Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঝড়ের খেয়া – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প272 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঝড়ের খেয়া – ১৫

    পনেরো

    তনিকা পরেছে একটা নাগাল্যান্ডের র‍্যাপ অন। টপটা অবশ্য বিদেশি। টপও ঠিক নয়। স্লিপ গোছের, হাত—কাটা। ওপরে একটা লেস লেস উপরাংশ আছে তার, কিন্তু সে সেটা পরেনি। অক্সিডাইজড ধাতুর ওপর লাল পুঁতি বসানো ঝোলা দুল, গলায় দু’তিন ছড়া পুঁতির মালা, হাতে পরেছে একটা কাঠের মোটা বালা, কোনও একটা ট্রেড—ফেয়ার থেকে কিনেছিল। লাল রং। রাজস্থানি গালার বালা একটা, সেই সঙ্গে অক্সিডাইজড মোটাসোটা চুড়ি—বালার মধ্যবর্তী কিছু। পায়ে একটা ফটাস ফটাস চটি গলিয়ে নেয়। চেহারাখানা দেখবার মতো। লম্বা আয়না এ ঘরে নেই। মিসেস উইলিয়ামসের কাছে ওপরে চলল। শুকনো ঝাড়ন দিয়ে মুছে মুছে কাচ পালিশ করছেন উইলিয়ামস।

    —আন্টি, তোমার ঘরে কেউ আছে?

    —কী?—আমি একজন ভদ্রমহিলা, এই সকালে আমার ঘরে কে থাকবে?

    —উঃ। তনিকার ঠোঁট দুটো প্রসারিত হয়, —আমি তোমার লম্বা আয়নাটায় নিজেকে একটু দেখব।

    —ফ্র্যাঙ্ক! ফ্র্যাঙ্ক! বেরিয়ে এসো।

    তড়বড় করতে করতে সাদা ভুরুর ফ্র্যাঙ্ক বেরিয়ে আসেন।

    —কী ব্যাপার? কী ব্যাপার? ডাকাত?

    —টনিকার আজ সকাল থেকে পার্টি। শি হ্যাজ ড্রেসড আপ।

    —আরে দেখি দেখি!—ফ্র্যাঙ্ক ভাবলেন—তাঁকে পার্টি—সাজ দেখতে ডাকা হচ্ছে, তাড়াতাড়িই বেরিয়ে এলেন, চশমা গলাতে গলাতে।

    —আহ! জংলি কোনও পার্টি নাকি? উইথ অল সর্টস অব ট্রাইব্যালস! ইতিমধ্যে তনিকা শুট করে ঢুকে গেল। লম্বা আয়নাটা দেওয়াল থেকে ঝুলছে। পুরো চেহারাটা দেখা যায়। দুটো আঙুল ঠোঁটের ওপর চাপা দিয়ে সে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। এদিক—ওদিকে একটু ঘুরল। ফ্র্যাঙ্ক আঙ্কল—ই অবশ্য আয়নার কাজটা করে দিয়েছেন। এইটাই তার পছন্দ। ঠিক এইটাই। র‍্যাপ অনটার সঙ্গে টপটা একেবারে যাচ্ছে না। তার সরু সরু হাতে অনেকগুলো চুড়িবালা। বেশ ঢলঢল করছে। প্রথমেই তার হাতের ওপর চোখ পড়বে লোকের। চোখের কাজলটা সে একটু ধেবড়ে নিল। এবার মাথা ঝাঁকিয়ে চুলগুলো এলোমেলো করে দিল। যেটুকু বা যত্নের ছাপ ছিল, এবার সেটা চলে গিয়ে একটা বেশ ‘ঝড়ের কাছে রেখে গেলাম আমার ঠিকানা’ গোছের এফেক্ট। সে আন্টিদের হাত নেড়ে একছুটে নীচে নেমে যায়। তনিকা আজ ‘চিত্রভানু’তে যাচ্ছে।

    ঝড় বৃষ্টি গরম—সবই চূড়ান্ত হয়ে গেল বেশ কয়েক বার। পার্ক সার্কাসের রাধাচুড়াগুলো কিন্তু এখনও সমান সতেজ। লেক পেরিয়ে সে চিত্রভানুতে যাবে। দু’ধারে কৃষ্ণচূড়া। ট্যাক্সি ড্রাইভারকে সে বলল গাড়িটা একটু লেক—ক্লাবের দিকে রাখুন না।

    —কী করবেন?

    —আমি না আপনি। ওই যে ওই বেঁটে কৃষ্ণচূড়াটা! ওর তলার ডাল থেকে আমাকে একটু ফুল পেড়ে দেবেন?

    —আচ্ছা, আপনি গাড়ির মধ্যে বসুন।

    দিব্যি এনে দিল। একঝাঁক উজ্জ্বল হাসির মতো কৃষ্ণচূড়া।

    যখন নামল, বুকের ওপর ফুলগুলো আঁকড়ে নামল সে।

    একটা পার্কের ধারে বাড়িটা। বাইরে কিছু লেখা আছে নিশ্চয়। ঠিকানাটা সে জানে। কিন্তু এইসব অঞ্চলে ঠিকানা খুঁজে পাওয়া দায়।

    ওঃ ওই তো! একটা কঠের দরজা, তার সারা অঙ্গে ছবি আঁকা। নিশ্চয় ওইটা। শিয়োর, ওরই ভেতরে লেখা ‘চিত্রভানু’।

    দরজাটা আধখোলা ছিল। ঢুকেই সিঁড়ি। ডানদিক দিয়ে ওপরে উঠে গেছে। সিঁড়ি দিয়ে উঠে দেখল, একটা মস্ত বড় ঘেরা দালান, চারদিকে কাচ বসানো বড় বড় জানলা। দুটো—তিনটে ইজেলের সামনে কাজে মগ্ন দু’—তিনজন। পাশে উঁচু টুলের ওপর রঙের পেলেট।

    পেছন থেকে মনে হল—ওটাই শৌনক। ইচ্ছে করে চটিটাতে একটু শব্দ করে এগোল সে। একজন পেছন ফিরল।

    —দিদি আছেন?

    এবার শৌনক ফিরে তাকাল।

    —তুমি…সেদিনের তারাতলার সেই…মিমি…।

    —আমি তনিকা।—একটু ক্ষোভের সঙ্গেই বলল সে। কেন যে তার সঙ্গে মিমিকে লোকে গুলিয়ে ফেলে। একই ধরনের চেহারা ঠিকই, কিন্তু তারা তো এক দেখতে নয়! ইমপ্রেশনটাও এক হওয়ার কথা নয়। তা ছাড়া তার এই এতখানি লম্বা—চওড়া চুলটাই তো প্রথম দর্শনে তাকে চিনিয়ে দেয়।

    —স্যরি, আমার নামটাই গুলিয়ে গিয়েছিল। তোমাকে তো আগেও দেখেছি সেই অ্যাকাডেমিতে—দুর্দান্ত ছবিটা এঁকেছিলে…লাল বেড়ালের। ভার্মিলিয়নের সঙ্গে ঠিক কী কী মিশিয়েছিল বলো তো? ব্যাপক, বীভৎস।

    —দিদি নেই?

    —আসছেন! জাস্ট একটু পরে।

    আরও কতকগুলো ছেলেমেয়ে উঠে এল। কলকল করতে করতে একটা ঘরে ঢুকে গেল।

    তুমি…চটিটা—শৌনক বলল।

    —ওহ স্যরি।

    সে সিঁড়ির এক পাশে চটি জোড়া খুলে এল। একটু বেশি নীচে নামতে হল, কেননা প্রত্যেক ধাপে একজোড়া করেই জুতো বা চটি।

    বেশ শৃঙ্খলা। এই রকম ভাল লাগে তার। ছড়ানো ছিটোনো ব্যাপার তার দুটি চক্ষের বিষ। তবে হ্যাঁ বিশৃঙ্খলাও আবার। বিশৃঙ্খলা নয় বৈষম্য—যেমন তার ড্রেস।

    —ফুলটা কি দিদির জন্য এনেছ?

    —তোমার জন্যে নিশ্চয় নয়।

    তুলি রেখে ছেলেগুলো সব ঠা—ঠা করে হেসে উঠল। ভেতরের ঘর থেকে ওরা বেরিয়ে এল—আমাদের বাদ দিয়ে কী এত হাসি মারছিস রে? ডেকে নিবি তো! এবার ভাল করে চোখ পড়ল তনিকার ওপর। দু’—তিনজন ওকে চিনতে পারল বোধহয়? শৌনক বলল—এই কাজল, ওই রুদ্ধ মানে অনিরুদ্ধ আমরা রুদ্ধ বলি, এটা গিয়াস—গিয়াসুদ্দিন বলবন আর কী! প্রাক্তন সম্রাট। আর রুদ্ধ অ্যান্ড কোং এই তনিকা। আগামী দিনে আমাদের ভাত মারতে আসছে।

    —সত্যি, তনিকা তুই ‘চিত্রভানু’তে আসছিস। একটি মেয়ে বলল—কী ভাল হয়! জানিস তো এখানে আমরা মাইনরিটি। আমি আর চৈতালি ছাড়া আর কোনও মেয়ে নেই। এইবার দুই থেকে তিন হলাম।

    —এক ঘড়া গঙ্গাজলে তিন ফোঁটা চোনা—কাজল বলে ছেলেটা বলে উঠল…

    হংস মধ্যে বক বলতে পারতিস তো! রুদ্ধ বলল, এটাই চুজ করলি কেন?

    —আরে বক, হংস, হংসবলাকা ও সব এখন রবিঠাকুর থেকে হেমন্ত মুখোর গানে ঢুকে বসে আছে। লোকসাহিত্য থেকে এইটেকে টেনে তুললাম। পোস্ট—মড বলতে পারিস।

    —এই—এই—এই কাকে এত হিড়িক দিচ্ছিস রে…বলতে বলতে ওপরে উঠে এলেন অদিতি। সেই প্যান্ট আর কুর্তা। আঁকাআঁকির মধ্যে থাকলে বোধহয় উনি এমন ড্রেসই পরেন।

    —আরে! অনো…দূর তনিকা…সমস্ত মুখে একটা দীপ্তি ছড়িয়ে গেল।

    —আপনি আসতে বলেছিলেন…।

    —এই এই—দিদিকে আপনি বলছে রে। গিয়াস বলল—এবার বোধহয় আমাদেরও পেন্নাম করবে।

    —এই পেন্নাম বলতে নেই, বল কদমবুসি। পলিটিক্যালি কারেক্ট।

    —চন্নামিত্তিরও খেতে পারে।—কাজল উদাসভাবে বলল।

    —দিদি আমি যাচ্ছি।—তনিকা রেগে লাল হয়ে পেছন ফেরে…।

    —না, না কোথায় যাবে? তাড়াতাড়ি এসে হাত ধরলেন। শরীরের ভেতরে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল একটা।—ওদের কথা বাদ দাও। ওরা সব পাগল। খ্যাপা।

    —শেয়ানা পাগল! তনিকা বলল, ভাবলেশহীন মুখে।

    খুব একটা আনন্দের সাড়া পড়ে গেল ‘চিত্রভানু’তে।

    —এই যে বাবা, পথে এসো, এতক্ষণে ‘পাস—ওয়ার্ড’টা বললে।—কাজল চোখ দুটো মজার মতো করে বলল।

    —তা তুই—ও তো খ্যাপা কম না তনিকা, আর….আর…বেশ শেয়ানাও। হেসে ফেললেন অদিতি—চল তোকে সব দেখাই।

    ভেতরে তিনটে ঘর, একটা পুরোই পার্মানেন্ট প্রদর্শনী এটা।

    —দ্যাখ ওদের ফিনিশড ছবিগুলো এখানেই থাকে, ক্লায়েন্ট এলে দেখাই। অনেক সময়ে নিয়েও যাই।

    —দিদি! অবাক চোখে তনিকা চেয়ে আছে—দেওয়ালে ওর ‘ফেলাইন মর্নিং।’

    —ওটা আমাকে প্রেজেন্ট করেছেন তোমার মাস্টারমশাইরা। আমি চেয়েছিলাম। কিনতেই চাই। কিন্তু ও রকম নিয়ম বোধহয় নেই, কলেজের সম্পত্তি নাকি। ওঁরা উপহার দিয়েছেন। আর এখন আমি ওটা চড়াদামে এক ফরাসি আর্ট কালেক্টরকে বিক্রি করব..

    —ফরাসি।…তনিকার চোখ বড় বড় হয়ে যাচ্ছে।

    —হ্যাঁ ফরাসি। দামটা হাঁকব খুব…উনি প্রোমোটও করেন শিল্পীদের। আর ওই টাকাটা তুমি পাবে।

    —আমি? আমি কেন?

    —বা ওটা তো তোমারই।

    এখন তো আপনার!

    যদি বিক্রি করার সুযোগটা না পেতুম, তা হলে ওটা আমারই থাকত। কিন্তু ওই ভদ্রলোক—এই ডিসপ্লেটা দেখে গেছেন। বেশ কয়েকটা পছন্দ করেছেন। এদের সবার মন আজ খুব ভাল তাই। ছবিটা যেখানে ছিল চুপচাপ থেকে যেত। এবার ছবিটা দেশভ্রমণ করবে। তুমিও। নিশ্চয়। টাকাটা তোমারই প্রাপ্য।

    —না, তা…।

    —এ রকম গাঁইগুঁই করলে কিন্তু শুধু ছবি আঁকাই হবে তনিকা, ছবি বিকোনো হবে না। আমি যতটা আর্টিস্ট, তার চেয়ে বেশি এখন আর্ট প্রোমোটার। রাইট?

    ঠিক আছে। আত্মসংযম, ডোন্টকেয়ার…সব সত্ত্বেও তনিকার মনটা ভরে যাচ্ছে। কেমন একটা ডানা মেলে শাঁ শাঁ করে উড়ে যাবার ইচ্ছে। নিজের হাতে ছবি এঁকে রোজগার! পাশ করার পর প্রথম বছরেই! এর আগে কয়েকটা ওয়ার্কশপে বা বড় কাজের মধ্যে অন্যতম শিল্পী হিসেবে কাজ করে রোজগার হয়েছে তার। কিন্তু এটা দাদা—বউদিকে একটা মস্ত চমক দেওয়া হবে। দাদার একেবারে ইচ্ছে ছিল না সে ফাইন আর্টসে আসে। কিছু না হোক অন্তত কমার্শিয়াল! কিন্তু সে জেদ ধরে ছিল। বউদিও বলে—ওর অত ভাল হাত। করুক না! এখন কিন্তু আগেকার সে সব দিন আর নেই!

    সে বলেছিল—বাবা আমার বিয়ের জন্যে যে টাকাপয়সা, গয়না রেখে গেছে, সেই থেকে দে। তোকে দিতে হবে না!

    —তোর বিয়ের টাকা দিয়ে তোর পড়াশোনা! আঁকাজোকা!

    বউদি খুব রাগ করে…দ্যাখ তনি, তোর দাদা তোর চেয়ে অনেক বড়। বেশি চালকি করবি না।

    —ইন এনি কেস, আমি তো ডাউরি দিয়ে লোক খাইয়ে বিয়ে করব না! ওসব গয়নাও আমি পরি না।

    —সে তখন যা ইচ্ছে কোরো। এখন ও টাকাতে, গয়নাতে হাত দেওয়ার কথা ভুলেও উচ্চারণ কোরো না।

    —বন্ধুর কী খবর?

    —ভাল।

    অদিতি তীক্ষ্ন চোখে তাকায়। স্বল্পভাষী মেয়েটির ওই ছোট্ট করে বলা ‘ভাল’টুকু অনেক কথা বলে। ওদের মধ্যে নির্ঘাত ঝগড়া হয়েছে। যেমন তার আর মনীষার মধ্যে হত, আর…আর… তার আর সুজানের মধ্যেও। সুজানের ভাবনা কিছুতেই সহ্য করতে পারে না সে, মন থেকে ছিঁড়ে উপড়ে ফেলতে চায় ওর স্মৃতি। আশ্চর্য! ও মেয়ে, ও জানে মেয়ে সাধারণত অসহায়, তবু মেয়ের ওপরেই ওর রাগ। কেন? রাজর্ষির জায়গাটা অসাড় হয়ে গেছে, কিন্তু সুজানের জায়গাটা হয়নি। কেন? বোধহয় মেয়েদের ওপরেই বেশি ভরসা বেশি বিশ্বাস বলে।

    —তোরা কাজ কর আমি একটু আসছি।

    অদিতি তনিকাকে নিয়ে বেরিয়ে যায়।

    —চলো তোমাকে বিড়লা অ্যাকাডেমিতে নিয়ে যাই।

    —কিছু চলছে? আপনার?

    —উঁহু, ‘মাতিস’ আসছে। যেমন তোমাদের ‘লাগান’ আসে ‘শ্বশুরবাড়ি—বাপের বাড়ি’ আসে।

    মিটিমিটি হাসি তার মুখে। তনিকা বলল—সত্যি?—ও তো দিল্লিতে এসেছে।

    —ছিল, এবার কলকাতায় আসছে। এখনও তেমন প্রচার ঘোষণা এসব হয়নি। আমি বারণ করেছি। সিকিউরিটির কারণেও বটে।

    —সিকিউরিটি বুঝলাম, তা ছাড়া?

    —তুমি তো রদ্যাঁর ভিড় দেখোনি? রদ্যাঁ এসেছিল, এই বিড়লাতেই। কিউ গিয়েছিল পুরো শরৎ বসু রোড পার হয়ে। আগে থেকে জানালে লোকে হয়তো সাতদিন আগে থেকেই পোঁটলা—পুঁটলি নিয়ে বসে পড়বে।

    —আমরা ও রকমই—তনিকা একটু গোঁয়ারের মতো বলল।

    —অমনি গায়ে লেগে গেল? মোটেই তুমি ও রকম নয়। তুমি বেশ অহংকারী। চলো, এখন ছবিগুলো ক্রেট থেকে বেরোচ্ছে, ওই ভদ্রলোকের সঙ্গেও তোমার আলাপ করিয়ে দেব।

    —কে?

    —যিনি তোমার ছবিটা কিনছেন? আঁদ্রে বোর্দো।

    চমকে উঠল তনিকা। অদিতি বোর্দো গুপ্ত সরকারটা তার শোনা ছিল। চমকটা চোখ এড়াল না অদিতির।

    —চেনো?

    মাথা নাড়ল তনিকা।

    —নামটা জানো, না?

    খুব জোরে মাথাটা আবার নেড়ে দিল তনিকা।

    —ঠিক যেমন জানো না নিজের পদবি, ঠিকানা, নয়?—দিদি হাসছেন সে বুঝতে পারে গলার স্বরে, কিন্তু চলতে চলতে ততটা হাইটের তফাতে চকিত হাসি দেখা যায় না।

    অদিতি ভাবে—এই মেয়ের গোপনতাপ্রিয়তা আর তার আকাশ—বাতাসের মতো বেআব্রু জীবন। দুটো যেন দুই মেরুতে। সে কখনও লুকোতে চায়নি আর একদা বোর্দো বা গুপ্ত পরিচয়। রাগও সে পুষে রাখতে পারে না। একটা দাগ রেখে চলে যায় রাগ, জায়গাটা অনুভূতিশূন্য, খালি শূন্য হয়ে থাকে।

    বিড়লা অ্যাকাডেমির দোতলায় গ্যালারিতে কাজ চলছে। মাঝখানে বসে আছে, মাঝে মাঝে উঠে দাঁড়িয়ে দেওয়াল জরিপ করছে আঁদ্রে। পেছন থেকে অদিতি গিয়ে পিঠে হাত রাখল।

    —ওদিৎ! আঁদ্রে অ্যাবাউটটার্ন করে প্রথমেই তাকে জড়িয়ে ধরল, গালে চুমো। তারপরে তার নজর পড়ল পাশে।

    —আঁদ্রে এই সেই তনিকা যার বেড়ালের ছবিটা তুমি….

    —ওহ, দিস কিউতি! রিয়্যালি। শি হ্যাজ সাচ ত্রিমেন্দাস পাওয়ার!

    তনিকার গালে হালকা চুমো খেল আঁদ্রে, নিচু হয়ে।

    —ওকে তোমার সঙ্গে কাজে লাগিয়ে দিয়ে গেলাম, সাজাও তোমরা, আলাপ করো। আমি কাজ ফেলে এসেছি। তনিকা, এটা একটা মস্ত বড় সুযোগ, কাজ শেখবার। তুমি যেন না কোরো না। আঁদ্রেদার কাছ থেকে তুমি অনে—ক শিখতে পারবে।

    আঁদ্রে নয়, মঁসিয়ে বোর্দো নয় আঁদ্রেদা। এত স্বাভাবিক এত সুন্দর শোনাল ডাকটা অদিতিদির মুখে! তার সমস্ত সংকোচ নতুন আলাপের আড়ষ্টতা উধাও হয়ে গেল।

    —ক্রনোলজিক্যালি রাখবেন? আঁদ্রেদা?—’আঁদ্রেদা’র সংগীতটা ফুরোবার আগেই সে যেন সুরটা ধরে নিল।

    —না, আমার সেটা….বেশ তো তোমার মত কী বলো? কী সহজ ভদ্রলোক। তার মতো একজন শিক্ষার্থীকে কত সহজে জিজ্ঞেস করছেন!

    তনিকা একটু, খুব সামান্য থমথম খেল। তারপর বেশ স্থির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভঙ্গিতে বলল—আমার কোনও মত নেই। আমি তো জানি না…আপনি বলুন…।

    —আমি আসলে বিষয় অনুযায়ী রাখতে চাইছিলাম।

    আঁদ্রেদা কথা বলেন ইংরেজিতে, টবর্গীয় ব্যঞ্জনবর্ণগুলো নরম উচ্চারণে। কোনও ব্রিটিশ বা মার্কিন অ্যাকসেন্ট নেই। এবং সবচেয়ে মজা, খুব বাংলা শব্দ ব্যবহার করেন। আমি রিয়্যালি রাখতে চাই অ্যাকর্দিং তু বিষয়। এমনিতেই ফরাসি উচ্চারণে ইংরেজি শুনতে খুব ভাল লাগে, তার ওপর বাংলার পাঁচফোড়ন, মোহিত হয়ে যেতে হয়।

    * * *

    অদিতিদি এত চেষ্টা করে সুন্দর বাংলা শিখিয়েছেন। এত সুন্দর বন্ধু, যেমন সহজ অথচ সাহসিক ব্যক্তিত্ব অদিতিদির, তেমনই মধুর অথচ বলিষ্ঠ এই আঁদ্রে বোর্দো। দু’জনে যখন কথা বলেন, আঁদ্রেদাকে কী রোম্যান্টিক লাগে, যেন ভিক্টর হুগো কিংবা আলেকজান্ডার দুমার পাতা থেকে উঠে এসেছেন। একদম প্রেমে পড়ে যাবার মতো লোক! অদিতিদি অতটা রোম্যান্টিক না হলেও, কেমন স্বচ্ছ, একটা কাকচক্ষু দিঘির মতো ব্যাপার আছে ওঁর মধ্যে। কী অদ্ভুত একটা আস্থা হয়, ভরসা হয়, কোনও বাড়াবাড়ি নেই অথচ মুহূর্তে আপন করে নিতে পারেন। তাকে কী রকম বিনা দ্বিধায় গাড়িতে তুলে নিয়েছিলেন! নিজের বাথরোব জামাকাপড়..সম্পূর্ণ অচেনা একটা মেয়েকে যে ঠিকানা বলতে চাইছে না। খিচুড়ি খাওয়ালেন নিজে রেঁধে। খাওয়া নিয়ে তার অত প্যানপ্যানানি নেই, কিন্তু ওঁর খিচুড়িটা খুব ভাল হয়েছিল।

    কী হল দু’জনের মধ্যে? শুধু দেশের, সংস্কৃতির তফাতের জন্যই কি এমনটা হল? কিন্তু সে যতটা দেখেছে, বুঝেছে, অদিতিদি কেমন একটা আন্তর্জাতিক মানুষ। সে অবশ্য সমুদ্র পারে কখনও যায়নি, কিন্তু ফিল্মে, ডিসকভারি চ্যানেলে, বইয়ের পাতায় তো অনেক দেখেছে। শুনেছে! তার মনে হয় অদিতিদি সব জায়গায় স্বচ্ছন্দে মানিয়ে যাবেন। রেনোয়ার ‘সুইং’ ছবিটাতে আঁদ্রেদা আর অদিতিদি থাকলেও ভারী সুন্দর একটা চিত্রসংগীত রচিত হয়। সে কোনও—না—কোনও দিন তার এই আন্তর্জাতিক অনুভূতির কথা ছবিতে লিখবে। আরণ্য আলোছায়ার মধ্যে তার ভাললাগা দু’জন মানুষ। আদ্রেঁদাকে কি বাঙালি ফুলবাবু সাজাবে? কুঁচানো ধুতি আর কাঁথা—কাজ করা পাঞ্জাবিতে? উঁহু কুঁচনো ধুতিটা সামহাউ তার পছন্দ হয় না। কেমন লম্পট বাবু—বাবু দেখায়। এক কাজ করা যায়, প্যান্টের ওপর একখানা পাঞ্জাবি পরিয়ে দিলে হয়, আর দিদি? দিদি কি শাড়ি পরবেন? ‘সুইংটার গাউনের এফেক্টটা শাড়িতে আসবে ভাল। দিদিকেও প্যান্ট পরালে…না ছবিটা অন্য রকম একটা মেসেজ দেবে—ইউনিসেক্স, ইউনিসেক্স। তারা সবাই পোশাকেআশাকে এখন একলিঙ্গ হয়ে যাচ্ছে ঠিকই। কিন্তু শাড়ির মহিমা কে অস্বীকার করবে! আঁদ্রেদার সোনালি চুলের পাশে দিদির ডার্ক ব্রাউন যা মানাবে না! যেন ‘আমরা দুজনা স্বর্গ খেলনা, গড়িব না।’ সত্যিই, যতই রোম্যান্টিকই দেখাক আঁদ্রেদাকে, কাজের মধ্যে এমন একটা মগ্নতা, দায়িত্ববোধ! আর দিদির? কমিটমেন্টেই যেন দিদির চেহারা বেশি খোলে! যখন ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে ঘোরেন, তাদের ছবি বিক্রির জন্য দৌঁড়োদৌড়ি করেন, যখন…যখন…যখন… যে সব সময়ে সে ওঁকে দেখেনি, সে সব সময়েও যেন সে দেখেছে ওঁকে। তবে এই স্বপ্নের অভীষ্ট ছবি আঁকতে হলে তাকে টেকনিক আরও আয়ত্ত করতে হবে। সে জানে তার আইডিয়া খুবই শক্তিশালী, রং—ও তাই, রঙের ব্যবহার নিয়ে তার নিজের প্রতি কোনও নালিশ নেই। কিন্তু টেকনিক। টেকনিক আরও শিখতে হবে। কোথায়, কোথায় সোজাসুজি ক্ল্যাসিক্সগুলোর কপি করতে পারবে? নিউ ইয়র্ক? ন্যাশানাল আর্ট? নাকি সুবিখ্যাত স্মিথসোনিয়ান? নাকি বিখ্যাততম, চিত্রকরের স্বপ্ন ল্যুভ? ভেতর থেকে একটা লকলকে উৎসাহ আর আনন্দের শিখা বেরিয়ে আসে।

    —মাতিস সম্পর্কে তোমার রেসপন্স কী, তনিকা?—আঁদ্রেদা জিজ্ঞেস করলেন।

    —দেখো, মাতিস তো আসলে একজনই। কেউ সেভাবে ওঁকে ফলো করেনি, যেমন করেছিল মানের ইমপ্রেশনিজম, পিকাসোর কিউবিজম। যদিও ব্রাক বা পিকাসো তাঁদের কিউবিস্ট ছবিকে পরীক্ষা—নিরীক্ষার বেশি গুরুত্ব দিতে চাননি, তবু পৃথিবী ভরে গেল কিউবিস্ট ছবিতে। এদিকে মাতিস বেচারি! সত্যিকারের মৌলিক শিল্পী, চাপা পড়ে গেলেন জার্মান এক্সপ্রেশনিজমের তলায়।

    —সেটা তো ভালই আঁদ্রেদা। ওঁকে কেউ নকল করল না, উনি অদ্বিতীয় রয়ে গেলেন।

    —সত্যিই রইলেন কি? আঁদ্রেদা মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করলেন।

    তনিকার মুখটা একটু লাল হল—আমার ছবিটা কি একেবারেই মাতিসের কপি হয়েছে?

    —আরে না না, একেবারেই না। টেম্পারামেন্টের দিক থেকে তোমার মাতিসের সঙ্গে মিল। দেখো, এ রকম হয়েই থাকে, খুব বন্যভাবে রং ব্যবহার করেছ, উগ্রতা আছে। বিদ্রোহ আছে চিৎকারও আছে, কিন্তু তুমি জানো তুমি কী করছ। তোমার নিয়ন্ত্রণ একেবারে চমৎকার। তবে কী জানো, মাতিস এই সময়ে আবার সমাধি থেকে উত্থিত হচ্ছেন।

    ক্রেট থেকে ছবি নেমেছে অনেকগুলো। আঁদ্রেদা তুলে নিলেন ‘জিপসি ওম্যান’। চোখ ধাঁধিয়ে গেল।

    —লেৎ আস স্তার্ত উইথা ব্যাং, কী বলো? আঁদ্রেদা ওর অভিভূত মুখের দিকে চেয়ে বললেন।

    সবুজ, হলুদ, লাল, নীল, সাদা কালো কী নেই এই একখানা আবক্ষ ছবিতে। বাঁকা হাসি, ফুল্ল চোখ। একই সঙ্গে যেন আমন্ত্রণ জানাচ্ছে আবার উপহাস করছে। মোটা মোটা পোঁচড় রঙের। যাযাবর জীবনের বর্ণময় উৎসবে ভরতি ছবি।

    —এরপর কি একটা নরম রঙের ছবি দেব, তনিকা?

    —না আঁদ্রেদা, এই রকমই পোট্রেট—টাইপ দিন। জিপসিটা দেখলে আরও আরও রং—চং—সঙের জন্য খিদে জাগবে। অন্তত আমার।

    —ওয়েল, এই প্রদর্শনী শুধু তোমারই জন্যে হোক। বলে আঁদ্রে বোর্দো বাছলেন।

    —আ ওম্যান উইথ আ হ্যাট। টুপি কী? রঙের ফোয়ারা।

    —দেখো এবার মাদাম মাতিসের ছবি রাখছি। তারপর অঁরি মাতিসের সেলফ পোর্ট্রেট।

    লাল পোশাক—পরা ঘন নীল চুলের ব্যক্তিত্বশালিনী মাদাম যাঁর অর্ধেক মুখে গোলাপি উদ্ভাস, বাকি অর্ধেকে সবুজ হলুদ।

    মাতিসের নীল সবুজের সংগীতপূর্ণ আত্মপ্রকৃতির দিকে তাকিয়ে তনিকা বলল—উনি নিজেকে স্বপ্নের মতো, দূরের ভাবুক দেখতেন কিন্তু আঁদ্রেদা। আর দেখুন এই যে দির্যাঁর পোর্ট্রেট এঁকেছেন এর মধ্যে কিন্তু আবার জিপসির বর্ণোৎসব ফিরে এসেছে। খানিকটা মুখোশ—মুখোশ ব্যাপার।

    —বর্ণোৎসব, আঁদ্রে চেষ্টা করে উচ্চারণ করেন, সেটা কী?

    —বর্ণ তো আপনি জানেন, তারপর উৎসব, সন্ধি হয়ে গেছে, ফরাসিদের তো সন্ধি চট করে ধরতে পারার কথা।

    —ঠিক…বলতে বলতে আরও দুটি বিখ্যাত ছবি বেরোলে—’লাক্সারি:কাম অ্যান্ড ভোলাপচুয়াস,’ এবং ‘ওম্যান উই থা প্যারাসল’। প্রথমটা সমুদ্রতীর। মহিলারা নানা ভঙ্গিতে কেউ ভিজে চুল উঁচু করে সামনের দিকে ঝুলিয়ে দিয়েছেন। কেউ হাত ফিরিয়ে বাঁধবার উদ্যোগ করেছেন। কেউ শুয়ে আছেন পাশ ফিরে হাতের ওপর ভর, চূড়ান্ত শৈথিল্য…পিকনিকের আয়োজন…এইভাবেই বার হল—’হার্মনি ইন রেড’, ‘স্টিল লাইফ ইন ভেনিশিয়ান রেড’, ‘রেড অনিয়নস’—কোথাও রঙের নিমন্ত্রিত হোলি, কোথাও স্বপ্নিল পশ্চাৎপটে আঁচড় দিয়ে দিয়ে রঙের বিন্যাস।

    চারপাশে রং, শুধু রং। তার মাথার চিন্তাগুলো সুদ্ধু রঙিন হয়ে যাচ্ছে। নীল হতাশা, সবুজে—লালে অনন্ত ঊর্ধ্বে ওঠার আর্তি, ধূপছায়া রঙের প্রেমাকাঙ্ক্ষা তার। প্রত্যেকটি চিন্তা, মনোভঙ্গি, মেজাজের রং সে চিনতে পারছিল আলাদা আলাদা করে। এভাবে এত কাছ থেকে এত নিভৃতে একজন সত্যিকার রসিক ও বোদ্ধার সঙ্গে ছবি দেখা, মৌলিক ছবি একেবারে! মাত্রাটাই আলাদা। মাতিসের হাতের ছোঁয়া লেগে আছে এ সব ক্যানভাসে, এ এক অলৌকিক অনুভূতি। কী আশ্চর্য এই আঁদ্রেদা, কোয়াইট ডেফিনিটলি এখন থেকে রুদ্রাংশুরা আউট, আঁদ্রেদা প্রবল ভাবে ইন। ভাস্কর চক্রবর্তী ফুঃ, অদিতি সরকার ওহ ফ্যানটাস্টিক। ওরা সব ঠিকঠাক শিল্পী নয়। ছন্দ মিল আয়ত্ত করলেই যেমন কবিতা হয় না, ড্রয়িং আর রং লাগাবার টেকনিক জানা থাকলেই তেমন শিল্পী হয় না। তার মনের গভীরে কোথাও বিশ্বাস আছে সে মৌলিক এবং সে শিল্পী। স্তর কী সেটা আলাদা কথা, কিন্তু সে শিল্পী। না হলে এমন চিত্রময় কেন তার জগৎ! এই যে কিছুক্ষণ আগে ‘চিত্রভানু’তে দেখে এল দৃশ্যটা! চার—পাঁচটি ছেলে তন্ময় হয়ে ইজেলের সামনে। এই ছবিটা এখনও তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। চুলোয় বাক ড্রয়িং, সে মোটা মোটা ব্রাশ—স্ট্রোক দিয়ে বহুবর্ণ করে আঁকবে ওই ছবি আঁকার ছবি। শৌনক পেছন ফিরে, কাজলের তদগত পাশ মুখ, গিয়াস রং মেশাচ্ছে, অনিরুদ্ধই বোধহয়, সিলিংয়ের দিকে মুখ। কিছু ভাবছে, হাতে উদ্যত তুলি যেন উদ্যত রিভলভার। একটা বিস্ফোরক ছবি। কেন বিস্ফোরক! সে জানে না। যা—ই আঁকুক তার মধ্যে একটা প্রবল আত্মঘোষণা থাকে তার, যেন কুরুক্ষেত্র শুরু হবে পাঞ্চজন্য বাজছে, নেপোলিয়নের সঙ্গে জারের যুদ্ধ রণতুর্য বাজছে, বিউগলের আকাশফাটানো নৃশংস সুর। এত চড়া সুর কি হওয়া খারাপ! আড়চোখে দির্যাঁর পোর্ট্রেটা দেখে সে, ‘জিপসি’টা দেখে। কোথায় একটা তুমুল সমর্থন, একটা উত্তাল উদ্বেল ভরসা পেতে থাকে। এমন একটা আলোড়ন, যা তার মনে অস্পষ্ট দ্বিধা—দ্বন্দ্বগুলোর সামনে দাঁড় করিয়ে সম্মুখযুদ্ধে আহ্বান করে তাদের। চোখ দুটো কাচ—চকচক হয়ে ওঠে। চোখ লুকোতে সে ক্রোটের পরবর্তী ছবিগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়ে, সাবধানে।

    —ছবিতে তিয়ার্স পড়লে কিন্তু মিলিয়ন দলার্স ফাইন।

    তনিকা ঝট করে মুখটা ফিরিয়ে নেয়। লজ্জা পেয়ে যায় খুব কিন্তু উত্তেজনাময় আবেগের চুড়ো থেকে তক্ষুনি নামতে পারে না। খুব লজ্জার সঙ্গে রুমাল বার করে, জানলার দিকে চলে যেতে থাকে। কী হবে, কী বলবে আঁদ্রেদা যদি কিছু জিজ্ঞেস করেন। এই কান্নার মধ্যে কি আঁদ্রে বোর্দোও নেই! অদিতি সরকারও নেই! দুটো দারুণ জোরালো চুম্বক—ব্যক্তিত্ব যা তাকে লোহাচুরের মতো টেনে নিচ্ছে অন্য এক আবহমণ্ডলে।

    কিন্তু আঁদ্রে বোর্দ্রো কিছুই জিজ্ঞেস করেন না। মহৎ এবং প্যাশনেট শিল্পের সামনে দাঁড়িয়ে মানুষের ভেতরের নিরুদ্ধ আবেগ এভাবে বেরিয়ে আসে কিন্তু জানেন। ভ্যান গগ—এর সানফ্লাওয়ার্স চাক্ষুস দেখার পর, পিকাসোর গ্যেরনিকা প্রত্যক্ষ করার পর কি তিনি কাঁদেননি! হতে পারে এই কান্নার মধ্যে মেয়েটির কোনও ব্যক্তিগত দুঃখও আছে, কিন্তু তাতে কিছু আসে যায় না। ছবি আর দর্শকের মধ্যে একটা নিরন্তর দেওয়া—নেওয়ার প্রক্রিয়া চলতে থাকে। ছবি দিচ্ছে, এটা তো বোঝাই যায়, কিন্তু প্রত্যেকটি সমঝদার দর্শকও কিছু দিয়ে যায় ছবিকে, তাদের স্ফুরণের ঐশ্বর্যে আরও মণ্ডিত হয়ে ওঠে ছবি, যেমন অজন্তা হয়েছে, মুঘল মিনিয়েচার হয়েছে। দিল্লি থেকে কতদূর অজন্তা। কিন্তু তিনি তো না দেখে থাকতে পারেননি। আর সেই ক্ষীয়মাণ অলৌকিক শিল্পের সামনে দাঁড়িয়ে জলের ধারা বয়েছিল অঝোরে।

    অনেকদিন আগে, অদিতি গুপ্তর একটা ছবি দেখেছিলেন, কোনও প্রদর্শনীতে। শুধু কতকগুলো বলিষ্ঠ রঙিন রেখায় আঁকা সঙ্গমী নরনারী, নারীর মুখ পাশ ফেরানো। একটি মাত্র বিরাট চোখ, দৃষ্টি অনুসরণ করলে দেখা যায় বেশ কিছু ভারতীয় পাম, যাদের বলে কোকোনাট পাম, পেছনে ম্লান তারার দল ঝরে পড়ছে। ‘দা পাম—লাভার’। লাভার্স নয়, লাভার। অর্থাৎ পামের দিকে নিবদ্ধদৃষ্টি মেয়েটিই ওই ছবির বিষয়, সঙ্গম নয়, পুরুষও নয়। মেয়েটি যেন বলছে, তুমি যখন শরীর নিয়ে এমন উন্মাদ, তখন আমি কেন পাম—যূথের দিকে, অস্ফুট তারাদের দিকে কাতর চেয়ে থাকি, কখনও ভাবো কি? সেবারও তার সোনালি গাল বেয়ে নেমে এসেছিল জলের ধারা। পুরুষ ও নারীর যৌনতার মধ্যে কী বিশাল ফারাক—ছবিটা ছন্দে বলেছিল। ছন্দে এবং ছন্দোভঙ্গে। চেষ্টা করেও ছবিটা কিনতে পারেনি সে। কোনও সুইডিশ আর্ট কালেক্টরের কাছে আগেই চলে গিয়েছিল।

    —হয়তো স্পষ্ট জানি না, কিন্তু কুয়াশার মতো বুঝি ওদিৎ কেন তুমি অমন সময়ে পামগুচ্ছ আর তারার দিকে তাকিয়ে থাকো। তুমি আর তোমার মতো মেয়েরা।

    সন্তর্পণে গলার আর্দ্রতা মুছে নিয়ে তনিকা বলল—আঁদ্রেদা, আপনি কি মনে করেন আমার ড্রয়িং নিয়ে আরও মাথা ঘামানো উচিত? বন্ধুরাও কেউ কেউ কেউ বলে রং চাপিয়ে আমি ড্রয়িংয়ের উইকনেস ঢাকি?

    —তনিকা। আমি কিন্তু শিক্ষক জাতীয় নই। তোমার সৃজনের মধ্যে যদি সত্যি সৃষ্টি থাকে তা হলে আর ভাববার দরকার নেই। ও সব প্রি—ইমপ্রেশনিজম—এর যুগের ভাবনা। তবে একটা কথা, পিকাসো, ব্রাক বা মাতিসেরও দ্রয়িং কিন্তু খুব খুব স্ত্রং।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleট্রেকার্স – বাণী বসু
    Next Article জন্মভূমি মাতৃভূমি – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }