Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জলঙ্গীর অন্ধকারে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প273 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    জলঙ্গীর অন্ধকারে – ৮

    শনিবার৷ দুপুরের পর মল্লারদের ব্যাঙ্কে কাস্টমারদের ভিড় অনেকটাই হালকা হয়ে গেল৷ ব্যাঙ্কে একটা ছোট ঘর আছে৷ যেখানে বসে কখনও টিফিন সারে কর্মীরা৷ কাজের চাপ কম থাকলে সে ঘরে বসে গল্প গুজবও হয়, কেউ ধূমপানও করে৷ মল্লার যখন বুঝতে পারল তার কাছে আর এদিনের মতো লোক আসার সম্ভাবনা কম, তখন সে কিউবিকল থেকে বেরিয়ে একটা সিগারেট খাবার জন্য ওই ঘরে গিয়ে ঢুকল৷ লোন সেকশনের সুদীপ সেখানে বসে খবরের কাগজের পাতা ওল্টাচ্ছিল৷ টেবিলের গায়ে তার পাশের চেয়ারে বসে মল্লার একটা সিগারেট ধরাল৷ হঠাৎ সুদীপ তাকে প্রশ্ন করল, ‘আচ্ছা মল্লারদা, তুমি ভূত-প্রেতে বিশ্বাস কর?’

    মল্লার সিগারেটে টান দিয়ে হেসে বলল, ‘না, করি না৷ কিন্তু এই ভর দুপুরে তোমার হঠাৎ ভূত-প্রেতের কথা মনে এল কেন?’

    প্রশ্নের জবাবে সুদীপ হাতের সংবাদপত্রটা মল্লারের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে একটা খবর দেখিয়ে বলল, ‘এটা দ্যাখ৷’

    খবরের কাগজে যে সব পাঁচমিশেলি ছোট ছোট খবর থাকে তেমনই একটা খবর৷ শিরোনাম—সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল ভূতের ছবি৷’

    মল্লার পড়তে শুরু করল লেখাটা—’গত দু-দিন ধরে ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপের মতো সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে৷ তাতে দেখা যাচ্ছে মধ্যরাতে এক ব্যক্তি শ্মশানের পোড়া চিতার সামনে এসে দাঁড়ায়৷ তারপর উবু হয়ে বসে চিতার কাঠ হাতড়ে কিছু একটা মুখে তুলে তাড়াতাড়ি অন্যদিকে চলে যাচ্ছে! দু-মিনিটের এই সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজটি সোশ্যাল মিডিয়ার শোরগোল ফেলে দিয়েছে৷ অনেকর ধারণা এটি কোনও ভূত-প্রেত-অপদেবতার ছবি৷ অন্য অংশের মতে লোকটি কোনও শ্মশানকর্মী হতে পারে৷ তবে লোকটির পরিচয় জানা যায়নি৷ যতটুকু খবর পাওয়া গিয়েছে তাতে ছবিটি উত্তর কলকাতার শেষ প্রান্তে কাশীপুর শ্মশানের ছবি৷ যার নাম শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ মহাশ্মশান৷’

    মল্লার খবরটা পড়ে হেসে বলল, ‘সোশ্যাল মিডিয়াতে এমন অনেক অদ্ভুত ছবি, ভিডিও মাঝে মাঝেই ভাইরাল হয়৷ আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই, তবে হোয়াটস অ্যাপে মাঝে-মাঝেই অনেকে এ ধরনের ছবি, ভিডিও পাঠায়৷ আমার ধারণা লোকটা শ্মশানকর্মী বা ভবঘুরে ধরনের কেউ হবে৷ শ্মশানে তো সারা রাতই নানা ধরনের লোকের আনাগোনা থাকে৷’

    মল্লারের বক্তব্য শুনে সুদীপ বলল, ‘তবে লোকটার ছবি দেখে কিন্তু তাকে ঠিক ডোম বা ভবঘুরে বলে মনে হচ্ছে না৷ আমাকে আজ সকালে হোয়াটস অ্যাপে একজন ভিডিওটা পাঠিয়েছে৷ এই দ্যাখ—৷’ এ কথা বলে সুদীপ তার মোবাইল ফোন ঘেঁটে সেই ভিডিওটা বার করে মোবাইলটা মল্লারের হাতে দিল৷ মল্লার ক্লিক করতেই চালু হয়ে গেল ভিডিওটা৷

    দেখেই বোঝা যাচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরাতে রাতে তোলা সাদা-কালো ছবি৷ তাতে ল্যাম্প পোস্টের আলো দেখা যাচ্ছে৷ ছবির গায়ে সময়ও ফুটে উঠছে—রাত দুটো পাঁচ৷ কাগজে যে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে তেমনই দেখা যেতে লাগল ভিডিওতে৷ এক ব্যক্তি হেঁটে এসে দাঁড়াল শ্মশানের পোড়া চিতাকাঠের সামনে৷ তার গায়ে ফুলহাতা জ্যাকেট, পরনে সম্ভবত জিন্সের প্যান্ট৷ মাথায় একটা টুপি থাকায় লোকটার মুখ ঠিক দেখা যাচ্ছে না৷ তবে এ কথা ঠিকই লোকটাকে যেন শ্মশানকর্মী বা পাগল, ভবঘুরে গোছের মনে হচ্ছে না৷ লোকটা চিতাকাঠের সামনে এসে একবার চারপাশে তাকাল৷ এ পর্যন্ত দেখেই মল্লারের সেই লোকটার অবয়ব, পোশাক কেমন যেন চেনা মনে হতে লাগল! মল্লার মনোযোগ দিয়ে দেখতে থাকল ভিডিওটি৷ লোকটা চারপাশ দেখে নিয়ে হাঁটু মুড়ে বসল কাঠগুলোর সামনে, তারপর দু’হাত দিয়ে কাঠগুলো হাতড়ে কী যেন খুঁজতে লাগল৷ সম্ভবত চিতাকাঠগুলোর মধ্যে কোনও কিছু খুঁজে পেয়ে সেটা তুলে নিয়ে মুখে দিল সে৷ তারপর আবারও সে কাঠগুলোর মধ্যে কোনও কিছু খুঁজতে যাচ্ছিল৷ কিন্তু ছবিটা দেখে মনে হচ্ছে এরপর অন্য কোনও লোক তার কাছাকাছি চলে আসাতে লোকটা সে জায়গা ছেড়ে উঠে দ্রুত অদৃশ্য হয়ে গেল অন্যদিকে, ক্যামেরার লেন্সের বাইরে৷

    ভিডিওটা দেখে বেশ অবাক হয়ে গেল মল্লার৷ যে লোকটাকে ছবিতে দেখা যাচ্ছে তার মুখ বোঝা না গেলেও লোকটার হাঁটা-চলা সাজ-পোশাক অনেকটা যেন সোহমেরই মতো লাগছে৷

    মল্লার এরপর আবার ভিডিওটা চালিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল৷ লোকটা যখন শেষ পর্যন্ত উঠে দাঁড়িয়ে পিছন ফিরে অন্য দিকে চলে যাচ্ছে তখন তার জ্যাকেটের পিছনের বড় করে লেখা একটা ইংরেজি অক্ষরও যেন চোখে পড়ছে বলে মনে হল মল্লারের৷ আর সেটা তার মনের সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে দিল৷

    মল্লার ভিডিওটা দু’বার দেখার পর সুদীপ তাকে প্রশ্ন করল, ‘ছবিটা দেখে তোমার কী মনে হচ্ছে?’ মল্লার জবাব দিল, ‘ভালো করে দেখে আমার কী মনে হয় বলব৷ ভিডিওটা আমাকে এখন হোয়াটস অ্যাপে পাঠাওতো৷’

    সুদীপ সঙ্গে সঙ্গেই ভিডিওটা পাঠিয়ে দিল মল্লারের মোবাইলে৷ মল্লারের সিগারেট টানা শেষ হয়ে গিয়েছিল৷ সে এরপর ঘর থেকে বেরিয়ে এসে নিজের কিউবকলে বসল৷

    মল্লার নিজের মোবাইলে সুদীপের সদ্য পাঠানো ভিডিওটা খুলে তার থেকে প্রথমে বেশ কয়েকটা স্টিল ফটো বা স্ক্রিন শট নিল৷ তারপর সে ছবিগুলো জুম করে, অর্থাৎ বড় করে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল৷ সে ভাবে দেখে লোকটার মুখ বোঝা না গেলেও তার জ্যাকেটের ছবিটা বড় করে দেখতেই মল্লার যেন প্রায় নিশ্চিত হয়ে গলে এই অজ্ঞাত পরিচয় লোকটা সোহমই হবে! লোকটার জ্যাকেটের পিছনে বড় করে একটা ইংরেজির ‘বি’ অক্ষর লেখা! এমনই একটা জ্যাকেট সোহম এসপ্ল্যানেড থেকে কিনেছিল৷ আসলে জ্যাকেটের পিছনে লেখা আছে ‘বস’৷ তবে তার ‘বি’ অক্ষরটা এত বড় করে পিঠ জুড়ে লেখা যে সেই অক্ষরটাই শুধু চোখে পড়ে৷

    ফোনটা হাতে নিয়ে বসে মল্লার বিস্মিতভাবে ভাবতে লাগল ব্যাপারটা নিয়ে। এ কথা ঠিকই যে এমন ‘বি’ লেখা ডিজাইনের জ্যাকেট আরও হাজার জন গায়ে দিয়ে ঘুরতে পারে৷ কিন্তু তাই বলে পোশাক, অবয়ব, হাঁটা চলাতে দু’জন লোকের কি এমন অদ্ভুত মিল থাকা সম্ভব? কিন্তু যে প্রশ্নটা সবথেকে বেশি মল্লারের মনে ঘুরপাক খেতে লাগল তা হল, ছবির লোকটা যদি সত্যি সোহম হয়ে থাকে তবে অত রাতে ও শ্মশানে গিয়েছিল কেন? চিতাকাঠ থেকে কী খুঁজছিল? মল্লার অনেকক্ষণ ভাবার পরও ব্যাপারটা ঠিক বুঝে উঠতে পারল না৷

    অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পরও তার মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকল বিষয়টা৷ বেশ কয়েকবার ভিডিওটা চালিয়ে দেখল মল্লার৷ প্রতিবারই ভিডিওটা দেখে তার মনে হতে লাগল, এ লোকটা সোহম ছাড়া অন্য কেউ নয়৷ একবার মল্লারের মনে হল চূর্ণীকে ফোন করে সে ব্যাপারটা নিয়ে কিছু জানে নাকি, অথবা ভিডিওটা দেখেছে কি না সে সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে৷ কিন্তু এর পরক্ষণেই মল্লারের মন বলল, এখনই তাকে ব্যাপারটা জিগ্যেস করা ঠিক হবে না। কারণ, ব্যাপারটা সম্পর্কে তার কিছু জানা না থাকলে তা শুনে সে নিশ্চয়ই ভয় পেয়ে যাবে। তার চেয়ে সোহমের সঙ্গে দেখা করে তাকে সরাসরি জিগ্যেস করাই ভালো৷ পরদিন আবার সে সোহমের খোঁজে যাবে৷ এ চিন্তা মাথায় নিয়েই ঘুমিয়ে পড়ল মল্লার৷

    রবিবার মল্লারের বাজার করার দিন৷ ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে মল্লার থলি হাতে চলল মানিকতলা বাজারের দিকে৷ মাছ বাজারে ঢুকে ঘুরতে ঘুরতে গত শনিবার যার থেকে সোহম আর মল্লার মাছ কিনেছিল তার সামনে আসতেই লোকটা মল্লারকে বলল, ‘আসুন, আসুন বাবু৷ রুই, চিংড়ি, পমফ্রেট, শোল সব আছে৷ কী নেবেন বলুন?’

    লোকটার হাঁক শুনে মল্লার তার সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে মাছের দিকে তাকাল৷

    মাছ বিক্রেতা এরপর মল্লারকে বলল, ‘সব ফ্রেশ মাছ বাবু৷ আপনার বন্ধুকে জিগ্যেস করে দেখবেন৷ তিনি তো আজও বাজারে বসতে না বসতেই আমার থেকে মাছ কিনে নিয়ে গেলেন৷’

    মল্লার বলল, ‘কোন বন্ধু?’

    বিক্রেতা বলল, ‘ওই যে যার সঙ্গে আপনি গত সপ্তাহে আমার দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বললেন৷ যিনি আমার থেকে শোল মাছ কেনেন৷’

    মল্লারের বুঝতে অসুবিধা হল না লোকটা সোহমের কথাই বলছে৷ বিস্মিতভাবে সে মাছওয়ালাকে বলল, ‘ও আজও এসেছিল৷ কী মাছ কিনল?’

    মাছওয়ালা জবাব দিল, ‘শোল মাছ বাবু৷ উনি শুধু শোল মাছই কেনেন৷ আজও তাই নিলেন৷ দু-তিন দিন পর পর এসে শোল মাছ নিয়ে যান৷ গেল বিষ্যুতবারও এসেছিলেন মাছ নিতে৷’

    এই শীতের সুন্দর ভোরেও মাছ বিক্রেতার কথা শুনে কয়েক মুহূর্তের জন্য মল্লারের মনে সেই ছবিটা ভেসে উঠল—রান্না ঘরে আস্ত একটা পোড়া শোল মাছ সোহম কামড়ে কামড়ে খাচ্ছে! সোহমের শোল মাছ কেনার প্রসঙ্গে মাছ বিক্রেতাকে আর কোনও প্রশ্ন না করে তার থেকে পমফ্রেট মাছ কিনে মল্লার বাড়ি ফিরে এল৷

    মল্লারের রবিবার কোনও কাজ নেই৷ সে ঠিক করে নিয়েছে দুপুরবেলা খাওয়া সেরেই সে রওনা দেবে সোহমের বাড়ির উদ্দেশে৷ যতক্ষণ না সোহমের সঙ্গে ভিডিওটার ব্যাপারে কথা বলা যাচ্ছে ততক্ষণ একটা তীব্র অস্বস্তি কাজ করছে মল্লারের মনে৷ মল্লার বাজার নিয়ে ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই রান্নার মাসি চলে এল৷ তার বানানো চা আর জলখাবার খেয়ে মল্লার খবরের কাগজ খুলে বসল৷

    সংবাদপত্রের দুটো পাতা ওল্টাতেই হঠাৎই একটা ছোট ছবি আর খবরের হেডলাইন দেখে উত্তেজিতভাবে মল্লার খবরটা পড়তে শুরু করল৷ প্রতিবেদনের শিরোনাম—‘শ্মশানে আবারও আবির্ভাব সেই রহস্যময় মূর্তির!’

    শিরোনামের তলায় লেখা হয়েছে—‘শ্মশানে আবারও আবির্ভাব সেই রহস্যময় মূর্তির৷ এবার তাকে মাধ্যরাতে দেখা গিয়েছে উত্তর কলকাতার বাগবাজার অঞ্চলে স্ট্র্যান্ড রোডের কাশী মিত্র শ্মশানে৷ শ্মশান সংলগ্ন একটি বাড়ির মাথায় বসানো সিসিটিভির ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই ছবি৷ চুল্লির গর্ত থেকে পোড়া কাঠ উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে নদী সংলগ্ন যে স্থনে রাখা হয়, সেই স্তূপাকৃত কাঠের মধ্যে কোনও কিছু অনুসন্ধান করছিল ওই রহস্যময় ব্যক্তি৷ তিনদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হয়েছিল উত্তর কলকাতারই রতনবাবু ঘাট সংলগ্ন শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ মহশ্মশানের৷ যা কাশীপুর শ্মশান নামে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত৷ সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল একজন লোক মধ্যরাতে পোড়া চিতাকাঠের ভিতর থেকে কিছু তুলে মুখে দিচ্ছে!

    কাশীপুর শ্মশানে যাকে দেখা গিয়েছিল আর কাশী মিত্র শ্মশানে যাকে দেখা গিয়েছে, পোশাক দেখে অনুমান করা যাচ্ছে তারা দু’জনেই একই ব্যক্তি৷ পরপর দু’বার উত্তর কলকাতার দুটি শ্মশানে একই রহস্যময় ব্যক্তির আবির্ভাবের ফলে যথেষ্ট চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে জনমানসে৷ বিশেষত কিছু লোক ওই অপরিচিত ব্যক্তিকে অশরীরী বলে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার করাতে কিছু মানুষের মনে আতঙ্কও সৃষ্টি হয়েছে৷ সংবাদপত্রের তরফে কাশী মিত্র শ্মশানের শ্মশানকর্মীদের ওই রহস্যময় ব্যক্তির ছবি দেখালে তাঁরা জানাল এমন চেহারার কোনও শ্মশানকর্মী তাঁদের ওখানে কাজ করেন না৷ এ ব্যাপারে স্থানীয় থানার এক আধিকারিকের সঙ্গে সংবাদ মাধ্যম কথা বললে তিনি জানান, ওই রাতে কোনও অপরাধের খবর তাদের কাছে লিপিবদ্ধ হয়নি৷ তবে রহস্যময় ভিডিও ফুটেজ দুটি তাদেরও নজরে এসেছে। পুলিশের তরফে প্রকৃত ঘটনা জানার ব্যাপারে চেষ্ট চালানো হচ্ছে৷’

    এই প্রতিবেদনের সঙ্গে যে ছবিটা ছাপা হয়েছে তা দেখে মল্লার বুঝতে পারল ছবিটা সিসিটিভির ফুটেজ থেকেই নেওয়া৷ ছবিতে দেখা যাচ্ছে একরাশ কাঠের সামনে পিছন ফিরে উবু হয়ে বসে আছে একজন৷ বসার ধরন দেখে মনে হয় লোকটা কাঠগুলোর মধ্যে কিছু একটা খুঁজছে৷ সুদীপ মল্লারকে যে ভিডিওটা দিয়েছে সেই ভিডিওর লোকটার মতোই একই পোশাক সংবাদপত্রে যার ছবি ছাপা হয়েছে তার৷ ভালো করে ছবিটা খুঁটিয়ে দেখে মল্লার বুঝতে পারল বসে থাকা লোকটার জ্যাকেটের পিঠেও ‘বি’ লেখা আছে৷ অর্থাৎ সংবাদপত্রের অনুমান সঠিক৷ দু-তিন দিনের ব্যবধানে মধ্য রাতের শ্মশানে যে দুই ব্যক্তির ছবি ক্যামেরাতে ধরা পড়েছে তারা আসলে একই লোক!

    মল্লার কাগজটা হাতে ধরে ভাবতে লাগল, সত্যিই কি সোহম রাতের বেলায় শ্মশানে শ্মশানে ঘুরে বেড়াচ্ছে? সোহমের বাড়িওয়ালা তো জানিয়েছে যে সোহম রাতে বাড়ি থাকছে না৷ তবে কি সে চাকরিতে বেরোবার নাম করে শ্মশানে মশানে যাচ্ছে! কিন্তু কেন? সোহমের সেই পোড়া শোল মাছ খাওয়ার দৃশ্যও মাঝে মাঝে ভেসে উঠতে লাগল মল্লারের মনে৷ সব ঘটনা মিলিয়ে মিশিয়ে মল্লারের মাথার মধ্যে সব কিছু কেমন যেন তালগোল পাকিয়ে যেতে লাগল৷ মল্লার ভেবেই চলল, বেলা গড়াতে লাগল কিন্তু কোনও সমাধান মিলল না৷ প্রবল উত্তেজনা মাথায় নিয়ে মল্লার কোনওরকমে স্নান-খাওয়া সারল৷ পোশাক পাল্টে বাইরে বেরোবার আগে সংবাদপত্রের যে পাতায় খবরটা ছাপা হয়েছে সেই পাতাটাও ভাঁজ করে পকেটে নিল মল্লার৷ গ্যারেজ থেকে গাড়ি বার করে বেলা দেড়টা নাগাদ মল্লার রওনা হয়ে গেল সোহমের বাড়ির উদ্দেশে৷

    মল্লার যখন সোহমের বাসস্থানে গাড়ি নিয়ে হাজির হল তখন বেলা দুটো৷ মল্লার গাড়ি পার্ক করে বাড়িটাতে ঢোকার সময় দেখল একতলার বারান্দাতে রোদে পিঠ দিয়ে বসে খবরের কাগজ পড়ছেন সোহমের বাড়িওয়ালা উমাপতিবাবু৷ তার হাতে ধরা এ দিনের সেই সংবাদপত্র, যার একটা পাতা সোহমের সঙ্গে দেখা করতে আসার সময় মল্লার পকেটে এনেছে৷ কাগজটা দেখেই মল্লারের মনে হল, উমাপতিবাবু কি সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরটা পড়েছেন? মল্লারের পায়ের শব্দে বাড়িওয়ালা বৃদ্ধ কাগজ থেকে মুখ তুলে তাকালেন মল্লারের দিকে৷ মল্লারের সঙ্গে ভদ্রলোকের চোখাচোখি হয়ে যাওয়াতে মল্লার তাকে জিগ্যেস করল, ‘সোহম বাড়িতে আছে?’

    ভদ্রলোক জবাব দিলেন, ‘তিনি তো সকালবেলা নাইট ডিউটি করে একেবারে বাজার সেরে বাড়ি ফিরলেন৷ তারপর আর বাইরে বেরিয়েছেন বলে দেখিনি৷ নিশ্চয়ই ঘরেই আছেন৷’

    বাড়িওয়ালার কথা শোনার পর মল্লার টপাটপ সিঁড়ি বেয়ে তিন তলায় উঠে বারান্দা দিয়ে গিয়ে এগিয়ে সোহমের ঘরের কাছে পৌঁছে গেল৷ ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ৷ অর্থাৎ সোহম ঘরেই আছে৷ বার কয়েক মল্লার বেল বাজাবার পর দরজা খুলে দাঁড়াল সোহম৷ কেমন যেন একটা উস্কোখুস্কো চেহারা তার৷ মল্লারকে দেখে একটু যেন বিস্মিতভাবে তার দিকে চেয়ে রইল সোহম৷ ব্যাপারটা খেয়াল করে মল্লার হসে বলল, ‘কী রে, ঘরে ঢুকব না? নাকি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকব?’

    মল্লারের কথা শুনে যেন সংবিৎ ফিরে পেয়ে সোহম বলল, ‘আয়, আয় ভিতরে আয়৷’

    ঘরের ভিতর আগের দিনের মতোই অন্ধকার৷ আর সেই পোড়া মাছের গন্ধও যেন মল্লার টের পেল৷ দরজা বন্ধ করে আলো জ্বালাল সোহম৷ মল্লার আগের দিনের মতোই ডাইনিং টেবিলের সামনে চেয়ারে গিয়ে বসল৷ সোহম তাকে প্রশ্ন করল, ‘দুপুরবেলা এদিকে কোথায় এসেছিলি?’

    মল্লার জবাব দিল, ‘অন্য কোথাও নয়৷ আজ ছুটির দিন, তাই তোর কাছে চলে এলাম৷ পরশু এদিকে ব্যাঙ্কের একটা কাজ ছিল৷ সে কাজ মিটিয়ে রাতে তোর খোঁজে এসেছিলাম৷ তুই ছিলি না৷ বাড়িওয়ালা তোকে কিছু বলেনি?’

    ‘হ্যাঁ, বলেছিল৷’—সংক্ষিপ্ত জবাব দিল সোহম৷

    এরপর সে মল্লারকে জিগ্যেস করল, ‘সেদিনের বোতলে এখনও কয়েক পেগ হুইস্কি আছে খাবি?’

    মল্লার বলল, ‘না, দিনের বেলা ওসব খাব না৷ তুই বরং এখানে এসে বোস৷ দু’জনে মিলে গল্প করি৷’

    সোহম মল্লারের কথা শুনে ধীর পায়ে এগিয়ে এসে টেবিলের উল্টো দিকের চেয়ারে মুখোমুখি বসল৷ বালবের আলোতে সোহমের মুখের দিকে তাকিয়ে মল্লার খেয়াল করল সোহমের মুখমণ্ডলে রাত্রি জাগরণের স্পষ্ট চিহ্ন দেখা যাচ্ছে৷ চোখের কোণে কালি পড়েছে তার৷ পরপর বেশ কিছুদিন ধরে রাতে না ঘুমলে চোখে যেমন কালি পড়ে৷ তাছাড়া কেমন যেন একটা অদ্ভুত বিষণ্ণতা ছড়িয়ে আছে সোহমের মুখমণ্ডলে৷

    সোহমকে আসল কথা জিগ্যেস করার আগে তার মনের ভাব বোঝার জন্য মল্লার হেসে বলল, ‘খুব তো আমার ওখানে মানিকতলা বাজারে গিয়ে বাজার করছিস, মাছওয়ালা বলল৷ আজ সকালেও তো তুই ওখানে মাছ কিনতে গিয়েছিলি৷ তা রান্নাবান্না শিখলি কিছু?’

    সোহম আবারও সংক্ষেপে জবাব দিল, ‘ওই কোনওরকম৷’

    মল্লার এরপর তাকে বলল, ‘তোর বাড়িওয়ালা পরশু বলল, তুই নাকি কিছুদিন ধরে নাইট ডিউটি করছিস! তোদের অফিসে তো নাইট ডিউটি নেই বলেই জানি৷’

    মল্লারের কথা শুনে সোহম একটু চুপ করে থেকে জবাব দিল, ‘আগের অফিস ছেড়ে দিয়েছি৷ অনেকদিন হল ওই কোম্পানিতে৷ তাই আর ওখানে কাজ করতে ভালো লাগছিল না৷ নতুন কোম্পানিতে জয়েন করলাম৷ ওখানে রাত জেগে কাজ করতে হচ্ছে৷’

    মল্লার প্রশ্ন করল, ‘তোর নতুন অফিস কোথায়?’

    ‘নর্থ ক্যালকাটাতেই৷’ আলগোছে জবাব দিল সোহম৷

    ‘তুই যে পুরোনো চাকরি ছেড়ে নতুন চাকরিতে জয়েন করেছিস সে খবরটা চূর্ণীকে বলেছিস?’ আবারও প্রশ্ন করল মল্লার৷

    এ প্রশ্নর জবাবে সোহম মাথা নেড়ে বুঝিয়ে দিল যে চূর্ণী খবরটা জানে না৷

    মল্লার বলল, ‘কেন শুধু শুধু চূর্ণীকে তুই অযথা টেনশনের মধ্যে রাখছিস বল তো? এমনিতেই ও একটু নার্ভাস প্রকৃতির মেয়ে৷ তার ওপর তুই ফোনের কানেকশন নিচ্ছিস না! হঠাৎ পুরোনো অফিস যাওয়া বন্ধ করলি! পুরোনো চাকরি হঠাৎ ছেড়ে নতুন চাকরি ধরলি, কিছুই তো জানাসনি ওকে৷ বেচারা মেয়েটা তোর জন্য সারাদিন চিন্তা করে, আর তুই এদিকে নিজের ইচ্ছামতো চলছিস! তোর জলঙ্গীর আশ্রম থেকে ফেরার পর কী হয়েছে বলত? চূর্ণীর সঙ্গে কি তোর কোন সমস্যা তৈরি হয়েছে?’

    ‘না।’ আবারও সংক্ষিপ্ত উত্তর দিল সোহম৷

    মল্লার এরপর ভাবল যে এবার সোহমকে সরাসরি আসল প্রশ্নটা করাই ভালো৷ ব্লেজারের পকেট থেকে মল্লার খবরের কাগজ আর মোবাইল বার করে সোহমকে বলল, ‘দ্যাখ সোহম, গত কয়েক দিন ধরে কলকাতাতে একটা ঘটনা ঘটছে। ব্যাপারটা জেনে বা দেখে আমি খুব টেনশনে পড়ে গিয়েছি। কেন টেনশনে পড়ে গিয়েছি তা তুই একটা ভিডিও ক্লিপ আর কাগজটা দেখার পর বুঝতে পারবি৷ সত্যি কথা বলতে কী, ঘটনাটা আসলে কী তা জানার জন্যই আমি ভরদুপুরে তোর কাছে ছুটে এলাম৷’

    এ কথা বলে মল্লার মোবাইল খুলে ভিডিওটা বার করে সেটা চালিয়ে দিয়ে মোবাইলটা সোহমের হাতে ধরিয়ে দিল৷

    সোহম দেখতে শুরু করল ভিডিওটা। মল্লার সোহমের প্রতিক্রিয়া লক্ষ করার জন্য সোহমের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল৷ কিন্তু ভিডিওটা দেখার সময় সোহমের মুখের অভিব্যক্তির কোনও পরিবর্তন হল না৷ ভাবলেশহীনভাবে ভিডিওটা দেখা শেষ করে সোহম মোবাইল ফোনটা মল্লারের হাতে ফিরিয়ে দিল৷

    মল্লার এরপর খবরের কাগজটা খুলে সেই খবরটা সোহমকে দেখিয়ে বলল, ‘এই খবরটা পড়৷’

    কাগজটা হাতে নিয়ে সোহম যেন মনোযোগ দিয়ে খবরটা পড়তে শুরু করল৷ এবারও আগের মতোই ভাবলেশহীন সোহমের মুখ৷ শুধু কাগজটা পড়ার পর সেটা টেবিলে নামিয়ে রাখার সময় শুধু বলল, ‘ও, পুলিশও ব্যাপারটা সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছে৷’

    মল্লার এবার আর উত্তেজনা চেপে রাখতে না পেরে বলে ফেলল, ‘হ্যাঁ, পুলিশ, সংবাদ মাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া সবাই লোকটার খোঁজ করছে৷ যার খোঁজ তারা করছে সে তুই নয় তো? তোর সবকিছুর সঙ্গে লোকটার কী অদ্ভুত মিল!

    প্রশ্নটা শুনে উত্তেজিত মল্লারের মুখের দিকে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে থেকে সোহম শান্ত স্বরে জবাব দিল, ‘হ্যাঁ মিল কিছুটা আছে ঠিকই, কিন্তু ভিডিও বা খবরের কাগজে যে লোকের ছবি ছাপা হয়েছে সে লোক আমি নই৷’

    সোহমের কথা শুনে মল্লার উত্তেজিতভাবে বলল, ‘এ ছবি তোর নয়; হাঁটা চলা, পোশাক, সব ব্যাপারে দুটো লোকের মধ্যে এত মিল কীভাবে সম্ভব৷ তাছাড়া ভিডিওর ছবি আমি জুম করে দেখেছি৷ আর খবরের কাগজের ছবিতেও দেখা যাচ্ছে লোকটার জ্যাকেটের পিঠে একটা ‘বি’ লেখা আছে৷ হুবহু তোর জ্যাকেটের মতো! যেটা পরে তুই নবজীবন আশ্রমে গিয়েছিলি!’

    এ কথার জবাবে সোহম পাল্টা প্রশ্ন করল, ‘তোর কি মনে হয় পৃথিবীতে অমন জ্যাকেট একটা মাত্র বানানো হয়েছে? আমি ছাড়া অমন জ্যাকেট অন্য কেউ পরতে পারে না?’

    মল্লার বলল, ‘তা পারে ঠিকই? কিন্তু সব ব্যাপারে এমন মিল কি অদ্ভুত নয়? তুই আমাকে সত্যি কথা বল৷ আমার মনে হচ্ছে ছবির লোকটা আর তুই একই লোক৷ তুই রাত্রে এমনভাবে শ্মশানে ঘুরে বেড়াচ্ছিস কেন?’

    সোহম এবার তার গলায় মৃদু অসন্তোষ ফুটিয়ে বলল, ‘বার বার একই কথা বলছিস কেন? আমি শ্মশানে কী করতে যাব? আমি বলছি তো ছবির লোকটা অন্য লোক৷’

    মল্লার বলল, ‘অন্য লোক! তুই তো রোজ রাতে বাইরে বেরোচ্ছিস! আর যে দুটো শ্মশানে লোকটাকে দেখা গেছে সে দুটো শ্মশানই তোর বাড়ির কাছেই, উত্তর কলকাতাতেই৷ আচ্ছা৷ তুই যেখানে নাইট ডিউটি করতে যাচ্ছিস সেই অফিসে আমাকে নিয়ে যেতে পারবি?’

    মল্লার কথাটা বলেই বুঝতে পারল এ কথা বলা তার ঠিক হয়নি৷ আর মল্লারের কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই স্পষ্ট বিরক্তি আর উষ্মা ফুটে উঠল সোহমের মুখে৷ সে বলে উঠল, ‘তুই কি আমার পিছনে গোয়েন্দাগিরি করতে এসেছিস নাকি? কে করতে বলেছে, চূর্ণী?’

    মল্লার বুঝতে পারল ব্যাপারটা এবার অন্য দিকে মোড় নিতে পারে। এমনিতেই চূর্ণী সোহমের আচরণে যথেষ্ট উৎকণ্ঠার মধ্যে আছে। তার ওপর যদি মল্লার সন্দেহবশত তার সঙ্গে ঝগড়া করে তাহলে মহাবিপত্তি হবে।

    মল্লার তাই বলে উঠল, ‘না, তোর পিছনে গোয়েন্দাগিরি করতে যাব কেন? আর চূর্ণীর সঙ্গে তো আমার কয়েক দিন কথাই হয়নি৷ আসলে ছবিটার লোকটার সঙ্গে তোর চেহারা, পোশাকের এতটাই সামঞ্জস্য যে আমি ব্যাপারটা দেখে ভীষণ উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম৷ কিন্তু তুই যখন বলছিস যে তুই সে লোক নয়, তখন সমস্যা মিটে গেল৷ আসলে দিনকাল ভালো নয়, কে, কখন, কোথায়, কোন ঝামেলায় জড়িয়ে যায় বলা তো যায় না! তাই তোকে কথাটা বললাম৷’

    মল্লারের এ কথা শোনার পর সোহম যেন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এল৷ মল্লার এরপর সোহমকে বলল, ‘পরশু তো পঁচিশে ডিসেম্বর৷ ব্যাঙ্ক বন্ধ৷ তোদেরও ছুটি থাকবে নিশ্চয়ই৷ তিনজন মিলে কোথাও থেকে ঘুরে আসা যায় ওইদিন৷ নবজীবন আশ্রম থেকে ফেরার পর যা কাজের চাপ গেল৷ বাইরে ঘুরে আসলে ফ্রেশ হয়ে আসা যাবে৷’

    মল্লারের প্রস্তাব শুনে সোহম বলল, ‘নবজীবন আশ্রম যাবি? জায়গাটা বেশ ভালো৷’

    মল্লার বলল, ‘ভালো ঠিকই, কিন্তু ভোরবেলা গিয়ে আবার রাতের মধ্যে ফিরে আসাটা খুব চাপের ব্যাপার হয়ে যাবে৷ আমি কাছাকাছি কোথাও যাওয়ার কথা বলছি৷ এই ধর দু-তিন ঘণ্টার রাস্তা৷’

    কথাটা শুনে সোহম যেন আবারও একটু গুটিয়ে গেল! সে বলল, ‘কাছে-পিঠে যাওয়া মানে তো, সেই লোকজনের ভিড়৷ ওসব আমার আর ভালো লাগে না৷ গেলে তোকে বা চূর্ণীকে ফোন করে জানিয়ে দেব৷ নইলে তোরা ঘুরে আয়।’

    মল্লার হেসে বলল, ‘গেলে একসঙ্গে তিনজনই যাব৷ নইলে যাব না৷’

    এরপর সোহমের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ ধরে মল্লার টুকটাক নানা কথা বলল৷ কিন্তু মল্লারের মনে হল তার কোনও কথাতেই যেন কোনও আগ্রহ প্রকাশ করল না সোহম৷ যেন মল্লার কথা বলছে বলেই সে কথা বলছে৷ কথার মধ্যে মন নেই তার! একবার শুধু সোহম নিজে থেকে প্রশ্ন করল, ‘ওই ভিডিও আর নিউজ পেপারের রিপোর্টের ব্যাপারে চূর্ণী কিছু জানে?’

    মল্লার জবাব দিল, ‘জানে না নিশ্চয়ই৷ জানলে আমার থেকেও বেশি ভয় পেয়ে যেত৷ ফোন করত আমাকে, তোর বাড়ি ছুটে আসত৷’

    কথাটা শুনে সোহম আর কিছু বলল না৷ কিন্তু একতরফা বেশিক্ষণ কথা বলা যায় না৷ কাজেই মল্লার একসময় টেবিল থেকে খবরের কাগজ আর মোবাইলটা তুলে নিয়ে বলল, ‘এবার আমি যাচ্ছি৷ নিজের প্রতি খেয়াল রাখিস আর পঁচিশে ডিসেম্বর বেড়াতে যাওয়ার ব্যাপারটা নিয়ে আর একবার ভাবিস৷’

    সোহম আলগোছে উত্তর দিল, ‘হুঁ’৷

    সোহমের বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজের বাড়ি ফেরার জন্য রওনা হল মল্লার৷ ফেরার সময় সে ভাবতে লাগল, হয়তো সোহমের কথা মতোই শ্মশানের লোকটা সোহম নয়৷ কিন্তু সোহমের মধ্যে যেন একটা পরিবর্তন এসেছে৷ সোহমের সঙ্গে কথা বলে মনে হল সে হয় কোনও কিছু ভেবে চলেছে অথবা কোনও কিছু গোপন করতে চাইছে! জলঙ্গীর সেই দুর্ঘটনার পর তার মনে কোনও সমস্যা হয়নি তো? তাহলে তো চূর্ণীর কথা মতো তাকে সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত৷ এসব নানান কথা ভাবতে ভাবতে মল্লার বাড়ি ফিরে এল৷

    রাত ন’টা নাগাদ চূর্ণীর ফোনটা এল৷

    মল্লার কলটা রিসিভ করতেই চূর্ণী ওপাশ থেকে বলল, ‘কীরে, দুই বন্ধু কেমন আড্ডা দিলি?’

    চূর্ণীর গলাতে যেন আগের মতো উৎকণ্ঠা, বিষণ্ণতা তেমন নেই৷

    মল্লার বলল, ‘সোহম ফোন করেছিল বুঝি? আসলে হঠাৎই মনে হল, সোহম কেমন আছে খোঁজ নিয়ে আসি৷ তাই চলে গেলাম৷’

    চূর্ণী বলল, ‘হ্যাঁ আধঘণ্টা আগে ফোন করেছিল৷ বেশ কিছুক্ষণ কথা হল৷ ও একটা নতুন চাকরিতে জয়েন করেছে তা তোকে বলেছে নিশ্চয়ই৷ ওখানে নাকি নাইট শিফটে ওকে কাজ করতে হচ্ছে বিদেশি ক্লায়েন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য৷ অফিসের ল্যান্ড লাইন থেকেই ফোন করেছিল বলল৷’

    একথা বলে চূর্ণী বলল, ‘যাক বাবা৷ ও যে চাকরিতে যাচ্ছে সেটাই বড় কথা৷ মনে হয় ও চাকরি ছাড়া-ধরার চাপে অমন অস্বাভাবিক আচরণ করছিল৷’

    মল্লার বলল, ‘ওকে তো বললাম, চল, পঁচিশে ডিসেম্বর কোথাও ঘুরে আসি তিনজন মিলে৷ সে ব্যাপারে সোহম তোকে কিছু বলল?’

    চূর্ণী জবাব দিল, ‘গেলে তো ভালোই হয়৷ কিন্তু এ ব্যাপারে সোহম কিছু বলেনি৷ তবে…৷’

    কী যেন একটা কথা বলতে গিয়েও থেমে গেল চূর্ণী৷ মল্লার বলল, ‘তবে কী?’

    চূর্ণী একটু চুপ করে থেকে বলল, ‘ওই তমসাময় আর বাচ্চাগুলোকে মনে হয় সোহম কিছুতেই ভুলতে পারছে না৷ আমাকে কী যেন একটা কথা প্রসঙ্গে বলল, ‘আমি যদি জীবনবাবার আশ্রমে চলে যাই, তবে তুই সেখানে গিয়ে থাকবি আমার সঙ্গে?’

    মল্লার বলল, ‘আমি ওকে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলতে ও বলল, চল জীবনবাবার আশ্রমে যাব৷ এরপর আমি যখন বললাম, অতদূর নয়, কাছাকাছি কোথাও যাব, তখন সোহম আর আগ্রহী হল না৷ সোহম ফোন করলে তুই একবার প্রস্তাবটা দে৷ তোর কথায় হয়তো সোহম রাজি হতে পারে৷’

    চূর্ণী বলল, ‘ওর সঙ্গে আর এ ব্যাপারে কোনও কথা না বলে একটা কাজ করা যেতে পারে৷ পঁচিশ তারিখ সকালে তোর বাড়ি আমি পৌঁছে যাব, তারপর দু’জন মিলে সোহমকে গিয়ে ধরব৷ তখন হয়তো আর ও না করতে পারবে না৷ আগাম বললে হয়তো কোনও কাজের ছুতোতে পাশ কাটাবার চেষ্টা করবে৷’

    মল্লার বলল, ‘বেশ তাই হবে৷’

    মল্লার এরপর চূর্ণীকে গুড নাইট জানিয়ে লাইনটা কাটতে যাচ্ছিল, ঠিক সেই সময় চূর্ণী বলল, ‘দাঁড়া, লাইন ছাড়িস না৷ আর একটা ব্যাপার তোকে বলার আছে, বলতে ভুলেই যাচ্ছিলাম৷’

    মল্লার বলল, ‘কী কথা?’

    চূর্ণী এবার মৃদু উত্তেজিতভাবে বলল, ‘পরশু দিন বিকালে অফিস থেকে একটু আগে বেরিয়ে পঁচিশে ডিসেম্বরের জন্য কেক কিনতে গিয়েছিলাম নিউ মার্কেটে৷ একটা স্টলে দাঁড়িয়ে কেক বাছছি৷ চারপাশে বেশ ভিড়৷ সেই ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ দেখি একজন আমার দিকে তাকিয়ে আছে৷ লোকটা কোট প্যান্ট পরা থাকলেও আমি চিনতে পেরেছি লোকটাকে৷ সেই খাস্তগীর৷ যাঁর সঙ্গে আমাদের দেখা হয়েছিল জলঙ্গীর ওখানে৷ আমরা কলকাতাতে ঢোকার মুখে যে আমাদের গাড়ির পাশ দিয়ে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল৷’

    চূর্ণীর কথা শুনে মল্লারের মনে পড়ল এক সপ্তাহ আগে সোহমের বাড়ির গলিতে বাইকে লোকটাকে দেখার কথা৷ মল্লার চূর্ণীকে বলল, ‘তুই ঠিক দেখেছিস?’

    আশঙ্কিত গলাতে চূর্ণী বলল, ‘একশো পার্সেন্ট ঠিক৷ আমার সঙ্গে চোখাচোখি হতেই লোকটা ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে গেল৷ লোকটা আবার আমাকে ফলো করছে না তো?’

    মল্লার বলল, ‘লোকটা আবার তোকে ফলো করতে যাবে কেন?’

    চূর্ণী বলল, ‘আজকাল কিছুই বলা যায় না৷ অনেক ভদ্র-শিক্ষিত মানুষ বলে পরিচিত মানুষরাও অনেক সময় মেয়েদের ফলো করে৷ তারপর সুযোগ বুঝে বাজে প্রস্তাব দেয়৷’

    ব্যাপারটা শুনে মল্লারের মনে প্রশ্নের উদয় হলেও চূর্ণী যাতে ভয় না পায় সেজন্য সে বলল, ‘তোর যত আজেবাজে ভাবনা৷ এই বড়দিনের সময় তোর মতো অনেক লোকই নিউ মার্কেটে কেক-পেস্ট্রি কিনতে যায়, তেমনই হয়তো লোকটাও গিয়েছিল৷’

    ‘তাই হবে হয়তো৷’—একথা বলে এরপর চূর্ণী ফোন ছেড়ে দিল৷

    চূর্ণীর ফোন রাখার পর মল্লারের ভাবনাটা অনেকখানি সোহমের দিক থেকে সেই খাস্তগীরের দিকে ঘুরে গেল৷ ঘুমোবার আগে বিছানায় শুয়ে মল্লার ভাবতে লাগল, খাস্তগীরকে তারা নানান জায়গাতে বারবার দেখতে পাচ্ছে কেন? ব্যাপারটা কি কাকতালীয়? নাকি অন্য কোনও রহস্য আছে এর মধ্যে? তারা যেমন লোকটাকে দেখতে পেয়েছে, তেমন লোকটা কি একবারও তাদের খেয়াল করেনি? করলে তাদের এড়িয়ে যাচ্ছে কেন? এসব কথা ভাবতে ভাবতে সেদিনের মতো ঘুমিয়ে পড়ল মল্লার৷

    পরের দিনটা যেন ঝড়ের মতো কেটে গেল মল্লারের৷ অফিসে একটা কাজ থাকায় সকালে উঠে একটু আগেই সে অফিস পৌঁছেছিল৷ পাঁচটা পর্যন্ত টানা অফিসের কাজ৷ মাথা থেকে অন্য সব ভাবনা মল্লারের উড়ে গিয়েছিল৷

    কাজ যখন শেষ হল তখন কয়েকজন অফিস কলিগ মিলে মল্লারকে ধরল পার্ক স্ট্রিটে খানা-পিনা করার জন্য৷ চব্বিশে ডিসেম্বর রাতে পার্ক স্ট্রিট বড় মোহময় হয়ে ওঠে৷ আলো নাচ-গান-হুল্লোড়ে মেতে ওঠে পার্ক স্ট্রিটের হোটেল, অলিগলি রাজপথ৷ মন্দ লাগে না দেখতে৷ এর আগে মল্লার বেশ কয়েকবার উপভোগ করেছে রাতের পার্ক স্ট্রিট৷ কাজেই মল্লার রাজি হয়ে গেল কলিগদের প্রস্তাবে৷ অফিসের কাজ শেষ হওয়ার পর ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে অফিস কলিগদের সঙ্গে পার্ক স্ট্রিটে হাজির হল মল্লার৷ তারপর একটা বার কাম রেস্টুরেন্টে রাত দশটা পর্যন্ত চলল তাদের পান-ভোজন৷

    পার্ক স্ট্রিট থেকে বেরিয়ে একজন কলিগকে তার বাড়িতে ড্রপ করে মল্লার যখন বাড়ি ফিরল তখন রাত এগারোটা বাজে৷ সারাদিন বাইরে থাকায় ক্লান্ত লাগছিল তার৷ বাড়ি ফিরে কিছুক্ষণের মধ্যেই বিছানায় শুয়ে পড়েছিল সে৷

    সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ মল্লারের ঘুম ভাঙল৷ ফ্রেশ হয়ে চা বানিয়ে বসতে বসতে সাতটা বাজল৷ চায়ে চুমুক দিয়ে মল্লারের মনে পড়ল, আজ পঁচিশে ডিসেম্বর—বড়দিন৷ চূর্ণীর সকালবেলা তার বাড়ি আসার কথা। তারপর সোহমকে তুলে নিয়ে কাছে-পিঠে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার কথা৷ চূর্ণী কখন আসবে তা জানার জন্য গতকাল মল্লারের একবার ফোন করার দরকার ছিল কিন্তু করা হয়নি৷ চূর্ণী কখন আসছে তা জানার জন্য মল্লার মোবাইলটা খুলতেই দেখল পাঁচটা মিসড কল অ্যালার্ট৷ রাত সাড়ে এগারোটার পর থেকে প্রায় একটা পর্যন্ত কিছু সময় পর পর তাকে কল করেছে চূর্ণী৷ মল্লার ঘুমিয়ে পড়েছিল বলে বুঝতে পারেনি ব্যাপারটা৷ চূর্ণী কি আজ বেড়াতে যাওয়ার ব্যাপার নিয়ে কথা বলার জন্য ফোন করেছিল নাকি তার কোনও দুর্ঘটনা ঘটেছে? দ্বিতীয় দুশ্চিন্তাটা মাথায় আসতেই মল্লার কল ব্যাক করল চূর্ণীকে৷ মল্লারের কানে চূর্ণীর ফোন বাজার প্রায় সঙ্গে-সঙ্গেই মল্লারের বাড়ির দরজার বাইরেও একটা মোবাইল বাজতে শুরু করল! চেনা শব্দ৷ চূর্ণীর মোবাইলের রিংটোন! অর্থাৎ চূর্ণী এসে গিয়েছে৷

    মল্লার দরজা খুলতেই ঝড়ের মতো ঘরে প্রবেশ করল চূর্ণী৷ উদভ্রান্ত চেহারা৷ সকালে উঠে তার মাথার চুলে চিরুনি পড়েনি৷ দেখে মনে হচ্ছে সে মুখেচোখে জলও দেয়নি৷ কাঁধে শুধু তার সর্বক্ষণের সঙ্গী ব্যাগটা আর হাতে ধরা একটা খবরের কাগজ৷ চূর্ণীকে দেখে কিছু একটা হয়েছে বুঝতে পেরে মল্লার বলল, ‘কী হয়েছে তোর? তোকে এমন দেখাচ্ছে কেন?’

    প্রশ্নের জবাবে চূর্ণী মল্লারকে চমকে দিয়ে বলল, ‘মনে হয় সোহম আর বেঁচে নেই৷’

    ‘বেঁচে নেই মানে! কী বলছিস তুই! এ খবর তুই জানলি কীভাবে?’—বিস্মিতভাবে বলে উঠল মল্লার৷

    চূর্ণী কাঁদো কাঁদো স্বরে বলে উঠল, ‘হ্যাঁ, আমার অনুমান সোহম আর আমাদের মধ্যে নেই৷ এখন আমি বাঁচব কীভাবে৷’

    মল্লার বলল, ‘ব্যাপারটা আমাকে খুলে বল? শুধু অনুমানের ওপর নির্ভর করে, কেউ চলে গিয়েছে বলা যায় নাকি? সময় নষ্ট না করে ব্যাপারটা বল৷’

    চূর্ণী বলল, ‘কিছুদিন ধরে কলকাতায় একটা ঘটনা ঘটছে তুই জানিস? একজন অদ্ভুত লোক হানা দিচ্ছে নানা শ্মশানে? অনেকে বলছে সে নাকি কোনও প্রেতাত্মা! ব্যাপারটা নিয়ে নাকি বেশ হইচইও হচ্ছে! কিন্তু এসব ব্যাপার আমি কিছুই জানতাম না৷ কাল রাত দশটা নাগাদ একটা টেলিভিশন চ্যানেলে হঠাৎই দেখলাম দুটো শ্মশানের ভিডিও ছবি৷ আমি দেখেই চিনতে পেরেছি সে লোককে৷ ও হল সোহম!’

    চূর্ণী ঝড়ের মতো একটানা কথাগুলো বলার পর মল্লার বলে উঠল, ‘হ্যাঁ, ওই ভিডিও আমি দেখেছি৷ তোকে বলিনি তুই দেখলে ভয় পেতে পারিস বলে৷ ভিডিও দুটো দেখে আমার দৃঢ় ধারণা হয়েছিল ওটা সোহম ছাড়া কেউ নয়৷ তাই সেদিন আমি সোহমের কাছে গিয়েছিলাম ব্যাপারটা সম্পর্কে জানতে৷ কিন্তু সোহম দৃঢ়ভাবে বলল ছবির লোক সে নয়৷’

    চূর্ণী বলে উঠল, ‘না ওই হবে৷ নিশ্চয়ই ওটা ওর ছবি৷ আমরা দু’জন ওকে চিনতে পারব না? সোহম ছাড়া লোকটা অন্য কেউ নয়!’

    মল্লার বলল, ‘ভিডিও-র লোকটা সোহম হলেও সে মারা গিয়েছে বলছিস কেন? লোকে ওকে ভূত বলছে বলে? নাকি ও শ্মশানে ঘুরছে বলে?’

    চূর্ণী কাঁদতে কাঁদতে হাতের খবরের কাগজের ভাঁজ খুলতে খুলতে বলল, ‘সোহম কাল আমাকে ফোন করেনি৷ টিভিতে খবরটা দেখার পরই আমার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল৷ তোকে অনেক বার ফোন করলাম, তুই ফোন ধরলি না৷ সারা রাত জেগেই কাটিয়েছি৷ ভোরবেলা খবরের কাগজওয়ালা কাগজ দিয়ে গেল৷ দেখ কী লিখেছে কাগজে! আমি আর কিছু ভাবতে পারছি না!’ এ কথা বলে চূর্ণী খবরটা দেখিয়ে কাগজটা মল্লারের হাতে দিল৷

    মল্লার এক নিশ্বাসে পড়ল খবরটা—

    ‘সন্দেহভাজন ব্যক্তির গঙ্গায় ঝাঁপ

    গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন শ্মশানে উপস্থিত হচ্ছে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি৷ ইতিপূর্বে কাশী মিত্র ও শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ মহাশ্মশানে সিসিটিভি ক্যামেরায় তার ছবি ধরা পড়েছে৷ এখনও পর্যন্ত সে কোনও অপরাধ সংগঠিত করেছে এমন অভিযোগ পুলিশের কাছে না এলেও মধ্যরাতে ওই শ্মশানচারীর ব্যাপার নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে চাঞ্চল্য ছড়ানোয় পুলিশ ব্যাপারটা নিয়ে খোঁজখবর শুরু করে৷ এবার অকুস্থল নিমতলা মহাশ্মশান৷ রবিবার রাত আড়াইটে নাগাদ শ্মশানে টহলরত কলকাতা পুলিশের এক কনস্টেবল গঙ্গা সংলগ্ন ফেনসিং-এর কাছে এক আধো অন্ধকার জায়গাতে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন৷ সেই ব্যক্তির কাছে গিয়ে পুলিশকর্মী তাকে তার সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে যেতে বলে৷ লোকটি পুলিশকর্মীর কথা মতো তার সঙ্গে কিছুটা এগোবার পরই ফেনসিং-এর দিকে ছুটতে শুরু করে৷ তারপর ফেনসিং টপকে গঙ্গায় ঝাঁপ দেয়৷ সেই পুলিশকর্মী এরপর ফাঁড়িতে গিয়ে অন্য পুলিশকর্মীদের ডেকে এনে নদীর পাড়ে সেই অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির সন্ধান চালালেও আর তার কোনও খোঁজ মেলেনি৷ পুলিশকর্মী ওই অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির চেহারার যে বিবরণ দিয়েছেন তাতে পুলিশের অনুমান অন্য দুই শ্মশানে যে রহস্যময় ব্যক্তির ছবি দেখা গিয়েছিল, জলে ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তিও সে-ই৷ কলকাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে ওই ব্যক্তির অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং রাতে প্রতিটি শ্মশানে নজরদারির ব্যবস্থা বাড়ানো হচ্ছে৷’

    লেখাটি পড়ে মল্লার বলল, ‘কই এখানে তো কোথাও সোহমের মৃত্যু সংবাদ লেখা নেই?’

    চূর্ণী ডুকরে কেঁদে উঠে বলল, ‘জলে ঝাঁপ দেওয়ার কথা তো লেখা আছে! সোহম তো সাঁতার জানে না৷ জানলে কি জলঙ্গী নদীর ঘটনাটা ঘটত? এবার নিশ্চয়ই আর ও বাঁচবে না৷ পুলিশের ভয়ে গঙ্গায় ঝাঁপিয়ে পড়ে ভেসে গিয়েছে৷ এখন আমি কোথায়, কার কাছে যাব৷ থানায়? হাসপাতালে? নাকি শ্মশানে?’

    এবার মল্লারের বোধগম্য হল চূর্ণী কেন সোহমের মৃত্যুর আশঙ্কা করছে৷

    মল্লার নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, ‘সময় নষ্ট না করে এখনই আমাদের সোহমের বাসায় যেতে হবে৷ সেখানে তার খোঁজ না মিললে তখন অন্য জায়গাতে যাওয়ার কথা ভাবা যাবে৷ আমি সঙ্গে আছি৷ তুই নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা কর৷’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleটেম্পল – ম্যাথিউ রীলি
    Next Article অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ৪ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }