Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প208 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১১. ভিমরুলের অনুতাপ

    একাদশ পরিচ্ছেদ
    ভিমরুলের অনুতাপ

    রানীর সহিত গৌরীর দৈবক্রমে সাক্ষাৎ ঘটিয়া যাইবার পর হইতে গৌরী ও ধনঞ্জয়ের মাঝখানে ভিতরে ভিতরে একটা দূরত্বের সৃষ্টি হইয়াছিল। পূর্বের বাধাহীন ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব হ্রাস পাইয়াছিল অথচ ঠিক মনোমালিন্যও বলা চলে না। কিন্তু গৌরী যখন ঝড়োয়ায় গিয়া থাকিবার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করিল, তখন আবার অজ্ঞাতসারেই এই দূরত্ব ঘুচিয়া গিয়া পূর্বের সৌহার্দ্য ও বিশ্বাস ফিরিয়া আসিল। গৌরী মাঝের এই দুই দিন অন্তরের মধ্যে যেন একটু অবলম্বনহীন ও অসহায় বোধ করিতেছিল, এখন আবার সে মনে বল পাইল। একযোগে কাজ করিতে গিয়া সহকারীর প্রতি শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের অভাব যে মানুষকে কিরূপ বিকল করিয়া ফেলে তাহা প্রত্যক্ষ করিয়া ও তাহার কুফল চিন্তা করিয়া দুইজনেই সন্ত্রস্ত হইয়া উঠিয়াছিলেন। বিশ্বাস ও বন্ধুত্ব পুনঃপ্রাপ্ত হইয়া উভয়েই আরামের নিশ্বাস ফেলিয়া বাঁচিলেন।

    ঝিন্দে আসিয়া গৌরী আর একটি অনুগত ও অকৃত্রিম বন্ধু লাভ করিয়াছিল— সে রুদ্ররূপ। বয়স দুইজনেরই প্রায় সমান, অবস্থাগতিকে সাহচর্যও প্রায় অবিচ্ছেদ্য হইয়া পড়িয়াছিল—তাই পদ ও মর্যাদার আকাশ পাতাল প্রভেদ সত্ত্বেও দুইজনে পরস্পরের খুব কাছে আসিয়া পড়িয়াছিল। গৌরী যে সত্যই রাজা নয় ইহা রুদ্ররূপ জানিত—সেজন্য তাহার ব্যবহার ও বাহ্য আদব কায়দায় তিলমাত্র ত্রুটি হয় নাই কিন্তু তবু মানুষ-গৌরীর প্রতিই সে বিশেষভাবে আকৃষ্ট হইয়া পড়িয়াছিল। শঙ্কর সিং-এর প্রতি তার মনোভাব কিরূপ ছিল তাহা বলা কঠিন; সম্ভবত শঙ্কর সিংকে মানুষ হিসাবে সে কোনদিন দেখে নাই রাজা বা রাজপুত্র ভাবিয়া তাহার প্রতি কর্তব্য করিয়া নিশ্চিন্ত ছিল। কিন্তু গৌরীর প্রতি তাহার আনুরক্তি এই রাজভক্তিরও অতিরিক্ত একটা ব্যক্তিগত প্রীতির রূপ ধরিয়া দেখা দিয়াছিল। শঙ্কর সিং-এর জন্যও রুদ্ররূপ নিঃসঙ্কোচে প্রাণ দিতে পারিত, কিন্তু গৌরীর জন্য প্রাণ দিতে পারিত আনন্দের সঙ্গে—কেবলমাত্র কর্তব্যের অনুরোধে নয়।

    সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হইয়া উঠিবার পর গৌরী প্রাসাদের বাহির হইবার জন্য ছটফট করিতে লাগিল। অবশ্য প্রাসাদে নিষ্কর্মার মত তাহাকে বসিয়া থাকিতে হইত না, সর্বদাই কোনো-না-কোনো কাজ। লাগিয়া থাকিত। প্রত্যহ সকালে দরবারে গিয়া বসিতে হইত, সেখানে নানাবিধ কাজ, মন্ত্রণা ও দেশের বহু গণ্যমান্য লোকের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও আলাপ করাও দৈনন্দিন কর্তব্যের মধ্যে দাঁড়াইয়াছিল। তথাপি সর্বপ্রকারে ব্যাপৃত থাকিয়াও তাহার মনে হইত যেন তাহার গতিবিধির চারিপাশে একটা অদৃশ্য দেওয়াল তাহাকে ঘিরিয়া আবদ্ধ করিয়া রাখিয়াছে। ধনঞ্জয়ের কাছে নগর ভ্রমণের কথা উত্থাপন করিলে তিনি মাথা নাড়িয়া বলিতেন— এখন নয়, আরো দুদিন যাক। বস্তুত নগরভ্রমণে বাহির হওয়া যে সর্বাংশে নিরাপদ নয় তাহা গৌরীও বুঝিত। দেশে অভিষেকের উৎসব এখনও শেষ হয় নাই, এই সময় গোলমালের মধ্যে একটা দুর্ঘটনা ঘটিয়া যাওয়া বিচিত্র নয়। কিন্তু তবু সে স্বাধীনভাবে নিজের ইচ্ছামত ঘুরিয়া বেড়াইবার জন্য অস্থির হইয়া উঠিয়াছিল।

     

     

    এদিকে শঙ্কর সিং-এর কোনো সংবাদই পাওয়া যাইতেছিল না। শক্তিগড়ের দিকে যাহারা তল্লাস করিতে গিয়াছিল তাহারা একে একে ফিরিয়া আসিয়া জানাইয়াছে যে, শক্তিগড়ের অর্ধক্রোশের মধ্যে কাহারো যাইবার উপায় নাই—দুর্গ ঘিরিয়া থানা বসিয়া গিয়াছে। সেই গণ্ডীর ভিতর কেহ পদার্পণ করিবার চেষ্টা করিলেই অশেষভাবে লাঞ্ছিত হইয়া বিতাড়িত হইতেছে। দুর্গের আশেপাশে যে-সকল গ্রাম আছে সেখানেও অনুসন্ধান করিয়া কোনো ফল পাওয়া যায় নাই; গ্রামবাসীরা উদিতের প্রজা ও ভক্ত, কিছু জানিলেও বাহিরের লোকের কাছে প্রকাশ করে না, উপরন্তু কৌতূহলী জিজ্ঞাসুকে গালাগালি ও মারধর করিয়া দূর করিয়া দেয়। একজন দুঃসাহসিক গুপ্তচর নৌকায় করিয়া কিপ্তার দিক হইতে দুর্গ পর্যবেক্ষণ করিতে গিয়াছিল—উদিত তাহাকে ধরিয়া আনিয়া স্বহস্তে এমন নির্দয় প্রহার করিয়াছে যে লোকটা আধমরা হইয়া কোনোমতে ফিরিয়া আসিয়াছে। অতঃপর আর কেহ ও অঞ্চলে যাইতে রাজী নয়।

    এইরূপে শঙ্কর সিং-এর অনুসন্ধান কার্য চারিদিকে বাধাপ্রাপ্ত হইয়া একপ্রকার নিশ্চল হইয়া আছে।

    অভিষেকের দিন পাঁচ-ছয় পরে একদিন অপরাহে গৌরী ও রুদ্ররূপ প্রাসাদ সংলগ্ন ব্যায়ামগৃহে অসি-ক্রীড়া করিতেছিল। ধনঞ্জয় অদূরে দাঁড়াইয়া দেখিতেছিলেন ও বিচারকের কার্য করিতেছিলেন।

     

     

    দেশী তলোয়ার খেলা। দীর্ঘ ও ঈষদ্ব তরবারির ফলায় সূক্ষ্ম কাপড় জড়ানো, খেলোয়াড় দুজনের মুখ ও গ্রীবাদেশ লোহার মুখোসে ঢাকা। খেলার ঝোঁকে দুইজনেই বেশ উত্তেজিত হইয়া উঠিয়াছে—মুখোসের জালের ভিতর দিয়া তাহাদের চক্ষু জ্বলিতেছে। দুইটি তলোয়ারই বন্ বন্ করিয়া ঘুরিতেছে। কদাচিৎ অস্ত্রে অস্ত্রে লাগিয়া ঝনকার উঠিতেছে, কখনো একের তরবারি অন্যের দেহ লঘুভাবে স্পর্শ করিতেছে। ধনঞ্জয় মাঝে মাঝে বলিয়া উঠিতেছেন— সাবাস। চোট! জখম! ইত্যাদি।

    ক্রমে রুদ্ররূপের অসিচালনায় ঈষৎ ক্লান্তি ও শিথিলতার লক্ষণ দেখা দিল; সে গৌরীর আক্রমণ প্রতিরোধ করিতে না পারিয়া পিছু হটিতে আরম্ভ করিল। তারপর হঠাৎ গৌরী তাহার ঘূর্ণিত অসিকে পাশ কাটাইয়া বিদ্যুদ্বেগে তাহার মস্তকে আঘাত করিল, শিরস্ত্রাণের উপর ঝনাৎ করিয়া শব্দ হইল। ধনঞ্জয় বলিয়া উঠিলেন–ফতে!

    দুইজন যোদ্ধাই তরবারি নামাইয়া দাঁড়াইল। গৌরী মুখোস খুলিয়া ঘর্মাক্ত মুখ মুছিতে মুছিতে সহাস্যে বলিল—সর্দার, এবার তুমি এস।

     

     

    ধনঞ্জয় নিঃশব্দে তরবারি রুদ্ররূপের হাত হইতে লইয়া গৌরীর সম্মুখে দাঁড়াইলেন; তরবারির মুঠ একবার কপালে ছোঁয়াইয়া বলিলেন–আসুন!

    মুখোস পরবে না?

    দরকার নেই।

    অসি চালনায় ধনঞ্জয়ের খ্যাতি গৌরী জানিত, সে সাবধানে নিজের দেহ যথাসাধ্য সুরক্ষিত করিয়া আক্রমণে অগ্রসর হইল। ধনঞ্জয় শুধু অসিখানা নিজ দেহের সম্মুখে ধরিয়া স্থিরভাবে দাঁড়াইয়া রহিলেন। ডাহিনের দিকে একটা ফাঁকা লক্ষ্য করিয়া গৌরী সেইদিকে তলোয়ার চালাইল, ধনঞ্জয় অবহেলাভরে তাহা সরাইয়া দিলেন। আবার গৌরী বাঁ দিকে আক্রমণ করিল, কিন্তু কজির একটা অলস সঞ্চালন দ্বারা ধনঞ্জয় সে আঘাত নিজ তরবারির উপর গ্রহণ করিলেন। তাঁহার ভাব দেখিয়া মনে হইতে লাগিল, তিনি যেন চিন্তায় নিমগ্ন থাকিয়া অন্যমনস্কভাবে বাঁ হাত দিয়া একটা বিরক্তির মাছি তাড়াইতেছেন।

     

     

    ধনঞ্জয় যতই স্থির ও অবিচলিত হইয়া রহিলেন গৌরী ততই অসহিষ্ণু হইয়া উঠিতে লাগিল। শেষে আর সে ধৈর্য ধারণ করিতে না পারিয়া এক পা পিছু হটিয়া চিতাবাঘের মত ধনঞ্জয়ের ঘাড়ের উপর লাফাইয়া পড়িল। তাঁহার মাথার উপর তলোয়ারের কোপ বসাইতে গিয়া দেখিল ধনঞ্জয়। সেখানে নাই। ধনঞ্জয় কোথায় তাহা নির্ণয় করিবার পূর্বেই সে নিজের দক্ষিণ হস্তের মুঠিতে একটা বেদনা অনুভব করিল ও পরক্ষণেই দেখিল তলোয়ারখানা তাহার অবশ হস্ত হইতে পড়িয়া যাইতেছে।

    ধনঞ্জয় ভূমি হইতে তলোয়ার তুলিয়া গৌরীকে প্রত্যর্পণ করিয়া হাসিমুখে বলিলেন—ফতে।

    মুখোস খুলিয়া গৌরী কিছুক্ষণ নির্বাকভাবে চাহিয়া থাকিয়া বলিল–কি হল বল দেখি?

    কিছু না, আপনি হেরে গেলেন।

    গৌরী মুখের একটা বিমর্ষ অথচ সকৌতুক ভঙ্গি করিয়া বলিল— তা তো দেখতেই পাচ্ছি; কিন্তু হারালে কি করে?

     

     

    একটা খুব ছোট্ট প্যাঁচ আছে—আপনি সেটা জানেন না।

    আমার গোয়ালিয়রের ওস্তাদ তাহলে ফাঁকি দিয়েছে বল।–একটা চেয়ারের পিঠে কাশ্মীরী শালের ঢিলা চোগা রাখা ছিল, গৌরী সেটা গায়ে দিতে লাগিল, ধনঞ্জয় তরবারি রাখিয়া তাহাকে সাহায্য করিলেন।

    এই সময় ব্যায়ামগৃহের খোলা দ্বারের কাছে একজন শাস্ত্রী আসিয়া দাঁড়াইল। রুদ্ররূপ। বলিল—কি চাও?

    শাস্ত্রী কহিলঝড়োয়া থেকে একজন ঘোড়সওয়ার এসেছে মহারাজের দর্শন চায়।

    ধনঞ্জয় জিজ্ঞাসা করিলেন— কি জন্যে দর্শন চায় কিছু বলেছে?

    শাস্ত্রী বলিল— না, সে কিছু বলতে চায় না।

    ধনঞ্জয় বলিলেন—রুদ্ররূপ, দেখ কি ব্যাপার।

     

     

    কিয়ৎকাল পরে রুদ্ররূপ ফিরিয়া আসিয়া জানাইল যে দর্শনপ্রার্থীর নাম সুবাদার বিজয়লাল রাজার সঙ্গে গোপনীয় কথা আছে, ইহা ছাড়া আর কিছু বলিতেছে না।

    ধনঞ্জয় গৌরীকে জিজ্ঞাসা করিলেন— আপনি একে চেনেন নাকি?

    গৌরী মাথা নাড়িয়া বলিল–না।

    ধনঞ্জয় ভ্রূকুটি করিয়া চিন্তা করিলেন, শেষে বলিলেন—আচ্ছা, তাকে এইখানেই নিয়ে এস।

    ঝড়োয়ার দরবার হইতে প্রেরিত দূতও হইতে পারে, আবার না হইতেও পারে; এই ভাবিয়া ধনঞ্জয় ঘরের কোণের এক মেহগনির আলমারি খুলিয়া একটি রিভলবার তুলিয়া লইয়া তাহাতে টোটা ভরিতে লাগিলেন। আলমারিতে ছোরাছুরি, পিস্তল ইত্যাদি নানাবিধ অস্ত্র সাজানো ছিল।

    গৌরী বিস্মিত হইয়া জিজ্ঞাসা করিল—ও কি হচ্ছে সর্দার?

     

     

    বলা তো যায় না—হয়তো বলিয়া সর্দার একটা জানালার ধারে গিয়া দাঁড়াইলেন।

    সৈনিক বেশধারী দীর্ঘকায় যুবক রুদ্ররূপের সঙ্গে প্রবেশ করিয়া সম্মুখে চেয়ারে উপবিষ্ট রাজাকে দেখিয়া স্যালুট করিয়া দাঁড়াইল।

    গৌরী জিজ্ঞাসা করিল—কে তুমি? কি চাও?

    যুবক একবার ঘরের চারিদিকে দৃষ্টিপাত করিল, দেখিল অদূরে জানালার পাশে ধনঞ্জয় একটা রিভলবার লইয়া অন্যমনস্কভাবে নাড়াচাড়া করিতেছেন, পিছনে দ্বারের কাছে রুদ্ররূপ নিশ্চল হইয়া

    দাঁড়াইয়া আছে। সে বলিল-মহারাজের সঙ্গে আমার গোপনে কিছু কথা আছে।

    গৌরী ঈষৎ অপ্রসন্নমুখে বলিল—তা আগেই শুনেছি। তোমাকে কখনো দেখেছি বলে মনে হয় না। আমার সঙ্গে তোমার কী গোপনীয় কথা থাকতে পারে?

     

     

    যুবক একটু ইতস্তত করিল, একবার ধনঞ্জয়ের দিকে দৃষ্টি ফিরাইল, তারপর মৃদুকণ্ঠে কহিল— আমি ভিমরুলের দৃত।

    ভ্রূ কুঞ্চিত করিয়া গৌরী তাহার দিকে চাহিল—ভিমরুলের দূত? ও! কৃষ্ণা–?

    যুবক গম্ভীরভাবে মস্তক অবনত করিল।

    গৌরী তখন প্রফুল্লমুখে বলিল–কৃষ্ণা ভিমরুলের দূত!—একথা আগে বলনি কেন? তা —ভিমরুলের কি সমাচার?

    যুবক মুখ ফিরাইয়া নীরবে ধনঞ্জয়ের দিকে চাহিল।

    গৌরী সহাস্যে বলিল–সর্দার, তুমি যেতে পার। সুবাদারের সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে।–না, কোনো ভয় নেই–সুবাদার পরিচিত লোকের দূত।

    অনিচ্ছাভরে রিভলবার রাখিয়া ধনঞ্জয় ঘর হইতে বাহির হইয়া গেলেন; তাঁহার মুখ দেখিয়া বোধ হইল তিনি অপ্রসন্ন হইয়া উঠিয়াছেন।

     

     

    গৌরী রুদ্ররূপকে বলিল— তুমি ঘরের বাইরে পাহারায় থাকো—কেউ না আসে।

    রুদ্ররূপ নিষ্ক্রান্ত হইয়া গেলে গৌরী উৎসুকভাবে জিজ্ঞাসা করিল— কৃষ্ণার কি খবর?

    যুবক উত্তর না দিয়া পাগড়ির ভিতর হইতে একটি পত্র বাহির করিয়া গৌরীর হাতে দিল। গৌরী পড়িল, তাহাতে লেখা আছে—

    স্বস্তি শ্রীদেবপাদ মহারাজের চরণে কৃষ্ণবাঈয়ের শত শত প্রণাম। এই পত্রের বাহক সুবাদার বিজয়লাল ঝড়োয়া রাজবংশের এবং সেই সঙ্গে আমার একজন বিশ্বস্ত ও অনুগত কর্মচারী। তাহাকে সকল বিষয়ে বিশ্বাস করিতে পারেন।

    আপনি সেদিন আমার উপর রাগ করিয়া আমাকে শাস্তি দিবেন বলিয়াছিলেন। শাস্তির ভয়ে আমি অতিশয় অনুতপ্ত হইয়াছি— স্থির করিয়াছি আজ রাত্রেই প্রায়শ্চিত্ত করিব। আপনাকে উপস্থিত থাকিতে হইবে।

    আজ রাত্রি দশটার সময় কিস্তার পুল যেখানে ঝড়োয়ার রাজ্যে আসিয়া শেষ হইয়াছে, সেইখানে। বিজয়লাল উপস্থিত থাকিবে। আপনি আসিবেন। ছদ্মবেশে আসিতে হইবে, যাহাতে কেহ আপনাকে চিনিতে না পারে। একজন বিশ্বাসী পার্শ্বচর সঙ্গে লইতে পারেন। বিজয়লাল আপনাকে যথাস্থানে লইয়া আসিবে। ইতি—আপনার চরণাশ্রিতা কৃষ্ণা।

     

     

    চিঠি মুড়িতে মুড়িতে গৌরী মুখ তুলিল, কৌতুক-তরল কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করিল–কৃষ্ণা তোমার কে?–বিজয়লাল নীরবে ঘাড় হেঁট করিয়া রহিল-ও বুঝেছি, তুমি কৃষ্ণার ভাবী সৌহর!—কিন্তু কৃষ্ণা হঠাৎ এত অনুতপ্ত হয়ে উঠলে কেন তা তো বুঝতে পারছি না। পত্রখানা চোগার পকেটে রাখিয়া বলিল–হ্যাঁ—আমি যাব। যথাসময়ে তুমি হাজির থেকো।

    যে আজ্ঞা মহারাজ! বলিয়া বিজয়লাল অভিবাদন করিয়া প্রস্থানোদ্যত হইল। গৌরী আবার বলিয়া উঠিল— কিন্তু আসল কথাটা কি বল তো? এ নিমন্ত্রণের ভিতর একটা গুঢ় রহস্য আছে বুঝতে পারছি। সেটা কি?

    বিজয়লাল বলিল— তা জানি না মহারাজ।

    বিজয়লাল গম্ভীর প্রকৃতির লোক, অত্যন্ত অল্পভাষী। তাহার শ্যামবর্ণ দৃঢ় মুখের দিকে চাহিয়া তাহার মনের কথা কিছুই বুঝা যায় না। তবু গৌরী যদি ভাল করিয়া লক্ষ্য করিত তাহা হইলে দেখিতে পাইত–বিজয়লালের ফৌজী গোঁফের আড়ালে অল্প একটু হাসি দেখা দিয়াই মিলাইয়া গেল।

    বিজয়লাল প্রস্থান করিলে গৌরী চিঠিখানা পকেট হইতে বাহির করিয়া নাড়াচাড়া করিতে করিতে অনেকক্ষণ বসিয়া রহিল। মনের অগোচরে পাপ নাই বটে কিন্তু আশা আকাঙ্ক্ষা প্রবৃত্তি ও কর্তব্যবুদ্ধি মিলিয়া মানুষের মনে এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি হয় যখন সে মনকে চোখ ঠারিতেছে কিনা নিজেই। বুঝিতে পারে না। তাই কৌতূহল ও আগ্রহ যতই গৌরীর মনে প্রবল হইয়া উঠিতে লাগিল ততই সে মনকে বুঝাইতে লাগিল যে, ইহা কেবল একটা মজাদার অ্যাডভেঞ্চারের জন্য আগ্রহ, বহুদিন রাজপ্রাসাদের মধ্যে আবদ্ধ থাকিবার পর মুক্তির আশাই তাহাকে উদগ্রীব করিয়া তুলিয়াছে। নচেৎ কৃষ্ণার সহিত সাক্ষাৎ করিবার আর কোনো আকর্ষণই থাকিতে পারে না।

     

     

    অন্তরের গৃঢ়তম প্রদেশে কৃষ্ণার এই অনুতাপের মর্ম যে সে অভ্রান্তভাবে বুঝিয়াছে, একথা যদি তাহার জাগ্রত মনের সম্মুখে প্রকট হইয়া উঠিত তাহা হইলে বোধ হয় সে এই নিমন্ত্রণ রক্ষা করিতে সক্ষম হইত না। অথচ পরিহাস এই যে, ধনঞ্জয় সকল কথা শুনিয়া নিশ্চয় এ প্রস্তাবে বাধা দিবেন, ইহা অনুমান করিয়া সে আগে হইতেই মনে মনে বিদ্রোহী হইয়া উঠিল।

    তাই ধনঞ্জয় যখন আসিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন—ব্যাপার কি? দূত কিসের? তখন গৌরী চিঠিখানা সন্তর্পণে পকেটে রাখিয়া দিয়া তাচ্ছিল্যভরে বলিল—কিছু না। আজ রাত্রে একবার নগর ভ্রমণে বার হব। সঙ্গে কেবল রুদ্ররূপ থাকবে।

    বিস্মিত ধনঞ্জয় বলিল-সেকি! হঠাৎ এরকম—

    গৌরী বলিল— হঠাৎই স্থির করেছি।

    ধনঞ্জয় বলিলেন–কিন্তু রাত্রে অরক্ষিত অবস্থায় যাওয়া তো হতে পারে না।

    গৌরী একটু ঝাঁঝালো সুরে বলিল— নিশ্চয় হতে পারে, যখন আমি স্থির করেছি।

    ধনঞ্জয় কিছুক্ষণ আকুঞ্চিত চক্ষে গৌরীকে নিরীক্ষণ করিয়া ধীরে ধীরে বলিলেন— কিন্তু এরকম স্থির করার কারণ জানতে পারি কি?

    না। গৌরী উঠিয়া দাঁড়াইল, একটু থামিয়া বলিল— ভয়ের কোনো কারণ নেই। আমরা ছদ্মবেশে থাকবো, কেউ চিনতে পারবে না।

    কিন্তু ঝড়োয়ায় যাওয়া কি আপনার উচিত হচ্ছে?

    গৌরীর মুখ সহসা আরক্ত হইয়া উঠিল, কিন্তু সে সংযত স্বরেই বলিল— উচিত কিনা সেকথা আমি কারুর সঙ্গে আলোচনা করতে চাই না। আমি ঝিন্দের বন্দী নই—আপাতত ঝিন্দের রাজা। ধনঞ্জয় আবার কি একটা বলিতে গেলেন, কিন্তু তৎপুর্বেই গৌরী ঘর হইতে নিষ্ক্রান্ত হইয়া গেল। শুন্য ঘরে ধনঞ্জয় কিছুক্ষণ দাঁড়াইয়া রহিলেন; তারপর অস্ফুটস্বরে বকিতে বকিতে গৌরীর অনুসরণ করিলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    মনচোরা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }