Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঝড়ের খেয়া – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প272 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঝড়ের খেয়া – ৫

    পাঁচ

    খাটের মাথার দিকের পাশে একটা মাঝারি টেবিল, তাতে ওষুধপত্র, ফ্লাস্ক, জলের বোতল, বিছানায় রাবারক্লথ, খাটের তলায় বিদেশি ফাইবারের বেডপ্যান, উলটো দিকে মেঝেয় শোবে শীলাদি। একটা আলমারি আর একটা দেরাজ ঘরে। দেরাজটার দুটো ড্রয়ার ফাঁকা করে দিয়েছে অদিতি। এঁদের দু’জনের জামাকাপড় তোয়ালে ইত্যাদি থাকে এইখানে। সে লোক রাখতে চেয়েছিল, কিন্তু শীলাদি রাজি নয়। বলল—উনি আমার হাতের ছাড়া সেবা নেবেন না, বউমা—আরও আশ্চর্যের কথা যেটা শীলাদি বলল—আমিই বা কী করে ওঁকে ভাড়া করা লোকের হাতে ছাড়ি। সে আমি পারব না, আমার তো এখানে কিছুই করতে হচ্ছে না। আমার কোনও কষ্ট হবে না।—তারপরে যা বলল শীলাদি সেটা তৃতীয় আশ্চর্য বা অষ্টম আশ্চর্য যা—ই বলা যাক। বলল—আর এক উনি নিতে পারেন তোমার হাতের সেবা।

    —আমার?

    —না গো। তোমাকে কিছু করতে বলছি না, করতে পারবেই বা কেন?

    অদিতি মনে মনে বলল—এ ভাবেই আমি মায়ের সেবা করেছি। সেবা করতেই প্রধানত চলে এসেছিলাম। যদি জানতে শীলাদি।

    —মানে তুমি তো করছই। কত কাল ধরে করছ মা, বিপদে পড়লে উনি তোমাকে ছাড়া আর কাউকে ডাকেন না। জ্ঞাত—গুষ্টি কি আর নেই! মায়ের বাপের বাড়ির দিকেও কিছু আছে। কিন্তু না, প্রত্যেকবারই বলবে—বউমাকে খবর দাও।

    খুব আশ্চর্য হয়ে, প্রায় ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে অদিতি চলে এল। বলে কী! তোষামোদ? সে এত করছে বলে? ভেতরে ভেতরে এত বিরক্ত বলে? শীলাদি ডিপ্লোম্যাসি করার মতো চতুর বলে কখনও মনে হয়নি তার। বোকা একেবারেই নয়। কিন্তু সরল, আন্তরিক, সংবেদনশীল এবং …এবং একেবারেই বোকা নয়।

    যাক—আজকে একটা লম্বা কাজ আছে, অ্যাকাডেমিতে আর্ট কলেজের ছাত্রছাত্রীদের ছবির একটা অভিনব প্রদর্শনী। সে বিচারক। অন্যতম। কান্তিদা আর সে। দু’জনে আলাদা আলাদা যাবে। একেবারে পরামর্শ না করে প্রতিক্রিয়া বদলাবদলি না করে যার যার মতামত লিপিবদ্ধ করবে। তারপরে মতানৈক্য বা আর কোনও অসুবিধে হলে বসবে ভাস্কর চক্রবর্তীর সঙ্গে। সকালে সে যায় তার নিজস্ব সংস্থা ‘চিত্রভানু’তে। সেখানে প্রচুর পোস্ট গ্রাজুয়েট ছাত্রছাত্রী। এটা একটা ফরাসি ধরনের আতলিয়ে এখানে যে—যার ইচ্ছে মতো ছবি আঁকে। যাদের আঁকাজোকা করার জায়গা নেই তারা অনেকেই এখানে স্রেফ নিজের কাজ করবার জন্যে আসে। রং তুলি তেল সব নিজস্ব, ক্যানভাস বা নানা রকম হ্যান্ডমেড পেপার সে দেয় এবং এইসব ছবি বিপণন করে। তারই একটা ভাগ তার প্রাপ্য। কিন্তু এইসঙ্গে আছে কিছু শিক্ষার্থীও। তারা শেখে। স্টুডিয়ো সামলানো, শেখানো, এবং বিপণন তিনটে কাজই একসঙ্গে করতে হয়। সময়সাধ্য, শ্রমসাধ্যও বটে। আজই যেমন মিসেস কানোরিয়া কতকগুলো পছন্দসই ছবি নিয়ে যেতে বলেছেন। এসব করবার জন্য ছাত্রছাত্রীরা ছাড়া আর কেউ নেই তার।

    অন্যমনস্কভাবে খাচ্ছিল সে। ভাতের গ্রাসের সঙ্গে মুখে কী তুলল না তুলল সে খেয়ালই নেই। তার অন্যমনস্কতাকে এক চমক দিয়ে জ্ঞানে ফিরিয়ে দিল কী যেন একটা স্বাদ।

    —কী রেঁধেছ ছবি? এটা?

    —কোনটা?

    —এক্ষুনি যেটা খেলাম।

    —ও, ওটা কী যেন শীলাদি রেঁধেছে।

    —কী? এটা?

    —নিজেই কেটেছে, কুটেছে—আমি জানি না দিদি। ভাল?

    —খুব ভাল।

    —ও শীলামাসি, শীলামাসি…ই অমনি ছবির হাঁকডাক শুরু হয়ে গেল।

    —কী?

    —কী রেঁধেছ গো। খুব ভাল লেগেছে দিদির।

    —গুগলি রেঁধেছি। আমাদের ওখানে তো খুব পাওয়া যায়। বাড়িতে এনে বিক্রি করে যায়। ছাতুর সঙ্গে খুব ভাল লাগে। মায়ের মুখে সোয়াদ নেই, খেতে চাইল…

    —খুব ভাল হয়েছে। তা কাকে দিয়ে আনালে? ছবি তো বলছে কিছুই জানে না।

    —তোমাদের হাতিবাগানের বাজার তো এই দোরগোড়ায় গেলুম, নিয়ে এলুম।

    —কলকাতার রাস্তাঘাটে স্মার্টলি চলাফেরা করতে শিখে গেলে? শীলাদি?

    লাজুক হেসে শীলাদি বলল—ওটা আবার একটা কথা হল? কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর যেতে হলে কিন্তু পারব না।

    তার হালকা নীল শিফনের কুঁচি ঠিক করতে করতে অদিতি ভাবল—সত্যি তো কালীঘাট—দক্ষিণেশ্বর এগুলো কলকাতার প্রধান আকর্ষণ। বিশেষ করে শীলাদিদের কাছে। মাধুরী যখন নার্সিংহোমে ছিলেন, তখনই একদিন নিয়ে যাওয়া উচিত ছিল। মুখ ফুটে একবার বলতে হয়। এখন রোগীকে ফেলে ও যাবে কী করে? নিজের ওপর একটু রাগও হল। যখন শীলাদিকে আসতে বলল তখন তো ওর একটু হাওয়া—বদলের জন্যই বলেছিল। কলকাতা দেখানোও। নিজের এই ভাঙা বাড়ি ছাড়া আর কিছুই দেখায়নি এখনও পর্যন্ত।

    চোখের কোলে হালকা করে বাদামি পেনসিল বুলোল। চুলগুলো আঁচড়ে আঁচড়ে ঝাঁকিয়ে ফুলিয়ে নিল। লম্বা আয়নায় ঘুরেফিরে দেখল নিজেকে। আজ মিসেস কানোরিয়ার ওখানে যেতে হবে। আর একটু সাজলে হত। মার্কেটিংয়ের জন্য একটু সাজগোজ দরকার হয়, বিশেষ করে মেয়েদের। ছেলেদের লম্বা চুল আর না—কামানো দাড়ি, জিনসের ওপর ছোট ঝুলের হাফ পাঞ্জাবি, কি লম্বা ঝুল খদ্দরই সাজ। কিন্তু মেয়েদের নানাভাবে নিজেকে সজ্জিত করতে হয়। অত ভাবনায় কাজ কী? সে নিজেই সাজতে বিলক্ষণ ভালবাসে। আগে এটা একটু চড়ার দিকে ছিল, সে সময়ে ‘ভাবুনি’ ‘সাজুনি’ ইত্যাদি বিশেষণ তার যথেষ্ট জুটেছে। এখন তার সাজসজ্জা আরও অনেক পাকাপোক্ত। রুচি পরিণত। মিসেস কানোরিয়ার ঘরের দুগ্ধশুভ্র দেওয়ালের পটে তার এই হালকা নীল বড় ভাল খুলবে। একটা সময় ছিল যখন সে প্রাইমারি কালারগুলো ছাড়া পরত না। সে একদিন গেছে। বন্ধু—বান্ধবরা চেঁচামেচি করত কলাভবনের সেইসব দিনগুলোতে—আজও হলুদ, তুই কি চির হেমন্ত নাকি রে, বনি?—তারপর তার গোপন পলিসিটা আবিষ্কার করে ওদের সমবেত সংগীত—আজ সবার রঙে রঙ মেশাতে হবে—সে আর গান থামতে চায় না—অরুণিকা, মেহের, শিল্পশ্রী, তুষার, রঙিন, মাধ্বন, কাদের… সব স—ব।

    মুখে একটু, সামান্য একটু হাসি ফুটেছিল। ছবি বলল—দিদি ফোন। আশ্চর্য! এত মগ্ন ছিল সে রুদ্রপলাশের রঙে যে রিং শুনতেই পায়নি। এমনই তার হয়। এই তদগত তন্ময়তা, তখন কোনও কিছু দেখে না, শোনে না। শুধু সেই এক অদ্বিতীয় ধ্যানবস্তু ছাড়া। যেমন এখন রুদ্রপলাশ! শান্তিনিকেতনের বসন্ত—ভরতি রুদ্রদর্শন নয়, অথচ রুদ্রপলাশ।

    —হ্যালো।

    —আমি মিসেস সাহা রায় বলছি। আপনি অদিতি সরকার তো?

    —হ্যাঁ।

    —আপনি কি আমার মেসেজ পাননি?

    —হ্যাঁ পেয়েছিলাম। স্যরি মিসেস সাহা রায়। আসলে আমার এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় খুব অসুস্থ। নার্সিংহোম, ডাক্তার… এখন আবার আমার বাড়িতেই আছেন। সময় পাইনি। ভুলেও গিয়েছিলাম। খুব দুঃখিত।

    —না, না, তাতে কী! অসুখ যখন। জিভে একটা চিকচিক আওয়াজ করলেন ভদ্রমহিলা সহানুভূতির, তারপরে বললেন—আজ একটু সময় দিতে পারবেন? খুব দরকার।

    —অনোহিতা কি বাড়িতে আছে?

    —না।—ভদ্রমহিলার গলাটা কেঁপে গেল—সেই থেকে ফেরেনি।

    —সে কী? পুলিশে খবর দিচ্ছেন না?

    —পুলিশের ব্যাপার নয়। আপনি আসুন, তারপরে বলব, ফোনে কথা হবে না। অনেক কিছু এক্সপ্লেন করতে হবে। প্লিজ আজকে একটু সময় দিন।

    —আজ তো…ভীষণ ব্যস্ত…।

    —প্লিজ…দ্রুত ভাবতে লাগল অদিতি। কোনটাকে বাদ দিতে পারে? কানোরিয়া? নাঃ। পাগল করে দেবেন। ফসকে যেতে পারে অনেক ভবিষ্যৎ ডিল। আর্ট এগজিবিবিশনে জাজগিরি? সম্ভব নয়। আরও কয়েকদিন আছে প্রদর্শনী। কিন্তু তার মধ্যেই পুবস্কারপ্রাপ্ত ছবিদের গায়ে লেবেল আটতে হবে। একমাত্র—একমাত্র ‘চিত্রভানু’টাই বাদ দিতে পারে সে।

    —মিস সরকার।

    —ইয়েস, ভাবছিলুম। আপনি এক কাজ করুন। এখুনি চলে আসতে পারবেন?

    —শিয়োর।

    —কোথায়?

    —আপনি তো নর্থে থাকেন। ওদিকে কিছু জানা নেই আমার, এক কলেজ স্ট্রিট কফি হাউজ…।

    —আমি সাউথে যাচ্ছি। যেতে হবে থিয়েটার রোডে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে দেড়টায়। আপনি এক কাজ করুন, থিয়েটার রোডের মুখে একটা ছোট্ট রেস্তোরাঁ আছে, কিংবা কাছাকাছি চৌরঙ্গির ওপর ‘এমব্যাসি’। এই দুটোর একটাতে চলে আসুন। প্লিজ খেয়ে আসবেন না, কারণ আমার লাঞ্চ এইমাত্র শেষ হল, রেস্তোরাঁয় কথা বলতে হলে যা—যা অর্ডার দিতে হবে সব আপনাকেই খেতে হবে কিন্তু।

    —ঠিক আছে। এমব্যাসি যাচ্ছি।

    —তা হলে সাড়ে এগারোটা।

    ‘চিত্রভানু’তে ফোন করল অদিতি। স্টুডেন্টরা কেউ আসেইনি এখনও। এসেছে শৌনক, একজন শিল্পী, সে—ই ধরল।

    —আমি দিদি বলছি। আমার ক্লাসের কেউ এলে বলবে—কাল যে ছবিগুলো সিলেক্ট করেছিলাম, সেগুলো যেন ওরা ভাল করে প্যাক করে একটা ট্যাক্সি নিয়ে ২৫/১ শেক্সপিয়র সরণিতে পৌঁছে যায়। ঠিক দেড়টা নাগাদ। আগে নয় পরে তো নয়ই। আগে গেলে অপেক্ষা করতে হবে। বুঝেছ?

    —হ্যাঁ দিদি, এটা কানোরিয়া হাউজ, না?

    —হ্যাঁ।

    —আমারও কিছু আছে ওর মধ্যে, না? ওর গলায় প্রচ্ছন্ন উদ্বেগ, উৎসাহ।

    —হ্যাঁ, ছেড়ে দিচ্ছি।

    আর দেরি করল না। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে অদিতি চটপট বেরিয়ে পড়ল। শীলাদি বা মাধুরী দেবীকে বলে আসতেও ভুলে গেল বেমালুম। এমনিতেও তো অভ্যেস নেই!

    মিসেস সাহা রায়ের কথা সে যে কী করে ভুলে গেল! উচিত হয়নি কাজটা। বোঝাই যাচ্ছে একটা পাগলি মেয়ের মা তিনি। মেয়েটা একেবারেই খেয়ালখুশি মতো চলে। সেই থেকে ফেরেনি? কেলেঙ্কারি। ভদ্রমহিলা, পেছনে ভদ্রলোকও আছেন নিশ্চয়, তো তাঁরা এতদিনেও কিচ্ছু না করে বসে আছেন? পুলিশের ব্যাপার নয়? তার মানে ওঁরা তার খবর রাখেন, খবর পান।

    মেয়েটা যে রকম রহস্যজনকভাবে চলে গেল, তখন তার অভদ্রতা মনে হয়েছিল, নিউ জেনারেশনের মার্কামারা অভদ্রতা, এখন বুঝছে রহস্যজনকই, সন্দেহজনক, আসলে ভয় পেয়েছে এর পরে আরও পরিচয় বার হয়ে পড়বে। সেটা হতে দিতে চায়নি। অনাহূত রবাহূত কেমন চলে এল? সেটাও সন্দেহজনক। ঠিক করতে পারছিল না কী করবে। রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছে। প্রচণ্ড বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে সব। উনি আকাশ পাতাল ভাবছেন আর কী! কোথায় গেলে কী করলে বাবা—মাকে আরও জ্বালানো যায়। তা অযাচিতভাবেই আশ্রয় মিলে গেল। রাতের মধ্যে ভাবনা—চিন্তা ইতি—কর্তব্য স্থির হয়ে গেল বোধহয়, কেটে পড়ল। বাস। আর কে তার তোয়াক্কা করে!

    রেস্তোরাঁটা চলে কী করে কে জানে! সব সময়েই খুব কম লোক থাকে। এসেছে হয়তো বার পাঁচেক। খুব কনভিনিয়েন্ট জায়গাটা। আজ কিন্তু বেশ লোক। লাঞ্চ—টাইম তো! লোক জমতে শুরু করেছে। লাঞ্চের জন্য টেবিল সাজানো। কয়েকটাতে আবার রিজার্ভড নোটিস। সে ঢুকে এদিক—ওদিক তাকাচ্ছে, কোনও চিহ্ন, কিছু বলাবলি হয়নি। সে বোধহয় ধরেই নিয়েছিল শূন্য থাকবে জায়গাটা, একটিমাত্র মহিলা সূর্যের মতো বিরাজ করবেন তার অপেক্ষায়।

    কোণ থেকে একজন উঠে দাঁড়ালেন। হাত নাড়লেন।

    —আসুন।

    —কতক্ষণ এসেছেন?

    —জাস্ট।

    —অনেক দূর?

    —না, আয়রনসাইড রোড।

    —মোটের ওপর দূরই তা!—বলছিল আর ভদ্রমহিলাকে জরিপ করছিল অদিতি। খুব ফরসা রং। মুখ নাকগুলো একটু ভোঁতা ভোঁতা। একধরনের সৌম্যশ্রী আছে। বয়ছাঁট চুল। ঘাড় গলা রীতিমতো বলিষ্ঠ। ভাস্করদের পছন্দসই। পুরো চেহারাটার মধ্যেই একটা শক্তির ছাপ আছে। রাফ পাথরে তৈরি করলে দারুণ হবে। সিমেন্টে চিপস মিশিয়ে বা সুরকি ধরিয়ে শৌনক মাঝে মাঝে করে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় অনোহিতা মায়ের কিছুই পায়নি। একেবারেই পলকা—হালকা। রং মাজা। চোখমুখের বিচার করা অত সোজা নয়। কেননা মেয়ে এখনও ধারালো, মা খানিকটা তো ধেবড়ে গেছেনই। যাই হোক, কোনও আদল নেই।

    উনি বললেন—আপনি আর্টিস্ট অদিতি সরকার, না?

    —হ্যাঁ।

    —আমি আপনাকে টিভি—তে কোনও চ্যাট শোয়ে দেখেছি। ফোটো, এমনি এগজিবিশনেও… অ্যাকচুয়ালি আমি ছবি ভালবাসি।

    অদিতি মুখে একটা আলগা হাসি নিয়ে অপেক্ষা করছে।

    —অনোহিতাকে আপনি কোথায় কীভাবে পেলেন?

    অদিতি বলল সব। কীভাবে। কখন। কোথায়। খালি কেনটাই তার জানা নেই।

    —ভিজছিল? একা?—একাটার ওপর খুব ঝোঁক দিলেন ভদ্রমহিলা।

    —ওর কি একা থাকার কথা নয়? একটু ইতস্তত করে সে জিজ্ঞেসই করে ফেলল।

    —কী জানেন—অদিতি…বলতে খুব খারাপ লাগছে—কিন্তু ও প্রায় ওর বাবার বয়সি এক বিবাহিত ভদ্রলোকের কাছে আছে আমরা জানি। এই নিয়েই ওর বাবার সঙ্গে, আমার সঙ্গে খুব…চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে। ওর বাবা খুব মেজাজি। মেয়েও তাই।

    —মেয়ে তা হলে মাকেও মানে না।

    —মা থাকলে তো মানবে?

    —আপনি ওর মা নন?

    —না। আমি ওর মায়ের বন্ধুস্থানীয়। ওর মায়ের মৃত্যুর পর, বছর দুয়েক পর আমরা, মানে আমি আর ওর বাবা বিয়ে করেছি।

    এইবার সমস্যার আসল জটিলতার জায়গাটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    —আপনি বিশ্বাস করবেন কি না জানি না। কিন্তু এই বিয়েটার আগে ও আমাকে ওর মায়ের চেয়েও ভালবাসত।

    কেন যে অতিরঞ্জন করছেন ভদ্রমহিলা! বুঝছেন না এতে ওঁর বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যাচ্ছে। মা’র থেকে ভাল কেউ কাউকে বাসে?

    —ওর মা, আমার বন্ধু খুব ভালমানুষ ধরনের। ভিতু, নির্বিরোধী ধরনের মেয়ে ছিল। মানসিক সাহায্য্যের জন্য ও আমার কাছেই আসত।

    এবং আপনি পুরোপুরি তার সুযোগ নিতেন। ভাবল অদিতি।

    —অনোহিতা একমাত্র সন্তান। ওর বাবা খুবই ব্যস্ত। বড্ড আদুরে, মানে একটু স্পয়েল্টই বলা যায়।

    সৎমাদের কাছে সৎমেয়েরা সব সময়েই স্পয়েল্ট হয়। এই ছকটা অদিতির চেনা। স্ত্রীয়ের বন্ধু। ক্রমশ জাল বিস্তৃত করছে। ইনি তো সব কথা ভাঙবেন না!

    —আমি ওদের স্কুলের প্রিন্সিপ্যালও। বড্ড উইলফুল, রাগী, আমাকেই একমাত্র মানত। ওর সঙ্গে আমার একটা স্পেশ্যাল রিলেশনশিপ ছিল।

    —সেটা কি একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে?

    —খুব সম্ভব।

    —আপনি ওর বাবাকে বিয়ে করেছেন বলে?

    —খুব সম্ভব।

    —ওর মা হঠাৎ, বয়স তো…।

    —আমার মতোই হবে, স্কুল থেকে একসঙ্গে পড়াশোনা করেছি আমরা, শারীরিকভাবেও খুব কমজোরি ছিল শ্রীলা। হিসটেরেকটমি করতে হয়েছিল। মারা গেল। থ্রু আউট আমি… আমি একা তখন… আর কোথাও….কেউ…

    ভদ্রমহিলা চুপ করে গেলেন। ওঁর নিজেকে সামলাতে কষ্ট হচ্ছে। অদিতি মুখ নিচু করে চিকেন চাওমিনের প্লেটের দিকে তাকিয়ে রইল। এই গলা ধরে যাওয়া শোকটা সত্যি, অভিনয় মনে হল না।

    —এর বাবা ছিল লন্ডনে। আর ও বন্ধুদের সঙ্গে এক্সকারশনে গিয়েছিল।

    —মায়ের অপারেশনের কথা জেনেও?

    —জেনেও—দ্যাটস দা প্রবলেম উইথ হার, শি ইজ ভেরি ভেরি সেলফিশ। তা ছাড়া আমার ওপর এমন একটা ফেথ ছিল। জাস্ট বলে গেল—তুমি মাকে দেখো, আমি জাস্ট দু’দিনের জন্যে…

    —একটা কথা জিজ্ঞেস করতে পারি?

    —হ্যাঁ নিশ্চয়ই।

    —আমার অনধিকারচর্চা হচ্ছে মিসেস সাহা রায়। কিন্তু মেয়েটি যখন একরাত আমার বাড়ি কাটিয়ে গেছে এবং সেই সূত্রে আপনি আমার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছেন জেনেও যে আমি আর ওর সম্পর্কে কিছু জানি না।…

    —আপনাকে অত কৈফিয়ত দিতে হবে না। উনি একটু দুঃখের হাসি হেসে বললেন—কী জানতে চান জিজ্ঞেস করুন।

    —ওর বাবা কেন সে সময় ছিলেন না।

    —আপনি কি কর্পোরেট ওয়ার্ল্ডের প্রেশারের কথা কিছু জানেন? ওরা কিচ্ছু মানে না, যেতে হবে তো যেতে হবেই। এখন, হিসটেরেকটমি একটা মেজর অপারেশন হলেও মোটামুটি রুটিনই তো! ভাল ডাক্তারের হাতে ছিল। আমার ওপরও ও খুব নির্ভর করত। কিছু করতে পারলাম না। …তবে কী জানেন—ক্ষতি যা হয়েছে সবচেয়ে বেশি আমারই…।

    জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাল অদিতি।

    —আপনি বুঝতে পারবেন না, শ্রীলা আর আমি ঠিক কী জাতীয় বন্ধু ছিলাম। আমি তো অনেকদিনই উইডোড। একা থাকতাম। বন্ধুদের ফ্যামিলি তাদের ছেলেমেয়ে এটা আমার পৃথিবীর একটা…

    —বুঝলাম। আমি এখন কীভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারি সেইটাই বুঝতে পারছি না।

    —আপনি অদিতি সরকার। আপনি হয়তো পারবেন। আপনি ভাস্কর চক্রবর্তীকে চেনেন নিশ্চয়ই।

    —হ্যাঁ। কেন বলুন তো? —আশ্চর্য হয়ে বলল অদিতি।

    —উনিই সেই লোক যাঁর মোহে ও…

    বেশ কিছুক্ষণ অদিতি কথা বলতে পারল না। অবশেষে ধাক্কা খাওয়া গলায় বলল, আমি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছি না মিসেস…

    —আমার নাম সর্বাণী, আমি আপনার চেয়ে বয়সে যথেষ্ট বড়, ইচ্ছে হলে দিদি ডাকতে পারেন।

    —ভাস্করদা তো আমার চেয়ে অনেক বড় বটেই, আপনার চেয়েও বড়।

    —হ্যাঁ, প্রায় ওর বাবার বয়সি। একটু জুনিয়র। বন্ধু।

    অদিতি সেই একইভাবে চিকেন চাওমিনের প্লেটের দিকে তাকিয়ে রইল। সে কিছু ভাবতেই পারছে না। বলা তো দূরের কথা। চারদিকের পৃথিবী ধূসর। চোখে ভাসছে কাঁচা মেয়েটার মুখ। বৃষ্টিতে ভিজছে। গলে যাচ্ছে মাটির পুতুলের মতো।

    —আপনি আর্টিস্ট অদিতি সরকার, শিয়োর হয়েই আমি আপনাকে অ্যাপ্রোচ করেছি। যদি ভাস্করকে বলে কিছু করতে পারেন। ওর বাবা এখন এখানে নেই। ছ’মাসের জন্যে লন্ডন গেছেন। এর মধ্যে কিছু একটা করতেই হবে।…

    ধূসর থেকে ধূসরতর হয়ে যাচ্ছে পৃথিবী। টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে যাচ্ছে কাচের বাসনের মতো। শুধু কোনও শব্দ নেই।

    * * *

    মেয়েদের সঙ্গে মেয়েদের দেখা হলেই যদি সামান্যতম চেনাশোনা থাকে, শাড়ির প্রসঙ্গে উঠবেই।

    কুসুম কানোরিয়া হুইল চেয়ারে বসেছিলেন। বয়স বছর ষাট। চুলে মেহেন্দি করেন। একটা আগুনে কমলা বড় মাথা। উজ্জ্বল রং, উজ্জ্বল চেহারা, নাক এবং চোখ তীক্ষ্ন। সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঠিকঠাক, কোনও একটা নার্ভের রোগে গত দশ—বারো বছর বেচারি এমন হয়ে গেছেন। এত ধনী, সারা পৃথিবী ঘুরে এসেছেন চিকিৎসার জন্যে, কিন্তু কিচ্ছু হয়নি।

    উনি বললেন—ইয়ে শিফন বহোৎ বড়িয়া হ্যায়, অদিতিজি আপনার ওপর খুব ভাল লাগছে। খরিদ কিধারসে কিয়া? পার্কি স্ট্রিট?

    —প্যারিস থেকে।

    —দ্যাটস ইট।

    —এখানেও শিফন আজকাল চমৎকার পাওয়া যাচ্ছে কুসুমজি।

    —আপনাকে লাগছেও খুব সুন্দর। ফ্রেশ।

    —আপনি চলাফেরা করেন হুইল চেয়ারে। কিন্তু আপনাকে দেখলে কেউ বলবে না আপনার কোনও অসুখ আছে। একদম ফ্রেশ।

    অসুখের ব্যাপারটা নিয়ে আগেও ওদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে, তাই এ প্রসঙ্গ উত্থাপন করতে পারল অদিতি। কোনও ঢাকঢাক গুড়গুড় নেই, বা হীনম্মন্যতা নেই ভদ্রমহিলার। খুবই সাহসিনী। এত প্রফুল্ল থাকেন যে কে বলবে ওঁর একটা এত বড় অক্ষমতা আছে। জন্মগত নয়। সারাজীবন চমৎকারভাবে ছোটাছুটি করে যদি শেষ—চল্লিশে কারও পা অকেজো হয়ে যায়, কী দারুণ ডিপ্রেশন আসতে পারে মানুষের আন্দাজ করা যায়। সে ডিপ্রেশন গোড়ার দিকে ওঁর নিশ্চয় ছিল, কিন্তু অনেকদিন কাটিয়ে উঠেছেন। উনি ছবি ভালবাসেন। কিন্তু খুব একটা বোঝেন না। এ বিষয়ে অদিতির ওপর নির্ভর করেন উনি। ওঁর একটা বড় গুণ ছবি—বিষয়ে উনি বড় বড় নামের পেছনে ছোটেন না। উঠতিদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। কুসুম কানোরিয়ার রুচি খুবই বিশেষত্বের দাবি রাখে। উনি সংগীত ভালবাসেন। বড় বড় উস্তাদ তো নিশ্চয় শোনেন। কিন্তু শিক্ষার্থী, খানিকটা শিখেছে, তালিমে আছে এখন, অল্প বয়স—এদের গান শুনতে উনি অসম্ভব ভালবাসেন। এখনও একটা চালানো ছিল। ভোরের কোনও রাগ। অদিতি অত চেনে না, কিন্তু ভোর আর মধ্যরাতের রাগগুলোর সময় বুঝতে পারে, কেননা সময়কে নির্ভুল ধরে এইসব রাগ।

    ছবির বোঝাটা কুসুমের লোক কার্পেটের ওপর নামিয়ে গেছে, অদিতি বসল মুখোমুখি রাখা একটা চেয়ারে। কুসুম বললেন—শুনেছেন, কী ফ্রেশ ভয়েস! একদম পিয়োর, নোটগুলো ছুঁচ্ছে দেখুন, কেয়া সিনসিয়ারিটি! আলাপ, উও সির্ফ আলাপ করেগা, ঔর কুছ নহি।

    —কে ছেলেটি?

    —কেউ না অদিতিজি, উও তো কোই নহি অব, জানতি নহি কোই হোগা ইয়া নহি। বাট আই ডোন্ট কেয়ার। মেরে লিয়ে এহিই কাফি হ্যায়।

    ভোরের সুরে সত্যিই মিসেস কানোরিয়ার নাতিআসবাব ঠান্ডা ঘরে গ্রীষ্মের সাদা বেল জুঁই ফুটছিল। একটা সুরবলয়। নিজের চারধারে এই রকম একটা বলয় তৈরি করে বসে থাকেন কুসুমজি। ছবি…গান…পছন্দসই সঙ্গ…।

    —ওয়া, ওয়া, বহোৎ খুব। মাথা নেড়ে বলে উঠলেন।

    গান শেষ হওয়া অবধি বসে থাকতেই হল তাকে। ভাল লাগছিল খুব। এই আবহ অতি সুন্দর, শরীর—মনকে সুখে আরামে লালিত্যে ভরিয়ে দেয়। কিন্তু তার ভেতরে আর এক তাড়া। পৌঁছোতে হবে অ্যাকাডেমিতে, তিনটে গ্যালারি ভরতি কাজ। মতামত দেওয়ার আগে তো তাকে দেখে উঠতে হবে সব। তারপর…তারপর ভাস্করদা… ভাস্কর চক্রবর্তী…। কী বলবে, কেমন করে বলবে। কিছুই জানে না এখনও। ভাবতেও চায় না। ভাস্করদা শুধু চিত্রশিল্পী নন। আবার কবিও। বেশ নাম আছে। টিভি—তে কোনও সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে—মাথাভরতি ঝিলিক দেওয়া সাদা চুল, কানের শুধু লতি বেরিয়ে আছে, সিগারেটে প্রায় কালো ঠোঁট, তীক্ষ্ন নাসা, বসা চোখ, হিলহিলে চেহারার ভাস্কর চক্রবর্তীকে সেই বোকা বোকা প্রশ্নটা সে করতে শুনেছে—আঁকেনও আবার লেখেনও? কী করে মেলান?

    —মেলাই না তো! মেলে না আদৌ।

    —তবে? ঘাবড়ে গেছে পুতুল পুতুল মেয়েটি।

    —কবিটা আর আঁকিয়েটা আলাদা। কবিটা কথা বলায় আর আঁকিয়েটা তুলি চালায়।

    অদিতির মনে হয়েছিল কবিতায় আর চিত্রশিল্পে তো মাধ্যমগত ছাড়া আর কোনও ফারাক নেই? যদি কোনও কবি আবার কর্পোরেট হাউজের ব্যস্ত এগজিকিউটিভ হন, তখন এ প্রশ্নটা করা যেতে পারে। কিন্তু কবিতা আর ছবি পরস্পরের সঙ্গে গ্রন্থিবদ্ধ। সে দিক দিয়েই গেলেন না ভাস্করদা। শোম্যানশিপে ওঁর জুড়ি মেলা ভার। যেমন পাবলিক রিলেশন, তেমনই শোম্যানশিপ। বরঞ্চ এই প্রশ্নটা ওঁকে করা যেত, কবিতা বা চিত্র যে মগ্নতা, যে ধ্যান চায়, তা তাঁর মতো বাজারসন্ধানী জনসংযোগসর্বস্ব মানুষ কী করে দ্যান। বা উলটোটা। তবে এসব বলেও ওঁকে কায়দা করা যাবে না। নির্ঘাত বলবেন—কবিরে/শিল্পীরে পাবে না তার জীবনচরিতে।

    —শঙ্কর পরসাদজির নাম শুনেছেন। হুইল চেয়ার চালিয়ে মিউজিক ডেকটার দিকে গেলেন কুসুমজি, বন্ধ করে দিলেন।

    —না না, উনি কে? আমি ঠিক…

    —উনি সারেঙ্গির উস্তাদ। পহেলা সারের নয়, অনেকেই চিনে না। লেকিন বহোৎ হোনহার টিচার উনি, ওঁর সঙ্গে আমাদের জান—পহচান অনেকদিন। আমার ছোট বোন ওঁর কাছে শিখত। সরোজ চাঢঢা, মোটামুটি নাম ছিল একসময়ে। এখন সব ছেড়ে দিয়েছে। তো ওঁর কাছ থেকে কেসেট করিয়ে আনি। বেনারসে থাকেন। এ ছেলে আপনাদের বঙ্গালি কিন্তু। সাম মজুমদার ঔর তরফদার। মনে হচ্ছে না তো। সাম দার। আচ্ছা… আপনার দামের সময় নষ্ট করছি, অদিতিজি ডোন্ট মাইন্ড প্লিজ, অকেলি ঔরত…দুসরি মিললো তো বহোৎ বকবক করল।

    অদিতি একটা শুভ্র হাসি হেসে ওঁকে আশ্বস্ত করে। তারপরে ছবিগুলো একে একে বার করে, যেটা দূরে নিয়ে যাবার যায়। দেওয়ালের ওপর রেখে, আলোর তলায় দেখায় যেটা কাছ থেকে দেখবার পাশে বসে ওঁর কোলের ওপর রাখে।

    —এইটার স্পেশ্যালিটি কী অদিতিজি। জাস্ট একটা সফেদ কাগজ। এক দিকে একটা মুখের আউটার শেপ দেখছি।

    —ওই ওইটুকু দিয়েই মুখটা, তার টুপি, তার ঘাড়ের কাছে চুলের ছাঁট, একজন ফপ—টাইপের লোক আর কী… এটা ফুটিয়েছে। উইথ দা ভেরি মিনিমাম।

    —ওয়েল আই ডোন্ট লাইক দিস ফপ—ম্যান। এ খুব চলছে কি?

    —যার যে রকম পছন্দ। আপনাকে আলাদা আলাদা স্টাইল দেখাব বলে এনেছি।

    —আরে! মহাত্মা গাঁধীকে ক্রুসে দেখিয়েছে? ভেরি ক্লেভার অব হিম।

    —দেখুন কুসুমজি এ ছেলেটি একটা সিরিজ এঁকেছে, মহামানবেরা ক্রুসবিদ্ধ—এই বুদ্ধ, এই রবীন্দ্রনাথ, কত রকম অ্যাঙ্গল থেকে এঁকেছে দেখুন। এই বিবেকানন্দ, সুভাষচন্দ্র…

    —ওয়ান্ডারফুল, মোস্ট ওয়ান্ডারফুল…

    শৌনকের সিরিজটা পঞ্চাশ হাজারে বিক্রি হয়ে গেল।

    —কেয়া মাসলস দিয়া রবীন্দ্রনাথকো ইনহোনে। বুড্ডা থে না টেগোর?

    অদিতি হেসে ফেলল—চিরকাল তো টেগোর বুডঢা ছিলেন না কুসুমজি, তা ছাড়া উনি ছোটবেলায় কুস্তি করতেন। ওঁর ত্রিশের ঘরে বয়সের একটা ছবি আছে সেটা অনেকটা খ্রিস্টেরই মতো। খালি ওঁর চোখে গভীর অতল বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার ছাপ।

    —সমঝ গিয়া। লেকিন উও তো সফেদ দাড়ি সফেদ বাল হি দিয়া না ইনকো।

    —ইয়া—কুসুমজি বোঝবার চেষ্টা করুন এই শিল্পী শৌনকের এটা ভিশন অব রবীন্দ্রনাথ। হ্যাঁ বৃদ্ধ, সাদা রুপোলি চুলদাড়ি। কিন্তু পেশিময় দীপ্ত শরীর,—ওঁকে বীরপুরুষ হিসেবে দেখেছে শিল্পী। আ কারেজাস ম্যান অ্যান্ড ওয়রিয়র, ওঁর বার্ধক্যটা যেন সভ্যতার এই সংকটের জন্য বীর—শরীরে এসে যাওয়া এক বিষাদ—বার্ধক্য।

    —ওয়ান্ডারফুল—কুসুমজির বিস্ময় ও প্রশংসা আর ফুরোতে চায় না।

    নিজের ছাত্রছাত্রীদের কয়েকটা ছবিও বিক্রি করল অদিতি। নন্দিনী মিনিয়েচার আঁকে। কিন্তু ওর মডেলরা একেবারে আধুনিক। কত্থক নর্তকী, গণেশ , মা—শিশু, সাজানো বাগান। খুবই অদ্ভুত এফেক্ট ছবিগুলোর।

    অবধারিতভাবে একটা ইমপ্রেশনিস্টিক ল্যান্ডস্কেপও কিনলেন কুসুমজি। কিনবেনই। প্রত্যেকবার। ইমপ্রেশনিজম নিয়ে ওঁর মুগ্ধতা আর কাটতে চায় না। খুবই ভাল কাজ করেছে অবশ্য রোশন। খুব খেটেছে। তক্ষুনি তক্ষুনি ক্যাশে পেমেন্ট করে দিলেন উনি। লোহার আলমারির লকার খুললেন আর দিয়ে দিলেন। ভাল, ভাল। ছেলেমেয়েগুলো হাতে—গরম কাঁচা টাকাগুলো পাবে। কবে বিখ্যাত হবে, তখন লক্ষপতি, কোটিপতি হওয়ার কাল, আদৌ হবে কি না…সবাই তো হতে পারে না। অথচ জীবনকে চলতে হবে।

    চটপট একবার ‘চিত্রভানু’তে ফেরা যাক। টাকাগুলো হাতে পেলে বড় খুশি হবে, নিশ্চিন্ত হবে ছেলেমেয়েগুলো। নন্দিনী তো আকাশে উড়বে। এখনও তো শিক্ষানবিশি শেষ হয়নি। এ রকম আরও কত আছে আর্টের ইতিহাসে। দালি তো প্রচলিত কোনও শিক্ষা, রীতিনীতিরই ধার ধারেননি। কিছুই পছন্দ হয় না। কিচ্ছু না। স্কুলে বলে প্রচণ্ড প্রতিভা কিন্তু একেবারে উন্মাদ এ ছেলে। প্রকৃতপক্ষে, শৌনকের ক্রুসবিদ্ধ মহামানবদের সিরিজের মধ্যে দালি বিশেষভাবে আছেন। ‘ক্রাইস্ট অব দা সেন্ট জন অব দা ক্রস’, ‘লাস্ট সাপার’। বিবেকানন্দর ক্রুসটা আবার মিকেলেঞ্জেলোর ‘লাস্ট জাজমেন্ট’—এর অটল—অচল ক্ষমাহীন, বীরপুরুষ ক্রাইস্টের কথা মনে করিয়ে দেয় যিনি করুণাময়ী মাতা মেরির অনুনয়ও উড়িয়ে দিচ্ছেন। যথার্থ পাপীদের তিনি যথার্থ শাস্তি দেবেনই। ছবিগুলো বর্তমান সভ্যতার সংকটে খুবই প্রাসঙ্গিক। এই ক্রুসের প্রতীকটা খুব সাবলীলভাবে আসে ছেলেটার, হয়তো ক্রিশ্চান বলেই।

    শৌনক মেঝের ওপর একটা ডিগবাজি খেল। বোলার ব্যাটসম্যানকে আউট করলে যেমন একটা মুঠি পাকিয়ে ঝাঁকিয়ে বিজয়ীর ভঙ্গি করে, সেই রকম করে বলল—মার দিয়া কেল্লা। দিদি তোমায় একটা চুমু খাব?

    —খা! অদিতির মুখটা শক্ত করে ধরে দু’গালে চকাস চকাস করে চুমো খেল শৌনক, তারপর মাটিতে শুয়ে পড়ে সাষ্টাঙ্গ প্রণিপাত।

    রোশন বলল—আমারটা কী করে পুশ করলে দিদি। মোস্ট কনভেনশন্যাল…।

    —তাতে হয়েছেটা কী! ভাল লাগা মানে ভাল লাগা। তোর এই সূর্যাস্তের রং লাগা গাছপালা ঘরবাড়ি অলিগলি এসব তো আমি নতুন করে দেখছি। এঁকেবেঁকে থাকা ভিখারিটা ভাল করে লাইন ড্রয়িং করে নিয়েছিলি না? আর রিকশাওলা?

    —হ্যাঁ। তো উনি ওটা নিজে নিলেন না তুমি…

    এই রোশনের বড্ড দোষ। একেবারে আত্মবিশ্বাস নেই। সেই জন্যে শৌনকের মতো বোল্ড আইডিয়া এখনও ওর মাথায় আসতে পারছে না। ও সেই গায়কের মতো যে তার শিক্ষকের কিংবা যে—কোনও গায়কের গান অবিকল গলায় তুলে নিতে পারে। কে জানে হয়তো ও ক্ষতিগ্রস্ত ছবি উদ্ধার কিংবা কপি করার পেশা নেবে। তাতেও ভাল টাকা। খুবই ভাল।

    নন্দিনী ঢুকতেই বাকিরা হইহই করে উঠল—পুটপুটি, চুনোপুটি। নন্দিনীর মিনিয়েচারদের এবং তাদের দরুন নন্দিনী বেচারিরও নাম ওই—পুটপুটি। চুনোপুঁটি।

    তোরা তোদের টাকাপয়সাগুলো নিয়ে আমায় ছাড়।

    —আইসক্রিম আনতে দিয়েছি, না খেয়ে কোথাও যাচ্ছ না।

    —টাকাগুলো এভাবে বাজে খরচ করিসনি। জমা। এখনও বটগাছের ছায়ায় আছিস, বুঝছিস না। রং তুলি আর বিড়ি—সিগারেটের খরচটা সরিয়ে রেখে বাকিটা জমা।

    এই শেষ উপদেশ বা পরামর্শ দিয়ে সে যখন বেরোল তখন পাঁচটা বেজে গেছে। সাতটায় প্রদর্শনী শেষ। চল্লিশে স্পিড তুলল অদিতি। কিন্তু পোস্ট—পাঁচটা চৌরঙ্গিতে চল্লিশও রাখা যায় না, বারবার ব্রেক, বারবার গোঁত্তা। হঠাৎ কেন কে জানে মনে পড়ে গেল—আপনি কিন্তু ভাল ড্রাইভ করেন না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleট্রেকার্স – বাণী বসু
    Next Article জন্মভূমি মাতৃভূমি – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }