Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জোছনা ও জননীর গল্প – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প608 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪৪. কাঁদছে আমাদের বাংলাদেশ

    ঢাকা শহরে আজ শাহেদের শেষ রাত্রিযাপন।

    সে মনস্থির করে ফেলেছে ভোরবেলা কুমিল্লা রওনা হবে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আসমানীর দাদার বাড়ি। শাহেদ সেখানে কখনো যায় নি। তাতে সমস্যা নেই। খুঁজে বের করতে পারবে। আসমানীর দাদা তার গ্রামের প্রভাবশালী মানুষ ছিলেন। তিনি রেঙ্গুনে ব্যবসা করতেন বলে গ্রামের বাড়ি রেঙ্গুন বাড়ি নামে পরিচিত। আসমানীর দাদার নাম শাহেদের মনে নাই। রেঙ্গুন বাড়ি নাম মনে আছে। শাহেদের ধারণা রেঙ্গুন বাড়িতে উপস্থিত হলেই সে একসঙ্গে সবার দেখা পাবে।

    কুমিল্লার পাশেই আগরতলা। এমনও হতে পারে সবাই বাড়িঘর ছেড়ে আগরতলা চলে গেছে। সে-রকম হলে শাহেদও আগরতলা যাবে। শরণার্থী শিবির ঘুরে ঘুরে দেখবে। এতগুলি মানুষ হারিয়ে যেতে পারে না।

    আবার এটাও হতে পারে শাহেদ যেদিন রওনা হবে, সেদিন দুপুরে বা সন্ধ্যায় আসমানীরা এসে উপস্থিত হবে। আসমানী যেন তার খোঁজ পায়, সে ব্যবস্থাও শাহেদ করেছে। বাথরুমের আয়নায় একটা চিঠি বুলিয়ে রেখেছে। চিঠিতে লেখা–

    আসমানী,

    তুমি যদি এই চিঠি পড়, তাহলে ধরে নিও আমি এখনো নিরাপদে আছি। আমি তোমাদের খোঁজ বের করার চেষ্টায় ঢাকা ছেড়েছি। আমাকে নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে না। একটা বড় বিপদ বারবার আসে না। কাজেই ধরে নাও আমি নিরাপদেই থাকব। তুমি আমার জন্যে এই বাড়িতেই অপেক্ষা করবে। রান্নাঘরে চাল, ডাল, আটা এবং তেল রেখে দিয়েছি। ডালের কোটা ভালোমতো দেখবে।

    ইতি

    শাহেদ

    ডালের কোটা সে আন্ডারলাইন করে দিয়েছে। ডালের কোটায় ডালের নিচে টাকা রাখা আছে। আসমানী হয়তো খালিহাতে উপস্থিত হবে। তার টাকার দরকার হবে।

    শাহেদের নিজের টাকা এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। সে চলছে গৌরাঙ্গের টাকায়। গৌরাঙ্গের কোনো খোঁজ নেই। গৌরাঙ্গের খোঁজ বের করার জন্যে সে ভয়ে ভয়ে একদিন পুরনো ঢাকায় গিয়েছিল। গৌরাঙ্গের বাড়ি তালাবন্ধ। শাহেদ দরজার নিচ দিয়ে একটা চিঠি দিয়ে এসেছে। সেই চিঠি পড়লে গৌরাঙ্গ অবশ্যই তার সঙ্গে দেখা করত। বোঝাই যাচ্ছে গৌরাঙ্গ চিঠি পায় নি।

    শাহেদের কুমিল্লায় যাবার ব্যাপারে তার অফিসের বি হ্যাপী স্যার অনেক সাহায্য করেছেন। এই অফিসে আইডেনটিটি কার্ডের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তিনি আইডেনটিটি কার্ড ছাপিয়ে, ছবি লাগিয়ে সব কর্মচারীকে দিয়েছেন। শাহেদের জন্যে আলাদা যে কাজটা করেছেন তা হলো–এক কর্নেল সাহেবের দেয়া পাশের ব্যবস্থা করেছেন। সেই পাশে লেখা–শাহেদুদিন নামের এই লোক খাঁটি পাকিস্তানি। তাকে যেন কোনো হ্যারাসমেন্ট না করা হয়। বি হ্যাপী স্যারের কিছু কথা শাহেদের কাছে অদ্ভুত মনে হয়েছে। এই অবাঙালি মানুষ শাহেদকে তার খাসকামরায় নিয়ে দরজা বন্ধ করে নিচু গলায় বলেছেন, আমি ঠিক করেছি। মুক্তিযোদ্ধা হবো। আমার বয়স যুদ্ধে যাবার মতো না। তারপরেও চেষ্টা করছি। যোগাযোগ বের করতে পারছি না। তবে পারব।

    শাহেদ বলেছে, আপনি যুদ্ধ করবেন কেন?

    বি হ্যাপী স্যার বলেছেন, কেন করব না বলো? আমি এই দেশে পথের ফকির হয়ে ঢুকেছিলাম। এই দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করে আমি অবস্থার পরিবর্তন করেছি। আজ আমার বাড়ি আছে, গাড়ি আছে, ব্যাংকে টাকা আছে। যে দেশ আমাকে এত কিছু দিয়েছে, সেই দেশকে আমি কিছু দেব না?

    আপনার ফ্যামিলি? তারা কি আপনার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানেন?

    জানে। তারা পাকিস্তান চলে গেছে। তাদের চিন্তা ভিন্ন। প্রত্যেকেই প্ৰত্যেকের মতো চিন্তা করে।

    শাহেদ বলল, স্যার, আপনার কি মনে হয় দেশ স্বাধীন হবে?

    হবে। পাকিস্তানিদের দিন শেষ হয়ে আসছে। তারা মেয়েদের উপর অত্যাচার করছে। নারীদের উপর অত্যাচার আল্লাহ পছন্দ করেন না। যাই হোক, তুমি যাও। স্ত্রী-কন্যার খোঁজ বের করো। যে চিঠিটা তোমাকে জোগাড় করে দিয়েছি, সেই চিঠি তাবিজের মতো যত্ন করে রাখবে। বিপদে কাজে দিবে। বি হ্যাপি ম্যান। বি হ্যাপি।

     

    ঢাকা থেকে বের হবার মুখে বেশ কিছু চেকপোস্ট পার হতে হয়। রাজাকারদের চেক পোস্ট, পশ্চিমা পুলিশের চেক পোস্ট। সবশেষে সেনাবাহিনীর চেক পোস্ট। সব জায়গায় ডান্ডি কার্ড দেখাতে হয়। ডান্ডি কার্ড দেখার পর চলে ব্যাগ সুটকেস, তল্লাশী। একজন এসে ঘাড় টিপে দেখে ঘাড় নরম না শক্ত। ঘাড় শক্ত হলে পলাতক বাঙালি পুলিশ বা বিডিআর। রাইফেল কাঁধে ট্রেনিং-এর ফলে ঘাড় শক্ত হয়ে গেছে।

    সবচে অপমানসূচক পরীক্ষাটা হলো খৎনা পরীক্ষা। প্যান্ট খুলে দেখাতে হয়। সত্যি খৎনা আছে কি-না! পশ্চিম পাকিস্তানি পুলিশরা এই পরীক্ষাটার সময় বেশ আনন্দ পায়। নানান ধরনের রসিকতা করে। হেসে একে অন্যের গায়ে সঁড়িয়ে পড়ার মতো অবস্থা হয়।

    শাহেদকে এই পরীক্ষাও দিতে হলো। প্যান্ট-আন্ডারওয়ার খুলতে হলো। যে পরীক্ষা নিচ্ছে, তার হাতে অর্ধেক লাল অর্ধেক নীল রঙের মোটা একটা পেন্সিল। সে পেন্সিল দিয়ে খোঁচার মতো দিল; মনে হচ্ছে এই খোঁচা দেয়াতেই তার আনন্দ।

    নাম বলো।

    শাহেদ।

    কিধার যাতা?

    কুমিল্লা চৌদ্দগ্ৰাম।

    ইধার যাতা কেউ?

    মেরা পিতাজি বিমার। হাম মিলনা চাতে হে।

    শাহেদ যে অসুস্থ পিতাকে দেখার জন্যেই যাচ্ছে, এটা দেখানোর জন্যে সে সঙ্গে একটা ঠোংগায় আঙ্গুর, আপেলও নিয়েছে। শাহেদ ফলের ঠোংগা দেখাল। তার ভাগ্য ভালো কর্নেল সাহেবের পাশ ছাড়াই সে বাসে উঠার সুযোগ পেল। কয়েকজন ছাড়া পায় নি, আটকা পড়ে আছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তারা হয়তো ছাড়া পাবে, হয়তো পাবে না। অনিশ্চয়তা। The day and nights of uncertainity.

    মেঘনা ফেরিতে উঠার সময় আবারো চেকিং। এবার চেক করতে এসেছে মিলিটারিরা। বোরকা পরে যে সব মহিলা এসেছেন, তাদেরও নেকাব খুলে মুখ দেখাতে হচ্ছে। তারা যে আসলেই জেনানা, মিলিটারি সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে চায়। যে মিলিটারির দায়িত্ব পড়েছে মহিলাদের চেক করা, সে ভদ্র। সবাইকেই বলছে, ডরো মৎ। তোম মেরা বহিন হ্যায়।

    শাহেদের জীবনের অতি বিস্ময়কর ঘটনার একটি ফেরিতে ঘটল। সে এক ঠোংগা ঝালমুড়ি কিনেছে। সারাদিন কিছু খাওয়া হয় নি, ক্ষিধেয় নাড়িতুড়ি জ্বলে যাচ্ছে। ঝালমুড়ি খেয়ে ক্ষিধেটা কোনোমতে চাপা দেয়া। সে যখন মুড়ি মুখে দিতে যাচ্ছে, তখনই রুনির বয়েসি ভিখিরী ধরনের এক মেয়ে ঝাঁপ দিয়ে তার গায়ে পড়ল। তার ঝাপ্টায় হাতের মুড়ির ঠোংগা পড়ে গেল।

    শাহেদ মেয়েটিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে তুই কে বলে চিৎকার করতে গিয়ে থমকে গেল। এই মেয়ে তার অতি পরিচিত। এর নাম কংকন। মেয়েটার নিজের নাম কংকন বলতে পারে না। সে বলে ককন।

    তুমি? তুমি কোথেকে? তোমার মা কোথায়? তোমার দাদু কোথায়?

    মেয়েটি কোনো প্রশ্নেরই জবাব দিচ্ছে না। শাহেদের পায়ে ক্ৰমাগত মুখ ঘষছে।

    কংকন আমার কথা শোন, এইখানে তুমি কার সঙ্গে এসেছ?

    মেয়েটা এই প্রশ্নেরও উত্তর দিল না। শাহেদকে ঘিরে ছোটখাটো একটা ভিড় জমে গেল।

    কংকন এখানে কার সঙ্গে এসেছে, সেই রহস্য ভেদ হলো। তার নাম রমজান। সে বাডডায় রং মিস্ত্রির কাজ করে। সে শাহেদকে পেয়ে পরম স্বস্তিবোধ করছে এটা বোঝা যাচ্ছে। ঘটনা হলো, ক্র্যাকডাউনের পর সে তার ছোটশালাকে নিয়ে বুড়িগঙ্গা পার হয়ে ওপারে চলে গিয়েছিল। সে একা না, তার সঙ্গে শত শত মানুষ। তখন মিলিটারি শুরু করল বোম্বিং। যে যেখানে পেরেছে, দৌড় দিয়ে পালিয়েছে। অবস্থা কিছুটা যখন শান্ত, তখন সে দেখে এই মেয়ে তার সঙ্গে। মেয়ে তার সার্ট ধরে আছে। কিছুতেই সার্ট ছাড়ে না।

    বুঝছেন ভাইসব, মেয়ে কিছুই বলতে পারে না। বাপ-মায়ের নাম জানে। বাপ-মায়ের নাম দিয়া আমি কী করুম কেন? আমার দরকার ঠিকানা। আমি রঙ মিস্ত্রি। কাজকর্ম নাই–খায়া না-খায়া আছি। এরে পালিব ক্যামনে?

    শাহেদ বলল, এখন যাচ্ছেন কোথায়? আমার বড়শালার বাড়িতে। সে বিবাহ করেছে মাইজদি। সেখানে তার দোকান আছে। ঠিক করেছিলাম তার কাছে মেয়েটারে রাইখা আসব। আল্লাহপাক আপনেরে মিলায়ে দিয়েছে। যন্ত্রণা ঘাড় থাইক্যা নামছে। ভাইজান, আপনে তার কে হন?

    আমি তার চাচা।

    আলহামদুলিল্লাহ, থাকেন এখন চাচায়-ভাইস্তিতে।

    কংকন এখনো খামচি দিয়ে শাহেদের পা ধরে আছে। কিছুতেই মুখ তুলছে না। বারবার তার ছোট্ট শরীর কোপে কেঁপে উঠছে। শাহেদ তার পিঠে হাত রেখে বলল, কংকন ভয় পেও না। আমি তোমাকে তোমার বাবা-মার কাছে নিয়ে যাব। কংকন, ঠিক আছে?

    হুঁ।

    ক্ষিধে লেগেছে? কিছু খাবে? কলা খাবে? কলা কিনে দেই, একটা কলা খাও?

    হুঁ।

    শাহেদ কলা কিনে কংকনের হাতে দিতে গিয়ে দেখল, মেয়েটা ঘুমিয়ে পড়েছে। তার গা গরম। জ্বর এসেছে। ঘুমের মধ্যে বমি করে সে শাহেদের প্যান্ট ভিজিয়ে দিল।

     

    কংকনের সঙ্গে আমার দেখা হয় নিউইয়র্কে। মুক্তধারার বিশ্বজিৎ আমাকে বইমেলায় নিয়ে গেছে। বাংলাদেশের প্রবাসী বাঙালিরা বইমেলা উপলক্ষে খুব হৈচৈ আনন্দ কবছে। খাবারের দোকান বসেছে। একদিকে ভিডিও প্রদর্শনী, বড় প্রজেকশন টিভিতে নাটক দেখানো হচ্ছে। শাড়ি-গয়নার দোকানও আছে। অতি জমজমাট অবস্থা। এর মধ্যে ত্রিশ-পঁয়ত্ৰিশ বছরের অতি রূপবতী এক তরুণী এসে পুরো বাঙালি কায়দায় আমাকে পা ছুঁয়ে সালাম করল। আমি চমকে পা সরিয়ে নিলাম।

    তরুণী বলল, আপনাকে চাচা ডাকব, না স্যার ডাকব?

    আমি বললাম, তোমার যা ডাকতে ইচ্ছা করে ডাক।

    তাহলে চাচা ডাকি। স্যার ডাকলে মনে হবে। আপনি সত্যি আমার স্যার। এক্ষুনি আমাকে ধমক দেবেন। তাছাড়া আপনার চেহারাও রাগী রাগী।

    তরুণীর গুছিয়ে কথা বলার ভঙ্গি বেশ ভালো লাগল। সে বলল, আমি আপনাকে আমার বাসায় নিয়ে যাব। আপনি তো লেখক মানুষ, আপনাকে সুন্দর একটা গল্প শুনাব।

    আমি বললাম, শোনা গল্প আমি লিখি না।

    সে বলল, আমার গল্পটা আপনার লিখতে ইচ্ছা করবে। এই নিয়ে আমি আপনার সঙ্গে এক হাজার ডলার বাজি রাখতে পারি।

    মেলা শেষ করে আমি কংকনের সঙ্গে তার অ্যাপার্টমেন্টে গেলাম। নিউ ইয়র্কের অ্যাপার্টমেন্টগুলি যেমন হয় সেরকম। ছোট কিন্তু খুব গোছানো। এক কথায় বললে বলতে হবে, ছবির মতো সাজানো সংসার। কংকন বিয়ে করেছে এক আমেরিকানকে। সে কনস্ট্রাকশান ফার্মে চাকরি করে। তাদের একটা ছেলেও আছে। ছেলের নাম রবিন। তবে তাকে ডাকা হয় রবি নামে। ছেলে তার বাবার সঙ্গে লায়ন কিং ছবি দেখতে গিয়েছে। কংকন বলল, আপনি থাকতে থাকতেই ওরা এসে পড়বে। আমরা একসঙ্গে ডিনার করব।

    আমাকে ডিনার পর্যন্ত থাকতে হবে?

    অবশ্যই। তবে আপনার ভয় নেই–বাংলাদেশের মতো রাত দশটায় ডিনার না। এখানে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই ডিনার করা হয়। আপনি যেভাবে পা তুলে বসেন, সেইভাবে আরাম করে বসুন, আমি গল্প করি।

    আমি পা তুলে বসি তুমি জানো কীভাবে?

    বইমেলায় দেখলাম। আপনাদের লেখকদেরই শুধু পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা থাকবে, আমাদের পাঠকদের থাকবে না?

    আমি নরম সোফায় পা তুলে বসেছি। কংকন গল্প শুরু করেছে।

    খুব ছোট ছিলাম তো, পরিষ্কার কিছু মনে নেই। আবছা আবছা সব স্মৃতি। সেই আবছা স্মৃতির মধ্যেও কিছু কিছু আবার খুবই স্পষ্ট। যেমন ধরুন, আমার খুব স্পষ্ট মনে আছে–শাহেদ চাচা বাজারের মতো একটা জায়গায় আমাকে গোসল করাচ্ছেন। মাথায় পানি ঢালছেন কেতলি দিয়ে। সেই পানিটা গরম। কিছুক্ষণ মাথায় পানি ঢালেন, তারপর গায়ে সাবান ডলেন। সাবান থেকে লেবুর মতো গন্ধ আসছিল— এটা পরিষ্কার মনে আছে। সেই স্মৃতি এমনভাবে মাথায় ঢুকে আছে যে আমি এখনো লেমন ফ্লেভারের সাবান ছাড়া অন্য সাবান ব্যবহার করি না।

    শাহেদ চাচা আমাকে নতুন জামা কিনে দিলেন। জুতা কিনে দিলেন। সস্তা ধরনের প্লাস্টিকের পুতুল কিনে দিলেন। পুতুলটা এখনো আমার সঙ্গে আছে। আপনাকে দেখােব। আমরা এক রাত থাকলাম হোটেলে। চাচাকে জড়িয়ে ধরে কী আরাম করে যে সেই হোটেলে ঘুমালাম! আমি ঠিক করেছি। যদি কোনোদিন বাংলাদেশে যাওয়া হয়, তাহলে হোটেলটা খুঁজে বের করব। এক রাত থাকব সেই হোটেলে।

    হোটেল খুঁজে বের করতে পারবে?

    অবশ্যই পারব। হোটেলটি দাউদকান্দি নামের এক জায়গায়। টিনের ঘর। হোটেল থেকে নদী দেখা যায়। হোটেলের সব খুঁটিনাটি আমার মনে আছে।

    তারপর বলো।

    আমার স্পষ্ট মনে আছে, মাইলের পর মাইল শাহেদ চাচা আমাকে ঘাড়ে নিয়ে হেঁটেছেন। আমরা তখন বর্ডার ক্রস করছি। বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছি আগরতলায়। চাচা ক্লান্ত হয়ে যান। আমাকে ঘাড় থেকে নামিয়ে বলেন, মা, কিছুক্ষণ হাঁটতে পারবে? আমি বলি, হ্যাঁ। আমি হাঁটতে পারি না। চাচা আবার আমাকে ঘাড়ে তুলে নেন। আমার কোনো কষ্ট হচ্ছিল না। আমার খুবই মজা লাগছিল। আমাদের সঙ্গে আরো অনেক লোক যাচ্ছিল। একজন বৃদ্ধা মহিলা যাচ্ছিলেন। তাঁর ছেলে তাকে কোলে করে নিচ্ছিল।

    বৃদ্ধ মহিলার কথা তোমার মনে আছে?

    জি আমার মনে আছে। কারণ শাহেদ চাচা আমাকে বলছিল–ছেলে তার মাকে কোলে করে নিয়ে যাচ্ছে। আর আমি আমার মাকে ঘাড়ে করে নিয়ে যাচ্ছি। মজা না?

    তারপর কী হলো বলো।

    আমরা আগরতলা পৌঁছলাম সন্ধ্যায়। সেখান থেকে শরণার্থী শিবিরে ট্রাকে করে যেতে হয়। ট্রাকে ওঠার সময় শাহেদ চাচা বললেন, মা শোন, অনেকগুলো শিবির আছে। আমরা তোমার মাকে প্রত্যেকটা শিবিরে খুঁজব। তাকে পাওয়া যাবে–সে সম্ভাবনা খুবই কম। পাওয়া না গেলে তুমি মন খারাপ করবে না। আমি তো তোমার সঙ্গে আছি! আমি যেভাবেই হোক তোমাকে তোমার মার কাছে পৌঁছে দেব। ঠিক আছে মা? আমি বললাম, ঠিক আছে।

    ট্রাকে আমার জ্বর এসে গেল। চাচা চাদর দিয়ে আমাকে ঢেকে জড়িয়ে ধরে বসে রইলেন। আমার কাছে মনে হচ্ছিল, আমি যেন আমার মাকে জড়িয়ে ধরে আছি। মজার ব্যাপার কী জানেন? প্ৰথম শরণার্থী শিবিরেই আমার মা এবং দাদকে পাওয়া গেল বলো কী? জি। তবে আমাদের দেখা হওয়ার কোনো স্মৃতি আমার মাথায় নেই। শুধু মনে আছে আমার মা, দাদু আর শাহেদ চাচা তিনজনেই খুব কাদছিলেন। শাহেদ চাচার কান্না দেখে আমার খুবই মজা লাগছিল। আমি তাকিয়েছিলাম শাহেদ চাচার দিকে।

    কংকন কাঁদছে! প্ৰথমে নিঃশব্দে কাদছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুহাতে মুখ ঢেকে শব্দ করে কাঁদতে শুরু করল। অ্যাপার্টমেন্টের বেল বাজছে। হয়তো কংকনের স্বামী তার সন্তানকে ছবি দেখিয়ে ঘরে ফিরেছে। কংকন দরজা খোলার জন্যে এগিয়ে যাচ্ছে না। সে প্ৰাণপণ চেষ্টা করছে নিজের কান্না থামাতে।

    রোরুদ্যমান তরুণীর দিকে তাকিয়ে হঠাৎ আমার মনে হলো, কংকন কাঁদছে না। কাঁদছে আমাদের বাংলাদেশ। আমাদের জননী।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅয়োময় – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article রূপালী দ্বীপ – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }