Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    টারজান রচনা সমগ্র – এডগার রাইস বারুজ

    মণীন্দ্র দত্ত এক পাতা গল্প1323 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ভয়ঙ্কর টারজান (টারজান দি টেরিবল)

    আজ প্রায় ছ’মাস হলো আফ্রিকার জঙ্গলের ভয়ঙ্কর গভীরে টারজান তার হারানো স্ত্রীর খোঁজ করে চলেছে দিনরাত। সে এক মৃত জার্মান ক্যাপ্টেনের ডায়েরী থেকে জানতে পেরেছে তার স্ত্রী এখনো জীবিত আছে।

    একদিন গভীর রাতে বনভূমিতে অস্বাভাবিক একটা শব্দে হঠাৎ ঘুমটা ভেঙ্গে গেল টারজনের। সে উঠেই দেখল যে গাছে সে ছিল তার তলাতেই ঘাসে ঢাকা প্রান্তরটার উপর দিয়ে নগ্নপ্রায় এক শ্বেতাঙ্গ ছুটে আসছে। লোকটার পিছনে একটা সিংহ তাকে তাড়া করে আসছিল। সিংহটা আর এক মুহূর্তেই ঝাঁপিয়ে পড়বে লোকটার উপর। টারজান তাই এক লাফে সিংহ আর শ্বেতাঙ্গ লোকটার মাঝখানে নেমে পড়ল।

    টারজানকে সামনে পেয়েই সিংহটা তার একপাশে থাবা বসিয়ে একটা গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করল। কিন্তু টারজান সেদিকে নজর না দিয়ে সিংহটার পিঠের উপর চেপে তার ছুরিটা সিংহটার বুকের দিকে বসিয়ে দিতে লাগল। শ্বেতাঙ্গ লোকটাও তার হাতে যে একটা ধারাল খাড়া ছিল তাই দিয়ে সিংহটার মাথার উপর জোরে একটা কোপ বসিয়ে দিল। অল্প সময়ের মধ্যেই সিংহটা মারা গেল।

    সিংহটার মৃতদেহের উপর দাঁড়িয়ে টারজান তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে এক বিকট চীৎকার করল চাঁদের দিকে তাকিয়ে। লোকটা ভয় পেয়ে কিছুটা সরে গেল। কিন্তু টারজান তার ছুরিটা খাপের মধ্যে ঢুকিয়ে রেখে তার দিকে ফিরে দাঁড়াতে লোকটা আর ভয় পেল না।

    টারজান এবার লোকটার সঙ্গে বাঁদর-গোরিলাদের ভাষায় কথা বলার চেষ্টা করল। কিন্তু সে টারজনের কোন কথাই বুঝতে পারল না। তখন টারজান লোকটার বাঁ হাতটা টেনে তার বুকের উপর। রেখে লোকটার বুকের উপর নিজের ডান হাতটা রাখল। লোকটা এবার বুঝতে পারল এই অচেনা লোকটি তার জীবন বাঁচানোর পর তার সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন করতে চাইছে।

    এরপর টারজান তার পেটে হাত দিয়ে লোকটিকে খাবার জন্য ইশারা করল।

    টারজান তার সঙ্গীর আনা যখন সেই বাদাম, ফলমাকড় আর শুকনো মাংসগুলো খাচ্ছিল দু’জনে তখন ওরা খেয়াল করেনি গাছের উপর থেকে একটা কালো রঙের বিরাটকায় লোমশ প্রাণী ওদের দিকে তাকিয়ে আছে কুটিল দৃষ্টিতে। সেই অদ্ভুত বিরাটকায় প্রাণীটার উপর টারজনের চোখ পড়তেই সে দেখল এই প্রাণীটার সঙ্গে তার সঙ্গীর চেহারার অনেক মিল রয়েছে। দুজনকেই মানুষের মত অনেকটা দেখতে। দু’জনেরই লেজ আছে। দু’জনেরই অস্ত্রশস্ত্র এক এবং হাঁটার ভঙ্গিমাও এক। দুজনেই এক ভাষায় কথা বলে। তবে আগন্তুক সঙ্গী প্রাণীটির গোটা গাটা বড় বড় লোমে ঢাকা আর অচেনা আগন্তুক প্রাণীটির রংটা কালো; কিন্তু তার সঙ্গীর রংটা সাদা।

     

    আরও দেখুন
    বুক শেল্ফ
    বাংলা বই
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    অনলাইন বই
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    Books
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বাংলা অডিওবুক

     

    অচেনা প্রাণীটা গাছ থেকে টারজনের সঙ্গীটির সামনে নেমে পড়ল লাফ দিয়ে। তারপর তার হাতের লাঠিটা তার মাথায় এমন জোরে মারল যে সে অচেতন হয়ে মাটিয়ে লুটিয়ে পড়ল সঙ্গে সঙ্গে।

    টারজান যখন দেখল তার সঙ্গী অচেতন হয়ে পড়ে গেছে তখন সে আগন্তুক জন্তুটাকে একটা ঘুষি মেরে আক্রমণ করল।

    টারজান এবার দেখল মাটির উপর অচেতন হয়ে এতক্ষল পড়ে থাকা তার সঙ্গীটি চোখ মেলে তাকিয়েছে। জ্ঞান ফিরে পেয়ে সে এখন সুস্থ হয়ে উঠেছে। সে উঠে দাঁড়াতেই আগন্তক গোরিলাটা তার সঙ্গে কথা বলতে লাগল। টারজান দেখল তারা পরস্পরের কথা বুঝতে পারছে এবং তাদের হাবভাব ও অঙ্গভঙ্গী দেখে মনে হলো তারা এখন বন্ধুত্ব স্থাপন করতে চায় নিজেদের মধ্যে।

    এরপর তারা দুজনে মিলে যাবার জন্য উদ্যত হয়ে টারজানকে তাদের সঙ্গে ইশারায় যেতে বলল।

    টারজানও দেখল ওদের সঙ্গে গিয়ে এ অঞ্চলের অজানা জায়গাগুলোকে জেনে নেয়া ভাল। তাতে জেনকে খোঁজার কাজ সহজ হবে। সে তাই কোন আপত্তি না করে তাদের সঙ্গে সঙ্গে যেতে লাগল।

     

    আরও দেখুন
    অনলাইন বই
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    বাংলা উপন্যাস
    বাংলা ই-বুক রিডার
    গ্রন্থাগার
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    বাংলা বই
    বিনামূল্যে বই

     

    তিন দিনের দিন ওরা একটা ছোট পাহাড়ের পাদদেশে একটা বড় গুহার কাছে এসে থামল। এই গুহাটাতেই আশ্রয় নিলে ওরা।

    দেয়ালে ওরা যে নাম লিখল তার থেকে ওদের সাহায্যে টারজান বুঝল লোমহীন সাদা গোরিলাটির নাম হলো তাদেন আর লোমশ কালো গোরিলাটির নাম ওমৎ। তারা দুজনেই টারজানকে তাদের ভাষা শেখাতে লাগল এবং অল্পদিনের মধ্যেই টারজান ওদের ভাষায় কথা বলতে শিখল।

    টারজান তখন তার স্ত্রী জেনের চেহারার বর্ণনা দিয়ে তাকে তারা কোথাও দেখেছে কি না তা জিজ্ঞাসা করল। কিন্তু তারা বলল, একমাত্র টারজান ছাড়া অন্য কোন মানুষ জীবনে তারা দেখেনি কখনো।

    তাদের বলল, আমার বাড়ি হচ্ছে আলুর।

    টারজান বলল, আলুর কোথায়?

     

    আরও দেখুন
    গ্রন্থাগার সেবা
    বইয়ের
    উপন্যাস সংগ্রহ
    Library
    পিডিএফ
    বই পড়ুন
    বাংলা কমিকস
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা ই-বই
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই

     

    তাদেন বলল, আমাদের দেশ আলুর হচ্ছে ঐ পাহাড়গুলোর ওপারে। কোন যতদিন বেঁচে থাকবে। আমি সেখানে ফিরে যাব না।

    টারজান জিজ্ঞাসা করল, কোতান কে?

    তাদেন বলল, সে হচ্ছে সেখানকার রাজা। আমি তার সৈন্য বিভাগে কাজ করতাম। তার মেয়ে ওলোয়াকে আমি ভালবাসতাম। কিন্তু কোতান আমাকে দেখতে পারত না। তাই কৌশলে মারার জন্য ভাকাত নামে এক বিদ্রোহী গ্রাম্য সর্দারকে দমন করার জন্য আমাকে পাঠায় কোতান। কিন্তু তার সে চক্রান্ত ব্যর্থ হয়। কারণ আমি ডালককে পরাজিত ও বন্দী করি এবং সেখানকার বিদ্রোহ দমন করে গৌরবের সঙ্গে ফিরে আসি। কিন্তু কোতান আমাকে দেখে আরো রেগে উঠল আগের থেকে। আমার বাবা জাদন হচ্ছেন সিংহমানুষ। আলুরের বাইরে একটা বড় গাঁয়ের সর্দার তিনি। আমাদের দেশে মন্দিরের পুরোহিতদের আমরা খুবই শ্রদ্ধা করি। রাজা যদি একবার কাউকে পুরোহিত পদে নিযুক্ত করে তাহলে সে পদ প্রত্যাখ্যান করা মানেই দেশদ্রোহিতা বা ধর্মদ্রোহিতা করা। কিন্তু পুরোহিতরা বিয়ে করতে পারে না জীবনে। কুটিল কোতান তাই আমাকে পুরোহিত পদে নিযুক্ত করে আমার বিয়ে হওয়ার পথ রুদ্ধ করে দিতে চাইল চিরদিনের মত।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা গল্প
    বাংলা ই-বই
    বাংলা কবিতা
    বাংলা অডিওবুক
    অনলাইন বই
    বইয়ের
    বাংলা কমিকস
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    উপন্যাস সংগ্রহ
    সাহিত্য পর্যালোচনা

     

    একদিন ওলোয়া এসে আমাকে খবর দিল, তার বাবার দূত আমাকে মন্দিরে নিয়ে যাবার জন্য আসছে। তখন আমি পাচিল ডিঙ্গিয়ে নগর পার হয়ে পালিয়ে এলাম।

    টারজান বলল, সেখানে যাওয়ার দারুণ ঝুঁকি আছে বিপদের।

    তাদেন বলল, ঝুঁকি আছে বটে, কিন্তু এমন কিছু নয়। আমি যাবই।

    টারজান বলল, আমিও যাব তোমার সঙ্গে। কারণ আমি তোমাদের শহরটা দেখব এবং আমার স্ত্রীরও খোঁজ করব একবার। ওমৎ, তুমিও আমাদের সঙ্গে যাবে?

    ওমৎ বলল, কেন যাব না? আমাদের জাতির লোকেরা আলুরের উপর দিকের পাহাড়গুলোতে বাস করে। আমাদের সর্দারের নাম হলো ঈসাৎ। ঈসাৎ আমাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু সেখানে পানাৎ লী নামে একটা মেয়ে আছে যাকে দেখে আমি খুশি হব এবং সেও আমাকে দেখে খুশি হবে।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বাংলা ই-বই
    বুক শেল্ফ
    গ্রন্থাগার
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা টাইপিং সফটওয়্যার
    Library
    বাংলা কমিকস

     

    ওমৎ বলল, তাহলে এগিয়ে চল।

    এবার তিনজনে বিপদসংকুল পাহাড়ী পথ দিয়ে এগিয়ে যেতে লাগল।

    এরপর ওমৎ তাদের এমন একটা জায়গায় নিয়ে গেল যার এক রহস্যময় সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে গেল টারজান। চারদিকে সাদা ধবধবে পাহাড় দিয়ে ঘেরা সবুজ ঘাসে ঢাকা এক বিরাট উপত্যকা দেখতে পেল ওরা। মাঝখানে স্বচ্ছনীল জলে ভরা একটা নদী বয়ে যাচ্ছিল। তারই মাঝখানে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে আলুর নগরী।

    ওমৎ বলল, আমার উপত্যকাটা দিয়ে এগিয়ে যাব। বাঁদিকের পাহাড়গুলোর গুহায় আমাদের জাতির লোকরা থাকে। আমি পানাৎ লীকে আবার দেখব। তাদেনও তার বাবার সঙ্গে দেখা করবে। টারজান। আলুরে গিয়ে তার স্ত্রীর খোঁজ করবে।

    তাদেন বলল, আমরা এখন যতক্ষণ পারব এক সঙ্গেই তিনজন থাকব। ওমৎ রাত্রিবেলায় পানাৎ লীর সঙ্গে দেখা করবে চুপি চুপি। কারণ আমরা তিনজনে একসঙ্গে গেলেও ঈসাতের যোদ্ধাদের আমরা পরাস্ত করতে পারব না।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বাংলা ইসলামিক বই
    বাংলা লাইব্রেরী
    বাংলা ই-বুক রিডার
    পিডিএফ
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা ই-বই
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা বই
    সাহিত্য পত্রিকা

     

    টারজান একাই কি মনে করে আলুর নগরীর দিকে হাঁটতে শুরু করে দিল। নগরীর বাইরে পৌঁছতেই একজন হোন যোদ্ধার সঙ্গে দেখা হয়ে গেল।

    টারজানই প্রথমে কথা বলল তার সঙ্গে। বলল, তোমাদের রাজা কোতানের সঙ্গে আমার একবার দেখা করিয়ে দেবে।

    হোদন যোদ্ধা বলল, আমাদের এই নগরদ্বারে একমাত্র শত্রু বা ক্রীতদাস ছাড়া বাইরের আর কেউ আসে না।

    টারজান উত্তর করল, আমি শত্রু বা ক্রীতদাস কিছুই নই। আমি দেবতা জাদ-বেন-ওথোর কাছ থেকে আসছি।

    হোদন যোদ্ধা আশ্চর্য হয়ে বলল, সত্যিই তুমি জাদ-বেন-ওথোর লোক? তা হলে তুমি হোদন বা। ওয়াজদন কেউ নও, আর তোমার লেজও নেই। এস আমার সঙ্গে, আমি তোমাকে রাজা কোতানের কাছে। নিয়ে যাব।

    এই বলে সে নগরীর ভিতর দিয়ে টারজানকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতে লাগল।

    টারজনের পথ-প্রদর্শক সেই হোদন যোদ্ধা টারজানকে নিয়ে নগরদ্বারে যেতেই বারোজন প্রহরী ঘিরে ধরল তাদের। একজন যোদ্ধা প্রাসাদের ভিতরে রাজা কোতানকে খবর দিতে গেল। পনের মিনিট পরে একজন যোদ্ধা এসে টারজানকে খুঁটিয়ে দেখে বলল, কে তুমি? রাজা কোতানের কাছ থেকে কি চাও তুমি?

     

    আরও দেখুন
    বাংলা কমিকস
    Library
    বাংলা অডিওবুক
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বই পড়ুন
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    Books
    বাংলা লাইব্রেরী
    বাংলা ই-বই
    অনলাইন বুক

     

    টারজান বলল, আমি কোতানের বন্ধু, কোতানের সঙ্গে দেখা করার জন্য জাদ-বেন-ওথোর দেশ থেকে এসেছি।

    টারজনের কথায় হোন যোদ্ধারা ইতস্তত করতে লাগল। তাদের একজন তাকে বলল, তুমি কেমন করে এখানে এলে?

    টারজান তখন রেগে গিয়ে বলল, ওখোর রোষ থেকে যদি বাঁচতে চাও তাহলে আমাকে এখনি রাজা কোতানের কাছে নিয়ে চল।

    এ কথায় হোদরা ভয় পেয়ে গেল সবাই।

    প্রথমে জাদ-বেন-ওথোর দূত ও পরে পুত্র হিসেবে পরিচয় দিল টারজান। তার এই শেষের কথাটায় কাজ হলো।

    যে হোদন যোদ্ধাটি টারজনের সঙ্গে কথা বলছিল সে টারজানকে ভয়ে ভয়ে বলল, হে ডোর-উলফ ওথো, হতভাগ্য ডাকলতের উপর দয়া করো।

    এই বলে সে পাশের লোকদের সরিয়ে টারজানকে সঙ্গে করে কোতানের প্রাসাদে নিয়ে গেল।

     

    আরও দেখুন
    গ্রন্থাগার সেবা
    বইয়ের
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    বাংলা বই
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    Library
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ

     

    ডাকলৎ রাজা কোতানের পানে তাকিয়ে বলল, হে রাজন, একবার দেখ আমাদের একমাত্র দেবতা জাদ-বেন-ওখো তার ছেলেকে দূত হিসেবে পাঠিয়ে আমাদের কত অনুগ্রহ করেছেন।

    উঠে দাঁড়াল কোতান। এক গভীর কৌতূহল আর আগ্রহের সঙ্গে দেখতে লাগল আগন্তুককে।

    এদিকে টারজান তখন খাড়া হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তার হাত দুটো আড়াআড়িভাবে তার বুকের উপর চাপানো ছিল।

    অবশেষে রাজসভার নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করে সিংহাসন থেকে ডাকলৎকে উদ্দেশ্য করে কোতান বলল, কে তোমাকে বলেছে যে আগন্তুক ডোর-উলফ-ওথো?

    ডাকল টারজানকে দেখিয়ে উত্তর করল ভয়ে ভয়ে, উনি বলেছেন।

    কোতান বলল, আর এই বিশ্বাস করতে হবে সত্য বলে?

    ডাকলৎ বলল, শোন কোতান, তুমি নিজের চোখে যা দেখছ তা সত্য বলে মেনে নেয়াই উচিৎ। তুমি দেখ, ওঁর চেহারাটা সত্যিই দেবতার মত, ওঁর হাত পা আমাদের হাত পা থেকে আলাদা। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের পরম পিতা ওথোর মতই উনি লেজহীন।

     

     

    এগুলো সত্যিই আগে ভাল করে দেখেনি কোতান। দেখে সত্যিই সে অবাক হয়ে গেল। এমন সময় একজন যুবক বয়সী হোন যোদ্ধা ভিড় সরিয়ে ছুটতে ছুটতে এসে বলল, হ্যাঁ, কোতান ডাকলতের কথাই ঠিক। আমরা যখন গতকাল কোর-উলফ-লুন থেকে বন্দীদের ধরে নিয়ে আসছিলাম তখন আমি এই। দেবতাকে একটা ভয়ঙ্কর জন্তুর পিঠের উপর চড়ে আসতে দেখেছিলাম। ব্যাপারটা দেখেই ভয়ে পালিয়ে যাই আমরা বনের আড়ালে। কোন মানুষের পক্ষে কোর-উলফ অরণ্যের স্ত্রীফ নামে ঐ ভয়ঙ্কর জন্তুকে বশ করে তার পিঠে চড়ে তাকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।

    এই কথায় বেশির ভাগ সভাসদ বিগলিত হয়ে পড়ল। তাদের মনে আর কোন সন্দেহ রইল না।

    কোতান তখন টারজানকে বলল, তুমি যদি সত্যিই ডোর-উলফ-ওথো হও তাহলে নিশ্চয়ই বুঝতে পারবে আমার এই অবিশ্বাস আর সংশয় একেবারে অমূলক নয়, কারণ আমাদের দেবতা জাদ-বেন-ওখো যে দয়া করে তার পুত্রকে আমাদের কাছে পাঠাচ্ছেন সে কথা ত কোনভাবে জানাননি আমাদের। তাছাড়া আমরা কি করে জানব যে তাঁর পুত্র আছে?

     

     

    টারজান বলল, রাজার উপযুক্ত কথাই বলেছ। জাতীয় দেবতা সম্পর্কে এই ধরনের ভয় আর সম্মানের সঙ্গে কথা বলা উচিৎ। জাদ-বেন-ওখো জানতে চান তুমি ঠিকমত কাজকর্ম করছ কি না। তা দেখার জন্যই তিনি আমাদের পাঠিয়েছেন এখানে। আমি এসে প্রথমেই যা দেখেছি তাতে বুঝেছি তুমি সত্যিই রাজা হবার উপযুক্ত।

    রাজা কোতান তখন পিরামিডের মত সিংহাসন থেকে নেমে তাকে সশ্রদ্ধ অভ্যর্থনা জানিয়ে সিংহাসনে তার পাশে বসার জন্য আহ্বান জানাল।

    টারজান সেই পিরামিডের উপর উঠে পাথরের যে বেঞ্চটায় কোন বসত তার উপর বসল। ঐটাই ছিল কোতানের সিংহাসন। কিন্তু তার পাশে কোন বসতে গেলে সে তাকে বাধা দিয়ে বলল, দেবতার পাশে কোন মানুষকে বসতে নেই।

    টারজান বসার পর কোতানকে বলল, তবে দেবতা তার বিশ্বস্ত ভক্তকে তার পাশে বসার জন্য আহ্বান করতে পারে। এস কোতান, আমি তোমাকে জাদ-বেন-ওথোর নামে বসতে বলছি আমার পাশে।

    কোতান তার আসনে টারজনের পাশে বসলে রাজসভার কাজকর্ম আবার শুরু হলো। টারজান হঠাৎ এসে পড়ায় সভার কাজ সব বন্ধ ছিল এতক্ষণ।

     

     

    এক সময় সভার কাজকর্ম শেষ হয়ে গেলে কোতান নিজে সঙ্গে করে মন্দির দেখাতে নিয়ে গেল। টারজানকে। টারজান দেখল মন্দিরটা রাজপ্রাসাদেরই একটা অংশ। সেই মন্দিরের ভিতর নানা আকারের বেদী ছিল। সেই সব বেদীর অনেকগুলোতে লাল রং লেগে ছিল। টারজান তার তীক্ষ্ণ ঘ্রাণশক্তির সাহায্যে বুঝতে পারল ওগুলো শুকিয়ে যাওয়া মানুষের রক্তের দাগ।

    টারজান দেখল প্রধান পুরোহিত সুদেনের চোখে মুখে তার দেবত্ব সম্বন্ধে এক সংশয়ের ছাপ ফুটে রয়েছে। তবু সে তার আচরণের মধ্যে এক আপাত আনুগত্যের ভাব দেখাচ্ছে। টারজান দেখল এখন তার একমাত্র ভয় লুদেনকে। প্রধান পুরোহিত হিসেবে একমাত্র সেই তার প্রতারণাকে ধরে ফেলতে পারে।

    মন্দিরে ঘুরতে ঘুরতে টারজান দেখল অনেক ওয়াজদন ক্রীতদাস একটা ঘেরা জায়গার মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হোদরা ওয়াজদনদের গায়ে গিয়ে তাদের ধরে এনেছে।

    টারজান এক সময় লুদেনকে জিজ্ঞাসা করল, এরা কারা?

    লুদেন বলল, জাদ-বেন-ওথোর পুত্র একথা ভালই জানেন।

    টারজান শান্তভাবে বলল, ডোর-উলফ-ওথোর কোন প্রশ্নের উত্তরে পাল্টা প্রশ্ন করতে নেই। মনে রেখ ভণ্ড পুরোহিতের রক্ত জাদ-বেন-ওথোর প্রিয় বস্তু।

    লুদেন তখন বলল, প্রতিদিন তোমার পিতা জাদ-বেন-ওখো দিনের শেষে পশ্চিম দিকে অস্ত গেলে ঐ সব ক্রীতদাসদের একজনের রক্ত দিয়ে পূর্ব দিকের বেদীটা ধুয়ে দিতে হয়।

    টারজান বলল, কে তোমাদের বলল যে জাদ-বেন-ওথো তাঁর সৃষ্ট মানুষদের রক্ত চান? তাঁর বেদীর উপর মানুষ খুন করতে কে বলল তোমাদের?

    লুদেন বলল, তাহলে কি হাজার হাজার মানুষ বৃথা রক্ত দান করছে?

    কোতান, অন্যান্য যোদ্ধারা, পুরোহিতরা এবং ক্রীতদাসরা টারজনের কথাগুলো সব শুনছিল। টারজান বলল, ঐ সব ক্রীতদাসদের মুক্ত করে দাও। জাদ-বেন-ওথোর নামে আমি বলছি তোমরা ভুল করছ।

    লুদেনের মুখখানা ম্লান হয়ে গেল। সে চীৎকার করে তার পাশের পুরোহিতদের বলল, জাদ-বেন ওথোর পুত্র বলেছেন। অতএব বন্দীদের ছেড়ে দাও। তাদের মুক্ত করে যেখান থেকে এনেছ সেখানে পাঠিয়ে দাও।

    ক্রীতদাসরা সঙ্গে সঙ্গে মুক্ত হয়েই টারজনের সামনে তারা প্রণিপাত হয়ে ভক্তিভরে প্রণাম জানাল।

    কোতান তখন ভয়ে ভয়ে বলল, তাহলে কি করলে জাদ-বেন-ওথো তুষ্ট হবেন?

    টারজান বলল, যদি তাকে তোমরা তুষ্ট করতে চাও তাহলে তার বেদীতে এমন সব খাদ্য ও উপহার পূজো হিসেবে দাও যেগুলো পরে শহরের গরীব দুঃখীদের মধ্যে বিতরণ করা যাবে। এইভাবেই তোমরা দেবতার অনুগ্রহ লাভ করতে পারবে।

    সকালে ঘুম থেকে উঠে টারজান একা একা প্রাসাদের চারদিকে ঘুরে দেখতে লাগল। প্রাসাদের। কেন্দ্রস্থলে চারদিকে পাঁচিল দিয়ে ঘেরা একটা জায়গা দেখতে পেল সে। জায়গায়টার মাথার উপরে কোন ছাদ নেই এবং পাঁচিলটার গায়েও কোন জানালা দরজা নেই। পাঁচিলের গায়ে এক জায়গায় একটা গাছ ছিল। টারজান সেই গাছটায় উঠে পড়ে গাছের উপর থেকে চারদিকে তাকাতে লাগল। সে দেখল পাঁচিলঘেরা সেই জায়গাটা আসলে একটা ঘেরা বাগান।

    বাগানের মাঝে ঘুরতে ঘুরতে টারজান এক সময় দেখতে পেল একজন সুন্দরী হোদন যুবতী তার সোনার বক্ষবন্দনীর উপর চেপে ধরে একটা পাখিকে আদর করছে আর তার পাশে একজন ওয়াজদন তরুণী বসে রয়েছে।

    টারজান দেখল এই তরুণীই পানাৎ লী এবং তারই সে খোঁজ করছে গতকাল থেকে।

    হোদন যুবতীটি তখন টারজানকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করল, হে অতিথি, কে আপনি?

    পানাৎ লী বলল, গতকাল রাজসভায় যে অতিথি আসে তার কথা শোননি?

    যুবতীটি আশ্চর্য হয়ে বলল, আপনিই তাহলে ডোর-উলফ-ওথো?

    টারজান বলল, হ্যাঁ। তুমি কে

    ? যুবতীটি বলল, আমি রাজা কোতানের কন্যা, নাম ওলোয়া।

    টারজান বুঝল, এই ওলোয়াই হলো তাদেনের প্রেমিকা। সে এবার ওলোয়ার কাছে এসে বলল, হে কোতানকন্যা, জাদ-বেন-ওথো তোমার উপর তুষ্ট হয়ে অনুগ্রহ করে তোমার প্রেমাস্পদকে বহু বিপদ। আপদের কবল থেকে উদ্ধার করে আজও নিরাপদে বাঁচিয়ে রেখেছেন।

    ওলোয়া বলল, কিন্তু বুলাতের সঙ্গে আমার বিয়ে দেবে বলে বাবা কথা দিয়েছে।

    টারজান বলল, কিন্তু বুলাকে তুমি ত ভালবাস না। তাছাড়া তিনি তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েই তাদেনকে উদ্ধার করেছেন।

    এই বলে টারজান উপরে মুখ তুলে বলল, থাম, জাদ-বেন-ওথো কি বলে শুনি।

    উপরে মুখ তুলে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর বলল, ওঠ, জাদ-বেন-ওখো আমাকে আকাশবাণীর মাধ্যমে বললেন, এই ক্রীতদাসী তরুণী পানাৎ লী। এর বাড়ি হলো কোর-উলফ-জা যেখানে তাদেন আছে।

    ওলোয়া আর পানাৎ লী টারজনের সামনে নতজানু হয়ে বসেছিল। ওলোয়া উঠে দাঁড়িয়ে পানাৎ লীর মুখের দিকে তাকাল। পানাৎ লী বলল, হ্যাঁ, ঠিকই বলেছে।

    ওলোয়া তখন টারজনের পায়ে হাত ঠেকিয়ে প্রণাম করে বলল, জাদ-বেন-ওথোর অসীম দয়া আমার উপর। আমি কৃতজ্ঞ তার কাছে।

    টারজান বলল, যদি পানাৎ লীকে তোমরা তার বাড়িতে পাঠিয়ে দাও তাহলে আমার পিতা সন্তুষ্ট হবেন তোমাদের উপর।

    ওলোয়া বলল, এ ব্যাপারে আমার কোন ক্ষমতা নেই। আমার বাবাকে একথা জানাবে সে।

    সহসা পিছনের ঝোপ থেকে কে গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করে উঠল।

    ওরা সবাই পিছন ফিরে ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে দেখল রাজা কোতান কখন এসে দাঁড়িয়েছে ওদের পিছনে।

    টারজানকে দেখতে পেয়েই কোতান বলল, ও, আপনি ডোর-উলফ-ওথো? কিন্তু এখানে এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে দেবতাদেরও যাওয়া নিষিদ্ধ, যেমন এই নিষিদ্ধ উদ্যান। আসুন ডোর-উলফ-ওথো।

    এরপর কোন অন্য একটা পথ দিয়ে টারজানকে নিয়ে একটা ছোট ঘরে ঢুকল।

    দরজার সামনেই প্রধান পুরোহিত লুদন দাঁড়িয়ে ছিল। টারজান তার চোখেমুখে এক কুটিল চক্রান্তের ভাব লক্ষ্য করল। কিছুকক্ষণ পর একজন যোদ্ধা ঘরের ভিতরে ঢুকে কোতানকে বলল, প্রধান পুরোহিত আপনাকে মন্দিরে ডাকছেন।

    কোতান বলল, তাঁকে বল আমি যাচ্ছি।

    এই বলে টারজনের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলল কোতান, আমি এখনি আসছি ডোর-উলফ-ওথো।

    কিন্তু কোতান ফিরে এল এক ঘণ্টা পরে। কোতানের পানে তাকিয়েই চমকে উঠল টারজান। তার চোখে মুখে ভয়ের স্পষ্ট চিহ্ন ফুটে ছিল। তার হাতদুটো কাঁপছিল।

    টারজান বলল, কোন দুঃসংবাদ আছে কোতান?

    কোতান কিন্তু উত্তর দিল না একথার। সহসা মুখ তুলে তার যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে বলল, ধরো ওকে, কারণ প্রধান পুরোহিত লুদন বলছে, ও প্রতারক।

    কোতান আরও বলল, লুদন বলছে, তুমি জাদ-বেন-ওথোর পুত্র নও। তোমাকে অভিযোগকারীর সামনে গিয়ে দাঁড়াতে হবে। তোমার বিচার হবে। মনে রাখবে এসব ব্যাপারে রাজার কোন হাত নেই। তাঁকে প্রধান পুরোহিতের নির্দেশ মেনে চলতে হয়।

    অবশেষে ঠিক হলো বিচার হবে মন্দিরে। লুদন টারজান ও কোতানকে একটি বড় বেদীর কাছে নিয়ে গেল। সেখানে একটা উঁচু জায়গার উপর টারজানকে বসতে বলল লুদন। টারজান দেখল বেদীর উপর একটি জলভরা গামলার মধ্যে এক নবজাত শিশুর মৃতদেহ রয়েছে।

    টারজান লুদনকে জিজ্ঞাসা করল, এর মানে কি?

    কুটিল হাসি হেসে লুদন বলল, দেবতা হয়ে তুমি এটা জান না? এই না জানাটাই তোমার দেবত্ব সম্বন্ধে দাবির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রমাণ। সর্বজ্ঞ দেবতার পুত্র হয়েও একথাটা তুমি জান না যে প্রতিদিন সূর্য অস্ত যাবার সঙ্গে সঙ্গে যেমন এক বয়স্ক ব্যক্তিকে পূর্ব দিকের একটি বেদীতে বলি দেয়া হয় তেমনি প্রতিদিন সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে একটি নবজাত শিশুকে বলি দেয়া হয় পশ্চিম দিকের বেদীতে। যে কথা প্রতিটি হোদন শিশু জানে, সে কথা তুমি জাদ-বেন-ওথোর পুত্র হয়েও জান না।

    এই বলে লুদন একজন কৃষ্ণকায় ক্রীতদাসকে ডাকল। সে ভয়ে ভয়ে এগিয়ে এলে লুদন টারজানকে দেখিয়ে বলল, বল তুমি এর সম্বন্ধে কি জান?

    সেই ওয়াজদন ক্রীতদাসটি বলল, আমি কোর-উলফ-লুনের এক অধিবাসী। দিনকতক আগে কোর উলফ-জার একদল যোদ্ধার সঙ্গে আমাদের লড়াই হয়। ও তখন কোর-উলফ-জার পক্ষে লড়াই করছিল। ওকে তারা টারজান জাদ-গুরু বলে ডাকছিল। কিন্তু ও দেবতা নয়। কারণ এক সময় ওর পিছন থেকে একজন ওর মাথায় একটা লাঠির আঘাত মারতে অচৈতন্য হয়ে পড়ে যায় এবং তখন আমাদের লোকেরা ওকে বন্দী করে নিয়ে যায়। পরে ও প্রহরীকে হত্যা করে সেখান থেকে পালিয়ে আসে।

    জাদন বলল, একজন দেবতার বিরুদ্ধে একজন ক্রীতদাসের একথা মেনে নেওয়া উচিৎ নয়।

    লুদন বলল, রাজকন্যার কথা হয়ত বেশি গ্রহণযোগ্য হবে আপনার পক্ষে।

    কোতান লুদনকে জিজ্ঞাসা করল, কিন্তু আমার মেয়ে এ সম্বন্ধে কি জানে? তুমি নিশ্চয় আমার মেয়েকে সর্বসমক্ষে হাজির করাবে না।

    লুদন বলল, না, তাঁর দাসীর সাক্ষ্যই যথেষ্ট হবে।

    এই বলে একজন অধীনস্থ পুরোহিতকে পানাৎ লীকে আনার জন্য হুকুম করল লুন।

    পানাৎ লীকে আনা হলে লুদন বলল, পানাৎ লী নামে এই মেয়েটিকে গতকাল যখন ধরে আনা হয় তখন সে বলেছিল এই লোকটিই তাকে কোর-উলফ-গ্রীফের অরণ্যে একজন তেরোদন আর দুটো ভয়ঙ্কর জন্তুর হাত থেকে উদ্ধার করে। পরে সে তার দেশ কোর-উলফ-জার পথে যাবার সময় ধরা পড়ে আমাদের হাত।

    লুদন আবার বলল, এর দ্বারা এই কথাই প্রমাণ হয় না কি যে লোকটা কোন দেবতার পুত্র নয়?

    পানাৎ লী বলল, কিন্তু ওঁকে দেখে মানুষ বলেও মনে হয়নি।

    লুদন আবার জিজ্ঞাসা করল পানাৎ লীকে। বলল, ও কি তোমাকে একথা বলেছিল যে ও দেবতা জাদ-বেন-ওথোর পুত্র?

    পানাৎ লী ভয়ে ভয়ে বলল, না।

    লুদন বলল, খুব হয়েছে। আর না। এই কে আছে, ওকে বন্দী করো। আগামীকালই জাদ-বেন ওথোর নির্দেশমত ওকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে।

    যোদ্ধারা পুরোহিতদের মধ্যে সবচেয়ে আগে যে লোকটা হাত বাড়িয়ে টারজানকে ধরতে গেল, টারজান সেই লোকটার একটা হাত আর পা বজ্রমুষ্ঠিতে ধরে বেদীর উপর তুলে ধরল। তারপর লুদন ছুরি হাতে টারজনের দিকে এগিয়ে গেল। টারজান সেই পুরোহিতের দেহটা সজোরে লুদনের গায়ের উপর ছুঁড়ে দিল। লুদন টাল সামলাতে না পেরে পড়ে গেল।

    এই অবকাশে টারজান বেদীর পিছনের দিকে নগর প্রাচীরের যে অংশ ছিল তার উপরে বেদী থেকে লাফ দিয়ে উঠে পড়ল। সেখান থেকে আবার লাফ দিয়ে একেবারে আলুর নগরীর বাইরে চলে যাবার আগে বলে গেল সে, মনে ভেবো না জাদ-বেন-ওথো তার পুত্রকে ত্যাগ করেছেন।

    এই বলে নগর প্রাচীর থেকে লাফ দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল।

    আলুরের মন্দিরের মাঝে পুরোহিতরা যখন টারজানকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল তখন একজন নগ্ন বিদেশী রাইফেল হাতে পাহাড় থেকে নেমে উপত্যকা পার হয়ে কোর-উলফ-জার দিকে এগিয়ে চলেছিল। সে দেখল একজন লম্বা শ্বেতাঙ্গ শিকারে যাচ্ছে। তার হাতে ছিল একটা মোটা লাঠি আর এটা ছুরি খাপের মধ্যে কোমরে ঝোলানো ছিল। এই শিকারী হলো তাদেন।

    তাদেন দেখল টারজান যে জাতির লোক এই বিদেশীও সেই জাতির লোক। বিদেশী হাত তুলে বোঝাতে চাইল সে শান্তি ও বন্ধুত্ব চায়।

    তাদেন বিদেশীকে জিজ্ঞাসা করল, তুমি কে?

    বিদেশী বলল, সে তার ভাষা বুঝতে পারছে না। বিদেশী তাদেনের লেজ দেখে আশ্চর্য হয়ে গেল। তাদেন তাকে হাবেভাবে বুঝিয়ে দিল সে শিকার করে বেড়াচ্ছে।

    কিন্তু আপাতত শিকারের কথা ভুলে গিয়ে তাদেন বিদেশীকে তার বন্ধু ওমতের কাছে নিয়ে যেতে চাইল। তার এই মনের কথাটা বিদেশীকে বুঝিয়ে দিতে সেও রাজী হয়ে গেল। তখন তারা দুজনেই কোর-উলফ-জার পথে এগিয়ে যেতে লাগল।

    ওমৎ তখন তার গুহায় ছিল না। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওমৎ এসে গেল।

    তাদেন ওমৎকে বলল, আমার মনে হয় এই বিদেশী টারজানকেই খুঁজছে।

    বিদেশী টারজনের নাম শুনে বলল, হ্যাঁ আমি টারজানকেই খুঁজছি।

    এরপর বিদেশী বিভিন্ন দিকে হাত দিয়ে দেখিয়ে ওমতের কাছ থেকে জানতে চাইল টারজান এখন কোথায় এবং কোন দিকে গেছে।

    তার উত্তরে ওমৎ তাকে জানাল আজ থেকে পাঁচ দিন আগে টারজান ঐ পাহাড়ের উপর দিয়ে কোথায় গেছে তা কেউ জানে না।

    তখন বিদেশী একাই পাহাড় পার হয়ে টারজনের খোঁজে বেরিয়ে যেতে চাইল।

    ওমৎ বলল, চল আমরাও ওর সঙ্গে যাই। আমাদের লোকদের হত্যা করার জন্য আমরা কোর-উলফ লুনের লোকদের শাস্তি দেব।

    তাদেন বলল, আগামীকাল সকাল পর্যন্ত বিদেশীকে অপেক্ষা করতে বল। কাল আমরা অনেক যোদ্ধা। সঙ্গে নিয়ে যাব।

    ওমৎ মেনে নিল তাদেনের কথাটা। রাত্রিবেলায় বিদেশী একটি গুহাতে রাত কাটাল।

    পরদিন সকালেই ওমৎ একশোজন যোদ্ধাকে সঙ্গে করে কোর-উলফ-লুনের বিরুদ্ধে এক সামরিক অভিযানে বার হল। তার সঙ্গে সেই শ্বেতাঙ্গ বিদেশী এবং বন্ধু তাদেনও রইল।

    মন্দিরের পাঁচিলটা পার হয়ে মাটিতে লাফ দিয়ে নেমে পানাৎ লীর কথা ভাবতে লাগল টারজান। সে এখনো মুক্তি পায়নি। কিন্তু এখন এতসব শত্রুর মাঝখানে আবার ফিরে গিয়ে পানাৎ লীর খোঁজ করে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা সম্ভব নয়।

    অবশেষে টারজান ঠিক করল প্রাসাদের উঠোন দিয়ে না গিয় সে মন্দিরের তলা দিয়ে যে সব ঘর ও বারান্দা আছে তার ভিতর দিয়ে যাবে।

    মন্দিরসংলগ্ন পাঁচিলটা আবার পার হয়ে মন্দিরের ভিতরে ঢুকতেই টারজান দেখল সেখানে বিশেষ কেউ নেই, কারণ পুরোহিতরা সব তাকে খোঁজার কাজে ব্যস্ত। তাই দ্রুত এগিয়ে যেতে লাগল। এক সময় একজন পুরোহিত তার সামনে হঠাৎ এসে পড়তেই টারজান অতর্কিতে তার ছুরিটা পুরোহিতের বুকে বসিয়ে দিল। তার দেহটা মাটিতে লুটিয়ে পড়তেই টারজান তার মাথার পোশাকটা তুলে নিজের মাথার উপর চড়িয়ে নিল আর তার লেজটা কেটে নিয়ে তার পরনের কৌপীনের সঙ্গে যুক্ত করে সেটা হাতে ধরে রইল। তারপর আবার নিষিদ্ধ বাগানের দিকে দ্রুতপায়ে এগিয়ে চলল।

    কিছুক্ষণ পর টারজান দেখল ওলোয়া চিন্তান্বিত অবস্থায় বাগানের মধ্যে ঢুকল। কিছুক্ষণের মধ্যে একদল লোক বাগানের মধ্যে এসে সোজা রাজকন্যা ওলোয়ার সামনে এসে বলল, যে বিদেশী লোকটি নিজেকে জাদ-বেন-ওথোর পুত্র ডোর-উলফ-ওথো নামে নিজেকে ঘোষণা করেছে সে আসলে ভণ্ড প্রতারক। সে পালিয়ে গেছে। আমরা তাকে এই নিষিদ্ধ বাগানে খুঁজতে এসেছি।

    ওলোয়া আশ্চর্য হয়ে বলল, কই? আমি ত দেখিনি তাকে। এ বাগানে আমি ছাড়া আর কেউ নেই।

    তখন অনুসন্ধানকারী পুরোহিতরা বাগান ছেড়ে চলে গেল। তারা চলে যেতেই ব্যস্তভাবে ছুটতে ছুটতে পানাৎ লী এসে হাজির হলো। তাকে দেখেই ওলোয়া প্রশ্ন করল, কি হয়েছে পানাৎ লী?

    পানাৎ লী বলল, কি বলব রাজকুমারী, ওরা সেই বিদেশীকে মেরে ফেলত।

    ওলোয়া বলল, কিন্তু সে ত পালিয়ে গেছে।

    পানাৎ লী বলল, হ্যাঁ, ওরা তার খোঁজ করছে।

    ওলোয়া বলল, কিন্তু সে ত ভণ্ড প্রতারক।

    পানাৎ লী বলল, তাকে তুমি চেন না রাজকুমারী।

    ওলোয়া বলল, তাহলে তার সম্বন্ধে তুমি কি জান?

    পানাৎ লী বলল, সে দেবতার পুত্র কি না জানি না, তবে সে যে সাধারণ মানুষের থেকে অনেক ঊর্ধ্বে একথা জোর করে বলতে পারি।

    ওলোয়া বলল, সত্যিই সে বড় এক আশ্চর্যজনক লোক। হয়ত লুদনই তাকে চিনতে ভুল করেছে।

    পানাৎ লী বলল, সে বেঁচে থাকলে ঠিক সে কোন না কোন উপায়ে তাদেনের হাতে তোমাকে তুলে দিত।

    ওলোয়া বলল, আর কোন উপায় নেই। কারণ আগামী কালই বুলাতের সঙ্গে আমার বিয়ে হবে।

    এবার ওলোয়া! ফুল তুলতে তুলতে হঠাৎ টারজান যেখানে লুকিয়েছিল সেখানে এসে পড়ল। টারজানকে দেখতে পেয়ে চীৎকার করে উঠতে যাচ্ছিল ওলোয়া। কিন্তু টারজান সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ভয়ের কিছু নেই রাজকুমারী। আমি তাদেনের বন্ধু। আশা করি তোমরা আমাকে সুদনের হাতে তুলে দেবে না।

    ওলোয়া বলল, কিন্তু আমার বাবা কোতান জানতে পারলে রেগে যাবে, তার উপর প্রধান পুরোহিত লুদন হয়ত এর জন্য দেবতার কাছে আমাকে বলি দেবে।

    টারজান বলল, কিন্তু তুমি না বললে ও জানবে কি করে?

    ওলোয়া তখন টারজানকে বলল, আচ্ছা বিদেশী, তুমি যদি সত্যি দেবতা হও তাহলে মানুষের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছ কেন?

    টারজান বলল, দেবতা ও মানুষ একসঙ্গে মিশে গেলে দেবতাদের অবস্থাও মানুদের মতই হয়।

    ওলোয়া বলল, আচ্ছা তুমি তাদেনকে দেখেছ এবং তার সঙ্গে কলা বলেছ?

    টারজান বলল, হ্যাঁ, আমি এক পক্ষকাল তার কাছে ছিলাম।

    ওলোয়া চলে যাবার জন্য পা বাড়াতেই টারজান তাকে জিজ্ঞাসা করল, আচ্ছা রাজকুমারী, তুমি গতকাল আর একজন বিদেশীর কথা বলছিলে। কে সে?

    ওলোয়া বলল, হ্যাঁ, আমি দেখিনি। তবে একটা গুজব শুনেছি একজন বিদেশিনী মহিলাকে মন্দিরে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তাকে প্রধান পুরোহিত লুদন এবং আমার বাবা রাজা কোতান দু’জনেই বিয়ে করতে চায়। মহিলাটি নাকি খুব সুন্দরী।

    টারজান পানাৎ লীকে বলল, তাকে মন্দিরের মধ্যে কোথায় রাখা হয়েছে জান?

    পানাৎ লী বলল, আমরা কি করে জানব?

    এই বলে প্রাসাদের দিকে চলে গেল পানাৎ লী।

    রাত্রির অন্ধকার নেমে আসতেই নিষিদ্ধ বাগান থেকে টারজান বেরিয়ে মন্দিরের উঠোনে সেই দোতলা রুদ্ধদ্ধার ঘরটার সামনে এসে দাঁড়াল যে ঘরটা সেদিন মন্দির পরিদর্শনকালে দেখে তার কথা জিজ্ঞাসা করেছিল। সে ঘরের জানালা দরজা সব বন্ধ। লুদন বলেছিল ঘরটা খালি পড়ে আছে। ঘরখানা দেখে সেদিনই সন্দেহ জাগে তার মনে।

    গম্বুজের মত দোতলা ঘরটা মন্দিরের বাইরের দিকে। তার ওধারেই সেই বিরাট হ্রদ।

    টারজান দেখল একতলায় একটা মিট মিট করে আলো জ্বলছে। চাপা গলায় দু’জন লোক কথা বলছে। সে তার ঘ্রাণশক্তির তীক্ষ্ণতার দ্বারা বুঝতে পারল এই ঘরে একজন মহিলা আছে। সে ক্রমে বুঝতে পারল লুদনই কথা বলছে জেনের সঙ্গে। জেনই হচ্ছে বিদেশিনী মহিলা।

    টারজান খেয়াল করেনি ঘরটার নিচেরতলাটা দুভাগে বিভক্ত ছিল। লুন জেনের সঙ্গে যেখানে কথা বলছিল তার পাশে দেওয়াল দিয়ে ঘেরা একটা অন্ধকার কুঠরি ছিল। টারজান না জেনেই সেই অন্ধকার কুঠরিটায় ঝাঁপ দিল।

    ঝাঁপ দিতেই টারজান দেখল ঘরটা ভীষণ অন্ধকার। অন্ধকারে হাতড়ে কাউকে না পেয়ে সে জেনের নাম ধরে ডাকতে লাগল। কিন্তু জেন কোন উত্তর দিল না। তার বদলে লুদন তার গলার স্বর চিনতে পেরে চীৎকার করে বলল, তোমার পিতা জাদ-বেন-ওখোর কাছে যাও।

    সেই কুঠরিটার পিছন দিকে একটা জানালা ছিল। জানালাটা খোলা থাকায় সেখান দিয়ে চাঁদের আলো আসছিল। টারজান দেখল জানালাটার পাশ দিয়ে একটা টানা বারান্দা চলে গেছে। তার একদিকে সেই বিরাট হ্রদ আর একদিকে সাদা রঙের একটা উচুঁ পাঁচিল।

    সহসা টারজান চাঁদের আলোয় দেখল কোর-উলের অরণ্যে দেখা সেই গ্রীক বা ডাইনোসর নামে একটা ভয়ঙ্কর জন্তু রয়েছে বারান্দায়। সে বুঝল এই ছোট্ট কুঠরিটা থেকে সেই বিরাটকায় জন্তু আর তার ভয়ঙ্কর লম্বা লেজ থেকে পরিত্রাণ পাবার কোন উপায় নেই।

    এদিকে জন্তুটা তার উপস্থিতির কথা বুঝতে পেরে শিং উঁচিয়ে তেড়ে আসছে তার দিকে। টারজান তখন অন্য কোন উপায় না পেয়ে ছুটে গিয়ে হ্রদের জলে ঝাঁপ দিল।

    এদিকে লুদন রাত্রিতে একা জেনকে বিয়েতে রাজী করাবার জন্য সেই ঘরটায় এসেছিল। দিনেরবেলায় কোতানের ভয়ে এখানে আসতে পারে না সে।

    লুদনের কথায় জেন যখন রাজী হলো না তখন লুদন তাকে জোর করে ধরতে গেল। কিন্তু জেন। তাকে বলল, খবরদার, তুমি আমাকে ছোঁবে না। তাহলে দু’জনের একজন মরবেই।

    এমন সময় পাশের ঘরে টারজনের পড়ার শব্দ হয়। টারজান ‘জেন জেন’ বলে চীৎকার করতে থাকে এবং তার গলার স্বর শুনে উপহাস করে লুদন তার পিতা জাদ-বেন-ওথোর কাছে ফিরে যেতে বলে।

    এরপর লুদন আবার জেনের দিকে এগিয়ে এলে সহসা জাদন এসে ঘরে ঢোকে। লুদন তাকে দেখেই বলে ওঠে, জাদন এমন সময় এখানে?

    জেন দেখল গম্ভীর মুখে এক যোদ্ধা সুদনের দিকে কঠোরভাবে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই মুহূর্তে তাকে তার ত্রাণকর্তা বলে মনে হলো।

    জাদন বলল, আমি কোতানের কাছ থেকে আসছি। বিদেশিনী মহিলাকে নিষিদ্ধ বাগানের মধ্যে নিয়ে যেতে হবে।

    লুদন চুপ করে রইল। সে জানত কোতান কেন জাদনের উপর এ কাজের ভার দিয়েছে। কারণ এই জাদনই তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সামন্ত আর শক্তিশালী যোদ্ধা। এই জাদনই পুরোহিতদের সবরকমের চক্রান্ত থেকে রক্ষা করে আসছে রাজা কোতানকে।

    লুদন তাই সরাসরি জাদনের বিরোধিতা না করে তাকে কৌশলে ফাঁদে ফেলার জন্য বলল, ঠিক আছে, পাশের ঘরে এস, এ নিয়ে আলোচনা করা যাবে।

    কিন্তু তখন জেন জাদনকে বলল, আপনি যদি বাঁচতে চান তাহলে ওঘরে যাবেন না।

    জাদন এবার জেনকে জিজ্ঞাসা করল, কিন্তু কেন তুমি ওকথা বলছ?

    জেন বলল, ওঘরটা অন্ধকার কারাগার। ওখানে একটা জন্তু আছে। ও আমাকে ওঘরে জোর করে ঢুকিয়ে দেবে বলে মাঝে মাঝে ভয় দেখাত।

    জাদন সাবধান হয়ে যেতে লুদন চলে গেল। জাদন জেনকে বলল, কেন তুমি আমাকে সাবধান করে দিলে? আমি ত তোমায় মুক্তি দিতে পারব না।

    জেন বলল, লুদন হচ্ছে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। কিন্তু তোমাকে দেখে একজন সত্যিকারের বীর এবং সম্মানিত ব্যক্তি বলে মনে হয়।

    জাদন বলল, তুমি বুদ্ধিমতী। এখন আমার সঙ্গে এস। তুমি এখন নিষিদ্ধ বাগানের পাশে রাজকন্যা ওলোয়ার ঘরে থাকবে। এই কারাগারের থেকে সেখানটা নিরাপদ।

    জেন ভয়ে ভয়ে বলল, কিন্তু কোন?

    জাদন বলল, তোমাকে বিয়ে করার আগে কতকগুলো অনুষ্ঠানের ব্যাপার আছে। তাতে বেশ কয়েকদিন লেগে যাবে। তাছাড়া বিয়ের ব্যাপারে একটা সমস্যা আছে। কারণ রাজার বিয়ে একমাত্র পুরোহিতই দিতে পারে এবং লুদনের এতে মত নেই।

    জেন বলল, ঠিক আছে, যত দেরী হয় ততই ভাল।

    মন্দিরের সীমানা পার হয়ে প্রাসাদে ঢুকতে যাবার মুখে দু’জন পুরোহিত জাদন আর জেনকে ঢুকতে দিতে চাইল না। তারা বলল, একমাত্র প্রধান পুরোহিত লুদনের হুকুম ছাড়া বন্দিনী প্রাসাদে ঢুকতে পারবে না।

    জাদন তার ছুরিতে হাত দিয়ে বলল, রাজা কোতানের আদেশে ও প্রাসাদ অন্তঃপুরে যাচ্ছে এবং অন্যতম সামন্ত জাদন তাকে নিয়ে যাচ্ছে। সরে যাও। ওকে ঢুকতে দাও।

    তারা সরে যেতেই জাদন জেনকে নিয়ে প্রাসাদে ঢুকে পড়ল। জাদন এবার অন্তঃপুরের দিকে এগিয়ে গেল। যেখানে একজন প্রহরীকে বলল, এই বিদেশিনী মহিলাকে রাজকন্যা ওলোয়ার ঘরে নিয়ে যাও।

    প্রহরী জেনকে সঙ্গে করে ওলোয়ার ঘরের সামনে গিয়ে বাইরে থেকে বলল, রাজকুমারী, এই সেই বিদেশিনী বন্দিনী এসেছে, আপনার ঘরে যাবে।

    ভিতর থেকে ওলোয়া বলল, ওকে আসতে বল এখানে।

    জেন ঘরের ভিতরে ঢুকলে প্রহরী চলে গেল।

    সেদিন রাত্রিতে কোতানের রাজপ্রাসাদে ভোজসভাটা একটু আগেই শুরু হয়েছিল। পরদিন বুলাতের সঙ্গে রাজকন্যার বিয়ে হবে। সেই উপলক্ষ্যে রাজা কোতান এই রাজসভার আয়োজন করেছে। বুলাতের বাবা মোসার রাজ্যের একজন শক্তিশালী সামন্ত।

    আজকের এই ভোজসভায় প্রচুর মদ্যপান করে সকলেই প্রায় মাতাল হয়ে উঠেছিল। সবচেয়ে বেশি মাতাল হয়ে উঠেছিল বুলাৎ। সে নেশার ঘোরো সব কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল। সে একপাত্র মদ নিয়ে বলল, আমি একটা ওলোয়ার নামে পান করছি।

    এ কথায় রেগে গেল কোতান। সে গম্ভীরভাবে চড়া গলায় বলে উঠল, এ কথা বলতে তুমি পার না, কারণ এখনো তোমার সঙ্গে ওলোয়ার বিয়ে হয়নি।

    সঙ্গে সঙ্গে চৈতন্য হলো বুলাতের। সে এ কথার মানে বেশই বুঝতে পারল। অথচ নেশার ঘোরও তার বেশ ছিল। সে রাগের মাথায় তার কোমরে ঝোলানো খাপ থেকে ধারালো ছোরাটা বার করে সেটা সামনে বসে থাকা কোতানের বুক লক্ষ্য করে সজোরে ছুঁড়ে দিল। টারজান–১৬ক।

    ছোরাটা কোতানের বুকে আমূল বিদ্ধ হয়ে যেতেই সে পড়ে গেল। বুলাৎ তখন তার অপরাধের গুরুত্ব বুঝতে পেরে পালিয়ে যাবার জন্য দরজার কাছে এগিয়ে গেল। কিন্তু প্রহরীরা তার পথ আটকে দাঁড়াল।

    মোসার তখন এগিয়ে গিয়ে বলল, কোতান মারা গেছে। এখন মোসার হচ্ছে রাজ্জা। সুতরাং আমার অনুচর যোদ্ধারা এসে আমাকে রক্ষা করো।

    মোসারের এই কথায় তার কিছু অনুগামী যোদ্ধা এগিয়ে এসে মোসার ও বুলাকে ঘিরে দাঁড়াল। কিন্তু ঠিক এমন সময় জাদন ভিড় ঠেলে এগিয়ে এসে বলল, এখন ওদের দুজনকেই গ্রেফতার করো। কোতানের বিশ্বাসঘাতক হত্যাকারীদের উপযুক্ত শাস্তি হওয়ার পর পান-উলফ-দলের যোদ্ধারা তাদের রাজাকে মনোনীত করে নেবে।

    বেগতিক দেখে মোসার ও বুলাৎ এক সময় লুকিয়ে পালিয়ে গেল ভোজসভার ঘর থেকে।

    ওরা দু’জনে প্রাসাদ ত্যাগ করে সোজা নিজেদের দেশে পালিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু গেটের কাছে যেতেই হঠাৎ মোসার বুলাকে বলল, চল, যাবার সময় ওলোয়াকে নিয়ে আসি।

    বুলাৎ বলল, তাহলে আমরা ধরা পড়ে যাব।

    মোসার বলল, এখন ওরা মারামারি করছে। ওলোয়ার নিরাপত্তার ব্যাপারে নজর দিতে পারবে না।

    এই বলে মোসার বুলাকে সঙ্গে নিয়ে ওলোয়ার অন্তঃপুরে গিয়ে চাতুরী করে বলল, ওলোয়া, একটা দারুণ দুঃসংবাদ আছে। রাজ্যের যোদ্ধারা হঠাৎ বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে। তারা এইমাত্র কোতানকে হত্যা করেছে। তারা এখন মাতাল অবস্থায় এই দিকে আসছে। এখন এখানে থাকা নিরাপদ নয় তোমার পক্ষে। তাই তোমাকে আমি নিরাপদে আমাদের রাজ্যে নিয়ে যাবার জন্য এসেছি।

    কথাটা শুনে ওলোয়া বলল, আমার বাবা রাজা কোতান মারা গেছে? তা যদি হয় তাহলে ত এখন আমিই রাণী। পাল-উলফ-দলের যোদ্ধারা নতুন রাজা মনোনীত না করা পর্যন্ত রাজ্যের আইন অনুসারে আমিই রাণী। আমি তোমার অযোগ্য কাপুরুষ ছেলেকে কখনই বিয়ে করতে চাইনি। এখনই চলে যাও এখান থেকে।

    মোসার এবার রেগে গিয়ে বুলাকে বলল, বুলাৎ, তোমার স্ত্রীকে নিয়ে যাও আর আমি এই বিদেশিনী নারীকে নিয়ে যাচ্ছি।

    এই বলে ওলোয়া ও পানাৎ লী কিছু বুঝতে পারার আগেই জেনকে ধরে কাঁধে তুলে নিয়ে ছুটে বেরিয়ে গেল ঘর থেকে।

    মোসারের ব্যাপার দেখে উৎসাহিত হয়ে বুলাৎ ওলোয়াকে ধরে নিয়ে যাবার জন্য উদ্যত হলো। কিন্তু পানাৎ লী পুলাতের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বাধা দিতে লাগল। বুলাৎ তখন তার ছুরি পানাৎ লীকে হত্যা করতে যেতেই বাইরে থেকে কে একজন ঘরে ঢুকে বুলাতের হাত ধরে তার মুখে একটা ভয়ঙ্কর ঘুষি মারল।

    টারজানকে দেখে পানাৎ লী আর ওলোয়া দুজনেই চিনতে পারল। টারজান দেখল আর সময় নেই। সে বলল সেই বিদেশিনী মহিলা কোথায়? সে আমারই স্ত্রী।

    পানাৎ লী বলল, এই মৃত লোকটার বাবা মোসার তাকে নিয়ে পালিয়েছে একটু আগে। ওর বাড়ি তুলুর।

    টারজান বলল, ঠিক আছে আমি তাকে উদ্ধার করার জন্য যাচ্ছি। পরে ফিরে এসে তোমাদের উদ্ধার করব।

    গ্রীফের হাত থেকে বাঁচার জন্য হ্রদের জলে ঝাঁপ দেয় টারজান। টারজান পাথরের পাঁচিলটা অতি কষ্টে পার হয়ে সাঁতার কেটে কূলে গিয়ে উঠল।

    ইচ্ছা করলে কূলে উঠে আলুর নগরীর বাইরে চলে যেতে পারত টারজান। কিন্তু জেনের কথা ভেবে তা পারল না। সে নিষিদ্ধ বাগানে জেনের খোঁজে যাবার জন্য পুরোহিতের পোশাক পরে মন্দিরের দিকে এগিয়ে গেল। এদিকে লুদন সেই ঘর থেকে ফিরে এসে তার ঘরের মধ্যে তার বিশ্বস্ত পুরোহিতদের ডেকে তাদের সঙ্গে এই অপমানের প্রতিশোধ নেবার কথা আলোচনা করতে লাগল। টারজান লুদনের ঘরের পাশ দিয়ে যাবার সময় বারান্দার এক পাশে নৈশ্য ছায়ায় গা-ঢাকা দিয়ে দাঁড়িয়ে লুদনদের চক্রান্তমূলক আলোচনার কথা শুনতে লাগল। সুদন প্রথমে একজন পুরোহিতের হাতে কোতানকে হত্যা করার ভার দিল। বলল, কোতান প্রধান পুরোহিতের আদেশ লঙ্ঘন করে তাকে অপমানিত করেছে। সুতরাং তাকে হত্যা করে মন্দিরের পুরোহিতদের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

    লুন এবার পানসাৎ নামে এক পুরোহিতকে শহরের মধ্যে গিয়ে তার অনুগামী যোদ্ধাদের গুপ্তদ্বার দিয়ে প্রাসাদে আনবার জন্য যেতে বলল। সে বলল, কোতানের মৃত্যুর পর জাদন রাজা হতে চাইবে। কিন্তু তোমরা মোসারকে তার বাড়ি থেকে নিয়ে এস। শুনছি সে গোলমালের সময় বাড়ি পালিয়ে গেছে। তাকে আমি রাজা করব। সে আমার মতের লোক। সে রাজা হলে আমাদের আধিপত্য সবক্ষেত্রে বজায় থাকবে।

    লুদন একজন পুরোহিতকে জিজ্ঞাসা করল, সেই বন্দিনী মহিলাটি কোথায়?

    পুরোহিত বলল, জাদন তাকে জোর করে প্রাসাদের অন্তঃপুরে ঢুকে রাজকন্যার ঘরে নিয়ে গেছে।

    লুদন বলল, ঠিক আছে, আমরা পরে খুঁজে বার করব। নিষিদ্ধ বাগানের মধ্যেই তাকে পাব। পানসাৎ, এখন চলে যাও। শহরে গিয়ে রচনা করবে জাদনই রাজক্ষমতার লোভে রাজাকে হত্যা করেছে।

    পানসাৎ চলে গেলে টারজানও নিঃশব্দে তার অনুসরণ করে গুপ্ত সুড়ঙ্গপথ দিয়ে প্রাসাদের বাইরে পানসাৎ চলে যেতে টারজান আবার প্রাসাদে ফিরে এল। সে সোজা অন্তঃপুরে ওলোয়ার ঘরের দরজার সামনে দাঁড়াল। দেখল বুলাৎ পানাৎ লীকে মেঝের উপর ফেলে দিয়ে চুলের মুঠি ধরে তার বুকে ছুরি মারার জন্য উদ্যত হয়েছে। তখন সে ঘরে ঢুকে বুলাতের একটা হাত ধরে মুখে প্রচণ্ড একটা ঘুষি মেরে তাকে ফেলে দিল।

    তারপর অন্তঃপুর থেকে বেরিয়ে মোসারের খোঁজে প্রাসাদের বাইরে যাবার জন্য গেটের কাছে পৌঁছতেই কয়েকজন যোদ্ধা তাকে ঘিরে দাঁড়াল। কারণ সে তাড়াহুড়ো করে মাথায় পুরোহিতের পোশাকটা পরতে ভুলে যাওয়ায় তাদের মনে সন্দেহ হয়।

    টারজান দেখল একা এতগুলো যোদ্ধার সঙ্গে পেরে ওঠা সম্ভব নয়। তাছাড়া যোদ্ধারা জাদন-পন্থী। তারা অবশ্য টারজনের ভয়ে তার খুব একটা কাছে আসতে পারছিল না। টারজান তাদের বলল, আমি লুদনের ষড়যন্ত্রের কথা সব আড়াল থেকে শুনেছি। সে এইমাত্র পানসাৎকে শহর থেকে অনেক যোদ্ধা নিয়ে আসার জন্য পাঠিয়েছে। একটি গুপ্ত পথ দিয়ে প্রাসাদে ঢুকবে তারা। গুপ্ত পথটিও আমি দেখে নিয়েছি।

    একজন যোদ্ধা বলল, তোমার কথা যদি মিথ্যা হয়?

    টারজান বলল, আমার সঙ্গে তোমরা শহরে গেলেই বুঝতে পারবে। আমার কথা মিথ্যা হলে তোমরা আমাকে যে কোন শাস্তি দিতে পার। আর সত্য হলে আমাকে ছেড়ে দেবে। আমি এখন মোসারের খোঁজে তার দেশে যাব।

    যোদ্ধারা টারজনের সঙ্গে শহরে গিয়ে দেখল সত্যিই পানসাৎ শহরের যোদ্ধাদের ডেকে উত্তেজিত করছে। তারা দেখল টারজনের কথাই ঠিক, সে সত্যিই জাদনের বন্ধু। তারা তাই টারজানকে ছেড়ে দিয়ে বিদ্রোহী যোদ্ধাদের আক্রমণ করল।

    যাবার আগে টারজান তাদের জিজ্ঞাসা করল, মোসারের দেশ কোথায়?

    যোদ্ধারা বলল, তার দেশ হলো তুলুর। আলুরের সীমানা পার হয়ে আবার একটা বড় হ্রদ পাবে। তার দক্ষিণ দিকে তুলুর রাজ্য।

    জেনকে কাঁধে তুলে নিয়ে যেতে পারছিল না মোসার। তখন সে তাকে হটিয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করছিল। আলুর নগরীর সীমানাটা কোন রকমে পার হয়ে সে জেনকে টানতে টানতে হাঁটিয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করল। এমন সময় মোসার দলের যোদ্ধাদের দেখতে পেল। তারই জন্য অপেক্ষা করছিল নগরের বাইরে এক জায়গায়। মোসার তখন তাদের দু’জনকে জেনকে তুলে নিয়ে যাবার জন্য হুকুম করল।

    হ্রদের ঘাটে এসে ওরা সবাই তিনটে নৌকায় চাপল।

    মোসার সদলবলে জেনকে নিয়ে নৌকা ছেড়ে দিল। এক সময় মোসার অন্যমনস্ক হওয়ায় সুযোগ বুঝে জলে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতার কেটে কুলের দিকে চলে গেল জেন।

    এদিকে টারজান হ্রদের কাছে এসে একটা নৌকা পেয়ে তাতে উঠে পড়ে নিজেই দাঁড় বাইতে লাগল। সে বুঝতে পারল এই হ্রদটার ওপারে দক্ষিণ কূলে আছে মোসারের তুলুর রাজ্য।

    লুদন আবার আলুর থেকে দু’জন পুরোহিতকে পাঠিয়েছেন মোসারকে আলুরে নিয়ে যাবার জন্য। কারণ সে তাকে রাজা করতে চায়। তুলুর থেকে যে তিরিশজন যোদ্ধা আলুরের পথে নৌকায় করে আসছিল তাদের সঙ্গে পথে দেখা হলো আলুরের পুরোহিত দু’জনের সঙ্গে। তারাও একটা নৌকায় করে যাচ্ছিল। তাদের নৌকাগুলো এক জায়গায় হতেই তারা পরস্পরের খবরাখবর নিতে লাগল। তখন তারা দেখল একটা নৌকা চালিয়ে টারজান জাদ-গুরু নামে সেই বিদেশীটা তুলুরের দিকে যাচ্ছে। তাকে তারা। সবাই ভয়ের চোখে দেখত। তুলুরের যোদ্ধারা আলুরের পুরোহিতদের বলল, তোমরা তাড়াতাড়ি তুলুরে গিয়ে মোসারকে সাবধান করে দাও।

    আলুরের পুরোহিতরা তুলুরের রাজসভায় গিয়ে মোসারের সঙ্গে দেখা করতেই একজন প্রহরী এসে খবর দিল, ডোর-উলফ-ওথো প্রাসাদ দ্বারে এসে দাঁড়িয়ে আছে। সে আপনার সঙ্গে দেখা করতে চায়।

    জেন সাঁতার কেটে হ্রদটা পার হয়ে কূলের উপর উঠে বনের ধারে একটা গাছতলায় বসে রইল। আজ কয়েক মাস ধরে বন্দীজীবন যাপন করছে সে। প্রথমে কাইজারের আদেশে হপম্যান ফ্রিৎস স্লাইদার ব্রিটিশবিরোধী জার্মান সেনাপতি হিসেবে ব্রিটিশ অধিকৃত পূর্ব আফ্রিকায় অভিযান চালাতে গিয়ে লর্ড গ্রেস্টোকের বাংলোতে ধ্বংস কার্য চালায় এবং জেনকে বন্দী করে তুলে নিয়ে যায়।

    টারজানও ব্রিটিশদের সহায়তায় তার ক্ষয়ক্ষতির জন্য প্রতিশোধবাসনায় উন্মত্ত হয়ে জার্মানদের উপর অনেক অত্যাচার করে। জার্মানরা তখন বিজয়ী ব্রিটিশরা যে পথে এগিয়ে আসছিল সেই পথটা এড়াবার জন্য স্লাইদারের সহকারী লেফটেন্যান্ট ওবারগাৎসের প্রহরাধীন জেনকে অন্য পথে পাঠিয়ে দেয়।

    ওবারগাৎসের সঙ্গে তখন ছিল একদল আদিবাসী সৈন্য। এই সেনাদল আর জেনকে নিয়ে সে দক্ষিণ আফ্রিকার একটা আদিবাসী গাঁয়ে গিয়ে ওঠে।

    একদিন যে আদিবাসী মহিলাটি জেনের দেখাশোনা করত, জেনের প্রতি স্নেহবশত সে এসে জেনকে সাবধান করে দেয়। বলে আজ রাতেই ঐ শ্বেতাঙ্গকে তারা হত্যা করবে।

    কথাটা শুনেই ওবারগাৎসের ঘরে চলে গেল জেন। জেন তাকে সব কথা খুলে বলল, শেষে বলল, আজ রাতটা আমরা এখানে থাকলেই আমাদের মেরে ফেলবে ওরা। সুতরাং এখনি আমাদের পালিয়ে যেতে হবে এখান থেকে।

    ওবারগাৎস কোন প্রতিবাদ করল না। সে সবকিছু ভেবে জেনের কথামতই কাজ করল। শিকারের জন্য বন্দুকবাহক ও ভৃত্যরা রওনা হবার কিছুক্ষণ পর সে শিকারীর বেশে জেনকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।

    দিনের পর দিন রাতের পর রাত তারা জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ভীষণ কষ্টের মধ্যে দিয়ে হেঁটে চলল।

    যেতে যেতে কতকগুলো পাহাড় পার হয়ে জাদ-বেন-ওয়োর উপত্যকায় এসে পড়ল। সেখানে একদিন একজন হোন যোদ্ধার চোখে পড়ায় জেনকে ধরে আলুর নগরীতে নিয়ে গেল তারা। ওবারগাৎস কোনরকমে পালিয়ে গেল।

    আজ বহুদিন পর সকল বন্দীত্ব হতে মুক্ত হয়ে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল জেন।

    পরদিন সকালে রোদের তাপ গায়ে লাগতেই উঠে পড়ল জেন। জেনের কাছে একটা থলে ছিল। তাতে কতকগুলো বিভিন্ন আকারের পাথর কুড়িয়ে নিল। তারপর জেন একটা লম্বা চারাগাছ উপড়ে নিয়ে সেটাকে বর্শার মত করে নিল। ছুরি দিয়ে তার মুখটা সরু করে ফেলল। এবার টারজনের কথা মনে পড়ল। ভাবল টারজান যদি প্রাণে বেঁচে থাকে তাহলে তার সঙ্গে একদিন না একদিন দেখা হবেই তার। সে তাকে খুঁজে বের করবেই।

    এমন সময় আলুর থেকে দু’জন পুরোহিত এসে দেখা করল মোসারের সঙ্গে।

    তারা টারজনের নাম শুনেই মন্দিরের ভিতরে চলে গেল। টারজনের নাম শুনে মোসারও ভয় পেয়ে গেল। কিছু তুলুরের পুরোহিতরা মোসারকে পরামর্শ দিল টারজানকে সে যেন খুব খাতির করে। পরে তাকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করতে হবে কৌশলে।

    টারজান মোসারের সামনে এসেই কোনরকম অভিবাদন বা ভনিতা না করে সরাসরি বলল, তুমি আলুর থেকে যে বিদেশী মহিলাকে এনেছ সে কোথায়?

    টারজনের গম্ভীর কণ্ঠ শুনে ভয় পেয়ে গেল মোসার। সে বলল, সে পথেই পালিয়ে গেছে। আমি তার খোঁজ করার জন্য তিরিশজন লোককে পাঠিয়েছি।

    টারজান এবার বলল, আলুর থেকে যে দু’জন পুরোহিত একটু আগে এসেছে তারা কোথায়?

    মোসার বলল, তারা মন্দিরে পুরোহিতদের সঙ্গে দেখা করতে গেছে।

    পরে পুরোহিতরা দলবেঁধে টারজনের কাছে গিয়ে বলল, হে ডোর-উলফ-ওথো, আপনি দয়া করে আমাদের রাজ্যে যখন পদার্পণ করেছেন তখন মন্দিরটা একবার দেখে যান।

    টারজান এই খাতির পেয়ে গলে গেল। সে পুরোহিতদের সঙ্গে মন্দির দর্শন করতে গেল। মন্দিরটা ঘুরিয়ে দেখানোর পর মাটির তলায় সেই অন্ধকার কারাগারটায় নিয়ে গেল। ঘরটা ভীষণ অন্ধকার।

    ওরা মশাল জ্বেলে কারাগারটায় টারজানকে নিয়ে ঢুকেই বেরিয়ে এসে দরজাটা বন্ধ করে দিল। টারজান এবার ওদের চক্রান্তের ব্যাপারটা বুঝতে পারল। টারজান অন্ধকারে হাতড়ে কয়েকটা পাথর দিয়ে ওদিকের জানালাগুলোকে ভেঙ্গে পালিয়ে যাবার পথ করার চেষ্টা করতে লাগল।

    এদিকে আলুর থেকে একজন পুরোহিত এসে তুলুরের প্রধান পুরোহিতের সঙ্গে দেখা করল। সে বলল, কোতানের মৃত্যুর পর থেকে জাদন রাজা হবার চেষ্টা করছে। আমরা চাই তুমি আলুর চল। আমরা তোমাকে আলুরের প্রধান পুরোহিতের পদে বরণ করে নেব। তুমি আলুরে চলে যাবে। আমরা ওখানে সব ব্যবস্থা করে রাখব। তুমি এখানে একজনকে হত্যা করবে। আমরা ওখানে একজনকে হত্যা করব।

    এই বলে পুরোহিত চলে গেল। প্রধান পুরোহিত মনে ভাবল, বন্দী টারজানকে খুন করতে বলেছে। সে বুঝতে পারেনি আলুরের পুরোহিত তাকে মোসারকে খুন করার কথা বলেছে। তারা লুদনকে হত্যা করবে।

    প্রধান পুরোহিত তাই দশজন যোদ্ধা নিয়ে সেই কারাগারটায় চলে গেল। কিন্তু তারা অন্ধকার কারাগারে ঢুকেই দেখল টারজান পালিয়ে গেছে।

    জেন একটা খরগোশ শিকার করল। এবার আগুন জ্বালাতে হবে। আগুনে দগ্ধ না করে সে মাংস খেতে পারে না। আগুন জ্বেলে মাংসটা পুড়িয়ে খাবার পর একটা আনন্দের উত্তেজনা অনুভব করতে লাগল সে।

    বর্শাটা তুলে নিয়ে আবার হরিণের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ল সে। হরিণের মাংসই তার প্রিয় খাদ্য। নদীটার ধারে অনেকক্ষণ ঘুরতে ঘুরতে সে একটা হরিণ দেখতে পেয়ে তার হাতের বর্শাটা ছুঁড়ে দিল। বর্শাটা হরিণটাকে বিদ্ধ করতেই সেটা পড়ে গেল। আর সঙ্গে সঙ্গে এক পুরুষ কণ্ঠ নদীর ওপার থেকে বলে উঠল, ‘সাবাস’!

    জেন প্রথমে লোকটাকে চিনতে পারল না। কাছে আসতে জেন চিনতে পারল। লোকটা হলো ওবারগাৎস।

    জেন বিস্ময়ে চীৎকার করে উঠল, ওবারগাৎস তুমি!

    ওবারগাৎস বলল, হ্যাঁ আমি।

    জেন বলল, আমি ভাবছিলাম তুমি এতদিনে সভ্যজগতের কোন দেশে চলে গেছ।

    ওবারগাৎস বলল, চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি। এ দেশের চারদিকে শুধু জলাশয়। আর যতসব হিংস্র জন্তু। তাদের হাত তেকে কোনরকমে বেঁচে গেছি।

    জেন বলল, ওবারগাৎস, তুমি এখন যাও। আমাকে একা থাকতে দাও।

    ওবারগাৎস হাসতে লাগল। না, না, তোমাকে একা ফেলে আমি এখন যেতে পারি না। তোমাকে রক্ষা করার দায়িত্ব এখন আমার।

    জেন বলল, আমি এখন একাই আত্মরক্ষায় সমর্থ। আমি যে বর্শা চালনা করতে পারি তা তুমি একা আগেই দেখেছ।

    ওবারগাৎস বলল, না, আমি যাব না।

    জেন এবার বর্শাটা হাতে ধরে আদেশের সুরে বলল, চলে যাও বলছি। আমাকে অনুসরণ করার চেষ্ট করবে না। যদি আমি তোমাকে আবার দেখতে পাই তাহলে তোমায় হত্যা করব।

    এই বলে জেন চলে গেল সেখান থেকে।

    আলুর নগরীতে তখন দারুণ গোলমাল ছিল। রাজ্যের যত সব যোদ্ধা আর পুরোহিতরা লুদন আর জাদন এই দুই নেতার অধীনে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল।

    কিন্তু সুদনের পুরোহিত ও যোদ্ধারা ক্রমে সংখ্যায় বেড়ে গিয়ে জাদনের দলের যোদ্ধাদের প্রাসাদ থেকে তাড়িয়ে দিতে থাকে। জাদন তখন রাজকন্যা ওলোয়া পানাৎ লী আর তার দলের লোকদের নিয়ে প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে তার রাজ্য জালুরে চলে যায়।

    মোসারের কারাগার থেকে বেরিয়ে টারজান তার বারান্দায় লাফ দিয়ে পড়ল। দেখল পাশেই একটা খাড়াই পাঁচিল।

    অন্ধকারে মুহূর্তমধ্যে দরজা দিয়ে বেরিয়ে নগরের রাজপথে গিয়ে পড়ল টারজান। একবার পিছনে ফিরে দেখল, কেউ তাকে ধরতে আসছে কি না।

    তুলুর নগরী থেকে বেরিয়ে জঙ্গলে ঢুকেই এক নিবিড় স্বস্তি অনুভব করল টারজান। রাতের অন্ধকারেও গাছে গাছে দ্রুত অনেকটা পথ পার হলো টারজান। ক্রমে একটা নদীর ধারে এসে পড়ল সে। গাছ থেকে নেমে নদীটা পার হয়ে আবার ওপারের জঙ্গলে চলে গেল। কিন্তু ওপারের বনটায় ঢুকে নাকে কিসের ঘ্রাণ পেয়ে স্তব্ধ হয়ে একবার দাঁড়াল সে। তারপর এক নতুন উদ্যমে কাকে যেন খুঁজে বেড়াতে লাগল।

    খুঁজতে খুঁজতে অবশেষে একটা বড় গাছের তলায় এসে দেখল গাছের উপরে একটা মাচা বাঁধা রয়েছে।

    টারজান মাচার সামনে এসে ডাকল, জেন, প্রিয়তমা জেন, আমি।

    হঠাৎ টারজান শুনতে পেল কে যেন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাচার বিছানার উপরেই পড়ে গেল। সে তখন মাচার সামনেকার ডালপালার বাধনগুলো নিজের হাতে সরিয়ে মাচার ভিতরে ঢুকে দেখল জেন মড়ার মত শুয়ে আছে।

    ধীরে ধীরে জেনের জ্ঞান ফিরে এলে জেনের মনে হলো সে স্বপ্ন দেখছে। জেন বলল, ঈশ্বর তাহলে এতদিনে আমাদের উপর দয়া করেছেন জন।

    দু’জনেরই মুখে অসংখ্য কথা ভিড় করে আসছিল। জেন এবার প্রশ্ন করল, জ্যাক কোথায়?

    টারজান বলল, আমি ত জানি না। আমি শেষবার যখন তার কথা শুনি সে তখন ছিল আর্গন ফ্রন্টে। কিন্তু এখন তুমি কোথায় যেতে চাও।

    জেন বলল, আমি প্রথমে জ্যাককে ফিরে পেতে চাই। তাকে ফিরে পেতে যেখানে যেতে হয় যাব। আমি অবশ্য মাঝে মাঝে বাংলোটারই স্বপ্ন দেখি, শহরের কথা মনে হয় না।

    পরদিন সকালেই জেনকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়ল টারজান।

    ওবারগাৎস সেদিন জেনের কাছ থেকে তাড়া খেয়ে হাঁটতে থাকে। হঠাৎ এক জোর হাসিতে ফেটে পড়ল সে। তার সামনে তখন বিস্তৃত হয়ে ছিল এক বিশাল হ্রদের জলরাশি। সেই হ্রদের ওপারে একটা নদী আছে। তার পাড়েই আছে আলুর নগরী। সেখানকার লোকেরা জাদ-বেন-ওখো নামে এক দেবতার পুজো করে। ওবারগাৎস মনে মনে ঠিক করল, ওদের দেবতা জাদ-বেন-ওথোর নাম ধারণ করে ও যাবে সেখানে।হ্রদের জলে কিছুটা নেমে পাগলের মত চীৎকার করতে লাগল ওবারগাৎস, আমিই হচ্ছি জাদ বেন-ওগো, আমিই সেই মহান দেবতা।

    কিন্তু অত দূর থেকে কেউ তার কথা শুনতে পেল না। কেউ তাকে নিতে এল না দেখে ওবারগাৎস নিজেই হ্রদের জলরাশি সাঁতার কেটে পার হতে লাগল।হ্রদটার অনেকখানি পার হয়ে নদীটার কাছাকাছি এসে সাঁতার কাটতে কাটতে একটা ছোট নৌকা পেয়ে গেল। নৌকাটা আধোবা অবস্থায় ভেসে চলেছিল।

    এবার নৌকাটার উপর চেপে দু’হাতে করে জল কেটে এগিয়ে যেতে লাগল। নদীতে নৌকায় যখন আলুর নগরীর দিকে এগিয়ে চলেছিল ওবারগাৎস তখন প্রাসাদপ্রাচীর ও নদীর ধার হতে অনেক লোক, শিশু আর নারীরা তার অদ্ভুত চেহারাটার পানে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।

    লুদনও দেখল ওবারগাৎসকে। সে তার পুরোহিতদের বলল, ওই বিদেশীকে এখানে সম্মানের সঙ্গে নিয়ে এস। আমার মতে এই হলো জাদ-বেন-ওথো।

    আর অধীনস্থ পুরোহিতরা ওবারগাৎস ঘাটে নামতেই তাকে সম্মানের সঙ্গে মন্দিরে নিয়ে গেল। নৌকা থেকে নেমে ওবারগাৎস বলে উঠল, আমি হচ্ছি জাদ-বেন-ওথো। আমি স্বর্গ থেকে আসছি। আমার প্রধান পুরোহিত কোথায়?

    লুদন বিদেশীর দিকে কটাক্ষপাত করে একবার দেখে নিয়ে ব্যাপারটা বুঝতে পেরেও দেবতারূপী এই বিদেশীকে আপন প্রয়োজন সিদ্ধির কাজে লাগাতে চাইল। সে মনে মনে ঠিক করল তাদের দেবতা জাদ-বেন-ওথোর নামধারী এই বিদেশীকে এই মন্দিরে দীর্ঘকাল রেখে দেবে। সে সারা রাজ্যে রটনা করে দেবে জাদ-বেন-ওথো স্বয়ং দয়া করে তার কাছে এসেছেন এবং তার মতকে সমর্থন করেছেন।

    এই কথা নগর মধ্যে প্রচার হলে বহু লোক দলে দলে মানুষরূপী জাদ-বেন-ওথোকে দেখতে এল। তার উদ্দেশ্যে অনেকে অনেক পূজার অঞ্জলি দিল। ওবারগাৎসের খাতির বেড়ে গেল।

    লুদন শুনেছিল জাদন জালুরে চলে গেলেও সেখান থেকে সৈন্য সংগ্রহ করছে। সুযোগ বুঝলেই সে আলুর নগরী আক্রমণ করবে। বর্তমান আলুর নগরীতে কোন রাজা নেই। এখন লুদনই একমাত্র সব ক্ষমতার অধিকারী।

    টারজান আর জেন দু’জনে মনের আনন্দে হ্রদ আর নদী পার হয়ে একটা উপত্যকার উপর দিয়ে যেতে লাগল। টারজনের ইচ্ছা আপাতত সে কোর-উলফ-জা রাজ্যে গিয়ে তার বন্ধু ওমতের সঙ্গে দেখা করবে। তার কাছেই তাদেন আছে।

    তিন দিন পর ওরা আলুরের কাছাকাছি একটা নদীর ধারে এসে পড়ল। হঠাৎ জেন বিরাটকায় গ্রীফ দেখে টারজানকে বলল, ওটা কি?

    টারজান বলল, ওটা গ্রীফ নামে এক জন্তু। কিন্তু মুস্কিল হচ্ছে কাছে কোন গাছ নেই। এখন জন্তুটা আমাদের না দেখেলেই ভাল। কারণ তোমাকে নিয়ে একা আমি ওর সঙ্গে লড়াই করতে পারব না।

    জেন বলল, কিন্তু জন্তুটা যে এত বড় তা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। যেন একটা যুদ্ধ জাহাজ।

    টারজান হেসে বলল, আক্রমণ করার সময় ওরা বড় ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে।

    ওরা ধীর গতিতে উপত্যকাটার উপর দিয়ে যেতে লাগল জন্তুটার নজর ওদের উপর না পড়ে। কিন্তু জন্তুটা কিছুক্ষণের মধ্যেই ওদের দেখতে পেয়ে গর্জন করে উঠল। টারজান বলল, আর উপায় নেই। এবার ওর সঙ্গে মোকাবিলা করতেই হবে। আর পালানো যাবে না।

    টারজান এরপর জেনকে বলল, আমি যাচ্ছি, তোমার বর্শাটা দাও।

    টারজান এবার তেরোদনদের মত হুইউ বলে চীৎকার করে উঠতেই জন্তুটা মৃদু গর্জন করে উঠল। টারজান তখন জেনকে নিয়ে জন্তুটার লেজে ভর দিয়ে তার চওড়া পিঠটায় চড়ে বসল। তারপর জন্তুটাকে কোর-উলফ-জার পথে চালনা করে নিয়ে যেতে লাগল। টারজান ভাবল সে এই জন্তুটার পিঠে চেপেই ওমৎদের গায়ে চলে যাবে।

    কিন্তু কোর-উলফ-জা যেতে হলে আলুরের পাশ দিয়ে যেতে হবে। তাই আলুরের পাশ দিয়ে যাবার সময় অনেকে গ্রীফের উপর টারজানকে দেখে ছুটে লুদনকে খবব দিল।

    টারজান জেনকে নিয়ে গ্রীফের উপর চেপে কোন্ পথে যাচ্ছে তার খবর দিতে লুদন ভাবল টারজান জালুরের পথে যাচ্ছে এবং সে জাদনের সঙ্গে যোগদান করবে। তখন জাদন টারজানকে নিয়ে একযোগে আলুর আক্রমণ করবে। লুদন তখন তার বিশ্বস্ত পুরোহিত পানসাকে গোপনে তার পরিকল্পনার কথাটা বুঝিয়ে দিল। পানসাৎ মাথায় যোদ্ধার জমকালো পোশাক পরে একজন যোদ্ধার বেশ ধারণ করল। তারপর সে জালুরের পথে রওনা হলো।

    টারজান যাচ্ছিল কোর-উলফ-লুনের পথে। একদল হোদন যোদ্ধা পথে এক ভয়ঙ্কর জন্তুকে দেখে ছুটে পালাতে লাগল। কিছুদূর যাওয়ার পর একটা ফাঁকা জায়গায় পড়তেই জাদনের লোকেরা টারজানকে দেখতে পেল। জাদন তখন সৈন্য সমাবেশ করছিল।

    হঠাৎ জাদনের একজন প্রহরী গ্রীফের পিঠে টারজানকে একটু দূর থেকে দেখে চিনতে পারল। সে ছুটে গিয়ে জাদনকে খবর দেয়। কিন্তু কথাটা বিশ্বাস করতে মন চাইছিল না জাদনের। পরে সে নিজে পাহাড়ের ধারে এসে দেখল কথাটা সত্যি। সে তখন চীৎকার করে বলে উঠল, হ্যাঁ উনিই সেই দেবতা ডোর-উলফ-ওথো।

    জাদন টারজানকে লক্ষ্য করে বলল, আমি জাদন, জালুরের প্রধান, আমি তোমার বন্ধু। আমরা তোমার পায়ে প্রণাম জানাচ্ছি। আমাদের প্রার্থনা, তুমি লুদনের বিরুদ্ধে আমাদের আসন্ন ন্যায় যুদ্ধে সাহায্য করো।

    টারজান বলল, তুমি তাকে এখনো পরাস্ত করতে পারনি? আমি ভাবছিলাম তুমি তাকে মেরে রাজা হয়েছ।

    জাদন বলল, না, জনগণ প্রধান পুরোহিতকে ভয় করে। তার উপর আলুরের মন্দিরে একজন বিদেশী নিজেকে স্বয়ং জাদ-বেন-ওখো হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। লুদনও তাকে মন্দিরে খাতির যত্ন করে রেখে দিয়ে জাদ-বেন-ওথোর নামে প্রচার চালিয়ে দল ভারী করছে। তবে জনগণ যদি জানতে পারে ডোর-উলফ-ওথো আবার ফিরে এসেছে আমাদের কাছে তাহলে এ যুদ্ধে আমরা জয়ী হবই।

    টারজান কিছুটা চিন্তা করে বলল, বল জাদন, কিভাবে আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি?

    জাদন বলল, আমার সঙ্গে জালুরে গিয়ে সৈন্য সংগ্রহের কাজে আমাকে সাহায্য করবে।

    টারজান গ্রীফের পিঠে চড়েই জালুরের দিকে এগিয়ে চলল। জাদন আর যোদ্ধারা হেঁটে হেঁটে যেতে লাগল।

    জালুরের প্রাসাদে জেনকে ওলোয়া আর পানাৎ লীর কাছে রেখে দিল। ওলোয়া আর পানাৎ দু’জনেই টারজানকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে নতজানু হয়ে তাকে প্রণাম করল।

    সেদিন রাতটা কাটানোর পর পরদিনই যুদ্ধ যাত্রা করল ওরা।

    যেদিন জাদন টারজানকে নিয়ে আলুরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যাত্রা করল সেদিন রাত্রি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আলুর থেকে যোদ্ধার বেশে আসা সুদনের অনুচর পানসাৎ জালুরের প্রাসাদ-উদ্যান থেকে পুরোহিতদের ঘরে চলে গেল। সে কৌশলে দু’জন পুরোহিতকে তার দলে এনে জেনকে নিয়ে পালিয়ে যাবার এক চক্রান্ত করল।

    রাত নিশুতি হলে এবং প্রাসাদের সব লোক ঘুমিয়ে পড়লে পানসাৎ তার অনুগত দু’জন পুরোহিতকে সঙ্গে করে অন্তঃপুরে জেন যে ঘরে একা ঘুমোচ্ছিল সেই ঘরে চলে গেল। ঘুমন্ত জেনের মুখ আর হাত পা বেঁধে তাকে তুলে নিয়ে প্রাসাদের বাইরে নদীর ঘাটে চলে গেল। মুখ বন্ধ থাকায় চীৎকার করতে পারলে না জেন। নদীর ঘাটে একটা নৌকা বাঁধা ছিল। তাতে জেনকে চাপিয়ে নৌকা ছেড়ে দিল পানসাৎ।

    তখন চাঁদ ডুবে গেছে। কিন্তু ভোর হয়নি তখনো। আলুরের বাইরে জাদনের সেনাদল দু’দলে ভাগ হয়ে গেল। একটা দল নিয়ে টারজান গুপ্তপথ দিয়ে প্রাসাদসংলগ্ন মন্দিরে চলে যাবে আর জাদন একটা দল নিয়ে সোজা প্রাসাদদ্বারে চলে গিয়ে আক্রমণ করবে। ঘুমন্ত নগরীতে কোন বাধা পাবে না তারা। তাদেনের কাছে একজন দূত পাঠানো হয়েছে। সে উত্তর-পূর্ব দিকে থেকে একই সময়ে আক্রমণ করবে।

    টারজানরা একটা মশাল এনেছিল সঙ্গে। মশালটা জ্বেলে সেই গোপন সুড়ঙ্গ পথটা দিয়ে এগিয়ে যেতে লাগল টারজান।

    টারজান গুপ্ত পথ দিয়ে সোজা মন্দিরের দরজার কাছে চলে গেল। তার দলের যোদ্ধারা অনেকটা পিছিয়ে পড়েছিল। দরজায় কোন পাহারা না থাকায় টারজান একাই লুদনের ঘরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। সহসা সে দেখল একজন আলুর যোদ্ধা একজন বিদেশী মহিলাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছে। টারজান এবার লোকটার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য ছুটে গেল। ওদিকে পানসাৎ টারজানকে চিনতে পেরে একটা অন্ধকার ঘরে বন্দিনীকে নিয়ে ঢুকল। টারজান তখন তার হাতের মশালটা নিভিয়ে দিয়ে সেই ঘরটায় ঢুকে পড়ল। অন্ধকার ঘরটায় ঢুকে পড়তেই তার দু’দিকের দুটো দরজা বন্ধ হয়ে গেল সঙ্গে সঙ্গে। দেখল, ঘরের দরজা দুটো বন্ধ এবং পাথর দিয়ে আটকানো। উপরে একটা জানালা আছে এবং জানালাটা বন্ধ।

    লুদন যখন তার ঘরে বসেছিল তখন পানসাৎ বন্দিনী জেনকে তুলে নিয়ে তার সামনে মেঝের উপর নামিয়ে রাখল। লুদন আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলল, এর জন্য তুমি প্রচুর পুরস্কার পাবে। এবার যদিও ভণ্ড ডোর-উলফ-ওথোকে একবার ধরতে পারতাম তাহলে সমগ্র পান-উলফ-বাসী আমাদের হাতের মুঠোর মধ্যে এসে যেত।

    পানসাৎ বলল, তাকে আমরা ধরেছি মালিক।

    লুদন আশ্চর্য হয়ে বলল, সে কি! তাকে ধরেছ? টারজান-জাদ-গুরু ধরা পড়েছে? তাকে কি হত্যা করেছ?

    পানসাৎ বলল, না। তাকে জীবন্ত ধরে রেখেছি। তাকে আমাদের প্রাচীন কারাগারটায় ধরে রেখেছি।

    এমন সময় একজন পুরোহিত ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় এসে খবর দিল, জাদনের যোদ্ধারা প্রাসাদের মধ্যে ঢুকে পড়েছে।

    পানসাৎ বলল, ও ঠিকই বলেছে মালিক। গুপ্ত পথ দিয়ে টারজানই জাদনের লোকদের এনেছে প্রাসাদে।

    সুদন বেরিয়ে গিয়ে দেখল কথাটা সত্যি। সে মন্দিরের বিপদসূচক ঘণ্টাটা বাজাতে লাগল জোরে। তারপর কয়েকজন বিশ্বস্ত পুরোহিতকে ডেকে বারান্দা পার হয়ে আর একটা ঘরে চলে গেল। জেনকেও তার ঘরে বয়ে নিয়ে যাওয়া হলো।

    মন্দিরের বিপদসূচক ঘণ্টাগুলোকে জোরে বাজাতে দেখে জাদন ভাবল এতক্ষণে টারজান তার সঙ্গের যোদ্ধাদের নিয়ে মন্দির ও প্রাসাদ আক্রমণ করেছে তাই এই ঘণ্টাধ্বনি। এদিকে লুদন জাদনের দলের। সৈন্যদের মনোবল ভেঙ্গে দেবার জন্য সে তার পুরোহিতদের বলল, যাও তোমরা প্রাসাদের মাথা থেকে প্রচার করে দাও, ভণ্ড ডোর-উলফ-ওথো ধরা পড়েছে। আমাদের কাছে ভগবান জাদ-বেন-ওখো আছেন। তিনি বলেছেন, এখনো সময় আছে, আক্রমণকারীরা অস্ত্র ত্যাগ করে যুদ্ধে বিরত হলে তাদের ক্ষমা করা হবে।

    এরপর লুদন জাদ-বেন ওথোরূপী ওবারগাৎসের কাছে লোক পাঠিয়ে দিল। দেবতার ভান করতে করতে ওবারগাৎসের মাথাটার ঠিক ছিল না। সে যে দেবতা নয়, একজন মানুষ এটা সে নিজেই আর বুঝতে পারছে না। সে তাই সব সময় মাথার চুলে ও দাড়িতে ফুল গুঁজে রাখত।

    ওবারগাৎস তখন ঘুমোচ্ছিল তার ঘরে। এমন সময় লুদনের লোক গিয়ে তাকে জাগল। বলল, শক্ররা প্রাসাদে ঢুকে পড়েছে।

    ওবারগাৎস বিছানার উপর বসে বলল, আমি হচ্ছি জাদ-বেন-ওথো, কে আমার ঘুম ভাঙ্গাল?

    এমন সময় আর একজন পুরোহিত এসে বলল, হে ভগবান জাদ-বেন-ওখো, জাদনের সৈন্যরা প্রাসাদ আক্রমণ করেছে।

    ওবারগাৎস বলল, আমি হচ্ছি জাদ-বেন-ওথো। আমি বজ্ৰ হেনে সেই সব নাস্তিক অধার্মিকদের পুড়িয়ে মারব।

    ওবারগাৎস ব্যস্তভাবে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করতে লাগল।

    এদিকে সুদন তার পুরোহিতদের নিয়ে নিজে প্রাসাদের উপর থেকে কথা বলতে লাগল জাদনের দলের লোকদের সঙ্গে। জাদনের দলের যোদ্ধারা যখন শুনল টারজান-জাদ-গুরু বন্দী হয়েছে সুদনের হাতে এবং তাদের ভগবান জাদ-বেন-ওথো স্বয়ং মন্দিরে অবস্থান করছেন তখন তারা সব উদ্যম হারিয়ে ফেলল। তারা শুনল টারজান ডোর-উলফ ওখো নয়, একজন ভণ্ড, মানুষের মত বন্দী হয়ে পড়ে আছে। তখন তাদের মনোবল ভেঙ্গে গেল। প্রাসাদের ভিতরে যারা যুদ্ধ করছিল জাদনের পক্ষে তারাও টারজানকে না পেয়ে মনোবল হারিয়ে প্রাসাদদ্বারে গিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। জাদনও সেইখানে ছিল। সেও হতবুদ্ধি হয়ে পড়েছিল।

    লুদন উপর থেকে জাদনের সেনাদলকে বলল তোমাদের অস্ত্র ত্যাগ করে আত্মসমর্পণ করো। ভগবান জাদ-বেন-ওথো তাই বলেছেন। তোমাদের ভণ্ড ডোর-উলফ-ওথো এখন আমাদের হাতে বন্দী।

    তখন নিচের থেকে জাদনের লোকেরা বলল, তাহলে জাদ-বেন-ওথেকে আমাদের সামনে নিয়ে এসে দেখাও। ডোর-উলফ-ওথো যদি বন্দী হয়ে থাকে তাহলে তাকেও এনে দেখাও।

    লুদন তখন দু’জনকেই প্রাসাদের ছাদের উপর নিয়ে আসতে বলল।

    এদিকে টারজান দেখল যে ঘরটায় সে বন্দী ছিল। সেই ঘরের উপর দিকে জানালার কাছে কড়িকাঠের সঙ্গে একটা দড়ি লাগানো ছিল। দড়িটাতে ভর দিয়ে উপরের দিকে উঠে জানালা দিয়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করছিল। এমন সময় উপর থেকে একদল পুরোহিত এসে টারজনের হাত দুটো চামড়ার দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলল। আর সেই সময়ে টারজান যখন ঝুলছিল তখন তার পা দুটো বেঁধে ফেলল। তারা টারজানকে তুলে নিয়ে গিয়ে ছাদের উপর লুদনের পাশে নামিয়ে দিল।

    ওবারগাৎস তার আগেই ছাদের উপর দাঁড়িয়েছিল। টারজানকে দেখেই ভয় পেয়ে গেল ওবারগাৎস।

    লুদন জাদনকে দেখিয়ে বলল, এই দেখ, বন্দী ডোর-উলফ-ওথো।

    ওবারগাৎস আবার বলল, আমি জান-বেন-ওখো।

    টারজান তার পানে তাকিয়ে বলল, তুমি হচ্ছ লেফটেন্যান্ট ওবারগাৎস। তুমি হচ্ছ সেই তিনজনের একজন যাকে আমি অনেক খুঁজে বেড়িয়েছি।

    ওবারগাৎস দেখল টারজনের কথা শুনে অনেকে তার পানে সন্দেহের চোখে তাকাচ্ছে।

    ওবারগাৎস বলল, আমিই জাদ-বেন-ওখো। এই লোকটা আমার পুত্র ডোর-উলফ-ওথো নয়। তার ভণ্ডামি আর প্রতারণার জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড ভোগ করতে হবে। সূর্য আকাশের মধ্যভাগে আসার সঙ্গে সঙ্গে বেদীর উপর তার শিরচ্ছেদ করা হবে। যাও, ওকে আমার চোখের সামনে থেকে নিয়ে যাও।

    যারা টারজানকে বয়ে নিয়ে এসেছিল তারা আবার সেখান থেকে তাকে বয়ে নিয়ে গিয়ে মন্দিরের বলির বেদীর উপর শুইয়ে দিল।

    এরপর ওবারগাৎস জাদনের লোকদের লক্ষ্য করে বলতে লাগল, তোমাদের অস্ত্র ফেলে দাও। আত্মসমর্পণ করো। তা না হলে আমি বজ্র নিক্ষেপ করে তোমাদের পুড়িয়ে মারব। যারা আত্মসমর্পণ করবে তাদের আমি ক্ষমা করব।

    জাদন তখন চীৎকার করে বলল, যে করে করবে, কিন্তু জাদন কখনো লুদন আর তার ভক্ত দেবতার পায়ে মাথা নত করবে না।

    কিন্তু সত্যি সত্যি জাদনের দলের কিছু লোক অস্ত্র ত্যাগ করে আত্মসমর্পন করল। তারপর তারা প্রাসাদের মধ্যে ঢুকে গিয়ে লুদনের পক্ষে যোগদান করল।

    আবার যুদ্ধ শুরু হলো। লুদনের নির্দেশে তখন একদল যোদ্ধা গুপ্ত সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে প্রাসাদের বাইরে গিয়ে প্রাসাদদ্বারে যুদ্ধরত জাদনের সেনাদলের উপর আক্রমণ শুরু করল। তখন দু’দিক থেকে আক্রান্ত হয়ে পালাতে লাগল তারা। জাদন বন্দী হলো।

    জাদনকেও হাত পা বাঁধা অবস্থায় মন্দিরে টারজান আর জেনের কাছে আনা হলো।

    লুদন ওবারগাৎসকে জিজ্ঞাসা করল, এই নারীকে কি বলি দেয়া হবে?

    ওবারগাৎস বলল, আগে এদের বলি দেয়া হোক। পরে আজ রাতে আমি ভেবে দেখব কি করা যায়।

    জেন টারজানকে বলল, এই হয়ত আমাদের শেষ দেখা।

    টারজান তখন নিজের কথা বা মৃত্যুর জন্য মোটেই ভাবছিল না। সে ভাবছিল শুধু জেনের কথা সে জেনকে সাহস দিয়ে বলল, এভাবে এর আগেও অনেকবার বন্দী হয়েছিলাম আমি।

    জেন বলল, এখনো আশা রাখ তুমি?

    টারজান বলল, এখনো আমি বেঁচে আছি।

    এবার ওবারগাৎস বলল, কই, আমার বলির খাড়া দাও। আমি নিজের হাতে বলি দেব ওকে।

    লুদন বলির খাঁড়াটা ওবারগাৎসের হাতে দিয়ে দিল। বেদীর উপর শায়িত অবস্থায় টারজান জেনকে বলল, বিদায়!

    জেনকে সরিয়ে নিয়ে গেল।

    ওবারগাৎস খাড়াটা হাতে নিয়ে বলল, আমিই সেই মহান দেবতা। এবার দেবদ্রোহী এই অধর্মাচারীর মৃত্যু দেখ।

    এই বলে সে খাঁড়াটা গলার উপর তোলার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে কিসের একটা জোর শব্দ হলো। সকলে চমকে উঠল। ব্যাপারটা কি তা কেউ বুঝতে পারার আগেই টারজনের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেল ওবারগাৎস। টারজান দেখল রাইফেলের গুলি লেগেছে ওবারগাৎসের গায়ে।

    সঙ্গে সঙ্গে লুদনও লুটিয়ে পড়ল মাটিতে। তার পাশে দাঁড়িয়ে মোসারও পড়ে গেল গুলির আঘাতে।

    এবার সকলে চোখ মেলে তাকিয়ে দেখল মন্দিরের প্রাচীরের উপর একদল হোদন যোদ্ধা, জাদনের ছেলে তাদের আর পাশে টারজনের মত দেখতে এক শ্বেতাঙ্গ বিদেশী দাঁড়িয়ে আছে। শ্বেতাঙ্গ বিদেশীর হাতে একটা রাইফেল ছিল এবং তার থেকেই গুলি করছিল ও।

    তাদেন এবার চীৎকার করে বলল, সব পুরোহিতদের গ্রেপ্তার করো। বন্দীদের বাধন খুলে দাও। এই হলো জাদ-বেন-ওহোর বিচার। এইভাবে জাদ-বেন-ওথো তার দূতকে পাঠিয়ে অন্যায়কারীদের উপর চরম শাস্তি দান করলেন।

    আলুর নগরীর সব পুরোহিত স্বচক্ষে এই ঘটনা দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল। তাদেনের কথা এবার সবাই তারা অকুণ্ঠভাবে বিশ্বাস করে ফেলল। লুদনের জাদন-বেন-ওখো আর জাদনের ডোর-উলফ ওথোকার শক্তি বেশি, কে ভণ্ড আর কে খাঁটি তা তারা স্বচক্ষে দেখল। তার অভ্রান্ত প্রমাণ তারা পেয়ে গেল। এবার সকলেই জাদনের পক্ষ সমর্থন করল। জাদনই হবে সমগ্র পানউলফ দলের রাজা। তাদের সঙ্গে এক বিরাট সেনাদল আর কোর-উলফ-জার রাজা ওমও ছিল।

    টারজান আর জেনের বাধন খুলে দিতেই তারা দেখল তাদের সামনে তাদেনের সঙ্গে তাদের হারানো ছেলে জ্যাক দাঁড়িয়ে আছে। জ্যাক তার মাকে জুড়িয়ে ধরল। এতদিন পর তাকে কাছে পেয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল জেন। টারজান জ্যাকের কাঁধের উপর হাত রাখল। তার পুরনো বন্ধু ওমৎ আর তাদেনকেও ফিরে পেল টারজান।

    টারজান, জেন আর জ্যাক পাশাপাশি তিনজন দাঁড়ালে তাদের দেবতা ভেবে সবাই তাদের সামনে মাটিতে কপাল ঠেকিয়ে প্রণাম করল।

    জালুর থেকে রাজকন্যা ওলোয়া আর পানাৎ লীকে নিয়ে আসা হলো।

    আলুর ও সমগ্র পান-উলফ দলের রাজা রূপে জাদনের অভিষেক হবার পরই তাদেনের সঙ্গে ওলোয়া আর ওমতের সঙ্গে পানাৎ লীর বিয়ে হয়ে গেল।

    রাজা হয়েই তারা সিংহাসনের পাশে টারজানকে বসিয়ে জাদন বলল, আমরা কিভাবে রাজ্য শাসন করব সে বিষয়ে ডোর-উলফ-ওথো তাঁর পিতার ইচ্ছা প্রকাশ করুন।

    টারজান বলল, আজ থেকে মন্দিরে আর কোন রক্তপাত চলবে না। এতদিন অত্যাচারী পুরোহিতরা তোমাদের বুঝিয়ে এসেছে জাদ-বেন-ওখো এক নিষ্ঠুর দেবতা যিনি মানুষের রক্ত পান করতে ভালবাসেন। কিন্তু একথা যে ভুল তা তো আজ প্রমাণিত হয়ে গেল।

    জাদন বলল, বন্দী পুরোহিতদের নিয়ে কি করব? তাদের কি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে?

    টারজান বলল, না ওদের ছেড়ে দাও। ওরা ইচ্ছামত নিজেদের পথ বেছে নেবে।

    জাদন, তাদেনের অনুরোধে টারজান ও ওমৎ এক সপ্তাহকাল আলুরের প্রাসাদে রয়ে গেল। এরপর ওমৎ তার রাজ্যে চলে যাবে। ঠিক হলো টারজান সপরিবারে যেদিন উত্তর দিকে তার দেশের দিকে রওনা হবে সেদিন একদল হোদন ও একদল ওয়াজদন যোদ্ধা তার সঙ্গে অনেক দূর পর্যন্ত গিয়ে বিপদসংকুল জলাশয়গুলো পার করে দিয়ে আসবে।

    টারজনের বিদায়কালে ওমৎ আর তাদের দু’জনেই বিদায় অভিবাদন জানাল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমোতাহের হোসেন চৌধুরীর নির্বাচিত প্রবন্ধ সংকলন
    Next Article মার্ক টোয়েন গল্পসমগ্র

    Related Articles

    মণীন্দ্র দত্ত

    মার্ক টোয়েন গল্পসমগ্র

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }