Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প208 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০২. ধনঞ্জয়

    দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
    ধনঞ্জয়

    কিছুক্ষণ পরে যে লোকটি পরদা ঠেলিয়া ঘরে প্রবেশ করিল তাহাকে কিন্তু বাংলা দেশের ঘটক সম্প্রদায়ভুক্ত করা একেবারেই অসম্ভব। লোকটি বাঙালী নয়, তবে কোন্ জাতীয় তাহা চেহারা বা বেশভূষা দেখিয়া অনুমান করা কঠিন। মাথায় মাড়োয়ারী ধরনের খুনখারাবী রঙের পাগড়ি, গায়ে দামী সিল্কের সেকেলে ধরনের পুরা আস্তিন আত্রাখা, পরিধানে বারাণসী চেলী, পায়ে লাল মখমলের উপর সাঁচ্চার কাজ করা নাগরা। গলায় সরু সোনার শিকলি দিয়া আটকানো একটা মোহর—তাহার মাঝখানে একটা প্রকাণ্ড পান্না ঝকঝক করিতেছে। দুই কানে দুইটি সুপারির মত রুবি হইতে আলো ঠিকরাইয়া পড়িতেছে।

    লোকটির বয়স বোধ হয় পঞ্চাশের কাছাকাছি, গোঁফ কাঁচাপাকা। গায়ের বর্ণ নিকষের মত কালো। কিন্তু কি অপূর্ব দেহের ও মুখের গঠন! যেন হাতুড়ি দিয়া লোহা পিটিয়া তৈয়ারি করা হইয়াছে। ঘন ভুর নীচে চক্ষু দুটা ইস্পাতের ছুরির মত ধারালো।

    ।লোকটি ঘরে ঢুকিয়াই দ্বারের কাছে থমকিয়া দাঁড়াইয়া পড়িল; তাহার দৃষ্টি দেয়ালে টাঙানো কালীশঙ্করের তৈলচিত্রটার উপর নিবদ্ধ হইল। কিছুক্ষণ নিষ্পলকনেত্রে সেই দিকে তাকাইয়া থাকিয়া সে ধীরে ধীরে চক্ষু ফিরাইয়া বিশুদ্ধ বজ্রবুলিতে জিজ্ঞাসা করিল— এ ছবি এখানে কি করে এল?

    আগন্তুকের অদ্ভুত বেশভুষা দেখিয়া দুই ভাই অবাক হইয়া গিয়াছিলেন, এইবার গৌরী হো হো করিয়া হাসিয়া উঠিল।

    লোকটি কিছু অপ্রতিভ হইয়া বলিল— মাপ করবেন। আমার ব্যবহারে আপনারা কিছু আশ্চর্য হয়েছেন। আমি এখনি নিজের পরিচয় দেব; কিন্তু তার আগে ইনি কে জানতে পারি কি?

    গৌরী ঈষৎ হাসিয়া বলিল— উনি আমাদের পূর্বপুরুষ দেওয়ান কালীশঙ্কর রায়।

    কালীশঙ্কর রাও!—লোকটির দুই চোখ উত্তেজনায় জ্বলিয়া উঠিল; সে কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া যেন নিজেকে সম্বরণ করিয়া লইল; তারপর বলিল— বসতে পারি কি?

    গৌরী স্বহস্তে একখানা চেয়ার অগ্রসর করিয়া দিয়া বলিল—বসুন।

    লোকটি উপবেশন করিয়া বলিল— বাবুসাব, সমস্তই নিয়তির খেলা। তা না হলে নিতান্ত অপরিচিত আমি, আমি দেওয়ান কালীশঙ্কর রাওয়ের বংশধরদের সঙ্গে কথা কইছি কি করে?

    গৌরী হাসিতে হাসিতে বলিল—এ আর আশ্চর্য কি? কালীশঙ্কর রায়ের বংশধরদের সঙ্গে অনেকেই তো কথা কয়ে থাকেন।

    লোকটি বলিল— তা নয়। আপনি এখন আমার কথা বুঝবেন না। — আচ্ছা, আপনারা কখনো ঝি দেশের নাম শুনেছেন কি?

    গৌরী স্মরণ করিবার চেষ্টা করিয়া বলিল—— ঝি! ঝিন্! নামটা চেনা-চেনা ঠেকছে—

    শিবশঙ্কর বলিলেন–ঝি মধ্যভারতের একটা ছোট্ট স্বাধীন রাজ্য। দাঁড়ান বলছি। তিনি উঠিয়া একটা আলমারি হইতে একখণ্ড মোটা বই বাহির করিয়া সেটার পাতা উল্টাইতে উল্টাইতে একস্থানে আসিয়া থামিলেন। বলিলেন—এই যে ঝি-ঝড়োয়া। মধ্যভারতেরই বটে। স্বাধীন— ইংরাজের মিত্ররাজ্য। ঝিন্ এবং ঝড়োয়া দুটি পাশাপাশি যুগ্ম রাজ্য। পার্বত্য দেশ–একটি নদী আছে, নাম কিস্তা (সম্ভবত কৃষ্ণতোয়ার অপভ্রংশ), ঝিন্দের আয়তন– ১৫৫৪ বর্গ মাইল, রাজধানী সিংগড়। ঝড়োয়ার আয়তন ১৪৮৫ বর্গ মাইল; রাজধানী— বেতপুর। সর্বসুদ্ধ জনসংখ্যা ১১৮৯৫৩; প্রধান উপজীব্য শিল্প; খনিজ সম্পত্তি প্রচুর। দুই রাজ্যেই হিন্দু রাজা।

    আগন্তুক বলিল— হ্যাঁ, ঐ ঝিন্দ-ঝড়োয়া। এইবার আমার পরিচয় দিই— আমি ঝিন্দের একজন ফৌজী-সদার— আমার নাম সর্দার ধনঞ্জয় ক্ষেত্রী। ঝিন্দের রাজার আমরা বংশানুক্রমিক পার্শ্বচর।

    শিবশঙ্কর শিষ্টতা দেখাইয়া বলিলেন–আপনার সঙ্গে পরিচয় হওয়াতে খুবই আনন্দিত হলাম। কিন্তু আমাদের সঙ্গে ঝিন্দের ফৌজী-সদারের কি প্রয়োজন থাকতে পারে, সেইটেই ঠিক বুঝতে পারছি না।

    ধনঞ্জয় ক্ষেত্ৰী বলিলেন—বাবুসাব, কিছুক্ষণ আগে ঐ ছবিটি সম্বন্ধে প্রশ্ন করায় আপনারা কিছু আশ্চর্য হয়েছিলেন। কিন্তু আমি আপনাদের এমন একটা কাহিনী বলতে পারি যা শুনে আপনারা আরো আশ্চর্য হয়ে যাবেন। আপনাদের এই পূর্বপুরুষটির যে অদ্ভুত জীবন বৃত্তান্ত আমি জানি, তার শতাংশের একাংশও আপনারা জানেন না। কিন্তু সে-কথা এখন নয়; যদি কখনো সময় পাই বলব। এখন আমার প্রয়োজনের কথাটাই বলি।

    কিছুক্ষণ নীরব থাকিয়া ধনঞ্জয় ক্ষেত্রী আবার আরম্ভ করিলেন—আপনারা যে দুই ভাই তা আমি ইতিপূর্বেই আপনাদের বেয়ারার কাছে জেনেছি, তাই যে-কথা আজ শুধু একজনকে বলব বলেই। এসেছিলাম তা আপনাদের দুজনকেই বলছি। আশা করি, আমাদের কথাবার্তা অন্য কেউ শুনতে পাবে না।

    ধনঞ্জয় ক্ষেত্রীর কথার ভঙ্গিতে দুইজনেই গভীরভাবে আকৃষ্ট হইয়াছিলেন; গৌরী উঠিয়া গিয়া ঘরের দ্বারগুলা ভিতর হইতে বন্ধ করিয়া দিয়া একখানা চেয়ার অধিকার করিয়া বসিল। বলিলএবার বলুন; আর কারুর শোনবার সম্ভাবনা নেই।

    ধনঞ্জয় বলিলেন— আর এক কথা। আপনারা আমার প্রস্তাবে রাজী হন বা না হন, আমার কথা ঘুণাক্ষরে কারুর কাছে প্রকাশ করবেন না, এই প্রতিশ্রুতি না পেলে আমি কিছু বলতে পারব না।

    দুইজনেই প্রতিশ্রুত হইলেন।

    ধনঞ্জয় ক্ষেত্ৰী তখন বলিতে আরম্ভ করিলেন দেখুন, ঝিন্ঝড়োয়া রাজ্য দুটি বরোদা বা হায়দ্রাবাদের মত বড় রাজ্য নয়। ইতিহাসে এবং ভূগোলে তাদের নাম ছোট করেই লেখা আছে— তাই ব্রিটিশ ভারতবর্ষের শিক্ষিত সম্প্রদায় মধ্যেও অনেকে ঝি-ঝড়োয়ার নাম জানে না। কিন্তু ছোট হলেও তারা একেবারে নগণ্য নয়। সেখানে ব্রিটিশ গভর্নমেন্টের প্রতিনিধি আছে, ভারত সম্রাটের দরবারে এই দুই রাজ্যের রাজার একটা নির্দিষ্ট আসন আছে।

    আপনারা ঝিন্দ-ঝড়োয়ার সম্বন্ধে কিছু জানেন না বলেই এর পূর্বতন ইতিহাস কিছু বলা দরকার। ভারতবর্ষের হুণ অভিযানের কথা আপনারা পড়েছেন। সেই সময় মথুরার যুবরাজ স্মরজিৎ সিংহ। এবং তাঁর ভগিনীপতি বেত্রবর্মা হ্রণ কর্তৃক রাজ্য থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন। দক্ষিণাপথে সপরিবারে পালাতে পালাতে তাঁরা এক দুর্গম পর্বতবেষ্টিত উপত্যকায় এসে উপস্থিত হলেন। স্থানটি প্রাকৃতিক পরিবেষ্টনে এমনভাবে সুরক্ষিত যে স্মরজিৎ সিংহ তাঁর দক্ষিণ যাত্রা এখানেই নিরুদ্ধ করলেন এবং সেখানকার আটবিক বন্য জাতিকে বাহুবলে পরাস্ত করে এই ঝি-রাজ্য স্থাপন করলেন। অতঃপর ভগিনীপতি বেত্রবর্মার সঙ্গে মনের মিল না হওয়াতে দুজনে রাজ্য সমান ভাগ করে নিলেন। পৃথক হয়ে বেত্রবর্মা তাঁর রাজ্যের নাম রাখলেন ঝড়োয়া। দুই রাজ্যের মাঝখানে পার্বত্য নদী কৃষ্ণতোয়া সীমানা রক্ষা করছে।

    সেই অবধি এই দুই রাজবংশ ঝি ও ঝড়োয়ায় রাজত্ব করে আসছে। ভারতবর্ষের ওপর দিয়ে। নিয়তির শত শত ঝড় বয়ে গেছে পাঠান, মোগল, ইরাণী, মারাঠী, ইংরেজ হিন্দুস্থানকে নিয়ে টানাটানি হেঁছেড়ি করেছে, কিন্তু ঝিন্ঝড়োয়া তার দুর্ভেদ্য গিরিসঙ্কটের মধ্যে নিশ্চিন্ত হয়ে বসে আছে, কখনো তার গায়ে একটা আঁচড় লাগেনি। একে অনুর্বর পাহাড়ে দেশ, তার ওপর বাহিরের কলহে সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত, তাই কোনোদিন কোনো শক্তিশালী জাতির লোলুপ দৃষ্টি তার ওপর পড়েনি।

    এই তো গেল অতীতের কাহিনী। বর্তমানের কথা সংক্ষেপে বলছি। বর্তমানে অবস্থা হচ্ছে এই যে, ঝিন্দের মহারাজ ভাস্কর সিংহ আজ ছমাস হল গতাসু হয়েছেন। মহারাজ ভাস্কর সিংহের দুই পুত্ৰ কুমার শঙ্কর সিংহ ও কুমার উদিত সিংহ। কুমার শঙ্কর স্বর্গীয়া পাটরানী রুক্সা দেবীর গর্ভজাত, আর কুমার উদিত স্বর্গীয়া দ্বিতীয়া মহিষী লখিমা দেবীর গর্ভজাত। দুজনের বয়স সমান, শুধু কুমার শঙ্কর উদিতের চেয়ে ঘণ্টাখানেকের বড়। সুতরাং তিনিই সিংহাসনের ন্যায্য অধিকারী।

    এইখানেই গণ্ডগোলের আরম্ভ। বাপের মৃত্যুর পর উদিত সিংহ ছোট হয়েও গদীতে বসবার চেষ্টা করতে লাগলেন। ঝিন্দের সিংহাসন যে ন্যায়ত তাঁরই, এ কথা প্রমাণ করবার জন্য তিনি তাঁর জন্মকালীন ধাত্রী, ডাক্তার প্রভৃতিকে সাক্ষী করে দাঁড় করালেন; কিন্তু দেশের লোক তাঁকে চায় না, তারা চায় কুমার শঙ্কর সিংকে। তার একটা কারণ, মাতাল লম্পট হলেও কুমার শঙ্করের প্রাণটা ভারি দরাজ, আর উদিত সিং দুর্দান্ত অত্যাচারী। এত বড় কুরপ্রকৃতি স্বার্থপর ভোগবিলাসী লোক খুব কম দেখা যায়।

    দেশে নিজের পরিপোষক না পেয়ে উদিত সিং গোপনে গোপনে ইংরাজ গভর্নমেন্টকে নিজের দাবি জানিয়ে দরখাস্ত করলেন। কিন্তু ভারত সরকারও সেদিকে কর্ণপাত করলেন না; দেশের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে তাঁরা কোনো রকম হস্তক্ষেপ করবেন না বলে জানালেন। ওদিকে সুবিধা করতে না পেরে কুমার উদিত অন্য রাস্তা ধরলেন।

    এদিকে কুমার শঙ্করের অভিষেকের আয়োজন হতে লাগল। সমস্ত ঠিক, স্বয়ং ইংলণ্ডেশ্বরের কাছ থেকে রাজকীয় অভিনন্দন পত্র পর্যন্ত এসে উপস্থিত —এমন সময় এক অচিন্তনীয় ব্যাপার ঘটল; যখন অভিষেকের আর দশদিন মাত্র বাকি, তখন কুমার শঙ্কর সিং নিরুদ্দেশ হয়ে গেলেন। সেইসঙ্গে একজন আমাণী ব্যবসাদারের সুন্দরী স্ত্রীকেও খুঁজে পাওয়া গেল না। চারিদিকে হৈ চৈ পড়ে গেল।

    অভিষেক পিছিয়ে গেল। তারপর মাসখানেক পরে যুবরাজ রাজ্যে ফিরে এলেন।

    আবার অভিষেকের দিন স্থির হল এবং এবারও নির্দিষ্ট দিনের এক সপ্তাহ আগে কুমার হঠাৎ গা-ঢাকা দিলেন। এবার তাঁর সঙ্গিনী একটি বিবাহিতা কাশ্মীরী সুন্দরী।

    বারবার দুবার এই রকম বিশ্রী কাণ্ড দেখে দেশসুদ্ধ লোক কুমার শঙ্করের ওপর চটে গেল। ইংরাজ গভর্নমেন্টও জানালেন যে, ভবিষ্যতে যদি ফের এইরূপ হাস্যকর অভিনয় হয়, তাহলে তাঁরা কুমার উদিতের দাবি গ্রাহ্য করে তাঁকেই সিংহাসনে বসাবেন।

    আপনারা বুঝতেই পারছেন যে, এ সমস্ত কুমার উদিতের কারসাজি। সোজাপথে বিফল হয়ে তিনি চেষ্টা করছেন–বড় রাজকুমারকে দায়িত্বশূন্য অপদার্থ প্রতিপন্ন করে নিজের দাবি পাকা করতে। সত্য বলতে কি, কিয়ৎ পরিমাণে কৃতকার্য হয়েছেন। এরই মধ্যে দেশে একদল লোক দাঁড়িয়েছে, যারা উদিত রাজা হলেই বেশী খুশি হয়।

    আমাদের মত যারা ন্যায্য অধিকারীকে সিংহাসনে বসাতে চায়, তাদের অবস্থা একবার ভেবে। দেখুন। একদিকে উজ্জ্বল রাজকুমার—সরল, সাহসী, কাণ্ডজ্ঞানহীন, কিছুতেই পরোয়া নেই অপরদিকে কূটচক্রী রাজ্যলোলুপ তাঁর ছোট ভাই। বাবুসাব, আমি ঝিন্দের রাজপরিবারের বংশগত ভৃত্য, বৃদ্ধ মহারাজ ভাস্কর সিং মৃত্যুশয্যায় শুয়ে আমার হাত ধরে বলে গিয়েছিলেন, যেন কুমার শঙ্করকে গদীতে বসাই। মুমূর্ষ রাজার সে হুকুম আমি ভুলিনি। আমিও প্রতিজ্ঞা করলাম, যেমন  করে পারি শঙ্কর সিংকে সিংহাসনে বসাব।

    তাই, বৃদ্ধ দেওয়ান বজ্ৰপাণির সঙ্গে পরামর্শ করে শেষ বার রাজ্যাভিষেকের দিন স্থির করলাম। আগামী ২৩শে আশ্বিন হচ্ছে সেইদিন, অর্থাৎ আজ থেকে সাত দিন মাত্র বাকি। দিন স্থির করে যুবরাজের মহালের চারিদিকে পাহারা বসালাম। জেলখানার কয়েদীকেও বোধ হয় এত সতর্কভাবে পাহারা দিতে হয় না। মহালের মধ্যে তিনি যখন যেখানে যান সঙ্গে লোক থাকে, বাইরে যেতে চাইলে দশজন সওয়ার নিয়ে আমি সঙ্গে থাকি।

    যুবরাজ প্রথমটা কিছু বলতে পারলেন না, কিন্তু ক্রমে আমাকে ডেকে নানারকম ভর্ৎসনা তিরস্কার আরম্ভ করে দিলেন। আমি অটল হয়ে রইলাম, বললাম— যুবরাজ, তোমাকে সিংহাসনে বসিয়ে তবে মুক্তি দেব, তার আগে নয়। তিনি আমাকে অনেক আশ্বাস দিলেন যে, এবার কিছুতেই রাজ্য ছেড়ে যাবেন না। কিন্তু আমি তাঁর দুর্বল চিত্ত জানতাম, কিছুতেই রাজী হলাম না।

    এই সময় কুমার উদিত একদিন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এলেন; দুইভায়ে বাহিরে বেশ সৌহার্দ্য ছিল— তার কারণ আপনারা বুঝতেই পারছেন; সুন্দরী স্ত্রীলোকের লোভ দেখিয়ে উদিত বড় ভাইকে বশ করে রেখেছিলেন। স্বার্থ সাধনের উদ্দেশ্যেই যে উদিত তাঁকে ব্যভিচারের পথে নিয়ে যাচ্ছে, একথা গোঁয়ার শঙ্কর সিং বুঝেও বুঝতেন না।

    উদিতকে আসতে দেখে আমি ভারি ভয় পেয়ে গেলাম। দুইভায়ে কি কথা হল জানি না; কিন্তু উদিত চলে যাবার পরই আমি প্রহরীর সংখ্যা বাড়িয়ে দিলাম এবং স্বয়ং রাজকুমারের ঘরের দরজায় পাহারা দেব স্থির করলাম।

    কিন্তু কিছুতেই তাঁকে ধরে রাখা গেল না—পরদিন সকালে দেখলাম পাখি উড়েছে। কিস্তার জলে নৌকার বন্দোবস্ত ছিল, কুমার শোবার ঘরের জানালা থেকে জলে লাফিয়ে পড়ে, সেই নৌকায় চড়ে অন্তহিত হয়েছেন।

    এবার আর ব্যাপারটা জানাজানি হতে দিলাম না। পাহারা যেমন ছিল তেমনই রইল। মহালে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না—এই হুকুম জারি করে দিয়ে আমি যুবরাজকে খুঁজতে বেরুলাম। দুদিন সন্ধান করবার পর খবর পেলাম যে, তিনি কলকাতায় এসেছেন।

    তখন আমার অধীনস্থ একজন বিশ্বস্ত সেনানী সর্দার রুদ্ররূপকে আমার জায়গায় বসিয়ে আমিও বেরিয়ে পড়লাম। রাজ্যে রটিয়ে দেওয়া হল যে, কুমারের শরীর অত্যন্ত খারাপ, তাই তিনি কারুর সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না।

    আজ দুদিন হল আমি কলকাতায় এসেছি। এসে পর্যন্ত চারিদিকে কুমারের খোঁজ করে বেড়াচ্ছি, কিন্তু কোথাও তাঁর সন্ধান পাচ্ছি না। এতবড় শহরে একজন লোককে খুঁজে বার করা সহজ কথা নয়, এদিকে অভিষেকের দিনও ক্রমে এগিয়ে আসছে।

    কুমার শঙ্কর খুব মিশুক লোক, তাই এ শহরে যত বড় বড় ক্লাব আছে, সেইসব ক্লাবে কুমারের খোঁজ নিলাম, তারপর বড় বড় হোটেলে তল্লাস করলাম কিন্তু কোথাও কোনো ফল পেলাম না। বুক দমে গেল। তবে কি মিথ্যা খবর পেয়ে এতদূর ছুটে এলাম! যুবরাজ কি এখানে আসেননি?

    আজ বৈকাল বেলা নিতান্ত হতাশ হয়েই একটা ট্যাক্সিতে চড়ে আপনাদের এই লেকের চারধারে ঘুরছিলাম আর ভাবছিলাম, এখন কি করা যায়? এমন সময়ে হঠাৎ আমার নজর পড়ল, একটি যুবাপুরুষ একখানা প্রকাণ্ড বাড়ির সামনে মোটর থেকে নামছেন।

    এই পর্যন্ত বলিয়া ধনঞ্জয় চুপ করিলেন, তারপর গৌরীশঙ্করের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়া বলিলেন—সে যুবাপুরুষটি আপনি?

    শ্ৰোতৃযুগল এতক্ষণ তন্ময় হইয়া গল্প শুনিতেছিলেন, চমক ভাঙ্গিয়া গৌরী বলিল— ক্লাবের সামনে আমাকে নামতে দেখে থাকবেন।

    ধনঞ্জয় ঘাড় নাড়িয়া বলিলেন— হ্যাঁ, ক্লাবের সামনেই বটে। আপনাকে দেখে আমি প্রথমটা হতবুদ্ধি হয়ে গেলাম, তারপর এক লাফে ট্যাক্সি থেকে নেমে আপনার অনুসরণ করলাম।

    আপনি তখন ক্লাবের মধ্যে ঢুকে পড়েছেন। আমি দারোয়ানকে বললাম— কুমার শঙ্কর সিংহের সঙ্গে আমি দেখা করতে চাই— তাঁকে খবর দাও।

    দারোয়ান বললে–শঙ্কর সিং বলে কাউকে সে চেনে না। আমি একটা তাড়া দিয়ে বললাম— এইমাত্র যিনি এ বাড়িতে ঢুকলেন তিনিই শঙ্কর সিং— শীঘ্র আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে চল।

    দারোয়ানটা হেসে বললে— আপনি ভুল করছেন; যিনি এইমাত্র এলেন তাঁর নাম জমিদার বাবু গৌরীশঙ্কর রায়।

    আমি বললাম-কখনই না। তিনি শঙ্কর সিং-আমি স্বচক্ষে তাঁকে এখানে ঢুকতে দেখেছি। দারোয়ান বললে—হুজুর, বিশ্বাস না হয় সেক্রেটারি সাহেবকে জিজ্ঞাসা করুন। বলে আমাকে সেক্রেটারির ঘরে নিয়ে গেল।

    সেক্রেটারিবাবুটি অতি ভদ্রলোক। তিনি আমার কথা শুনে বললেন–শঙ্কর সিং বলে ক্লাবের কোনো সভ্য নেই, তবে কোনো সভ্যের বন্ধু হিসাবে ক্লাবে এসে থাকতে পারেন। বিশেষত আজ ক্লাবে তলোয়ার খেলার একটা প্রদর্শনী আছে— তাই বাইরের লোকও অনেক এসেছেন। এই বলে তিনি আমাকে সঙ্গে নিয়ে ক্লাবের ভিতরে গেলেন। একটি হলে অনেক লোক জমা হয়েছিল এবং তারই মাঝখানে তলোয়ার খেলা চলছিল। সেক্রেটারিবাবু আমাকে বললেন দেখুন দেখি, আপনার শঙ্কর সিং এখানে আছেন কি না।

    প্রথম দৃষ্টিতেই চিনতে পেরেছিলাম, যে দুজন লোক তলোয়ার খেলছেন, শঙ্কর সিং তাঁদেরি একজন। আমি আঙ্গুল দেখিয়ে বললাম—ঐ শঙ্কর সিং।

    সেক্রেটারিবাবু হেসে উঠলেন— আপনি ভুল করেছেন। উনি গৌরীশঙ্কর রায়, আমাদের ক্লাবের একজন সভ্য।

    আমি অবাক হয়ে চেয়ে রইলাম। এও কি সম্ভব! পৃথিবীতে দুজন লোকের কি এক রকম চেহারা হয়? না—এরা সকলে মিলে আমাকে ঠকাবার চেষ্টা করছে?

    গৌরীশঙ্কর আস্তে আস্তে চেয়ার ছাড়িয়া উঠিয়া দাঁড়াইয়াছিল। ধনঞ্জয় তাহার মুখের উপর দৃষ্টি স্থাপন করিয়া বলিলেন— ব্যাপারটা বোধ হয় বুঝতে পেরেছেন? অমন অদ্ভুত সাদৃশ্য আমি আর কখনো দেখিনি, এ যে হতে পারে তা কখনো কল্পনা করিনি। আপনার শরীরে এমন কোনো স্থান নেই যা অবিকল শঙ্কর সিংয়ের মত নয়। এমন কি আপনার গলার আওয়াজ পর্যন্ত হুবহু তাঁর মত। সৃষ্টির এ যেন এক অদ্ভুত প্রহেলিকা! অন্তত তখন আমার তাই মনে হয়েছিল। কিন্তু আপনাদের এই ঘরে ঢুকে আমার মনে হচ্ছে যেন সে প্রহেলিকার উত্তর পেয়েছি। বলিয়া তিনি দেয়ালে লম্বিত কালীশঙ্করের ছবিখানার দিকে চোখ তুলিয়া চাহিলেন।

    অনেকক্ষণ পর্যন্ত সকলে নীরব হইয়া রহিলেন। তারপর দুইভায়ের বুক হইতে বহুক্ষণের নিরুদ্ধ নিশ্বাস সশব্দে বাহির হইল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    মনচোরা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }