Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জিন্দাবাহার – পরিতোষ সেন

    পরিতোষ সেন এক পাতা গল্প172 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৬. আগুন

    সেদিন ছিল ঁবিজয়া দশমী। বিকেল না-হতেই আমাদের বেলতলী গ্রামের সব মেয়েরা, আমার বৌদি-বোনেরা, ভাইঝি-ভগ্নীরা-সবাই এসে জমা হয়েছে আমাদের পুজোমণ্ডপে, মা দুর্গাকে বরণ করতে। তাদের মধ্যে আমার মা-ও ছিলেন। অনেকেরই গায়ে চওড়া লালপেড়ে ধবধবে সাদা শাড়ি। পাড়ের পাশে চমকে জরির কাজ লালের বাহার যেন আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। নিচে সাদা-লালের খেলা বড়োই চমৎকার দেখাচ্ছিল। ওপরে সোনালী-হলদে রঙ মাখা অর্ধেক মুখ জুড়ে, শ্বেতপদ্মের পাপড়ির মতো, দেবীর ডাগর চোখের মণি যেন দুটি কালো কোহিনুর। আমার দৃষ্টি ওখানে যেতেই কয়েক মুহূর্তের জন্যে থেমে গেল। বৌদের কপালে লাল করমচার মতো মস্ত বড়ো-বড়ো তাজা লাল সিঁদূরের ফোঁটা। পায়ে তেমনই লাল আতা। পাড়টা দিয়ে মাথার খানিকটা ঢেকে মুখের দু-পাশ দিয়ে নামিয়ে দিয়েছে। চাবির গুচ্ছ বাঁধা আঁচল গলায় জড়িয়ে দেওয়ায়, পাড় মুখের বহি:রেখার সঙ্গে সেঁটে গিয়েছে। কুমারী মেয়েদের কালো জামরঙের মোলায়েম চুল পিঠের ওপর লুটিয়ে প’ড়ে কটিদেশের শ্রী আরো ফুটিয়ে তুলেছে। রঙবেরঙের জামা পরা কিশোরীদের ঘন কাজল দিয়ে ঘেরা চোখগুলো বরণের প্রদীপশিখার প্রক্ষিপ্ত আলোকে স্ফটিকের মতো ঝকঝক করছে, আর ঝকমক করছে বৌদের নাকের মুক্তাবসানো নথ্ আর ছোট্ট হীরেগুলো। বাঙালী স্ত্রী-কান্তির দুই অনুপম বৈশিষ্ট্য–লাবণ্য এবং কমনীয়তা-এ দুইই যেন ভরা কলসীর মতো পুজোমণ্ডপের মধ্যে উপচে পড়ছে। সব মিলে গোলাপসুন্দরীর রচয়িতা, কালীঘাটের দক্ষ পটুয়া নিবারণ ঘোষের আঁকা একটি মাস্টারপিস্। অন্যান্য মেয়েদের সঙ্গে আমার মা-ও ঠাকুর বরণ করছেন। ঢাক, কাঁসর-ঘণ্টা এবং উলুধ্বনিতে সমস্ত পুজোমণ্ডপটা ক্রমশই উৎসবমুখর চূড়ান্ত মুহূর্তের দিকে এগুচ্ছে। রুপোর-কৌটো থেকে অনেকটা সিঁদুর তুলে আমার মা-র তর্জনী দেবীর কপালের দিকে এগিয়ে গেল। ‘একী! বৈশাখী বিদ্যুতের মতো ঠাকুরের খাঁড়াটা হঠাৎ ঝিলিক মেরে উঠল কেন? চোখে ভুল দেখছি না তো! না, না! এ-সব অলুক্ষুণে কথা মনে আনতে নেই।’ এ-কথা ভেবে, কিংবা অন্য কোনো কারণেই হোক, ব্যাপারটা মা একেবারেই চেপে গেলেন।

    কোজাগরী পূর্ণিমার তিন-চারদিন পরে বাবা অসুস্থ হলেন। তেমন কিছু নয়। সাধারণ জ্বর। এভাবে আট-দশদিন কেটে গেল কিন্তু জ্বরের তেমন উপশম নেই। বাড়ির জ্যেষ্ঠদের, বিশেষ ক’রে আমার মেজোকাকা, বড়দা এবং মার চোখেমুখে একটা অব্যক্ত চিন্তার ভাব দেখা দিল। বিক্রমপুরে অজ পাড়াগাঁয়ে তখনকার দিনে কবিরাজি এবং অ্যালোপাথি চিকিৎসা যতটুকু সম্ভব ছিল, তাই করা হ’ল। বাড়ির আবহাওয়ায় কেমন যেন একটা থমথমে ভাব।

    ‘ওঠ, ওঠ, শিগির ওঠ, এক্ষুনি উঠে পড়!’ এই চিৎকারে এবং অসাধারণ একটা ঝাঁকুনি খেয়ে আমি বিছানায় ধড়ফড় ক’রে উঠে বসলাম। রাত হয়তো তখনো দুটো কি তিনটে হবে। আমার চোখ তখনো বেশ তন্দ্রাচ্ছন্ন। ঐ অবস্থায় দেখি ছোটদি সামনে দাঁড়িয়ে-চোখ লাল, টসে জ্বলের ফোঁটা চোখ থেকে গড়িয়ে দুই গালে সরু পাহাড়ী স্রোতের মতো লাইন কেটেছে। আমাদের হায়-হুঁতাশ ক’রে বললেন, ‘শিগির চলো, বাবাকে শেষ-দেখা দেখে নাও!’ এই ব’লে আমাকে এবং পিঠোপিঠি আমার তিন কিশোর ভাইবোনকে হাত ধ’রে–পশ্চিমের দালানে হড়হড় ক’রে টেনে নিয়ে এলেন। চারদিকে সাংঘাতিক কান্নার রোল উঠেছে। ঘর ভরতি লোকজন। আমি বিস্মিত, স্তম্ভিত এবং বিহ্বল। আমার চোখ খুব ধীরে-ধীরে ঘরের একপাশ থেকে আরেকপাশের দিকে যাচ্ছে। একটা জায়গায় থামতেই দেখি মা বাবার বুকের ওপর মাথা রেখে অসহায় একটি শিশুর মতো চিৎকার ক’রে কাঁদছেন। দেখেই আমার চোখে বন্যা এল। উপস্থিত সবাই কাঁদছে। ধবধবে সাদা চাদরে ঢাকা। সৌম্য, প্রশান্ত-মূর্তি। বেশ তো সুন্দর ঘুমিয়ে আছেন! এত কান্নাকাটি কিসের! পাশের ঘরে গিয়ে কখন যে আবার ঘুমিয়ে পড়েছিলাম টেরও পাইনি।

    ঘুম যখন ভাঙল তখন দেখি ঘরে আর কেউ নেই। আতঙ্কে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এলাম। পূবের আকাশে লাল মুলোর রঙ ধরেছে। মাকে খোঁজ করি। পূবের দালানের উঠোনে তাঁকে ঘিরে মেয়েরা কান্নাকাটি করছেন। কেউ-কেউ তাঁকে সান্ত্বনা দেবারও চেষ্টা করছেন। একটু এগোতেই দেখি পুজোমণ্ডপের দক্ষিণ ধারের পুকুরপাড়ে পুরুষদের ভিড়। হাল্কা নীলরঙের স্বচ্ছ একটা ধোঁয়া সবার মাথার ওপর দিয়ে উঠছে। সেটি পাকিয়ে-পাকিয়ে আকাশের রঙের সঙ্গে মিশে ধুতুরাফুলের কেন্দ্রের মতো বেগুনী রঙে রূপান্তরিত হচ্ছে। এক পা, দু-পা ক’রে এগুলাম। ভিড়ের মাঝখান দিয়ে উঁকিঝুঁকি মারতেই দেখি নিচে এবং ওপরে চেলাকাঠ দিয়ে বাবার দেহ ঢাকা। শুধু মুখটা বেরিয়ে আছে। মনে হ’ল কাঠে অল্পক্ষণ আগেই আগুন ধরানো হয়েছে। চিতার পাশে মস্ত বড়ো মাদার গাছটার একটা ডাল নেমে এসে বিলের গাঢ় সবুজ জলের সঙ্গে চুমোচুমি করছে। কয়েকটা ছোটো কচুরিপানা দলচ্যুত হয়ে, হাল্কা বাতাসে কাগজের নৌকোর মতো ভাসতে ভাসতে মাদারের ডালটায় ধাক্কা খেতেই বিহ্বল হয়ে কয়েক মুহূর্ত চুপ ক’রে দাঁড়িয়ে রইল। একটা ফড়িং তার ওপর বসতে যাবে আর-কি, ঠিক সেই মুহূর্তে একটু হাওয়া লাগতেই আবার আস্তে-আস্তে পাশ কাটিয়ে চ’লে গেল। একটু দূরে আমাদেরই দু-তিনটে ডিঙি নৌকো ঘাটে বাঁধা আছে। সদ্য আলকাতরা-মাখানো কালো নৌকাগুলো সবুজ জলে প্রতিবিম্বত হয়ে একদিকে সবুজের বৈভব যেমন বাড়িয়ে তুলেছে অন্যদিকে তেমনই তৈরি হয়েছে ঘনকালো রঙের কনভেক্স এবং ককেভের চমৎকার একটি নক্সা

    আগুন ঢেউ-খেলে-খেলে শুঁয়োপোকার মতো আস্তে-আস্তে চিতার ওপরের দিকে উঠছে। সামনে আগুনের জাফরানী লাল, আর তারই পেছনে পুকুরের জলের ঠাণ্ডা সবুজ। বাঃ! এ তো ভারী চমৎকার। এত সুন্দর রঙের খেলা এর আগে তো তেমন দেখিনি। এই পটভূমিকায় সমবেত লোকদের ছায়ার মতো কালো কৃশ দেহগুলো, আর তাদের কোমরে বাঁধা লাল গামছা-সব মিলে চমৎকার একটি ছবির মতো দেখাচ্ছে। হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে থেকে একটা চাপা সুরে কে ব’লে উঠল, বল হরি, হরি বল।’ ধোঁয়ার রঙ এবার নীল থেকে মোষের গায়ের ভুষোকালো রঙ ধরেছে। মাদার গাছটার পাতার আড়ালে, কোথাও কয়েকটা টিয়ে পাখি এতক্ষণ গা-ঢাকা দিয়েছিল। আতঙ্কে উড়ে গিয়ে দক্ষিণপাড়ার শিবমন্দিরটার চূড়ায় গিয়ে বসল। তাদের গলায় এবং বুকেও লাল রঙের ছোপ। আগুন ক্রমশই আরো প্রজ্বলিত হয়ে উপস্থিত সকলের মাথা ছাপিয়ে উঠছে। আগুন! আগুন তো এর আগে কতই দেখেছি–মোমবাতির আগুন, প্রদীপের আগুন, উনুনের আগুন, কর্পূরের আগুন, পাট-খড়ির আগুন, আরো কতরকমের আগুন। এ-সব আগুনই তো মানুষের কত উপকারে আসে। কিন্তু এ তো সে-রকম নয়। এর রঙ আলাদা, এর শব্দ আলাদা, এর গন্ধও একেবারেই স্বতন্ত্র। এর চেহারাটা কী সাংঘাতিক! এর চোখ কামারের কালো নেহাইয়ের ওপর গরম লোহার মতো টকটকে লাল। এর চোখের মণিও তেমনি সদ্য-বলি-দেয়া পাঁঠার মতো থকথকে গাঢ় লালের দুটি পান্না। আর তারই কেন্দ্রবিন্দুতে বোয়াল মাছের চোখের মতো দুটি সাদা হীরের ভেতর থেকে প্রচণ্ড তেজের আলোর রশ্মি-বড়ো-বড়ো রুপোলী আপিনের মতো ঠিকরে পড়েছে। থোকা-থোকা চুলগুলো লাল শরের মতো ওপরের দিকে ছুটছে। যেন কাশবনে আগুন লেগেছে। চোখের নিচটাই-বা কী বিশ্রী দেখতে। যেন পৃথিবীর যত মদোমাতালদের মেদ জমা হয়ে বেলুনের মতো ফুলে উঠেছে। তার হাঁ-করা মুখের ভেতরটাও ক্ষুধিত কাকপক্ষীশাবকের মতো। কুশ্রী একটা তাজা ক্ষতের রঙের বিশাল গহ্বর। সেই গহ্বর থেকে তার লক্‌ব্লকে জিভটা একটা লাল কীর্তিনাশা নদীর মতো তড়িৎবেগে নেমে এসেছে, নতুন ডাঙা খুঁজছে যেন। পেলেই তাকে মুহূর্তের মধ্যে চেটে সাফ্ ক’রে দেবে। মাঝে-মাঝে জিভটাকে সুড়ুৎ-সুড়ুৎ আওয়াজে গুটিয়ে নিয়ে যেই-না ভেতরে ঢোকাচ্ছে, তক্ষুনি সাদা ইস্পাতের তৈরি গিলোটিনের মতো তার দাঁতগুলো ঝড়ের বিদ্যুতের মতো ঝিলিক্ মেরে উঠছে। একেকটা দাঁতই যেন একেকটা পাটি। গাছপালা, পাহাড়পর্বত, মানুষজন, যা-ই সামনে পাবে, চিবিয়ে, গুঁড়িয়ে কিমার মতো কুচিয়ে দেবে। বহুশীর্ষ সাপের ফণার মতো আগুন নাসারন্ধের অন্ধকার গুহার ভেতর পাকিয়ে-পাকিয়ে বেরিয়ে এসে যেন হয়েছে তার বিরাট-একটা নয়, কয়েকটা-গোঁফজোড়া। শকুনির চোখের মতো গোল-গোল লাল পাথর বসানো দুই মাকড়ি কান থেকে ঝুলে কাঁধ পর্যন্ত নেমে এসেছে। ঐ চোখগুলো যেন পৃথিবীর সব মৃতদের খুঁজে বেড়াচ্ছে।

    ভিড়ের মধ্য থেকে কে-একজন একটা লাঠি দিয়ে আগুনটাকে খুঁচিয়ে দিল। আগুনও কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমিয়ে পড়ে না কি! তাকেও কি বর্শার ফলকের খোঁচা মেরে জাগিয়ে দিতে হয়। মাতালকে মাতাল বললে সে যেমন ক্ষেপে ওঠে, আগুনও তেমনি সাংঘাতিক রকম ক্ষেপে উঠল। তার সেই গিলোটিনের মতো দাঁতগুলো ঘ’ষে-ঘ’ষে এমন বিকট আওয়াজ বের করতে লাগল যে, তার স্পন্দনে সব-কিছু কেঁপে উঠল। আমার পায়ের তলার মাটিটাও। পাশেই বাহির-বাড়ি ঘরের থাটা দু- হাত দিয়ে ধ’রে ফেললাম। আমার ভীষণ ভয় করছে। কী ভয়ংকর এর চেহারা। এ কি সেই অগ্নি-যার ক্রোধের ঘনঘটার গভীর গর্জনে সমস্ত খাণ্ডব বন কেঁপে উঠেছিল? যার উত্তাপে হাজার-হাজার পশু ভয়ানক চিৎকারে ঊর্ধ্বশ্বাসে দিক্‌বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পালাতে গিয়ে–অর্ধদগ্ধ অবস্থায় এবং গলিত নয়নে বিশীর্ণ হয়ে গিয়েছিল? এ কি সেই হুতাশন যার ঘূর্ণিহাওয়ায় পালিয়ে-যাওয়া ঈগল, চিল, শকুনদের বিরাট ডানাগুলো দাউ-দাউ ক’রে জ্ব’লে উঠে, পাক খেতে-খেতে খান্ডবের অগ্নিকুণ্ডে পুড়ে ভস্ম হয়ে গিয়েছিল? এবং দুর্যোধন কি এই সর্বগ্রাসী আগুনকে মনে ক’রেই নিরপরাধ, সমাতৃক পাণ্ডবদের জতুগৃহে আগুন লাগিয়ে তাদের পুড়িয়ে মারবার মানস করেছিল?

    হঠাৎ বাবার মুখমণ্ডলের দিকে চোখ পড়তেই বুকের ভেতরটায় ধপাস ক’রে যেন একটা পাথর পড়ল। বাঘের মতো চেহারাটায় অমন ক’রে কে বিশ্রী কালো রঙ মাখিয়ে দিল? অত বড়ো ডাকসাইটে মুখটা এরই মধ্যে একটা পোড়া বেলের মতো কুঁকড়ে গেল কী ক’রে? না! না! এ-দৃশ্য আমি দেখতে পারছি না।

    ‘মৈনমগ্নে বিদহ মাভিশোচ মাস্য ত্ব চে
    চিক্ষিপো মা শরীরম্’…

    হে আগুন। তোমার পায়ে পড়ি। দোহাই তোমার! তুমি এই মৃত লোকটিকে একেবারে ছাই কোরো না। এঁকে কষ্ট দিয়ো না। এঁর চামড়া বা এঁর শরীর এমনভাবে ছিন্নভিন্ন করো না। আগুনের এই ভয়ংকর চেহারা তো দেখছি সেই নরকের আগুনের মতোই। যার ছবি দেখে একদিন ভীষণ ভয় পেয়েছিলাম। অনেক দুঃস্বপ্ন দেখে নিদ্রাহীন রাত কাটিয়েছিলাম। দেখেছিলাম সে-অগ্নিকুণ্ডের ওপর বিরাট টগবগে তেলের কড়াইয়ে-পৃথিবীর পাপীরা মুসুরির ডালের মতো সেদ্ধ হয়ে মুহূর্তের মধ্যে মিলিয়ে যাচ্ছে। সেই টগবগে আওয়াজ যেন আমি এখনো শুনতে পাচ্ছি।

    একটা মাটির মাল্সা থেকে বড়দা কয়েক হাতা ঘি চিতায় ছিটিয়ে দিলেন। সঙ্গে-সঙ্গেই আগুন একটা আহত হিংস্র বাঘের রূপ ধারণ করল। যেন দাঁতমুখ পট্- পট্-পটাশ। কাঠের আগুনের মধ্যেও কি বিস্ফোরক মেশানো আছে? এই শব্দের সঙ্গে-সঙ্গেই আগুনের স্ফুলিঙ্গগুলো ছুঁচোবাজির মতো চারদিকে ছুটছে। ভয়ে চিতার পাশের লোকেরা দু-হাত দিয়ে মুখ ঢাকল। পুকুরের দক্ষিণ দিকে কয়েকটা বড়ো আমগাছ ছিল। আগুনের এই ভয়ংকর মূর্তি দেখে, আর শব্দ শুনে সেখানকার দাঁড়কাকগুলো নিরাপত্তাহীন বোধ ক’রে, ক্রোয়য়াঃ, ক্রোয়য়াঃ, ক্রাঃ, ক্রাঃ চিৎকারে গাছগুলোর চারপাশ দিয়ে উড়ে বেড়াতে লাগল। যেন তাদের সমস্ত জ্ঞাতিগুষ্টিকে আসন্ন বিপদের সম্ভাবনায় সতর্কবাণী প্রচার করছে। ভয় পাবারই কথা। আবার সেই কানফাটানো আওয়াজ, বুম্‌-পট্-পট্-পটাশ। সেই আওয়াজ গাছের ডালে আর জলে ধাক্কা খেয়ে প্রতিধ্বনি করতে থাকল। আখের পাতার মতো লম্বা-লম্বা আগুনের শিখাগুলো একটু সামান্য হাওয়া লাগতেই কাত্ হয়ে, দোল খেয়ে, গাছগুলোকে লক্ষ ক’রে দক্ষিণের দিকে ছোটে। ক্রোয়াঃ, ক্রোয়াঃ, ক্রাঃ, ক্রাঃ! দেখতে-না-দেখতেই ছোটো কাক, শালিখ, চড়ুই, পানকৌড়ি, চিল, শকুন, শ্যামাপাখি-রাজ্যের যত পাখিরা আকাশে উড়তে আরম্ভ করল।

    ‘পর্বতপ্রমাণ অগ্নি ভয়ংকর দেখি।
    পিঞ্জর সহিত পোড়ে পোষনিয় পাখী।।
    শারীশুক্ কাকাতুয়া সারস সারসী।
    নানাজাতি বিহঙ্গ পুড়িল রাশি রাশি।।’

    ঠাকুরমার কাছে হনুমানের লঙ্কাদাহনের বীভৎস কাহিনী শুনেছিলাম। সে ভয়ংকর দাবানলে নাকি শতশত হাতি-ঘোড়া, ময়ূর-ময়ূরী, ময়না, টিয়েপাখি এবং আরো হাজার রকম রঙবেরঙের পাখি পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছিল।

    চিতার আগুন আরো লম্বা হয়ে, শাঁই-শাঁই ক’রে উঠে আমাদের গ্রামের এই নিরীহ পাখিগুলোর এই দশা করবে নাকি! হে ভগবান! দোহাই তোমার! ওদের যেন এ-সর্বনাশ না হয়! ভাবতেও আমার বুকের ভেতরটা বিলিতি ঢাকের মতো ঢুমটুম ক’রে বাজছে। আমি তাড়াতাড়ি বাহিরবাড়ির নিচু দাওয়ায় ধপ্ ক’রে ব’সে পড়লাম।

    বড়দা আবার বেশ-খানিকটা ঘৃতাহুতি করবার সঙ্গে-সঙ্গেই আগুন এক বিরাট কুণ্ডের রূপ ধরল। আগুন যেন এবার এক আগ্নেয় গিরির গহ্বর থেকে উঠছে। কুচকুচে কালো ধোঁয়ার-রেখায়-ঘেরা আগুনের রঙ এমনই লাল বৈভবে পরিপূর্ণ, এমনই তার জেল্লা যে, আমি আর তাকাতে না-পেরে দু-হাত দিয়ে চোখ ঢেকে হাঁটুর ওপর মাথা গুজলাম। কী অদ্ভুত! কী আশ্চর্য! চোখ বুজতেই স্পষ্ট দেখি ঘন অন্ধকারের গহ্বরের মধ্যে আগুনের সেই শিখাগুলো ঠাণ্ডা সবুজ রঙ ধরেছে। এ এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা! এর বিপরীতটাও কি তাহলে সম্ভব! কত ভোরের আলোতেই তো আমাদের পুকুরঘাটে ব’সে, তার উল্টোদিকে বৃষ্টিধোয়া তাজা সবুজ রঙের কলাবাগানটার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকেছি। চোখে পোকা কিংবা ধুলোর কণা ঢোকায় অকস্মাৎ কতবারই তো চোখ বুজেছি। কই! কখনো দেখিনি যে, কলাগাছগুলো আগুনের রঙ ধরেছে! এই লাল রঙটা আমার চোখের স্নায়ুগুলোর ওপর এক আজব প্রতিক্রিয়া ঘটায়। দীর্ঘ শিল্পীজীবনে রামধনুর সবচেয়ে শক্তিশালী এই বর্ণচ্ছটার সঙ্গে যখনই মোলাকাৎ হয়েছে তখনই চোখে অন্ধকার দেখেছি। তবুও তাকে আজ পর্যন্ত আমার প্যালেট থেকে মুছে ফেলতে পারিনি। এমনই সাংঘাতিক তার আকর্ষণ শক্তি।

    নেহাৎ ছোটোবেলায় আমাদের বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যেই, নিতান্ত আপনজনের চিতায় সেই-যে ভয়ংকর আগুন দেখলাম, তা সারা জীবনের মতো আমার শিল্পী মনের ওপর একটা গভীর ছাপ রেখে দিয়ে যায়। একবার এই আগুনের রঙে একটা একরঙা ছবি আঁকতে গিয়ে মাথার মধ্যে কী যে বিপর্যয় ঘটে গেল বুঝতে পারলাম না। মাথা ঘুরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলাম। সাধে কি এই রঙকে সাংঘাতিক সব বিপদ-আপদ, যুদ্ধ-ধ্বংস, বিদ্রোহ-বিপ্লবের প্রতীক মনে করা হয়? আমি যতদূর জানি, একালের আরো দু-জন চিত্রশিল্পী আগুনের ভয়ংকর সম্মোহনী শক্তিতে সম্পূর্ণরূপে অভিভূত হয়েছেন। একজন মেক্সিকোর রুফিনো তামায়ো এবং অন্যজন আমেরিকার বেন্ শান্– এ দুজনই আগুনের ভয়ংকর সব ছবি এঁকেছেন।

    রঙের রাজা তামায়ো-র আঁকা আগুনের ছবিগুলোতে লাল-সোমরসের লাল, পোড়া-ইটের লাল, শরতের বার্চ, ডগ্‌ উড্ আর মেপেল বৃক্ষের লাল, এমনই হরেকরকম লালের ব্যবহার দেখে শুধু শিল্পীদের এবং শিল্পরসিকদেরই নয়, একটি সরল অনভিজ্ঞ শিশুরও তাক লেগে যায়। বেন্ শানের ছবিতে শুধু আগুনের ভয়ংকর গম্ভীর রাজকীয় রুদ্রমূতি–তার মুখমণ্ডলে এমনই চোখ-ধাঁধানো সোনালী এক দীপ্তি যে, সিংহের কেশরের মতো অগ্নিশিখায় ঘেরা তার মুখ কালো কাঁচের ভেতর দিয়ে দেখতে হয়–যেমন করে দেখি আমরা গ্রহণের সময় সূর্যকে। আবার কখনো আগুন তাঁর ছবিতে এক বিরাট আদিম পশুর রূপ ধারণ করছে যার হাঁ-করা করাল বদনের লোল জিহ্বা পৃথিবীর সব জীবদের লাল রক্ত নিঃশেষে শুষে নিয়েছে- তার সেই লক্লকে জিভ, তার বিকট চোখ-মুখ-কান, হিংস্র ঠ্যাং-ল্যাজ–বস্তুত সমস্ত শরীরটাই প্রখর গ্রীষ্মের জলন্ত সূর্যের অন্তকালীন রঙ দিয়ে আঁকা, যেন তার শরীর শুধু কাঁচা মাংসের তৈরি, অনাবৃত, চর্মহীন। এমন-কি তার পায়ের নখগুলো পর্যন্ত বৃশ্চিকের বিষের থলির মতো লাল গরলে পূর্ণ। শুনেছি শৈশবে তাঁদের নিজেদের বাড়ির অগ্নিকাণ্ডে ধরা প’ড়ে যে সাংঘাতিক ভয় পেয়েছিলেন, এ-ছবি সেই নিদারুণ অভিজ্ঞতারই অসাধারণ অভিব্যক্তি। সে-ছবি রূপে যেমন ভয়ংকর, তেমনই সম্মোহনী।

    ছবির সুত্রে আরেকজন শিল্পীর কথা এ-প্রসঙ্গে মনে আসছে। আগুন মানে তো শুধু রূপ আর রঙ নয়, আগুন মানে আলোও বটে। ছবির বেলায় আলোর ভূমিকা একটা প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আলো যে কখনো-কখনো কত ভয়ংকর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, তা হঠাৎ যে কারো চোখে ধরা পড়তে পারে। সেদিন অন্তত আমার তা-ই মনে হয়েছিল। আমার কাছে আজও তা সমান সত্য। অনেকক্ষণ চোখ বুজে থাকার পর মাথা উঁচিয়ে মাদার গাছটার দিকে তাকতেই চোখ ঝলসে গেল। সুর্য গাছটার প্রায় মাথার ওপর এসেছ। তার রশ্মিগুলো সদ্য-ছাঁচে-ঢালা ইস্পাতের ছুঁচের মতো সোজা হয়ে সামনের পুকুরটাতে এসে ধাক্কা খেয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। পুকুরটাকে মনে হচ্ছে সূর্যের মুখোমুখি রাখা একটা বিরাট আরশি। তলা থেকে এই আলোতে আশেপাশের গাছগাছালির ডালপালাগুলো মুনিয়া পাখির বুকের পালকের মতো তামার রঙ ধরেছে। চিতার কাছের লোকজনদের নাকের ডগায়, থুনিতে এবং চিবুকের হাড়ে এই আলো লেগে মুখগুলো একেকটা জাপানী নৃত্যের মুখোশের মতো দেখাচ্ছে। সবার চোখ এই প্রক্ষিপ্ত আলোর ঝলকানিতে এমনই সংকুচিত হয়ে গেছে যে, মনে হচ্ছে চোখ নয় তো যেন নরকঙ্কালের দুটি কালো গর্ত। নিচে থেকে প্রক্ষিপ্ত এই নাটকীয় আলোতে কোন্ মানুষের চেহারাই-না বিকৃত এবং ভয়ংকর দেখায়! বহুদিন পরে একজন য়ুরোপীয় শিল্পীর কাজ দেখে, আবার চিতার পাশে দেখা সেই বিকৃত মুখোশের মতো মুখগুলোর কথা আমার মনে পড়ে গিয়েছিল। বিখ্যাত স্প্যানিশ শিল্পী গোহয়া’র বিদ্রোহ সংক্রান্ত ছবিগুলোর কথা বলছি আমি। তাঁর ওই ছবিগুলোতে তিনি এমনই বিচ্ছুরিত আলোর আশ্চর্য ব্যবহার করেছেন।

    ঠিকরে-পড়া আলো আর সরাসরি আলোর মধ্যে বিপুল পার্থক্য আছে–দু-রকম আলো দর্শকের মনে দু-রকম প্রতিক্রিয়া জাগায়। দান্তের লেখা ‘দি ডিভাইন কমেডি’ নামক মহাকাব্যে পরমসত্তাকে বর্ননা করা হয়েছে সরাসরি চোখ-ধাঁধানো আলো রূপে, মহাজ্যোতিই হ’ল সর্বোচ্চ দিব্যতার স্বরূপ, যার সামনে মহাকবি আপনিই অন্ধ হয়ে গেছেন। কোন্ মানুষ তার চোখ খুলে থাকতে পারে একাধিক সূর্যের দিকে?

    ‘And suddenly, as it appeared to me
    day was added to day, as if He who can
    had added a new sun to Heaven’s glory.‘

    আশ্চর্যের বিষয় এই যে, দান্তে যে-রকম অদ্ভূত অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, আমাদের দেশের মহাসাধক ঠাকুর রামকৃষ্ণের বেলাতেও তেমনই অভিজ্ঞতার কথা পাই। মহামায়ার কৃপায় একদিন ঠাকুর দেখলেন, ঘরের কোণের ছোট্ট প্রদীপের আলোটি ধীরে-ধীরে প্রদীপ্ত থেকে আরো প্রদীপ্ত হয়ে সমস্ত বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডকে উদ্‌ভাসিত ক’রে তুলল। সেই আশ্চর্য আলো তাঁর অন্তরে প্রবেশ ক’রে সমাধি অবস্থায়, এক দিব্য জ্যোতির মতো তাঁর দেহ থেকে চারদিকে বিচ্ছুরিত হতে লাগল। সেই জ্যোতি কি আগুন ছিল না আলো ছিল? না বৈশাখী জড়ের বিদ্যুৎ! এই অবস্থাতেই তো শ্রীমান নরেনের বুকে পা ছোঁয়াতেই প্রিয় শিস্যর সমস্ত চৈতন্য চকিতে লুপ্ত হ’ল।

    শ্রীনরেন্দ্রনাথ দত্ত তখনো স্বামী বিবেকানন্দ হননি, তখনো তিনি দিগ্বিজয়ী হননি। কিন্তু দিগ্বিজয়ী বীর অর্জুনও যে শ্রীকৃষ্ণের স্বরূপ দেখে, ক্ষণিকের জন্যে সম্পূর্ণ বিহ্বল হয়ে গিয়েছিলেন সে কথা আমরা মহাভারতে পাই। তখন কী ছিল কৃষ্ণের স্বরূপ? কী দেখে অন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়ে অর্জুন আর্তনাদ ক’রে উঠেছিলেন,

    ‘তব ইদম্ উগ্রম্ অদ্ভুত রূপং দ্রষ্টা
    লোকত্ৰয়ং প্রব্যথিতম্।’

    কৃষ্ণের সেই ভয়ংকর রূপ দেখে শুধু অর্জুনের চোখই ঝলসে যায়নি, স্বর্গ-মর্ত- রসাতল–এ তিন লোকই সাংঘাতিক বিচলিত ও সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিল। ভক্তের দুর্দশা দেখে ভগবান, স্বয়ং তক্ষুনি তাঁর পরমভক্তকে দিব্যদৃষ্টি দিয়েছিলেন। তবু ভীষণ সাংঘাতিক সব বিকটদংষ্ট্রা দ্বারা বিকৃত, প্রলয়ের আগুনের মতো জ্বলন্ত, ভগবান কৃ ষ্ণের মুখমণ্ডল দেখে অর্জুন নাকি এতই আতঙ্কিত হয়েছিলেন যে, তাঁর দিগ্‌বিভ্রম হতে লাগল। কিছুতেই স্থির থাকতে পারছিলেন না, সহ্য করতে পারচিলেন না। ব্যাকুল হয়ে তিনি দেবেশকে তাঁর সেই ভয়ংকর রূপ সংবরণ করতে মিনতি জানালেন। অমনই জগদাধর ফিরে এলেন স্বাভাবিক রূপে। কিন্তু কেই-বা আমার ঠাকুর রামকৃষ্ণ, কেই-বা আমার ভগবান শ্রীকৃষ্ণ! কেনই-বা আগুনের এই ভীষণ রূপ প্রকটিত হ’ল। আর কেই-বা করল। কার কাছে আমি মিনতি ক’রে কাঁদব, আমাকে রক্ষে করো। শুধুই কি ভীষণ রূপ? তার সঙ্গে বিচিত্র শক্তি নয়? বিচিত্র শিল্পী নয়? বিচিত্র অস্ফুট মর্মর আর তার হঠাৎ বিস্ফোরণে কোনো দুর্বোধ্য সম্মোহনী মন্ত্রের মতো এক বিচিত্র ধ্বনির আবর্তন নয়?

    ভিড়ের ভেতর থেকে কালো, রোগাপটকা, উস্কোখুস্কো চুলওয়ালা সদাকাকা এগিয়ে এসে বাঁশের লাঠি দিয়ে খুঁচিয়ে দিলেন আগুনটাকে। মাল্সার থেকে আরো খানিকটা ঘি বড়দা আবার ছিটিয়ে দিলেন। অমনি আগুন অজস্র রক্ত পিপাসু ধারালো বাঁকা তলোয়ারের মতো শাঁই-শাঁই ক’রে উঠে মাদার গাছটার মগডালটা জ্বালিযে দিতে চাইল। গাছের নিচের ডালপালাগুলোর ছাল ফেটে প্রায় অঙ্গারের রূপ ধরেছে। আবার জায়গায় জায়গায় ভরা-গ্রীষ্মের পিচের রাস্তার মতো ফোস্কা পড়েছে। ঝলসানো খয়েরি রঙের পাতাগুলোর ভেতরকার সুক্ষ্ম শিরা-উপশিরাগুলো নিপুণ হাতের তৈরি লেস্ বা জালিকাজের মতো দেখাচ্ছে। পাতার ভরাট সবুজের আড়ালে যে এত অপূর্ব জঠিল কারুকার্য লুকিয়ে থাকে, কে জানত। একটি অতি সাধারণ, অতি নগণ্য গাছের পাতায়ও যে উঁচু-দরের দক্ষ স্বর্ণকারের এত অসাধারণ কারিগরি থাকে–তা দেখে আমি যতই বিস্মিত, ততই রোমাঞ্চিত হয়েছিলাম যেমন হয়েছিলেন অর্জুন শ্রীকৃষ্ণের বিশ্বরূপ দেখে। প্রাপ্তবয়সে, এ-যুগের মহান শিল্পী Paul Klee-র জীবনীতে পড়েছিলাম যে উনি শুকনো পাতার ভেতরকার এই জটিল কাঠামো, অতি সযত্নে, দুটি কাঁচের মধ্যে সংরক্ষণ ক’রে রেখেছিলেন। প্রকৃতির এই আশ্চর্য সৃষ্টির নিদর্শনে মোহিত হয়ে তিনি এ-ধরনের–অর্থাৎ সুক্ষ্ম রেখার জালভিত্তিক কয়েকটি অত্যন্ত মৌলিক ছবিও আঁকেন।

    আমাদের কাঠুরে কার্তিকচাঁদ আর আমাদের ভুঁইমালী–এ-দু-জন মিলে বেশ কয়েকখানা বড়ো সাইজের চেলাকাঠ চিতার আগুনের ফাঁক-ফাঁকে গুঁজে দিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘন কালো ধোঁয়া শোঁ-শোঁ ক’রে পাকিয়ে উঠে গাছপালা, আকাশবাতাস আচ্ছন্ন ক’রে দিল। চাটুর তলায় ভুসার মতো কালো এই ধোঁয়ার মাঝে-মাঝে আগুনের ছোটো ফুল্কিগুলো অমাবস্যা রাত্রির তারার মতো ঝম করছে। তারই ফাঁক দিয়ে মাঝে-মাঝে হেমন্তের স্বচ্ছ নীল আকাশ গোলগোল নীল কাঁচের মতো উঁকিঝুঁকি মারছে… “বল হরি, হরি বল।

    সদাকাকা, আর বোধ করি তুরতুরাদা দুটো বাঁশ দিয়ে চিতার আগুনকে বেশ ক’রে খুঁচিয়ে দিল। ঝিমিয়ে-পড়া পোষা সাপ যেমন সাপুড়ের খোঁচা খেয়ে ফণা তলে, ল্যাজে ভর ক’রে দাঁড়িয়ে ওঠে, আর ফোঁস ফোঁস আওয়াজে সাপুড়েকে ছোবল মারতে উদ্যত হয়, আগুনও তেমনি শত-শত তুবড়িবাজির মতো হুশ্-হুঁশ্ ক’রে ওপরের দিকে উঠে, বিদ্যুৎবেগে তার মাথা ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল। কী হিংস্র তার চেহারা! বিশটা নরখাদক বাঘও এর সামনে কিছু নয়। আমার ভেতরটা একটা অজানা আসন্ন আশঙ্কায় ধক্ করতে থাকল।

    বড়দা মাল্সাটাকে উপুড় ক’রে অবশিষ্ট সব ঘিটুকুই চিতায় ঢেলে দিলেন। আগুন এবার দাপিয়ে উঠে তার চূড়ান্ত রূপ ধারণ করল। কী সাংঘাতিক। কী ভয়ংকর, কী সর্বনাশা, কী সর্বগ্রাসী তার চেহারা। তার জোড়া-জোড়া চোখ যেন ফুটন্ত লোহার বৈকাল হৃদ। তার মাথার চারপাশের থোকা থোকা কেশরগুলো বিরাট লাল লঙ্কার মতো বাঁকিয়ে উঠেছে। যেন একটা অতিকায় দানব শত-শত মশাল হাতে ক’রে উন্মাদ বক্ররেখার ভঙ্গিতে নাচছে। কী আবোল-তাবোল তার ছন্দ! কী আবোল-তাবোল তার লয়! প্রকৃতির সৃষ্টির মধ্যে এমন-কিছু কি আর আছে যা সামান্য হাওয়ার ছোঁয়াচেই এত মাতামাতি, পাগলামি করে! এ তো ভীম ভৈরবের নাচ! তিব্বতি-তনাকায় বজ্রপাণির চতুর্দিকের সহস্র শিখার আগুনও এর কাছে অতি নগণ্য, অতি তুচ্ছ। তার হাঁ-করা মুখের গহ্বর থেকে এবার-একটা নয়, সাত- সাতটা-আনাভিলম্বিত লক্‌লকে জিভ যেন রক্তের সাতটা পাহাড়ী প্রস্রবণ। তার ভয়ংকর মুখমণ্ডল –চুল থেকে নিয়ে জিভের ডগা পর্যন্ত–সবটাই যেন পৃথিবীর তাবৎ লাল রঙের মিলনক্ষেত্র। রক্তজবার লাল, রক্তকরবীর লাল, পলাশের লাল, শিমুল ফুলের লাল, কৃষ্ণচূড়ার লাল, রঙ্গনের লাল, রডোডেনড্রনের লাল, বকুল-বটফল- লিচুর লাল, শীতের বাদাম পাতার লল, তরমুজের লাল, আবির-আলতার লাল, স্বর্ণসিন্দুর মকরধ্বজের লাল, মোরগের ঝুঁটির লাল, টিয়েপাখির ঠোঁটের লাল-আরো যে কতরকমের লাল, তার হিসেব কে করে! পৃথিবীর সব ইস্পাত কারখানার ফার্নেসের পুঞ্জিত উত্তাপে যেন লালের নির্যাস তৈরি হচ্ছে। আমার পলক পড়ছে না। আমি স্বপ্নাবিষ্ট, অর্ধ-অচৈতন্য।

    আগুন যেমনই ভয়ংকর থেকে ভয়ংকরতর হতে লাগল, তেমনি আকারেও বৃহত্তর হতে থাকল। খুব ছোটোবেলায়, রূপকথার গল্পে, এক আদিম দৈত্যের কথা পড়েছিলাম। সেই দানব তার প্রতিটি নিশ্বাসের সঙ্গে একটা গ্যাসভর্তি বেলুনের মতো ফুলে-ফুলে উঠে সমস্ত বায়ুমণ্ডলকে ছেয়ে ফেলল। এই আগুনও তেমনি তার নিশ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে বাড়তে-বাড়তে লাফাতে-লাফাতে আমাদের গ্রামের সব গাছগুলোতে সব কুড়েঘরের চালার খড়কুটোতে ছড়িয়ে পড়বে নকি? কী সর্বনাশ! তাহলে কী হবে? ভাবতেও আমার মেরুদণ্ড সিরসির করছে। আমার কপালে জলবসন্তের গুটির মতো অসংখ্য ফোঁটার ঘাম জমছে।

    কিছুদিন আগে আফ্রিকার জন্তু-জানোয়ারের একটা সিনেমা দেখেছিলাম। দেখে যেমন আমার পঞ্চেন্দ্রিয়তে রোমাঞ্চের তরঙ্গ উঠেছিল তেমনি বয়েছিল আতঙ্কেরও। একটা ক্ষুধার্ত সিংহ একদল জেব্রাকে তাড়া করছে। জেব্রাগুলো স্বভাবতই সিংহের কবল থেকে নিজেদের রক্ষে করবার উদ্দেশ্যে মরি-কি-বাঁচি ক’রে ছুটে পালাচ্ছে। দলের মধ্যে সবচেয়ে শেষের জেব্রাটি পেছন-পানে তাকিয়ে, সিংহটা কতটা দূরে আছে দেখতে যাবে আর-কী, ব্যাস্! তার সঙ্গে একেবারে চোখাচোখি হয়ে গেল। মুহূর্তের মধ্যে সাদা-কালো ডোরাকাটা জন্তুটা যেখানে ছিল সেখানেই জ’মে গেল । বাপরে বাপ্! পশুরাজের চোখের কী সাংঘাতিক মোহিনী শক্তি। কী লোলুপ দৃষ্টি তার। আমার আতঙ্কিত বুকের ভেতরটা রেলগাড়ির চাকার মতো ধক্-ধক্ করতে লাগল। আমার নিশ্বাস দ্রুততর হতে থাকল। আমার চোখ বিস্ফারিত, স্থির, ইস্কুপ দিয়ে কেউ আটকে দিয়েছে। আগুনের সঙ্গে আমারও যে চোখাচোখি হ’ল। কী আক্রমণাত্মক তার চেহারা! আফ্রিকার এই নিরীহ জেব্রাটার মতো আমাকেও কি আগুন তার উদরে পুরে দেবে নাকি? হে অগ্নিশ্রেষ্ঠ হে হুতাশন, হে দীপ্তিমান অগ্নি, হে জ্যোতির্ময় অগ্নি, হে সৰ্বদৰ্শী অগ্নি, হে পাপনাশক অগ্নি, হে সৰ্বভূতজ্ঞ অগ্নি, হে শুভ্রদীপ্ত, হে বৈশ্বানর, হে অঙ্গিরাশ্রেষ্ঠ, হে শত্রুহন্তা, হে প্রজ্ঞাবান্। আমি জানি তুমি প্রবৃদ্ধ, তুমি অভীষ্ট ফলসাধক, তুমি সত্যভূত। তুমি যজ্ঞের মহান্ নেতা। তুমি তোমার যজমানদের কত অভিলষিত ধন দান কর, পুত্র-পৌত্রাদি দাও। তুমি ক্রতুর ন্যায় উপকারী। আমি! আমি!… আমি তোমার যজ্ঞের বেদী তৈরি করব। তোমাকে কুশের আসনে উপবেশন করাব । আমি তোমাকে প্রতিদিন তিনবার হব্য দান করব। তুমি সকলের ধারক, তুমিই মনুষ্যলোকের পালনকর্তা। তুমি এই অসহায় নাবালকের সব দোষ ক্ষমা করো। আমার অসহ্য জালা-যন্ত্রণা, আমার সকল দাহ জুড়িয়ে দাও । আমাকে আমার মা-র কাছে ফিরে যেতে দাও।

    ভয়ে আমার অন্তরাত্মা শুকিয়ে যাচ্ছে। না, না! আমি পালাই। আমি পালাই। কিন্তু আমার পা নড়ছে না কেন? আমার পায়ে যেন জগদ্দল নেমেছে। আমার পা অসাড়। আমার পা বটগাছের শেকড়ের মতো পাতালে প্রবেশ করেছে। আমার হাতও মনে হচ্ছে যেন আস্তে-আস্তে শিথিল হয়ে আসছে আমি তাড়াতাড়ি দু-হাতে আমার সর্বশক্তি দিয়ে পা-দুটোকে টানছি। কিন্তু কিছুতেই এতটুকুও নড়াতে পারছি না। আমার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। বড়দা, সদাকাকা, হীরাদা, ধনদা, তুরতুরাদা, খোকাদা, চিনিদা, কার্তিকচাঁদ, ভূঁইমালী এবং সমস্ত শ্মশানবন্ধুরা, আর অতি নিকট আমাদের পোষা কুকুর ভোলা-এদের সবাইকে কি এই সর্বনাশা আগুন গ্রাস ক’রে ফেলবে? আর আমি! আমার দিকেই তো আগুনটা কখন থেকে একদৃষ্টিতে চেয়ে আছে। আমার দিকেই তো ভ্রুকুটি ক’রে, দাঁত কড়মড় ক’রে–এগিয়ে আসছে। আমি ঝড়ের রাতের কিশলয়ের মতো কাঁপছি। না, না! যেমন ক’রেই হোক এই আসন্ন বিপদ থেকে পালিয়ে আমাকে বাঁচতেই হবে। যেমন ক’রেই হোক আমাকে আমার মা-র কাছে ফিরে যেতেই হবে। আমার স্নায়ুকেন্দ্র ঝিঁঝিন্ করছে। আমি নিরুপায়! মাগো, তুমি কোথায়? কিন্তু গলা দিয়ে যে একটুও আওয়াজ বেরুচ্ছে না। আমার বুকের ভেতরটা কে যেন দুড়ে-মুচড়ে থেঁতলে দিচ্ছে। আমি পালাই আমি পালাই। উঃ… আমি … পা … লা… ই…।

    হঠাৎ দূর থেকে মা-র কান্নার ক্লান্ত করুণ সুর কানে ভেসে এল। এ তো কান্না নয়। এতো অভয়বাণী! এই সুরে আমার মনের ময়ূর নেচে উঠল। আমি মুক্তির আভাস পেলাম। মা, মা! আমি আসছি। আমি … এই… এলাম!

    একপাশে দশমাসের ছোট্ট শিশুভাই। আরেকপাশে মা-র কোলে আমার মাথা। “আমার শরীর অবসন্ন। আমার ভীত, রক্তাক্ত, দাহ্যমান বুকের ভেতরটার সব স্ফুলিঙ্গ নিভে গেছে। সব অন্ধকার দূর হয়ে গিয়ে জ্যোৎস্নার আলো প্রবেশ করেছে। মার চোখের টাকা গরম কয়েক ফোঁটা জল আমার মুখের ওপর পড়ল। সে তো অশ্রু নয়, মরুভূমির বুকে আষাঢ়ের প্রথম বারিধারা। এক হাতে তাঁর ডানদিকের স্তনকে শিশু ভাইয়ের মুখে ধরে আছেন। অন্য হাতে আমার কপালে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। আঃ! কী ঠাণ্ডা! আঃ! কী আরাম!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসামবেদ সংহিতা (অনুবাদ : পরিতোষ ঠাকুর)
    Next Article আইন-ই-আকবরী ও আকবরের জীবনী – আবুল ফজল
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }