Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঝড়ের খেয়া – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প272 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঝড়ের খেয়া – ২

    দুই

    মনের মধ্যে একটা আলপিন ফুটে থাকে। নড়েচড়ে। কী রে বাবা। জেনারেশনে জেনারেশনে এমন দুর্লঙ্ঘ্য তফাত? দুর্লঙ্ঘ্য এবং দুর্বোধ্য। সে খুব বেশি দিন পশ্চিমি দুনিয়ায় ছিল বলেই কি তার বেশি খারাপ লাগছে? কিন্তু থ্যাংকস আর সরি—র বাইরেও যে একটা ভারতীয় ভদ্রতা আছে! সেটাও কি এমনি বদলে যাবে?

    এদিকে আবার কী রকম শরীর খারাপ হয়েছে ভদ্রমহিলার কে জানে। হার্টের গণ্ডগোল, বয়সও তো পঁচাত্তর ছাড়িয়েছে বোধহয়। একদম একা, একটি দিবারাত্রের মহিলাকে নিয়ে থাকেন। বিরাট হাতা—ওয়ালা বাড়ি। কোনওদিনই অবশ্য অনেক লোকের বাস ছিল না। কিন্তু বহু লোক শ্বশুরমশাইয়ের কাছে যেত, তাদের অনেক সময়ে থেকে যেতেও হত। এখন কেউ নেই। অত বড় বাড়ি খাঁ খাঁ করছে। কে জানে মহিলার কেমন লাগে। একা একা।

    আজব কথা। সে নিজেও তো একা। তার এই বাড়ি তো এক যৌথ পরিবারের বাড়ি। তার বিদেশ যাওয়া পর্যন্ত গমগম করত। খ্যানখ্যানও করত অনেক সময়ে। কিন্তু পুরো ব্যাপারটা তাদের, অন্তত তাদের প্রজন্মের কাছে খুব মজাদার ছিল। এখন বুঝতে পারে, মায়েদের হয়তো খুব ভাল লাগত না। খাটতে হত বেশি। নিজের পছন্দমতো কিছু করার উপায় ছিল না। ভেতরে সবাইকারই চাপা অসন্তোষ বা স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা কাজ করত। তা নয়তো দাদা মারা যাবার ছ’মাসের মধ্যে বাড়িটাড়ি ভাগাভাগি হয়ে গেল কেন? সে যাই হোক ওইরকম একটা যৌথ পরিবারে কাটিয়েও তো সে একা—একা থাকছে। তার কী লাগে? শেষ ট্রাম চলে যাচ্ছে বিধান সরণি দিয়ে, জানলায় ঝুলে আছে তৃতীয়ার চাঁদ। সেই চাঁদের আধা—ভৌতিক আলো তার বারান্দায়, উঠোনে। কুকুরদের কামড়াকামড়ি শুরু হল। স্তব্ধতা চিরে দিচ্ছে, কিন্তু মোটেই খুব সুখশ্রাব্য নয় এই আওয়াজ। সে অস্থির হয়ে ঘুরে বেড়ায় এ ঘর থেকে ও ঘর। কেমন যেন দমবন্ধ লাগে। আবার খালি খালিও লাগে। গান চালিয়ে দেয়, শান্ত হওয়ার বদলে একেকদিন উত্তাল হয়ে ওঠে বুক। এক্ষুনি যেন হাড়ের খাঁচা, চামড়া, ব্লাউজ টাউজ কেটে বেরিয়ে যাবে। পালিয়ে যাবে কোথাও। গান যত চড়ে, সরগম যত দ্রুত হয় তত দ্রুত হয়ে যায় রক্তের চলা। অবশেষে মাঝরাতে সে তুলি তুলে নেয়। রং ঢালে, পিগমেন্টের সঙ্গে টারপেনটাইন মেশায়, লিনসিড মেশায়, ক্যানভাসের ওপর আস্তে আস্তে স্থির হতে থাকে আঙুল, মন, হৃদয়। বেল বাজে, ঘুম ভেঙে দেখে ভোর সকালের আলো বারান্দায়। সে সারারাত তার ছবিঘরের কৌচে ঘুমিয়েছিল, হাতটা বাইরে ঝুলছে। শরীরটা কোনওক্রমে জড়ো।

    তার আর্তি আছে। দমবন্ধ আছে। আবার একেকদিন এমন বেয়াড়া হাওয়া দেয় যেন সব উড়িয়ে নিয়ে যাবে, এ যেন সেই সুখু—দুখুর হাওয়া। ঠিক তুলোর মতোই হালকা সে, তাকে উড়তে হয় সেই হাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। একটা অদ্ভুত আলো, সেটাও আলো না হাওয়া বোঝা যায় না। প্রত্যেকটা ঘর তার খুঁটিনাটি নিয়ে তখন এমন জীবন্ত হয়ে যায় যে তাদের সঙ্গে প্রায় কথা বলে ফেলে সে।

    —এই দক্ষিণের দেওয়াল, মিষ্টি খাচ্ছি, বুঝেছিস? সরপুরিয়া।

    —খা। আমার ত্রিসীমায় ফেলিসনি, পিঁপড়ে হবে।

    —এই ফ্রিজ, একটা ইনস্টলেশন আজ শেষ করলুম, কেমন হয়েছে রে?

    —উঃ আমি যে হাঁটতে পারি না, সে কথা বারবার ভুলে যাওয়া হয় কেন?

    —ওহ সরি, সরি, আমি এনে দেখাব এখন।

    এনে অবশ্য দেখায় না। সেটা একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। পাগলামি ছেলেমানুষি কিংবা একরকমের ন্যাকামি। কথা বলতে পারলেই হল। নিজের সঙ্গে। দেওয়ালের সঙ্গে।

    কিন্তু সে তখন তার পুরনো মার্বল টেবিলের গায়ে হাত বুলোয়। কতকাল বেঁচে আছিস তোরা, পাষাণ রে, কত কী—ই না দেখলি জীবনে। বল তো বিয়ের দিনে মেজদার আমাকে মনে পড়েছিল কিনা? বল তো বাবা যখন মারা গেলেন, কথা বন্ধ হয়ে গেল, তখন কি বনি—বনি করে ডাকতে চেয়েছিলেন, নাকি মৃত্যু তখনই তাঁকে সব মমতার ওপারে পৌঁছে দিয়েছিল?

    এই সব সময়ে একাকিত্বটাকেই উপভোগ করে সে। সেই সময়ে যদি ছবি কি কালো এসে পড়ে, সে ভেতরে ভেতরে গোমড়া হয়ে যাবে, কোনও বন্ধুবান্ধব, বা ক্রেতা—কেউই অবশ্য না ফোন করে আসে না, তবু যদি দৈবাৎ এসে পড়ে তার ভাল লাগে না।

    একাকিত্বের এই আলোছায়া, চাঁদের এ পিঠ ও পিঠ কি মাধুরী দেবীর জানা? সব সময়ে যদি অমাবস্যা থাকে তা হলে তো সে ভয়ানক কষ্টের ব্যাপার। এমন সন্তান হয় কেন মেয়েদের? মা বুড়ো হচ্ছেন, শেষ পাঁচ বছর রাজর্ষি একবারের জন্যও আসেনি। না এসেছিল। বাবা মারা যেতে শ্রাদ্ধ করতে। সে বরং ঘুরে গেছে। আর ইদানীং তো…। ওঁর সত্তর পঁচাত্তর হল। দুটোতে বিরাট ফারাক। তবু একবার মাকে দেখতে এল না!

    ***

    আপাতত সে সবে ‘মাধুরী প্রকাশে’র প্রশস্ত সিঁড়ি বেয়ে উঠছে। তার কাঁধে একটা ওভারনাইট ব্যাগ। শাড়িটা লাট খেয়ে গেছে। চুলগুলো আলুথালু। চিরুনি তো সব সময়ে সঙ্গেই থাকে, এবং ছোট চুল এলোমেলোও হয়ে থাকে, কেন আঁচড়ে নেয়নি, সে জানে না, এখনও জানে না সে আলুথালু। কেননা, এই বাড়িও একরকম স্মৃতির মহেঞ্জোদরো যাতে সে প্রত্ন সব নিদর্শনে ডুবে আছে।

    এক্স—শাশুড়ি এক্স—বউমাকে বললেন—এসেছ? এত দেরি হল যে! কী বুক ধড়ফড় কী বুক ধড়ফড়। সুবোধ ইঞ্জেকশন দিয়ে দিয়ে কোনওমতে জিইয়ে রেখেছে। এখানে আর থাকা যাবে মনে হচ্ছে না। দু’দিন অন্তর ধড়পড় ধড়ফড়…

    —কোথায় থাকবেন?—অদিতির মুখে কোনও ভাব নেই।

    চোখটা সরিয়ে নিলেন উনি। সত্যি কথাই, কী বিপদেই পড়েছেন। কলকাতায় ওঁদের কোনও আস্তানা নেই। থাকতে হলে এক্স—বউমার কাছেই থাকতে হয়।

    শ্বশুরমশাই ছিলেন ষোলোআনা বিষ্ণুপুরী। চাকরি—জীবনে দিল্লি—কলকাতা করলেও কখনও আস্তানা গাড়েননি। বিষ্ণুপুরেই ওঁর আসল কাজকর্ম। পুরো ইতিবৃত্তটা ছিল হাতের মুঠোয় ধরা। শ্যামরায়ের মন্দির জোড় বাংলা, রাধাগোবিন্দ, টেরাকোটা মন্দিরগুলোর পোড়ামাটির প্লেট, পঞ্চরত্ন মন্দির—এসব নিয়েও যেমন, এখানকার সংগীত ঘরানা, তাঁত শিল্প, মৃৎ—শিল্প, রেশম এসব নিয়েও তেমন তাঁর বিশদ কাজকর্ম ছিল। শেষ করে যেতে পারেননি। দুটো খণ্ড পাওয়া যায়। তৃতীয় খণ্ডের কাজ করবার সময়েই হঠাৎ স্ট্রোকে চলে গেলেন। তার ধারণা ছেলের কাণ্ডকারখানা দেখেশুনেই এমনটা হয়েছিল। প্রেশারের রোগী—টেনশন, মনঃকষ্ট, আত্মগ্লানি, রাগ—এর কোনওটাই তো শরীরের পক্ষে ভাল নয়।

    এখন ইনি বুঝুন। অবশ্য বুঝবেনই বা কী! ছেলে নিজে সাত সমুদ্র তেরো নদীর পারে হলে হবে কী! মায়ের সব প্রয়োজনের বিলিব্যবস্থা রিমোট কন্ট্রোলে করে যায়। তা ছাড়া অদিতি তো আছে। এক্স—বউমা! সম্পত্তির বিলিব্যবস্থা পর্যন্ত অদিতির উকিলই করে দিলেন। বউমাকে এত অবিশ্বাস করেছিলেন, কার্যকালে দেখা গেল তার ওপরেই দিব্যি জোরজুলুম!

    —আপনার ছেলে আসুক! সে দেখেশুনে করবে এখন।

    —রাজা? তা হলেই হয়েছে! সে গুড়ে বালি। সব চুরিচামারি হয়ে যাবে। তার কী বউমা! সে তো আর আসছে না!

    —আমাকে বউমা ডাকবেন না।

    —অ। তা ঠিক। কিন্তু অভ্যেস যেতে চায় না। মনে কিছু কোরো না।

    জীবনের যে—কোনও ঘটনা সুখেরই হোক, দুঃখেরই হোক, ভুলে যাবার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হল স্মৃতির চিত্রময়তা। স্মৃতি সবকিছুই আলমারিতে, দেরাজে সাজিয়ে গুছিয়ে রেখে দেয়। এক ড্রয়ারে খেলাধুলো, শৈশবসঙ্গী,—হুুড়মুড় করে বেরিয়ে আসতে চায়।

    —বনি বনি বনি। তুই আমার দলে।

    —না না কাল ও তোমার দলে ছিল, আজ আমার।

    চু—কিতকিত খেলায় তার নাম কইমাছ, কেননা সে পিছলে পালায়, ধরা পড়ে না, ধরা দেয় না, নট আউট ব্যাটসম্যানের মতো শেষ পর্যন্ত না—মোর, অধরা।

    আরেক ড্রয়ারে আছে মা—বাবা, আত্মীয়—স্বজন।

    জ্বর হয়েছে। বেশ জ্বর। লালচে মুখ। চোখ ছলছল। মা নেই। মা কোথায় কোন দাদার সংসার গুছিয়ে দিয়ে আসতে গেছেন। রাউরকেলা কি?

    —মা, ও মা, মা! বনির ঘ্যানঘ্যান প্রায় কান্নার আকার নিচ্ছে।

    বাবা মাথার কাছে। জলপটি লাগিয়ে প্রাণপণ হাওয়া করছেন। অনেকক্ষণ সান্ত্বনা দেবার, ভোলাবার চেষ্টা করছেন। পারছেন না। অবশেষে অভিমানী স্বরে বলছেন,

    —কেন মা, আমি তো আছি! আমি কি কেউ নই!

    বাবার সেই আহত মুখচ্ছবি ড্রয়ার—ভেতর থেকে চেয়ে থাকে। কোনও তাকে স্কুলের, কোনও তাকে কলেজের অসমাপ্ত দিনগুলো কেমন ধোপদুরস্ত তোলা থাকে। তার পাটে পাটে কত রঙিন ফ্যাব্রিক পেন্টিং, লকারে থাকে কিছু গোপন একান্ত সঞ্চয়। কিন্তু আলমারির তলার তাকে গোঁজা থাকে সব গরমিল, দুঃখ, হতাশা, ক্লান্তি, ধাক্কা, ধিক্কার। অনেকদিন পার হয়ে গেলেও সেগুলো ধোপার বাড়ি পাঠানো হয় না। থাকে তেমনই মলিন, বিবমিষাময়। মগজে অমাবস্যা, হৃদয়ে অগ্ন্যুৎপাত।

    যখনই এই মহিলা, অর্থাৎ শ্রীমতী মাধুরী গুপ্তর সঙ্গে ফোন বা দেখা সাক্ষাৎ হয়, তলার তাকের ময়লা কাপড়গুলো ঠেলে বেরিয়ে আসতে চায়। খুব ইচ্ছে করে এক্ষুনি ওই পুরো বোঝাটা লন্ড্রিতে পাঠিয়ে দিয়ে চিরদিনের মতো দুর্গন্ধমুক্ত হয়ে যেতে। হয় না, কী অসীম শক্তি যে ওই ময়লা তাকের!

    বাইরের চওড়া বারান্দায় এসে দাঁড়াল সে। দূরে কয়েকটা খেজুর গাছের জট। পাশ থেকে শুরু হয়েছে রাঢ় দেশের বিখ্যাত শাল। ধুলিধূসরিত, কিন্তু স্বাস্থ্যবান, মর্যাদাময়। ওইখানে গেলেই তার গান, কবিতা আসত। ছুটিছাটাতে যখনই বিষ্ণুপুরে আসত, সন্ধেরাত্তিরগুলো কাটত শ্বশুরমশাইয়ের কাছে। নিবিড় মনোযোগে। আর ভোরের আলো ফোটার আগে, কিংবা গোধূলি—বিকেলে সে ছুটে যেত সবার অলক্ষ্যে ওই শালের পরিধিতে। অনেক সময়ে কাঠফাটা দুপুরেও। বাঁকুড়ার শুকনো তাত, বেকিং আভেনের মতো। কাকচিল যখন ডাকে না—

    ‘ছুটে কে তুলিলে শালবন, বাহুবন্ধন চারিধারে। …ঘন বন্ধন চারিধারে।’ সে সময়ে শক্তি চট্টোপাধ্যায়কে আপাদমস্তক বোঝা যেত। বিস্ময়, হর্ষ, রোমহর্ষ। এই বাহুবন্ধনের ছবি সে এঁকেছিল। ধূসরের মধ্যে থেকে শত শত বাহু উঠে দাঁড়াচ্ছে মুঠির কাছটা গাছ, ধূলিবসন শালপ্রাংশু মহাভুজ। ‘ইকোলজিক্যাল স্টেটমেন্ট’ বলে ছবিটার নাম হয়েছিল খুব। ‘আর্মস অ্যান্ড দা ট্রি’ নাম দিয়েছিল বোধহয়। কোনও পরিবেশবাদী সংস্থা অনেক দাম দিয়ে সেই বাহুবন্ধন কিনে নেয়।

    —চা দিয়েছি বউমা!—শীলাদি। সেই মহিলা যার সঙ্গে আজ অনেক বছর হল মাধুরী দেবীর দিনরাত।

    বিরক্ত চোখে তাকাল অদিতি। এই বিরক্তির মানে ষোলোআনা বোঝে শীলাদি। চোখ নিচু করল—তুমি পাতলা পরোটা দিয়ে আলুচচ্চড়ি খেতে ভালবাসো।

    —এত সবের কী দরকার ছিল?—এ বাড়ির আত্মীয়তা সে চায় না।

    —বাঃ, এতখানি পথ। কত যে যত্নআত্তি পাও সে তো চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছে।—শীলাদি ছাড়বে না।

    বুকের ভেতরটা কেমন কুলকুল করে ঠান্ডা বয়। শীলাদি। শ্বশুর গেল, শাশুড়ি গেল, শ্বশুর—শাশুড়ির ছেলে গেল—বাড়ির হাউসকিপার, সব কাজের কাজি শীলাদির জন্যে এই কুলকুলে ঠান্ডা। শ্বশুরমশাই ডাকতেন—শীলাবতী—ই। শীলাবতী—ই!

    —তাড়াতাড়িতে তোমার জর্দা আনা হয়নি, শীলাদি।

    —না হোক গে।

    —জর্দা অবশ্য খুব ভাল জিনিস নয়।

    —ওই একটাই তো জোর, টিঁকিয়ে রাখে মা!

    খুব সাবধানে এবার বউমাটা এড়াল শীলাদি। আরাম চেয়ারটার ক্যাম্বিসের দিকে চেয়ে বলল—তুমি বোসো। আমি একটা টিপাই আনছি।

    —দরকার নেই। হাতে করেই হয়ে যাবে।

    —প্লেট ধরেছ, আবার চা ধরবে কোন হাতে?

    —তা—ও তো বটে। চা—টা বরং পরে এনো।

    —তা হয় না। একটু করে গলা না ভিজিয়ে তুমি কি খেতে পারো?

    সব মনে আছে শীলাদির। সব—ই কি? পুরনো সম্পর্ক, পুরনো স্নেহ—ভালবাসার সূত্র ধরে এখনও এই যত্ন, এখনও এমনি করে মনে রাখা। কে জানে শীলাদির আলমারিতে ক’টা তাক আছে অদিতির জন্য? শীলাদিদের লকারে কোনও গোপন তাকে কি? বাপে—তাড়ানো মায়ে—খেদানো প্রকাশ গুপ্তর বাড়ি আশ্রয় পেয়ে বর্তে যাওয়া বালবিধবা! সমস্ত স্মৃতিই কি ওর গুপ্ত পরিবারের সুখদুঃখের সঙ্গে জড়ানো? ভাবতে খুব কষ্ট হয় একটা মানুষের নিজস্ব কোনও অস্তিত্ব নেই, নিজস্ব সুখ—দুঃখ, স্মৃতি—বিস্মৃতি নেই। কী অসম্ভব রিক্ততা! সে তুলনায় এত অপমান এত যন্ত্রণা সত্ত্বেও নিজেকে তার খুব ঐশ্বর্যশালিনী বলে মনে হল।

    —খুব ভাল হয়েছে শীলাদি। কী করে এমন পাতলা করো গো!

    —ও মাখার ওপরে, করতে করতে আন্দাজ হয়ে যায়। বাবা ভালবাসতেন…তুমি… খোকা…ইতস্তত করে থেমে যায় শীলাদি।

    —আর এই আলুচচ্চড়িও। এটা আমার লোকেরা করতে পারে না একদম। কী রকম শক্ত শক্ত থাকে।

    —বোধহয় নুন—হলুদ দিয়ে সেদ্ধ করে নেয় না গোড়ায়। মোটা মোটা করে আলুর খোসাও দিতে হয় চাট্টি। তারপর যেমন কালোজিরে কাঁচালঙ্কা…

    অন্যমনস্কভাবে অদিতি বলল—বলব ওদের। শুনবে কিনা জানি না অবশ্য। আদৌ রান্না জানে কিনা…কী যেন একটা বলতে গিয়ে থেমে গেল শীলাদি।

    প্রথম যখন এ বাড়িতে আসে তাকেই শাশুড়ি ভেবে প্রণাম করতে গিয়েছিল সে। এত সৌম্য, ভদ্রদর্শন, তবে রাজর্ষির মা হবার পক্ষে একটু বেশি অল্পবয়সি। তবে সে সময়েও তো অল্প বয়সেই মেয়েদের বিয়ে হত, মা হতে হত। বলা উচিত নয়, মাধুরী দেবীকেই সে তুলনায় নিম্নপদস্থ মনে হত। খেঁকুরে—মার্কা, ঝগড়াটি ভাবটা চাপা দেবার জন্যেই কি মুখটা শক্ত করে থাকতেন?

    বিষ্ণুপুরে শ্বশুরবাড়ি যাবার আগে মা তাকে স্ল্যাকস—টপ ছাড়ালেন। এলোমেলো ছোট চুলের ভেতর থেকে অল্প একটু সিঁথি বার করে সিঁদুর পরালেন। আর কড়া গলায় বললেন—সব বড়দের প্রণাম করবে। বিদেশে যা করেছ তা করেছ। এঁরা আবার একরকম গ্রামের লোক। ভুলেও কোনও আধুনিক অসভ্যতা করবে না।

    শীলাদির পরনে ছিল চওড়া ভোমরা—পাড় শাড়ি, কালো চুল সারদা মায়ের ছবির মতো ঘোমটার ফাঁক দিয়ে সামনে এসে পড়েছে। জর্দার গন্ধে ভুরভুর করছে চারদিক।

    —ও কী করছ বউমা…ছি ছি… পা সরিয়ে শীলাদি ততক্ষণে পগার পার। কী কুক্ষণেই পাঁকাটি জ্বালিয়ে দুধ ওথলাতে গিয়েছিল।

    সকলেই অপ্রস্তুত। সমবেত মহিলাদের মুখ হাঁড়ি। শ্বশুরমশাই ওরই মধ্যে পরিস্থিতি সামলে নিয়ে বলছেন—সে কী কথা! বউমার যদি তোমাকে প্রণাম করতে ইচ্ছে হয়, নিশ্চয় করবে। তুমিই তো আমাদের খাইয়ে—পরিয়ে বাঁচিয়ে—বর্তিয়ে রেখেছ। তবে হ্যাঁ, অদিতি, আগে তোমার মাকে প্রণাম করো…তার পর। বুদ্ধিমান লোক, অদিতিকে বুঝিয়ে দিলেন…সে—ও বুদ্ধিমতী মেয়ে, বুঝে নিল—ইনি কে! কী! কিন্তু শাশুড়িকে দেখে তার কেমন একটা প্রিমনিশন হয়েছিল। চেহারার ওপর তো মানুষের হাত নেই! একশোবার। মাধুরী দেবী এককালে তো বেশ ঝরঝরেই ছিলেন ছবিতে দেখেছে। সুন্দর নয়, কিন্তু সপ্রতিভ, মার্জিত চেহারা, লম্বা, বেশ সুন্দর ব্যক্তিত্ব। ভুগতে ভুগতে, ক্রমাগত মেজাজ খারাপ করতে করতে মনটাও গেছে, শরীরটাও গেছে। অথচ সেই ভাঙা শরীর নিয়েই, স্বামীর বিরহ, ছেলে—বউয়ের সম্পর্ক ভাঙা সবকিছু ছাড়িয়ে ছাপিয়ে দিব্যি আছেন। শীলাদিকে উদয়াস্ত ব্যস্ত রাখেন। আর মাঝে মাঝেই এই শরীর ভীষণ খারাপ। কলকাতায় না নিয়ে গেলে এখন তখন অবস্থা। এটা ওঁর একটা বাহানা। ছেলেকে এবং পূর্বতন বউমাকে ব্যতিব্যস্ত করবার। কী সুখ যে পান! লজ্জাও করে না!

    স্থানীয় ডাক্তার সুবোধবাবু এসেছেন। আবার ভাল করে পুঙ্খানুপুঙ্খ দেখলেন। পোর্টেবল মেশিন এনেছেন, ইসিজি করলেন। বেশ সময় নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ইসিজি। প্যাথলজিক্যাল টেস্টের রিপোর্টগুলো দেখলেন। রোগিণীকে বললেন… আরে বউদি, আপনি তো অনেক ভাল আছেন? ইচ্ছে হয়েছে কলকাতা ঘুরে আসুন। কিন্তু আপনার ইসিজি ভালই। এখন আন্ডার কন্ট্রোল।

    হাত ধুতে যাবার ছল করে অদিতির সঙ্গে কথা বললেন উনি—দেখো বউমা, এনলার্জড হার্ট, হাই প্রেশার, মাঝে মাঝে প্রবলেম হবেই। কিন্তু এ তো তোমার পেসমেকারের কেস নয়। অ্যাজিওপ্লাস্টি টাস্টিরও নয়। বড় নার্সিংহোমের আরাম খেতে ওঁর মাঝে মাঝেই ইচ্ছে হয়। বয়সটাও তো অবুঝপনারই। এটুকু করেই দাও।

    সুবোধ ডাক্তারবাবু তাদের সম্পর্কের ডিটেল কিছুই জানেন না বোধহয়। কোথায় সুদূর প্যারিসে কী ঘটেছে, আপাতদৃষ্টিতে ব্যবস্থাপনার কোনও বদল না হলে তিনি বুঝবেনই বা কী করে! হাঁকডাক করে তো কিছু করা হয়নি। ছেলে বিদেশে মহাব্যস্ত, বউ কর্মোপলক্ষে কলকাতায় থাকে, শাশুড়ির সঙ্গে তেমন বনিবনা নেই—এটুকুই তাঁর জানা। ভাল, এটুকু সে করেই দিচ্ছে মানবিকতার খাতিরে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির অ্যাম্বুল্যাস ঠিক করা হল। সুবোধ ডাক্তার নিজে একজন নার্সসহ সঙ্গে যাবেন। এস.টি.ডি. করে নার্সিহোমের কেবিন বুক করল অদিতি। এই নিয়ে তৃতীয়বার হল। ওঁরাও চিনে গেছেন। বললেন—মিসেস মাধুরী গুপ্তা, ওহ ইয়েস, কেবিন নাম্বার টু?

    সব ব্যবস্থা হয়ে যাবার পর একটা নতুন কাজ করল অদিতি। শীলাদিকে বলল—ওঁর সঙ্গে তুমিও একবার ঘুরে আসবে চলো শীলাদি।

    শীলাদি বোধহয় এমন কথা কখনও শোনেনি। তার জীবনকাল কেটে গেছে বাঁকড়ো জেলায় সোনামুখীতে ছোটবেলা…তারপর বিয়ে হয়ে কিছুদিন শিহড়। তারপর আবার সেই সোনামুখী। বাবা—দাদার গলগ্রহ। তারপর একধরনের মুক্তি। বাঁকুড়া শহরের উপান্তে এই গুপ্ত বাড়ি। ওঁরা কত জায়গায় ঘুরেছেন, বেড়িয়েছেন, শীলাবতী সব সময়ে ঘর আগলে থেকেছে। কাজের লোক ঠিকমতো ঘর পরিষ্কার করল কিনা, কর্তা—গিন্নির ফেরবার সময়ে সব ঘরের বিছানা, জাজিম, কুশন—কভার সব কাচা ঝকঝক করবে, রান্নাঘর দেখলে মনে হবে ব্যবহার হয় না—শুধু সাজানো আছে। এই ফাঁকে বইয়ের আলমারিগুলো ঝাড়াঝুড়ি—এ সমস্তই শীলাবতীর দায়িত্ব।

    —আমি?—শীলাদি যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না।

    —ঘরদোরের কী হবে বউমা?

    —কেন? দীনুদা তো রয়েছে। একদিন অন্তর তোমাদের লোকটিকে দিয়ে সব পরিষ্কার করিয়ে রাখবে।

    —মা ছাড়বেন কেন বউমা।

    —সেটা আমার ভাবনা।

    —মা তো গিয়ে হাসপাতালে ভরতি হবেন। আমাকে সেখানে থাকতে দেবে?

    —না, সেখানে থাকতে দেয় না। কোথায় থাকবে—না থাকবে সেটাও আমায় ভাবতে দাও।

    —আমি কখনও যাইনি।

    —জানি।

    —মা যদি রাগ করে?

    —কী আশ্চর্য, বললুম তো ওটা আমার ভাবনা।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleট্রেকার্স – বাণী বসু
    Next Article জন্মভূমি মাতৃভূমি – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }