুটি সম্ভব হয়ে ওঠে না৷’ সরকারি অফিসার মিস্টার বক্সী এরপর মল্লারদের উদ্দেশে বললেন, ‘আপনারা শহরের মানুষ৷ আপনাদের হয়তো জানা আছে যে আমাদের দপ্তর শিশুদের উন্নতির জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা ছাড়া আরও বেশকিছু কাজ করে থাকে৷ তার মধ্যে অন্যতম হল শিশুরা যাতে কোথাও অত্যাচারিত না হয়, তাদের দিয়ে কোনও বেআইনি কাজ যাতে কেউ না করায় সেসব দেখা৷ আর সর্বোপরি তাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা৷ এই সব সীমান্তবর্তী এলাকাতে শিশুদের নিয়ে মাঝে মাঝে নানা ধরনের বেআইনি কাজের খবর আসে৷ সে খবরগুলো হল শিশুদের মাধ্যমে মাদক পাচার, হিউম্যান ট্রাফিকিং অর্থাৎ অন্য দেশে বা ভিন রাজ্যে শিশুদের চালান করা, এমনকী শিশুদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে বিক্রি করার মতো জঘন্য ঘটনাও কখনও কখনও অপরাধীরা সংগঠিত করে৷ আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি এসব অপরাধ বন্ধ করার৷ তাই নতুন কোনও আশ্রমের সন্ধান পেলেই তা পরিদর্শন করছি আমরা৷ যদি আমাদের মনে হয় যেখানে বাচ্চাদের নিরাপত্তার অভাব আছে তবে সেই আশ্রম থেকে শিশুদের উদ্ধার করে সরকারি হোমেও পাঠিয়ে দিই৷’

    চূর্ণী বলল, ‘হ্যাঁ, মাঝে মধ্যে শিশুদের পাচার করার বা তাদের কিডনি পাচার করার মতো ভয়ঙ্কর সব খবর ছাপা হয়৷ ও সব দেখলেই বুকটা কেমন করে ওঠে!’

    তার কথা শুনে মিস্টার বক্সী বললেন, ‘আপনাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলাম বলে কিছু মনে করবেন না৷ বুঝতেই পারছেন আমাদের সতর্ক থাকতে হয়৷’

    মল্লার বলল, ‘না, কিছু মনে করিনি৷ আপনাদের ডিউটি তো আপনারা করবেনই৷ আর আমাদের অর্থাৎ জনসাধারণেরও উচিত ওসব জঘন্য কাজ বন্ধে আপনাদের পাশে থাকা৷’

    মিস্টার বক্সী বলল, ‘থ্যাঙ্ক ইউ৷’

    মল্লার বলল, ‘ঠিক আছে আমরা তবে এবার যাই৷ আপনার আপত্তি নেই তো?’

    মিস্টার বক্সী বললেন, ‘না, না, আপনাদের কোনও প্রয়োজন নেই৷ আপনারা যেতে পারেন৷’

    মিস্টার বক্সী এরপর তার সঙ্গীদের নিয়ে এগলেন তমসাময়ের সঙ্গে আর মল্লাররা এগল অন্যদিকে৷ সোহম, মল্লারকে জিগ্যেস করল, ‘এখন কোথায় আর যাব? একটু হাঁটাহাঁটি করে ঘরের দাওয়াতে বসে গল্প করি৷ আর তো কোনও কাজ নেই৷ খেয়ে লম্বা ঘুম দেব। আজকের দিনটাতেও ভালো করে রেস্ট নেব৷ কাল কলকাতা ফিরব আর পরশু থেকেই তো অফিসের চাপ শুরু হবে৷’

    সোহম বলল, ‘রাতে বসে আলোচনা করে টাকা দেবার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে৷ আমার কিন্তু আশ্রমটা মন্দ লাগেনি৷ সবাই এক মত হলে কাল সকালে তমসাময়ের হাতে চেকটা ধরিয়ে দেব৷

    চূর্ণী বলল, ‘ছেলেগুলোর কথা শুনে কিন্তু একটা ব্যাপার স্পষ্ট যে তাদের ব্যাপারে তমসাময় কিন্তু খুব যত্নবান৷ ত্রুটি-বিচ্যুতি যতটুকু আছে তা আছে অর্থাভাবের কারণে৷’

    মল্লার বলল, ‘আমাদের টাকাগুলো পেলে তমসাময় হয়তো সে সব ত্রুটি কাটিয়ে উঠতে পারবেন৷ লোকটাকে দেখে আমার অসাধু প্রকৃতির বলে মনে হচ্ছে না৷’

    এই আলোচনার মধ্যে দিয়ে তারা প্রাথমিকভাবে অনেকটাই যেন একমত হয়ে গেল টাকাটা তমসাময়কে দেওয়ার ব্যাপারে৷

    আশ্রমের মধ্যে ইতস্তত বিক্ষিপ্তভাবে ঘুরে বেড়াতে লাগল তারা৷ চূর্ণী এক সময় বলল, ‘একটা সত্যি কথা বলছি, কোথাও যাওয়ার নেই বলে আমার এবার কেমন যেন বোর ফিল হচ্ছে৷’

    সোহম বলল, ‘আমিও ঠিক এই কথাটাই বলতে যাচ্ছিলাম৷ সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার পরই আমারও যেন এ জায়গাটা আর তেমন ভালো লাগছে না৷ আসলে চারপাশে এখানে তেমন কিছু দেখার নেই তো তাই৷ একটু ভালো লাগার জায়গা বলতে শুধু এই নদীর পাড়টা৷ তাও সেখানে কতক্ষণ আর দাঁড়িয়ে থাকতে ভালো লাগে?’

    হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ তারা পৌঁছে গেল শনের ছাউনি দেওয়া, বেড়ার গায়ে কালো রং করা ঘরটার সামনে৷ সেখানে গিয়ে সোহম দাঁড়িয়ে পড়ল৷ আর তার সঙ্গে সঙ্গে অন্যরাও দাঁড়াল৷ অন্য ঘরগুলোর থেকে বেশকিছুটা তফাতে এই ঘরটা আশ্রমের সীমানার বেড়ার প্রায় গা ঘেঁষে একলা দাঁড়িয়ে আছে৷ তমসাময় বলেছিলেন, ‘এ ঘরটাই তাঁর ডেরা ছিল যখন তিনি তন্ত্র সাধনা করতেন৷ পরে তিনি জমি কিনে আশ্রমের অন্য বাড়ি-ঘরগুলো তৈরি করেন৷ কুঁড়ে ঘর হলেও এই কালো রঙের ঘরটা আর তার চারপাশে কেমন যেন একটা গাম্ভীর্য ছড়িয়ে আছে৷ চারপাশে কোথাও কোনও শব্দ নেই, একটা পাখির ডাক পর্যন্ত নয়৷ ঘরটার কোনও জানলা নেই, একটাই মাত্র দরজা, সেটার গায়ে তালা ঝুলছে৷ দরজার একপাশে দাঁড়িয়ে আছে একটা বেশ বড় ফণিমনসা গাছ৷

    সোহম বলল, ‘এই আশ্রমে যতগুলো ঘর বা বাড়ি আছে তার মধ্যে শুধু এ ঘরটার দরজাতেই তালা ঝোলানো আছে দেখছি৷ ঘরের ভিতর কী রাখা আছে বলত?’

    মল্লার বলল, ‘তমসাময় তো বলেছিলেন, তাঁর তন্ত্র সাধনার জিনিসপত্র রাখা আছে এ ঘরে৷ কঙ্কাল-টঙ্কাল থাকতে পারে হয়তো৷’

    মল্লারের প্রত্যাশা মতোই তার এ কথা শুনে চূর্ণী মৃদু আঁতকে উঠে বলল, ‘চল, এখানে বোকার মতো দাঁড়িয়ে আছিস কেন? এখানে দেখার কী আছে!’

    চূর্ণীকে আর একটু খ্যাপাবার জন্য সোহম বলল, ‘দেখি তো, বেড়ার ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে কঙ্কালটা দেখা যায় কি না?’

    এই বলে সে ঘরটার দিকে এগতে যাচ্ছিল৷ ঠিক সেই সময় তাদের হাত দশেক তফাতে ঘরের দরজার পাশের ফণিমনসা গাছ থেকে একটা খসখস শব্দ হল৷ আর তারপরই চূর্ণী চিৎকার করে উঠল, সাপ! সাপ!

    সঙ্গে সঙ্গে সোহম আর মল্লার ছিটকে পিছনে সরে এসে গাছটার দিকে তাকাতেই দেখতে পেল সাপটাকে৷ বিরাট বড় একটা সাপ ফণিমনসার ঝোপের আড়াল থেকে মাথা বার করে মল্লারদের দিকে দেখছে আর মাঝে মাঝে তার চেরা জিভটা বাতাসে ছুড়ে দিচ্ছে৷ মল্লাররা অনুমান করল সাপটা বেশ বড়ই হবে৷ সে যেন মল্লারদের বলছে, ‘তফাত যাও৷’

    সাপটাকে দেখার পর তারা আর কেউ সেখানে দাঁড়ানো সমীচীন বোধ করল না৷ সে জায়গা ছেড়ে দ্রুত তারা ফিরতে শুরু করল৷ কিছুটা এগবার পর গাড়ির শব্দ শুনে তাকিয়ে দেখল মিস্টার বক্সীর গাড়িটা ফিরে যাচ্ছে৷ এসইউভি গাড়িটা যখন আশ্রম ছেড়ে বেরিয়ে গেল তখন আশ্রমের মাঝামাঝি পৌঁছে গেছে তারা৷ তমসাময় এগিয়ে আসছিলেন৷ তিনি তাদের সামনে এসে দাঁড়াতেই চূর্ণী উত্তেজিত স্বরে তার উদ্দেশে বলল, ‘আপনার ওই কালো ঘরটার সামনে বিশাল বড় একটা সাপ দেখে এলাম৷’

    তমসাময় কথাটা শুনে বিস্মিত না হয়ে বললেন, ‘হ্যাঁ, ও ওখানেই থাকে৷ পদ্ম গোখরো৷ অনেক দিন ধরেই আছে৷ বাস্তু সাপও বলতে পারেন৷ শীতকালে দরজার সামনে শুয়ে রোদ পোহায়৷’

    মল্লার এরপর জানতে চাইল, ‘মিস্টার বক্সী যাওয়ার আগে আর কিছু বললেন?’

    তমসাময় জবাব দিলেন, ‘ছেলেদের নাম তালিকা সব নিয়ে গেলেন৷ সরকারের ঘরের আবেদনপত্রর একটা কপিও নিলেন, বলে গেলেন ব্যাপারটা নিয়ে খোঁজঘবর করবেন তিনি৷ প্রয়োজন হলে আবার এখানে আসবেন৷ আর হ্যাঁ, গাড়িতে ওঠার আগে আর একটা কথাও বলে গেলেন তিনি৷ বললেন, ‘তারা যে এখানে এসেছিলেন তা যেন আমরা কাউকে না জানাই৷ ওই যারা শিশু পাচার-টাচার করে, খবরটা সে সব লোকদের কানে গেলে তারা সতর্ক হয়ে যাবে৷’ একথা বলার পর তিনি বললেন, ‘গঞ্জে একটা কাজ ছিল৷ ভেবেছিলাম আপনাদের টাকা দিয়ে ছেলেগুলোর জন্য মিষ্টি কিনে আনব, কিন্তু এখন আর তা হবে না৷ লোকগুলো আসাতে দেরি হয়ে গেল৷’

    চূর্ণী বলল, ‘ঠিক আছে আপনি সময় মতো ছেলেগুলোকে খাবার কিনে দিলেই হবে৷’

    তমসাময়ের সঙ্গে আরও টুকটাক কিছু কথা বলে মল্লাররা রওনা হল তাদের ঘরের দিকে৷ সেখানে ফিরে কিছুক্ষণ গল্প গুজব করে তারা স্নান সেরে নিল৷ নির্ধারিত সময় বুনো খাবার দিয়ে গেল৷ খাওয়া সেরে মল্লাররা দিবা নিদ্রা দেওয়ার জন্য চাদর কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ল৷

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleটেম্পল – ম্যাথিউ রীলি
    Next Article অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৪ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }