Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জুল ভের্ন অমনিবাস ৪ (চতুর্থ খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প757 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১.০৯ অগ্নিকুণ্ডলী

    ১.০৯ অগ্নিকুণ্ডলী

    হিন্দুস্থানও ব্রাজিলের মতো এই গর্ব করতে পারে যে তারও ঝড়, বৃষ্টি, কালো মেঘের কোনো তুলনাই হয় না। অন্তত রাগি, বদরাগি একটি ঝড় যে আশু আসন্ন, সে-বিষয়ে আমাদের কোনো সন্দেহ ছিলো না। তাপমান যন্ত্রও তা-ই বললে। হঠাৎ অন্তত দুইঞ্চি নেমে গিয়েছে পারদের স্তম্ভ।

    হুডদের জন্যে ভারি দুশ্চিন্তা হচ্ছে আমার, মানরো বললেন, ঝড় আসছে, রাত্রিও আসন্ন, অন্ধকারও ক্রমশ বেড়ে যাচ্ছে। শিকারিরা অনেক সময় খেয়াল না-করেই শিকারের পিছু-পিছু অনেক দূরে চলে যায়। ওরা ফিরে আসতে পারবে তো?

    হুড একটা আস্ত পাগল! বললে ব্যাঙ্কস, কোনো যুক্তির কথায় ওকে কর্ণপাত করানো ভগবানেরও অসাধ্যি। যাওয়াটাই ওর অন্যায় হয়েছে।

    বললুম, কোনোভাবে ওদের কোনো সংকেত করতে পারি না আমরা?

    নিশ্চয়ই পারি। এক্ষুনি আমি বৈদ্যুতিক মশাল জ্বেলে দিচ্ছি, বললে ব্যাঙ্কস।

    ম্যাক-নীল জিগেস করলে, আমি ক্যাপ্টেন হুডের খোঁজে বেরুবো?

    না-না, মানরো বাধা দিয়ে বলে উঠলেন, অন্ধকারে এই বনজঙ্গলে ওদের তো খুঁজে পাবেই না, মাঝখান থেকে নিজেই আবার হারিয়ে যাবে।

    ব্যাঙ্কস বোতাম টিপতেই বেহেমথের মস্ত চোখ দুটো মশালের মতো আলো হয়ে উঠলো, আর সেই আলো পড়ে অশ্বথ বনের সামনেটা থেকে অন্ধকার যেন লাফিয়ে ভয় পেয়ে সরে গেলো। অনেক দূর থেকেই এই আলো হুডের চোখে পড়া উচিত।

    হঠাৎ এমন সময় প্রবল পরাক্রান্ত হাওয়া এলো সবেগে, বাঁকিয়ে দিলে গাছের ডগা, নুয়ে পড়লো ডালপালা সমেত ঝকড়ামাথা অশ্বথবন, নুয়ে পড়লো আর লাফিয়ে উঠলো ম্প্রিঙের মতো, আর সেই স্তম্ভের মতো সারি-সারি অশ্বথের মধ্যে ঝোড়ো হাওয়া বেজে উঠলো যেন কোনো গম্ভীর আকুল অগ্যান।

    ঝড় এলো এতই আচম্বিতে যে মনে হলো যেন ফেটে পড়লো বিস্ফোরণের মতো। ঝরে পড়লো রাশি-রাশি হলুদপাতা, মরা ডাল-হাওয়া তাদের তাড়িয়ে নিয়ে এলো আমাদের শকট পর্যন্ত। আমরা তাড়াতাড়ি জানলা বন্ধ করে দিলুম। কিন্তু তখনও বৃষ্টি পড়লো না।

    টাইফুন যে! ব্যাঙ্কস যেন আরো আতঙ্কিত হয়ে উঠলো, স্টর! কালু কোথায়?

    শেষ জ্বালানিটুকু চুল্লিতে ফেলছে এখন কালু।

    ঝড় থেমে গেলে আমাদের কাঠ কুড়িয়ে নিতে হবে-হাওয়া যেন বিনি মাইনের কাঠুরের মতো সব কেটেকুটে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে-আমাদের অনেক পরিশ্রম বাঁচিয়ে দিলে। যা-ই হোক, তুমি চুল্লিটা সব সময় গনগনে করে রেখো—যাতে চট করে রওনা হতে পারি।

    বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে অনবরত, আর বারে-বারে গর্জে উঠছে বাজ। গরম হাওয়া বয়ে যাচ্ছে জোরে, যেন কোনো গনগনে উনুনের ঢাকা খুলে বেরিয়েছে সে। মাঝে-মাঝে বারান্দায় এসে আমরা অশ্বখবনের দিকে তাকাচ্ছি-আঁকাবাঁকা ডালপালাগুলো যেন ঝলসে-ওঠা আকাশের গায়ে আঁকা কোনো ভীষণ চিত্রকরের এক অফুরান স্তব্ধ কালো আর্তনাদেরই প্রতিভাস।

    হুডের জন্যে আমাদের দুর্ভাবনা ক্রমশ বেড়েই চললো। রাত যখন নটা, শুরু হলো মুষলধারে বর্ষণ। আর সেই আকাশভাঙা বাদলের মধ্যে প্রচণ্ড ঘূর্ণিহাওয়া রাশিরাশি ঝরাপাতা উড়িয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছে কোনো প্রকাণ্ড খ্যাপার মতো। প্রতি মুহূর্তে ছিঁড়ে যাচ্ছে মেঘ, অবিরাম বিদ্যুতের শাসানি আর গর্জনে। আমরা ভিতরে এসে বারান্দার দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলুম। বাইরের বিদ্যুৎজ্বলা চীৎকৃত আলোর ঠিক উলটো যেন আমাদের বৈঠকখানা, শান্ত স্নিগ্ধ এক অন্ধকার ছেয়ে আছে সারা ঘরে।

    হুডদের জন্যে আমাদের উদ্বেগ আর অস্বস্তি ক্রমশই বেড়ে উঠছিলো। এই ঝড়ের মধ্যে গাছতলায় আশ্রয় নিলেও তো তাদের রেহাই নেই। গাছ ভেঙে পড়তে পারে, বাজ ফেটে পড়তে পারে তাদের উপর।

    আর এ-কথা আমার মনে জেগে উঠতেই ভীষণ শব্দ করে প্রচণ্ড বজ্রপাত হলো–ঠিক যেন আমাদের মাথার উপর এবার; আর পরক্ষণেই একটা পোড়া গন্ধে সারা ঘর ভরে গেলো।

    বাজ পড়লো। ম্যাক-নীল আতঙ্কে ভরে গেলো! কাছেই!

    স্টর! কালু! পারাজার! ব্যাঙ্কস চেঁচিয়ে ডাক দিলে।

    তিনজনে ছুটে এসে ঢুকলো আমাদের ঘরে; ব্যাঙ্কস অলিন্দে গিয়ে দাঁড়ালো দেখবার জন্যে। দ্যাখো! দ্যাখো! চেঁচিয়ে উঠলো সে।

    রাস্তার ঠিক বামপাশে, প্রায় দশ হাত দূরে, একটা মস্ত অশ্বত্থ গাছ মাটিতে উলটে পড়ে গেছে। তার মস্ত ডালপালাগুলো পড়েছে আশপাশের গাছপালার গায়ে, আর প্রবল হাতে কে যেন ছাল ছাড়িয়ে নিয়েছে গাছটার, সেই ঝুরি আর ছাল হাওয়ায় এঁকেবেঁকে যাচ্ছে ভীষণ সাপের মতো। সোজাসুজি পড়েছে বাজটা, আর একেবারে চিরে, টুকরো করে ফেলেছে অত-বড়ো গাছটাকে।

    বড্ড বেঁচে গেলো আমাদের স্টীম হাউস, বললে ব্যাঙ্কস, এখানেই থাকতে হবে আমাদের, ফাঁকায়—ওই গাছপালার তলায় গিয়ে আশ্রয় নেয়ার চেয়ে এখানেই আমরা অনেক বেশি নিরাপদ?

    ব্যাঙ্কসের কথা শেষ হবার আগেই চীৎকার শোনা গেলো পিছনে। তবে কি ডরা ফিরে এলো?

    স্টর বললে, এ তো পারাজারের গলা।

    সত্যি, বাবুর্চি পারাজারেরই গলা; পিছনের অলিন্দ থেকে চেঁচিয়ে ডাকছিলো সে আমাদের। তক্ষুনি হন্তদন্ত হয়ে আমরা ছুটে গেলুম। গিয়ে কী দেখলুম! দেখলুম : আমাদের থেকে প্রায় দুশো হাত দূরে ডান দিকে অশ্বথ বনে আগুন ধরে গিয়েছে। এর মধ্যেই উঁচু ডালপালাগুলো যেন কোনো জ্বলন্ত পর্দার আড়ালে ঢাকা পড়ে গেছে। শুধু তা-ই নয়, সেই আগুন উদ্বাহু হয়ে নৃত্য করতে-করতে এগিয়ে আসছে আমাদের এই স্টীম হাউসেরই দিকে। সর্বনাশ আসন্ন। এই ক-দিন এই জ্বলন্ত প্রখর তাপ আর শুকনো গরম হাওয়া গাছপালার আর্দ্রতা শুষে নিয়েছে, গাছপালা ঘাসবন আর ঝোপঝাড় এতই শুকনো ও দাহ্য হয়ে উঠেছে যে মুহূর্তে এই বিপুল বনও বুঝি আদিম সর্বভুক। অগ্নিদেবতার জঠরে চলে যাবে। অগ্নিকুণ্ডলীর দ্রুত অগ্রসর দেখে এটা বুঝতে মোটেই অসুবিধে হলো না যে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আমাদের গোটা শিবির ভস্মীভূত হয়ে যাবে। এই ভীষণ বিপদের সামনে পড়ে আমাদের স্তম্ভিত মুখ থেকে কোনো কথাই বার হচ্ছিলো না। শেষকালে মানরো শান্ত গলায় বললেন, ব্যাঙ্কস, এই বিপদ থেকে আমাদের উদ্ধার করার ভার তোমার উপর।

    ব্যাঙ্কস বললে, উদ্ধার আমাদের পেতেই হবে। এই দাবানল নেভাবার ক্ষমতা যখন আমাদের নেই, তখন এই অগ্নিকুণ্ডের ত্রিসীমানা থেকে চম্পট দিতে হবে আমাদের।

    আর ক্যাপ্টেন হুড? তার কী হবে? জিগেস করলে ম্যাক-নীল।

    এখন তাদের জন্যে কিছুই করার উপায় নেই। এক্ষুনি যদি তারা এখানে এসে পৌঁছোয়, তাহলে তাদের ফেলে রেখেই আমাদের রওনা হয়ে পড়তে হবে।

    কিন্তু তাদের ফেলে চলে-যাওয়া আমাদের উচিত হবে না, ব্যাঙ্কস, বললেন মানরো।

    ফেলে চলে-যাওয়া নয়—প্রথমে বেহেমথকে এই আগুনের খপ্পর থেকে সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। পরে তাদের আমরা খুঁজে বার করবো।

    ব্যাঙ্কসের কথা যে যুক্তিযুক্ত, এ-কথা অস্বীকার করতে পারলেন না মানরো। তা-ই করো তাহলে।

    স্টর! এক্ষুনি এঞ্জিনে গিয়ে বোসো! কালু-স্টীম চাপিয়ে দাও হাতির শুঁড় দিয়ে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী বেরিয়ে এলো।

    ততক্ষণে দাবানল প্রায় পঞ্চাশ হাত এগিয়ে এসেছে। এত বড়ো-বড়ো গাছগুলোকে। যেন মুহূর্তে জঠরে পুরে দিচ্ছে ওই সর্বগ্রাসী আদিম দেবতা। বন্দুকের গুলির মত শব্দ করে ফুটছে ডালপালা, আগুনের তীরের মতো ছিটকে বেরিয়ে যাচ্ছে চারপাশে–আর গাছ থেকে গাছে, লাফিয়ে চলে যাচ্ছে আগুন।

    ব্যাঙ্কস বললে, আর সময় নেই। এক্ষুনি রওনা হতে হবে।

    মানরো বললেন, ইশ, যদি হুডরা ফিরে আসতো!

    সিটি বাজাও-বাঁশি বাজাও। চেঁচিয়ে বললে ব্যাঙ্কস, হয়তো বাঁশির শব্দ শুনতে পাবে তারা!

    গর্জে-ওঠা বাজ, বৃষ্টির ঝমঝম, শব্দ-করে-ফুটে-ওঠা ডালপালার আওয়াজ ছাপিয়ে বাঁশির তীক্ষ্ণ্ণ-প্রবল চীৎকারে হাওয়া বারেবারে কেঁপে উঠলো। নিশ্চয়ই অনেক দূরে গিয়ে পৌঁছেছিলো সেই বাঁশির শব্দ। কিন্তু হুড, ফক্স বা গৌমির কেননা চিহ্নই নেই কোথাও।

    ব্যাঙ্কস, মানরো অস্থিরভাবে বলে উঠলেন, আরো কয়েক মিনিট অপেক্ষা করো, ব্যাঙ্কস!

    অত্যন্ত ঠাণ্ডা গলায় ব্যাঙ্কস বললে, বেশ, আর তিন মিনিট কেবল অপেক্ষা করবো আমি যদিও ওই তিন মিনিটে কিন্তু পুরোপুরি আগুনের পাল্লায় চলে যাবে বেহেমথ!

    দু-মিনিট কেটে গেলো। আগুনের হলকা পৌঁছুলো বারান্দায়; ইস্পাতের খোল গরমে তেতে যেন লাল হয়ে উঠেছে। আরো-অপেক্ষা-করা নিছক পাগলামি ছাড়া আর-কিছু নয়।

    স্টর! এঞ্জিন চালিয়ে দাও!

    আরে! ম্যাক-নীল চেঁচিয়ে বলে উঠলো।

    ওই তো ওরা! বলে উঠলেন কর্নেল।

    রাস্তার ডান দিক থেকে ক্যাপ্টেন হুড আর ফক্সকে দেখা গেলো; গৌমিকে ধরাধরি করে নিয়ে আসছে তারা।

    মারা গেছে নাকি?

    না। ঠিক ওর পাশেই বাজ পড়েছিলো—বন্দুকটা হাত থেকে ছিটকে পড়ে চুরমার, বাঁ-পা-টা একেবারে অবশ হয়ে গেছে।

    ব্যাঙ্কস, বেহেমথ ওই বাঁশি না-বাজালে আমরা বোধহয় কিছুতেই ফিরে আসতে পারতুম না!

    শিগগির করো! জলদি! ব্যাঙ্কস চাচালে।

    হুড আর ফক্স লাফিয়ে উঠলো আমাদের এই অদ্ভুত গাড়িতে, আর গৌমি প্রায় পঙ্গু হয়ে পড়লেও তখনও সংজ্ঞা হারায়নি–ধরাধরি করে তাকে এনে তার কামরায় শুইয়ে রাখা হলো।

    তখন প্রায় সাড়ে-দশটা বাজে। ব্যাঙ্কস আর স্টর হাওদায় গিয়ে বসলো; আর, .তিন আলোর ঝলকানির মধ্যে এগিয়ে চললো বেহেমথ, দাবানল, বেহেমথের বৈদ্যুতিক মশাল, আর বিদ্যুৎজ্বলা আকাশ—এই তিনরকম আলোর মধ্য দিয়ে এগিয়ে চললো আমাদের অতিকায় ইম্পাতি হাতি, তার শুঁড় থেকে বেরিয়ে এলো কালো ধোঁয়ার সর্পকুণ্ডলী।

    দু-এক কথায় হুড তার অভিযানের বর্ণনা দিলে। কোনো বন্য জন্তুর দেখাই তারা পায়নি, চিহ্নমাত্রও না। এদিকে ঝড় যখন এলো, অন্ধকার যে তাদের তখন এত তাড়াতাড়ি ঢেকে ফেলবে তা তারা কেউই আশঙ্কা করেনি। তারা তখন মাইল তিনেক দূরে গেছে, এমন সময় বাজের শব্দ গর্জে ওঠে মাথার ওপর। তক্ষুনি ফিরে আসার চেষ্টা করে তারা, কিন্তু সেই ঝুরি-নামা ডালপালা-ভরা অশ্বথ বনে তারা আতঙ্কিত হয়ে আচমকা আবিষ্কার করে যে তারা পথ হারিয়ে ফেলেছে। ঝড় ততক্ষণে রেগে উঠে গাছপালার ঝুঁটি ধরে নাড়াচ্ছে। এতদূরে তারা চলে গিয়েছিলো যে বেহেমথের বৈদ্যুতিক মশালের আলো সেখানে পৌঁছোয় না। পথ হারিয়ে ফেলে তারা কেবলই গোলকধাঁধায় ঘুরে বেড়াতে লাগলো, কেমন করে যে বেহেমথে পৌঁছুবে বুঝতেই পারেনি। ততক্ষণে মুষলধারে বৃষ্টি নেমেছে, এমনকী ডালপালা ও নিবিড় পাতার চন্দ্রাতপ ভেদ করে অঝোর ধারায় ঝরতে লেগেছে সেই বিষম বৃষ্টি–ভিজে তারা যেন ঝোড়ো কাক হয়ে গেলো একেকজনে। আর এমন সময় এক প্রচণ্ড ঝলসানিতে চোখ ধাঁধিয়ে গেলো তাদের, ঠিক যেন মাথার ওপরেই বাজ ফেটে পড়লো বিষম রোষে, আর গৌমি সংজ্ঞা হারিয়ে চিৎপাত হয়ে পড়ে গেলো মাটিতে, ক্যাপ্টেন হুডের পায়ের তলায়। তার বন্দুকটা তার হাত থেকে কে যেন হ্যাচকা টানে ছিনিয়ে নিয়ে মাটিতে আছড়ে ফেললে, কুঁদোটা ছাড়া ধাতুনির্মিত খোলনলচের কিছুই আর থাকলো না। প্রথমটায় তারা ভেবেছিলো গেমি বুঝি মরেই গেলো, কিন্তু পরীক্ষা করে বুঝলো যে ওই ভীষণ বিদ্যুৎ তার গায়ে বয়ে যায়নিকাছে পড়েছে, আর সেই ধাক্কায় তার পা-টা অসাড় হয়ে গেছে। বেচারার হাঁটবার ক্ষমতাই ছিলো না; তারা তাকে ধরাধরি করে বয়ে নিয়ে এলো, সেই কালো বনের মধ্যে দিয়ে কোনোমতে সামনে এগুতে লাগলো। দুঘণ্টা তারা সেই আঁধারবনের গোলকধাঁধায় ঘুরে বেড়িয়েছে। সংশয়ে পা চলেনি; থেমে বোঝবার চেষ্টা করেছে কোথায় পৌঁছেছে, তারপর আবার শুরু করেছে তারা সেই হতাশ কুচকাওয়াজ। অবশেষে যখন তারা একেবারে হাল ছেড়ে দিয়েছে, এমন সময় কোথায় যেন তীক্ষ্ণ্ণ ধাতব স্বরে বাঁশি বেজে উঠলো, বেহেমথের। তার মিনিট পনেরোর মধ্যেই তারা এসে পৌঁছুলো-আরেকটু দেরি হলে বেহেমথ হয়তো তাদের ফেলে রেখেই চলে যেতো।

    হুড যতক্ষণে তাদের ওই দুর্বিপাকের বর্ণনা দিলে, বেহেমথ ততক্ষণে প্রশস্ত মসৃণ অরণ্যপথ ধরে দ্রুতবেগে এগিয়ে চলেছে। কিন্তু দাবানলও যেন তারই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগুচ্ছে; হাওয়ার গতি যদি বদলে যায়, তাহলে এই অবস্থায় আমাদের বিপদের আর শেষ থাকবে না। লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে আসছে আগুন–পিছু-নেয়া কোনো বিষম ভয়ের মতো—আর বেহেমথ যেন প্রাণপণে ছুটে চলেছে তার হাত এড়াবার জন্যে। হঠাৎ কিন্তু সত্যিই বদলে গেলো হাওয়ার গতি, ছাই আর ফুলকি উড়লো ঘূর্ণি দিয়ে চরকির মতো পাক খেয়ে-খেয়ে, আর আগুনের বেগ যেন আরো বেড়ে গেলো।

    ব্যাঙ্কস তক্ষুনি বেহেমথের গতি বাড়িয়ে দিলে, কিন্তু সেই চঞ্চল অগ্নিকাণ্ডের কাছে শেষ পর্যন্ত তাকে যেন হার মানতেই হবে। আমরা আতঙ্কে ও ভয়ে কেবল সেই প্রচণ্ড, অবিশ্বাস্য, ভয়ংকর দাবানলের দিকে তাকিয়ে আছি! অসহায়ের মতো সমস্ত বোধ আর চেতনা যেন টান হয়ে প্রতীক্ষ্ণ করছে ভীষণ মুহূর্তের, কখন পথ আটকে দু-পাশের অরণ্যেই জ্বলে ওঠে আগুন; এমন সময়, তখন সাড়ে-এগারোটা হবে, ঠিক যেন বেহেমথের মাথার উপর বিস্ফোরণের মতো ফেটে পড়লো বাজ! কী সর্বনাশ! স্টর আর ব্যাঙ্কস যে হাওদায় রয়েছে! আমি ভয়ে চোখ বুঝে ফেললুম।

    বাজটা কিন্তু সরাসরি হাওদার উপর পড়েনি; বেহেমথের লম্বা পাখার মতো কানে পড়েছে, আর ওই ইস্পাত শুষে নিয়েছে সব বিদ্যুৎ। এঞ্জিনের কোনো বিপদ হয়নি। বরং সেই বিকট বক্সনাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেহেমথ যেন তার শুঁড় তুলে বার কয়েক বাঁশি বাজিয়ে তার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘোষণা করে দিলে!

    ক্যাপ্টেন হুড ফুর্তিতে লাফিয়ে উঠলো!রক্তমাংসের হাতি হলে কখন ডিগবাজি খেয়ে পড়তো, চার পা শূন্যে তুলে গড়াগড়ি যেতে! কিন্তু দেখেছো আমাদের বেহেমথকে–বজ্রবিদ্যুৎ ঝড়বৃষ্টি দাবানল কাউকেই কোনো পরোয়া করে না।

    আরো-আধঘণ্টা এগুবার পর আমরা এক আশ্চর্য দৃশ্য দেখতে পেলুম। জ্বলন্ত গাছপালার আলোয় দেখা গেলো সারি-সারি ভীত ও কাতর, আতঙ্কিত ও মরীয়া জীবজন্তু–দাবানলের হাত থেকে পালাবার জন্যে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটেছে তারা—কোনোদিকেই দৃকপাত করছে না মোটেই। আর তাদের দেখে হুড কেবল সশব্দে কপাল চাপড়াতে লাগলো। যখন সে শিকারে বেরিয়েছিলো, তখন কারু ল্যাজের ডগাটিও চোখে পড়েনি —অথচ এখন যখন চায় না, তখন তারা পাল্লার মধ্যে ছুটোছুটি করে মরছে। পোড়া কপাল আর কাকে বলে?

    রাত একটার সময় আমাদের অবস্থা আরো শোচনীয় হয়ে উঠলো। হাওয়া হঠাৎ তিনবার পাক খেয়েই বদলালো দিক, উড়ে গেলো ফুলকি আর ছাই, আর ওপাশের প্রস্তুত ও আগ্রহী অশ্বথ বনেও ধরে গেলো আগুন। অর্থাৎ বেহেমথ মাঝখান দিয়ে যাচ্ছে, এবং সামনে ও দু-পাশে লেলিহান শিখা উঠে গেছে ঊর্ধ্বে, উদ্বাহু হয়ে নৃত্য করছে যেন ভয়ংকর আহ্বাদে। এই আগুনের কুণ্ডের মাঝখান দিয়েই এগুতে হবে আমাদের : দুই ধারে গনগনে বিপুল উনুন, তার মধ্য দিয়ে ছুটে যেতে হবে বেহেমথকে কোনো জাদুজানা অতিকায় ঐরাবতের মতো। হিন্দুদের বজ্রের দেবতা ইন্দ্রের হাতি ছাড়া কে আর উদ্ধার পাবে এই সংকট থেকে?

    ব্যাঙ্কস কিন্তু হাল ছাড়েনি। অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় তারই মধ্য দিয়ে সে পূর্ণবেগে চালনা করলে বেহেমথকে, দু-পাশে গর্জমান জ্বলন্ত উনুন, প্রজ্বলন্ত ডালপালার উপর দিয়ে ঘুরে-ঘুরে যাচ্ছে বেহেমথের চাকা, আর জ্বলন্ত দম-বন্ধ-করা আবহাওয়া ঢেকে ফেলছে আমাদের।

    এইভাবে কতক্ষণ কেটেছিলো, জানি না। হঠাৎ…হঠাৎ একঝলক খোলা হাওয়া যেন শোঁ-শোঁ করে বয়ে গিয়ে আমাদের বলে গেলো, বিপদ আর নেই! রাত তখন দুটো বাজে। আমরা অবশেষে সেই অশ্বথ বন পেরিয়ে এসেছি। আমাদের পিছনে পড়ে রয়েছে সেই বিশাল অরণ্যদেশ, যেখানে শিখা কেবল ছড়িয়েই যাবে নৃত্য করতেকরতে, শেষ অশ্বথ গাছটা যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ অব্দি সেই আগুনের নাচ আর থামবে না।

    সকালবেলায় ঝড় থেমে গেলো-যেমন হঠাৎ এসেছিলো, তেমনিই হঠাৎ তার রোষ আর আক্রোশ মিলিয়ে গেলো দিগন্তে—যেন এই ভয়ংকর কয়েক ঘণ্টায় নিজেকে সে একেবারে নিঃশেষ করে ফেলেছে।

    বেহেমথ যখন বিশ্রামের জন্যে থামলো, তখন বেলা বারোটা বাজে, আর আমরা অবিরাম চলে রেওয়া প্রদেশের কাছে এসে পড়েছি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজুল ভের্ন অমনিবাস ৩ (তৃতীয় খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article জুল ভের্ন অমনিবাস ১ (প্রথম খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    জুল ভের্ন অমনিবাস ১ (প্রথম খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 14, 2025
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    জুল ভের্ন অমনিবাস ৩ (তৃতীয় খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 14, 2025
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    জুল ভের্ন অমনিবাস ২ (অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়)

    November 14, 2025
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    জুল ভের্ন অমনিবাস ৫ (পঞ্চম খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 14, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }