Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জিন্দাবাহার – পরিতোষ সেন

    পরিতোষ সেন এক পাতা গল্প172 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪. প্রসন্নকুমার

    চৌকাটের সামনে সেকেলে একটি আয়না। আশেপাশে দাড়ি কামাবার সরঞ্জাম – ভাঁজ করা বিলিত ক্ষুর, সাবান, বুরুশ ইত্যাদি। একটি ছোটো বাটিতে কালো রঙের অল্প পরিমাণ তরল পদার্থ। সকালের স্বচ্ছ আলোয়, জল-চৌকিতে বসে বৃদ্ধ, অথচ সবল, গুরুগম্ভীর এক পুরুষ। হাতে মিনিয়েচার টুথ-ব্রাশের মতো দেখতে একটি তুলি। এটি কালো রঙে ডুবিয়ে অনেক দিনের তা-দেয়া গোঁফে এবং পাট- করা চুলে বুলিয়ে দিচ্ছেন। গায়ে সাদা ফতুয়া এবং পাড়-ছাড়া কুচকানো ধুতি। পায়ে খড়ম! চুল-গোঁফের প্রসাধন সেরে কুচোনো ম্যানচেস্টারি ‘নয়নসুখ ধুতি এবং গিলে-করা ফিনফিনে আদ্দির পাঞ্জাবী পরলেন। ঘরের কোণ থেকে, মাথায় কারুকার্য-করা মোটা লাঠিটি হাতে নিলেন। চালচলনে বিশেষ তাড়া নেই। চুপ ক’রে কী ভাবতে-ভাবতে লাঠিটাকে আবার দেয়ালে হেলান দিয়ে রাখলেন। দেখে মনে হ’ল যেন প্রসাধনের অনুবর্তিতায় কিছু একটা বাদ পড়েছে। পুরোনো, মস্ত বড়ো কাঠের আলমারি খুলে এক টুকরো তুলো, সুগন্ধি আতরে ভিজিয়ে, ডান দিকের কানে গুঁজে দিলেন। আরেকবার আয়নার দিকে তাকিয়ে লাঠি তুলে সন্তর্পণে দোতালায় সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেলেন। উঠোনের বাঁ পাশে দোলায়মান পোষা কাকাতুয়াটি প্রত্যহ এইসময় মনিবকে দেখে মহাউল্লাসে তারস্বরে চিৎকার ক’রে ওঠে। তিনি নিজের হাতে তার মুখে দুটি ছোলা পুরে দিয়ে বলেন, ‘বল, হরে রাম হরে কৃষ্ণ’। তারপর উঠোন পেরিয়ে বৈঠক-খানায় তক্তপোশের ওপর তাকিয়া ঠেস দিয়ে বসলেন।

    গোপাল!– এই হাঁকে সমস্ত বাড়িটা যেন থরথরিয়ে উঠল। পুরাতন, অতি অনুগত এবং বিশ্বস্ত বিহারী ভৃত্য গোপাল, অম্বুরী তামাক সেজে টিকেতে ফুঁ দিতে- দিতে গড়গড়া রেখে গেল। একটু বাদেই তিনি জুড়িঘোড়ার গাড়িতে চ’ড়ে রোগী দেখতে বেরুলেন। ইনি তৎকালীন পূর্ববঙ্গের অতি খ্যাতনামা বৈদ্যরাজ শ্রীকালীকুমার সেন মহাশয়ের প্রথম পুত্র শ্রীপ্রসন্নকুমার সেন। স্থান উনিশশো পঁচিশ- ছাব্বিশের ঢাকা শহর। পেশা কবিরাজি। পুরুষানুক্রমে অন্তত আড়াইশো বছর ধ’রে সেন-পরিবারে একই পেশা চ’লে এসেছে। এই বংশের প্রথম প্রতিষ্ঠাতা নাকি অনেককাল আগে কাশীধাম থেকে পূর্ববঙ্গে এসেছিলেন।

    প্রসন্নকুমারের ঔরসে প্রথম স্ত্রীর গর্ভে পাঁচটি কন্যা এবং তিনটি পুত্র জন্মায়। এই স্ত্রী বিয়োগ হবার পর তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী পরিগ্রহণ করেন। তাঁর গর্ভে জন্মায় আরো বারোটি সন্তান– সাতটি পুত্র এবং পাঁচটি কন্যা। মোট কুড়িটি। এমন পুরুষের আকৃ তি এবং প্রকৃতি, কিঞ্চিৎ মেদ থাকা সত্ত্বেও, নর-শার্দুলের মতো হবে এতে আর আশ্চর্য হবার কী আছে। শিরা-উপশিরায় নীলরক্ত না-বইলেও অনেকেই যে তাঁকে ছোটোখাটো জমিদার ব’লে ভুল করবে, এতই-বা দোষের কী। দৈর্ঘ্যে ছয় ফুট। পুরুষ্ট শরীর। বিরাট মুখমণ্ডল– লাল মুলোর মতো রাঙা। এককথায় ডাকসাইটে। এই বিরাট পরিবারে, আমার স্থান, ধারাবাহিকভাবে ছিল সপ্তদশ।

    খানিকটা পিতামহের খ্যাতির দরুন খানিকটা নিজের ক্ষমতায়, প্রসন্নকুমারের পশার বেশ জ’মে উঠেছিল। আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে ঢাকায়, তথা পূর্ব-বঙ্গে খাবার-দাবারের সচ্ছলতা এবং অন্যান্য জিনিসের দাম অবিকল শেরশাহ-র যুগের মতো না-হ’লেও, এত সস্তা ছিল যে আজকের পাঠকেরা শুনে হয়তো তাই মনে করবেন। যেমন দু-আড়াই সেরি ইলিশ মাছ চার আনায়। এক-কুড়ি ডিম দু-আনায়। শীতকালে এক টাকায় কুড়ি সের দুধ। ব্রহ্মদেশের সরু সেদ্ধ চাল তিন টাকায় এক মণ। এক ভরি সোনার দাম ষোল টাকা। ছ’খানা ঘরের বারান্দা-উঠোনওয়ালা বাড়ির ভাড়া কুড়ি টাকা হ’লেও বেশি মনে হ’ত। অন্তত আমাদের জিন্দাবাহার গলি, ইসলামপুর এলাকায়। তাই এত বড়ো পরিবারের লালন-পালন প্রসন্নকুমারের পক্ষে মোটেই কষ্টকর ছিল না।

    প্রসন্নকুমারের সাধারণ শিক্ষা কতদূর ছিল জানা নেই। ইংরেজি বলতে তাঁকে কেউ কোনোদিন শোনেনি। কিন্তু সংস্কৃত ভাষায় আয়ুর্বেদশাস্ত্র ছিল তাঁর কণ্ঠস্থ। রোগী পরিক্ষার সময় অনবরত সুশ্রুত, চরক, বাগভট, চক্রপাণি দত্ত থেকে রোগ- সম্পর্কিত উপযুক্ত শ্লোক আওড়াতেন। আয়ুর্বেদ চিকিৎসাবিদ্যা ছিল তাঁর হাতের মুঠোয়। কঠিন রোগে পীড়িত অনেক লোককেই ডাক্তারী চিকিৎসায় বিফল হয়ে, তাঁর ওষুধে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে দেখেছি।

    একদিন সকালবেলায় প্রসন্নকুমার যথারীতি বৈঠকখানায় এসে বসেছেন। এমনসময় একটি ঘোড়ার গাড়ি এসে দরজার সামনে এসে দাঁড়াল। লুঙ্গি পরা দুটি লোক একটি অসুস্থ ছেলেকে কোলে তুলে ভেতরে এল। প্রসন্নকুমার তাকিয়ায় ঠেস দিয়ে বসেছিলেন। একটু এগিয়ে, হাত ধ’রে, রোগীকে তক্তপোশে বসালেন। তার দিকে তাকিয়ে একটি সংস্কৃত শ্লোক আওড়ালেন। লোকটির গায়ে ময়লা গেঞ্জি। তারই ভেতর দিয়ে শরীরের প্রত্যেকটি হাড়, পুরোনো ছাতার শিকের মতো ফুটে বেরুচ্ছে। কঙ্কালসার শরীরের অনুপাতে তার মাথাটি এতই বড়ো যে, আমার চোখে পাটকাঠির ডগায় একটি পূর্ণবর্ধিত তালের মতো দেখাল। লোকটি অত্যন্ত দুর্বল। তাই ধুঁকছে। এমন-কি কোটরে ঢোকা চোখদুটি খুলে রাখতেও তার কষ্ট হচ্ছে। পেটের চেহারাটা অবিকল জলে-ভরা ভিস্তির থলিটির মতো। পা-দুটিও অতিকায় মানকচুর মতো ফোলা। দেখেই মনে হয় যে তার আয়ু সীমিত।

    রোগীকে ওষুধ দেবার আগে, রোগের ইতিহাস জানা, নাড়ী, চোখ, জিহ্বা ইত্যাদি পরীক্ষা করা- প্রসন্নকুমার, এ-সবের কিছুই প্রয়োজন মনে করলেন না। সরাসরি তাঁর একজন কম্পাউণ্ডারকে ব্যবস্থাপত্র লিখে নিতে বললেন। ওষুধ-গুলোর মধ্যে একটি গালভরা নাম আমার এখনো কানে লেগে আছে। নামটি ছিল বিজয় পটপটি- মুক্তো, সোনা, রুপো, পারদ, বেক্রান্ত অর্থাৎ পোকরাজের মিশ্রণে তৈরি অন্য সব খাবার বন্ধ রেখে ক্রমশ দৈনিক আধ সের থেকে বাড়িয়ে পাঁচ সের পর্যন্ত দুধ খাবার পথ্য স্থির ক’রে দিলেন। রোগীকে এক মাস পরে আবার দেখা করতে বললেন। এবং তাকে এই ব’লে আশ্বাস দিলেন যে, রোগী এবার নিজেই হেঁটে আসতে সমর্থ হবে। প্রসন্নকুমারের এই প্রচণ্ড আত্মপ্রত্যয় দেখে আমি স্তম্ভিত।

    সেদিন তিনি মধ্যাহ্নভোজনে বসেছেন। কাঁসার থালার মাঝখানে সরু গোবিন্দভোগ ভাতের একটি নিখুঁত গোলাকার স্তূপ। তার ওপর একটি ছোটো ঘিয়ের বাটি। হঠাৎ দেখলে একটি ক্ষুদ্র সাঁচীস্তূপ ব’লে মনে হ’তে পারে। এই স্তূপের চারিদিকে নানারকম খাবারের বাটি সাজানো। পাশেই মস্ত জলের গেলাস। সব-ক’টি বাসনেই খোদাই-করা ‘প্রসন্নকুমার’ নামটি পশ্চিমের প্রতিক্ষিপ্ত আলোতে জলজল ক’রে উঠেছে। আমি প্রসন্নকুমারের আশেপাশে ঘুরঘুর করছি। আমার মনে একটি প্রশ্ন কিছুক্ষণ থেকেই আনাগোনা করছে। সেটি তাঁকে না জিজ্ঞেস করা পর্যন্ত আমার মনে শান্তি নেই। তিনি আমার দিকে মুখ তুলতেই ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আচ্ছা বাবা, ঐ আধমরা লোকটি কি সত্যি-সত্যিই আবার সুস্থ হয়ে উঠবে? তিনি মুখে একটি গ্রাস পুরে দিয়ে শুধু একটি আওয়াজ করলেন, হুঁ-উ-উ। তাঁর এই অতি সংক্ষিপ্ত অথচ সন্দেহাতীত জবাবে বিস্ময়ে আমি সেখানেই জ’মে গেলাম।

    এই ঘটনার কয়েক হপ্তার পর একদিন আমি দোতালার রাস্তার ধারের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছি। নিচে রোগীদের তেমন ভিড় নেই। জ্যৈষ্ঠের প্রচণ্ড গরম। তাই প্রসন্নকুমার তাঁর সমবয়সীদের নিয়ে আজ রোয়াকে বসেছেন। সবাইর হাতে একটি ক’রে হাত-পাখা। সেগুলো থেকে-থেকে হাতির কানের মতো নড়াচড়া ক’রে উঠছে। গাড়ি ঘোড়া এবং লোকজনের চলাচল, ফিরি-ওয়ালার হাঁক-ডাকে আমাদের জিন্দাবাহার গলিটি বেশ রমরমা হয়ে উঠেছে। হুঁকোয় ফুড়ুত-ফুড়ুত টানের মাঝে, আড্ডাও তেমনি জমেছে। এমন সময় আমাদের গলির মুখে মাছরাঙা রঙের বোতামওয়ালা গেঞ্জি এবং সবুজ আর লাল দাবার ছক্কাটা লুঙ্গি-পরা তরতাজা একটি মুসলমান যুবককে এগিয়ে আসতে দেখা গেল। মাথায় এক ঝুড়ি সিঁদুর রঙের আম, আর একটি মস্ত পাকা কাঁঠাল। ডান হাতের তর্জনীতে উপবিষ্ট, কাঁচা সবুজ রঙের রেশমী বলের মতো মোলায়েম ফুটফুটে একটি টিয়ে শাবক। টিয়ে শাবকটি কাছ থেকে দেখবার লোভে আমি তৎক্ষণাৎ রোয়াকে এসে হাজির হলাম। লোকটি ঠিক আমাদের বাড়ির সামনে এসে থামল। ঝুড়িটি নামিয়ে ঢিপ ক’রে প্রসন্নকুমারের পায়ে মাথা ছোঁয়াল। তিনি চমকে পা সরাতে গেলেন। কিন্তু যুবকের হাত তার আগেই, শেকলের মতো পা-দুটি জড়িয়ে ফেলেছে। যুবকটি হাত-জোড় ক’রে বলল, ‘বাবু আপনি আমাকে চিনতে পারছেন না, এই বান্দার নাম সামসুদ্দিন।

    আমি উদরী রোগে ভুগে ভুগে প্রায় মরতে বসেছিলাম। আপনার চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছি। অল্পবিস্তর ক্ষেতে কাজকর্মও করছি। বান্দার এই সামান্য উপহার গ্রহণ করলে খুশি হব।’ প্রসন্নকুমারের পক্ষিপ্রীতির কথা অনেকেরই জানা ছিল। তিনি টিয়ে শাবকটি আলতো ক’রে তুলে নিয়ে সেটিকে চুম্বনের স্বরে আদর করতে-করতে লোকটিকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘এত সব কেন? এই ব’লে গোপালকে একটি খাঁচা আনতে বললেন। এ-ধরনের ঘটনা অভূতপূৰ্ব না-হ’লেও, প্রসন্নকুমারের চোখে-মুখে একটি অস্ফুট পরিতোষের ভাব ক্ষণকালের জন্যে দেখা দিয়ে আবার মিলিয়ে যায়। হুঁকোয় একটি হাল্কা টান দিয়ে বললেন, ‘সবই ঈশ্বরের ইচ্ছা।’

    এখন বেলা প্রায় বারোটা। রোগী দেখার পালা শেষ ক’রে প্রসন্নকুমার লাল ডোরাকাটা গামছা পরে স্নানের আয়োজন করছেন। এই মুহূর্তটিতে তিনি পুজো- আহ্নিকের অভ্যেসমতো একটি জরুরী নিয়ম পালন করেন। শত বাধাবিপত্তি অসুবিধে থাকলেও, এ-নিয়ম পালনে কোনোদিন ত্রুটিবিচ্যূতি হ’তে দেখিনি। আলমারি থেকে ছোটো একটি গোল কৌটো বের ক’রে বারান্দায় রাখা জল-চৌকিতে বসলেন। সরষে পরিমাণের একটি বড়ি কৌটোটা থেকে বের ক’রে টক্ ক’রে মুখে পুরে দিয়ে এক গ্লাস জল খেলেন। গোপাল গড়গড়া সাজিয়ে পাশে রেখে গেল। খুব্ হাল্কা টান দিতে-দিতে পশ্চিমের আকাশের দিকে অপলক চোখে তিনি তাকিয়ে আছেন। দৃষ্টি সুমুখের সব বাড়ির ছাদ ডিঙিয়ে দূরে বিশাল বেল গাছটার মাথার ওপর দিয়ে অনন্ত নীলিমায় মিশে যায়। শান্ত সৌম্যকান্তি। ঠিক যেন প্রাচীন মিশরের পাথরে খোদিত ফ্যারাওর একটি মূর্তি। অত বড়ো পরিবারের চিন্তাভাবনা, নানরকম সমস্যা, প্রভুত্ব, ক্রোধ-সব ছুটি নিয়ে অনেক দূরে চ’লে যায়। সম্ভব হ’লে এই সময়টিকে তিনি বেঁধে রাখেন। একটু বাদেই গোপাল এসে মনে করিয়ে দেয় যে স্নানের জল ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে।

    সেন-পরিবারের সরষে পরিমাণ আফিম খাওয়ার রেওয়াজ নাকি অনেক কালের। আমার ঠাকুরমাকেও খেতে দেখেছি। কী শক্ত বুড়ী। দীর্ঘ পঁচানব্বই বছর অব্দি বেঁচে ছিলেন। আমার দিদিমাও খেতেন, তিনিও প্রায় ঐ-রকম বয়সেই দেহত্যাগ করেছিলেন। সম্পূর্ণ মজবুত দু-পাটি দাঁত এবং লাঠির মতো শক্ত শরীর নিয়ে শেষদিন পর্যন্ত স্বপাক রান্না ভোগ ক’রে গেছেন। এমন সৌভাগ্য ক’জনের হয়। আয়ুর্বেদশাস্ত্রমতে টনিক হিসেবে ঐটুকু আফিম প্রচুর দুধের অনুপানে খেলে নাকি মানুষ সবল ও দীর্ঘায়ু হয়। প্রসঙ্গত ব’লে রাখি যে আমার কনিষ্ঠভ্রাতার যখন জন্ম হ’ল, বাবার বয়স তখন পঁচাত্তর বছর।

    প্রসন্নকুমার কীরকম ডাকসাইটে লোক ছিলেন, সে-কথা আগেই বলেছি। মেজাজও ছিল তেমন মানানসই। ছেলেমেয়েদের সামনে স্বভাবতই স্বল্পভাষী এবং গাম্ভীর্যপূর্ণ। আমি তো দূরের কথা, বৈমাত্র দাদা-দিদিদের পর্যন্ত তাঁর সামনে মুখ তুলে কথা বলতে দেখিনি। একদিকে শ্রদ্ধা, আরেকদিকে ভয়–এ দুয়ের মিশ্রণে তাঁর এবং বাড়ির বাসিন্দাদের মাঝে একটি যে অদৃশ্য পাঁচিল গ’ড়ে উঠেছে, সে- সম্বন্ধে তিনি বিন্দুমাত্রও সচেতন নন। প্রভুত্বের প্রচণ্ড অহমিকার দাপটে, এ-পাঁচিল শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ের মতো ঢাকা প’ড়ে থাকে। তাঁর অসন্তোষ এবং ক্রোধ- এ দুটি বৃত্তি যাতে চাড়া না-দিয়ে ওঠে, এ-ব্যাপারে সবাই সতর্ক, কারণ তাঁর ক্রোধ যে কখনো সংযমের বাঁধ ছাপিয়ে যাবে না, এমন কথা কে বলতে পারে।

    একদিন গ্রীষ্মের ছুটির দুপুরে শ্লেট পেন্সিল নিয়ে, জানলার ধারে ব’সে অঙ্ক কষছি। খড়খড়ির ভেতর দিয়ে রাস্তার নানরকম দৃশ্য দেখতে-দেখতে কখন যে অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছিলাম টেরও পাইনি। হঠাৎ ফসকে গিয়ে আমার হাতের শ্লেটটি জানলার ফাঁক দিয়ে রাস্তায় পড়ে যেতেই মুহূর্তের মধ্যে ঠুনকো কাঁচের গ্লাসের মতো চুরমার হয়ে গেল। বাবা পাশে শুয়ে বিশ্রাম করছিলেন। আওয়াজ শুনতেই আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী হ’ল?’ এই গর্জনে দরজা-জানলাগুলো ঠকঠক ক’রে উঠল। আমার মুখ থেকে টু শব্দটি বেরুচ্ছে না। আতঙ্কে ঘরের ভেতর সব-কিছু যেন ধোঁয়া- ধোঁয়া হয়ে গেল। কোন বালকের এত দুঃসাহস যে, এমন পিতার সামনে মিথ্যা উচ্চারণ করে। আওয়াজের কারণ জানবার সঙ্গে-সঙ্গেই চোখমুখ দিয়ে আগুন ঠিকরে পড়ছে। এমন অবস্থায় সাধারণত বেশি নয়, একটি, বড়ো-জোর দুটি, উষ্ণ বচনই দোষীর পক্ষে যতেষ্ট শাস্তি হ’ত। সেদিন কেন জানি না, এতই রেগে গেলেন যে উঠে গিয়ে আলমারি থেকে চাবুকের মতো সরু বেত বের ক’রে আমার হাতে এবং পিঠে সপাং-সপাং ক’রে বেশ-কয়েক ঘা বসিয়ে দিলেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেক মায়েরাই অসহায় সন্তানকে পিতার ক্রোদের কবল থেকে রক্ষা করেন। বাবার অস্বাভাবিক রাগ দেখে মা আমার ধারকাছ দিয়ে ঘেঁষবারও চেষ্টা করলেন না। আপাতদৃষ্টিতে, ঘটনাটি মোটেই অসাধারণ নয়। সেটি মনে রাখবার প্রধান কারণ এই যে, তৎকালীন একটি শ্লেটের দাম ছিল, খুব বেশি হ’লে এক আনা কি দু-আনা। তাঁর অত্যধিক গম্ভীর প্রকৃতির আড়ালে একটি স্নেহশীল পিতা যে লুকিয়েছিল, সে- খবরও আমি মাঝে-মাঝেই পেয়েছি। তাই দোষের তুলনায় দণ্ড বেশি হওয়ায়, আমার অভিমান, সমুদ্রে ভাসন্ত, একটি বিরাট তুষার স্তূপের মতো, হৃদয়ে জমাট হয়ে রইল ।

    প্রসন্নকুমারের সঙ্গে স্ত্রী হেমাঙ্গিনী দেবীর সম্পর্কটা ছিল একেবারেই অসমান। এতে প্রেম কিংবা বন্ধুত্বের কোনো স্থান ছিল না। অন্তত আপাত-দৃষ্টিতে নয়। তা সত্ত্বেও, যেদিন বাইরে রোগী দেখতে যাবার তেমন তাগিদ থাকত না সেদিন, তিনি নিজের মতো ক’রে স্ত্রীকে সঙ্গ দেন।

    এমন একটি দিনে প্রসন্নকুমার গুটি-গুটি ক’রে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেলেন। উনুনের ওপর মস্ত একটা লোহার কড়াইতে মাছ কিংবা তরকারির ঝোল টগবগ করছে। হেমাঙ্গিনী দেবী একটা পেতলের হাতা দিয়ে সেটিকে নাড়া-চাড়ায় ব্যস্ত। স্বামীর প্রবেশের সঙ্গে-সঙ্গেই তিনি মাথায় ঘোমটা তুলে দিলেন। প্রসন্নকুমার রান্নার তালিকা জিজ্ঞেস করেন। তার পরের দৃশ্যটি আমার চোখে বিশেষরকম কৌতুকপ্রদ মনে হ’ল। দৃশ্যটি এইরকম–একটি গুরুগম্ভীর পুরুষ; পরনে তাঁর শীতকালের পোশাক-কলারওয়ালা সেকেলে কোট, ভাঁজ-করা গরদের চাদর, গলার দু-পাশ দিয়ে পিঠের ওপর ঝুলে পড়েছে। কুচোনো ‘নয়নসুখ’ ধুতির কোঁচাটি মাটিতে লুটোচ্ছে। পায়ে পালিশ-করা বাদামী রঙের পাম্-শু। এই পোশাকে পুরুষটি, বঁটিদায় ব’সে, পাকা গিন্নীর মতো তরকারি কুটছেন।

    স্বামীর প্রতি স্ত্রীর সশ্রদ্ধ ভয় এবং বিস্ময়টাই ছিল বেশি। ছেলেমেয়ে এবং অন্যান্য লোকদের সামনে স্বামীকে তিনি সর্বদাই কর্তা ব’লে সম্বোধন করেন। চালচলনে বস্তুত সবদিক থেকেই স্বামী ছিলেন কর্তা। ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ‘ফিউডাল লর্ড’। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বয়সের ব্যবধান কম ক’রে হলেও প্রায় ত্রিশ- পঁয়ত্রিশ বছরের। শুনেছি, বিয়ের সময় হেমাঙ্গিনী দেবীর বয়স ছিল পনেরো কি ষোলো। সামান্য লেখাপড়া জানা গরিবঘরের গাঁয়ের মেয়ে। একেই তো এত বড়ো পরিবারে বিয়ে। তারপর, প্রায় সমবয়সী কিংবা বয়োজ্যেষ্ঠ আটটি সৎ-সন্তানের মায়ের ভূমিকা গ্রহণ করা– এই দায়িত্বের গুরুভার পালনে, এত অল্প বয়সের যে- কোনো কুমারীই হকচকিয়ে যাবেন। তাই, মনে-মনে হয়তো কিঞ্চিৎ হীনমন্যতায় ভুগতেন। স্বভাবে তিনি বেশ চাপা ছিলেন। তাছাড়া এমন ডাকসাইটে স্বামীর প্রভাবে কোন্ স্ত্রীই-না সহজে দমে যান!

    সবেমাত্র বিকেল হয়েছে। লাল-সাদা ডোরাকাটা গামছা প’রে প্রসন্নকুমার পশ্চিমের বারান্দায় রাখা জলচৌকিতে বসেছেন। পাশে এক বাতি জল। তাতে একটি ছোট্ট পেতলের ঘটি একটি দলচ্যুত কচুরিপানার মতো ভেসে বেড়াচ্ছে। স্নানের আগে আফিম খাওয়ার মতো আরেকটি নিয়ম, তিনি এ-সময় কঠোরভাবে পালন করেন। তাই এ-প্রহরটি আমি ঘড়ির দিকে না-তাকিয়েই ব’লে দিতে পারি। অর্থাৎ কাঁটায়-কাঁটায় সাড়ে চারটা। সুর্য দূরের বিশাল বেল গাছটার মাথায় একটি সোনার অলংকারের মতো ঝকঝক করছে। মধ্যাহ্নভোজনের কিছুকাল পরেই শরীরের পঞ্চভূতের একটির, অর্থাৎ অম্লের আধিক্যে তিনি এতই অস্থির বোধ করেন যে গলায় আঙুল দিয়ে, প্রায় সমস্ত খাবার না বের ক’রে দেয়া পর্যন্ত তিনি স্বস্তি পান না। অথচ এ-অভ্যাসটির ফলে তাঁর কর্মশক্তিতে কোনোই ঘাটতি দেখা যায় না। বরঞ্চ এ-নিয়মটি সেরে, তিনি যেন এক নতুন উদ্যমে বাকি দিনটি কাটান। রোগী দেখার ফাঁকে-ফাঁকে, সমবেত পাড়াপ্রতিবেশীদের আড্ডায় তিনি সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেন।

    তক্তপোশের ডান ধারে কয়েকটি র‍্যাকে পর-পর কয়েকটি হুঁকো। প্রত্যেকটির ডগায়, সাজানো ককে। সাদা চাদরের পটভূমিকায় এই হুঁকো-ক’টি আমার চোখে অবিকল এক সারি তালগাছের মতো দেখায়। গোপাল, অথবা কোনো কম্পউণ্ডার প্রয়োজনমতো হুঁকো ধরিয়ে দেয়। এ-হুঁকোগুলো শ্রেণী এবং বর্ণের ভিত্তিতে চিহ্নিত। প্রথমটি ব্রাহ্মণদের, দ্বিতীয়টি প্রসন্নকুমার এবং তাঁর বিশিষ্ট কয়েকজন সমবয়সীদের। তৃতীয়টি নিম্নবর্ণের লোকদের এবং চতুর্থটি মুসলমানদের। কোন্ অতিথিকে কখন কোন্ হুঁকো দিতে হবে, এ-বিষয়ে সাধারণত তিনি নিজেই নির্দেশ দেন। কখনো-বা রোগীর সঙ্গে কথা বলতে-বলতে ভুলে যান। এ-রকম সময়ে কম্পাউণ্ডাররা, কর্তাকে বিরক্ত না-ক’রে, নিজেদের বুদ্ধি-বিবেচনায় অতিথিদের হাতে হুঁকো তুলে দেয়। ভুলচুক যে হ’ত না এমন কথা বলা যায় না। এবং হ’লে পর তার ফলাফল কী হ’ত সে-কথায় পরে আসছি। যাই হোক, প্রতিদিন হুঁকো ধরাবার সঙ্গে-সঙ্গে নিয়মিত আগন্তুকেরা প্রত্যেকেই তাঁদের পকেট থেকে একটি ক’রে ছোট্ট কাঠের নল বের ক’রে তাঁদের সমুখে রাখেন। এ-দৃশ্যটি আমার কাছে অত্যন্ত মজাদার লাগে। মনে হয় বুড়োদের এক্ষুনি তাস কিংবা পাশার মতো হুঁকোর নলের একটা খেলা শুরু হবে। এই চাল দিল ব’লে। তাঁদের মধ্যে একজন, অর্থাৎ সীতানাথ মোক্তার, প্রত্যহ একটি কলাপাতার নল বানিয়ে আনেন। তিনি এটি মুখে লাগাবার সঙ্গে-সঙ্গেই আমার কেন জানি মনে হয় যে, ভেঁপুর মতো এটি বেজে উঠবে। হুঁকোটি নগরদোলার মতো চক্রাকারে এক হাত থেকে আরেক হাতে ঘুরে বেড়ায়। সে-সময় যে যার নলটি হুঁকোর ফুটোয় পরিয়ে নেন। বৈঠকখানা ঘর থেকে সুগন্ধি তামাকের ধোঁয়া পাকিয়ে উঠে সারা বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। আলাপ- আলোচনার বিষয়বস্তু গতানুগতিক হ’লেও ঘরটি গগম্ করে ওঠে

    একদিন ঢাকার বিত্তবান্ গন্ধবণিক রূপচাঁদ সাহার কোনো-এক আত্মীয় সূতিকা রোগগ্রস্তা তাঁর স্ত্রীর জন্যে ওষুধ নিতে এসেছেন। প্রসন্নকুমার তাঁর জুনিয়ার কম্পাউণ্ডার অক্রূরকে তামাক পরিবেশন করতে বললেন। তারপর, নিবিষ্ট মনে রোগীর ইতিবৃত্তান্ত শুনতে থাকলেন। অক্রূর হুঁকো ধরিয়ে গন্ধ-বণিকের হাতে দিয়ে গেল! কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই প্রসন্নকুমারের চোখের কোণে লাল রঙ দেখা দিল। তিনি তেরছা নজরে অক্রুরের দিকে একবার কট্‌ট্ ক’রে তাকালেন! আরেকবার তাকাতেই দেখা গেল যে তাঁর চোখ পুরোপুরি রক্তবর্ণ হয়ে উঠেছে। ভ্রূযুগল কুঞ্চিত এবং সংযুক্ত হয়ে যেন একটা গিট লেগে গেছে।

    অক্রূরের চেহারা দেখে মনে হ’ল যেন তার বুকে ভূমিকম্প শুরু হয়েছে। ব্রাহ্মণের হুঁকো যে গন্ধবণিকের হাতে চলে গিয়েছে, এ-কথা তার বুঝতে আর বাকি রইল না। নিজের ভূল শোধরাবার উদ্দেশ্যে সে তাড়াতাড়ি র‍্যাকের তৃতীয় হুঁকোটি ধরবার চেষ্টা করতেই প্রসন্নকুমার তাঁর ডান হাতের তর্জনীটি উঁচিয়ে ধরলেন। গন্ধবণিক ওষুধ নিয়ে চ’লে গেলে প্রসন্নকুমার অন্দরমহলে যাবার জন্য উঠে দাঁড়ালেন। ‘কুষ্মাণ্ড!’ তাঁর মুখ থেকে তিন স্বরবিশিষ্ট এ-শব্দটি একটি কামানের গোলার মতো শোনাল। ওষুধে-ভরা কাঁচের আলমারিগুলো, এ-শব্দটির সংঘর্ষে ঠুনঠুনিয়ে উঠল। তারপর ধীরে-ধীরে রাস্তার ঘোড়ার গাড়ির চাকার শব্দে মিলিয়ে গেল।

    প্রসন্নকুমারের ধারণায়, এতগুলো সন্তান-সন্ততির বিরাট পরিবারের সুষ্ঠু পরিচালনার পক্ষে, সংসারের শীর্ষে তাঁর অস্তিত্বই যথেষ্ট। তাঁর চোখে পরিবার যেন ঘড়ির মতো একটি যন্ত্র-খাওয়া-পরা নামক চাবিটি দিলেই তা ঠিক-ঠিক চলতে থাকবে। ছেলেমেয়েদের সঙ্গে গপ্পোগুজব, পাঁচরকম বিষয়ের আলাপ-আলোচনা, তাদের অভাব-অভিযোগ সম্বন্ধে অবহিত হওয়া, ছেলেমেয়েদের এমন-কি স্ত্রীর সঙ্গে কোনোরকম ঘনিষ্ঠতা দেখানো, এক কথায় একটি অন্তরঙ্গ পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে তোলা, তাঁর গরুগম্ভীর মেজাজের খেলাপ ছিল।

    সন্ধের রোগী দেখার পালা শেষ ক’রে প্রসন্নকুমার এখন দোতলায় উঠে এসেছেন। পোশাকী জামাকাপড় ছেড়ে, হাতমুখ ধুয়ে, তিনি খাটে বসলেন। হেমাঙ্গিনী দেবী হাতপাখা দিয়ে হাওয়া করেন। কখনো-কখনো প্রয়োজন হ’লে, হাত-পা টিপে দেন। কর্তার যাবতীয় সেবার জন্যে তিনি এ-সময়টিকে আলাদা ক’রে রাখেন।

    গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরম। প্রসন্নকুমার গোপালকে ডেকে বললেন, ‘গড়গড়ায় কিছু কুচিবরফ আর গোলাপজল মিশিয়ে দে তো।’

    এ-রকম একটি সন্ধেবেলায় রাঙাদা অর্থাৎ প্রসন্নকুমারের পঞ্চমপুত্র, একটি মস্ত শীল্ড হাতে ক’রে তাঁর সামনে হাজির হ’ল। বলা বাহুল্য, আমাদের মতো কয়েক- জন কনিষ্ঠদের ছাড়া, জ্যৈষ্ঠপুত্রদের সঙ্গে প্রাত্যহিক দেখাসাক্ষাৎ তাঁর কমই হ’ত। লণ্ঠনের আলোয়, কাঠের ঘন কালো বার্নিশের পটভূমিকায়, সদ্য পালিশ-করা রুপোর অলংকরণ থেকে হীরের মতো আলো চমকাচ্ছে। শীল্ডের মাঝখানে দ্রুত- গামী সুপুরুষের হুবহু একটি মূর্তি দেখে আমার চোখ বিস্ফারিত। এই আবছা আলোতে গোটা জিনিসটি জটিল কারুকার্য খচিত একটি মহামূল্যবান্ রাজকীয় সম্পদের মতো দেখাল। দাদার প্রশস্ত বুকের ছাতিটা গর্বে প্রশস্ততর। শীল্ডটি পিতার চোখের সামনে ধ’রে বলল যে, তাদের কলেজের স্পোর্টস প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে সে এ-পুরস্কার পেয়েছে। হুঁকোর টান থামিয়ে তিনি শীল্ডটার দিকে আস্তে ক’রে ঘাড় বাঁকালেন। এক নজর দেখে নিয়ে আবার হুঁকোয় টান দিতে-দিতে বললেন, ‘হুঁ! লেখাপড়া ঠিক চলছে তো? রাঙাদা মাথা নিচু ক’রে শীল্ডটি নিয়ে বেরিয়ে গেল।

    প্রসন্নকুমার মস্ত পাশবালিশটিতে, কনুই চেপে হেলান দিয়ে বসেছেন। হাতে গড়গড়ার নল। পাশেই টুলের ওপর কালো পাথরের গেলাসে মিছরির সরবৎ রাখা আছে। হেমাঙ্গিনী দেবী সেটি এগিয়ে দিলেন। কর্তার মেজাজ বুঝে, এই সময় তিনি সংসারের নানা অভাব-অভিযোগের কথা তাঁর সামনে পেশ করেন। অমুকের বই কিংবা জামাকাপড় কিনতে হবে। তমুকের স্কুল কিংবা কলেজের মাইনে দিতে হবে ইত্যাদি। প্রসন্নকুমার চুপ ক’রে সব শুনে বলেন, ‘হুঁ-উ-উ।’

    –

    এ-সময়টিতে প্রসন্নকুমার কোনো-কোনো দিন আমাকে এবং আমার অগ্রজকে কাছে ডেকে নেন। পিঠে হাত বুলোতে বুলোতে আমাদের পড়াতে বসান। এমন দিনেই শুধু তাঁর কাছে আমাদের ছোটোখাটো আব্দার করার সাহস হয়। এমন দিন দুর্লভ হ’লেও, পিতৃস্নেহের দীপ্তিতে তাঁর মুখখানি উদ্‌ভাসিত হয়ে ওঠে। আমাদের কল্পলোকের পিতার ছবিখানির সঙ্গে তাঁর এ-মুখখানি হুবহু মিলে যায়।

    খানিকক্ষণ বাদেই হেমাঙ্গিনী দেবী স্বামীর রাত্রিভোজনের ব্যবস্থা করেন। ছোটো এক বাটি ঘন দুধ এবং ভেজা ন্যাকড়ায়-জড়ানো গোনাগুতি দুখানা মিহি ময়দার রুটি-এটুকুই তাঁর পক্ষে যথেষ্ট। খাওয়া সারা না-হতেই গোপাল নতুন করে গড়গড় সেজে রেখে যায়। হুঁকোয় মৃদু টান দিতে-দিতে চোখের পাতা ভারী হয়ে আসে। মশারি খাঁটিয়ে দিয়ে হেমাঙ্গিনী দেবী নিজের খাওয়াদাওয়া এবং সংসারের বাকি কাজটুকু সারতে নিচে চ’লে যান।

    এখন সকাল প্রায় ন টা। প্রসন্নকুমার যথারীতি রোগীবাড়ি ভিজিটে যাবার সাজ- পোশাক প’রে নিচে নামলেন। পায়রাদের ‘আয় আয়’ ডাকে, উঠোনে মুঠো-মুঠো ধান ছড়ালেন। পায়রারা দলে-দলে নেমে এসে দানা খেতে থাকে। তারপর, কাকাতুয়াটিকে কয়েকটি ভেজা ছোলা পরিবেশন করলেন।

    ‘বল হরে রাম, হরে কৃষ্ণ’ উচ্চারণ করবার সঙ্গে-সঙ্গে, সাদা পাখিটিও পাখা ঝাপ্‌টা দিতে-দিতে এই নামোচ্চারণ করে। পাশের খাঁচায় রাখা টিয়ে শাবকটির মুখের সামনে কাঁচা লঙ্কা তুলে ধরতেই, শাবকটি সেটিকে টেনে নিল। তার সামনে আরেকটি তুলে ধ’রে মুখে শিস্ দিতে থাকেন। প্রসন্নকুমারের মুখটি তাঁর নিজের নামের মহিমায় ভ’রে ওঠে। শিস্ দিতে দিতে তিনি বৈঠকখানার দিকে এগিয়ে যান।

    আমি এবং আমার অগ্রজ, সবেমাত্র পশ্চিমের বারান্দায় আমাদের জলখাবার নিয়ে বসেছি। এমনসময় বৈঠকখানা থেকে প্রচণ্ড এক চিৎকার আমাদের কানে ভেসে এল। আমরা দুই ভাই দৌড়ে সেখানে উপস্থিত হলাম। দেখি একটা জোয়ান ছেলে, তার হাত-পা মোটা দড়ি দিয়ে বাঁধা। কোমরে আরেকটি বাঁধ। ছেলেটির খালি গা। সকালের আলোয় তার ন্যাড়া মাথাটি একটি বড়ো কাঁচা বেলের মতো চক্‌চক্ করছে। রক্তঘন বিস্ফারিত চোখ। তার থেকে আগুন ঠিকরে পড়ছে যেন। তার কোমরের দড়িটিকে একটি লোক দু-হাতে টেনে রেখেছে। আর দুটি লোক তার হাত চেপে ধরেছে। লোকটি এই নাগপাশ থেকে মুক্ত হবার জন্যে আপ্রাণ চেষ্টা করছে। এই ধস্তাধস্তির ফলে তার চিকন কালো ঘর্মাক্ত শরীরের মাংসপেশীগুলো নেচে-নেচে উঠছে। সংসারের বিরুদ্ধে, ঈশ্বরের বিরুদ্ধে তার অভিযোগের সীমা নেই। সেই অভিযোগ তার ভারী কণ্ঠে, গালিগালাজের সংমিশ্রণে একটা প্রচণ্ড হট্টগোলের মতো শুনাচ্ছে। ইতিমধ্যে বৈঠকখানার বাইরে, দু-চারজন পথচারীরও ভিড় জমেছে। প্রসন্নকুমার শান্ত, অবিচলিত। হুঁকোটি নামিয়ে রেখে তিনি গোপালকে ডেকে পাঠালেন। ভেতর থেকে এক গেলাস জল এবং কিছু খাবার আনতে আদেশ করলেন। গোপাল ফিরে এলে তিনি নিজেই জল এবং খাবার যুবকটির মুখের সামনে ধরলেন। যুবকটি প্রসন্নকুমারের মুখের দিকে অপলক দৃষ্টিতে নিঃশব্দে তাকিয়ে রইল। তারপর তার মুখে, ভোরের আলোর মতোই ক্রমশ একটি হাসির রেখা ফুটে উঠল। প্রসন্নকুমার তার ঠোঁটে খাবার ছোঁয়াতেই যুবক সানন্দে তা মুখের মধ্যে টেনে নিল।

    প্রসন্নকুমার যুবকের সঙ্গীদের কাছ থেকে তার অসুস্থতার স্থিতিকাল এবং আরো খুঁটিনাটি জেনে নিয়ে নানারকম ওষুধের ব্যবস্থা করলেন-পাঁচন, বিশেষ ধরনের নস্যি, মাথা ঠাণ্ডা রাখবার জন্যে তেমনি বিশেষ ধরনের একটি পট্টি, আরো কত কী! সঙ্গীদের একটি কথা জোর দিয়ে বললেন, রোগী রাতে কোনো কারণেই উত্তেজিত না-হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে।

    এই ঘটনার মাস-তিনেক পরেকার কথা। আমি, আমার অগ্রজ প্রতিবেশী আরো দু-তিনটি ছেলে রোয়াকে ব’সে গপ্পোগুজব করছি। এমন সময় একটি স্বাস্থ্যবান্ এবং সুশ্রী যুবক আমাদের দরজার সামনে হাজির হ’ল। মাথায় একঝাঁক ঢেউ-খেলানো চুল। পরনে সাদা পাঞ্জাবি এবং আসমানী রঙের লুঙ্গি। মুখে সলজ্জ হাসি। হাতে একটি বাজারের থলি। বৈঠকখানায় ঢুকে প্রসন্নকুমারকে লক্ষ ক’রে তক্তপোশে মাথা ছোঁয়াল। ‘এটি আমাদেরই পুকুরের’–এই ব’লে থলের ভেতর থেকে একটি রুই মাছ বের ক’রে মেঝেতে রাখল। সেখানে রাখতেই মাছটা একটু ন’ড়ে-চড়ে উঠল সকালের আলোয় তার আঁশগুলো চুকি-বসানো একটি পোশাকের মতো ঝলমলিয়ে উঠল। নিজের পরিচয় এবং কঠিন ব্যাধি থেকে তার সম্পূর্ণ আরোগ্যলাভের কথা বলতেই প্রসন্নকুমার তাকে চিনে ফেললেন। একটি দীর্ঘনিশ্বাস ছেড়ে ডান হাতটি ওপরের দিকে তুলে বললেন, ‘সবই তার ইচ্ছে।’ যুবকটিকে দেখে কে বলবে এই সেই দড়িতে-বাঁধা লোকটি।

    এখন ভোরবেলা। পুবের একটি জানালা দিয়ে একফালি কমলা রঙের আলো আমার চোখেমুখে পড়তেই আমার ঘুম ভেঙে গেল। দেখি প্রসন্নকুমার আয়নার সামনে ব’সে চুলে-গোঁফে কলপ দিচ্ছেন। টিকেয় ফুঁ দিতে-দিতে গোপাল গড়-গড়া নিয়ে এল। তিনি গোপালকে বাকি জানালাগুলো খুলে দিতে বললেন। কলপ-দেয়া থামিয়ে তিনি আকাশের দিকে চোখ তুললেন। তাঁকে দেখে মনে হ’ল যে, তিনি জোরে শ্বাস টেনে, এই সকালের হাওয়ায়, কিসের একটা গন্ধ ধরবার চেষ্টা করছেন! গোপাল, বালতি ক’রে হাতমুখ ধোবার জল বারান্দায় রাখতেই তাকে বললেন, ‘দেখে আয় তো নেবু গাছটায় ফুল ফুটেছে কি না।’ একটু বাদেই গোপাল একটি ছোট্ট তাজা ফুল হাতে ক’রে ফিরল। চার পাপড়ির ফুলটির রঙ দুধের ফেনার মতো সাদা। তার কেন্দ্রস্থলে খুব হাল্কা বেগুনী রঙের আভাস। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘পূজোর আর ক’দিন বাকি আছে রে।’ ‘মাকে জিজ্ঞেস ক’রে আসি’, এই ব’লে গোপাল নিচে নেমে গেল।

    কলপ দেয়া শেষ করে প্রসন্নকুমার বৈঠকখানার দিকে এগিয়ে গেলেন। তাকিয়ায় ঠেস দিয়ে ব’সে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র, প্রফুল্লকুমারকে তলব করলেন। প্রফুল্লকুমারের বয়েস পঞ্চাশের ঊর্ধ্বে। চার কন্যা এবং দুটি পুত্রের পিতা। প্রসন্ন- কুমারের সামনে হাজির হয়ে মাথা নিচু ক’রে দাঁড়াতেই তাকে পুজোর আয়োজন করতে বললেন এবং এ-ও বললেন যে গত বৎসরের চাইতে এবারের উৎসব যেন আরো ধুমধাম ক’রে করা হয়। প্রফুল্লকুমার ‘যে আজ্ঞে’ ব’লে ভেতরে চ’লে গেলেন।

    শরতের পুবের আকাশটি তামার রঙে আঁকা একটি জলরঙের ছবির মতো দেখাচ্ছে। এমন-এক ভোরে বড়ো-বড়ো গয়নানৌকো ক’রে, প্রসন্নকুমারের নেতৃত্বে আমরা সবাই আমাদের গ্রামের জলপথে রওনা হই। সারি-সারি পালতোলা নৌকোগুলো উত্তুরে বাতাসে শাঁই-শাঁই করে এগিয়ে যায়। যেন কোনো অজানা অভিযানে। শহরের মুক্ত আকাশের তলায় জলে-ভাসার আনন্দ মনকে এক নতুন উচ্ছ্বাসে ভরিয়ে দেয়। বুড়িগঙ্গার ওপারের গ্রামের গাছগুলোর আবছা সবুজ-নীল রেখায় সীমানা টানা। কিছুক্ষণের মধ্যে নদী ছেড়ে আমাদের নৌকো খাল-বিলের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে যায়। কখনো-বা যায় জলে-ডোবা ধানক্ষেতের ভেতর দিয়ে। আরেকটু এগুতেই কচুরিপানায় ঢাকা জলপথে নৌকাগুলো ঘষা খেয়ে খস খস আওয়াজ করে। শরীর শিউরে ওঠে। তবু কেন জানি ভালো লাগে। মাদার, জাম, জিওল, জামরুল গাছের ফাঁকে-ফাঁকে সূর্য হঠাৎ-হঠাৎ চমকে ওঠে। একটা লম্বা খাল থেকে বেরিয়ে আবার জলে-ডোবা ধানক্ষেতে পড়তেই দূরে আমাদের পুকুর-পাড়ের গগনচুম্বী অর্জুন গাছটার চূড়া দেখা গেল। সমবেত কণ্ঠে সবাই ব’লে ওঠে, ‘এসে গেছি, এসে গেছি।’

    প্রসন্নকুমারের পরিচালনায় আমাদের পুজো-বাড়িটা উৎসবমূর্খর হয়ে উঠতে বিলম্ব হ’ল না।

    ঢাকার বোলের সঙ্গে, কাঁসরঘণ্টা শাঁখ আর উলুধ্বনিতে আমাদের বেলতলী গ্রামটা এক সামগ্রিক উত্তেজনায় মেতে উঠল।

    দিন শেষ হয়ে সন্ধ্যা নেমে আসে। লাঠি হাতে একটি পুরুষ এসে পুজো- মণ্ডপের মুখোমুখি রাখা একটি চেয়ারে বসলেন। আতরের একটি হাল্কা সুগন্ধ উঠে ধূপের গন্ধকে সুবাসিত ক’রে তুলল। তাঁর পরনে গিলে-করা আদ্দির পাঞ্জাবি আর কালো কুচোনো ধুতি। কোঁচাটি মাটিতে লুটিয়ে প’ড়ে জাপানী হাতপাখার মতো দেখাচ্ছে। পুরুষটি চেয়ারে ঈষৎ হেলান দিয়ে গড়গড়ার নলটি মুখের সামনে ধরলেন। চেহারায় এবং ব্যাক্তিত্বে এ-লোকটি এতই স্বতন্ত্র যে, সমবেত লোকদের জোড়া-জোড়া চোখ এই কেন্দ্রবিন্দুতে মিলিত হ’ল। তাদের মধ্যে কেউ-কেউ তাঁর সঙ্গে কথা বলার উদ্দেশ্যে এগিয়ে এল। ঢাকীরা পিঠে ঢাক বেঁধে নিল। তাদের হাত নিপিশ্ ক’রে ওঠে। পুরুতমশাই পঞ্চপ্রদীপ হাতে ক’রে দাঁড়িয়ে উঠতেই ঢাকের ঐকতানে এবং বোলে, বাহিরবাড়িটি একটি নাচঘরের মতো গগম্ করে উঠল একদিকে ঢাকীদের সঙ্গে ধুনুচি-নর্তকের বেদম প্রতিযোগিতা, অন্যদিকে প্রসন্নকুমারের নির্দেশে তুবড়ি, আতশবাজি, চরকি ইত্যাদির চমকপ্রদ প্ৰদৰ্শনী- সব মিলে বাদ্যকর, নর্তক, দর্শক, এক সাময়িক উন্মাদনায় ক্ষেপে ওঠে। কিছুক্ষণ পরেই প্রসন্নকুমার অন্দরমহলের দিকে এগিয়ে গেলেন।

    আজ মহাষ্টমী। পুজোমণ্ডপের সামনে গ্রামবাসীদের মন্তু জমায়েত! প্রসন্নকুমার বাহিরবাড়ির বারান্দায় চেয়ারে বসেছেন। পাশেই অনেক ধুতি এবং লুঙ্গি থাক ক’রে রাখা আছে। এ-উৎসবের দিনে তাঁর মিতব্যয়ী স্বভাব ছুটি নিয়ে, উদারতায়, হৃদয়ের একূল-ওকূল ছাপিয়ে যায়। হিন্দু-মুসলমান ভাগ-চাষী এবং প্রজারা তাঁর পায়ের ধুলো নেয়। তিনি সবার হাতে একটি ক’রে ধুতি কিংবা লুঙ্গি এবং পোড়ামাটির থালাবাসন তুলে দেন। কেউ-কেউ তাঁর কাছে অল্পবিস্তর অর্থসাহায্য পেয়েও ধন্য হয়। ছোটোখাটো জমিদারের ভূমিকা পালন ক’রে, প্রসন্নকুমার তাদের ভূরিভোজনে আপ্যায়িত করেন। সমবেত লোকেরা খুশি হয়ে ‘কর্তা’র স্তুতি গাইতে গাইতে বাড়ি ফিরে যায়।

    বিকেলবেলা। প্রসন্নকুমার তাঁর মাতৃদেবীর স্মৃতিমন্দিরটির পাশে এসে বসেছেন। সুমুখে একটি লম্বা খাল। দক্ষিণে একটি পুকুর। খালের ওধারে জলে আধাডোবা বিস্তৃত ধানক্ষেত। দুটি ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে একটি সরু নৌকা লগি ঠেলে শাঁই-শাঁই ক’রে এগিয়ে যায়। পুবের আকাশে শরতের মেঘ-মালার চূড়াগুলো অস্তগামী সূর্যের জাফরানী আলোয় তুষারশৃঙ্গের মতো ঝলমল করে। স্মৃতিমন্দিরের দক্ষিণে মাদার এবং জিওলের কয়েকটি ডাল পুকুরের জলে হেলে পড়েছে। ডালে এবং গুঁড়িতে কয়েকটি ডিঙি-নৌকো বাঁধা। এই নৌকোয় ক’রে আমাদের গ্রামবাসী ছাড়াও অন্য গ্রামের বাসিন্দারা তাদের অসুস্থ ছেলে-মেয়ে এবং আত্মীয়-অনাত্মীয়দের নিয়ে বিনামূল্যে প্রসন্নকুমারের চিকিৎসালাভের আশায়, উপস্থিত হয়েছে। পিলে- বের-করা ম্যালেরিয়া রোগী থেকে হাঁপানী, হৃদরোগ, আমাশা, ক্ষয়রোগ–কিছুই বাদ নেই। তিনি তাদের নানারকম ফল-মূল-পাতা-ছালের রস, কচি ডাবের কিংবা কাঁচা মুগ ডালের জল, আমলকীর মোরব্বা, পোড়া বেল, আরো কত-কী টোটকা যে খেতে বলেন, তার ইয়ত্তা নেই। দুরারোগ্য রোগীদের মধ্যে কেউ-কেউ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বাসনায় উপস্থিত। উপহার হিসাবে কারো হাতে একটি কি দুটি অতিকায় লাউ কিংবা কুমড়ো। কারো হাতে-বা এক কাঁদি কলা। উপকারী লোককেই তো সবাই আদর করে। প্রসন্নকুমারের আশ্বাসবাণীতে নিশ্চিন্ত বোধ ক’রে রোগীরা, একে-একে, তাঁর পায়ের ধুলো নিয়ে জলপথে ফিরে যায়।

    দিনান্তের রবি আমাদের বাড়ির শেষপ্রান্তের বাঁশঝোঁপের আড়ালে টুক্ ক’রে লুকিয়ে পড়ে। নানা বর্ণের রশ্মি-ক’টি এই ঝোঁপের ডগায় লেগে ময়ূরের পালকের মতো দেখায়। আলো-আঁধারের এক অপরূপ মায়ায় আমাদের বৃক্ষ-লতাপূর্ণ বেলতলী গ্রামটি ঘুমন্ত পরীর দেশের মতো এক গভীর রহস্যে ভ’রে ওঠে। প্রসন্নকুমার লাঠি ভর ক’রে উঠে দাঁড়ালেন। মাতৃমন্দিরের চৌকাঠে মাথা ছুঁইয়ে, ধীরে-ধীরে তিনি পশ্চিম-দালানের দিকে এগিয়ে যান। শরীরটি সামনের দিকে ঈষৎ ঝুঁকে পড়েছে। দূরে বিরাট জামরুল গাছের তলায় অন্ধকারে বৃদ্ধ সুপুরুষের মূর্তিটি ক্রমশ আবছা হয়ে মিলিয়ে যায়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসামবেদ সংহিতা (অনুবাদ : পরিতোষ ঠাকুর)
    Next Article আইন-ই-আকবরী ও আকবরের জীবনী – আবুল ফজল
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }