Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জুল ভের্ন অমনিবাস ৪ (চতুর্থ খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প757 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২.০১ মাতিয়াস ফান খোইত

    শার্দুল ও শয়তান
    আবার মঁসিয় মোক্লের-এর বিবরণী থেকে

    ২.০১ মাতিয়াস ফান খোইত

    আমাদের শিবির বসানো হয়েছে ধবলগিরির তলদেশে, সমুদ্রতল থেকে প্রায় সাত হাজার ফুট উঁচুতে, কলকাতা থেকে একহাজার মাইল দূরে। আমাদের ভ্রমণের প্রথম পর্যায় এখানে এসেই শেষ হয়েছে; কয়েক সপ্তাহ বিশ্রাম গ্রহণ করে অতঃপর আমরা যাবো দক্ষিণাপথে-কর্নেল মানরো পুনরায় অক্লান্ত সন্ধানে বেরুবেন তার চিরশত্রু নানাসাহেবের। জানি না কোনোদিন এঁরা দুজনে পরস্পরের মুখোমুখি হবেন কিনা–হয়তো পুরোটাই এক-অর্থে বন্যহংসের পশ্চাদ্ধাবন : তবু কর্নেল মানরোর পরিকল্পনার কোনো প্রতিবাদ আমরা করিনি। হয়তো ধীরে-ধীরে সমগ্র ভারত ভূখণ্ড ভ্রমণ করে আসার পর তার এই জ্বালা ও যন্ত্রণা কিঞ্চিৎ প্রশমিত হবে। নানাসাহেব যদি সত্যি নেপালে আশ্রয় নিয়ে থাকেন, যদি তিব্বতের সীমান্তে তরাইয়ের জঙ্গলে সেই বিদ্রোহী মানুষটি জ্বলন্ত মশালের মতো জ্বলে-জ্বলে ঘুরে বেড়ান, তাহলে এই জায়গাটিই যে তার দেখা পাবার পক্ষে সবচেয়ে প্রশস্ত ও অনুকূল স্থল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। মানুষের জীবন অত্যন্ত রহস্যময়-ভবিষ্যৎ কখন যে কাকে কী দেয়, তা কেউ বলতে পারে না। হয়তো সেই রহস্যধূসর ভবিতব্যের প্রতীক্ষ্ণ করা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করণীয় নেই। তবু মাঝে-মাঝে সার এডওয়ার্ডের গম্ভীর ও থমথমে মুখের দিকে তাকালে আমার বুকের ভিতরটা যেন কেমন করে ওঠে। কী-একটা চাপা বেদনা ও জ্বালা এই মানুষটিকে যুগপৎ কী-রকম অস্থির ও নিশ্চিন্ত করে রেখেছে।

    এই অবস্থার মধ্যে একঝলক টাটকা হাওয়ার মতো হলো ক্যাপ্টেন হুড। মানুষটি ভালোবাসে হই-চই ও হাস্যরোল, লোকটা সে ছটফটে ও জ্যান্ত; প্রতিমুহূর্তেই অদ্ভুত কোনো-কিছুর পরিকল্পনা করে যাচ্ছে। সার এডওয়ার্ডের সম্পূর্ণ উলটো বলা যায় তাকে। ভালোবাসে তর্কাতর্কি ও উত্তেজনা-নানা বিষয়ে কৌতূহল ও শখ রয়েছে— সার এডওয়ার্ডের মতো অমন একরোখা নয়। কেবল শার্দুলশিকারের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হলেই মানুষটি মুহূর্তে কীভাবে যেন একেবারে অন্যরকম হয়ে যায়। পঞ্চাশ নম্বর বাঘ তার চাই-ই-শার্দুলবিক্ৰীড়িত ছন্দে এটাই বারেবারে সে ঘোষণা করে। এবং তার অনুচর ফক্স প্রত্যাশায় জ্বলজ্বলে হয়ে ওঠে।

    ব্যাঙ্কস বোধহয় কর্মসূত্রে সারা ভারতবর্ষ চষে ফেলেছিলো। উপরন্তু এঞ্জিনিয়ার মানুষ, বিশেষ করে রেলে কর্ম করে বলেই ভারতের সব অঞ্চলের খবর রাখে। সে-ই আমাদের বোঝালে যে আমরা যেখানে শিবির ফেলেছি, সে-জায়গাটা শিমলা কিংবা দার্জিলিং-এর চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। শিমলা অনেকটা সুইৎজারল্যাণ্ডের মতো, সুতরাং আমাদের কাছে সে ততটা নতুন নয়, বললে সে, আর দার্জিলিং-এর গৌরব হচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘার ঝলমলে শিখর—কিন্তু বৃষ্টি বা কুয়াশায় সেটা প্রায় সবসময়েই এমন লুকিয়ে থাকে যে কাঞ্চনজঙ্ঘার অভুদয় আমাদের চোখের সামনে কতদিনে হতো কে জানে। তার চেয়ে ধবলগিরিই বা মন্দ কী?

    ধবলগিরি আশ্চর্য! সেদিনই স্বচ্ছ স্পষ্ট সকালবেলায় ধবলগিরি উন্মোচিত হয়েছিলো আমাদের সামনে-সেই আশ্চর্য তুষারমৌলি গিরিশৃঙ্গের উজ্জ্বল দৃশ্যটি আমি কোনোদিনও ভুলবো কি না কে জানে।

    তাছাড়া, ব্যাঙ্কস আরও বললে, এখানে শিবির ফেলে আমরা অন্যদিক থেকেও ভালো করেছি, মোক্লের। রাস্তাটা এখানে পাহাড়ের গায়ে দুটো ভাগ হয়ে গেছে-পুবে আর পশ্চিমে। আর তারই ফলে আশপাশের ছোটো-ছোটো পাহাড়ি গ্রামগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে আমাদের মোটেই বেগ পেতে হবে না। সবচেয়ে কাছের গ্রামটা আমাদের স্টীম হাউস থেকে মাত্র মাইল পাঁচেক দূরে। এখানকার পাহাড়ি মানুষেরা বেশ অতিথিবৎসল-ছাগল আর ভেড়া পোষে, শটি আর গম ফলায়-প্রয়োজন হলে অনায়াসেই আমরা তাদের সাহায্য নিতে পারবো।

    বেহেমথ যেখানটায় আস্তানা গেড়েছে, সেটা একটা মালভূমিমাইল খানেক লম্বা আর আধমাইলটাক চওড়া। ছোটো-ছোটো ঘন মখমলের মতো ঘাসেভরা জায়গাটা; কোথাও কোথাও ভায়োলেট ফুটে আছে, কোথাও-বা রডোডেনড্রনের গুচ্ছ; ফুটেছে ক্যামেলিয়াও; আর কোথাও সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে লম্বা ওকগাছ। এই সুন্দর বাগানটার পরিকল্পনা করার জন্য প্রকৃতি-ঠাকরুনকে স্মার্না কি ইস্পাহানের মালি ডাকতে হয়নি : বরং দখিনা হাওয়ায় উড়ে এসেছে কিছু বীজ, আর এই উর্বর ভূমিতে ঝরেছে কিছু রোদ-বৃষ্টি–আর সব মিলিয়ে আপনা থেকেই যেন তৈরি হয়েছে এই সুন্দর ভূদৃশ্য।

    একপাশে চলে গেছে ঘন বন—প্রায় আঠারো হাজার ফুট অব্দি উঠে গেছে এই নিবিড় বনানী। ওক, সিডার, বীচ, মেপল গাছের সঙ্গেই কোথাও সহাবস্থান করছে বেণুবন, কোথাও-বা কলাগাছের ঝাড়, জাপানি ড়ুমুর গাছ। এ-রকমই একটা ছোট্ট শাখাঝোঁপের ছায়ায় বেহেমথ জিরিয়ে নেবে কয়েক সপ্তাহ-তার সঙ্গে-সঙ্গে আমরাও।

    মঁসিয় পারাজারের খানাঘর থেকে সুগন্ধি ধোঁয়া ওঠে কুণ্ডলী পাকিয়ে, আমরা চলন্ত বাড়ির বারান্দায় বসে-বসে দিগন্তের দিকে তাকিয়ে বোদ পোহাই আর জমাট আড্ডা দিই, মাঝে-মাঝে ধবলগিরির গগনভেদী চুড়ো চোখে পড়ে, যখন হাওয়া এসে নিচু ভারি ঝোলামেঘ আর কুয়াশা সরিয়ে দেয়।

    এইভাবেই ধবলগিরিতে আমাদের ছুটি শুরু হলো।

    +

    ২৬শে জুন সকালবেলায় আমার ঘুম ভাঙলো ক্যাপ্টেন হুড আর ফক্সের জ্যান্ত সংলাপ শুনে—খাবার ঘরে বসে তারা শশব্যস্ত ও উত্তেজিত আলোচনায় মগ্ন ছিলো। আমিও গিয়ে তাদের বৈঠকে যোগদান করলুম। ব্যাঙ্কসও তার ঘর থেকে বেরিয়ে এসে তক্ষুনি সে-ঘরে ঢুকলো। তাকে দেখেই হুড বলে উঠলো : কী-হে ব্যাঙ্কস, তাহলে এখানে আর নেহাৎ দু-এক ঘণ্টার বিশ্রাম নয়—আস্ত কয়েকটি মাস কাটাতে হবে আমাদের?

    ঠিকই বলেছো, হড, চেয়ার টেনে বসতে-বসতে ব্যাঙ্কস জবাব দিলে, এবার ইচ্ছে-করলে তোমরা শিকারে বেরুতে পারো—বেহেমথের বাঁশি শুনে তোমাদের আর তাড়াহুড়ো করে ফিরে আসতে হবে না।

    শুনলে তো, ফক্স?

    শুনলুম, ক্যাপ্টেন, ফক্স জানালে।

    হুড বললে, এই তোমাদের বলে রাখছি, ব্যাঙ্কস, আমার ওই পঞ্চাশ নম্বরটাকে ঘায়েল না-করে এই ধবলগিরি থেকে আমি আর নড়ছি না। পঞ্চাশ নম্বরটাকে চাই, ফক্স, চাই-ই। আমি ঠিক জানি হতভাগাকে ঘায়েল করা তেমন সহজ কর্ম হবে না।

    তবু ঘায়েল তাকে করবোই আমরা, ফক্স বিনীতভাবে জানিয়ে দিলে।

    আমি জিগেস করলুম, কী করে বুঝলে যে তাকে ঘায়েল করা তেমন সহজ হবে?

    নেহাৎই আমার ধারণা, মোক্লের, তার বেশি কিছু নয়। শিকারিদের মাথায় মাঝেমাঝে আগে থেকেই অমন ধারণা ঢুকে বসে।

    তাহলে তুমি আজ থেকেই বুঝি, ব্যাঙ্কস জিগেস করলে, শিকারে বেরুবার মৎলব আটছো?

    আজ থেকেই শিকারের যাবতীয় শুলুক-সন্ধান নিতে হবে–তরাইয়ের জঙ্গলে গিয়ে ঢুকতে হবে ময়না তদন্ত করতে। আগে তো গিয়ে দেখতে হবে বাঘেরা আমার আগমনবার্তায় ডেরা ছেড়ে পালিয়েছে কি না?

    শোনো, কথা শোনো, কী অহংকার!

    অহংকার নয়—আমার দুর্ভাগ্যের কথা বলছি!

    দুর্ভাগ্য। হিমালয়ের জঙ্গলে? তাও কি সম্ভব? জিগেস করলে ব্যাঙ্কস।

    দেখাই যাবে শিগগিরই! হুড আমার দিকে ফিরলো! তুমিও সঙ্গে যাবে তো, মোক্লের?

    নিশ্চয়ই যাবো।

    আর তুমি, ব্যাঙ্কস?।

    আমিও যাবো, বললে ব্যাঙ্কস, আর আমার মনে হয় মানরোও সঙ্গে যেতে চাইবেন—অবশ্য আমার মতো, অ্যামেচার হিশেবে, পেশাদার শিকারি হিশেবে নয়!

    তা অ্যামেচার হিশেবে আসতে চাও আপত্তি নেই, তবে সঙ্গে গুলিভরা রাইফেল রেখো। ছড়ি ঘোরাতে-ঘোরাতে শৌখিন ফুলবাবুটির মতো জঙ্গলে যাবার মানে হয় না।–লজ্জায়-অপমানে সব জন্তুই শেষটায় মুখ লুকোবে।

    তা-ই হবে তাহলে, ব্যাঙ্কস সম্মতি জানালে।

    এবারে কিন্তু, ফক্স, দেখো, কোনো ভুল যেন না-হয়। খেয়াল রেখো। আমরা কিন্তু এবার বাঘের তল্লাটে। কর্নেল, ব্যাঙ্কস, মঁসিয় মোক্রের আর আমার জন্যে চারটে এনফিল্ড রাইফেল, তোমার আর গৌমির জন্যে দুটো বুলেটভরা বন্দুক!

    ভয় নেই, ক্যাপ্টেন, ফক্স তাকে আশ্বাস দিলে, বাঘেরা নালিশ করার কোনো সময় বা কারণই পাবে না, এটাই আপনাকে জানিয়ে রাখছি!

    বেলা এগারোটা নাগাদ, অতএব, আমরা দু-জনে যথাবিধি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জঙ্গলের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়লুম; কুকুর দুটোকে সঙ্গে নেয়া হলো না—কারণ এ-ধরনের শিকারে কুকুরেরা কোনো কাজেই লাগে না। স্টর, কালু আর মঁসিয় পারাজারকে নিয়ে সার্জেন্ট ম্যাক-নীল বেহেমথেই থেকে গেলো—সব গোছগাছ করার জন্যে। তাছাড়া এই দু-মাস একটানা চলবার পর বেহেমথের কলকজা সাফসুফ করে রাখা দরকার। কোথাও কিছু বিকল হয়ে গেছে কিনা, পরীক্ষা করে দেখতে হবে। সেজন্যে অবিশ্যি, বলাই বাহুল্য, অনেক সময় লাগবে, কারণ ভালো করে সবকিছু খুঁটিয়ে দেখাই ভালো। আর সে-কাজে স্টর ও কালুর সাহায্য প্রতি মুহূর্তেই কাজে লাগবে।

    বৃষ্টিবাদল নেই, পরিষ্কার উজ্জ্বল দিন। পাহাড়ি পথ, পাকদণ্ডী বেয়ে ঘুরে-ঘুরে নেমে গেছে জঙ্গলের দিকে। আমাদের অবিশ্যি হাঁটতে ভালোই লাগলো, যদিও সত্যিকার জঙ্গলে গিয়ে ঢুকতে সময় লাগলো পাক্কা দেড় ঘণ্টা!

    জঙ্গলে ঢোকবার আগে হুড আমাদের সবাইকে সম্বােধন করে ছোটোখাটো একটা বক্তৃতাই দিয়ে ফেললে। যেহেতু আমরা এখন হিংস্র জন্তুর ডেরায় হানা দিতে যাচ্ছি। সেইজন্যে আমাদের একটু সাবধান থাকা উচিত-বাঘ মারতে গিয়ে শেষটায় বাঘেরই শিকার হয়ে-যাওয়াটা তেমন উপভোগ্য ঠেকবে না বলেই নাকি তার মনে হয়। সেইজন্যে—হুডের সুচিন্তিত পরামর্শ—আমরা যেন কিছুতেই দলছাড়া হয়ে না-যাই–আর, সর্বোপরি, মাথা ঠাণ্ডা রাখি যেন সবসময়।

    তার মতো একজন জাঁদরেল শিকারির মুখ থেকে এই উপদেশ শুনে আমরা যথোচিত সতর্কহলুম। বন্দুকে গুলি ভরা হলো, চোখ-কান রইলো খোলা ও স্পর্শাতুর, এবং ভারতীয় জঙ্গলের ভয়াবহ সর্পকুলও যাতে আমাদের পদচুম্বন না-করে, সেইজনে, আরো-একডিগ্রি সাবধান হলুম!

    সাড়ে-বারোটার পর আমরা বেশ গভীর জঙ্গলেই প্রবেশ করলুম! কাঠুরেদের পায়ে-চলার-পথ দিয়ে যাচ্ছি আমরা, সাবধানে, নিবিষ্টভাবে। ঝোপঝাড়ে কোনো টু-শব্দ হলেই বন্দুক উঁচিয়ে ধরছি, ঝোপঝাড় ও ডালপালাগুলোকে অবলোকন করছি সন্দেহের দৃষ্টিতে : কোথায় কোনখানে কোন বেশে জঙ্গলের আচম্বিত জান্তব মৃত্যু অপেক্ষা করে আছে, কে জানে। মাঝে-মাঝে নিচু হয়ে মাটিতে জীবজন্তুর পায়ের দাগ দেখে বুঝছি যে ক্যাপ্টেন হুডের আশঙ্কা অমূলক—তার আগমনবার্তায় তরাইয়ের হিংস্র জন্তুরা আদপেই ডেরা ছেড়ে পালিয়ে যায়নি।

    হঠাৎ হুডের মুখ থেকে একটা অস্ফুট চীৎকার শুনে আমরা সবাই স্থাণুবৎ দাঁড়িয়ে গেলুম। তাকিয়ে দেখি, সামনেই প্রায় কুড়ি-পা দূরে একটি অদ্ভুত গড়ন। কোনো বাড়ি নয়–কারণ তার না-আছে কোনো চিমনি, না-আছে কোনো জানলা। কোনো শিকারির ডেরাও নয়, কারণ তাতে কোনো ফোকর বা গবাক্ষ কিছুই নেই। বরং পাহাড়ি-কোনো মানুষের সমাধিই হবে হয়তো এটা–জঙ্গলের গভীরে এখন হারিয়ে গেছে। লম্বা একটা চুরুটের মত আকার, পাশাপাশি গাছের ডাল বসিয়ে তৈরি-করা, মাটিতে শক্ত করে বসানো, মোটা-মোটা লতা দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা। গাছের ডাল পেতেই ছাত হয়েছে। স্পষ্ট বোঝা যায়, এটা যে বানিয়েছিলো, সে ব্যাপারটাকে মজবুত করার জন্যে কোনোকিছু করতেই বাদ রাখেনি। ছ-ফিট উঁচু, বারো ফিট লম্বা আর পাঁচ ফিট চওড়া একটা ব্যাপার—কোনো দরজা চোখে পড়লো না; হয়তো একটা দরজা ছিলো, কোনো দূরঅতীতে, কিন্তু এখন মোটা গাছের গুড়িতে ঢাকা পড়ে গেছে। একদিকে একটা লিভার রয়েছে, সেই লিভারটাই ছাতের উপরকার কয়েকটা লম্বা ডালকে টেনে রেখেছে, যেভাবে লিভারের সঙ্গে এগুলো বাধা রয়েছে, তাতে লিভারের ভারসাম্য একটু এদিকওদিক হলেই ডালগুলো নিচে নেমে এসে ছাতের দিকটা পুরোপুরি আটকে দেবে।

    আশ্চর্য তো! কী এটা? আমি জিগেস করলুম।

    ব্যাঙ্কস ভালো করে সরেজমিন তদন্ত করলে, ঠোঁট বেঁকিয়ে বললে, কী আবার–নেহাৎই একটা ইঁদুরধরা ফাঁদ। অবশ্য ইঁদুরটা আসলে কী, সেটা অনুমান করার ভার তোমাদের উপরেই ছেড়ে দিচ্ছি।

    বাঘ ধরার ফাঁদ নাকি? হুড জিগেস করলে।

    হ্যাঁ, ব্যাঙ্কস বললে, বাঘ-ধরা–ফাঁদ। ওই-যে গাছের গুড়িটা দিয়ে দরজাটা আটকানো দেখছো, গুড়িটা আসলে ছাতের ওই ডালগুলো দিয়ে শুন্যে উঠে ঝুলছিলো–ভিতরে কোনো জন্তু ঢুকতেই তার ভারে আপনা থেকেই সেটা নিচে নেমে এসেছে!

    এই প্রথম, হুড বললে, ভারতবর্ষের জঙ্গলে আমি এ-রকম কোনো ফাঁদ দেখলুম! ইঁদুর-ধরা-ফাঁদ-হুম কিন্তু এ-সব-ফাঁদ-টাদ আসলি শিকারিদের যোগ্য নয় মোটেই।

    বাঘেরও সম্মান তাতে নষ্ট, ফকু যোগ করলে।

    সে-কথা মানি, বললে ব্যাঙ্কস, তবে যখন এ-সব হিংস্র জন্তুকে শেষ করে ফেলাটাই সবচেয়ে জরুরি কাজ হয়ে দাঁড়ায়-ফুর্তি বা আমাদের জন্যে শিকার নয়, কোনো হিংস্র জন্তুদের ধ্বংস করাটাই যখন বাধ্যতায় পরিণত হয়, তখন যেনতেন প্রকারেণ কাজ হাশিল করাই তো ভালো-তাছাড়া ফাঁদ পেতে ধরলে সংখ্যাতেও বেশি পাওয়া যায়। এই ফাঁদটা আমাকে কিন্তু খুবই আকৃষ্ট করছে—অত্যন্ত চতুর-কোনো লোকের কাজ এটা, সাধারণ মানুষের বুদ্ধিতে এতটা কুলোত না। এমন আশ্চর্য উদ্ভাবনী শক্তি সচরাচর দেখা যায় না।

    এতক্ষণে কর্নেল মানরো কথা বললেন, আমি একটা কথা বলবো? গাছের গুড়িটা নেমে পড়ে দরজাটা যখন বন্ধ করে দিয়েছে, তখন ভিতরের ভারসাম্যটা কোনো কারণে নিশ্চয়ই নষ্ট হয়েছে। সম্ভবত আচমকা কোনো বুনো জন্তু ঢুকেছিলো ভিতরে, আর তাতেই ফাঁদের দরজাটা বন্ধ হয়ে গেছে।

    সেটা আমরা এক্ষুনি জানতে পারবো, বললে হুড। আর ভিতরের ইঁদুরটা যদি এখনও জ্যান্ত থাকে— বলেই হুড বন্দুক তুলে বন্দুকের ঘোড়ায় আঙুল ছোঁয়ালে। দেখাদেখি আমরাও সে-দৃষ্টান্ত অনুসরণ করলুম।

    ক্যাপ্টেন হুড, ফক্স আর গৌমি প্রথমে ফাঁদটার চারপাশে ঘুরে দেখলে কোথাও এতটুকু ফুটো চোখে পড়ে কি না। ভিতরটায় কী আছে, একবার যদি কোনোরকমে বাইরে থেকে দেখা যেতো!

    কিন্তু কোথাও চুলমাত্র ফঁক দেখা গেলো না।

    তখন উৎকর্ণ হয়ে তারা শোনবার চেষ্টা করলে ভিতর থেকে কোনো আওয়াজ আসে কি না। কিন্তু সব কী-রকম যেন গোরস্থানের মতো নিঃঝুম ও স্তব্ধ। ভারি অস্বস্তিকর।

    তখন আবার সামনে এসে গাছের গুড়িটা তারা পরীক্ষা করলে। দুটো মোটা লতা আকড়ে ধরে আছে গুড়িটা-লিভারটায় চাপ দিয়ে ওটাকে শুন্যে তুললেই ফাদের দরজা খুলে যাবে।

    টু-শব্দটিও তো শুনলুম না—এমনকী নিশ্বেসের শব্দ অব্দি না, দরজায় কান লাগিয়ে হুড শোনবার চেষ্টা করলে, ফাঁদটা নিশ্চয়ই ফাঁকাই পড়ে আছে।

    ফাঁকা হলেও সাবধানের মার নেই, কর্নেল মানরো বাঁদিকটায় একটা গাছের গুড়ির উপর বসে পড়লেন। আমি গিয়ে তার পাশে দাঁড়ালুম।

    হুড তখন গৌমিকে ডাক দিলে ডাক শুনেই গৌমি বুঝে নিলে তাকে কী করতে হবে। একলাফে সে গিয়ে হাতে উঠে পড়লো, তারপর সেই লিভারটার কাছে গিয়ে আস্তে সেটাকে আঁকড়ে ধরলে—অমনি তার ভারে চট করে গাছের গুড়িটা শূন্যে উঠে গেলো, আর গৌমি লিভারটা আঁকড়ে ধরে ঝুলতে লাগলো।

    যতটা ফাঁক হলো তাতে যে-কোনো মস্ত জন্তুও অনায়াসেই বেরিয়ে পড়তে পারে। কিন্তু ছোটো-বড়ো কোনো জন্তুরই কোনো সাড়া পাওয়া গেলো না। হয়তো আমাদের কথাবার্তা ও ফাঁদের ডালপালার আওয়াজে বন্দী জানোয়ারটি ফাঁদের একেবারে শেষ প্রান্তে গিয়ে ঘাপটি মেরে আছে—হয়তো সুযোগ বুঝে লাফিয়ে বেরুবে হঠাৎ দুম করে–আর চট করে জঙ্গলে মিলিয়ে যাবে।

    উত্তেজনায় আমার বুকের মধ্যেটা যেন কেমন করতে লাগলো।

    হঠাৎ দেখি, ক্যাপ্টেন হুড বন্দুকের ঘোড়ায় আঙুল চেপে ফাঁদের দরজার কাছে গিয়ে ভিতরটা দেখবার চেষ্টা করছে। বনের ডালপালার আড়াল দিয়ে আলো এসে পড়েছে দরজার সামনে, ভিতরে কী আছে দেখতে কোনো অসুবিধেই হবার কথা নয়।

    হঠাৎ শুনতে পেলুম ভিতরে অস্পষ্ট একটু খশখশে শব্দ হলো, তারপরেই ঘোঁৎ করে একটা গর্জন—সব যেন কেমন সন্দেহজনক। বোধহয় ভিতরে কোনো জানোয়ার ঘুমুচ্ছিলো, এখন পাশ ফিরে শব্দ করে হাই তুলছে।

    হুড আরো এক-পা এগিয়ে গেলো; ভিতরে কালো-মতো কী-একটা যেন নড়ে উঠলো, বন্দুকটা তার দিকেই তাগ-করা। হঠাৎ এমন সময় কে যেন ভয় পেয়ে চেঁচিয়ে উঠলো, তার পরেই স্পষ্ট ও চমৎকার ইংরেজিতে কে যেন বলে উঠলো : গুলি করবেন না! দোহাই ভগবানের, গুলি করবেন না। বলতে-বলতে ভিতর থেকে কে-একজন বেরিয়ে এলো।

    আমরা এতটাই অবাক হয়ে গিয়েছিলুম যে গৌমি লিভার ছেড়ে দিয়ে লাফিয়ে নামলো নিচে, অমনি ধপ করে গাছের গুড়িটা আবার মাটিতে পড়ে ফাঁদের দরজাটা বন্ধ করে দিলে।

    ততক্ষণে সেই অপ্রত্যাশিত মানুষটি হুডের দিকে এগিয়ে গেছেন, স্পষ্ট স্বরে বলছেন, দয়া করে বন্দুকটা একটু নামাবেন, আমি বাঘ নই—আপনাকে বাঘের সঙ্গে বোঝাঁপড়া করতে হবে না।

    একটু ইতস্তত করে হুড বন্দুকটা নামিয়ে নিলে।

    ব্যাঙ্কস এগিয়ে এলো এবার। কার সঙ্গে কথা বলার সৌভাগ্য পেলুম জানতে পারি কি?

    প্রকৃতিবিজ্ঞানী মাতিয়াস ফান খোইত-লণ্ডনের মিস্টার চার্লস রাইস আর হামবুর্গের হের হাগেনবেকের জন্যে পাচিডেরমাট, টার্ডিগ্রেডস, প্ল্যাণ্টিগ্রেডস, প্রােবোস্কিড়েট ও কার্নিভোরা যোগাড় করতে বেরিয়েছি। তারপর হাত নেড়ে আমাদের দেখিয়ে বললেন : এঁরা?

    কর্নেল মানরো ও তার বন্ধুবান্ধব, বললে ব্যাঙ্কস।

    হিমালয়ের জঙ্গলে বেড়াতে বেরিয়েছেন? ফান খোইত বললেন, সত্যি, ভারি সুন্দর জঙ্গল।  ……আপনারা আমার নমস্কার নেবেন?

    কে এই অদ্ভুত মানুষটি? মাথায় কিছু পোকা আছে বোধহয়—নয়তো এভাবে বাঘের ফাঁদে বন্দী থেকেই ঘিলু নিশ্চয়ই ভেস্তিয়ে গেছে।

    মাতিয়াস ফান খোইতের বয়েস পঞ্চাশের কাছাকাছি; চোখে পুরু চশমা, তার আড়ালে চোখের তারা ঝিকমিক করছে, মসৃণ মুখ, একটু উন্নাসিক, প্রতিমুহূর্তেই অস্থির হয়ে আছেন, অঙ্গভঙ্গিসহকারে এমনভাবে কথা বলেন যে মনে হয় মফস্বলের রঙ্গমঞ্চের কোনো কৌতুক অভিনেতাই বুঝি-বা হবেন। চোখে-মুখে কথা বলেন, প্রতিমুহূর্তে ভঙ্গি করেন নাটকীয়, মাথাটার অন্তঃস্থলে কিছু আছে কিনা জানি না—তবে সবসময়েই মাথাটা একটু কাৎ করে আছেন।

    পরে অবিশ্যি আমরা তারই মুখ থেকে জানতে পেলুম যে তিনি আগে টারডাম সংগ্রহশালায় প্রকৃতিবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন, কিন্তু শিক্ষকতায় তেমন উন্নতি করেননি। নিশ্চয়ই ছাত্রেরা ক্লাসে তার ভাবভঙ্গি দেখে হাস্যরোল বন্ধ করতে পারতো না; তারা যে তার ক্লাসে ভিড় করে আসতো, তা নিশ্চয়ই জ্ঞানস্পৃহাবশত নয় বরং কিঞ্চিৎ মজা করে নেবার জন্যে। শেষটায় জীববিদ্যার অধ্যাপনা ছেড়ে তিনি ঈস্ট ইণ্ডিজে পশুশালায় কর্ম নিলেন—দেখা গেলো তত্ত্বকথা বলার চেয়ে পশু সংগ্রহেই তিনি অধিকতর পারঙ্গম। ক্রমে তিনি লণ্ডন ও হামবুর্গের দুটি বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পশু সংগ্রহের কাজে লিপ্ত হয়ে পড়লেন। এখন তিনি তরাইতে এসেছেন ইওরোপ থেকে মস্ত একটা অর্ডার পেয়ে—অনেক জন্তু ধরে নিয়ে যেতে হবে তাকে। যেখানে তিনি ছাউনি ফেলেছেন, সে-জায়গাটা এই ফাঁদ থেকে মাইল দু-এক মাত্র দূরে।

    অল্পক্ষণের মধ্যেই মাতিয়াস ফান খোইতের জীবনচরিত আমাদের জানা হয়ে গেলো, কিন্তু তবু সেই রহস্য কিছুতেই ভেদ হলো না তিনি কেমন করে ওই ফাঁদের মধ্যে ঢুকে পড়েছিলেন। শেষটায় ব্যাঙ্কস এ-বিষয়ে তাকে সরাসরি জিগেস করে বসলো। জানা গেলো, কাল বিকেলে তিনি তার কাল থেকে এই ফাঁদটা দেখতে এসেছিলেন—সঙ্গে অবশ্য ভৃত্যেরা ছিলো কিন্তু তারা অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলো বলে তিনি একাই এই ফঁদটার মধ্যে ঢুকে পড়েন। ঢুকেছিলেন লিভারটা কাজ করছে কিনা পরীক্ষা করে দেখবার জন্য। ঢোকবামাত্র হঠাৎ কেমন করে যেন তার হাত লেগে দড়িটা ঢিলে হয়ে যায় আর তিনি আবিষ্কার করেন যে তিনি নিজের ফাদে নিজেই বন্দী হয়ে গেছেন; এবং উদ্ধার পাবার উপস্থিত কোনো আশাই আর নেই।

    এতখানি বলে মাতিয়াস ফান খোইত একটু থামলেন-বোধহয় অবস্থার গুরুত্বটা বোঝবার সময় দিলেন আমাদের। তারপর আবার শুরু করলেন, একবার বুঝুন ব্যাপারটা-মস্ত একটা ঠাট্টা নয় কি? প্রথমটায় এই হাসির দিকটাই আমার চোখে পড়লো : নিজের ফাঁদে নিজে বন্দী! ভেবেছিলুম, আমার অনুচরেরা ক্রাল*-এ ফিরে গিয়ে আমাকে না-দেখতে পেয়ে খোঁজ নিতে বেরুবে–মুক্তি পেতে বেশি দেরি হবে না। কিন্তু সন্ধে হয়ে গেলো, রাত হয়ে গেলো-তবু তাদের কোনো পাত্তাই নেই। শেষটায় তাদের জন্যে বসে থেকে-থেকে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়েই পড়লুম। হঠাৎ কীসের শব্দ শুনে ধড়মড় করে জেগে উঠে দেখি দরজা খোলা, ভিতরে আলো, এবং আমার বুক লক্ষ্য করে বন্দুক তোলা! আরেকটু হলেই অকালেই অক্কা পেতুম আর-কি! মুক্তির মুহূর্ত আর মৃত্যুর মুহূর্ত এক হয়ে যেতো। কিন্তু শেষটায় ক্যাপ্টেন যখন দেখলেন যে আমিও হোমো সাপিয়েনের একজন, তখন বন্দুক নামালেন। তা আপনাদের আবারও ধন্যবাদ জানাই—আমাকে মুক্তি দেবার জন্যে।

    তাহলে আপনিও তরাইয়ের এদিকটায় ছাউনি ফেলেছেন? ব্যাঙ্কস জিগেস করলে।

    হ্যাঁ, বললেন মাতিয়াস ফান খোইত। আগেই বোধহয় আপনাদের বলেছি যে আমার ক্রালটা এখান থেকে মাত্র মাইল দু-এক দূরে; আপনারা অনুগ্রহ করে সেখানে পদধূলি দিলে আমি যথার্থই কৃতার্থ হব।

    নিশ্চয়ই, মিস্টার ফান খোইত, বললেন কর্নেল মানরো, আমরা গিয়ে আপনার ক্রাল দেখে আসবো।

    শিকার করতে বেরিয়েছি আমরা, হুড তাকে জানালেন, কাজেই ক্রাল-এ আপনি কী ব্যবস্থা করেছেন, দেখলে নিশ্চয়ই অনেককিছু শিখতে পারবো।

    শিকারে বেরিয়েছেন? মাতিয়াস ফান খোইত চেঁচিয়ে উঠলেন, শিকারি? বুনো জানোয়ার খুঁজে বার করেন—সে শুধু তাদের মারবার জন্যে?

    হ্যাঁ, মারবার জন্যে,–উত্তর দিলে হুড।

    আপনি তাদের মারেন, আর আমি তাদের ধরি, গর্বের স্বরে বললেন ফান খোইত।

    তা আর কী করবেন? আমাদের দু জনের দেখবার ধরন আলাদা, বললে হুড।

    ফান খোইত অসহিষ্ণুভাবে মাথা ঝাঁকালেন কেবল। কিন্তু আমরা শিকার করতে বেরিয়েছি জেনেও তিনি তার আমন্ত্রণ ফিরিয়ে নিলেন না। তাহলে চলুন, ক্রাল-এর দিকেই এগুনো যাক।

    কিন্তু তার মুখের কথা মেলাবার আগেই দূরে কাদের যেন গলার আওয়াজ পাওয়া গেলো। একটু পরেই গাছপালার আড়াল থেকে উঁকি দিলে জনা ছয়েক স্থানীয় লোক।

    এই-যে—এরাই আমার অনুচর, বললেন ফান খাইত, তারপর আমাদের গা ঘেঁসে দাঁড়িয়ে মুখে আঙুল দিয়ে নিচু গলায় বললেন, কিন্তু আমার ওই দুর্দশার কথা ওদের বলবেন না। আমি যে নিজের ফাদেই নিজে গ্রেপ্তার হয়ে গিয়েছিলুম, তা যেন তারা ঘুণাক্ষরেও জানতে না-পারে। তাহলে ওদের চোখে আমি হয়তো অনেকটাই খাটো হয়ে যাবো।

    আমরা ইঙ্গিতে তাকে আশ্বস্ত করায় তবে তিনি শান্ত হলেন।

    ইতিমধ্যে তার অনুচরদের মধ্য থেকে একজন চটপটে ও চালাক লোক এগিয়ে এলো। হুজুর, আমরা আপনাকে একঘণ্টারও বেশি সময় খুঁজে বেড়াচ্ছি…

    আমি এই ভদ্রলোকদের সঙ্গে কথা বলছিলুম শোনো, এঁরা আমাদের ক্রাল দেখতে যেতে চাচ্ছেন—কিন্তু ক্রাল-এ ফেরবার আগে ফাঁদটাকে ঠিকঠাক করে দাও তো।

    অনুচরেরা তৎক্ষণাৎ ফাঁদটাকে ঠিকঠাক করতে লেগে গেলো। আমরাও ততক্ষণে ফাদের ভিতরটা একবার ভালো করে অবলোকন করে এলুম।

    সত্যি, ভারি কৌশলী ফাঁদটা। এমনকী হুড শুক্কু প্রশংসা না-করে পারলে না। আর তার প্রশংসা শুনেই ফান খোইত পুনর্বার বললেন, আপনি তো দুম করে গুলি ছুঁড়েই খালাশ–মেরে ফেললেই ল্যাঠা চুকে গেলো। আমাকে কিন্তু জ্যান্ত ও অক্ষত অবস্থায় এদের পাকড়াতে হয়।

    তা তো বটেই—আমাদের দুজনের দেখবার ভঙ্গিটাই আলাদা, আবারও বললে হুড়।

    আমারটাই বোধকরি আদর্শ উপায়। অন্তত জন্তুদের যদি একবার জিগেস করে দ্যাখেন

    ফান খোইতের মুখের কথা কেড়ে নিয়ে হুড বললে, আমার অবিশ্যি সে-ইচ্ছে আদৌ নেই।

    বুঝলুম, ফান খোইত আর ক্যাপ্টেন ইডের মধ্যে অহরহ এ-রকম কথা কাটাকাটি হতে থাকবে। তক্ষুনি হয়তো দুজনের মধ্যে একটা ছোটোখাটো তর্ক বাধতো, কিন্তু হঠাৎ বাইরে একটা প্রবল শোরগোল উঠলো। হুড়মুড় করে আমরা বেরিয়ে এলুম।

    বাইরে এসে দেখি, কর্নেলের পায়ের কাছে একটা ভীষণ বিষাক্ত সাপ দু-টুকরো হয়ে পড়ে আছে, আর সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটি লোক, তার হাতে একটা গাছের ডাল। লোকটা আর কেউ নয়, ফান খোইতের সেই সপ্রতিভ ও বুদ্ধিমান অনুচরটি। সে যদি হাতের ডালটা দিয়ে নামারতো তাহলে সার এডওয়ার্ড এতক্ষণে সর্পাঘাতেই মরতেন। ভিতর থেকে আমরা যে-চীৎকার শুনেছিলুম, তা ফান খোইতের আরেকজন অনুচরের। মাটিতে পড়ে সে মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছে, কারণ আহত সাপটা সামনেই তাকে পেয়ে তক্ষুনি তাকে ছুবলে দিয়েছে।

    কর্নেল মানরোর কাছে ছুটে গেলুম আমরা।

    আপনার লাগেনি তো?

    না, আমার কিছু হয়নি, বললেন সার এডওয়ার্ড। তারপর সেই ভারতীয়টির দিকে এগিয়ে গিয়ে তিনি বললেন, তোমাকে আমি ধন্যবাদ জানাই।

    ভারতীয়টি ইঙ্গিতে জানালে যে সে ও-সব ধন্যবাদ-টন্যবাদের কোনো ধার ধারে।

    কী নাম তোমার? জিগেস করলেন কর্নেল মানরো।

    সেই হিন্দুটি উত্তর দিলো, কালোগনি।

    ———-

    *ক্রাল একটা ওলন্দাজ শব্দ, তার মানে ছোট্ট গ্রাম। বিশেষ করে ওলন্দাজ আফ্রিকার ছোট্ট বসতিকেই হ্যাঁল বলে অভিহিত করা হয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজুল ভের্ন অমনিবাস ৩ (তৃতীয় খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article জুল ভের্ন অমনিবাস ১ (প্রথম খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    জুল ভের্ন অমনিবাস ১ (প্রথম খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 14, 2025
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    জুল ভের্ন অমনিবাস ৩ (তৃতীয় খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 14, 2025
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    জুল ভের্ন অমনিবাস ২ (অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়)

    November 14, 2025
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    জুল ভের্ন অমনিবাস ৫ (পঞ্চম খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 14, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }