Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    জোছনা ও জননীর গল্প – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প608 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৫৩. রফিকের নাম মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাতেও নেই

    নাইমুল বসে আছে টিবির মতো উঁচু একটা জায়গায়। উঁচু থেকে সমতল ভূমির অনেকখানি দেখা যায়। চারদিকে বা বা করছে রোদ। সে বসেছে ছায়ায়। তার মাথার উপর ছাতিম গাছের বড় বড় পাতা ছায়া ফেলে আছে। এই অঞ্চলে ছাতিম গাছের ছড়াছডি। কেউ নিশ্চয়ই হিসাব-নিকাশ করে ছাতিম গাছ লাগায় নি। আপনা-আপনি হয়েছে। গত সপ্তাহে সে যেখানে ছিল, সেখানে আবার শিমুল গাছের মেলা। একটু পরপর শিমুল গাছ। বসার জন্যে শিমুল গাছ ভালো না, গাছ ভর্তি কাটা। গাছে হেলান দিয়ে বসা যায় না। ছাতিম গাছে হেলান দেয়া যায়। তবে ছাতিম গাছ শব্দহীন বৃক্ষ। বড় বড় পাতা বলেই বাতাসে পাতা কাপার শব্দ হয় না।

    নাইমুলের পরনে সেলাইবিহীন সবুজ রঙের লুঙ্গি। লুঙ্গির নিচে হাফপ্যান্ট আছে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে হাফপ্যান্ট ভালো পোশাক। তবে হাফপ্যান্ট পরে চলাচল সম্ভব না। লোকজন প্ৰথম দেখাতেই চিনে ফেলবে। সেলাইবিহীন লুঙ্গিটার প্রয়োজন এইখানেই। অপারেশনের সময় টান দিয়ে খুলে ফেলা যায়। তার গায়ে কালো রঙের হাফ হাতা গেঞ্জি। গেঞ্জির উপর ময়লা সুতি চাদর। কাধে ঝুলানো স্টেইনগান লুকিয়ে রাখার জন্য এই গরমে সুতি চাদর গায়ে রাখতে হচ্ছে। স্টেইনগান নাইমুলের পছন্দের অস্ত্র না। তার সীমা পঞ্চাশ গজ। শত্রুর পঞ্চাশ গজের ভেতরে যাওয়া গেরিলাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হয়ে উঠে না।

    নাইমুল পা ছড়িয়ে হেলান দিয়ে বসেছে। তার পায়ের কাছে যে বসে আছে তার নাম রফিক। বসেছে ব্যাঙের মতো। দেখলেই মনে হয় লাফ দেবে। বয়স ত্ৰিশ-পয়ত্রিশ। ব্যাঙের মতোই বড় বড় চোখ; সামান্য উত্তেজিত হলেই চোখ কোটির থেকে বের হয়ে আসতে চায় এমন অবস্থা।

    রফিক বিরাট গল্পবাজ। পরিচয়ের পর থেকেই সে বিরামহীন কথা বলে যাচ্ছে। নাইমুল কী বলছে না বলছে সে বিষযে তার আগ্রহ নেই। তার কথা বলাতেই আনন্দ।

    স্যার, আপনে মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার?

    নাইমুল হাই তুলতে তুলতে বলল, হুঁ। গেরিলাদের প্রধান ট্রেনিং তাদের পরিচয় গোপন রাখা। নাইমুল সেদিক দিয়ে গেল না। প্রয়োজন মনে করল না।

    শম্ভুগঞ্জের ব্রিজ উড়াইতে আসছেন? আপনের খবর আছে।

    খবর আছে কী জন্যে?

    আপনের আগে আরো তিন পার্টি আসছে। সব ঝাঁঝরা। মেশিনগানের গুল্লি ছুটাইয়া ঝাঁঝরা কইরা দিছে।

    তুমি মেশিনগান চেন?

    চিনব না কী জন্যে? মায়ের কোলের নয়া আবুও অখন মেশিনগান চিনে। মর্টার চিনে। পিকেওয়ান চিনে।

    পিকে ওয়ানটা কী?

    রফিক চোখ পিটপিট করে তাকাচ্ছে। লোকটা বলছে সে মুক্তিবাহিনীর কমান্ডার অথচ পিকেওয়ান চেনে না! নাকি লোকটা তাকে খেলাচ্ছে? কেউ তাকে নিয়ে খেলালে রফিকের ভালো লাগে না।

    স্যার, আপনের হাতিয়ার কই?

    আছে, সবই আছে।

    রাখছেন কই?

    জেনে কী করবে? শান্তি কমিটির কাছে খবর দিবে?

    এইটা কী কন?

    এই অঞ্চলে শান্তি কমিটি নাই?

    শান্তি কমিটি থাকব না–এইটা কেমন কথা! অবশ্যই আছে। আগের চেয়ারম্যান সাব মুক্তির হাতে মারা পড়ছে। নতুন আরেকজন হইছে চেয়ারম্যান। তারে মারবেন? বাড়ি চিনি। আপনেরে নিয়া ম্যাব?

    নাইমুল বলল, চা খাওয়াতে পারবে?

    রফিক বিস্মিত হয়ে বলল, এই মাঠের মধ্যে চা কই পামু? সেটাও একটা কথা। চেয়ারম্যান সাবের বাড়িতে চলেন, চা খাইয়া আসবেন। তার বাড়িতে চায়ের আয়োজন আছে। আপনে মুক্তির কমান্ডার শুনলে লুঙ্গির মধ্যে পিসাব কইরা দিবে। এমন ডরাইল্যা।

    চেয়ারম্যান সাহেবের নাম কী?

    হাশেম চেয়ারম্যান। বউ দুইটা। ভাটি অঞ্চল থাইক্যা এক বউ আনছে, খুবই সুন্দর। তয় চরিত্রে দোষ আছে। সবেই জানে।

    নাইমুল আবার হাই তুলল। টেনশনের সময় তার ঘনঘন হাই ওঠে। এর কারণটা তার কাছে স্পষ্ট না। মানুষের হাই ওঠে অক্সিজেনের অভাব হলে। টেনশনের সময় কি তার শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়? ব্ৰেইন প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন নিয়ে নেয় বলেই কি এই ঘাটতি?

    নাইমুলের টেনশনের প্রধান কারণ, তার দলের কারোরই কোনো খোঁজ নেই। গতকাল ভোরে PEK1 (Plastic Explosive) এসে পৌঁছানোর কথা। সঙ্গে থাকবে ফিউজ, কর্ডেক্স, ডিটেনেটর। প্লাস্টিক এক্সপ্লোসিড খুব কম হলে পঁচিশ পাউন্ড লাগবে। পঁচিশ পাউন্ডের কমে ব্রিজের সম্প্যান ভাঙা যাবে না। এখন দুপুর। তারা আসবে নৌকায়। এই অঞ্চলে নৌকায় চলাচল এখনো নিরাপদ। মিলিটারি গানবোট বা লঞ্চ নিয়ে নদীতে নামে নি। তারা শুকনা অঞ্চলেই ঘোরাফেরা করছে। তার প্রধান কারণ পানি হয় নি। ছোট ডিঙ্গি টাইপ নৌকা বা খুন্দাই (তালগাছের নৌকা) ভরসা! মিলিটারিরা এত ছোট জলযানে উঠবে না।

    দলটিা কোনো বিপদে পড়ে নি তো? এখন সময় এমনই যে হুট করে বিপদ নেমে আসে। আগে থেকে কিছুই বোঝা যায় না।

    রফিক ঝুকে এসে বলল, কমান্ডার সাহেবের নাম কী?

    আমার নাম নাইমুল।

    সকাল থাইক্যা এই জায়গায় বসা। এর কি কোনো ঘটনা আছে?

    নাইমুল আবারো হাই তুলতে তুলতে বলল, কোনো ঘটনা নাই। ছায়ায় বসছি। ছায়া মূল ঘটনা না। নৌকা এখানেই আসবে। ছাতিম গাছ দেখে তালা নৌকা ভেড়াবে। তাছাড়া এখান থেকে ডিসট্রিক্ট বোর্ডের সড়কের অনেকখানি চোখে পড়ে। এই সড়কে মিলিটারির চলাচল কী রকম সেটা দেখাও উদেশ্য।

    রফিক বলল, রইদ চড়া উঠছে। কমান্ডার সাব দেন একটা ছিরগেট, টান দিয়া দেখি কী অবস্থা। আপনের আগে যে কমান্ডার সাব আসছিল, আমারে আস্তা এক প্যাকেট ছিরাগেট দিয়েছিলেন। বিরাট কইলজার মানুষ ছিলেন।

    নাইমুল সিগারেট দিল। রফিক আগ্রহের সঙ্গে সিগারেট টানছে। কায়দা করে নাকে-মুখে ধোঁয়া ছাড়ছে। নাইমুলের ধারণা ব্যাঙ-টাইপ এই লোক সিগারেটের আশায় বসে ছিল। আশা পূর্ণ হয়েছে, এখন সে হেলতে দুলতে চলে যাবে। লোকজন জোগাড় করে মুক্তিবাহিনীর কমান্ডারের গল্প করবে। যুদ্ধের কারণে বিচিত্র সব মানুষের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছে। লেখক হলে বাকি জীবন সে এইসব চরিত্র নিয়ে লেখালেখি করে কাটিয়ে দিতে পারত।

    কমান্ডার সাব, আপনে কোন বাহিনী? মুজিববাহিনী?

    নাইমুল বলল, তুমি মুজিববাহিনীও চেন?

    চিনব না কেন? একেক বাহিনীর একেক কায়দা। মুজিববাহিনীর ট্রেনিং ভালো। অস্ত্ৰ-শস্ত্ৰ ভালো। অন্য বাহিনীর সাথে তারার বনে না।

    ভালো কারা?

    সবই ভালো। মিলিটারি মারা দিয়া কথা। কী কন কমান্ডার সাব?

    হুঁ।

    শান্তি মারলেও লাভ আছে, তয় শান্তি দেশের মানুষ–এইটা বিবেচনায় রাখতে হয়। আপনে কী কন?

    নাইমুল নিজে একটা সিগারেট ধরাল। হিসাবের সিগারেট। দ্রুত শেষ করা ঠিক হবে না। রফিকের সিগারেট খাওয়া দেখে তার খেতে ইচ্ছা করছে।

    আগের শান্তি চিয়ারম্যান ক্যামনে মারা পড়ছে সেই গল্প শুনবেন?

    না।

    আমগাছের সাথে নিয়া যখন বানছে, তখন পেসাব পায়খানা কইরা ছেড়াবেড়া। এমন কান্দন শুরু করল যে কইলজার মধ্যে ধরে। আমি মুক্তি হইলে দিতাম। ছাইড়। বলতাম, তোর শাস্তি নিজের গু নিজে চাটা দিয়া খাবি। জানে মারনের চেয়ে এই শাস্তি ভালো, কী কন কমান্ডার সাব? গু খাওয়া সহজ ব্যাপার না। নিজের গু হইলেও না।

    নাইমুল জবাব দিল না। জবাব দেবার প্রয়োজনও নেই। রফিক এই ধরনের মানুষ যে জবাবের অপেক্ষা করে না। নতুন গল্প শুরু করে। রফিক তার সিগারেটে শেষ লম্বা টান দিয়ে বলল, নতুন চিয়ারম্যান সাবের দিনও শেষ। মুক্তি যখন আইসা ঢুকে, তখন তারা আর কিছু করতে পারুক না পারুক শান্তির লোকজন মারে।

    আর কিছু করে না?

    নাহ্‌।

    মিলিটারি মারতে পারে না?

    সত্য কথা বলতে কী পারে না। পাক মিলিটারি তো ঘুঘু পাখি না। গুলাইল

    দিয়া মারবেন। পাক মিলিটারি কঠিন জিনিস। সাক্ষাৎ আজরাইল। এরার শইল্যে ভয় ডর বইল্যা কিছু নাই।

    পাক মিলিটারি দেখেছ?

    দেখব না। কী জন্যে? একবার মাথাত কইরা তারার গুলির বাক্স নিয়া গেছি। খেতে কাম করতেছিলাম, ডাক দিয়া আইন্যা আমারে আর পুব পাড়ার ফজলু ভাইয়ের মাথাত তুইল্যা দিল গুলির বাক্স। আরো বাপ রে–ওজন কী! দুই দিন ছিল ঘাড়ে ব্যথা। কমান্ডার সাব আরেকটা সিগারেট দেন।

    আর তো সিগারেট দেয়া যাবে না।

    তাইলে উঠি। আপনের সাথে গফ কইরা মজা পাইছি।

    উঠতে পারবে না। যেখানে বসেছিলে সেখানে বসে থাকো। গল্প করতে চাও গল্প করো। উঠার চিন্তা বাদ দাও।

    রফিক বিস্মিত হয়ে তাকাল। মুক্তিদের হাবভাব বোঝা মুশকিল। এতক্ষণ এই কমান্ডার নরম-সরম গলায় কথা বলেছে। এখন তার গলা কঠিন। চোখের দৃষ্টিও ভালো না।

    আমার একটা কাজ ছিল কমান্ডার সাব।

    কাজ থাকলেও বসে থাকো; তোমাকে আমি ছেড়ে দেব। আর তুমি সারা অঞ্চলের মানুষকে বলে বেড়াবে মুক্তি ঢুকেছে, তা হবে না। তাছাড়া তোমাকে আমার দরকায়।

    কী জন্যে দরকার?

    শান্তিবাহিনীর চেয়ারম্যান সাহেবের বাড়ি চিনায়ে দিবে। আমি বাড়ি চিনি না। আরো খোঁজ খবর দিবে। শম্ভুগঞ্জ ব্রিজ কি মিলিটারি পাহারা দেয়?

    আমি জানব ক্যামনে? আমি কি ব্রিজের উপরে দিয়া হাটি? রেলগাড়ি চলাচলের পুল। মাইনষের হাঁটার পুল না।

    রাজাকাররা থাকে কোথায়?

    থানা কম্পাউন্ডে থাকে।

    তারা মোট কয়জন?

    আমি কি গুইন্যা দেখছি? রাজাকারের হিসাব নেওনের ঠেকা আমার নাই।

    রফিক উসখুসি করছে। নাইমুল কড়া গলায় বলল, নড়াচড়া করবে না।

    নড়াচড়াও করতে পারব না–এইটা কেমন কথা?

    নাইমুল গায়ের চাদরটা সামান্য উঠিয়ে কাঁধে ঝুলালো চাইনিজ স্টেইনগান দেখিয়ে দিল। রফিক নড়াচড়া বন্ধ করে স্থির হয়ে গেল। তার চোখ কোটির থেকে সামান্য বের হয়ে এলো। মিলিটারিদের যেমন বিশ্বাস নাই, মুক্তিরও বিশ্বাস নাই। হুট করে কী করে বসে না বসে তার নাই ঠিক।

    নাইমুল বলল, রাজাকার কমান্ডারের নাম কী?

    জয়নাল।

    জয়নালের বাড়ি তো তুমি চেন। চেন না?

    জি চিনি।

    সে বাড়িতে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আসে না? চব্বিশ ঘণ্টা সে নিশ্চয়ই থানা কম্পাউন্ডে থাকে না।

    জয়নাল ভাইরে কি গুল্লি করবেন?

    জানি না করব কি-না। করতেও পারি।

    জয়নাল ভাই বৈকালে ছুলুর স্টলে চা খাইতে যায়। একলা যায় না। সাথে সব সময় এক দুইজন থাকে। যন্ত্রপাতি থাকে।

    থাকুক।

    গুল্লি কোন খানে করবেন? চায়ের স্টলে করবেন না দূরে নিয়া করবেন?

    দেখি কী করা যায়। কমান্ডার সাব, আমার বিরাট পেসাব চাপছে। পেসাব করন দরকার। ক্ষেতের আইলে বইস্যা পেস্যাব কইরা আসি।

    নাইমুল হাই তুলতে তুলতে বলল, পেসাব এই খানেই করো। নিচে নামার দরকার নাই।

    আপনের সামনে পেসাব করব?

    উল্টা দিকে ফির। উল্টা দিকে ফিরে পিসাব করো। জায়গা থেকে নড়বে না।

    কমান্ডার সাব, আমি কিন্তু জয় বাংলার লোক।

    এই জন্যেই তো তোমাকে পাশে বসিয়ে রেখেছি। আমার জয় বাংলার লোকই দরকার।

    এই খানে কতক্ষণ বইস্যা থাকবেন?

    নাইমুল আরেকটা সিগারেট ধরাতে ধরাতে বলল, জানি না।

    রফিক বলল, পুরাটা শেষ কইরেন না। আমি দুইটা টান দিব। ইন্ডিয়ান ছিদ্রগেটের মজাই আলাদা।

    নাইমুল তাকে আস্ত একটা সিগারেট দিল।

    রফিক বলল, ফাইটিং কি আইজ রাইতেই হইব?

    হুঁ।

    আফনের লোকজন কই?

    আমার দলে লোক কম। আমরা মোটে দুইজন।

    আরেকজন কে?

    আরেকজন তুমি। তোমাকে গ্রেনেড মারা শিখায় দিব। পারবে না?

    রফিকের ঠোঁট থেকে জ্বলন্ত সিগারেট পড়ে গেল। সে মনে মনে বলল, ভালো পাগলের হাতে পড়ছি।

    গ্রেনেড নিশ্চয়ই চেন। সব অস্ত্রপাতির নাম তুমি জান, গ্রেনেডের নাম জানবে না তা হয় না। লোহার বল।

    গ্রেনেড চিনি। গ্রেনেড আছে দুই পদের। ভালটার নাম এনেগ্রা গ্রেনেড। বন্দুকের নলে লাগাইয়া মারতে হয়।

    তোমাকে ঐ গ্রেনেড দেব না। তোমাকে যে গ্রেনেড দেব সেখানে একটা পিন থাকে। দাঁত দিয়ে টান দিয়ে পিন খুলতে হয়। পিন খোলার পরে ছুঁড়ে মারতে হয়।

    রফিক বিড়বিড় করে বলল, ভাইজান আমার দাঁতে অসুবিধা আছে। দাঁত পোকায় খাওয়া। এই দেখেন।

    সে দাঁত বের করে দেখাল। নাইমুল সহজ গলায় বলল, এই দাঁতেও চলবে।

    বিকাল পর্যন্ত নাইমুলের দলের লোকজন কেউ এসে পৌঁছল না। এদের কি সমস্যা সেটাও জানার উপায় নেই। সে কি তাদের জন্যে অপেক্ষা করবে না। ফিরে যাবে তাও বুঝতে পারছে না।

    দলের লোকজন কি ধরা পড়ে গেছে? ধরা পড়ার সম্ভাবনা কম, তবে একেবারেই যে নেই তা না। গত মাসে শেরপুরের জহুকান্দিতে কাদের মিয়ার পুরো দল ধরা পড়েছিল। তারা ভুল যা করেছে তা হলো আয়োজন করে খাওয়াদাওয়া করতে গেছে। যে বাড়িতে তারা উঠেছিল, সেই বাড়ির কর্তা মুক্তিবাহিনী দেখে আবেগে উচ্ছসিত হয়ে ছিলেন। সন্ধ্যাবেলায় খাসি জবাই করা হয়েছে তাদের খাওয়ানোর জন্যে। পোলাও রান্না হয়েছে। খাসির মাংস রান্না হতে সময় লাগছিল। এই সময়ই কাল হলো। মিলিটারি বাড়ি ঘিরে ফেলল। ট্রেনিং ক্যাম্পে গেরিলা যুদ্ধেয় নিয়ম কানুন ব্যাখ্যা করতে করতে এক পর্যায়ে বলা হতো–আর যাই হও খাসি কাদের হয়ো না।

    কাদের দুর্দান্ত সাহসী যোদ্ধা ছিল। সামান্য ভুলের জন্যে তার নাম হয়ে গেল খাসি কাদের। তার বীরত্বের কথা সবাই ভুলে গেল। শুদ্ধ কাজের জন্যে মানুষ মানুষকে মনে রাখে না। মানুষ মনে রাখে তাদের অশুদ্ধ কাজের জন্যে। কাদেরের নাম হওয়া ছিল বীর কাদের অথচ তার নাম হয়ে গেল খাসি কাদের।

     

    কমাণ্ডার সাব?

    হুঁ।

    আমার কপালে একটু হাত দিয়া দেখেন।

    কেন?

    জ্বর আসছে। আমার কেঁথার তলে যাওন দরকার। আমার শ‍ইলের অবস্থাটা একটু বিবেচনা করেন।

    নাইমুল আবারো বলল, হঁ।

    রফিক বলল, উঠি কমান্ডার সাব?

    নাইমুল বলল, উঠার চিন্তা বাদ দাও। তোমাকে পাঠাব ব্রিজের কাছে রাজাকারদের যে আউট পোস্ট আছে সেখানে।

    লাখ টকা দিলেও আমি এর মধ্যে নাই। ভুইল্যা যান।

    ভুলে যাব কেন?

    ব্রিজ পাহারা দেয় কালা মিলিটারি। এরা সাক্ষাৎ যম।

    কালো পোশাক পরা মিলিশিয়া?

    মিলিশিয়া কি-না জানি না, এরা যে আসল যম এইটা জানি। এরার ছায়া দেখলেও মৃত্যু।

    নাইমুল দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল, উঠ।

    কই যাব?

    কালা মিলিটারির ছায়া দেখে আসি।

    আসমানের দিকে চাইয়া দেখছেন আসমানের অবস্থা। দেওয়া নামতাছে।

    নাইমুল আকাশের দিকে তাকাল। ঘন হয়ে মেঘ করছে। আকাশের ঘন কালো মেঘ সৌভাগ্যের লক্ষণ। মেঘ-বৃষ্টিতে মিলিটারিরা অভ্যস্ত না। তারা তখন কোঠারে ঢুকে থাকে। তাদের কাছে বজের গর্জনকে কামানের শব্দ বলে মনে হয়। মেঘ ডাকলেই তাদের কলিজা কঁপে। এমন ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে দলের লোকজন থাকলে ভালো হতো। ব্রিজের ব্যবস্থা করে ফেলা যেত। দলে নাসিম আছে। প্লাস্টিক এক্সপ্লোসিডের বিষয়ে অতি এক্সপার্ট। ছোটখাটো মানুষ, মনে হয়। হাঁটতে জানে না–লাফিয়ে লাফিয়ে চলে। তাকে আদর করে ডাকা হয় মিস্টার প্ৰিং।। দলে আছে সুন্নত মিয়া। তাকে সুন্নত মিয়া ডাকলে সে রাগ করে। তাকে ডাকতে হয় গৌরনদীর সুন্নত। এই বিশেষ নামে তাকে কেন ডাকতে হয়— নাইমুল এখনো জানে না। অসীম সাহসী যুবক। প্রতিটি অপারেশনের পর সে গভীর ক্ষোভের সঙ্গে বলে, শহিদ হওয়ার শখ ছিল, হইতে পারলাম না। আফসোস। দেখি পরেরবার পারি কি-না। গ্রেনেডের থলি নিয়ে সে মাটিতে শুয়ে সাপের মতো ভঙ্গিতে আগায়। ক্রলিং-এর সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। শত্রুর খুব কাছাকাছি গিয়ে নির্বিকার ভঙ্গিতে গ্রেনেড চার্জ করে। বিড়বিড় করে বলে, যারে পক্ষী যা। জায়গা মতো যা। তার পক্ষী বেশির ভাগ সময়ই জায়গা মতো যায়। সুন্নতের হাতের জোর অসম্ভব। গ্রেনেড থ্রোয়ারে গ্রেনেড পঞ্চাশ গজ পর্যন্ত যায়। সে হাতে ছুঁড়েই চল্লিশ গজ পর্যন্ত পাঠাতে পারে।

    সন্ধ্যায় সন্ধ্যায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলো। বৃষ্টি মাথায় নিয়ে খোলা নৌকায় নাইমুলের দল চলে এলো। আনন্দে দাঁত বের করে রফিক হেসে ফেলে বলল, এই তো আপনে আপনের লোক পাইছেন। আমারে বিদায় দেন। ছিরগেটে টান। দিতে দিতে বাড়িত গিয়া ঘুমাই। নাইমুল বলল, যেখানে আছ সেখানে থাক। নড়বে না। অনেক কথা বলেছি। আর কোনো কথাও না।

    দলটা ক্ষুধার্ত, ক্লান্ত ও অবসন্ন; নাইমুল বলল, অপারেশনের শেষে আমরা খুব আরাম করে খাওয়া-দাওয়া করব। অপারেশনের আগে কোনো খাওয়া নাই। আমি সব রেকি করে রেখেছি। একটা গাইডও আমার সঙ্গে আছে। রফিক নাম।

    রফিক সঙ্গে সঙ্গে বলল, এইটা ভুইল্যা যান কমান্ডার সাব। আমি আপনারার সাথে নাই। নতুন বিবাহ করে করেছি। ঘরে আমার কাঁচা বউ।

    নাইমুল বলল, কাঁচা বউ পাকা বউ যাই থাকুক, তুমি আছা সঙ্গে। এখন তোমরা সবাই আমার প্ল্যান অব অ্যাকশান শোন। আমি পুরো ব্যাপারটা অন্যরকমভাবে সাজিয়েছি। মন দিয়ে শুনতে হবে। পরিকল্পনার পরিবর্তন হবে। না। আমি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কিছু ঠিক করি না। এইসব সিদ্ধান্ত তর্কবিতর্কে ঠিক করা যায় না। ব্রিজ পাহারা দেয় ছয় থেকে সাতজন রাজাকারের একটা দল। মাঝে মধ্যে তাদের সঙ্গে দুজন মিলিশিয়া থাকে। আজ তারা নেই।

    প্ৰথমে আমরা তাদের কাছে খবর পাঠাব—আজ ভোররাতে ব্রিজ উড়ানো হবে। খবরটা বিশ্বাসযোগ্য হবে কারণ খবরটা সত্যি। ব্রিজ আমরা আজ রাতেই উড়াব। খবর শোনার পর এরা যা করবে তা হচ্ছে হয় সবাই মিলে থানায় মিলিটারির কাছে খবর দিতে যাবে। অথবা একদল যাবে আরেকদল ব্রিজ পাহারা দেয়ার নামে থাকবে। যারা থাকবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের পালিয়ে যাবার কথা। যদি পালিয়ে না যায় ভায়ের চোটে ফাঁকা গুলি করতে থাকবে।

    একই সঙ্গে আমরা থানায় খবর পাঠাব। যে ব্রিজ অ্যাটাক করা হবে। খবর পাঠানো হবে স্থানীয় শান্তি কমিটির চেয়ারম্যানের মাধ্যমে। থানার মিলিটারিরা ব্রিজ রক্ষার জন্যে একদল মিলিটারি পাঠাবে। তাদের রুট একটাই ডিসট্রিক্ট বোর্ডের সড়ক। আমাদের দলটা তিন ভাগ হবে। এক ভাগ সড়কে মিলিটারিকে অ্যাম্বুশ করবে। এক ভাগ যাবে ব্রিজে, আর এক ভাগ থানা অ্যাটাক করবে। থানা অ্যাটাকে আমরা এনেগ্রা গ্রেনেড ব্যবহার করব। এসএমজি থাকবে ব্রিজের উপরে। এখন ঠিক করি কে কোন দিকে থাকবে। তার আগে শুনতে চাই কেউ কিছু কি বলবে?

    রফিক প্রথম কথা বলল, তার কথা দুই শব্দের, আমারে খাইছে রে।

    রফিকের কথার পর পর মিস্টার স্প্রিং বলল, চিড়ামুড়ি যাই হোক, কিছু মুখে দিতে হবে।

    ঝড়-বৃষ্টি যেমন আচমকা এসেছিল সে রকম আচমকা চলে গেল। রাত নটার দিকে মেঘের ফাকে চাদ দেখা গেল! চাদের আট তারিখ। চাঁদের আলো তেমন জোরালো না আবার খারাপও না। গৌরনদীর সুন্নত বলল, মেঘের মধ্যে জোছনা খারাপ জিনিস। এই জোছনায় ভূত দেখা যায়। আমি মিলিটারি ভয় পাই না। ভূত ভয় পাই।

     

    শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হাশেম সাহেব যখন ঘুমুবার আয়োজন করেছেন, তখন তাঁর বাড়ির উঠানে কুকুর ডাকতে লাগল। কুকুরের ডাকের সঙ্গে মনে হলো, অনেক লোকজনও হাঁটাহাঁটি করছে। হাশেম চেয়ারম্যান ভীত গলায় বললেন, কে?

    রফিক বলল, চেয়ারম্যান সাব আমি রফিক। উত্তরপাড়ার রফিক।

    কী চাও?

    একটু বাইর হন। মুক্তির কমান্ডার সাব আসছেন। হাশেম চেয়ারম্যান একা বের হলেন না, তার সঙ্গে বিশাল বাড়ির কয়েকটা দরজা এক সঙ্গে খুলে গেল। মেয়েদের কান্নাকাটি শুরু হয়ে গেল। এর মধ্যে একটি মেয়ে বেশ রূপবতী। সেই মনে হয় হাশেম চেয়ারম্যানের–ভাটি অঞ্চলের স্ত্রী।

    হাশেম চেয়ারম্যানের হাতে টর্চলাইট। গায়ে হাতকটা পাঞ্জাবি। পরনে লুঙ্গি। তার কাছে মনে হচ্ছে লুঙ্গির আঁট নরম হয়ে এসেছে, যে-কোনো সময় লুঙ্গি খুলে পড়ে যাবে। তিনি এক হাতে লুঙ্গি ধরে আছেন। আরেক হাতে টর্চ। তিনি ভীত গলায় বললেন, কে কে?

    নাইমুল বলল, আমরা মুক্তিবাহিনীর। আপনি ভালো আছেন?

    হাশেম চেয়ারম্যান জড়ানো গলায় বললেন, জি ভালো আছি। জি ভালো আছি।

    নাইমুল বলল, ভয় পাচ্ছেন নাকি?

    হাশেম চেয়ারম্যান তার জবাবে কাশতে শুরু করল। মেয়ে মহলে কান্নার শব্দ আরো জোরালো হলো। একজন বৃদ্ধা মহিলা ছুটে এসে হাশেম চেয়ারম্যানের হাত ধরল। সম্ভবত চেয়ারম্যান সাহেবের মা। বৃদ্ধ ফোঁপাতে ফোপাতে বললেন, বাবারা আমার একটা কথা শোন।

    নাইমুল বলল, আপনি ভয় পাবেন না। আমি কখনো বাঙালি মারি না। কান্না বন্ধ করেন।

    সব মহিলার কান্না একসঙ্গে থেমে গেল। নাইমুল শান্ত গলায় বলল, আমার ছেলেরা এখানে এসেছে রেলের পুল উড়ায়ে দিতে। তারা এই কাজটা শেষ করে আপনার এখানে খানা খাবে।

    হাশেম চেয়ারম্যান বলল, অবশ্যই, অবশ্যই। অবশ্যই খানা খাবেন। অবশ্যই।

    গরম ভাত করবেন। ঝাল দিয়ে মুরগির সালুন।

    বৃদ্ধ বললেন, বাবারা পোলাও করি?

    করতে পারেন। অনেক দিন পোলাও খাওয়া হয় না।

    হাশেম চেয়ারম্যান বলল, আপনারা ঘরে এসে বসেন। চা খান, চা বানাতে বলি।

    নাইমুল বলল, চা খাব না। আমরা এখন ব্রিজের কাছে যাব। আপনাকে একটা কাজ করতে হবে।

    কী কাজ?

    আপনি থানায় যাবেন। থানায় গিয়ে মিলিটারি কমান্ডারকে বলবেন। মুক্তিবাহিনী ঢুকেছে। তারা ব্রিজ উড়াতে এসেছে। যা সত্য তাই বলবেন। ব্রিজ উড়াবার পর আপনার বাড়িতে যে পোলাও মুরগির মাংস খাব তাও বলতে পারেন, অসুবিধা নাই।

    বৃদ্ধ বললেন, আমার ছেলে কোনোখানে যাবে না। তোমরা ফাঁকি দিয়া তারে ঘর থাইক্যা বাইর করতোছ। টাকা-পয়সা কী চাও বলো দিতাছি। সিন্দুকে স্বর্ণের অলঙ্কার আছে। অলঙ্কার নিবা?

    নাইমুল বলল, বুড়িমা, আপনি যদি আপনার ছেলেকে বাঁচিয়ে রাখতে চান, তাহলে আমি যা বলছি তা করুন। আমি কথা চালাচালি পছন্দ করি না। একেবারেই করি না।

    রফিক বলল, চাচিআন্মা, আমরার কমান্ডার সাব এককথার মানুষ। উনার কথা না শুনলে বিপদ আছে।

    নাইমুল রফিকের দিকে তাকিয়ে বলল, তুমি যাবে ব্রিজে। রাজাকার গ্রুপকে ব্রিজ উড়িয়ে দেয়ার খবর দিবে। তুমি কাজটা ঠিকমতো করছি কি-না তা দেখার জন্যে আড়াল থেকে তোমার পিছনে পিছনে আমাদের একজন যাবে। বেতালা কিছু সন্দেহ হলেই সে গুলি করবে। বুঝতে পারছি?

    রফিকের মুখ হা হয়ে গেল। চোখ কোটর থেকে আরো খানিকটা বের হয়ে এলো।

     

    গেরিলা অপারেশনে বেশিরভাগ সময় দেখা যায় যা ভাবা গিয়েছিল তা হয় না। তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়। সব সময় যে সিদ্ধান্ত পাল্টাবার সুযোগ পাওয়া যায় তাও না। একটা মাঝারি আকৃতির দল কয়েকটা ভাগে ভাগ হয়ে গেল, তারা একত্রিত হবার সুযোগই পায় না।

    এই ক্ষেত্রে বিস্ময়করভাবে সব কিছু হলো নাইমুলের পরিকল্পনা মতো। রাজাকারদের দল ব্রিজ আক্রমণ হবে খবর পাওয়া মাত্র থ্রি নট থ্রি রাইফেল রেখে পালিয়ে গেল।

    থানা কম্পাউন্ড থেকে আটজন মিলিটারির একটা ছোট্ট দল গেট থেকে বের হয়ে আবার ঢুকে পড়ল।

    নাইমুলের কাছে রাখা গ্রেনেড থ্রোয়ার ঠিকমতো কাজ করল। রাইফেলের নল থেকে দশ-বার গজ দূরে গিয়ে ফাটল না। পর পর দুটা এনেগ্রা গ্রেনেড দেয়াল ফুটো করে ভেতরে ঢুকে গেল।

    রাস্তার পাশে অ্যাম্বুশ করে রাখা দলটাকে নাইমুল ঠিক সময়ে থানার দুই দিকে জড় করতে পারল।

    মিলিটারির অতি ক্ষুদ্র দলের কাছেও লাইট মেশিনগান থাকে। থানা থেকে লাইট মেশিনগানের কোনো গুলি এলো না। হয় তাদের এলএমজিতে কোনো সমস্যা হয়েছে। কিংবা তাদের গানার নেই।

    থেমে যাওয়া বৃষ্টি আবারো শুরু হলো। ঘনঘন বাজ ডাকতে লাগল। থানা কম্পাউন্ডের ভেতরের একটা তালগাছে বাজ পড়ল। সেই শব্দ হলো ভয়াবহ। মিলিটারিরা এই বজ্ৰপাতকে অবশ্যই কামানের আক্রমণ ধরে নিল। তারা গুলিবর্ষণ বন্ধ করল। বাঁশের মাথায় সাদা কাপড় ঝুলিয়ে তারা আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত করল।

    নাইমুলের দল গুলিবর্ষর্ণ বন্ধ করুল (নাইমুল শান্ত কিন্তু উন্ন গলায় বলল, Hello Come out. We have stopped firing. মাত্র পাঁচজন মিলিটারির ছোট্ট একটা দল হাত উঁচু করে বের হয়ে এলো। তাদের সঙ্গে আছে তিনজন পাকিস্তানি পুলিশ। তাদের পেছনে থানার ওসি। নাইমুল উঠে এলো থানা কম্পাউন্ডের পাকা বারান্দায়। থানার ওসির দিকে তাকিয়ে বলল, ওসি সাহেব ভালো আছেন?

    হতভম্ব ওসি বলল, জি স্যার।

    আপনাদের বিশাল পুলিশ বাহিনী স্বাধীনতার জন্যে যুদ্ধ করছে আর আপনি এদের হয়ে কাজ করছেন–এটা কেমন কথা? আপনি একটা কাজ করুন মিলিটারিদের বেঁধে ফেলুন।

    জি স্যার।

    এরা সংখ্যায় এত কম কেন? বেশি থাকার কথা না?

    বেশিই ছিল। পরশু সকালবেলা জরুরি ম্যাসেজ পাঠিয়ে নিয়ে গেছে।

    এখানে ওয়্যারলেস আছে?

    জি স্যার আছে।

    থানা যে অ্যাটাক হয়েছে সেই ম্যাসেজ কি গেছে?

    জি না।

    যায় নাই কেন?

    অপারেটর নাই স্যার।

    মিলিটারিদের বেঁধে সঙ্গে করে নিয়ে ব্রিজের কাছে যান। ব্রিজ উড়ানোর ব্যাপারে সাহায্য করুন।

    জি স্যার।

    নাইমুল মিলিটারি ক্যাপ্টেনের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় ইংরেজিতে বলল, তোমরা আত্মসমর্পণ করেছ। জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী তোমাদের দেখা আমার দায়িত্ব। সমস্যা হচ্ছে আমরা একটা গেরিলা ইউনিট। দেশের ভেতর ঘুরে ঘুরে কাজ করি। তোমাদের সঙ্গে করে নিয়ে ঘোরা আমার পক্ষে সম্ভব না। ইচ্ছা থাকলেও সম্ভব না; তাছাড়া আমাদের মুক্তিবাহিনীর অনেক সদস্য তোমাদের হাতে ধরা পড়েছে। তাদের প্রত্যেককে তোমরা ফায়ারিং স্কোয়াডের কাছে পাঠিয়েছ। তোমাদের বেলাতেই বা অন্যরকম হবে কেন?

    হাশেম চেয়ারম্যান অত্যন্ত বিস্মিত হয়ে দেখলেন মুক্তিযোদ্ধার দলটা ফজরের আগে আগে তাঁর বাড়িতে খেতে এলো। দলের কমান্ডার খাবার সময় বিনীত গলায় বাড়ির মহিলাদের কাছে কাঁচামরিচ চাইল। এই ভদ্ৰ-বিনয়ী ছেলে নাকি কিছুক্ষণ আগে পাঁচজন মিলিটারি, তিনজন পশ্চিম পাকিস্তানি পুলিশকে ব্রিজের উপর থেকে গুলি করে পানিতে ফেলে দিয়েছে।

    রফিক গোলাগুলি শুরু হওয়া মাত্র পালিয়ে গিয়েছিল। খাওয়া-দাওয়ার সময় সে আবারও উপস্থিত হলো এবং অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে খাওয়ার তদারকি করতে লাগল। একবার শুধু ফাঁক পেয়ে নাইমুলকে বলল, স্যার, যতদিন জীবন আছে আমি আপনার সাথে আছি। আর আপনেরে ছাইড়া যাব না। ভয় পাইয়া দৌড় দিছিলাম। আমি গু খাই।

    রফিক তার কথা রেখেছিল। কাঁচপুর অপারেশনে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সে নাইমুলের সঙ্গেই ছিল। সে খুব ভালো এসএমজি চালাতে শিখেছিল। কাঁচপুর অপারেশনে গুলিবিদ্ধ হবার পর থেকে জীবনের শেষমূহুর্ত পর্যন্ত সে এসএমজিতে গুলিবর্ষণ করেছিল বলেই নাইমুল তার দল নিয়ে পালাতে পেরেছিল। একই ধরনের বীরত্ব দেখিয়েছিলেন আরেকজন। তিনি সিপাহি মোস্তফা কামাল। গঙ্গাসাগর আক্রমণের সময় আমৃত্যু মেশিনগানের গুলিবর্ষণ করে তিনি তাঁর প্লাটুনকে পশ্চাদ অপসারণের সুযোগ করে দেন। তাঁর প্রাণের বিনিময়ে পুরো প্লাটুন রক্ষা পায়। সিপাহি মোস্তফা কামালকে বীরশ্রেষ্ঠ সম্মানে সম্মানিত করা হয়। রফিকের নাম মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাতেও নেই।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43 44 45 46 47 48 49 50 51 52 53 54 55 56 57 58 59 60 61 62 63 64 65 66 67 68 69 70 71 72
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleঅয়োময় – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article রূপালী দ্বীপ – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }