Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঝড়ের খেয়া – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প272 Mins Read0
    ⤷

    ঝড়ের খেয়া – ১

    এক

    মেয়েটা নিপাট ভিজছিল।

    পেছনে ক্রমশ হাইজ্যাক হয়ে যেতে থাকা ময়দান।

    সামনে গ্র্যান্ড হোটেল, আরও কিছু গ্র্যান্ড দোকান পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত।

    পুব থেকে এক একটা প্রবল অথচ সূক্ষ্মবিন্দু বায়ুতাড়িত বৃষ্টির ঝাপটা আসে, আর সমস্ত জলরঙের ইমপ্রেশনিজম হয়ে যায়।

    অজস্র গাডি, মিনিবাস, সারাই হতে থাকা রাস্তার টিনের উঁচু ঘের, বিপদে পড়া পিঁপড়ের মতো ছত্রভঙ্গ পদাতিকের দল। সমস্তটাই জঙ্গম।

    গাড়িগুলো থেমে আছে। ট্র্যাফিক লাইটে। কিন্তু জঙ্গমতা তাদের যন্ত্র—শরীরে উন্মুখ যেমন উড়ব—উড়ব পাখির শরীরে থাকে।

    একমাত্র স্থাবর বিন্দু কতকগুলো ডাকাতির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে যাওয়া গাছ।

    আর ওই ফুটকি।

    দুটো ঝাপটার হাইফেন—পথে বোঝা যাচ্ছে ওর অঙ্গে সালোয়ার কামিজ। কাঁধে ঝোলা ব্যাগ। বাস। আর কিচ্ছু না এবং কেউ না।

    এত বড় করে ক্যানভাসটা আঁকবার দরকার ছিল না। এক ফুটকি তো একটা মেয়ে! কিন্তু ওই যে টলস্টয় একটা অর্ধসত্য বলে গিয়েছিলেন। মানুষের নাকি সাড়ে তিন হাত জায়গা লাগে। আরে সে তো কফিনের মাপ, শবের মাপ! জীবিত, জ্যান্ত, জিয়ল মানুষকে গোটা পৃথিবীটা ধরে দিলেও অনেক সময়ে কম পড়ে যায়। কার কতটা জায়গা লাগবে বলতে পারে সে যার জায়গা লাগবে, এবং হয়তো আরও ভাল করে সে যে তাকে দেখে, তার প্রয়োজনের চেহারাটা ছবির মতো ফুটে উঠতে দেখে। যেমন আজকে অদিতি দেখছিল। এই হট্টগোলময় কেজো যন্ত্রজগৎ, ওই খাবলা খাবলা ময়দান, রম্য প্রাসাদের এক রাস্তা থেকে আর এক রাস্তা পর্যন্ত বিস্তৃত প্রভুত্ব, জ্যাম—জট, অক্টারলনি—শহীদ মিনার, এই ঝরো ঝরো ঝরিছে—সব সব দরকার ছিল একটা একফোঁটা মেয়ের চুপচাপ নিপাট ভেজার দৃশ্যটা দেখবার জন্য, বোঝবার জন্য।

    স্টিয়ারিং হাতে অদিতির চোখে কেমন একটা ঘোর লেগে যায়। ব্লচ, ব্লচ, ব্লচ, ওয়শ, ওয়শ। প্রায় নীল—সাদার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে প্রায়—সবুজ, প্রায়—ধূসর, প্রায়—সাদা এবং আরও প্রায়—রং। মিশে যাচ্ছে, ধুয়ে যাচ্ছে, তবু থাকছে, ঢেউয়ে ঢেউয়ে অস্থির জলের তলার প্রতিবিম্বের মতো। ওই কম্পমান প্রতিবিম্বের মূল্য যেমন তার উপকরণের মিশ্র—বহুতায়, ঠিক তেমনই ওই একফোঁটা নিশ্চলতায়। ওটাই কেন্দ্রবিন্দু। যদিও সত্যি—সত্যি ও কেন্দ্রে নেই, একটু ডান দিকে সরে আছে। তাতেও ওর কেন্দ্রীয়ত্ব থেকে কিছু কম পড়ছে না।

    হঠাৎ ঘোর কেটে যায়, এক্ষুনি ট্র্যাফিক লাইট বদলাবে। বাঁ দিকের ধোঁয়াটে কাচটা ঝুঁকে পড়ে নামাল সে—তাড়াতাড়ি উঠে এসো, উঠে এসো শিগগিরই।

    ঝাপসা চোখ—মুখ, কেমন, কোথাকার, কী বৃত্তান্ত কিচ্ছু বোঝা যাচ্ছে না। এদিকে ফিরেছে।

    শিগগির উঠে এসো—বিপজ্জনকভাবে দরজা খুলে ধরে অদিতি। সালোয়ার পায়ে সেঁটে গেছে। কাঁধ বেয়ে ভিজে চুল, চুপচুপে। এক পা, দু’পা করে এগিয়ে এল—আমাকে বলছেন?

    —আর কাকে?

    —আমি তো…

    —আগে তো উঠে এসো, তো—টো পরে হবে। কুইক।

    কেমন একটা অগত্যা—ভঙ্গিতে উঠে এল। মোটেই বাব্বাঃ বাঁচা গেল ভঙ্গিতে নয়। খুলে—ধরা দরজাটার বাধ্যতামূলকতার ফাঁদে পড়ে যেন। চালিকার মান রাখতে, বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে। তেমন করে ডাকতে পারলে উঠে আসবেই এই বিশ্বাস।

    আস্তে আস্তে ছাড়ছে, অদিতি প্রস্তুত, সমস্ত মনোযোগ সামনে, কানে এল—আপনার গাড়ি তো নদী হয়ে গেল।

    —তুমি নিজেও তো নদী হয়ে গেছ। ঘাড় না ফিরিয়ে সে জবাব দেয়।

    —সত্যি বলছেন? কেমন একটা খুশির হাসি চমকে উঠল গলা থেকে। ও কি নদী টদি হতে চেয়েছিল নাকি? কোনও কোনও মানুষের আবার মানব—অস্তিত্বকে বড় সীমাবদ্ধ মনে হয়। তারা কেউ রোদ্দুর হতে চায়, কেউ আকাশ হতে চায়, কেউ ঝরনা, এ মেয়েটি তা হলে নদী হতে চাওয়া, সীমাবদ্ধ—মানবতা থেকে মুক্তি পেতে চাওয়া কোনও মানুষ। নাকি অদিতি একটু বেশিই ভেবে ফেলছে।

    —তোমাকে কোথায় নামাব?

    —তুললেন কেন? মানে তুললেনই বা কেন?

    —আচ্ছা—এবার সেন্ট্রাল অ্যাভেনিউয়ের ভেতর ঢুকে পড়া গেছে। অতএব ফিরে তাকাবার একটু অবসর। বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে অল্প বয়সের নিশ্ছিদ্র মসৃণ, শপশপে ভিজে চুল সেঁটে গেছে মাথার সঙ্গে। লেপটে আছে। কানে, কপালে। বেশ লম্বা চুল, তলার দিকটা কেমন কোঁকড়া মতো, এত ভিজেও যখন সোজা হয়নি, তখন পার্লারি নয়।

    —একা একা ভিজছ। আকাশ থেকে তো গোটা গঙ্গা—গোদাবরীই ঢালছে মনে হচ্ছে, তুলব না?

    —বা, বিপদে পড়তে পারেন না?

    —এখনও সন্ধে হতে দেরি। ছেলে—ছোকরাও নয়, তুলতে অসুবিধে কী? পিস্তলধারিণী বালিকা দেখতে আমার এখনও বাকি আছে।

    পাশ থেকে একটা ছোট্ট হাসি এল।

    —কোনও ভদ্রলোকের গাড়িতে উঠতে কিন্তু তোমাকেও ভাবতে হত। অপর পক্ষে ভদ্রলোককেও। এ ক্ষেত্রে সে সব ঝামেলা নেই…যাক তোমাকে কোথায়…।

    —এখানেই নামিয়ে দিন না, একটু বাঁ দিক ঘেঁষে রাখুন…আমি নেমে যাচ্ছি।

    —আশ্চর্য, অমনি তোমার রাগ হয়ে গেল। আমি কি তোমাকে যেখানে—সেখানে নামতে বলেছি। তোমার বাড়ি বা গন্তব্য, যাই হোক, সেখানেই নামাব। এখানে পথের মাঝখানে! বৃষ্টি তো তুমুল।

    —তাতে কী হয়েছে।

    এবার হেসে উঠল, বেশ শব্দটা হাসির। বলল, নামাবেন কোথায়? আমি তো এদিকে থাকিই না!

    —তবে?

    —সাউথে। আপনি নর্থে না ইস্টে?

    —নর্থ। তুমিও তো নর্থের দিকে মুখ করেই দাঁড়িয়েছিলে…যা ভিজেছ এ অবস্থায় বাড়ি ছাড়া আর কিছুর কথা কেউ ভাবে না… ন্যাচারালি…আমিও …

    —আপনি তা হলে বাড়ি ফিরছেন?

    —হ্যাঁ। কেন?

    —যদি অসুবিধে না হয় আপনার বাড়িতে নিয়ে যাবেন?

    ভেতরে ভেতরে খুব চমকে গেল অদিতি। বলে কী? পাগলটাগল নয় তো? কিংবা ডাকাতদলের চর?

    নিজের ভাবনায় অবশ্য নিজেরই হাসি পেয়ে গেল তার।

    পাগল এ নয়। অন্তত পুরো পাগল তো নয়ই। সিকি পাগল হলেও হতে পারে। আর ডাকাতদল? ডাকাতদলের চরণী এমন যোগসাজশ করল যে তাকে গাড়ি থামাতে হল। চরণীর কোনও আবেদন ছাড়াই তাকে তুলতে হল। সে ক্ষেত্রে তো রীতিমতো লং ডিস্ট্যান্স সম্মোহন প্র্যাকটিস করতে হয় এই খুদে ডাকাতকে। নয়তো ম্যাজিক। সেই তাসের খেলা আছে না। তোমাকে যে—কোনও একটা তাস টানতে বলবে। কিন্তু পুশ করার এমনই কায়দা যে ম্যাজিশিয়ানের চেনা তাসটাই তুমি টানবে!

    —তোমার যদি কোনও অসুবিধে না থাকে, আমারও নেই। তবে আমার কিন্তু বাড়ি—ভরতি লোক। একটা বিছানা তোমাকে দিতে পারব, কিন্তু তেমন প্রাইভেসি হয়তো…অনেকের আবার খুব কৌতূহলও।

    আবার একটু ছোট্ট হাসি, বলল, আমার সবকিছু অভ্যেস আছে।

    —বেশ।

    লাল আলো, হাঁড়ল হাঁড়ল গর্ত। বৃষ্টিতে চটা—উঠে—যাওয়া রাস্তা, রোড বাম্প। বেজায়গা দিয়ে পার হতে থাকা বেআক্কিলে। ভাববার আর সময় নেই। তলিয়ে ভাবতে গেলে সামনের গাড়ির বাম্পারে নির্ঘাত ভিড়িয়ে দেবে। তাই ওপর—মন দিয়ে খুব আলতো করে ছাড়া ছাড়া ভাবতে লাগল সে।

    ট্রপিক্যাল—মেডিসিন এসে গেছে…এককথায় রাজি হয়ে গেল সে? ডান দিকের ঝুপড়িতে গরম গরম ভাঁড়ের চা খাচ্ছে কিছু কুলি শ্রেণীর লোক। ঝুপড়িটা কিছুটা তেরপলের, কিছুটা প্লাস্টিকের, ভেতরে উনুনের গনগনে আঁচ। তার আলোয় এক থুত্থুড়ে বুড়ির মুখ, চা খাচ্ছে। এই ইয়াং কুলিদের সঙ্গে ওর কী সম্পর্ক? মা? না ও—ই চা—ওয়ালি। উনুনের ধারে বসে রয়েছে যখন। আপাদমস্তক কালো একটা বিরাট কেটলির ঢাকনাটা খুলে ভেতরে একটু গুঁড়ো দুধ ছিটিয়ে দিল…একটা অজানা অচেনা উটকো, কিছুর মধ্যে কিছু নেই ভিজছে। সাউথে থাকে বলছে। অথচ ডেফিনিটলি নর্থের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়েছিল… ফলঅলা পলিথিনে ঢাকা ফলের ঝুড়ি সরাতে গিয়ে কাত করে ফেলেছে, পেভমেন্টে গড়াচ্ছে মুসাম্বি…আপেল—দুটো ভিজে—কাক বাচ্চা হেসে লুটোপুটি… চৌরঙ্গিতে একা একা ভিজছে…গন্তব্য নেই…খুব গোলমেলে কিছু হলে? মেয়েটা যদি তার বাড়িতে গিয়ে সুইসাইডফাইড করে? ‘হ্যাঁ’ বলল কেন? কেন সে রাজি হল? নিঃসংকোচ চাওয়ার জবাবে অন্য কিছু বলতে পারেনি। তাই?

    হবেও বা। এ কথা সত্যি যে সে অনুরোধ এড়াতে পারে না। দুম করে মুখের ওপর এ রকম একটা অনুরোধ কেউ করতে পারে, সেটাই ধারণায় ছিল না। এই না গাড়িতেই উঠতেই চাইছিলি না! উঠতে—না—উঠতেই একেবারে গেস্ট হওয়ার অনুরোধ? অনুরোধও নয়। যেন প্রচ্ছন্ন দাবি! বসতে পেলে শুতে চায়।

    হঠাৎ সে বেকায়দায় পড়ে গেছে।

    হেদুয়া পেরিয়ে যাচ্ছে, এপারে বেথুন ওপারে স্কটিশ চার্চ।

    —এ জায়গাটা চেনো?

    হাসছে।—আপনি আমাকে কী ভাবেন?

    —কোথায় পড়াশুনো করেছ?

    —এখানে নয়।

    প্রত্যেকটি কথার জবাব এড়িয়ে যাচ্ছে।

    —বাড়ি থেকে পালিয়েছ নাকি বলো তো! মুখে একটা হালকা হাসি টেনে অদিতি ছুঁড়ে দিল, সে খুব ভাবিত। এই খুব—ভাবনাটা যেন ঘুণাক্ষরেও বুঝতে না পারে।

    —তা হলে তো আপনাকে আবার গাড়ি ঘুরোতে হয়।

    —কেন?

    —ভবানী ভবন? বাড়ি পালানোদের তো সেখানেই—খুঁক খুঁক করে হাসতে লাগল। ফাজিল খুব।

    একটা ঝাঁকুনি দিয়ে থামল গাড়িটা।

    —নামো, এসে গেছি—অদিতি বলল।

    রাস্তাটা কচ্ছপের পিঠের মতো, ধারে স্রোতের মতো জল বইছে। ওপরেও হালকা জল। তবে বৃষ্টি যেভাবে চলছে তাতে শিগগিরই ডুবে যাবে, কোনও সন্দেহ নেই।

    —তুমি চট করে সিঁড়িটায় উঠে সদর দরজার কাছে দাঁড়াও। আমি গাড়িটা গ্যারাজ করে আসছি।

    বহুকালের পুরনো বাড়ি। একশো বছর হবে বোধহয়। বয়স সঠিক হিসেব করতে হলে ঠিকুজি নিয়ে বসতে হয়। বাইরের ঝুল—বারান্দাগুলোর লোহার ফ্রেম তুবড়ে মরচে মেখে একেক্কার। তিনতলা বিরাট বাড়িটার গায়ে আগাগোড়া খোসপাঁচড়ার মতো ধ্যাবড়া ধ্যাবড়া দাগ। কোথাও চটা উঠে যাওয়া, কোথাও চুনবালির চাঙড় খসে পড়া, কোথাও আবার স্রেফ বৃষ্টিটিষ্টির একটা কালচে শ্যাওলা ছাপ। কতদিন সারাই—ঝালাই হয়নি, কে জানে! খুব ছোটবেলায় একবার সব খসিয়ে নতুন করে দেয়ালটেয়াল হয়েছিল আবছা মনে পড়ে। বালি দিয়ে খেলার স্মৃতিটা একটা ছোট্ট লাল টিপের মতো মনের ভেতরে।

    —চলো। অদিতি বুঝতে পারছে অদিতির সঙ্গে বাড়িটাকে মেলাতে পারছে না খুদেটা। মনে মনে সে খুব খানিকটা হেসে নিল।

    ভেতরে ঢুকে, একটু বাঁয়ে একটা চৌকোনা বড় উঠোন, মাটির, তাতে গুচ্ছের আগাছা, শ্যাওলার ওপর যদি পা পড়ে তো হড়াস। একটা মাঝারি সাইজের হৃষ্টপুষ্ট ছাতিম গাছ। পাশেই নিমের পাতা বৃষ্টিতে ঝুরছে। উঠোনের তিন দিক দিয়ে বাড়িটা উঁচিয়ে উঠেছে, নিম—ছাতিমের মগডাল ছাড়িয়ে। উঠোনের চারপাশে চওড়া রোয়াক। বাঁ দিকে ঘুরেই সেকেলে কাঠের সিঁড়ি। ওদের পাশ দিয়ে দুটো হুলো বেড়াল তীব্র গতিতে ফ্যাঁশশ আওয়াজ করে নেমে গেল। এক্ষুনি বৃষ্টিটা থেমে গেলেই উঠোনটাতে ধুন্ধুমার ঝগড়া শুরু করবে। হুলো দুটোর অহি—নকুল সম্পর্ক।

    দোতলায় উঠে কোলাপসিবলের তালা খুলল সে। কোলাপসিবলের পেছনে দরজাটা সাবেক নয়। চাবি ঘুরিয়ে খুলল—এসো।

    তার বারান্দার লাল সিমেন্ট জায়গায় জায়গায় ক্ষয়ে গেছে। কিন্তু বাকিটুকু অদ্ভুত চকচকে। বাঁ দিকে কিছুটা গিয়ে একটা দরজার তালা খুলল অদিতি। হেসে উঠল ভেতরটা।

    ফুটকি বলল—আপনি ভাল ড্রাইভ করেন না।

    —শোনো এ ঘর থেকে বেরিয়ে ডান দিকের দরজাটাই বাথরুম। তোয়ালেটোয়ালে আছে। আমার একটা বাথরোব আছে—কাচা। শুকনো হয়ে নাও। ওটা পরতে পারো। আমি একটু আসছি।

    এই সময়ে কালো কি ছবি কাউকে পাওয়া গেলে ভাল হত। কিন্তু এই বৃষ্টিতে কোনও আশাই নেই। অন্য হাতের তৈরি চা খাওয়ার বিলাস আজ হবার জো নেই। রান্নাঘরে গিয়ে অতএব কফির জল—দুধ চাপাল গ্যাসে। তারপর সিঙ্কে ভাল করে হাত ধুতে লাগল। রান্নাঘরটা খুবই বড়। আসলে তো এটা রান্নাঘর নয়, শোবারই ঘর। ছোটকাকুর। অবিবাহিত ছোটকাকুর ঘরটা আদরের ভাইঝির ভাগে পড়েছে। এটা খাবার ঘরও। পাথরের টপওয়ালা গোল টেবিলের চার পাশে তিনটে চেয়ার। টেবিলটা প্রাচীন, চেয়ারগুলো আধুনিক।

    চিঁড়ে—বাদাম—কাঠি ভাজার সাড়েবত্রিশ ভাজাটা একটা বড় স্টিলের বাটিতে ঢালল অদিতি। স্টিলের পটে কফি, দুটো কাপ—ডিশ, দুটো বড় চামচ।

    ফুটকি ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়েছিল। একেবারে মাঝখানে, গোল জাজিমটার ওপর, চারপায়া সেন্টার টেবিলটার পাশে। এ রকম জায়গায় দাঁড়াবার একটাই মানে হয়। পাখাটা পাওয়া। কিন্তু ও চালায়ইনি। অদিতি টেবিলের ওপর ট্রেটা রেখে বলল—ফ্যানের সুইচটা ওই দিকে দরজার পাশে। চুলটা ভাল করে মুছেছ? তবে আমার ড্রায়ার আছে, চট করে তো শুকোবে না, আগে খেয়ে নাও একটু…ঠান্ডা হয়ে যাবে। বসো।

    গোলাপি তোয়ালের বাথরোবের মধ্যে ছোট্ট শরীরটা ডুবে গেছে, ভিজে চুলের গোছায় মুখটা প্রায় ঢাকা। বসল। এখনও সেই অগত্যা ভঙ্গিতে।

    —তোমাকে ক’ চামচ?

    —যা হোক।

    কফি ঢেলে কাপটা এগিয়ে দিতে হঠাৎ বলল—আমার ভিজতে ভাল লাগছিল।

    —তাই? রাগ করেছ?

    —না, তা নয়, এটাও বেশ ভাল।

    একমুঠো চিঁড়েভাজা মুখে পুরে অদিতি বলল—চামচটামচ দিয়ে মুড়ি—চিঁড়েভাজা পোষায় না। যাই বলো। মুঠো করে তুলে মুখের কাছে নিয়ে গিয়ে এক ধাক্কায় চালান করে দিতে হয় ভেতরে। তুমি কী বলো? খাও! আচ্ছা তো।

    একটু নিল, চামচ করে। এক চুমুক কফি।

    —ভাল হয়েছে কফিটা?

    —কী জানি, ভাল—মন্দ কিছু বুঝতে পারছি না।

    মানুষ তো ভদ্রতার খাতিরেও ভালটাল বলে! এর সে বালাই নেই।

    —তোমার জামা কাপড়গুলো মেলে দিয়েছ তো? ভাল করে নিংড়ে?

    —হ্যাঁ বাথরুমে একটা রড ছিল।

    —সে কী! বাইরে বারান্দায় দেখছ না? কত বড় দড়ি টাঙানো রয়েছে। ওইখানে দাও। হাওয়ায় শুকিয়ে যাবে।

    —কালকের আগে শুকোচ্ছে না।

    অদিতি মনে মনে ভাবল—যাক, কমনসেন্স ফিরে আসছে তা হলে।

    মুখে বলল—জলটা টেনে যাক, তারপর ঝেড়ে ইস্ত্রি করে দেব। আমার শাড়ি বার করে দিচ্ছি, যদিও ব্লাউজ তোমার হবে না। পরে, কাঁধের ওপর দিয়ে টেনে নিতে পারো। ওটা অবশ্য ফ্যাশনেবল নয়, আই নো।

    কোনও উত্তর দিল না। আনমনে চিঁড়েভাজা খেয়ে যেতে লাগল। মাঝে মাঝেই কফিতে লম্বা চুমুক। এবার বোধহয় আরাম লাগছে কফিটা খেতে। কিছু জিজ্ঞেস না করেই ওর কাপে আর একটু ঢেলে দিল, চিনি দিল, নিজেও নিল।

    এই সময়ে আবার দ্বিগুণ জোরে একেবারে ঝমাঝঝম শব্দে বৃষ্টি নামল। বিরাট একটা বাজের ডাক আকাশের এ মোড় থেকে ও মোড় পর্যন্ত গড়িয়ে গেল। পরক্ষণেই চোখ—ঝলসানো ঝিলিক ঢুকল ঘরের ভেতর।

    —আজ কলকাতা ভেসে যাবে—অদিতি উঠে গিয়ে আকাশের দিকে তাকাল—জানলা ভরতি কালো মেঘ। নড়বার লক্ষণ দেখছি না। ফিরে বলল ইশ। কী করে যাবে?

    —যেভাবে এসেছিলাম…

    —আমি তোমাকে একটা ছাতা দিতে পারি। শাড়িটাড়িও…কিন্তু এ বৃষ্টিতে কি ছাতা কোনও কাজে লাগবে?

    —ওসব দরকার নেই।

    —তার মানে?

    —চলে যাব ঠিক।

    —আমি কিন্তু তোমাকে চলে যাবার কোনও ইঙ্গিত টিঙ্গিত দিইনি। ডোন্ট মিসান্ডার্স্ট্যান্ড মি। এই সাঙ্ঘাতিক বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে কেউ কোথাও যেতে পারে না। জল যা জমেছে, হাঁটু পর্যন্ত। তুমি যা পলকা। জল ঠেলতেই পারবে না। সন্ধে হয়ে আসছে, আসছে কেন এসে গেছে। পড়ে যাবে, ডুবে যাবে… যাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। আমি অ্যাকচুয়ালি ভাবছিলুম তোমার বাড়ির কথা। দে’ল গেট ওয়ারিড।

    ওদিক থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া নেই।

    অদিতি বলল—তুমি বরং বাড়িতে এইবেলা একটা ফোন করে দাও। আমার নম্বর আর ঠিকানাটা দিয়ে দেবে।…এইবেলা, কেননা এত বৃষ্টি হলে দেখেছি আমাদের ফোনটা চলে যায়। কী হল, কিছু বলছ না যে? এ ছাড়া কোনও উপায় নেই—ইউ’ল হ্যাভ টু অ্যাকসেপ্ট ইট—রাইট?

    এবারও কোনও উত্তর নেই। সে হেয়ার—ড্রায়ারটা বার করে আনল। প্লাগটা লাগিয়ে দিয়ে বলল—শুকিয়ে নাও চুলটা। অতটা চুল, ভিজে থাকলে ঠান্ডা লেগে যাবে। আচ্ছা, এক কাজ করো, বাথরুমে লাগিয়ে দিচ্ছি। ওখানেই শুকিয়ে নাও। এখানে তারটা সোফা পর্যন্ত যাচ্ছেই না। চলো আমি দেখিয়ে দিচ্ছি…

    হাতটা বাড়াল। ড্রায়ারটা নিল, বিনা বাক্যব্যয়ে বাথরুমে চলে গেল। আর সঙ্গে সঙ্গে দু’কদম এগিয়ে ওর চামড়ার মুখবন্ধ ঝোলাটার চেন চররর করে খুলে ফেলল অদিতি। দুটো কবিতার বই, একটা রিলকে অনুবাদ, আর একটা অক্সফোর্ড বুক অব ইংলিশ ভার্স। একটা পার্স। হ্যাঁ এই যে একটা শক্ত মলাটের ডায়েরি। চটপট ডায়েরিটা খুলে দেখল—অনোহিতা সাহা রায়। ফোননম্বর মনে হচ্ছে বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডটোড হবে। যথাস্থানে ডায়েরিটা ঢুকিয়ে রেখে সে বাথরুমের দরজা পেরিয়ে ওদিকের শোবার ঘরে চলে গেল। চটপট ডায়াল করল। বাজছে…বাজছে। মিস্টার অ্যান্ড মিসেস সাহা রায় স্পিকিং…সরি টু হ্যাভ মিসড ইয়োর কল। প্লিজ লিভ ইয়োর ফোননাম্বার অ্যান্ড মেসেজ। ওয়েট ফর দা বিপ। থ্যাঙ্কস ফ’ কলিং।

    সামান্য একটু ছায়া নেমেছিল তার মুখে। পরক্ষণেই বিপটা শোনা যেতে সে তাড়াতাড়ি বলে গেল—অনোহিতা আজ আমার বাড়িতে থাকছে। বৃষ্টিতে আটকে পড়েছিল। লিফট দিয়েছিলুম। আমি অদিতি সরকার। ফোন ২৫৫৫—৩৯১৯।—বাস, মা—বাবা রাতে বাড়ি ফিরে নিশ্চিন্ত হয়ে যাবেন। একটা ফোন তাকে নিশ্চয়ই করবেন। মেয়ের সঙ্গে কথা বলুন না বলুন উদ্বেগ—উৎকণ্ঠার ব্যাপারটা থাকছে না।

    আলমারি থেকে একটা ছাপা শাড়ি, ব্লাউজ আর পেটিকোট বার করে ফেলল। তারপর বাথরুমের দরজায় টোকা দিল। খুলে গেল দরজাটা। দাঁড়িয়ে রয়েছে। হেয়ার—ড্রায়ার হাতে, চুপচাপ। শাড়ি ব্লাউজগুলো সে র‌্যাকে রাখল। তারপর ড্রায়ারের সুইচটা টিপে ওর হাতে দিয়ে বলল নাও, শুকোও। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল হাওয়ায় বাদামি চুল উড়ছে। বিলি কাটছে ও চুলের ভেতর। ড্রায়ারটাকে ভালই তো বাগিয়েছে। শাড়ি—ব্লাউজগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল—পরে নিয়ো। একটু অসুবিধে হবে। কিন্তু কী আর করা যাবে।

    এতটা চুপচাপ কেন? বৃষ্টিতে অসাগর ভিজছিল। সঙ্গে এল, কিন্তু বাধ্য হয়ে, অনিচ্ছুক ভঙ্গিতে। দেখলে খানিকটা সম্পন্নই মনে হয়, চেহারায় অল্পবয়সি লালিত্যের সঙ্গে মিশে রয়েছে একটা মার্জিত ছাপ। তা ছাড়া ব্যাগের বইগুলো তো বলেই দিচ্ছে—ভালই শিক্ষিত। ইংরিজিতে এম এ টেম এ পড়ে হয়তো। আপাতদৃষ্টিতে উড়নচণ্ডী। কিন্তু নোঙরহীন মনে হয় না ওকে। মেয়েটা কি খুব শকটক পেয়েছে? মা—বাবার সঙ্গে ঝগড়া করেছে? পরীক্ষায় ফেল? প্রেম চটকে গেছে?… এগুলো ছাড়া আর তো কিছু মনে আসছে না। যাক, ওই বৃষ্টিতে যে বেপরোয়া মেয়েটা ভেসে যায়নি, কিংবা বদ হাতে পড়েনি এটাই যথেষ্ট। অদিতির জায়গায় যদি কোনও ভূপতি টুপতি ওকে লিফটটা দিত, এবং এমনি না—না করে ও সেটা নিত, লোকটার যদি বদ মতলব থাকত, আনমনা মেয়েটা যদি নিজেকে বাঁচাতে না পারত, তা হলে এতক্ষণে এ পুলিশ—কেস। এতগুলো ‘যদি’ লাগিয়ে নিজেরই হাসি পেয়ে গেল অবশ্য।

    খুট করে শব্দ হল। দু’ সেকেন্ড পরেই লাল ছাপের শাড়ি ঢিলে ব্লাউজ পরে, বাদামি চুল এলো করে এলেন। ঢিলে ব্লাউজটাকে ঢাকবার চেষ্টাও করেনি। ফ্যাশন অ—ফ্যাশনে ওর কিছু যায়—আসে না, যেমন কফিতে চিনি ঠিক আছে কি নেই তাতে বা বৃষ্টিতে ভিজে কাক হয়ে এসপ্ল্যানেডের শূন্যে দাঁড়িয়ে থাকতেও কিছু এসে যায়নি। কিছু মেয়ে!

    —নামটা জানতে পারি কি? আমি অদিতি সরকার।

    ‘তোমার নাম কী খুকিটা’ই ঠিক হত। কিন্তু এ তো মেয়ে মেয়ে নয়!, মেজাজি নিশ্চয়! একটু অসরাসরি জিজ্ঞেস করাই ভাল। নামটা সে জানে, মিলিয়ে নিতে পারবে—মিথ্যে বলছে কিনা।

    ঠিক! নাম ভাঁড়াচ্ছে, গম্ভীর মুখে বলল—তনিকা।

    —তনিকা?

    —আমি পদবি ইউজ করি না।

    এ বয়সে সবাই অল্পবিস্তর বিদ্রোহী থাকে। তারও অনেক রকম বিদ্রোহ ছিল। কিছুতেই কাউকে প্রণাম করত না। এক বিজয়ার দিন ছাড়া। দিদিমা ব্যাপারটা খেয়াল করে একদিন বলেছিলেন কী রে বনি, আমার পায়ে হাত দিলি না?

    —তোমার পায়ে কি আর তুমি আছ দিদিমা! আছে যত রাজ্যের গরগরে ধুলো।

    —’পায়ের ধুলো’ নেওয়াই তো বলে কথায়।

    —পা যদি ধুলো প্রোডিউস করত, গুরুঠাকুরদের ম্যাজিক—ভস্মের মতো, তা হলে ভেবে দেখতুম দিদিমা। কিন্তু ও ধুলো জীবাণু আর নোংরায় ভরতি রাস্তার ধুলো। লক্ষ্মীটি।

    বলেটলে অবশ্য সে এক ছুটে দিদিমার গলা জড়িয়ে চুমু খেয়েছিল, বলেছিল, তুমি তো আমার প্রাণের বন্ধু, দিদিমা, বন্ধুকে কেউ প্রণাম করে?

    দিদিমা নিজের গালে আঙুল রেখে বলেছিলেন—আর এই যে তুই তোর মুখামৃত দিয়ে আমার গালটা এঁটো করে দিলি? সেটা বুঝি নোংরামি নয়!

    —একটি ফোঁটাও পাবে না। বেশ চলো। সাবান—ডেটল দিয়ে তোমার গাল ধুয়ে দিই।

    দিদিমা বলেছিলেন—দেখিস রাণু তোর এই সৃষ্টিছাড়া মেয়েটা নির্ঘাত সাহেব বিয়ে করবে।

    দিদিমা জেনে গেলেন না তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন।

    পদবি ব্যবহার বা অব্যবহার নিয়ে অদিতি কোনও হালকা মন্তব্য করল না। কে জানে বাবা, কী ভাবে নেবে।

    —একটু শুয়েটুয়ে নেবে?—সে বলল।

    —যখন—তখন শুই না।

    —তো করবেটা কী? কথাই তো বলছ না। বাড়ি কোথায়?

    —সাউথে, বললাম তো!

    —সাউথ তো অনেকখানি! ঠিক আছে না বলতে চাও না—ই বললে। তবে কারণটা বুঝলুম না। আমি তো একজন ভদ্রমহিলা। কোনও ভদ্রলোককে ঠিকানা টিকানা না দেওয়াই ভাল। কিন্তু…

    কোনও উত্তর দিল না। উঠে র‌্যাকের বইগুলো দেখতে লাগল। অদিতি আঘাত—পাওয়া মুখে বসে আছে। ছদ্ম অবশ্য। তার একটু মজা লাগতে শুরু করেছে।

    হঠাৎ ফিরে ফিক করে হাসল।

    —হাসলে যে?

    —হাসিরও এক্সপ্লানেশন দিতে হবে?

    —তা দিতে হবে বই কী। কারণ ছাড়া হাসলে তাকে পাগল বলে।

    —ব্ল্যাকমেল করছেন? ইমোশন্যাল? যদি এইসব বিশেষণের চাপে বলে ফেলি।

    —আরে! আমি তো সোজাসুজিই জিজ্ঞেস করলুম। আচ্ছা মেয়ে তো তুমি।

    —কৃতজ্ঞতা নেই, বেপরোয়া, ছন্নছাড়া…আধপাগলা না?

    ঝিলিক ঝিলিক হাসতে লাগল।

    যাক বাবা হাসছে। তেমন গুরুতর কিছু হয়নি তা হলে! তবে চালাক খুব। খুব কটকটেও আছে।

    —ক্যাঁটক্যাঁট করে কথা বলে, না?—অদিতি চমকে তাকাল। মুখটা খুঁজে খুঁজে দেখল—হাসি হাসি ভাবটা নেই, তবে দুঃখী দুঃখীও নয় ঠিক। কী রকম যে তা তার বোধগম্য হল না।

    —তোমার খিচুড়ি চলে?

    —আমার কথায় উত্তর দিলেন না তো!

    —দ্যাখো অনো…মানে তনিকা, তোমার কৃতজ্ঞতা আছে কি নেই, পরোয়া করো কি করো না, ক্যাঁটক্যাঁটে কি ক্যাঁটকেঁটে নয় এসব বিষয়ে আমার বিন্দুমাত্র কৌতূহল নেই। নাম ঠিকানা জিজ্ঞেস করেছিলুম জাস্ট অপরিচিত কারওর সঙ্গে দেখা হলে ওটাই স্বাভাবিক তাই। আর কোনও কারণ…

    —চলে—ও বলে উঠল।

    —চলে? কে চলে?

    —কেউ নয়। আমার খিচুড়ি চলে। আপনি জিজ্ঞেস করছিলেন না?

    —তা হলে, এখন ধরো আটটা, আর আধঘণ্টা পরে চাপিয়ে দেব, হবে তো?

    —খুব—যাক, এতক্ষণে একটা সোজা কথার সোজা জবাব পাওয়া গেল।

    —তুমি বরং বইটই দেখো। আমি একটু কাজ করে নিই।

    কম্প্যুটার খুলে গোটা তিনেক ই—মেল পেল সে। একটা মনীষার। অদিতি চলে আসবার পর থেকেই তার নাকি একদম ভাল লাগছে না। সে—ও ফিরে আসবে ভাবছে।

    সর্বনাশ! মনীষা বড্ড নাছোড়বান্দা আর সেন্টিমেন্টাল টাইপের মেয়ে। তার ওপর খ্যাপাটে। চলে আসবে মানে? পাবলিশিং হাউসের অমন চাকরিটা ছেড়ে দেবে? এই নিয়ে তা হলে তিনবার হবে।

    দ্বিতীয়টা আঁদ্রের। শিগগির দিল্লি আসছে ‘মাতিস’—এর কাজ নিয়ে। ফরাসি আর ভারত সরকারের মধ্যে সংস্কৃতির আদান—প্রদান, কাজটার ভার পেয়েছে সে। কলকাতা ইনটারেস্টেড কিনা জানতে চেয়েছে। আশ্চর্য! দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করতে অদিতিকে দরকার পড়ল না, কলকাতা বলেই দরকার পড়ে গেল? এখানে সরকার নেই? সে তো নিজেই এসেছে—চার বছর পোরেনি এখনও। নিজের আতলিয়ে গড়তেই দিন গেছে। তেমন যোগাযোগ এখনও হল কই? প্রথম দেড় বছর মা ছাড়া আর কিছু ভাবেনি সে।

    তৃতীয়টা রাজর্ষির। এটাই সবচেয়ে বিরক্তিকর। রাজর্ষির মা বাঁকুড়া—বিষ্ণুপুরে থাকেন, তাঁর শরীর খারাপ হয়েছে। অদিতি কি একবার যেতে পারবে? অবশ্যই যেন যায়। রাজর্ষি খুব চিন্তিত হয়ে আছে। এ অনুরোধ মানেই আজ্ঞা। এর আগেও দু’বার এ আজ্ঞা পালন করেছে সে, এইভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে চায় ও। সে ভালই বোঝে। কিন্তু রাজর্ষির মাকে সে একেবারে পছন্দ করে না। কেন করে না তার অনেক কারণ আছে, তবে স্থূলতম কারণটা হল উনি একদিন তার সম্পর্কে বলেছিলেন—’সাহেবের এঁটো’। ছিঃ। এ কথা যে মহিলা বলতে পারেন তাঁকে অপছন্দ করবার হক তার আছে। এমনকী ঘেন্নাও। কিন্তু মুশকিল হল—ঘেন্না জিনিসটা তার চট করে আসে না। ইংরেজিতে সে বলতে পারে আই হেট দিস, হেট দ্যাট, বা আই হেট য়ু। কিন্তু ইংরেজি হেট আর বাংলা ঘেন্নার অনেক তফাত। সে যাই হোক, ঘেন্নার জায়গায় তার যে অনুভূতিটা হয় সেটা হল বিরক্তি। দূর দূর! তা রাজর্ষির সংক্রান্ত সব ব্যাপারেই তার এই ‘দূর!’টা মনে হয়। ধূ—র!

    মনীষাকে জবাবটা দিয়ে দিল চটপট। না হলে মুশকিল আছে। দিবারাত্র অদিতির কাছে এসে মড়াকান্না কাঁদবে। একবার যদি এসে পড়ে। ওটাই মনীষার স্বভাব। যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই, যাহা পাই তাহা চাই না। ওকে প্রথম স্কলারশিপটার খোঁজ দিয়েছিল অদিতিই। মড়াকান্নায় অস্থির হয়ে গেল। প্রথমটা ডগোমগো। দারুণ ভাল, দারুণ ভাল সব। দারুণ কাজ করছে। তখন অদিতি গ্লাসগোতে স্কুল অব আর্টে ট্রেনিং নিচ্ছে, মনীষা লন্ডনে পোস্ট ডক। ও মা, কাউকে বলা নেই, কওয়া নেই, কাজকর্ম ডকে তুলে চলে গেল ইন্ডিয়ানা, খুব নাকি ভাল অফার পেয়েছে। ছ’মাসও গেল না, বিয়ে করে ফেলল ইন্ডিয়ানারই আর এক প্রফেসারকে, অন্ধ্রের লোক প্রফেসর রাও, দারুণ ভাল। বিয়ে যে কী জিনিস। কিছুদিনের মধ্যেই অদিতিকে লম্বা চিঠি, বিয়ে করে ভীষণ ভুল করেছে, এক পেশার লোককে কক্ষনও বিয়ে করতে নেই। অদিতি যেন ও ভুল না করে। রাও ওকে চাকরি ছেড়ে দেবার জন্যে চাপ দিচ্ছে। ও সংসারে মন দিচ্ছে না—এই নালিশ করছে অহরহ। ডিভোর্স করল, ইন্ডিয়ানা ছাড়ল, তারপর খুঁজে পেতে প্যারিসে এসে অদিতির ঘাড়ে চাপল। কোন পাবলিশারের অফিসে কাজ করছে, থাকার পয়সা কম পড়ছে, অদিতি যদি ওর ঘরটা শেয়ার করে। লাইফ হেল করে দিয়েছিল একেবারে। বড্ড অব্যবস্থিতচিত্ত আসলে। খুব স্বার্থপরও। এবং ভীষণ সেন্টিমেন্টাল। কথায় কথায় ঠোঁট ফোলানো টাইপ। তুই বোধহয় আমায় পছন্দ করছিস না।

    অদিতি আমি আবার না তোর পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াই।—এই রকম, আর এখন অত ভাল চাকরি করছে। ছেড়ে দেবে?

    মনীষাকে অগত্যা খানিকটা স্তোক এবং খানিকটা মিথ্যে কথা লিখতে বাধ্য হল। এতদিনে একটা মনের মতো চাকরি হয়েছে। সেবার পোস্ট ডকটা ছেড়ে টিচিংয়ে আর আসতে পারলি না। এবার যদি কাজ ছাড়িস জীবনে তোর মুখ দেখব না। কলকাতায় যা পলিউশন তাতে তোর মতো হেঁপো রুগি—মাসখানেকও টিঁকবে না। শুধু কলকাতা নয়, দিল্লি মুম্বই চেন্নাই সর্বত্র পলিউশন লেভেল ভয়াবহ। ইত্যাদি ইত্যাদি।

    মনীষা একেবারে যাকে বলে ব্রিলিয়ান্ট ছাত্রী। কিন্তু ওই অস্থির পরনির্ভর স্বভাবের জন্য এখনও কেমন না ঘরকা না ঘাটকা হয়ে রয়েছে। নামকরা প্রকাশকের এডিটোরিয়াল বোর্ডে রয়েছে। তবু পালাই পালাই।

    কম্প্যুটারটা বন্ধ করে, পেছন দিকে তাকাল। ঘরের মধ্যে নেই, বুকের মধ্যেটা ঢিপ করে উঠল। নাঃ ওই যে, বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। কী দেখছিস বাবা? শ্যাওলা?—দ্যাখ! সে রান্নাঘরে চলে গেল। ফ্রিজ থেকে রম—এর বোতলটা বার করল, কোকের সঙ্গে পরিমাণ মতো মিশিয়ে তৈরি করে ফেলল ড্রিঙ্কটা। একটু একটু করে খেতে খেতে হয়ে যাবে রান্নাটা।

    —আমি হেলপ করব?

    তনিকা—অনোহিতা রান্নাঘরের চৌকাঠে এসে দাঁড়িয়েছে। তার চোখ পানীয়র গ্লাসের দিকে। অদিতি পাত্তা দিল না। বলল—তুমি পারো?

    —কিছু কুটতে হলে ছুরি লাগবে।

    গ্লাসে একটা চুমুক দিয়ে অদিতি বলল আমিও তো ছুরিই ব্যবহার করি। দিচ্ছি। ক্রিসপারটা দেখল। নাঃ খিচুড়িতে দেবার মতো কিছু নেই। কটা ফ্রেঞ্চ বিন পড়ে আছে। দিয়ে ফেলা যাক। টোম্যাটো বার করল। আলুর ঝুড়িটার দিকে তাকিয়ে বলল—আলু আর বিন ছাড়া আর কিছু তো নেই দেবার। আলু কয়েকটা ছাড়িয়ে আধখানা করে ফেলো। পেঁয়াজ? না, পেঁয়াজ আমি কেটে নিচ্ছি।

    —থ্যাংকিউ।

    চাল—ডাল ধুতে লাগল অদিতি। জল বসিয়ে দিল গ্যাসে।

    —আপনি এইভাবে রান্না করেন?

    —অর্থাৎ?

    গ্লাসটার দিকে চিকচিকে চোখে তাকাল।

    —চেখে দেখবে? অত বৃষ্টিতে ভেজার পর ভাল।

    —চলবে।

    আর একটা গ্লাস তৈরি করল অদিতি। বলল—ধীরে ধীরে খাবে।

    নিজের গ্লাসটা অদিতির গ্লাসে ঠেকিয়ে খুব অভ্যস্ত গলায় বলল ‘চিয়ার্স’। পাকা পক্বান্ন একেবারে। তারই বোঝা উচিত ছিল। আজকালকার মেয়ে। সে যখন ‘আজকালকার’ ছিল তখন এসব কেউ কল্পনাও করতে পারত না। মেজদা সেবার স্কটল্যান্ড থেকে একটা অপূর্ব পারফিউম পাঠিয়েছিল। কলেজ যাবার সময়ে ঢেলেছিল একফোঁটা। মা স্তম্ভিত চোখে চেয়ে বলেছিলেন—তুত্তুই সেন্ট মেখে কলেজ যাচ্ছিস? এটা তাদের বাড়ির বাড়াবাড়ি। কিন্তু এই রকমই। ওদিক থেকে বলে উঠল—কই?

    —কী কই?

    —ওই যে, আপনার বাড়ি ভরতি লোক?

    হেসে ফেলল অদিতি, রান্নাঘরের দরজার দিকে ইশারা করে বলল—ওই দিকে। অনেক। এদিকে আমি একা।

    চাপা হাসিতে মুখটা ঝিকিয়ে উঠল।

    —আর কৌতূহল?

    —নেই।

    দু’জনেই হেসে ফেলল।

    পরের দিন বেলের আওয়াজে ঘুম ভেঙে দরজা খুলতে গিয়ে দেখল উঠোনটা রোদে ভাসছে। বৃষ্টি বলে কোনও জিনিসই যেন ছিল না কোনওদিন।

    কালোকে পাশের ঘরেও এক কাপ চা দিতে বলে সে বাথরুমে গেল। কিছুক্ষণ পরে কানে এল—কই গো দিদি, এ ঘরে তো কেউ নেই?

    তাড়াতাড়ি বেরোল অদিতি। শোবার ঘরের খাটের ওপর তার শাড়ি ব্লাউজ সব পাট করা। পায়ের কাছে কাঁথাটাও। ভাঁজটা অসমান, সে এভাবে করে না। মানে শুয়েছিল। সকাল হতেই নিজের আধ ভিজে জামাকাপড়গুলো গলিয়ে পালিয়েছে।

    যাবি তো যা। ঠিক আছে। আসতে আসতেই তো যাই যাই করছিলি? আজ সকালে যে চলে যাবি সে তো জানা কথাই। তাই বলে এমন না বলে কয়ে। ভদ্রতা বলেও তো একটা জিনিস আছে!

    ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleট্রেকার্স – বাণী বসু
    Next Article জন্মভূমি মাতৃভূমি – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }