Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ঝিন্দের বন্দী – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প208 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৯. মন্ত্রণা

    নবম পরিচ্ছেদ
    মন্ত্রণা

    সিংগড়ের প্রাসাদের একটি অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র প্রকোষ্ঠে গোপন মন্ত্রণাসভা বসিয়াছিল। গৌরী, ধনঞ্জয় ও বজ্ৰপাণি গালিচার উপর আসীন ছিলেন, রুদ্ররূপ দ্বারে দাঁড়াইয়া পাহার দিতেছিল। রাত্রি এগারোটা বাজিয়া গিয়াছে; নগরের আমোদ-প্রমোদ রাজার মৃত্যুসংবাদে থামিয়া গিয়াছিল, আবার দ্বিগুণ উৎসাহে আরম্ভ হইয়াছে। দুর হইতে তাহার কলরব কানে আসিতেছে।

    বজ্ৰপাণি ললাটের একটা কাল-শিরার উপর সন্তর্পণে হাত বুলাইতে বুলাইতে বলিলেন— বিপদ এই যে, এ নিয়ে বেশী ঘাঁটাঘাঁটি করতে গেলে রাজ্যসুদ্ধ এমন একটা সোরগোল পড়ে যাবে যা মোটেই বাঞ্ছনীয় নয়। ময়ুর নিজের প্রাণ বাঁচাবার জন্য যদি ভিতরের কথাটা ফাঁস করে দেয় তাহলে আমাদের অবস্থাও সঙ্গীন হয়ে উঠবে। শঙ্কর সিং-এর বদলে অন্য একজনকে রাজা খাড়া করেছি, এমন কী অভিষেক পর্যন্ত করিয়েছি, এই অভিযোগ যদি সে প্রকাশ্য দরবারে আনে— তার সদুত্তর আমাদের পক্ষ থেকে কি আছে?

    ধনঞ্জয় জিজ্ঞাসা করিলেন–এ অভিযোগ লোকে বিশ্বাস করবে?

    বজ্ৰপাণি বলিলেন— বিশ্বাস না করুক, একটা সন্দেহ তত জন্মাতে পারে। ময়ূরবাহন যে-প্রকৃতির লোক, তার পক্ষে কিছুই অসম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত সে উদিতকেও ফাঁসিয়ে দিতে পারে, বলতে পারে আসল রাজাকে উদিত শক্তিগড়ে বন্দী করে রেখেছে।

    ধনঞ্জয় বলিলেন— ওকথা যদি বলে তাহলে সে নিজের জালে নিজে জড়িয়ে পড়বে, শঙ্করকে গুম করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে পড়বে।

    বজ্ৰপাণি বলিলেন— কিন্তু তাতে আমাদের কোনো লাভ হবে কি? বরং শঙ্কর সিং যদিবা এখনো বেঁচে থাকেন, তাঁর প্রাণ সংশয় হয়ে উঠবে।

    গৌরী অজ্ঞাতসারে একটু অন্যমনস্ক হইয়া পড়িয়াছিল, হঠাৎ বজ্ৰপাণি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন—এ যে ময়ুরবাহনের কাজ তাতে আপনার কোনো সন্দেহ নেই?

    গৌরী বলিল–বিন্দুমাত্র না। সে হাসি ময়ুরবাহনের, একথা আমি হলফ নিয়ে বলতে পারি।

    আপনি তাকে চোখে দেখেননি?

    না।

    এক হাসি ছাড়া আপনার আর কোনো প্রমাণই নেই?

    না— কিন্তু–

    বজ্ৰপাণি হাত তুলিয়া বলিলেন—জানি। এ যে ময়ূরবাহনের কাজ তাতে আমারও কোনো সংশয় নেই। সে ছাড়া এমন কাজ করবার দুঃসাহস উদিত সিং-এরও নেই। কিন্তু কথা তো তা নয়। ময়ূরবাহনকে শাস্তি দিতে গেলে তার অপরাধ সকলের সামনে সাবুদ করতে হবে। ময়ূরবাহন কি নিজের দোষ স্বীকার করবে ভেবেছেন? বরঞ্চ পঁচিশটা সাক্ষী এনে প্রমাণ করে দেবে যে, ও-সময় সে আর এক জায়গায় ছিল। তখন তার বিরুদ্ধে আমাদের প্রমাণ কি? শুধু ঐ হাসি ছাড়া আর কিছু আছে কি?

    ধনঞ্জয় অধীর হইয়া বলিয়া উঠিলেন–কিন্তু এত প্রমাণ খুঁজে বেড়াবারই বা দরকার কি? রাজার হুকুমে যদি আমরা তাকে ধরে এনে কয়েদ করে রাখি কিম্বা যদি কোতল করি, তাহলেই বা কে কি বলতে পারে? প্রজার দণ্ডমুণ্ডের উপর রাজার সম্পূর্ণ অধিকার আছে অন্তত আমাদের দেশে আছে। রাজা আইন মেনে চলতে বাধ্য নয়।

    বজ্ৰপাণি ক্লান্ত হাসিয়া বলিলেন–তুমি বুঝছ না ধনঞ্জয়, রাজার দণ্ডমুণ্ডের অধিকার আছে সে আমিও জানি। কিন্তু ময়ূরবাহন একজন সামান্য মজুর বা দোকানদার নয়, সে দেশের একজন। গণ্যমান্য লোক, তার একজন মস্ত মুরুব্বি আছে। রাজা সিংহাসনে বসেই যদি তাকে ধরে এনে বিনা বিচারে কোতল করেন, তাহলে রাজ্যে কি ভীষণ অশান্তির সৃষ্টি হবে–সেটা ভেবে দেখ। উদিত এই নিয়ে দেশের লোককে ক্ষেপিয়ে তুলবে, ইংরেজ গভর্নমেন্টকে এর মধ্যে টেনে আনবে। তার ওপর জাল রাজার কথাটা যদি কোনোক্রমে বেরিয়ে পড়ে তখন ব্যাপারটা কি রকম দাঁড়াবে একবার বুঝে দেখ।

    কিছুক্ষণ সকলে নতমুখে নিস্তব্ধ হইয়া রহিলেন, বৃদ্ধ মন্ত্রীর অকাট্য যুক্তিজাল ভেদ করিয়া ময়ূরবাহনকে শাস্তি দিবার কোনো পন্থাই খুঁজিয়া পাইলেন না।

    ধনঞ্জয় জিজ্ঞাসা করিলেন–আপনি কি করতে বলেন?

    দীর্ঘকাল নীরব থাকিয়া শেষে বজ্ৰপাণি বলিলেন— আজ রাগের মাথায় মরিয়া হয়ে ওরা এই দুঃসাহসিকতার কাজ করে ফেলেছে, তাদের নৌকাখানা ড়ুবে না যেতেও পারত— মাঝি-মাল্লারা ধরা পড়তে পারত, এমন কি স্বয়ং ময়ূরবাহন হাতে হাতে গ্রেপ্তার হতে পারত। সুতরাং এরকম কাজ আর তারা সহজে করবে বলে মনে হয় না। এক ভয় গুপ্তহত্যা— এঁকে গুপ্তভাবে খুন করবার চেষ্টা করতে পারে, কিন্তু সেজন্য আমি ভয় করি না। সতর্ক থাকলে ওদিক থেকে কোনো আশঙ্কা নেই।

    গৌরী নড়িয়া চড়িয়া বসিয়া বলিল— রাজা হবার সুখ তো অনেক দেখতে পাচ্ছি।

    বজ্ৰপাণি বলিলেন— আমার মতে এখন কিছুদিন চুপচাপ বসে থাকাই একমাত্র যুক্তি। শঙ্কর সিং যে শক্তিগড়ে আছেন এটা আমাদের অনুমান মাত্র— সে-সম্বন্ধে আগে নিঃসংশয় হয়ে তারপর তাঁকে উদ্ধার করবার মতলব ঠিক করা যাক। ইতিমধ্যে ময়ূরবাহনকে যদি কোনো রকমে ফাঁদে ফেলতে পারি কথাটা অসমাপ্ত রাখিয়া তিনি অন্যমনস্কভাবে কপালের স্ফীত স্থানটায় হাত বুলাইতে লাগিলেন।

    গৌরী জিজ্ঞাসা করিল— কিন্তু ইতিমধ্যে শঙ্কর সিংকে উদিত যদি খুন করে?

    মাথা নাড়িয়া ধনঞ্জয় বলিলেন— তা করবে না। আপনি যে জাল রাজা তার একমাত্র প্রমাণ তাহলে লুপ্ত হয়ে যাবে। উদিত নিজের ভাইকে খুন করে আপনাকে গদিতে বসাবে— এতবড় পাগল সে নয়।

    এই সময় বাহিরে পদধ্বনি শুনা গেল। রুদ্ররূপ তাড়াতাড়ি বাহির হইয়া গেল; দ্বারের বাহিরে কিছুক্ষণ নিম্নস্বরে কথোপকথন হইল, তারপর রুদ্ররূপ ফিরিয়া আসিয়া বলিল— মাঝিমাল্লার কোনো সন্ধান পাওয়া গেল না। নৌকার জন্য ড়ুবুরি নামানো হয়েছিল কিন্তু নৌকা পাওয়া গেল না; খুব সম্ভব কিস্তার স্রোতের টানে তলায় তলায় ভেসে গেছে।

    সকলেই নিস্তব্ধ হইয়া সংবাদ শুনিলেন। কিয়ঙ্কাল পরে ধনঞ্জয় একটা নিশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন–হুঁ। ময়ূরবাহনের কপাল ভাল।

    প্রাসাদের দেউড়িতে মধ্যরাত্রির ঘন্টা বাজিল। কিন্তু কাহারো কানে তাহা পৌঁছিল না, সকলে নিজ নিজ চিন্তায় নিমগ্ন রহিলেন।

    বাহিরে আবার পদশব্দ হইল। এবার পদশব্দ অপেক্ষাকৃত লঘু, অন্দর মহলের দিক হইতে আসিল। রুদ্ররূপ আবার বাহিরে গেল, অল্পকাল পরে ফিরিয়া আসিয়া গৌরীর কানে কানে কি বলিল।

    গৌরী চমকিয়া উঠিয়া বলিল–কি! চম্পা আমার জন্যে জেগে বসে আছে! সত্যিই তো, আমি

    ঘুমুলে যে সে বেচারীর ঘুমোবার হুকুম নেই! কচি মেয়েটার ওপর কি অত্যাচার দেখ দেখি! না, কালই আমি ওকে ওর বাপের কাছে পাঠিয়ে দেব। এখন তোমরা মন্ত্রণা শেষ কর সদর, আমি চললাম! বলিয়া উঠিয়া দাঁড়াইল।

    ধনঞ্জয়ও উঠিয়া অর্ধপথে একটা হাই নিরুদ্ধ করিয়া বলিলেন–চলুন, আমিও আপনার সঙ্গে যাই। আজ রাতটাও আমাকে বসেই কাটাতে হবে।

    গৌরী বাধা দিয়া বলিল— না না—সর্দার, তুমি ভারি ক্লান্ত হয়েছ, যাও, নিজের বাড়িতে একটু বিশ্রাম করে নাও গে। তোমার বদলে রুদ্ররূপ আমার কাছে থাকবেখন।

    ধনঞ্জয় বলিলেন— তা হয় না—আমাকেই থাকতে হবে।

    গৌরী ফিরিয়া দাঁড়াইয়া বলিল— আমি হুকুম দিচ্ছি সর্দার, তুমি এই মুহূর্তে বাড়ি গিয়ে বিশ্রাম কর গে, বেলা আটটার আগে বিছানা ছেড়ে উঠবে না। যাও রাজার আদেশ দ্বিরুক্তি করো না।

    গৌরী পরিহাসের ভঙ্গিতেই কথাটা বলিল বটে, কিন্তু এই পরিহাসের অন্তরালে যে সত্যকার একটা জোর আছে তাহা ধনঞ্জয়ও অনুভব করিলেন। এই বাঙালী যুবকটিকে তাঁহারা রাজা সাজাইয়াছেন। বটে, কিন্তু ইহার যে একটা অত্যন্ত জোরালো স্বাধীন ইচ্ছা আছে, সকল সময় ইহাকে লইয়া পুতুল-খেলা চলিবে না—তাহার প্রথম ইঙ্গিত পাইয়া ধনঞ্জয় ও ভার্গব দুইজনেই সবিস্ময়ে তাহার দিকে চাহিলেন।

    ধনঞ্জয় জিজ্ঞাসুভাবে ভাৰ্গবের দিকে ফিরিতেই তিনি মৃদুস্বরে বলিলেন–উনি ঠিক বলেছেন। তুমি যাও, তোমার বিশ্রাম করা নিতান্ত দরকার। রুদ্ররূপ আজ ওঁর প্রহরীর কাজ করুক।

    ধনঞ্জয় গৌরীর দিকে ফিরিয়া ফৌজী স্যালুট করিয়া বলিলেন-যো হুকুম! তাহার চোখের দৃষ্টিতে যদি বা একটু শ্লেষের আভাস প্রকাশ পাইল, কণ্ঠস্বরে তাহার লেশমাত্র ধরা পড়িল না।

    গৌরী একটু হাসিল, তারপর রুদ্ররূপের স্কন্ধে হাত রাখিয়া ঘর হইতে নিষ্ক্রান্ত হইয়া গেল।

    .

    সিংগড়ের রাজপ্রাসাদে যখন এইরূপ মন্ত্রণা শেষ হইতেছিল, বেতপুরের রাজ-অন্তঃপুরেও একটি শয়নকক্ষে তখন সখীতে-সখীতে গোপন মন্ত্রণা চলিতেছিল। মন্ত্রণা কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকারের। শয়নকক্ষের নিভৃত নির্জনতায় দুইটি অন্তরঙ্গ সখীতে যে-সকল মনের কথা হয়, তাহা সাধারণের শ্রোতব্য নয়। শুধু সত্যের অনুরোধেই তাহা প্রকাশ করিতে হইতেছে।

    কস্তুরীর শয়নকক্ষ হইতে অনেক রাত্রে নিদ্রালু সখীরা একে একে প্রস্থান করিলে পর কৃষ্ণা বলিল—এবার ঘুমোও। আলো নিবিয়ে দিই?

    শয়নঘরে দুইটি পালঙ্ক; একটিতে কস্তুরী শয়ন করে, অন্যটিতে প্রিয়সখী কৃষ্ণা। কস্তুরী শুইয়া পড়িয়াছিল, কৃষ্ণা তখনো চুলের বিনুনি খুলিতে খুলিতে ঘরে অলসভাবে ঘুরিতেছিল।

    কস্তুরী বলিল— আর একটু থাক! তোর বুঝি ঘুম পাচ্ছে?

    কৃষ্ণা একটা হাই গোপন করিয়া বলিল— হ্যাঁ। মৃদু হাসিয়া জিজ্ঞাসা করিল— তোমার বুঝি আজ আর চোখে ঘুম নেই?

    কস্তুরী কৃষ্ণার দিকে চাহিয়া একটু সলজ্জ হাসিল।

    কৃষ্ণা নিজের পালঙ্কে গিয়া বসিল, বলিল— কি ভাবা হচ্ছে জানতে পারি কি?

    কিছু না। তুই খানিক আমার কাছে এসে শো।

    কৃষ্ণা চোখে দুষ্টামি ভরিয়া বলিল-এরি মধ্যে একলা শুতে ভাল লাগছে না?

    দূর হ পোড়ারমুখি!

    দূর তো হবই। তখন কি আর আমাকে ঘরে ঢুকতে দেবে?

    তুই না হয় তখন বিজয়লালের ঘরে যাস।

    তাই যাব। তুমি চলে গেলে আর কি আমি এ মহলে থাকব ভেবেছ? হঠাৎ কৃষ্ণার দুইচক্ষু অপুর্ণ হইয়া উঠিল।

    কস্তুরী দুই হাত বাড়াইয়া বলিল— আয় কৃষ্ণা। —আচ্ছা, আলোটা নিবিয়েই দে।

    আলো নিবাইয়া কৃষ্ণা কস্তুরীর পাশে আসিয়া শয়ন করিল। দুই সখী কিছুক্ষণ নীরব হইয়া রহিল। তারপর কৃষ্ণা বলিল— আচ্ছা, বিয়ের পরও তো তুমি এ বাড়িতে থাকতে পার। তখন তো দুই রাজ্যই এক হয়ে যাবে। তিনি কি তোমাকে এখানে থাকতে দেবেন না?

    কস্তুরী জবাব দিল না; কৃষ্ণা আবার নিজমনেই বলিল-না, তা কি করে দেবেন? তাঁকে তো সিংগড়েই থাকতে হবে, আর তোমাকে ছেড়েও তিনি থাকতে পারবেন না। এ বাড়ি তখন শূন্য পড়ে থাকবে।

    কৃষ্ণার গলা জড়াইয়া কস্তুরী বলিল—তখন তুই এ মহলে থাকিস। আমি রোজ কিত্তা পার হয়ে তোকে দেখে যাব।

    কৃষ্ণা বলিল— তা কি করে হবে? তোমার মালিক যেমন তোমাকে নিজের রাজ্যে নিয়ে যাবেন, আমার মালিকও তো আমাকে নিজের ভাঙা কুঁড়ে ঘরে নিয়ে গিয়ে পুরবে।

    কস্তুরী বলিল—সেই ভাঙা কুঁড়ে ঘরে যাবার জন্যে তোর প্রাণ কি করছে তা যদি না জানতাম, তাহলে কি তোকে আমি ছেড়ে দিতাম কৃষ্ণা? আমার সঙ্গে নিয়ে যেতাম।

    দুই সখীতে অনেকক্ষণ নীরবে শুইয়া রহিল। শেষে একটা প্রবল বাষ্পেচ্ছ্বাস দমন করিয়া কৃষ্ণা বলিল— ও-কথা থাক—ভাবলেই মন খারাপ হয়ে যায়। আজ কেমন দেখলে বল।

    কাকে?

    আহা, বুঝতে পারোনি যেন।

    কস্তুরী একটু চুপ করিয়া থাকিয়া বলিল— আগে তুই বল, তোর কেমন লাগল।

    আমার আর কেমন লাগালাগি কি? ভাল লাগলেও তুমি তো আর প্রাণ ধরে কাউকে ভাগ দিতে পারবে না।

    ভাগ চাস?

    চাইলেও অন্যায় হয় না।

    কেন?

    আমার প্রিয়সখীকে তিনি যে কেড়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তার বদলে আমায় কি দিয়েছেন? খালি শাস্তি দেবেন বলে ভয় দেখিয়েছেন।

    কস্তুরী ধরা-ধরা গলায় বলিল— তোর সখীকে তোর কাছ থেকে কেউ কেড়ে নিতে পারবে না কৃষ্ণা। এ জন্মে নয়।

    এ জন্মে নয়? ঠিক?

    ঠিক।

    আচ্ছা, আমিও তবে আর কিছু চাই না। আমার সখী আর আমার–কানে কানে–বিজয়লালের কুঁড়ে ঘর যতদিন আমার আছে ততদিন আমি তাদের বদলে স্বর্গও চাইনে।

    এবার তবে বল, তোর কেমন লাগল।

    কৃষ্ণা অনেকক্ষণ উত্তর দিল না; তারপর আস্তে আস্তে যেন চিন্তা করিতে করিতে বলিল—দেখ, ওঁর নামে অনেক কথাই আমাদের কানে এসেছে। কথাগুলো এতদিন অবিশ্বাস করবার কোনো কারণ হয়নি— রাজপুত্রেরা বেশীর ভাগই তো ঐ রকম হয়ে থাকেন। কিন্তু আজ তাঁকে দেখে মনে। হল, তাঁর সম্বন্ধে যা শুনেছিলাম তার অধিকাংশই মিথ্যে কথা।

    কস্তুরী বলিয়া উঠিল সব মিথ্যে কথা কৃষ্ণা–একটা কথাও সত্যি নয়!

    কৃষ্ণা বলিল–হ্যাঁ।–দেখ, এক বিষয়ে আমরা গেরস্তর মেয়েরা রানীদের চেয়ে সুখী–আমরা স্বামীকে পুরোপুরি পাই। তাই, তোমার কথা ভেবে মনকে চোখ ঠারছিলাম বটে, কিন্তু প্রাণে আমার সুখ ছিল না। আজ একটিবার মাত্র এঁকে দেখে আমার প্রাণে শান্তি ফিরে এসেছে; বুঝেছি, আমার এই অনাঘ্রাত ফুলটি সত্যিই মহেশ্বরের পায়ে পড়বে।

    কস্তুরী নীরবে উদ্বেলিত হৃদয়ে এই অমৃততুল্য কথা শুনিতে লাগিল। তাহার মনে হইল কৃষ্ণাকে এত মিষ্টি কথা বলিতে সে আর কখনো শুনে নাই। মাটির ঠাকুরকে অভ্যাসমত পূজা করিতে বসিয়া যাহারা অপ্রত্যাশিতভাবে জীবন্ত হৃদয়দেবতাকে সম্মুখে পায় তাহাদের মনের ভাব বুঝি এমনিই হয়।

    কৃষ্ণা বলিতে লাগিল—পুরুষ মানুষ মন্দ কি ভাল, তার চোখের চাউনি দেখে ধরা যায়। আজ উনি তোমার দিকে চাইলেন, মনে হল যেন চোখ দিয়ে তোমার আরতি করলেন। যার মনে স্ত্রীলোক সম্বন্ধে লোভ আছে সে অমন করে চাইতে পারে না। সত্যি বলছি, ওঁর সম্বন্ধে কোনো কুৎসাই আর আমার বিশ্বাস হয় না।

    অর্ধ রুদ্ধকণ্ঠে কস্তুরী বলিল— আমারও না। যতদিন দেখিনি ততদিন মনে হত হয়তো সত্যি। কিন্তু এখন

    এখন আমার সখীর জীবন-যৌবন সফল হল। কবি গেয়েছেন জান তো?—তব যৌবন যব সুপুরুষ সঙ্গ!

    অতঃপর দুইজনে বহুক্ষণ নীরব হইয়া রহিল। শেষে কৃষ্ণা জিজ্ঞাসা করিল– কি ভাবছ?

    কস্তুরী থামিয়া থামিয়া বলিল— ভাবছি—একটা কথা।

    কি কথা?

    বলব না।

    লক্ষ্মীটি বল। আমার কাছে মনের কথা লুকোলে কিন্তু ভারি রাগ করব।

    কৃষ্ণার বুকে মুখ গুঁজিয়া মৃদু অস্ফুটস্বরে কস্তুরী বলিল— ভাবছি, আবার কবে দেখতে পাব। কৃষ্ণা কলকণ্ঠে হাসিয়া উঠিল—এখনো যে তিন ঘণ্টা হয়নি–এরি মধ্যে আর না দেখে থাকতে পারছ না?

    কস্তুরী বলিল— তুই যে বিজয়লালকে রোজ দেখিস, একদিন যদি ঘোড়ায় চড়ে তোর জানলার সামনে এসে না দাঁড়ায় তাহলে সারাদিন ছটফট করে বেড়াস! সে বুঝি কিছু নয়?

    আমার কথা ছেড়ে দাও, আমার বদ অভ্যাস হয়ে গেছে। কিন্তু তোমার এরি মধ্যে এই! এখনি দেখেছ—আবার এখনি দেখবার জন্য পাগল! তুমি যে শকুন্তলাকেও হার মানালে!

    কতটুকুই বা দেখেছি?

    কেন, আর একটু বেশী করে দেখে নিলেই পারতে? তখন তো কেবলই পালাই পালাই করছিলে?

    ভারি যে লজ্জা করছিল।

    তা আমি কি করব— এখন লজ্জার ফল ভোগ কর।

    কৃষ্ণা–সত্যি বল, আবার কবে দেখা হবে?

    বিয়ের রাত্রে।

    কস্তুরী চুপ করিয়া রহিল; কৃষ্ণা তাহার মনের ভাব বুঝিয়া বলিল— অতখানি বুঝি সবুর সইবে? তার আগেই দেখতে হবে?—বেশ, মন্ত্রীমশায়কে বলি তিনি রাজাকে নিমন্ত্রণ করে পাঠান।

    দূর। সে কি ভাল হবে?

    কেন মন্দই বা কি হবে? তিনি আজ যেভাবে এসেছিলেন তাতে আমরা তাঁকে সমুচিত সংবর্ধনা করতে পারিনি। তাই তাঁকে যদি এবার নিমন্ত্রণ করে আনা হয় তাতে দোষ কি হবে?

    কস্তুরী নীরব রহিল দেখিয়া কৃষ্ণা বুঝিল, ইহাও তাহার মনঃপুত নয়, বলিল—এতেও মন উঠছে? তবে কি চাই, খুলে বল না।

    কস্তুরী বলিল— আর আমি বলতে পারি না। বুঝেছিস তো।

    কি?

    তুই একবার দেখা।

    কৃষ্ণা হাসিল— অর্থাৎ লুকিয়ে লুকিয়ে—কেউ জানবে না—এই তো?

    কস্তুরী মৌন। কৃষ্ণা তখন বলিল—আচ্ছা, তা আর শক্ত কি? শুধু একবারটি দেখা নিয়ে তো কথা? উনি কিস্তায় জলবিহার করতে বেরুবেন তার বন্দোবস্ত করছি তুমি ঘাটে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখো। তাহলে হবে তো?

    কৃষ্ণা, তুই বড় জ্বালাস!

    হুঁ, তার মানে শুধু দেখলে মন ভরবে না, দেখা দেওয়াও চাই। কেমন?

    কস্তুরী কৃষ্ণাকে জড়াইয়া ধরিয়া চুপ করিয়া রহিল, কৃষ্ণা বলিল— বুঝেছি। কিন্তু কাজটি তো সহজ নয়। একটু ভাবতে হবে।

    তা ভাব না—কে বারণ করেছে?

    কিন্তু আজ নয়, ওদিকে সকাল হতে চলল— হুঁশ আছে? এবার ঘুমিয়ে পড়।

    কৃষ্ণা উঠিয়া পড়িল, নিজের শয্যায় গিয়া শুইবার উপক্রম করিয়া বলিল— কিন্তু আমার একার বুদ্ধিতে বোধ হয় কুলোবে না—আর একজনের সাহায্য চাই।

    কার?

    আমার একজন মন্ত্রী আছে–তার।

    কস্তুরী হাসিয়া বলিল–তা বেশ ভো, কাল বাড়ি যা না। অনেক দিন তো যাসনি।

    কৃষ্ণা বলিল— উঃ কি দরদ। অনুমতি দিতে একটুও দেরি হল না। বলিয়া কৃষ্ণা শুইয়া পড়িল।

    একটা কৌতূহল কস্তুরীর মনটাকে চঞ্চল করিয়া তুলিল, সে জিজ্ঞাসা করিল— আচ্ছা কৃষ্ণা, তুই বিজয়লালকে খুব ভালবাসিস?

    কেন বল দেখি?

    সব সময় তার কথা ভাবিস?

    হ্যাঁ।

    আচ্ছা, দেখা হলে কি করিস?

    হাসি, কথা কই, গল্প করি।

    আর—

    আর কিচ্ছু না— ঐ পর্যন্ত। একটু থামিয়া বলিল—একদিন শুধু পান দিতে গিয়ে হাতে হাত ঠেকে গিয়েছিল।

    সেটি বুঝি মনে গেঁথে রেখেছিস?

    কৃষ্ণা চোখ বুজিয়া আবার সেই স্পর্শটা নূতন করিয়া অনুভব করিয়া লইল, বলিল— ইচ্ছে করে মনে গেঁথে রেখেছি তা নয়–ভুলতে পারা যায় না।

    কস্তুরী একটা নিশ্বাস ফেলিয়া চুপ করিয়া রহিল, তারপর বলিল— আচ্ছা, এবার ঘুমো।

    দুজনেই ঘুমাইবার চেষ্টা করিল, কিন্তু ঘুম সহসা আসিল না। দীর্ঘকাল এইভাবে কাটিবার পর কৃষ্ণা একবার জিজ্ঞাসা করিল,–ঘুমোলে?

    না। কেন?

    একটা কথা ভাবছি।

    কি কথা?

    তোমাদের দেখা-সাক্ষাৎ আমি ঘটাতে পারি, কিন্তু লোকে জানতে পারলে তোমার নিন্দে হবে।

    এইবার কস্তুরীর কণ্ঠে রানীর সতেজ অভিমান প্রকাশ পাইল, সে বলিল–আমার মালিকের সঙ্গে যদি আমি দেখা করি কার কি বলবার আছে? আর, আমার কাজের সমালোচনাই বা করে কে?

    এই অসহিষ্ণুতায় কৃষ্ণা অন্ধকারে মুখ টিপিয়া হাসিল, বলিল— তা ঠিক কাল তাহলে আমি বাপের বাড়ি যাব?

    হ্যাঁ।

    আচ্ছা, আজ তবে আর কথা নয়।

    দুই সখী পাশ ফিরিয়া শুইল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    কবিতাসংগ্রহ – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    দাদার কীর্তি – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিষের ধোঁয়া – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    রিমঝিম – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    ছায়াপথিক – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    মনচোরা – শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

    November 22, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }