Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জলঙ্গীর অন্ধকারে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প273 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জলঙ্গীর অন্ধকারে – ৭

    রবিবার মল্লাররা কলকাতা ফিরেছিল৷ পরদিন থেকেই সবার অফিস৷ মল্লারের ব্যাঙ্ক চাঁদনি চকে৷ সোহম আর চূর্ণী দু’জনের অফিস সল্টলেক৷ সোহমের করুণাময়ী, চূর্ণীর সেক্টর ফাইভ৷ মল্লারের ব্যাঙ্কটা বাণিজ্যিক অঞ্চলে অবস্থিত বলে তার কাজের চাপ প্রচুর৷ দশটায় ব্যাঙ্কে ঢুকে বেরোতে বেরোতে এক এক দিন সন্ধ্যা সাতটাও বেজে যায়৷ সোমবার অফিস জয়েন করার পর শুক্রবার পর্যন্ত কাজের চাপে মল্লার মাথা তুলতে পারেনি৷ বাড়ি ফিরে আসার পর সোহমকে দু-দিন ফোন করতে পারেনি মল্লার৷ তবে অফিস থেকে ফেরার পর তিন দিন মল্লারের সঙ্গে চূর্ণীর কথা হয়েছে ফোনে৷ চূর্ণী তাকে জানিয়েছে অফিসের কাজের চাপে তার আর সোহমের দেখা না হলেও একটা টেলিফোন বুথ থেকে সোহম তাকে রাতের দিকে ফোন করে খবরা খবর নেয়৷ এখনও সে নতুন মোবাইলের ব্যবস্থা করেনি৷ সোহমের অফিসেও নাকি কাজের প্রচণ্ড চাপ চলছে৷

    এদিন মাসের দ্বিতীয় শনিবার৷ তাই ব্যাঙ্ক বন্ধ৷ রবিবার অথবা শনিবার ছুটি থাকলে মল্লার সারা সপ্তাহর বাজার করে রাখে৷ কাছেই মানিকতলা বাজার৷ পায়ে হেঁটে পনেরো মিনিট৷ ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠে থলে হাতে মল্লার বাজারের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ল৷ সকাল সাতটা বাজেনি৷ শীতের কলকাতা এখনও বেশ জড়সড়ো হয়ে আছে৷ রাস্তায় স্থানীয় লোক ছাড়া খুব বেশি লোক নেই৷ মল্লার হাঁটতে হাঁটতে বাজারে পৌঁছে গেল৷ সব্জি কেনার পর সে মাছ বাজারে গিয়ে ঢুকল৷ বেশ বড় মাছ বাজার৷ এই সাত সকালেও হাঁকডাকে সরগরম৷ কয়েক পা এগতেই হঠাৎই সে দেখতে পেল সোহমকে৷ তার দিকে পিছন ফিরে এক মাছওলাকে টাকা দিচ্ছে৷ মল্লার সোহমকে দেখে বেশ অবাক হয়ে গেল৷ শ্যামবাজার থেকে সাতসকালে মনিকতলার বাজারে সোহম এসেছে কেন? তার বাড়িতে তো রান্নার পাট নেই৷ দুপুরবেলা সে অফিসের ক্যান্টিনে লাঞ্চ সারে আর রাতে ও ছুটির দিন হোম সার্ভিসের মাধ্যমে খাবার আসে, সে কথা মল্লারের জানা৷ তবে সে মাছ কিনছে কেন?

    মল্লার এগিয়ে গিয়ে সোহমের পিছনে দাঁড়িয়ে তার কাঁধে টোকা দিল৷ মাছের ব্যাগ হাতে সোহম ঘুরে দাঁড়াল৷ মল্লারকে দেখে মুহূর্তের জন্য যেন একটা অপ্রস্তুত ভাব ফুটে উঠল সোহমের মুখে৷ তারপরই অবশ্য সে হেসে বলল, ‘তুই একদিন বলেছিলি যে এখানে ভালো মাছ পাওয়া যায় তাই মাছ কিনতে চলে এলাম৷’

    মল্লার জানতে চাইল, ‘তুই আমার মতো রান্নার মাসি রেখেছিস? নাকি চূর্ণী তোর ওখানে গিয়ে রান্না করবে?’

     

     

    সোহম জবাব দিল, ‘দুটোর কোনওটাই নয়৷ আসলে বছরের পর বছর ধরে বাইরের রান্না খেতে আর ভালো লাগছে না৷ তাই এবার থেকে নিজেই রান্না করে খাব ভাবছি৷ প্রথমে একটু অসুবিধা হলেও আশা করি ক’দিনের মধ্যেই পেরে উঠব৷’

    শনিবার সোহমের অফিসে হাফ-ডে থাকে তা জানে মল্লার৷ তাই সে সোহমকে বলল, ‘আমার আজ ছুটি৷ তুই বিকালে কী করবি৷’

    সোহম মৃদু ভেবে নিয়ে জবাব দিল, ‘তেমন কাজ নেই৷ বাড়িতেই থাকব৷’

    মল্লার বলল, ‘তাহলে তোর বাড়িতে গিয়ে আড্ডা দেব৷ চূর্ণীকেও খবর দেওয়া যেতে পারে৷ যদি সে অফিসে ম্যানেজ করে আসতে পারে তবে আরও ভালো হবে৷’

    সোহম বলল, ‘তুই আয়, তবে চূর্ণীকে আজ ডাকার দরকার নেই৷’

    কথাটা শুনে মল্লার বলল, ‘কেন, চূর্ণীর সঙ্গে ঝগড়া করেছিস নাকি?’

    সোহম বলল, ‘ব্যাপারটা তা নয়৷ একজন একটা স্কচ হুইস্কির বোতল গিফট করেছিল। সেটা পড়ে আছে৷ বহুদিন ওসব খাওয়া হয়নি৷ তুই গেলে দু’জনে মিলে পানাহার করা যাবে৷ চূর্ণী তো আবার বোতল দেখলেই খেপে যায়৷ ও এলে গালাগালির চোটে আমাদের পানাহারের বারোটা বেজে যাবে৷ তাই তোকে একলা আসতে বললাম৷’

    মল্লার বলল, ‘ঠিক আছে৷ আমি তবে বিকেল পাঁচটা নাগাদ তোর বাড়ি পৌঁছে যাব৷ যাওয়ার সময় কিছু স্ন্যাক্সও কিনে নিয়ে যাব৷’

    মল্লার এ কথা বলার পর সোহমের ব্যাগের দিকে হাত বাড়িয়ে বলল, ‘দেখি কী মাছ কিনলি?’

    মল্লার এরপর সোহমের থলেটা ফাঁক করতেই দেখতে পেল একটা বেশ বড় আকারের শোল মাছ রয়েছে তার থলের মধ্যে৷ কাটা নয়, গোটা শোল মাছ৷

    মুহূর্তের জন্য মাছটা দেখে মল্লারের হঠাৎই মনে পড়ে গেল জলঙ্গী নদীর ধারে নবজীবন আশ্রমের বুনোর মুখ থেকে শোনা শোল মাছের সেই টোপের কথা৷

     

     

    সোহম এরপর আর দাঁড়াল না৷ ‘বিকেলে দেখা হচ্ছে’ বলে তাড়াতাড়ি সে বাজার ছেড়ে বেরোবার জন্য পা বাড়াল৷ আর মল্লারও সোহম যার থেকে মাছ কিনেছিল তার থেকেই মাছ কিনে বাড়ির পথ ধরল৷

    সোহমের সঙ্গে হওয়া কথা মতোই বিকাল চারটে নাগাদ মল্লার গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ল তার বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশে৷ পথে একটা দোকান থেকে কাবাব আর তন্দুরি কিনে মল্লার যখন শ্যামবাজারের মোড় পেরিয়ে বিকেল পাঁচটা নাগাদ সোহমের পাড়ার গলিতে ঢুকল তখন রাস্তার আলো ধীরে ধীরে জ্বলে উঠতে শুরু করেছে৷

    গলিটা বেশি চওড়া নয়৷ সোহম যে বাড়িতে ভাড়া থাকে সে বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছে উল্টোদিক থেকে একটা মোটর বাইক আসছে দেখে তাকে রাস্তা দেবার জন্য মল্লার তার গাড়ির গতি কমিয়ে রাস্তার এক পাশ ঘেঁষে দাঁড়াল৷ বাইকে দু-জন আরোহী৷ বাইকটা মল্লারের গাড়ির গা ঘেঁষে যাবার সময় এক ঝলকের জন্য চালকের পিছনে বসা লোকটার মুখটা মল্লারের চোখে পড়ল৷ মল্লারের যেন মনে হল সে লোকটা, সেই নদী গবেষক খাস্তগীর! কিন্তু সে লোক সোহমের পাড়াতে আসবে কেন? লোকটা সত্যি খাস্তগীর নাকি ব্যাপারটা আসলে দেখার ভুল তা ঠিক বুঝতে পারল না মল্লার৷ বাইকটা পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়ার পর সে গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়ল সোহমের ভাড়া বাড়ির কম্পাউন্ডের মধ্যে৷

    তিনতলা বাড়িটাতে আট-দশটা পরিবার বা ভাড়াটে থাকে৷ মল্লার বহুদিন এসেছে বাড়িটাতে৷ গাড়ি থেকে নেমে সিঁড়ি দিয়ে উঠে সে সোজা পৌঁছে গেল তিন তলার কোণার দিকে সোহমের ঘরের দরজাতে৷ বেশ কয়েকবার বেল বাজার পর দরজা খুলল সোহম৷

    মল্লার ঘরে ঢুকল৷ ঘর অন্ধকার৷ তাছাড়া যেন একটা অদ্ভুত গন্ধও তার নাকে লাগল৷ মল্লার বলল, ‘কী রে, সন্ধ্যাবেলা সারা বাড়ি অন্ধকার করে রেখেছিস কেন?’

    দরজা বন্ধ করে লাইট জ্বালিয়ে সোহম বলল, ‘ঘুমিয়ে পড়েছিলাম৷’

    সোহমের বাসস্থান বলতে একটা ড্রইং কাম ডাইনিংকে ঘিরে বেডরুম, কিচেন আর বাথরুম৷ মল্লার এখানে সোহমের সঙ্গে বেশ কয়েকবার রাত্রিবাসও করেছে৷ মল্লার জানে সোহম বিয়ের পর চূর্ণীর ফ্ল্যাটে চলে যাবে৷

    ডাইনিং টেবিলের উপর মদের বোতল, গ্লাস আগে থেকেই সাজিয়ে রেখেছিল সোহম৷ মল্লার সেই টেবিলে খাবারের প্যাকেট নামিয়ে চেয়ার টেনে বসে নাক কুঁচকে বলল, ‘কীসের যেন একটা পোড়া গন্ধ পাচ্ছি! কোথাও ইলেকট্রিক তার পুড়ছে না তো?’

     

     

    সোহম এ প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে বলল, ‘দাঁড়া, ধূপ জ্বালাচ্ছি।’

    ধূপ জ্বালাল সোহম৷ তারপর কিচেনে গিয়ে দুটো প্লেট আর জলের বোতল নিয়ে ফিরে এসে মল্লারের মুখোমুখি চেয়ারে বসল৷

    খাবার সাজানো হল প্লেটে৷ তারপর গ্লাসে হুইক্সি ঢেলে তাতে জল মিশিয়ে মল্লার বলল, ‘একটা অদ্ভুত ব্যাপার দেখলাম৷ জানি না ঠিক দেখলাম কি না। তোর বাড়ির রাস্তার সামনে দিয়ে একজনের বাইকের পিছনে বসে ওই খাস্তগীর নামের লোকটাকে যেতে দেখলাম! ওই যার সঙ্গে সেই জলঙ্গীর গঞ্জে দেখা হয়েছিল৷’

    সোহম একটা গ্লাস উঠিয়ে নিয়ে চিয়ার্স করে বলল, ‘ওঁর মতো দেখতে অন্য লোক হতে পারে আবার উনিও হতে পারেন৷ মানুষ তো কত প্রয়োজনে কত জায়গায় ঘুরে বেড়ায়৷ কোথাও যেতে তো কারও বাধা নেই৷’

    মল্লার বলল, ‘তা বটে৷’

    গ্লাসে চুমুক দিয়ে মল্লার জানতে চাইল, ‘মোবাইল ফোন কিনেছিস? কানেকশন নিলি?’ সোহম জবাব দিল, ‘পুরোনো নাম্বারে কানেকশন নেওয়ার জন্য সিম হারিয়েছে বলে থানাতে ডায়েরি করতে হবে৷ কাজের চাপে করা হচ্ছে না, মোবাইলও কেনা হয়নি৷’

    মল্লার প্রশ্ন করল, ‘মোবাইল ছাড়া তোর অসুবিধা হচ্ছে না? এখন তো মোবাইল ছাড়া কারও একবিন্দু চলে না৷’

    সোহম মৃদু হেসে বলল, ‘ব্যাপারটা আসলে অভ্যাস৷ পরিবর্তন করলেই করা যায়৷ নবজীবন আশ্রমে কি আমাদের ফোন কাজ করছিল? জীবনবাবার কি মোবাইল আছে?’

    এ কথার জবাবে মল্লার বলতে যাচ্ছিল যে, ‘আমাদের শহুরে জীবনে মোবাইল ছাড়া কি চলে?’ কিন্তু তার আগেই সোহম বলল, ‘আশ্রমটা কিন্তু বেশ ছিল তাই না? বিশেষত জীবনবাবা আর বাচ্চাগুলোকে আমি চোখ বন্ধ করলেই স্পষ্ট দেখতে পাই৷ আমার কেমন যেন মনে হয় ছেলেগুলো আমাকে ডাকছে৷ যদি ওখানে চলে যাওয়া যায় তবে বেশ হয়৷’

    মল্লার গ্লাসে চুমুক দিয়ে বলল, ‘এ কথা ঠিকই আশ্রমটা বেশ নিরিবিলি, শান্ত৷ আর তমসাময়ের মতো লোকও হয় না৷ কিন্তু এখন এখানে বসে তোর ওখানে গিয়ে থাকার কথা মনে হলেও দু-দিনের বেশি থাকতে পারবি না৷ আসলে আমরা শহুরে জীবনে এত অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে ওসব জায়গাতে বেশিদিন থাকা মুশকিল৷ তোরও তো ওখানে দু’দিন থাকতে না থাকতেই আর ভালো লাগছিল না৷ আমাদের কারওরই ভালো লাগছিল না৷’ কথাটা শুনে হাতের গ্লাসটা এক চুমুকে শেষ করে সোহম যেন স্বগতোক্তির স্বরেই বলল, ‘হয়তো এবার সেখানে গেলে আমার আর খারাপ লাগবে না৷’

     

     

    মল্লার কথাটা শুনে হেসে বলল, ‘আর ক’দিন পর তো তোদের দুজনের বিয়ে হবে৷ তারপর চূর্ণীকে নিয়ে নবজীবন আশ্রমে হানিমুন করতে যাস৷ বিয়ে মানেই তো স্বামী-স্ত্রীর নতুন জীবন৷ নবজীবন আশ্রমের সঙ্গে ব্যাপারটা বেশ ম্যাচ করবে৷’

    সোহম কী যেন ভেবে নিয়ে বিড়বিড় করে বলল, ‘হ্যাঁ, নবজীবনই বটে!’

    মল্লার আর সোহম এরপর আশ্রমের প্রসঙ্গ ছেড়ে অন্য আলোচনায় চলে গেল৷ তার সঙ্গে সঙ্গে চলতে লাগল মদ্যপান৷ মল্লার এক সময় খেয়াল করল তার আনা খাবারগুলো সোহম খুব একটা খাচ্ছে না৷ কাবাবের একটা টুকরো হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ ধরে বসে থাকছে৷ তা দেখে মল্লার জিগ্যেস করল, ‘কী রে খাচ্ছিস না কেন?’ খেতে ভালো লাগছে না?’

    সোহম জবাব দিল, ‘দুপুরে দেরি হয়েছে খেতে, পেটটা ভার লাগছে, তাই অল্প খাচ্ছি৷’ সোহমের জবাব শুনে মদ্যপান আর গল্প করার সঙ্গে সঙ্গে মল্লার যথাসম্ভব খাবারগুলো উদরস্থ করার চেষ্টা করতে লাগল৷ বাইরে বেড়ে চলল রাত৷

    তিন-চার পেগ খাবার পর মল্লারের একটু ঝিমুনি শুরু হল৷ কদিন অফিসে প্রচণ্ড কাজের চাপ গেছে তাই শরীরের ভিতর একটু ক্লান্তি বোধও কাজ করছিল৷ মদ্যপান আর খাওয়া শেষ হয়ে গেছে তার৷ একটু রিল্যাক্স করার জন্য টেবিলে ঝুঁকে পড়ে দু-হাতের মধ্যে মাথা গুঁজে শুয়ে পড়ল সে৷

    কিছুটা সময়ের জন্য গভীর তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল মল্লার৷ তারপর সেই তন্দ্রাভাব কাটিয়ে উঠে চোখ মেলে সে দেখল সোহম তার সামনে নেই৷ সোহম সম্ভবত তার বেডরুমে বা অন্য কোথাও গিয়ে ঢুকেছে৷ ঘড়িতে রাত ন’টা বাজে৷ এবার মল্লারকে তার বাড়ি ফেরার জন্য রওনা হতে হবে৷ চেয়ার থেকে উঠে মল্লার গিয়ে দাঁড়াল ডাইনিং সংলগ্ন বেসিনের সামনে৷ কল খুলে মুখে কয়েবার জলের ঝাপটা দিয়ে রুমাল বার করে মুখ মুছে বেসিনের আয়নার দিকে তাকাতেই এক অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ল তার৷ সোহমের কিচেনের দরজাটা খোলা৷ আয়না দিয়ে কিচেনের ভিতরটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে৷ সেখানে সোহম দাঁড়িয়ে৷ দু-হাত দিয়ে সে তার মুখের কাছে আস্ত একটা মাছ তুলে ধরে কামড়ে কামড়ে খাচ্ছে৷ তার চোখেমুখে জেগে আছে স্পষ্ট উল্লাসের ভাব!

    কিছুক্ষণ আগেই তো সোহম বলল যে তার খিদে নেই৷ তাহলে সে ওভাবে গোগ্রাসে মাছ খাচ্ছে কেন? আর ওভাবে সে মাছের গা থেকে কামড়ে কামড়ে মাংস খাচ্ছে কেন! এর আগে এভাবে কাউকে মাছ খেতে দেখেনি মল্লার৷ কৌতূহলী হয়ে সে বেসিন ছেড়ে এগিয়ে গিয়ে দাঁড়াল কিচেনের সামনে৷ সোহমের বাড়িতে ঢোকার পরই যে গন্ধ তার নাকে এসে লেগেছিল তা এবার চিনতে পারল সোহম৷ পোড়া মাছের গন্ধ৷ সোহম মল্লারকে দেখে প্রথমে চমকে উঠল৷ পোড়া শোল মাছটা তখন তার মুখের কাছে ধরা৷ পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া গোটা একটা মাছ! তার মাথা, চামড়া, লেজ কিছুই বাদ দেওয়া হয়নি৷ উৎকট গন্ধ বেরোচ্ছে তার থেকে৷ মল্লারকে দেখে প্রথমে সোহম চমকে উঠলেও সে মাছটা নামিয়ে হেসে বলল, ‘বাড়িতে মাছটা কিনে আনার পর কীভাবে রান্না করব বুঝে উঠতে না পেরে মাছটা পুড়িয়ে ফেলেছিলাম৷ খেতে কিন্তু মন্দ লাগছে না৷’

     

     

    সোহমের কথা শুনে মল্লার বলল, কিন্তু তুই গোটা শোল মাছটা এভাবে কামড়ে কামড়ে খাচ্ছিস কেন? কেমন যেন অদ্ভুত লাগছে দেখতে!’

    সোহম বলল, ‘হাতের কাছে টুকরো করার জন্য ছুরি পেলাম না তাই এভাবে খাচ্ছি৷ পোড়া মাছ বলে তোকে আর দিইনি৷’

    সোহমের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই আঁশটে পোড়া গন্ধে গা গুলিয়ে উঠতে শুরু করেছে মল্লারের৷ সে বলল, ‘দিসনি ভালো করেছিস৷ আমি এবার যাই৷ অনেক রাত হল৷’—এই বলে মল্লার কিচেনের দরজা ছেড়ে এগলো সদর দরজার দিকে৷ দরজা খুলে দেবার জন্য তার পিছন এল সোহম৷ আর তার সঙ্গে সঙ্গে সেই গা গোলানো গন্ধটাও৷ মল্লার দরজার বাইরে বেরোতেই ভিতর থেকে সোহম দরজা বন্ধ করে দিল৷ ঘরের বাইরের খোলা বাতাসে বেরিয়ে এসে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল মল্লার৷ নীচে নেমে এসে গাড়িতে উঠে ইঞ্জিন স্টার্ট করে একবার নীচ থেকে মল্লার তিনতলার দিকে তাকাল৷ তিনতলার কোণার দিকে একটা ঘরের কাচের শার্শির ভিতর আলো দেখা যাচ্ছে৷ কুয়াশা নামতে শুরু করেছে বাড়ির মাথায়৷ সেই কুয়াশায় কেমন যেন ভূতুড়ে লাগছে জানলার হলদেটে আলোটা৷ সোহম কি ও ঘরে গিয়ে একইভাবে উৎকট গন্ধওয়ালা পোড়া শোল মাছটা খাচ্ছে? দৃশ্যটা আর একবার ভেসে উঠল মল্লারের চোখে৷ গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ল মল্লার৷

    সে বাড়ি ফিরে এল রাত দশটা নাগাদ৷ গাড়ি গ্যারেজ করে ঘরে ঢোকার পরই মল্লারের ফোন বেজে উঠল৷ চূর্ণীর ফোন৷ কলটা রিসিভ করতেই চূর্ণী বলল, ‘সোহমের সঙ্গে দু-দিনের মধ্যে কোন যোগাযোগ হয়েছিল?’

    মল্লার যে সোহমের বাড়ি গিয়েছিল তা প্রথমে চূর্ণীকে বলবে কি না বুঝতে না পেরে মল্লার বলল, ‘কেন বলতো?’

    চূর্ণী বলল, ‘কাল সোহম ফোন করেনি৷ আজও সারাদিন ওর ফোনের জন্য অপেক্ষা করলাম কিন্তু রাত দশটা বেজে গেল ওর ফোন এল না, খুব চিন্তা হচ্ছে রে৷ এত রাত হয়ে গেছে বলে ওর বাড়ি যেতে পারছি না৷ সারা রাত দুশ্চিন্তায় কাটবে আমার।’

    সোহম চূর্ণীর হবু স্বামী৷ তার জন্য চূর্ণীর দুশ্চিন্তা হওয়া স্বাভাবিক৷ মল্লার এবার অনুভব করল চূর্ণীকে দুশ্চিন্তা মুক্ত করার জন্য সত্যিটা বলা প্রয়োজন৷ তাই সে বলল, ‘তোর চিন্তার কোনও কারণ নেই৷ বিকেলে সোহমের বাড়ি গিয়েছিলাম৷ খাওয়া-দাওয়া আড্ডা দিয়ে ওখান থেকে এখনই বাড়ি ফিরলাম৷ সোহম ঠিকই আছে৷’

     

     

    কথাটা শুনেই চূর্ণী বলল, ‘যাক বাঁচলাম৷ সোহম কেমন দিন দিন ইরেসপন্সেবল হয়ে যাচ্ছে দেখেছিস? দু’দিনের মধ্যে ফোন করার সময় পেল না! তুই ওখানে গিয়েছিলিস যখন তখন তোর মোবাইল থেকে তো আমাকে কল করতে পারত৷ তাছাড়া একটা ব্যাপার শুনে আমার টেনশন আরও বেড়ে গেল৷’

    মল্লার জানতে চাইল, ‘কী ব্যাপার?’

    চূর্ণী বলল, ‘সোহম তোকে ওর অফিস নিয়ে কিছু বলল?’

    ‘না, ওর অফিস নিয়ে কোনও কথা হয়নি৷’

    চূর্ণী বলল, ‘আজ আটটা নাগাদ অফিস থেকে যখন বাড়ি ফিরছি তখন বাসে সোহমের এক অফিস কলিগ তাপসবাবুর সঙ্গে আমার দেখা৷ সোহমই একটা পার্টিতে ভদ্রলোকের সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়েছিল কিছুদিন আগে৷ আমার সঙ্গে যে সোহমের বিয়ে হতে চলেছে সেটা ভদ্রলোক জানেন৷ আমাকে তিনি বললেন, সোহমের খবর কী? সে সুস্থ আছে কি না? তিন দিনের ছুটি নিয়ে সোহম যেখানে গিয়েছিল, সেখান থেকে সে ফিরেছে কি না? সোমবার সোহমের অফিসে জয়েন করার কথা থাকলেও আজ শনিবার পর্যন্ত সে নাকি অফিসে যায়নি! অফিস থেকে সোহমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ বলছে৷’

    চূর্ণীর মুখে ব্যাপারটা শুনে মল্লারও বেশ আশ্চর্য হয়ে গেল৷ সে বলল, ‘অদ্ভুত ব্যাপার! তুই লোকটাকে কী বললি? লোকটা আর কী বলল?’

    চূর্ণী বলল, ‘লোকটার মুখ থেকে কথাগুলো শুনে আমি এতটাই বিস্মিত হয়ে গেলাম যে কী বলব সেটাই প্রথমে বুঝে উঠতে পারিনি৷ আমি শুধু বললাম, ‘সোহমের মোবাইল ফোনটা হারিয়ে গিয়েছে বলে শুনেছি৷’ আর এরপরই বাস স্টপ চলে এল৷ আমিও বাস থেকে নেমে পড়লাম৷’

    মল্লার বলল, ‘এতক্ষণ ধরে আমাদের আড্ডা হল, কিন্তু অফিস সংক্রান্ত ব্যাপারে একটা শব্দও আমাকে সে বলেনি৷ ব্যাপারটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না৷ ভদ্রলোক তোর সঙ্গে কোনও প্র্যাক্টিকাল জোক করেননি তো?’

    চূর্ণী বলল, ‘আমিও ঠিক ব্যাপারটা বুঝে উঠতে পারছি না৷ প্র্যাক্টিক্যাল জোক করার মতো সম্পর্ক তো ভদ্রলোকের আমার সঙ্গে নয়৷ যাক তোর মুখ থেকে সোহমের খবরটা পেয়ে অনেকটা নিশ্চিন্ত হলাম৷ কাল রবিবার৷ সকালে উঠে নিজেই চলে যাব সোহমের ওখানে৷ এবার তুই শুয়ে পড়৷ গুডনাইট৷’

    মল্লারও ‘গুডনাইট’ বলে, চূর্ণীর ফোনটা কেটে দিল৷

    পরদিন পাড়ারই একজনের বিয়ের বরযাত্রী হিসাবে মল্লারকে চন্দননগর যেতে হল৷ ফিরতে ফিরতে রাত বারোটা হয়ে গেল৷ বাড়ি ফিরে তার মনে হল চূর্ণীকে একবার ফোন করে জিগ্যেস করে যে সোহমের বাড়ি সে গিয়েছিল কি না। অফিস না যাওয়ার ব্যাপারে সোহম চূর্ণীকে কিছু জানিয়েছে কি না। কিন্তু রাত বেশি হয়ে যাওয়াতে রবিবার রাতে চূর্ণীকে আর শেষ পর্যন্ত ফোন করল না মল্লার৷ সোমবার থেকে আবার যথারীতি তার অফিসের কাজের চাপ শুরু হল৷ সারাদিন অফিসের কাজ থেকে মল্লারের মাথা তোলার সুযোগ হল না৷ তবে সোমবার রাতে মল্লারকে নিজেই ফোন করল চূর্ণী৷ সে জানাল, খবরটা নাকি সত্যি৷ সোহম নাকি অফিস যাচ্ছে না৷ তার নাকি অফিস যেতে ভালো লাগছে না৷ আর অফিসের লোকদের ডাকাডাকি থেকে দূরে থাকতেই নাকি সে মোবাইল কানেকশন নিচ্ছে না৷

    চূর্ণীর মুখ থেকে কথাটা শুনে মল্লার জানতে চাইল, ‘ভালো লাগছে না কেন, সে ব্যাপারে সোহম কিছু বলল?’

    চূর্ণী বলল, ‘না, সেসব কিছু বলেনি সোহম৷ শুধু বলল, তার নাকি অফিসে যেতে ভালো লাগছে না, এমনকী কলকাতাতে থাকতেও ভালো লাগছে না৷ জীবনবাবার আশ্রমে নাকি তার চলে যেতে ইচ্ছা করছে৷ কেমন যেন অন্যমনস্ক মনে হল সোহমকে৷ জানি না কোনও ডিপ্রেশন কাজ করছে কি না?’

    চূর্ণীর সব কথা শুনে সোহম বলল, ‘ঠিক আছে৷ এর মধ্যে একদিন অফিস থেকে ফেরার সময় ঘুরে আসব সোহমের ওখান থেকে৷ জানার চেষ্টা করব, ব্যাপারটা কী? অনেক সময় মানুষের এমন হয়৷ ডিপ্রেশন আসে, আবার তা কেটেও যায়৷ তুই ব্যাপারটা নিয়ে বেশি চিন্তা করিস না৷’ এরপর আরও টুকটাক কিছু কথা হবার পর ফোন ছেড়ে দিল মল্লার৷

    এরপর মাঝের তিনটে দিন ঝড়ের মতো কেটে গেল মল্লারের৷ কাজের চাপ এত বেশি ছিল আর অফিস থেকে বেরোতে এত দেরি হচ্ছিল যে তারপর ক্লান্তিতে আর কোথাও যেতে ইচ্ছা করেনি তার৷ সাড়ে সাতটা, আটটা নাগাদ বাড়ি ফিরে মল্লার খাওয়া সেরেই বিছানায় শুয়ে পড়েছিল৷ চূর্ণীও এই তিনদিন আর তাকে ফোন করেনি৷ তবে শুক্রবার কিছুটা অপ্রত্যাশিত ভাবেই সোহমের বাড়ি যাওয়ার একটা সুযোগ এসে গেল মল্লারের সামনে৷ শ্যামবাজারেও মল্লারদের ব্যাঙ্কের একটা ব্রাঞ্চ আছে৷ সেখানে একটা কাজে যাবার জন্য মল্লারকে জানানো হল তার ব্যাঙ্ক থেকে৷ ব্যাঙ্কে এসে খবরটা পেয়েই মল্লার মনে মনে ভেবে নিল যে, সে শ্যামবাজার ব্রাঞ্চের কাজ মিটিয়ে ফেরার সময় একবার সোহমের বাড়ি হয়ে আসবে৷

    ব্যাঙ্কের নিজস্ব কাজকর্ম সাধারণত কাস্টমার আওয়ার্সের পর হয়৷ কারণ সকাল দশটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত ব্যাঙ্ক কর্মীদের কাস্টমারদের সার্ভিস দিতেই কেটে যায়। মল্লারদের ব্যাঙ্কের শাখাগুলোর ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নেই৷ নিজের ব্যাঙ্ক থেকে তাই বেলা সাড়ে চারটে নাগাদ শ্যামবাজারের ব্রাঞ্চের উদ্দেশে গাড়ি নিয়ে রওনা হল মল্লার৷ পাঁচটা নাগাদ যথাস্থানে পৌঁছে সেখানকার ব্যাঙ্ক কর্মীদের সঙ্গে সে কাজ শুরু করল৷ কাজ শেষ করে সে যখন সেই ব্যাঙ্কের বাইরে বেরোল তখন প্রায় রাত আটটা৷ বাইরের রাস্তার আলো অনেকক্ষণ আগেই জ্বলে গেছে৷ শীতের রাত বলে রাস্তা কিছুটা ফাঁকাও হতে চলেছে৷ শুধু মল্লারদের মতো কিছু লোক যাদের কাজ শেষ হবার সময়ের ঠিক নেই তারাই পথে আছে৷ ব্যাঙ্কের শ্যামবাজার ব্রাঞ্চ থেকে সোহমের বাড়ি মিনিট পনেরোর পথ৷ মল্লার গাড়ি নিয়ে রওনা হয়ে গেল তার বাড়ি যাওয়ার জন্য৷

    গাড়ি নিয়ে গলি বেয়ে সে পৌঁছে গেল সোহমের বাসস্থানে৷ গাড়ি থেকে নেমে মল্লার তাকাল তিনতলার মাথাতে সোহমের রান্নাঘরের দিকে৷ মুহূর্তের জন্য মল্লারের মনে পড়ে গেল ওই রান্নাঘরে দেখা সোহমের পোড়া মাছ খাবার দৃশ্য৷ যখনই সেটা মনে পড়ে তখনই তার ওই ঘটনা কেমন যেন অদ্ভুত মনে হয়৷ তবে মল্লার নীচ থেকে তাকিয়ে দেখতে পেল সোহমের কিচেনে এখন কোনও আলো জ্বলছে না৷

    বাড়িটাতে ঢুকে সিঁড়ি বেয়ে তিনতলায় উঠে মল্লার, সোহমের ঘরের দরজার সামনে পৌঁছে দেখল সোহম নেই৷ তার ঘরের দরজায় তালা ঝুলছে৷ কোথায় গেল সোহম? দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মল্লার ফোন করল সোহমের নাম্বারে৷ যান্ত্রিক কণ্ঠ জানাল সোহমের মোবাইল বন্ধ৷ অর্থাৎ সোহম মোবাইলের কানেকশন চালু করেনি৷ অগত্যা একটু হতাশভাবেই সিঁড়ি বেয়ে আবার নীচে নেমে এল৷ নীচে নেমে সে দেখল সোহমের বাড়ির মালিক তার ঘরের দরজার আগলে চাদর মুড়ি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন৷ মল্লারের এ বাড়িতে বেশ অনেকদিন ধরে যাওয়া আসার সুবাদে তাকে চেনেন বাড়ির মালিক উমাপতিবাবু৷ তাকে দেখে মল্লার বলল, ‘সোহম কোথায় গেছে বলতে পারেন? ওর কাছে এসেছিলাম, দেখছি ওর ঘরে তালা ঝুলছে৷ ও কখন ফিরবে কিছু জানেন?’

    ভদ্রলোক হেসে বললেন, ‘হ্যাঁ, জানি৷ অফিসে বেরিয়েছেন উনি৷ ফিরতে ফিরতে ধরুন ভোর পাঁচটা—আমিই তো তাঁকে দরজা খুলে দিই৷’

    কথাটা শুনে মল্লার বিস্মিতভাবে প্রশ্ন করল, ‘অফিস থেকে ভোর পাঁচাটায় ফিরছে মানে? কখন অফিসে বেরচ্ছে ও?’

    উমাপতিবাবু বললেন, ‘এইতো রাত আটটা নাগাদ উনি অফিসের জন্য বেরিয়ে গেলেন৷ সোমবার থেকে ওনার অফিসে নাইট ডিউটি চালু হয়েছে৷ রাত আটটা বা ন’টা নাগাদ উনি অফিসের জন্য বেরচ্ছেন, আর ফিরছেন ভোর পাঁচটা ছটায়৷’

    বাড়িওয়ালার কথা শুনে বেশ আশ্চর্য হয়ে গেল মল্লার৷ এর আগে সে কোনওদিন সোহম বা চূর্ণী কারও মুখ থেকেই শোনেনি যে সোহমকে নাইট ডিউটি করতে হয়! বাড়িওয়ালাকে মল্লার বলল, ‘সোহম ফিরলে বলবেন আমি এসেছিলাম৷ আর সম্ভব হলে আমার নাম্বারে সে যেন ফোন করে৷’

    বাড়ি ফিরেই চূর্ণীকে ফোন করল মল্লার৷ চূর্ণী কলটা রিসিভ করতেই মল্লার বলল, ‘কেমন আছিস? তোর তো কোনও পাত্তাই নেই৷’

    চূর্ণী বলল, ‘আসলে অফিসে খুব কাজের চাপ চলেছে৷ বাড়ি ফেরার পর এত ক্লান্ত লাগছে যে তোকে ফোন করব ভেবেও করা হয়নি৷’

    মল্লার প্রশ্ন করল, ‘সোহমের খবর কী? এর মধ্যে কথা বা দেখা হয়েছে ওর সঙ্গে?’ চূর্ণী বিমর্ষ গলায় বলল, ‘না, দেখা হওয়ার সুযোগ হয়নি, তবে দু-দিন ও ফোন করেছিল৷ সামান্য কয়েকটা কথা হল ওর সঙ্গে৷ তারপরই ফোন রেখে দিল৷ বলেছে আমি যেন ফোন না পেলে চিন্তা না করি৷ সময় সুযোগ মতো ও ফোন করবে৷’

    চূর্ণী বেশ আশঙ্কিত গলায় বলল, ‘আমরা নবজীবন আশ্রম থেকে ঘুরে আসার পর থেকেই ওর যেন কী একটা হয়েছে! যেদিন ওর বাড়ি গেলাম সেদিন দেখলাম ও কেমন যেন আনমনা৷ ভালো করে কথাও বলছে না৷ ফোনগুলো যেন নিয়ম রক্ষার জন্য করছে৷ সব থেকে বড় কথা, ও অফিস যাওয়া বন্ধ করল কেন, ওর কেন ভালো লাগছে না সেটা আমার কিছুতেই বোধগম্য হচ্ছে না৷ কোথায় যেন শুনেছিলাম যে, কেউ বড় দুর্ঘটনা থেকে ফেরার পর ট্রমা কাটিয়ে না উঠতে পারার জন্য অনেক সময় অবসাদে ভোগে৷ তেমন হলে তো ওকে কোনও সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে নিয়ে যেতে হবে৷ দেখতে দেখতেই তো আমাদের বিয়ের সময় চলে আসবে৷ কত কাজ বাকি! জানি না কী হবে৷’

    চূর্ণী একটানা কথাগুলো বলার পর মল্লার বলল, ‘শুনলাম সোহম নাকি সোমবার থেকে অফিস যাচ্ছে! তুই জানিস না খবরটা!’

    এ কথা শুনে চূর্ণী বেশ উৎফুল্ল ভাবে বলল, ‘তাই নাকি! সোহম আমাকে মঙ্গলবার আর কালকেও ফোন করেছিল৷ একবারের জন্যও কথাটা বলেনি তো! ঠিক খবর? তুই কোথা থেকে খবরটা শুনলি?’

    ওই প্রশ্নের জবাবে মল্লার তার সোহমের বাড়ি যাওয়ার ব্যাপারটা আর বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়টা খুলে বলল চুর্ণীকে৷ ঘটনাটা শুনে চূর্ণী বেশ বিস্মিত ভাবে বলল, ‘ওর অফিসে নাইট শিফট থাকতেই পারে৷ কিন্তু ও কোনওদিন নাইট শিফটে কাজ করেছে বলে শুনিনি তো৷ সোহম ফোন করলে জিগ্যেস করব ওকে৷’—এ কথা বলে তার অফিসের একটা জরুরি ফোন আসতে মল্লারের লাইনটা চূর্ণী কেটে দিল৷

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleটেম্পল – ম্যাথিউ রীলি
    Next Article অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৪ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }