Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঝড়ের খেয়া – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প272 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঝড়ের খেয়া – ১০

    দশ

    বাইরে ফটফট করছে সকাল। এ ঘরে এখনও পরদা—টানা ঠান্ডা অন্ধকার। এ সি চলছে, পাখা চলছে। ঘুমের মধ্যেই সাবধানে গরম জলে বাথ সল্ট মিশিয়ে স্পঞ্জ করিয়ে দিয়েছেন। হাত—পাগুলো থেকে ধুলো—ময়লা তোলা আরও কয়েক দিনের ব্যাপার। ড্রেস বদলে দিয়েছেন, সারা গা পাউডারে সাদা। ঠিক ওইভাবেই ঘুমোচ্ছে এখনও। পাশ থেকে সাবধানে উঠে এসেছে তনিকা।

    —আন্টিমাসি!

    —কী রে! উঠল?

    —না।

    —আর কতক্ষণ?—সর্বাণীর মুখে উদ্বেগের ছায়া।

    —ঘুমোক না, যতক্ষণ খুশি।

    —তা অবশ্য। ওষুধের এফেক্টটা পুরো কেটে যাবার আগে তুললে হ্যাং—ওভার থেকে যাবে। তখন খিটখিটোনি শুরু হবে।

    —আমি একটু ঘুরে আসি।

    —কোথায়? কেন?—ভীষণ ত্রস্ত হয়ে বললেন সর্বাণী।

    —জামাকাপড় আনিনি তো কিছু। তা ছাড়া বোঝোই তো মিসেস উইলিয়ামস ভাববেন। শেষকালে ঢুকতে না দিলে বিপদে পড়ব।

    —জামাকাপড় তো মিমিরই পরতে পারিস ক’দিন। আর উইলিয়ামসকে তো ফোন করে দিলেই হয়।

    —ফোন করে দিলে বিশ্বাস না—ও করতে পারেন। যা সন্দেহবাতিক। আগে একদিন হয়েছিল। সকালে ফিরতে ওয়ার্ডরোবের ভেতরে টাঙানো জামাকাপড়গুলো হিঁচড়ে হিঁচড়ে ফেলে দিতে লাগলেন।

    —অত কীসের তনিকা। চলে আয় না এখানে, অসুবিধে কী তোর? আমিও খানিকটা নিশ্চিন্ত হই।

    —তা হয় না। আমিও পারব না। ও—ও না। জানো তো সবই।

    হঠাৎ সর্বাণীর কানে বাজতে লাগল—অনোহিতা আমার কাছে আছে, আমার নাম অদিতি সরকার, ফোন—।

    বললেন—আমিই ফোন করে দিচ্ছি বরং। তা হলে ভাববেন না। সত্যি এটা আমার আগে ভাবা উচিত ছিল।

    তিনি নম্বরটি পেলেন। ওদিকে বেজে যাচ্ছে, বেজে যাচ্ছে, তারপরে কণ্ঠস্বর শোনা গেল—মি. অ্যান্ড মিসেস উইলিয়ামস স্পিকিং। উই আর নট অ্যাভেলেবল জাস্ট নাও। লিভ ইয়োর মেসেজ…হ্যালো…পুরুষ কণ্ঠ। মানে মি. উইলিয়ামস।

    —আমি মিসেস সাহা রায় বলছি। হ্যাঁ অনোহিতার মা। তনিকা আমার কাছে কালও ছিল, আজও থাকবে। ক’দিনই থাকবে। আসলে অনোহিতা খুব অসুস্থ। হ্যাঁ, মিসেস উইলিয়ামসকে বলে দেবেন। আমার শুভেচ্ছা জানবেন দু’জনে। তনিকার খেয়াল রাখার জন্য আপনাদের কত যে ধন্যবাদ দেব।

    ফিরে দেখলেন তনিকা মুচকি মুচকি হাসছে।

    —সুযোগ পেয়ে খুব তেল দিয়ে নিলে। এক যুগ প্রিন্সিপ্যালগিরি করে কী করে পারো আন্টিমাসি!

    —আমার কপালটাই ওই রকম, সর্বাণী হেসে বললেন—অভিভাবকদের সঙ্গে, টিচারদের সঙ্গে ছাত্রীদের সঙ্গে সবার সঙ্গেই এইভাবে চলে এসেছি। না হলে তনিকা—অন্যমনস্ক হয়ে গেলেন, তারপর হঠাৎ বললেন—ক’দিন আগে আনসারিং মেশিন চালিয়ে ঠিক এই এক মেসেজ পেয়েছিলাম—অনোহিতা আমার কাছে আছে। ভাববেন না। আমি অদিতি সরকার, ফোন নং এই। মিমি কিন্তু ছিল না। উনি মিমি বলে কাকে ভুল করলেন বল তো।

    —আমাকে, তনিকা মুচকি হেসে বলল—উনি নিশ্চয়ই আমার ব্যাগ ঘেঁটেছিলেন, মিমির ডায়েরি ছিল। তার থেকে যা নাম, ফোন নম্বর পেয়েছেন ফোন করে দিয়েছেন। ভাবলেন খুব একটা চালাক চালাক মুভ নিলাম। তা হলে ওই জন্যেই ওঁকে তুমি ডেকেছিলে?

    —হ্যাঁ। তো ব্যাগ ঘাঁটতে হবে কেন? তুই কি ওঁকে তোর নাম—ঠিকানা বলিসনি?

    —নামটা বলেছিলাম। আর কিছু বলতে চাইনি। আন্টিমাসি আর কিছু জিজ্ঞেস করবে না। আমি বলব না। আর ভুলেও ডায়েরিটার কথা উচ্চারণ করবে না।

    —বেশ। আমি আমার লক্ষ্মণের গণ্ডি জানি। বিষণ্ণ মুখে বললেন সর্বাণী।

    —ওখানে তোকে ওরা কী ব্রেকফাস্ট দেয়?

    —ওই ডিম কলা টোস্ট, টোস্ট ডিম কলা, কলা ডিম…

    —কী খাবি?

    —যা হোক।

    —দুধ কর্নফ্লেক্স? ফ্রেঞ্চ টোস্ট, টোম্যাটো—চিজ অমলেট?

    —এনিথিং। তোমার যেটা সুবিধে। খাবার—দাবার নিয়ে ফাস করতে আমার ভাল লাগে না।

    এ—ও এক ধরনের লক্ষ্মণের গণ্ডি। সেকেলে মা—ই হন, আর এ—কেলে মা—ই হন, যখন ঘরকন্না করতে নেমেছেন, তখন কে কী খাবে, খেতে ভালবাসে জানতে চাওয়াটা স্বাভাবিকভাবেই এসে যায়। দু’—তিনটে বিকল্প যখন তিনি দিতে পারছেন, পারবেন বলেই তো দিচ্ছেন, বিশেষত অতিথি,কন্যাসম, যার কাছে স্বামীর মেয়েটির কাছেও যেমন, তেমনই নিজেকে প্রমাণ করবার দায় তিনি প্রতি মুহূর্তে অনুভব করছেন। কিন্তু, এই, স্নাবিং খাচ্ছেন অনবরত। আন্টিমাসি হিসেবে, অর্থাৎ এদের জুনিয়র স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল এবং অনোহিতার মায়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ার সূত্রে যে শ্রদ্ধা ভালবাসা তিনি অনায়াসে পেয়েছিলেন, অনোহিতার সৎমা হিসেবে তার সবটাই যেন ধূলিসাৎ। এই মেয়েটি, অনোহিতার বন্ধু, তাঁর যেমন শ্রীলা। এ—ও তাঁকে কথার থাবড়া মারে। অবশ্য শ্রীলা সর্বাণীর বন্ধুত্বের সঙ্গে অন্য কোনও বন্ধুত্বের আগেকার বা আজকের, তুলনা হয় কি না, তিনি জানেন না। তাঁদের মধ্যে এতটুকুও ঈর্ষা, ভুল বোঝাবুঝির ব্যাপার ছিল না। তিনি হলেন সবল মেয়ে। শ্রীলা দুর্বল। শারীরিক বা মানসিকভাবে। বরাবর তিনি শ্রীকে রক্ষা দিয়ে এসেছেন। শ্রী উজাড় করে দিয়েছে নিজেকে তাঁর কাছে। একটা সময়ে তাঁরা হোস্টেলে থাকতেন। শ্রীর বাবা টাটায় চাকরি করতেন, বরাবর মেয়েকে কলকাতায় রেখে পড়িয়েছেন। আর তাঁর বাবার সরকারি চাকরি ছিল। দু’বছর অন্তর নিয়ম করে বদলি। এই হোস্টেলই, হোস্টেল—জীবনই পরিষ্কার দেখিয়ে দেয় কতটা পরিপূরক তাঁরা পরস্পরের। সে সময়ে তিনি অ্যাথলিট হিসেবে খ্যাত ছিলেন। স্কুল—কলেজ—ইউনিভার্সিটির গণ্ডিতে। শ্রী—ও ওই গণ্ডিতেই গায়িকা হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিল। প্রত্যেকবার তাকে কলেজ—সোশ্যালে গাইতে হত, স্টেজে ওঠবার আগে বলত—দ্যাখ সর্বাণী, আমার হাত—পা কেন ঠান্ডা হয়ে গেছে। এদিকে কান দুটো গরম! কী গরম!

    —যা তো ওঠ গিয়ে, চোখ বুজে গেয়ে দিবি।

    প্রত্যেকটা গান উতরোত কিন্তু প্রত্যেকবার তার ওই একই রকম হাত—পা ঠান্ডা। তিনি আগুনের মতো ফরসা। দীর্ঘাঙ্গী, শক্তপোক্ত, তখন থেকেই চেহারায় ব্যক্তিত্বের ছাপ। আর শ্রী পাতলা, শ্যাম, অনির্বচনীয় তার মাধুর্য, তার লাজুক নম্রতা। তাঁদের দু’জনের বন্ধুত্বের একটা ভুল ব্যাখ্যা সে সময়ে করেছিলেন হোস্টেলের সুপার। শ্রীর কথা তো ওঠেই না, তিনিও জানতেন না এ রকম হয়। হতে পারে। জ্ঞানোদয় হল সুপারের কথায়। দু’জনেই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। পরমুহূর্তেই শ্রী ধপাস। জল আন। বাতাস কর, ডাক্তার ডাক।

    ডাক্তার আসতে তিনি সোজা সুপারের দিকে আঙুল তুলে বলেছিলেন—ডক্টর মজুমদার, জেনে রাখুন এই ভদ্রমহিলা আমাদের দু’জনের বন্ধুত্বকে নিয়ে খোলাখুলি এমন বিশ্রী কথা বলেছেন যে, আমার মতো শক্ত নার্ভ স্পোর্টস—উওম্যানের মাথায় আগুন জ্বলে গিয়েছিল, আর শ্রীর কথা তো জানেনই, লো—প্রেশার, লো শুগার, ভিতু, অত্যন্ত ভদ্র টাইপের মেয়ে। ডাক্তার সুপারের দিকে চেয়ে বলেন—মিসেস সিং আপনি যে এত বড় কথাটা টপ করে বললেন, আপনার হাতে কোনও প্রমাণ ছিল?

    —এ টাইপগুলো আমার জানা। একজন পুরুষালি, একজন মেয়েলি।

    —তা থেকেই এমন একটা কংক্লুশনে এসে গেলেন? বলতে পারলেন? লজ্জা করল না? আপনি জানেন না, এই বয়সের মেয়েদের, ছেলেদের মধ্যে খুব নিবিড় বন্ধুত্ব ডেভেলপ করেই থাকে। ইনসেপারেবল কাপল খুব দেখা যায়। কিন্তু তার মানে অত সরল সোজা নয়। তার জন্য জন্মগত প্রবণতা চাই। সুপার আছেন, এদের ভালমন্দের দিকে নিশ্চয় নজর রাখবেন। কিন্তু হঠাৎ কোনও কারণ ছাড়া অনুমানের ওপর নির্ভর করে এসব…

    জ্ঞান ফিরতে শ্রী বলেছিল—আমি আর তোর সঙ্গে এক ঘরে থাকব না সর্বাণী।

    —কিন্তু তাতে তো ওই মহিলা জিতে যাবেন।

    —কে জিতল না জিতল তাতে আমার কিছু এসে যায় না।

    —কিন্তু তাতে প্রমাণ হয়ে যায় যে ওঁর কথায় সত্যি ছিল।

    —কী করে?

    —তুই—ই ভাব।

    শেষ পর্যন্ত নতুন আসা ফার্স্ট ইয়ারের একটি মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ওরা থ্রি—সিটার করে নেয় ঘরটাকে। সেই মেয়ে গার্গী—এখনও ক্যালিফর্নিয়া থেকে তাঁকে চিঠি লেখে। শ্রীলা হয়তো বন্ধুত্ব বাঁচাতে অতটা পটু ছিল না। তার মনের মতো, তার বিশ্বাসের যোগ্য হওয়া বড় শক্ত ছিল।

    কিন্তু সেই জোর, সেই ব্যক্তিত্ব আজ কোথায় তাঁর? অতদিন, প্রায় পনেরো—ষোলো বছর অধ্যক্ষগিরিও তো করেছেন, বাচ্চারা মেনেছে, তাদের বাবা—মা’রা মিসেস সেনের ব্যবহারে খুশি, তাঁর কাছে অভিভাবকদের যতটা প্রশ্রয় ছিল, অতটা তো সাধারণত এসব স্কুলে থাকে না। বাইরে থেকে চেহারাটা যতই গম্ভীর জোরালো মনে হয়, ভেতরে ভেতরে তো তা আর নেই তিনি! বাইশে বিয়ে সাতাশে স্বামীহারা সন্তানহীন। সেই সময়ে একদিকে স্কুল একদিকে মা, ক্যান্সারের রোগী নিয়ে তিনি কতটা ভেঙে গিয়েছিলেন সেকথা শ্রী জানত। শ্রী—ও তো এক হিসেবে তাঁর আশ্রয় ছিল। আবার শ্রীর স্বামী যে তাকে অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সঙ্গে দেখে, মেয়েকে প্রশ্রয় দিয়ে মাথায় তুলেছে, অতিরিক্ত মদ্যে ও নারীতে ডুবে থাকে তা—ও তিনি জানতেন। একমাত্র তাঁকে, তাঁকেই শ্রীর স্বামী নবগোপাল কিছুটা শ্রদ্ধা—সমীহ করতেন। যে—কোনও বড় সিদ্ধান্তে তাঁর মতামত নিতেন। নবগোপালকে তিনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এমন একটা বিশ্বাস শ্রীর ছিল। বলত—কী জানিস, ও ভেতরে ভেতরে খুব দুর্বল, ইনসিকিওর, অনাথ ছেলে, খুব স্ট্রাগল করে এত উঁচুতে উঠেছে, আমার কাছ থেকেও তেমন কোনও জোর পেল না। তারপর একটু থেমে বলত—আমার জায়গায় তুই থাকলে ওর ভাল হত। সেই ভালটার কথা যে কত দিন কতভাবে বলেছে শ্রী।—মেয়েটাকে আমায় অবজ্ঞা করতে শেখাচ্ছে সর্বাণী, কীভাবে কথা বলে!

    —ঠিক আছে আমি দেখছি—

    —বাড়িতে মাতাল হয়ে ঢুকছে, লোকজন সব দেখছে, মেয়ে দেখছে, কী লজ্জা, কী চিন্তা সর্বাণী!

    —ঠিক আছে আমি দেখছি…

    —মোটে চোদ্দো বছর…মেয়েটা একটা পাঞ্জাবি ছেলের সঙ্গে বিশ্রীভাবে ঘুরছে। ওর বাবাকে বলতে গেলে বলে—সভ্য উন্নত দেশে চোদ্দো থেকেই ছেলেমেয়েরা যৌন—স্বাধীনতা পায়। এটা তাদের যৌবনোদগমের সময়। এখন তো নতুন পাওয়ার আনন্দ, শখ মেটাতে চাইবেই।

    —আমি দেখছি।

    সে সময়ে কিন্তু পেরেছিলেন। নবগোপাল একটু যেন ক্ষমা প্রার্থনার ভঙ্গিতেই বলত—ছেড়ে দেব, আস্তে আস্তে সব ছেড়ে দেব, দেখো সর্বাণী। একটা রুগণ, ভিতু, সিঁটকে থাকা, প্রাণহীন মহিলা যদি স্ত্রী হয় তা হলে মানুষের এই অবস্থাই হয়।

    —ও—ও তো বলতে পারে নবগোপাল, একটা রুক্ষ, রুঢ়ভাষী, মদ্যপ মানুষ স্বামী হলে মেয়েদের এই অবস্থাই হয়!

    —তা অবশ্য বলতে পারে। মানলাম। কিন্তু অত ভুগলে কি চলে? তুমিই বলো, বিয়ের অভিজ্ঞতা তো তোমারও আছে।

    —ভুগছে সেটা কি ওর দোষ? ওর শরীরটাই ডেলিকেট। যাতে জোর পায় তার জন্য ডাক্তার—টনিক সবার বড় শান্তি—টনিকের ব্যবস্থা করো। কী ব্যবহারই করো—দেখতে পাই না মনে করেছ নাকি?

    —দেখো সর্বাণী, ওর শরীর ডেলিকেট, মন ডেলিকেট সেটা তো আমার দোষ নয়। আমি কেন তার জন্য ভুগব। আমি বাড়িতে যা না পাই, স্ত্রীর কাছ থেকে যা না পাই—তা অন্য জায়গায় পেলে আদায় করে নেব।

    একটা ডোন্ট কেয়ার বারফাট্টাইয়ের মতো করে বলেছিল কথাগুলো। তিনি রাগে ওখানে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। শ্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা হত রোজই। যে সময়ে নবগোপাল থাকত না সেই সময়ে। দশ—বারো দিন পর দুম করে স্কুলে এসে হাজির।

    —তুমি?

    —কী হল হঠাৎ তোমার? যাচ্ছ না! বন্ধুর শরীর মন নিয়ে ভাবনা—চিন্তা সব ভ্যানিশ?

    তিনি চুপ করে কাজ করতে লাগলেন।

    —তোমরা দু’জনে দু’জনকে বিয়ে করলে না কেন সর্বাণী? পার্ফেক্ট জুটি।

    —আচ্ছা, সত্যি বলো তো তোমাদের মধ্যে কোনও লেসবিয়ান রিলেশন ছিল কি না।

    ভেতরে ভেতরে চমকালেও তিনি অখণ্ড মনোযোগে কাজ করে যেতে থাকলেন।

    —শনি—রবিবার সন্ধেগুলো যা হোক একটু খোলামেলা গল্পগুজব করে হাসি—ঠাট্টায় সময়টা কাটছিল। আর কাটবে না। উইকএন্ডগুলো ক্লাবেতেই…নবগোপাল উঠে পড়ল—আচ্ছা তুমি কাজ করো। আমি উঠি।

    আর তখনই সর্বাণী বুঝতে পারলেন প্রথম, কোনও অজ্ঞাত কারণে নবগোপালের ওপর তাঁর একটা প্রভাব আছে।

    অপারেশন থিয়েটারে ঢোকবার আগে শ্রী বলেছিল—স্বামী নেই, মেয়ে নেই, তুই শুধু তুই—ই আছিস আমার। সর্বাণী কেউ আমায় না চাইলেও আমি তো ভাবনা এড়াতে পারি না। মানুষটা অ্যালকোহলিক হয়ে যাচ্ছে, মেয়েটা উচ্ছন্নে যাচ্ছে—তুই বাঁচা।

    গেল, আর ফিরল না।

    দু’বছর সমানে যাতায়াত করেছেন, শ্রীর সংসারটাকে একেবারে মাথায় করে রেখে দিয়েছিলেন। দিব্যি চলছিল সব, নবগোপাল বাড়ি আসছিল, মাতাল হচ্ছিল না, মেপে মেপে খেত, তিনিও একটু—আধটু খেতেন। আর মিমি? অনোহিতা। নামটা তাঁরই দেওয়া। অনেক ভালবেসে। জরথুস্ত্রীয় ধর্ম সম্পর্কে পড়তে পড়তে পারস্যের প্রাচীন সব দেব—দেবীর প্রসঙ্গে পেয়েছিলেন নামটা। অনোহিতা। জরথুস্ত্র—পূর্ব সময়ের দেবী। অনেকটা আমাদের সরস্বতীরই মতো। গল্প করছিলেন শ্রীর কাছে। তোর মেয়ে হলে নাম রাখব—অনোহিতা। দারুণ পছন্দ শ্রীর। তা সেই অনোহিতা মায়ের মৃত্যুর পর একটু তো সমঝেছিল। তাঁকে ভয়ও করত, মানতও আর ভালবাসত বলেই তো তিনি জানেন। কোনও জানাটাই সম্পূর্ণ নয় দেখা যাচ্ছে। বাবার সঙ্গে বিয়ের পর খ্যাপা, উন্মাদ মতো হয়ে গেল। অথচ নবগোপাল যখন প্রস্তাবটা দিয়েছিল তখন ওদের দু’জনকেই বাঁচাবার, ওদের একটা ঘর দেবার তাগিদ থেকেই তো তিনি রাজি হয়েছিলেন। তাঁর নিজের দিক থেকেও কি একেবারে কিছুই ছিল না? একলা থাকতে কার ভাল লাগে! শুকনো জীবন কার ভাল লাগে? এ একটা গড়া সংসার, চেনা মানুষ, অনেকটা তাঁরই হাতে গড়া। একমাত্র নরগোপালের সঙ্গে নিভৃত সম্পর্কের ব্যাপারে তাঁর একটা গূঢ় শুচিবাই ছিল।

    —কী করে? প্রিয়তম বন্ধুর স্বামী যে!

    —আমি আসছি যাচ্ছি। বেশ তো চলছে, চলুক না!

    নবগোপাল অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে বলেছিল—তুমি কি জানো সর্বাণী, গত পাঁচ—ছবছর শ্রীর সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক ছিল না। আর পাঁচ বছরই বা কেন, সারা জীবন কতটুকুই বা পেয়েছি! আমার কি স্ত্রীর মতো স্ত্রী পাবার অধিকারও নেই?

    খুব অপ্রস্তুত সর্বাণী। দ্বিধা কাটিয়ে বলেছিলেন—তোমার চরিত্র নিয়ে ও যা শুনত তাতে বিতৃষ্ণা আসাই সম্ভব।

    —তুমি যদি আসো, শুনবে না।

    —কথা দিতে পারো?

    —হানড্রেড পার্সেন্ট।

    —ড্রিংক, স্মোকিং?

    —স্মোকিংটা তো তেমন কিছু ব্যাপার নয়, ড্রিংকটাই। ছেড়ে দেবার ইচ্ছে আছে। শরীর, অভ্যাস বাদ সাধে। আমি চেষ্টা করছি। করব।

    —তোমার ওই উদ্ভুটে—বিদঘুটে ধারণাগুলো মেয়ের মাথায় ঢোকাবে না?

    —দিস ইজ ডিফিকাল্ট। ঢুকিয়ে ফেলেছি যে। এখন উলটো আচরণ করলে ও… আমি জানি না—সর্বাণী চেষ্টাটা তুমিই করো। আমি হেল্প করব।

    ***

    —তোরা আমাকে আনলি কেন?

    পরদাগুলো সরিয়ে এখন যথেচ্ছ আসতে দেওয়া হচ্ছে পাকা আপেলের মতো সকালের রোদকে। একটা চেয়ারে বসে তনিকা একটা বই পড়ছিল। শুনতে পেল ক্ষীণ গলায়—তোরা আমাকে আনলি কেন?

    তনিকা মুখ তুলে তাকাল—ফেরত যাবি? যা! অ্যালকোহলের সঙ্গে কড়া ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ভুলিয়ে ভালিয়ে খাইয়ে বাড়ির থেকে বাইরে কোথাও ডাম্প করে দিচ্ছিল। নেহাত আমরা জানতে পারি তাই। যেতে চাস যা। আপাতত তালা ঝুলছে। ভাম বম্বে গেছে।

    —কেন?

    —মালা জপতে বোধহয়। কোনও হাই—টেক গুরুর কাছে মেডিটেশন শিখবে।

    —এখানে আনলি কেন?

    পাতা উলটিয়ে তনিকা বলল—এটাই তোর বাড়ি বলে। সবচেয়ে সোজা কারণ।

    —এটা আমার বাড়ি নয়।

    —তোর বয়সটা এখন আর বাও কি তেও নেই, এটা বুঝতে চেষ্টা কর।

    —বাট আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু স্টে হিয়ার।

    —বেশ তো আমার ঘরে থাকবি? পার্ক সার্কাস? মিসেস উইলিয়ামসের গাউনচ্ছায়ায়।

    —ওই ভদ্রমহিলা কে রে?

    —কোনজন?

    —ওই যে অ্যাকাডেমিতে আমার নাম ধরে ডাকলেন—অনোহিতা, এটা মারামারি করার জায়গা নয়।

    —উনি একজন বেশ নামকরা চিত্রশিল্পী।

    —উনি কী করে আমাকে চিনলেন?

    —আন্দাজে।

    —মানে?

    —নিশ্চয়ই আমি ওঁকে কিছু বলেছিলাম যা থেকে ক্লেভার—গেস করে নিয়েছেন একটা।

    —কতদিন জানিস ওঁকে?

    —খুব অল্প, দু’—এক দিন।

    —তারই মধ্যে আমার কথা নাম—ধাম বলে দিলি? বন্ধুত্বের মধ্যে একটা প্রাইভেসি থাকবে না?

    —নামের মধ্যে প্রাইভেসি থাকে আমার জানা ছিল না। ওইসব ছোটা সাকিল, রাজু ভাই, আফতাব ভাই—এদের নামেতে অবশ্য থাকে। তুই ভেবে দ্যাখ তুই কোন শ্রেণীতে।

    —তুই নিশ্চয়ই শিগগিরই বম্বে যাচ্ছিস!

    —কে বললে? কেন? এবার আশ্চর্য হয়ে তনিকা মুখ তুলল।

    —না, ওই ভাম যাকে বলছিস তার সঙ্গে ভাব জমাবার জন্যে, তোর কেরিয়ার, তোর ছবি, এগজিবিশন—টন, বিক্রি…সবই তো…।

    —আমার এসবের জন্যে ভাম লাগবে না। তোর লাগতে পারে অবশ্য।

    —কাকুর স্টুডিয়োতে তুই গিয়েছিলি—আমি জানি, আমাকে তোদের রাস্নাই বলেছে।

    —যাওয়ার মধ্যে অস্বাভাবিক কী আছে? আমার টিচার। তাঁর ছবি আঁকার প্রসেস দেখবার জন্যে তিনি যদি উদার আহ্বান জানান—প্রত্যাখ্যান করাটা কি ঠিক?

    —তারপর ‘আ গলে লাগ যা—’

    —মিমি, তোকে একটা কড়া কথা বলবার সময় হয়েছে। আমি তোর মতো সস্তা, মিন নই।

    —আমি সস্তা? আমি মিন?

    —মূলত না। কিন্তু যেভাবে চলছিস, তাতে লোকের এই ধারণাই হবে, আর ধারণা হলে লোকে ক্রমশ তোর সস্তামির মিননেসের সুযোগ নেবে। যেমন নিচ্ছে।

    —ঠিক আছে আপাতত তোর কথাগুলো হজম করলাম। পরে উত্তর পারি।—আপাতত বল ভাস্কর চক্রবর্তীর স্টুডিয়োতে গিয়ে তুই কী পোজ দিলি!

    —আমি কোনও পোজ দিইনি তো! তুই দিয়েছিস দেখলাম। দু’—চারটে চারকোল স্কেচ, ইংক স্কেচ, আমি নিজে ছবি আঁকি, মডেল নিয়েও এঁকেছি। কিন্তু তোর পোজগুলো আমার ভাল লাগেনি। আর পোজ, তোর ভাস্কর চক্রবর্তীর পোজও দেখলাম, বাথরুমে চান করতে ঢুকে বললে—তনিকা, আমার পিঠটাতে একটু সাবান ঘষে দেবে?

    —তারপর?

    —তারপর তো আমি আর জানি না! প্রচণ্ড বৃষ্টি আসছিল। রাগে পাগলার মতো হুড়মুড় করে বেরিয়ে যে বাসে পারলাম উঠে পড়লাম। এসপ্ল্যানেডে দাঁড়িয়ে ভিজতে লাগলাম ভিজতে লাগলাম ভিজতে লাগলাম…সারা রাত ভাবতে লাগলাম ভাবতে লাগলাম…ভাবতে লাগলাম…

    —কী এত ভাবলি?—ছোট একটু হাসি ওর গলায়।

    —এই, তুই কোথায় চলেছিস…আমি কোথায় চলেছি…জীবন…পৃথিবী কোথায় চলেছে!

    —এত ভাববার কী আছে! জীবন…পৃথিবী কিছুর ওপরই আমাদের কোনও কন্ট্রোল নেই। মাঝখানে একটা হাইফেনের মতো আমাদের জীবন। যে যেরকম ভাবে পারি এনজয় করব। এর মধ্যে ভাবনার জায়গা কোথায়?

    —আমার মনে হয় ভাবনার আছে, তোর মনে হয় নেই—এটাই আমাদের তফাত। তোকে ভাস্কর চক্রবর্তী কোলে বসিয়ে চুমো খেল। তুই তার গলা জড়িয়ে ধরলি, আমাকে পিঠে সাবান ঘষতে বলল—আমি ঘেন্নায় অপমানে পাগল হয়ে গেলাম।…এখন মুখ—টুখ ধো, খাওয়া—দাওয়া কর। মনে হচ্ছে অনেকদিন কিছু জোটেনি।

    —কে বললে? কালই সুলেমনের বিরিয়ানি খাইয়েছিল, ড্রিংকটার পরে। দা—রুণ। অনোহিতা ফিক করে হাসল।

    রাগত চোখে প্রায় অবিশ্বাসের চোখে তার দিকে তাকিয়ে তনিকা মুখ ফিরিয়ে নিল। বাইরে রান্নাঘর পর্যন্ত গিয়ে বলল—পঞ্চমীদি, মিমি উঠেছে ওর খাবারটা…

    —কী খাবে?

    —যা খায় সাধারণত, তাই দাও না। অত কী।

    ট্রের ওপর সব সাজিয়ে দিল পঞ্চমী। ট্রেটা নিয়ে অনোহিতার ঘরে ঢুকল। মুখে ব্রাশ, নাইটিটা কাকতাড়ুয়ার জামার মতো ঢলঢল করছে, অনোহিতা বলল—যাগ, তুই হেঠেঠিৎ। ভয় করথিল হাবার টিনি না আঠেন। অর্থাৎ যাক তুই এসেছিস। ভয় করছিল আবার তিনি না আসেন।

    মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন। ট্রেটা টেবিলে রাখল তনিকা।

    মুখ—টুখ ধুয়ে তিনি এলেন—চোঁ করে দুধটা খেয়ে নিলেন—আঃ, ঠান্ডা দুধ, ভ্যানিলা দেওয়া—কতদিন খাইনি রে! তা নবগোপালের মিস্ট্রেসটি এখন কী করছে?

    এক সেকেন্ড উত্তর দিতে দেরি হল তনিকার—ভাল করে চোখ ধুসনি মিমি। তোর বাঁ চোকে পিচুটি লেগে আছে।

    —ইঃ খারাপ খারাপ কথা বলিস কেন? চোখে ময়লা বললেও তো বোঝা যায়।

    —বেশ করেছি, বলেছি, যে নিজের মাকে নবগোপালের মিস্ট্রেস বলে, তার চোখে পিচুটিই হয়, তার কানে খোল নাকে শিকনি।

    —আর হাতে কুষ্ঠটা বললি না? ভুলে গেলি?

    —সব মুখ দিয়ে কি আর অভিশাপ বেরোয়?

    —তা মন্দ কী বলেছি? ও আমার নিজের মা কবে থেকে হল?

    —তোর নিজের কথাই কোট করছি, নইলে সত্যি তো নিজের মা নন।

    —কোট? কী কোট?

    —নিজের মায়ের ওপর তো নালিশের শেষ ছিল না তোর। সব সময়ে শুয়ে থাকে, একটা ভাল কিছু খাবার বানিয়ে দিতে পারে না। বাবা রাত্তির বেলা বাড়ি ফিরলে কাছে যেতে দেবে না। আন্টিমাসি যদি আমার নিজের মা হত!—বলিসনি! আমার মাথার ক্যাসেট রিপ্লে করলাম। নিজেরটা রিভিউ করলে তুইও পেয়ে যাবি।

    —বলেছিলাম বুঝি! তা হবে! আসলে তখন তো মাকড়সা জাল বুনছে—মাদিটা ধরা পড়েই আছে, মদ্দাটাও পড়ো পড়ো। কাজেই খুদে মাছিটার জন্যেই যত জাল। আর দ্যাখ তনিকা, মা সম্পর্কে ও রকম অনেক নালিশই ছেলেমেয়েরা করে, তার মানে এই নয় তারা মাকে ভালবাসে না। কেমন চালাকিটা করল? নবগোপালকে সরিয়ে দিল লন্ডন, মিমিরানিকে এক্সকার্শনে পাঠিয়ে দিল সুন্দরবন। কোস্ট ক্লিয়ার, এবার প্রাণের বন্ধু শ্রীর নাক থেকে অক্সিজেন—মাস্কটা খুলে নিয়ে প্রাণটা বেরিয়ে গেলে আবার পরিয়ে দাও। কম্মো ফতে! না কী বলে কেল্লা ফতে!

    শুনতে শুনতে তনিকার চোখ বড় বড় হয়ে যাচ্ছিল। সে একটু পরে বলল—তুই যখন সেবার সুন্দরবনের বাঘ দেখতে গেলি—তখন তো একবারও তোর মুখে শুনিনি কেউ তোকে জোর করেছে। এমনকী মাসির অপারেশন হবে তা পর্যন্ত জানতাম না।

    —ঠিক যেমন অপারেশনটার কথা জানতিস না, তেমনই মিমি দু’ দিনের জন্যে তো যাচ্ছিস, ঘুরে আয় না, আমি তো আছি—টাও জানিস না।

    —তো তার থেকে তুই এই কংক্লুশনে এসে গেলি যে…তুই একটা রাক্কুসি মিমি। ঠিক একদিন তোর রাক্কুসিটা তোর চেহারার ওপর ফুটে উঠবে।

    —ছবির ওপর ফোটে, আসল চেহারায় না, ‘ডরিয়ান গ্রে’ পড়িসনি? ‘পিকচার অব ডরিয়ান গ্রে?’ বলতে বলতে ওমলেট দিয়ে পাউরুটির টুকরো গেঁথে মুখে পুরল অনোহিতা।

    —ও হ্যাঁ, তনিকা বলল—তোর রবি শাস্ত্রীকে আমি ছেড়ে দিয়েছি।

    তাড়াতাড়ি পাউরুটিটা গিলতে গিয়ে বিষম খেল অনোহিতা। তনিকা জলের বোতল আনল।

    —ছেড়ে দিয়েছিস?

    —ধরিইনি কোনওদিন, ও—ই তনিকা তনিকা করে আসত, আমার ভাল লাগত ওকে। হ্যাঁ একটু—আধটু ঘোরাঘুরি করেছি, কিন্তু যেদিন বুঝতে পারলাম ও তোর সঙ্গে ইনভলভড আর ঘেঁষতে দিইনি।

    —তুই কি আরমানের কথা বলছিস?

    —ইয়া। হু এলস।

    চোখ সরু করে অনোহিতা বলল—ও রবি শাস্ত্রী কবে থেকে হল?

    আমাদের আর্ট কলেজের ছেলেরা ওকে তা—ই বলত। এই তনিকা, রবি শাস্ত্রী তোর খোঁজ করছিল, এই তনিকা কাল রবি শাস্ত্রীর সঙ্গে কোথায় যাচ্ছিলি—এই।

    চোখ আরও সরু করে অনোহিতা বলল—ও আমার সঙ্গে ইনভলভড তোকে কে বলল? জানলি কী করে?

    —ও—ই বলে থাকতে পারে!

    —বলে থাকতে পারে? তার মানে বলেনি। তনিকা তুই? তুই?

    —যে ভাবেই হোক জেনেছি। ব্যস, এরপর আর আমার সঙ্গে কোনও রকম বেয়াদবি করবি না। আমি আন্টিমাসি নই। সহ্য করব না।

    ফোন বাজছে, তড়াক করে উঠে পড়ল অনোহিতা—বাপি, নিশ্চয় বাপি।

    —বাপি আমি মিমি বলছি।

    —মিমি কি তোমার ডাকনাম?

    —হ্যাঁ। আপনি?

    —আমার নাম অদিতি সরকার। তোমার বন্ধু তনিকা আমায় চেনে। তুমি ভাল আছ?

    —ভাল থাকব না কেন?

    —না, কালকে তোমাকে খু—ব খারাপ অবস্থায় দেখেছি তাই জিজ্ঞেস করছিলাম।

    —কাল…আপনি…আমাকে

    —ভাস্করদার তারাতলার স্টুডিয়োয়, রাত তখন প্রায় এগারোটা। একরকম অচৈতন্য ছিলে, তাই জিজ্ঞেস করছিলুম।

    —আ…আমি ঠিক হয়ে গেছি।

    —আর একটু ভাল হয়ে ওঠো, তারপর একদিন তনিকা আর তুমি আমার স্টুডিয়ো ‘চিত্রভানু’তে আসবে, হ্যাঁ? নিমন্ত্রণ রইল। ঠিক আছে, রাখছি।

    ফোনটা থপাস করে রেখে দিয়ে নিজের জায়গায় এসে বসল অনোহিতা।

    তনিকা বলল—তুই কী করে ভাবলি তোর বাবার ফোন, আই. এস. ডির রিং ও রকম হয়?

    —উনি…উনিও কালকে ওখানে গিয়েছিলেন?

    —কে?

    —অদিতি সরকার?

    —হ্যাঁ, তা ছাড়া ওঁর স্টুডিয়োর আর একজন আর্টিস্ট শৌনক ভিভিয়ান বিশ্বাস। খুব প্রমিসিং…

    —ও—ও?

    —হ্যাঁ।

    —কেন?

    —তুই জানিস না মিমি কী মেস তুই করেছিস। চতুর্দিকে কী সাঙ্ঘাতিক স্ক্যান্ডাল?

    ভাস্কর চক্রবর্তীর বাড়ি থেকে ওঁর স্ত্রী ছেলে আন্টিমাসিকে দিনের—পর—দিন গালিগালাজ করেছেন। তোর সো—কলড কাকু—আন্টিমাসি রাত দশটায় ফোন করে বলেন—এ বেয়াদপ, বেহায়া ছুঁড়িটা আমার স্টুডিয়ো থেকে কিছুতেই যাচ্ছে না। আমার ওপর হামলা করছে, আমার জীবন, কেরিয়ার সব সর্বনাশ করে দিল। ওকে কড়া ঘুমের ওষুধ দিয়ে বাইরে ফেলে দিচ্ছি। তোমরা নিয়ে যাবে তো যাও। না হলে মাঝরাতের ট্রাক—ড্রাইভাররা তুলে নিয়ে যাবে। তা উনি কী করবেন—একা? তার ওপর এই তো রিলেশন করে রেখেছিস। উনি অদিতিদির সঙ্গে যোগাযোগ করেন, আমার সঙ্গেও। অদিতিদি শৌনককে নিয়ে এসেছিলেন।

    অনেকক্ষণ অনোহিতা বড় বড় চোখ করে শুনল। তারপর। এক ছুটে বিছানায় গিয়ে মুখ গুঁজে আছড়ে পড়ল।

    বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল তনিকা। পিঠটা কি কাঁপছে? কাঁদছে? না। সুদ্ধু মুখটা এই মুহূর্তে দেখাতে পারছে না। যাক লজ্জাটা তা হলে এখনও ওর আছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleট্রেকার্স – বাণী বসু
    Next Article জন্মভূমি মাতৃভূমি – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }