Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জীবন কাহিনি – শক্তিপদ রাজগুরু

    শক্তিপদ রাজগুরু এক পাতা গল্প170 Mins Read0
    ⤷

    জীবন কাহিনি – ১

     ১

    ঝকমারি আর কাকে বলে!

    জীবনবাবুর কালঘাম ছুটে গেছে জীবন-জোড়া এই ঝকমারির ধাক্কা সামলাতে। নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, নুন আর পান্তা কখনো একসঙ্গে জোটে না।

    এই তার প্রতিদিনকার ব্যাপার।

    রাগ করে মেয়ে বাসন্তীর উপরই। ধমকে ওঠে,

    —কি করিস এত পয়সা? সেদিন তো দিলাম পাঁচ টাকা।

    বাসন্তী কথা বলে না, বাবার দিকে চুপ করে একবার তাকাল ডাগর দু’চোখ মেলে। জীবনবাবু তখনও গজগজ করে চলেছে।

    —নবাব নন্দিনী, দু’হাতে টাকা ওড়ালে আমি কোথায় পাব? টাকার গাছ আছে নাকি যে, নাড়া দিলেই ঝরঝরিয়ে পাতা ঝরার মতো টাকা ঝরবে।

    বাসন্তী বাবাকে কি করে বোঝাবে যে, পাঁচ টাকা দিয়েছিল বাবা তিনদিন আগে। তার থেকেই দুজনের মতো চাল-ডাল-কয়লা-আলু সবই আনতে হয়েছে। বাকি আর কিছুই নেই তার থেকে। এ যেন পাখির বাসা, শুধু মাথা গুঁজে থাকাই যায় কোনোমতে। খাওয়ার ব্যাপারটা এখানে-ওখানে সারতে হবে। খাবার কোনো সংস্থান সেখানে থাকে না।

    বাবাকে কিছু বলতে পারে সে?

    জানে, বৃদ্ধ বয়সেও বাবার দুঃখ ঘোচেনি।

    মা ছিল, সেও অসুখে ভুগে বিনা চিকিৎসায়, বিনা পথ্যে মরেছে ধুঁকতে ধুঁকতে। বাবা ওষুধ-পথ্য কিছুই জোগাড় করতে পারেনি।

    অসহায় সংসার-বাতিল একটি মানুষ।

    জীবনবাবু দাওয়ায় বসে হাঁপাচ্ছে জোর গলায় ওই কথাগুলো বলে।

    বস্তি-বাড়ির একাংশ। মাঝখানে একফালি উঠোন। এককোণে একটা টিনের বেড়া দেওয়া ঘর, মাথার উপরের ছাদও ওই টিনের। পিছনের খোলা নর্দমার পাশে একটু ঠাঁই-এ কচুগাছের জঙ্গল।

    জীবনবাবু আনমনে বসে একটা বিড়ি ধরাল। বিড়ি টানতে টানতে হঠাৎ জানলার বাইরে চোখ পড়তেই দেখে জীবনবাবু, বাসন্তী একটা বঁটি হাতে নর্দমার ধারে সেই কচুগাছ কাটছে।

    সে জানে, আজকের তরকারির সাশ্রয় ওই বস্তুটিই।

    সুন্দর মেয়েটি কিছু বলে না। বাবা বকলেও বড়জোর দু’চোখ জীর্ণ ময়লা শাড়ির আঁচলে মোছে। কি-ই বা দিতে পেরেছে তাকে জীবনবাবু? পড়াশোনা সামান্য করেছিল, পরে তাও বন্ধ হয়ে গেছে বাসন্তীর।

    মেয়েকে স্কুলে পাঠাবার খরচও অনেক।

    বই-খাতা তো আছেই। স্কুলের মাইনে, তারপর বাইরে বের হতে গেলে দু’চারখানা শাড়ি- জুতো তাও চাই, কি করে এসব জোগাবে জীবনবাবু, বাধ্য হয়েই তাই বাড়িতেই বসে আছে বাসন্তী।

    তাকে দু’বেলা দু’মুঠো ভাতের ভরসাও দিতে পারেনি জীবনবাবু। তাই নিজের উপরই ঘৃণা আসে।

    বাসন্তী ইতিমধ্যে ফিরে এসেছে। দাওয়ায় নামাল-কয়েকটা কচুর শাক পাতা। জীবনবাবু উঠে পড়েছে।

    বাসন্তী বলে ওঠে—বেরোবে নাকি, বাবা?

    জীবনবাবু আড়ালে থেকে দেখেছে সংসারের আজকের সাশ্রয়।

    একটা ছোট দালদার টিনে সামান্য কিছু তলানি চাল মাত্র পড়ে আছে। তরকারির চুপড়িতেও কিছু নেই।

    জানে, বাসন্তী নিজে না খেয়েই ওই কণা ভাতই ধরে দেবে তার সামনে। জীবনবাবু সেই লজ্জা এড়াবার জন্যই বের হয়ে পড়তে চায়, তবু দু-এক জায়গায় চেষ্টা করলে যদি কিছু মেলে।

    মেয়ের কথায় বলে ওঠে জীবনবাবু,

    —হ্যাঁ। একটু জরুরি কাজ আছে।

    বাসন্তী বাবার দিকে তাকিয়ে থাকে। বাবা দুপুরের রোদেই বের হচ্ছে না খেয়েদেয়েই। সারাদিন কোথায় থাকবে কে জানে? আর খাবেই বা কি?

    বলে ওঠে বাসন্তী— খেয়ে-দেয়ে বেরিয়ো, এখুনি ভাত হয়ে যাবে।

    জীবনবাবু বেশ জানে, বাসন্তীর আজ জুটবে না কিছু।

    মেয়েটাকে বঞ্চিত করে ওই গ্রাস মুখে তুলতে বাধে তার। তাই দড়ির আলনা থেকে জীর্ণ-প্যান্ট আর কোটটা নামাতে নামাতে বলে ওঠে জীবনবাবু—দেরি হয়ে যাবে মা, আমি বরং বাইরে খেয়ে নেব। আজ জরুরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে, দেরি হলে ভদ্রলোককে পাব না। বুঝলি, বেশ অবস্থাপন্ন লোক, একেবারে সাহেব কিনা— পাংচুয়াল।

    এত দুঃখেও হাসি আসে বাসন্তীর।

    জীবনবাবুও সাহেব সেজেছে।

    ময়লা ছোট হয়ে যাওয়া একটা প্যান্ট, পায়ের দিকটা ছোট হয়ে গেছে, সরু দেখাচ্ছে—টিং-টিং করছে। আর রঙ-ওঠা কোটটাও এইবার অবসর চাইছে। কিন্তু তবু সে তো কেরানির চাকরির বোঝা বওয়ার মতোই বছর বছর এক্সটেনশন নিয়ে পরমায়ু বাড়াবার বৃথা চেষ্টা করে চলেছে। এদিক-ওদিকে পড়েছে দু’একটা তালি।

    গলায় ঝুলিয়েছে তেলচিটকেনি একটা টাই, কোন মান্ধাতার আমলের কেনা। শীর্ণ গলার কাছে টিকটিকির ছাঁটা লেজের মতো টিকটিক করে নড়ছে সেটা, ন্যাতা-কানির মতো।

    তার বাবাও সাহেব সেজেছে।

    যেন বেগুন-খেতের প্রহরী হঠাৎ জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

    কাঠের বেড়ার গায়ে ঝোলানো ময়লা ছেঁড়া-চামড়ার ব্যাগটা নিয়ে ক্যাম্বিসের জুতোয়-পা

    গলিয়ে বের হয়ে যায় জীবনবাবু।

    যাবার সময় বলে ওঠে বাসন্তীকে,

    —দেরি হবে না, তুই খেয়ে-দেয়ে নিস্।

    জীবনবাবু বস্তির সীমানা থেকে বের হয়ে পালাতে পারলে যেন বাঁচে।

    বেলা হয়ে গেছে। কলে জল এখন নেই।

    তবু সারবন্দি কলসি-বালতি পাতা রয়েছে। জল এলেই ওই বালতি-কলসির মালিকদেরও দেখা মিলবে। জায়গাটা তাদের কলরব আর চিৎকারে ভরে উঠবে।

    জীবনবাবু সন্তর্পণে এগিয়ে এসে গলির মুখে দাঁড়িয়ে এদিক-ওদিক দেখতে থাকে। না, কেউ নেই বকেয়া পাওনার তাগাদা দেবার জন্য।

    ফাঁক বুঝে বের হয়ে সোজা রাস্তা দিয়ে হনহন করে এগিয়ে চলে, শিয়ালদহের দিকে বাসগুলো চলেছে।

    রোদে হাঁটতে কষ্ট হয়। জীবনবাবু ভাবছে বাসে উঠবে কিনা। তবু তো একটু আরামে যেতে পারবে। রোদের তাপে ইতিমধ্যেই রাস্তার পিচ গলতে শুরু হয়েছে। পুরনো জুতোর তলা তেতে উঠেছে। কিন্তু পকেটে হাত দিয়ে বাসে চড়ার আশা পরিত্যাগ করতে হয় তাকে। মাত্র কয়েক আনা পয়সা রয়েছে। ও-ই মাত্র সম্বল।

    ওতে বাসে চড়ার সৌভাগ্য মিলবে না।

    জীবনবাবু হাঁটতে থাকে রাস্তা ধরে, ওই রোদের মধ্যে শিয়ালদহের দিকে। সেখান থেকে যেতে হবে তাকে গড়পাড়ের দিকে, যদি খদ্দেরটা জোটে।

    .

    বাসন্তী চুপ করে বসে আছে টিনের দাওয়ায়। ওদিকে বস্তির ঘরে কার গানের সুর শোনা যায়। কে পচা মাছ কিনে এনেছে। হোক না পচা, তবু মাছ তো। তাও কেনবার সৌভাগ্য এদের মেলে না অনেকেরই।

    সেই মাছের গল্পই কানে ভেসে আসে।

    ও-ঘরের কদম পিসি কলতলা থেকেই শোনায়,

    —মাছ একা তুই এনেছিস লা রতনবউ, তাই এত ঠ্যাকার। এই তো সেদিন একটা গোটা ইলিশ মাছ আনল পুঁটির বাবা। এই এত্তো বড়, যেমন তেল, আর তেমনি খোসবু। আমরা তো পদ্মাপেরের নই যে, ওই পচা বিটকেলি মাছ খেতে পারব—জ্যান্ত মাছ চাই আমাদের।

    কে যেন বলে ওঠে—ইলিশ মাছটাও জ্যান্ত ছিল পিসি?

    পিসি আর কথা বলে না।

    বাসন্তী এ-সবের মধ্যে থাকে না, একদিকের কোণে তাদের ঘর। নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকে সে। এঁটো থালাটা কলতলায় নিয়ে আসতে কদম পিসি বলে ওঠে,

    —কি লা, খাওয়া হয়ে গেল? তা রাঁধলি কি? মাছ এয়েছিল নাকি আজ!

    বাসন্তী জানে, ওরা সব খবরই রাখে। তবু যেন আসল কথাটা বলতে পারে না, বলে ওঠে, -–বাবা কাজে বের হয়ে গেছেন কিনা, তাই আজ বাজার করিনি।

    কদম পিসি, ও-ঘরের মালতী তবু ওর থালার কচুশাকের দিকে তাকিয়ে থাকে। এই বস্তির অনেকেরই অনেক দিনের গতি ওই কচুশাক, তাই এই দুর্দিনের কথা তাদের অজানা নেই

    বাসন্তী দাঁড়াল না, কাজ সেরে চলে গেল।

    মালতীর বয়স বেশি নয়, কিন্তু এরই মধ্যে ওর রূপযৌবনে এসেছে ভাঁটার টান। কয়েকটা এন্ডি-গেণ্ডি ছেলে হয়েছে বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই। তাই বাসন্তীর যৌবন-মদির দেহ, আর ওই সুগৌর রঙের উপর ওর একটা হিংসা আছেই।

    বস্তির মধ্যে বাসন্তীই সুন্দরী। এক কালে ভালো অবস্থাই ছিল ওদের। ভাগ্যের সঙ্গে যুদ্ধে হেরে গিয়ে জীবনবাবু এই মেয়েকে নিয়ে এই সতেরো নম্বর বস্তির কন্দরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

    অবশ্য সে কথাটা এরা আদৌ বিশ্বাস করে না।

    মালতী বলে ওঠে,

    —মেয়েটার কথা শুনলে পিসি?

    পিসি কি যেন দেখছে বেড়ার ফাঁক দিয়ে একমনে। মালতীর কথার জবাব দেবার সময় তার নেই। বস্তির অনেক ঘরের কাহিনিই তার জানা। এই সতেরো নম্বরের ভূষণ্ডীকাক, অক্ষয় তার পরমায়ু, আর তেমনি তাজা তার চোখ-কান। কি যেন একটা বিস্ময় আর কৌতূহল ফুটে ওঠে বুড়ির চোখে-মুখে।

    মালতী বলে চলেছে,

    —বুঝলা পিসি, রূপ আমারও ছিল, পাঁচখানা গাঁয়ের লোক আমার বিয়ের আসরে আমাকে দেখে বলেছিল, হ্যাঁ রূপ বটে, কন্যা ভাগ্যবতী। আমাকে রূপের দেমাক দেখায় ওই বাসন্তী। তবু বাবা যদি তেমন সোহাগে রাখত মেয়েকে! এদিকে তো দেখি, পান্টুল পরে বাইরে বের হয় বুড়ো, আর ঘরে মেয়ে গিলছে কচুপাতা সেদ্ধ।

    হঠাৎ কড়া নাড়ার শব্দে থামল মালতী।

    পিসি কি যেন দেখছে, মালতীও কথা বন্ধ করে ছিটে বেড়ার ফাঁক থেকে তাকিয়ে থাকে। সামনে উঠানের পরেই বাসন্তীদের দাওয়ার নিচে ঢোকবার দরজা, কে যেন ডাকছে।

    জমিদার বাড়ির সরকার মশাই নিজে এসেছে আজ পাইক-লস্কর নিয়ে। ব্যাপারটা কিছুটা আঁচ করে নেয় তারা।

    বকেয়া ভাড়ার তাগিদেই এসেছে গদাই সরকার।

    জমিদারির দাপট এখনও এখানে রয়ে গেছে। এ অঞ্চলের চারিদিকেই ছিটানো ছোট-বড় বস্তি। মাঝে মাঝে কোঠা-দালান–বাগানও ছিটে-ফোঁটা রয়েছে। কিন্তু বিঘের পর বিঘে জুড়ে টানা বস্তি। মাঝে মাঝে দু-একটা ডোবা জঙ্গলেভরা পুকুরও মিলবে। সবই রায় বাহাদুরের জায়গা।

    কোনো রকমে টিনের বেড়া, না হয় ছিটে-বেড়া দিয়ে ঘর তুলে ভাড়া বসিয়ে দিয়েছে। এ এলাকায় রায়বাবুদের দাপট এখনও সমানে রয়েছে।

    ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট-এর কাজ শুরু হয়েছে। নতুন করে শহর গড়ে উঠেছে পুরনো এঁদো-পচা ডোবা বুজিয়ে—টানা-বস্তি উচ্ছেদ করে। রাস্তা হচ্ছে—কাটা হচ্ছে বিরাট লেক, তৈরি হবে পার্ক। সেইসব নতুন শহর পত্তন হচ্ছে অন্য পাশে। এখানে তাই রায়বাবুদের প্রতাপ এখনও যায়নি।

    গদাই সরকার ওই রায়বাবুদের সেরেস্তার পদস্থ কর্মচারী।

    কয়েক মাস ধরেই জীবনবাবুর ভাড়া বাকি পড়েছে। তাগাদার পর তাগাদা দিয়েও আদায় করতে পারেনি। দারোয়ান আসে, লস্কর আসে, তা জীবনবাবুর পাত্তাই নেই।

    আজ তাই নিজে এসেছে গদাই সরকার একটা হেস্তনেস্ত করতে। ওরা বাকি ভাড়ার জন্য কোর্ট ঘরেও যায় না, মামলা-মোকদ্দমা, উচ্ছেদ, এসব করেও না। জোর করে টেনে বাইরে ফেলে দেয় মালপত্র, আবার নতুন ভাড়াটে এনে বসায়।

    বড় কঠিন লোক ওই গদাই সরকার।

    এখানের বাস্তঘুঘু নিজেই এসে আজ হানা দিয়েছে।

    রোদে তেতে-পুড়ে এসেছে গদাই সরকার।

    বাইরে কড়াটা নেড়ে চলে, ভিতরে কোনো সাড়া-শব্দ নেই। তাই মেজাজ তার সপ্তমে চড়েছে। মালতী সরকার মশাই-এর কড়ানাড়া শুনে নিজেই এগিয়ে যায়। জীর্ণ দরজাটা খোলবার মাত্র

    ওর হাড়গিল্পের মতো চেহারা দেখে গর্জন করে ওঠে গদাই সরকার।

    —গা ঢাকা দিয়ে কদ্দিন থাকবে জীবন এখানে। অ্যাঁ, ভাড়া দিতে হয় তা জানো না?

    মালতীর সন্দেহ ঘোচে। বলে ওঠে,

    —জীবনবাবুকে খুঁজছেন?

    গদাই-এর বয়স হয়েছে। মাথায় টাকও পড়েছে। কড়া-রোদে টাক চিন্ চিন্ করে। বলে ওঠে,

    —আজ্ঞে! যতসব ঋণে-ভারাক্রান্ত বাটপাড় জোচ্চোরকে ভাড়া বসিয়েছি, কোথায় সে?

    মালতী মজাটা দেখবার জন্যেই বলে ওঠে,

    —দাঁড়ান, ওর মেয়েকে ডেকে দিই।

    —জীবনবাবু বাড়ি নেই?

    বস্তির এদিক-ওদিকের ভাড়াটেরা অনেকেই জুটে গেছে। এমনি ঋণ শোধ না করার জন্য হুঙ্কার দাবড়ানি এখানে নতুন নয়। তবু অসময়ে এমনি তোড়জোড় দেখে তারা কৌতূহলী দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে থাকে।

    মালতীর ডাকে বের হয়ে আসে বাসন্তী।

    মালতী একটু দরদ-ভরা কণ্ঠেই যেন ব্যঙ্গ করেছে ওকে,

    —কে ডাকছেন দেখ।

    মালতীর কথায় এগিয়ে আসে বাসন্তী।

    সরকার মশাই প্রথমে ওকে দেখে একটু অবাক হয়। বস্তির প্রজা তাদের অনেক। অনেক জায়গাতেই ঠ্যাঙাঠেঙি করে ভাড়া আদায় করতে হয়। মালপত্র ছুড়ে ফেলে উচ্ছেদ করে ভাড়াটেকে। তাদের চেনে, গালমন্দও দেয়, গালিগালাজও খায় গদাই সরকার।

    কিন্তু বাসন্তীকে দেখেই মনে হয়, এখানকার পরিবেশে যারা বসবাস করে, ও যেন তাদের থেকে স্বতন্ত্র। সুন্দর-সুশ্রী চেহারা, মুখে! চোখে একটা শান্ত-অসহায় ভাব। ডাগর চোখ দুটো তুলে বাসন্তী তাকাল গদাই সরকারের দিকে!

    —আমাদের ডাকছেন?

    গদাই সরকার ফতুয়ার হাতা দিয়ে ঘনঘন টাক মুছে চলেছে।

    নিজের চোখকেই কেমন যেন মন্দ ঠেকে।

    অনেক লোকজন জুটে গেছে চারিপাশে, তাই আপাতত নিজের পৌরুষ বজায় রাখবার জন্যই বেশ মেজাজ দিয়ে বলে ওঠে গদাই,

    —তোমার বাবাকে একবার ও-বেলায় কাছারিতে পাঠিয়ে দিও।

    —আচ্ছা।

    ঘাড় নাড়ে বাসন্তী।

    গদাই সরকার কণ্ঠস্বর রুক্ষ করে তুলতে গিয়েও পারে না। বলে চলেছে মাঝারি-গলায়।

    —বলো, সরকারমশাই এসেছিলেন। না গেলে আমাকেই আবার আসতে হবে।

    বাসন্তী চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে।

    সরকার মশাই দলবল নিয়ে চলে যাচ্ছে। গলির মুখ থেকে একবার পিছন ফিরে দেখে মেয়েটাকে। দেখে, তখনও দাঁড়িয়ে আছে সে তার দিকে চেয়ে

    অকারণেই গদাই সরকার টাকের চুলগুলোকে একটু চারাবার চেষ্টা করে বের হয়ে গেল।

    গোঁফের কোণে ফুটে ওঠে হাসির আভা।

    কি একটা মূল্যবান আবিষ্কার করে গেল সে এখানে এসে।

    বাসন্তী দাঁড়িয়ে থাকে। বেশ বুঝতে পারে, বাবা ভাড়া দিতে পারেনি এই বাড়ির। তাই সরকার মশাই নিজেই এসেছিল, দু-কথা শুনিয়ে দিয়ে যেত দেখা পেলে।

    তাকেও বচন শোনাত, নেহাৎ দয়া করে সেটা করেনি। তবে ভবিষ্যতে শোনাবে তাও বুঝেছে বাসন্তী।

    বস্তির বাসিন্দাদের ভিড় কমে আসছে।

    হতাশ হয়েছে তারা। গদাই সরকার যেন ঠিক তাদের আশা মতো তর্জন-গর্জন করেনি। মালতীও আশা করেছিল ওই ডাঁটিয়াল মেয়েটার ডাঁট কথার চোটে ভেঙে দিয়ে যাবে সরকার মশাই; কিন্তু সেসব কিছুই হল না।

    মেয়েটাকে দেখেই কেমন যেন মিইয়ে গেছে সরকার মশাই। মিনমিন করে কথা বলে সরে পড়েছে। সরকারকে এত ভদ্র হতে তারা দেখেননি, পিছু ফিরতেই বাসন্তী চোখাচোখি হয়ে যায় মালতীর সাথে।

    মালতী মুখ ঘুরিয়ে দাঁড়ায়। বলে,

    —লোকজন এলে তুমিই এবার থেকে দরজা খুলে দিও বাসন্তী। কে কি তড়পাবে, শাসাবে ওসব শুনতে চাই না। ওসব আমাদের কুষ্ঠিতে লেখেনি।

    বাসন্তী কথা না বলে সরে এল নিজের ঘরের দিকে।

    মালতী কদম পিসিকে সামনে বলে ওঠে,

    —ভাঙবে, তবু মচকাবে না। দেখলে পিসি মেয়ের দেমাক। দিত গদাই সরকার মুখে ঝামা ঘসে, ঠিক হতো। বিনা ভাড়ায় পড়ে থাকিস, খাস তো কচুপাতা সেদ্ধ ভাত, তাতেই অত দেমাক। ধরাকে সরা দেখিস।

    কদম পিসি বিজেতার মতো বলে—দেখ লো, দেখবার দিন এলে ধরাকে সবাই সরা দেখে! এ আর নতুন কি!

    বাসন্তী জানলায় দেওয়া শাড়ির পর্দাটা টেনে দিয়ে চুপ করে বসে থাকে। ভাদ্রের দুপুর, সময় কাটে না।

    মাঝে মাঝে ওর অতীতের সেই পুরনো ক’খানা বই নিয়ে লেখাপড়া করতে বসে। সেই অপেক্ষাকৃত ভালো দিনগুলোর স্মৃতি-জড়ানো রয়েছে ওই পুরনো বই-খাতার মলিন গন্ধে। বেশ ভালো লাগে নির্জন দুপুরে।

    .

    জীবনবাবুর বিশ্রাম নেই।

    রোদে-তাতা পথে এগিয়ে চলেছে সে, মাঝে-মাঝে ট্রাম-বাসগুলো ছুটে যায়। ওই মহানগরীর ভিড়ে একটি অসহায় মানুষ চলেছে, ঘেমে উঠেছে, তবু চলার বিরাম নেই।

    একটা গাছের ছায়ায় একটু দাঁড়িয়ে জিরিয়ে নিয়ে ভদ্রস্থ হবার চেষ্টা করে।

    সারাজীবন অনেক কিছুই করেছে জীবনবাবু।

    লেখাপড়া তেমন শেখবার সুযোগ পায়নি, তাঁর মন ছিল ব্যবসার দিকেই।

    ব্যাবসা করে যেমন করেই হোক প্রতিষ্ঠিত হবে সে।

    ট্রেনে ফেরি করেছে হাত-কাটা তেল, বজ্রভাস্কর লবণ। বাড়িতেই আলতা-সিঁদুর এইসব ম্যানুফ্যাকচার করবার চেষ্টা করেছে। টুকিটাকি কারবার চালাবার অনেক চেষ্টা করেছে, আর মার খেয়েছে, মাঝে মাঝে ইসিওরের দালালিও করেছে। অনেকদিন থেকেই ওটা লাগানো আছে। টুকটাক ওতেই যা-কিছু হয়, তাই হয় তো টিকে আছে জীবনবাবু।

    কিছু লোক এখনও জীবনের মূল্য বোঝে, তাই জীবনবাবুর ইন্সিওরের দালালিটাই চলে, নইলে নিঠেকাঠা উপোসই দিতে হতো। আজ অনেক আশা নিয়েই চলেছে জীবনবাবু, গিরি গোবর্ধন দত্ত মশায়ের বাড়িতে।

    হালি বড়লোক, শ্যামবাজারের খালধারে মস্ত ভূষিমালের আড়ত, তামাকের চালানি কারবারে লাল হয়ে উঠেছে লোকটা। বিশাল বাড়ি হাঁকিয়েছে, ছেলেরাও সকলে কৃতী-সন্তান।

    তাদের যদি কেউ ইসিওর করে, তারই চেষ্টায় চলেছে। করলে একেবারে নিদেন দশহাজার টাকার, তার কমে ওরা কেউ কথা বলবে না।

    গিরিগোবর্ধন দত্তও বেশ লেখাপড়া জানা লোক।

    সুতরাং তাকে বোঝাতে বেগ পেতে হবে না এসব ব্যাপারে।

    বৈকাল হয়ে আসছে।

    রাস্তার ওদিকেই বাগানওয়ালা মস্ত বাড়িটা উঠেছে। ওর মধ্যে ঢোকবার আগে নিজের কাক-তাড়ানো চেহারাটা একটু ভদ্রস্থ করে নেবার জন্যই জীবনবাবু রাস্তার জলের কলে গিয়ে মাথায়-মুখে জল দিয়ে একটু সাফ-সুতরো হবার চেষ্টা করে।

    পেটের ভিতর নীরব জ্বালাটা কেমন মাথা চাগাড় দিয়ে ওঠে। সকাল থেকে এককাপ চা ছাড়া আর পেটে কিছুই পড়েনি। চোঁ-চোঁ করছে নাড়ীগুলো একসঙ্গে।

    এদিক-ওদিকে তাকিয়ে দেখে, কেউ নেই। বড় বাড়ি থেকেও কেউ তার দিকে তাকিয়ে নেই। শুধু কলের জল খেয়েই দিন কাটাচ্ছে সাহেব, এই পরম সত্যটা কেউ দেখবার জন্য বসে নেই।

    এই সুযোগে কলে মুখ লাগিয়ে বেশ খানিকটা জল গিলে একটু ধাতস্থ হল জীবনবাবু।

    হাজার হোক কলের জল। সোডিয়াম, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন—আরও অনেক এমন সব পদার্থ আছে, শরীরের পক্ষে যা পুষ্টিকর। তাই বোধহয় পেটে একটু ভর পেয়ে জীবনবাবু এগিয়ে যায় বড় বাড়িটার দিকে। হাতের ব্যাগটা বগলদাবা করে গিয়ে উঠল মার্বেল পাথর বসানো বারান্দায়।

    .

    ওদিকেই বাগান। ছোট গ্রিলের ঘেরা দেওয়া মাটিতে জল পেয়ে সবুজ মোলায়েম ঘাস গজিয়েছে। মাঝে মাঝে ফুলের গাছগুলো মাটির গুণে আর যত্নে ফুলে ভরে রয়েছে।

    ঘরের ভিতর ভারিক্কি গোছের এক ভদ্রলোক বসেছিলেন। জীবনবাবুকে দেখে বলে ওঠেন—কী চাই আপনার?

    জীবনবাবু ওই বাজখাঁই গলার শব্দ শুনে একটু চমকে উঠেছে।

    শশব্যস্তে সামনে গিয়ে নমস্কার করে।

    ভদ্রলোকের মুখে-চোখে কোনো ভাবান্তর দেখা গেল না।

    একবার মুখ তুলে চাইলেন মাত্র।

    বৈকালের চা-পর্ব সারছেন তিনি। সে সত্যিই একটা পর্ব। বিরাট দশাসই চেহারার পক্ষে ওই পর্ব সমাধা করা স্বাভাবিক ঘটনাই।

    একটা প্লেটে খানকয়েক বিস্কুট—দুটো বেশ বিরাট সাইজের সুগোল পুরুষ্ট মর্তমান কলা, আর প্লেটে গোটাকতক বেশ নধর সাইজের তালশাঁস সন্দেশ, পাশে একটি টি-পটে চা।

    জীবনবাবু একবার ওঁর দিকে, একবার ওই প্লেটগুলোর দিকে তাকায়। চকিতের মধ্যে নিজের অবস্থাটা মনে পড়ে। পেটের ভিতর একটা চাঞ্চল্যকর অনুভূতি জাগে। সামলে নিয়ে গিরি গোবর্ধনবাবুর দিকে এগিয়ে যায়। একটু থেমে ব্যাগ থেকে কাগজপত্র বের করে বলে ওঠে,

    আপনারা দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন বিবেচক মানুষ….

    কথা শুনে ভদ্রলোক চামচ দিয়ে কায়দা করে একটা সন্দেশের টুকরো ধরে বিশাল মুখগহ্বরে ঢুকিয়ে ওর দিকে তাকালেন।

    মুখের চাপে জলভরা তালশাঁস সন্দেশ থেকে পাতলা ক্ষীর বের হয়ে মুখ দিয়ে গড়াচ্ছে।

    জীবনবাবু বলে ওঠে,

    —মানে তাই বলছিলাম লাইফ ইন্সিওর করার কথা। এমনিতে বেশি খরচও নয়; অবশ্য আগে করেছেন নিশ্চয়, তবু দু’একটা যদি আর কাউকে দিয়ে করাতেন।

    ভদ্রলোক ততক্ষণে সন্দেশের বিশাল টুকরোটাকে অনেকখানি কায়দা করে ফেলেছেন। একটু ধাতস্ত হয়ে বলেন,

    —পলিসি!

    জীবনবাবু ওঁর কথায় একটু ভরসা পায়। এইবার বোধহয় বসতে বলবেন উনি ওই দামি সোফাটায়, হয়তো সন্দেশ আর চা-ও অফার করবেন।

    তার জিভের গায়ে একটা মোলায়েম মিষ্টির অনুভূতি জাগে।

    একটু কোমলকণ্ঠে জীবনবাবু মাথা নাড়ে।

    —আজ্ঞে হ্যাঁ, স্যার! দি গ্রেট মাদারল্যান্ড ইনসিওর কোম্পানির নাম শুনেছেন নিশ্চয়, বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান—

    ভদ্রলোক কথা না বলে আধসেরি কাঁসার-গ্লাসটা থেকে বেশ খানিকটা জল গলায় ঢেলে একটা অতর্কিত আওয়াজ বের করেন।

    গল-ল্…গড়র-র…

    জীবনবাবু ততক্ষণে বই আর কাগজপত্র বের করেছে, ভরসা করে এগিয়ে এসে একটা চেয়ার টেনে বসতে যাবে, গিরিগোবর্ধনবাবু জল খেয়ে একটা বোমা ফাটার মত ঢেঁকুর তুলে বলে ওঠেন,

    —আপনি এখন আসতে পারেন।

    একেবারে সাফ জবাব।

    জীবনবাবুর হাত থেকে ভাতের গ্রাসটা যেন কে ছিনিয়ে নিচ্ছে। আর্তনাদ করে ওঠে বৃদ্ধ কাতরস্বরে,

    —স্যার! একটা পলিসি—

    —বললাম তো, আসুন।

    গিরিগোবর্ধনবাবু বজ্রস্বরে জবাব দিয়ে হাঁক পাড়েন—নিরো! নিরো!

    কোথা থেকে বিরাট একটা অ্যালসেশিয়ান এসে হাজির হয়। গিরিগোবর্ধনবাবু বাড়তি সন্দেশ দুটো তার দিকে ছুড়ে দেন।

    কুকুরটা অভ্যস্ত ভঙ্গিতেই সন্দেশ দুটো ধরে ফেলে মেঝেতে নামিয়ে জীবনবাবুকে দেখে একটা আওয়াজ তোলে।

    ওর মনে হয়, ওই লোকটা যেন তার সন্দেশেই ভাগ বসাবে। গিরিগোবর্ধনবাবু দাবড়ে ওঠেন জীবনবাবুকে,

    —বললাম তো আসুন। তা দাঁড়িয়ে রয়েছেন কেন সঙের মতো। কথা কানে গেল না?

    কুকুরটাও মনিবের ধমকের প্রতিধ্বনি তোলে চাপা-কণ্ঠে।

    জীবনবাবু বের হয়ে এসেছেন, পিছনে পিছনে এসেছে কুকুরটাও।

    বাইরে এসে তার মূর্তি যেন ফেটে পড়ে।

    বড়লোকের বাড়ির আদরের কুকুর। গলার আওয়াজে বাতাস ভরে ওঠে।

    পিছনে কুকুরটা গর্জন করে আসছে।

    গ্রিলের সুন্দর ফটকটাও বন্ধ।

    পিছনে তেড়ে আসছে মারমুখী ওই কুকুর, কামড়েই ধরবে বোধহয়। প্রাণের ভয়েই তরতরিয়ে ফটকের উপর উঠে পড়েছে জীবনবাবু, নিচে কুকুরটা গর্জন করছে তখনও, হাঁচড়-পাঁচড় শুরু করেছে।

    কোনো রকমে টপকে এপাশে নামতে পারলে রক্ষা। এপাশে নেমেছে, হঠাৎ গেটটা খুলে যায় তক্ষুনি। কুকুরটাও এবার বের হয়ে আসবে বোধহয়।

    জীবনবাবু এপাশে নেমে পড়ে দৌড়োতে থাকে।

    রাস্তায় ঠিক সেইসময় একটা গাড়ি এসে পড়েছে।

    বিকেলের সময় এখন। ফাঁকা রাস্তা। তাই জোরেই যাচ্ছিল গাড়িখানা। হঠাৎ সামনে জীবনবাবুকে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে আসতে দেখে সশব্দে ব্রেক কষেছে গাড়িখানা!

    নিস্তব্ধ রাস্তায় গাড়িখানার ব্রেক কষার তীব্র শব্দ ওঠে। জীবনবাবুও সামনেই সাক্ষাৎ মৃত্যুকে দেখে দু’চোখ-বুজে সর্বশক্তি একত্রিত করে লাফ দিয়েছে। কেমন সব অন্ধকার ঠেকে দু’চোখের সামনে।

    চোখ খুলতেই দেখে, লোকজনরা সব ছুটে এসে গেছে।

    পিছনে হকচকিয়ে দেখে, সেই বাঘের মতো কুকুরটা তখনও আসছে কি না।

    একটু নিশ্চিন্ত হয়, না, সেটা আসেনি আর।

    বোধহয় ও-বাড়ির দারোয়ানরা তাকে দয়া করে ধরে নিয়ে গেছে।

    গাড়িখানাও চলে গেছে।

    পাড়ার ছেলেরা এদিক-ওদিক আড্ডা মারছিল কোনো রোয়াকে বসে, তারাই এসে জুটেছে।

    তারা বলে ওঠে,—উঠতে পারবেন তো স্যার?

    জীবনবাবু ততক্ষণে একটু সামলে নিয়েছে। ওরা তাকে ধরে তুলছিল।

    কৃত্রিম দরদভরা-কণ্ঠে কে যেন বলে ওঠে,

    —হাঁটুটা যে ছড়ে গেছে দাদা।

    —ও কিছু নয়।

    জীবনবাবু ওই ভিড় থেকে বের হতে পারলে বাঁচে। লেগেছেও বেশ। শুধু হাঁটুতেই নয়, পা-টাও বোধহয় মচকে গেছে। ছিঁড়ে গেছে প্যান্টে-এর পায়ের দিকটা, টাইটা কাঁধ থেকে খুলে গিয়ে ন্যাকড়ার মতো পত্পত্ করে বাতাসে উড়ছে।

    জীবনবাবু কোন রকমে ছেঁড়া ব্যাগ আর কাগজপত্র নিয়ে পথ চলতে থাকে।

    একটা সিঁটকে মতো ছেলে বলে ওঠে,

    —হেঁটে যেতে পারবেন, না রিকশা ডেকে দেব বড়দা?

    জীবনবাবুর যে এত ভাই এখানে-ওখানে ছড়ানো ছিল তা জানত না। ওই পেয়ারের ভাইদের হাত থেকে নিষ্কৃতি পেলে যেন বাঁচে, তাই আস্তে আস্তে খোঁড়া পা-নিয়েই চলতে থাকে।

    ছোঁড়াগুলো আবার নারকেল গাছের নিচে বসে আড্ডা জুড়েছে।

    চারিদিকে স্তব্ধতা নামে।

    যেন কোনো কিছুই হয়নি।

    জীবনবাবু ব্যাপারটা এতক্ষণে বুঝতে পারে। তার কদিন ধরেই একটা আশা ছিল, গিরিগোবর্ধনবাবুর বাড়িতে দু’একটা মোটা কেস পাবে। তাই অনেক আশা নিয়েই এসেছিল, কিন্তু এখানে এমনি শূন্য-হাতে আর কুকুরের তাড়া খেয়ে প্রাণ হারাতে হারাতে ফিরে যাবে কল্পনাও করেনি।

    জ্বালা করছে হাঁটুটা।

    ছেঁড়া টাইখানা কোনোমতে গলায় লেপটে ধুলো ঝেড়ে একটু ভদ্রস্থ হবার চেষ্টা করে বড় রাস্তার দিকে সে এগিয়ে যায়।

    বেশ অনুভব করে, হাঁটবার ক্ষমতা যেন তার ফুরিয়ে আসছে।

    অতর্কিত ওই উত্তেজনা আর পেটের মধ্যে নীরব খিদের জ্বালাটা তাকে নিস্তেজ করে দিয়েছে।

    একটু কিছু খাওয়া দরকার। একঢোক চা হলেও চলত।

    হিসেব করা পয়সা—কত আছে ব্যাগে তাও সে জানে। মাত্র ক’আনা, আর কিছু পাবার আশাও নেই কোথাও।

    তবু কোনো রকমে বাড়ি ফেরার শক্তিটুকু সংগ্রহ করার জন্যই একটু চা, দুটো নোনতা বিস্কুটও খেতে হবে।

    সামনেই ছোট চায়ের দোকান দেখে পায়ে পায়ে এগিয়ে গিয়ে সেখানে ঢুকল জীবনবাবু।

    একটা চেয়ার টেনে বসে ইশারায় দেখিয়ে দেয়— -একটু জল।

    গলাটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।

    দোকানে ছোঁড়াটা নেহাৎ অনিচ্ছাসত্ত্বেও একগ্লাস জল এনে দিতেই জীবনবাবু এক নিশ্বাসে জলটা খেয়ে একটু শান্ত হয়।

    ছোঁড়াটা তখনও দাঁড়িয়ে আছে। অমন খদ্দের কি অর্ডার দেবে তা সে জানে, তবু দাঁড়িয়ে থাকে।

    —এক কাপ চা। দুটো নোনতা বিস্কুট।

    ছোঁড়াটা তবু অভ্যস্ত কণ্ঠে বলে,

    —চপ, কাটলেট—ভালো গরম সিঙাড়া আছে।

    মাথা নাড়ে জীবনবাবু,

    —না, চা দাও একটু কড়া করে।

    ছেলেটা ক্ষুণ্নমনে টিনের পার্টিশনের আড়ালে চলে গেল চা বানাতে।

    পাড়ার মধ্যে ছোট্ট দোকান।

    মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তের বৈঠকখানার কাজও চলে যায় ওতে। একখানা ঘরের মধ্যে যাদের সংসার, ভাতের হাঁড়ি থেকে শুরু করে, বিছানা-বালিশ-মশারি অবধি গোটানো থাকে, তাদের ঘরে অতিথি এলে তার আপ্যায়ন করা হয় ওই মনোরমা কেবিনেই।

    মনোরমা কেবিনের মালিকও তা জানে।

    তাই চা বিস্কুটের বিনিময়ে ওদের জন্য একটা বাসি খবরের কাগজের ব্যবস্থাও থাকে।

    দু’চারজন অনবরতই দোকান গুলজার করে রাখে।

    তারা সুখ-দুঃখের গল্প করে। আড্ডা জমে।

    বৈকালের আলো নিভে আসছে, নামছে সন্ধ্যার অন্ধকার।

    দোকানের তাকে-রাখা গণেশের উদ্দেশে সাঁঝ-বাতি জ্বেলে নমস্কার করে দোকানদার। একটা ধুপকাঠি ধরিয়ে গণেশের পদমূলে টেবিলের উপর ঠেকাতে থাকে।

    ক্যাশবাক্স বলতে এই টেবিলের ড্রয়ার। সেইখানে বারকতক ধূপকাঠিটা ঘুরিয়ে দু’হাত এক করে নমস্কার করে দোকানদার।

    জীবনবাবু তখনও তাকিয়ে তাকিয়ে নোনতা বিস্কুট চিবিয়ে চলেছে, আর একঢোক করে চায়ে চুমুক দিচ্ছে। কেমন যেন শান্ত হয়ে আসে তার দেহ—মনের উত্তেজনা।

    এরপর কি করা যায় তাই ভাবছে জীবনবাবু।

    বাড়ি ফিরবে, কিন্তু কি নিয়ে ফিরবে?

    উপবাস, আর উপবাস।

    রাতের আঁধারের মতো নিবিড় কালো আঁধারে-ঢাকা অভাব আর উপবাসের ছায়া নামছে। রাতের আঁধার শেষ হয়ে একসময় আবার দিন হয়ে সূর্য ওঠে।

    কিন্তু এই দুঃখ আর অভাবের রাত্রির যেন শেষ নেই।

    এত চেষ্টা করেছে—বেঁচে থাকবার জন্য ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত বিপর্যস্ত সেই সংগ্রামময় জীবন, তবু পায়ের নিচে মাটি পায়নি।

    সরে গেছে তিল-তিল করে অতল অন্ধকারের মাঝে কোনো গভীর খাদের দিকে।

    দোকানে খদ্দের আসতে শুরু হয়েছে। অফিস-ফেরতা বাবুরা বাড়ি ফিরে একটু হাত-মুখে জল দিয়ে এসে হাজির হয়েছে। মাস-কাবারি বন্দোবস্ত ওদের চা আর ঘুগনির খদ্দের ওরা।

    তাদের দেখে উঠে পড়েছে জীবনবাবু।

    দাম দিতে এগিয়ে যায় মালিকের টেবিলের দিকে।

    একটা ছোট রেকাবিতে ছড়ানো রয়েছে চাট্টি মৌরি। তাই দুটো হাতে তুলে নিয়ে চিবুচ্ছে জীবনবাবু।

    মালিক হেঁকে ওঠে,

    —কত হয়েছে র‍্যা, বাবুর?

    ছোঁড়াটা জবাব দেয়—দু’আনা।

    জীবনবাবু দাম দিতে গিয়ে পকেটে হাত দিয়েই কেমন যেন চমকে ওঠে। বুঝতে পারে ছোট ব্যাগটা উধাও হয়ে গেছে।

    সামান্য যা-কিছু ছিল ওরই মধ্যে। তার অস্তিত্বও আর নেই।

    সে রাস্তার ধারে পড়ে যেতে ছেলেগুলো কেন এত খাতির করে এসে তুলেছিল তাকে—কি সর্বনাশ করে গেছে তারা তা বুঝেছে এবার।

    এদিক-ওদিক, এ পকেট ও পকেট সব হাতড়াতে থাকে জীবনবাবু ব্যস্তসমস্ত হয়ে।

    দোকানদারও লক্ষ্য করেছে ওকে। ওর ওই পকেট হাতড়ানোও দেখে মন দিয়ে। ওটা যেন তার জানা কথা।

    বলে ওঠে—কি স্যার, বলবেন পকেট মারা গেছে, এই তো?

    জীবনবাবুর মুখে এক পোঁচ কালি কে যেন লেপে দেয়।

    —সত্যি, বিশ্বাস করুন মশাই।

    দোকানদার একটু গলা তুলেই জবাব দেয়,

    —বিশ্বাস সবই করি মশায়। বলি, দোকানে ঢোকবার আগে পকেটটাও দেখে ঢুকলে পারেন। তা নয়, গট-মট করে ঢুকে একেবারে অর্ডার দেন কেন?

    খদ্দেরাও উঠে এসেছে দু’একজন।

    কে বলে ওঠে—যত্তো সব ফোরটোয়েন্টির জায়গা। এদিকে আবার সাহেব সাজা হয়েছে। বিশেকে ডাক দাও, মজা টের পাইয়ে দিক। গড়পারে ওসব রংবাজি চলবে না।

    জীবনবাবু আমতা আমতা করে।

    —মিছে কথা বলছি না। পকেট থেকে পার্স, কাজগপত্র সব—

    —আবার পার্স! আরশুলা আবার পাখি। সাহেবের আবার পার্স। পিলিপিলি সাহেব এল রা!

    দোকানময় কলরব ওঠে।

    কে ধমক দেয়—জগাদা, সাহেবের ব্যাগটাই রেখে দাও।

    দোকানদার জগন্নাথ জানে, ভিড়ে ঝামেলায়-লোক জুটবে মিথ্যে-মিথ্যে। দোকানের বদনাম তাছাড়া ভিড়ের মৌকায় কেউ কিছু হাতিয়ে নিয়ে যাবে, ডবল লোকসান।

    তাই ভিড় কাটাবার জন্যই বলে ওঠে দোকানদার জীবনবাবুকে—যান মশাই যান। খুব হয়েছে।

    জীবনবাবু আমতা-আমতা করে—দিয়ে যাব মশাই।

    জগা বলে ওঠে—সবাই অমন দিয়ে যায় মশাই, তাই আপনিও দিয়ে যাবেন, আর এ শম্মাও পাবে। এখন যান দিকি!

    জীবনবাবুকে শাসায় দোকানদার।

    —হ্যাঁ যান, আবার এ পাড়ায় এলে টেংরি খুলে লিব, বুঝলেন। রংবাজি এ পাড়ায় চালাবেন না।

    জগাদা তখনও গজগজ করছে।

    —পকেট মারা গেছে! কাকের মাংস আবার কাকে খায়? ওর মারবে পকেট!

    দু’আনা লোকসান যাবার দুঃখ তখনও ভোলেনি জগন্নাথ।

    জীবনবাবু আবছা আলো-আঁধারির মাঝেই কোনো রকমে চলেছে, পা-টা টনটন করছে। মনের জ্বালা, আর গায়ের জ্বালা অসহ্য হয়ে ওঠে।

    তবু পথ চলেছে।

    .

    আজ কি বার ঠিক ছিল না বাসন্তীর।

    বাবা তখনও ফেরেনি। কোথায় গেছে কে জানে। সারাদিন না খেয়েই হয়তো কাজের নেশায় ঘুরছে পথে-পথে।

    বিকেলের দিকে স্নান সারবার আয়োজন করে বাসন্তী।

    কলের কাছে তখন এগোয় কার সাধ্য।

    টিন, বালতি, কলসি নিয়ে তখন চুলোচুলি বাধবার প্রায় উপক্রম হয়েছে। শান্তিরক্ষা করবার

    লোকেরও অভাব হয় না।

    বস্তির পরেশ আর হাত-কাটা কালীচরণ তখন জুটে গেছে। এসব ব্যাপারে তারা বিশেষ অগ্রণী।

    পরেশের অবশ্য দলবল আছে, অনেক কীর্তিই তারা করে থাকে। সদরের এদিক-ওদিকে তাই পাড়ার লোক কেন, ও চাকলার লোক অনেকেই তাদের চেনে, সমীহ করে বাধ্য হয়ে।

    সেই পরেশই একে-ওকে টেনেটুনে লাইনে দাঁড় করাচ্ছে।

    কালীচরণের ডানহাতটা গোটাই ছিল না। কি মহান উদ্দেশ্যে বোমা তৈরি করতে গিয়ে কি রকম বেকায়দা হয়ে বোমা হাতেই ফেটে যায় এবং খেসারত দিয়েছে ঐ হাতটা। তারপর পুলিশি কৈফিয়ত তো আছেই।

    এ-হেন পরেশ আর কালীচরণ আজ বিকেলের করণীয় আর কোনো কাজ না পেয়ে সমাজসেবার কাজে লেগেছে, জলদান-পর্বে যোগ দিয়েছে।

    মালতী আর কদম পিসির মধ্যে লেগেছে বচসা।

    ও-বেলায় এত ভাব, আর এ-বেলাতেই কদম পিসি মালতীর স্বামীর এবং মালতীর চরিত্র নামক বস্তুটি নিয়ে প্রকাশ্য অধিবেশনে চচ্চড়ি শুরু করেছে।

    মালতী কলের দখল ছাড়বার পাত্রী নয়। কদম পিসির কলসিটা টেনে ফেলে দিয়ে নিজের কলসি ভরতে শুরু করেছে।

    গজগজ করে কদম পিসি,

    —ঢের দেখেছি লা! ওই বলে না—

    সোয়ামির চাকরি চৌকিদারি
    তায় রেখেছে মোচ।
    সেই গরবে মাগের গরব
    ঘরে দেয় না ছোঁচ।

    এত দ্যামাক কিসের লা? আমার আর জানতে বাকি নেই। সাতাশ বছর এই সতের নম্বরে আছি।

    পরেশ ধমকায়,

    —চুপ করো পিসি। এই লাইনে দাঁড়াও! কোলে, ওই পুঁচকেটাকে দে তো লাইন থেকে বের করে।

    এমনি সময় বাসন্তী এসেছে জল নিতে

    এসে দেখে জল পাবার আশা যেন বাবার পয়সা পাবার আশার মতোই মরীচিকা মাত্র। বস্তির ভিতরে যা আছে, তা গঙ্গার কলের জল।

    তাতে চান করা যায় কোনোমতে, কিন্তু গায়ে গন্ধ ওঠে।

    খাওয়া তো দূরের কথা।

    এমন সময় পরেশই এগিয়ে আসে।

    —জল চাই?

    মাথা নাড়ে বাসন্তী—হ্যাঁ, চাই কিন্তু পাই কী করে?

    —দেখি দাও কলসিটা।

    পরেশ নিজেই ওর কলসি আর বালতি নিয়ে এগিয়ে গিয়ে মালতীর কলসিটা সরিয়ে দিয়ে বালতিটা বসিয়ে দিল।

    মালতী চমকে ওঠে,

    —আমার পালা?

    পরেশ কোনো কথাই বলে না। সব সময় কথা বলা তার স্বভাব নয়, চুপচাপ কাজ করে যায় সে। মালতী বলছে,

    —বিচার-বিবেচনা কিছুই নেই দেখছি?

    কদম পিসি বলে ওঠে,

    —আছে বাছা, আছে। ওরে ও পরেশ জল নেওয়া হলে আমার কলসিটা বসিয়ে দিস তো বাবা, বেলা পড়ে আসছে।

    মালতী রাগে গর-গর করছে দেখে, পরেশ বালতিতে জল ভরে নিয়ে চলে গেল।

    ওপাশে বাসন্তী দাঁড়িয়ে আছে, তার হাতেই তুলে দিল কলসি আর বালতিটা।

    কোনো রকমে জল পেতেই বাসন্তী চলে এল, আর দাঁড়াল না সেখানে। জানে, ওরা জিভ দিয়ে অকারণে গরল ছড়াতেই অভ্যস্ত। সে গরমের জ্বালা সইতে অভ্যেস করেও এখনও সয়ে ওঠা শেখেনি বাসন্তী।

    .

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপরিক্রমা – শক্তিপদ রাজগুরু
    Next Article অমানুষ – শক্তিপদ রাজগুরু

    Related Articles

    শক্তিপদ রাজগুরু

    শক্তিপদ রাজগুরু সাহিত্যের সেরা গল্প

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    মেঘে ঢাকা তারা – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    পটলা সমগ্র – শক্তিপদ রাজগুরু (দুই খণ্ড একত্রে)

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    অমানুষ – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    পরিক্রমা – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    শক্তিপদ রাজগুরু

    তিল থেকে তাল – শক্তিপদ রাজগুরু

    November 20, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }