Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঝড়ের খেয়া – বাণী বসু

    বাণী বসু এক পাতা গল্প272 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ঝড়ের খেয়া – ৮

    আট

    আমার যা খুশি করব। ইচ্ছে হলে খাব, নইলে খাব না, মদ খাব, বারে গিয়ে চুরমার করে দেব টেবিল—চেয়ার, লম্বা—ডাঁটির মদ—গেলাস, বোতল। গোপন ডিসকোয় যাব। উন্মাদ নাচব। তারপর হাশিস—সিগারেট ফুঁকে শুয়ে পড়ব, ড্রাগার্ডগুলো হামলে পড়বে। আমি খুলে দেব স্কার্ট, একটানে ছিঁড়ে ফেলে দেব ব্লাউজ। আর যেই হামলে উঠে আসবে কোনও খচ্চর, দেব এক থাপ্পড়। থাপ্পড়ের পর থাপ্পড়। থাপ্পড়ের পর থাপ্পড়। এই ট্যাক্সি, হেই ট্যাক্সি—হে—ই।

    দরজা খুলে দমকা হাওয়ার মতো উঠে পড়ল সে।

    —থামাচ্ছিলেন না কেন? মারমুখী প্রশ্ন।

    —সুনা নেই।

    —কানে কালা? চোখে কানা? হাতে—পায়ে বাত? ব্রেক চাপতে পা কনকন করে? ঝড়ের ঝাপটা।

    —আরে এ ক্যা লড়কি? বদতমিজ। উতার যাও। উতার যাও—ঘ্যাঁচ করে ট্যাক্সি থামল হাজরার ধার ঘেঁষে।

    অনেকটা পথ উড়ে এসেছে সে। মুখ লাল। ঘাম ঝরছে। কপালে কানে লেপটে গেছে চুল।

    নেই জায়গা?

    দাড়ি চুমরে সর্দারজি বলল—কিধর, ঠিকসে বোলো।

    —তারাতলা রোড।

    —উও তো জাদা দূর হ্যায়।

    —তো কেয়া?

    —জেব মে রুপেয়া হ্যায় ক্যা?

    রাগে কথা বলতে পারল না সে। অনেক কষ্টে পার্সটা সর্দারজির মুখের ওপর ছুড়ে মারবার লোভ সংবরণ করল।

    আরও দেখুন
    স্বাস্থ্য টিপস
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বাইশে শ্রাবণ
    Books
    বাংলা অডিওবুক
    গল্প, কবিতা
    বাংলা লেখকদের সাক্ষাৎকার
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা কৌতুক বই

    দিল না? দিল না ডায়েরিটা? নেই ওর কাছে? আর কার কাছে যাবে? ঝোলা—মার হয়ে গেল নাকি? কবে কবে সে ভিড় বাসে, মিনিতে উঠেছিল? সাধারণত সে অটো চড়ে। মারমার কাটকাট করতে করতে এঁকেবেঁকে বেরিয়ে যায় অটোগুলো। এমন ব্রেক কষে যে তুমি হুমড়ি খেয়ে পড়বে। সামনের লোহার রডে ঠুকে যাবে মাথা। ব্যস সঙ্গে সঙ্গে আলু। তারাবাজি। রোজই সে আশা করে নাক সোজা করে অটোটা কোনও মিনিফিনির সঙ্গে ধাক্কা লাগাবে। ড্রাইভার ফিনিশ, প্যাসেঞ্জার ফিনিশ, সে—ও ন্যাচার‍্যালি ফিনিশ। চেপটে যেতে কেমন লাগবে? সে কি বুঝতে পারবে? না তার আগেই হাওয়া গাড়ি!

    এই যে অনেক লোক মরছে, তাদের সঙ্গে সঙ্গে সে—ও, অর্থাৎ রীতিমতো ডজনখানেক মরণসঙ্গী পাচ্ছে সে—এই আইডিয়াটার একটা তীব্র আবেদন আছে তার কাছে।

    কিন্তু মহিলাটি কে? একতাল কনকনে বরফের চাঁই যেন তার আর ওই বিশ্বাসঘাতকটার মাঝখানে নামিয়ে দিলেন! সে সেটা পার হতে পারল না। এ রকম তার হয় না। ও সব পার্সন্যালিটি ফ্যালিটি অনেক দেখা আছে তার। আসল কথা, ওসব কিছু নয়, অপরিচিতা মহিলার মুখে নিজের নাম শুনে হড়কে গিয়েছিল সে। কী করে জানলেন? যে—ই হোন উনি। অবভিয়াসলি ছবিটবিতে ইনটারেস্টেড। তনিই নিশ্চয় বলেছে তার কথা। একদম একপেশে একটা গপ্পো। স্পর্ধা কী! কিন্তু এমন কোনও মহিলার কথা কোনওদিন তনির মুখে কখনও শোনেনি তো? তনির হাড়হদ্দ তার চেনা। এমন কোনও কথা নেই যা তিনি তাকে বলেনি। তবে তনি বলে অল্প কথায়, তার মতো উদগীরণ ওর হয় না। হয়তো কোনও সময়ে আভাসে—ইঙ্গিতে বলেছে। সে খেয়াল করেনি। বাঁ গলার কাছটা জ্বলছে, আঁচড়ে দিয়েছে রাক্কুসিটা। বড় নখ রাখছে নাকি আজকাল ন্যাকাচণ্ডীগুলোর মতো! চেঞ্জ করে যাচ্ছে আস্তে আস্তে তনিকা। কে জানে কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো আন্টি—মাসির মতো হয়ে যাবে। ওই আরেক মহিলা! ওকে দেখে নেবে সে।

    আরও দেখুন
    বই ডাউনলোড
    পিডিএফ
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    রেসিপি বই
    স্বাস্থ্য টিপস
    ই-বই পড়ুন
    বুক শেল্ফ
    ডিকশনারি
    বই পড়ুন
    গল্প, কবিতা

    —তারাতলা তো মিল গিয়া। অব কিধর জানা! সর্দারজি গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করল।

    —আর একটু। ততোধিক গম্ভীর গলায় উত্তর দিল সে।

    হোটেল ম্যানেজমেন্ট…ম্যারিন এঞ্জিনিয়ারিং…আই আই সি পি… বাস রোকো।

    —মিটারটা গলা বাড়িয়ে দেখল, টাকাগুলো ঝাঁকুনি দিয়ে গুঁজে দিল সর্দারজির হাতে।

    —মিলা? আপকো রুপেয়া? রুপেয়া দেখাতা হ্যায়! হুঁঃ।

    —রইস লোগোঁকে বেটি ক্যা? তমিজ সিখো, তমিজ।

    —দরজাটা দমাস করে বন্ধ করে নেমে দাঁড়াল। মুখ নাড়িয়ে হাত নাড়িয়ে ঝগড়াটির মতো বলল—তুমহারা ক্যা? হাঁ? তুমহারা ক্যা?

    আরও দেখুন
    গল্প, কবিতা
    রেসিপি বই
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    Books
    বইয়ের তালিকা
    লাইব্রেরি
    বই পড়ুন
    ডিকশনারি
    অনলাইনে বই
    বইয়ের

    হুস করে গাড়ি ছেড়ে দিল সর্দারজি।

    চতুর্দিক থেকে উপদেশ বর্ষণ হচ্ছে। নাঃ। এরা পাগল করে ছেড়ে দেবে তাকে! গ্রিলের লোহার আংটাটা খুলে সে ভেতরে ঢুকল। ঘাস মাড়িয়ে গেল কিছুটা। ঘাসের ওপর লম্বা ঢ্যাঙা একটা খেঁকুরেপনা মূর্তি। স্কালপচার। ভাস্কর্য! হুঁঃ। ও রকম অনেক সো—কলড স্কালপচার তার দেখা আছে। ফুঃ! দু’ধাপ উঠে চাবি ঘোরায় সে। প্রথমে কোলাপসিবলের তালা, তারপর দরজার চাবি।

    ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। নতুন রংয়ের একটা উগ্র গন্ধ ঘরে। ছড়ানো কতকগুলো মোড়া আর একটা ডিভান। চটি দুটো পা থেকে ছুড়ে ছুড়ে কোণের দিকে পাঠাল। ঝোলাটা নামাল ডিভানের ওপর। তারপর পাশের ঘরে ঢুকল। ঢুকতেই চোখ পড়ল আড় করে রাখা ইজেলটার ওপরে। দেওয়ালে ঠেস দেওয়া আছে, ছবি। গুটোনো, পাইল করা। ইজেলের ছবিটা খুব অদ্ভুত। সোজাসুজি ঝাঁপিয়ে আসছে একটা ন্যুড। মুখ কাঁধ, হাত দুটো, অর্ধেকটা বিশাল, ঝাঁপাচ্ছে তো! পা পর্যন্ত পুরো বাকি বডিটা ছোট থেকে আরও ছোট হয়ে গেছে। হাতের পাতা দুটো এত বড় যেন এখুনি এসে গলা টিপে ধরবে। বুক দুটো মাটির দিকে মুখ, ঝুলন্ত। বৃন্তদুটো ডগডগ করছে রঙে। পার্পল মনোক্রোম ছবিটা। শুধু চোখের তারা আর স্তনবৃন্ত দুটো একটা অদ্ভুত দ্যুতিময় লাল।

    আরও দেখুন
    বই ডাউনলোড
    বাইশে শ্রাবণ
    অনলাইন বুকস্টোর
    Library
    বইয়ের
    রেসিপি বই
    পিডিএফ
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বই
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই

    ছবিটার দিকে জ্বলন্ত চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে সে, তারপর ছুটে চলে যায় রান্নাঘরে, ড্রয়ার থেকে বার করে আনে আনাজ—কাটা ছুরিটা, তারপর এ কোণ থেকে ও কোণ চড়চড় করে কেটে দেয় ছবিটা। কাটাকুটি পুরো। ঠোঁট বাঁকিয়ে একটা মাতাল মতো হাসি হাসে, ঢকঢক করে জল খেয়ে নেয় আধ বোতল, তারপর কোণের সরু তক্তপোশটার ওপর ঢেলে দেয় শরীর। ঠিক পাঁচ মিনিটের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে। খুব বিপজ্জনক কিনারে, প্রায় সিকি ভাগ ঝুলছে। চুলগুলো অর্ধেক মাথার পেছনে চেপটে, অর্ধেক ঝুলছে।

    রাত আট—সাড়ে আট হবে, দরজার চাবির খুট শব্দ হল। দ্বিতীয় কেউ ঢুকল। চটি—পরা দুটো শক্তপোক্ত পা পার হল প্রথম ঘর। হা—হা করে আলো জ্বলছে একদিকে, বনবন করে পাখা ঘুরছে। মেয়েটা মড়ার মতো ঘুমোচ্ছে। স্কার্টের ঘের উঠে গেছে, পা দুটো প্রায় মড়ারই মতো। শুকনো চ্যালাকাঠ যেন। ঘুমোক। হা—ঘরের মতো ঘোরে দিনমান। পা—ভরতি মাথা—ভরতি ধুলো, ময়লা। ঘুমের মধ্যে মানুষের ত্বক শিথিল, মসৃণ হয়ে যায়, এর ত্বকে, ভুরুতে চিবুকে এখনও ভাঁজ।

    রান্নাঘরে গেলেন। বেসিনে হাত ধুলেন। আধ বোতল জল রয়েছে, গলায় ঢাললেন আস্তে। ঝোলার থেকে একটা—দুটো প্যাকেট বার করলেন। প্লেট নামালেন দুটো। এক্ষুনি বার করবেন না। ঠান্ডা হয়ে যাবে। এখানে তিনি রোজ আসেন না। চাল—ডাল—আনাজপাতি—ডিম—পেঁয়াজ, চাও—ফাও কিনে রেখে যান। যা পারে রান্না করে খাক। কিন্তু যেদিন যেদিন আসেন ভাল জায়গা থেকে ভাল ভাল জিনিস কিনে আনেন। আজ এনেছেন বিখ্যাত দোকানের চিকেন বিরিয়ানি। ও মাটনটাই ভালবাসে কিন্তু তাঁর আজকাল রেড মিট চলছে না। সুগন্ধে ঘর ভরে যাচ্ছে। এবার ওকে তুলতে হবে। রান্নাঘর পেরিয়ে ফিরতি পথে থমকে দাঁড়ালেন। ঘরের আবছা দিকটায় আড় করে রাখা ইজেলটার দিকে নজর পড়ল। বিস্ফারিত হয়ে গেল চোখ। নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। প্রায় দুই লাফে পৌঁছে গেলেন। হতভম্বের মতো লাট খাওয়া ছিন্ন ক্যানভাস তুলে তুলে দেখছেন। ছেড়ে দিলেন, মুখ ফেরালেন। ক্রমে চোখে রক্ত ছুটে আসছে। চুলের মুঠি ধরে টেনে তুললেন।

    আরও দেখুন
    Library
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বইয়ের তালিকা
    বাংলা বই
    বাংলা সাহিত্যের ওয়ার্কশপ

    —কে কেটেছে? কে কেটেছে ছবি? বল হারামজাদি বল।

    কালীর হাতে নরমুণ্ডের মতো ঝুলছে মাথাটা। আচমকা হ্যাঁচকা। কিছু বুঝতে পারছে না। টালুমালু চোখে তাকাচ্ছে। কোনওক্রমে চোখ ওপরে তুলে এবার স্থির হয়ে গেল। পলক পড়ছে না। ঠিক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মতো একটা ভয়াল মুখ।

    —চুল ছাড়ো, ছাড়ো বলছি চুল। ছাড়ো,—কবজিতে আচমকা মারে ডান হাতের পাঞ্জাব ধার দিয়ে। কারাটে শিখেছে নিশ্চয় কোনও এক সময়ে।

    —এটা কী করেছিস? কেন?

    —এ রকম জঘন্য করে আঁকবে কেন তুমি আমাকে? কেন? কেন? মাথা ঝাঁকিয়ে চুল ঝাঁকিয়ে আঙুল তুলে শাসাচ্ছে।

    —কে বলেছে ওটা তুই?

    আরও দেখুন
    অনলাইনে বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কাগজ
    উপন্যাস সংগ্রহ
    Books
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    ডিকশনারি
    স্বাস্থ্য টিপস
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    বই পড়ুন

    —আমি জানি।

    —চিনতে পারিস তা হলে? ওটা তোর ভেতরটা, ওয়াইল্ড, বুনো জান্তব—

    —মুণ্ডু তোমার। তোমার মুণ্ডু। জন্তু কে? তুমি তো! তুমি তো! তুমি! কে আমাকে… সবলে মুখ চেপে ধরলেন।

    —তুই কম নাকি? এইটুকু একফোঁটা মেয়ে, ছেনালিতে বেশ্যাদের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারিস! লজ্জা করে না!

    লাফিয়ে উঠে সপাটে একটা চড় মারল, ঝাঁপিয়ে পড়ে, খামচে—খিমচে পাঞ্জাবি ছিঁড়ে…।

    ফিরতি চড় এল একটা। গরম জল বেরিয়ে এল চোখ থেকে। পাগলের মতো রাগী কান্না কাঁদতে কাঁদতে বসে পড়ল।

    —তুমি আমাকে মারলে? মারলে…।

    —আমার কী ক্ষতি করলি জানিস? একটা ফাইভস্টার হোটেলের লবির জন্যে আঁকছিলুম। অনেক টাকার কাজ।

    আরও দেখুন
    বাংলা বইয়ের আলোচনা ফোরাম
    বই ডাউনলোড
    ডিজিটাল বই
    গ্রন্থাগার
    PDF
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    রেসিপি বই
    বই পড়ুন
    বাংলা বই
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ

    —আরেকটা আঁকবে। আমি যেমন তেমন করে।

    —তুই কেমন তুই জানিস?

    —আমি সুন্দর। ইউক্যালিপটাসের পাতার মতো, আমার গায়ে ইউক্যালিপটাস গন্ধ, আমি নেপালি কুকরির মতো, বাঁকা, ঝকঝকে, বেজায় ধার, প্রতিপদের চাঁদ যেমন হয় তেমন যদি সূর্য হত আমি সে রকম…।

    —থামলি কেন? বলে যা বলে যা…।

    —যথেষ্ট বলেছি।

    —এক কাজ কর, নিজেকেই নিজে আঁক তা হলে। আর একটা পুকুরের পাড়ে উপুড় হয়ে পড়ে, জলে নিজের ছায়া দ্যাখ। আমাকে এবার ছেড়ে দে। ওফফ।

    তক্তপোশে শুয়ে পড়ে দুটো হাত জড়ো করে তার ওপর মাথা রাখলেন।

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা বইয়ের উপহার কার্ড
    বাংলা হস্তলিপি কুইল
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    Books
    ই-বই পড়ুন
    বই পড়ুন
    বইয়ের
    পিডিএফ
    রেসিপি বই

    —স্যরি কাকু।

    —ওই তো একটাই সভ্য কথা শিখেছিস জীবনে। ভেতরে কোনও সার নেই। তুই এবার বাড়ি ফিরে যা মিমি প্লিজ। আমি আর পারছি না। কী ভীষণ বদনাম হয়ে যাচ্ছে আমার জানিস?

    —শিল্পীদের ও রকম একটু—আধটু বারদোষ থাকে। সবাই জানে। দুশ্চরিত্তির। যত বুড়ো হবে তত রস, যত বাচ্চা হবে তত লাল। গড়িয়ে গড়িয়ে পড়বে একেবারে। …শয়তানির মতো হাসি হেসে বলল।

    —এ সব কথা যে বলছিস, কিছু করেছি আমি তোকে? সে রকম কিছু?

    —অন্য কেউ হলে পারতে। নেহাত কাকু কাকু ছোট্ট থেকে। চকলেট, লজেন্স…পুতুল ফুতুল…তাই আটকে গেল। তনিকা হলে আটকাত না। তনি, তনিকা। …হেসে উঠল। তেতো তির্যক হাসি।

    পাশ ফিরে হাতে মাথা রেখে তাকালেন—আমার মতো একটা আধবুড়োকে নিয়েও তোর জেলাসি? আচ্ছা তো!

    আরও দেখুন
    বাংলা বইয়ের প্রিন্ট কপি
    অনলাইনে বই
    Library
    বাংলা অডিওবুক
    লেখকের বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি টিউটোরিয়াল
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    PDF
    বাংলা ডিকশনারি অ্যাপ
    রেসিপি বই

    —আধবুড়ো সেটা স্বীকার করলে তা হলে? ধরনধারণ দেখলে তো মনে হয় নব কার্তিক! লাল পাঞ্জাবি, কালো শার্ট, পাঞ্জাবির গায়ে কাঁথা কাজ গুর্জরি কাচ, নেহাত চুলটাই যা রং করোনি। নোয়িং ফুললি ওয়েল যে চুলগুলো সেক্সি। মেয়ে ধরতে, খদ্দের ধরতে কাজে লাগবে। ডিজাইনার পাঞ্জাবি, ডিজাইনার চুল।

    চোখে সামান্য কৌতুকের হাসি ফুটে উঠল, বললেন—খিদে পেয়েছে তো? খেয়ে নে। বিরিয়ানি এনেছি।

    —খিদে পেয়েছে কিন্তু খাব না।

    —কেন?

    —মেরেছ কেন? খারাপ খারাপ কথা বলেছ, কান জ্বালা করছে আমার।

    —তুই আমাকে মারিসনি? আঁচড়ে কামড়ে দিসনি? হাতে তোর দাঁতের দাগ বসে আছে। আর খারাপ কথা? তুই কী বলতে বাকি রেখেছিস? শোন, রান্নাঘরে যা। এতক্ষণে বিরিয়ানিটা ঠান্ডা হয়ে গেল। একটু গরম কর। তারপর দ্যাখ তোকে কেমন খাইয়ে দিই। আমি একটুবাইরে গিয়ে হাওয়া খেয়ে আসি। ওফফ।

    আরও দেখুন
    কৌতুক সংগ্রহ
    বাংলা অডিওবুক
    অনলাইনে বই
    বাংলা সাহিত্যের কোর্স
    বাংলা কৌতুক বই
    বাংলা ফন্ট সাবস্ক্রিপশন
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বই
    বই পড়ুন
    বাংলা সাহিত্য

    সদর দরজাটা লক করে বাইরে বেরিয়ে গেলেন। পকেটে হাত দিলেন। মোবাইলটা নেই তো! কোথায় ফেললেন? কাছেই একটা ফোন বুথ, তিনি ছুটে গিয়ে কাচ—দরজা বন্ধ করলেন। নম্বর ঘোরাচ্ছেন।

    —সর্বাণী। আমি ভাস্কর কথা বলছি।

    অন্যদিকে নীরবতা।

    —শোনো, ওকে লক করে রেখে এসেছি, গিয়ে খাব। খেতে একটু সময় লাগবে। তার মধ্যে চলে এসো, কুইক। নিয়ে যাও।

    —কী করে?

    —যে ভাবে হোক। আমি মরে যাচ্ছি। সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে আমার।

    —বাঃ। নিয়ে যেতে পারলে একেবারে ছিনিয়ে, এখন তোমার সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে বলে আমাকে নিয়ে আসতে হবে?

    আরও দেখুন
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কালি
    অনলাইন বুকস্টোর
    বই ডাউনলোড
    বই
    ই-বই সাবস্ক্রিপশন
    নতুন বই
    Library
    Books
    বাংলা অডিওবুক

    —ওফ। আমার উপায় ছিল না। বোঝবার চেষ্টা করো। একটা সাবালক মেয়ে যদি নিরাশ্রয় হয়ে আমার স্টুডিয়োয় এসে হামলা করে কী করতে পারি বলো?

    —নিরাশ্রয়?

    —ওই হল। ও ভাবছে যে ও নিরাশ্রয়।

    —আমি কী করে আনব ওকে? ওর বাবা আসুক। পুলিশ নিয়ে যাবে একেবারে..।

    —পুলিশ নিয়ে কিচ্ছু করতে পারবে না। ও স্বেচ্ছায় চলে এসেছে সৎমার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে—এমনটাই বয়ান দেবে ও। তুমিই বরং বিপদে পড়ে যাবে। এনিওয়ে কাল থেকে ও সত্যিই নিরাশ্রয় হবে। নতুন তালা কিনে চাবি দিয়ে যাব। ঢুকতে পারবে না। আমাকেও কোথাও খুঁজে পাবে না। তালা মেরে আমি একটা ওয়ার্কশপ করতে চলে যাব—বম্বে।

    —কী বলছ সব বুঝতে পারছি না। একটা ক্রস কানেকশন হচ্ছে তখন থেকে। তোমার ফোনে।

    —উহুঁ তোমার। হ্যালো হ্যালো করছে, রেখে দিতে বলছে। শুনুন, আপনি গোল্লায়—যান। ছাড়ুন একটু ফোনটা। জাস্ট দু’মিনিট। তারপর যত খুশি বকম বকম করতে পারবেন।

    নীরব হয়ে গেল তৃতীয় আওয়াজ।

    —সর্বাণী শুনছ। মিমিকে নিয়ে যাও। আমি হেলপ করছি। ধরো যদি জলের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ দিই। এনিওয়ে ওর ট্রাংকুলাইজার লাগবেই। প্রচণ্ড হাইপার। কথা শোনো, ও ঘুমিয়ে পড়বে। তুমি গাড়ি নিয়ে আসবে। আমি তুলে দেব। সঙ্গেও যাব এখন।

    —তারপর? ঘরে লক করে রেখে দেব? রাখা যায়?

    —শোনো, ডাক্তার কনসাল্ট করো, একজন সাইক্রিয়াট্রিস্ট। উনিই বলবেন কী করতে হবে।

    রেখে দিলেন, আর কথা বাড়াতে চান না। বাড়ালেই বাড়ে। কে ভেবেছিল, যে কিশোরী মেয়েটিকে মাঝেমাঝেই বাচ্চার মতো কোলে বসিয়ে আদর করতেন, কাকু—আদরের ছলে নরম তুলতুলে গালে, পিঠে, ঠোঁটে। শেষ পর্যন্ত নাভিতে এবং জানুতেও চুমো দিতেন সে এরকম ভয়ংকর দাবি নিয়ে একদিন ওলোটপালট করে দিতে চাইবে জীবন—ছক? এমন প্রিয় নকশা জীবনের? কিছুটা গৃহী, কিছুটা সন্ন্যাসী, কিছুটা দেহময়, কিছুটা মনোময়? চমৎকার ব্যালান্স ছিল একটা।

    সর্বাণী ফোন নামিয়ে রাখছিলেন। ওদিক থেকে একটা কণ্ঠস্বর বলল—মিসেস সাহা রায়, আমি অদিতি সরকার বলছি। অনেকক্ষণ থেকে ট্রাই করছি, যদি বা পেলাম ক্রস কানেকশন… এনিওয়ে আমি হাল ছাড়িনি, লোকটি হুমকি দিচ্ছিল ছেড়ে দেবার জন্য… আপনাকে খবর দিই, অনোহিতাকে আমি দেখেছি। আজকে। অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস—এ। আমার কাছে যে ছিল সে নয়। সেই মেয়েটির সঙ্গেই মারামারি করছিল। আচ্ছা ওর বয়স কত?

    —তেইশ মতো।

    —খুব ছোট তো নয়। দেখায় পনেরো—ষোলো। কিছু মনে করবেন না—ও কি স্বাভাবিক? দশ—বারো বছরের বাচ্চার মতো মারামারি করছিল।

    —ওর হিস্ট্রি তো খানিকটা আপনাকে বলেইছি। তাতে যতটা স্বাভাবিক মনে হয়।

    —আমি এখনও ভাস্কর চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। খুব শিগগির বলব।

    —তার আর দরকার নেই। উনি ফোন করেছিলেন মিমিকে উনি আর রাখতে পারছেন না। আমাকে গিয়ে নিয়ে আসতে বলছেন।

    —মানে?

    —উনি বলছেন—উনি কাল বম্বে চলে যাচ্ছেন। স্টুডিয়োয় তালা দিয়ে যাচ্ছেন। ও ঢুকতে পারবে না। আমি যেন নিয়ে আসি।

    —ওই গাড়ি নিয়ে যাওয়া ঘুমের ওষুধ—টষুধ…উনিই কথা বলছিলেন নাকি?

    —উনিই। ভাস্কর চক্রবর্তী। এখন আমি কী করি বলুন তো। ওর বাবা বাড়ি নেই। আছে একটি সর্বক্ষণের কাজের মেয়ে আর আমি। ড্রাইভার থাকে নীচে। একটা অত বড় মেয়েকে ধরে নিয়ে এসে আটকে রাখতে পারি?

    —এত সহজে উনি দায়—দায়িত্ব ঝেড়ে ফেললেন?

    —ও বলছে ওর দোষ নেই, মেয়ে যদি ওর কাছে গিয়ে থাকতে চায় ও কী করবে?

    —বাঃ। এক কাজ করুন আপনি স্টুডিয়োর ঠিকানা আর লোকেশনটা একটু বলুন। আমি যাচ্ছি।

    —আপনি…আসছেন?

    —আপনি আমার হেল্প চাননি?

    —হ্যাঁ কিন্তু এই এত রাতে।

    —রাত—টাত কোনও ব্যাপারই না। আমি সারারাত জেগে কাজ করতে পারি। সারা রাত গাড়ি চালাতে পারি। বাট আই ওয়ান্ট দ্যাট স্কাউন্ড্রেল টু ফেস মি।

    ফোনটা রেখে দিয়ে তার মনে হল কাজটা কি সে ঠিক করল? সত্যি কী করবে কীভাবে হেল্প করবে সর্বাণী সাহা রায়কে সে এখনও জানে না। খুব কঠিন সমস্যা। মেয়েটির, তার দ্বিতীয় মায়ের। কী ভাবেই বা ভাস্কর চক্রবর্তীকে শায়েস্তা করবে? খুব উদ্ভট উদ্ভট জিনিস তার জীবন ঘিরে। কিন্তু বলেছে যখন যেতে তো হবেই। ঠিক এই মুহূর্তে তার নাগালের মধ্যে কোনও জায়গায় হয়তো অন্য সমস্যা ধোঁয়াচ্ছে। প্রকৃতিটা এক না—ও হতে পারে কিন্তু। খুব খুব জরুরি। অন্য কেউ হয়তো সর্বাণী বা অনোহিতা সাহা রায়ের চেয়েও বেশি বিপদের মধ্যে। সে কিছু করতে পারছে না, কেননা জানে না। জানলে কি একসঙ্গে তিন—চার জায়গায় দমকল নিয়ে ছুটে যেত। দমকল নামটা তাকে রাজর্ষি দিয়েছিল। তোমার দোষ কি জানো বনি? ইউ রাশ টু টেক কেয়ার অব পিপল হু শুড বি এবল টু টেক কেয়ার অব দেমসেলভস। একে বলে ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো।

    রাত দশটা বেজে পাঁচ। তিন নম্বর আয়রনসাইড রোডে একটা বাড়ি। একজন মাত্র মহিলা। একটি ড্রাইভার আছে সহায়। তাঁর উপস্থিতি, অবস্থান এই বাড়িতে খুব অনিশ্চিত। স্বামী বিদেশে, তাঁর পূর্বপক্ষের তরুণী মেয়ে রাগ করে ঘর ছেড়ে চলে গেছে। এই রাতে খবর এসেছে, তাকে তারাতলার একটা জায়গা থেকে এক্ষুনি নিয়ে আসতে হবে। হিংস্র মেয়ে একটা। সবচেয়ে বেশি রাগ ওই মহিলারই ওপর। সে যখন জানে, যখন তাকে জানানো হয়েছে যাওয়া ছাড়া তার গতি কী।

    অদিতি মোবাইলটা বার করে একটা নম্বর টিপল। যদি মোবাইল অফ করে ঘুমিয়ে পড়ে থাকে, তা হলেই হয়ে গেল।

    —শৌনক বলছি। কী ব্যাপার দিদি?

    —আমার সঙ্গে তারাতলা রোডে একটি জায়গায় যেতে পারবি? এক্ষুনি?

    —অব কোর্স। ঠিকানা দাও আমি পৌঁছে যাচ্ছি।

    একবারও জিজ্ঞেস করল না—কেন, কী হয়েছে, এক পায়ে খাড়া একেবারে। এতটা আনুগত্য কেউ কারওর থেকে আশা করে না। কিন্তু পেয়ে যাচ্ছে সে। অদিতি শীলাদিকে ডেকে জানিয়ে দিল সে বেরোচ্ছে।

    —এত রাতে?

    —এখন তোমাকে সবটা বোঝাবার সময় নেই শীলাদি। আসছি। সে তাড়াতাড়ি নীচে নেমে গাড়ি বার করল।

    কেন? এত আনুগত্য! ছবি আঁকার জায়গা, পরিবেশ দিয়েছে বলে? তার বিনিময়ে মূল্যও তো সে নেয়। ছবি বিক্রি করে দেয়। খুব সফল মার্কেটিং করে। তার জন্যও একটা পার্সেন্টেজ পায় সে। সামান্য, তবু পায়। এই সবের জন্য কি? এর আগে একবার বাঁকুড়ায় যেতেও শৌনকের সাহায্য নিতে হয়েছিল তাকে। বেশ কতকগুলো ফরমাসি জিনিসপত্র বয়ে নিয়ে যেতে হয়েছিল। তার প্রবল জ্বর। তখন সে টিকিট কাটতে দিচ্ছিল এজেন্টকে। শৌনক বলেছিল—দিদি তোমার ভাইর‌্যাল ফিভার, কোথায় যাবে? সব শুনে অনায়াসে বলে দিল—অ্যাড্রেসটা দিয়ে দাও। আমি চলে যাচ্ছি। যাই হোক ছেলেটা বড় ভাল।

    —শৌনক। রাস্তায় নেমে দাঁড়াও, তোমায় তুলে নিচ্ছি।

    —দরকার ছিল না, জায়গাটা আমি বুঝতে পেরে গেছি, ওখানে ভাস্কর চক্রবর্তী বছর দুই হল একটা স্টুডিয়ো করেছেন।

    —ওখানেই।

    —আচ্ছা। তোমাকে ঘুরতে হবে না। আমি চলে যাচ্ছি—ফোন অফ হয়ে গেল।

    আচ্ছা ছেলে তো? ভেবে দেখতে গেলে, ও থাকে বেহালাতেই। তারাতলা চলে যাওয়া ওর পক্ষে সোজা তবে এত রাতে যদি ট্যাক্সি না পাওয়া যায়? শহরের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে এখন ট্যাক্সি যেতে চায় না। এ শহর এখন বিভীষিকা নগরী। প্রায়ই ট্যাক্সি চালক খুন হয়, ছিনতাই করে নিজেদের প্রয়োজনমতো গাড়ি ও ড্রাইভারকে ব্যবহার করে গুণ্ডারা! যাক, একটা সমর্থ জোয়ান ছেলে সে যা—হয় একটা ব্যবস্থা করবে। সে বিরলযান পথ দিয়ে ড্রাইভ করতে করতে ক্রমশই স্পিড বাড়াবার আনন্দ অনুভব করতে থাকে। আশুতোষ কলেজের পর থেকে শুরু করে পুরো চেতলা মাঝেরহাট ব্রিজ। দুর্গাপুর ব্রিজ গাঁটহীন। তারাতলার হাঁড়ল হাঁড়ল গর্ত। একটাতে পড়ে হেঁচকি তুলে সতর্ক হয়ে যায় সে। বাঃ, জায়গাটা বেশ তো। গাছপালা, চওড়া রাস্তা, বড় বড় ইনস্টিট্যুট—বিল্ডিং।

    লোকবসতি নেই যতদূর দেখা যাচ্ছে। অদিতির বিদেশি অভ্যেস। কখনও কাউকে রাস্তা বা ঠিকানার বিশদ বৃত্তান্ত জিজ্ঞেস করে না। দুটো রোড ম্যাপ আছে কলকাতার। তাই দিয়েই চালায়। সল্ট লেক, যোধপুর পার্ক, লেকটাউন, লেক গার্ডেনস এসব জায়গায় একটু অসুবিধে হয়। ওখানে পারলে সে আগে থেকে ল্যান্ডমার্কগুলো জেনে রাখে। এই তারাতলা রাস্তায় সে আগে কখনও আসেনি। জায়গাটা বেশ, আবার গাছপালার বাড়বৃদ্ধি তেমন নিয়ন্ত্রিত নয় বলে এই ঝুপসি রাতে একটু ভুতুড়েও বটে।

    ওই তো শৌনক। একেবারে প্রায় মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাত নাড়ছে।

    —দিদি! দিদি!

    মসৃণভাবে গাড়ি থামায় অদিতি। শৌনকের পাশে দাঁড়িয়ে একটা ফুটকি। প্যান্ট আর টপ। মাথার চুলগুলো ঘাড়ের কাছে পুঁটলি পাকানো।

    এখনও অবাক হবার সময় পায়নি অদিতি। ছায়ায় দাঁড়ানো একটা কালো হন্ডা। কালো বলেই চোখে পড়েনি। সর্বাণী এগিয়ে এলেন। —আমি এই পাঁচ মিনিট হল পৌঁছেছি এখনও ভেতরে ঢুকিনি। কীভাবে কী করব…

    এত বড়সড় চেহারার দস্তুরমতো ব্যক্তিত্বঅলা মহিলাকে এমন উদভ্রান্ত দেখে, হঠাৎ অদিতির ভেতরে ভেতরে একটা রাগ হতে লাগল। এই পরিস্থিতিটা যে তৈরি হতে পারে উনি কি একেবারেই ভাবেননি? মেয়েটিকে তো উনি গোড়া থেকেই চেনেন! এ—ও আশ্চর্য, এই একুশ শতকে কত লোক বদলে যেতে থাকা সমাজ—ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে, অথচ অত্যাধুনিক পরিবারের একটি মেয়ে, নেহাত বাচ্চা নয়, সাবালক নিজের পায়ে দাঁড়াবার বা বিয়েটিয়ে করার সময় হয়ে গেছে, সে বাবা আর মায়ের বান্ধবীর বিয়েটা মেনে নিতে পারছে না?

    পেছন থেকে তনিকা এসে দরজার বেলটা দিল। পরমুহূর্তেই খুলে গেল দরজা। ভেতরের আলো যেটুকু পাশ—মুখে পড়েছে বোঝা যাচ্ছে উৎকণ্ঠিত।

    —তুমি?

    —হ্যাঁ, মিমিকে নিতে এলাম।

    —আমি তো…মানে সর্বাণী…

    —ওই যে। পেছন দিকে আঙুল দেখাল তনিকা।

    সর্বাণী খুব থতমতভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন, শৌনক সামনে গিয়ে দাঁড়াল।

    —কে? সর্বাণী, ড্রাইভার বদলেছ?

    সর্বাণী কোনও উত্তর দিলেন না। এরপর অদিতিকে দেখে একেবারে হতবুদ্ধি হয়ে গেলেন লোকটি। মুখে কোনও কথা নেই।

    আধখোলা দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে এল সবাই। কেউই লোকটির মুখের দিকে তাকাচ্ছে না। তনিকা বাঁদিকের দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল। তক্তপোশের ওপর দেওয়ালে ঠেস দিয়ে বসে আছে অনোহিতা। সেই দুপুরের পোশাকে। ঘাম আর ময়লা বসে সমস্ত চেহারাটার ওপর একটা কালো ছাপ বসে আছে, কিন্তু বোঝা যাচ্ছে ও একটা ঘোরের মধ্যে আছে। বলল—কে এল কাকু?—জড়িয়ে যাচ্ছে গলা।

    —আমি। মিমি আমি রে, দ্যাখ—তনিকা ওকে ঝাঁকাল।

    হঠাৎ মাথাটা ঝাড়া দিয়ে চোখ মেলে দেখল ও—তনিকা, তুই?

    —কাকু বুঝি তোকে…

    —আরে তোর কাকু তোকে ঘুমের ওষুধ দিয়েছেন অজ্ঞান করবার জন্য।

    —কেন?—ওর চোখ বড় বড় হয়ে গেছে, বোঝা যাচ্ছে—ও ফোকাস করতে পারছে না।

    —যাতে তোকে তুলে এখান থেকে ফেলে দিতে পারেন! হোয়াট এলস!

    —অ্যাঁ।

    —তনিকা, এসব তুমি কী বলছ? হুড়মুড় করে এগিয়ে এলেন ভাস্কর।

    —চুপ, ঠিক বলছি। আর একটাও কথা বলবেন না। তনিকা তর্জনী তুলল। তারপর বলল—মিমি আমার সঙ্গে আয়। অনেক চেষ্টায় তক্তপোশ থেকে মাটিতে পা নামাল অনোহিতা। কিন্তু দাঁড়াতে পারল না। শৌনক এগিয়ে গিয়ে ওকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে চলে গেল। একবার মুখ ফিরিয়ে বলল—দিদি, কালো গাড়িতে তুলব তো?

    —হ্যাঁ।

    সর্বাণী বললেন—কী দিয়েছ ওকে? ওর তো চোখ উলটে যাচ্ছে দেখছি। কী দিয়েছ?

    —তেমন কিছু নয়, ওর খাওয়ার অভ্যেস নেই, তাই এফেক্টটা বেশি। তা ছাড়া একটু অ্যালকোহল…।

    —এগুলো লিখে দাও কোনটা কত দিয়েছ…

    —মুখে বলছি তো।

    —না লিখে দিলে বোঝা যায় না—এই নাও। সর্বাণী নোটবুক বার করলেন একটা।

    —লেখো, কী ওষুধ, কী পাওয়ার—

    ভাস্কর লিখলেন।

    —লেখো, অ্যালকোহল কী দিয়েছ, কতটা।

    —সেটাও দরকার? ও তো রাতদিন খাচ্ছে।

    —ঠিক আছে। এটা আমার জ্ঞাতসারে। জানতে চাই। লিখতে লিখতে ভাস্কর বললেন—ওই জন্যেই ও তোমার কাছ থেকে পালায়। অতবড় মেয়ে, খবরদারিটা ছাড়ো।

    এখন লজ্জাটা অনেকটা কাটিয়ে উঠেছেন। সর্বাণী বললেন—তোমার নামটা তলায় লেখো।

    —আরে! কেন? কী আশ্চর্য!

    —ধরো তোমার অটোগ্রাফ নিচ্ছি। এতবড় শিল্পী।

    —ঠাট্টা করছ?

    —ঠাট্টা করার অবস্থা আমার নয়, ভাস্কর। স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার মেয়ের দায়িত্বটা আমার, সেটাই পালন করছি।

    —তার জন্য সই?

    —সইটা দিতেই বা তোমার এত আপত্তি কেন বুঝছি না তো।

    কঠিন মুখ করে অদিতি এবার তাকাল—সর্বাণী বললেন, এটা তো ফ্যাক্ট যে তুমি এই জিনিসগুলো ওষুধ, অ্যালকোহল ওকে দিয়েছিলে, না কি?

    —সে তো এখানে থাকতেও দিয়েছিলাম।

    —বেশ তো যে পিরিয়ডটা ও এখানে থেকেছে সেটাও লিখে দাও।

    —আই ডোন্ট আন্ডারস্ট্যান্ড।

    —বোঝবার আছেটা কী? আমাকে ওর বাবার কাছে জবাবদিহিটা তো করতে হবে। সে তো বলতেও পারে, সবটাই আমার মনগড়া।

    —আচ্ছা গোঁয়ার তো। দাও সই করে দিচ্ছি।

    খসখস করে কায়দার সইটা করলেন ভাস্কর চক্রবর্তী।

    নোটবইটা তুলে নিয়ে সর্বাণী বললেন—ওর যদি কিছু হয়, কাঠগড়ায় কী করে তুলতে হয় তোমায়—আমি জানি।

    বেরিয়ে গেলেন, পেছন পেছন অদিতি।

    —অদিতি!

    সে পেছন ফিরে তাকাল।

    —তুমি বোঝবার চেষ্টা করো। কেসটা খুব কমপ্লিকেটেড। মেয়েটা একেবারে স্পয়েল্ট। ছোট্ট থেকে চিনি। বাবার বিয়েতে এত্ত আপসেট হয়ে গেছে…

    অদিতি একবার তাকাল। তারপর ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল।

    এতক্ষণে তার সর্বাণীর প্রতি একটু শ্রদ্ধা হচ্ছে। যতটা ন্যাকা—বোকা দেখাচ্ছিল ততটা নয়।

    সে বলল—এবার? সর্বাণীদি!

    —আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ধন্যবাদ দিলে বোধহয় ছোট করা হবে আপনাকে, আপনি…আপনারা না থাকলে…

    —এবার ওকে বাড়ি নিয়ে গিয়ে…

    —তনিকা যাচ্ছে সঙ্গে। তনিকা ওর ভীষণ বন্ধু। যতদিন না সুস্থ হয় তনি থাকবে বলেছে। আশা করি সামলাতে পারব।

    —কোনও অসুবিধে হলে আমি…আছি। অদিতি বলল।

    গাড়িতে উঠে শৌনক বলল—দিদি, কেসটা কী? কিছুই তো বুঝলাম না!

    অদিতি এবার সত্যিই একটু হেসে ফেলল—কেস তোরা যাকে বলিস—জন্ডিস।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleট্রেকার্স – বাণী বসু
    Next Article জন্মভূমি মাতৃভূমি – বাণী বসু

    Related Articles

    বাণী বসু

    নূহর নৌকা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    ছোটোগল্প – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    অন্তর্ঘাত – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খনামিহিরের ঢিপি – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    খারাপ ছেলে – বাণী বসু

    November 3, 2025
    বাণী বসু

    মোহানা – বাণী বসু

    November 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }