Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জীবন আমার বোন – মাহমুদুল হক

    মাহমুদুল হক এক পাতা গল্প190 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৫. ঘুম জড়ানো আধবোজা চোখ

    ঘুম জড়ানো আধবোজা চোখ ডলতে ডলতে দরোজা খুলে দিলো লেবু।

    ঝাড়া আধঘণ্টা ধরে চিল্লাচিল্লি করছি, কানে তুলো এঁটেছিলি নাকি, অপদার্থ কোথাকার!

    ঘরেই ঢুকেই লেবুকে একচোট ধমকালো খোকা। উত্তর না দিয়ে ঘাড় নিচু করে থাকলো লেবু। ঘরদোর সব ফাঁকা ফাঁকা, থমকানো, কিছু একটা ঘটেছে, উসখুস করতে থাকে খোকা।

    আলো জ্বালালো খুট করে।

    রঞ্জু, এই রঞ্জু!

    কোনো উত্তর নেই।

    রঞ্জু তুই খেয়েছিস?

    আগের মতোই কোনো সাড়া না পেয়ে বিছানার দিকে এগোয় খোকা। খাটের উপর ঝুঁকে বললে, কি রে, ঘুমের ওষুধ গিলেছিস নাকি, এই

    বোঝা গেল জেগে আছে সে। খোকার দিকে পিঠ দিয়ে পাশ ফিরে শুলো।

    ঠ্যালা সামলাও এখন! কি রে, গোঁসাঘরে গিয়ে খিল দিয়েছিস নাকি? একবাটি তেল লাগবে?

    এবারও কোনো উত্তর পেল না খোকা। এতে কিছুটা অবাকই হয় সে। সাধারণত এ ধরনের একগুঁয়েমি করে না রঞ্জু; গোঁ ধরে বসে থাকা কাকে বলে জানে না বললেই হয়, খোকা নিজেই বরং কিছুটা ঘাড়গোঁজা স্বভাবের।

    এই আহ্লাদী!

    পকেট থেকে চটকানো রুমাল বের করে রঞ্জুর মুখের ওপর ছুড়ে দিলো খোকা।

    এই পান্তাকুড়ি, কি হয়েছে কি তোর? ওঠ না, বেশি আদিখ্যেতা করলে গায়ে পানি ঢেলে দেবো।

    হঠাৎ মনে হলো খোকার দাঁতে দাতে চেপে ঢোক গিলে গিলে রঞ্জু কাঁদছে।

    লেবু, একটা লগি নিয়ে আয়, ওকে আমপাড়া করবো–

    আরও দেখুন
    বিছানায়
    বিছানা
    বালিশ
    বালিশে
    বিছানার
    বই পড়ুন
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা গানের লিরিক্স বই

    শেষে বিছানায় হামাগুড়ি দিয়ে ওর কাছে গেল। হাত ধরে টেনে ঘুরিয়ে দিলো। সত্যিই গুমরে গুমরে কাঁদছে রঞ্জু।

    খেয়েছে রে! এইনে, কানমলা খাচিছ, আর রাত করবো না কখনো, ঘাট মানছি, আচ্ছা ডাব্লু তো! বুদুর মতো কাঁদছিস কেন, এই বুড়ি!

    খোকা ওর গালে হাত বুলিয়ে দিলো! চোখের পানিতে ভিজে গেল হাত। হেসে আঙুলের ডগা ভিজে চুঁইয়ে টকাশ করে একটা শব্দ তুলে সে বললে, না তেমন নোনতা নয়, ফিকে হয়ে এসেছে নুনটা; তার মানে অনেকক্ষণ ধরে কাঁদছিস। বালিশটাও ভিজিয়ে ফেলেছিস। বালিশে দানা লাগিয়েছিস নাকি, চারা তুলবি?

    বালিশে চোখ-মুখ ডলে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে রইলো রঞ্জু।

    খোকা বললে, বুঝলাম, আমার চেয়ে দেয়ালটাই তোর কাছে ভালো এখন। ঠিক হ্যায়, এখন থেকে ওটাকেই দাদা বলে ডাকিস।

    আরও দেখুন
    বিছানায়
    বালিশ
    বিছানা
    বিছানার
    বালিশে
    বইয়ের
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বই পড়ুন
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা লাইব্রেরী

    সিদ্ধেশ্বরী থেকে চাচা এসেছিলেন, সাড়ে নটা পর্যন্ত ছিলেন, জরুরি কথা আছে। কালকেই দেখা করতে বলেছেন–

    গুলি মার!

    বারবার বলেছেন, কালই যেতে; খুব চটে গিয়েছেন তোর ওপর। খুব চোটপাট করেছে তাহলে? আমরা বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও যাবো কি না জানতে এসেছিলেন, সবাইকে দেশে পাঠাচ্ছেন। আমাদেরও যেতে বলছেন সঙ্গে!

    যতোসব গুবলেটমার্কা কথা। বাড়ি ফেলে রেখে যাই, আর সবকিছু লুটপাট হয়ে যাক, ভালো করতে পারি না মন্দ করতে পারি, কি দিবি তা বল!

    সেজখালাও এসেছিলেন–

    বলিস কি! কতোক্ষণ ছিলো?

    দুপুর থেকেই ছিলেন, সন্ধ্যার একটু আগেই চলে গেলেন। তুই যাসনে কেন?

    আরও দেখুন
    বিছানায়
    বালিশে
    বালিশ
    বিছানা
    বিছানার
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    Books
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    সাহিত্য পত্রিকা
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার

    বললো বুঝি?

    কতো কান্নাকাটি করলেন। শিগগির কুমিল্লায় চলে যাচ্ছেন সবাই, শুধু সেজখালু থাকবেন। আমাদের যেতে বলেছেন ওঁদের সঙ্গে।

    হুঁ। সঙ্গে নিশ্চয়ই বেলী ছিলো, না থেকে ভালোই হয়েছে, বেলীটা একেবারে অসহ্য আমার কাছে।

    থেকে যেতে চেয়েছিলো, সেজখালা রাজি হলেন না, বললেন আমি একা একা ফিরতে পারবো না, অন্যদিন আসিস।

    পরে শোনা যাবে সব, এখন ওঠ দেখি। হাবার মতো এ্যাঁয়ু এ্যাঁয়ু করে কাঁদছিলি কেন?

    এমনিই। এমনিই আমার কেউ কাঁদে নাকি?

    আমি এমনিই কাঁদি–

    আরও দেখুন
    বিছানার
    বিছানায়
    বালিশ
    বিছানা
    বালিশে
    বাংলা ইসলামিক বই
    বাংলা বই
    Books
    বাংলা ভাষার বই
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই

    তার মানে তোর ট্রিটমেন্ট দরকার। তোর কানে গরম রসুন-তেল ঢালা দরকার; নির্ঘাত একটা ইস্কুরুপ ঢিলে হয়ে গিয়েছে তোর মাথার ভিতর। দেরি করে ফিরেছি বলে কাঁদছিলি?

    বাপির জন্যে মন কেমন করছিলো।

    এটা তোর বাড়াবাড়ি। তারিখ এসেছে যে হাপুস নয়নে কান্না। জুড়বি?

    যদি না আসতে পারে?

    যদি আবার কি এ্যাঁ? তোর যতো উড়ো বায়নাক্কা। খামোকা মন খারাপ করাটা ধাত হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেমে চল, দারণ খিদে পেয়েছে, পেট চুইচুই করছে। দুপুরের মাছ রেখেছিস তো, কি মাছ?

    পাবদা!

    পাবলো নেরুদা–গুড!

    আরও দেখুন
    বিছানা
    বিছানায়
    বিছানার
    বালিশ
    বালিশে
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    বাংলা গল্প
    বাংলা ভাষার বই
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    উপন্যাস সংগ্রহ

    দুজনে একসঙ্গে খেলো। পরে একসময় রঞ্জু বললে, তুই একটা আজব মানুষ, এতোক্ষণ কিছুই নজরে পড়ে নি তোর, আশ্চর্য!

    কেন কি হলো আবার?

    দেখতে পাচ্ছিস না কিছু?

    কি জানি বাবা—

    ময়নাকে দেখছিস?

    তাই বল! কি হলো আবার ময়নাটার? ঠিকই তো, এসে থেকে ওকে দেখি নি। ওর বাবা নিয়ে গেছে বুঝি?

    রঞ্জু বললে, ওর বাবা বিকেলের দিকে এসেছিলো ওকে নিতে, কিন্তু পায় নি–

    আরও দেখুন
    বালিশে
    বিছানার
    বিছানা
    বালিশ
    বিছানায়
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা ইসলামিক বই
    অনলাইন বুক
    বই পড়ুন

    পায় নি মানে, কি আবোল-তাবোল বকছিস?

    পায় নি মানে পায় নি! ইচেছমতো তেরিবেরি করে গেল, তুই থাকলে নির্ঘাত হাতাহাতি হয়ে যেতো তোর সঙ্গে। লোকটা এমন মুখফোড়!

    তা না হয় হলো, কিন্তু ময়নার ব্যাপারটা কি?

    ময়না চলে গেছে!

    তোকে বলে গেছে?

    হ্যাঁ!

    কিন্তু এ রকম হঠাৎ চলে যাবার মানে কি? গেলই-বা কোথায়?

    আরও দেখুন
    বিছানার
    বিছানায়
    বিছানা
    বালিশ
    বালিশে
    Books
    বাংলা ই-বই
    Library
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    গ্রন্থাগার

    ময়না হাতেম আলীর সঙ্গে গেছে—

    কি সর্বনাশ! তার মানে ইচ্ছে করেই গেছে। পেটে পেটে এতো বজ্জাতি মেনিমুখো ছোকরার! আগে থেকে জানতিস তুই?

    না! আজকেই শুনলাম সব। হাতেম আলী ওকে বিয়ে করবে। যাবার সময় বলে গেছে, ওর কোনো দোষ নেই!

    তুই যেতে দিলি কেন?

    দেবো না-ই-বা কেন?

    তুই জানিস হাতেম আলীর মনে কি আছে?

    হাতেম আলী ওর কাছে অনেকদিন থেকে পয়সা জমায়, ওই জমা। পয়সা থেকে কানের দুলও গড়িয়ে দিয়েছে ভিতরে ভিতরে। তেমন। তাড়াহুড়ো ছিলো না ওদের, হুট করে ময়নার বাবা এই টানা-হাচড়া পাকালো বলে–

    আরও দেখুন
    বিছানা
    বিছানায়
    বালিশ
    বিছানার
    বালিশে
    বাংলা ই-বই
    সেবা প্রকাশনীর বই
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    অনলাইন বুক

    তবু আস্কারা দিয়ে তুই ভালো করিস নি—

    ও বুঝি আমার বারণ শুনতো?

    একশোবার শুনতো। দায়িত্ব আছে আমাদের। সব জেনেশুনেই একটা উটকো লোকের সঙ্গে যেতে দিয়ে তুই ভুল করেছিস!

    ও আমাকে বলতে চায় নি। আবডালে বসে বসে কাঁদছিলো, ওর প্ল্যান ছিলো না-বলে পালানোর। শুধু আমার চাপে পড়ে সব স্বীকার করে ফেলেছে!

    কিন্তু তোর কাজটা হয়েছে বোকার মতো, এদের আস্কারা দিতে নেই; কি থেকে কি দাঁড়ায় তুই কি জানবি! কোনো চালচুলো নেই, ঠিক-ঠিকানা নেই, হাতেম আলী যদি ওকে পথে বসিয়ে দেয় শেষ পর্যন্ত, তখন? সব চাপবে আমাদের কাঁধে। তোর উচিত ছিলো আমার সঙ্গে পরামর্শ করা, মতামত জানা।

    আরও দেখুন
    বিছানা
    বালিশ
    বিছানার
    বালিশে
    বিছানায়
    বাংলা কমিকস
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    বাংলা হেলথ টিপস ই-বুক
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ

    রঞ্জু ক্ষিপ্ত হয়ে বললে, পাচ্ছি কোথায় তোকে? আমার বারণ শুনতে ওর বয়েই গেছে! ও নিজে যদি ভালো মনে করে থাকে আমাদেরই-বা অতো মাথাব্যথা কিসের!

    খোকা রঞ্জুর মুখের দিকে তাকালো! একরোখা জেদি ভঙ্গিতে ও পায়ের পাতার দিকে তাকিয়ে আছে। সে বললে, টাকা-পয়সা নিয়েছে?

    হ্যাঁ, আমিই চুকিয়ে দিয়েছি, ওর আশি টাকা জমা ছিলো—

    বিরসমখে গা-হাত-পা ছেড়ে দিয়ে খোকা বললে, তাহলে এই ব্যাপার।

    রঞ্জু কোনো কথা বললো না, মাথার বিনুনি খুলে নতুন করে কষে বাঁধতে বাঁধতে কেবল এক পলকের জন্যে খোকার মুখের দিকে তাকালো।

    খোকা বললে, মুখ আঁধার করে বসে আছিস কেন অমন?

    তুই-ই-বা মিথ্যে মিথ্যে আমার কাঁধে দোষ চাপাচ্ছিস কেন!

    দোষ দিলাম বুঝি?

    তবে কি!

    যাব্বাবা!

    রঞ্জু বললে, তুই একটা কাটমোল্লা!

    তুই বুঝি?

    হাতেম আলীটা খুব সরল, ওর ভিতরে কোনো প্যাঁচঘোচ নেই, বলিস নি আগে? কি এমন দোষ হয় ময়নাকে যদি ও বিয়ে করে? ময়না তো ওকে ভালোবাসেই–

    আরেব্বাপ, ভক্তি বেড়ে যাচ্ছে তোর ওপর। কি করে জানবো তুই। এতো বুঝিস?

    বললাম তো, তুই একটা বুড়ো ভাম।

    কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর একটা সিগ্রেট ধরিয়ে খোকা বললে, তাহলে সবাই ঢাকা ছেড়ে পালাচ্ছে–

    রঞ্জু কোনো উত্তর দিলো না।

    তোর কি খুব ভয় লাগছে, সেজখালাদের সঙ্গে যাবি?

    না।

    এখানে থেকেই-বা কি করবি? এখনই কেমন ভুতুড়ে ভূতুড়ে ঘুটঘুটে হয়ে গিয়েছে পাড়াটা, তুই বরং বেলীদের সঙ্গে চলেই যা। কোনোদিন বাঁশঝাড় এঁদো পানাপুকুর দেখিস নি, এসব দেখা হবে। কি যেন গ্রামটার নাম, বাঞ্ছারামপুর, তুই যদি মনে মনে কোনো কিছু যাচ ঞা করিস তা পূর্ণ হবে ওখানে।

    দরকার হলে তুই যা না!

    আবার খাঁউ! ওখানে গেলে কেউ তোকে গিলে খাবে না।

    বাপির কথা খেয়াল নেই বুঝি?

    সে–তো আমি আছিই। দুজনে মিলে তোর ওখানে হাজির হবো। ব্যাপারটা মন্দ হয় না কিন্তু। এমনিতেও তোর কিছুদিন একলা থাকা দরকার, তখন মর্ম বুঝবি—

    রঞ্জু বললে, তুই বরং ওদের সঙ্গে যা, বেলীও খুব খুশি হবে।

    তাই বল! এতোক্ষণে বুঝলাম তোর গররাজি হওয়ার কারণটা। তুই বুঝি বেলীকে খুব হিংসে করিস?

    হিংসার কি আছে এতে? বেলীর চিন্তায় দিনরাত যেন আমার ঘুম হচ্ছে না?

    ঘুম হচ্ছে না আমার—

    বেলীকে দেখলে তো তাই মনে হয়।

    ওর একটা দুস্তরমতো হাতেম আলী দরকার, বুঝলি না!

    তোর মুখটা একটা নরদমা।

    তোর মুখ একটা ফুলের বাগান।

    একটু পরে খোকা বললে, বেলীটা নিছক ঝামেলা। আপদটাকে কেন যে বিদায়ের ব্যবস্থা করছে না বুঝি না। সেজখালার উচিত দড়াম করে ওটাকে বিয়ে দিয়ে পার করা। দাঁড়া, এবারে এলে আমি নিজেই তুলবো–

    পাত্র দেখে দিতে পারবি?

    সেটাও একটা কথা। গোল্লায় যাক! বেলীফেলী নিয়ে মাথা ঘামিয়ে তোর কোনো লাভ নেই, ওর ইস্কুল আলাদা, কালিকলম বইশ্লেট আলাদা; ওর ব্যাপার তুই বুঝবি না।

    রঞ্জু বললে, পাড়ার কতোগুলো ছেলে এসে আজ ঝামেলা বাধিয়েছিলো। আমাদের ছাদে ফ্ল্যাগ নেই, খুব চোটপাট করছিলো ছেলেরা, বলছিলো বোমা মেরে উড়িয়ে দেবো–

    যে যার নিজের ছাদে একটা ফ্ল্যাগ ওড়ালেই সব হয়ে গেল আর কি! কারা যে এইসব চ্যাংড়াদের বুদ্ধি জোগায়! কি বললি ওদের?

    দশ টাকা দিয়ে একটা ফ্ল্যাগ কিনতে হলো ওদের কাছ থেকে। ছাদে উড়িয়ে দিয়েছে লেবু।

    ঝক্কি চুকেছে। নে এখন শুয়ে পড়।

    খোকা নিজের ঘরে চলে এলো।

    চারপাশে বইপত্র ছড়ানো। বিছানার চাদরও এলোমেলো, লণ্ডভণ্ড। এখানে বই, ওখানে খাতা, ঘরে পা দিয়ে একটু অবাকই হলো খোকা। ভূতপ্রেতের দল ফাঁকা পেয়ে মনের সাধ মিটিয়ে একচোট নাচানাচি করে গিয়েছে ঘরময়। কেবল দলামোচড়া কতগুলো কাগজ ভাঁজ করে অযত্নে কাটগ্লাসের ভারি এ্যাশট্রেটা চাপা দিয়ে রাখা। একটির পিছনে লেখা কেন লেখো, কেনই-বা ধ্বংস করো, তুমি কি?

    এক সময় বিছানার চাদর ঠিক করতে গিয়ে বালিশ সরাতেই চোখে পড়ে একটি চারভাজের কাগজ :

    খুব শিগগির আমরা বাঞ্ছারামপুর যাচ্ছি। তুমি যাবে না? যদি না যাও, হয়তো আর কোনোদিন দেখা হবে না। দেখা কোরো, ভয় নেই। তোমার কথা সবসময় মনে হয়। বড় নিষ্ঠুর তুমি। পায়ে পড়ি দেখা কোরো। তোমাকে তো পারে নি, তাই তোমার একলা বিছানাটাকেই এলোমেলো তছনছ করে দিয়ে গেল বেলী।

    বেড়ে লিখেছে ছুঁড়ি, বিড়বিড় করতে থাকে খোকা। একলা বিছানা, খাসা খাসা! ভিতরে ভিতরে একেবারে ঝুনো হয়ে গিয়েছে, শাঁস বলতে কিছু নেই, সব ফোঁপল হয়ে গিয়েছে, ফোঁপল ফোঁপল।

    বুকের তলায় বালিশ খুঁজে বারবার উল্টেপাল্টে নেড়েচেড়ে দেখতে লাগলো চিঠিটা। খোকা মনে মনে বলতে লাগলো, পেকে গিয়েছে, বোটার গোড়া পর্যন্ত পেকে গিয়েছে এ মেয়ে। কায়দাটা ভালোই রপ্ত করেছে, তোমাকে তো পারিনি রক্ষে করো, না, গুণ আছে ওর, ওর লাইনে ও ডিগ্রি নেবার মতোই; এইজন্যেই লতানো ঝুলপি ভোগলা। পায়জামা আর ধনুকমার্কারা ওর পিছনে কামড়ি খেয়ে লেগে থাকে। সত্যি, গুণ আছে ওর। প্রতিটি সুযোগকেই কাজে লাগাতে চেষ্টা করে, একটাই ওর চিন্তা, একটাই ওর সাধনা, কি দারুণ অধ্যবসায়! ওর হবে!

    কেন লেখো, কেনই-বা ধ্বংস করো, ভেবে দেখতে হবে, খোকা মনে মনে হাসলো। ভেবে দেখলেও, ঠোঁটে লিপস্টিক ঘসার মতো সহজ করে বলা কি কোনোদিন সম্ভব হবে!

    একের পর এক সিগ্রেট পোড়াতে থাকে খোকা, শেষ পর্যন্ত ময়নাকে কেন্দ্র করে তার ক্ষোভ ডালপালা বাড়ায়; কি করে পারলো রঞ্জু এমন একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে!

    খোকার বিশ্বাস, ব্যাপারটা বাড়াবাড়ির। কোনো গোপন অভিলাষ দ্বারা কি অজ্ঞাতসারে সে প্ররোচিত হয়েছে?

    মুরাদের কথা মনে হলো খোকার। তার ধারণা মুরাদের মনোভাব পরিষ্কার বুঝতে পেরেছিলো সে। প্রথম থেকেই আমতা আমতা করছিলো। কদিন থেকে একনাগাড়ে কিল খেয়ে কিল হজম করে চলেছে, এটা ওর স্বভাবই নয়। রঞ্জুর দিকে মুরাদের তাকানোর ভঙ্গিটাও কিছুটা কুৎসিত ধরনের। অর্থপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকায় মুরাদ, আর জোর করে চোখমুখে এমন একটা নিস্পৃহতা আনে যাতে মনে হয় নিদারণ বীতশ্রদ্ধ সে এখন। এ চালাকি সে ভালো করেই বোঝে, নিরাসক্তির ব্যাপারটা স্বভাবের, জোর করে কেউ নিরাসক্ত হতে পারে না। অতো লুকোচুরির কি আছে; বন্ধুর বোন থাকলেই তাকে গিলে খেতে হবে! একটা মফস্বলের স্ব ভাব, গ্রাম্যতা। অগ্রপশ্চাৎ কোনো বিবেচনা নেই, মেয়ে দেখলেই বনবন করে মাথা ঘুরে যায়, কি হাঘরে স্বভাব এদের। এই স্কুলরুচির আমড়া কাঠের চেঁকিগুলো বন্ধুত্বের মর্যাদা রাখতে জানে না। হাত ধরে ঘরে নিয়ে এসেছো কি বিপদ, শুরু হয়ে গেল চুলবুলুনি, গাবাগাবি; লটকাও বন্ধুর বোনকে!

    মুরাদের আহত মুখচ্ছবি ভেসে উঠলো। ব্যথিত হয়েছে মুরাদ। কথা বলতে পারছিলো না, কেঁদে ফেলার উপক্রম হয়েছিলো বেচারার। গায়ে। পড়ে দুরমুশ করেছিলো সে, মুরাদ ভ্যাবাচ্যাকা মেরে গিয়েছিলো; এ ধরনের আক্রমণের জন্যে তার কোনো মানসিক প্রস্তুতি ছিলো না। অমন উদোম আলাপের পর তার আর কোনো পথই ছিলো না গোপন কথা ওগরানোর। সে ইচ্ছে করেই হাতে হ্যারিকেন দিয়েছে, এক অর্ধচন্দ্রেই একেবারে রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে।

    এক সময় খুব খারাপ লাগলো খোকার; নিকৃষ্ট পন্থা অবলম্বন করেছিলো সে, তার নিজের ব্যবহারও খুব একটা রুচিসম্মত নয়, মনে। হলো এইসব। সময় সময় এমন নিষ্ঠুর হয়ে যাই, খোকা শুয়ে শুয়ে আকাশ-পাতাল ভাবতে লাগলো, মুরাদের সঙ্গে এই নির্দয় ব্যবহার বন্ধুত্বের অতি সাধারণ একটি দাবিকেও অস্বীকার করে যায়। কিন্তু কেন, সব ব্যাপারটা আগাগোড়া সুন্দরভাবে শেষ করে দেওয়াও তো এমন কোনো কঠিন কাজ ছিলো না! স্পষ্ট বললেই হতো, রঞ্জুর দিক থেকে সে তার চোখ ফিরিয়ে নিক। নিছক কষ্টের ভিতর পা বাড়িয়ে কি লাভ তার! সে ভুল বুঝেছে রঞ্জুকে। রঞ্জু ভিন্ন ধাতের মেয়ে, ওর নিজেকেই পস্তাতে হবে শেষ পর্যন্ত। সে তো জানেই তার স্পষ্টবক্তার সুনাম আছে; শুধু এই সুনামটুকুই তাকে ভাঙাতে হতো। কাটগোয়ারের মতো সে বেছে নিয়েছিলো উল্টো পথ।

    স্নায়বিক উত্তেজনা খোকাকে এলোমেলো করে দিলো এক সময়। এ ধরনের অস্থিরতার সঙ্গে তার কখনো পরিচয় ঘটে নি; এমন এক বিপর্যয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে সে আজ, যেখানে তার সব দৃঢ়তা মোমের মতো নিঃশব্দে গলে গলে পড়ে। আক্রোশে ফেটে পড়ে খোকা, বন্ধুত্বের সহজ নিবিড় সম্পর্কের মাঝখানে বাতুল সমস্যা এনে রেষারেষির প্রয়োজনই-বা কি! গাঁউয়া, নিরেট গাঁউয়া এই মুরাদ; স্বেচছায় সবকিছু দূষিত আবর্জনাময় করে তুলতে সে মনে মনে বদ্ধপরিকর। বন্ধুত্ব আর ডাস্টবিনের ভিতর কোনো পার্থক্য নেই।

    বুকের তলার বালিশটাকে দুমড়ে দেয় খোকা। রঞ্জুর মতো মেয়ের কথা ভেবে সবকিছু বাস্তবতার নির্মল আলোকে বিচার করে দেখা উচিত ছিলো মুরাদের। চার বছর যাবৎ দেখে আসছে মুরাদ রঞ্জুকে। এখনকার আর পাঁচটা ডুগডুগি বাজানো। মেয়েদের মতো বেলেল্লা নয় রঞ্জু, অনেক আগেই তার বোঝার কথা। নিছক একটা ঘরকুনো মেয়ে, খোলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে সারাদিনের ভিতর একটিবারও যার রাস্তার দিকে চোখ মেলে তাকাবার প্রয়োজন হয় না। তার এই আড়ষ্টতার কথা, ঘরকুরোমির কথা, নিজের কুণ্ডলীর ভিতর অচৈতন্যথায় পড়ে থাকার কথা, খুব ভালো করেই জানে মুরাদ।

    না কি রঞ্জুই ওকে সাহস জুগিয়েছে?

    সাহসের যে জোগানদার তার নিজেকেও সাহসী হতে হবে এমন কোনো ধরাবাধা নিয়ম নেই। রঞ্জু নিজে কতটুকু সাহসী? সবকিছুই কি নিখুঁত একটা অভিনয়? দিনের পর দিন স্রেফ অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছে রঞ্জু?

    রঞ্জু একটা দারুণ সমস্যা, এতোদিনে হঠাৎ মনে হয় খোকার। মুরাদকে কি সে গোপনে গোপনে কোনো চিরকুট চালান করেছে? এমন। বুকের জোর পেল কোথা থেকে মুরাদ? রমনা রেস্তরাঁয় মুখের ওপর ফশ করে একটা চিঠি ছুড়ে মারলে তার কি দশা হতো? নিজের সঙ্গে যুদ্ধ। চলে খোকার।

    শেষ পর্যন্ত খোকা সন্ধি করে। রঞ্জু রঞ্জুই; রঞ্জু যদি ছিটেফোঁটা অনুকম্পাও করতো, মুরাদকে, তাহলে নিজেকে ঢেকে রাখতো মুরাদ, অহঙ্কারের তাপে তার মনোবল অবলম্বন করতো ভিন্ন পথ; আকুলি বিকুলি করতে হতো না তাকে অমন। এটা একটা একপেশে ঘোড়ারোগ, আলোচাল দেখে যেমন ভেড়ার মুখ চুলকায়।

    বেলীর কাণ্ডকারখানা দেখে কতোবার মুখ টিপে হেসেছে রঞ্জু। বিছানার উপর বিশ্রীভাবে শুয়ে থাকার জন্যে দুম করে একবার কিল। বসিয়েছিলো বেলীর পিঠে। বেলী জোর করে যখন তাকে সস্তা সিনেমার গল্প শোনায় সে তখন বেলীর অজান্তে ঘুমিয়ে কাদা হয়ে থাকে; ঝিঝিপোকার একটি ফিনফিনে ডানা, একফোঁটা বৃষ্টির ভারেও যা মচকে যায়।

    রঞ্জুকে একবার জিগ্যেস করে দেখলে কি হয়?

    উচিত হবে?

    না, উচিত হবে না। ঘৃণায় কুঁচকে যাবে রঞ্জু। কদর্য চোখকে কি করে ঘণা করতে হয় সে তা জানে। সে জানে, সে কোনো কুড়ানো মেয়ে নয়। রাস্তার, ফ্যালনা ন্যাতাকডনি পাতাকডনি নয়: নোংরা এঁটো চোখে কেউ তার দিকে তাকিয়ে আছে একথা শুনলে আতঙ্কে শিউরে উঠবে সে।

    মুরাদের উচিত তার ওই যাত্রাদলের সস্তা স্বভাব বদলানো। স্পষ্ট বলে দিতে হবে ওকে। য়ুনিভার্সিটিতে থাকার সময় যে সব বদভ্যাস ছিলো এখনো কিছু কিছু তার থেকে গিয়েছে। ওর নজরটাই খারাপ। টিউটোরিয়্যালের চিন্তায় অন্যদের মাথার ঘিলুর ভিতর যখন কিলবিলে পোকার কামড়ানি চলছে ও তখন করিডোরের মেয়েদের দৃষ্টি আকর্ষণী পায়চারিতে মশগুল। পুরুষ্টু মেয়েদের দেখলেই ওর চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। বলতো-ও মাঝে মাঝে, থর নামা দেখলে আলামিয়াকে ভালোবাসতে ইচ্ছে করে আমার, ভালো কাম যদি তার কিছু থেকে থাকে তাহলে এই সবই। এমনকি রাস্তাঘাটে ভারবাহী জন্তুর মতো স্বাস্থ্যভারানতা যুবতী দেখলে ও পাগলামি শুরু করে দেয়, নাল গড়ায় ওর নোলা দিয়ে। হঠাৎ রঞ্জু ওর মাথার ভিতরে ঢুকলো কি করে ভেবে পায় না খোকা; কে বলবে এটা তার পুরানো স্বভাবেরই একটি অপভ্রংশ নয়! স্বাধিকারপ্রমত্ত আজকের মানুষ কপচাবার সময় দিব্যি আবার বদলে যায়।

    রঞ্জু কি?

    একটা টিনটিনে ফড়িং। দেখে মাতলামি চাগিয়ে ওঠার মতো কিছুই নেই ওর শরীরে। আদর করে একটু জোরে চাপ দিলেই মুড়মুড়িয়ে ভেঙে যাবে ওর হাত। পায়ের তলায় সামান্য একটু কাকর ফুটলে এখনো চোখমুখ সাদা ফ্যাকাসে হয়ে যায়। এখনো কাঁটা বেছে পাতে তুলে না দিলে ইলিশ মাছ খেতে পারে! এতো পলকা এতো কোমল যে সামান্য একটি দূর্বাঘাসের ভারও তার জন্যে অনেক; এইভাবে তাকে তুলোয় মুড়ে রাখতে খোকার ভালো লাগে।

    ক্ষয়রোগ তলে তলে কুরে খায়, তারপর আচমকা একদিন এক ঝলক রক্ত তুলে কেতন উড়িয়ে জাহির করে নিজেকে; বয়েসও একটা ক্ষয়রোগ। বকের ভিতর ফাঁকা হয়ে গেল খোকার; আর সেই আসবাবপত্রহীন ফাঁকা ঘরে আপন অসহায়তার নুলো হাতে পিটপিটে কুপির আলো দেয়ার জন্যেই হাই হুম হাম শব্দ করলো দুচারবার। তার যাবতীয় দুর্ভাবনার গায়ে আকুল তার পুঞ্জ পুঞ্জ আর্দ্রতা জমে : হয়তো আমার নিজের চোখে ধরা পড়ছে না, নিরন্তর সাধন করে দিচ্ছে এই চোখ আমাকে, তুমি কোনোদিন সত্য উচ্চারণে সফলকাম হবে না এবং যাতে সফলকাম না হও সেইমতো একজোড়া কড়ির চোখ হয়ে আজীবন আমি তোমাকে পাহারা দেবো।

    মুরাদকে কি আমি হিংসা করবো, আমার চোখজোড়া ওর মতো সন্ধানী নয়। ও যা দেখতে পায় আমি তা দেখি না কেন! গাছের একটি ভিজে পাতায় চন্দ্রালোকে দ্যাখে মুরাদ, আমি দেখি উদ্যত ফণা, ফলে আছাড় খেয়ে পড়ি দুঃস্বপ্নে। রঞ্জু কি হঠাৎ বড় হয়ে গেল?

    ঘুম এলো না কিছুতেই। উঠে পানি খেলো খোকা। সিগ্রেট ধরালো। বই খুলে চেষ্টা করলো মনোযোগ দেয়ার, কিন্তু সবাই বৃথা, শত চেষ্টা করে ও একটা পৃষ্ঠা ওল্টাতে পারলো না সে। কি হয় বই পড়ে, অপরিসীম শ্রান্তি ও অনমনীয় কাতরতায় একটু একটু করে সে নুয়ে পড়ে; সে জানে এমন একটি চিন্তাও নেই সম্পূর্ণত যা তার নিজস্ব, একেবারে নিজের বলতে যা আছে তা কেবল যন্ত্রণা। এই একটাই সম্পত্তি যা একান্ত ভাবেই তার নিজস্ব। প্রত্যেকটি মানুষের যন্ত্রণা যার যার নিজের মতো, কারো সঙ্গে কারো মিল নেই, এই একটিই সম্পত্তি যা কারো কাছ থেকে ধার নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

    শেষে পায়ে পায়ে রঞ্জুর ঘরে ঢুকলো।

    বনস্পতির ছায়ার মতো মনোরম সবুজ আঁধার হালকা পাতলা ছিমছাম রঞ্জুর এই একটিপ শরীরটুকুকে কোমলতায় আচ্ছন্ন। করে রেখেছে। মনে হয় রাশি রাশি পাতার ফাঁক দিয়ে আসা এক চিলতে জ্যোছনার শান্ত নিরুদ্বিগ্ন আলো, যেন লতাগুল্মের স্নিগ্ধ নিশ্বাস; রাত্রিরানীর স্খলিত বসনের একটি চিকন সোনালি সুতো। ডাকবে কি ডাকবে না ভাবতে ভাবতে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে খোকা।

    তারপর এক সময় আলো জ্বেলে দেয় খুট করে।

    ঘুমিয়ে পড়েছিস?

    না।

    ঘুম আসছে তো?

    না।

    আমারও ঘুম আসছে না। বসবি কিছুক্ষণ বারান্দায়?

    উঠছি—

    ভিতরের বারান্দায় বসলো দুজনে। জ্যোছনার ঢল নেমেছে আজ। খুব কাছাকাছি কোথাও একটানা ডেকে চলেছে একটি পাখি।

    মাঝে না সিগ্রেট কমিয়ে দিয়েছিলি?

    কেন?

    এতো সিগ্রেট টানছিস কেন আজ?

    কি জানি—

    তুই না বলিস, বেশি সিগ্রেট খেলে ঘুম হয় না?

    মনে করিয়ে দিবি তো!

    আমি জানি—

    কি জানিস?

    তোর মন খারাপ?

    কই? নিজের মুখ তো আর দেখতে পাচ্ছি না!

    তোরও তো মন খারাপ!

    বললেই হলো—

    অতো চোটপাট করলে কে তখন?

    সে তো তুই—

    পান্তয়াটি! কাটমোল্লা বলে গাল দিস নি?

    খোকার একটা হাত ধরে আবার ছেড়ে দিয়ে বললে, কই দেখা তো কোথায় ফোস্কা পড়েছে!

    খোকা বললে, তুই যদি আর কোনোদিন আমার সঙ্গে মুখ কালো করে কথা বলিস, তাহলে তার ফল খুব ভালো হবে না, আগে থেকেই বলে দিচ্ছি, আমি কিন্তু ভাগোয়াট হয়ে যাবো।

    দিন দিন তোর আবদার বেড়ে যাচ্ছে।

    আর তুই বুড়ি হয়ে যাচ্ছিস—

    বুড়ি তো হবোই, তোর মতো?

    তুই বুড়ি হতে পারবি না।

    খোকা সিগ্রেটের প্যাকেটে হাত দিতেই রঞ্জু কেড়ে নিলো, বললে, খবরদার আর একটাও ধরাতে পারবি না

    খোকা বললে, তোর এতো মাথাব্যথা কিসের? আমার দিকে তোর খেয়াল আছে কোনো?

    কে দ্যাখে তবে?

    বেলী যে আমার ঘর অমন লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে গেল, তুই কিছু বলতে পারিস নি? উচিত ছিলো না বলা?

    ওর ভালো লেগেছে ও করেছে, আমি বাধা দেবো কেন?

    ইচ্ছে করলে তুই ওকে লজ্জা দিতে পারতিস।

    মানুষকে কাঁদাতে খুব ভালো লাগে, না?

    আমি বুঝি সবাইকে কাঁদাচ্ছি?

    তবে কে?

    তুই একটা মিথুক!

    তোর মতো কেউ এমন নিষ্ঠুর নয়। আমাকে একা বাড়িতে ফেলে সারাদিন ড্যাংড্যাং করে ঢাকা শহর ঘুরে বেড়ানোর সময় কোনো কিছু মনে থাকে না তোর। যা ভয় লাগে! এই গণ্ডগোলের সময় এতোবড় বাড়িতে একা থাকা যায়, না?

    ঠিক আছে, কাল থেকে দেখিস, পায়ে এক্কেবারে তালাচাবি। যদি কোথাও যাই তোকেও নিয়ে যাবো পোঁটলা বেঁধে, যাবি তো?

    সকাল পর্যন্ত মনে থাকলে হয়।

    কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর হঠাৎ খোকা বললে, আচ্ছা এমন যদি হতো, আমরা চিরকাল ঠিক এখনকার মতোই ছোট থেকে গেলাম, কি হতো তাহলে?

    ভালোই হতো—

    তোর ইচ্ছে করে?

    করেই তো!

    সত্যি বলছিস?

    না মিথ্যে বলছি, হলো তো!

    আচ্ছা ধর, আমি যদি হঠাৎ মরে যাই তোর কি রকম লাগবে, খুব কাঁদবি না? ভেবে দ্যাখ ঝগড়া করার মতো তোর আর কেউ নেই তখন–

    আমার খুব মজা হবে বুঝলাম–

    মজাই তো! ছাদে বেড়াবো, ছেলেদের দিকে তাকিয়ে হাসবো, প্রেমপত্র লিখবো, বিছানা এলোমেলো করে দেবো, যা ইচ্ছে তাই করে বেড়াবো

    ইচ্ছে হলে এখনো তা করতে পারিস!

    পারি-ই তো! আমি কি তোর ভয় করি?

    আমি বুঝি তাই বলেছি?

    ওনার ভয়ে আমার ঘুম হচ্ছে না কিনা—

    রেগে যাচ্ছিস কেন, তোকে নিয়ে এক মুশকিলই হয়েছে!

    নিজে সাধুপুরুষ–

    এই বুড়ি, ও কি রে হঠাৎ ঝুঁকে পড়ে রঞ্জুর একটা হাত ধরে খোকা বললে, চোখে পানি কেন, কাঁদছিস বুঝি? এই পাগলি কাঁদছিস কেন, কান্নার কি আছে–

    কোনো উত্তর দিলো না রঞ্জু, কেবল একটু জোরে সে ফুপিয়ে উঠলো। ওর হাত ধরে ঝাকুনি দিয়ে খোকা বললে, কি তাজ্জব কথা, হলো কি তোর? কথায় কথায় ভেঁপু–

    মরার কথা তোলার সময় খেয়াল থাকে না!

    তাই বুঝি, এর জন্যে এতো ঝড়-বৃষ্টি? আগে তো এ রকম ছিলি না? তুই দেখছি পাগল না করে ছাড়বি না!

    কেন তুলবি তুই ওসব বাজে কথা?

    ভুল হয়েছে বাবা, মাফ করে দে—

    কি অন্যায় করেছি আমি, যে তুই ওসব অলক্ষুণে কথা তুলবি!

    আরে বাবা বললেই তো আর কেউ মরে না, মরা কি অতো সহজ!

    কি জানিস তুই, কখন কোন কথা লেগে যায়, কখন কোন্ কথা সত্যি হয়ে যায়!

    ঠিক আছে, আর কখনো বলবো না, কথা দিচ্ছি!

    ভেজা চোখে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো রঞ্জু। বললে, সব জিনিশ নিয়ে ঠাট্টা-ইয়ার্কি করবি না কিন্তু–

    আবার? মাথা খারাপ তোর!

    বুক আলগা কর–

    খোকার পরনে ছিলো পাঞ্জাবি। দুটো বোতাম খুলে ফেললো সে। রঞ্জু থু থু থু করে তিনবার তার বুকে থুতু দিলো।

    যাক বাবা, এ যাত্রা কোনোমতে টিকে গেলাম!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমাহমুদুল হকের গল্প
    Next Article কালো বরফ – মাহমুদুল হক

    Related Articles

    মাহমুদুল হক

    অনুর পাঠশালা – মাহমুদুল হক

    November 8, 2025
    মাহমুদুল হক

    কালো বরফ – মাহমুদুল হক

    November 8, 2025
    মাহমুদুল হক

    মাহমুদুল হকের গল্প

    November 8, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }