Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জীবনে-সমাজে-সাহিত্যে – আহমদ শরীফ

    আহমদ শরীফ লেখক এক পাতা গল্প243 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    প্রতিকার-পন্থা

    অন্যায়ের প্রতিকার-পন্থা, হৃত-অধিকার আদায়ের উপায় ও পীড়ন-শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির নানা রীতি-নীতি ও পদ্ধতি সম্পর্কে হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ নানা চিন্তা-ভাবনা করেছে। এবং বিচিত্র পথে এই প্রতিকার-প্রয়াস বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রত্যেকটা উপায় ও নীতি আপাতদৃষ্টে যৌক্তিক। কেবল দেশ-কাল ও ব্যক্তি ভেদে সেগুলোর উপযোগ ভেদ ঘটেছে মাত্র। এক গোষ্ঠীর মতে যে-নীতি বাঞ্ছিত ও প্রযোজ্য, অপর গোষ্ঠীর ধারণায় তা অবাঞ্ছিত ও পরিহার্য। এমনি করে কাল এবং কর্তা ভেদেও পরিবর্তিত হয়েছে নীতি-পদ্ধতি। ক্রমবিবর্তন ও ক্রমউকর্ষ-ধারায় এই নীতি-পদ্ধতি আজ যে-স্তরে উন্নীত তাও সন্তোষজনক নয়, সবার মনঃপুত তো নয়ই। এখনো তা উন্নয়ন ও বিকাশ সাপেক্ষ। এই নীতি-পদ্ধতি দৈশিক, গৌত্রিক, কিংবা জাতিক সভ্যতা, সংস্কৃতি ও মানবিকবোধ বিকাশের অন্যতম পরিমাপক হলেও তা দেশ-গোত্র-জাতির সব মানুষের বোধ-বুদ্ধি সংস্কৃতির আনুপাতিক মান নির্ণয়ের মাপকাঠি যে নয়, তাও উল্লেখ্য। কেননা, এ নীতি-পদ্ধতি নির্ধারিত ও প্রযুক্ত হয় দেশ, গোত্র বা জাতির নেতা বা কর্তৃপক্ষের দ্বারা। নেতা বা কর্তাগণের মন বিদ্যা-বুদ্ধি ও নীতিবোধই থাকে এর পশ্চাতে ক্রিয়াশীল, অন্যমানুষের সম্পর্ক নিতান্ত গৌণ। আবার ব্যক্তিগত প্রতিকার- নীতি ও গোষ্ঠী বা জাতিগত প্রতিকার-পদ্ধতিতে পার্থক্যও সামান্য নয়। এখানেও উপযোগ ও প্রয়োগভেদ স্বীকৃত।

    ব্যক্তিগত প্রতিকার-প্রয়াসে কেউ প্রতিহিংসা নীতিতে আস্থাবান, কেউ ক্ষমার মাহাত্মে মুগ্ধ, কেউবা স্থান-কাল-পাত্রভেদে কখনোবা শাস্তি, কখনোবা ক্ষমার পক্ষপাতী। কিন্তু গোত্রীয়, জাতীয় কিংবা রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে প্রায় সবাই প্রতিহিংসা-প্রতিশোধ নীতিকেই মোক্ষম বলে মানে। তাই হন্তা ও যোদ্ধাই বীর ও মহাপুরুষরূপে পরিকীর্তিত।

    এক্ষেত্রে বিষে বিষ ক্ষয় বুনো কচু ও বাঘাতেঁতুল এবং শঠে শাঠ্যাং সমাচরেৎ –এই সুপ্রাচীন নীতির তত্ত্বগত সত্য ও তথ্যগত যাথার্থ্য বহু পরীক্ষিত। বহুলপ্রযুক্ত এই নীতি বৈজ্ঞানিক ও ফলপ্রসূ বলে নির্ভরযোগ্য। কেননা, মানুষ শক্তের ভক্ত, নরমের যম। এ পন্থা বাহুবল ভিত্তিক এবং দ্বন্দ ও সংঘাতপ্রসূ। এক্ষেত্রে কুশলী দুর্বলের নীতি হচ্ছে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা কিংবা হাতী দিয়ে হাতী বাঁধা।

    শামীয়জগতে প্রতিকার-নীতির ক্রমবিকাশের ধারায় তিনটি সুস্পষ্ট পদ্ধতি দেখতে পাই। হযরত মুসা বলেন, দাঁতের বদলে দাঁত, চোখের বদলে চোখ উপড়াও। অর্থাৎ বাহুবলে প্রতিরোধ কর, প্রতিশোধ নাও, কিন্তু অপরাধ ও শাস্তির সমতা রক্ষা করো তথা অন্যায় ও তার প্রতিকার আনুপাতিক হওয়া চাই।

    হযরত ঈসা বলেন– একগালে থাপ্পড় পেলে তো অপর কপোলও থাপ্পড় নেয়ার জন্যে উন্মুক্ত কর। অর্থাৎ প্রতিরোধ করো না, প্রতিশোধ ব্যবস্থা মনে ঠাই দিয়ো না, বরং মহত্ত্ব ও ক্ষমা দিয়ে অন্যায়কারীর হৃদয় জয় করো–যাতে সে চিরকালের জন্যেই অপকর্ম থেকে নিবৃত্ত হয়–ক্ষমা ও মহত্ত্বের মহিমায় মুগ্ধ হয়ে।

    হযরত মুহম্মদ বললেন– পারো তো ক্ষমা করো, নইলে শাস্তি দাও। অর্থাৎ স্থান-কাল পাত্রভেদে ক্ষমা বা শাস্তির উপযোগ ও প্রয়োগসাফল্য নজরে রেখো।

    এদেশে হিন্দু ও বৌদ্ধধর্ম কর্মবাদে আস্থা রাখে। পাপ-পুণ্যের শাস্তি ও পুরস্কার অমোঘ। গীতায় দুষ্কৃতিদমনের প্রয়োজনীয়তা স্বীকৃত। কিন্তু গৌতমবুদ্ধ প্রতিকারের চেয়ে অন্যায়-বিরতিতে গুরুত্ব দিয়েছেন বেশি। তার দশশিক্ষা Precautionary ও Preventive ব্যবস্থারূপে পরিগণিত। পার্থিব সবকিছুকে নশ্বর ও তুচ্ছ জেনে মায়া ও তৃষ্ণা তথা আকাক্ষা ও মোহমুক্ত হতে উপদেশ দিয়েছেন তিনি। এমনি রীতি ও সংযমের কথা অবশ্য সব ধর্মেই রয়েছে। মহত্ত্ব, সহিষ্ণুতা ও ক্ষমাকেই তিনি উত্তম ও শ্রেয় বলে জেনেছেন। রাজোবাদ জাতকের কাহিনীতে তার এ মনোভাব সুপরিব্যক্ত। কাহিনীটি সংক্ষেপে এই :

    বারাণসীরাজ ব্রহ্মদত্তকুমার এবং কোশলরাজ মল্লিক উভয়েই সমসাময়িক এবং আদর্শ ধার্মিক রাজা। প্রজারা তাদের শাসনে-পালনে সুখে স্বচ্ছন্দে বাস করছে। একদিন এই দুইরাজ্যের দুইরাজার রথ একই রাস্তায় এসে মুখোমুখি দাঁড়াল। এখন কে কাকে পথ ছেড়ে দিয়ে নিজের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করবেন, সে হল সমস্যা। উভয় রাজাই সমবয়স্ক। কাজেই বয়সের দাবীও টেকে না। এমনকি তাঁদের কুলগৌরব, রাজ্যপরিমাণ, সেনাবল, ঐশ্বর্য, যশ এবং জনপ্রিয়তাও সমান। এখন উপায়? অবশেষে স্থির হল, চরিত্রবলে যিনি মহত্তর, তাকেই পথ ছেড়ে দেয়া হবে।

    প্রথমে কোশলরাজ মল্লিকের গুণপনা বর্ণিত হল : তিনি কঠোরে কঠোর এবং কোমলে কোমল; আর সাধুজনের সঙ্গে সদ্ব্যবহার এবং শঠের সঙ্গে শাঠ্যনীতি অনুসরণ করেন।

    আর বারাণসীরাজ ব্রহ্মদত্তকুমার অক্রোধের দ্বারা কুদ্ধকে, সাধুতার দ্বারা অসাধুকে দানের দ্বারা কৃপণকে এবং সত্যের দ্বারা মিথ্যাবাদীকে শিক্ষাদানের নীতির মাধ্যমে শাসন করেন।

    এমনি কাহিনী মহাভারতেও রয়েছে। সেখানেও কৌরব সুহোত্র এবং উশীনর-পুত্র শিবির রথ মুখোমুখি হলে চরিত্রগুণে শিবিই পথের অধিকার পান। কেননা, তিনিও দানের দ্বারা কৃপণের ক্ষমার দ্বারা কুরকর্মার, সত্যবাদিতার দ্বারা মিথুকের এবং সাধুতার দ্বারা অসাধুর চরিত্র সংশোধনের আদর্শ অনুসরণ করতেন।

    বায়জিদ বিস্তামীকে যে মাতাল আঘাত করে রক্তাক্ত করে দিল তাকে পরদিন তিনি বললেন, ভাই, আমার মাথায় ঠেকে যে তোমার বীণাটি ভেঙে গেল তাতে আমি দুঃখিত।

    কিংবা চৈতন্যদেবকে যে জগাই-মাধাই লাঞ্ছিত ও আহত করল, তাদেরও তিনি বলেলেন, ভাই মেরেছ কলসির কানা, তাই বলে কি প্রেম দেব না? –গৌতমবুদ্ধ বায়জিদ কিংবা চৈতন্যদেবের এসব মহত্ত্ব আদর্শের ক্ষেত্রে মানুষ অত্যন্ত মূল্যবান বলেই জানে, কিন্তু প্রয়োগের ক্ষেত্রে শ্রদ্ধেয় বলে মানে না।

    এ পর্যন্ত যে-সব নীতি-পদ্ধতির কথা বলা হল সবগুলোই পুরোনো কালের। তবে এ-যুগেও সে-সব মূল্য-মর্যাদা হারায়নি।

    এ-যুগে বিশেষ করে ব্যক্তিক কিংবা সামাজিক জীবনে পীড়ন-প্রতিকার নিয়ে মানুষ বিশেষ মাথা ঘামায় না। একালে সব-সমস্যা জাতিক ও রাষ্ট্রিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজেই সমাধান প্রয়াসও চলছে যৌথপ্রচেষ্টার মাধ্যমে এবং প্রতিকারনীতিও তাই জাতীয় কিংবা রাষ্ট্রীয় স্বার্থে নির্মিত ও প্রযুক্ত হয়।

    গ্যারিবল্ডী বাহুবল-নির্ভর হিংসাত্মক সংগ্রামের পক্ষপাতী ছিলেন। তিনি স্বাজাত্য ও স্বদেশপ্রেমের প্রেরণায় ক্ষুধার, যন্ত্রণার ও মৃত্যুর পথেই আহ্বান জানিয়েছিলেন দেশবাসীকে।

    মাও সে-তুঙও আপোষহীন রক্তক্ষরা সংগ্রামে আস্থাবান। তিনি বলেন : Political power grows out of the barrel of a gun–মার্কস লেনিনেরও ছিল এ মত।

    নিগ্রো মনস্তত্ববিদ Frantz Fanon তাঁর The wretched of the Earth গ্রন্থে বলেছেন :

    Violence is a cleansing force. It frees the native from his inferiority complex and from his despair and inaction, it makes him fearless and restores his self-repect.

    রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন—

    ক্ষমা যেথা হীন দুর্বলতা বলে অপব্যাখ্যাত হয়, সেখানে কঠোর হতে হবে। এই কঠোরতা নিশ্চয়ই হিংসাত্মক বা শাস্তি সমর্থক।

    প্রতিকার পদ্ধতিটা কবিসুলভ হলেও এব্যাপারে তার আরো স্পষ্ট উক্তি রয়েছে :

    অন্যায় যে করে, আর অন্যায় যে সহে,
    তব ঘৃণা তারে যেন তৃণসম দহে।

    গান্ধী অহিংস প্রতিরোধ ও অসহযোগকেই প্রতিকার পদ্ধতিরূপে বরণ করেছিলেন।

    জওয়াহেরলাল নেহেরুর আস্থা ছিল Co-existence নীতিতে। এটি মূলত নৈতিকবোধের প্রীত আবেদন।

    জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠানের নীতি-পদ্ধতি হয়েছে সালিশির মাধ্যমে বিরোধের মীমাংসা। এটিও সদিচ্ছা ও শান্তিপ্রিয়তা সাপেক্ষ।

    L. B. Johnson এক বক্তৃতায় বলেছেন, আজকের প্রতিকার পদ্ধতি হবে–To convert hostility into negotiation, bloody violence into politics and hate into reconciliation.

    কেউ কেউ বলেন ব্যক্তিগত ও সামাজিক অন্যায় এবং পীড়নের ক্ষেত্রে ক্ষমা ও নিরস্ত্র প্রতিরোধ কার্যকর। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ এবং শাসন ও শান্তির জন্যে সশস্ত্র শক্তির প্রয়োজন। যে গান্ধী অহিংস অসহযোগ ভিত্তিক আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রাম চালিয়েছেন, তিনিই স্বাধীন ভারতে প্রতিরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ শাসন-শান্তির জন্যে সহিংস-সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছেন। জাতিপুঞ্জ প্রতিষ্ঠানের কিংবা জনসনের উক্ত নীতিতে নতুন কিছু নেই। প্রতিকার ব্যবস্থায় বাহুবল ও জনবলহীন মানুষ চিরকালই আশ্রয় নিয়েছে আইন আদালতের। আর ধনবলহীন মানুষ প্রতিকার খোঁজে সালিশে। এ দুটোই শক্তিমান লোকের কাছে অবজ্ঞেয়।

    আসলে ধর্মের দোহাই দিয়ে, আল্লাহর কাছে গোহারী করে কিংবা নালিশে-সালিশে-ক্ষমায় প্রতিকার চেয়ে নির্বলই প্রবোধ এবং সান্ত্বনা খোঁজে। সবল চিরকালই নিজ হাতে স্বশক্তি প্রয়োগে প্রতিকার করেছে বা প্রতিকারের চেষ্টা করেছে। অস্ত্রাভাবেই গান্ধী ছিলেন অহিংস প্রতিরোধ প্রতিকারের প্রবক্তা, অস্ত্রাধিকার লাভের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সশস্ত্র শক্তিতে আস্থাবান হয়ে ওঠেন। কাজেই বাহুবল-ধনবল-জনবল যার আছে, সে কখনো সালিশে-নালিশে, দোহাই-গোহারীতে কিংবা শাপে-বরে বিশ্বাস করবে না। বোঝা যাচ্ছে দুর্বল ও অক্ষমই কেবল মহৎ আদর্শের বুলি কপচিয়ে আত্মরক্ষা ও আত্মসম্মান রক্ষার উপায় খোঁজে। সবল ও পরাক্রান্ত ব্যক্তির কাছে ওসব হাস্যকর বালভাষণ।

    তবু মনে হয়, মহৎ আদর্শে কোনো অপ্রতিরোধ্য শক্তি নিহিত রয়েছে। নইলে প্রবল পরাক্রমশালীও একে প্রকাশ্যে সোজাসুজি তাচ্ছিল্য করতে সংকোচ ও লজ্জাবোধ করে কেন? কেন তারা অপকর্মের জন্যে ছলচাতুরীর আবরণ খোঁজে? কেন তাদের অন্যায় অপকর্মকে যুক্তিগ্রাহ্য করে তুলতে চায়? কেন আজ অস্ত্রবল সঞ্চয়ে তৎপর হয়েও তারা অস্ত্রসংবরণ ও অস্ত্রবর্জনের কপট বুলি আওড়াতে বাধ্য হচ্ছে?

    কাজেই আপাত অকেজো ও অশ্রদ্ধেয় সহিষ্ণুতা সালিশ, ক্ষমা ও নিরস্ত্র প্রতিরোধও যে মানুষের মানবিক বোধ-বুদ্ধির বিকাশের সহায়ক, নৈতিক চেতনা বৃদ্ধির অনুকূল, তা অস্বীকার করবার উপায় নেই।

    আজ আর রাষ্ট্রপতি-রাষ্ট্রনায়কেরা আগেকার রাজা-বাদশার মতো প্রভু ও শাসক নন। এখন তারা একাধারে শাসক ও সেবক। সেজন্যে গণসমর্থন ব্যতীত তাঁদের স্থিতি অসম্ভব। নাগরিক মনে নৈতিক-চেতনা ও আদর্শানুগত্য থাকলে তা রাষ্ট্রপতির চিন্তা ও কর্মকে প্রভাবিত করেই। কেননা তাঁর হুকুম অমান্য করবার লোক তাঁর রাষ্ট্রেই থাকে এবং তারা নিরস্ত্র হয়েও সশস্ত্রবাহিনীর চেয়ে প্রবল। এই জনমত-রূপ আদর্শের প্রেরণা-পুষ্ট মনোবলের মতো বল আর নেই। ভিয়েতনামের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরোধী জনমতে সে ইশারাই পাওয়া গেছে। এমন দিনও হয়তো আর দূরে নয় যখন সৈন্যেরাও প্রাণের প্রেরণা ছাড়া কেবল হুকুমের চোটে যুদ্ধ করতে অস্বীকার করবে। অথবা যুদ্ধের কারণই হবে অপগত। এ মনোবল আসে বিশ্বাস-মুক্তি ও মুক্তবুদ্ধি থেকে। আগের যুগে মানুষের জীবন ছিল বিশ্বাস-নির্ভর ও সংস্কার-ভিত্তিক; এখনকার অনেক মানুষের জীবনই বুদ্ধি ও যুক্তিনিষ্ঠ। তাই আত্মবিশ্বাস ও আত্মজ্ঞান এবং তজ্জাত সাহস বেশি। ভয় ও সন্দেহ-সংশয়ের স্থলে আত্মবিশ্বাসসম্পন্ন ব্যক্তিই সাহস করে বিপদের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে আসে। অন্যেরা যখন ভয়ে ও সংশয়-সংকোচে জড়বৎ অচল, তখন সাহসীই প্রথমে কদম বাড়ায়। আর এই পয়লা কদমই পৌরুষ ও কাপুরুষতার পরিমাপক। নামৰ্দমী-মর্দমী কাদমে ফাসেলা দারাদ। –মদামী না মদামীর মধ্যে ওই এক-কদমেরই ব্যবধান। কিন্তু সেই ব্যবধান কত ব্যাপক গুরুতর ও তাৎপর্যময় আর কী যুগান্তকারী পরিণামপ্রসূ! মরদের এই বাড়তি কদমই লক্ষ হৃদয়ে শক্তি ও সাহস যোগায়। এই বাড়তি কদমই নেতৃত্ব-কর্তৃত্বের অধিকারী-মানবভাগ্যের নিয়ন্তা, দেশ-দুনিয়ার মানুষের শক্তির ও ভরসার আকর। এখনকার দিনে ভয়-সংশয় জয় করে পা বাড়ানোর লোক অনেক। তাই জনতা শক্তিমান, তাই জনতা ও জনমত প্রবলতম শক্তিরও বিজয়ী প্রতিদ্বন্দ্বী।

    জার্মান দার্শনিক Riechl বলেছেন, মানুষই একমাত্র প্রাণী যে মেরুদণ্ডের উপর শির উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। মানুষ তা পারে, কারণ মানুষের জীবনে আদর্শ আছে, উদ্দেশ্য আছে, আছে মহৎ লক্ষ্যে উত্তরণের আগ্রহ। এ মহৎ লক্ষ্য হচ্ছে মানবতার মানবমনীষার ও মানবসংস্কৃতির পূর্ণবিকাশ। প্রতিকার-বাঞ্ছা যুক্তি ও প্রয়োজনবুদ্ধি সাপেক্ষ। বিশ্বাসের সঙ্গে যেহেতু নিয়তিবাদ যুক্ত সেহেতু বিশ্বাসের আনুগত্যের চেয়ে বড় কারাগার নেই। বিশ্বাসের কবল-মুক্তির চেয়ে বড় মুক্তিও তাই নেই। আগের যুগে অজ্ঞ অসহায় মানুষের জীবনযাত্রা ছিল বিশ্বাস-ভিত্তিক। তাই তারা বিশ্বাসীর চোখে গরুকেও দেখেছে দেবতারূপে আর বিশ্বাসের অভাবে হযরত নুহকে করেছে বিদ্রূপ। এবং হযরত ঈসাকে চড়িয়েছে শূলে, তাড়িয়েছে মুসা ও মুহম্মদকে। মনে যুক্তিবোধের উদয় হলেই কেবল মানুষ শ্রেয়সকে ও কল্যাণকে সহজেই বরণ করতে পারে, তা যতই নতুন ও অভাবিত হোক না কেন। মনে যুক্তি-বুদ্ধির ঐশ্বর্য থাকলেই তবে মানুষ পরিহার্য পুরাতনে আস্থা ও আকর্ষণ হারাবার যোগ্যতা অর্জন করে। এ-কথাটা বুঝতে চাননি বলেই হাকিম ইবনে সীনা বৃথা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন :

    গাও-রা দারান্দা বাওর দর খোদায়ে আমিয়া
    নুহরা বাওর না দারান্দ আজ পে পয়গম্বরী।
    –গরুকে খোদা বলে মানতে তোমাদের বাধে না, নুহকে পয়গম্বর বলে মানতেই তোমাদের যত আপত্তি!

    একালে মানুষ বিশ্বাস-সংস্কার ও যুক্তি-বুদ্ধির দ্বান্দ্বিক টানাপড়েনে উদ্বস্ত। তাই তারা কখনোবা বিশ্বাস চালিত, কখনোবা সন্দেহতাড়িত, আবার কখনোবা যুক্তিনিষ্ঠ। এ কারণেই কখনো তাঁরা আদিম ও স্থূল আবার কখনো শীলবান ও পেলবচিত্ত।

    বস্তুত বাহুবল ও সশস্ত্র প্রতিকার-পদ্ধতি আজো real এবং বিবেক-বুদ্ধির কাছে নিরস্ত্র নিবেদন আজো ideal পাণঘাতী ও রক্তক্ষরা শাস্তিই শায়েস্তা করার মোক্ষম প্রতিকার-নীতি –এটি আজো real; আর প্রীতি, ক্ষমা, সহিষ্ণুতা ও যুক্তিপ্রয়োগ প্রভৃতি এখনো ideal প্রতিকার-পদ্ধতি।

    অতএব একটি real, অপরটি ideal. Real-এ আপাত কার্যসিদ্ধি হয়, কিন্তু পরিণাম নিষ্ফল। Ideal-এ আপাত ব্যর্থতা অবধারিত, কিন্তু পরিণাম ফলপ্রসূ। Ideal-এ পৌঁছতে সময় লাগে, real-এর ফল তাৎক্ষণিক। Ideal ভুললে আমাদের জীবন অর্থহীন হয়ে পড়বে, আর real-কে অস্বীকার বা অবহেলা করলে আমরা পথে দাঁড়াব। Ideal-হীনতা মনের নিঃস্বতা ও মানবিকবোধের নির্লক্ষ্যতার পরিচায়ক, আর real-এর প্রতি ঔদাসীন্য চলমান জীবনকে অগ্রাহ্য করার নামান্তর। Real-এর উপযোগ বর্তমানে, আর ideal ভবিষ্যতের পুঁজি। Real প্রাণে বাঁচায়, ideal মন গড়ে তোলে। প্রাণে না বাঁচলে মন অস্তিত্ব পায় না, আবার মনের পরিচর্যা না হলে প্রাণে বাঁচা অসার্থক।

    তাই আমাদের আপাতকর্তব্য শোভন ও পরিশ্রুত পদ্ধতিতে real-কে বরণ করা যাতে তা ideal–এর পথে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে যায়। বস্তুত মানুষের মানবিক বোধের ও কর্মের তথা সংস্কৃতির ও সভ্যতার বিকাশ এভাবেই হচ্ছে। নতুবা যুদ্ধ ও যুদ্ধবাজ ঘৃণ্য হল কী করে? শান্তির সপক্ষে এত মানুষ উচ্চকণ্ঠ কেন? অথবা নিরস্ত্রীকরণের কথাই বা ওঠে কী করে? কাজেই মানুষ ideal-এর দিকে মন্থর গতিতে হলেও–এগুচ্ছে, এটিই আশা ও আশ্বাসের কথা। নইলে কত বর্বরতা ও বর্বরনীতি মানুষ পরিহার করল কী করে!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ – আহমদ ছফা
    Next Article স্বদেশ অন্বেষা – আহমদ শরীফ

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }