Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঝড়ের খেয়া – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প272 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঝড়ের খেয়া – ১৪

    চোদ্দো

    একটা চমৎকার শান্তি আজ! তাঁর হৃদয়টা এবার স্থির হয়ে এসেছে। আত্মবিশ্বাস বরাবরই আছে। মাঝে মাঝে ধাক্কা খায়। মানুষ জীবন কাটাতে কাটাতে কোথাও না কোথাও তো ভুল করে ফেলে। অন্যায় করে ফেলে, ফেলতেই পারে। কিন্তু বেশির ভাগ সময়েই সে একটা কৈফিয়ৎ খাড়া করে। সেই অন্যায়ই প্রকৃত অন্যায় যার জন্য নিজের মনের কাছে জবাবদিহি করতে হয়, কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়। পার পাওয়া যায় না। খুব ভাল করে মনের আঁতিপাঁতি খুঁজে দেখেন তিনি অনেক সময়ে। তেমন কিছু করেছেন কিনা। ভুল তো অনেক করেছেন। ভুল করেছেন খেলা ছেড়ে দিয়ে বা বলা ভাল খেলার সঙ্গে সম্পর্ক ছেড়ে দিয়ে। কেননা খেলা তো তিরিশের পরে ছাড়তেই হয়। দম নিচ্ছেন, দম নিচ্ছেন, মাটিতে হাত। হুইসল বাজল, মুহূর্তে বন্দুকের ভেতর থেকে গুলির মতো ছুটে বেরিয়ে যাচ্ছে সবাই। পাশে পাশে দৌড়োতে থাকছে খড়ির রেখা। কী আরাম! আহ! পৌঁছে গেছেন! দৌড়োতে দৌড়োতে দৌড়োতে দৌড়োতে লম্বা লাফ, বালিতে কোলে করে নিয়েছে এখন। পর্যাপ্ত, পর্যাপ্ত আহ্লাদ। লেখাপড়ায় যদি আর একটু খারাপ থাকতেন তা হলে বোধহয় স্পোর্টস—কেরিয়ারটা চালিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু সেটা তো ভালই হচ্ছিল। আরও মনোযোগ দাবি করছিল। দিতে ভালও লাগত। তা ছাড়া রোখ ছিল। দাদা বলেছিল—তোর দ্বারা কিচ্ছু হবে না, ওই হনুমানের মতো লম্ফঝম্প করেই জীবন কাটবে। এখন সেই দাদা কোথায়? তাদের আদরের বনির যখন বিয়ে দিয়েছিল বিশাল অঙ্কের ম্যারিন ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে, তিনি রাজি হয়েছিলেন। সেটা আরেকটা ভুল। পাঁচ বছর, মাত্র পাঁচ বছর, চেনাশোনা হতে—না—হতেই কী অজ্ঞাত রোগে সাগরেই চলে গেল। তারপর তিনি বি. এড. করলেন। এক মারোয়াড়ি বন্ধুর সঙ্গে মিলে একটা নার্সারি স্কুল করলেন। দু’—এক বছরের মধ্যেই স্কুল যখন রমরম করে দাঁড়িয়ে গেল, তখন একদিন স্কুলের টয়লেটে যেতে গিয়ে আয়নায় নিজের মুখ দেখে থমকে দাঁড়িয়েছিলেন। এ কার মুখ? একজন গম্ভীর গম্ভীর, খুব ফ্যাশনদুরন্ত হেডমিস্ট্রেস। প্রিন্সিপ্যাল। চোখে ভাবনা, ঠোঁট চাপা, ফরসা রং উজ্জ্বলতর, কেননা এখন আর মাঠে যান না। সন্ধেবেলায় সাউথ ক্লাবে টেনিস। ব্যস, এইটুকু। তাতে শরীরটা ফিট থাকে, কিন্তু কোথায় সেই প্রাণোজ্জ্বল হাসিতে ফেটে পড়া টেবল—চাপড়ানো অ্যাথলিট মেয়ে!

    কিন্তু শ্রীলার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া? এটা কি তাঁর ভুল, না অন্যায়? তিনি পাশে পাশে না থাকলে শ্রীলা যেটুকু পেরেছে সেটুকুও কি পারত? দু’জনেরই ভাল ভাল বিয়ে হবে কী খুশি দু’বন্ধু! গলাগলি করে হাসছে। আদতে দেখা গেল সর্বাণী চিরবিরহের জালে বন্দিনী। আর শ্রীলা যেন তেমন মধুর হাসে না আর। চেহারাটা শুকিয়ে যাচ্ছে, হাসিটা কেমন ধরা—পড়ে—যাওয়া ছিঁচকে চোরের মতো। চোখ খরগোশের মতো চকিত কখনও, কখনও নিবে—যাওয়া প্রদীপের মতো ম্রিয়মাণ। কী হয়েছে রে শ্রী? কিছু তো হয়নি! তুই তো…তোর বর তো দিনের পর দিন জলে। তুই আমার কাছে ছুটির দিনে সারা দুপুর, সারা সন্ধে থাক সর্বাণী।

    থাকতে থাকতে বুঝতে পারলেন কী এক অনির্দেশ্য গরমিল এদের দু’জনের মধ্যে। কিছুতেই যেন একটা বিন্দুতে এসে মিলতে পারে না। তাঁর শৈশব অমন ছিল না। যখন বাড়ি আসত, কতটা প্রতীক্ষা নিয়ে আসত। আর যখন তিনি ওর সঙ্গে ভাসতেন, তখনও কী আনন্দ! কোথাও কোনও খিঁচ ছিল না। একটু বেশি বয়সে বিয়ে করেছিল, তাঁর যদি বাইশ তো তার ছত্রিশ, সাঁইত্রিশ। চমৎকার স্বাস্থ্য, টেনিসে তো ও—ই স্থিত করাল তাঁকে। বলত, আর তেরোটা বছর চাকরি করব ব্যস। তারপর একটা ছোটখাটো কিছু ব্যবসা করব, আর লাইফ এনজয় করব। সে সুযোগ হল না। তাঁকে ‘ধনী বিধবা’ করে রেখে সে পাঁচ বছরের মধ্যে চলে গেল। নবগোপালকে শ্রীর যত খারাপ লাগত তাঁর কোনওদিনই তত খারাপ লাগেনি কিন্তু। আসল কথা নবগোপালের একটা স্পোর্টস ব্যাকগ্রাউন্ড ছিল। ক্রিকেট খেলত, পরে টেনিসে বেশি ঝোঁক এসে যায়। অনেক স্পোর্টসম্যানের একটা স্থূল একরোখা সব উড়িয়ে দেওয়া স্মার্টনেস থাকে। সূক্ষ্ম ভাবনাচিন্তা, পড়াশোনা, এসবের ধার ধারে না। কাঠখোট্টা। নবগোপাল ছিল ওই রকম। একত্রে টেনিস খেলতে খেলতে বোধহয় তাঁদের মধ্যে একটা সমঝোতা হয়ে যায়। তাই অসুখী শ্রীলা আর অশান্ত নবগোপালের মধ্যে হাইফেনের মতো তিনি বিরাজ করতেন। শ্রীলার সব সুখে দুঃখে তিনি তার পাশে থেকেছেন। পরামর্শ দিয়েছেন, ওদের দাম্পত্য—সংকটে মধ্যস্থতা করেছেন কতবার। মিমি যতটা শ্রীর হাতে ততটা তাঁর হাতেও মানুষ হয়েছে। মাঝখানে বাবার অনুপস্থিতির বড় বড় ফাঁক আর সেই ফাঁক আদরে প্রশ্রয়ে ভরিয়ে দেওয়া। দু’জনেরই। কী যে আঁকড়ে ধরেছিল শ্রী মিমিকে! ফুটফুটে মেয়ে—বাচ্চা সারা বাড়ি যেন ভরে রাখত, কোথায় উধাও তখন অশান্তি, ভয়, অস্থিরতার সেই চাপা হাওয়া। ঝলমল করছে সমস্ত বাড়ি। যত বড় হল, তত অন্য রকম হয়ে গেল। স্কুলে যখন ঝগড়া করত, এর চুলের ঝুঁটি ধরে, ওকে ভেঙিয়ে, তিনি শুধু সামনে এসে দাঁড়ালেই শান্ত। কত ভালবাসত তাঁকে?

    নবগোপাল যেদিন বিয়ের প্রস্তাব করল সেদিনই তাঁর খুব বিভ্রান্ত একটা অবস্থা হয়েছিল। তবে কি নিজের অজান্তে তিনি এই পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছিলেন? শ্রীর স্বামীকে কি তিনি ভেতরে ভেতরে কেড়ে নিচ্ছিলেন? তাঁর নিজের না হলেও নবগোপালের কি তাঁর ওপর আসক্তি জন্মাচ্ছিল? খুব গোপনে। কখনও প্রকাশ পায়নি! কক্ষনও না! শ্রী কি কিছু ভেবেছিল? আন্দাজ করেছিল? একদিন যখন শ্রীর সামনেই ওই পাগলি মেয়েটা ঠোঁট ফুলিয়ে বলল—তুমি কেন আমার মা হলে না আন্টিমাসি? ওর মুখের অবস্থা তক্ষুনি কী হয়েছিল তা তো তিনি দেখতে পাননি। তিনি তখন হালকা করে বকলেন ওকে—আমি মা? তা হলে আর তোমাকে এত আবদার আর শয়তানি করতে হত না মিমি!

    পরে কিন্তু শ্রী বলেছিল—ও ঠিকই বলেছে। আমি কারও মা হবার যোগ্য নই সর্বাণী।

    —ও—ই কি মেয়ে হবার যোগ্য?—মেয়েরও কিছু দায়িত্ব থাকে।

    —আমি যেমন মানুষ করেছি। দুর্বল হাত দুর্বল মন।

    —ছোট বয়সটা কেটে গেলে কিন্তু এসব চলে যায় রে শ্রী! ওর যাচ্ছে না। এটা ওর নিজের স্বভাবের ব্যাপার।

    এই পর্যন্তই। আর সেই ও.টি.—তে নিয়ে যাবার আগে—আমার কেউ নেই, মেয়ে, স্বামী…শুধু তুই—ই আছিস। কিন্তু আমাকে কেউ না চাইলেও আমি তো ভাবনা এড়াতে পারি না। মানুষটা অ্যালকোহলিক হয়ে যাচ্ছে, মেয়েটা উচ্ছন্নে যাচ্ছে—তুই বাঁচা।

    অপারেশন টেবলেই চলে গেল। কী বিবর্ণ সন্ধে! তিনি অপেক্ষা করে বসে আছেন। একা। বন্ডে সই করে চলে গেছে নবগোপাল। থাকত, কিন্তু জরুরি কল, যেতেই হবে—লন্ডন। বলে গেল—তুমি তো আছ!

    মিমি এসে আবদার ধরল—এক্সকার্শন, সুন্দরবন অঞ্চলে তিনদিন। সব নাকি ব্যবস্থা হয়ে গেছে।

    —যাই আন্টি?

    —মায়ের যে অপারেশন রে!

    —ও তো কিছুই না। আর তুমি তো আছ! জাস্ট দু’দিন।

    গিয়ে মুখ দেখলেন। শান্ত, করুণ, মধুর, যেমন কলেজের দিনগুলোতে, হোস্টেলের দিনগুলোতে ছিল। এই সূক্ষ্ম অতিভঙ্গুর মোমের মানুষটাকে কেউ বুঝল না? তাঁর শৈবাল বলত—মেয়েরা সাধারণত এমন হয় যে তাদের রক্ষা করা একটা খুব সুন্দর দায় হয়ে থাকে আমাদের। বেশিরভাগ ছেলেই এমনি বউ চায়। আমি চাইনি। কেননা আমার সে দায় নেবার উপায় নেই। তোমাকে খুব ভাল লেগেছিল, আকর্ষণীয়। কিন্তু একটু কথা বলেই বুঝতে পেরেছিলাম—ইউ ক্যান টেক কেয়ার অব ইয়োরসেলফ। এইটেই আমার কাছে তোমার সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট। তা শ্রী তো সেই রকম মেয়েই ছিল যাকে রক্ষা করতে আগলাতে ভাল লাগে নবগোপালদের। তা হলে? লন্ডনে ফোন গেল। শব রইল ঠান্ডাঘরে। বিপর্যস্ত নবগোপাল এসে প্রথম কথাই বলল—পারলে না? পারলে না বাঁচাতে!—তার গলাতে তখন আকুল খেদ। অনুশোচনা।

    কিন্তু এ কী কথা। তিনি বাঁচাবার কে? সবাই মিলে যাকে তিলে তিলে মেরেছ, তার মৃত্যু আমি আটকাব কী কবে নবগোপাল?

    কথাটা তিনি বলেছিলেন নবগোপালকে।

    মাথা ঝুলিয়ে বসেছিল অনেকক্ষণ।

    যাক তবু পোস্ট—মৃত্যু অনুশোচনাটুকু পেল শ্রী।

    আর মেয়ে?—কী হিস্টিরিয়া! কী হিস্টিরিয়া!—মা তুমি ফিরে এসো আর তোমাকে বকব না। মা তুমি ফিরে এসো তোমার সব কথা শুনব। হেঁচকি তুলে তুলে কাঁদছে।

    শ্রীর আলমারির চাবি তো তাঁর কাছে ছিল না। কত শাড়ি সেখানে না—পরা পড়ে রয়েছে। তিনি নতুন কালো নকশা পাড় টাঙাইল কিনে পরিয়ে দ্যান। লাল মোটে পছন্দ করত না শ্রী।

    —ওঠো মিমি, এবার ওঠো!

    —পারলে না! তোমার কাছে রেখে গেলাম! কত নিশ্চিন্তে গিয়েছিলাম!

    শ্রী মারা গেল, তার শেষ সময়ে স্বামী কন্যা কেউ ছিল না, সুতরাং তিনি অপরাধী। কী অদ্ভূত এদের প্রতিক্রিয়া!

    তারপর প্রতিদিন স্কুলে যাবার পথে, স্কুল থেকে ফেরবার সময়ে একবার করে ওদের সংসার গুছিয়ে দিয়ে আসা। তখন আস্তে আস্তে শান্ত হয়ে এসেছে মিমি। বাচ্চা মেয়ের মতো তাঁর কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ত এক এক দিন কলেজ থেকে ফিরে এসে। কী নিশ্চিন্ত নির্ভর! ছোটবেলা থেকেই মেয়েটা তাঁর বড় প্রিয় ছিল। যদিও তার ধরনধারণ পছন্দ করতে পারছিলেন না। একটু একটু করে কঠিন হচ্ছিলেন। খুব একটু একটু। বাগেও আসছিল কিন্তু।

    অ্যাডভার্টাইজিং পড়লি, এবার একটা চাকরিটাকরি কর, দেখবি খুব ভাল লাগবে। আর বিয়ের ব্যবস্থা তো তুই বললেই করতে পারি।

    —খবরদার আন্টিমাসি। বিয়ে আমি নিজে করব, যাকে ইচ্ছে, পছন্দ না হলে ছুড়ে ফেলে দেব। আবার করব, না—ও করতে পারি। এই জায়গায় কেউ হাত দিতে আসবে না।

    —তা বেশ। কিন্তু একটা কাজ নিয়ে তো থাকবি। তনিকা যেমন দ্যাখ ছবি নিয়ে মজে আছে!

    —সে তনির ট্যালেন্ট আছে। আমার যদি না থাকে তো আমি কী করতে পারি!

    —তা হলে তোর এখন প্ল্যান কী!

    —দেখি, ফিল্ম অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্সটা করব ভাবছি।

    মনে মনে বললেন—কবে তোমার কোর্স শেষ হবে মিমি! যথেষ্ট বুদ্ধিমতী মেয়ে। কিন্তু কোনওটা ভাল করে করবে না। এক একটা পড়তে যাবে, আলাদা আলাদা বন্ধু জোটাবে আর হি হি হা—হা। আড্ডা দিয়ে বাড়ি ফিরছে দশটা। এগারোটা একদিন। সেটা দেখেন বিয়ের পর।

    বাবার বিয়ের পরই খেপে গেল একেবারে। দু’জনে রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ফিরে এসে দেখেন বিছানা লন্ডভন্ড। চতুর্দিকে ভাঙা বাসন পড়ে আছে, রক্তাক্ত পায়ে মিমি বসে আছে।

    —এ কী! পঞ্চমী! মিমি একটা পা কেটেছে! কী করে?

    পঞ্চমী বলল—কী জানি, যেই তোমরা বেরিয়ে গেলে মাসি, অমনি সব ভাঙচুর শুরু করল। আমি তো নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে বসেছিলাম ভয়ে।

    ডাক্তার ডাকা হল, পা থেকে টুকরো টুকরো কাচ বার হল, ওষুধ হল, ব্যান্ডেজ হল। ক’দিন ঘরবন্দি। বেরোতে পারছে না। তিনি খাবার দিতে গেলে মুখ ফিরিয়ে নিল।

    বলল—পঞ্চমী দেবে।

    তিনি নবগোপালকে বললেন—সামলাও এবার।

    —এ রকম করবে তো বুঝতে পারিনি! তুমি পেরেছিলে!

    —একটুও না।

    নবগোপাল গিয়ে রাগ রাগ গলায় ডাকলেন—মিমি!

    উত্তর নেই।

    —এ রকম করেছ কেন? ভাঙচুর, চুরমার, নিজের পা—ফা কেটে একসা।

    —যাও যাও, নতুন বউয়ের কাছে যাও।

    —মারব এক থাবড়া। অসভ্যতা করবে না একদম। আমার নতুন বউ হতে পারে কিন্তু ও তোমার অনেক পুরনো মা, মনে রেখো। ও করতে চায়নি। আমিই জোর করেছি। আমার সংসার ভেসে যাবে, তুমি ভেসে যাবে বলে।

    —আমার কথা কাউকে ভাবতে হবে না—ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে সে।

    নবগোপাল মাথায় গিয়ে হাতটা রাখলেন, নরম গলায় বললেন—তোমার মা তো কিছুতেই আর ফিরে আসবে না। আমাদের স্বার্থে আর তুমি ভালবাসো বলে তোমার মাসিকেই এনেছি। এ নিয়ে কোনও কমপ্লিকেশন আমি কিন্তু সহ্য করব না। তুমি ছেলেমানুষ নও। উইটনেস হিসেবে তোমাকেও আমরা ডাকতে পারতাম। তোমার ওপর এত কনফিডেন্স ছিল আমাদের। তুমি সবই জানো, বলে রেখেছি, এমনকী কাউকে খাওয়াইনি পর্যন্ত। তোমাকে নিয়েই আমরা আজ খেতে যেতাম। এ কী? এ রকম করবে তাই বলে?

    মুখ গুঁজে ছিল, মুখ তোলেনি, খায়ওনি।

    —আনপ্রেডিক্টেবল—নবগোপাল বলেছিলেন।

    সকালে অবশ্য ফ্রিজ দেখে সর্বাণী বুঝেছিলেন ও খেয়েছে ঠিকই। পাউরুটির প্যাকেট খোলা, মাখন পড়ে আছে টেবিলে। দুধের গ্লাস সিঙ্কে নামানো, আইসক্রিমের থেকে স্ল্যাব কাটা, আপেল মনে হল একটা কম।

    যাক। আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।

    ঠিক হচ্ছিল না। তার ওপর ভাস্কর চক্রবর্তীর ব্যাপারটা বোধহয় বহুদিনের। শ্রীই প্রথম বলেছিল—খুব মিমি মিমি করে আদর করে, চকলেট আনছে, খাওয়াতে নিয়ে যাচ্ছে, আমার ভাল লাগে না সর্বাণী।

    —বলিস কী রে? বাবা অর্ধেক সময়ে থাকে না, মেয়েটা বাবাকে পায় না, একটা কাকু পেয়েছে বলে তো খুব খুশি ছিলি।

    —তখন বুঝতে পারিনি। এখন কেমন সন্দেহ হয়। তখন মিমি ছোট ছিল। এখন বড় হয়ে গেছে, ওর বাবার বন্ধু ওর কাছে আসবে কেন? বল তো? আর আর্টিস্ট মানুষ ওর অত কী গল্প ওই একটুকরো মেয়ের সঙ্গে।

    এমন নয় যে সবাই একসঙ্গে কোনও গল্পগাছা হত না। হয়তো শ্রী তিনি ভাস্কর সবাই আছেন পঞ্চমী চা—টা দিয়ে গেল। মিমি ঢুকল একটা র‍্যাপ অন পরে, অক্সিডাইজড দুল ঝুলছে কান থেকে—কাকু উ—উ—ব্যাগটা একদিকে চটি দুটো আরেক দিকে ছুড়ে ছুড়ে দিল। দুই গালে চকাস চকাস করে চুমু। ব্যস তারপরেই সে একা কথা বলবে কাকুর সঙ্গে। মা বা মাসি কথা বলতে চেষ্টা করলেই—দূর চলো তো আমার ঘরে কাকু। হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে যাবে।

    —আহ, আহ—কী হচ্ছে মিমি…এখানে তো বেশ সবাই গল্প হচ্ছিল।

    —দূর যত বুড়োটে বুড়োটে গল্প।

    —আমাদের বুড়ো বানিয়ে দিলি?

    আহ, আহ, করলে কী হবে, ভাস্কর চলে ঠিকই যেতেন।

    —ওপরে গিয়ে একবার দেখে আসব? শ্রী?

    —শ শ শ—শ্রী মুখে আঙুল রেখেছে। বলবে আমার ওপরে স্পাইগিরি করছ?

    তখন সর্বাণী পঞ্চমীকে ডেকে মিমির খাবার, আর তার কাকুর জন্যে আরও এক কাপ চা ওপরে পাঠিয়ে দিতেন।

    —পঞ্চমী, পায়ের শব্দ করতে করতে যাবি না। ভাল লাগে না।

    পঞ্চমী নেমে এল, কাগজ দেখতে দেখতে খুব সহজ গলায় সর্বাণী বলতেন—কী করছে রে মিমি?

    —ওহ, মিমির কথা আর বোলো না, বক বক বক বক। যত বকবকানি কাকুর সঙ্গে।

    —শুয়ে পড়েছে বোধহয় মিমি।

    —না তো! খাটের ওপর পা ঝুলিয়ে বসে বক বক…।

    দু’জনে দু’জনের দিকে তাকিয়ে হাসতেন। শ্রী বলত—ওহ মিমিটা না!

    সর্বাণী বলতেন—খাবার পছন্দ মিমির? ভাস্করবাবুকে চা—টা কোথায় দিলি?

    —কোথায় আবার? পড়ার টেবিলে। ওখানেই তো বসে আছেন উনি। খাবার আবার পছন্দ হবে না, তুমি নিজের হাতে করেছ না? পুডিং তো আগে এক চামচ কাকুকে খাইয়ে দিল।

    —ওঁকে তো এখানে সবই দিয়েছি।

    —দিলে হবে কী! সে তো উনিও বলছেন। ও আহ্লাদি কি শুনবে?

    এই রকম। শ্রী চলে যাবার পর বাড়াবাড়িটা নবগোপাল নিজের চোখে দেখলেন।

    —আচ্ছা ভাস্কর তুই এখনও সেই রকম ইয়ে রয়ে গেলি? মিমিটা পাগলি বলে তুইও কি ওর সঙ্গে পাগল হলি। কোলে বসবে কী রে তোর? একুশ—বাইশ বছরের মেয়ে।

    —একুশ—বাইশ। তোর মেয়ে দশ—এগারোর পর আর বাড়েনি।

    —ঠিকই—চিন্তিত মুখে বললেন নবগোপাল। সিগারেট ধরালেন, তারপর মুখ ফিরিয়ে বললেন—বলেছিস ঠিকই। কিন্তু তুই তো আর নব কার্তিকটি নোস। বি কেয়ারফুল ভাস্কর। আই ডোন্ট লাইক হোয়াট আই সি।

    সবটা মিমির সামনেই হচ্ছিল। মিমিকে শুনিয়েই।

    ভাস্কর মুখে হাসি ফোটাবার চেষ্টা করে হেলাফেলার সঙ্গে বলেছিলেন—দেখছিস মিমি। আর এসব মানায় না। বড় হয়ে গেছিস। বোঝ একটু!

    তারপর একদিন নবগোপালের পুনর্লন্ডনযাত্রা। প্রতিদিন অবাধ্যতা, উচ্ছৃঙ্খলতা বেড়ে যাচ্ছে যেন সর্বাণীকে দেখিয়ে দেখিয়ে। তিনটে ছেলে এল। ঘর বন্ধ করে তিনঘণ্টা কী করল কে জানে। দরজা খুলতে ভক ভক করে বিশ্রী সিগারেটের গন্ধ। আর তো সহ্য করা যায় না।

    —মিমি!—ছেলে তিনটে চলে গেছে। তিনি ডাকলেন—মিমি!

    —চোখ তুলে তাকাল।

    —কে ওরা?

    —কে আবার? বন্ধু! তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বলল।

    —দরজা বন্ধ করে রেখেছিলে কেন?

    —বেশ করেছি।

    —এখন বড় হয়ে গেছ, ছোটবেলার শাস্তিগুলো কিন্তু ভুলো না। আর একদিনও যেন না দেখি!

    —কে? কে তুমি এসব বলবার? আমাকে!

    —আমি কেউ হই বা না হই কথাগুলো শোনো। শুনে রাখো।

    —আমার মায়ের জায়গা কেড়ে নিতে লজ্জা করেনি?

    —মায়ের সঙ্গে দিনের পর দিন চূড়ান্ত অসভ্যতা করতে তোমার লজ্জা করেনি? মায়ের কথা তুমি বোলো না। তোমার এ সমস্ত নাটুকেপনা আমি বুঝি।

    —লাগাবে? লাগাবে বোধহয় এবার বাবাকে! সৎ—মা গিরি শুরু হয়ে গেল। আমি এখানে থাকব না।

    পরদিন সকালে দেখলেন নেই। সর্বনাশ!

    তিনি হতভম্ব। চেনাশোনা যত বন্ধুর নম্বর ছিল তাদের ফোন করলেন, তনিকার কাছে যায়নি, রমিতার কাছে যায়নি, অর্ণব, সৌকান্ত, অনীশ কেউ জানে না, তিনি ভাবছেন—এবার পুলিশে খবর দেবেন নাকি। ঝনঝন করে ফোনটা বেজে উঠল।

    —আপনি কে আমি জানি না জানতে চাই না। আমি ভাস্কর চক্রবর্তীর স্ত্রী। আপনাদের বাড়ির একটা শয়তান মেয়ে আমার স্বামীর সঙ্গে থাকছে তার স্টুডিয়োতে। মিস্ট্রেস। জানালাম। যা বিবেকে বলে—করবেন।

    যাক। এতদিনে ধাক্কা খেয়ে সেই ঘৃণ্য অধ্যায়টা শেষ হল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleট্রেকার্স – বাণী বসু
    Next Article জন্মভূমি মাতৃভূমি – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }