Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    জেমস হেডলি চেজ এক পাতা গল্প731 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০১. গাছপালা ভর্তি ঘন বন

    নক! নক! হু ইজ দেয়ার

    ০১.

    তাড়াতাড়ি এদিকে এসে আমাদেরকে সাহায্য কর! দুরে মাঠের মধ্যে গাছপালা ভর্তি ঘন বন। তার মধ্যে একদল শূকর ঘোরাফেরা করছে। মিশচারের করুণ চীৎকারটা অ্যালেক্সি শুনতে পেয়েছিল। কিন্তু ব্যাপারটা এমন হঠাৎ হওয়াতে অ্যালেক্সি হতভম্ব হয়ে গেছিল। পুলিশের লোকেরা, ভীষণই ভয়ঙ্কর তারা, কখন যে ঘাপটি মেরে সেখানে এসে গেয়েছিল কেউ বুঝতে পারেনি। এই চিৎকার চেঁচামেচিতে অ্যালেক্সির ঘোর কেটে গেল এবং সেসময় নষ্ট করে উল্টো দিকে দৌড়তে লাগল।

    ফিফথ এভিনিউ দিয়ে দৌড়তে দৌড়তে সে সিক্সটিনাইন স্ট্রীটে গিয়ে পৌঁছালো। তারপর সে দুর্ভাবনা করতে লাগল ওলেগ সম্বন্ধে। ভাবল ওলেগ লোকটা কোথায় গেল? সে একটা ল্যাম্পপোস্টের পিছনে দাঁড়িয়ে ভয়ে ভয়ে এদিক ওদিক দেখতে লাগল। ওলেগ ছাড়াও সে পুলিশকে ভয় পাচ্ছে।মিশচার অ্যালেক্সিকে যে উপদেশ দিয়েছিল তার মূল বিষয়টি ছিল পুলিশের খপ্পর থেকে যতটা পারা যায় নিজেকে দূরে রাখা।

    সিক্সটি নাইনথ স্ট্রীটের পথ দিয়ে প্রচুর লোক চুপচাপ যাতায়াত করছে আর প্রচুর গাড়ি চলাচলের শব্দ শোনা যাচ্ছে। নিউইয়র্কের রাস্তাগুলোর পথচারীরা তাদের গন্তব্যস্থল লক্ষ্য করে। চলতে থাকে তাদের আশেপাশে কি হল বা হচ্ছে সে সম্বন্ধে তারা অহেতুক কৌতূহল দেখায় না। অ্যালেক্সি যে একটা ল্যাম্পপোস্টের আড়ালে দাঁড়িয়ে ভয়ে ভয়ে এদিক ওদিক দেখছে আর ঘন ঘন শ্বাস নিচ্ছে সেদিকে কেউ লক্ষ্যই করছে না। এদিকে অ্যালেক্সির মাথায় অনেক চিন্তা, ঘোরাফেরা করছে। মিশচার আহত হয়ে পড়ে আছে সে পালাতে পারবেনা আর নিশ্চয়ই পুলিশের হাতে ধরা পড়বে, তাহলে কি হবে? এই সব চিন্তায় সে যখন ডুবে আছে ঠিক তখনই একটা প্লি মাইথ গাড়ি অ্যালেক্সির সামনে দাঁড়ালো অ্যালেক্সির অজান্তে। সে কিছু না দেখেই দৌড়বার জন্য তৈরী হল। কিন্তু তার আগেই বিরাট দেহের মোষের ন্যায় দেখতে একটা লোক গাড়ি থেকে নেমে তার পথ আটকালো। যদিও অ্যালেক্সির ভয় দূর হল না, তবে সে নিশ্চিত বুঝতে পারল এ ওলেগ ছাড়া আর কেউ হবে না। যদিও অ্যালেক্সি লোকটিকে অনেক দূর থেকে দেখল এবং এই প্রথম দেখল তবু মিশ্চারের বিবরণের সঙ্গে মেলালে লোকটির সঙ্গে ওলেগ–এর অনেক সাদৃশ্য ছিল।

    অ্যালেক্সি নিশ্চিত হবার জন্য ভয়ে ভয়ে লোকটাকে জিজ্ঞাসা করল, আপনি নিশ্চয়ই ওলেগ–লোকটা অ্যালেক্সির গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে মাথা সামান্য একটু নেড়ে বলল, দৌড়ে পালালে কেন? এর মানে কি?

    অ্যালেক্সি তাড়াতাড়ি বলল মিশচারকে মাঠে ওরা ধরে ফেলেছে। একটু মারামারি হয়েছে তাতে মিশচার আহত হয়েছে কিন্তু কতটা হয়েছে তা বুঝতে পারিনি। মাথা দিয়ে রক্ত পড়তে দেখেছি নিশ্চয়ই মাথা ফেটে গেছে। তারপর অ্যালেক্সি ওলেগের হাত ধরে অনুরোধ করে বলল, ওখানে সব সাদা পোশাক পরা পুলিশ এসেছে এবং আরো নিশ্চয়ই এসে গেছে, তারা মিশচারকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠাবে। কিন্তু মিশচারকে কোথায় কোন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে তা আমাদের জানতেই হবে। আপনি প্লিজ সেখানে চলে গিয়ে খোঁজ করুন। ওলেগ স্থির চোখে কিছুক্ষণ অ্যালেক্সিকে দেখে জিজ্ঞাসা করল, অ্যালেক্সি এই কাজটা করছে না কেন?

    ওহ! ছটফট করে উঠল অ্যালেক্সি। ওলেগ কি করে এমন বোকার মত কথা বলল তা সে ভাবতে পারছে না কারণ মিশচার যখন ওলেগকে নির্বাচন করেছে মিশচারের উপর অ্যালেক্সির ভীষণ বিশ্বাস কারণ মিশচার অ্যালেক্সির কর্মগুরু, শিক্ষক এমনকি অভিভাবকও বটে। কিন্তু এর মধ্যে যে কাউন্টার এসপিওনেজ থাকতে পারে ও ভাবের্নি বোধহয়। মিশচারও এতটা ভাবেনি। নইলে কোড ভাষায় ওরা যে সেন্ট্রাল পার্কে সন্ধে সাতটায় মিলিত হবে তা ওয়াশিংটনের গোয়েন্দা দপ্তর টের পাবেকি করে?মিশচারের মত সাবধানী মানুষও ধরা পড়ে গেল। একটা দীর্ঘশ্বাস চেপে অ্যালেক্সি ওলেগকে বলল, ওলেগ টেক্ কেয়ার অফ ইওর সেল! তুমি চাওনা নিশ্চয়ই আমি ধরা পড়ে যাই। আই অ্যাম এজেন্ট ইন প্লেস। জাহাজের মত আমি ভেসে থাকতে পারি না আমাকে সাবমেরিনের মত ডুবে থাকতে হয়। আমার এখনও অনেক কাজ, আসল কাজই এখনও শেষ হয়নি। আমাকে ওরা মিশচারের সঙ্গে দেখেছে। ওরা আমাদের একদম বোকা বানিয়ে ছেড়েছে। মেয়েদের পোশাক পরে পুলিশ যে হঠাৎ উদয় হতে পারে তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি কিন্তু তাই–ই ঘটেছে। আমাকে এখন নিজেকে রক্ষা করতে হবে। এর পরে বাকী যা কাজ তুমি বোধ হয় জানেনা।

    অ্যালেক্সি ঘোরের মধ্যে ছিল তাই সে ওলেগকে অনেকটা বসের মত নির্দেশ দিচ্ছিল। যদি সে ওলেগ–এর ওই ভীষণ মারকুটে মুখের দিকে তাকাত তাহলে ওর এই অনর্গল কথা বলা গ্রামফোন রেকর্ডের মতই ভেঙে খান খান হয়ে যেত।

    ওলেগ শক্ত গম্ভীর গলায় বলল, কিন্তু

    ওলেগের কথা শেষ হবার আগেই চারদিক থেকে পুলিশের গাড়ির সাইরেন বেজে উঠল। ছোটাছুটি আর হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে গেল। রাস্তার লোকজন কিছু না বুঝেই বোকার মত ছুটতে শুরু করল।

    অ্যালেক্সি এক ছুটে একটা বড় বাড়ির আড়ালে চলে গেল আর তার ছায়া দিয়ে এক পা দুপা করে এগোতে লাগলো। সে চিন্তা করল ওলেগকে নিয়ে ভাবার সময় নেই আর সময় নেই মিশচারকে নিয়েও তার যা বলার ওলেগকে বলে দিয়েছে এবার দায়িত্ব ওলেগের।মিশচার থাকুক বা না থাকুক ওলেগ জাহান্নামে যা ওর মিশন শেষ হয়নি। এখনও মাইক্রোফ নেওয়া হয়নি। ওটা ভীষণ জরুরী। ওর ভূত ভবিষ্যৎবাঁচা না বাঁচা, উন্নতি–সব কিছু নির্ভর করছেন্যাটোর সেই গোপন দলিলের উপর। চার্লস কেলসো কি পারবে? যেভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে তাতে কাজ হাসিল হবার সম্ভাবনা ষোল আনা। কিন্তু তার আগেই যে কাণ্ড ঘটতে যাচ্ছিল।

    একটা ট্যাক্সি সামনে আসতেই সেটাকে থামিয়ে চটপট তাতে উঠে পড়ল অ্যালেক্সি। ট্যাক্সি ড্রাইভার গাড়ি চালু করার আগে অ্যালেক্সির দিকে একপলক তাকালো। সে তখন রুমাল দিয়ে মুখ মুছছিল তার মধ্যে এতটুকু উত্তেজনা নেই। অ্যালেক্সি ড্রাইভারকে ম্যাডিসন স্কোয়ার যেতে নির্দেশ দিল। সেই ফাঁকে অ্যালেক্সি ড্রাইভারের মুখটাও দেখে নিল। দেখল তাতে সন্দেহ করবার মত কিছু নেই।

    মিশচার অ্যালেক্সিকে বলেছিল তোমাকে ঠিক আমেরিকানদের মত দেখতে। মিশচার ঠিকই বলেছিল কথায় বার্তায় হাবে ভাবে কেউ ধরতেই পারবেনা যে অ্যালেক্সি রাশিয়ান। কিন্তু মিশচার এও বলেছিল, বাট ইভ মাস্ট নট থিঙ্ক লাইক অ্যান আমেরিকান। ক্যাপিটালিস্টদের চিন্তা ভাবনা যেন তোমায় পেয়ে না বর্সে। এই আঠাশ বছরের জীবনে অ্যালেক্সি পুরোপুরি আমেরিকান হলেও সে তার জন্মভূমি রাশিয়ার কথা একটিবারের জন্যও ভোলেনি।

    অ্যালেক্সির ঘোর কাটলো যখন ড্রাইভার বলল, ম্যাডিসন স্কোয়ার স্যার। হঠাৎ চমকে উঠে ড্রাইভারের ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে সে চটপট নেমে পড়ল। ট্যাক্সি থেকে নেমে দ্রুত পা চালিয়ে পার্ক এভিনিউয়ের দিকে এগোতে লাগল। সেখান থেকে আর একটা ট্যাক্সি নিয়ে ফিফটি থার্ড স্ট্রীট এ পৌঁছে দ্বিতীয় ট্যাক্সিটিও ছেড়ে দিয়ে হাঁটতে শুরু করল।

    অ্যালেক্সি এত জোরে পা চালাচ্ছিল যে আকাশ ছোঁয়া উঁচু উঁচু বাড়িগুলো ছায়াছবির মত তার। পাশ দিয়ে সরে যাচ্ছিল। শনিবার ছুটি তাই বিলাসী আমেরিকানরা জোড়ায় জোড়ায় রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল। অ্যালেক্সি মাঝে মাঝে থেমে তার চারপাশ দেখে নিচ্ছিল। সে সন্দেহজনক কাউকে তখনও পর্যন্ত দেখতে পেল না। দুটো বড় বড় বাড়ি পেরিয়ে সে আবার একটা ট্যাক্সী নিল। সেকেন্ড এভিনিউ হয়ে সিক্সটি সিক্সথ স্ট্রীটে পৌঁছালো। যেখানে সোজাসুজি গেলে তার সময় লাগত মাত্র দশ মিনিট সেখানে সে সময় নিল এক ঘণ্টা। একজন সিক্রেট এজেন্ট হিসাবে ভালো ভাবে তার জানা আছে কিভাবে অদৃশ্য অনুসরণকারীকে ফাঁকি দিতে হয় তাই সে এমন চক্কর মেরে গন্তব্যস্থলে পৌঁছালো।

    আটটা কুড়ির সময় সে কেটির ফ্ল্যাটের সামনে এসে দাঁড়ালো। সে জানে কেটি এই সময় ফ্ল্যাটে থাকে না। তারজন্য একটা ডুপ্লিকেট চাবি সে সব সময় সঙ্গে রাখে। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে সে তক্ষুনি চাবি দিয়ে দরজা খুললো না। এলিভেটর নেমে গেলেও তা উঠে আসার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। যদি কোন অচেনা ব্যক্তি হঠাৎ এসে যায়।

    এলিভেটর নেমে গেছে। সে চারিদিক তাকিয়ে দেখল, সেখানকার এপার্টমেন্টগুলো সত্যি সুন্দর। সে একটা সিগারেট ধরালো। তার হাতটা হঠাৎ কেঁপে উঠল। তাহলে কী অ্যালেক্সি নার্ভাস ফীল করছে?

    মিশচারও এই একই প্রশ্ন অ্যালেন্সিকে করেছিল সেন্ট্রাল পার্কে সেই ফ্ল্যাগপোলের নীচে দাঁড়িয়ে, তোমাকে যেন একটু বিব্রত দেখাচ্ছে। কেন? তুমি ভয় পেও না, আমি তো তোমার সঙ্গেই আছি। তোমার ইনফরমেশন পেয়েই আমাকে আজই আসতে হল। তুমি যে কাজ করতে যাচ্ছ আমি কাছাকাছি থাকলে তুমি কিছুটা ভরসা পাবে। নর্থ আটলান্টিক অরগানাইজেশন–এর হেড কোয়ার্টার থেকে যে টপ সিকিউরিটি মেমোরেন্ডাম পেন্টাগনের কেন্দ্রীয় সংস্থায় পাঠিয়েছে সেই খবরটা তুমি চার্লস কেলসোর কাছ থেকে চেয়েছে–তাই তোতা?

    অ্যালেক্সি সম্মতি সূচক ঘাড় নেড়েছিল।

    মিশচার বলেছিল, তুমি লিখেছে ওটা এখন শ্যানডন হাউসে।

    পরীক্ষা নিরীক্ষা হয়ে গেলে ওটা শ্যানডন হাউসে আসে।

    মিশচার জিজ্ঞাসা করেছিল, শ্যানডন হাউসের আসল কাজটা কি?

    অ্যালেক্সি বলেছিল, শ্যানডন হাউসের আর এক নাম দ্য ব্রেইন সুপার সুপার সিক্রেট ব্যাপার। সিকিউরিটি ব্যবস্থা ভীষণই সাংঘাতিক। মানুষ তো দূরের কথা একটা সূচও গলে বেরুতে পারবে না।

    মিশচারকে যেন একটু অন্যমনস্ক দেখাচ্ছিল।বলল, তাহলে এত ভীষণ সিকিউরিটি ভেদ করে তুমি কী মেমোরেন্ডাম বের করতে পারবে?মিশচার বোধহয় অ্যালেক্সিকে পরীক্ষা করে দেখছিল।

    অ্যালেক্সি জোর গলায় বলেছিল নিশ্চয়ই পারব। চাক্‌ মানে চার্লস কেলসোর মগজ আমি বোধহয় ঠিক মতই ধোলাই করেছি। আমেরিকান বিগবসদের এই দাদাগিরি ও সহ্য করতে নারাজ। তারপরন্যাটোর জন্য যে কোটি কোটি ডলার খরচ হচ্ছে সেটা অনেক আমেরিকানদের মত তারও অপছন্দ।

    তাহলে তো খুবই ভালো বলেছিল মিশচার।

    হঠাৎ সিগারেটের ছ্যাকায় অ্যালেক্সির ঘোর কেটে গেল। সিগারেটের টুকরো ফেলে দিয়ে সে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। দেখল এলিভেটর পাঁচতলায় না থেমে সোজা উপরে উঠে গেছে।

    অ্যালেক্সি একটু স্বস্তির শ্বাস ফেললো আর একটু নিশ্চিন্ত হয়ে কেটির দরজা চাবি ঘুরিয়ে খুললো। এখন তার নাম আর অ্যালেক্সি নয়। এখন ওর পরিচয় নীলে–হেনরিক নীলে। আর বন্ধুদের কাছে রিক্। এখন সে একজন প্রকৃত আমেরিকান। এই পরিচয় সমর্থনের জন্য সে যথেষ্ট কাগজপত্র তৈরী রেখেছে।

    .

    ০২.

    নিউইয়র্ক শহর থেকে কিছুটা দূরে নিউ জারসীর শেষ প্রান্তে পাহাড়ের ঠিক নীচে ঘোট একটা হ্রদের পাশে অ্যাপলেটন গ্রাম। এই শ্যানডন হাউসটা হল শ্যানডন শহর থেকে পাঁচ মাইল দূরে। এই হাউসটি আয়তন এখন প্রায় দৈর্ঘ্যে প্রস্থের দুই হাজার একরের মত। অবশ্য এটা ধীরে ধীরে হয়েছে একদিনে হয়নি। বৃদ্ধ সাইমন শ্যানডন ছিলেন একজন খামখেয়ালী মানুষ। এই বিশাল সম্পত্তির মোট মূল্য কম করে তিনশ কোটি ডলারের মত। তিনি তার সমস্ত সম্পত্তি এই আশ্চর্য প্রতিষ্ঠানটির জন্য দান করে গেছেন। এই প্রতিষ্ঠানটির নাম এখন ইনস্টিটিউট ফর অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন অব স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ।

    পাহাড় আর হ্রদ থাকার জন্য সাধারণ লোক এখানে এমনিতে আসতে পারত না। তার উপর সাইমন সাহেব ছিলেন বড় বেশী সাবধানী মানুষ। তিনি মনে করতেন যেখানে যুদ্ধ সংক্রান্ত তথ্য প্রভৃতি সংগৃহীত হয় তার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন। সেই জন্য পাহাড় আর হ্রদ বাদে সমস্ত এলাকা জুড়ে তিনি চীনের প্রাচীরের আড়ালে আরো একটি প্রাচীর নির্মাণ করেছিলেন। আর সেই প্রাচীরের দেওয়ালের ভিতরেও ছিল রহস্যজনক নিরাপত্তাব্যবস্থা।শ্যানডন হাউসটি শহর থেকে আসা রাস্তার সঙ্গে যেখানে যুক্ত হয়েছে সেখানে একটি মাত্র দরজা ছিল আর সেই দরজা দিয়েই প্রবেশ ও প্রস্থান করা হয়। গাড়ি ভিতরে নিয়ে যাওয়া বারণ ছিল। গাড়ি গেটের বাইরে পার্ক করতে হয়। যারা এখানে কাজ করে তাদের দুর্গের মত একটা ছোট দরজা দিয়ে মাথা নীচু করে প্রবেশ করতে হয়। তার আগে তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। দরজার বাইরে শাস্ত্রীরা টমি গান হাতে সব সময় প্রহরারত। যাদের ভিতরে যাবার অনুমতিপত্র আছে তারা ভিতরে নিশ্চয়ই যাবে কিন্তু তার আগে শান্ত্রীরা তাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত পরীক্ষা করবে। যদি তারা নিশ্চিত হয় তবে ভিতরে যেতে দেবে।

    তবে যারা ভিতরে যায় তারা যে সবাই বাইরের লোক নয় কারণ এই শ্যানডন হাউস চত্বরে অসংখ্য আধুনিক ফ্ল্যাট গড়ে উঠেছে তারপর খেলাধুলোর জন্য বড় মাঠ আছে, সুইমিং পুল আছে সিনেমাআছে।

    তবে যে বাড়িটিতে যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্যাদি পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয় তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্যরকম এবং ভীষণ কঠোর। সমস্ত বাড়িটাতে আধুনিক সব স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র লাগানো আছে। কোন বিপদ হলেই সঙ্গে সঙ্গে তা সাংকেতিক শব্দ সৃষ্টি করে নিরাপত্তা প্রহরীদের সতর্ক করে দেবে।

    এই শ্যানডন হাউসে যারা কাজ করে তারাও রহস্যময় বাইরে তাদের দেখা যায় না ও তাদের কেউ চেনেই না। তাদের পরিচয় দ্য ব্রেইন অর্থ মভি নামে।

    পেন্টাগনযখন এই সাইমনশনডনেরকথা জানল এবং তার মহৎ উদ্দেশ্য সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল হল তখন সরকারী সাহায্য ও তত্ত্বাবধান খুবই তাড়াতাড়ি পৌঁছে গেল। দেশের সব বড় বড় বুদ্ধিজীবিদের থেকে সেরাদের বাছাই করে এখানে রাখা হয়েছে। তাদের মাইনের অঙ্কও বিশাল এবং সরকারী নিরাপত্তার মধ্যে তাদের যে সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয় তাতে তারা সুখের জীবন, ভোগ করে থাকে। এখন শ্যানডন হাউসের গুরুত্ব এত বেশী যে যুদ্ধ সংক্রান্ত কোন বিষয়ে স্থির সিদ্ধান্তে আসার আগে শ্যানডন হাউসের ছাড়পত্র গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। বৃদ্ধ সাইমন শ্যানড়ন। মারা গেছে কিন্তু তাঁর স্বপ্নের তাজমহল মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

    মিসেস শ্যানডনের বয়স নব্বই এর কোঠায় তিনি সরকারী মাসোহারায় সুখেই দিন কাটান।

    এই শ্যানডন হাউসের সব থেকে ছোট বুদ্ধিজীবি হল এই চালর্স কেলসো। বিশেষ অনুমতি নিয়ে সে নিউইয়র্ক থেকে এখানে কাজ করতে আসে।

    কিন্তু আজ শনিবার আজকের দিনটি অন্যান্য দিনের মত ছিল না চার্লস কেলসোর কাছে। সে কিছুটা চিন্তিত ছিল।অফিসেঠিক সময় মত এসেছে।যত সময় এগোচ্ছে তার চিন্তা আরো বাড়ছে। ভাবছে কাজটা সে করতে পারবে ত? ভাগ্য তাকে যদি আজকে একটু সাহায্য করে।

    দুপুর গড়িয়ে গেল। চার্লস কেলসো সবার সঙ্গে হল ঘরে হৈ চৈ করে নিল। সবাই আস্তে আস্তে বিদায় নিল। যখন ওর ধারে কাছে কেউ রইল না তখন খুব আস্তে আস্তে খাঁচার মত ঘরটার সামনে এল। ঘরটা দেখতে অনেকটা ব্যাঙ্কের সে এর মত এবং পুরো ঘরটা ইস্পাত দিয়ে তৈরী। দরজার উপর সোনালী অক্ষরে লেখা কমপার্টমেন্ট ডি; সমস্ত গোপনীয় তথ্যাদি এই ঘরটিতে মজুত রাখা হয়। এই ঘরে কোনো কাজ থাকলে এর চাবি সিকিউরিটি অফিসারের কাছ থেকে নিয়ে আসতে হয়।

    চালর্স কেলসো ঘরটির কাছে একটা ব্যাগ হাতে হাজির হতেই সেখানকার ডিউটি অফিসার ম্যাকলেহোস হাসি মুখে এগিয়ে আসে। লোকটি ভীষণই হাসিখুশী, কিন্তু আজ তাকে যেন একটু বিষণ্ণ দেখাচ্ছে।

    চালর্স কেলসোর একটু ভয় করছিল।তবু হাসি মুখে ম্যাকলেহোসকে জিজ্ঞাসাকরল, তোমাকে এমন বিষয় দেখাচ্ছে কেন?

    অনেক দিন ধরে এক সঙ্গে কাজ করায় নিরাপত্তার কঠিন নিয়মগুলো আলগা হয়ে এসেছে। সবাই এখন চেনা হয়ে গেছে, এছাড়া চার্লসের সুন্দর ব্যবহার ম্যাকলেহোসকে মুগ্ধ করেছে তাই সে চার্লসকে একটু পছন্দ করে থাকে।

    ম্যাকলেহোস চার্লসকে চাবিটি দিয়ে বলল, আজ আমার ছেলের জন্মদিন। বিকাল চারটের মধ্যে বাড়ি পৌঁছানোর কথা ছিল।

    চালর্স বলল, স্যরি, ভীষণই দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি আমি বোধহয় তোমার দেরী করে দিলাম, ঠিক আছে আমি বেশী সময় নেব না দুই মিনিটে কাজ শেষ করছি। ম্যাকলেহোস বলল, না না আপনি আপনার কাজ শেষ করুন আমার হাতে এখনও কিছু সময় আছে।

    দরজায় চাবি ঢুকিয়ে চালর্সইচ্ছে করেই খুলতে দেরীকরছিল। ম্যাকলেহোসকে জিজ্ঞাসা করল তাহলে কালকে কে ডিউটিতে আসবে?

    ম্যাকলেহোস দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল– সেটাই হয়েছে মুশকিল, কাল বার্নের ডিউটি আছে। কিন্তু সে একশো দুই টেম্পারেচারে আছে। শেষ পর্যন্ত হয়ত আমাকেই আসতে হবে। সত্যি এক দিনের জন্যও যদি ছুটি পাওয়া যায়।

    ম্যাকলেহোসের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে চার্লস বলল, আমার আরও কিছু কাজ বাকি রয়ে গেল। কাল আবার আমার আসতে হবে।

    ম্যাকলেহোস বলল, কাল রবিবার আবার আসবেন। ব্যাগটার দিকে তাকিয়ে বলল, যদি খুব জরুরী হয় তবে ওটা আমাকে দিন আমি খুবই সাবধানে রেখে দেব বরং সোমবার নিয়ে নেবেন। দরজা খুলতে পারছেন না, দিন আমাকে দিন।

    চার্লস ইচ্ছে করেই সময় নিচ্ছিল, যাতে দুমিনিটের জন্যও যদি ম্যাকলেহোসকে রানো যায় তবে তার কাজ হয়ে যায়।

    চার্লস হেসে বলল, না আমিই পারব খুলতে। ঠিক সেই সময় পাশের ঘরে ফোন বেজে উঠল। ম্যাকলেহোস ফোন ধরতে গেল। চার্লসকে বলল, আপনি দরজা খোলার চেষ্টা করুন।

    চালর্স এই রকমেরই একটি মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করছিল। ম্যাকলেহোস ফোন ধরতে গেলেই চার্লস এক মুহূর্ত দেরী করল না দরজা খুলতে। সে প্রতিটা ড্রয়ার লক্ষ্য করতে লাগল। পেন্ডিং শব্দটা লেখা ড্রয়ারটা চোখে পড়তেই সে দিকে ছুটে গেল এবং ড্রয়ারটা খুলে ঝটপট ফাইল বাঁধা মেমোর্যাভামটা নিজের ফোলিও ব্যাগে ঢুকিয়ে নিল। ড্রয়ারটা বন্ধ করে সবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সঙ্গে সঙ্গে দরজার কাছে ম্যাকলেহোস এসে গেছে। চার্লসের হাত কাঁপছিল আর বুকটা এত ঢিপ ঢিপ করতে আগে আর দেখেনি। তার গলা শুকিয়ে আসছিল।চালর্স আড় চোখে ম্যাকলেহোসের মুখটা দেখে নিল। দেখল, না সেখানে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।

    ম্যাকলেহোস সহাস্যে জিজ্ঞাসা করল, তাহলে দরজাটা শেষ পর্যন্ত খুলতে পারলেন।

    চার্লস যথাসম্ভব মুখে হাসি টেনে চাবিটা ফিরিয়ে দিয়ে বলল, থ্যাঙ্ক ইউ। আর রুমাল বের করে মুখের ঘাম মুছতে লাগল।

    ম্যাকলেহোস দরজা আটকাতে আটকাতে জিজ্ঞাসা করল তাহলে, কাল আপনি কি করবেন?

    চার্লস বলল, কোন উপায় নেই কাল আমাকে আসতেই হবে। ভীষণ জরুরী কাজ।

    ম্যাকলেহোস হঠাৎ লাফিয়ে উঠে বলল, এই যা একটা কাজ ভুলেই যাচ্ছিলাম।

    চার্লস ভয়ে কুঁকড়ে গেল, ভাবল আবার নিরাপত্তার কোননতুন ব্যবস্থা নাকি? ফোলিও ব্যাগটা এখন তার কাছে একটা জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ডের মত লাগছিল। যদি ম্যাকলেহোস ব্যাগটা দেখতে চায় তাহলে?

    ম্যাকলেহোস পাশের ঘর থেকে একটা কাগজ পড়তে পড়তে বেরিয়ে এল। তার সমস্ত মুখ হাসিমাখা। চার্লস বড় বড় চোখে তাকে দেখতে লাগল।

    ম্যাকলেহোস বলল, আমার ভুলো মন বলে ছেলেটা আজ কাগজে লিখে দিয়েছে, আমি যেন তার জন্য ফোর কোয়ার্টার্স চকোলেট নিয়ে যাই।

    চার্লসের ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল। কৃত্রিম হাসি টেনে মুখে বিদায় জানিয়ে ও খুব তাড়াতাড়ি ওর লাল মাস্টাঙ কার এর দিকে রওনা দিল।

    চার্লস কেলসো গাড়ি ছুটিয়ে অ্যাপলেটন গ্রাম পেরিয়ে শ্যানডনের এলাকা ছাড়িয়ে নিউইয়র্কের দিকে চলল। গাছপালা বাড়ি ঘর মানুষজন সব কেমন উল্টোমুখে চলতে লাগল। ভাবতে লাগল যদি শ্যানডন হাউসের গেটের টমি গানওয়ালা প্রহরী আরও একটু সজাগ হত তাহলে চার্লস সহজে ধরা পড়ে যেত। কিন্তু সে চার্লসের অতি পরিচিত ফোলিও ব্যাগ দেখে নিরাসক্ত দৃষ্টিতে বেরিয়ে যেতে দিয়েছিল।

    চার্লস কিন্তু বিজয়ীর আনন্দ উপভোগ করতে পারছে না। ভেতরে ভেতরে তাকে একটা অপরাধবোধ কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। কিন্তু ফেরার আর কোন রাস্তা নেই।এতবড় একটা বিশ্বাসঘাতকতা সেঅনায়াসে করতে পারলো?কিন্তু সে তো চিরকালই এই জিনিসটাকে ঘৃণা করে এসেছে।তারপর হঠাৎ ভাবলো একবার আবার ফিরে যায় শ্যানডন হাউসে। আর ম্যাকলোহোসকে গিয়ে বলবে যে, সে ভুল করে অন্য ফাইল নিয়ে চলে এসেছে।

    ক্লাচ থেকে পা সরিয়ে ব্রেক কষে স্টিয়ারিং–এ হাতের বাঁধন শিথিল করে ফেলেছিল। কিন্তু তখনই ওর মনে হল, না, যা করেছি ঠিক করেছি। এই ন্যাটো যেভাবে আমেরিকানদের অর্থ নিয়ে ছেলেমানুষী করছে তা সমস্ত আমেরিকানদের জানা দরকার। কিন্তু ও ঠিক করেছে ফাইলের প্রথম খণ্ডটি শুধু প্রকাশ করবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ড কোনও মতে প্রকাশ করা যাবেনা। কারণ ও জানে ওতে যা আছে তা প্রকাশ হলে ওয়াশিংটনের ভিত পর্যন্ত নড়ে যাবে। না অতটা বিশ্বাসঘাতকতা সে করবেনা। প্রথম খন্ডটি প্রকাশ পেলেও যথেষ্ট। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারীর পর দেশের বর্তমান, শাসকদের জালজুয়াচুরীর গভীরতা কতটা তা নিয়ে বেশ কিছুটা হৈ চৈ হবে। চার্লস মনে করে এটা তার নৈতিক কর্তব্য। দেশের প্রতিটা লোকের সবকিছু জানার অধিকার আছে। তবে সে কোনও মতেই দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ড হাতছাড়া করবে না। সে রাশিয়াকে এতটা সুযোগ কিছুতেই দেবে না। সে চায় না কম্যুনিস্টরা সারা পৃথিবীতে তাদের আধিপত্য বিস্তার করুক।..

    ধীরে ধীরে চার্লসের অপরাধবোধ কেটে যেতে লাগল। হালকা বোধ করল এবং নিজের অজান্তে দ্রুত গাড়ি চালাতে শুরু করল।

    নিজের ঘরে এসে চার্লস ফোলিও ব্যাগটা টেবিলের ওপর রেখে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল আর ভাবল যাক একটা দিন গেল বটে।

    তারপর তার ম্যাগটির কথা মনে পড়লো ম্যাগটি কোন মেসেজ রেখে যায়নি ত! ড্রয়ার থেকে একটা মেসেজ পেল ম্যাগটি লিখেছে ডরোথিয়ার সম্বন্ধে, যে ডরোথিয়া তার দাদা টম কেলসোর স্ত্রী। ওর মেজাজ গেল বিগড়ে। টমের ত এখন নিউইয়র্কে থাকার কথা নয় তার ত এখন প্যারিস থাকার কথা। চার্লস ভেবেছিল টমের অনুপস্থিতিতে কাজটা সেরে ফেলবে। ডরোথিয়া চার্লসকে আজ ডিনারে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। না আজ সে কিছুতেই সেখানে যাবে না। আজ রাতের মধ্যেই তাকে মেমোরেন্ডামের প্রথম খণ্ডটার ব্যবস্থা চটপট করে নিতে হবে।

    এদিকে রিক এসে পড়বে। এসে দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ডের জন্য চাপ দেবে। না সে কিছুতেই এই কাজ করবে না। রিক ভালো ছেলে সে নিশ্চয়ই বুঝবে।

    চার্লস জামা কাপড় তাড়াতাড়ি পাল্টে নিয়ে হুইস্কির বোতল নিয়ে এল। রেকর্ড প্লেয়ারে একটা জাজ মিউজিক চালিয়ে ব্যাগ থেকে ফাইল বার করে টেবিলে রাখতেই দরজায় কলিং বেল বেজে উঠল।

    .

    ০৩.

    ঘরে ঢুকে রিক হাসল। রিককে দেখতে খুবই হ্যান্ডসাম। দীর্ঘ পেশীবহুল শরীর, ধূসর চোখ, বাদামী চুল। হাসলে ওকে খুবই সুন্দর দেখায়।

    উজ্জ্বল আলোয় আয়নায় নিজের চেহারা দেখে খুব খারাপ লাগছিল চার্লসের। রিকের বয়সী হলেও রিকের মত সুন্দর চেহারা নয়। এখন ওকে আরও বিশ্রী দেখাচ্ছিল। আসলে মন অশান্ত থাকার জন্যই এমন দেখাচ্ছে। তাছাড়া নিয়ম মত খাওয়া, মান হয়নি।

    রিক জামা খুলতে খুলতে চার্লসকে জিজ্ঞাসা করল তোমাকে এমন ঝোড়ো কাকের মত দেখাচ্ছে কেন? কোন খারাপ খবর আছে নাকি?

    চার্লস দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, মনের উপর যা চাপ যাচ্ছে তা তো কম নয়।

    রিক জিজ্ঞাসা করল, কেন?

    চার্লস বলল, এমন দুষ্প্রাপ্য জিনিস হাতানো কি সহজ কাজ।

    রিক বলল, যাক্ তাহলে ওগুলো পাওয়া গেছে? শুকনো গলায় চার্লস বলল, হ্যাঁ।

    তিনটে খণ্ডই?

    চার্লস বলল, হ্যাঁ একটা থেকে আরেকটা আলাদা করব কি করে?

    চার্লসকে পরীক্ষা করার জন্য রিক বলল, তুমি নিশ্চয়ই পুরো মেমোরেন্ডামটা টাইপ করতে যাচ্ছো না?

    চার্লস জোরের সঙ্গে বলল, নিশ্চয়ই না,প্রয়োজনটাই বা কি? তুমি যে বলেছিলে খবরটা পেলে রিপোর্টাররা মৌমাছির মত ছুটে আসবে, তা তুমি কি কিছু খোঁজ করতে পেরেছো?

    রিক একটা গ্লাসে হুইস্কি ঢালতে ঢালতে বলল, হ্যাঁ টাইমস্ পত্রিকার একজন রিপোর্টার ত হাত উচিয়ে আছে।

    চার্লস চমকে উঠে বলল, তুমি ঐ রিপোর্টারকে কতটুকু বলেছ?

    রিক বলল, আমি কি অতই বোকা যে সব বলে দেব? আমি শুধু তাকে আভাস দিয়েছি যে কিছুদিনের মধ্যে তোমাকে এমন একটা খবর দিতে যাচ্ছি তাতে তামাম আমেরিকা কেঁপে উঠবে। বলা যায়না ওয়াটারগেটকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।তবেহাতাতে জাতীয় নিরাপত্তার কোনও ক্ষতি হবে না।

    চার্লস উদ্বিগ্নের মত বলল, কিন্তু তুমি ওই কাগজটাকেই বাছলে কেন? ওখানে যে টম কাজ করে।

    রিক বলল, তাতে কি আসে যায়। টম তো ওয়াশিংটনের রিপোর্টার। সবসময় সে এখানে সেখানে যায়। ওতো আর শ্যানডন হাউসের ধারেকাছেআসছেনা। তাছাড়া তুমিতো আর তোমার নাম প্রকাশ করতে যাচ্ছ না। তাইতো?

    চার্লস বলল, তা বটে। আমি আমার নাম প্রকাশ করতে ইচ্ছুক নই।

    রিক ঠাট্টা করে বলল, জানি জানি তুমি যোগী পুরুষ, নাম প্রচারে তোমার অনীহা।

    চার্লস রেগে উঠল, নাম আমি চাই না, এসব কাজে জড়িয়ে পড়ার কোন ইচ্ছেই আমার ছিল না।

    রিক হাসতে হাসতে বলল, তুমি ঠাট্টাও বোঝ না। এ কাজে কত রিস্ক তা কী আমি জানিনা।

    চার্লস জিজ্ঞাসা করল তোমার সেই রিপোর্টারকে আমার নাম বলনি তো?

    না, ক্ষেপেছ! তাকে শুধু শ্যানডন হাউসের নাম বলেছি। রিক বলল।

    শ্যানডন হাউসের নামই বা বলতে গেলে কেন?

    তুমি আমাকে এত বোকা ভেবেছ? রিক বলল, রিপোর্টার ভদ্রলোক জানে আমি একজন উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মচারী। স্বভাবতই আমার শ্যানডন হাউসে যাতায়াত থাকতে পারে। এই কাজটা আমিও করতে পারি। তাছাড়া শ্যানডন হাউসে কত রহস্যময় লোকের যাতায়াত। এ কাজ কে করেছে খুঁজে বের করা কার সাধ্য? তুমি নিশ্চিন্ত থাকতে পার।

    মন দিয়ে রিকের কথাগুলো শুনে চার্লস জিজ্ঞাসা করল, সেই রিপোর্টারের নাম কী?

    তার নাম মার্টিন হোলজাইমার, খুবই নাম ডাক তার, তুমি বোধহয় ওর কথা শুনে থাকবে। রিক বলল।

    চার্লস বলল, তার বয়স কত?

    এই আঠাশ, উনত্রিশ হবে। একটা সুবিধা আছে জানো, এই ভদ্রলোক এই ম্যানহাটানে থাকে তাই তাকে যখন তখন পাওয়া যাবে।

    চার্লস জিজ্ঞাসা করল, কখন?

    রিক বলল, আজ রাত্রেই তাকে পাওয়া যাবে। তোমার টাইপ হয়ে গেলে সুবিধা হয়। তুমি যদি কেটি–বো ব্রাউনিং–এর পার্টিতে যাও তবে আমি কাগজপত্র নিয়ে হোলজাইমারের সঙ্গে দেখা করতে পারি। চার্লসকে বাজিয়ে দেখার জন্য রিক বলল, এসো সময় নষ্ট না করে আমরা ফাইলটা চটপট দেখে নিই। কত সময় লাগবে এটা জানা দরকার।

    চার্লস বলল, জাস্ট এ মোমেন্ট। ফোলিও ব্যাগটা নিজের কাছে টেনে নিল, টমকে একটা খবর দেওয়া দরকার।

    রিক চমকে উঠল। তোমার কী মাথা খারাপ হয়েছে?

    চার্লস বলল, না ঠিক তা নয়, আসলে ডরোথিয়া আজ ডিনারে আমায় আমন্ত্রণ জানিয়েছে। যেতে পারব না এই কথাটা জানাতে চাই।

    একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে রিক বলল তা বেশ, তুমি চাইলে ডিনার সেরে এসো। আমি ততক্ষণ টাইপ সেরে ফেলি।

    চার্লস জোরের সঙ্গে বলল, না, তা হয় না।

    রিক হেসে বলল, আচ্ছা অন্ততঃ এটা একবার আমাকে দেখতে দাও।

    রিকের দিকে তাকিয়ে চার্লস বলল, আপত্তির কোন কারণ নেই। কারণটা হল রিস্ক। তুমি একজন উচ্চ পদস্থ সরকারী অফিসার। তোমার একটা সুনাম আছে। ইতিমধ্যেই তুমি অনেকটা জড়িয়ে পড়েছ। আমি চাই না তোমার সুনাম নষ্ট হোক। আর আমিও কোন নাম কেনার জন্য এই কাজ করছি না। আমার বিবেক বলছে এইসব কথা প্রতিটি আমেরিকানদের জানার অধিকার আছে তাই আমি এর প্রথম খণ্ড প্রকাশ করতে চলেছি।

    রিক বলল, এটাই আসল বন্ধুত্ব, তুমি যেমন আমার কথা ভাবছ আমিও তেমন তোমার কথা ভাবছি। তোমাকে আমাকে সব কিছুর আড়ালে থাকতে হবে। তাই হোলজাইমারকে আমি সব ভালোভাবে বুঝিয়ে দিয়েছি। তুমি আর আমি হলাম তার একমাত্র কনফিডেন্সিয়াল সোর্স। তাই কোন মতেই আমাদের নাম সে প্রকাশ করতে পারবে না।

    চার্লস বলল, ঠিক আছে। আর এও বলে দেবে শ্যানডন হাউসের নামও যেন প্রকাশিত না হয়।

    রিক হতাশ হয়ে বলল, তুমি ভীষণ ছেলেমানুষী করছ।

    চার্লস বলল, না আমি একদম চাইনা শ্যানডন হাউসের নামটা ছাপা হোক।

    হোলজাইমার যদি রাজী না হয়।

    তাহলে মেমোরেন্ডাম দিয়ে কাজ নেই।

    অবুঝ হয়ো না চার্লস।

    চার্লস চিন্তা করে বলল, আমি ছাপতে দিতে রাজী হতে পারি যদি সে লেখে যে সে ন্যাটোর কোনো গোপন সূত্র থেকে পেয়েছে।

    রিক বলল, দেখো আমাদের হোলজাইমারের কথাটাও একটু ভেবে দেখতে হবে। ওকেও নিশ্চিত হতে হবে যে দলিলটা খাঁটি। ওই বা এত রিস্ক নিতে যাবে কেন?

    চার্লস বলল, হোলজাইমারের মনে এও হতে পারে যে আমিই বা এই সব ফাস করছি কেন?

    রিক বলল, আমি একেবারে সত্যি কথাটা তাকে জানিয়ে দিয়েছি বলেছি তুমি যুদ্ধ পছন্দ করো না আর সরকারী অর্থের অপচয় হোক তাও চাও না। দুই দেশের মধ্যে যখন সন্ধির আলোচনা শুরু হয়েছে তখন ন্যাটোরা পিছন থেকে যুদ্ধের জন্য ওসকাবে এটা তুমি মানতে পারছ না, তাই আগে থেকেই জনসাধারণকে সতর্ক করে দিতে চাও।

    চার্লস এবার একটু হালকা বোধ করল আর ফোলিও ব্যাগটা খুলে খুব আস্তে আস্তে প্রথম খণ্ডটা আলাদা করে নিল। দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ড পাশে সরিয়ে রাখল।

    রিক না জানার ভান করে বলল, তুমি আমায় বলেছিলে প্রথম খণ্ডে রাশিয়া আর আমেরিকার বন্ধুত্ব সম্পর্ক সৃষ্টির পথে একটু সাবধানী মাত্র। আচ্ছা বাকী দুটোতে কি আছে?

    চার্লস বলল দ্বিতীয় খণ্ডে আছে ন্যাটোর যুদ্ধ সম্ভার আর তৃতীয় খণ্ডে আছে যুদ্ধাস্ত্র কি ভাবে সাজানো হয়েছে তার বিবরণ।

    রিক আশ্চর্য হবার ভান করে বলল, সত্যি এত সব বিষয় ওরা জানায় কী করে?

    চার্লস বলল, এসব সোজা কাজ নয়। বিভিন্ন গোপন সূত্র থেকে খবর আসে। এখন সবাই চালাক হয়ে গেছে কেউ কারো গোপন খবর জানায় না। অক্ষাংশ আর দ্রাঘিমা দেখে বার করতে হয়।

    রিক এবার, বুঝতে পারল, মিশচার এত আগ্রহী কেন। এর সব খণ্ডগুলো পেলে মিশচার ডিপার্টমেন্ট বার্লিন দেওয়ালের এপাশে ন্যাটোর দেশগুলো কোথায় কি সমরসভার সাজিয়েছে তা সহজে জানতে পারবে আর সেই মত রাশিয়া পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারবে।

    চার্লস প্রথম খণ্ডটা সরিয়ে নিয়ে বাকী দুটো খণ্ড ড্রয়ারে রেখে তালা বন্ধ করে দিল। সে যে রিককে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করতে পারছে না সে কথা স্পষ্ট।

    রিক প্রথম খণ্ডটা নিয়ে পড়তে শুরু করল। হঠাৎ সে চমকে উঠল, এরিয়ল ডিনামাইট। এতটা সে নিজেও আশা করেনি। ও ভেবেছিল এতে আমেরিকার রাশিয়ার প্রতি নরম মনোভাবের সমালোচনা থাকবে। তেমন কিছু থাকার সঙ্গে আছে আমেরিকার উদ্দেশ্যে সাবধানবাণী যে তেমন কিছু করতে গেলে যদি ন্যাটোর দেশগুলো বিপদগ্রস্ত হয় তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী হবে আমেরিকা। এছাড়া এও স্পষ্ট করে বলা আছে যে এই বন্ধুত্বের হাত বাড়ানোর পেছনে রাশিয়ার অসৎ উদ্দেশ্য আছে এবং প্রমাণ স্বরূপ রাশিয়ার বর্ধিত সমর সম্ভার সম্বন্ধে জানানো আছে। বলা হয়েছে রাশিয়া মুখে বন্ধুত্বের কথা বললেও সে পশ্চিমী দুনিয়ার কম্যুনিস্টদের ঢালাও অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে ছাড়বে। তখন যুদ্ধ নয় ফিফথ কলাম–এর এক অশুভ শক্তি দেশের মধ্যেও সৃষ্টি করে সমস্ত রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে বানচাল করে ছাড়বে আর সুযোগ বুঝে একে একে ন্যাটোর দেশগুলো নিজের কজার মধ্যে এনে ফেলবে।

    পড়তে পড়তে রিক দীর্ঘশ্বাস ফেললো।

    চালর্স জিজ্ঞাসা করল, কেমন বুঝছ?

    রিক বলল, একটা বোমার মত ফেটে পড়বে। একটু থেমে জিজ্ঞাসা করল, তুমি কী এখনই এটা প্রকাশ করতে চাও?

    চার্লস রিকের দিকে তাকিয়ে বলল, তোমাকে তো বলেইছিলাম এটা সারা দেশটাকে কাঁপিয়ে ছাড়বে। তা তুমি হঠাৎ তোমার মত পালটালে কেন?

    না, তা ঠিক নয়, আমিও চাই এটা প্রকাশ হোক। কিন্তু কিছুদিন পরে হলে ভালো হয় কারণ ফোর্ড এখন ভ্লাডিভোস্টকে রয়েছে

    ও এজন্য বলছ

    বারই ডিসেম্বর ব্রাসেলস্–এ ন্যাটোর মিটিং হবে। সেই সময় কিসিংগার সেখানে থাকবে হোলজাইমারের কথা ভাবা যাক, কদিন সময় পেলে তাকেও একটু বাজিয়ে নেওয়া যাবে, রিক বলল।

    চার্লস বলল, সেইজন্যই আমি চাই তাড়াতাড়ি প্রকাশ করতে। যাতে ন্যাটোর মিটিং–এ এই ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা হয়, তাহলে কেউই চালাকি করতে পারবে না।

    রিক চার্লসের কথায় অভিভূত হবার ভান করে বলল, সত্যি আমি এতটা চিন্তা করিনি, তোমার কথায় সব কিছু পরিষ্কারভাবে বুঝে গেলাম। যা অনেক সময় নষ্ট হল, সত্যি আমার কিন্তু ভীষণ খিদে পেয়েছে।

    চার্লস বলল বেশ তো তাহলে তুমি দুজনের মত স্যান্ডউইচ বানাও আমি ততক্ষণে টাইপ সেরে ফেলি।

    রিক ফাইলটা পড়তে পড়তে বলল, দাঁড়াও এটা শেষ হয়ে এসেছে। তুমি বরং ড্রিঙ্কসের ব্যবস্থা করো। ড্রাই মারটিনি হলে ভালোই হবে।

    চার্লস ভালই বলে প্যানট্রিতে ঢুকে গেল।

    রিক এই সুযোগ–এর জন্য অপেক্ষা করছিল সে চটপট উঠে টাইপ মেশিনটার ঢাকনা খুলে A আর S অক্ষর দুটো নষ্ট করে দিল এবং ঠিকভাবে ঢাকা দিয়ে নিজের জায়গায় এসে বসে পড়ল।

    চার্লস মার্টিনি নিয়ে এসে বলল, এই নাও তোমার মার্টিনি, পেঁয়াজ দিতে পারলাম না। জলপাই–এর তেলও নেই, লেবু দেবো

    রিক বলল, না দরকার নেই।

    চার্লস বলল, টমকে আমার একবার ডাকতেই হবে, মনে হচ্ছে রিবন কম পড়বে।

    তুমি কিন্তু পাগলামো করছ চার্লস, এসব ব্যাপার বেশী জানাজানি না হওয়াই দরকার, চার্লসকে রিক যেন সাবধান করতে চাইল।

    চার্লস টাইপ মেশিনটা নিয়ে কাজ করতে গেল। দেখল হঠাৎ যেন মেশিনটা কাজ করছে না। যা ব্বাবা এটা আবার কখন খারাপ হল?

    রিক উঠে এসো বলল, কেন? কি হয়েছে?

    চার্লস বলল, মনে হচ্ছে মেশিনের ঘাটগুলো সবনষ্ট হয়ে গেছে। আচ্ছা কেটির একটা মেশিন আছে না?

    রিক চিন্তা করে বলল, হ্যাঁ নীচের ফ্ল্যাট থেকে কেটির মেশিন আনতে বেশী সময় লাগবে না কিন্তু আমি জানি ওর মেশিনটা অনেক পুরোনো, তোমার বোধহয় কোনও কাজে লাগবে না।

    চার্লস কী চিন্তা করল, তারপর ঝট করে উঠে গিয়ে টমকে ডায়াল করল। হ্যালো টম! ডরোথিয়ার মেসেজ পেয়েছি কিন্তু একটাকাজে আটকে পড়ায় যেতে পারছি না তবে একটা ভীষণ দরকারে তোমারটাইপ মেশিনটা আনতেআমায় যেতে হবে।নাকাল সকালেই ওটা আমি তোমায় ফেরৎ দিয়ে দেব। আচ্ছা মিনিট কুড়ির মধ্যে আমি পৌঁছচ্ছি।

    রিসিভার ছেড়েই ঝটপট জামা পাল্টে রওনা দিল। রিককে বলে গেল যে সে এক ঘণ্টার মধ্যে ফিরে আসছে। রিক ভাবল সুযোগ যখন এসেছে তাকে গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। হাতে তার অফুরন্ত সময় কিন্তু ওর প্রয়োজন মাত্র পঁয়তাল্লিশ মিনিট।

    রিক প্রথমে ডেস্কটা পরিষ্কার করে নিল। মেমোরেন্ডামের প্রথম খণ্ডটা সরিয়ে রাখল। পকেট থেকে এক গুচ্ছ চাবি বার করল। সরু একটা চাবি বেছে নিয়ে হাতের মোচড়ে ড্রয়ারের তালা খুলেফেলল। এবং খুব সহজে মেমোরেন্ডামের দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ডটি হাতে পেয়ে গেল। চটপট পাতাগুলো দেখে নিয়ে ডেক্স–এ সাজিয়ে নিল। রিডিং ল্যাম্পটা ডেস্কের উপর রেখে জ্বালাবার ব্যবস্থা করল যাতে আলো জোরালো হয়। তারপর পকেট থেকে ম্যাচ বাক্সের সাইজের ছোট্ট দামী ক্যামেরা বার করে ফটো তুলতে শুরু করল।

    মাত্র পঁয়ত্রিশ মিনিটে তার কাজ শেষ হয়ে গেল। ক্যামেরা অফ করে পকেটে লুকিয়ে রাখল। রিডিং ল্যাম্প জায়গামত রেখে দিল। মেমোরেন্ডামের দ্বিতীয় ও তৃতীয় খণ্ড যথাস্থানে রেখে তালা আটকে দিল। সব কিছু শেষ করে আর একবার দেখে নিল কোথাও কোনও ভুল হল কিনা।

    তারপর নিশ্চিত হয়ে নিজের জায়গায় বসে একটা সিগারেট ধরিয়ে চার্লসের অপেক্ষা করতে লাগল।

    .

    ০৪.

    ব্রাড জিলন তার হাত ঘড়িতে দেখল সাতটা পনেরো বেজেছে। সে অস্থির হয়ে পড়ল, এখনও টনি লটন এল না। তার প্রায় বাহান্ন বছরের মত বয়স হয়েছে। এই বয়সে এত উত্তেজিত হওয়া ভালো নয়। তবু সে তার সুসজ্জিত, আরামদায়ক ঘরে থেকেও যেন শান্তি পাচিছল না। সে ফাইলটার কয়েকটি শব্দ দেখে এত অস্থিরতা অনুভব করছে যে সেটা টেবিলের উপর তার চোখের সামনে খোলা পড়ে আছে। এই কয়টা অক্ষর যেন তার মাথার সব কিছুকে ওলোট পালোট করে দিচ্ছে।

    হঠাৎ দরজা খুলে ঘরে টনি লটন ঢুকল, যেন একটা দমকা হাওয়া ঘরে ঢুকলো–হ্যালো ব্রাড, কী ব্যাপার এত জরুরী তলব! কোনও খারাপ খবর আছে নাকি?

    টনি লটনের এই অফুরন্ত প্রাণশক্তিকে ব্রাড ভীষণ ভালোবাসে। টনির বয়স পয়ত্রিশের মত, চেহারা তার সাধারণ, কোনও চটকদার আহামরি কিছু নেই। উচ্চতা পাঁচ ফুট সাত কি আট ইঞ্চি বাদামী চুল, ধূসর চোখ। চেহারার মধ্যে সবথেকে আকর্ষণীয় হল তার এই চোখ। খুবই বুদ্ধিদীপ্ত ও উজ্জ্বল। তার এই সহজ সাধারণ চেহারার জন্য সে যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়াবার ছাড়পত্র পেয়ে যায়। ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিভাগে লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যে গুপ্ত কাজগুলো করতে হয় তা সে অনায়াসে করতে পারে।

    ব্রাড জিলনের অস্থিরতা কিছুটা কমেছে। সে টনির দিকে ফাইলটা এগিয়ে দিয়ে বলল, তুমি দ্যাখো, কিছু হয়তো বুঝতে পারবে, আমি ত কিছুই বুঝতে পারছি না।

    টনি লটন ফাইলটা নিয়ে যে লাইনগুলোর নীচে দাগ দেওয়া সেইগুলো ভালো করে পড়ে ফাইলটা সরিয়ে রাখলো। তারপর রীতিমত স্বাভাবিক ভাবে বলল, তাহলে এই জন্য আপনি এত অস্থিরতা অনুভব করছেন?

    খুবই উত্তেজিত ভাবে ব্রাড বলল, কেন নয়? আমি তো বুঝে উঠতে পারছি না কে এই কোনোভ? আমি কিছুতেই মনে করতে পারছি না। অথচ টপ প্রায়রিটি দিয়ে ফাইলটা ডীল করতে বলা হয়েছে।

    একটু ভেবে উনি বলল, আপনি আপনার অতীত ঘটনাগুলোকে আরও একটু তলিয়ে দেখুন, হয়তো দেখবেন আপনি লোকটাকে কোনও না কোনও ভাবে চেনেন।

    সেটা কী সম্ভব? ব্রাড বলল।

    টনি বলল, এই ব্যাপারে আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারি। আপনি শুধুমাত্র আপনার জার্মানীর দিনগুলো মনেকরুন।যখন হিটফলারের ধ্বংস স্তূপের উপর নিজেরইমারত গড়ে তুলতে সোভিয়েত ইনটেলিজেন্স–এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছিলেন তখন সোভিয়েত দলে কোনোভ ছিল।

    লাফিয়ে উঠল ব্রাড, তাহলে তুমি বলছ সেই লোকটির কথা যে হিটফলারের গোপন কাগজপত্র জোগাড় করে প্রমাণ করতে চেয়েছিল যে হিটলার আর চার্চিল মিলে ষড়যন্ত্র করে রাশিয়া আক্রমণ করতে চেয়েছিল।

    টনি বলল, সবাই কিন্তু ওর কথা বিশ্বাস করে ফেলেছিল।

    ব্রাড বলল, তাহলে এই সেই গোয়েন্দা যে একাই হিমালয়ের গৌরব অর্জন করতে চেয়েছিল।

    টনি বলল, যাক, এটা মনে করাতে তেমন শক্ত কাজ ছিল না। আপনার তো মনে থাকা উচিৎ কোনোভ সম্পকীয় অনেক ফাইল আপনার দপ্তর ঘুরে গেছে।

    ব্রাড একটু চিন্তিত ভাবেবলল, সত্যি এটা মনে থাকা তো উচিত ছিল। এখন আমার সব ঘটনাই মনে পড়ছে। ইয়েস অটোয়ার ঘটনার কথা মনে আছে। খুব জোর সে পালিয়ে গিয়েছিল নাহলে ক্যানাডিয়ান পুলিশের হাতে সে নির্ঘাৎ ধরা পড়ত। একবার আমেরিকাতেও ও টু মেরেছিল। ও একটা মিচকে শয়তান।

    টনি জানালো, এখন তো ও উত্তর আমেরিকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।

    ব্রাড বলল, আমি বুঝতে পারছি না যে ন্যাটো ওকে নিয়ে এত মাথা ঘামাচ্ছে কেন? কী এমন আহামরি যে তাকে আমাদের গোয়েন্দা দপ্তর ট্যাল করতে পারবে না। তোমার কী মনে হয়?

    টনি বলল, আপনারা যেন সবকিছুতেই একটু বাড়াবাড়ি করেন। সামান্য কাজের জন্য আপনারা কামান নিয়ে আসেন।

    ব্রাড একটু গভীর ভাবে বলল, দ্যাখো ডেকেছি ভ্রাডিমির কোনোভ সম্পর্কে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে তার কিছু সাহায্যের জন্য।

    টনি বলল, কিভাবে?

    ব্রাড এবার সোজাসুজি কাজের কথায় এল, আগামী মঙ্গলবার রাশিয়া থেকে যে একদল কৃষি বিশেষজ্ঞ আমেরিকায় আসছে গম কিনতে কোনোভ সেই দলের সঙ্গে আসছে।

    টনি একেবারে চমকে উঠল, বলেন কী? এতো সব ব্যাপারে মাথা গলাচ্ছে। ছিল কানাডায় সেখান থেকে একেবারে খোদ আমেরিকায়, সত্যিই চিন্তার বিষয়।

    ব্রাড বলল, সেই জন্যই তো এত চিন্তিত হয়ে তোমাকে ডেকেছি।ন্যাটোর যে গোয়েন্দা দপ্তর আছে তারা কোনোভের গতিবিধির উপর সব সময় নজর রাখছে। তারা যে খবর দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে যে ওসব কৃষিটিষি নিয়ে কোনোভের মাথাব্যথা নেই তবে সবথেকে বেশী ভাবিয়ে তুলেছে যে বিষয়টি সেটা রাশিয়ায় আমাদের যে এজেন্ট আছে সে সংবাদ পাঠিয়েছে। এটি একটু অন্য ধরনের। ন্যাটো একটা গোপন ও টপ সিক্রেট মেমোরেন্ডাম ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছে। সেই খবরটা রাশিয়ায় ছড়িয়ে গেছে। কোনোভ সেই গোপন দলিলের বিষয়বস্তু সংগ্রহ করতে আসছে। কাজটা খুবই কঠিন তবুও আমাদের খুবই সতর্ক থাকতে হবে।

    টনির মুখ কঠিন হয়ে গেল সে বলল, ভেরী ডেঞ্জারাস নো ডাউট। আমাদের সব এজেন্সীকেই কাজে লাগিয়ে দিচ্ছি। আমার নিজস্ব নিয়ম মত ওর পিছু ধাওয়া করছি। উই কান্ট অ্যালাউ দ্যাট বাস্টার্ড টু পোক হিজ নোজ ইনটু আওয়ার অ্যাফেয়ার্স।

    ব্রাড স্বস্তির শ্বাস ফেলে বলল,বাঁচালে। সত্যি তোমার কাছ থেকে এমন একটা উত্তরের আশা করে বসেছিলাম।সি. আই. এ, এবং এফ বিআই এরই মধ্যে সতর্ক হয়ে গেছে। কিন্তু আমি একটা স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চে আছি তাই বুঝতেই পারছ আমার দায়িত্বটা বেশী।

    ব্রাডকে নিশ্চিন্ত করে টনি বলল, ঠিক আছে এই নিয়ে আপনাকে আর ভাবতে হবেনা। আমার সুবিধা আপনার থেকে অনেক বেশী। এ ওয়াইন মার্চেন্ট!তাই কারো সন্দেহ করার অবকাশ নেই। তাহলে এবার উঠি। আমার এজেন্সীগুলোকে সতর্ক করতে হবে।

    ব্রাড বলল, হ্যাঁ আমাকেও এবার উঠতে হবে। টম কেলসোর ওখানে আমার আজ ডিনারের নেমন্তন্ন আছে।

    টনি একটু চিন্তা করে বলল, ও টাইমসের মুভিং অ্যামবাসাডার। খুবই ভালো ছেলে। দেখুন ওর কাছ থেকে কোনো খবর আদায় করতে পারেন কিনা। আজকাল সাংবাদিকরা গোয়েন্দাদের থেকে বেশী খবর রাখে। গুড নাইট।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ১ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article গোল্ডেন ফক্স – উইলবার স্মিথ

    Related Articles

    জেমস হেডলি চেজ

    জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ১ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    August 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }