Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প208 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১০. বিষ্কম্ভক

    দশম পরিচ্ছেদ
    বিষ্কম্ভক

    পরদিন প্রভাতে ঈষৎ জ্বরভাব লইয়া গৌরী শয্যাত্যাগ করিল। তাহার শরীরে রোগ প্রতিরোধ করিবার প্রভূত শক্তি সঞ্চিত ছিল, তাই ক্লান্ত দেহের উপর জলমজ্জনেও তাহাকে বিশেষ কাবু করিতে পারে নাই-নচেৎ নিউমোনিয়া কি ঐ জাতীয় কোনো রোগ পাকাইয়া ভোলা অসম্ভব ছিল না।

    উপরন্তু কাল রাত্রে ঘুমও ভাল হয় নাই। রুদ্ররূপকে শয়নঘরের দ্বারের কাছে পাহারায় রাখিয়া সে শয্যা আশ্রয় করিয়াছিল বটে কিন্তু নানা চিন্তায় রাত্রি তিনটা পর্যন্ত নিদ্রা তাহার চোখে দেখা দেখা দেয়। নই। যতই তাহার মন কস্তুরীবাঈকে কেন্দ্র করিয়া মাধুর্যের রসে পরিপ্লুত হইয়া  উঠিতেছিল, মাধুর্যের আবেশে একথাও সে কিছুতেই ভুলিতে পারে নাই যে,–সে অনধিকারী, এই সাহচর্যের অমৃত মনে মনে আস্বাদন করিবারও তাহার সত্যকার দাবি নাই। কে সে? আজ যদি শঙ্কর সিংকে উদ্ধার করা যায়, কাল গৌরীশঙ্কর রায় নামধারী যুবককে ছদ্মবেশে মুখ লুকাইয়া এদেশ ছাড়িয়া যাইতে হইবে। আর তাহাই তো ঘটিবে—আজ হোক, কাল হোক, শঙ্কর সিং ফিরিয়া আসিয়া নিজের ন্যায্য স্থান অধিকার করিবে, কস্তুরীবাঈয়ের সহিত তাহার বিবাহ হইবে। তখন এই অখ্যাতনামা বাঙালী যুবককে কে স্মরণ রাখিবে? দু একটা ধন্যবাদের বাঁধাবুলি বলিয়া তাড়াতাড়ি বিদায় করিয়া দিবে। কস্তুরী কিছু জানিতেও পারিবে না।

    কিন্তু শঙ্কর সিং যদি ফিরিয়া না আসে? যদি উদিত তাহাকে সত্যই খুন করিয়া থাকে?—গৌরী জোর করিয়া এ চিন্তা মন হইতে দূরে ঠেলিয়া দিল। সে সম্ভাবনার কথা ভাবিতেও তাহার বুক দুরুদুরু করিয়া কাঁপিয়া উঠিল।

    কস্তুরীকেও সে মন হইতে সরাইয়া দিবার চেষ্টা করিল। না— পরের বাগদত্তা স্ত্রীর কথা সে ভাবিবে না, এবং ভবিষ্যতে যদিও সে সম্ভাবনা খুবই কম—যাহাতে দেখা না হয় সেদিকে সতর্ক থাকিবে।

    এইরূপ স্থির করিয়া সে শেষরাত্রে ঘুমাইয়া পড়িয়াছিল।

    প্রাতে উঠিয়া সে দেখিল চম্পা দ্বারের কাছে হাজির আছে। আশ্চর্য হইয়া বলিল— চম্পা, তুমি কি রাত্রে ঘুমোও না?

    চম্পা সরল চোখদুটি তুলিয়া বলিল— ঘুমিয়েছিলাম তো!

    গৌরী বলিল— কিন্তু এত সকালে উঠলে কি করে?

    চম্পা গভীরভাবে বলিল—আমি না উঠলে যে মহলের আর কেউ ওঠে না, সবাই কাজে গাল করে। তাই সবার আগে আমায় উঠতে হয়।

     

     

    গৌরী হাসিল। বৃহৎ রাজ-সংসারের সহস্র কমভারে অবনত এই ছোট্ট মেয়েটি তাহার স্নেহ জয় করিয়া লইয়াছিল। তাহার মনে হইল চম্পা যেন এই ঝি রাজবংশের রাজলক্ষ্মী। এত সহজ সরল অথচ এমন গৃহিণীর মত কর্মপটু মেয়ে সে আর কখনো দেখে নাই! চম্পাকে প্রাসাদের দাসী চাকরানী অত্যন্ত সম্ভ্রম ও ভয় করিয়া চলে তাহা সে দেখিয়াছিল। মাঝে যেকয়মাস চম্পা ছিল না, সে কয়মাস রাজপ্রাসাদের অন্দরমহলে একপ্রকার অরাজকতার সৃষ্টি হইয়াছিল; চম্পার পুনরাবিভাবের সঙ্গে সঙ্গে আবার সেখানে শৃঙ্খলা ফিরিয়া আসিয়াছে।

    গৌরীর অসুস্থতার কথা শুনিয়া চম্পা উদ্বিগ্ন হইয়া বলিল—ডাক্তারকে ডেকে পাঠাই। এখনো তো সর্দারজি আসেননি, রুদ্ররূপকেই পাঠাই।

    রুদ্ররূপ কোথায়?

    চম্পা হাসিয়া বলিল— আপনার দোরের বাইরে নাক ডাকিয়ে পাহারা দিচ্ছে।

    আহা, বেচারা বোধহয় শেষরাত্রে ঘুমিয়ে পড়েছে, তাকে এখন ডেকো না। আমার ডাক্তারের দরকার নেই, তুমি শুধু একবাটি গরম দুধ আমাকে পাঠিয়ে দাও।

     

     

    তা আনছি! কিন্তু ডাক্তারেরও আসা দরকার। বলিয়া চম্পা প্রস্থান করিল।

    অল্পকাল পরেই রুদ্ররূপ ঘরে ঢুকিয়া স্যালুট করিয়া দাঁড়াইল। তাহার গায়ে তখনো গত রাত্রির যোচূবেশ, কোমরে লম্বিত তলোয়ার, মাথার পাগড়ি অটুট—কিন্তু চোখে ঘুম জড়াইয়া রহিয়াছে। গৌরী হাসিয়া বলিল–চম্পা ঘুমতে দিলে না?

    রুদ্ররূপ লজ্জিতভাবে বলিল—সকালবেলা একটু তন্দ্রা এসে গিয়েছিল।

    তা হোক—বোসো— গৌরী নিজে একটা কৌচে বসিয়াছিল, পাশের স্থানটা দেখাইয়া দিল।

    রুদ্ররূপ বলিল— কিন্তু চম্পাদেঈ যে ডাক্তার ডাকতে বললেন!

    তা বলুক— তুমি বোসো।

    রাজার পাশে একাসনে বসিতে রুদ্ররূপ রাজী হইল না। সে ঘরের এদিক-ওদিক দৃষ্টিপাত করিল, কিন্তু নিম্ন আসন কিছু চোখে পড়িল না। তাহাকে ইতস্তত করিতে দেখিয়া গৌরী বলিল—–আমার পাশে এসে বোসো, এখন তো বাইরের কেউ নেই।

     

     

    রুদ্ররূপ তখন সঙ্কুচিত হইয়া কৌচের একপাশে বসিল। কিছুক্ষণ একথা সেকথার পর বাহিরে চম্পার পদধ্বনি শুনা গেল। রুদ্ররূপ অমনি তড়াক করিয়া উঠিয়া ফৌজী প্রথায় শক্ত হইয়া গোড়ালিতে গোড়ালি ঠেকাইয়া যষ্টিবৎ দাঁড়াইল। রাজার পাশে একাসনে বসিবার বেয়াদবি যদি চম্পার চোখে পড়ে তাহা হইলে আর রক্ষা থাকিবে না।

    রেকাবের উপর দুধের বাটি লইয়া চম্পা প্রবেশ করিল। রুদ্ররূপকে দাঁড়াইয়া থাকিতে দেখিয়া ভ্রূকুটি করিয়া বলিল— তুমি এখনো যাওনি যে?

    রুদ্ররূপ চমকাইয়া উঠিয়া আমতা-আমতা করিয়া বলিল–কুমার বললেন যে ডাক্তারের দরকার নেই।

    চম্পা মুখ রাঙা করিয়া বলিল— রাজার মত নিতে আমি তোমায় বলেছিলাম?

    রুদ্ররূপ অপরাধীর মত চুপ করিয়া রহিল। চম্পা দ্বারের দিকে অঙ্গুলি দেখাইয়া বলিল— যাও এখনি।

    করুণ নেত্রে রুদ্ররূপ গৌরীর দিকে চাহিল। গৌরী হাসিতে লাগিল, বলিল— যাও, রুদ্ররূপ। এ মহলে চম্পার হুকুমই সকলকে মেনে চলতে হয়– এমন কি আমাকেও।

     

     

    যো হুকুম বলিয়া রুদ্ররূপ দ্রুতপদে প্রস্থান করিল।

    দুধের বাটিতে এক চুমুক দিয়া গৌরী সকৌতুকে বলিল–এখানে সবাই তোমাকে ভয়ঙ্কর ভয় করে—না চম্পা?

    চম্পা সহজভাবে সায় দিয়া বলিল— হ্যাঁ।

    বিশেষত রুদ্ররূপ।

    ও ভারি বোকা—তাই ওকে কেবলি বকতে হয়।

    গৌরী হাসিয়া উঠিল। দুধের বাটি শূন্য করিয়া চম্পার হাতে ফেরত দিয়া বলিল–যাও, গিন্নি ঠাকরুন, এখন সংসারের কাজকর্ম কর গে।

    রুদ্ররূপ অবিলম্বে ডাক্তার লইয়া ফিরিয়া আসিল। ডাক্তার গঙ্গানাথ পরীক্ষা করিয়া বলিলেন— বিশেষ কিছু নয়, একটু ঠাণ্ডা লেগেছে। আজ আর কোনো পরিশ্রম করবেন না—ঘরেই থাকুন। ব্রাণ্ডি ও কুইনিনের ব্যবস্থা করিয়া ডাক্তার প্রস্থান করিলেন।

     

     

    ডাক্তার চলিয়া গেলে রুদ্ররূপকে জোর করিয়া ছুটি দিয়া গৌরী একাকী হেলান দিয়া শুইয়া ভাবিতে লাগিল। কলিকাতা ছাড়িবার পর আজ অসুস্থদেহে তাহার বাড়ির কথা মনে পড়িল। এ কয়দিন অভিষেকের আয়োজন ও হুড়াহুড়িতে কাহারো নিশ্বাস ফেলিবার অবকাশ ছিল না-দাদাকে। পৌঁছানোর সংবাদ দিবার প্রতিশ্রুতি দিয়া আসিয়াছিল, তাহাও ঘটিয়া উঠে নাই। দাদা বৌদিদি নিশ্চয় উদ্বেগে কালযাপন করিতেছেন। আর বিলম্ব করিলে হয়তো দাদা নিজেই টেলিগ্রাম করিয়া সংবাদ জানিতে চাহিবেন। অভিষেক হইয়া গিয়াছে–এ খবর অবশ্য তিনি সংবাদপত্রে জানিতে পারিয়াছেন। কিন্তু গৌরীই যে রাজা তিনি বুঝিবেন কি করিয়া? হয়তো নানা দুশ্চিন্তায় অধীর হইয়া। উঠিয়াছেন। গৌরীও ভাবিতে ভাবিতে নিজের অবহেলার জন্য অনুতপ্ত ও বিচলিত হইয়া উঠিল।

    ঠিক নয়টার সময় ধনঞ্জয় দেখা দিলেন। তাঁহাকে দেখিয়াই গৌরী বলিয়া উঠিল— সর্দার, একটা বড় ভুল হয়ে গেছে, দাদাকে খবর দিতে হবে।

    ধনঞ্জয় বলিলেন-বেশ তো, একখানা চিঠি লিখে দিন না।

     

     

    গৌরী মাথা নাড়িয়া বলিল—না, চিঠি পৌঁছুতে তিন-চার দিন দেরি হবে। তার চেয়ে তাঁকে একটা টেলিগ্রাম করে দাও।

    ধনঞ্জয় চিন্তা করিয়া বলিলেন— সে কথাও মন্দ নয়। কিন্তু আপনার নামে টেলিগ্রাম পাঠালে চলবে না। চারিদিকে শত্রু—এমনভাবে তার লিখতে হবে যাতে আপনার দাদা ছাড়া আর প্রকৃত মর্ম কেউ না বুঝতে পারে।

    গৌরী বলিল— বেশ, তোমার নামেই তার পাঠানো হোক। খবরটা দাদার কাছে পৌঁছুলেই হল। এস, একটা খসড়া তৈরি করি।

    দুইজনে মিলিয়া টেলিগ্রামের খসড়া তৈয়ারি করিলেন, তাহাতে লিখিত হইল—

    এখানকার সংবাদ ভাল। শুভকার্য হইয়া গিয়াছে কোনো বিঘ্ন হয় নাই। ভ্রাতার জন্য চিন্তা নাই। আপনাকে মাঝে মাঝে সংবাদ দিব। আপনি আপাতত চিঠিপত্র লিখিবেন না।ধনঞ্জয়।

    ধনঞ্জয় টেলিগ্রামের মুসাবিদা লইয়া প্রস্থান করিলে গৌরী অনেকটা নিশ্চিন্ত বোধ করিতে লাগিল।

     

     

    পরদিন অপরাহে গৌরী কিস্তার ধারের মুক্ত বারান্দায় গিয়া বসিয়াছিল। কাছে কেবল রুদ্ররূপ ছিল। আজ গৌরী বেশ ভালই ছিল, এমন কি এইখানে বসিয়া কিছু রাজকার্য সম্পন্ন করিয়াছিল। বজ্ৰপাণি কয়েকখানা জরুরী সনন্দ ও পরোয়ানা তাহার দ্বারা মোহর করাইয়া লইয়া গিয়াছিলেন। যদিও এসকল দলিলে মোহরের সঙ্গে রাজার সহি-দস্তখৎ দেওয়া বিধি, তবু আপাতত শুধু মোহরেই কাজ চালাইতে হইয়াছিল। শঙ্কর সিং-এর দস্তখৎ গৌরী এখনো ভাল আয়ত্ত করিতে পারে নাই।

    ধনঞ্জয়ও এতক্ষণ গৌরীর কাছেই ছিলেন, এইমাত্র একটা কাজে বাহিরে ডাক পড়িয়াছে তাই উঠিয়া গিয়াছেন।

    দুজনে নীরবেই বসিয়াছিল। রুদ্ররূপ একটু অন্যমনস্কভাবে বিস্তার নৌকা চলাচল দেখিতেছিল ও কোমরবন্ধে আবদ্ধ তলোয়ারখানা আঙুল দিয়া নাড়িতেছিল। তাহার পাতলা সুশ্রী ধারালো মুখের দিকে কিছুক্ষণ তাকাইয়া থাকিয়া গৌরী হঠাৎ প্রশ্ন করিল-রুদ্ররূপ, ঝিন্দে সবচেয়ে ভাল তলোয়ার খেলোয়াড় কে বলতে পার?

    রুদ্ররূপ চমকিয়া ফিরিয়া চাহিল; একটু চিন্তা করিয়া বলিল— ঝিন্দের সবচেয়ে বড় তলোয়ারবাজ বোধহয় সর্দার ধনঞ্জয়না ময়ূরবাহন।

     

     

    বল কি? গৌরী বিস্মিতভাবে চাহিল।

    রুদ্ররূপ ঘাড় নাড়িল—হ্যাঁ–সদারজিও খুব ভাল খেলোয়াড়—বিশ বছর আগে হলে বোধহয় ময়ূরবাহনকে হারাতে পারতেন কিন্তু এখন

    আর তুমি?

    আমিও জানি। কিন্তু ময়ূরবাহন কিম্বা সর্দার আমাকে বাঁ হাতে সাবাড় করে দিতে পারেন।

    গৌরী ঈষৎ বিস্মিত চোখে এই সরল নিরভিমান যোদ্ধার দিকে চাহিয়া রহিল— তারপর বলিল— আচ্ছা, তুমি ময়ূরবাহনের সঙ্গে লড়তে পার?

    রুদ্ররূপ একটু হাসিয়া বলিল–হুকুম পেলেই পারি। লড়াই করব বলেই তো আপনার কুট খাচ্ছি।

    মৃত্যু নিশ্চয় জেনেও?

     

     

    হ্যাঁ। মৃত্যুকে আমার ভয় হয় না রাজা।

    রুদ্ররূপের কাঁধে হাত রাখিয়া গৌরী জিজ্ঞাসা করিল–কিসে তোমার ভয় হয় ঠিক করে বলতে রুদ্ররূপ?

    রুদ্ররূপ চিন্তা করিয়া বলিল— কি জানি। আপনাকে সম্মান করি আপনি রাজা, সর্দারকেও সম্মান করি; কিন্তু ভয় কাউকে করি বলে তো মনে হয় না।

    গৌরী পুনরায় তাকিয়া ঠেস দিয়া বসিয়া গম্ভীরভাবে বলিল–কিন্তু আমি জানি তুমি একজনকে ভয় কর।

    রুদ্ররূপ চকিত হইয়া চাহিল—কাকে?

    চম্পাকে।

    রুদ্ররূপের মুখ ধীরে ধীরে লাল হইয়া উঠিল, সে নতনেত্রে চুপ করিয়া রহিল।

     

     

    গৌরী তরলকণ্ঠে জিজ্ঞাসা করিল তুমি চম্পাকে ভালবাস-না?

    রুদ্ররূপ তেমনি হেঁটমুখে বসিয়া রহিল-উত্তর করিল না।

    গৌরী জিজ্ঞাসা করিল ওকে বিয়ে কর না কেন?

    রুদ্ররূপ মুখ তুলিল, চোখ দুটি অত্যন্ত করুণ; আস্তে আস্তে বলিল-আমি বড় গরীব, চম্প বাবা আমার সঙ্গে তার বিয়ে দেবেন না।

    গৌরী চমকিয়া উঠিল, রাজার পার্শ্বচর যে গরীব হইতে পারে একথা সে ভাবিতেই পারে নাই বলিল— গরীব?

    হ্যাঁ। আমরা পুরুষানুক্রমে সিপাহী, আমাদের টাকা কড়ি নেই।

    তাতে কি হয়েছে?

     

     

    ত্রিবিক্রম সিং একজন প্রকাণ্ড বড়মানুষ—রাজ্যের প্রধান শেঠ। তিনি আমার সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেবেন কেন?

    তুমি কখনো প্রস্তাব করে দেখেছ?

    না।

    একটু চিন্তা করিয়া গৌরী প্রশ্ন করিল—চম্পা তোমার মনের কথা জানে?

    না। সে এখনো ছেলেমানুষ; তাকে রুদ্ররূপ চকিতভাবে দ্বারের দিকে দৃষ্টিপাত করিয়া বলিল— সর্দার আসছেন। তাঁকে–তাঁর সামনে–

    না না, তোমার কোনো ভয় নেই।

    সর্দার ধনঞ্জয় প্রবেশ করিলেন। গৌরী ফিরিয়া দেখিল তাঁহার মুখ গম্ভীর, হাতে একখানা চিঠি। জিজ্ঞাসা করিল—কি সর্দার?

    সর্দার নিঃশব্দে চিঠি তাহার হাতে দিলেন। ঝড়োয়ার রাজ-দরবার হইতে দেওয়ান অনঙ্গদেও কর্তৃক লিখিত পত্র—সাড়ম্বরে বহু সমাসযুক্ত ভাষায় অশেষপ্রতাপ দেবপাদ শ্ৰীমন্মহারাজ শঙ্কর। সিংহকে সবিনয়ে ও সসম্রমে স্বস্তিবাচনপূর্বক জ্ঞাপন করা হইয়াছে যে, এখন মহারাজ বস্তুত ঝড়োয়া রাজ্যেরও ন্যায্য অধিপতি; সুতরাং তিনি কৃপাপূর্বক কিছুকাল তাঁহার ঝড়োয়া রাজ্যে আসিয়া রাজগৌরবে বাস করতঃ প্রজা ও ভৃত্যবৃন্দের সেবাগ্রহণ করিলে ঝড়োয়ার আপামর সাধারণ কৃতকৃতার্থ হইবে। ঝড়োয়ার মহিমময়ী রাজ্ঞী, পারিষদবৃন্দ ও প্রজা সামান্যের পক্ষ হইতে দেবপাদ মহারাজের শ্রীচরণে এই নিবেদন উপস্থাপিত হইতেছে। অলমিতি।

    চিঠি পড়িতে পড়িতে গৌরীর মুখে রক্তিমাভা আনা-গোনা করিতে লাগিল। পাঠ শেষ হইয়া যাইবার পরও সে কিছুক্ষণ চিঠিখানা চোখের সম্মুখে ধরিয়া রহিল। তারপর সর্দারের দিকে চোখ। তুলিয়া দেখিল, তিনি তীক্ষ্ণদৃষ্টিতে তাহাকে নিরীক্ষণ করিতেছেন। সে তাচ্ছিল্যভরে পত্র ফেরত দিয়া বলিল— এ চিঠি এল কখন?

    এই মাত্র।

    বজ্ৰপাণি এ চিঠির মর্ম জানেন?

    জানেন—তিনিই পত্র খুলেছেন।

    তুমিও জানো বোধ করি?

    জানি।

    ঈষৎ হাসিয়া গৌরী প্রশ্ন করিল–তা তোমরা দুজনে কি স্থির করলে?

    ধনঞ্জয় দুই চক্ষু গৌরীর মুখের উপর নিশ্চল রাখিয়া ধীরে ধীরে বলিলেন— আমরা কিছুই স্থির করিনি। আপনি যা আদেশ করবেন তাই হবে।

    গৌরী কিছুক্ষণ চুপ করিয়া রহিল, অজ্ঞাতসারে তাহার দৃষ্টি কিস্তার পরপারে শুভ্র রাজসৌধের। উপর গিয়া পড়িল। সে চক্ষু ফিরাইয়া লইয়া বলিল— ঝড়োয়ায় যাবার কোনো দরকার দেখি না। ওদের লিখে দাও যে অশেষপ্রতাপ দেবপাদ এখন নিজের রাজ্য নিয়েই বিশেষ ব্যস্ত আছেন, তাছাড়া তাঁর শরীরও ভাল নয়। এখন তিনি ঝড়োয়ায় গিয়ে থাকতে পারবেন না। একটু হাসিয়া বলিলচিঠিখানা বেশ মোলায়েম করে ভাল ভাল কথা দিয়ে সাজিয়ে লিখো। কিন্তু সে কাজ বোধ হয় বজ্ৰপাণি খুব ভাল রকমই পারবেন।

    ধনঞ্জয়ের মুখ হইতে সংশয়ের মেঘ কাটিয়া গেল, তিনি প্রফুল্লস্বরে যো হুকুম বলিয়া প্রস্থানোদ্যত হইলেন।

    গৌরী তাঁহাকে ফিরিয়া ডাকিল—তাড়াতাড়ি কিছু নেই কাল-পরশু চিঠি পাঠালেই চলবে।—এখন তুমি বোসো, কথা আছে?

    ধনঞ্জয় হাঁটু মুড়িয়া গালিচার একপাশে বসিলেন। গৌরী বলিল— শঙ্কর সিং সম্বন্ধে কি হচ্ছে? তোমরা যে রকম ঢিলাভাবে কাজ করছ তাতে আমার মনঃপূত হচ্ছে না।

    ধনঞ্জয় বলিলেন–ঢিলাভাবে কাজ হচ্ছে না—তবে খুব গোপনে কাজ করতে হচ্ছে। সোরগোল করে করবার মত কাজ তো নয়।

    কি কাজ হচ্ছে?

    শক্তিগড়ে কোনো বন্দী আছে কিনা তারি সন্ধান নেওয়া হচ্ছে। এটা আমাদের অনুমান বৈ তো নয়, ভুলও হতে পারে।

    সন্ধান করে কিছু জানা গেল?

    না। এত শীঘ্র জানা সম্ভবও নয়; মাত্র কাল থেকে লোক লাগানো হয়েছে।

    গৌরী চিন্তা করিয়া বলিল— হুঁ। অন্যদিকে কোনো অনুসন্ধান হচ্ছে?

    ধনঞ্জয় মাথা নাড়িয়া বলিলেন— না, অন্যদিকে যারা শঙ্কর সিং-এর অনুসন্ধান করছিল তাদের ডেকে নেওয়া হয়েছে। শঙ্কর সিং যখন সিংহাসনে আসীন রয়েছেন তখন তাঁর তল্লাস করতে গেলেই লোকে নানারকম সন্দেহ করবে।

    তা ঠিক, গুপ্তচরেরা নিজেরাই সন্দেহ করতে আরম্ভ করবে।

    এখন যা-কিছু অনুসন্ধান আমাদের নিজেদের করতে হবে। বাইরের লোককে কোনো কথা ঘুণাক্ষরে জানতে দেওয়া যেতে পারে না।

    কিন্তু আমার আর চুপ করে বসে থাকতে ভাল লাগছে না সর্দার। এখন তো অভিষেক হয়ে গেছে, এবার উঠে পড়ে লাগা দরকার। তোমাদের রাজা-গিরি আর আমার ভাল লাগছে না।

    ঈষৎ বিস্ময়ে ধনঞ্জয় তাহার দিকে চাহিলেন, তারপর ধীরে ধীরে বলিলেন— কিন্তু উপস্থিত কিছুদিন ধৈর্য ধরে থাকতেই হবে। অন্তত যতদিন না শক্তিগড়ের পাকা খবর পাওয়া যাচ্ছে।

    আরো কিছুক্ষণ এই বিষয়ে কথাবার্তার পর ধনঞ্জয় উঠিয়া গেলেন। সন্ধ্যা হইয়া আসিতেছিল, কিস্তার কালো বুকে অন্ধকার পুঞ্জীভূত হইতেছিল। পশ্চিমাকাশের অস্তরাগের পশ্চাৎপটে কিস্তার সেতুটি কঙ্কাল-সেতুর মত প্রতীয়মান হইতেছিল। সেইদিকে তাকাইয়া থাকিয়া গৌরী একটা নিশ্বাস মোচন করিয়া বলিল— রুদ্ররূপ, দারিদ্র কি ভালবাসার পথে খুব বড় বিঘ্ন বলে তোমার মনে হয়?

    রুদ্ররূপ হেঁটমুখে কি চিন্তা করিতেছিল, চকিতভাবে মুখ তুলিয়া চাহিল।

    গৌরী মুখের একটা বিমর্ষ ভঙ্গি করিয়া বলিল— তার চেয়ে ঢের বড় বাধা আছে–যা অলঙ্ঘনীয়। তুমি হতাশ হয়ো না।

    আশার উল্লাসে রুদ্ররূপের মুখ উদ্দীপ্ত হইয়া উঠিল। সে আরো কিছু শুনিবার আশায় সাগ্রহে গৌরীর দিকে তাকাইয়া রহিল।

    ঝড়োয়ার প্রাসাদে তখন একটি একটি করিয়া দীপ জ্বালিয়া উঠিতেছিল। গৌরী সহসা উঠিয়া দাঁড়াইয়া বলিল–ঠাণ্ডা মনে হচ্ছে চল, ভেতরে যাওয়া যাক।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    মনচোরা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }