Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জেরুসালেম : ওয়ান সিটি থ্রি ফেইস – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    ক্যারেন আর্মস্ট্রং এক পাতা গল্প727 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৭. ইসরাইল

    জেরুসালেমের দীর্ঘ ও মর্মান্তিক ইতিহাসে নগরীকে অনেকবার ধ্বংস করা হয়েছে, পুনঃনির্মাণও করা হয়েছে। ব্রিটিশদের আগমনে নগরীটি আরেক দফা পরিবর্তনের বেদনাদায়ক পর্বের মুখে পড়ে। ক্রুসেডার দখলদারিত্বের সংক্ষিপ্ত সময় বাদ দিলে জেরুসালেম প্রায় ১৩ শত বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি নগরী হিসেবে বহাল ছিল। এখন সেই উসমানিয়া সাম্রাজ্য বিজিত হয়েছে, এই অঞ্চলের আরবদেরকে তাদের স্বাধীনতা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। প্রথমে ব্রিটিশ ও ফরাসিরা নিকট প্রাচ্যে ম্যান্ডেট ও প্রটেকটোরেট প্রতিষ্ঠা করলেও একে একে আরব রাষ্ট্র ও রাজতান্ত্রিক দেশ আত্মপ্রকাশ করতে থাকে। এগুলো হচ্ছে জর্ডান, লেবানন, সিরিয়া, মিসর ও ইরাক। এ প্রেক্ষাপটে অন্য সব কিছু একই রকমের থাকলে ফিলিস্তিনও স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারত। আর গুরুত্বপূর্ণ নগরী হিসেবে জেরুসালেম হতে পারত এর রাজধানী। কিন্তু তা ঘটেনি। ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের সময় জায়নবাদীরা নিজেদেরকে দেশটিতে প্রতিষ্ঠা করে একটি ইহুদি রাষ্ট্র সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। জেরুসালেম ধর্মীয় ও কৌশলগত মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিরাজ করে। এর মালিকানা নিয়ে ইহুদি, আরব ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিরোধে লিপ্ত হয়। শেষ পর্যন্ত ১৯৬৭ সালে ইহুদি সামরিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগই সফল হয়, জেরুসালেম হয় ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের রাজধানী। বর্তমান সময়ে জেরুসালেমের আরব বৈশিষ্ট্য হলো অ্যালেনবাই ও তার সৈন্যদের নগরীতে প্রবেশ করার সময়কার ছায়ামাত্র।

    জায়নবাদী বিজয় ছিল একটি নজিরবিহীন পশ্চাদগমন। ১৯১৭ সালে ফিলিস্তিনের মোট জনসংখ্যার ৯০ ভাগ ছিল আরব, জেরুসালেমের জনসংখ্যার ৫০ ভাগের সামান্য কম ছিল তারা। ইহুদি ও আরবরা অবাক দৃষ্টিতে পেছনের ঘটনার দিকে তাকায়। বিপুল প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে জায়নবাদীরা তাদের সাফল্যকে প্রায় আশ্চর্য ঘটনা মনে করে; আরবরা তাদের পরাজয়কে বলে আল-নাকবা। এই শব্দটি দিয়ে আসমানি গজবের কাছাকাছি পর্যায়ের কিছু প্রকাশ করতে চায় তারা। সংগ্রামের লিখিত ভাষ্যের ব্যাপারে উভয় পক্ষের অতি সরলিকরণ বিস্ময়কর কিছু নয়। তারা একে নায়ক আর খলনায়ক হিসেবে বর্ণনা করে, সম্পূর্ণ ভালো আর মন্দ হিসেবে বিবেচনা করে, আল্লাহ ইচ্ছা বা আসমানি গজব হিসেবে অভিহিত করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা ছিল অনেক বেশি জটিল। মূলত জায়নবাদী নেতাদের দক্ষতা ও সম্পদের মাধ্যমেই ফলাফল নির্ধারিত হয়েছে। তারা প্রথমে ব্রিটিশ ও পরে আমেরিকান সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এসব নেতা কূটনৈতিক-প্রক্রিয়ার ধূর্ত-চালবাজি বুঝতে পেরেছিলেন। যখন কোনো পরাশক্তি তাদেরকে কিছু দিতে চাইত, প্রায় সবসময়ই তারা তা গ্রহণ করতেন, এমনকি তা যদি তাদের চাহিদা বা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কমও হতো। তবে শেষ পর্যন্ত তারা সবকিছুই পেত। জায়নবাদীরা তাদের নিজস্ব আন্দোলনের মধ্যে থাকা আদর্শগত বিভক্তিও উত্রাতে সক্ষম হয়। আরবরা ততটা সৌভাগ্যবান ছিল না। উসমানিয়া সাম্রাজ্যের হঠাৎ করে দুঃখজনক পতন ও ব্রিটিশদের আগমনে বিচলিত ফিলিস্তিনি আরব জাতীয়তাবাদী আন্দোলন বাস্তব রাজনৈতিক যৌক্তিকতা ও অনুভূতি উপলব্ধি করতে পারেনি। অথচ একদিকে ইউরোপিয়ান ও অন্য দিকে জায়নবাদীদের মোকাবিলা করার জন্য এর দরকার ছিল খুবই বেশি। তারা প্রবল টেকসই প্রতিরোধ গড়তে পারেনি, আবার পাশ্চাত্য কূটনীতির পদ্ধতিগুলোতেও অভ্যস্ত ছিল না। তারা অব্যাহতভাবে তাদেরকে দেওয়া যেকোনো প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করত এই আশায় যে প্রত্যাখ্যানের দৃঢ় ও আপসহীন নীতি জনসংখ্যাগত ও ঐতিহাসিকভাবে তাদের অধিকার বলে মনে হওয়া এলাকায় স্বাধীন আরব রাষ্ট্রের নিশ্চিত অধিকার পেয়ে যাবে। শুরুতে তারা বোকার মতো মনে করেছিল যে তাদের প্রতি ব্রিটিশদের কল্যাণকর উদ্দেশ্য রয়েছে। তাদের বারবারের ভেটোর ফলে তারা শেষ পর্যন্ত কিছুই পায়নি এবং ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর গৃহহীন, সমূলে উচ্ছেদ ও অধিকারহারা ফিলিস্তিনিদের স্থলাভিষিক্ত হয় অধিকারহারা, সমূলে উচ্ছেদ ও ভাসমান ইহুদিরা।

    ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের সময় জেরুসালেম মন্থর ও বেদনাদায়ক এমন এক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয় যা একে আরব নগরী থেকে ইহুদি প্রাধান্যপূর্ণ নগরীতে পরিণত করে।

    ব্রিটিশদের উদ্দেশ্য ও নীতিও ছিল বিভ্রান্তিকর ও সন্দেহজনক। উভয় পক্ষের কাছেই ব্রিটিশদের উদ্দেশ্যে পূরণের সাথে কাজ করা কঠিন বলে মনে হয়। মহাযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকার আরব ও ইহুদি উভয়কেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ১৯১৫ সালে তুর্কিদের বিরুদ্ধে হিজজের আরবদের বিদ্রোহ করতে উৎসাহিত করতে মিসরের হাইকমিশনার স্যার হেনরি ম্যাকমোহন মক্কার শরিফ হোসাইন ইবনে আলীকে প্রতিশ্রুতি দেন যে আরব দেশগুলোর ভবিষ্যত স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেবে ব্রিটেন। এর ফলে পবিত্র স্থানগুলো একটি ‘স্বাধীন সার্বভৌম মুসলিম রাষ্ট্রের অধীনে থাকবে। ফিলিস্তিন বা ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান জেরুসালেমের কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়নি। ম্যাকমোহনের প্রতিশ্রুতি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুস্বাক্ষর করা চুক্তি ছিল না, বরং এতে চুক্তির তাৎপর্য ছিল। ১৯১৬ সালে হোসাইন যখন টি ই লরেন্সের সহায়তায় আরব বিদ্রোহের ঝান্ডা উড়ালেন, তখন তেমনই মনে হয়েছিল। ম্যাকমোহনের এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা করার সময়ই ব্রিটেন ও ফ্রান্স গোপন সাইকিস-পিকট চুক্তি নিয়ে কথাবার্তা বলছিল, যাতে উপদ্বীপের উত্তরে পুরো আরব বিশ্বকে ব্রিটিশ ও ফরাসি জোনে ভাগ করার কথা ছিল।

    তারপর অ্যালেনবাইয়ের জেরুসালেম জয়ের ঠিক এক মাস পর ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী লয়েড জর্জ তার পররাষ্ট্রসচিব আর্থার বেলফোরকে নির্দেশ দেন এই ঘোষণা-সংবলিত একটি চিঠি লিখতে লর্ড রথচাইল্ডকে :

    মহাহান্য সরকার ফিলিস্তিনে ইহুদি জনগণের জন্য জাতীয় আবাসভূমি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আগ্রহী। আর এই লক্ষ্য হাসিলে সরকার সর্বাত্মক প্রয়াস চালাবে। তবে এটিও স্পষ্টভাবে মনে রাখতে হবে যে ফিলিস্তিনে বিদ্যমান অ-ইহুদি সম্প্রদায়গুলোর বেসামরিক ও ধর্মীয় অধিকারগুলো কিংবা অন্য কোনো দেশের ইহুদিদের ভোগ করা অধিকার ও রাজনৈতিক মর্যাদা সংস্কারে কিছু করা হবে না।

    .

    ব্রিটেন দীর্ঘ দিন ফিলিস্তিনে ইহুদিদের ফেরানোর কল্পনা লালন করেছে। ১৯১৭ সালে বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে তাদের কৌশলগত বিবেচনাগুলোও হয়তো কাজ করেছে। কৃতজ্ঞ ইহুদিদের ব্রিটিশ প্রটেক্টরেট হয়তো ওই অঞ্চলে ফরাসি উচ্চাভিলাষকে প্রতিরোধ করবে বলে মনে করা হয়েছিল। তবে বেলফোর তার সরকারের দেওয়া অত্যন্ত সঙ্ঘাতপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলোর ব্যাপারে সচেতন ছিলেন। ১৯১৯ সালের আগস্টে এক স্মারকে তিনি উল্লেখ করেন যে ব্রিটেন ও ফ্রান্স জনগণের স্বাধীন ইচ্ছার ভিত্তিতে নিকট প্রাচ্যে জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ফিলিস্তিনে ‘আমরা দেশটির বর্তমান অধিবাসীদের ইচ্ছার আলোকে কোনো কিছু করার প্রস্তাব করছি না।’

    জায়নবাদের প্রতি চারটি পরাশক্তি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর প্রাচীন ওই ভূমিতে বর্তমানে বসবাসরত সাত লাখ আরবের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও পছন্দ-অপছন্দের চেয়ে ভুল হোক বা ঠিক হোক, ভালো হোক বা মন্দ হোক, জায়নবাদ দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য বর্তমানের জন্য প্রয়োজনীয় ও ভবিষ্যতের জন্য ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনায় শিকড় গেড়ে রয়েছে।

    অবাক করা উদাসিন্যে বেলফোর সমাপ্তি টানলেন যে ‘ফিলিস্তিন সম্পর্কে বলা যায়, শক্তিগুলো এমন কোনো বক্তব্য দেয়নি, যা স্পষ্টভাবেই ভুল। লঙ্ঘন করা হতে পারে- এমন কোনো উদ্দেশ্যে তারা কোনো ধরনের বক্তব্য দেয়নি। ২ প্রশাসনের করা পরিষ্কার, সুস্পষ্ট বক্তব্যে এটি অর্থহীন কথা ছিল না।

    ফিলিস্তিন ও জেরুসালেম ১৯১৭ সাল থেকে ১৯২০ সালের জুলাই পর্যন্ত ছিল ব্রিটিশ সামরিক নিয়ন্ত্রণে (অধিকৃত শত্রু এলাকার প্রশাসন)। সামরিক গভর্নর ছিলেন লে. কর্নেল রোন্যাল্ড স্টরস। তিনি ১৯১৬ সালের আরব বিদ্রোহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তার প্রথম কর্তব্য ছিল নগরীতে যুদ্ধে বিধ্বস্ত এলাকা মেরামত করা। পয়ঃনিষ্কাষণ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছিল, পরিষ্কার পানির কোনো ব্যবস্থা ছিল না, রাস্তাগুলো আর চলাচল উপযোগী ছিল না। ব্রিটিশরা পবিত্র স্থানগুলোর পরিচালনার দায়দায়িত্ব নিয়ে অনেক বেশি আচ্ছন্ন ছিল। আর ভদ্র, মার্জিত ব্যক্তিত্ব স্টোর্স জেরুসালেমকে ভালোবাসতেন। তিনি ঐতিহাসিক স্থানগুলো সুরক্ষা করতে প্রো-জেরুসালেম সোসাইটি গঠন করেন তিন ধর্মের ধর্মীয় লোক ও স্থানীয় অভিজাত ব্যক্তিদের নিয়ে। এই সংস্থা সরকারি ভবন ও স্মৃতিসৌধগুলো মেরামত ও সংস্কারের কাজ সম্পাদন করত। বিদেশ থেকে অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে নগর পরিকল্পনা করা ও প্রাচীন স্থানগুলো সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয় তাদেরকে। এই সংস্থার গ্রহণ করা একটি অন্যতম কার্যকর সিদ্ধান্ত ছিল নগরীতে সব নতুন ভবনে অবশ্যই স্থানীয় হলুদাভ পাথর ব্যবহার করতে হবে। এই নির্দেশ এখনো অনুসরণ করা হয়। এটি জেরুসালেমের সৌন্দর্য সংরক্ষণে সহায়ক হয়।

    অবশ্য উত্তেজনাও ছিল। বেলফোর ঘোষণা সম্পর্কে আরবদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি। তবে খবরটি ফাঁস হয়ে যায়। খবরটি তাদের কাছে বিস্ময়কর না হলেও সন্দেহজনক ও আতঙ্কমূলক ছিল। তারা লক্ষ করেছে যে সরকারি নোটিশগুলোতে ইংরেজি ও আরবি ভাষার পাশাপাশি হিব্রু ভাষাও চালু করা হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনে ইহুদি আমলা ও অনুবাদকও নিয়োগ করা হয়েছে। তবে তারা তখনো আশা করছিল, ব্রিটিশরা তাদের স্বার্থের প্রতি ন্যায়বিচার করবে। স্টোর্সের ১৯১৮ সালে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলে অন্তত তারা নিশ্চিত প্রাধান্য ধরে রেখেছিল। এতে ছয় সদস্যের মধ্যে প্রতিটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের দুজন করে ছিলেন। তবে মেয়র ছিলেন মুসলিম। স্টোর্স মেয়র পদে নিয়োগ দেন মুসা কাসিম আল-হোসাইনিকে। তার এখন দুজন সহকারী : একজন ইহুদি, অপরজন খ্রিস্টান। এই ব্যবস্থায় ইহুদিরা পুরোপুরি খুশি ছিল না। কারণ তারা এখন নগরীর জনসংখ্যার প্রায় ৫০ ভাগ। আরব মেয়ররা পদটিকে রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করে বেলফোর ঘোষণার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন বলে মনে হওয়াতেও তারা ক্ষুব্ধ হয়েছিল।

    বিদেশ থেকেও বৈরী বার্তা আসত। বর্তমানে ব্রিটিশদের জয় করা জেরুসালেম নিয়ে ভ্যাটিকান তার উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, এটি খ্রিস্টানদের হাতেই থাকা উচিত। খ্রিস্টান ধর্মের বেশির ভাগ পবিত্র উপাসনালয় যদি অ-খ্রিস্টানদের হাতে দেওয়া হয়, তবে তা হবে’ মর্মান্তিক ব্যাপার। নবগঠিত জাতিপুঞ্জের ১৯১৯ সালে কিং-ক্রেন প্রতিবেদনে উপসংহার টানে যে বেলফোর ঘোষণা বাস্তবায়ন করা উচিত নয়। এর বদলে ফিলিস্তিনের উচিত হবে সাময়িক কর্তৃত্ব লাভ করে সংযুক্ত আরব রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে সিরিয়ার সাথে যোগ দেওয়া। এই প্রতিবেদন কোনো কাজে আসেনি। এটি যখন বিবেচনার সময় এসেছিল, তখন প্রেসিডেন্ট উইলসনের মনোযোগ ছিল অন্যত্র, এটি শেলফে তুলে রাখা হয়েছিল।

    নগরীতে ১৯২০ সালের ৪ এপ্রিল নবী মুসা উৎসবের সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই অনুষ্ঠানের সূচনা করেছিল মামলুকেরা। ওই সময় জেরুসালেম পাশ্চাত্য ক্রুসেডারদের হুমকির মুখে ছিল। নতুন ক্রুসেডার অ্যালেনবাই নগরীতে আসার পর থেকে ফিলিস্তিনের আরবরা মনে করতে থাকল যে আল-কুদস আবার বিপদের মুখে। আরববিশ্বে ক্রুসেডারদের নিয়ে নতুন করে আগ্রহের সৃষ্টি হলো। কুর্দি সালাহউদ্দিন এখন আরব নায়ক বনে গেলেন। আর জায়নবাদীদের নতুন ক্রুসেডার কিংবা অন্তত ক্রুসেডে নিয়োজিত পাশ্চাত্যের হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হতে লাগল। নবী মুসা শোভাযাত্রা সবসময়ই প্রতীকভাবে পবিত্র নগরীর নিয়ন্ত্রণ লাভ বলে গণ্য হতো। কিন্তু এবার মুসলিম জনতা প্রথা ভেঙে ইহুদি মহল্লার মধ্য দিয়ে ছুটে গেল। আরব পুলিশ বাহিনী দাঙ্গাকারীর পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে, সহিংসতা শান্ত করতে ব্রিটিশ সৈন্যরা এলো না। ইহুদিরা তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করার কথা ভুলে গিয়েছিল। হতাহতদের বেশির ভাগই ছিল ইহুদি। ৯ জন নিহত ও ২৪৪ জন আহত হয়েছিল। জেরুসালেমে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও মাঝে মাঝে সহিংসতা ছিল। কিন্তু ১৯২০ সালের দাঙ্গা দেখাল যে পরিস্থিতি আরো অবনতির দিকে যাচ্ছে। এই ঘটনা ইহুদি ও ব্রিটিশদের মধ্যেও ফাটল সৃষ্টি করল। জায়নবাদীরা সাথে সাথে এই নির্যাতনের জন্য স্টোর্স ও প্রশাসনকে দায়ী করল। তাদের মতে, তারা আরবদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব প্রদর্শন করেছে। এর পর থেকে ইহুদি ও আরব উভয় পক্ষই ‘অন্য দলের পক্ষাবলম্বনের জন্য ব্রিটিশদের দায়ী করতে থাকে।

    বস্তুত, ব্রিটিশনীতির মধ্যেই সঙ্ঘাতের সহজাত উপাদান ছিল। ১৯২০ সালের এপ্রিলে নিয়োগ পাওয়া ফিলিস্তিনে ম্যান্ডেটরি শক্তিতে পরিণত হয় ব্রিটেন। জাতিপুঞ্জের ধারা ২২-এ জোর দিয়ে বলা হয়েছিল যে ব্রিটেন ‘সভ্যতার পবিত্র আমানতের আকারে [ফিলিস্তিনি জনগণের] কল্যাণ ও উন্নয়নের নীতিমালা’ প্রয়োগ করবে। তবে ব্রিটিশরা বেলফোর ঘোষণাও বাস্তবায়ন করছিল, ফিলিস্তিনে ইহুদি জাতীয় আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার পথও তৈরি করছিল। এই কাজ করার জন্য ও সার্বিকভাবে দেশের উন্নয়নে (ধারা ৪) সরকারি সংস্থা হিসেবে একটি জিউশ এজেন্সিও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এজেন্সির আরেকটি দায়িত্ব ছিল ‘ইহুদিদের জন্য ফিলিস্তিনি নাগরিকত্ব পাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য কাজ করা (ধারা ৬) ও ‘যথাযথ শর্তে ইহুদি অভিবাসনের ব্যবস্থা করা (ধারা ৭)। এসব পদক্ষেপ কি ফিলিস্তিনে ‘অইহুদি সম্প্রদায়গুলোর অধিকারের ওপর কোনো আঘাত সৃষ্টির বিপদ ছিল না?

    ফিলিস্তিনে প্রথম বেসামরিক হাই কমিশনার হিসেবে ১৯২০ সালের জুলাই মাসে নিয়োগপ্রাপ্ত স্যার হারবার্ট স্যামুয়েল ছিলেন ইহুদি। এটি জায়নবাদীদের জন্য আশার নিদর্শন হলেও আরবদের কাছে ছিল অলুক্ষুণে বার্তা। স্যামুয়েল ছিলেন বেলফোর ঘোষণার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তিনি দায়িত্ব পালনের পাঁচ বছর কালে আরবদের জোরালোভাবে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি তাদেরকে বলেন, তাদের ভূমি কখনো তাদের কাছ থেকে নেওয়া হবে না এবং কোনো ইহুদি সরকার কখনো মুসলিম ও খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠদের শাসন করবে না। এমন কিছু করা ‘বেলফোর ঘোষণার অর্থ নয়।’ তবে এসব আশ্বাস আরবদের ভয় প্রশমিত করতে পারেনি, তারা ইহুদিবৈরী হয়ে পড়েছিল। ব্রিটিশ উপনিবেশ সচিব উইস্টন চার্চিলের ১৯২২ সালের শ্বেতপত্রে একই যুক্তি অবতারণা করা হয় : আরব সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কোনোভাবেই দমন করা হবে না। বেলফোর ঘোষণার ধারণাটি ছিল স্রেফ (সার্বিকভাবে নয়) ফিলিস্তিনের ভেতরে একটি কেন্দ্র সৃষ্টি করা, যেখানে ইহুদিরা কোনো দুর্ভোগ পোহানো ছাড়াই বাঁচতে পারবে। আবারো বলা যায়, কোনো পক্ষই খুশি হয়নি। আরবরা শ্বেতপত্র প্রত্যাখ্যান করে, অবশ্য পরে বেশি কিছু পাওয়া যাবে, এই আশায় ইহুদিবাদিরা তা গ্রহণ করে।

    অবশ্য যেভাবেই হোক না কেন, ম্যান্ডেটের অধীনে জেরুসালেম সমৃদ্ধ হচ্ছিল বলে মনে হচ্ছিল। ক্রুসেডের পর প্রথমবারের মতো এটি ছিল ফিলিস্তিনের রাজধানী নগরী। ১৯২০-এর দশকে ইংল্যান্ডের মতো নতুন উদ্যান উপশহর গড়ে ওঠতে থাকে। এগুলো ছিল জেরুসালেমের আশপাশে মিউনিসিপ্যাল এলাকার বাইরে। তালপিয়ত, রেহাভিয়া, বায়িত বেগান, কিরয়াত মোশে ও বেইত হাকেরেম ছিল ইহুদি এলাকা। এসব এলাকায় পার্ক, খোলা জায়গা ও ব্যক্তিগত উদ্যান ছিল। এগুলো পুরনো নগরীর পশ্চিমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পুরনো নগরী প্রাচীরের পশ্চিমে একটি নতুন বাণিজ্যিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। গ্রিক অর্থোডক্স প্যাট্রিয়াচেটের কাছ থেকে এই জমি কেনা হয়েছিল : এর প্রধান রাস্তাটির নামকরণ করা হয়েছিল ইতিহাসবিদ ইলিজার বেন-ইয়েহুদার নামে। তিনি আধুনিক, কথ্য ভাষা হিসেবে হিব্রুর ব্যবহার পুনর্জীবন করেন। একটি দ্বিতীয় বাণিজ্যিক সেন্টারের কাজও শুরু হয় মাহানেহ ইয়েহুদা মার্কেটে। এছাড়া তালবিয়া, কাতামন ও বাকা ও সেইসাথে শেখ জারা ও ওয়াদি আল-যশে অভিজাত আরব এলাকা ছিল। আর ছিল আমেরিকান কলোনি। জেরুসালেমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিবস ছিল মাউন্ট স্কপাসে হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয় উদ্বোধন। বেলফোর এতে সভাপতিত্ব করেছিলেন। এটি ছিল ফিলিস্তিনে তার প্রথম ও একমাত্র সফর। অনুষ্ঠানজুড়ে তার চিবুক বেয়ে প্রকাশ্যেই গড়িয়ে চোখের পানি ঝরছিল। তবে মনে হয় তিনি লক্ষ করেননি যে জেরুসালেমের রাস্তাগুলোতে আরবরা ধর্মঘট পালন করছে, নীরবে প্রতিবাদ করছে। তারা সুকে শোক প্রকাশের কালো পতাকাও উড়িয়েছিল।

    জেরুসালেমে নতুন নতুন নেতার উদয় হয়েছিল। স্যামুয়েলের প্রথম নিয়োগগুলোর একটি ছিল মুফতি হিসেবে হাজি আমিন-আল হোসাইনিকে নিয়োগ। এটি জায়নবাদীদের আতঙ্কিত করেছিল। কারণ হোসাইনি ছিলেন চরমপন্থী আরব জাতীয়তাবাদী। তিনি ১৯২০ সালের দাঙ্গায় নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন। স্যামুয়েল সম্ভবত আশা করেছিলেন, হাজি আমিনকে কো-অপ্ট করার মাধ্যমে তাকে প্রশমিত করতে পারবেন। অবশ্য বেশির ভাগ ব্রিটিশের মতো তিনিও এই তরুণে সত্যিকার অর্থেই অভিভূত হয়েছিলেন। বিনয়ী, স্বল্পবাক, মর্যাদাসম্পন্ন এই নতুন মুফতিকে ক্রোধ-সঞ্চারকারী বলে মনে হতো না। পরের বছর তিনি সুপ্রিম মুসলিম কাউন্সিলের সভাপতি নিযুক্ত হন। এই নতুন সংস্থাটিকে গঠন করা হয়েছিল ফিলিস্তিনে ইসলামি প্রতিষ্ঠানগুলো তদারকি করার জন্য। তিনি এটিকেই ভিত্তি বানিয়ে বেলফোর ঘোষণার বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত হলেন। তিনি হারামে একটি নির্মাণ ও সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিলেন। এর মানে হলো, তাকে বিপুল মাত্রায় প্রপাগান্ডা কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। জায়নবাদীরাও তাদের টেম্পল পুনঃনির্মাণের স্বপ্ন দেখছে বলে মুফতি দাবি করলেন। তিনি আরো জানালেন, এতে হারামের ওপর থাকা মুসলিম ইবাদতগাহগুলো অনিবার্যভাবেই বিপদে পড়বে। এসব অভিযোগ জায়নবাদী নেতাদের কাছে কল্পনাবিলাস বলে মনে হলো। তাদের বেশির ভাগই টেম্পলের ব্যাপারে কোনো আগ্রহ ছিল না, তারা ওয়েস্টার্ন ওয়ালের দিকেও তেমন যেত না। তবে এখন আমরা যা দেখছি, তাতে করে বলা যায়, হোসাইনির ভয় একেবারে ভিত্তিহীন ছিল না।

    হোসাইনির নিয়োগের ফলে জেরুসালেমের আরবেরা পরস্পর বিপরীত অবস্থান নিয়ে দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পরে। চরমপন্থীরা মুফতির দিকে ঝোঁকে, উদারপন্থীরা নতুন মেয়ার রাগিব আল-নাশাশিবির সাথে যোগ দেয়। এই মেয়র জায়নবাদের বিরোধিতা করলেও যখনই সম্ভব কর্তৃপক্ষের সাথে সহযোগিতা করার নীতিতে বিশ্বাস করতেন। স্যামুয়েল দৃশ্যত স্বীকার করে নিতে প্রস্তুত ছিলেন যে জেরুসালেম ব্যাপকভাবে ইসলামি নগরী। মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল সম্প্রসারিত করা হয়, এখন এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল চারজন মুসলিম, তিনজন খ্রিস্টান ও তিনজন ইহুদি সদস্য। মেয়র অব্যাহতভাবে মুসলিম রয়ে গেছেন। তবে ইহুদিরা যাতে বেশি করে ভোট দিতে পারে, সেজন্য ভোটাধিকার সম্প্রসারিত করেন স্যামুয়েল। উভয় পক্ষের কাছে নিরপেক্ষ থাকায় হাই কমিমনার কাউকেই সন্তুষ্ট করতে পারেননি। ফিলিস্তিন ও জেরুসালেম নিয়ে জায়নবাদী ও আরবদের পারস্পরিকভাবে বর্জনশীল পরিকল্পনা থাকায় সঙ্ঘাত হয়ে পড়ে অনিবার্য।

    জায়নবাদীদের স্বাভাবিকভাবেই তাদের নিজস্ব নায়ক ও পথপ্রদর্শক ছিল। ফিলিস্তিনিদের তাদের সংগ্রামে ইন্ধন দিতে নতুন করে কোনো পুরানতত্ত্ব ও মতাদর্শ সৃষ্টির প্রয়োজন পড়েনি। ফিলিস্তিন ছিল তাদের বাড়ি, তারা আল-কুদসে শত শত বছর ধরে বাস করছিল, এর পবিত্রতা উদযাপন করছিল। তাদের ভূমি ও নগরী সম্পর্কে বইপত্র লেখার কোনো প্রয়োজনীয়তা ছিল না তাদের : প্রিয়তমা স্ত্রীকে নিয়ে কোনো লোকের কি আবেগময় কবিতা লেখার দরকার পড়ে? তবে ফিলিস্তিনকে নিজেদের সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য জায়নবাদীদেরকে বইপত্র লিখতে হয়েছিল। তারা অচেনা, বৈরী বিশ্বে তাদের নিজেদের একটি স্থান খুঁজে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় দেশটিতে এসেছিল। আলিয়া অবশ্য প্রায়ই যন্ত্রণাদায়ক হতো, বেদনাপূর্ণ অভিজ্ঞতা দিত। নতুন পথিকৃতদের বেশির ভাগই ১৯২০-এর দশকে দেশটি ত্যাগ করে : জীবন ছিল কঠিন, দেশটি ছিল অদ্ভূত। এটি তাদের দেশের মতো লাগেনি। ভূমিটির সাথে আধ্যাত্মিকভাবে নিজেদের সম্পৃক্ত করার জন্য তাদের দরকার ছিল যুক্তিনির্ভর মতাদর্শেরও বেশি কিছুর। তারা তাদের মতাদর্শগুলোকে সহজাতভাবেই কাব্বালার পুরনো আধ্যাত্মিক ভূগোলের দিকে চালিত করে। সূচনায় সেক্যুলার থাকা একটি আন্দোলন আধ্যাত্মিক মাত্ৰা নেয়।

    এই জায়নবাদী কাব্বালাহর মুখ্য নায়কেরা জেরুসালেমে বাস করতেন না, পবিত্র নগরীকেন্দ্রিকও ছিলেন না তারা। রাশিয়ায় কাব্বালার সূচনাকারী এ ডি গর্ডন আলিয়া করেছিলেন তুলনামূলক তারুণ্যে, ৪৬ বছর বয়সে। ডেদানিয়ার তার কিবুজে তরুণ পথিকৃতদের সাথে মাঠে মাঠে কাজ করতেন তার সাদা দাড়ি দুলিয়ে। তার কাছে ফিলিস্তিনে অভিবান ছিল খুবই কঠিন : তিনি রাশিয়ার জন্য খুবই গৃহকাতরতা অনুভব করতেন। তার কাছে ফিলিস্তিনের নিকটপ্রাচ্যের ভূ- প্রকৃতি অচেনা মনে হয়েছিল। তিনি মাটিতে কাজ করার সময় যে অবস্থায় পড়তেন বলে বলতেন, আগেকার সময়ে সেটিকেই বলা হতো শেখিনার প্রকাশ। তার মনে হতো যে তিনি জেরুসালেমের ঈশ্বরের সংস্পর্শকে প্রায়শই ফুটিয়ে তোলা সেই আদি সামগ্রিকতায় ফিরে গেছেন। গ্যালিলিতে গর্ডন সেই সংস্পর্শ পেয়েছিলেন। প্রবাসে ইহুদিদেরকে যন্ত্রণাদায়ক ও অপ্রাকৃত জীবন কাটাতে হয়েছিল। গর্ডন তার কবিতা ও বক্তৃতায় তরুণ পথিকৃতদের শিক্ষা দিতেন। ভূমিহীন ও মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তারা ঘেটৌর নাগরিক জীবনে নিজেদেরকে অনিবার্যভাবে অপরিণত করে ফেলেছে। তবে আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তারা নিজেদেরকে ঈশ্বর ও নিজেদের- উভয় থেকেই বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিল। জুদা হ্যালেভির মতো গর্ডনও বিশ্বাস করতেন যে ইসরাইল ভূমি (ইরেজট ইসরায়েল) ছিল অনন্যভাবে ইহুদি চেতনার সৃষ্টি। তাদের কাছে ঐশী স্বচ্ছতা, অসীমতা ও জ্যেতি প্রকাশ করে। এটিই তাদেরকে সত্যিকারের স্বকীয় করে তোলে। এই সত্তার উৎস থেকে আলাদা হওয়ার কারণেই তারা ক্ষতিগ্রস্ত ও টুকরা টুকরা হয়ে গেছে। এখন ভূমির বিপুল পবিত্রতায় অবগাহন করে তাদের কর্তৃব্য হয়ে দাঁড়াল একেবারে নতুন হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলা। গর্ডন লিখেছেন, ‘আমাদের প্রত্যেকেরই প্রয়োজন হয়ে পড়ল নতুন করে সাজিয়ে নেওয়ার। ফলে অপ্রাকৃতিক, ত্রুটিপূর্ণ ও দলছুট ব্যক্তিকে নিজেকেই বদলে প্রাকৃতিক, সামগ্রিক মানবে পরিণত হওয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়ল, যে নিজের কাছে সত্যে পরিণত হবে।’ তবে গর্ডনের আধ্যাত্মিকতার মধ্যে আগ্রাসনের ইঙ্গিত ছিল : ইহুদিদেরকে অবশ্যই তার ভাষায় শ্রমের মাধ্যমে জয় করা ভূটিতে তাদের দাবি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে। শারীরিক কষ্টে নিজেদের নিয়োজিত করবে ইহুদিরা। ফিলিস্তিনের পবিত্রতায় সাড়া দিয়ে তারা এর সত্যিকারের মালিক হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।

    নেগেভের এসব জায়নবাদী বসতি স্থাপনকারীদের প্রথম কাজ ছিল ১৯৪৬ সালে তাদের প্রতিষ্ঠিত নতুন কিবুজের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া তোলা। ইহুদিদের জন্য ‘লেবার জায়নবাদ’ ইতিবাচক ছিল। এদের সমাজবাদী মূল্যবোধ সত্ত্বেও তারা ফিলিস্তিনের থেকে আবর জনসাধারণকে বাদ দিয়েছিল। এমনকি এ ডি গর্ডনও আরবদেরকে ‘চরম নোংরা’, ‘ফালতু’, ও ‘ঘৃণ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

    প্রাচীন কালে থেকে ইহুদিরা জেরুসালেমে তাদের টেম্পলের আদি সম্প্রীতিতে একইভাবে ফিরে যেতে চাইত। কিন্তু গর্ডন জায়নবাদীদের শিক্ষা দিলেন যে শেখিনাকে আর মাউন্ট জায়নে পাওয়া যাবে না, বরং তাকে পাওয়া যাবে গ্যালিলির মাঠে-ময়দানে আর পাহাড়-পর্বতে। প্রাচীনকালে অ্যাডোদার অর্থ ছিল টেম্পলের উপাসনা। কিন্তু গর্ডনের কাছে অ্যাভোদার অর্থ হলো কায়িক শ্রম। অবশ্য অল্পসংখ্যক জায়নবাদী টেম্পল মাউন্টে অবিলম্বে প্রত্যাবর্তন প্রত্যাশা করছিল। লেবার জায়নবাদের সেক্যুলার নেতাদের মাধ্যমে কোণঠাসা ও উপহাসাম্পদের শিকার হওয়া ধর্মীয় জায়নবাদীরা একটি গ্রুপ গঠন করেছিলেন। তারা একে বলতেন ‘মিজরাচি’। তারা অধিকতর সনাতন ধারণায় জেরুসালেমকে বিশ্বের কেন্দ্ৰ মনে করতেন। তাদের নেতা ছিলেন রাব্বি আব্রাহাম আইজ্যাক কুক। তিনি ১৯২১ সালে জেরুসালেমের অ্যাশকেনাজিমের প্রধান রাব্বি হন। বেশির ভাগ অর্থোডক্স ইহুদি পুরো জায়নবাদী উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করলেও কুক আন্দোলনকে সমর্থন করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে না-বুঝেই সেক্যুলার জায়নবাদীরা ঈশ্বরের রাজ্য গঠনে সহায়তা করছে। ভূমিতে ফেরা অনিবার্যভাবেই তাদেরকে তাওরাতে প্রত্যাবর্তনের দিকে চালিত করবে। কাব্বালিস্টবাদী কুক বিশ্বাস করতেন যে ইহুদিরা যখন ফিলিস্তিন থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল, তখন সমগ্র বিশ্বের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ঐশী সত্তা অ-ইহুদি বিশ্বের পাপাচারে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রবাসের সিনাগগ ও ইয়েশিবাগুলোতে লুকিয়ে ছিল। এখন পুরো বিশ্বকে পরিত্রাণ করা হবে : বিশ্বের সব সভ্যতা আমাদের চেতনার রেনেসাঁসে নতুন করে জাগবে। সব বিবাদের অবসান ঘটবে, আমাদের পুনর্জাগরণের ফলে নতুন জন্মের আনন্দে সকল জীবন আলোকিত হবে।’ বস্তুত পরিত্রাণ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছিল। কুক ইতোমধ্যেই তার মনের চোখে দেখতে পেয়েছিলেন যে পুনঃনির্মিত টেম্পল বিশ্বের কাছে ঐশী সত্তাকে প্রকাশ করছে :

    এখানে টেম্পল তার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, সব মানুষ আর রাজ্যের সম্মান ও গৌরব নিয়ে। এবং এখানে আমরা আমাদের সামনে আনন্দ-ভূমির বয়ে আনা ফসল আনন্দচিত্তে গ্রহণ করি, এই আনন্দ-ভূমির শস্য ও মদে পরিপূর্ণ আমাদের মদ্য প্রস্তুত করার যন্ত্রের চমৎকারিত্বে আমাদের হৃদয় খুশি হয় এবং এখানে আমাদের আগে আবির্ভূত হয়েছিলেন টেম্পলের প্রভু, ইসরাইলের ঈশ্বরের পুরোহিত, পবিত্র-মানব ও দাসেরা।

    .

    এটি সুদূরের কোনো স্বপ্ন ছিল না : ‘আমরা অদূর ভবিষ্যতেই প্রভুর পর্বতের ওপর তাদেরকে আবার দেখতে পাব, এবং প্রভুর এসব পুরোহিতকে এবং তাদের পবিত্র উপাসনা দেখে এবং তাদের চমৎকার সঙ্গীত শুনে আমাদের হৃদয় ফুলে ওঠবে। অবশ্য জেরুসালেমের ফিলিস্তিনি মুসলিমদের মধ্যে বিপুল আনন্দ বয়ে আনার কোনো স্বপ্নাবিভাব ছিল না। রাব্বি কুক তার জীবদ্দশায় পাগলাটে ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কেবল আমাদের সময়েই তার ধারণাগুলো কার্যকারিতাসহ পূর্ণ স্বীকৃতি পেয়েছে।

    হার্বার্ট স্যামুয়েলের উত্তরসূরি হিসেবে নিযুক্ত হন লর্ড প্লামার, ১৯২৫ সালে। তার আমলে ফিলিস্তিন ছিল আপত দৃষ্টিতে শান্তিপূর্ণ। ইহুদি সম্প্রদায় বা ইউশুব ম্যান্ডেটের অধীনে একটি সমান্তরাল রাষ্ট্র নির্মাণে ব্যস্ত ছিল। তার ছিল নিজস্ব সেনাবাহিনী (হাগানা), কিবুতজিম ও বাণিজ্যিক ইউনিয়নগুলোর (হিসতাদরুথ) সমন্বয়ে একটি পার্লামেন্টারি সংস্থাও ছিল। তাদের নিজস্ব করব্যবস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপারি অনেক শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও দাতব্য সংস্থাও ছিল। জিওশ এজেন্সি (পশ্চিম জেরুসালেমের রেহাভিয়ায় ছিল এর সদরদফতর) ব্রিটিশ সরকারের কাছে ইউশুভের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্বশীল সংস্থায় পরিণত হয়েছিল। আরবরা ছিল অনেক কম সংগঠিত। জায়নবাদের বিরোধিতা প্রশ্নে হোসাইনি ও নাশাশিবি উপদলের উত্তেজনায় তারা বিভক্ত ছিল। অবশ্য জায়নবাদী-আরব সঙ্ঘাতের উভয় পক্ষেই চরমপন্থীরা ক্রমাগত গুরুত্ব পাচ্ছিল। তারা আর বর্তমান অবস্থাকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত ছিল না। চরমপন্থী জায়নবাদীরা ভ্লাদিমির জ্যাকোতিনস্কির আদর্শে আকৃষ্ট হয়েছিল। আর মুফতি তার অনুসারীদেরকে ব্রিটিশদের সাথে সহযোগিতা বন্ধ করতে আহ্বান জানাচ্ছিলেন।

    সঙ্ঘাতটি উভয় জনগোষ্ঠীর গভীরতম আকাঙ্ক্ষার প্রতীক বিবেচিত নগরী জেরুসালেমে নতুন ও মর্মান্তিক অধ্যায়ের সৃষ্টি করে। ব্রিটিশদের আগমনের পর থেকে আরবেরা ওয়েস্টার্ন ওয়ালের প্রতি ইহুদিদের ভক্তিতে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেছিল। ঊনিশ শতকে মন্টেফিওর ও রথচাইল্ড উভয়ে প্রার্থনার এলাকাটি কেনার চেষ্টা করেছিলেন। ১৯১৮ সাল থেকে মুসলিমেরা লক্ষ্য করেছিল যে ইহুদিরা তাদের উপাসনাকালে চেয়ার, বেঞ্চ, পর্দা, টেবিল ও স্কুলসহ বেশি বেশি আসবাবপত্র নিয়ে আসছে। মনে হতে থাকে উসমানিয়া আমলের স্থিতিবস্থার যে ব্যবস্থা করা হয়েছিল, সেটি লঙ্ঘন করে তারা সেখানে একটি সিনাগগ নির্মাণ করতে যাচ্ছে। মুফতি তার অনুসারীদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জায়নবাদীরা হারামের নিয়ন্ত্রণ লাভ করার পরিকল্পনা করছে। তিনি প্রাচীরে ইহুদিদের এসব কার্যক্রমকে বড় ধরনের উদ্যোগের আগে ছোট পরিবর্তন হিসেবে অভিহিত করেন। গোলযোগ ঘটে ১৯২৮ সালের যম কিপুরের প্রাক্কালে। জেরুসালেমের জেলা কমিশনার অ্যাডওয়ার্ড কি রোচ পুলিশপ্রধান ডগলাস ডাফকে নিয়ে পুরনো নগরীতে হাঁটছিলেন। তানজিকিয়া মাদরাসায় মুসলিম শরিয়াহ কোর্টে তাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তারা নিচে ইহুদি উপাসনা অনুষ্ঠানের দিকে তাকালে রোচ লক্ষ করেন যে প্রার্থনার সময় নারী ও পুরুষদের আলাদা করার জন্য একটি বেডরুমের পর্দা ব্যবহার করা হয়েছে। কক্ষে থাকা মুসলিম আলেমরা এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, রোচ তাদের সাথে একমত হয়ে বলেন যে এটি স্থিতিবস্থার লঙ্ঘন। পর দিন ছিল যম কিপুর। পর্দা সরিয়ে ফেলার জন্য পুলিশ পাঠানো হয়। তারা উপস্থিত হয়েছিল উপাসনার সবচেয়ে ভাবগম্ভীর সময়ে। এ সময় নীরব উপাসনায় নিশ্চল অবস্থায় দাঁড়িয়েছিল উপাসনাকারীরা। উপাসনা শেষ হয়ে হওয়ার সাথে সাথেই সংবেদনহীনভাবে পুলিশ পর্দা সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে। স্পষ্টভাবে অশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করায় ইহুদিরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। ফিলিস্তিনজুড়ে ইউশুভ ক্রুদ্ধভাবে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ঈশ্বর অবমাননার অভিযোগ আনে।

    মুফতি এখন নতুন প্রচারণা শুরু করলেন। তিনি জোর দিয়ে বলতে থাকেন যে স্থিতিবস্থা কঠোরভাবে পালন করতে হবে। প্রাচীরটি হারামের অংশ, এটি ইসলামি ওয়াকফের সম্পত্তি। এটি সেই স্থান যেখানে মুহাম্মদ (সা.) নৈশ সফরে বোরাককে বেঁধেছিলেন। ইহুদিদের উচিত হবে না আসবাবপত্র এনে কিংবা সোফার বাজিয়ে হারামে মুসলিমদের নামাজে বিঘ্ন ঘটিয়ে স্থানটিকে তাদের সম্পত্তি বিবেচনা করার মতো আচরণ করা। তারা ছিল যন্ত্রণাদগ্ধ। মুফতি ভক্তিকেন্দ্রিক আক্রমণও শুরু করেন। কাছেই ছিল একটি সুফি খানকাহ। হঠাৎ করেই জিকিরের শব্দ খুবই বেড়ে গেল, আর তা বিশৃঙ্খল বলে মনে হলো। প্রাচীরে ইহুদিরা যখন উপাসনা করত, ঠিক তখনই মোয়াজ্জিনেরা আজান দিতে লাগলেন। সবশেষে সুপ্রিম মুসলিম কাউন্সিল উপাসনা স্থানটির উত্তর দিকের প্রাচীর খুলে দিলো যাতে ওই রাস্তাটির অস্তিত্ব আর না বোঝা যায়। এতে করে পুরোটিই হারামের প্রান্ত দেশের সাথে মাগরিবি এলাকাকে সংযুক্ত হয়ে যায়। আরবরা ইহুদিদের উপাসনার সময় সেখান দিয়ে পশু নিয়ে যেত, সাবাতের সময় দেখিয়ে দেখিয়ে সিগারেট ধরাত। স্বাভাবিকভাবেই ইউশুভের, সেক্যুলার ও ধর্মীয়- সব ইহুদিই, বিশেষ করে ব্রিটিশেরা এই নীতিগর্হিত কাজগুলোকে অনুমোদন করায় অব্যাহতভাবে ক্রুদ্ধ ও অসন্তুষ্ট হচ্ছিল।

    জুরিখে ১৯২৯ সালের গ্রীস্মে হয় ১৬তম জায়নবাদী সম্মেলন। প্রথম দিনে জ্যাবোটিনস্কি জ্বালাময়ী বক্তৃতায় জর্ডানের উভয় তীরে ইহুদি রাষ্ট্র (হোমল্যান্ড নয়) প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। সম্মেলনে উদারপন্থী জায়নবাদীদের মাধ্যমে তার প্রস্তাবটি বড় ব্যবধানে বাতিল হয়ে যায়। তবে আরবেরা এই ঘটনায় অত্যন্ত সতর্ক হয়ে যায়। তারপর এভের নবম দিনে (১৫ আগস্ট) জ্যাবোটিনস্কির তরুণ শিষ্যদের একটি গ্রুপ জেরুসালেমে ম্যান্ডেটরি অফিসের বাইরে বিক্ষোভ করে। তারপর তারা ওয়েস্টার্ন ওয়ালে গিয়ে ইহুদি জাতীয় পতাকা দোলায়, মৃত্যু পর্যন্ত তারা প্রাচীরটি রক্ষা করার সংকল্প ব্যক্ত করে। উভয় পক্ষে উত্তেজনা বাড়ে। পর দিন জুমার নামাজের সময় আরবরা হারামে সমবেত হতে শুরু করে। মুফতির কয়েকজন সমর্থক প্রাচীরে ইহুদি উপাসনালয়ের দিকে ছুটল। এবার পুলিশ দাঙ্গা দমন করে। তবে পরে একটি মর্মান্তিক ঘটনা বড় ধরনের সঙ্ঘাতের সূচনা করে। এক ইহুদি বালকের বল আরবদের একটি বাগানে পড়েছিল। এ নিয়ে দস্তাদস্তির একপর্যায়ে ছেলেটি মারা যায়। তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় জায়নবাদীরা ক্রুদ্ধভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। ২২ ও ২৩ আগস্ট ফিলিস্তিনি কৃষকেরা লাঠি ও ছুরি নিয়ে জেরুসালেমে আসে। কারো কারো কাছে আগ্নেয়াস্ত্র পর্যন্ত ছিল। ক্রোধ প্রশমিত করতে মুফতি কিছুই করলেন না। ওই শুক্রবারের জুমার খুতবায় আসলে উস্কানিমূলক কিছু বলেননি। কিন্তু তবুও নামাজের পর উত্তেজিত জনতা হারাম থেকে ছুটে গিয়ে সামনে যে ইহুদিই পড়েছে, তাকেই আক্রমণ করেছে। আবারো এ ধরনের ঘটনায় প্রতিশোধ নেওয়ার অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায় ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। লর্ড প্লামার ব্রিটিশ পুলিশ সদস্য কমিয়ে দিয়েছিলেন। তারা এখন এই সঙ্কট যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে পারছিল না। পুরো ফিলিস্তিনে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ ১৩৩ জন ইহুদি নিহত ও ৩৩৯ জন আহত হয়। ব্রিটিশ পুলিশ ১১০ আরবকে হত্যা করে। তেল আবিবের কাছে ইহুদি পাল্টা হামলায় নিহত হয় আরো ছয় আরব।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য গ্রেট ট্রান্সফর্মেশন : আমাদের ধর্মীয় ঐতিহ্যের সূচনা – ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    Next Article স্রষ্টার জন্য লড়াই : মৌলবাদের ইতিহাস – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    Related Articles

    ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    আ হিস্ট্রি অফ গড – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    August 4, 2025
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    ইসলাম : সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    August 4, 2025
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    পুরাণ : সংক্ষিপ্ত ইতিহাস – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    August 4, 2025
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    বুদ্ধ – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    August 4, 2025
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    স্রষ্টার জন্য লড়াই : মৌলবাদের ইতিহাস – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    August 4, 2025
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    দ্য গ্রেট ট্রান্সফর্মেশন : আমাদের ধর্মীয় ঐতিহ্যের সূচনা – ক্যারেন আর্মস্ট্রং

    August 4, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অসম্পূর্ণ বই
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026
    Our Picks

    রুদ্রসমগ্র – রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ

    January 8, 2026

    রান্না খাদ্য পুষ্টি – সিদ্দিকা কবীর

    January 8, 2026

    শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন

    January 8, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }