Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ২ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    জেমস হেডলি চেজ এক পাতা গল্প731 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১০. গাড়ির দরজা খুলে

    ১০.

    ওলেগ গাড়ির দরজা খুলে অ্যালেক্সিকে বলল, উঠে এসো চটপট।

    অ্যালেক্সি গাড়িতে ওঠার আগে চারপাশটা ভালো করে দেখে নিল।

    ওলেগকে দেখতে বিশ্রী, মুখটা একেবারে গোল। বৃষস্কন্ধ চেহারা, হাত দুটো মোটা মোটা আঙুলগুলো থ্যাবড়া।

    কিছুক্ষণ বসে থেকে অ্যালেক্সি জিজ্ঞাসা করল, আমরা কোথায় যাচ্ছি?

    ওলেগ বলল, এই একটু বেরিয়ে নেব।

    অ্যালেক্সি বলল, সকালে ওভাবে আমাকে ফোন করা উচিৎ হয় নি তোমার। কেউ আড়ি পাততে পারত।

    ওলেগ চেঁচিয়ে উঠল, ওরা চারিদিকেই জাল বিস্তার করেছে।

    ওলেগ হঠাৎ জিজ্ঞাসা করল, আচ্ছা টম কেলসো চার্লস কেলসোর ভাই, তাই না?

    অ্যালেক্সি ওলেগের এই হঠাৎ প্রশ্নে থমকে গেল, বলল তা হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?

    ওলেগ বলল, যদি চার্লস কেলসো ওর ভাইকে বলে যে সেই রাতে হোলজাইমারের সঙ্গে কথা বলার সময় তুমিও উপস্থিত ছিলে?

    অ্যালেক্সির ভয় দ্বিগুণ হয়ে গেল। তবুও সে বলল, বলেই যদি থাকে তাতে কী আসে যায়?

    ওলেগ বলল, অনেক কিছুই হতে পারে। টম কেলসোর এমন অনেক বন্ধু আছে যারা পেন্টাগন এমনকি ন্যাটোর সঙ্গে যুক্ত। তাহলে বুঝতেই পারছ বললে কিছু ঘটা অস্বাভাবিক নয়।

    অ্যালেক্সি জিজ্ঞাসা করল, আচ্ছা ওরা কী গোয়েন্দা দপ্তরের লোক?

    হতেই পারে, ওলেগ বলল,তখন ওরা চার্লস কেলসোকে ছেড়ে তোমার দিকে বেশীমনোযোগ দেবে।

    অ্যালেক্সি বলল, চার্লস জানেই না, আমি কখনো ওই মেমোরেন্ডামে হাত দিয়েছি। ওর এ রকম কোনও সন্দেহ কখনো হবেও না।

    অ্যালেক্সি কিছুক্ষণ চুপ করে গেল। ও চার্লসের ভয় দেখানো চিঠিগুলোর কথাই ভাবছিল। এই কদিনে চার্লসের মধ্যে একটা বিরাট পরিবর্তনঅ্যালেক্সি লক্ষ্য করেছে। তাহলে কীচার্লস টনিকে কছু বলেছে? নাহলে ওদের বন্ধুত্ব এমন নষ্ট হয়ে যাবে কেন?

    ওলেগ বুঝতেই পেরেছে যে অ্যালেক্সি কিছু একটা দুঃশ্চিন্তা করছে। বলল, মনে হচ্ছে তুমি একটু চিন্তার মধ্যে আছে। আচ্ছা মিশচার তোমায় বলেছিল মেমোরেন্ডামের মাইক্রোফিলমটা তৈরী হয়ে গেলে ওটা আমার হাতে দিতে। তা ওটা এনেছ তো?

    অ্যালেন্সি জানত ওলেগ এই প্রশ্ন করবে। অ্যালেক্সি ওলেগকে এখনও সম্পূর্ণ বিশ্বাস করতে পারে নি। ও একটা সিগারেট ধরিয়ে বলল, আমি ওটা ইতিমধ্যে মস্কো পাঠিয়ে দিয়েছি।

    ওলেগ চেঁচিয়ে উঠল, মস্কো পাঠিয়ে দিয়েছ? কখন পাঠিয়েছ? কই এখনও তো মস্কো থেকে খবর পাই নি যে ওরা মাইক্রোফিলমটা পেয়েছে।

    অ্যালেক্সি দেখলে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া উপায় নেই। এখন মিশচার পরে ওলেগই হল আমেরিকায় কেজিবির প্রধান হর্তাকর্তা।

    অ্যালেক্সি আস্তে আস্তে বলল, তিন চার দিন আগে আমার সঙ্গে চার্লসের দেখা হয়েছিল। ওর হাব ভাব খুব একটা সুবিধার ছিল না। ওর মনে হচ্ছে ন্যাটোর মেমোরেন্ডাম শ্যানডন হাউস থেকে নিয়ে আসা তার খুব ভুল হয়েছে, একটা অপরাধ বোধ তাকে ঘিরে রেখেছে।

    ওলেগ চুপচাপ ওর কথা খুব মন দিয়ে শুনছে।

    অ্যালেক্সি বলে চলেছে–চার্লস আমাকে একটা অদ্ভুত প্রস্তাব দিল বলল, হয় আমি নিউইয়র্ক ছড়ে চলে যাই নয় তো ও শ্যানডন হাউসে জানিয়ে দেবে এই মেমোরেন্ডাম সরানোর পেছনে মামার কোনও অসৎ উদ্দেশ্য আছে।

    ওলেগ জিজ্ঞাসা করল, ও কী চিঠি লিখেছে?

    অ্যালেক্সি বলল, হ্যাঁ একটা ড্রাফট্‌ আমায় দেখিয়েছে, ফাইনালটা আমায় দেখায় নি।

    ওলেগ বলল, হতে পারে এতক্ষণে ও ফাইনাল করে ফেলেছে।

    অ্যালেন্সির ভয় ক্রমশঃ বাড়তে লাগল। ও চুপ মেরে গেল।

    ওলেগ বলল, আমরা কোন ঝুঁকি নিতে পারি না।

    অ্যালেক্সি চুপচাপ বসে আছে। একবার সে ওলেগের মুখটা চুরি করে দেখে নিল। ওলেগ কি বাঝাতে চায় তা বোঝার চেষ্টা করল।

    মিনিট খানেক কেউ কোনও কথা বলল না। অ্যালেক্সির মনে হল ম্যাজেন্টা আলোয় রাস্তার–পাশের গাছপালা গুলো যেন লাফিয়ে লাফিয়ে ছুটে পালাচ্ছে আদ্যিকালের ভয়ঙ্কর জীবের মত।

    ওলেগের মনের কথা অ্যালেক্সি কিছুতেই ধরতে পারছিল না। নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে ওলেগ হঠাৎ লে উঠল, কেটির খবর কি? ওর কোনও খবর রাখো?

    অ্যালেক্সি একেবারে আকাশ থেকে পড়ল। কেটি? কেন কেটির কি হয়েছে?

    ওলেগ ভীষণ তিক্ত ভাবে বলে উঠল, তোমার কী ধারণা ছিল মাইক্রোফিলম নিয়েই তোমার কাজ শেষ?

    অ্যালেক্সি বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে। সত্যি কেটির একটা খোঁজ নেওয়া দরকার ছিল। মাইক্রোফিল্মটা পেয়ে সে যেন আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেছিল। ওলেগের পরের কথায় অ্যালেক্সি রীতিমত চমকে উঠল।

    কেটি এখন জেলে।

    কেটি জেলে কেন? অ্যালেক্সি বলল, ম্যারিজুয়ানার আড্ডায় ধরা পড়েছে বুঝি?

    ওলেগ বলল, তুমি দেখছি কোন খবরই রাখো না। তোমার ছুটি নেওয়া উচিত। গ্রীনউইচ ভিলেজের গোপন বোমা তৈরীর কারখানায় হাতে নাতে ধরা পড়েছে। বুঝতেই পারছ ওর মুখ থেকে পুলিশ সব কিছু বেরকরেই ছাড়বে। তখন তোমার অবস্থাই বাকী হবে আর আমার অবস্থাই বা কী হবে আন্দাজ করতে পারো?

    ওলেগ ভিতরে ভিতরে খুবই অশান্ত হয়ে উঠেছিল। অ্যালেক্সি সাহস করে উঠতে পারছিল না ওলেগের সঙ্গে কথা বলার। সে চুপ করে বসে রইল।

    ওলেগ অ্যালেক্সিকে কথা বলার সুযোগ করে দিল। ওলেগ জিজ্ঞাসা করল, কেটি কেমন মেয়ে?

    অ্যালেক্সি কথা বলার সুযোগ পেয়ে খুব তাড়াতাড়ি বলল, ও খুবই শক্ত মেয়ে। ওর কাছ থেকে ওরা সহজে কথা বের করতে পারবে না।

    ওলেগ অ্যালেক্সিকে ধমক দিয়ে সাবধান করে দিল বলল, তুমি এই দু তিনদিন তোমার ফ্ল্যাট ছেড়ে কোথাও নড়বেনা।কারো সঙ্গে দেখাও করবেনা। তোমার মুখ যেন কেউ দেখতে না পায়। তারপর আমার নির্দেশ পাচ্ছো, অপেক্ষা করবে ফোন করবে না, বুঝেছ?

    অ্যালেক্সি কোন উত্তর না দিয়ে চুপ করে রইল।

    ওলেগ জিজ্ঞাসা করল, চার্লস কোথায় থাকে, তোমার ওখানেই তো?

    অ্যালেক্সি বলল, না, আমার সঙ্গে একটু কথা কাটাকাটি হওয়াতে ও শ্যানডন হাউসে ফ্ল্যাট নিয়েছে।

    ওলেগ নিজের মনেই বলতে লাগল শ্যানডন হাউস? ওখানকার নিরাপত্তা ভীষণ কঠোর। আমাকে একটু চিন্তা ভাবনা করতে হবে।

    ওলেগ অ্যালেক্সিকে বলল, তুমি তাহলে এখানে নেমে যাও। গিয়ে একটা ট্যাক্সি ধরে ফ্ল্যাটে চলে যাও। আর মনে রেখো আমার ফোনের অপেক্ষা করবে।

    দরজা খুলে ওলেগ অ্যালেক্সিকে মাইল কুড়ি দূরে শহরের শেষে নামিয়ে দিল। আর নিজে দ্রুত বেগে গাড়ি ছুটিয়ে মিলিয়ে গেল।

    .

    ১১.

    প্রিয় টম, আমি চার্লসের সঙ্গে কিছু কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ও আমার সঙ্গে কথা বলতে চাইছিল না। আমাকে একদম গুরুত্ব দিচ্ছিল না। কিন্তু অনেক চেষ্টা চরিত্র করে আমি বোধহয় ওকে একটু বোঝাতে পেরেছি। ও এখন মনে করছে এমন একটা বোকামির কাজ তার করা ঠিক হয়নি।

    যদি ন্যাটো মেমোরেন্ডাম প্রকাশের আগে আমার সঙ্গে ওর দেখা হয়ে যেত তাহলে এমন একটা ঘটনা মনে হয় ঘটত না। যা যা হবার হয়ে গেছে। এমন কিছু নতুন ঘটনা ঘটেছে তার। জন্য চার্লস খুবই বিচলিত হয়ে পড়েছে। ঘটনাটি হলো কেটি কোলিয়ার নামে একটি মেয়ে ধরা পড়েছিল এখন সে জামিনে মুক্তি পেয়ে আন্ডার গ্রাউন্ডে চলে গেছে এটা খুবই চিন্তার কারণ।

    এদিকে হোলজাইমার পুলিশের জেরায় হাবুডুবু খাচ্ছে। উপাঁচকের মত এই চিঠি লিখলাম বলে কিছু মনে করো না। তবে আমার উপর ভরসা রাখতে পারো। চার্লসের জন্য আমরা যথা সম্ভব চেষ্টা করবো। তবে বুঝতেই পারছ আমরা অন্য একটা ব্যাপারে ভীষণ চিন্তিত। তোমার ব্রাড জিলন।

    চিঠি খানা প্রায় এক নিঃশ্বাসে শেষ করল টম। ডরোথির দিকে তাকিয়ে দেখল সে দুহাতে মুখ ঢেকে বিবর্ণ হয়ে বসে আছে।

    এই চিঠিটা পড়ার আগে ওরা ভাবতেও পারে নি আজকের দিনটা এমন খারাপ বার্তা বয়ে নিয়ে এসে অন্ধকার করে দেবে।

    এমনিতেই টম ভীষণ ক্লান্ত ছিল। কিছুক্ষণ আগে সে টাইমসের পরবর্তী সংস্করণের জন্য প্রায় পঞ্চাশ পাতা টাইপ করেছে। তার ওপর কাল কি পরশু ব্রাসেল যেতে হবে। কিসিংগার যাচ্ছে ন্যাটোর গোপন বৈঠকে যোগ দিতে। তাকে টাইমসের হয়ে সেক্রেটারী অব স্টেটের এই দুরূহ এবং অতি প্রয়োজনীয় বৈঠকের মালমশলা জোগাড় করে পর্যায়ক্রমে পাঠাতে হবে। এর মধ্যে আবার এসে গেল চার্লসের ব্যাপার।

    টম একটা চুরুট ধরিয়ে ডরোথির দিকে তাকালো। সে সেই একইভাবে নিথর পাথরের মত বসে আছে। ডরোথি এই আঘাত সহ্য করতে পারছে না।

    টমও কিছু কম আঘাত পায় নি। সে জানে তার ভেঙ্গে পড়া চলবে না। তাকে শক্ত হতেই হবে। সে নিজেকে যথা সম্ভব সংযত করে রাখলো।

    টম ধীরে ধীরে ডরোথির দিকে এগিয়ে গেল। ডরোথি দুহাতে টমকে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। টমও নিজেকে সামলাতে পারল না।

    টমকে জড়িয়ে ধরে ডরোথি কাঁদো কাঁদো গলায় বলল, টম, আমি আর সহ্য করতে পারছি না তুমি যেভাবেই হোক চার্লসকে একবার এখানে নিয়ে এসো। আমি শান্ত হতে পারছি না।

    টম ডরোথিকে আরো কাছে টেনে নিয়ে ওর চুলে, কপালে চুমু খেয়ে বলল, আমি জানি তুমি চার্লসকে কতখানি ভালোবাসো। আমার থেকেও বেশী। কিন্তু আমাদের তো এভাবে ভেঙ্গে পড়লে চলবে না। আমাদের অনেক ভেবেচিন্তে কাজ করতে হবে। চার্লস তো আর ছেলেমানুষ নয় ওকে বকে বেঁধে এখানে নিয়ে আসবো। আর ব্রাড যে চিঠি লিখেছে তা যদি সত্যি হয় তাহলে চার্লসের ওখানে থাকাই নিরাপদ। কেননা ওটা একটা দুর্গের মত।ওর নিরাপত্তা ব্যবস্থা উইন্ডসর প্যালেসের থেকে কোনও অংশে কম নয়। তাই লক্ষ্মীটি তুমি একটু শান্ত হবার চেষ্টা করো।

    ডরোথি বলল, সরি টম, আমি সত্যি ভীষণ অবুঝ হয়ে পড়েছিলাম।

    টম মুখে মিথ্যে হাসি এনে বলল, না না, তা নয়। আমি এখন ভাবছি কেটি কোলিয়ারের কথা।

    টম ইচ্ছে করেই চার্লসের প্রসঙ্গ থেকে কেটির প্রসঙ্গে চলে এলো। কেননা চার্লসের কথা যত হবে ডরোথি তত কষ্ট পাবে।

    ডরোথি চোখ তুলে বলল, আচ্ছা এটা সেই মেয়েটি না যে ডাউন–টাউনে বোমা তৈরীর কারখানার বিস্ফোরণে মরতে মরতে বেঁচে গেছে?

    টম বলল, বুঝতে পারছি না, ওর সঙ্গে চার্লসের কী সম্পর্ক আছে!

    ডরোথি বলল, আমিও তো ভাবছি ওর সঙ্গে চার্লসের কী সম্পর্ক? তাছাড়া চার্লস কেন একবারও আসছে না আর ফোনও করছে না বুঝতে পারছি না।

    টম কফির কাপে চুমুক দিল। চুরুটে একটা টান দিয়ে বলল, তাহলে তোমার সেই হোলজাইমার। ওকে আমি অনেক দিন থেকে চিনি।

    কিন্তু ওই বা চুপ করে আছে কেন? পুলিশকে সব কিছু জানাচ্ছে না কেন?

    হোলজাইমারের কথা শুনেই ডরোথি তিক্ততার সঙ্গে বলল, ওই বদমাশটার জন্যই আজ ওদের এতো বিপদ।

    এমন সময় দরজায় বেল বেজে উঠলো। টম ও ডরোথি আতঙ্কে সিটিয়ে গেল। কেননা একটু আগেই ব্রাডের চিঠি যেভাবে অশুভ বার্তা নিয়ে এসেছিল। আবার কে কি খবর নিয়ে এলো কে জানে!

    টম দরজা খুললো, ওদের ভূত দেখার মত অবস্থা হলো। একী টনি লটন। ও আবার এখন এখানে কেন?

    টনি ঘরে ঢুকে হাসতে হাসতে তাদের দেখে বলল, কী ব্যাপার? তোমাদের দেখে মনে হচ্ছে এখুনি তোমরা হিচককের কোনও ছবি দেখে উঠলে।

    ডরোথিকে টনি বলল, ম্যাডাম এমন একটা সুন্দর সকালে এইরকম গোমড়া মুখে থাকবেন না। চীয়ার আপ! তারপর মিঃ কেলসো কবে ব্রাসেলস রওনা হচ্ছেন?

    টনিকে বসতে বলে, জোর করে মুখে হাসি টেনে ডরোথি বলল, কী নেবেন স্কচ না মার্টিনি?

    টনি খুবই রসিকতা প্রিয়, বলল, সুন্দরী কোন মহিলা আমায় বিষ দিলেও আমি তা খেতে রাজি।

    ডরোথি একটু লজ্জিত হল, এবং পানীয়ের বন্দোবস্ত করতে উঠে গেল।

    টনি এবার আসল কথায় এলো। টমকে জিজ্ঞাসা করলো, চার্লসের খবর কী?

    না কোন খবর নেই, টম বলল, তবে ব্রাডের একটা চিঠি পেয়েছি।

    টনি বলল, ওটা আমিই ওকে লিখতে বলেছি। তা আপনারা ভয় পেয়ে যান নি তো?

    টম বলল, না! তবে চার্লসের জন্য ভীষণ চিন্তা হচ্ছে।

    টনি বলল, ওহ আপনিও দেখছি ব্রাডের মতই অস্থির। আচ্ছা মিঃ কেলসো আপনি ডর–বি ম্যারিয়েটের নাম শুনেছেন?

    টম নিজের মনে কিছুক্ষণ চিন্তা করে বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ আমেরিকান রাইটার। তিনি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পটভূমিকায় ফ্রান্সের ওপর একটা বই লিখেছেন। মনে হচ্ছে ওটা সিনেমাও হয়েছে।

    টম বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ আমিও ওর সম্বন্ধে এই রকমই শুনেছি। আচ্ছা আপনি ওর আর কোন খবর জানেন?

    টম বলল, দেখুন, আমি একজন রিপোর্টার, গোয়েন্দা নই।

    টনি সহাস্যে বলল, তা আমি জানি বৈকি। আচ্ছা রিক নীলেকে নিশ্চয়ই চেনেন?

    টম বলল, হ্যাঁ চিনি ও চার্লসের বন্ধু। খুবই ভালো ছেলে। তবে মনে হয় ওদের বন্ধুত্বে এখন একটু ভাঙন ধরেছে।

    টনি বলল, আমার কাছে খবর আছে এই রিকের সঙ্গে ম্যারিয়েটের বেশ ভালো যোগাযোগ আছে। চার্লস কী আপনাকে কখনো বলেছিল?

    টম বলল, কই না, তো।

    টনি বলল, স্বাভাবিক, চার্লসেরও না জানারই কথা।

    ইতিমধ্যে ডরোথি তিন গ্লাস মার্টিনি নিয়ে এলো। ডরোথিকে দেখে টনি বলল, ধন্যবাদ মিসেস কেলসো। সেদিন হোটেলে ওই সুন্দর যুবকটির পরিচয় দেবার জন্য। সেজন্য আপনাকে ধন্যবাদ দেবার জন্য এখানে এসেছি।

    ডরোথি কিছু বুঝে উঠতে পারছিল না।

    টনি বলল, কেন চার্লসের সেই বন্ধু রিক নীলে

    ডরোথি বলল, ও তাই বলুন, আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম।

    টনি বলল, না না মিসেস কেলসো এখুনি ভয় পাবেন না।

    ডরোথি বলল, আরো কিছু আছে নাকি?

    টম দেখলো ডরোথির মুখ আবার আতঙ্কে ভরে উঠছে। তাই টম টনিকে বলল

    আচ্ছা মিঃ লটন এসব কথা এখন বন্ধ করলে হয় না?

    টনি বলল, না ওর সম্বন্ধে আপনাদের জেনে রাখা ভালো, কেননা কখন কি বিপদ এসে যায়।

    ডরোথি উদ্বেগের সঙ্গে বলল,বলুন,। চার্লসের ভালোর জন্য আমাদের সব কিছু জানা দরকার।

    টনি বলল, দ্যাটস্ রাইট। অন্ধকারে থাকলে অনেক বিপদের আশঙ্কা।

    ডরোথি বলল, তাহলে আপনি বলছেন, রিক নীলে একজন বিপদজনক ব্যক্তি।

    টনি বলল, আর কিছুদিনের মধ্যে আমরা ওর সম্বন্ধে আরো সঠিক করে বলতে পারবো। তবে এই পর্যন্ত যা খবর পেয়েছি তাতে রীতিমত চমক আছে।

    এই রিক নীলে ছিল প্রথমে একজন ডকু–সি পিকারিং এর সাহায্যকারী। তারপর হঠাৎ তাকে আর খুঁজে পাওয়া গেল না। কোনও কিছুতে থাকে না তাই এফ বি আই এর ফাইলেও ওর সম্বন্ধে বিশেষ কিছু নেই। পূর্ব জার্মানীতে সিয়ার যে এজেন্ট আছে সেও রিক নামে কাউকে চেনে না। সেখানেও তাকে পাওয়া গেল না। উনিশ শ তেষট্টি থেকে পঁয়ষট্টিতে ও সোজাসুজি এসে ভর্তি হয়ে গেল ইউ. এস সৈন্যদলে। সে সিভিলিয়ান দোভাষীর কাজ করত। এই ভাবে সে পূর্ব থেকে পশ্চিম জার্মানীতে পালিয়ে আসে। ওর জন্ম ব্রুকলীনে।

    ফাইল ঘেঁটে জানা গেছে ব্ল্যাঙ্ক নীলে নামে যে ভদ্রলোকের কাছে এসে নিজেকে তার প্রপৌত্র রূপে পরিচয় দিয়েছে তাতে সাতাশ বছর পরে চুরাশি বছরের বৃদ্ধের পক্ষে তার প্রপৌত্রকে চেনা সম্ভবনয়। তবে ও এমন কিছু কাগজ পত্রের প্রমাণ এনেছিল তাতে বৃদ্ধ ওকে মেনে না নিয়ে পারেনি।

    এখন যা জানা গেছে তাতে ওর মা জার্মান ও বাবা আমেরিকান হলেও ও আমাদের লোক নয়।

    ডরোথি চেঁচিয়ে উঠল, তাহলে ও শত্রু পক্ষের এজেন্ট।

    হ্যাঁ, টনি বলল, গত নয় বছর ধরে ও আমাদের চোখে ধুলো দিয়ে চলেছে।

    ডরোথি বলল, বিশ্বাসঘাতক! ওকে আমাদের এক বারের জন্যও সন্দেহ হয়নি। আশ্চর্য!

    টনি একটু হেসে কৌতুক করে বলল, তাহলে বলতে হয় যে রিক খুব কাজের ছেলে।

    ডরোথি রাগে ফেটে পড়ল,কাজের ছেলে?রাবিশ,একটা মস্তো বড় শয়তান চার্লসকে কিভাবে ফাঁদে ফেলেছে। ওহ্ আমি ভাবতে পারছি না।

    টনি হেসে বলল, কিন্তু মিসেস কেলসো রিক আমাদের কাছে শয়তান হলেও ওদের কাছে ও কিন্তু একজন সফল হিরো। যে পক্ষের হয়ে ও কাজ করছে তারা তাকে সোনার চেয়েও দামী মনে করে।

    ডরোথি বলল, কিন্তু আপনি কি ওকে সমর্থন করেন?

    টনি বলন, ডেফিনেটলি নট, আমরা কেউই তাকে সমর্থন করতে পারি না।

    ডরোথি জিজ্ঞাসা করল, আপনি কী সেইদিন থেকে ওর সম্বন্ধে আগ্রহী হলেন মিঃ লটন?

    টনি বলল, হ্যাঁ তা বলতে পারেন। আপনার কাছ থেকে ওর পরিচয় পাবার পর বিশেষ করে যখন জানলাম ও চার্লসের বন্ধু তখনই আমি ওর সম্বন্ধে খোঁজ নিতে শুরু করি। তাছাড়াও আরও কিছু ব্যাপার আছে।

    টম এতক্ষণ চুপচাপ ওদের কথা শুনছিল, এবার সে টনিকে বলল, আচ্ছা মিঃ লটন আপনি কেন ওর সম্বন্ধে এফ বি আইকে জানাচ্ছেন না?

    টনি বলল, দেখুন সব কিছুর জন্যই সাক্ষ্য প্রমাণ দরকার। আমার কথার সত্যতা বিচার না করেই তো আর তদন্ত কমিশন বসবে না। তাই আমিও পেছনে লেগে আছি। কিন্তু ব্যাটা এত চালাক কী বলব, সেই দিন থেকে আর পাত্তা নেই। ওর মুখই দেখা যাচ্ছে না, বার বা রেস্তোরাঁয় পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না এমন কি ফোনেও কারো সঙ্গে যোগাযোগ করছে না। একেবারে ঘরে খিল এটে বসে আছে। কিন্তু আমি যখন ধোঁয়া দেখতে পেয়েছি তখন আগুনের উৎস আমি বার করবই।

    এমন সময় ঘরের ফোনটা বেজে উঠল। টম উঠে গিয়ে রিসিভার তুলে নিল। তারপর টনির। দিকে তাকিয়ে বলল ইটস্ ইওর কল মিঃ লটন। ব্রাড ফোন করেছে। আরজেন্ট।

    টনি লাফিয়ে উঠল, ব্রাড় আবার এখানে ফোন করল কেন? কোন জরুরীখবর…

    টনি রিসিভার তুলে বলল হ্যালো টনি বলছি। কী ব্যাপার?

    ওপাশ থেকে ব্রাড বলল শুনছে টনি, তোমার সেই ম্যারিয়ট কাল রাতে খুন হয়েছে। ব্রাডের গলায় রীতিমত উত্তেজনা।

    টনি চমকে উঠল,বল কী? এটা কীকরে সম্ভব? আমি দুজনকে পাহারায় রেখেছিলাম। ব্রিজিট আর বারনারড।

    ব্রাড জানালো, গভীর রাতে ব্যাপারটা ঘটেছে।

    টনি জিজ্ঞাসা করল, তুমি ম্যারিয়েটের ওখানে গিয়েছিলে।

    ব্রাড বলল, হ্যাঁ, আমি তো ওখান থেকেই আসছি।

    টনি জিজ্ঞাসা করল, তাকে কি গুলি করে মারা হয়েছে?

    ব্রাড বলল, না, ডাক্তারের মতে হার্টফেল করে মারা গেছে।

    টনি বলল, কী করে বলছে? পোস্টমর্টেম তো এখনও হয় নি।

    প্রাথমিক পরীক্ষা করে ডাক্তার মন্তব্য করেছে, ব্রাড জানালো।

    টনি আবার জিজ্ঞাসা করল, আচ্ছা তিনি কী বিছানাতেই ছিলেন?

    ব্রাড বলল,না, আমরাও ডাক্তারের মন্তব্যকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছি না। কারণ ওর ঘর একেবারে লণ্ডভণ্ড হয়ে আছে।

    টনি উত্তেজিত হয়ে বলল, তাহলে বুঝতেই পারছে যে ম্যারিয়ট হার্টফেল করে মারা যায়নি। লেনেক্সি হসপিটালে কোনোভ যেভাবে মারা গেছে এটাও ঠিক সেই একই কেস। আমার সন্দেহ তাহলে মিলে যাচ্ছে। ম্যারিয়েট কেজিবির সঙ্গে যুক্ত ছিল।

    ব্রাড অস্থির হয়ে জিজ্ঞাসা করল, তাহলে ম্যারিয়টকে খুন করা হল কেন?

    টনি বলল,এমনসিক্রেট এজেন্টদের জীবনের কোনও ভরসা থাকে না, তাদের যে কোন মুহূর্তে মেরে ফেলা হতে পারে।

    টনি বলল, আচ্ছা ম্যারিয়ট–এর ঘরে কোন সন্দেহজনক জিনিস কিছু কী পাওয়া গেছে?

    ব্রাড জানালো, সামান্যতম সন্দেহ করার মতও কোন জিনিস এখানে পাওয়া যায় নি।

    টনি গম্ভীর হয়ে বলল, আপনি ম্যারিয়েটের খুন সম্বন্ধে খোঁজ খবর নিন। আমি দুদিনের জন্য ডুব দেব। হ্যাঁ, গোপনীয়। গুড বাই

    টনি ফোন রেখে টমের দিকে ঘুরে বলল, এইমাত্র যার কথা বলছিলাম ম্যারিয়েট, তিনি খুন হয়েছেন।

    টনি টুপিটা মাথায় দিয়ে বলল, তাহলে চলি, আপনারা সাবধানে থাকবেন, আর পারলে চার্লসকে এখানে নিয়ে আসার চেষ্টা করুন। আমরাও ওর নিরাপত্তা আরও জোরদার করছি।

    টম জিজ্ঞাসা করল, আমি ম্যারিয়েটের সঙ্গে চার্লসের সম্পর্কটা কি বুঝতে পারছি না।

    ডরোথি ভয়ে টমের হাত চেপে ধরেছে।

    টনি বলল, ওই সিঁড়ি ভাঙ্গা অঙ্কের মত। চার্লস–রিক–ম্যারিয়েট। আচ্ছা চলি গুড বাই

    .

    ১২.

    পার্ক অ্যাভির একটা অলিভ গাছের নীচে সন্ধ্যার অন্ধকারে মনে হচ্ছে যেন একটা দৈত্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। একটু দূরে পায়ের হাল্কা শব্দে সে চমকে ঘুরে দাঁড়ালো। হাতে খোলা ছোরা। চোখে হিংস্র দৃষ্টি। পরিচিতের মুখ দেখে শান্ত হলো।

    অ্যালেক্সি বলল, ব্যাপার কী ওলেগ? এভাবে এখানে আমাকে ডেকে পাঠালে কেন? ওলেগ জিজ্ঞাসা করল, ম্যারিয়টের কোনও খবর শুনেছো? অ্যালেক্সি বলল, ম্যারিয়ট, মানে ওয়াশিংটনে আমাদের…। ওলেগ ওকে মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে বলল, এখানে ওর পরিচয় আর উল্লেখ না করাই ভালো। আমি তোমাকে জিজ্ঞাসা করছি তুমি কী ওর কোনও খবর পেয়েছ?

    অ্যালেক্সির সঙ্গে কেটি আছে। সত্যি এই মেয়েটির যে কত ক্ষমতা তা ভাবা যায় না। পুলিশের জেরার সামনে ও টু শব্দটি পর্যন্ত করেনি।

    অ্যালেক্সি রাগত স্বরেই ওলেগকে বলল, কি করে আর রাখব। তুমি তো আমায় ঘরে বন্দি করে রেখেছিলে। এখন কেটি গিয়ে ডাকলো বলে বেরুতে পারলাম।

    ওলেগ খুব শান্ত গলায়, যেন কিছুই হয় নি এমনভাবে বলল, ম্যারিয়েট মারা গেছে।

    অ্যালেক্সি চমকে উঠল, মারা গেছে! ম্যারিয়েট মারা গেছে? আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। কি করে? কবে?

    ওলেগ অ্যালেক্সির প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে, খুশীতে বলে উঠল, তাহলে মাইক্রোফিলমটা। এখন আমার হাতে।

    অ্যালেক্সি চমকে উঠল, ওহ মাই গড, তাহলে মাইক্রোফিলমটা এখনও মস্কোয় পাঠানো হয়, নি?

    ওলেগ বলল, আমি আগেই জানতাম ও একজন বিশ্বাসঘাতক। হি ইজ এ ট্রেইটর। কিন্তু এখনও এমন কিছু দেরী হয় নি।

    অ্যালেক্সি ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞাসা করল, তাহলে তুমি ওটা কালই মস্কোয় পাঠিয়ে দিচ্ছ তো?

    ওলেগ জোরের সঙ্গে বলল, নিশ্চয়ই ওটা আমায় কালই পাঠিয়ে দিতে হবে।

    অ্যালেক্সি ওলেগকে বোঝার চেষ্টা করল। সে কোনও চালাকি করবেনাতো? কিন্তু ওলেগের কথায় ও স্বস্তি পেল কিছুটা নিশ্চিন্ত হতে পারল।

    কেটি ছটফট করছিল। ওদের কথা থামতেই বলল, না এখানে আর বেশী সময় নষ্ট করা ঠিক হবে না।

    ওলেগ সঙ্গে সঙ্গে সাবধান হয়ে গেল। কেটিকে বলল তুমি একটু চারিদিকে নজর রাখো। আমি ততক্ষণ চটপট অ্যালেক্সিকে কয়েকটা ফটো দেখিয়ে নি।

    ওলেগ অ্যালেক্সিকে নিয়ে একটা ল্যাম্পপোস্টের নিচে গিয়ে দাঁড়ালো। মাথার টুপি দিয়ে তারা তাদের নিজেদের মুখ প্রায় ঢেকে ফেললো। কেটি একটা গাছের নীচের ছায়ায় নিজেকে আড়াল করে চারিদিকে নজর রাখতে থাকল।

    পকেট থেকে একটা খাম বের করতে করতে ওলেগ বলল, যদি সেদিন সেন্ট্রাল পার্কে তোমরা একটু সাবধান হতে তাহলে এত ঝামেলা হতো না।

    সন্ধের সময় সেন্ট্রাল পার্কে যে লুটেরাদের উপদ্রব হয় তা মিশচার–এর জানা উচিত ছিল।

    যাক গে, বাদ দাও বলে ওলেগ একটা খাম থেকে তিনটে ফটো বের করে অ্যালেক্সির হাতে দিল। ওলেগ ওই ফটো তিনটির মধ্যে একজন টুইড জ্যাকেট পরা লোককে দেখিয়ে অ্যালেক্সিকে বলল, দেখো তো এই লোকটিকে কখনো চার্লস কেলসোর সঙ্গে দেখেছ কিনা?

    অ্যালেক্সি ফটোগুলো নিয়ে দেখলো জ্যাকেট পরা লোকটির মুখ কোনও ফটোতেই স্পষ্ট নয়। কোথাও লোকটা রুমাল দিয়ে নাক ঢেকে আছে, কোথাও এমনভাবে হাত তুলে আছে যে তার মুখ দেখা যাচ্ছে না। আবার আরেকটাতে মুখ নিচু করে আছে।

    অ্যালেক্সি অনেকক্ষণ দেখে বলল, না! বুঝতে পারছি না। কে এই ভদ্রলোক?

    ওলেগ ছোট্ট করে বলল, অ্যান, এক্সপার্ট। অ্যালেক্সি জিজ্ঞাসা করল, বাকি দুজন কে?

    ওরা নিউইয়র্কের গোয়েন্দা বিভাগের লোক, ওলেগ জানালো।

    আচ্ছা ওরা কি এই এক্সপার্ট লোকটাকে অ্যারেস্ট করেছে? অ্যালেক্সি জিজ্ঞাসা করল। আর তুমি এই ফটো কোথায় তুললে? তাহলে কিছু বলা যেতে পারে হয়ত।

    ওলেগ খুব গম্ভীর হয়ে বলল, আমি এই লোকটাকে চিনি। এ হলো টনি লটন। মিশচার–এর মৃতদেহ যে মর্গে পড়েছিল, সেখানে এই ম্যাপ শট নেওয়া হয়েছে।

    অ্যালেক্সির বুকটা ধড়াস করে উঠল। মিশচার–এর ওখানে? মর্গে?

    অ্যালেক্সি খুব ভয়ে ভয়ে বলল, আমি তো এর নাম কখনো শুনিনি। কে এই টনি লটন?

    ওলেগ ভীষণ উত্তেজিত হয়ে বলল, এখানে আছে অথচ কোন খবর রাখোনা। এই টনি লটন একজন ন্যাটোর এজেন্ট।

    অ্যালেক্সি ভয়ে ঠাণ্ডা হয়ে গেল, সে আস্তে আস্তে ওলেগকে জিজ্ঞাসা করল, এই লোকটা মর্গে গিয়েছিল কেন?

    ওলেগ ফটো তিনটে পকেটে রাখতে রাখতে বলল, দে ইউ সী হোয়্যার ইউ স্ট্যান্ড। যা ওসব কথা রাখো। আমাদের অনেক কাজ বাকি আছে। গাছের ছায়ায় এসো।

    ওলেগ ও অ্যালেক্সি কেটি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল সেখানে এলো।

    ওলেগ ভালো করে চারপাশটা দেখে নিয়ে বলল, শ্যানডন হাউসের নিরাপত্তা কর্মী ম্যাকলেহোস–এর বাড়ি তুমি কি চেনো?

    অ্যালেক্সি উত্তর দিল, হ্যাঁ চিনি।

    ওলেগ জিজ্ঞাসা করল, ওর কি স্ত্রী পুত্র আছে?

    আছে।

    ওলেগ বলল, খুব ভালো। বলে হঠাৎ যেন খুশীতে চকচক করে উঠল। অ্যালেক্সি এই খুশীর কারণ বুঝতে পারল না।

    ওলেগ বলল, আমাদের এবার ম্যাকলেহোসের বাড়ি যেতে হবে।

    অ্যালেক্সি জিজ্ঞাসা করল কেন?

    ওলেগ বলল, প্রশ্ন পরে করবে, এখন যা বলছি মন দিয়ে শোন।

    ওলেগ বলতে লাগল। আমি একটু দূরে দাঁড়িয়ে থাকবো, হ্যাঁকেটি তোমাকে ম্যাকলেহোস চেনে না তো?

    কেটি বলল, না, আমার সঙ্গে পরিচয় নেই।

    ওলেগ খুশীতে ডগমগ করতে লাগল। অ্যালেক্সিকে জিজ্ঞাসা করল, তোমাকে নিশ্চয়ই ম্যাকলেহোস চেনে?

    অ্যালেক্সি ঘাড় নাড়লো।

    ওলেগ বলল, শোন কেটি ম্যাকলেহোসকে বলবে যেও নতুন নিউইয়র্ক এসেছে। এবং চার্লসের পূর্ব পরিচিত। একবার চার্লসের সঙ্গে দেখা করতে চায়।

    অ্যালেক্সি বলল, এটা খুবঝুঁকির ব্যাপার হয়ে যাবেনা? তাছাড়া কেটি জামিনে ছাড়া পেয়েছে। যদি জানাজানি হয়ে যায়?

    ওলেগ বলল, না না এত সময় আমার প্রয়োজন হবে না। আই শ্যাল সী টু ইট। আমাদের ম্যাকলেহোসকে প্রয়োজন। আমার একটু সময় দরকার যাতে ম্যাকলেহোসের কোয়ার্টার থেকে শ্যানডন হাউসের নিরাপত্তার বহরটা দেখে নেব।

    ওলেগ অ্যালেক্সির উদ্দেশ্যে বলল, বোকামি করো না। উই অল আর ইন ডেঞ্জার! সামনেই ভীষণ বিপদ। তাই আমি যা বলি তাই কর।

    অ্যালেক্সি ওলেগের মুখের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে। কিন্তু ও ধরতে পারছেনা। ওলেগ মনে মনে নতুন কী ফন্দি বানাচ্ছে। এদিকে টনি লটনের পরিচয় পেয়ে অ্যালেক্সি নিজে ভীষণ ভয় পাচ্ছিল। তাই ভাবল এনিয়ে সে আর কিছু ভাববে না। ওলেগ যখন এখন হর্তাকর্তা তখন ও যা ভালো বোঝে করুক।

    ওলেগ যাবার জন্য তৈরী হয়ে নিয়ে অ্যালেক্সি ও কেটিকে তাড়া দিল। তারা তিনজনে ম্যাকলেহোস–এর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল।

    .

    ১৩.

    পরবর্তী চব্বিশ ঘণ্টার ঘটনা আকস্মিক অথচ বেশ দ্রুত গতি…

    টনি লটন ঠিক করল ব্রাড জিলনের সঙ্গে ম্যারিয়টের খুন হওয়ার ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু করার আগে শ্যানডন হাউসের চারদিকে যে জাল বিস্তার করা হয়েছে সেই সম্বন্ধে একটু খোঁজ খবর নেওয়া যাক। টনির ধারণা ভুলনয়।বরিস গেরস্কি যেভাবে এগুচ্ছে তাতে ন্যাটো মেমোরেন্ডাম ফাঁস হয়ে যাবার কোন প্রমাণই সে তার আয়ত্বের বাইরে যেতে দিতে রাজি নয়। ওর সামনে এখন দুটো সমস্যা। এক হচ্ছে চার্লস কেলসো। দুই হচ্ছে জিন প্যারাকিনির নিরাপত্তা বজায় রাখা। শ্যানডন হাউসে নজর রাখার জন্য ওকে সেই দ্য ব্রেইনের–ই একজন করে রেখেছে। এর জন্য ব্রাড জিলনকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। সেই ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

    কিন্তু চার্লস কেলসো যে কেন এখনও শ্যানডন হাউসে রয়েছে তা টনি লটন বুঝতে পারছে না। ওতো এখন ওর দাদা টম কেলসোর ওখানে থাকতে পারে। চার্লসকে নিয়ে এখন ভীষণ চিন্তা।

    টনির শরীরটা ক্লান্ত লাগছিল। সে একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকে সামান্য কিছু খেয়ে নিল। তারপর একটা টেলিফোন বুথে গেল।

    টেলিফোন বুথে ঢুকে সেভাবলোকাকে ফোন করা উচিত। নিকোলে–কেনা বিল কে? দুজনের সঙ্গে কথা বলাই রিস্ক।

    টনি ডায়াল করল। ওপাশ থেকে বিল ফোন তুললল। টনি বলল–হ্যালো বিল। আমি টনি বলছি জিনের উপর ঠিকমত নজর রাখবে।

    বিল বলল, ভালই আছে। এখন লাঞ্চ সেরে নিচ্ছে।

    টনি জিজ্ঞাসা করল, কোথায়?

    বিল জানাল, বারনার্ডের সঙ্গে যেমন রোজ কিচেনে খায় তেমন।

    ফিরল কখন?

    এই আট মিনিট আগে হবে। আমি এসেছি বারোটা পনেরোয়।

    টনি বলল, খুব খারাপ।

    কেন?

    আমি ওকে বারোটা বাজতে পাঁচ মিনিটে রিক নীলেকে অনুসরণ করতে দেখেছি, টনি বলল।

    বিল বলল, হয়তো হতে পারে।

    টনি উত্তেজিত কণ্ঠে বলল, হয়তো হতে পারে মানে? রিক সম্বন্ধে আমি সঠিক খবর জানতে চাই। জিনের ওকে ছেড়ে দেওয়া উচিত হয় নি। জিন তার নিজের কাজে অবহেলা করছে। যাক খেয়ে নিয়েই যেন জিন বেরিয়ে পড়ে। রিক নীলের প্রতিটা পদক্ষেপ আমার জানা প্রয়োজন।

    এমনকী ও যখন নিজের ফ্ল্যাটে গিয়ে বিশ্রাম করবে তখনও ও কী করছে তা আমাকে জানাতে হবে, টনি বলল।

    টনি বিলকে আরও বলল, শোন তুমি আর নিকোলে একটা কাল্পনিক গল্প ফেঁদে চার্লস কেলসোর সঙ্গে দেখা করো। তাকে জানাবে যে নিকোলে কোনও এক কাগজের রিপোর্টার। সে চার্লসের সঙ্গে রিক নীলের সম্পর্কে কিছু আলোচনা করবে। রিকের একটা খোঁজ পেলে ওর সঙ্গী–সাথীদের খুঁজে বের করা কঠিন হবে না।

    টনি খুব আফসোস করে বলল, কাল রিক তার ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে গেল আর জিন তার কোনও খোঁজ রাখতে পারলো না। হোপলেস।

    টনি আর কোনও কথা না বাড়িয়ে ফোন ছেড়ে দিল। দিয়ে আবার ডায়াল করলো।

    টনি জিজ্ঞাসা করল, হ্যালো জর্জেস? আমি টনি বলছি। শোন তোমাকে আর বিলের সঙ্গে দেখা করতে হবে না, আর শ্যানডনে কী এখনও কাজ চলছে?

    জর্জেস বলল, ইয়েস স্যার। শ্যানডনে কোথাও কেবল ফল্ট হয়েছে। তার কাজ চলছে।

    আচ্ছা এমিল কাছে আছে তো? টনি জিজ্ঞাসা করল।

    হ্যাঁ ও চারদিকে নজর রাখছে।

    একটা ধন্যবাদ জানিয়ে টনি জিজ্ঞাসা করল, চার্লস কেলসো নিজের কোয়ার্টারে আছে তো? বুঝতেই পারছ কেন এত প্রশ্ন করছি। কারণ হি ইজ দ্য ভাইটাল উইটনেস। হোলজাইমার না বললেও চার্লসের কাছ থেকেই আমাদের কথা বের করতে হবে।

    জর্জেস বলল, স্যার, আমি নিজেও ওর উপর নজর রাখছি। আজ ও শ্যানডন হাউসের ডিরেক্টরের সঙ্গে লাঞ্চ করেছে। এখন তারই সঙ্গে এই চত্বরের মধ্যে কোথাও আছে। কদিন পরে এখানে কনফারেন্স হবে তারই প্রস্তুতি চলছে। বহুলোক কাজ করছে।

    হ্যাঁ আমি জানি। তাই বলছি তুমি কিন্তু খুব সতর্ক থাকবে। টনি বলল।

    হা স্যার।

    বিকেলের দিকে আমি ব্রাড জিলনকে নিয়ে শ্যানডন হাউসে যেতে পারি। একথা কাউকে বলতে হবে না, সিক্রেট।

    না, স্যার আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন।

    থ্যাঙ্ক ইউ।

    টনি ফোন রেখে দিল।

    টনি পেন্টাগনের সিক্রেট ব্রাঞ্চে ব্রাডের অফিস ঘরে ঢুকলো। ব্রাড তাকে বসতে বলে জিজ্ঞাসা করল, তা তুমি কোথাও যাচ্ছ নাকি? কোন এনগেজমেন্ট আছে?

    টনি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, সে সময় আর পাচ্ছি কোথায় যে তদন্ত ফেলে ফুর্তি করব? তা ম্যারিয়েট–এর ঘটনার ব্যাপারে আর কোন খবর পাওয়া গেল?

    ব্রাড বলল একটা সত্যি কথা তোমায় বলি, এখন আমার কাউকেই বিশ্বাস হয় না। এমন কী নিজেকেও মনে হয় মস্কোর লোক। কিছুই আর বিশ্বাসযোগ্য নয়। এই ম্যারিয়েটের কথাই ভাবছি। এত সুন্দর নিরীহ চেহারা দেখলে ভক্তিশ্রদ্ধা হয়। সেকিনা বিশ্বাসঘাতকের কাজ করল! আমেরিকা তাকে কী না দেয়নি তবুও আরও অর্থের লোভে…

    এখন যা লেটেস্ট খবর তাহলে এই ম্যারিয়েটের মাধ্যমেই কেজিবি–র এজেন্টরা গোপন খবর পাচার করত।

    টনি বলল, ব্রাড আমি কিন্তু সে কথা ভাবছিনা। আমি ভাবছি এই যে এত ঘটনা ঘটছে নিশ্চয়ই দেয়ার ইজ সাম নিউক্ৰিয়াস মানে একটা মধ্যমণি নিশ্চয়ই আছে।

    ব্রাড বলল হ্যাঁ নিশ্চয়ই। আর এই মধ্যমণি–কেবার করতে না পারলে আমাদের কোন কাজই সফল হবে না। তা তুমি এর কোন হদিশ পেয়েছ নাকি?

    টনি একটু চিন্তিত ভাবে বলল, না ওটা এখনও ঠিক ধরতে পারছি না। তবে আমি যে কোন কাজ শেষ থেকে শুরু করি। প্রথমে হচ্ছে ন্যাটো মেমোরেন্ডাম ফঁস হলো। তার আগে ওটা টাইপ হলো। কোন মেসিনে টাইপ হয়েছে তার হদিস মিলল। মেশিনটা টমের কাছ থেকে চার্লস একদিনের জন্য ধার নিয়েছিল।

    সুতরাং চার্লসের হাত থেকে মেমোরেন্ডাম ফাসহয়েছে। তাহলে চার্লসই হলো ওদের এজেন্ট। তবুও প্রশ্ন থেকে যায় এই রিকনামের ছেলেটি কে? ও ক্যুনিকেশন ডিপার্টমেন্টে ভালো মাইনের চাকরি করে অথচ আশ্চর্য ও নিউইয়র্কে চার্লসের সঙ্গে একই অ্যাপার্টমেন্টে থাকে। আবার কেটি কোলিয়ার নামের ওই রহস্যময় মেয়েটি সেও একই অ্যাপার্টমেন্টে থাকে। গোপন বোমা তৈরীর সঙ্গে ওর সম্পর্ক কী?

    ব্রাড ওর কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছে। টনি কী বলতে চাইছে তা আন্দাজ করার চেষ্টা করছে।

    টনি বলল, তাহলে বুঝতেই পারছ চার্লস, রিক ও কেটি তিনজনের পরিচয় আছে।

    ব্রাড ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানালো।

    টনি একটা চুরুট ধরিয়ে এক মুখ ধোয়া ছেড়ে বলল, এবার লেনেক্সি হসপিটালের ঘটনা ভাবো। একদল মাগারের হাতে কোনোভ আক্রান্ত হয়ে পুলিশের সাহায্যে হসপিটালে যায়। হাসপাতালে সে নিজের অজান্তে দুটো নাম উচ্চারণ করে এক ওলেগ দুই অ্যালেক্সি।

    এখন কথা হল সেন্ট্রাল পার্কে এই দুজন ছিল কী? আমার মনে হচ্ছিল, পুলিশের কথা অনুযায়ী পার্কের বাইরে গাড়ি পার্ক করা ছিল। সেখানে তারা একজন মুস্কো জোয়ানের ছায়া দেখেছে। আর আরেক জন ইয়াংম্যান কোনোভের কাছাকাছি ছিল। পুলিশ তাকে সাহায্যের জন্য ডেকেছিল কিন্তু সে পালিয়ে গেছিল।

    বরিস গেরস্কিকে আমি চিনি। লেনেক্সি হসপিটালে যে লোকটা বন্ধুকে খোঁজার নাম করে কোনোভের খোঁজে এসেছিল, পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী বরিস গেরস্কির সঙ্গে তার সাদৃশ্য আছে। তাহলে বোঝা যাচ্ছে সেন্ট্রাল পার্কে কোনোভের সঙ্গে যে দুজন ছিল তাদের মধ্যে একজন ওলেগ, অন্যজন অ্যালেক্সি। এ বিষয়ে আমার আর কোন সন্দেহ নেই।

    এবার আসছি রিক নীলে প্রসঙ্গে। ওর সম্পর্কে যতটুকু জানতে পেরেছি তা হল পূর্ব জার্মানীতে আমাদের একজন এজেন্ট সত্যিই ছিল যার নাম হাইনরিক নীলে। কিন্তু বর্তমানে এই রিক নীলের চেহারার সঙ্গে তার চেহারার কোন মিল নেই।

    ব্রাড একেবারে অভিভূত হয়ে পড়ল।হাতের মার্টিনিটা এক নিঃশ্বাসে শেষ করে বলল, ওয়ান্ডার ফুল। ইউ আর জিনিয়াস উনি তুমি আমাকে একেবারে অবাক করে দিচ্ছ।

    টনি একটু থেমে বলল, চার্লসের এই বন্ধু রিকনীলেকে আমরা সন্দেহের ঊর্ধ্বে নিশ্চয়ই রাখতে পারি না।

    ব্রাড বলল, অবশ্যই না।

    তাহলে আমার মনে হয় সেন্ট্রাল পার্কে সেদিন যে দুজন ছিল তার একজন রিক নীলে হওয়া। অসম্ভব নয়।

    ব্রাড ভেতরে ভেতরে খুব উত্তেজিত বোধ করছিল। বলল, তুমি ওলেগকে তো আইডেন্টিফাই করেছ। কিন্তু আরেকজন ব্যক্তি যে এই রিক নীলে তা আইডেন্টিফাই হবে কী করে?

    টনি বলল, জর্জেস। ও বেশ কিছুদিন ইস্ট জার্মানীতে ছিল। ওর ইনফরমেশন অনুযায়ী ওয়াশিংটনে কেজিবির যে এজেন্ট কাজ করছে তার কোড নাম হল অ্যালেক্সি।

    ব্রাড বলল, সত্যি আমার শুনতে শুনতে মনে হচ্ছে এ কোন মনের মত করে বানানো গল্প।

    টনি বলল, আমি আমার নোক লাগিয়ে দিয়েছি এই দেখার জন্য যে অ্যালেক্সি আর রিক নীলে একই লোক কিনা। এই একটা কাজ আমার বাকি।

    ব্রাড বলল, টনি তোমার কর্মকুশলতা ও বিচক্ষণতা সম্বন্ধে আমার গর্ব হয়। এবার মনে হয় আমরা এই ন্যাটো মেমোরেন্ডাম ফাসের একটা কিনারা করতে পারব। এটাই হবে আমাদের শ্রেষ্ঠ কাজ। তার আগে একবার চার্লসকে ভালো করে বাজিয়ে নিতে হবে।

    টনি বলল, হ্যাঁ, সেইজন্য আমরা একবার শ্যানডন হাউসে যাবো। তা তোমার এখন কোন কাজ নেই তো?

    ব্রাড বলল, না! তেমন কোন কাজ হাতে নেই। তোমার সঙ্গে যাওয়াটা যদি জরুরী মনে করো তো, আমার তোমার সঙ্গে যেতে এখন কোন অসুবিধা নেই।

    টনি বলল, হ্যাঁ গেলে ভালো হয়।

    ওকে–চলো।

    .

    শ্যানডন হাউসের লোহার দরজা যেন বর্ম পরা কোন সেপাই। দরজা সূর্যের আলোয় চকচক করছে। দরজায় সঙ্গীনধারী সেপাই।

    একটি শান্ত, নির্জন প্রকৃতির কোলে পাহাড় ঘেরা অ্যাপলেটন ভিলার পাশে শ্যানডন হাউসের এই শ্বেত শুভ্র দুর্গের মত বিশাল চেহারা দেখে ব্রাড জিলন বলে উঠল…টনি দেখো, ঠিক যেন স্বর্গোদ্যান! তাই না! টনির এখন প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করার মত অবস্থা ছিল না।

    গাড়ি শ্যানডন হাউসের সামনে এসে দাঁড়াতেই পাহারারত সেপাই ছুটে এলো। ব্রাড নিজেকে। স্পেশাল ব্রাঞ্চের কর্মকর্তারূপে পরিচয় দিল এবং প্রমাণ স্বরূপ কার্ড দেখালো।

    ব্রাড সেপাইকে জিজ্ঞাসা করল, এখন সিকিউরিটি অফিসার কে?

    সেপাই বলল, ম্যাকলেহোস স্যার।

    ব্রাড বলল, তাকে খুব তাড়াতাড়ি ডেকে পাঠান।

    এখুনি ডেকে আনছি স্যার, বলে সে ভেতরে চলে গেল।

    এদিকে টনি ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল। জিন প্যারাকিনি রিক নীলের উপর ঠিকমত নজর রাখতে পারছে তো? বিল আর নিকোলে চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করায় সফল হয়েছে তো? রিক নীলে গতরাতে বেড়িয়ে কোথায় গেছিল? কার সঙ্গে দেখা করতে গেছিল? আর একদিন মাত্র সময় আছে ব্রাসেলসে বৈঠক বসতে। মেমোরেন্ডাম কী মস্কোর আয়রন সেফে নিরাপদে পৌঁছে গেছে? টনির মাথায় নানা চিন্তা ঘোরাফেরা করছে।

    ম্যাকলেহোস ছুটতে ছুটতে এসেবলল, আসুন স্যার আসুন। নিরাপত্তাকর্মীদের ইন–চার্জ হবার মত চেহারা ম্যাকলেহোসের নয়। একটু নাদুস নুদুস চেহারা।

    ম্যাকলেহোস ভেবেছিল ব্রাড জিলন একাই এসেছে। তার পাশে টনিকে দেখে এক অজানা ভয়ে সে শিউরে উঠল। ব্রাড তা বুঝতে না পারলেও টনির চোখে সেটা ধরা পড়েছে। টনি নিজেও বুঝে উঠতে পারছে না–তার এই ভয়ের কারণ! ম্যাকলেহোস যেদিন ডিউটিতে ছিল সেদিন ন্যাটোর মেমোরেন্ডাম হাত বদল হয়েছে। তাহলে কী ম্যাকলেহোস এর সঙ্গে জড়িত। কিন্তু তাই বা কী করে হবে? পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী ম্যাকহোেসকে সন্দেহ করার কোন যুক্তি নেই।

    ম্যাকলেহোস ততক্ষণে নিজেকে সামলে নিয়েছে। টনিকেও বলল, আসুন স্যার আসুন। টনি ও ব্রাড গাড়ি থেকে নেমে পড়ল।

    ম্যাকলেহোস প্রহরীকে দরজা খুলে দিতে বলল। দুপাশে পাম গাছ আর মাঝে বাঁধানো রাস্তা। আধুনিক হাল ফ্যাশনের বাড়িগুলো দেখলে প্রাচীন রোমের স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেয়।

    ব্রাড চারিদিক দেখতে দেখতে অভিভূত হয়ে গেল। বলল, অপূর্ব!

    কিছুদূর যাবার পর একটি প্রহরী ঘেরা বাড়ি দেখিয়ে ম্যাকলেহোস বলল, এখানেই সব কম্পিউটর মেশিন আছে। এখানে বিশেষজ্ঞরা কাজ করে থাকে। আপনারা ভিতরে যাবেন না কী?

    টনি বলল, না না, আমরা সমস্তটা একটু ঘুরে দেখবো।

    ম্যাকলেহোস বলল, তাহলে চলুন। কিছুদূর এগিয়ে একটা প্রাসাদের মত বাড়ি দেখিয়ে বলল এইখানে সাইমন শ্যানডন সাহেব থাকতেন। এখন এখানে বিশিষ্ট অতিথিদের থাকতে দেওয়া হয়। তা কেমন লাগছে আপনাদের?

    টনি বলল, অতুলনীয়। টনির দৃষ্টি তখন শান বাঁধানো বড় দীঘির চারিদিকে অনেক লোক কাজ করছে সেদিকে।

    ম্যাকলেহোস বলল, এই বাড়িগুলোর পিছনে একটাবড় হ্রদ আছে। সেখান থেকে এই দীঘিতে জল আসে। পাম্প করে জল বের করে দেওয়া হয়েছে। ওই দীঘির নীচ দিয়ে সব বৈদ্যুতিক তার গেছে। সেখানে বোধহয় কোন গণ্ডগোল হয়েছে তাই কনট্রাক্টররা কাজ করছে। আর ঐ যে বিরাট সামিয়ানা টাঙানো হয়েছে ওখানে কনফারেন্স হবে।

    ব্রাড টনিকে জিজ্ঞাসা করল, আমরা কোনদিকে যাবো?

    টনি বলল, আমরা একটু চার্লস কেলসোরসঙ্গে দেখা করতে চাই। তার কোয়ার্টার কোন দিকে?

    ম্যাকলেহোস বলল, আমি আজ ওকে দেখিনি। শুনেছি ডিরেক্টরের সঙ্গে লাঞ্চ সেরে তার সঙ্গে বাইরে যাবে। ওই পাহাড়ের দিকে তার কোয়ার্টার।

    হঠাৎ দীঘির দিক থেকে একসঙ্গে অনেক লোকের চিৎকার ভেসে এলো। সবাইকে সেইদিকে ছুটে যেতে দেখা গেল।

    ম্যাকলেহোস প্রায় লাফিয়ে উঠে, এক্সকিউজ মী বলে, সেইদিকে ছুটে গেল।

    টনি ও ব্রাড কখন সেইদিকে হাঁটতে শুরু করেছে তা নিজেরাও টের পায়নি।

    এদিকে টনি বিল ও নিকোলে কে দেখতে না পেয়ে অস্থির হচ্ছিল।

    দীঘির কাছাকাছি যেতে তারা দেখলো সব লোক জলের দিকে বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে।

    তারা দেখলে দীঘিতে জলকমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভিতরে বৈদ্যুতিক তারগুলো সাপের মত জড়িয়ে আছে। ওপাশে যেখানে জল খুব কম সেখানে একজন ভাসছে। মুখ দেখা যাচ্ছে না,কারণ মুখ জলের দিকে। টুইড জ্যাকেট পরা। দু–হাত দু–পাশে ছড়ানো।

    ব্রাড আতঙ্কে চিৎকার করে উঠল, এ কে?

    ভয়ে ম্যাকলেহোসের কণ্ঠস্বর কেঁপে গেল। বলল, আমি সবাইকে সাবধান করে দিয়েছিলাম কেউ যেন ওদিকেনা যায়। মেন সুইচ অফ থাকলেও কনট্রাকটরদের মাঝে মধ্যেই বিদ্যুৎ চালিয়ে নিতে হচ্ছিল।

    টনি কঠোর দৃষ্টিতে ম্যাকলেহোসকে দেখছিল। ম্যাকলেহোস থতমত খেয়ে থেমে গেল। টনির চোখ মুখ আরও কঠিন হয়ে গেল।

    ব্রাড আবার জিজ্ঞাসা করল, ও কে?

    ম্যাকলেহোস বলল, আমার মনে হচ্ছে মিঃ কেলসো।

    ব্রাড চকিতে ম্যাকলেহোসের দিকে ফিরে বলল, মানে চার্লস কেলসো!

    ম্যাকলেহোস মৃদু মাথা নাড়লো।

    টনির মুখ কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে গেল। বলল, তাহলে আপনি এতক্ষণ আমাদের বোকা বানিয়েছিলেন। মিথ্যে বলেছিলেন, তাই না?

    ম্যাকলেহোস রীতিমত ভয় পেয়ে বলল, কেন স্যার?

    টনি বলল, আপনি বলেছিলেন চার্লস কেলসো বাইরে গেছে, তাহলে ও এখানে এলো কী করে? প্লীজ মিঃ ম্যাকলেহোস আপনি সোজা কথা বলুন। কোনরকম কিছু ঢাকার চেষ্টা করবেন না। তাহলে আপনি ভীষণ বিপদে পড়বেন

    ম্যাকলেহোস ভীষণ ভয় পেয়ে বলল, দেখুন স্যার, আমি সাধারণতঃ বাইরের নিরাপত্তা দেখি। ভিতরের নয়।

    টনি বলল, তাহলে ভিতরের নিরাপত্তা কে দেখে?

    ম্যাকলেহোস আমতা আমতা করে বলল, ভিতরে চারদিকেই তো প্রহরা। তাই…

    টনি ও ব্রাড নিজেদের মধ্যে কিছু আলোচনা করে নিল। তারপর ম্যাকলেহোসকে টনি জিজ্ঞাসা করল, চার্লস দীঘিতে নামতে গেল কেন?

    ম্যাকলেহোস বলল, হয়তো তিনি কাজের তদারকি করতে এসেছেন। কোন কারণে বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে জড়িয়ে যান।

    টনি বলল, আমরা একটু মেইন সুইচটা পরীক্ষা করে দেখতে চাই। কোন্ দিকে সেইটা?

    ম্যাকলেহোস বলল, মেইন বিল্ডিং–এ। আসুন আমি নিয়ে যাচ্ছি।

    টনি বলল, আমি একাই দেখে নিতে পারবো। পুলিশে ফোনও আমি করছি। আপনি মৃতদেহ তোলার ব্যবস্থা করুন।

    .

    ১৪.

    অ্যাপলেটন প্রিসিঙ্কট–এর ফার্স্ট অফিসার ব্রাড জিলনকে একটা স্যালুট করে বিদায় জানালো। বলল, আমাদের দিক থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর আপনার কথামত ম্যাকলেহোসকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

    ব্রাড সেডানে চেপে একেবারে ফেটে পড়ল, টনি আমরা এভাবেশয়তান গুলোকে ছেড়ে দিতে পারি না। তারা এইভাবে একের পর এক মানুষ মারবে! আমি ভেবে পাচ্ছি না, টমকে কিভাবে সান্ত্বনা দেব

    টনি বলল, ওরা একের পর এক সাক্ষীকে মেরে ফেলছে। চার্লস আমাদের শেষ ভরসা ছিল।

    টনি ও ব্রাড দুজনেই চিন্তাক্লিস্ট।অ্যাপলেটন থেকে নিউইয়র্কের দিকে সেডান ছুটে চলেছে।

    অনেকক্ষণ চুপচাপ থাকার পর উনি বলল, ব্রাড, আমি যে মেইন সুইচ দেখতে চেয়েছিলাম সেটা আমার আসল উদ্দেশ্য ছিল না।

    ব্রাড বলল, তাহলে?

    আমি আসলে ম্যাকলেহোসের অফিস ঘরটা দেখতে গেছিলাম। ওই লোকটাকে আমার প্রথম থেকেই সন্দেহ হচ্ছিল। পুলিশ জেরা করে হয়তো আরো অনেক কথা বার করতে পারবে। আমি যা দেখেছি সেই সম্বন্ধে পরে পুলিশকে জানাবো।তারআগে আমার লোকজনকে খুঁজে বের করতে হবে। ওরা হয়তো রিক নীলের পিছনে ছায়ার মত ধাওয়া করছে।

    ব্রাড বলল, কিন্তু টনি তুমি ম্যাকলেহেঁসের অফিস ঘরে কি এমন দেখলে যা সন্দেহজনক?

    টনি বলল, একটা বিছানা। যা অফিস ঘরে কখনোই শোভা পায় না।

    ব্রাড বলল, কী বল? অফিস ঘরে বিছানা!

    টনি বলল, এটাই আশ্চর্য, মনে হয় এই ঘরেই কাজ হয়েছে।

    ব্রাড বলল, তাহলে তুমি এখনি পুলিশকে সব জানিয়ে ওকে অ্যারেস্ট করলে না কেন? ওকে শুধু জিজ্ঞাসাবাদ করতে বললে, আর বেশী হৈ চৈ না হয় তা দেখতে বললে।

    টনি বলল, আমি আসল শয়তানকে ধরতে চাইছি।

    ম্যারিয়েটকে যারা খুন করেছে, তারাই চালসকে খুন করেছে। টনি বলল,ব্রাড তুমি লক্ষ্যকরেছ চার্লসের দেহে আপাতদৃষ্টিতে কোন ক্ষত চিহ্ন নেই। ম্যারিয়েটের দেহেও ছিল না। সবই একই পদ্ধতিতে হয়েছে।

    ব্রাড জানতে চাইল। পদ্ধতিটা কি?

    টনি বলল, ইঞ্জেকশন। আর এই কাজটা হয়েছে ম্যাকলেহোসের ঘরে। এই কাজে এক্সপার্ট একজন, বরিস গেরস্কি।

    ব্রাড উত্তেজিত হয়ে বলল, এখানেও সেই গেরস্কি!তাহলে সে ম্যাকলেহোসকে হাত করেছে।

    টনি বলল, হ্যাঁ এটাই জানতে হবে ম্যাকলেহোস কিভাবে এর মধ্যে জড়িয়ে পড়ল।

    ব্রাড বলল, তাহলে বলতে হবে এখন শ্যানডন হাউসে নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই।

    টনি উত্তেজিত হয়ে পড়ল, যাই হোক আর এভাবে চলছেনা, এভাবে তাদের আর ছেড়ে দেওয়া চলবে না। দরকার হলে ওলেগ আর অ্যালেক্সি যেই হোক বিনা প্রমাণে তাদের অ্যারেস্ট করতে। হবে। ব্রাড একটু চিন্তিত ভাবে বলল, কিন্তু টনি, তুমি ওদের পাচ্ছো কোথায়?

    টনি বলল, না আমার লোকজন সর্বদা ওদের চোখে চোখে রাখছে। কেবলমাত্র হাতে প্রমাণ, পাচ্ছি না বলে ওদের এখনও ছেড়ে রেখেছি।

    পেন্টাগনের বাড়ির সামনে সেডান আসতেই একজন লোক ছুটতে ছুটতে এসে টনিকে বলল, একজন জর্জেস নামে লোক আপনাকে ফোনে চাইছিল। আমি তার ফোন নাম্বার চাইতে সে বলল প্রয়োজন নেই আপনাকে বললেই আপনি সব বুঝতে পারবেন।

    টনি প্রায় ছুটতে ছুটতে অফিস ঘরে চলে গেল। হাতের সামনে যে ফোন পেল সেটাই তুলে নিয়ে নির্দিষ্ট নাম্বারে ডায়াল করল। ওপাশ থেকে জর্জেসের কণ্ঠস্বর আসতেই টনি রাগে ফেটে পড়ল। তোমরা সব মরে গেছিলে নাকি? জিন কী হাওয়া লাগাতে বেড়িয়েছে। নিকোলে কী করছিল? ব অপদার্থ, ননসেন্স।

    ওপাশ থেকে জর্জেস চুপচাপ সব শুনে বলল, আমি আপনার রাগের কারণ বুঝতে পারছি স্যার। কিন্তু আমাদেরও কিছু বলার ছিল।

    টনি সেই উত্তেজিত ভাবেই বলল, তা চুপ করে আছ কেন? বল কী বলার আছে?

    জর্জেস বলল, বিল আর নিকোলে আপনার কথা মতই চার্লসের সঙ্গে দেখা করেছিল। চার্লসের ঘরে যখন তারাবসেকথা আরম্ভ করতে যাচ্ছে এমন সময় ফোন বেজে ওঠে। ফোন তুলেই তারপর চার্লস ক্ষিপ্র বেগে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। বিল তাকে অনুসরণ করে দেখে। চার্লস ম্যাকলেহোসের অফিস ঘরের দিকে ছুটে চলে গেল। তারপর চার্লস বেপাত্তা হয়ে যায়। তারা অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে চলে আসে।

    আর জিন রিকনীলের পিছনে ফলো করে। রিক শ্যানডন হাউসের দিকেই আসছিল। তারপর হঠাৎ নিজের গাড়িতে উঠে টাউনের দিকে রওনা হয়। জিনও ওকে ফলো করতে থাকে।

    টনি বলল, ম্যাকলেহোস, ওই শয়তানের পক্ষে। আর জিন এখন কোথায়?

    জর্জেস ফিসফিস করে বলল, আমার মনে হয় স্যার ওদের আরো কিছু মতলব আছে।

    টনি চেঁচিয়ে উঠল, সব ভণ্ডুল করতে হবে। এখন তুমি কোন্ মতলব এর কথা বলছ?

    জর্জেস বলল, চার্লস কেলসোর খবর তো আপনি জানেন স্যার। পুলিশ টম কেলসোকেও ডেকে পাঠিয়েছে।

    উনি বলল, ওহ পুলিশ তাহলেটমকে খবরটা জানিয়েছে। যা ভালোই হল, আমরা ভাবছিলাম কীভাবে টমকে এই খবরটা জানাবো! ভেরি স্যাড়।

    জর্জেস জানালো, চার্লসের কোয়ার্টারে যে সব জিনিস পত্র ছিল তা টমের ওখানে পুলিস পাঠিয়ে দিয়েছে শুনলাম।

    উনি বলল, জিন এখন কোথায়?

    জর্জেস বলল, ওর খবর এখনো পাইনি। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই পেয়ে যাবে। স্যার, একটু ধরুন ওঘরে ফোন বাজছে। আপনি লাইন ছাড়বেন না আমি দেখে আসছি।

    ব্রাড টনির পাশেই ছিল, বলল এবার মনে হয় আমাদের হোলজাইমারের দিকে নজর দেওয়া দরকার। ন্যাটোর মেমোরেন্ডাম সংক্রান্ত ব্যাপারের ওই এখন একমাত্র জীবিত ব্যক্তি।

    টনি বলল, হ্যাঁ তুমি ঠিকই বলেছ। আজই এফ বি আই–এর সঙ্গে যোগাযোগ করে ওকে অন্যত্র সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করো।

    এদিকে ফোনে আবার জর্জেসের কণ্ঠস্বর শোনা গেল, হ্যালো স্যার, সেন্ট্রাল পার্কে যেখানে কোনোভের ঘটনা ঘটেছিল সেখানে রিক এবং গেরস্কি নামের যে দুজনের কথা বলেছিলেন, হতে পারে সেই লোকটি এবং সঙ্গে একটি মেয়ে।

    টনি উত্তেজনায় কেঁপেউঠল, জর্জেস তুমি লোজন নিয়ে তৈরী থাকো। আমার মনে হচ্ছে, যতদূর সম্ভব ঐ মেয়েটি কেটি কোলিয়ার। আমি তোমার ওখানে যাচ্ছি, জিনকে জানিয়ে দাও ও যেন ওখানেই থাকে, আমরা গিয়ে পৌঁছচ্ছি। এবার আমাদের সুযোগ এসেছে। টনি নিজের হাত ঘড়িটা দেখে নিল, ব্রাডকে বলল, এখন সাড়ে আটটা বাজে আমি বেরিয়ে পড়ছি। তুমি এখানেই থাকো আমার ফোনের জন্য অপেক্ষা করবে। হোলজাইমারের ব্যবস্থা করবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleজেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ১ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)
    Next Article গোল্ডেন ফক্স – উইলবার স্মিথ

    Related Articles

    জেমস হেডলি চেজ

    জেমস হেডলি চেজ রচনা সমগ্র ১ (অনুবাদ : পৃথ্বীরাজ সেন)

    August 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }