Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জুল ভের্ন অমনিবাস ৪ (চতুর্থ খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    জুল ভার্ন এক পাতা গল্প758 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২.০৩ তরাইয়ের রানী

    ২.০৩ তরাইয়ের রানী

    পর-পর কয়েকদিন ধরে এমন একটানা বৃষ্টি পড়লো যে শেষটায় আমাদের বিরক্তি বোধ হতে লাগলো। আকাশে সূর্যের দেখা নেই; ছাইরঙা ভারি নিচু মেঘ ঝুলে আছে। সারাদিন, মাঝে-মাঝে বাজ পড়ছে, অনবরত বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে–হুডের শিকারে যাবার পরিকল্পনাটা ভেস্তে গেলো বলে তার সে কী বিষম রাগ! শেষটায় জুন মাসের শেষদিনে আকাশ একটু পরিষ্কার হবার লক্ষণ দেখালো। হুড, ফক্স, গৌমি আর আমি ঠিক করলুম বৃষ্টি থামলেই ক্রাল-এ গিয়ে হাজির হবো—সেখান থেকে ফান খোইতের সাঙ্গোপাঙ্গদের নিয়ে অবশেষে বেরুবো বাঘের খোঁজে।

    বৃষ্টি থামতেই সেদিন আমরা তাই বেরিয়ে পড়লাম।

    খানিকক্ষণ যাবার পর সেই বাঘ-ধরা-ফঁদটার কাছে এসে দেখি খোদ ফান খোইত। সশরীরে কালোগনি ও আরো পাঁচ-ছজন অনুচরসহ সেখানে এসে উপস্থিত হয়েছেন। রাত্তিরে ফাদে একটা বাঘ পড়েছিলো, কালোগনিরা সেটাকে মোয-টানা-খাঁচায় তুলতে শশব্যস্ত।

    বাঘটা সত্যি রাজার মতো। পেশল বলিষ্ঠ শরীর; দেখেই তো হুডের ঈর্ষা হতে লাগলো। আরো একটা কমলো তরাই থেকে, দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফক্সকে সে জনান্তিকে জানালে।

    ফান খোইত কিন্তু কথাটা শুনে ফেলেছিলেন। তিনি বলে বসলেন, আরো-একটা বাড়লো আমার সংগ্রহে। এখনও আরো-দুটো বাঘ, একটা সিংহ, দুটো চিতাবাঘ চাই আমার–না-হলে সব চাহিদার জোগান দেয়া যাবে না। তা, আপনারা কি আমার সঙ্গে ক্রাল-এ যাবেন নাকি?

    ধন্যবাদ, হুড বললে, কিন্তু আজকে আমরা নিজেদের হাতের কাজেই ব্যস্ত থাকবো।

    তাহলে কালোগনিকে সঙ্গে নিতে পারেন, বললেন ফান খোইত, এখানকার জঙ্গল ওর নখদর্পণে—হয়তো আপনাদের কাজে লাগবে।

    পথ দেখাবার জন্যে ওকে আমরা সানন্দেই নেবো।

    তাহলে আমি বাঘটাকে নিয়ে এখন চলি। আশা করি আপনাদের নিরাশ হতে হবে না—তবে জঙ্গল থেকে সবগুলো জানোয়ারই সাবাড় করে দেবেন না যেন। এই বলে মাতিয়াস ফান খোইত অনেকটা নিচু হয়ে নাটকীয় ভঙ্গিতে আমাদের অভিবাদন করে খাঁচায় গর্জাতে-থাকা বাঘটাকে নিয়ে সদলবলে গাছপালার আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেলেন, কেবল কালোগনি রয়ে গেলো আমাদের জঙ্গলের মধ্যে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবার জন্যে।

    তাহলে, মোক্লের, চলো এবার আমার বিয়াল্লিশ নম্বরের সন্ধানে।

    আপনার বিয়াল্লিশ, আর আমার আটত্রিশ, তক্ষুনি ফক্স পুরো হিশেবটা জানিয়ে দিলে।

    শুনে আমিও বললুম, এবং আমার এক নম্বর-কিন্তু আমার কথা বলার ভঙ্গি দেখে হুড একেবারে হেসে ফেললে; স্পষ্ট বোঝা গেলো, আমার কণ্ঠস্বরে তার মতো দিব্য আগুনের ছোঁয়াচ ছিলো না।

    কালোগনির দিকে ফিরে হুড জিগেস করলে, তাহলে এখানকার জঙ্গল তুমি ভালো করে চেনো?

    অন্তত কুড়িবার, দিনে-রাতে, এই জঙ্গল দিয়ে যেতে হয়েছে আমাকে, বললে কালোগনি।

    সেদিন ফান খোইত বলছিলেন ক্রাল-এর আশপাশে নাকি একটা বাঘকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছে। তুমি সেটাকে দেখেছিলে?

    দেখেছি, কিন্তু সেটা বাঘ নয়, বাঘিনী। এখান থেকে মাইল দু-এক দূরে তাকে দেখা গিয়েছিলো। কয়েক দিন ধরে সবাই সেটাকে পাকড়াবার চেষ্টা করছে। আপনারা যদি চান তো তার ডেরার–

    ঠিক তা-ই আমরা চাই, হুড আর কালোগনিকে তার কথা শেষ করতে দিলে।

    কালোগনিকে অনুসরণ করে আমরা গভীরতর জঙ্গলে প্রবেশ করলুম। কারণ সাধারণত ক্ষুধায় কাতর না-হলে বাঘ কখনও সহজে গভীর জঙ্গল ছেড়ে বেরোয় না। সেইজন্যেই অনেকে হয়তো কোনো বাঘের মুখোমুখি না-পড়েও এই অঞ্চলে এসে বেড়িয়ে যেতে পারেন। শিকারের উদ্যোগ করলে সেইজন্যেই প্রথমে খবর নিতে হবে জঙ্গলের কোথায়-কোথায় বাঘের উপদ্রব বেশি। বিশেষ করে খোঁজ নিতে হয় বাঘ কোথায় জল খেতে যায়—সেই ঝরনা বা ছোট্ট জলস্রোতটি বার করতে পারলেই অনেকটা সন্ধান মিলে গেলো—তারপরে কেবল সুযোগের অপেক্ষা। তবে অনেক সময় তা অবিশ্যি আদৌ যথেষ্ট হয় না, টোপ ফেলেই তাকে কজিতে আনতে হয়। অনেক সময় গোরুর মাংস গাছতলায় ফেলে রেখে গাছের উপরে শিকারিরা ওৎ পেতে থাকে। অন্তত ঘন জঙ্গলে সাধারণত এই উপায়ই গ্রহণ করা হয়।

    সমতলভূমিতে অবিশ্যি ব্যবস্থা অন্য। সেখানে মানুষের এই সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলায় হাতি সবচেয়ে কাজে লাগে। অবশ্য হাতিদের এই জন্যে ভালো করে শিখিয়ে নিতে হয়। তবু সবচেয়ে শিক্ষিত হাতিরাও অনেক সময় বাঘের মুখোমুখি পড়ে গেলে ভয় পেয়ে হুড়মুড় করে এমনভাবে দৌড়ুতে থাকে যে হাওদায় বসে-থাকা শিকারির পক্ষে তখন হাতির পিঠে বসে-থাকাই দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে। মাঝে-মাঝে আবার বাঘেরাও দুঃসাহসে ভর করে তড়াক করে লাফিয়ে ওঠে হাতির পিঠে-সেই বিশাল জন্তুর পিঠেই তখন বাঘে-মানুষে ভীষণ লড়াই বেধে যায়, আর বেশির ভাগ সময়েই সেই লড়াই শিকারির পক্ষে মারাত্মক হয়ে ওঠে।

    অন্তত এইভাবেই ভারতের রাজা-বাদশারা শিকারে বেরোন, জমকালো ভঙ্গিতে, জাঁকজমক সহকারে—কিন্তু ক্যাপ্টেন হুডের শিকার করার পদ্ধতি মোটেই এ-রকম নয়। হুড বরং পায়ে হেঁটে বাঘের খোঁজে বনে-বনে ঘুরে বেড়াবে, সে বরং মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বাঘের সঙ্গে সরাসরি লড়াই করবে, কিন্তু তবু কখনও হাতির পিঠে চড়ে শিকারে বেরুবে না।

    আমরা কালোগনিকে অনুসরণ করে এগুচ্ছি বনের মধ্যে। সাধারণত হিন্দুরা একটু চাপা স্বভাবের হয়, কালোগনিও তাদের মতোই-পারতপক্ষে কোনো বাক্যব্যয় করতে চায় না—কোনো প্রশ্ন করলেও অতি সংক্ষেপে উত্তর দিয়ে দেবার পক্ষপাতী।

    ঘণ্টাখানেক হেঁটে আসার পর একটি প্রখর স্রোতস্বিনীর কাছে এসে আমরা থামলুম। জলের ধারে মাটির ওপর নানা ধরনের জন্তুর পায়ের ছাপ–ছাপগুলো বেশ টাটকা। পাশেই একটা গাছের গুড়ির সঙ্গে মস্ত একখণ্ড গোমাংস টোপ হিশেবে বেঁধে রাখা হয়েছিলো—টোপটা, স্পষ্ট বোঝা গেলো, কোনো জন্তু আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেছিলো বোধহয় কতগুলো শেয়াল মাংসের টুকরোটাকে নিয়ে টানাটানি করেছিলো, যদিও আদৌ তাদের জন্যে এই টোপ ফেলা হয়নি। আমরা কাছে যেতেই গোটা কয়েক শেয়াল হুড়মুড় করে ছুটে পালিয়ে গেলো।

    ক্যাপ্টেন, কালোগনি বললে, এখানেই বাঘিনীটার জন্যে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। দেখতেই পাচ্ছেন, এখানে ঝোঁপের আড়ালে লুকিয়ে থাকলে কত সুবিধে হবে।

    কালোগনি ঠিকই বলেছিলো। আমরা বন্দুক উঁচিয়ে ঢ্যাঙা গাছগুলোর আড়ালে লুকিয়ে পড়ে সেই মাংসের টুকরোটার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে রইলুম। গৌমি আর আমি রইলুম একটা গাছের আড়ালে, হুড আর ফক্স দুটো মুখোমুখি দাঁড়ানো মস্ত, ওকগাছের ডালে উঠে বসে তৈরি হয়ে রইলো। কালোগনি লুকোলো একটা মস্ত পাথরের আড়ালে-বিপদ দেখলে সে পাথরের চুড়োয় উঠে পড়বে। এইভাবে ছড়িয়েথাকার ফলে সুবিধেটা হলো এই যে জন্তুটাকে একেবারে ঘিরে ধরা যাবে—কিছুতেই যাত সে পালাতে না-পারে, সেইজন্যেই এই ব্যবস্থা।

    এখন কেবল অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছুই করণীয় নেই আমাদের। আশপাশের ঝোঁপের আড়ালে শেয়ালগুলো তখনও ডাকাডাকি করছিলো কিন্তু আমাদের ভয়ে সেগুলো আর মাংসের দিকে এগিয়ে আসতে পারছিলো না।

    প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে হঠাৎ আচম্বিতে শেয়ালের ডাক থেমে গেলো। পরক্ষণেই হুড়মুড় করে গোটা কয়েক শেয়াল ল্যাজ গুটিয়ে সেখান থেকে ঊধ্বশ্বাসে ছুটে পালালো। কালোগনির শরীরটা তখন টান হয়ে উঠেছে ধনুকের ছিলার মতো, ইঙ্গিতে সে আমাদের সাবধান হতে বলে দিলে। বুঝতে পারলুম, শেয়ালদের ওই পলায়ন আসলে কোনো হিংস্র জন্তুর আবির্ভাবের পূর্বাভাস। সম্ভবত ওই বাঘিনীরই আবির্ভাব হয়েছে বনের মধ্যে।

    আমরা বন্দুক উঁচিয়ে আছি। ঝোঁপের যেদিক থেকে শেয়ালগুলো ছুটে পালিয়েছিলো, হুড আর ফক্স বন্দুক তুলে সেই দিকটায় তাগ করে আছে। তার পরেই হঠাৎ দেখলুম সেই ঝোঁপের একটা দিক আচমকা ভীষণভাবে নড়ে উঠলো। শুনতে পেলুম শুকনো ডালপালা গুড়িয়ে যাবার শব্দ। আস্তে, অতি মন্থর কিন্তু নিশ্চিন্ত ভঙ্গিতে, কোনো জন্তু গুঁড়ি মেরে এগুচ্ছে নিশ্চয়ই। যদিও জন্তুটা শিকারিদের কোথাও দেখতে পাচ্ছে না, তবু কেমন করে যেন সে টের পেয়ে গেছে যে জায়গাটা তার পক্ষে আদৌ নিরাপদ নয়। জন্তুরা এ-সব বিষয় কেমন করে যেন টের পেয়েই যায়। নিশ্চয়ই ক্ষুধায় অত্যন্ত কাতর না-হয়ে পড়লে, এবং সেই মাংসের গন্ধে আকৃষ্ট না-হলে, সে আর এক পাও এগুতো না।

    অবশেষে ডালপালার আড়ালে তাকে দেখা গেলো—কেমন যেন সন্দিহান হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেই বিশালসুন্দর বাঘিনী। তারপরে আস্তে সাবধানে গুঁড়ি মেরে সে এগুতে থাকলো আবার—শরীরের মধ্যে কোথাও তার বোধহয় কোনো স্প্রিং আছে, কোনো বেগতিক দেখলেই সে ঝটকা মেরে লাফিয়ে পালাবে।

    আমরা তাকে টোপটা পর্যন্ত এগুতে দিলুম। মস্ত একটা শিকারি বেড়াল শিকারের উপর লাফাবার আগে ঘাড় ও পিঠ যেমনভাবে বাঁকিয়ে টান করে নেয়, তার শরীরটাও ঠিক তেমনি হয়ে উঠলো।

    হঠাৎ সেই ছমছমে স্তব্ধ বন যুগপৎ দুটি বন্দুকের গুলিতে থরথর করে কেঁপে উঠলো;

    বিয়াল্লিশ নম্বর, চেঁচিয়ে উঠলো হুড।

    আটত্রিশ, ততোধিক উঁচু গলার স্বর ফক্সের!

    হুড আর ফক্স একই সঙ্গে গুলি করেছিলো; আর এমনি তাদের অব্যর্থ লক্ষ্য যে বাঘিনার হৃৎপিণ্ড তৎক্ষণাৎ ফুটো হয়ে গিয়েছে। এখন সে পড়ে আছে মাটিতে–নিস্পন্দ ও নিঃসাড়।

    কালোগনি চটপট ছুটে গেলো তার দিকে। আমরা তাড়াতাড়ি যে-যার গাছ থেকে নেমে এলুম। বাঘিনীটা আর একটুও নড়ছে না।

    কিন্তু, সত্যি, কার গুলিতে মরেছে তরাইয়ের এই রানীবাঘ? ক্যাপ্টেন হুড, না ফক্স—কার গুলি ভেদ করেছে লক্ষ্য। পরীক্ষা করে দেখা হলো বাঘটাকে; দেখা গেলো তার বুকে স্পষ্ট দুটি গুলির দাগ!

    যাক, হুডের গলায় কিঞ্চিৎ ক্ষোভ শোনা গেলো, আমরা দু জনেই তাহলে আধখানা করে বাঘ পেলুম-সাড়ে-একচল্লিশ হলো তাহলে আমার।

    অর্থাৎ আমার হিশেব দাঁড়ালো সাড়ে-সাঁইত্রিশ, ফক্সের গলাতেও সেই একই ক্ষোভ।

    কিন্তু তারা দুজনে যতই ক্ষুব্ধ হোক না কেন, বাঘিনীটা যে তক্ষুনি মরেছে, এটা আমাদের সৌভাগ্য বলতে হবে। আহত বাঘিনীর মতো ভয়ংকর জন্তু আর-কিছুই হতে পারে না—নিজেদের ভাগ নিয়ে তারা দুজনে যতই ক্ষুব্ধ হোক না কেন, একবারেই একটা বাঘ মেরে ফেলা মোটেই কম কৃতিত্বের কাজ নয়।

    ফক্স আর গৌমি বাঘিনীর সেই চমৎকার ছালটি ছাড়াবার জন্যে সেখানেই থেকে গেলো, আর আমি হুডের সঙ্গে ফিরে এলুম স্টীম হাউসে। সারা রাস্তা হুড বেশ মনমরা হয়ে রইলো-ভাগে মাত্তর আধখানা বাঘ পড়ায় সে কিন্তু মোটেই খুশি হয়নি।

    +

    তরাইয়ের জঙ্গলে ক্যাপ্টেন হুডের প্রতিটি অভিযানের বর্ণনা দেবার কোনো প্রয়োজন দেখছি না, কারণ আসলে হয়তো প্রতিটি শিকার-অভিযানের ধরনই একরকম-বৈচিত্র্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত, একইরকমভাবে সবকিছুরই পুনরাবৃত্তি হয়। তেমনি সন্তর্পণে যেতে হয় জঙ্গলের মধ্যে, টোপ ফেলা হয় জন্তুটির জন্যে, তারপর লুকিয়ে থেকে একইরকমভাবে জন্তুটির আবির্ভাবের জন্য বসে-থাকা, অপেক্ষা-করা। সেইজন্যেই এখানে কেবল এটুকু বলাই নিশ্চয়ই যথেষ্ট হবে যে তরাই অন্তত হুড আর ফক্সের নালিশ করার মতো কোনো কারণ দেয়নি।

    এরই মধ্যে একবার ফান খোইতও আমাদের সঙ্গে শিকারে বেরিয়েছিলেন। হয়তো তিনি ভেবেছিলেন যে কোনো আধমরা বাঘকে তিনি ক্রাল-এ নিয়ে গিয়ে সারিয়ে তুলবেন, এবং তার তালিকা বিস্ফারিত হয়ে উঠবে। সেদিন আমাদের তিনটি বাঘের পাল্লায় পড়তে হয়েছিলো। দুটি বাঘ, ফান খাইতের তীব্র বিরাগ সত্ত্বেও, হুড আর ফক্সের গুলিতে প্রথম বারেই মারা পড়লো—কিন্তু তৃতীয় বাঘটির কাঁধে গুলি লাগার পর সে একটি প্রচণ্ড লাফ দিয়ে আমাদের মাঝখানে এসে পড়েছিলো।

    এই বাঘটাকে মারবেন না, ফান খোইত চীৎকার করে জানালেন, এ-বাঘটাকে জ্যান্ত পাকড়াতে চাই।

    কিন্তু প্রাণতাত্ত্বিকের মুখের কথা শেষ হবার আগেই আহত বাঘটি প্রায় তাঁরই উপর এসে পড়লো। এক ধাক্কায় ফান খাইত কয়েক হাত দূরে ছিটকে পড়লেন—ঠিক তক্ষুনি ক্যাপ্টেন হুড গুলি না-করলে এই উড়ো ওলন্দাজটিকে আর বেঁচে থাকতে হতো না।

    ক্যাপ্টেন, আপনার আরেকটু অপেক্ষা করা উচিত ছিলো। শেষ পর্যন্ত না-হয় দেখতেন-

    কী দেখতাম? বাঘের থাবায় কীভাবে ছিন্নভিন্ন হয়ে যান, সেই দৃশ্য?

    একটু নখের আঁচড় লাগলেই যে মরতুম, তা আপনাকে কে বললে?

    বেশ, হুড শান্ত গলায় বললে, এর পরের বারে আমি দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে সব দেখবো।–কোনো বাধা দেবো না।

    পশুশালায় দাঁড়িয়ে গর্জন করার বরাত ছিলো না বাঘটার, বরং বৈঠকখানার দেয়ালের শোভা বর্ধন করাই ছিলো তার নিয়তি। কিন্তু তার ফলে হুডের সংগ্রহ দাঁড়ালো তেতাল্লিশ, আর ফক্সের আটত্রিশ-আগের দিনের আধখানা বাঘ আমরা আর হিশেবেই ধরলুম না।

    হঠাৎ তেইশে জুলাই কয়েকজন পাহাড়ি এসে হাজির স্টীম হাউসে। আমাদের শিবির থেকে মাইল পাঁচেক দূরে তাদের ছোট্ট গ্রামটি—তরাইয়ের জঙ্গলের উপর দিকটায়। তারা তড়বড় করে আমাদের যা বললে তার সারমর্ম দাঁড়ালো এইরকম : গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একটি বাঘিনী নাকি পুরো অঞ্চলটায় সন্ত্রাসের সৃষ্টি করে চলেছে। ছাগল-ভেড়া উধাও হচ্ছে প্রতিদিন, মানুষের প্রাণও মোটেই নিরাপদ নয়। বসতি তুলে অন্য-কোথাও চলে যাবে কিনা ভাবছে তারা। ফাঁদ পেতে তারা ধরবার চেষ্টা করেছিলো বাঘিনীটিকে, কিন্তু বাঘিনীর গায়ে তাতে আঁচড়টিও পড়েনি। গাঁও-বুড়োরা বলছে এ-বাঘিনী নাকি সর্বনাশের দূত-শিগগিরই এখান থেকে বসতি না-তুলে দিলে সব ছারখার করে দিয়ে যাবে।

    কাহিনীটি শুনেই ক্যাপ্টেন হুড প্রায় লাফিয়ে উঠলো। তক্ষুনি সে পাহাড়িদের প্রস্তাব করে বসলো যে সে তাদের সঙ্গে তাদের গ্রামে গিয়ে সব সরেজমিন তদন্ত করে দেখতে রাজি আছে। এ-রকম একটি দুর্ধর্ষ বাঘিনীর সঙ্গে বোঝাঁপড়া করার সাধ নাকি তার অনেক দিনের।

    তুমিও আসবে না কি, মোক্লের? আমাকে হুড জিগেস করলে।

    নিশ্চয়ই, আমি বলে উঠলুম, এ-রকম একটা রোমহর্ষক অভিযান আমি ছাড়তে রাজি নই।

    ব্যাঙ্কস বললে, এবার কিন্তু আমিও তোমাদের সঙ্গে যাবে। আমার অনেক দিনের ইচ্ছে হুড কেমন করে শিকার করে, তা দেখে এই চর্মচক্ষু সার্থক করি।

    ক্যাপ্টেন, আপনি আমাকে যেতে বলবেন না? জিগেস করলে ফক্স।

    সে কী হে? এই তো তোমার বাকি আধখানা বাঘিনী মারার সুযোগ! হুড হেসে উঠলো, এই সুযোগ কি কখনও ছাড়া চলে?..না, না, তোমাকেও যেতে হবে।

    আমাদের যেহেতু তিন-চার দিন একটানা স্টীম হাউসের বাইরে থাকতে হবে, সেইজন্যে ব্যাঙ্কস সার এডওয়ার্ডকেও জিগেস করে নিলে তিনি আমাদের সঙ্গে পাহাড়িদের গ্রামে যেতে চান কিনা। সার এডওয়ার্ড অবশ্য তাকে ধন্যবাদ দিয়ে বললেন, এই সুযোগে তিনি সার্জেন্ট ম্যাক-নীল আর গৌমিকে নিয়ে আশপাশের অঞ্চলটা একবার টহল দিয়ে ঘুরে আসবেন। আমরা যেন তার জন্যে খামকা কোনো চিন্তা না-করি।

    ব্যাঙ্কস আর তাকে বিশেষ পিড়াপিড়ি করলে না। চটপট তৈরি হয়ে নিয়েই আমরা প্রথমে ক্রাল-এর উদ্দেশে বেরিয়ে পড়লুম।

    ক্রাল-এ যখন পৌঁছুলুম তখন বেলা দুপুর। ফান খোইতকে আমরা আমাদের। অভিপ্রায় জানাতেই তিনি কালোগনি ছাড়াও আরো-তিনজন ভারতীয়কে আমাদের সঙ্গে দিয়ে দিলেন। শুধু একটা চুক্তি করে নিলেন তার আগে-যদি দৈবাৎ কোনো কারণে বাঘিনীটিকে আহত অবস্থায় পাওয়া যায়, তাহলে তাকে ক্রাল-এ দিয়ে যেতে হবে; কারণ কোনো চিড়িয়াখানায় যদি এ-রকম একটা প্ল্যাকার্ড লটকে দিয়ে জানানো যায়, তরাইয়ের এই সম্রাজ্ঞী একদা একটা পুরো গ্রাম ছারখার করে দিয়েছিলো, তাহলে সেটা নিশ্চয়ই একটা মস্ত আকর্ষণ হয়ে উঠবে।

    ক্রাল থেকে বেরিয়ে আমরা যখন পাহাড়িদের গ্রামে গিয়ে পৌঁছুলুম, তখন বেলা চারটে বাজে। গিয়ে দেখি, গ্রামবাসীদের আতঙ্ক সেখানে অসীমে পৌঁছেছে। ঠিক সেইদিনই সকালবেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে বাঘিনীটি নাকি একটি যুবককে ধরে নিয়ে গেছে।

    আমরা সেই গ্রামে পৌঁছুতেই আমাদের মহাসমাদর করে গ্রামের সবচেয়ে সম্রান্ত ব্যক্তিটির কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। ব্যক্তিটি একজন ইংরেজ, সেখানে পাহাড়িদের সঙ্গে থেকে তিনি চাষবাস করেন। তার পক্ষে এই বাঘিনী আরো সাংঘাতিক হয়ে দাঁড়িয়েছে : দু-একদিনের মধ্যে বাঘিনীটিকে বধ করা না-গেলে তল্পিতল্পা গুটিয়ে তাকে আবার নতুন করে অন্য জায়গায় গিয়ে চাষবাসের উদ্যোগ করতে হবে। এবং সেটা তার মোটেই অভিপ্রেত নয়। ওই বাঘিনীটিকে কেউ যদি ঘায়েল করতে পারে, তাহলে তিনি বরং কয়েক হাজার টাকা পুরস্কার দেবেন, তবু এখানকার বাস ওঠাবেন না। কারণ —তিনি বললেন-একবার যদি এই আতঙ্ককে বাড়তে দেয়া যায়, তাহলে আশপাশের চোদ্দ-পনেরোটা গ্রাম একেবারে ছারখার হয়ে যাবে।

    কয়েক বছর আগে, তিনি বললেন, আরেকটি বাঘিনীর জন্যে তেরোটি গ্রামের লোক গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলো—আর তার ফলে প্রায় দেড়শো মাইল উর্বর জমি পতিত পড়ে থাকে। এবারও যদি এ-রকম কোনো ব্যাপার ঘটে, তাহলে পুরো এলাকাটাই আমাদের ছেড়ে যেতে হবে!

    বাঘিনীটাকে মারবার চেষ্টা করেছেন আপনারা? ব্যাঙ্কস জিগেস করলে।

    সম্ভব-অসম্ভব সব উপায়ই প্রয়োগ করা হয়েছে। ফাঁদ পাতা হয়েছে, মস্ত গর্ত করে উপরে ডালপালা বিছিয়ে দেয়া হয়েছে, স্ত্রিকনিন-মাখানো মাংস দিয়ে টোপ ফেলে দেখা হয়েছে, কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি।

    আপনাকে অবশ্য এমন কথা দিতে পারবো না যে আমরা বাঘিনীটিকে ঘায়েল করবো, বললে হুড, তবে এইটুকু বলতে পারি যে আমরা চেষ্টার কোনোই ত্রুটি করবো না।

    সেই দিনই সব তোড়জোড় . রে আমরা বেরিয়ে পড়লুম। আমাদের দলের সঙ্গে, যোগ দিলে আরো কুড়িজন পাহাড়ি। ব্যাঙ্কস যদিও আদৌ শিকারি নয়, তবু সে উচ্ছলভাবে অত্যন্ত আগ্রহসহকারে আমাদের সঙ্গে সফরিতে বেরুলো।

    তিনদিন ধরে অহোরাত্র খোঁজা হলো সেই বাঘিনীকে—কিন্তু তার কোনো পাত্তাই পাওয়া গেলো না; গোটা তল্লাট থেকেই সে যেন একেবারে উবে গিয়েছে। মাঝখান থেকে হুড়ের পাল্লায় পড়লো আরো-দুটি বাঘ, এবং হুড কেবল গুনে শেষ হিশেব জানালে আমাদের : পয়তাল্লিশ।

    অবশেষে আমরা যখন সেই নরখাদক বাঘিনীর আশা একেবারেই ছেড়ে দিয়েছি, তখন হঠাৎ এক নতুন দুষ্কর্ম সাধন করে সে তার আগমনবার্তা জানালে আমাদের। আমরা যে-ইংরেজ ভদ্রলোকের অতিথি হয়েছিলুম, তারই একটি মোষ হঠাৎ একদিন খোঁয়াড় থেকে উধাও হয়ে গেলো–এবং তার ভুক্তাবশেষ ও হাড়গোড় পাওয়া গেলো গ্রাম থেকে মাইল দু-এক দূরে। হত্যাকাণ্ডটি-আইনের ভাষায়-বলা যায়, সুপরিকল্পিত। সকলের আগেই মোষটিকে নিয়ে সে উধাও হয়ে যায়। নানা চিহ্ন দেখে বোঝা গেলো আততায়ী খুব-একটা দূরে নেই—ওই ভুজ্ঞাবশেষেরই আশপাশে কোথাও লুকিয়ে আছে।

    আমরা অবিশ্যি তবু উটকো একটা প্রশ্ন করলুম, এটা কি সেই বাঘিনীরই কাজ বলে মনে হয়? না কি অন্যকোনো বাঘের কীর্তি?

    পাহাড়িদের দেখা গেলো এ-বিষয়ে কোনো সন্দেহই নেই। সবাই একবাক্যে জানালে ওটা তারই কাজ। তাদের দ্বিধাহীন রায় শুনে আমরা আর রাতের অপেক্ষা না-করে তক্ষুনি বেরিয়ে পড়লুম। কারণ রাতের অন্ধকারে এই ধূর্ত, ক্ষিপ্র ও ভীষণ বাঘিনী একেবারে বেমালুম নিরুদ্দেশ হয়ে যাবে। খেয়ে-দেয়ে এখন সে নিশ্চয়ই তার ডেরায় গিয়ে ঘাপটি মেরে বসে আছে-দু-তিন দিনের মধ্যে হয়তো আর বেরুবেই না।

    যেখান থেকে মোষটাকে বাঘিনীটি টেনে নিয়ে গিয়েছিলো, সেখানে চাপচাপ রক্ত পড়ে আছে। সেই রক্তের দাগ লক্ষ করে এগিয়েই আমরা বাঘিনীর ডেরার উদ্দেশে চলতে লাগলুম। রক্তের দাগ গিয়ে শেষ হলো একটা ঘন ঝোঁপের মধ্যে। এই ঝেপটাকে এর আগে খেদা দিয়ে বহুবার ঘেরাও করা হয়েছে—কিন্তু বাঘের ল্যাজের ডগাটিরও দেখা যায়নি। এবার আমরা চারপাশ দিয়ে গোল করে ঝোপটাকে ঘিরে ধরলুম, যাতে কিছুতেই সেই নরখাদক আর পালাতে না-পারে।

    আস্তে আস্তে সেই গোল মনুষ্যবেড়া ছোটো হয়ে আসতে লাগলো। আমি, কালোেগনি আর ক্যাপ্টেন হুড রইলুম একদিকে-অন্যদিকে রইলো ফক আর ব্যাঙ্কস। কিন্তু দু-দলের মধ্যে যোগাযোগ আমরা একটুও ছিন্ন করিনি-প্রতি মুহূর্তেই সংবাদ আদান-প্রদান করা হচ্ছিলো।

    বাঘটা যে ঝোঁপের মধ্যেই আছে, তাতে কোনো সন্দেহ ছিলো না। কারণ রক্তের দাগ গিয়ে শেষ হয়েছে ঝোঁপের মধ্যে, অথচ অন্য পাশে আর কোনো রক্তের দাগ নেই। অবশ্য তার মানে এই নয় যে বাঘটার ডেরা এই ঝোপে, কারণ আগে যখন ঝোপটা খোঁজা হয় তখন বাঘটাকে এখানে পাওয়া যায়নি। হয়তো এটা তার সাময়িক বিশ্রামের স্থান।

    বেলা তখন মাত্র আটটা। সাড়ে আটটার মধ্যেই আমাদের গণ্ডি আরো ছোটো হয়ে এলো। পাশের লোকটিকে পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, এত ছোটো হয়েছে গণ্ডি। কিন্তু ভিতরে কোনো সাড়াশব্দ নেই-ঝোঁপের মধ্যটা অদ্ভুতরকম স্তব্ধ হয়ে আছে। শেষটায় আমার মনে হতে লাগলো বাঘটা হয়তো ঝোঁপের মধ্যে আর নেই-আমরা মিছিমিছি এইভাবে সময় নষ্ট করছি।

    আরো-ছোটো হয়ে এলো আমাদের গণ্ডি–আর তারপরেই হঠাৎ ঝোঁপের মধ্য থেকে একটা চাপা রাগি গর্জন উঠলো। শব্দ শুনে বোঝা গেলো কতগুলো পাথর আর গাছের আড়ালে বাঘটা ঘাপটি মেরে লুকিয়ে আছে।

    হুড, ব্যাঙ্কস, ফক্স, কালোগনি ও আরো-কয়েকজন পাহাড়ি তখন ঝোঁপের মুখটায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ভিতরেই ঢুকে পড়ি এবার, হুড পরামর্শ দিলে।

    সেটা অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে–বিশেষ করে প্রথমে যে যাবে, তার পক্ষে, বললে ব্যাঙ্কস।

    হাতের রাইফেলটা তুলে হুড বললে, তবু আমি যাবো—

    আমি আগে যাবো, ক্যাপ্টেন, ফক্স ঝোঁপের দিকে পা বাড়ালো।

    না, না, ফক্স—এটা সম্পূর্ণ আমার ব্যাপার, হুড বাধা দিলে।

    কিন্তু ক্যাপ্টেন, আমি আপনার চেয়ে ছটা বাঘ পিছিয়ে আছি–

    তক্ষুনি ব্যাঙ্কস ফতোয়া জারি করলে, উঁহু, তোমাদের দুজনের কাউকেই আমি ঝোঁপের মধ্যে ঢুকতে দেবো না।—কিছুতেই না।

    ঝোপে ঢোকবার কী দরকার? আরো তো একটা উপায় আছে, কললে কালোগনি।

    কী?

    ও-পাশে আগুন দিয়ে দিলেই হয়–ধোঁয়া আর আগুনের জন্যে বাধ্য হয়ে তাকে বেরুতেই হবে! আর একবার গাছের আড়াল থেকে বেরুলে বাঘটাকে মারাও অনেক সহজ হয়ে উঠবে।

    কালোগনি ঠিকই বলেছে, ব্যাঙ্কস সায় দিলে, এসো, চটপট কিছু শুকনো ভালপালা ও নন-পাতা একজায়গায় জড়ো করো-তারপর তাতে আগুন দাও। তাতে হয় তাকে জান্ত ঝলসে মরতে হবে নয়তো বেরুতেই হবে বাইরে।

    বেরিয়ে যদি পালিয়ে যায়, পাহাড়িরা আপত্তি করলে।

    তাহলে তার আগেই তাকে আমরা অভিনন্দন জানাবো, হুড তার রাইফেল তুলে দেখলে।

    কয়েক মিনিটের মধ্যেই শুকনো পাতা, ঘাস, ডালপালা জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেয়া হলো–অমনি কুণ্ডলী পাকিয়ে ধোঁয়া উঠলো-আর হাওয়ার তোড়ে সেই ধোঁয়া ঢুকতে লাগলো ঝোঁপের মধ্যে। এবার আরেকটা রাগি, হিংস্র গর্জন উঠলো ঝোপ থেকে বোঝা গেলো, অচিরেই বাঘটা ঝোপ থেকে লাফিয়ে বেরুবে।

    উদ্বিগ্ন ও উত্তেজিত ভাবে আমরা ঝোঁপের দিকে তাকিয়ে রইলুম, আর হুড পছন্দসই একটা জায়গা বেছে নিয়ে রাইফেল তুলে ধরলো { হঠাৎ ঝোঁপের মধ্যটা প্রচণ্ডভাবে নড়ে উঠলো। হাঁটু গেড়ে বসলো হুড, রাইফেল তাগ-করা ঝোঁপের দিকে, সমস্ত শরীর তার ধনুকের ছিলার মতো টান-করা।

    হঠাৎ ধোঁয়ার মধ্য থেকে একটা প্রকাণ্ড জন্তু সবেগে বেরিয়ে এলো।

    একসঙ্গে গর্জে উঠলো দশটি বন্দুক–কিন্তু, আশ্চর্য, বাঘের গায়ে আঁচড়টি পর্যন্ত পড়লো না। হুড তখনও হাঁটু গেড়ে বসে রাইফেল তাগ করে আছে–বাঘিনীটা যেই আরেকটু এগুলো, অমনি তার কাধ লক্ষ্য করে হুডের রাইফেল গর্জে উঠলো। কিন্তু সেই মুহূর্তেই বিদ্যুতের মতো ক্ষিপ্র সেই বাঘিনী লাফিয়ে পড়লে হুডের উপর। থাবার একটা আঘাতে এক্ষুনি তার মাথার খুলি ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে

    কিন্তু পরমুহূর্তে তীক্ষ্ণ্ণ ছুরি হাতে কালোগনি লাফিয়ে পড়লো বাঘের উপর। হঠাৎ এমনভাবে আক্রান্ত হয়ে বাঘিনী এবার তার দিকেই ফিরলো।

    সেই ফাঁকে হুড ক্ষিপ্রভাবে লাফিয়ে উঠলো। কালোগনির হাত থেকে ছুরিটা পড়ে গিয়েছিলো—সেটা তুলে বাঘিনীর বুকে বসিয়ে দিলো আস্ত, একেবারে বাঁটশুদ্ধু বাঘিনীটা গড়িয়ে পড়ে গেলো।

    পরক্ষণেই পাহাড়িদের সমস্বর উল্লাস শোনা গেলো : শের মর গিয়া! শের মর। গিয়া।

    সত্যি, মরে গিয়েছে! দশ ফিট লম্বা, ল্যাজ সমেত-চিক্কণ, নধর, পেশল সম্রাজ্ঞীর মতোই, সত্যি!

    পাহাড়িরা যখন সেই রানীবাঘকে ঘিরেই উল্লাসে নৃত্য করছে, কালোগনি আস্তে হুডের দিকে এগিয়ে গেলো। আপনাকে ধন্যবাদ জানাই, সাহেব।

    ধন্যবাদ কীসের! আমিই তো উলটে তোমাকে ধন্যবাদ দেবো-তুমি না-থাকলে এতক্ষণে আমি অক্কা পেতুম?

    কিন্তু আপনি বাঘটা না-মারলে আমাকেও মরতে হতো, ঠাণ্ডা গলায় বললে কালোগনি, আপনার ছেচল্লিশ নম্বর এটা! আমি আর কীই-বা করেছি।

    হুড আর কোনো দ্বিরুক্তি না-করে কালোগনির হাত ধরে কৃতজ্ঞতাভরে ঝাঁকুনি দিলে।

    ব্যাঙ্কস বললে, কালোগনি, চলে এসো আমাদের স্টীম হাউসে, বেহেমথে। তোমার কাঁধ থেকে রক্ত ঝরছে—ওষুধ লাগিয়ে দেবো।

    কালোগনি কোনো আপত্তি করলে না। পাহাড়িদের সমস্বর কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্যে দিয়ে আমরা স্টীম হাউসের দিকে রওনা হয়ে পড়লুম। ফান খোইতের অন্যান্য অনুচরেরা কালের দিকে ফিরে গেলো।

    বেহেমথে ফিরে এলুম দুপুর নাগাদ। এসে দেখি, সার্জেন্ট ম্যাক-নীল আর গৌমিকে নিয়ে কর্নেল মানরো বেরিয়ে গেছেন; ছোট্ট একটা চিরকুটে লিখে গেছেন, তিনি নানাসাহেবের সন্ধানে চললেন—নানাসাহেব নেপালে আছেন কিনা, এটা তিনি সঠিক জানতে চান।

    চিরকুটটা যখন পড়া হচ্ছিলো, তখন হঠাৎ আমি তাকিয়ে দেখলুম কালোগনির মুখের ভাব যেন আচমকা কী-রকম অদ্ভুত হয়ে উঠলো! কেন? নানাসাহেবের নাম শুনে? কিছুই ঠিক বুঝতে পারলুম না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজুল ভের্ন অমনিবাস ৩ (তৃতীয় খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article জুল ভের্ন অমনিবাস ১ (প্রথম খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    জুল ভার্ন

    জুল ভের্ন অমনিবাস ১ (প্রথম খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 16, 2025
    জুল ভার্ন

    জুল ভের্ন অমনিবাস ৩ (তৃতীয় খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 14, 2025
    জুল ভার্ন

    জুল ভের্ন অমনিবাস ২ (অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়)

    August 14, 2025
    জুল ভার্ন

    জুল ভের্ন অমনিবাস ৫ (পঞ্চম খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 14, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }