Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জীবনে-সমাজে-সাহিত্যে – আহমদ শরীফ

    আহমদ শরীফ লেখক এক পাতা গল্প243 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    পূর্বপুরুষ : উত্তরাধিকার ও ঐতিহ্য

    ০১.

    নির্বোধ যখন বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে ব্যস্ত হয়ে ওঠে, ঘরে-সংসারে তখনই যথার্থ বিপদ নেমে আসে, ক্ষতির ঝুঁকি তখনই বেড়ে যায়। নির্বোধের কোনো স্বকীয় অভিজ্ঞতা থাকে না। পরের জ্ঞানে সে জ্ঞানী, পরের মুখে শোনা যুক্তিপ্রয়োগে সে তার্কিক।

    মানুষের সমাজে প্রগতির বড় বাধা এই নির্বোধেরাই। তারা অবশ্য বৈষয়িক ব্যাপারে নির্বোধ নয়। বলতে গেলে তাদের অর্জিত বিদ্যা, বুদ্ধি, জ্ঞান, উদ্যম সবকিছুই তারা তাদের বৈষয়িক জীবনের নিরাপত্তা ও প্রসারের জন্যে নিয়োজিত করে। তাই তারা সমাজ–ধর্ম-রাষ্ট্রবিজ্ঞান-দর্শন প্রভৃতির তত্ত্বচিন্তার ভার কয়েকজনের উপরেই ছেড়ে দেয়। এবং নিজেদের পছন্দমতো কারো ভাব চিন্তা ও যুক্তি-বুদ্ধির প্রতি আনুগত্য রেখে দিব্যি সুখে জীবন কাটায়। কিন্তু তাদের সমর্থিত চিন্তা ও চিন্তানায়কদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী চিন্তা ও চিন্তানায়কদের মত-পথের দ্বন্দ্ব-সংঘাত শুরু হলে কাক শেয়ালের মতো স্ব স্ব নায়কের পক্ষে হৈ চৈ, মারামারি কিংবা প্রয়োজনমতো হানাহানি শুরু করে দেয়। জীবনের অন্যক্ষেত্রে যতই তাদের দায়িত্ববোধ কিংবা কর্তব্যবুদ্ধির অভাব থাক, এ ক্ষেত্রে তাদের সতর্কতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও সঙ্প্রীতি নির্ভেজাল। এভাবে তারা হযরত মুসা-ঈসা-মুহম্মদ প্রমুখ অনেককেই লাঞ্ছিত, বিতাড়িত ও হত্যা করেছে।

    .

    ০২.

    তাঁদের বিশ্বাস, যুক্তি ও নীতি একটিই।

    আমাদের পূর্বপুরুষ আমাদের ভাবনা ভেবে রেখেছেন। আমাদের তারা ধর্ম দিয়েছেন, আদর্শ দিয়েছেন, রীতি দিয়েছেন, নীতি শিখিয়েছেন, আচার জানিয়েছেন, আচরণ বাতলিয়েছেন, খাদ্যতালিকা দিয়েছেন, পোশাকের আদল দিয়েছেন, হাসি-কাসি-হাই তত্ত্ব রেখে গেছেন, দিন-ক্ষণ মাস-রাশি-নক্ষত্র জানিয়েছেন। আকাশ ও পৃথিবীর তথ্য, ইহ-পরকাল তত্ত্ব পাপ-পুণ্য ও স্বর্গ-নরক চিত্র –এর কোন্‌টি আমাদের আর জানতে বাকি আছে! এতে দর্শন-বিজ্ঞানের কোন্ তত্ত্ব নেই! কী তাঁরা দিয়ে জাননি যে আমরা নতুন করে খুঁজে খুঁজে খেটে খেটে হয়রান হব!

    যারা পূর্বপুরুষের গড়া জীবন-ছাঁচ অবহেলা করে তারা পামর। এ সম্পদ, এ রিথ যারা অগ্রাহ্য করে তারা জাহিল। যারা বিদ্রূপ করে তারা নাস্তিক, যারা বিদ্রোহ করে তারা অভিশপ্ত শয়তান। কেননা পুরোনো কালেই বিধাতা নিজে এসে তার নির্বাচিত প্রিয়জনদের পাঠিয়ে শিশু ও পশু মানুষকে জীবনের যা কিছু জ্ঞাতব্য, যা কিছু কর্তব্য, যা কিছু প্রয়োজনীয়, তা শিখিয়ে পড়িয়ে বুঝিয়ে জানিয়ে দিয়েছেন। সেসব ত্রিকালজ্ঞ নবী-ঋষির মতো জ্ঞান-প্রজ্ঞা-বুদ্ধিসম্পন্ন লোক পৃথিবীতে কখনো হয়নি, কখনো হবে না। কারণ তাঁরা ছিলেন বিশেষ উদ্দেশ্যে তৈরি বিশেষ মানুষ– লোক-শিক্ষক।

    অতএব আমাদের কর্তব্য প্রদত্ত জ্ঞান আয়ত্ত করা, বিধি-নিষেধ মেনে চলা, তাঁদের প্রদর্শিত জীবন-পদ্ধতি অনুসরণকরা আর নিশ্চিন্তে জীবিকা অর্জনে মনোযোগ দেয়া। আহা তাঁদের দানের তুলনা নেই? আমাদের কাজ কেবল কৃতজ্ঞ ও অনুগত থাকা। নিতান্ত জাহিল অর্বাচীন না হলে কি কেউ এমন নিশ্চিন্ত নীড় ভাঙে, এমন সুখের জীবন পায়ে ঠেলে!

    .

    ০৩.

    অপরপক্ষের কথায় তারা কান দেয় না। কারণ তারা বিশ্বাস ও বিস্ময়কে জীবন-যাত্রার পাথেয় করেছে। বিধির ও ভগবানের অর্থাৎ নিয়ম-নীতি ও নিয়ন্তার অনুগত হলে বিবেক থাকে অবহেলিত। নিজেরা চিন্তা করে না, কাজেই নতুন যুক্তি খুঁজে পায় না, তাই নতুন জীবন-দৃষ্টিও লাভ করে না। বিশ্বাসে ও শ্রদ্ধায় তারা অভিভূত। তাদের দৃষ্টি আচ্ছন্ন। তাদের মন ভয়-ভরসায় বিমূঢ়। নইলে তারা ভোলা চোখেই দেখতে পেত বিধাতার বরপুষ্ট মানুষ যা ভাবতে-খুঁজতে বুঝতে-করতে পারেননি, আজকের জ্ঞানী-বিজ্ঞানী-মনীষীরা তা পেরেছেন। জ্ঞান-বিজ্ঞান-ইতিহাস দর্শন কিংবা অভিজ্ঞতা ও জীবনের ক্ষেত্রে সেদিন যা ছিল অভাবিত ও অসম্ভব, আজ তা মানুষের আয়ত্তে। আজকের মানুষের এত বড় সর্বাত্মক সাফল্য দেখেও যারা প্রাচীন নবী-ঋষির তুলনায় আজকের জ্ঞানী-মনীষীকে তত্ত্ব ও তথ্যের ক্ষেত্রে নির্বোধ-নির্জন ভাবতে পারে তাদের অন্ধতা ঘুচবার নয়।

    আশ্চর্য, ছোটখাটো ব্যাপারেও তারা প্রশ্নহীন। পূর্বপুরুষের নির্ধারিত খাদ্যতালিকাও আমাদের রদবদলের অধিকার নেই। হালাল আর কখনো হারাম হবে না, হারামও হতে পারে না হালাল। পোশাকের পরিবর্তনও দূষণীয়। পৈত্রিক শত্রুকেও বন্ধু করা চলবে না। চন্দ্র-সূর্য-পৃথিবী, কান্তার মরু-পর্বত-সমুদ্র সম্বন্ধেও আমাদের তাত্ত্বিকজ্ঞানের পরিবর্তন পাপপ্রসূ। কেবল পূর্বপুরুষের কদম মোবারক শরণ ও অনুসরণ করেই মানুষ থাকবে কৃতার্থ ও তৃপ্তমন্য।

    তারা অবশ্য জানে, তাদের নবী-ঋষিরা অজ্ঞাতপূর্ব জ্ঞান দিয়েছেন এবং অশ্রুতপূর্ব নতুন কথা বলেছেন, নতুন ধর্মমতও প্রবর্তন করেছেন। এবং তা বিধাতার অভিপ্রায় ও অনুমোদনক্রমেই সম্ভব হয়েছে। কলিকালে ঈশ্বর আর কোনো পরিবর্তন কামনা করেননি। তিনি যে-পাট চুকিয়ে দিয়েছেন কলিকালে শয়তান তা খুলে বসেছে। শয়তানের চেলারাই কেবল পরিবর্তন প্রয়াসী ও নতুনের সন্ধানী। তারা এ-ও জানে তাদের প্রত্যেকেরই পূর্বপুরুষ সুদূর সেকালে কিংবা অনতি অতীত একালে কোনো-না-কোন সমকালীন নতুন ধর্মে দীক্ষা নিয়েছেন। এবং তাদের মতে শেষবারের মতো সত্যধর্ম বরণ করে তাদের পূর্বপুরুষরা ঈশ্বর-দত্ত শেষ সুযোগ লাভের অনুগ্রহ লাভ করেছেন। এটিই ছিল বিধাতার সর্বশেষ আনুশাসনিক ও প্রশাসনিক সংস্কার বা পরিবর্তন। এর পরে তো বিধাতা প্রলয় অবধি বিশ্রাম-সুখই লাভ করেছেন।

    .

    ০৪.

    বিশ্বাসের অঙ্গীকারে ধর্মবোধের উদ্ভব ও স্থিতি। তাই ধর্মভাব অশিক্ষিত মানুষের ভূষণ, এবং ধর্মাদর্শ তাদের জীবনের দিশারী। ধর্মীয় নীতি ও রীতি তাদের জীবনযাত্রার পথ ও পাথেয়। লেখাপড়া-জানা ধর্মভীরু মানুষেরও মনোভূমি অনাবাদে অপচিত। আর একশ্রেণীর শিক্ষিত অথচ চরিত্রহীন বুদ্ধিমান দুরাত্মা সব জেনেবুঝেও স্বস্বার্থে এই বিশ্বাস-সংস্কার ও স্মৃতিকে প্রশ্রয় দিয়ে, পুঁজি করে মানুষকে শাসন-শোষণের আনন্দ, আরাম, গৌরব ও সম্মান লাভ করে। ধর্ম কিন্তু সব মানুষের সমান উপকার করে না। ধর্মের বিধি-নিষেধ প্রয়োগে বড়লোকের-ছোটলোকের ও নারী-পুরুষের পার্থক্য স্বীকৃত। রাজা যুদ্ধ করেন, পররাজ্য কেড়ে নেন, মানুষ হত্যা করেন –এতে পাপ নেই। সাধারণ লোক না বলে পরের তৃণখণ্ড নিলেও চৌর্যের কিংবা পীড়নের পাপ স্পর্শ করে। তাছাড়া ধর্ম বাধাপথে চলার যান্ত্রিক সুবিধা দান করে বটে, কিন্তু মনুষ্যত্ব বিকাশের কিংবা মানবিক বোধ-বুদ্ধির স্বাধীন প্রয়োগের অধিকার হরণ করে। ধার্মিক মানুষ পোষমানা প্রাণী। কেননা তার মন-বুদ্ধি বিবেকের স্বাধীন প্রয়োগ-পথ থাকে রুদ্ধ। এই মানুষ গোঁড়া, অসহিষ্ণু ও অনুদার না হয়ে পারে না।

    অথচ ভাব-চিন্তা-কর্মের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ও স্বকীয়তাপ্রসূত নতুন কিছু করতে গিয়ে ভুল করার অধিকারই মানুষের স্বাধীনতার ভিত্তি। কারণ ভ্রান্তি থেকেই সত্যকে ও শ্রেয়সকে চেনা যায়। ধর্ম, সমাজ ও রাষ্ট্র অভিভাবকের ভূমিকা গ্রহণ করে মানুষের এই মৌল অধিকারই অহরহ হরণ করছে। ধর্ম, সমাজ ও রাষ্ট্র সমাজবদ্ধ মানুষকে শেখায় ফানাতত্ত্ব। অর্থাৎ ব্যক্তি-জীবন হবে সমাজ-স্বার্থের অনুগত যৌথ জীবনের প্রত্যঙ্গ। কারণ তার স্বাতন্ত্র্য সমাজ ও রাষ্ট্রের পক্ষে বিপজ্জনক। অথচ ব্যক্তিজীবনের স্বাতন্ত্র্য, নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন বিকাশ লক্ষ্যেই শুরু হয়েছিল যৌথ আবাস, আচার ও কর্ম। অবশেষে মুক্তির অবলম্বন হয়ে উঠেছে বন্ধনের শৃঙ্খল। কিন্তু ভৌগোলিক সংহতি ও গণশিক্ষা–ব্যক্তিজীবনে না হোক, সামগ্রিক জীবনে আজ নতুন চেতনা দান করেছে। তাই দুনিয়ার সর্বত্র দেখা দিয়েছে দ্রোহ।

    .

    ০৫.

    জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তার জন্যেই মানুষ হল যূথবদ্ধ। আর যৌথ জীবনের নিয়ামক ও নিয়ন্ত্রী শক্তি হিসেবে গড়ে উঠল সমাজ, ধর্ম ও রাষ্ট্র। এই তিন মনিবের ঘর করে মানুষ, সেবা করে তিন মালিকের, শাসন মানে তিন প্রভুর। মানুষ যেন সেভুইচড, গলে বের হবে, সে সাধ্যও নেই। কিন্তু যাদের কথা বলছি, তারা তা অনুভব করে না, তারা মনে করে আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে আসমান ও জমিনের মালিকের হেফাজতে পাখির মতো তারা সোনার টঙ্গীর আশ্রয়ে রয়েছে, লীলাময়ের ইচ্ছে ব্যতীত সেখানে সাপ-বেড়ালের উপদ্রব ঘটে না। অথচ জীবন বিকাশের অবলম্বন হিসেবেই সমাজ, ধর্ম ও রাষ্ট্রের উদ্ভব। জীবনবোধ ও প্রয়োজন বৃদ্ধির সাথে সাথে ধর্মবুদ্ধির ও ধর্মনীতির প্রসার ও পরিবর্তন হওয়া উচিত ছিল, তা হয়নি বলে পুরোনো ধর্ম লোপ পেয়ে নতুন ধর্মের ঠাই করে দিয়েছে। মানুষ অবশ্য কোনোদিন সচেতন ভাবে তা চায়নি। কিন্তু প্রকৃতির নিয়মেই তা ঘটেছে। প্রয়োজনের শক্তি অপ্রতিরোধ্য। সেই প্রয়োজন প্রাকৃত শক্তির মতো অমোঘ, নদীর স্রোতের মতো তীরপ্লবী ও কূলগ্রাসী। যে-মানুষের মাধ্যমে নতুন প্রতিষ্ঠা পায়, তিনিও জানেন না তিনি কী কারণে কোন্ অমোঘ শক্তির প্রভাবে কী করছেন।

    আজো সে নিয়মেই সব ভাঙছে, হচ্ছে, চলছে। কিন্তু সমকালীন মানুষ তা বুঝতে পারে না। চলন্ত ট্রেনে বসে সে ভাবছে, পাশের বস্তুই চলছে তার ট্রেন স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মন স্থিতিকামী, তাই তার এ বিভ্রান্তি। তার জীবনে কাজে লাগছে না, তবু সে ধর্ম ও সমাজ-ভূতের ভয়-ভরসা কাটিয়ে উঠতে পারছে না। ধর্ম ও সমাজকে সে ভালোবাসে না, ভয় করে। সে-জুজুর ভয় তার দিবারাত্রির বিভীষিকা। ক্রীতদাসের অসহায়তায় ও আত্মসমর্পণেই তার স্বস্তি। সে কেবলই আত্মরক্ষায় উদ্বিগ্ন, তাই বাঁচার স্বাদ সে পায় না। মৃত্যুভীরু জীবনের মমতায় সদা ব্যাকুল, তাই জীবনের প্রসাদ থেকে সে হয় বঞ্চিত।

    .

    ০৬.

    যারা নতুন জীবন কামনা করে, আত্মপ্রত্যয় যাদের প্রবল, তারা ধর্ম, সমাজ ও রাষ্ট্রকে জীবনের অনুগত করে। ওগুলোর পুরোনো নিয়ম-নীতির কাছে আত্মবলি দেয় না। অতীত কারো জীবনের আদর্শ হতে পারে না। কেননা অতীত কখনো ভবিষ্যৎ হয়ে ওঠে না। ঐতিহ্যও প্রেরণার উৎস নয়। তাহলে গ্রীক-রোমান-আরবের পতন হল কেন? এটিলা-চেঙ্গিস-বুদ্ধ-হোমারের কী ঐতিহ্য ছিল? ঐতিহ্য বলে যদি কোনো কিছু মানতেই হয় তাহলে এক মানুষের পক্ষে যা সম্ভব অন্য মানুষের পক্ষেও তা সাধ্যাতীত নয় –এই মানবিক ঐতিহ্যে আস্থাই যথেষ্ট। অতীত যদি কোনো কাজে লাগে তবে তা ধর্ম বা সমাজের নীতি-আদর্শ নয়– ইতিহাসের জ্ঞান ও শিক্ষা।

    অতীত ও ঐতিহ্য সম্বন্ধে আমাদের ধারণা মোটেই পষ্ট নয়। একটা শোনা-কথা আপ্তবাক্য রূপেই আমরা আওড়িয়ে চলছি মাত্র। যা পিছনে ফেলে আসি, যা চুকে-বুকে যায় হারিয়ে যায়, তাই অতীত। সে-স্মৃতি আমাকে কেবল ধরে রাখতে পারে, এগিয়ে দিতে পারে না। মানুষ তার চোখ দিয়ে সুমুখেই কেবল দেখতে পায়, সচেতন প্রয়াসে পাশেও। কিন্তু পিছনে তাকাতে হলে পিছনকে সুমুখ করতে হয়। অতীতকে স্মরণে রাখতে গেলে ভবিষ্যৎকে ভুলতে হয়। চোখের স্থিতি ও পায়ের পাতার বিস্তৃতি দেখে তো মনে হয় স্রষ্টা মানুষকে সুমুখে দেখবার ও এগুবার ইঙ্গিতই দিয়েছেন।

    আমার প্রপিতামহের জমিদারি ছিল, আমার পিতার প্রপিতামহ কবিতা লিখেছিলেন, আমার পিতামহ দীঘি দিয়েছিলেন, আমার পিতা বিদ্বান ছিলেন, আমি সামান্য লেখাপড়া শিখে সম্প্রতি ঢাকায় এক দোকানে কর্মচারী। নিবাস তাঁতিবাজারের এক মেস। ঐতিহ্য আমাকে কী দিল?

    হোমার-শেকস্পীয়র-টলস্টয়-কালিদাস-সাদী লিখিয়ে হলেন, তাদের কারো পিতৃপুরুষের কেউ লেখক ছিলেন না। আবার রবীন্দ্র-নজরুলের সন্তান কবি হতে পারলেন না। আদম-সন্তান কাবিল হল লম্পট, নূহর সন্তান হল পিতৃদ্রোহী। ঐতিহ্যের প্রভাব কোথায় পড়ল? সভ্যতায় ও শাসনে কালো আফ্রিকার কী ঐতিহ্য আছে? তাই বলে কি তারা আরণ্য থাকছে? আমার চৌদ্দপুরুষের কেউ লেখাপড়া করেননি, বাবা ছিলেন ক্ষেতমজুর; আমি বিদ্বান, বড় চাকুরে, অবশেষে মন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতি হলাম। এ তো হবার কথা নয়।

    ভূঁইফোড় লোক রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন, আর রাজার ছেলে রাজ্য রক্ষা করতে জানেন না। এই বা হবার কারণ কী! ব্যক্তিক কিংবা জাতিক জীবনে ঐতিহ্যই যদি প্রেরণার আকর ও আত্মোন্নয়নের ভিত্তি হত তাহলে সমাজে কিংবা দেশে কোনো মানুষের বা জাতের জীবনে উত্থান-পতন থাকত না। বর্ণে বিন্যস্ত হিন্দুসমাজের মতো জন্মসূত্রেই জীবন ও জীবিকা নিয়ন্ত্রিত হত। কেননা যার ঐতিহ্য নেই, সে তা কখনো অর্জন ও সৃজন করতে পারত না। ঐতিহ্য বলতে আমরা ভালো কৃতিই বুঝি– মন্দকৃতি ঐতিহ্য নয়। মানুষ কি এতই সুবোধ ও সুশীল যে সে কেবল পূর্বপুরুষের ভালটাই গ্রহণ করবে আর মন্দটা পরিহার কবে? ভালোটা শরণ করতে গেলে মন্দটা মনের কোণে উঁকি দেবে– আর ভালটাকে কেউ শরণ করলে মন্দটাও তাকে অনুসরণ করবে। কে না জানে মানুষের মন্দের আকর্ষণই বেশি? কারণ শয়তান অলস নয়।

    বস্তুত পূর্বপুরুষের বস্তুগত সম্পদের উত্তরাধিকারই মানুষ পেয়ে থাকে-যা দৃষ্টিগ্রাহ্য ও কেজো। মানস-উত্তরাধিকার বলে কিছু যদি থাকেও তা সামান্য ও প্রয়োগসাপেক্ষ। এবং প্রয়োগের জন্যে চাই প্রয়োজনবোধ। এই প্রয়োজনবুদ্ধি জাগে আত্মপ্রত্যয়ী, আত্মশক্তি সচেতন ও কাক্ষী মানুষের। আর এ তিনটে গুণই স্বকীয়তার স্বাক্ষর বহন করে। এ মানুষের ঐতিহ্য থাকা না-থাকায় কিছু যায় আসে না। সে হয় স্বসৃষ্ট –এটি ব্যক্তিক ও জাতিক জীবনে উভয়ত সত্য। দেশ-কালের পরিপ্রেক্ষিতে আত্মোন্নয়নের পন্থা এই একটিই। আমার পিতার প্রাথমিক শিক্ষাটাই গৌরবের ও গর্বের হল, আর আমার এম.এ ডিগ্রীটা তুচ্ছ? বাবার কুটিরটারই গর্ব করব, আমার দালানটা কিছুই নয়? সচল ব্যবহারিক জীবনে স্থান-কাল ভেদে আচারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রিক রীতিনীতি– যতই মন্থর হোক–পরিবর্তিত হয়, কেবল ধার্মিক জীবনের নীতিই থাকবে ধ্রুব এ কেমন কথা। এ ক্ষেত্রে কি জীবনের গতিশীলতার কোনো চাহিদা নেই। কার্যত ধর্মনীতিও লঙ্ঘিত হয়, কেবল স্বীকার করতেই আপত্তি। নইলে একই ধর্মে এত বিভিন্ন মত-পথবাদী সম্প্রদায় গড়ে উঠল কী করে!

    তাছাড়া, অর্জন-বিমুখ মানুষ পূর্বপুরুষের ধনে ধনী থাকতে পারে না। সে দরিদ্র হতে থাকে ব্যক্তিক ও জাতিক জীবনে –-এ স্বতেসিদ্ধ তথ্য। এবং রিখথ হিসেবে প্রাপ্ত কোনো বাস্তব সম্পদও সমকালীন জীবনের ব্যবহারিক-বৈষয়িক চাহিদা মিটাতে পারে না। কেননা তার কেবল ক্ষয়ই আছে, বৃদ্ধি নেই। স্বােপার্জিত সম্পদ বাড়তির লাবণ্যে প্রাণপ্রদ। পিতৃসম্পদ জীর্ণতার জনক। জোয়ারভাটার মতো আয়-ব্যয়ে বহমানতা থাকা চাই। প্রয়াসবিহীন প্রাপ্তিতে গৌরব নেই। প্রয়াসের মধ্যেই প্রাণের পরিচয় ও বিকাশ। আসলে ঐতিহ্য মানুষকে ধরে রাখে, এগিয়ে দেয় না। স্থিতির জীর্ণতা ও জড়তা তাকে পেয়ে বসে, গতির প্রাণ ও প্রেরণা থাকে অনায়।

    এই পুরোনো পৃথিবী প্রতি-মানুষের চোখে নতুন করে দেখা দেয় বলেই পৃথিবী সুন্দর। প্রতিটি জীবন নতুন করে আবিষ্কার করে আপনার ভুবন। নতুন জীবনের চাহিদা মিটাতে দেশগত ও কালগত জীবনের অনুগত করে বদলাতে হয় ধর্মনীতি, সমাজরীতি ও রাষ্ট্রবিধি। প্রাণের সচলতার প্রতীক হচ্ছে সৃজনশীলতা, নতুনের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের দিকে এগুবার আগ্রহ। জরা ও জড়তার ধর্ম হচ্ছে অতীতকে ও স্থিতিকে আঁকড়ে ধরে রাখা। কেননা জরা ও জড়তার ভবিষ্যৎ নেই, কেবল অতীতের স্মৃতিই থাকে। ভবিষ্যতে তার মৃত্যু-ত্রাস, অতীতে তার মধুর স্মৃতি।

    পূর্বপুরুষের দানে নয়, মানুষকে বাঁচতে হয় স্বকালে স্বদেশে স্বকীয় সৃষ্টিতে। অন্যের কৃতির ফল ভোগ করার গ্লানির মধ্যে নয়, নিজের কৃতি ও কীর্তির উল্লাসের মধ্যে বাঁচাই যথার্থ বাঁচা। মানুষের এ-ই কাম্য।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ – আহমদ ছফা
    Next Article স্বদেশ অন্বেষা – আহমদ শরীফ

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }