Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জাদুনল – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায় এক পাতা গল্প115 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২. ডিসপোজেবল বডি

    অধ্যায়: ২

    সব শালা ডিসপোজেবল বডি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবু রংবাজ কেউ কম নয়। আর-একটু হলেই বুলটন খুনটা করেই ফেলেছিল। তার ভিকটিম একেবারে অন্তিম সময়ে একটা প্যাঁচ মেরে বেরিয়ে গেল। তার ছোট্ট কালার টিভিটা যে নড়বড়ে টেবিলটার ওপর রাখা, তার আড়াল থেকে একবার যেন মুখটা বের করে বাঁ চোখটা টিপে তাকে টন্ট করেও গেল মনে হয়। তবে সেটা চোখের বা মনের ভুলও হতে পারে। খেলার মাঠের যেমন জার্সি আছে তেমনই তাদেরও মার্কামারা জার্সি আছে। হাফ-প্যান্ট, হাফ-হাতা গেঞ্জি আর কোমরে প্যাঁচ দেওয়া গামছা। পায়ে হাওয়াই, পকেটে মোবাইল আর দু’-পাঁচটা টাকা। আজ গ্রিন ভ্যালির কে একজন হারাধন নায়েকের বডি ডেসপ্যাচ করার আছে। আজকাল একটা সুবিধে হল বডি ঘাড়ে করে অত দূর টানতে হয় না। কাচের গাড়ি আছে, খোলা ভ্যান আছে, বডি নামিয়ে তাতে তুলে দাও, তারপর ট্যাক্সিতে ফলো, শ্মশানে ফের নামিয়ে ডোমের জিম্মা করে দাও। হয়ে গেল। বডি তন্দুরে যখন ঝলসাচ্ছে তখন রেস্তরাঁয় বসে মাংস পরোটা সাঁটাও। সব রুটিন।

    পোশাকটা পরে নিয়ে কোমরে গামছাটা টাইট করে বেঁধে উঁকিঝুঁকি দিয়ে চিকুকে আরও একবার খুঁজল বুলটন। শালার মেগা আই কিউ। ইঁদুর মারার বিষ আলুর চপের সঙ্গে মেখে এদিক-সেদিক ছড়িয়ে রেখেছে, আঠামাখানো কাগজ দিয়ে ধরার চেষ্টা করেছে। পারেনি। হেভি চালাক। দিনের বেলা বড় একটা দেখা যায় না, রাতের বেলা চিক চিক করে চিল্লামিল্লি মাচায়। সেই জন্যই বুলটন নাম দিয়েছে চিকু। এখন এই একটাই আছে। বুলটন বিড়বিড় করে বলল, “তুই তো আর অমর নয়। মরবি, একদিন মরবিই।” আজ কাপড় কাচার মুগুরটা অব্যর্থ হাঁকড়েছিল বুলটন, শালা কী করে পিছলে মারাদোনার মতো বেরিয়ে গেল কে জানে!

    বান্টিদা বলেছে, এখন কিছুদিন সোশ্যাল ওয়ার্ক করে যা। তারপর পলিটিকাল কাজে নামবি। বুলটনের অবশ্য পলিটিক্সে যাওয়ার ইচ্ছে হয় না। হেভি কমপিটিশন। তার ড্রিম হল, একটা বেশ ঝিনচাক বার-এ বাউন্সার হবে। ওঃ, বাউন্সারের মতো গ্ল্যামার আর কোথাও নেই। যতবার বার-এ যায় মুগ্ধ হয়ে সে শুধু বাউন্সারদের দেখে, কী পারসোনালিটি, কী ট্যাক্টফুল, কী ঠান্ডা মাথায় বজ্জাত বেহেড ব্যাদড়া কাস্টমারদের সামাল দেয়। বাউন্সার মানে তো আর গুন্ডামি নয়। ঝাড়পিট হলে কাস্টমার ভেগে যাবে, দোকানের বদনাম হবে। তাই মস্তানিটা করতে হয় এত চেপেচুপে যে, পাঁচজনে বুঝতে পারে না।

    গ্রিন ভ্যালি হল বান্টিদারই প্রোমোট করা অ্যাপার্টমেন্ট হাউস। সবাই জানে এখানে সাগরিকা নামে যে ম্যাডাম থাকেন, তিনি হচ্ছেন বান্টিদার দুই নম্বর। একটু বয়স হয়েছে, কিন্তু দেখতে একদম ফিল্ম স্টারের মতো।

    কাচে ঢাকা গাড়ি এসে গেছে। সুখেন, রজত আর গুড্ডু গাড়ির কাছেই দাঁড়ানো। তাকে দেখে সুখেন বলে, “বডি তিন তলা থেকে নামাতে হবে, বুঝলি। লিফ্‌ট খারাপ।”

    “হারাধন নায়েক লোকটা কে রে?”

    “হিস্টরি মে মিস্ট্রি হ্যায় দোস্ত। দু’মাস আগে বউ আর মেয়ে নিয়ে এসে কমল জানার ফাঁকা ফ্ল্যাটে উঠেছিল। শোনা যাচ্ছে বউটা ওর নয়। ভাগানো। মেয়েটাও। ও সব বান্টিদা বুঝবে। আমাদের কী?”

    লম্বু হল মৌনীবাবা। কথাই কয় না, শুধু মিটিমিটি হাসে। এখন অবশ্য মুখে হাসি নেই। ভ্রু কুঁচকে ঘাড় উঁচু করে বিল্ডিংটা দেখছিল। যে-কোনও কারণেই হোক রাজুকে সবাই পছন্দ করে। বুলটন নিজেও। রাজুর দুটো প্লাস পয়েন্ট। হাইট আর পেটাই শরীর। কিন্তু সবাই জানে রাজু, জেন্টল জায়ান্ট রাজু একজন স্লো থিংকার, ওর রিফ্লেক্স কম, কোনও অ্যাগ্রেশন নেই, বলিয়ে- কইয়ে তো নয়ই।

    পাশে দাঁড়িয়ে বুলটন বলে, “কী দেখছিস?”

    রাজু ঘাড় ঘুরিয়ে বুলটনকে দেখে নিয়ে বলে, “কিছু নয়। এত বড় প্যাঁচা দেখা যায় না।”

    “প্যাঁচা? কোথায় প্যাঁচা?”

    “ওই তো, তিনতলার ওই ফ্ল্যাটটার বাথরুমের জানালায় বসে আছে।”

    বুলটনের চোখ ভাল, তবু প্রথমটায় কিছুই দেখতে পেল না। অনেকক্ষণ ঠাহর করার পর ধূসর রঙের পাখিটাকে দেখতে পেল বটে। দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল বলে বোঝা যাচ্ছিল না।

    “ওটা কার ফ্ল্যাট জানিস? প্যাঁচা নাকি খুব পয়া। লোকটার বরাত খুলে গেল হয়তো!”

    রাজু একটু হাসল। বলল, “ওটাই কমল জানার ফ্ল্যাট।”

    “যাঃ শালা, তা হলে তো উলটো কেস হয়ে গেল! ওটা বাথরুম কী করে বুঝলি? আগে এসেছিস?”

    মাথা নেড়ে রাজু বলে, “না তো! অন্য জানালাগুলোর চেয়ে ওই জানালাটা ছোট তো, তাই মনে হল। পাখিটা রেয়ার। এখনও দিনের আলো আছে, অন্ধকার না হলে পাখিটা উড়েও যেতে পারবে না।”

    গুড্ডু বান্টিদার খুব ক্লোজ়ড। ফোনটা ওর কাছেই এল। গুড্ডু ফোনটা পকেটে রেখে বলল, “চল, বান্টিদা ডাকছে। মালটা নামাতে হবে। স্ট্রেচারটা নিয়ে নে।”

    তিনতলার ফ্ল্যাটে ঢুকতেই বড় ডাইনিং কাম ড্রয়িং। সোফাসেট-টেট আছে, যেমন থাকে। বান্টিদা সিঙ্গল সোফাটায় বসে আছে। মোটা মানুষ, থলথলে হাঁসফাঁস চেহারা, মাথায় ঘেঁস চুল, ঘন ভ্রু। ঘরে আর কেউ নেই।

    বান্টিদা হাঁফধরা গলায় বলে, “ওই বাঁ দিকের বেডরুমে আছে।”

    ছোটমতো বেডরুমে ডবল খাটে যে লোকটা চিৎপাত হয়ে পড়ে আছে সেও বেশ মোটাসোটা। পরনে সবুজ চেক লুঙ্গি, গায়ে একটা ময়লা গেঞ্জি। মারা গেলে বাড়ির লোক একটু সাজিয়ে টাজিয়ে দেয়, সেটাই নিয়ম। হারাধনকে কেউ সাজায়নি, সেন্ট মাখায়নি, ফুলটুলও নেই। একা ঘরে পড়ে আছে গাড়লের মতো।

    সুখেন চাপা গলায় বলে, “আরে, একটা দিন তো মানুষের একটু ভিআইপি ট্রিটমেন্ট জোটার কথা! হারুবাবুর তো শালা সেটাও জোটেনি দেখছি!”

    তারা চটপট বডি নামিয়ে সামনের ঘরে এনে মেঝের ওপর রাখল। গুড্ডুই বান্টিদাকে জিজ্ঞেস করল, “বাড়ির লোক কে যাবে বান্টিদা?”

    বুলটন লোকটাকে দেখছিল। ভিড়ের লোক। এত অর্ডিনারি চেহারা যে, একবার দেখলে মনে রাখা মুশকিল। যেমন ভিড়ে দেখা মুখ। একটু মোটা নাক, পুরু ঠোঁট, ছোট-ছোট চোখ, গায়ের রং মাঝারি, হাইট মাঝারি, কিছুই ইমপ্রেস করার মতো ছিল না হারাধন নায়েকের। বয়স পঞ্চাশ- টঞ্চাশ।

    অন্য বেডরুমটা থেকে এক ভদ্রমহিলা ঘরে ঢুকলেন, হাতে একগোছা পাঁচশো টাকার নোট। রোগা, ফরসা, লম্বাটে মুখ। বেশ মিষ্টি চেহারা। টাকাগুলো গুড্ডুর দিকে বাড়িয়ে ধরে বললেন, “কিছু মনে কোরো না, আমার শরীর খুব খারাপ। বাড়িতে আর কেউ নেই যে শ্মশানে যাবে। যা করার তোমরাই করবে। এই টাকাগুলো রাখো, এতেই হয়ে যাবে বোধ হয়!”

    বুলটনের আন্দাজ, কমসে কম কুড়ি-পঁচিশ হাজার টাকা তো হবেই। টাকাগুলো বোধ হয় গুনে আনেনি, তা হলে পরিমাণটা মুখে বলে দিত। গুড্ডু একবার বান্টিদার মুখের দিকে চাইল আর বান্টিদা মাথা একটু নাড়া দিলেন। গুড্ডু টাকাগুলো হাফ-প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে ফেলল। বলল, “ঠিক আছে ম্যাডাম। কিন্তু মুখাগ্নিটা কে করবে?”

    “ওসব রিচুয়ালস আমরা মানি না। জাস্ট ক্রিমেট হিম।”

    “ডেথ সার্টিফিকেটটা লাগবে ম্যাডাম।”

    বান্টিদা তার বুকপকেট থেকে একখানা ভাঁজ করা কাগজ বের করে গুড্ডুর দিকে বাড়িয়ে বললেন, “এই নে, আমার কাছে আছে। আর শোন, আসার সময় ওটার দশ-বারোটা জ়েরক্স করে আনিস। লাগবে।”

    “ঠিক আছে।”

    কিছুই ঠিক আছে বলে মনে হচ্ছিল না বুলটনের। ডেডবডি আনঅ্যাটেন্ডেড পড়ে আছে, নো সাজুগুজু, নো নাথিং, কান্নাকাটি বড় একটা হয় না আজকাল, কিন্তু এরা যেন হারাধনকে তাড়াতে পারলে বাঁচে। আঠা যে ছিল না তা বোঝাই যাচ্ছে। বেচারা হারাধন! বুলটন হঠাৎ ভদ্রমহিলার দিকে চেয়ে বলেই ফেলল, “একটা সাদা চাদর-টাদর হবে? তা হলে বডি ঢেকে নেওয়া যেত।”

    ভদ্রমহিলা একটু যেন অবাক হলেন, “সাদা চাদর?”

    এই সময়ে হঠাৎ পিছন থেকে একজন স্বপ্নের মতো মেয়ে বেরিয়ে এল। রোগা, ফরসা, এলোথেলো বব চুল, সাজ নেই, তবু বুলটন এই প্রথম কাউকে দেখল যে রক্তমাংসের তৈরিই নয়। কী মেটিরিয়াল দিয়ে তৈরি, তা বোঝা যাচ্ছে না। দু’খানা বিশাল চোখ ঠিক কালো নয়, একটু নীলচে, চুলের রং মধুর মতো। আর, হেঁটে এল না ভেসে এল তা বোঝাই গেল না। পরনে একটা সাদা, লম্বা ঝুলের পা পর্যন্ত ঢাকা গাউনের মতো কিছু। হাতে একটা সাদা চাদর। সেটা গুড্ডুর দিকে ছুড়ে দিয়ে বলল, “আপনারা প্লিজ় দেরি করবেন না। টেক হিম অ্যাওয়ে,” ভ্রু কোঁচকানো, ঠোঁটে বিরক্তি, একটু হয়তো ঘেন্নাও।

    তারা একটু ব্যোমকে গেছে সন্দেহ নেই। গুড্ডু চাদরটা ক্যাচ করে নিয়ে বলল, “হ্যাঁ, হ্যাঁ। এই যাচ্ছি।”

    মেয়েটা ফের বলল, “প্লিজ়!”

    তারপর ঠিক চলন্ত একটা মোমবাতির মতোই আবার ভাসন্ত পায়ে ঘরের ভিতরে চলে গেল।

    বডি নীচে নামিয়ে কাচের গাড়িতে তুলে দিল তারা।

    শেষমুহূর্তে হারাধনের একটা সাদা চাদর অন্তত জুটেছে। ডেডবডি দেখলেই লোকজন উঁকিঝুঁকি দেয়। দিচ্ছিলও। একজন বুড়ো মানুষ জিজ্ঞেসও করল, “কে গেল?”

    কেউ জবাব দিচ্ছিল না দেখে বুলটন বলল, “একজন ফালতু লোক দাদু, নন এনটিটি, এই আমাদের মতোই।”

    ট্যাক্সিতে উঠলে রাজু সবসময়ে ড্রাইভারের পাশের সিটে বসে। কারণ, লম্বা বলে ওর লেগরুম বেশি লাগে। পিছনে সুখেন, গুড্ডু আর বুলটন। বুলটন বলল, “মেয়েটাকে দেখলি?”

    সুখেন বলে, “হাইফাই।”

    গুড্ডু টাকা গুনছিল। বলল, “ওর নাম ইলিনা, লা মার্টে পড়ে।”

    বুলটন বলে, “পাড়ায় বা রাস্তাঘাটে দেখিনি তো!”

    “গাড়িতে যায় আসে। বাড়ি থেকে বেরোয় না।”

    হঠাৎ সামনে থেকে ঘাড় ঘুরিয়ে রাজু বলে, “ডেথ সার্টিফিকেটে কী লিখেছে রে গুড্ডু?”

    গুড্ডু বলে, “দেখার সময় পেয়েছি নাকি! দেখে বলছি দাঁড়া!” পকেট থেকে কাগজটা বের করে চোখ বুলিয়ে বলল, “কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ডিউ টু ম্যাসিভ কনভালশন। কে জানে কী! জিজ্ঞেস করলি কেন?”

    “এমনি।”

    রাজু আর কথা বলল না। গুড্ডু বলল, “থার্টি টু থাউজ়্যান্ড আছে। এত দিল কেন বল তো!”

    সুখেন চোখ বড় বড় করে বলে, “বাপ রে! এ তো জ্যাকপট!”

    বুলটন বলল, “পরে আবার হিসেব না চায়!”

    গুড্ডু বলে, “দূর, ওদের কি টাকার লেখাজোখা আছে নাকি!”

    “বড়লোক?”

    “তাই তো শুনেছি।”

    “বড়লোক তো ভাড়াবাড়িতে আছে কেন! আর লুঙ্গি পরেই-বা শ্মশানে যেতে হচ্ছে কেন?”

    “বান্টিদার কাছে শুনেছি বালিগঞ্জ প্লেসে ভদ্রলোকের বাড়ি, আর সেটা রিনোভেট হচ্ছে, তাই এখানে শিফ্‌ট করেছিল। বান্টিদার অ্যারেঞ্জমেন্টে। বাকিটা নো আইডিয়া।”

    কেওড়াতলায় প্যারাফার্নেলিয়া অনেক। দু’ঘণ্টার ওপর লেগে গেল বডি চুলোয় ঢোকাতে। হয়ে গেছে কি না জানতে বান্টিদা বার চারেক ফোন করেছেন গুড্ডুকে। অবশেষে তারা হাঁফ ছেড়ে রেস্তরাঁয় এসে বসল।

    বুলটন জিজ্ঞেস করল, “অস্থি-ফস্থি নিতে হবে নাকি?”

    গুড্ডু মাথা নেড়ে বলে, “আরে না। ওরা ওসব মানে না তো বললই।”

    বুলটন বারবারই মেয়েটাকে দেখতে পাচ্ছে। চোখে সেই থেকে লটকে আছে। ইলিনা। মেয়েটাকে রিয়েল বলে ভাবতেই পারছে না। মনে হয় এ মেয়ের শরীরে ঘামের গন্ধ হয় না, ঋতুমতীও হয় না, ছোটবাইরে বড়বাইরেও নেই, পরি-টরি যেমন আর কী। ডাইমেনশনটাই আলাদা। তিন জনের জন্য পরোটা মাংসের অর্ডার দিল গুড্ডু। রাজু শ্মশানে এলে খায় না। পিউরিটান আছে। টাকার হিস্সাও নেবে না। খরচখরচা বাদ দিয়ে ওই টাকাটা তিন ভাগ হবে। গুড্ডু, সুখেন আর সে। তাদের মধ্যে রাজুটাই একটু অন্যরকম। কেমন যেন। মাঝে-মাঝে সে রাজুকে বলে, “তুই কি শালা আমাদের বিবেক নাকি?”

    রাজু শুধু হাসে। শালার পেট থেকে কথাই বের করা যায় না।

    গুড্ডু একটা ছোট নোটবুকে টাকার হিসেব করছিল। পাইপয়সা অবধি হিসেব করে গুড্ডু, কখনও বন্ধুর সঙ্গে দু’নম্বরি করেনি, মদ খেয়েও না। টাকাপয়সার ব্যাপারে ওকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করা যায়। গুড্ডুর পলিটিকাল অ্যাম্বিশন আছে। ওর একটাই টার্গেট, এমএলএ হওয়া আর বুলটন জানে একদিন এমএলএ ও হবেও।

    রাজু আজ একটু আলগোছ, কী যেন ভাবছে। বুলটন ওর পেটে একটা আঙুলের খোঁচা দিয়ে বলল, “কী এত ভাবছিস!”

    রাজু মৃদু মৃদু হেসে বলে, “তেমন কিছু নয়, তবে এটা কিন্তু পুলিশ কেস ছিল।”

    বুলটন অবাক হয়ে বলে, “কোনটা?”

    গুড্ডু তার লেখা, আর সুখেন টেবিলের ওপর তার মৃদু তবলা থামিয়ে তাকাল।

    রাজু একটু লজ্জা পেয়ে বলে, “মনে হল, তাই বললাম। হারাধনবাবুর ঠোঁট দুটো আমার নীল লাগছিল, আর মুখে বাবল ফর্ম করেছিল।”

    গুড্ডু বলল, “যাঃ! কী যে বলিস! বান্টিদা আছে না! তার ওপর হারাধন বান্টিদার পুরনো বন্ধু। ফাউল প্লে হলে বান্টিদা কি ছেড়ে দেবে?”

    “ফাউল প্লে নয়। সুইসাইড হতে পারে।”

    সুখেন হঠাৎ বলে, “আমারও কিন্তু ব্যাপারটা নিয়ে একটু ডাউট আছে। ভদ্রমহিলার নাম কী রে গুড্ডু?”

    “তামসী নায়েক।”

    “নায়েক! ঠিক জানিস নায়েক?”

    গুড্ডু মাথা নেড়ে বলে, “আাই অ্যাম নট শিয়োর। পদবি কী লেখে জানি না।”

    “তামসী ম্যাডাম আর ইলিনা, বডি তাড়াতাড়ি বের করে দেওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। আর হারাধনের ঠোটের নীল রংটা আমারও চোখে পড়েছে।”

    গুড্ডু ফের মন দিয়ে হিসেব করছিল। মাথা না তুলেই বলল, “বডি ছাই হয়ে গেছে, এখন আর এসব কথা তুলে লাভ কী? চেপে যা। কথাটা ছড়ালে ইমেজ খারাপ হবে।”

    বুলটন জানে, গুড্ডু ইমেজ সম্পর্কে ভীষণ সেনসিটিভ। ভাবী এমএলএ তো!

    সুখেনের জগৎটা তবলাময়। বাজায় ভাল। ফাংশনে ডাক পায়। অল্পস্বল্প রোজগারও হচ্ছে আজকাল। মণীশ ঘোষ নামে এক ওস্তাদের কাছে তালিম নেয়। কিন্তু চারদিকে গানবাজনার লোক এত বেড়ে গেছে যে, জায়গা করাই মুশকিল। সুখেন ফের টেবিলে তবলার বোল তুলতে তুলতে বলল, “না, রাজু বলল বলে বললাম। তবে একটা কথা বলি। তামসী ম্যাডাম আর ইলিনার সঙ্গে এই হারাধন লোকটা কিন্তু যায় না। ওরা হেভি অ্যারিস্টোক্র্যাট, আর এ লোকটা অর্ডিনারি। টাকা থাকলেই তো হল না, সরাফৎ ভি কোই চিজ় হ্যায়।”

    গুড্ডু নোটবইটা বন্ধ করে পকেটে রেখে বলল, “আমাদের শেয়ার পড়ছে আট হাজার একশো পঞ্চাশ টাকা করে বুঝলি?”

    কেউ কোনও প্রশ্ন করল না। গুড্ডুর হিসেব খুব পাকা।

    গরম মাংস আর পরোটা এসে গেল আর বাতাসটা যেন পলকে সুগন্ধী হয়ে উঠল। এরা বানায় খুব ভাল। শ্মশানের রেস্তরাঁর তো কোনও পেডিগ্রি নেই, কাস্টমারও সব প্রলেতারিয়েত। কিন্তু রেসিপিতে অনেককেই টেক্কা দেবে। বুলটন বলল, “এত বেশি টাকা দেওয়াটাও সন্দেহজনক। গুনে-গেঁথে হিসেব করেও দেয়নি, যেন খামছে যা হাতে উঠেছে তাই দিয়ে দিয়েছে। তাড়াহুড়ো করে, যেন বিদায় করতে পারলে বাঁচে। মেয়েটা কী বলল শুনলি না, আপনারা প্লিজ় দেরি করবেন না। টেক হিম অ্যাওয়ে।”

    গুড্ডু ভ্রু তুলে বলে, “আরে ভাই, তোরা কি মার্ডার মিস্ট্রি বানিয়ে ফেলবি নাকি? মেয়েটা তো ম্যাডামের আগের পক্ষের আর ম্যাডাম হারাধনবাবুর সঙ্গে লিভ টুগেদার করছিলেন। এরকমই তো হওয়ার কথা, আঠা থাকার তো কথাই নয়।”

    রাজু মৃদু গলায় বলল, “দে ওয়্যার নার্ভাস।”

    গুড্ডু বলে, “আচমকা ঘটনায় নার্ভাস তো হওয়ারই কথা, তাই না?”

    সুখেন বলে, “আমার তো মনে হল, মা আর মেয়ে ডেডবডিটা নিয়ে টেনশনে ছিল। ডিসপোজ় অফ করতে পারলে বাঁচে।”

    গুড্ডু বলল, “খামোখা ঘেঁটে লাভ নেই, ডেডবডি সম্পর্কে অনেকেরই রিপালশন থাকে।”

    বুলটন হঠাৎ বলে, “ডাক্তারটা কে রে গুড্ডু? পাড়ার কেউ?”

    গুড্ডু মাথা নেড়ে বলে, “চিনি না। জে রায়, ব্রড স্ট্রিটে চেম্বার।”

    “পাড়ায় তো কত ভাল ডাক্তার আছে, অত দূর থেকে ডাক্তার আনতে হল কেন?”

    “প্লিজ়, তোরা গোয়েন্দাগিরিটা একটু বন্ধ করবি? ভুলে যাস না এটাতে বান্টিদাও ইনভলভড। আমাদের বডি খালাস করার দায়িত্ব ছিল, করে দিয়েছি।”

    বুলটন বিরক্ত গলায় বলে, “তুই ঘাবড়াচ্ছিস কেন, আমরা তো পুলিশের কাছে যাচ্ছি না। বডি হাওয়া হয়ে গেছে, কাজেই গিয়ে লাভও নেই। আমরা তো নিজেদের মধ্যে ডিসকাশন করছি। তা ছাড়া হারাধন নায়েক আমাদের কে যে, আমরা তার জন্য থানা-পুলিশ করব!”

    গুড্ডু নরম হয়ে বলে, “আমিও সেটাই বলছি। ঠিক আছে আমি মানছি যে, ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। কিন্তু আমাদের তো কিছু করার নেই। এই রাজুটাই যত নষ্টের গোড়া। তুই ফট করে এক একটা এমন কমেন্ট করে বসিস যে, প্রবলেম হয়ে যায়। হারাধনের ঠোঁট লাল না নীল তা তোর দেখার দরকারটা কী ছিল! আমরা তো আর ইনভেস্টিগেশন করতে আসিনি।”

    রাজু মৃদু একটু হাসল। তারপর নির্বিকার গলায় বলল, “চোখে পড়ে গেলে কী করব বল!”

    সুখেন বলে, “ঠিক আছে, চল বাড়ি যাই।”

    বুলটন কিছু বলল না। বান্টিদার কাছে তারও টিকি বাঁধা। সোনার তরী কমপ্লেক্সে সে যে সিকিওরিটি গার্ডের চাকরিটা পেয়েছে সেটা বান্টিদারই দেওয়া।

    ফেরার সময়ে তারা একটু চুপচাপ, ছোটাছুটিতে টায়ার্ডও বটে, তার ওপর পেটে মাংস-পরোটা। ট্যাক্সি থেকে নামবার আগে শুধু রাজু হঠাৎ মৃদু গলায় বলল, “প্যাঁচাটা নিশ্চয়ই এতক্ষণে উড়ে গেছে।”

    রাতে সোনার তরী কমপ্লেক্সে ডিউটি দেওয়ার সময় তারও প্যাঁচাটার কথা মনে পড়ছিল। ধূসর রঙের মস্তবড় পাখি। সে কলকাতার বস্তির ছেলে, পাখি-টাখি আর ক’টাই-বা দেখেছে। পাখিটা ওই ফ্ল্যাটের জানালাতেই এসে বসেছিল কেন, যেই ফ্ল্যাটে আজ একটা লোক মারা গেছে এবং হয়তো সুইসাইড করে! জীবনটা মাঝে-মাঝে খুব মিস্টিরিয়াস বলে মনে হয় কিন্তু! আর ইলিনা মেয়েটা! এমন নয় যে, মেয়েটাকে তার পছন্দ হয়ে গেছে। আসলে মেয়েটাকে তার রক্তমাংসের বলে মনেই হয়নি। যেন রূপকথার বই থেকে নেমে এসেছে।

    রাতের ডিউটিটা আরামের। রাত বারোটার মধ্যেই রেসিডেন্টরা ফিরে আসে, গেস্ট আসা কমে যায়। তার কাজ হল গেস্ট এলে খাতায় এন্ট্রি করা, যে ফ্ল্যাটে যেতে চায় সেখানে ফোন করে কনফার্ম করা। এটা নিশ্চয়ই বাউন্সারের মতো থ্রিলিং কাজ নয়। অ্যাডভেঞ্চার নেই। সোনার তরীর সেক্রেটারি সাধনবাবু প্রথম দিনই জিজ্ঞেস করেছিলেন, “ড্রিংক করো না তো!”

    সে সভয়ে বলেছিল, “না স্যার।”

    সাধনবাবু কঠিন চোখে তাকিয়ে বলেছিলেন, “প্রমাণ পেলে কিন্তু চাকরি যাবে। আর এই কমপ্লেক্সে অনেক ইয়ং মেয়ে থাকে, তাদের কারও কাছ থেকে যদি তোমার কোনও বেয়াদবির কমপ্লেন আসে, তা হলে শুধু চাকরিই যাবে না, পুলিশেও হ্যান্ডওভার করা হবে।”

    সাধন গাঙ্গুলি নিজেই পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ছিলেন, সদ্য রিটায়ার করেছেন। বুলটন ভাল ছেলের মতোই বলেছিল, “পাড়াতে আমার কোনও বদনাম নেই স্যার, খোঁজ নিয়ে দেখবেন।”

    একসময়ে ব্যায়াম-ট্যায়াম করত বলে তার চেহারা ভাল। রাজুর মতো অতটা না হলেও সে পাঁচ ফুট নয় ইঞ্চি। বাউন্সার হবে বলেই সে চেহারা বানিয়েছে এবং এখনও মেনটেন করে। সাধনবাবু তার চেহারাটা দেখে খুব খুশি হলেন না বলেই মনে হল। তাকে আগাপাশতলা দেখে নিয়ে বললেন, “জিম করো নাকি?” সে সবিনয়ে বলেছিল, “এখন তো আর সময় পাই না। দুটো টিউশনি করতে হয়, জার্মান ল্যাঙ্গোয়েজ শিখতে যেতে হয়। সপ্তাহে চারদিন জিম করার সময় পাই।”

    সাধনবাবু বিস্ময়ে ভ্রুটা ওপরে তুলে বললেন, “এডুকেশন কদ্দুর বলো তো!” বি কম পাশ শুনে ওঁর দুশ্চিন্তা যেন আরও একটু বাড়ল। বললেন, “তাই নাকি?”

    বুলটনের একবার বলতে ইচ্ছে হয়েছিল যে, গ্র্যাজুয়েটরা এখন রিকশাও চালায়। বলেনি, বেয়াদবি হয়ে যেত। মুশকিল হল সাধনবাবু ওল্ড টাইমার, ইয়ং মেয়েদের তার মতো ছেলেদের হাত থেকে বাঁচিয়ে চলায় বিশ্বাস করেন। কিন্তু মাঝে-মাঝে ছেলেদেরও যে বিপদ হয় সেটা বিশ্বাস করেন না। এই তো সিকিওরিটি গার্ডের চাকরি, কোনও গ্ল্যামার নেই, ভদ্রগোছের বেতনও পায় না, তবু কি ইশারা ইঙ্গিত হয় না?

    সিদ্ধার্থ গুহ একজন নামী আর্কিটেক্ট, বি ব্লকে বড় ফ্ল্যাট। তার মেয়ে অবন্তিকার বয়স খুব বেশি হলে চোদ্দো-পনেরো, রোগা, ফচকে এবং ডেয়ারিং। প্রথম দিন থেকেই তাকে আড়ে-আড়ে দেখত। একটু-আধটু হাসত। একদিন সকালে ডিউটি করছিল বুলটন, লাল-সাদা স্কুল-ড্রেস পরা অবন্তিকা তার কাছে এসে কাঁচুমাচু মুখ করে বলল, “এই, দ্যাখো না, বইখাতা নিয়ে নিচু হতে পারছি না, আমার ডান পায়ের জুতোর ফিতেটা খুলে গেছে। প্লিজ়, একটু বেঁধে দেবে?”

    এটা তার কাজ নয়, কিন্তু সে জানে রিফিউজ করলে মেয়েদের শোধ নেওয়ার অনেক পন্থা আছে। সুতরাং সে লক্ষ্মী ছেলের মতো হাঁটু গেড়ে বসে অবন্তিকার জুতোর ফিতে বেঁধে দিল। মুখে একটা থ্যাঙ্ক ইউ বলল বটে, কিন্তু ঠোঁটের বিচ্ছু হাসিটায় অন্য কিছু ছিল। আর ছুতোনাতারও তো অভাব হয় না। এই যেমন একদিন রোববার হঠাৎ খুব ব্যস্তসমস্ত হয়ে এসে বলল, “এই, দ্যাখো না, আমার ফোনটা ভুল করে ফেলে এসেছি ঘরে। তোমার ফোনটা একটু দেবে? একটা জরুরি কল করতে হবে!”

    দিতে হল। ফোনটা নিয়ে মুচকি হেসে পোর্টিকোর দিকে চলে গেল। একটু বাদে এসে ফেরত দিয়ে সেই বিচ্ছু হাসি হেসে থ্যাঙ্ক ইউ দিয়েই ফুড়ুৎ। পাঁচ মিনিট বাদেই তার কল, “অ্যাই, বলো তো আমি কে বলছি!” তারপর থেকে অবন্তিকার যখন-তখন ফোন, “এই শোনো না, একটু বাদে মা বেরিয়ে যাবে, আমি একা। চলে এসো না, দু’জনে অনেক গল্প করা যাবে!” কিংবা, “এই বোকা ছেলে, ছাদে আসবে? আমার তিনজন বন্ধু এসেছে, তোমার সঙ্গে আলাপ করতে চায়।” এসব কথা জানাজানি হলে সাধনবাবু তার চাকরি খেয়ে দেবেন। তাই ফাঁদে পা দেয়নি বুলটন।

    আপার, মিডল বা লোয়ার যে-কোনও ক্লাসেরই হোক, সুন্দর, কুৎসিত বা চলনসই হোক, পাজি, চালাক, বোকা, ভালমানুষ বা যে রকমেরই হোক না কেন, চাইলে একটা মেয়ে জুটেই যায়। আজকাল প্রেম করাটাই সবচেয়ে সোজা কাজ। অলিতে-গলিতে বাসে ট্রেনে রেস্তরাঁয় পুজো প্যান্ডেলে মোবাইলে এত প্রেম যে, ভাইরাল অসুখ বলে মনে হয়। যুবক-যুবতীদের প্রেম ছাড়া আর কী-ই বা করার আছে! প্রেম ফের ফুরিয়েও যায় প্রজাপতির আয়ুর মতো। বুলটন একসময়ে রোজ গীতা পড়ত, বিবেকানন্দ পড়ত, ব্রহ্মচর্য আর ধ্যান করারও চেষ্টা করেছে। তার মনে হয় মেয়েছেলে জীবনের কোনও টার্গেট হতে পারে না। তাই অনেক অফার থাকা সত্ত্বেও মেয়েদের এই ব্যাপক সেল-এর বাজারে আজও তার কোনও গার্লফ্রেন্ড নেই।

    ওই মাতাল রাঘববাবু এলেন। গেটম্যান মানস কুণ্ডু গেট খুলে দিল, একটা অ্যাপ ক্যাব ঢুকল ভিতরে। বুলটন ঘড়ি দেখল, রাত দেড়টা। এক-এক দিন রাঘববাবু নিজেই নেমে একটু আঁকাবাঁকা পায়ে এসে লিফট ধরে উঠেও যেতে পারেন। আবার কোনও কোনও দিন পেরে ওঠেন না। মানস গাড়ির ভিতরে উঁকি দিয়ে আজ হাতছানি দিয়ে তাকে ডাকল। বুলটন উঠে গেল গাড়িটার কাছে। আজ ডাউন। কেতড়ে আছেন, হাঁ করা মুখ থেকে লালা ঝরছে, চোখ ওলটানো। বুলটন জাপটে ধরে ছেঁচড়ে নামিয়ে এনে দাঁড় করানোর চেষ্টা করল। প্রথমটায় পারছিলেন না, কয়েকবারের চেষ্টায় তার কাঁধে পুরো ওজনটা ছেড়ে দিয়ে দাঁড়ালেন। এ সময়ে কিছু অর্গলমুক্ত কথা বেরিয়ে আসে মুখ দিয়ে, তার বেশির ভাগই গালাগাল, কাকে কে জানে। ছ’মাস আগে প্রথম যেদিন রাঘববাবুকে এভাবে তুলতে হয়েছিল চারতলার ফ্ল্যাটে, সেদিনকার কথা সহজে ভোলার নয়। সেদিনও রাঘব গালাগাল দিয়ে যাচ্ছিলেন অস্পষ্ট উচ্চারণে। আর তাঁর চারতলার ফ্ল্যাটের ডোরবেল বাজানোর পর ভিতর থেকেও তেড়ে আসছিল নারীকণ্ঠের অশ্রাব্য গালাগাল, যেমনটা তারা বস্তিতে শুনতে পায়। শুয়োরের বাচ্চা, খানকির ছেলে, বেশ্যার দালাল এবং অমুক ভাতারি, তমুক ভাতারি ইত্যাদি। দরজা খুলে যিনি দরজা জুড়ে দাঁড়ালেন তিনি একটু মোটাসোটা হলেও সুন্দরী এবং অভিজাত চেহারা। বুলটনের দিকে চেয়ে ফুটন্ত গলায় বললেন, “মাতালটাকে ওপরে এনেছ কেন? নীচে নিয়ে গিয়ে নর্দমায় ফেলে দাও।”

    খুব ঘাবড়ে গিয়ে বুলটন যখন কিংকর্তব্যবিমূঢ় তখনই রাঘববাবু হঠাৎ তাকে ছেড়ে উবু হয়ে হামাগুড়ি দিয়ে ঘরে ঢোকবার চেষ্টা করছিলেন। ভদ্রমহিলা তাঁর পা থেকে একপাটি হাওয়াই চটি খুলে চটাস চটাস করে বেশ কয়েক ঘা বসালেন রাঘবের মাথা আর গালে। সঙ্গে গাটার ল্যাঙ্গোয়েজ। বুলটন ভয় খেয়ে পালিয়ে আসে। পরে জেনেছে রাঘব একটা মাঝারি মানের খবরের কাগজের ফিল্ম ক্রিটিক। গিন্নি বৈশালী বড়লোকের মেয়ে, তার ওপর নিজের বুটিকের ব্যাবসা আছে।

    রাঘব যে নিজের পয়সায় মদ খান না এটা সবাই জানে। ফিল্ম ক্রিটিক আর খবরের কাগজের লোককে খাওয়ানোর লোকের অভাব হয় না। আর তাঁর চেনাজানাও অনেক। বুলটন বাউন্সার হতে চায় জেনে বলেছিলেন, “দূর, ওটা আবার কোনও চাকরি নাকি? ওরা তো মাতালদের পকেট থেকে পয়সা সরায়।”

    বুলটন দমে গিয়ে বলেছিল, “কিন্তু আমার যে খুব শখ।” তখন রাঘব ভরসা দিয়েছিল, “ঠিক আছে। দেখব। মাঝে-মাঝে মনে করিয়ে দিয়ো।”

    আজও রাঘববাবুকে ওপরে নিয়ে গেল বুলটন। এখন অভ্যাস হয়ে গেছে। ম্যাডাম এখনও গালাগাল দেন। তবে কম-বেশি আছে। এক-এক দিন কিছুই বলেন না। ইদানীং একটা অল্পবয়সি কাজের মেয়ে দরজা খুলছে। আজ তার হাতেই জিম্মা করে দিল বুলটন। দিন দুই দেখেছে মেয়েটাকে। মুখটা চেনা-চেনা। কারও সঙ্গে মুখের মিল আছে কি? ঠিক বুঝতে পারেনি বুলটন। রংটা কালোই, মাঝারি হাইট, লকলকে শরীর। রাঘববাবুকে দু’হাতে ধরে যখন ঘরের মধ্যে নিয়ে যাচ্ছে, তখন বুলটন হঠাৎ বলল, “আপনি বুলা মণ্ডল না?”

    মেয়েটা ঘাড় ঘুরিয়ে বড়-বড় চোখে তার দিকে একবার তাকাল, তারপর মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে বলল, “আমি আর কেউ নই।”

    বুলটন তাজ্জব। কেউ নই মানেটা কী হল? দু’বছর আগে বুলা মণ্ডলের খুব নাম ছিল। দুশো আর চারশো মিটারে ন্যাশনালে রুপো আর ব্রোঞ্জ জিতেছিল। এত সব জানার কথা নয় বুলটনের। তাদের পাড়ার নেতাজি স্পোর্টিং ক্লাব অ্যানুয়াল ফাংশনে কয়েকজনকে সংবর্ধনা দেয়। একজন উঠতি গায়ক, একজন বুড়ো কমেডিয়ান আর এই বুলা। বুলটনের পাশে ক্লাবের পুরনো মেম্বার প্রাক্তন ফুটবলার তপনদা বসেছিলেন। উনিই বলেছিলেন, দেখিস, এই মেয়েটা একদিন অলিম্পিকে যাবে। ক্লাব থেকে পাঁচ হাজার টাকা সাহায্য দেওয়া হয়েছিল বুলাকে। কৃতজ্ঞতা জানাতে উঠে বুলা একদম সাদামাটা ভাষায় ভণিতা না করে বলেছিল যে, তারা খুব গরিব। বাবা ভ্যান চালাত, এখন অসুস্থ হয়ে ঘরবসা, মা বাড়ি বাড়ি কাজ করে সামান্য টাকা পায় বলে তাদের কোনওরকমে খাওয়া জোটে, দুটো ছোট বোন আছে যাদের একটার বেশি জামা নেই, বুলার নিজের ভাল রানিং বুট নেই, তার কোনও পুষ্টিকর খাবার জোটে না। রুপো আর ব্রোঞ্জ জেতার পর সে কিছু সাহায্য পেয়েছে বটে, কিন্তু তা বাবার চিকিৎসাতেই খরচ হয়ে গেছে। তার আরও টাকার দরকার, একটা চাকরির দরকার, নইলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার। কথাগুলো খুব মোচড় দিয়েছিল বুকের মধ্যে। তবে এ হল ঘর ঘরকা কহানি। তারপর বুলা ক্রমে আবছা হয়ে গেছে। কারণ, বুলা খবর হয়ে উঠতে পারেনি। তার স্মৃতিশক্তি চমৎকার, সহজে মানুষের মুখ ভোলে না।

    রাঘববাবুর সকালে উঠতে দেরি হয়। রোজ নয়, তবে মাঝে-মাঝে একটু বেলায় উনি বাজার করতে যান। তিনদিন বাদে একদিন ডে ডিউটির সময় বুলটন রাঘববাবুকে বাজারে বেরোতে দেখে সঙ্গ নিল, পাশে-পাশে হাঁটতে হাঁটতে বলল, “স্যার, একটা কথা জিজ্ঞেস করব?”

    রাঘববাবু মাই ডিয়ার মানুষ, বিশেষ প্রোটোকল মানেন না, তা ছাড়া বুলটনের ওপর একটা কৃতজ্ঞতাও তো আছে। রোজ ছেলেটা ঘাড়ে করে তাঁকে তোলে। তার কাঁধে বন্ধুর মতো হাত রেখে বললেন, “সেই বাউন্সারের চাকরির ব্যাপারটা তো?”

    বুলটন বলে, “না স্যার, আমি একটা কথা জানতে চাইছিলাম। আপনার বাড়িতে যে নতুন কাজের মেয়েটা এসেছে ও কি বুলা মণ্ডল?”

    রাঘব অবাক হয়ে বলেন, “তুমি কি বুলাকে চেনো?”

    “না স্যার, তেমন চেনা নয়। তবে উনি ভাল স্প্রিন্টার ছিলেন বলে শুনেছি। আমাদের ক্লাবে ওকে একবার সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। তখন দেখেছি।”

    “শুধু ভাল নয়, শি ওয়াজ জেম অফ আ স্প্রিন্টার। লেগে থাকলে অলিম্পিক বাঁধা ছিল। ন্যাচরাল অ্যাথলিট। কিন্তু ফেঁসে গেল বলে কেরিয়ার বরবাদ।”

    “ফেঁসে গেল?”

    “অভাবে স্বভাব নষ্ট হে! ওরা তিন বন্ধু ছিল, তিনজনেই স্প্রিন্টার। বাকি দু’জন অবশ্য বুলার ক্লাসের নয়। ওই তিনজনের টিম পরামর্শ করে শপ লিফটিং শুরু করেছিল। ওরা ভেবেছিল ভাল দৌড়োতে পারার সুবিধে নিয়ে চুরি করেই পালাতে পারবে, যদি ধরা পড়ার মতো অবস্থা হয়। তিন-চারটে কেস করেও ফেলেছিল। একটা বড় গয়নার দোকানে লিফট করে, সি সি টিভিতে মুখ আইডেন্টিফায়েড হয়ে যায়। পুলিশ তিনজনকেই তুলে নেয়। জেল থেকে বেরিয়েছে বটে, কিন্তু বদনাম হয়ে গেছে। আমি ফিল্ম ক্রিটিক হওয়ার আগে স্পোর্টসে ছিলাম। তখন থেকেই বুলাকে চিনি। অনেকের কাছে ধরনা দেওয়ার পর আমার কাছে আসে। আমি বাড়িতে নিয়ে এসেছি, বৈশালী বলেছে বুটিকের কাজ শিখিয়ে কাজে লাগিয়ে দেবে।”

    “স্যাড স্যার।”

    “খুব স্যাড। মাত্র উনিশ-কুড়ি বছর বয়স, সারাটা জীবন সামনে পড়ে আছে।”

    রাঘববাবুকে গেট অবধি এগিয়ে দিয়ে ল্যান্ডিংয়ে নিজের জায়গায় ফিরে এল বুলটন। বুলা একদম বেরোয় না, দোকান-বাজারেও যায় না। দুপুরের দিকে রাঘব আর বৈশালী একসঙ্গেই বেরিয়ে যান। বুলা ওপরে একাই থাকে। হয়তো কাউকে মুখ দেখাতে চায় না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপারাপার – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
    Next Article গয়নার বাক্স – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    অসুখের পরে – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    সাঁতারু ও জলকন্যা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ৫০টি প্রেমের গল্প – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    শীর্ষেন্দুর সেরা ১০১ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 26, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    ঘুণপোকা – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়

    বাসস্টপে কেউ নেই – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

    November 25, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }