Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প208 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২০. পুরাতন বন্ধু

    বিংশ পরিচ্ছেদ
    পুরাতন বন্ধু

    মিনিট দুই সজোরে হাত ছুঁড়িবার পর ঠাণ্ডা জল গা-সওয়া হইয়া গেলে গৌরী দেখিল, সাঁতার কাটিবার প্রয়োজন নাই, নদীর স্রোত তাহাদের সেই দীপান্বিত গবাক্ষের দিকেই টানিয়া লইয়া চলিয়াছে। দুইজনে তখন কেবলমাত্র গা ভাসাইয়া স্রোতের টানে ভাসিয়া চলিল।

    জল হইতে সম্মুখস্থ ক্ষুদ্র আলোকবিন্দু ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না; চারিদিকে কেবল নক্ষত্রালোক খচিত মসীকৃষ্ণ জলরাশি। গৌরী ও রুদ্ররূপ যতই দুর্গের নিকটবর্তী হইতে লাগিল, জলের কল্লোলধ্বনি ততই বাড়িয়া চলিল; মগ্ন পাথরের সংঘাতে একটানা স্রোত ফুলিয়া ফাঁপিয়া এলোমেলোভাবে ছড়াইয়া পড়িতে লাগিল। গৌরী দেখিল, তাহারা আর সিধা সেই গবাক্ষর দিকে যাইতেছে না, বাধাপ্রাপ্ত জলধারা তাহাদের ভিন্নমুখে টানিয়া লইয়া চলিয়াছে। গৌরী প্রাণপণে সাঁতার কাটিয়া নিজের গতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করিল, কিন্তু কিছুক্ষণ চেষ্টা করিবার পর দেখিল বৃথা চেষ্টা, দুবার জলস্রোতে ইচ্ছামত চলা অসম্ভব। নিরূপায়ভাবেই দুইজনে ভাসিয়া চলিল।

    ক্রমশ দুর্গের বিশাল ছায়ার তলে তাহারা আসিয়া পৌঁছিল। এখানে নক্ষত্রের ক্ষীণ দীপ্তিও অন্ধ হইয়া গিয়াছে—চোখের দৃষ্টি জমাট অন্ধকারের মধ্যে কোথাও আশ্রয় খুঁজিয়া পায় না। গবাক্ষের আলোটিও বামদিকের আলোড়িত তমিস্রায় কখন ড়ুবিয়া গিয়াছে।

    দুর্গের প্রাচীর আর কতদূরে তাহাও অনুমান করা অসম্ভব। গৌরীর ভয় হইতে লাগিল, এইবার বুঝি তাহারা সবেগে দুর্গের পাষাণগাত্রে গিয়া আছড়াইয়া পড়িবে। সে মৃদুস্বরে একবার রুদ্ররূপকে ডাকিল; রুদ্ররূপ তাহার দুইহাত অন্তরে তরঙ্গের সহিত যুদ্ধ করিতেছিল—ক্ষীণকণ্ঠে জবাব দিল।

    গৌরী বলিল-হুঁশিয়ার! সামনেই দুর্গ, জখম হয়ো না।

    রুদ্ররূপ বলিল—না। আপনি সাবধান।

    অন্ধকারে গৌরী হাসিল। দুইজনেই দুইজনকে সাবধান করিয়া দিল বটে কিন্তু সত্যই দুর্গের গায়ে সবেগে নিক্ষিপ্ত হইলে কি ভাবে আত্মরক্ষা করিবে কেহই ভাবিয়া পাইল না। বিক্ষুব্ধ জলরাশির বুকে তৃণখণ্ড! তাহাদের ইচ্ছার শক্তি কতটুকু?

    গৌরীর মনে হইল, আজিকার এই নিঃসহায়ভাবে ভাসিয়া-চলা তাহার জীবনের একটা বৃহত্তর সত্যের প্রতীক। দৈবী খেয়ালের দুর্নিবার টানে সে তো অনেকদিন হইতেই ক্ষুদ্র তৃণখণ্ডের মত। ভাসিয়া চলিয়াছে। পাষাণ প্রাকারে নিক্ষিপ্ত হইয়া এতদিন চুর্ণ হইয়া যায় নাই কেন, ইহাই আশ্চর্য। কে জানে, হয়তো আজিকার জন্যই নিয়তি অপেক্ষা করিয়া ছিল—তাহার লক্ষ্যহীন ভাসিয়া-চলাকে পরিসমাপ্তির উপকূলে পৌঁছাইয়া দিবে। কিন্তু কোথায় সে উপকূল? বৈতরণীর এপারে, না ওপারে?

    একটা প্রকাণ্ড ঢেউ এই সময় গৌরীকে বিপর্যস্ত নিমজ্জিত করিয়া তাহার উপর দিয়া বহিয়া গেল। ক্ষণেকের জন্য একটা মগ্ন পাথরের পিচ্ছিল অঙ্গ তাহাকে স্পর্শ করিল; তারপর জলের উপর মাথা জাগাইয়া সে দেখিল-স্রোতের এলোমেলো গতি আর নাই, অপেক্ষাকৃত শান্ত জলের মন্থর। একটা ঘূর্ণির মধ্যে সে ধীরে ধীরে পাক খাইতেছে। সম্ভবত জলমগ্ন পাথরগুলা এইখানে এমন একটা সুদৃঢ় প্রাচীর রচনা করিয়াছে যাহাতে স্রোতের প্রবল গতি ব্যাহত হইয়া যায়; ঐ বড় ঢেউটা গৌরীকে সেই মজ্জিত প্রাচীরের পরপারে আনিয়া দিল। ঘূর্ণির চক্রে আবর্তমান তাহার দেহটা দুর্গের দেয়ালে গিয়া ঠেকিল।

    এখানেও ড়ুব জল, মসৃণ দুর্গ-গাত্রে কোথাও অবলম্বন নাই; তবু এই শৈবালপিচ্ছিল দেয়ালে হাত রাখিয়া গৌরীর মনে হইল, সে একটা আশ্রয় পাইয়াছে। ক্ষণকাল জিরাইয়া লইয়া সে মৃদুকণ্ঠে ডাকিল—রুদ্ররূপ, কোথায় তুমি?

    রুদ্ররূপ জবাব দিল—এই যে, দেয়ালে এসে ঠেকেছি! আপনি?

    আমিও। এস, বাঁ দিকে জানালাটা আছে, সেইদিকে যাওয়া যাক। দেয়াল ধরে ধরে এস।

    আচ্ছা।

    তখন পৃথিবীর আদিম পঙ্ক শয্যার উপর অন্ধ মহীলতার মত দুইজনে কেবল স্পর্শানুভূতির সাহায্যে ধীরে ধীরে অগ্রসর হইল। দশ মিনিট, পনের মিনিট এমনি ভাবে কাটিয়া গেল; কিন্তু জানালার দেখা নাই। গৌরীর আশঙ্কা হইল হয়তো তাহারা কখন অজ্ঞাতে জানালার নীচে দিয়া চলিয়া আসিয়াছে, জানিতে পারে নাই।

    সে পিছু ফিরিয়া রুদ্ররূপকে সম্বোধন করিতে যাইতেছিল, এমন সময় ঠিক মাথার উপর একটা অত্যন্ত পরিচিত কণ্ঠের আওয়াজ শুনিয়া চমকিয়া উঠিল; তাহার অনুচ্চারিত সুর কণ্ঠের মধ্যেই রুদ্ধ হইয়া গেল। সে ঘাড় তুলিয়া দেখিল, কিন্তু কিছুই দেখিতে পাইল না। জানালার আলো দূর হইতে দেখা যায়, কিন্তু নীচে হইতে তাহা অদৃশ্য। গৌরী উর্ধ্বে হাত বাড়াইয়া অনুভব করিয়া দেখিতে লাগিল; জানালার কিনারা হাতে ঠেকিলজল হইতে দুই-আড়াই হাত মাত্র উর্ধ্বে।

    আবার জানালার ভিতর হইতে পরিচিত কণ্ঠস্বর আসিল—বেইমান, তুই তবে আমাকে মেরে ফ্যাল, আমি বেঁচে থাকতে চাই না।

    গৌরী নিজের গলার স্বর চিনিতে পারিল; কোথাও এতটুকু তফাৎ নাই। তাহার বুকের ভিতরটা কেমন যেন আনচান করিয়া উঠিল; মনে হইল সে নিজেই ঐ কারাকুপে আবদ্ধ হইয়া মৃত্যু কামনা করিতেছে।

    এবার দ্বিতীয় কণ্ঠস্বর শুনা গেল; কশাইয়ের ছুরির মত তীক্ষ্ম নিষ্ঠুর কোমলতার বাষ্প পর্যন্ত কোথাও নাই ব্যস্ত হয়ো না; দরকার হয়নি বলেই এতদিন মারিনি, তোমার প্রতি মমতাবশত নয়। কিন্তু আর দেরি নেই, আজই যাহোক একটা হবে।

    কিছুক্ষণ নিস্তব্ধ। তারপর আবার শঙ্কর সিং কথা কহিল। এবার তাহার স্বর অত্যন্ত কাতর, মিনতি-বিগলিত—উদিত, আমার প্রতি কি তোমার এতটুকু দয়া হয় না? আমায় ছেড়ে দাও ভাই। আমি রাজ্য চাই না, আমায় শুধু ছেড়ে দাও–

    আর তা হয় না। তোমার বন্ধু ধনঞ্জয় সর্দার সব মাটি করে দিয়েছে।

    কিন্তু আমি তো তোমার কোনো ক্ষতি করিনি। আমি তো তোমাকে সিংহাসন ছেড়ে দিচ্ছি।

    এখন তোমার সিংহাসন ছাড়া না-ছাড়া সমান। ঝিন্দের গদীতে একটা বাঙালী কুত্তা বসে সদারি করছে। শয়তানের বাচ্চা মরেও মরে না। সে যদি মরত তাহলে তোমার ফুরসৎ হয়ে যেত। যাক, আজকের কাজে যদি সিদ্ধ হই তখন তোমার কথা ভেবে দেখব। এখন ঘুমোও।

    গৌরী গবাক্ষের কানায় আঙুল রাখিয়া বাহুর সাহায্যে ধীরে ধীরে নিজেকে তুলিয়া ঘরের মধ্যে উঁকি মারিল। পাথর কুঁদিয়া বাহির করা অপরিসর একটি প্রকোষ্ঠ—মোমবাতির আলোয় অল্পমাত্র আলোকিত। গবাক্ষের ঠিক বিপরীত দিকে লোহার ভারী দরজা বন্ধ রহিয়াছে। দেয়ালে সংলগ্ন একটা লম্বা বেদীর মত আসন, বোধ হয় ইহাই বন্দীর শয্যা। এই বেদীর উপর গালে হাত দিয়া উদিত বসিয়া আছে, তাহার কোলের উপর একটা ভোলা তলোয়ার। আর উদিতের অদূরে দাঁড়াইয়া তাহার পানে করুণনেত্রে চাহিয়া আছে—শঙ্কর সিং। পরিধানে কেবল একটি হাফ-প্যান্ট, উধ্বাঙ্গ উন্মুক্ত, কয়েদীর সাজ। তাহার মুখে দুর্দশা ও দৈহিক গ্লানির ছাপ পড়িয়া গিয়াছে। চোখের কোণ হইতে গভীর কালির আঁচড় ক্ষতরেখার মত গণ্ডের মাঝখান পর্যন্ত পৌঁছিয়াছে; অধররাষ্ঠের দুই প্রান্ত নত হইয়া ক্লিষ্ট অসন্তোষ প্রকাশ করিতেছে; বাহু ও কণ্ঠের পেশী ঈষৎ শীর্ণ। তবু, অবস্থার নিদারুণ প্রভেদ সত্ত্বেও, গৌরীর সহিত তাহার সর্বাঙ্গীণ সাদৃশ্য অদ্ভুত। গৌরী সম্মোহিতের মত শঙ্কর সিংয়ের পানে তাকাইয়া রহিল।

    উদিত সূকুটি করিয়া চিন্তা করিতেছিল, শঙ্কর সিংয়ের দীর্ঘশ্বাস মিশ্রিত হাস্য শুনিয়া মুখ তুলিয়া চাহিল। শঙ্কর সিং খলিতস্বরে বলিল-ঘুম! ঘুম আমার আসে না।

    ঘুম না আসে—মদ খাও। বিরক্ত তাচ্ছিল্যভরে ঘরের কোণের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়া উদিত উঠিয়া দাঁড়াইল। বদ্ধ কক্ষে বাতাসের অভাব বোধ হয় তাহাকে পীড়া দিতেছিল, সে জানালার দিকে অগ্রসর হইল।

    গৌরী নিঃশব্দে নিজেকে জলের মধ্যে নামাইয়া দিয়া জানালা ছাড়িয়া দিল। আর এখানে থাকা নিরাপদ নয়, হাতড়াইতে হাতড়াইতে সে ফিরিয়া চলিল।

    রুদ্ররূপের গায়ে তাহার হাত ঠেকিল। তাহার কানের কাছে মুখ লইয়া গিয়া সে বলিল—ফিরে চল।

    জানালা হইতে পঁচিশ গজ গিয়া তাহারা থামিল।

    রুদ্ররূপ জিজ্ঞাসা করিল—কি দেখলেন?

    গৌরী বলিল—শঙ্কর সিং আর উদিত। উদিত পাহারা দিচ্ছে। কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া বলিল—আজ রাত্রেই ওরা একটা কিছু করবে।

    কি করবে?

    জানি না। হয়তো—

    গতরাত্রে ময়ূরবাহনের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিতের কথা তাহার স্মরণ হইল। কি করিতে চায় উহারা? কোন্ দিক দিয়া আক্রমণ করিবে? কস্তুরীর বিরুদ্ধে কি কোনো মতলব আঁটিতেছে? কিন্তু তাহাতে উহাদের লাভ কি? তাহাতে ঝিন্দের সিংহাসন তো সুলভ হইবে না।

    কিস্তার দক্ষিণ কুলে কৃষ্ণার বিবাহোৎসবের দীপগুলি এক ঝাঁক খদ্যোতের মত মিটমিট করিতেছে; দক্ষিণ কুল অন্ধকার। গৌরী ভাবিল—আর এখানে থাকিয়া লাভ নাই, শঙ্কর সিংয়ের সহিত কথা কহিবার সুযোগ হইবে না; স্বয়ং উদিত তাহাকে পাহারা দিতেছে। সম্ভবত উদিত আর ময়ূরবাহন পালা করিয়া পাহারা দিয়া থাকে। দুর্গে অন্য যাহারা আছে, তাহারা হয়তো বন্দীর পরিচয় জানে না; কিম্বা জানিলেও উদিত তাহাদের বিশ্বাস করিয়া রাজার পাহারায় রাখে না। দুর্গে আর কাহারা আছে? দুই-চারি জন অনুগত ভৃত্য, আর দুই-চারি জন রাজদ্রোহী বন্ধু! আশ্চর্য! এই মুষ্টিমেয় নোক লইয়া উদিত একটা রাজ্যের সমস্ত শক্তিকে তাচ্ছিল্যভরে ব্যর্থ করিয়া দিতেছে।

    এই সব অফলপ্রসু চিন্তা ত্যাগ করিয়া গৌরী ফিরিবার উপক্রম করিতেছে, হঠাৎ নিকটেই জাঁতা ঘোরানোর মত গড় গড় শব্দে সে থামিয়া গেল। পরক্ষণেই একটা ভৌতিক হাসির শব্দ যেন দুর্গের পাথর ভেদ করিয়া তাহার কানে ভাসিয়া আসিল; গৌরীর সর্বাঙ্গের স্নায়ু-পেশী সহসা শক্ত হইয়া উঠিল।

    ময়ুরবাহনের হাসি! তবে সে মরে নাই!

    কিন্তু হাসির শব্দটা আসিল কোথা হইতে?

    সতর্কভাবে একবার এদিক ওদিক চাহিতেই গৌরী ক্ষিপ্রহস্তে রুদ্ররূপকে টানিয়া দুর্গের দেয়ালের গায়ে একেবারে সাঁটিয়া গেল। মাত্র পাঁচ-ছয় হাত দক্ষিণে দুর্গের গাত্রে পীতবর্ণ আলোকের একটি চতুষ্কোণ দেখা দিয়াছে।

    জাঁতার মত গড় গড় শব্দ করিয়া এই চতুষ্কোণ প্রস্থে বাড়িতে লাগিল। প্রায় আট ফুট উচ্চ ও ছয় ফুট চওড়া একটি দ্বার ধীরে ধীরে কর্কশ অসমতল দেয়ালে আত্মপ্রকাশ করিল।

    গুপ্তদ্বার! এই পথেই গতরাত্রে ময়ূরবাহন দুর্গে ফিরিয়াছিল! গৌরী ও রুদ্ররূপ নিশ্বাস রোধ করিয়া দেখিতে লাগিল।

    কয়েকজন লোকের অস্পষ্ট কথার শব্দ গুপ্তঘারের অভ্যন্তর হইতে ভাসিয়া আসিল। যেন তাহারা একটা ভারী জিনিস বহন করিয়া আনিতেছে। ক্রমে একটি ক্ষুদ্র ডিঙির অগ্রভাগ দ্বারমুখে বাহির হইয়া আসিল।

    আস্তে! হুঁশিয়ার! ময়ূরবাহনের গলা।

    নৌকা ছপাৎ করিয়া জলে পড়িল। ময়ূরবাহন দড়ি ধরিয়া ছিল, টানিয়া নৌকা দ্বারের মুখে লইয়া আসিল।

    স্বরূপদাস, তুমি মোটা মানুষ, আগে নৌকায় নামো।—একজন স্থূলকায় লোক সন্তর্পণে নৌকায় নামিল—দাঁড় ধর।

    এবার তুমি। আর একজন নৌকায় নামিল।

    তখন দড়ি নৌকার মধ্যে ফেলিয়া দিয়া ময়ূরবাহন লঘুপদে নৌকায় লাফাইয়া পড়িল। নৌকা টলমল করিয়া উঠিল; ময়ূরবাহন হাসিল—সেই বিজয়ী বেপরোয়া হাসি। গুপ্তদ্বারের দিকে ফিরিয়া বলিল—দরজা খোলা থাক, আর তুমি লণ্ঠন নিয়ে এইখানে বসে থাকো—নইলে ফেরবার সময় দরজা খুঁজে পাব না। কখন ফিরব ঠিক নেই, হয়তো রাত কাবার হয়ে যেতে পারে। হুঁশিয়ার থেকো।

    দ্বারের ভিতর হইতে উত্তর আসিল—যো হুকুম।

    ময়ূরবাহন বলিল—দাঁড় চালাও।

    ক্ষুদ্র তরী তিনজন আরোহী লইয়া পলকের মধ্যে অন্তর্হিত হইয়া গেল। গৌরী চক্ষের সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করিয়া দেখিবার চেষ্টা করিল—নৌকাটা কোন্ দিকে যাইতেছে, কিন্তু কিছুই নির্ধারণ করিতে পারিল না। আকাশ ও জলের ঘন তমিস্রার মধ্যে নৌকা যেন মিশিয়া নিশ্চিহ্ন হইয়া গেল।

    পাঁচ মিনিট নিঃশব্দে কাটিল।

    তারপর গৌরী রুদ্ররূপের মাথাটা নিজের মুখের কাছে টানিয়া আনিয়া চুপি চুপি বলিল—রুদ্ররূপ, তুমি তাঁবুতে ফিরে যাও।

    রুদ্ররূপ সচকিতে বলিল—আর আপনি?

    আমি এই পথে দুর্গে ঢুকব।

    কিন্তু–

    গৌরী সাঁড়াশির মত আঙুল দিয়া রুদ্ররূপের কাঁধ চাপিয়া ধরিয়া বলিল—আমার হুকুম, দ্বিরুক্তি কোরো না। এমন সুযোগ আর আসবে না। তুমি তাঁবুতে ফিরে গেলে ধনঞ্জয় আর বিশ জন সিপাহী নিয়ে দুর্গের পুলের মুখে লুকিয়ে থাকবে। আমি দুর্গের ভিতর ঢুকছি, যেমন করে পারি দুর্গের সিংদরজা খুলে দেব। বুঝেছ?

    বুঝেছি। রুদ্ররূপের স্বর আজ্ঞাবাহী সৈনিকের মত ভাবহীন।

    গুপ্তঘারে একটা মাত্র লোক আছে, সে আমাকে আটকাতে পারবে না। তারপর দুর্গের ভিতরকার অবস্থা বুঝে যেমন হয় করব। উদিত রাজাকে পাহারা দিচ্ছে, ময়ূরবাহন নেই—দুর্গে হয়তো কয়েকজন চাকর বাকর মাত্র আছে। এই সুযোগ। ময়ূরবাহন ফেরবার আগেই কাযযাদ্ধার করতে হবে। তুমি যাও, আর দেরি কোরো না।

    যো হুকুম–রুদ্ররূপ সাঁতার দিবার উপক্রম করিল।

    গৌরী আস্তে আস্তে তাহাকে ছাড়িয়া দিয়া বলিল—স্রোত ঠেলে যেতে পারবে না, বরং স্রোতে গা ভাসিয়ে দাও—দুর্গ পেরিয়ে কিনারায় উঠতে পারবে।

    রুদ্ররূপ নিঃশব্দে চলিয়া গেল। এতক্ষণ দিব্যাপী অন্ধকারের মধ্যে তবু একজন অদৃশ্য সহচর ছিল, এখন সে-ও গেল। গৌরী একা!

    ছোরাটা সে কোমর হইতে হাতে লইল। তারপর অতি সাবধানে গুপ্তদ্বারের দিকে অগ্রসর হইল।

    জল হইতে এক হাত উচ্চে গুপ্তঘার। গৌরী কোণ হইতে সরীসৃপের মত মাথা তুলিয়া ভিতরে দৃষ্টি প্রেরণ করিল। সম্মুখেই একটা লণ্ঠন জ্বলিতেছে, তাহার ওপারে কি আছে দেখা যায় না। ক্রমে দৃষ্টি অভ্যস্ত হইলে গৌরী দেখিল—সুড়ঙ্গের মত গুপ্তঘার ভিতরের দিকে চলিয়া গিয়াছে—অস্পষ্ট অন্ধকার; হয়তো অপর প্রান্তে দুর্গের উপরে উঠিবার সোপান আছে।

    চক্ষু আলোকে আরও অভ্যস্ত হইলে গৌরী দেখিতে পাইল, লণ্ঠনের দুই-তিন হাত পিছনে একটা লোক দেয়ালে ঠেস দিয়া বসিয়া আছে। তাহার মুখ দেখা যাইতেছে না, একটা হাত কপালের উপর ন্যস্ত; বোধ হয় একাকী বসিয়া চিন্তা করিতেছে, কিম্বা তন্দ্রাচ্ছন্ন হইয়া পড়িয়াছে। সুড়ঙ্গের মধ্যে আর কেহ নাই।

    গৌরী একবার চক্ষু মুদিয়া নিজেকে সুস্থ ও সংযত করিয়া লইল। তারপর দ্বারের কানায় ভর দিয়া জল হইতে উঠিয়া সিক্তদেহে দ্বারমুখে দাঁড়াইল।

    উপবিষ্ট লোকটা অব্যক্ত শব্দ করিয়া ধড়মড় করিয়া উঠিয়া দাঁড়াইল। গৌরী ছোরা তুলিয়া এক লাফে তাহার সম্মুখীন হইল।

    মহারাজ!

    গৌরীর উদ্যত ছোরা অর্ধপথে রুখিয়া গেল। কণ্ঠস্বর পরিচিত।

    গৌরী লণ্ঠনের আলোকে লোকটার ত্রাসবিস্ময়-বিকৃত মুখের পানে চাহিল। মুখখানা চেনা-চেনা। কোথায় তাহাকে দেখিয়াছে?

    তারপর সহসা স্মৃতির দ্বার উদঘাটিত হইয়া গেল। গৌরীর হাতের ছোরা মাটিতে পড়িয়া গেল। সে বিপুল আবেগে তাহাকে দুই হাতে আলিঙ্গন করিয়া ধরিয়া প্রায় চিঙ্কার করিয়া উঠিল—প্রহ্লাদ!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    মনচোরা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }