Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঝড়ের খেয়া – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প272 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঝড়ের খেয়া – ১৭

    সতেরো

    পরদা, কুশন কভার সব পালটে দিয়েছেন এবার। উজ্জ্বল কমলা রঙে ঝলমল করছে বাড়ি। বদলেছেন পাপোষ। তোয়ালে। শক্তি বলে একটি ছেলে মাসে মাসে পরিষ্কার করে দিয়ে যায় সব। মেঝে ঝকঝক করছে। পেতলের টব, ফুলদানি থেকে আলো ঠিকরোচ্ছে। আসবাবপত্র সব ভাল করে মুছে চকচকে করে দিয়ে গেছে। অন্ধকার বাড়ি! অন্ধকারে আর ঢুকতে হবে না নবগোপালকে। যতই ভালবাসুন শ্রীকে, এ বাড়ির আবহাওয়া, চেহারা কোনওদিনই ভাল লাগেনি তাঁর।

    —হ্যাঁরে শ্রী, পরদাটরদা কাচতে দিস না?

    —ও হ্যাঁ তা মাঝে মাঝে দিই তো, পঞ্চমীকে বলা আছে।

    —বললেই হবে! নিজে একটু—আধটু দেখলেও তো হয়।

    —ধোপার বাড়ি দিলেই কেমন রং জ্বলে যায়, বুঝলি!

    —ধোপার বাড়ি দিবি কেন। ওয়াশিং মেশিনে কাচা।

    —কে মেশিন চালাবে রে! পঞ্চমীকে বলব, হয়তো মেশিন বিগড়ে বসে থাকবে, তখন ধুন্ধুমার বকুনি খাব।

    —মেয়ে তো যথেষ্ট বড় হয়েছে, ওকে ইনভলভ কর।

    —ও না হলে, হতে চাইলে আমি কী করব বল।

    —একটা আঠারো—উনিশ বছরের মেয়ে শুধু হোটেলের মতো ব্যবহার করবে বাড়িটাকে? কোনও মায়া মমতা রুচি কিচ্ছু থাকবে না? ওর ঘরটা দেখেছিস?

    —আগে দেখেছি। অনেক শিখিয়েছি। শি রিফিউজেস টু লার্ন।

    —শ্রী, ওর কি একটু কাউনসেলিং দরকার? বয়সটা টিন—এজ পেরোচ্ছে তো? ভেতরে কোনও জটিলতা তৈরি হচ্ছে না তো? তুই নবগোপালের সঙ্গে কথা বল।

    —তুই—ই বল না সর্বাণী।

    —আমি বলবার কে? তুই থাকতে তোর মেয়ের কথা আমি বলব?

    —তুই এ—বাড়ির অনেক। আর আমি মা হতে পারি। কিন্তু তুই তো ওর টিচারও।

    শ্রীলার কোনও শখ, ইচ্ছাশক্তি কিচ্ছু ছিল না। এমন অদ্ভুত চরিত্র আর দেখেননি সর্বাণী। যেহেতু নবগোপালের সঙ্গে বনিবনা হল না, তার বাড়ি—সংসার কিছুকেই কোনওদিন আপন মনে করতে পারল না শ্রী। একমাত্র মেয়েটি ছিল তার দায়, তার আনন্দ। সেই মেয়েও যখন দূরে সরে যেতে থাকল, গোঁয়ার, উচ্ছৃঙ্খল, স্বার্থপর হয়ে উঠতে লাগল—শ্রী দ্বিতীয় দফায় সরিয়ে নিল নিজেকে। আর যেন তার কোনও কর্তব্য রইল না। নিজে ডুবে যেতে থাকল নিজের গভীরে। সেখানে কোনও ইতিবাচক কিছু ছিল কিনা তা বুঝতে পারেননি সর্বাণী। পরলোকে বা পরজন্মে বিশ্বাস। ঈশ্বর অথবা ঠাকুরদেবতা। দুর্বল, হতাশ মানুষরা যখন ঠাকুরদেবতা, ধ্যান—পূজা এসব আঁকড়ে ধরে, তখন এক হিসেবে বেঁচে যায়। কেননা কোথাও—না—কোথাও মানুষের একটা নোঙর থাকা দরকার, নোঙর অথবা শেকড়। শ্রীর কোনওটাই ছিল না। জামশেদপুরের মেয়ে। ওর মা ওর বিয়ের অল্প পরেই মারা যান। বাবার দেখাশোনা করতে মাঝে মাঝে জামশেদপুরে যেত শ্রী। নিজের সংসার যে সামলাতে পারে না, সে বিপত্নীক প্রৌঢ় বাবার ছোট্ট ফ্ল্যাটের সংসারটি কেমন সুন্দর সাজিয়ে রাখত। হাতের কাছে সব, লোকজনেদের কড়া নির্দেশ, কেউ দিদির কথা অমান্য করবার সাহস পেত না। অবশ্য, ওর বাবাও খুব গুছোনো ধরনের মানুষ ছিলেন। দীর্ঘদিন টিসকোয় কাজ করেছেন। জীবনটা একটা ছন্দে বাঁধা। তাঁরও স্ত্রী খুব জোরালো ছিলেন না। এই অক্ষম শরীর—মন কি শ্রী মা’র কাছ থেকেই পেয়েছিল?

    যাই হোক মিমির বছর দশ—এগারো বছর বয়সের সময়ে তিনিও মারা গেলেন। এইবারে শ্রীর আর কোনও আশ্রয় রইল না।

    —চল তোদের সোনারির ফ্ল্যাট থেকে ক’দিনের জন্যে ঘুরে আসি। তুই, আমি আর মিমি।

    —ও ফ্ল্যাট তো বিক্রি হয়ে গেছে সর্বাণী।

    —কেন?

    —কে দেখবে? বাবার সব ফার্নিচার বইটই সবসুদ্ধু বিক্রি হয়ে গেছে। নবগোপাল বলল ওর পক্ষে দেখাশোনা সম্ভব নয়।

    —কেমন সুন্দর একটা বেড়াবার জায়গাও তো ছিল আমাদের।

    —তো চল না, পুণে, গোয়া, বাঙ্গালোর, উটি—নব সব ব্যবস্থা করে দেবে, তুচ্ছ জামশেদপুরি ফ্ল্যাট তোকে কী ছুটির স্বাদ দেবে রে সর্বাণী! কিচ্ছু না। তা ছাড়া টাকাটাও তো আমারই অ্যাকাউন্টে জমানো আছে। যা খুশি করতে পারি।… একটু থেমে বলেছিল, খালি আমার সেই খুশিটার কোনও দেখা নেই।

    বাইরে থেকে দুর্বল। কোনও প্রতিরোধ নেই। প্রতিকূল পরিবেশকে বাগে আনবার কোনও ইচ্ছেই নেই। পরিবেশটা যে প্রতিকূল এটাই তার অভিমান। কিন্তু ভেতরে ভেতরে ভীষণ জেদ। দাওনি যখন পাবেও না, গ্রহণ যখন করোনি, তখন আমারও কোনও গ্রহণ করার প্রশ্ন নেই। সারা জীবন ধরে এমন জেদ এই মনোভঙ্গি টিকিয়ে রাখতেও তো কম শক্তি লাগে না, কম অহংকার লাগে না। সর্বাণী এমনটা ভাবতে পারেন না। তাঁর দর্শন হল—ফরগিভ অ্যান্ড ফরগেট। জীবনকে হাসিখুশি ঝলমলে মালিন্যহীন রাখবার চেষ্টা করো, যেন একটা খেলার মাঠ। উঁচু—নীচু সব ভেঙেচুরে সমান করা হয়েছে। চারপাশে গ্যালারি, অথবা গ্যালারিহীন শান্ত ভোরবেলা। পায়ের তলায় উচ্ছ্বসিত সবুজ। এইবারে তুমি সেই ঘাস—না—ছাঁটা সমান পথ পরিক্রমা করো। খড়ির দাগ আছে। গণ্ডি আছে। তুমি যদি মসৃণ ছোটো তা হলে তুমি ঠিকঠাক নিজস্ব ট্র্যাকেই ছুটবে। গণ্ডিটার কথা ভুলে যাও। ভোরের হাওয়া তোমার ঘামে এসে লাগছে। ভেতরে তোমার রক্ত জোরসে ছুটছে। ধমনী বেয়ে নির্ভুল পথে হৃদয়ে। স্বাস্থ্যকর ছন্দে গাইছে হৃৎপিণ্ড। তোমার শরীরে স্বাস্থ্য, প্রাণে শক্তি, মননে স্বচ্ছতা, হৃদয়ে দরদ। ব্যস এবারে তুমি মোকাবিলা করতে পারবে সব রকম সমস্যার। জীবনে কোনও সমসা হবে না, তা তো আশা করা যায় না! হবেই! কিন্তু শরীর, প্রাণ, মন, হৃৎ যদি স্বচ্ছন্দে চলে তা হলে মুখোমুখি হওয়া যায় সব বিপদের। বিপদে আমি না যেন করি ভয়। ওই যে ওই মেয়েটি অদিতি সরকার! তনিকার কাছে শুনেছেন ওর জীবনের বাইরের কথাগুলো। দু’বার ডিভোর্স হয়েছে। তনিকাও জানে না কেন, তিনিও না। কিন্তু যে কারণেই হোক, ওর নিজের কারণে না হওয়াই সম্ভব। এত স্থিরবুদ্ধি, এতটা সাহায্যশীল! নমনীয় বলেও মনে হয়েছে তাঁর। এ যে কাউকে ক্ষমার অতীত বলে মনে করতে পারে তা যেন ধারণায় আসে না। সবচেয়ে আশ্চর্য হয়েছেন তিনি শুনে যে এখন ওর বাড়িতে ওর দ্বিতীয় স্বামীর মা। রোগশয্যায়। আর মানুষ কী করতে পারে!

    —তনি তোদের বয়স অল্প, তাতেই অনেক কথা জেনে গেছিস। আমরা হয়তো এতটা জানতাম না। কিন্তু জানা মানেই জানা যায়…জানতে হলে দৃষ্টান্ত দিয়ে জানতে হয়, অভিজ্ঞতা দিয়ে জানতে হয়। যদি তা প্রত্যক্ষ হয় ভাল। কিন্তু যদি হয় পরোক্ষ, তা হলে অন্যের সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজের মনের গভীরে নাড়াচাড়া করতে হয়। এ কথা যদি তোদের ধাঁধার মতো লাগে তা হলে বুঝতে হবে তোরা অপরিণত আছিস। বড় হয়েছিস শুধু। অনেক তথ্য তোদের হাতের মুঠোয়, কিন্তু মনটা কাঁচা।

    মিমিও ছিল। নিঃশব্দ। ওপরের দালানে বসার জায়গায় একটা জরুরি দোলনা আছে। তাইতে বসে আস্তে আস্তে দুলছিল। তিনি তনিকেই বলছিলেন। কিন্তু মিমিকে তো বাদ দিয়ে নয়। কিন্তু এই জায়গায় মিমি একলাফে দোলনা ছেড়ে উঠে ঘরে চলে গেল।

    —যাই বলিস আর তাই বলিস। মেয়েটিকে আমার বড় ভাল লেগেছে। অত নামকরা আর্টিস্ট। প্যারিসের বিখ্যাত স্কুলের অ্যাওয়ার্ড পাওয়া মেয়ে, কী নিরভিমান। ওগুলো যেন ওর বাইরে পড়ে আছে। ও হল আসলে একটা মানুষ যে ছবি আঁকে।

    —তা সবাই—ই তো তাই আন্টিমাসি—একজন মানুষ যে ছবি আঁকে। একজন মানুষ যে লেখে…

    —না, একটা সূক্ষ্ম তফাত আছে। তোদের ওই ভাস্কর চক্রবর্তী! ও হল আগে ছবি আঁকিয়ে তার পরে মানুষ, অদিতি আগে মানুষ পরে তার ছবি।

    —তুমি তো ওঁর ছবি দেখোনি মাসি, ওঁর আঁকার সময়েও ওঁকে দেখোনি, তখন এই যে এত মিশুকে, এখান থেকে ওখান দৌড়ে বেড়াচ্ছেন—এসব বোঝা যায় না।

    —কেমন তখন?

    —একেবারে মগ্ন। কে পাশে দাঁড়িয়ে আছে টের পাবেন না। আমি একদিন গেছি, শীলাদি বলে ওঁর বাড়িতে একজন থাকেন, তিনি বললেন—আঁকার ঘরে আছে। তুমিও তো আঁকো। যাও না, যাও। আমি পাশে একটা মোড়া টেনে বসলাম। একটু পেছন দিকে। ডান দিকে টুলের ওপরে রঙের বাটি বসানো। একটা পোর্ট্রেট করছিলেন অয়েলে। উনি মগ্ন হয়ে থাকলে মনে হয় উনি কারও নন। উনি ছবির। সেই মুহূর্তের ছবিটার।

    —সে তো হবেই। তোর হয় না?

    —আমি? খানিকটা আঁকব, তারপর জল খাব, আবার কাজ করছি, হঠাৎ উঠে পড়লাম। একটু ঘুরে এলাম। আমার ছবি খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায় মাসি। না হলে আমার ধৈর্য থাকে না।

    —তাই কি অমন ধ্যাবড়া ধ্যাবড়া ছবি আঁকিস?

    —আসলে আমি ছবি আঁকি না মাসি, আমি একটা …মানে… একটা মেজাজ, একটা মানসিক অবস্থা আঁকি।

    —অন্যের মেজাজও আঁকিস বোধহয়। নিজের ঘরের দরজার কাছ থেকে মিমি বলল।

    —মেজাজ?

    —ওই যে তোর সুবীর রাস্না সব বলছিল সে দিন তোদের চুলোচুলির ছবিটা চুলোচুলির আগেই আঁকলি কী করে?

    —সে আবার কী।

    —ওই যে সেই দুটো বিচ্ছিরি বেড়াল এঁকেছিলি! প্রাইজ পেলি। যেদিন অ্যাকাডেমিতে তোর সঙ্গে আমার একহাত হয়ে গেল।

    —ও, যেদিন রাতে ভাস্কর চক্রবর্তীর স্টুডিয়ো থেকে তোকে পাঁজাকোলা করে তুলে আনা হল? উনি দূর করে দিয়েছিলেন রাতে? সেদিন?

    কুটিল চোখে তার দিকে তাকিয়ে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিল মিমি।

    —খ্যাপাচ্ছিস কেন শুধু শুধু?—সর্বাণী বললেন।

    —খ্যাপাচ্ছি না, মনে করিয়ে দিচ্ছি।।

    উঠে গিয়ে দরজায় টোকা দিল তনিকা—মিমি, মিমি…দরজা খোল। একটু পরে খুলে দিল—এবার আবার কার কথা মনে করাতে এলি? তস্কর?

    —না, তনিকা হেসে বলল—তোকে নিয়ে ‘চিত্রভানু’তে যেতে বলেছিলেন অদিতিদি। আমি ঘুরে এসেছি। যাবি?

    চোখ সরু করে মিমি বলল—ও ঘুরে আসা হয়ে গেছে? আমার নামে আরও এক দফা বলে এলি বোধহয়।

    —তোর কথা কাউকে, আবার অদিতির মতো সেলিব্রিটিকে বলা যায়?

    —যেখানে যেখানে আমার যাওয়ার থাকে, ঠিক আগে আগে পৌঁছে, যাস, না?

    আবার একটা কথা কাটাকাটি শুরু হতে যাচ্ছে দেখে, সর্বাণী বলেছিলেন—নীচে আয়, রান্না রেডি। দেরি করবি না। ডাক্তার মিমিকে খুব সময়ে খাওয়াদাওয়া করতে বলেছেন। ওর কিন্তু আলসারের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। তিনি নেমে গেলেন। শুনতে পেলেন মিমি বলছে—তনি, তোকে হাত করে নিল, বাবাকে হাত করে নিল। কিচ্ছু করতে পারলাম না। এখন ডাক্তারগুলোকেও হাত করে নিচ্ছে।

    মিটিমিটি হেসেছিলেন তিনি। এত সহজে রসবোধ যায় না ওঁর।

    দুঃখের বিষয়, বেরোতে শুরু করার কিছুদিনের মধ্যেই আবার অনিয়মিত হয়ে যেতে শুরু করেছে মিমি। শরীরটা সেরেছে। কী সুন্দর দেখায় আজকাল। পোশাক পরিচ্ছদগুলো সব ড্রাই ক্লিন করিয়ে দিয়েছেন। সেই রকম জিপসি জিপসি পোশাকই পরে, কিন্তু এখন ওগুলো বেশ ঝকঝক করে। কিছুটা টিফিন নিতে ওকে বাধ্য করেন তিনি। ডাক্তারের কড়া নির্দেশ। কিন্তু আজ এখনও ফিরল না।

    —এত রাত? মিমি?

    খাবার টেবিলের ওপর হাত রেখে বসেছিলেন। মেয়ে ঢুকতে একদিন বললেন। পঞ্চমী দরজা খুলে দিয়ে চলে গেছে।

    কোনও জবাব দিল না।

    —দেখো মিমি, রাত এগারোটা বাজছে। এসব চলবে না। যদি কিছু হয়, আমার নিজের ভাবনাচিন্তা টেনশনের কথা ছেড়েই দাও। তোমার বাবাকে কী কৈফিয়ত দেব বলো তো! একটু বোঝবার চেষ্টা করো। কলকাতা এখন খুব আনসেফ। আমার ভয় করে।

    —আমি খেয়ে এসেছি। আমার জন্যে এত রাত অবদি না খেয়ে বসে থাকবার দরকার নেই। আমার নিজের মা—ও বসত না। আমি এসব পছন্দ করি না।

    বলতে বলতে তিন লাফে ওপরে চলে গেল মিমি।

    এই গেল একদিন।

    আজ সকাল ন’টার সময় কাউকে কিছু না বলে বেরিয়ে গেছে। বাড়ি ঢুকল রাত দশটা।

    —মিমি কাউকে কিছু বলে যাওনি কেন? ঘরে ঘরে খুঁজছি আমরা। এইভাবে ভাবাবে আমাকে? আমি কিন্তু এবার স্টেপ নেব।

    বলে চলে এলেন। ঘুম আসছে না। ঘুম আসছে না। রাত তিনটে নাগাদ ফোন করলেন—

    —হ্যালো।

    —সর্বাণী বলছি। আমি মিমিকে হ্যান্ডল করতে পারছি না। আমার খুব ভয় করছে।

    —কেন? কী হল আবার।

    —এত ক্যাজুয়েলি কথা বোলো না নবগোপাল। ও আমাকে একেবারেই মানছে না। এত রাত করে বাড়ি ফেরে আমার প্রচণ্ড টেনশন..

    —আরে, মিমি কি তোমার সেই স্কুলের মেয়েটি আছে? শি ইজ কোয়াইট এবল টু টেক কেয়ার অব হারসেলফ।

    —ও যে মাস দেড়েকের ওপর ভাস্করের কাছে চলে গিয়েছিল ওর স্টুডিয়োতে ছিল—ও কথা তোমাকে জানাইনি। এখন জানিয়ে দিলাম। অনেক কষ্টে নিয়ে এসেছি।

    —হোয়ট?

    —হ্যাঁ, অনেক কষ্টে নিয়ে এসেছি। খুব শরীর ভেঙে গিয়েছিল। সেরে উঠেছে, আবার উচ্ছৃঙ্খলতা শুরু করেছে। তুমি শিগগিরই এসো।

    ফোন নামিয়ে খাটে বসতে গিয়ে দেখলেন জ্বলন্ত চোখে দাঁড়িয়ে আছে।

    ঠিক যেন একটা কেউটে সাপ।

    —কাকে? কাকে ফোন করছ?

    কথার কোনও জবাব দিলেন না। ভেতরে ভেতরে চমকে গেছেন খুব।

    —কী লাগাচ্ছিলে, বাবার কাছে? আমার বাবার কাছে আমার বিষয়ে?

    ভেতরে ভেতরে উত্তেজনায় কেমন একটা ঘাম দিচ্ছে তাঁর। তিনি কথা না বলে শুয়ে পড়লেন।

    দু’পা এগিয়ে এসে ঝাঁপিয়ে পড়ল হঠাৎ। আঁচড়ে কামড়ে দিচ্ছে, চুল ধরে হিড়মিড় করে টানছে—কে তোমাকে বলেছিল বাড়ি সাজাতে, কেন সাজিয়েছ আমাকে জিজ্ঞেস না করে?

    সমস্ত শক্তি দিয়ে ওকে দূরে ঠেলে দিলেন তিনি। যথাসম্ভব ঠান্ডা চোখে চেয়ে ঠান্ডা গলায় বললেন, তুমি আলোচনা করলে আমার চেয়ে খুশি আর কেউ হত না। কিন্তু ঢুকলে কী করে ঘরে?

    —বাবাকে কী বলছিলে, বলো?

    —সে কথা জেনে তোমার লাভ নেই। তুমি ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ো। আমি যা করার কাল সকালে করব। যা—ও।

    —কী করবে? পাগলা গারদে পাঠিয়ে দেবে? চমৎকার। মাকে খুন করেছ, এবার মেয়েকে পাগল বানাচ্ছ। চমৎকার খেলছ!

    —কী বলছ! আমার ধৈর্য চলে যাচ্ছে। চলে যাও বলছি।

    —মায়ের মুখের অক্সিজেন মাসক খুলে নাওনি? খাবি খেতে খেতে মরে গেলে আবার রিপ্লেস করে রাখোনি? আমি কিছু জানি না মনে করেছ, না? বাবা আসুক তোমার কীর্তির কথা সমস্ত ফাঁস করে দিচ্ছি।

    তিনি বাক্যহীন হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। কিচ্ছু ঢুকছে না মাথায়, কী শুনছেন? কে বলছে? এ কী? এসব কী?

    হঠাৎ তাঁর শরীরে একটা প্রচণ্ড বেগ এল। মন কাজ করছে না, শুধু শরীর। তিনি ড্রয়ার খুলে গাড়ির চাবিটা নিলেন। উদভ্রান্তের মতো বেরিয়ে গেলেন। ঝড়ের মতো দরজা খুললেন। একটার পর একটা দরজা খুললেন। শব্দ হতে লাগল। পঞ্চমী ঘুম ভেঙে উঠে এসেছে। তিনি বেরিয়ে যাচ্ছেন। নিজের গাড়িটা বার করলেন। তারপর বেরিয়ে গেল গাড়ি।

    —কী হল? পঞ্চমী চোখ বড় বড় করে জিজ্ঞেস করল—কার কাছে? কোথায় যাচ্ছে মাসি? কারও কোনও খারাপ খবর…মিমি?

    মিমি তখন সিঁড়ির ধাপে আস্তে আস্তে বসে পড়ছে।

    —মাসি যে নাইটি পরে বেরিয়ে গেল গো? বাবুর কিছু হয়নি তো? এয়ারপোর্ট থেকে কিছু…

    মিমি আস্তে আস্তে সিঁড়ির ওপর শুয়ে পড়ছে।

    —কী হল মিমি? তোমার তোমারই শরীর খারাপ? না কি?

    মিমির গায়ে ঘাম দিচ্ছে। কথা বলতে পারছে না।

    খবরটা সকালে পড়ল অদিতি। রেড রোডে অদ্ভুত অ্যাকসিডেন্ট। শেষ রাতে একটা নেভি ব্লু সান্ট্রো রেড রোডে ছোটাছুটি করছিল। তারপর স্কিড করে একটা কৃষ্ণচূড়া গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। সাদার ওপর নীল ফুল নাইটি—পরা এক ভদ্রমহিলাকে মারাত্মক আহত অবস্থায় পাওয়া গেছে। কোনও ব্যাগ, কোনও পরিচয় বা লাইসেনস কিচ্ছু নেই। তাঁকে এস. এস. কে. এম.—এ সংকটজনক অবস্থায় ভরতি করা হয়েছে। ছবিটা দেখবামাত্র চিনতে পারল অদিতি। মিসেস সর্বাণী সাহা রায়।

    আর তারপরেই ফোনটা বাজল..

    —দিদি আমি তনিকা বলছি। মিমি মানে আনোহিতার বাড়ি থেকে।

    —দেখেছি—সংক্ষেপে বলল অদিতি,—কী ব্যাপার বলো তো?

    —দিদি আমরা আপনার কাছে এক্ষুনি যাচ্ছি। আপনি একটু শৌনককে যেতে বলবেন? আমাদের তো হাসপাতালে যেতে হবে।—তনিকার গলা কাঁপছে।

    —এসো—অদিতি চায়ের কাপটা তুলে আবার নামিয়ে রাখল। কাগজটা আবার তুলে ধরল। ইনি শেষ রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছেন। এত তাড়া, এত বিপদ যে নাইটিটা পর্যন্ত বদলাননি। কিন্তু উনি কোথাও যাচ্ছিলেন না। রেড রোডে ওঁর গাড়িটা ছোটাছুটি করছিল। উনি হঠাৎ কোনও কারণে সম্পূর্ণ উন্মাদ হয়ে গিয়েছিলেন। কোনও চৈতন্য ছিল না। না হলে অন্তত… বড় অস্থির লাগছে।

    আজ প্রথম আঁদ্রে তার বাড়িতে আসছে। ব্রেকফাস্টের নেমন্তন্ন করেছে সে। ছবি দেখাবে, মাধুরী ও শীলার সঙ্গে পরিচয় করাবে। বলে রেখেছে ওঁদের। শীলাদি চান করে উঠেই জলখাবারের আয়োজন শুরু করে দিয়েছে। ওকে কি ফোন করে বারণ করে দেবে? মাথাটা সম্পূর্ণ ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। টেবিলের ওপর মাথাটা রাখল সে। এত নার্ভাস বোধহয় কখনও হয়নি। মেয়েটি একেবারে একা…তার বাবা বাইরে কোথাও। খুব গোলমেলে মেয়ে।

    —কী হল বউমা? শীলাদি মাথায় হাত রেখে আস্তে জিজ্ঞেস করল, চা খেতে খেতে নামিয়ে রেখেছ?

    সে কোনওমতে কাগজটা দেখিয়ে বলল—চিনি। এঁকে।

    কাগজটা তুলে নিল শীলাদি।

    —বলো কী? তোমার চেনা? যেন চেনা না হলে অ্যাকসিডেন্টটা কম মারাত্মক হত।

    মাথা নাড়ল সে।

    দরজায় বেল বাজল। খুলে দিতে চলে গেল শীলাদি। এত তাড়াতাড়ি এসে গেল মেয়ে দুটো? না। বিদেশি গলা শুনতে পেল। আঁদ্রে বলছে—একটু সকাল সকাল এসে গেছি। ভোরবেলায় কলকাতা দেখতে বেরিয়েছিলাম। তোমাদের কোনও অসুবিধে করলাম না তো?

    শীলাদি কোনও উত্তর দিচ্ছে না। একটু পরে মাথায় ঘোমটা শীলাদি আর তার পেছন পেছন আঁদ্রে এসে ঢুকল তার বসবার ঘরে।

    সাহেব আসবে বলে ক’দিন ধরেই খুব বাড়ি সাফ করছে শীলাদি। উঠোনটিকে একেবারে শ্যাওলা—মুক্ত, পরিষ্কার করিয়ে নিয়েছে। অদিতির বসবার ঘরে একটা বিরাট রাজস্থানি কলসি ছিল। পাথরের ওপর মিনে কাজ করা। সেইটা নিয়ে গিয়ে বসিয়ে দিয়েছে নিমতলায়। কয়েকটা ফুলের টব, বোধহয় ফুলসুদ্ধু কিনে এনেছে। জড়ো করে রেখে আড়াল করে দিয়েছে পেছনে ড্রেনের অংশ, আর কিছুতেই পরিষ্কার না হওয়া উঠোন আর ভাঙা রোয়াক।

    —অদিতি!

    ততক্ষণে নিজেকে সামলে নিয়েছে অদিতি। চুপ করে বসে আছে। শান্ত। একটু ফিকে হেসে আঁদ্রেকে বসতে বলল।

    —কী হয়েছে? তোমাকে যেন কেমন দেখাচ্ছে।

    —কিচ্ছু না। চলো আমার শাশুড়ির সঙ্গে আলাপ করবে।

    শীলাদির সঙ্গেও পরিচয় করাল।—ইনি ওঁর বোনের মতো। সব সময়ে সঙ্গে থাকেন।

    তারপর শীলাদিকে বলল—যা হয়েছে খাবার দিয়ে দাও।

    শীলাদি চোখ তুলে তাকাল একবার তার দিকে।

    চোখে চোখে তার দিকে চেয়ে অদিতি বলল—দাও।

    আঁদ্রে বলল—অনেকটা হেঁটেছি। খিদেও পেয়েছে খুব। বলে হাসতে গিয়ে আবার চাইল—তুমি যেন ভীষণ ডিসটার্বড মনে হচ্ছে? ওদিৎ কী হয়েছে বলো তো?

    কী আশ্চর্য কতদিন পরে এলে। গল্প করো না! উত্তরে সে বলল,—কী রকম দেখলে কলকাতা?

    —খুব স্বাস্থ্যচর্চা হচ্ছে, দেখলাম রাস্তার সাইডওয়াকে লোক হাঁটছে। ইয়াং পিপল দৌড়োচ্ছে দেখলাম। দারুণ উৎসাহ। স্পোর্টস প্রায়রিটি পাচ্ছে এখানে দেখছি।

    —আমাদের এখানে খুব বেশি খোলা জায়গা তো নেই!

    —জানি। জানি। তোমাকে তোমার শহরের হয়ে কৈফিয়ত দিতে হবে না।

    শীলাদি খাবার নিয়ে ঢুকেছে। সাজিয়ে দিয়েছে দুটো প্লেটে।

    —বাঃ এটা কী? স্টাফড ডাম্পলিং মনে হচ্ছে?

    একটা মাংসের শিঙাড়া তুলে নিয়ে বলল, এটা দিয়েই শুরু করি!

    —এটা চাটনি। এইটে দিয়ে খাও—শুকনো হেসে বলল অদিতি।

    —তুমি খাও।

    —আমার আর সেই আগের অভ্যেস নেই আঁদ্রে। ব্রেকফাস্ট বেশি খেতে পারি না। তোমাকে সঙ্গ দিতে খাচ্ছি একটু। এখানে আমরা সামান্য লাঞ্চ খেয়ে কাজে বেরোই।

    —কী খাও?

    —ভাত, ডাল, মাছ।

    —ওহ, দারুণ সুস্বাদু তোমাদের মাছ। খাচ্ছি ক’দিনই। মনে আছে সাঁজেলিজে গেলেই তুমি ভেন্ডরদের থেকে ক্রেপ কিনে খেতে?

    —আর রাত্তিরে রান্নার ভয়ে বাগেৎ আর চিজ নিয়ে বাড়ি ফেরা!

    —রান্নার ভয় তোমার ছিল, আমার ছিল না। আমি তোমার জীবনে আসবার আগে তুমি ড্রাই ফ্রুটস, ক্রোয়সোঁ আর চিজ বাগেৎ খেয়েই দিন কাটিয়ে দিতে। আর ফল। তাই না?

    —দুধ। দুধও খেতাম। আইসক্রিম।

    —তাই বেশ গোলগাল ছিলে। এখন অনেক কালো হয়ে গেছ ওদিৎ। রোগাও।

    শীলাদি চায়ের সরঞ্জাম নিয়ে ঘরে ঢুকল।

    অদিতি চা ঢেলে দিল। নিজেও এক কাপ তুলে নিল।

    —তুমি যে আমার জন্য আবার আলাদা করে ড্রেস করোনি, তোমার হাউজকোটেই দেখা দিয়েছ, এ জন্য তোমার কাছে কৃতজ্ঞ আমি। একটু নিচু গলায় বলল আঁদ্রে।

    —কেন?

    —না, এই ইনফর্ম্যাল আচরণ আমাকে বুঝিয়ে দিচ্ছে তুমি সেই আগেকার ওদিৎ, আমি সেই আগেকার আঁদ্রে। মাঝখান দিয়ে আদ্রিয়াতিক, ভূমধ্য সাগরের জল বয়ে গেছে, কিন্তু আমরা বদলাইনি।

    —তুমি আমাকে কাপড় বদলাবার সুযোগ দিলে কোথায়? হাসিটা তার মুখে ফুটব ফুটব করেও ফুটল না পুরোপুরি। একটা সৌজন্যের ভঙ্গির মতো দাঁড়িয়ে রইল।

    —চা—টা কিন্তু তোমার সেই চায়ের মতো অত দুর্ধর্ষ নয়।

    —কী চা?

    —ওই যে চা দিয়ে বলেছিলে চুপ করে খাও, কথা বোলো না…

    —বাৎ হোয়াৎস রঙ মা শেরি!

    টুকরো টুকরো জবাব দিয়ে, আঁদ্রের খাওয়াটা সে শেষ করাতে পেরেছে। বলল—আঁদ্রে আসলে সকালে কাগজে একটা খবর পড়ে আমি বড় অস্থির হয়ে পড়েছি।

    —কী খবর?

    কাগজটা তুলে ওর হাতে দিল অদিতি, বলল—আমি এঁকে চিনি। খুব ভাল করে। ওঁর কাছে হসপিটালে যেতে হবে আমাকে, এক্ষুনি।

    —শিয়োর। চলো যাওয়া যাক।—মুখের ভাব বদলে গেল, উঠে দাঁড়াল আঁদ্রে।

    —না, তুমি নয়। আমাদের হাসপাতালের চেহারা তুমি দেখতে পারবে না আঁদ্রে। তোমাকে আমি দেখাতে চাই না। তুমি আজ ফিরে যাও। আবার একদিন গল্পসল্প হবে।

    —নেভার। কখনও না। তোমাকে এত কষ্টের মধ্যে, বিপদের মধ্যে ফেলে রেখে, নোংরার ভয়ে হাসপাতালে যাব না, এতটা স্বার্থপর তুমি আমাকে পাওনি। তুমি কিছুতেই আমাকে এড়াতে পারবে না। কে ইনি?

    —ধরো, আমার একরকম দিদি।

    —তুমি কাপড় বদলে এসো, আমি বসছি।

    এর চেয়ে বেশি তর্কাতর্কি করবার এখন ক্ষমতা নেই তার। সে চট করে তার ঢোলা প্যান্ট আর পাঞ্জাবি পরে, চুলে চিরুনি চালিয়ে ক্লিপ দিয়ে মাথায় আটকে নিল। আরও কয়েক মিনিট অস্থির হয়ে বসবার পর বেল বাজল। কয়েক কদম এগিয়ে দরজা খুলে দিল সে। তনিকা। একা।

    —ও কোথায়?

    —হিস্টিরিক হয়ে গেছে দিদি, খালি বলছে আন্টিমাসি মরে যাবে, বাবা আমায় দূর করে দেবে, আমার আর কেউ রইল না। পঞ্চমীদির কাছে ওকে রেখে আমি ছুটে এসেছি। শৌনককে পেয়েছি। ও সোজা এস. এস. কে. এম.—এ চলে গেছে।… দিদি আপনি কি যাবেন?

    —তোমার সন্দেহ আছে? কিন্তু নিজের আত্মীয় কারও যাওয়া দরকার। না হলে হাসপাতালে অসুবিধে হবে।

    —আমি…আমি মেয়ে ধরুন।

    —তাতে কি হবে, তনিকা?

    বুকে প্রচণ্ড জখম। একবারের জন্যই জ্ঞান ফিরেছিল। কাউকে খুঁজেছিলেন। কাকে? কে জানে? তারপর একটা হেঁচকি তুলে চলে গেলেন। ক্লিয়ার কেস অব সুইসাইড। বডি মর্গে যাচ্ছে।

    অদিতি হাসপাতালের করিডরে কাঠের বেঞ্চির ওপর বসে পড়ল। দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। তনিকা দু’হাতে মুখ ঢেকেছে। তার আঙুলের ফাঁক দিয়ে প্রপাত। কেঁপে কেঁপে উঠছে শরীরটা। আঁদ্রে শৌনককে নিয়ে চলে গেছে। পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অনেক কথা বলাবলি, ব্যবস্থাদি আছে।

    দাহকার্য সেরে শুকনো মুখে নবগোপাল বললেন—আপনাদের কী বলে যে ধন্যবাদ দেব, জানি না, আপনারা আমাদের কেউ নন, তবু বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তনি তোমাকে আর কী বলব! ভাল থাকো মা।

    গাড়িতে গিয়ে উঠলেন। একটু অপেক্ষা করলেন—অনোহিতা এল না। হুস করে গাড়ি ছেড়ে গেল।

    ফ্যাকাশে মুখে অনোহিতা বলল—বাবা আর আমাকে বাড়িতে ঢুকতে দেবে না। আমি কোথায় যাব?

    —চলো, তোমাকে পৌঁছে দিচ্ছি—অদিতি বলল।

    নবগোপাল ঘরের মধ্যে দরজা বন্ধ করে আছেন। একবারও মেয়ের দিকে তাকাননি। একটা কথাও তার সঙ্গে বলেননি। পঞ্চমী তাঁকে খাবার সময়ে খাবার দিয়ে আসছে ঘরে। একটু ফাঁক দরজা, তার ভেতর দিয়ে দেখা যায়, সেই এক পায়জামা—পাঞ্জাবি পরে বসে। সামনে টেবিলের ওপর হুইস্কির বোতল ও গ্লাস।

    —তনি…বাবাকে বারণ কর। এত হুইস্কি খেলে বাবা মরে যাবে।

    —মরে গেলে তো ভালই মিমি। তোকে আর কেউ কোনও বিষয়ে বাধা দেবে না। ভাল থাকবি।

    —তনি এমন করে আমাকে বলিস না….আমার বুকের ভেতরটা যে কী হচ্ছে!

    —ন্যাকামি করিস না মিমি। শোন, কাল সকালে আমি চলে যাব। তারপরে এটা তোর সংসার, তোর বাবা, তুই সামলা।

    —আমি পারব না। পারি না।

    —পারতে হবে। সামনে আর কোনও বিকল্প নেই।

    —অদিতিদিকে ডেকে দিবি?

    —তোকে নম্বর দিয়ে দিচ্ছি, তুই ডাক। আমি এর মধ্যে নেই!

    —আমার সাহস হচ্ছে না।

    —তা হলে ডাকিসনি! আমি শুতে যাচ্ছি।

    অনেক রাতে গুটিসুটি হয়ে তার পাশে শুয়ে পড়ল মিমি।

    ঠিক পাঁচ দিন পর সামান্য শ্রাদ্ধকার্য শেষ হয়ে গেলে আবার লন্ডনে ফিরে গেলেন নবগোপাল। নিজের স্যুটকেসটা তুললেন, চলে গেলেন।

    পঞ্চমী বলল—আমাকে ছুটি করে দাও মিমি। আমি আর এখানে কাজ করব না।

    —কেন? পঞ্চমীদি!

    —আমার সব সময়ে মনে হয় মাসি আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আমাকে লক্ষ করছে!

    —ও তোমার মনের ভুল। এ রকম একটা কাণ্ড হলে ভয় হয়।

    —বেশ আমার তাই হচ্ছে। তুমি মাইনে দেবে দিয়ো। নইলে আমি চললুম। ওহ—জলজ্যান্ত মানুষটা গো! আজ বিশ বছর ধরে…কী করাটাই না…

    মুখে কাপড় দিয়ে ফুঁপিয়ে উঠল পঞ্চমী।

    কেউ জানে না ঠিক কী হয়েছিল। জানে একমাত্র তনিকা। দুর্বল মুহূর্তে প্রবল কষ্টে অনুশোচনায় তাকেই শুধু বলে ফেলেছিল। তা ছাড়া এ কথাটা সে আগেও তনিকাকে বলেছে। অনেকভাবে আঘাত সে মাসিকে করেছে। কিছুতেই কিছু হয়নি। কোনখানে আঘাত করলে মাসির বিষদাঁত ভেঙে যাবে সে ঠিক বুঝতে পেরেছিল। ফল হবে এতেই। কিন্তু যা হল তা তার ধারণাতেও ছিল না। নিঃশব্দে কাঁদতে থাকে সে। স্পষ্ট করে জানে না কার জন্য। নিঃশব্দে। কেননা এখন তার চিৎকার আর কেউ শুনবে না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleট্রেকার্স – বাণী বসু
    Next Article জন্মভূমি মাতৃভূমি – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }