Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জুল ভের্ন অমনিবাস ২ (অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়)

    জুল ভার্ন এক পাতা গল্প759 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০১. বাতিঘর

    ১. বাতিঘর

    পশ্চিমের সার-বাঁধা পাহাড়গুলোর আড়ালে অদৃশ্য হ’য়ে গেছে আকাশ। তখন সূর্য ডুবতে চলেছে। পাহাড়গুলোর আড়ালে আস্তে-আস্তে মিলিয়ে যাচ্ছে শেষ বিকেলের আলো। চমৎকার শান্ত আবহাওয়া, সচরাচর এমন আবহাওয়া এখানে দেখা যায় না। পুব আর উত্তর-পুব দিকে তাকালে আকাশ আর সমুদ্রকে আলাদা ক’রে বোঝবার জো নেই—দুয়েই যেন মিলে-মিশে একাকার হ’য়ে গিয়েছে : অন্তত খালি চোখে তাকালে তা-ই মনে হয়। আকাশের ছেঁড়া-ছেঁড়া মেঘগুলোর গায়ে বিকেলের যে-শেষ রশ্মিগুলো ঝিলিক মারছিলো, গভীর-নীল নির্জন সমুদ্রের চঞ্চল জলে ঝিকমিক ক’রে উঠে সেগুলো যেন অপূর্ব এক মায়াজাল রচনা ক’রে বসেছে।

    ইগোর উপসাগরে তখন দাঁড়িয়ে ছিলো সান্তা-ফে, তার সব নোঙর ফেলে। উত্তর-মেহিকোর এক শহরের নামে নাম এই জাহাজের : সান্তা-ফে। হঠাৎ সেই জাহাজের ডেক থেকে গর্জন করে উঠলো একটি কামান। সঙ্গে- সঙ্গে মাস্তুলের ওপর তরতর ক’রে উঠে গেলো আরহেতিন প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা, আর সমুদ্রের প্রশান্ত হাওয়ায় পৎপৎ ক’রে উড়তে লাগলো।

    ঠিক তখনই, যেন সাড়া দিয়েই, বাতিঘর থেকে একটি বন্দুক গর্জন ক’রে উঠলো, আর তৎক্ষণাৎ ইগোর উপসাগরের জলে এক ঝলক তীব্র আলোর ছটা চোখ ধাঁধিয়ে পিছলে পড়লো। সমুদ্র-সৈকতে এসে দাঁড়ালে দুজন আলোকরক্ষী। জাহাজের সামনের দিকে যে-নাবিকটি দাঁড়িয়েছিলো সে হর্ষোৎফুল্ল কণ্ঠে তাদের অভিনন্দন জানালে।

    আরো-দুটি বন্দুকের আওয়াজ স্টটেন আইল্যাণ্ডের স্তব্ধতা ভেঙে গ’র্জে উঠলো, আর অন্যপাশের পাহাড়গুলোর গায়ে ঘা খেয়ে তাদের প্রতিধ্বনি যেন বার-বার গর্জন ক’রে উঠলো তারপর

    অতলান্তিক মহাসাগর আর প্রশান্ত মহাসাগরের জলোচ্ছ্বাস যেখানে পরস্পরকে আলিঙ্গন করেছে, সেখানে সবুজ বনানী-ঢাকা মাথা তুলে সূর্যকে অভিবাদন জানায় স্টটেন আইল্যাণ্ড।

    কামান-বন্দুকের এই আওয়াজগুলো সমুদ্রের বিস্তারে মিলিয়ে যেতেই আবার একটি নীরবতা নেমে এলো স্টটেন আইল্যাণ্ডের ওপর

    দ্বীপে শুধু তিনজন আলোকরক্ষীকেই কাজে বাহাল করা হয়েছে। একজন এখন বাতিঘরের মিনারে তার কাজে ব্যস্ত, বাকি দুজনকে আমরা দেখেছি সমুদ্র-সৈকতে, সেখানে পায়চারি করতে-করতে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে। দুজনের মধ্যে তুলনায় যার বয়স কম, সে বললে, ‘তাহ’লে, বাস্‌কেথ, সান্তা-ফে কালকেই আমাদের ছেড়ে চ’লে যাচ্ছে।’

    ‘জানি, ফিলিপ।’ বাস্‌কেথ জবাব দিলে, ‘এবং আমি আশা করি সান্তা- ফে নির্বিঘ্নেই দেশে ফিরতে পারবে।’

    কথাটা আশা করার। আসলে সান্তা ফে সত্যি-সত্যি বুয়েনোস আইরেসে ফিরতে পারবে কি না, সে-কথা বাস্‌কেথ বা ফিলিপ কেউই নিশ্চয় ক’রে বলতে পারবে না।

    পারা সম্ভবও ছিলো না। তিয়েরা দেল ফুয়েগো কিংবা পাতাগোনিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় কোনো জায়গায় নেই, যাতে অশান্ত সমুদ্রে তুফান উঠলে সান্তা-ফে ডাঙায় ভিড়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে পারে। মাগেলান প্রণালীর এ-পাশে সমুদ্রের ঝড়তুফান নাবিকদের মধ্যে তার ভয়াবহ তাণ্ডবের জন্যে কুখ্যাত। এখানকার সমুদ্র ভয়ংকর বেয়াড়া, নাবিকদের সম্ভবত আদপেই পছন্দ করে না, প্রায়ই শৃঙ্গ অন্তরীপের শিলাময় প্রাচীরে আছড়ে প’ড়ে কত-যে জাহাজ সোজা পাতালে চ’লে যায়, তার আর কোনো ইয়ত্তা নেই। তবে সে-অবস্থা এখন, এতদিন পর, পালটাতে চলেছে। কারণ স্টটেন আইল্যাণ্ডে এখন বাতিঘর বসানো হয়েছে, আর তার ফলে আশা করা যায় হাজার তুফান, হাজার হারিকেন উঠলেও তার আলো আর নিভবে না। দুর্যোগের সময় এই বাতিঘরের আলোয় জাহাজগুলো তাদের পথ দেখতে পাবে, আর ঘুটঘুটে আঁধার রাতেও সান হুয়ান অন্তরীপ কিংবা সান দিয়েগো অন্তরীপ অথবা ফালোস অন্তরীপের রাস্তায় সংঘর্ষ অর্থাৎ নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রেহাই পাবে।

    ফিলিপ এই জনমানবশূন্য দ্বীপে পুরো তিন-তিনটি মাস কাটাতে হবে ব’লে বেশ-একটু মনমরাই হ’য়ে পড়েছিলো। তিনমাস পরে যতক্ষণ-না নতুন তিনজন আলোকরক্ষী এসে ওদের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিচ্ছে, ততদিন সভ্যজগতের সঙ্গে সম্পর্কবিহীন কোনো নির্জন দ্বীপে দিন কাটানো খুব-একটা সহজ কাজ নয়। জাহাজে দিনের পর দিন কাটিয়ে দেয়া যায়, অন্য মাল্লারা আছে, জাহাজ ভেসেই চলেছে, মাঝে-মাঝেই নতুন-নতুন বন্দরে গিয়ে ভিড়তে পারে। কিন্তু এ-দ্বীপটা এক অর্থে বন্দীশালাই–তিনমাসের মেয়াদ না-ফুরোলে আর মুক্তি নেই। চাকরির জন্যে আরজি পাঠাবার সময় ব্যাপারটা সে এদিক থেকে ভেবে দ্যাখেনি। এখন দ্বীপে এসে হাজির হবার পর এদিকটা তার খেয়াল হয়েছে।

    বাস্‌কেথ বললে, ‘দ্যাখো বাছা ফিলিপ, আজ চল্লিশ বছর ধ’রে সমুদ্রকেই আমি আমার ঘর করেছি। জাহাজের ক্যাবিনবয়, খানশামা, নাবিক, অফিসার হিশেবে কত জাহাজে ক’রেই না ঘুরেছি, বলতে গেলে সারা দুনিয়াটাই চ’ষে বেড়িয়েছি। এবার আমার অবসর নেবার সময় এসেছে। বাতিঘরের রক্ষী হওয়া ছাড়া আর কী-ই বা এখন আমার সাজে? আর এই বাতিঘর কি যে-সে বাতিঘর না কি? একেবারে দুনিয়ার শেষ সীমানার বাতিঘর।’ এইসব নানান কথা ব’লে ফিলিপকে উৎসাহ দেবার চেষ্টা করতে-করতে বাস্‌কেথ বাতিঘরে গিয়ে প্রবেশ করলে।

    প্রশান্ত মহাসাগরের জোয়ারের তেমন বিশেষ শক্তি নেই ব’লে একটা কিংবদন্তি আছে। সেটা ঠিক হোক বা না-হোক, অতলান্তিক মহাসাগরের সংযোগস্থলে প্রশান্ত মহাসাগর কিন্তু প্রচণ্ড খেপেই থাকে সবসময়, আর জোয়ার এলে তো কথাই নেই। সেখানে কী তার উন্মাদ গর্জন আর ঢেউয়ের কী প্রচণ্ড দাপট! এমনকী এর তীব্র প্রভাব অনেক দূর থেকে মাগেলানের জলেও টের পাওয়া যায়।

    সান্তা-ফে আরহেতিন নৌ-বাহিনীর জলপোত। একশো ষাট অশ্বশক্তিতে শক্তিমান জাহাজটি দুশো টন ভার বইতে পারে। কাপ্তেন লাফায়েৎ আর লেফটেনান্ট রীগাল ছাড়া পঞ্চাশ জন মাঝিমাল্লা রয়েছে এর খবরদারিতে। এর কাজ হ’লো রিও দে লা প্লাতার দক্ষিণ থেকে লেময়র প্রণালী অব্দি অতলান্তিক মহাসাগর এলাকায় নজর রেখে বেড়ানো। আমাদের এই কাহিনী যখনকার, তখন দ্রুতগতিসম্পন্ন জাহাজ, ক্রুজার বা টর্পেডো-বোট তৈরি হয়নি। তাই, সান্তা-ফের ঘণ্টায় ন-মাইল গতিবেগই তখনকার দিনে যথেষ্ট বলে মনে হ’তো।

    এই বছরের গোড়ার দিকে আরহেন্তিনার সরকার এই জাহাজের হাতে লেময়র প্রণালীর প্রবেশমুখে নির্মীয়মান বাতিঘরটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দিয়েছিলো। মানুষ-জন, যন্ত্রপাতি, মাল-মশলা প্রভৃতি যা-যা বাতিঘর বানাবার জন্যে দরকার, তাই নিয়েই সে স্টটেন আইল্যাণ্ডে যাতায়াত করছিলো। বুয়েনোস আইরেসের জনৈক সুদক্ষ বাস্তুকারের নকশা অনুযায়ী বাতিঘরের কাজ এই ডিসেম্বর মাসে অবশেষে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সান্তা ফে সপ্তাহ তিনেক আগে এসে ইগোর উপসাগরে নোঙর ফেলেছিলো। চারমাসের উপযোগী রসদ ও অন্যান্য জিনিশপত্র বাতিঘরের ভাঁড়ারে জমা ক’রে, বাতিঘরের রক্ষী তিনজন যাতে তিনমাসের মধ্যে কোনোকিছুর অভাবে না-পড়ে সে-বিষয়ে নিশ্চিন্ত হ’য়ে, কাপ্তেন লাফায়েৎ স্টটেন আইল্যাণ্ড থেকে বিদায় নেবার জন্যে প্রস্তুত হয়েছিলেন।

    বহু আবেদনকারীর মধ্যে থেকে কর্তৃপক্ষ বাস্‌কেথ, ফিলিপ এবং মরিসকেই বিশ্বের শেষ প্রান্তের এই বাতিঘরের আলোকরক্ষী হিশেবে মনোনীত করেছেন। ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি—এই তিন মাস তারা বাতিঘরের ভার নিয়ে থাকবে, তারপর মার্চ মাসে আবার নতুন আলোকরক্ষীরা এসে এই গুরুদায়িত্ব কাঁধে নেবে।

    আলোকরক্ষীদের থাকবার ব্যবস্থা হয়েছে মিনারের নিচেই। ঝড়ের তীব্রতা যাতে ঠেকাতে পারে, সেই জন্যে এই কোয়ার্টারটি পুরু দেয়াল দিয়ে আগাগোড়া মোড়া। কোয়ার্টারটি মিনারের সিঁড়ি থেকে একটা বারান্দা দিয়ে আলাদা করা। বারান্দাটির একেবারে শেষ মাথায় আলোকস্তম্ভের সিঁড়িতে ওঠবার দরজা। সিঁড়িটা সরু, এবং ঘোরানো। দেয়ালের থাকে-থাকে পাথর গেঁথে তৈরি। সিঁড়িপথ মোটেই অন্ধকার নয়। অনেকগুলো লুপহোল বা ছোটো গবাক্ষ দিয়ে আলো আসার সুব্যবস্থা করা হয়েছে। বাতিঘরের লুক-আউট কামরায় লণ্ঠনের আতসকাচ ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি একেবারে আনকোরা ব’লেই ঝকঝক করছে। দেয়ালের গা ঘেঁষে গ্যালারি। গ্যালারিতে বসে চারদিকের সমুদ্রের ওপর নজর রাখতে কোনোই অসুবিধে হবার কথা নয়।

    পরদিন সকালবেলা থেকেই সান্তা-ফে-র ওপর একটা সাজো-সাজো রব উঠলো। বিকেলবেলা জাহাজ ছাড়বে, তারই প্রস্তুতির জন্যে এই শশব্যস্ত কর্মচাঞ্চল্য। কাপ্তেন লাফায়েৎ আর লেফটেনান্ট রীগাল তীরে নেমে শেষবারের মতো সবকিছু পরিদর্শন ক’রে এলেন। গতকাল সান্তা-ফের ডেক থেকে কামান দাগবার সঙ্গে-সঙ্গেই বাতিঘরের লণ্ঠনের প্রথম আলো জ্বলেছিলো। কাপ্তেন লাফায়েৎ ভালো ক’রে বাকেথের কাছ থেকে খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে খবর নিলেন : না, লণ্ঠন ভালোভাবেই কাজ দিয়েছে, চিন্তার কোনোই কারণ নেই।

    আলোকরক্ষীদের কাজটা খুবই কঠিন। একটি নির্জন পরিত্যক্ত দ্বীপে দিনের পর দিন কাটিয়ে দেয়াটা মোটেই সুখের ব্যাপার নয়। তবে বাস্‌কেথ, ফিলিপ এবং মরিস—তারা তিনজনই সহ্যশীল ও দক্ষ ব্যক্তি, সমুদ্র সম্পর্কে তাদের বিস্তর অভিজ্ঞতা আছে। জাহাজে জাহাজে কাজ করতে-করতে খানিকটা ক্লান্ত হ’য়ে গিয়ে হয়তো বিশ্রামের জন্যেই এই কাজ নিয়েছে। বাতিঘরের কাজকর্ম রুটিন-বাঁধা, তবে জাহাজের শশব্যস্ত তাড়ার তুলনায় এই কাজ তাদের কাছে হয়তো পরিপূর্ণ বিশ্রাম ব’লেই মনে হবে। তাছাড়া মাত্র তো তিন মাসের ব্যাপার। চোখ-কান বুজে তিনমাস কাটিয়ে দিলেই হ’লো, তারপর এদের ছুটি দিতে বদলি এসে যাবে।

    কাপ্তেন লাফায়েৎ রক্ষী তিনজনকে বিস্তর উৎসাহ দিয়ে চাঙ্গা করে জাহাজে ফিরে গেলেন।

    বিকেলবেলা আলোকরক্ষীরা তিনজনেই সমুদ্রের তীরে এসে দাঁড়ালে। একটু পরেই সান্তা-ফে এখান থেকে রওনা হবে। স্টটেন আইল্যাণ্ডে তারপর বাস্‌কেথ, মরিস আর ফিলিপ ছাড়া আর কাউকেই দেখা যাবে না। তারা একদৃষ্টে জাহাজের ডেকে কর্মচঞ্চল নাবিকদের দিকে তাকিয়ে রইলো।

    বিকেল পাঁচটায় সান্তা-ফে-র বয়লার গর্জে উঠলো। তার চোঙ দিয়ে ভলকে ভলকে বেরিয়ে এলো কালো-কালো ধোঁয়া, তীক্ষ্ণ বেজে উঠলো বাঁশি, পাহাড়ের গায়ে ঘা খেয়ে তার রেশ জাগিয়ে রাখলে প্রতিধ্বনি। জোয়ারের বেগ এখনও বেশ শিথিল; একটু পরে যখন জোয়ারের তোড়ে তীরের কাছের জল ফুলে-ফেঁপে উঠলো, তখন ঘড়ঘড় শব্দে সান্তা-ফে-র নোঙর তোলা হ’লো।

    পৌনে ছটার সময় কাপ্তেন লাফায়েৎ এনজিনম্যানকে তৈরি হ’য়ে নেবার জন্যে হুকুম করলেন। শোঁ-শোঁ ক’রে শব্দ উঠলো এনজিনে। লেফটেনান্ট রীগাল এগিয়ে এসে অপারেটর প্রস্তুত কি না দেখে গেলেন।

    সান্তা-ফে নড়তে শুরু করলো।

    আলোকরক্ষী তিনজন তীর থেকে বিদায়-অভিনন্দন জানালে। বাকেথের মনোভাব এখন কী—সেটা তার মুখ দেখে সঠিক বলা শক্ত। তবে তার অন্য দুজন সহকর্মীকে বেশ একটু বিচলিতই দেখাচ্ছে। সান্তা ফের লোকজনেরাও আমেরিকার অনেক দূরে বিশ্বের একেবারে শেষ প্রান্তে জনশূন্য দ্বীপে এদের ফেলে রেখে যেতে হচ্ছে ব’লে বেশ-একটু মনখারাপই করলে।

    ইগোর উপসাগরের উত্তর-পশ্চিম উপকূল ধ’রে মোটামুটি সাধারণ গতিতেই তরতর ক’রে জল কেটে এগিয়ে চললো সাত্তা-ফে। আটটার সময় সে গিয়ে পড়লো বারদরিয়ায়; সান হুয়ান অন্তরীপ ঘুরে, পশ্চিমে প্রণালীটি ফেলে রেখে তারপর সে পুরোদমে চলতে শুরু করলো। ঘন হ’য়ে যখন রাত্রি নামলো, তখন সাত্তা-ফের ডেক থেকে পৃথিবীর শেষ প্রান্তের এই বাতিঘরের ঝলমলে আলোই শুধু দেখা গেলো : দিগন্তে একটা ছোট্ট তারার মতো জ্বলজ্বল করছে বাতিঘর।

    তখনও আলোকরক্ষীরা কল্পনাও করতে পারেনি তাদের ভাগ্যের আকাশে কী-ভয়ানক বিপদের কালোমেঘ এসে জমছে।

    …

    স্টটেন আইল্যাণ্ডকে স্টটেন ল্যাণ্ড বলেও অভিহিত করতো কেউ-কেউ। আমেরিকার একেবারে দক্ষিণ-পশ্চিম বিন্দুতে এর অবস্থিতি। উচ্ছ্বসিত সমুদ্রের নীল জল দিয়ে ঘেরা দ্বীপটি দু-দুটো মহাসাগরের জলে অবগাহন করতো। শৃঙ্গ অন্তরীপের মধ্যে দিয়ে যে-সব জাহাজ যেতো, তাদের ডেক থেকে ছোট্ট একটা বিন্দুর মতো দেখাতো স্টটেন ল্যাণ্ডকে।

    এই এলাকায় লেময়র প্রণালী নামে একটি প্রণালী আছে। এই প্রণালী দিয়েই তিয়েরা দেল ফুয়েগো থেকে স্টটেন আইল্যাণ্ড বিচ্ছিন্ন; পরস্পরের মধ্যে ব্যবধান কুড়ি মাইলের মতো। দ্বীপটার পুবদিকে সান আন্তোরিয়ো আর কেম্প অন্তরীপ।

    স্টটেন আইল্যাণ্ড পুব থেকে পশ্চিমে ঊনচল্লিশ মাইল, আর উত্তর-দক্ষিণে এগারো মাইল। এর উপকূলভাগ অত্যন্ত আঁকাবাঁকা। কোথাও আকাশে মাথা তুলেছে খাড়া পাহাড়, কোথাও-বা কোনো খাড়ির মধ্যে দিয়ে চর্কি দিয়ে ঘূর্ণি দিয়ে ছুটেছে সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস। ডুবোপাহাড়ও এই এলাকায় প্রচুর। তাই প্রায়ই এই এলাকায় জাহাজডুবি হয়, গত একশো বছরে অগুনতি জাহাজ এখানে ডুবোপাহাড়ে ঘা খেয়ে ভেঙেছে। উপকূলের সমুদ্রের তলাতেও বিস্তর পাহাড়-পর্বত আছে ব’লে সবচেয়ে শান্ত অবস্থাতেও এখানকার সমুদ্র যেন প্রচণ্ড খেপে থাকে, ভয়ংকর জলোচ্ছ্বাস তোলে।

    দ্বীপটি জনমানবহীন। অবশ্য এর সবচেয়ে ভালো ঋতুতেই—মানে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি অব্দি—এখানে কোনোরকমে বাস করা চলে—ঐ সময়টুকুই দক্ষিণ গোলার্ধের এই দ্বীপের গ্রীষ্মকাল কি না—অথচ তখনও সেখানে সে-কী হাড়কাঁপানো কনকনে শীত।

    দ্বীপের অরণ্যে কিছু-কিছু গুঅনাকো দেখা যায়। গুঅনাকো দক্ষিণ আমেরিকার একধরনের আদিম জাতের হরিণ। এর মাংস বেজায় স্বাদু। শীতকালে যখন ঘন পুরু বরফের চাদর মুড়ি দেয় দ্বীপ, তখনও এই হরিণগুলো খাবারের অভাবে মরে না, কারণ বরফের তলা থেকে তারা গাছগাছড়ার পাতা-শেকড় ইত্যাদি খুঁজে নিয়ে খেতে পারে।

    সত্যি-বলতে দ্বীপটিকে একটা প্রকাণ্ড পাথুরে টিলা ছাড়া আর-কিছুই বলা চলে না। প্রাণহীন, নির্জন। ঐ এলাকার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ কিছু-কিছু পাখপাখালি আর উপকূলের নানান জাতের মাছ ছাড়া আর-কোনো প্রাণীকেই দেখতে পাওয়া যায় না। দ্বীপটির মালিক চিলে ও আরহেনতিনার প্রজাতন্ত্র। আরহেন্তিনার সরকার পৃথিবীর শেষ কিনারে এখানে একটি বাতিঘর তৈরি ক’রে দিয়ে সব দেশের নাবিকদেরই কৃতজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এখানে সমুদ্র জাহাজে জাহাজে ব্যস্ত—অথচ ঝড়ে-তুফানে ভয়াবহ। এখানকার ভয়ংকর সমুদ্রে স্টটেন আইল্যাণ্ডের বাতিঘর নিশ্চয়ই দেবতার আশীর্বাদের মতোই কাজ দেবে। তাই, আরহেন্তিনার সরকারের উদ্যোগে ১৮৫৯ সালের নয়ই ডিসেম্বর একবছরের অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলে বাতিঘরটি তৈরি হয়েছে—তৈরি হয়েছে সবেমাত্র।

    দ্বীপটির মাঝখান থেকে চারদিকে রুক্ষ ঊষর মরুভূমি ছড়িয়ে পড়েছে। বাকি দ্বীপটা পাথুরে জমির। এবড়ো-খেবড়ো, উঁচু-নিচু, মাঝে-মাঝে হাঁ ক’রে আছে মস্ত সব গহ্বর, পাতালের অন্ধকারই যেন উগরে দিতে চাচ্ছে। আর নয়তো উঁচু-নিচু কিছু টিলা আকাশে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আকাশকে বিদ্রুপ করবার চেষ্টা করছে। দ্বীপটার সৃষ্টি হয়েছে অগ্নিগিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে। দ্বীপের পুবদিকটা অন্তরীপের মতো ছড়ানো, পশ্চিমদিকটাও সেইরকম : উঁচু, পর্বতবহুল। অরণ্য যেখানে নিবিড়, সেখানে অ্যান্টার্কটিকের সব গাছ। দ্বীপের সমতল অংশটুকু অনেকটাই তুন্দ্রা অঞ্চলের মতন দেখতে—শীতকালে তা তুষারে ঢাকা প’ড়ে যায়।

    দ্বীপে সারাক্ষণই ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রপাত লেগে আছে।

    তীর ঘেঁষে খাড়াই পাহাড়। দ্বীপে কোনো নদী বা ঝরনা নেই। গ্রীষ্মকালের সূর্যের তাপে বরফ গললে এদিকে-ওদিকে বরফগলা জলে ছোটোখাটো ঝিল জাগে, আর ঘোর প্রচণ্ড শীতের আবির্ভাবের আগে পর্যন্ত রোদ্দুরে সেই জল ঝিকমিক ক’রে ওঠে। আমাদের কাহিনীর যবনিকা যখন উঠলো তখন ঐসব ঝিলের জলধারা টিলাপাহাড়ের কোল বেয়ে নেমে এসে ইগোর উপসাগরের সুনীল-ফেনিল জলরাশিকে আলিঙ্গন করছিলো। কিন্তু কে জানতো পৃথিবীর একেবারে শেষ কিনারে, বাসের অযোগ্য এই নির্জন দ্বীপটাতেও একদল বোম্বেটে এসে আস্তানা গেড়েছে!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজুল ভের্ন অমনিবাস ৫ (পঞ্চম খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article জুল ভের্ন অমনিবাস ৩ (তৃতীয় খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    জুল ভার্ন

    জুল ভের্ন অমনিবাস ১ (প্রথম খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 16, 2025
    জুল ভার্ন

    জুল ভের্ন অমনিবাস ৪ (চতুর্থ খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 16, 2025
    জুল ভার্ন

    জুল ভের্ন অমনিবাস ৩ (তৃতীয় খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 14, 2025
    জুল ভার্ন

    জুল ভের্ন অমনিবাস ৫ (পঞ্চম খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 14, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }