Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জুল ভের্ন অমনিবাস ৫ (পঞ্চম খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প989 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১.১১ কিংকর্তব্য

    ১৮ই ফেব্রুয়ারি কাদুতে বারজাকের মিশনের সদস্যরা ঘুম থেকে উঠেই ভড়কে গেলেন। তাঁদের রক্ষিদল আর যত কালো সহিস বা কুলি ছিলো সবাই উধাও! দেখে সকলেরই চক্ষুস্থির! এই দু-পল্লা দলত্যাগ এমনই অপ্রত্যাশিত ও চমকপ্রদ, বিশেষ ক’রে রক্ষিদলের পিঠটান, যে গোড়ায় ব্যাপারটা তাদের বিশ্বাসই হতে চায়নি। চোখ রগড়ে গোড়ায় তাঁরা ভেবেছেন সবাই একযোগে কোনো দুঃস্বপ্ন দেখছেন না তো! কিন্তু তারপরেই এসেছে প্রমাণ, এরা গেছে আর-কখনও ফিরবে না ব’লেই।

    আমেদে ফ্লরেঁস, তাঁর আক্কেলগুড়ুম ভাবটা কেটে যাবার পর, সকলের কাছে গিয়ে দুঃসংবাদটা ভেঙেছেন, আর অমনি সবাই এসে তাঁকে ঘিরে দাঁড়িয়েছেন। প্রথমটায়, স্বভাবতই, কারু কোনো বাক্যস্ফূর্তি হয়নি—অস্ফুট বিস্ময়ধ্বনি করা ছাড়া চিন্তাভাবনা করার মতো দশাই কারু ছিলো না। এবার তাঁরা কী করবেন, এ নিয়ে কিছু বলতে গেলেই তাঁদের কণ্ঠ থেকে শুধু বিস্ময়ধ্বনিই বেরিয়েছে।

    পাশের ঝোপটার মধ্য থেকে যখন গোঙানির শব্দ কানে এসেছে, তখন তাঁরা বুঝতে পেরেছেন তাঁরা যে ভেবেছিলেন শুধু-তাঁরাই এখানে প’ড়ে আছেন, এই ধারণাটা আদপেই ঠিক নয়। অমনি তাঁরা ছুটে গিয়েছেন যেখান থেকে ঐ গোঙানিটা আসছিলো, গিয়ে দ্যাখেন তোঙ্গানে সেখানে প’ড়ে আছে হাত-পা বাঁধা, মুখে কাপড় বাঁধা, আর তার ওপর গায়ের একপাশে একটা ক্ষতচিহ্ন।

    তার বাঁধন খুলে দিয়ে প্রাথমিক শুশ্রূষার পর, একটু যখন চাঙ্গা ক’রে তোলা গেছে, তখন তাকে একের পর এক প্রশ্ন করেছেন তাঁরা। কিছুটা তার নিজের ভাষায়, কিছুটা বাম্বারায়, একটা-দুটো ভাঙা ফরাশিতে, সে তাঁদের খুলে বলেছে এই দলত্যাগের দৃশ্যের সে যা-কিছু দেখেছে।

    কতগুলো অদ্ভুত আওয়াজ শুনে শেষরাতেই তার ঘুম ভেঙে যায়। অবাক হ’য়ে তাকিয়ে দ্যাখে কুড়িজন সেপাই ঘোড়া ছুটিয়ে চ’লে যাচ্ছে। এদিকে লিউটেনান্ট ল্যকুর তাঁর দুই সার্জেন্টকে নিয়ে সব কুলি আর সহিসকে তাড়া লাগিয়েছেন—তারা যে কী করছিলো তোঙ্গানে তা দেখতে পায়নি। এতক্ষণ অব্দি তার কোনো সন্দেহ হয়নি, শুধু কৌতূহলের বশে সে উঠে তাদের দিকে এগিয়ে গিয়েছিলো—এমন শেষরাতে উঠে তারা করছেটা কী।

    সে তাদের কাছেই যেতে পারেনি। মাঝপথেই দুটি ষণ্ডামতো লোক তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে, একজন এমনভাবে তার টুটি টিপে ধরেছে যে সে টু শব্দটিও করতে পারেনি। তক্ষুনি তাকে মাটিতে পেড়ে ফেলে তার মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে মুখটা বেঁধে হাত-পা বেঁধে, তাকে ওভাবে ফেলে রেখেছে। তবে তখন সে এটুকু দেখতে পেয়েছে আফ্রিকিরা সবাই তল্পিবাহক এবং সহিস, সবাই- অগুনতি বান্ডিল তাদের কাঁধে চাপিয়ে নিচ্ছে। সব রসদপত্র, সব তোঙ্গানেকে ওভাবেই মাটিতে ফেলে রেখে ষণ্ডা দুটো চ’লে যাচ্ছিলো, এমন সময় লিউটেনান্ট ল্যকুর চাপাগলায় জিগেস করেছেন : ‘ওদিককার সব ব্যবস্থা হ’য়ে গেছে তো?’

    ‘হ্যাঁ,’ উত্তর দিয়েছে গোরা সার্জেন্টের একজন।

    একটু চুপ হ’য়ে গিয়েছে সবাই। তোঙ্গানের মনে হয়েছে কে যেন ঝুঁকে প’ড়ে তাকে লক্ষ ক’রে দেখছে। হাত দিয়ে কে যেন তার শরীরে পরীক্ষা ক’রে দেখছে!

    ‘আহাম্মক একেকটা!’ রূঢ় স্বরে বলেছেন লিউটেনান্ট। ‘তোমরা কেটে পড়ছো, অথচ যাবার আগে একটা বদমায়েশকে ফেলে রেখে যাচ্ছো, যে হয়তো বড়- বেশি চোখে দেখে ফেলেছে। বুড়বাক কাঁহাকা! রবার্ট, একটা সঙিনের খোঁচায় এটাকে সাবাড় ক’রে দাও তো!’

    তক্ষুনি হুকুম তামিল করেছে গোরাদের একজন, কিন্তু শেষমুহূর্তে তোঙ্গানে তার শরীরটায় একটা মোচড় দিতে পেরেছিলো। বুকে বিঁধে যাবার বদলে সঙিনের ফলাটা তার পাশ দিয়ে হড়কে গেছে, তাতে জখমটা দেখতে যত-জমকালো, হয়েছে, ততটা সাংঘাতিক হয়নি। অন্ধকারে লিউটেনান্ট আর তাঁর স্যাঙাত্রা ভালো ক’রে দেখতে পায়নি, বিশেষ ক’রে তোঙ্গানে তখন এমন-জোরে আর্তনাদ ক’রে উঠেছে যেন তার প্রাণপাখি খাঁচা ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। তারপর দম বন্ধ ক’রে প’ড়ে থেকেছে নিঃসাড়। সঙিনের ফলায় রক্তের দাগ দেখেও আততায়ীরা ঠ’কে গিয়েছে।

    ‘খতম তো?’ জিগেস করেছেন লিউটেনান্ট ল্যকুর।

    ‘খতম!’ রবার্ট নামে লোকটা বলেছে।

    তারপর তিনজনে দ্রুতপায়ে সেখান থেকে চলে গিয়েছে, তোঙ্গানে আর- কিছুই শুনতে পায়নি। তারপরেই সে জ্ঞান হারিয়ে ফ্যালে, মুখের মধ্যে গোঁজা কাপড়টা তার প্রায় দম আটকেই দিচ্ছিলো, আর ক্ষত থেকে রক্তও পড়েছিলো প্রচুর। তারপর আর- কিছুই সে জানে না।

    এ থেকেই বোঝা গেছে এটা কোনো আকস্মিক অন্তর্ধান নয়, পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। আর এটা বুঝতে পেরেই হতবৃদ্ধি হয়ে অভিযাত্রীরা পরস্পরের মুখ চাওয়াচাউয়ি করেছেন। শেষটায় স্তব্ধতা ভেঙেছেন আমেদে ফরেন, ‘গোছানে কাজ। জলদিই সেরেছে সব।’

    এই মন্তব্যটাই বুঝি অধিজ্যতাটা ভেঙে দিয়েছে। কীভাবে এই বিষম পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যায়, তক্ষুনি তার জন্যে একটা মন্ত্রণাসভা ব’সে গেছে। প্রথমে অস্ত্রশস্ত্রের একটা খতিয়ান নেয়া দরকার। সাতটা বন্দুক, তার মধ্যে ছটা ছিলো শিকারের জন্যে; দশটা রিভলবার, অজস্র গোলাবারুদ, সাতটা ঘোড়া, ছত্রিশটা গাধা, প্রায় একহাজার পাউন্ড উপহার-উপঢৌকনের সামগ্রী, আর চার-পাঁচ দিনের উপযোগী রসদ। আপাতত আত্মরক্ষার জন্যে যথেষ্ট হাতিয়ার আছে, বাহনও আছে, আর রসদ নিয়ে ততটা মাথা না ঘামালেও চলবে, কেননা গাঁয়ে-গঞ্জে খাবারদাবার মিলবে, আর এখন থেকে শিকারও করা যাবে—জঙ্গলের এদিকটায়। কাজেই যেখানেই গিয়ে পৌঁছোন না কেন, ঘরছাড়া দিকহারা, অভিযাত্রীদের দলটাকে অন্তত পার্থিব জিনিশপত্রের জন্যে খাবি খেতে হবে না।

    প্রথমে গাধাগুলোর একটা ব্যবস্থা করা জরুরি : অভিজ্ঞ সহিস বা রাখাল ছাড়া এই গাধার দল রাস্তায় একটা মস্ত বাধাই হ’য়ে উঠবে। তারপর ছক ক’ষে নেয়া হ’লো। যদি তাঁরা অনেকটা পথ পেরিয়ে যাবার কথা ঠিক ক’রে নেন, পথে অন্তত পাঁচ-ছ জন কুলি ভাড়া ক’রে নিতে হবে, অন্তত উপঢৌকনগুলো ব’য়ে নিয়ে যাবার জন্যে-সেগুলোর বদলেই গ্রামে-গঞ্জে গিয়ে তাঁরা তাঁদের জন্যে দরকারি রসদপত্র জোগাড় ক’রে নিতে পারবেন। না-হ’লে এই এতসব উপহারসামগ্রী যতই দুর্মূল্য হোক না কেন, সব পথেই ফেলে রেখে যেতে হবে। সঙ্গে ব’য়ে নিয়ে যেতে হ’লে কুলি চাই, না-হ’লে এ-সব পদে-পদে শুধু বাধারই সৃষ্টি করবে।

    জেন মোর্‌নাস আর সাঁৎ-বেরা-এই দুজনেই শুধু এখানকার লোকজনের কথাবার্তা বুঝতে পারবে : তারা তক্ষুনি কাদুর বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন ক’রে ফেললে। গাঁয়ে লোকেরা তাদের সাদরেই অভ্যর্থনা জানিয়েছিলো, আর যৎকিঞ্চিৎ উপহার অবিলম্বেই অর্জন করেছিলো গ্রামপ্রধানের অনুকম্পা—যতটা পারে, সে তাদের সাহায্য করলে।

    তারই সাহায্যে গাধাগুলো বিক্রি ক’রে দেয়া হ’লো, একেকটার দাম পড়লো দশহাজার কড়ি (তিরিশ ফ্রাংকের মতো হবে), আর সবশুদ্ধু পাওয়া গেলো ৩৫০,০০০ কড়ি। এই কড়ির মারফৎই অন্তত আগামী কুড়িদিনের রসদের মামলাটা চুকলো, এই কড়িতেই পাঁচজন কুলিরও মাইনে দেয়া যাবে—গ্রামপ্রধানই এই পাঁচজন কুলির ব্যবস্থা ক’রে দিলে।

    এইসব আদানপ্রদান বিলিব্যবস্থাতেই কয়েকটা দিন কেটে গেছে অভিযাত্রীদের, কিন্তু এ-সময়টা নষ্ট হ’য়েছে বলা যাবে না : তোঙ্গানের পক্ষে এর আগে পথের ধকল সহ্য করা সম্ভব হ’তো না। শেষটায় তার ক্ষত-তেমন গভীর-কোনো ক্ষত ছিলো না-ক্রমেই শুকিয়ে আসতে শুরু করলে।

    আর তাই, ২৩শে সকালবেলায়, ছ-টা ক্যাম্পচেয়ারে গোল হ’য়ে ব’সে, মাঝখানটায় মানচিত্রগুলো বিছিয়ে রাখা হ’লো। তারপর তোঙ্গানে আর মলিককে শ্রোতা হিশেবে পাশে রেখে মঁসিয় বারজাকের সভাপতিত্বে শুরু হ’লো আলোচনা-সভা।

    ‘সভা তাহ’লে শুরু হ’লো,’ প্রায় যান্ত্রিকভাবেই বলেছেন তিনি, যেন সংসদের সব দস্তুর তাঁর অজান্তেই তাঁর মুখ ফসকে বেরিয়েছে। ‘আমি অধিবেশন শুরু হয়েছে ব’লে ঘোষণা করছি। প্রথমে কে বলতে চান?’

    একটু মুচকি হাসি খেলে গিয়েছে সকলের মুখে। আমেদে ফ্লরেঁস, তাঁর আবার শ্লেষপরিহাস খুব আসে, একবারও গলা, না-ঝেড়েই বলেছেন, ‘আমরা আপনার ভাষণের পরেই বলবো মঁসিয় ল্য প্রেসিদেনৎ।’

    ‘যা আপনাদের অভিরুচি,’ তাঁকে মসিয় ল্য প্রেসিদেনৎ বলায় তিনি একটুও অবাক হননি। ‘প্রথমে আমাদের বর্তমান অবস্থাটা পর্যালোচনা ক’রে নিতে হবে। এক. আমরা অপস্তুত অবস্থায় অকস্মাৎ আবিষ্কার করেছি আমাদের রক্ষিদল আমাদের ফেলে রেখেই চ’লে গিয়েছে, তবে, দুই. আমাদের কাছে অস্ত্রশস্ত্র আছে বেশ, আর আছে সদাগরি পণ্য, এই বেসাতি প্রধানত উপহারের জন্যেই ছিলো, এবং তিন. আমরা এখন আছি সুদানে, উপকূল থেকে অনেকটাই দূরে।’

    এই কথা শুনে মঁসিয় পঁসাঁ তাঁর মস্ত নোটবইটা বার ক’রে এনেছেন তাঁর পকেট থেকে, নাকের ডগায় একটা প্যাশনে চাপিয়ে-যে-পঁসাঁ ককখনো কিছু বলতেন না-বলেছেন : ‘ঠিক আটশো আশি মাইল নশো আটত্রিশ গজ একফুট এবং পৌনে-পাঁচ ইঞ্চি দূরে-দূরত্বটা আমি মেপেছি আমার তাঁবুর মাঝখানের খুঁটিটা থেকে।’

    ‘এতটা-যথাযথ হবার ঠিক দরকার ছিলো না, মঁসিয় পঁসাঁ,’ বারজাক মন্তব্য করেছেন। ‘এটা বললেই চলবে যে আমরা প্রায় নশো মাইল চলে এসেছি কোনাক্রি থেকে। আপনারা নিশ্চয়ই অনবগত নন, আমাদের অভিপ্রায় ছিলো আরো-এগিয়ে-যাওয়া, কিন্তু এই নূতন পরিস্থিতিকে সম্যকভাবে উপলব্ধি করে আমাদের একটি পরিমার্জিত সিদ্ধান্তে পৌঁছুতে হবে। আমার প্রস্তাব, আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্য হওয়া উচিত যে-ক’রেই হোক—সত্বর না-হ’লেও—নিরাপদে নিকটবর্তী কোনো ফরাশি বসতিতে গিয়ে পৌছুনো। সেখানে আমরা সকলের পরামর্শ নেবো পরবর্তী কার্যক্রম আমরা সেখানেই শান্তভাবে স্থির ক’রে নিতে পারবো।’

    সর্বসম্মতিক্রমেই প্রস্তাবটা গৃহীত হ’লো।

    ‘মানচিত্র অনুযায়ী,’ বারজাকের ভাষণ তখনও থামেনি, ‘আমাদের অবশ্য নাইজারের তীরে কোনো-একজায়গায় গিয়ে পৌঁছনো উচিত। তাহ’লে কি উয়াগাদুগু আর এদিয়াঙ্গো হ’য়ে আমরা সায়ীতে পৌছুবার চেষ্টা করবো না? টিমবাকটু দখল ক’রে নেবার পর থেকে ফরাশি সেনাবাহিনী ভাঁটির দিকে ক্রমশ চারপাশের এলাকা দখল করতে করতে এগিয়েছে; কবুল করি, আমার মোটেই জানা নেই, তারা সায়ীও দখল করেছে কি না—তবে মনে হয় সেটাও তাদের এক্তিয়ারে এসে পড়েছে—মনে হয় কেন, এসেই গেছে সম্ভবত। তারপর আমরা যদি সেখানে নতুন-কোনো রক্ষিদল নিয়োগ করতে পারি, তাহ’লে আমরা পূর্বতন পরিকল্পনা অনুযায়ীই এগুতে পারবো।’

    ‘কিন্তু তাতে যে কতগুলো অসুবিধের সৃষ্টি হবে, মঁসিয় ল্য প্রেসিদেনৎ, ‘ নোটবইতে জ্বরাতুর হাতে অঙ্ক কষতে কষতে ব’লে উঠেছেন মঁসিয় পঁসাঁ, আমাদের পাঁচশো মাইল পথ যেতে হবে। আমাদের প্রতিকদম গড়ে পঁচিশ ইঞ্চি পথ পেরোয়। পাঁচশো মাইল যে তাহ’লে হবে ১,০১১,১১১ কদম এবং তপুপরি আরেকটি ভগ্নাংশ।’ তাঁর মুখ দিয়ে তুবড়ির মতো নানারকম সংখ্যা ছুটতে শুরু করেছে।

    ‘ওঃ! ওঃ! ওঃ!’ অমনি পরিস্ফুট আর্তনাদের প্রস্রবণ ছুটেছে আমেদে ফ্লরেঁসের মুখ থেকে, এত-সব সংখ্যা শুনে তাঁর প্রায় মাথাখারাপ হ’য়ে যাবারই দাখিল। নার্ভাস ব্রেকডাউনের চোটটা সামলাতে সামলাতে তিনি বলেছেন, ‘আচ্ছা, আপনি কি সোজাসুজি বলতে পারতেন না দিনে দশ মাইল ক’রে এগুলো সবশুদ্ধু আমাদের তিপান্ন দিন লাগবে-আর যদি দিনে সাড়ে-বারো মাইল পথ মেরে দিতে পারি, তবে মাত্র চল্লিশ দিনেই পৌঁছে যাবো। ঐ লক্ষ-কোটি সংখ্যা দিয়ে আপনি আসলে কী প্রমাণ করতে চাচ্ছেন?’

    ‘শুধু এই,’ ঠাণ্ডাগলায় বলেছেন মসিয় পঁসাঁ, তাঁর সেই ভয়াবহ নোটবইটা সরিয়ে রাখতে-রাখতে। ‘যে, দিজেনে দিয়েই নাইজারে গিয়ে পৌঁছুলে আমরা ভালো করবো। তাতে দূরত্বটা অর্ধেক হ’য়ে যাবে-পাঁচশোর বদলে সেটা তখন আড়াইশো মাইল হ’য়ে যাবে।’

    ‘তার চেয়েও ভালো আরেকটা উপায় আছে,’ মানচিত্রে আঙুল দেখিয়ে আমেদে ফ্লরেঁস বলেছেন, ‘সেগু-সিকারোতেই নাইজারে পৌঁছুনো যাবে, তাতে বামার ওপর দিয়ে যেতে হবে। তাতে মোটে একশো মাইল পথ পেরুতে হবে। তাছাড়া বসতিটাও সেখানে বেশ বড়ো, আমরা যে সেখানে সাহায্য পাবোই, তাতে কোনো সন্দেহই নেই।

    চমৎকার প্রস্তাব, ডাক্তার শাতোনে সায় দিয়েছেন, ‘তবে আমার মনে হয় তার চেয়েও ভালো একটা পথ আছে। আমরা বরং ফিরে যাই—আমি উপকূলে ফিরে যেতে বলছি না, তবে অন্তত সিকাসো অব্দি ফিরে যেতে বলছি। মাত্র একশোকুড়ি মাইল পেরুতে হবে। সেখানে আমরা ফরাশি ছাউনিতে দেশের লোক পাবো, মনে আছে নিশ্চয়ই কী-রকম হুল্লোড় ক’রে তারা আমাদের স্বাগত জানিয়েছিলো। সেখানেই সকলের সঙ্গে আলোচনা ক’রে আমরা স্থির করতে পারবো আমরা বামাকো যাবো, না মঁসিয় আমেদে ফ্লরেঁস যেমন বলেছেন এবং আমিও যার সঙ্গে একমত, সেগু-সিকোরো যাবো।’

    ‘ডাক্তারই ঠিক বলেছেন,’ ফ্লঁরেস সায় দিয়েছেন, ‘সেটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।’

    ‘মঁসিয় ফ্লরেঁস,’ একমিনিট কী যেন ভেবে, নিজের বীরত্ব দেখিয়ে সঙ্গীদের তাক লাগিয়ে দেবার জন্যেই, বারজাক ফের ব’লে উঠেছেন, ‘আপনি আর ডাক্তার হয়তো সমীচীন প্রস্তাবই করেছেন। কিন্তু একবার ভেবে দেখুন, সিকাসোতে ফিরে- যাওয়ার মানে কি এই দাঁড়াবে না যে আমরা মিশনের পরিকল্পনাটা মাঝপথেই বাতিল ক’রে দিয়েছি। কিন্তু, মহোদয়গণ, এটা খেয়াল করবেন, যে-ব্যক্তি আরব্ধ কর্তব্যকর্মকেই সর্বাগ্রে স্থাপন করেছে…’

    আমরা আপনার অনীহা বুঝতে পারি, মঁসিয় বারজাক,’ কথার তোড়ের মাঝখানেই বাধা দিয়েছেন ফ্লরেঁস, বয়ানটা যে কোনোদিকে চলেছে সেটা বুঝতে তাঁর দেরি হয়নি, ‘কিন্তু প্রশ্নটা এখানে কর্তব্যের নয়, বিচক্ষণতার।’

    ‘কর্তব্য, না বিচক্ষণতা—কীসের যে প্রশ্ন, সেটা অবশ্য ঠিক ক’রে নিতে হবে,’ মঁসিয় বারজাককে থামাবে কে? ‘আবারও ভেবে দেখুন অবস্থাটা : এটা ঠিক যে আমাদের রক্ষিদল আমাদের ছেড়ে রেখে পালিয়েছে, কিন্তু আমরা তো নিজেদের একবার জিগেস ক’রে নেবো যে তাতে আমাদের কী বিপদআপদে পড়তে হ’তে পারে। আমাদের একমাত্র ঝামেলা এসেছে কোনো কল্পিত শত্রুর কাছ থেকে—দুশমন যে কেউ-একজন আছে, সেটা আমারও মনে হয় কিন্তু তার অস্তিত্বের কোনো সুনিশ্চিত প্রমাণ আমরা পাইনি –কেননা তার সম্বন্ধে যা-কিছু আমরা জানি সব কতগুলো উৎপাত-উপদ্রবের মধ্যে দিয়ে, আর এই উৎপাতগুলো সে-ই ঘটিয়েছে কি না, তা কি আমরা নিশ্চিত ক’রে জানি? একেকটা ক’রে উৎপাতগুলো নিয়ে ভাবুন, দেখবেন সে-সব নিতান্তই তুচ্ছ। শুধু আমাদের বিরক্ত করা ছাড়া আর কী কে করেছে? মঁসিয় ফ্লরেঁসের মতে : গোড়ায় কে যেন আমাদের ভয় দেখাতে চেয়েছিলো; এবং আবারও এই অজ্ঞাত দুশমনটি আমাদের লোকজনদের মধ্যে কতগুলো ঘোঁট পাকিয়ে তুলতে চেয়েছিলো, আর কোনোভাবে, কোন পদ্ধতিতে তা আমি জানি না, যে নাকি আমাদের ওপর এক নকল রক্ষিদল চাপিয়ে দিয়েছিলো –এবং তারা যা করেছে, তার মোকাবিলা করবার জন্যেই আজকের এই সভা। কিন্তু অনুগ্রহ ক’রে মনে রাখবেন, সে বিস্তর সংযমের পরিচয় দিয়েছে, তার পদ্ধতিও বেশ-মোলায়েম। নকল-রক্ষিদল আমাদের ফেলে পিঠদান না-দিয়ে আমাদের ০সবাইকে হত্যা ক’রে যেতেও পারতো। আমাদের যদি তারা খুন করতে চাইতো, তবে তাদের ঠেকাতো কে! কিন্তু তারা ও-রকম কিছুই করেনি। বরং আমাদের জন্যে সব রসদ, সব অস্ত্রশস্ত্র গোলাবারুদ, গাধাঘোড়া এবং বেসাতিপণ্য রেখে দিয়ে গেছে। তারা এ-সব কেড়েও নিতে পারতো। উত্ত্যক্ত করেছে ঠিকই, কিন্তু এখনও সাংঘাতিক-কিছু করেনি।’

    ‘কেন? তোঙ্গানে,’ ডাক্তার শাতোনে মনে করিয়ে দিয়েছেন তোঙ্গানেকে তারা খুনই করতে চেয়েছিলো।

    ‘তোঙ্গানে একজন নিগ্রো,’ বারজাক উত্তর দিয়েছেন, ‘আর অনেকেরই কাছে, নিগ্রোদের প্রাণ কোনো প্রাণই নয়।’

    ফ্লরেঁস বাধা দিয়ে বলেছেন, মসিয় বারজাকের এ-কথাটা ঠিক যে আমাদের অজ্ঞাত শত্রুর আচারআচরণ বেশ-মোলায়েমই—এবং এখনও-অব্দি কেউ আমাদের প্রাণে মারেনি। আমি আবারও জোর দিয়ে বলছি, এখনও-অব্দি, কিন্তু আমরা যেদিকটায় যাচ্ছি, সেদিকে কারু যাওয়া যে এই অজ্ঞাত শত্রু পছন্দ করে না, এটা বেশ-স্পষ্ট—এ-যাবৎ সে যা করেছে তাতে যদি দ্যাখে কোনো কাজ হয়নি তবে সে-যে ভয়ংকর-কিছু ক’রে বসবে না, তা-ই বা কে জানে। তোঙ্গানেকে যে-রকমভাবে তারা খুন ক’রে ফেলতে চেয়েছিলো, তাতে বোঝা যায় যে দরকার হ’লে আঘাত হানতেও তারা ছাড়বে না, আর তখন যে আঘাত হানবে সেটা হবে মোক্ষম মার, আর তেরিয়া ও ক্ষিপ্ৰ ‘

    ‘ঠিক,’ ডাক্তার সায় দিয়েছেন।

    ডাক্তার শাতোনের সমর্থনের পর কয়েক মিনিট সবাই চুপচাপ হ’য়েই ছিলেন, মঁসিয় বারজাককে দেখে বোঝা যাচ্ছিলো তিনি গভীর মনোযোগ দিয়ে সাত- পাঁচ ভেবে নিচ্ছেন। আমেদে ফ্লরেঁস কোনো অন্যায্য যুক্তি তোলেননি, আর মিদির মাননীয় সাংসদ নিশ্চয়ই পারীতে তাঁর শত্রুপক্ষকে কী কটাক্ষ করবে তার দুর্ভাবনাতেই নিজের জীবনটা এখানে আফ্রিকার জঙ্গলে বিপন্ন করবেন না-আর অভিযানটা অসমাপ্ত রেখে মাঝপথেই যদি ফিরে-যাওয়া যায়, তখন তাঁর সমালোচকদের জব্দ করবার জন্যে কোনো জবরদস্ত বয়ানই কি তিনি খুঁজে পাবেন না?

    ‘সবদিক বিবেচনা ক’রে,’ যে-সব যুক্তি খাড়া ক’রে সংসদে তিনি তাঁর বিপক্ষ সদস্যদের মুখ বন্ধ ক’রে দেবেন, তারই দু-একটা এখানকার শ্রোতাদের ওপর পরখ ক’রে দেখতে চেয়েছেন তিনি, ‘সবদিক বিবেচনা করে, আমি মঁসিয় আমেদে ফ্লরেঁসের প্রস্তাবটাকেই সমর্থন করছি—বিশেষত আমাদের মাননীয় সহকর্মী ডাক্তার শাতোনে যেভাবে সে-প্রস্তাবটা পরিমার্জিত ক’রে সভার সামনে উপস্থাপিত করেছেন, তাতে এ-প্রস্তাব সমর্থন না-করার কোনো যুক্তি আমি খুঁজে পাচ্ছি না। আমি তাই সিকাসোতে ফিরে যাবার পক্ষেই ভোট দিচ্ছি-আর পরে সেগু- সিকোরোই হবে আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য। তাহ’লে, মহোদয়গণ….’

    এখানে আমেদে ফ্লরেঁসের কাছে পুরো বয়ানটাই একটু ভারি মনে হওয়ায় তিনি আর তাতে কর্ণপাত না-ক’রে অন্য-কী-একটা বিষয় ভাবতে শুরু করে দিয়েছিলেন।

    ‘তাহ’লে, মহোদয়গণ, কেউ যদি অহেতুকভাবে অভিযান পথেই বন্ধ ক’রে দেবার জন্যে অভিযোগ তোলে, আমি উত্তর দেবো, এর দায় সরকারেরই ওপর বর্তাবে, কারণ সরকারেরই উচিত ছিলো, আমাদের যথোচিত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা। যখন রক্ষিদলকে অমনভাবে, কোনোকিছু না-বলে-ক’য়ে, দুম ক’রে বদলে দেয়া হয়েছে একদল দস্যুদলে, যখন এই দস্যুদল কোনোভাবেই আমাদের আগেকার রক্ষিদলের বিকল্প হবার যোগ্যতা রাখে না, তখন আমরা নাচার হ’য়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যদি এমন-কোনো বিকল্পের ব্যবস্থা করা না-হ’তো, কিংবা দায়িত্বজ্ঞানসম্পন্ন কারু হাতে আমাদের নিরাপত্তার দায় তুলে দেয়া হ’তো, তাহ’লেও না-হয় কথা ছিলো। এই আমাদের বিবেচ্য নয় যে কেন এমন করা হয়েছে। তার জন্যে বরং আমি দাবি করবো একটা নিরপেক্ষ তদন্তকমিশন বসানো হোক। যে-তদন্তকমিশন সবদিক খতিয়ে দেখে আমাদের বলবে…’

    ‘মাফ করবেন, মঁসিয়,’ আমেদে ফ্লরেঁস বাধা দিয়ে বলেছেন, ‘যদি আমাকে একটা কথা বলবার অনুমতি দেন…’

    সাংবাদিকটিই প্রথমে সবচেয়ে বিচক্ষণ রাস্তাটি বাৎলেছিলেন, কেননা পৃথিবীর ঘাৎ-ঘোঁৎ তিনি ভালোই জানেন, অনেক ঠেকে-বুঝে শিখেছেন, কিন্তু যেই তিনি দেখেছেন তাঁর প্রস্তাবটাই গ্রহণ করা হবে, অমনি সে-সম্বন্ধে সমস্ত উৎসাহ তিনি হারিয়ে ফেলেছিলেন। ক-মিনিট বাদেই তাঁর মনে হয়েছে, এ-নিয়ে চাপ না-দিলেই ভালো হ’তো, কারণ ঠিক যখন অভিযানটা চমৎকারভাবে রোমাঞ্চকর ও উত্তেজক হ’য়ে উঠছে, তখনই এমনভাবে ফিরে না-যেতে হ’লেই ভালো হ’তো, তাহলে হয়তো অনেক কিস্তি চিত্তাকর্ষক ও কৌতূহলোদ্দীপক রচনাই তাঁর লেখনী থেকে নিঃসৃত হ’তো। আর ঠিক তখনই তাঁর নজর পড়েছে তাঁর আরো দুজন সহযাত্রীর ওপর। অমনি তিনি বাধা দিয়ে ব’লে উঠেছেন, ‘মঁসিয় ল্য প্রেসিদেনৎ যদি অনুমতি দেন… আমরা এত-বড়ো একটা সিদ্ধান্ত নিতে চলেছি, অথচ একবারও মাদ্‌মোয়াজেল মোর্‌নাস বা মঁসিয় দ্য সাঁৎ-বেরার কোনো মতামত জিগেস করিনি। আমার মনে হয়, এই আলোচনাসভায় তাঁদের নিজস্ব কোনো বক্তব্য থাকতে পারে।’

    সত্যি, যতক্ষণ ধ’রে এই সাংসদীয় অধিবেশনের নকলে সভাটি চলেছে, এঁরা দুজনে চুপচাপ ব’সে সবকিছু শুনছিলেন, আলোচনায় তাঁরা কোনোই অংশ নেননি।

    মঁসিয় ফ্লরেঁস হক কথাই বলেছেন,’ বারজাক স্বীকার করেছেন। ‘যদি দয়া ক’রে আপনি আপনার মতটা বলেন, মাদমোয়াজেল…’

    ‘আমার মত জিগেস করার জন্যে ধন্যবাদ,’ শান্ত গলায় বলেছেন মাদমোয়াজেল মোর্‌নাস। ‘তবে যে-আলোচনার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্বন্ধ নেই, তাতে যোগদান করা আমাদের পক্ষে উচিত হবে না।’

    আপনাদের কোনো সম্বন্ধ নেই? কেন নেই, মাদ্‌মোয়াজেল? আমার তো মনে হচ্ছে আমরা সবাই একঝাঁকেরই পাখি।’

    ‘মোটেই তা নয়, মসিয়,’ জেন মোর্‌নাস উত্তর দিয়েছেন, ‘যদি পরিস্থিতির চাপে প’ড়ে, এই দুর্বিপাকের মাঝখানে, আপনারা আপনাদের অগেকার সিদ্ধান্ত বাতিল করেন, সে আপনাদের ব্যাপার। আমি আমাদের সংকল্প থেকে চ্যুত হবো না। যখন আপনারা এ-রকম একটা বিপাকে পড়েছেন তখন আমাদের ছেড়ে চ’লে-যাওয়াটা আমাদের ঠিক মনঃপূত হয়নি। না-হ’লে আমরা তো সারাক্ষণই ব’লে এসেছি আমরা আমাদের পরিকল্পনামাফিক আমাদের নিজেদের পথেই যাবো।’

    ‘তাহ’লে আপনারা এখনও গাও অব্দি যেতে চাচ্ছেন?’

    ‘এখন তো আরো-বেশি ক’রেই চাচ্ছি।’

    ‘একা-একাই? কোনো রক্ষিদল ছাড়াই?’

    ‘আমরা তো কখনও অন্যকিছু আশা করিনি। ‘

    ‘কোনো কুলিও চাই না?’

    আমরা অন্য কুলি ভাড়া করে নেবার চেষ্টা করবো। যদি কাউকেই না- পাই, অগত্যা তাদের ছাড়াই যেতে হবে বৈ-কি।’

    ‘এই অজ্ঞাত-কারু দুশমনি সত্ত্বেও?’

    ‘এই অজ্ঞাত-কারু শত্রুতা সত্ত্বেও। আমার মনে হয় আমরা কখনোই শত্রুর লক্ষ্য ছিলুম না—বরং বারজাক মিশনকেই সে বাধা দিতে চেয়েছে।’

    ‘সে আপনি বলবেন কী ক’রে-বিশেষত আমরা যখন একই সঙ্গে, একই পথ ধ’রে, এতটা রাস্তা এসেছি? তবে আমাদের অজ্ঞাতে শত্রু নিশ্চয়ই এবার আপনাদের প্রাণটাই অতিষ্ঠ ক’রে তুলবে—বিশেষত যদি আপনারা একা-একাই নাইজার নদীর বাঁকে যেতে চান।’

    তা যদি হয়, তবে তার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে নিশ্চয়ই।’

    ‘কিন্তু এ-যে উন্মাদের কাণ্ড হবে!’ আত্মবিস্মৃত হ’য়ে মঁসিয় বারজাক ব’লে উঠেছেন, ‘এ-রকম অবিবেচকের মতো আপনাদের আমরা যেতে দিতে পারি না, মাদমোয়াজেল। একটা খামখেয়ালের বশে আপনারা এত-বড়ো একটা ঝুঁকি নিতে যাবেন, আর আমরা তা হাত-পা গুটিয়ে ব’সে-ব’সে দেখবো, তা হয় না। তার জন্যে যদি জোর খাটাতে হয়, তবু…’

    মাদমোয়াজেল মোর্‌নাস একমুহূর্ত কী ভেবে বিষণ্ণ গলায় বলেছেন দুর্ভাগ্যবশত, এটা মোটেই কোনো খামখেয়ালের প্রশ্ন নয়।’

    ‘তবে কীসের প্রশ্ন?’ এবার একটু অবাকই হয়েছেন মঁসিয় বারজাক।

    জেন মোর্‌নাস একটু ইতস্তত করেছেন। তারপর গম্ভীর গলায় বলেছেন : কর্তব্যের প্রশ্ন।’

    অন্যরা কী-রকম ভ্যাবাচাকা খেয়ে এই রূপসীর মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল ক’রে তাকিয়ে থেকেছেন। এমন-কোন কর্তব্য তাঁকে টান দিয়েছে যে তাঁকে নাইজার নদীর বাঁকে যেতেই হবে? সাংবাদিকটি অবশ্য প্রথম থেকেই ভেবে এসেছেন, এঁদের এই সফরে বেরুবার মধ্যে নিছকই আষাঢ়ে-কোনো খেয়ালিপনা নেই। এখন তাঁর উৎফুল্লই লেগেছে নিজেকে-অ্যাদ্দিনে তিনি জানতে পারবেন কেন এঁরা নাছোড়ভাবে এতটা পথ এসেছেন।

    জেন মোর্‌নাস বিষাদগম্ভীর সুরে বলেছেন : ‘আমাকে মাফ করবেন আপনারা। আমি আপনাদের প্রতারিত করেছিলুম।…

    আরো-তাজ্জব হ’য়ে বারজাক ব’লে উঠেছেন : ‘প্রতারিত করেছিলেন?’ হ্যাঁ, আপনাদের অ্যাদ্দিন প্রতারিত ক’রেই এসেছি আমি। মসিয় দ্য সাঁৎ- বেরা তাঁর আসল পরিচয়ই দিয়েছেন আপনাদের-আপনাদেরই মতো ফরাশি তিনি। কিন্তু আমি মিথ্যে পরিচয় দিলে ফরাশি সেজে আপনাদের সঙ্গে এত দূর

    এসেছি। আমি আসলে ইংরেজ, আমার নাম জেন ব্লেজন। আমি লর্ড রেজনের মেয়ে আর কাপ্তেন ব্লেজন আমার দাদা। আর আমার সেই দুর্ভাগা দাদাটি কুবোতেই মারা যান ব’লে শোনা যায়। তাই আমায় কুবো অব্দি যেতেই হবে, কারণ সেখানেই আমি এতদিন ধ’রে যে-কাজটা করতে চেয়েছি, সেটা শেষ করতে পারবো।

    তারপর থেকে জেন ব্লেজন-এখন থেকে তাকে এই-নামেই ডাকা হবে—খুলে বলেছে কী শোচনীয় ও দুঃসহ কাণ্ড ঘটেছিলো কুবোয় : কী কুখ্যাত অভিযোগ উঠেছিলো জর্জ ব্লেজনের বিরুদ্ধে, তার মর্মান্তিক মৃত্যুর রহস্যময় পরিস্থিতি, আর তার বাবার আত্মধিক্কার ও হতাশা। এবারে সে খুলে বলেছে তার এই কর্তব্য কী : পবিত্র দায়িত্ব : তার দাদার হৃতমর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, বংশের ইজ্জতের ওপর যে কালির দাগ লেগেছে সেটা মুছে ফেলা, আর সেই বৃদ্ধের মনে আবার শান্তি ফিরিয়ে দেয়া, যিনি শোচনীয় নিঃসঙ্গতার মধ্যে উল্টোক্সোটার দুর্গে আস্তে- আস্তে মরণের কোলে ঢ’লে পড়ছেন।

    তার অবরুদ্ধ আবেগ বাঁধভাঙা বন্যার মতো এতদিন বাদে খুলে এসেছে, আর তার তোড়েই যেন শ্রোতারা ভেসে গিয়েছেন। এই কচি-মেয়েটির তারিফ ক’রে যেন পার পাওয়া যাচ্ছিলো না। এই কাজগুলো করবে ব’লেই সে এতটা পথশ্রম সহ্য করেছে, এতটা বিপদ-আপদ মাথা পেতে নিয়েছে! এখনও যে কত বিপদ তার সামনে আছে, কে জানে! কত বিপদ, কত অবসাদ!

    সে থামতেই আমেদে ফ্লরেঁস ব’লে উঠেছেন, একটু রূঢ় স্বরেই, মিস ব্লেজন, আপনার বিরুদ্ধে আমার একটা নালিশ আছে।’

    নালিশ?… আমার বিরুদ্ধে?’ এ-রকম একটা অদ্ভুত সাড়া পেয়ে জেন একেবারে হকচকিয়ে গেছে।

    হ্যাঁ, নালিশ… এবং এই-অভিযোগ বেশ গুরুতরই! ফরাশিদের সম্বন্ধে কী- সব অদ্ভুত কথা ভেবেছেন আপনি, মিস ব্লেজন-আর তাদেরও মধ্যে আমেদে ফ্লরেঁস সম্বন্ধেই বা কী ভেবেছেন আপনি?’

    একটু ভড়কে গিয়ে তো-তো ক’রে জেন বলেছে, ‘আপনি কী বলতে চাচ্ছেন, মসিয় ফ্লঁরেস?’

    ‘কী? আপনি কি ভেবেছেন আমেদে ফ্লরেঁস আপনাকে এরা-একাই কুবো যেতে দেবে—যদি তাকে আপনি সঙ্গে নিয়ে না-যান?’

    ‘ওহ্, মঁসিয় ফ্লরেঁস…’ এতক্ষণে জেন বুঝতে পেরেছে তিনি কী বলতে চাচ্ছেন। চমৎকার! তোফা! বাহবা! শাবাশ!’ যেন বিষম চ’টে গিয়েছেন, এমনি ভঙ্গি ক’রেই বলেছেন আমেদে ফ্লরেঁস। ‘সত্যি! এত স্বার্থপর!’

    ‘আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না…

    ‘দয়া ক’রে আমাকে আগে শেষ করতে দিন। আপনি দেখছি বেমালুম ভুলেই গেছেন যে আমি একজন সাংবাদিক, আর আমার এক কিমাশ্চর্য বস্তু আছে, যার নাম সম্পাদক! আপনার কি কোনো ধারণা আছে ব্লেজন-রহস্য সম্বন্ধে কিছু জানবার পরেও অমন-চমকপ্রদ ও রোমাঞ্চকর ব্যাপারটা নিয়ে যদি কিছু না- লিখি, তবে আমার সেই বিদঘুটে সম্পাদকসাহেব কী বলবেন? বলবেন, ‘ওহে খোকা ফ্লরেঁস, তুমি নিতান্তই একটি কচিখুকু ছাড়া আর কিছু নও!’ তারপর সোজা আমায় আঙুল তুলে দরজাটা দেখিয়ে দেবেন। উঁহু, মিস ব্লেজন, এমনভাবে আমার চাকরিটা থেকে আমি বরখাস্ত হ’তে চাই না। অতএব আমি কিন্তু আপনার সঙ্গে যাবো-নাছোড়বান্দার মতো আপনার সঙ্গে এঁটে থাকবো!’

    ‘ওহ, মঁসিয় ফ্লরেঁস।’ জেন একেবারে অভিভূত হ’য়ে গিয়েছে।

    সাংবাদিক সোজাসুজি তার মুখের দিকে তাকিয়েছেন। ‘আমি আপনার সঙ্গে যাবো, মিস ব্লেজন। আর আমাকে মানা করবার চেষ্টা ক’রে মিথ্যে সময় নষ্ট করবেন না—’

    জেনের চোখ ফেটে প্রায় জল বেরিয়ে এসেছে। মঁসিয় ফ্লরেঁসের হাত ধ’রে সে ধরাগলায় বলেছে : ‘আপনাকে আমি বারণ করবো না, মঁসিয় ফ্লরেঁস।’

    ‘আর আমি, মিস ব্লেজন? আমাকেও আপনি সঙ্গে নেবেন তো?’ হঠাৎ ডাক্তার শাতোনের গম্ভীর-গম্ভীর গলা শোনা গেছে।

    ‘আপনি, ডাক্তার?’

    নিশ্চয়ই। কোনো ডাক্তারকে বাদ দিয়ে এ-রকম কোনো সফর হয় না কি? আপনাকে তো মনে হয় দুরাত্মারা কুচিকুচি কেটে ফেলবে—তখন সেগুলো শেলাই ক’রে জুড়ে দেবার জন্যে আমাকে সঙ্গে থাকতে হবে না?’

    ‘ওহ্, ডাক্তার,’ এবার জেন কেঁদেই ফেলেছে।

    কিন্তু বারজাক যখন ক্রুদ্ধস্বরে ব’লে উঠেছেন, ‘বাঃ! আর আমার বেলায় কী! আমাকে দেখছি কেউ হিশেবেই ধরছে না—কারণ আমার মতটা নেবার কথা অব্দি কেউ স্বপ্নেও ভাবেনি!’ তখনই বা জেন কী ভেবেছে?

    বারজাক সত্যি খেপেই গিয়েছেন। তিনিও, পুরো কাহিনীটা শোনবামাত্র, মিস ব্লেজনের সঙ্গে যাবার কথা ভেবেছিলেন। অর্থাৎ এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চেয়েছেন তিনি। কারণ এই তরুণী যে-পথ ধ’রে যাবে সেটা প্রায় তাঁর যাবার পথ। তাছাড়া যতই অবিমৃশ্যকারিতা হোক না কেন, জেনের অভিযানের পেছনকার মূল উদ্দেশ্যের গভীরতা তাঁর অন্তর স্পর্শ করেছিলো। তাছাড়া চার- চার জন পুরুষ, চারজন ফরাশি পুরুষ, তারা কি ককখনো জঙ্গলের মধ্যে এমন- একটি কচি-মেয়েকে একা ছেড়ে দিয়ে চ’লে যেতে পারে? ফ্লরেঁস আর শাতোনে ঠিক তাঁরই মুখের কথাটা কেড়ে নিয়েছেন –আর নাটকের অভিনয়ের সময় কেউ যদি অন্য-কারু মুখের কথা কেড়ে নেয়, তবে কি ঝামেলা বাধে না?

    আমি মঁসিয় ফ্লরেঁসের হ’য়ে কথা বলছি না,’ তাঁর বিরক্তিটাকে একটু বাড়াবাড়িভাবেই প্রকাশ করেছেন তিনি, ‘তিনি স্বাধীন মানুষ। কিন্তু, ডাক্তার, আপনি –আপনি তো এই বারজাক মিশনের সদস্য-যার নেতৃত্বের ভার, আমার ধারণা ছিলো, আমারই ওপর দেয়া হয়েছে। আপনিও কি আপনার নেতাকে অসহায় ফেলে মাঝরাস্তায় দল ছেড়ে চ’লে যাবেন? ঐ রক্ষিদলের মতো?’

    ‘মানে… আমি…’ ডাক্তার তোৎলাতে শুরু করেছেন। মারটা যে এদিক থেকে আসবে, সেটা তিনি ভাবতেই পারেননি।

    ‘আর তা যদি আপনি ভেবে না-থাকেন, ডাক্তার, তাহ’লে আপনি কি ধ’রে নেননি যে আমিও কুবো যাচ্ছি? কিন্তু আমরা কীভাবে, কখন, কোন্ রাস্তা দিয়ে যাবো, সেটা ঠিক করে দেবার ভার কি আপনার ওপর এসে বর্তেছে? আপনার দায় তো, যত দূর জানতুম, এটাই খেয়াল রাখা আমি যাতে বহালতবিয়ৎ থাকি, সুস্থ…’

    ‘মানে… আমি…’

    ‘না, ডাক্তার, না। আমি তা কিছুতেই মানবো না।’ বারজাকের গলার স্বর ক্রমশই চড়েছে। আর এটা মনে ক’রে রেখে দেবেন, নাইজার মিশনের দলপতি আপনার মলবটা মোটেই ভালো চোখে দেখছেন না। তবে, অন্যদিক থেকে, আমাদের একমাত্র যে-গাইড আছে এখন, সে যেহেতু মিস ব্লেজনেরই চাকরি করে, সে যেহেতু তাঁরই কথায় চলবে, এবং এটাও মনে রেখে যে মঁসিয় সাঁৎ- বেরা ও মিস ব্লেজনের ভাষাতাত্তিক কৃতিত্ব ছাড়া আফ্রিকিদের সঙ্গে কথাবার্তা চালাবার কোনো উপায় আমাদের নেই, আমি চাই, অর্থাৎ, এটা বলতে চাই, এটাই আমার অনুজ্ঞা, যে…’

    বারজাক, যাঁর গলাটা সপ্তমে চ’ড়ে গিয়েছিলো এতক্ষণে, হঠাৎ নাটুকেভাবে গলার স্বরটা নামিয়ে এনে বলেছেন : আমরা সবাই কুবো হ’য়ে নাইজার নদীর তীরে গিয়ে পৌঁছুবো।’

    ‘মঁসিয় বারজাক…’ শুনতে ভুল করেছে কি না বুঝতে না-পেরে জেন তোলাতে শুরু করেছে।

    ‘ঠিকই শুনেছেন, মিস ব্লেজন। আপনি চান বা না-চান, আমাদের সাহচর্য আপনাকে মেনে নিতেই হবে।’

    ‘ওহ, মঁসিয় বারজাক…’ আবারও শুধু এই-পর্যন্তই তোৎলাতে পেরেছে জেন। ‘এ-সফরটা মোটেই কঠিন হবে না,’ ঘোষণা করেছেন ফ্লরেঁস, ‘কারণ আমাদের কাছে পর্যাপ্ত খাবারদাবার আছে।’

    ‘পাঁচদিনের মতো তো বটেই,’ এমনভাবে বলেছেন ডাক্তার শাতোনে যে তিনি যেন আসলে বোঝাতে চেয়েছেন- ছ-মাসের মতো তো বটেই।

    ‘উহুঁ, মাত্র চারদিনের উপযোগীই আছে,’ শুধরে দিয়েছেন বারজাক, ‘কিন্তু পথে আমরা আরো কিনে নিতে পারবো।’

    তাছাড়া শিকারও জুটবে,’ ডাক্তার মনে করিয়ে দিয়েছেন।

    ‘বাঃ, আর মাছ নেই বুঝি জলে?’ এতক্ষণে একটা কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন বেচারি সাঁৎ-বেরা।

    ‘আর ফলমূল—কী খাওয়া যায় তা আমি ব’লে দিতে পারতো।’—এটা, ডাক্তার।

    ‘আমি কন্দমূল চিনি,’ তোঙ্গানের কণ্ঠস্বর।

    ‘হিপ, হিপ, হিপ, হুরে!’ অতএব হর্ষধ্বনি করেছেন আমেদে ফ্লরেঁস। ‘এ তো দেখছি আসল কাপুয়া, কানানের দেশ, যথার্থ ভূস্বৰ্গ!’

    ‘কালকেই তাহ’লে আমরা রওনা হ’য়ে পড়বো,’ বারজাক অমনি সংক্ষেপে ব’লে দিয়েছেন। ‘একমুহূর্তও সময় নষ্ট না-ক’রে আমাদের তৈরি হ’য়ে নিতে হবে।’

    এটা কিন্তু উল্লেখযোগ্য যে মসিয় পঁসাঁ সেই-থেকে একবারও মুখ খোলেননি। কিন্তু যেই ঠিক হয়েছে যে সদলবলে এবার কুবো যাওয়া হবে, অমনি তিনি তাঁর নোটবইটা বার ক’রে এনেছেন, আর হিশেব করতে শুরু ক’রে দিয়েছেন ক-কদম ফেলে শেষঅব্দি কুবো গিয়ে পৌঁছুনো যাবে।

    ‘এ তো ভালোকথাই,’ বারজাকের সিদ্ধান্তের উত্তরে অবশেষে তিনি জানিয়েছেন, ‘কুবোর রাস্তা, সেগু-সিকোরোর তুলনায়, আরো আড়াইশো মাইল লম্বা। আমাদের একেক কদমে—আমরা তো জানিই যে আমরা মাত্র পঁচিশ ইঞ্চি যেতে পারি, অতএব…’

    কিন্তু কেউ তাঁর কথায় কান দিচ্ছিলো না। অন্যরা পরদিনের যাত্রার প্রস্তুতিতে এর মধ্যেই সব তোড়জোড় শুরু ক’রে দিয়েছে। মঁসিয় পঁসাঁ মিথ্যেই আফ্রিকার জঙ্গলে তাঁর এমন দুর্লভ গাণিতিক প্রতিভাটাকে অপচয় করছিলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএবং কালরাত্রি – মনোজ সেন
    Next Article জুল ভের্ন অমনিবাস ২ (অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়)

    Related Articles

    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    জুল ভের্ন অমনিবাস ১ (প্রথম খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 14, 2025
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    জুল ভের্ন অমনিবাস ৪ (চতুর্থ খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 14, 2025
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    জুল ভের্ন অমনিবাস ৩ (তৃতীয় খণ্ড) – অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 14, 2025
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়

    জুল ভের্ন অমনিবাস ২ (অনুবাদ : মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়)

    November 14, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }