Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    টারজান রচনা সমগ্র – এডগার রাইস বারুজ

    মণীন্দ্র দত্ত এক পাতা গল্প1323 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    টারজান ও নিষিদ্ধ নগরী (টারজান এ্যাণ্ড দি ফরবিডন সিটি)

    তখন বর্ষা শেষ হয়ে গেছে। দুপুরবেলা। একটা হাতির পিঠের উপর পা ছড়িয়ে শুয়েছিল টারজান।

    কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন নিগ্রো টারজনের সামনে এসে দাঁড়াল।

    টারজান বলল, কি খবর ওগাবি?

    ওগাবি বলল, আমি এখন শ্বেতাঙ্গ মালিক গ্রেগরির সফরিতে যোগদান করেছি। গ্রেগরি আমাকে বড় মালিক টাজনের খোঁজে পাঠাল।

    টারজান বলল, আমি গ্রেগরিকে চিনি না। কি জন্য আমাকে খুঁজতে পাঠাল?

    সে আপনাকে তার কাছে লোয়াঙ্গো গায়ে নিয়ে যেতে বলল আমাকে।

    না, টারজান সেখানে যাবে না। গাঁটা বড় নোংরা আর লোকগুলো খুব খারাপ।

    কিন্তু মালিক দার্ণৎ বলল টারজান আসবেই।

    টারজান এবার আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করল, লোয়াঙ্গো গাঁয়ে দার্ণৎ এল কি করে? এ কথা আগে বলনি কেন আমাকে?

    এই কথা বলেই হাতির পিঠ থেকে এক লাফে নেমে হাতিটাকে বিদায় জানিয়ে সেই মুহূর্তে লোয়াঙ্গো গাঁয়ের পথে রওনা হয়ে পড়ল টারজান। ওগাবি তাকে অনুসরণ করতে লাগল।

    লোয়াঙ্গো গাঁয়ে তখন দারুণ গরম। ফরাসী নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন পল দার্ণৎ কোন একটা হোটেলের ঘরে টেবিলের তলায় পা ছড়িয়ে একটা চেয়ারের উপর বসেছিল। হেলেন গ্রেগরির সুন্দর চেহারাটার পানে একদৃষ্টিতে তাকিয়েছিল।

    হেলেন একসময় দার্ণৎকে বলল, আপনি কি মনে করেন যে টারজানকে আপনি ডেকে পাঠিয়েছেন তিনি ব্রিয়ানকে খুঁজে বার করতে পারবেন?

     

    আরও দেখুন
    বাংলা রান্নার রেসিপি বই
    অনলাইন বই
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    পিডিএফ
    বাংলা কবিতা
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা অডিওবুক

     

    পল দার্ণৎ বলল, সারা আফ্রিকার জঙ্গলে কোথায় কি আছে তা টারজনের মত এত ভাল করে আর কেউ জানে না। তাবে মনে রাখবে তোমার ভাই নিখোঁজ হয়েছে আজ থেকে দু’বছর আগে।

    হেলেনের বাবা ঘরেই ছিলেন। তিনি এগিয়ে এসে বললেন, হ্যাঁ ক্যাপ্টেন, আমি বুঝি আমার ছেলে। হয়ত মারা গেছে।

    হেলেন বলল, না বাবা, ব্রিয়ান এখনো মরেনি। আমি তা জানি। আমি অনেককে জিজ্ঞাসা করে অনেক খোঁজ-খবর নিয়ে জেনেছি, অভিযানকারীদের মধ্যে চারজন মারা যায় আর বাকি সবাই পালিয়ে যায়। মৃতদের দলে ব্রিয়ান ছিল না।

    গ্রেগরি বলল, দেরী হয়ে গেলে মুস্কিল হয়ে যাবে। ওগাবী গেছে প্রায় এক সপ্তাহ হয়ে গেল। কিন্তু টারজনের এখনো দেখা নেই। তাকে হয়তো খুঁজে পায়নি। আমি অবিলম্বে রওনা হতে চাই। তাছাড়া উলফও ভাল লোক। সেও নাকি আফ্রিকার সব জায়গা চেনে।

    দার্ণৎ বলল, আপনি হয়ত ঠিকই বলেছেন তবে টারজান আপনাদের সঙ্গে থাকলে ভাল হত।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    পিডিএফ
    বাংলা লাইব্রেরী
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা গল্প
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    বিনামূল্যে বই
    বাংলা কমিকস

     

    সেই ঘরেরই এক প্রান্তে অন্য একটি টেবিলে এক যুবতী তার পাশের একজন সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলছিল। যুবতী মেয়েটির নাম মাগরা আর লোকটির নাম লাল টাস্ক।

    এমন সময় টারজান ঘরে ঢুকে সোজা দার্ণৎতের কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই বিস্ময়ে অবাক হয়ে গেল ওরা সবাই। মাগরা আশ্চর্য হয়ে বলল, এ কখনো হতে পারে না।

    গ্রেগরি আর হেলেনও টারজানকে দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে উঠল, কারণ টারজানকে দেখতে অনেকটা ব্রিয়ানের মত।

    দার্ণৎ গ্রেগরিদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিল টারজনের। গ্রেগরি বললেন, আশ্চর্যজনক চেহারার মিল।

    ওদিকে মাগরা লাল টাস্ককে বলল, ওই হচ্ছে ব্রিয়ান গ্রেগরি।

    লাল বলল, ঠিক বলেছ তুমি। ওর জন্য আমরা কয়েক মাস ধরে খোঁজ করছি আর ও আমাদের হাতের কাছে এসে পড়ল। ওকে আতন থোমের কাছে ধরে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু কি করে নিয়ে যাব সেটাই ভাবনার কথা।

     

    আরও দেখুন
    বইয়ের
    বাংলা উপন্যাস
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    সাহিত্য পত্রিকা
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    বাংলা সাহিত্য
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বাংলা গল্প
    নতুন উপন্যাস

     

    মাগরা লালকে নিয়ে ভিতরের দিকে একটা ঘরে চলে গেল। মাগরা বলল, সোজাসুজি বললে বা আমাদের দেখলে ও আসবে না। একটা ছেলেকে দিয়ে একটা চিঠি পাঠাচ্ছি।

    টারজান যখন দার্ণৎ আর গ্রেগরির সঙ্গে কথা বলছিল তখন হঠাৎ হোটেলের একটি বালকভৃত্য এসে টারজনের হাতে একটা চিঠি দিল।

    টারজান চিঠিটা পড়ে দার্ণৎকে বলল, লিখেছে পাশের ঘরে এখনি আমাকে দেখা করতে হবে। তলায় পুরনো বন্ধ এই বলে নাম সই করেছে। বিশেষ জরুরি।

    দার্ণৎ সাবধান করে দিল টারজানকে।

    তবু টারজান শুলনা না। চলে গেল। সেই হোটেলেরই অন্য এক ঘরে গিয়ে দেখল একটা টেবিলের অন্য পাশে লম্বা চেহারার সুন্দরী এক যুবতী দাঁড়িয়ে রয়েছে। টারজান তাকে বলল, নিশ্চয় আমার কোন ভুল হয়েছে। আমি ত আপনাকে চিনি না।

     

    আরও দেখুন
    গ্রন্থাগার
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বাংলা সাহিত্য
    বিনামূল্যে বই
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বাংলা গল্প
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা

     

    মাগরা বলল, কোন ভুল হয়নি ব্রিয়ান গ্রেগরি। আমার মত এক পুরনো বন্ধুকে বোকা বানাতে পার তুমি!

    তার কণ্ঠে যেন ভীতি প্রদর্শনের ভাব ছিল। টারজান ঘুরে দাঁড়াল।

    মাগরা বলল, কারণ এখান থেকে জোর করে চলে যাওয়াটা হবে তোমার পক্ষে খুবই বিপজ্জনক। লাল টাস্ক পিস্তল হাতে তোমার পিছনেই দাঁড়িয়ে আছে। তুমি আমার সঙ্গে পুরনো বন্ধু হিসেবে হাতে হাত দিয়ে উপরতলায় একটা ঘরে এস। পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে কিন্তু তোমার মৃত্যু অনিবার্য।

    ওরা যখন উপর তলায় যাচ্ছিল তখন দার্ণৎ আর গ্রেগরি ওদের দেখতে পেল। দার্ণৎ দেখল, অচেনা একটি মেয়ে আর একটি লোকের সঙ্গে টারজান উপরতলায় কোথায় গেল। ওদের চোখের দৃষ্টিটা কিন্তু ভাল মনে হলো না দার্ণৎতের।

    রুদ্ধদ্বার ঘরের সামনে গিয়ে ওরা দাঁড়াল। মগরা ডাকতেই ভিতর থেকে কে দরজা খুলে দিল। ঘরে ঢুকে টারজান দেখল একটা মাত্র জানালা আছে সেই ঘরে। আর একটা দরজা আছে পিছন দিকে পাশের ঘরে যাবার জন্য। কিন্তু দরজাটা বন্ধ।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা ই-বুক রিডার
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা কমিকস
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    অনলাইন বই
    বাংলা বই
    বাংলা ই-বই
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা

     

    আতন থোম টারজানকে দেখে বলে উঠল, তোমাকে দেখে খুশি হলাম ব্রিয়ান গ্রেগরি।

    টারজান বলল, আমি ব্রিয়ান গ্রেগরি নই, তুমি সেটা জান। বল, কি চাও তুমি?

    আতন একটু থেমে বলল, আমি চাই নিষিদ্ধ নগরী আশেয়ারে যাবার পথ-নির্দেশ। এই পথ নির্দেশসহ তুমি একটা মানচিত্র তৈরি করেছিলে। আমি সেই মানচিত্রটা চাই।

    টারজান বলল, আমার কাছে কোন মানচিত্র নেই। আমি আশেয়ার নগরীর নামও শুনিনি।

    আতন তখন রেগে গিয়ে লালকে কি বলল টারজান তা বুঝতে পারল না। সঙ্গে সঙ্গে খাপ থেকে পিস্তল বার করল লাল টাস্ক।

    মাগরা বাধা দিয়ে বলল, না, ও কাজ করো না।

    এদিজে গুলির আওয়াজ পেয়ে দার্ণৎ গ্রেগরিকে নিয়ে টারজনের খোঁজে উপরতলায় চলে গেল। টারজানও একটা ঘর থেকে সাড়া দিতেই ওরা চলে গেল সেই ঘরে। ঘরে ঢুকেই দার্ণৎ বলে উঠল, কি ব্যাপার?

     

    আরও দেখুন
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বুক শেল্ফ
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বই
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    Books
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা

     

    টারজান বলল, একটা লোক আমাকে গুলি করতে গিয়েছিল। কিন্তু যে মেয়েটি আমাকে আসার জন্য চিঠি দেয় সেই মেয়েটিই তার হাতটা সরিয়ে গুলিটাকে লক্ষভ্রষ্ট করে দেয়। লোকটা রেগে গিয়ে। মেয়েটাকে নিয়ে গিয়ে একটা ঘরে চাবি দিয়ে রেখেছে।

    দার্ণৎ বলল, তুমি এখন কি করছ?

    টারজান বলল, আমি সে ঘরের দরজা ভাঙ্গব।

    এই বলে সে তার দেহের চাপে দরজাটা সত্যি সত্যিই ভেঙ্গে দিল। কিন্তু দেখল ঘরটা শূন্য ওরা অন্য কোথাও পালিয়েছে।

    দার্ণৎ বলল, পিছন দিকে যে সিঁড়ি আছে তা উঠোনে নেমে গেছে। আমরা তাড়াতাড়ি গেলে ওদের ধরতে পারব।

    টারজান বলল, ওদের যেতে দাও। লাল টাস্ক বলে একটা লোককে আমি মেঝের উপর ফেলে রেখেছি ঘায়েল করে। তার কাছ থেকে সব খবর পাব।

     

    আরও দেখুন
    অনলাইন বই
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বিনামূল্যে বই
    বই
    Books
    বাংলা উপন্যাস
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বাংলা বই
    বাংলা সাহিত্য কোর্স

     

    ওরা সবাই সেই ঘরে গিয়ে দেখল লাল টাস্ক সেখানে নেই।

    দার্ণৎ বলল, ওরা কি চাইছিল তোমার কাছ থেকে?

    টারজান বলল, ওরা ভেবেছিল আমিই ব্রিয়ান গ্রেগরি। ওরা নিষিদ্ধ নগরী আশেয়ারে যাবার জন্য আমার কাছ থেকে একটা ম্যাপ চাইছিল। ব্রিয়ান নাকি সেই ধরনের একটা ম্যাপ তৈরি করেছিল।

    গ্রেগরি বলল, আমি ওসব কিছুই জানি না। আমি শুধু আমার হারানো ছেলেকে খুঁজে পেতে চাই।

    টারজান বলল, তাহলে আপনাদের কাছে কোন ম্যাপ নেই?

    গ্রেগরি বলল, হ্যাঁ আছে। ব্রিয়ান একটা মোটামুটি খসড়া করেছিল। সে কোথায় ছিল তার একটা আভাস দিয়েছিল শুধু।

    দার্ণৎ এবার টারজানকে বলল, তুমি ওদের ঘরে যাবার আগে আমাকে প্রশ্ন করেছিলে, কেন তোমাকে আমি ডেকে পাঠিয়েছি।

     

    আরও দেখুন
    বাংলা উপন্যাস
    বুক শেল্ফ
    সাহিত্য পর্যালোচনা
    বিনামূল্যে বই
    বাংলা কমিকস
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বই পড়ুন
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা

     

    টারজান বলল, হ্যাঁ।

    দার্ণৎ বলল, আমি একটা বিশেষ কাজে লোয়াঙ্গোতে এসে মঁসিয়ে গ্রেগরিদের সঙ্গে পরিচিত হই। ওঁদের সমস্যার কথা শুনে খুবই কৌতূহলী ও আগ্রহী হয়ে উঠি আমি এ ব্যাপারে। আমি তখন তাঁকে বলি এ ব্যাপারে সাহায্য করতে পারে এমন একজন সুযোগ্য লোক আমার জানা আছে। সে ইচ্ছা করলে আপনাদের এই অভিযানে অংশগ্রহণ করে তার ভার নিতেও পারে।

    টারজান বলল, আমারও কৌতূহল জাগছে আপনাদের অভিযানে অংশ নিলে ওদের সঙ্গে আবার দেখা হবেই।

    এরপর টারজান বলল, আপনার প্রস্তুতিকার্য সব শেষ?

    গ্রেগরি বলল, বোঙ্গা থেকে আমরা প্রথম যাত্রা শুরু করব আশেয়ারের পথে। প্রথমে উলফ নামে এক শ্বেতাঙ্গ শিকারীর উপর এই অভিযানের সব কিছুর ভার দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন অবশ্য আপনিই সব কিছু করবেন।

     

     

    টারজান বলল, শিকারী হিসেবে ভদ্রলোক আসতে চায় ত আসুক না।

    গ্রেগরি বলল, আগামীকাল সকালে হোটেলে সে এসে দেখা করবে আমাদের সঙ্গে।

    লোয়াঙ্গোর বাজার অঞ্চলে ওং ফেঙের দোকানের পিছন দিকে পুরু পর্দাওয়ালা একটা ঘর আছে। সে ঘরে আতন থোম উত্তেজিতভাবে কথা বলছিল মাগরার সঙ্গে।

    আতন থোম এক সময় বলল, কেন তুমি তাকে বাঁচালে? কেন আমাকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করে দিলে?

    মাগরা আমতা আমতা করে বলল, কারণ, কারণ..

    আতন থোম বলল, কিন্তু তুমি ত জান আমি বিশ্বাসঘাতকদের কখনো ক্ষমা করি না।

    মাগরা বলল, এখন আমাদের দরকার হলো আশেয়ারে যাওয়া, ফাদার অফ ডায়মন্ডকে খুঁজে বার করা। গ্রেগরিরাও সেখানে যাচ্ছে। তার মানে তারা এখনো হীরে পায়নি। তাদের কাছে শুধু একটা ম্যাপ আছে। ব্রিয়ান সেই ম্যাপটা তৈরি করে। ম্যাপটা আমাদের পেতে হবে এবং আমার একটা পরিকল্পনা আছে। শোন।

     

     

    আতন থোমের কানের কাছে মুখটা এনে মাগরা ফিসফিস করে কি বলতেই আতন থোমের মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠল। বলল, চমৎকার। আগামী কালই লাল টাস্ক এ কাজটা সেরে ফেলবে। ওৎ ফেঙ এখন তারই কাজ করছে। সে না পারলে উলফ এ কাজ করবে।

    পরদিন সকালে ছাদের উপর গ্রেগরিরা টারজনের সঙ্গে যখন প্রাতরাশ করছিল তখন উলফ এল। গ্রেগরি টারজনের সঙ্গে উলফফের পরিচয় করিয়ে দিল। টারজনের পরনে কৌপীন আর তার হাতে আদিমকালের অস্ত্র-শস্ত্র দেখে উলফফু বলল, এ যে দেখছি একটা বুনো লোক। একে আপনি সঙ্গে নেবেন গ্রেগরি?

    গ্রেগরি বলল, টারজনের উপর আমাদের অভিযানের সব দায়িত্ব থাকবে।

    উলফ বলল, সেকি? সে কাজ ত আমার।

    টারজান বলল, সেটা আগের কথা। এখন যদি শুধু শিকারী হিসেবে আমাদের দলে আসতে চাও তাহলে আসতে পার।

     

     

    উলফ কিছুক্ষণ ভেবে বলল, ঠিক আছে। তাই যাব।

    টারজান বলল, আগামীকাল নৌকায় করে আমরা বাঙ্গা যাচ্ছি। সেখানেই তুমি অপেক্ষা করবে। তার আগে তোমাকে কোন দরকার নেই।

    ক্ষুণ্ণ মনে চলে গেল উলফ।

    গ্রেগরি বলল, আমার মনে হচ্ছে ওকে শক্ত করে তুললে।

    টারজান তাচ্ছিল্যভরে বলল, আমি ত ওকে একটা কাজ দিয়েছি। তবে ওর উপর কড়া নজর রাখতে হবে।

    দার্ণৎ বলল, উলফ আবার আসছে।

    উলফ এসে সরাসরি গ্রেগরিকে বলল, আমি ভাবলাম আমরা কোথায় যাচ্ছি তা একবার ভাল করে জেনে নেয়া দরকার। কোথায় কোথায় ভাল শিকার পাওয়া যায় সেই সব জায়গাগুলোও দেখতে হবে। আপনার কাছে ম্যাপ আছে?

    গ্রেগরি বলল, আছে। হেলেন, তোমার কাছে ছিল ম্যাপটা। কোথায় সেটা?

    হেলেন বলল, উপরের ড্রয়ারটায়।

    গ্রেগরি বলল, এস উলফ দেখি একবার চোখ বুলিয়ে।

    উলফকে নিয়ে গ্রেগরি হেলেনের ঘরে গেল। বাকি সবাই ছাদেই বসে রইল। ড্রয়ারের কাগজপত্র ঘেঁটে ম্যাপটা বার করল গ্রেগরি। তারপর টেবিলের উপর ম্যাপটা খুলে ধরল উলফ। সেটা কিছুক্ষণ খুঁটিয়ে দেখে বলল, আমি ওদেশের কিছুটা জানি। কিন্তু আমি আশেয়ারের নাম শুনিনি কখনো।

    কিছুক্ষণ পর উলফ বলল, আমাকে ম্যাপটা একবার দিন না, কালই আমি এটা ফেরত দিয়ে যাব।

    মাথা নেড়ে অসম্মতি জানিয়ে গ্রেগরি বলল, ম্যাপটা আমি হাতছাড়া করতে পারি না।

    উলফ বলল, ঠিক আছে।

    সেদিন দার্ণৎ টারজান আর গ্রেগরিদের লাঞ্চে নিমন্ত্রণ করেছিল। খাবার পর দার্ণৎ হেলেনকে দেখতে পেল না। শুনল, হেলেন বাজারে গেছে কিছু জিনিসপত্র কেনার জন্য। দার্ণৎ আগেই তাকে নিষেধ করেছিল, সে যেন বাজারে একা না যায়, কারণ জায়গাটা ভাল নয়। তবু হেলেন সে নিষেধ শোনেনি।

    এদিকে আতন থোম তখন ও; ফেঙের দোকানের পিছন দিকের একটা ঘরে বসে লাল টাস্কের পথ চেয়ে বসেছিল উদ্বিগ্ন হয়ে। পাশের একটা ঘরে মাগরা হেলেনকে পাহারা দিচ্ছিল। হেলেন এক সময় বলল, আচ্ছা, ম্যাপটা পেলে কি ওরা আমায় ছেড়ে দেবে?

    মাগরা বলল, ম্যাপটা পেলেও এখান থেকে ওরা নিরাপদে চলে না যাওয়া পর্যন্ত ছাড়বে না তোমাকে। আমি এ জন্য খুবই দুঃখিত। আতন থোম এখন হীরের লালসায় উন্মাদ হয়ে উঠেছে। ও ম্যাপটা না পাওয়া পর্যন্ত শান্ত হবে না।

    হেলেন বলল, ম্যাপটা না পেলেও ওরা কি সত্যি সত্যিই আমাকে দূরে কোথাও নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেবে?

    মাগরা বলল, হ্যাঁ দেবে।

    এমন সময় লাল টাস্ক আতন থোমের ঘরে এসে ঢুকল। বলল, একটা কাগজ এক টুকরো পাথরের সঙ্গে বেঁধে ফেলে দিয়েছে। দেখ কি লিখেছে।

    থোম পড়ে দেখল, ওরা লিখেছে ম্যাপটা চুরি হয়ে গেছে।

    থোম বলল, আমি ম্যাপ ছাড়াই আশেয়ারে যাব। ওর মেয়েকে আমি কোনদিন ছাড়ব না। দেখ কে ডাকছে।

    লাল দরজা খুলে দেখল উলফ। সে এসেই বলল, আশেয়ারে যাবার পথ-নির্দেশের ম্যাপটা পেলে কি দেবে তুমি?

    থোম বলল, পাঁচশো পাউন্ড।

    উলফ বলল, হাজার পাউন্ড দেবে আর যা হীরে পাবে তার অর্ধেক অংশ। তাহলে ম্যাপটা দেব।

    আতন থোম বলল, কি করে দেবে?

    উলফ বলল, আমি ম্যাপটা হেলেনের ঘর থেকে চুরি করে এনেছি।

    থোম বলল, তোমার কাছেই আছে তাহলে?

    উলফ বলল, ম্যাপটা কাড়ার চেষ্টা করবে না। টাকা দাও, ম্যাপটা নিয়ে নাও।

    উলফ তার পকেট থেকে ম্যাপটা বার করে থোমকে দেখাল। কিন্তু তার হাতে ছেড়ে দিল না। থোম তার পকেট থেকে ইংল্যান্ডের একটা ব্যাঙ্ক থেকে আনা একতাড়া নোটের বান্ডিল বার করে তার থেকে পাঁচশো পাউন্ড বার করে উলফফের হাতে দিল।

    উলফ বলল, তোমার মত টাকা থাকলে আমি কখনো এত বিপদের ঝুঁকি নিয়ে হীরের খোঁজে যেতাম না।

    থোম বলল, তুমি কি তাহলে গ্রেগরিদের সঙ্গে যাচ্ছ?

    উলফ বলল, নিশ্চয়! আমি গরীব মানুষ, একটা কাজ চাই ত। তবে তুমি আশেয়ারে পৌঁছলে এবং হীরের খোঁজ পেয়ে গেলে আমি তোমার কাছে গিয়ে হাজির হব। তার অর্ধেক ভাগ আমায় দিতেই হবে।

    থোম বলল, তুমি আর একটা উপকার আমার করতে পার। আমি মাগরাকে গ্রেগরিদের দলে পাঠাচ্ছি। সে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে। তোমার কাজ হবে তাদের ভুল পথে চালিত করা। তারা পথ হারিয়ে ফেললে তুমি মাগরাকে নিয়ে সোজা আশেয়ারে চলে আসবে। ওখানকার পথ তোমার চেনা আছে। তুমি আমার শিবিরে গিয়ে উঠবে বুঝলে?

    উলফ বলল, বুঝেছি। আমি তাহলে যাচ্ছি।

    সেদিন দুপুর রাতে আতন থোম লাল টাস্ক আর হেলেনকে নিয়ে একটা স্টীমারে চাপল। স্টীমারে ওঠার সময় মাগরাকে বিদায় দিয়ে বলল, যে কোন অছিলায় গ্রেগরিদের দলে যোগদান করবে। উলফকে আমি বিশ্বাস করি না। তার উপর নজর রাখবে। তাছাড়া তুমি গ্রেগরিদের দল ত্যাগ না করা পর্যন্ত ওকে আমি ছাড়ব না।

    পরদিন সকালেই মাগরা গ্রেগরিদের কাছে চলে গেল। গত রাতে হেলেনের চিন্তায় ঘুম হয়নি ওদের। সকালে উঠেই দার্ণৎ বলল, আর পুলিশে খবর দেয়া ছাড়া কোন উপায় নেই।

    গ্রেগরি বলল, কিন্তু পুলিশে খবর দিলে ওরা যদি হেলেনকে মেরে ফেলে?

    এমন সময় দরজায় করাঘাত শুনে গ্রেগরি বলল, ভিতরে এস।

    দরজা খুলে মাগরা ঘরে ঢুকল।

    মাগরাকে দেখে চমকে উঠল দার্ণৎ, তুমি!

    দার্ণৎতের দিকে না তাকিয়ে মাগরা টারজনের দিকে তাকিয়ে বলল, আমি এসেছি তোমার বোনের সন্ধান দিতে।

    গ্রেগরি বলল, কোথায় সে? তার সম্বন্ধে কি জান?

    মাগরা বলল, আতন থোম তাকে বোঙ্গা হয়ে দূর জঙ্গলে নিয়ে যাচ্ছে। গত রাতে বোঙ্গা যাবার জন্য স্টীমার ধরেছে। আমারও যাবার কথা ছিল তাদের সঙ্গে। কিন্তু কেন যাইনি তা জানতে চেও না।

    দার্ণৎ বলল, কিন্তু স্টীমারটা ত আজকে ছাড়ার কথা ছিল।

    ওরা ঘুষ দিয়ে ক্যাপ্টেনকে বশ করেছে।

    টারজান বলল, এই মেয়েটির কথা বিশ্বাস করবে না।

    মাগরা বলল, আমার কথা বিশ্বাস করতে পার। বিশ্বাস না হলে আমাকে তোমাদের এখানে আটক করে রেখে দিতে পার।

    গ্রেগরি হা হুতাশ করতে লাগল হেলেনের জন্য। আমার ছেলে গেছে এবার মেয়েও গেল।

    দার্ণৎ তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, হতাশ হয়ো না, যা হয় একটা উপায় হবেই।

    গ্রেগরি বলল, চার দিনের মধ্যেই আতন থোম বোঙ্গা চলে যাবে। নৌকাটা আবার বোঙ্গাতেই একদিন থেকে যাবে। তারপর এখানে ফিরে আসতে তার আড়াই দিন লাগবে। তারপর আমরা ক্যাপ্টেনকে সঙ্গে সঙ্গে রাজী করিয়ে স্টীমারে রওনা হয়ে পড়লেও ইতোমধ্যে থোম ছয়-সাত দিন সময়। পেয়ে যাবে। সে তখন অনেক দূর ভিতরে চলে যাবে।

    দার্ণৎ বলল, টারজান যখন আছে থোম আফ্রিকার মধ্যে যেখানেই থাক টারজান তাকে খুঁজে বার করবেই। আমি একটা উপায় খুঁজে বার করেছি। নৌ-বাহিনীর কর্তৃপক্ষকে বলে আমি একটা সামুদ্রিক বিমানের ব্যবস্থা করব। তাহলে আতন থোম বোঙ্গা থেকে চলে যাবার আগে তাকে গিয়ে আমরা ধরতে পারব।

    মাগরার মনে যাই থাক কথাটা শুনে চুপ করে রইল। কোন কথা বলল না।

    দার্ণৎতের চেষ্টায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিমান যোগাড় করে ওরা রওনা হলো।

    বিমানটা আকাশে ওড়ার আধ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের বিমানটা এক ঝড়ের কবলে পড়ে গেল। পাইলট লাভাক ভেবেছিল ঝড়টা বেশিক্ষণ স্থায়ী হবে না এবং একটা বিশেষ অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।

    কিন্তু ওদের বিমানটা ক্রমেই দুলতে লাগল। এক ঘণ্টা এইভাবে কাটার পর লাভাক দার্ণৎকে তার কাছে আসার জন্য ইশারায় ডাকল। দার্ণৎ কাছে এলে সে বলল, ঝড়টা যে এত সাংঘাতিক হবে তা আগে বুঝতে পারেনি ক্যাপ্টেন।

    আরো দু’ঘণ্টা ধরে ঝড়ের সঙ্গে যুদ্ধ করে বিমানটাকে চালিয়ে নিয়ে গেল লাভাক। তারপর হঠাৎ ইঞ্জিন থেকে তেল বেরিয়ে আসতে লাগল। দার্ণৎ সবাইকে সাবধান করে দিল। বলল, সবাই লাইফ বেল্ট পরে তৈরি হয়ে নাও। আমার প্লেন নামতে শুরু করেছে।

    দার্ণৎ লাভাককে জিজ্ঞাসা করল, আমরা এখন কোথায় আছি? এটা কোন্ অঞ্চল? কতটা উপরে আছি?

    লাভাক বলল, এটা অরণ্য অঞ্চল, জায়গাটা কি তা বলা শক্ত। তাছাড়া কম্পাসটা ঠিক নেই। এখন আমরা প্রায় তিনশো ফুট উপরে আছি।

    কিছুক্ষণের মধ্যে জাহাজটা একটা বড় লেকের ধারে জঙ্গলের গা ঘেঁষে পড়ে গেল। ওদের কারো কোন আঘাত লাগল না। শুধু ওগাবি ভয়ে অচেতন হয়ে পড়ল।

    আজ চারদিন ধরে তারা এই জঙ্গলে বন্দী হয়ে আছে। উড়োজাহাজটাকে আর ওড়াতে পারেনি ওরা।

    দার্ণৎ একদিন টারজানকে জিজ্ঞাসা করল, এখন বুঝতে পারছ আমরা কোথায় আছি?

    টারজান বলল, এ জায়গাটা হলো বোঙ্গার পূর্ব দিকে আর কিছুটা দক্ষিণ দিকে। আমাদের আর বোঙ্গা যেতে হবে না। আমরা এখান থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে গেলেই পথে ওদের সঙ্গে দেখা হবে। তাছাড়া সঙ্গে আমাদের বোঝা না থাকায় ওদের থেকে তাড়াতাড়ি পথ চলতে পারব।

    এদিকে বোঙ্গা থেকে রওনা হয়ে একদল লোকের একটি সফরি উত্তর-পূর্ব দিকে এগিয়ে চলেছিল। সেই দলে ছিল তিনজন শ্বেতাঙ্গ।

    সে দলের নেতা ছিল আতন থোম আর যুবতী মেয়েটি ছিল হেলেন। এক সময় আতন থোম হেলেনকে বলল, চালাকি করে আমরা বোঙ্গা থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি। বোঙ্গায় এসে আশেয়ারের পথে রওনা হতে তোমার বাবার এক সপ্তা অথবা তারও বেশি সময় লাগবে। ততক্ষণে আমরা এত দূরে গিয়ে পড়ব যে তারা আর আমাদের ধরতে পারবে না।

    হেলেন বলল, তুমি বোকার মত কাজ করছ। তুমি যদি বুদ্ধিমান হতে তাহলে আমাকে ছেড়ে দিয়ে বোঙ্গায় পাঠিয়ে দিতে। আমাকে ছেড়ে না দিলে বাবা তোমাকে ছাড়বে না। তোমাকে যেমন করে তোক ধরবেই।

    সন্ধ্যা হতেই ওরা এক জায়গায় শিবির স্থাপন করল রাতেরবেলায় হেলেন তাঁবুর পিছন দিক দিয়ে জঙ্গলের ভিতর দিয়ে পালিয়ে গেল। চাঁদের আলোয় পথ চিনে চিনে এগিয়ে চলেছিল সে। অদূরে একটা সিংহ গর্জন করছিল। কিন্তু সিংহের থেকে তার বেশি ভয় হচ্ছিল আতন থোমকে।

    না জেনেই একটা পথ পেয়ে গিয়েছিল হেলেন। সেই পথটা ধরে সারারাত যেতে লাগল সে। সে ভেবেছিল সে বোঙ্গার পথেই যাচ্ছে। কিন্তু সকাল হতেই সে যখন বন পার হয়ে একটা বিরাট ফাঁকা প্রান্তরে এসে পড়ল তখন সে বুঝতে পারল পথ হারিয়ে ফেলেছে সে।

    বুইরু নামে এক নরখাদক জাতীয় নিগ্রো আদিবাসীদের সর্দার পিঙ্গুর ছেলে চেমিঙ্গো সেদিন তিন জন নিগ্রো যোদ্ধাকে নিয়ে একটা মানুষখেকো সিংহ শিকার করতে বেরিয়ে এসেছিল গা থেকে।

    চেমিঙ্গোই প্রথম দেখতে পেল হেলেনকে। সে তার সঙ্গীদের বলল, ঐ দেখ এক শ্বেতাঙ্গ মেয়ে আসছে। আমি ওকে আমার বাবার কাছে ধরে নিয়ে যাব।

    হেলেন দেখল চার-পাঁচজন নিগ্রো বর্শা হাতে তাকে ধরতে আসছে। সে দেখল তারা এখনো বেশ কিছুটা দূরে। সে তাই উপত্যকা ছেড়ে বনের দিকে ছুটতে লাগল।

    কিন্তু বনে ঢোকার মুখেই একটা সিংহ দেখে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল হেলেন। উভয় সংকটে পড়ল সে। একদিকে মারমুখী নিগ্রোযোদ্ধা আর একদিকে মানুষখেকো সিংহ।

    চেমিঙ্গোরাও সিংহটাকে দেখেই বুঝতে পারল এই মানুষখেকো সিংহটার খোঁজ করে বেড়াচ্ছে ওরা। সিংহটা তখন হেলেনের উপর ঝাঁপ দেবার জন্য উদ্যত হতেই চেমিঙ্গো তার বর্শাটা সজোরে ছুঁড়ে দিল সিংহটার বুকে।

    আহত সিংহটা তখন হেলেনকে ছেড়ে চেমিঙ্গোকে আক্রমণ করল। চেমিঙ্গো তখন শুয়ে পড়ে তার উপর তার বড় ঢালটা চাপিয়ে দিল। এবার চতুর্থ সঙ্গীটি তার বর্শাটা দিয়ে আহত সিংহের বুকটা বিদ্ধ করল। সিংহটা এবার পড়ে গেল মাটিতে। চেমিঙ্গো তখন মাটি থেকে উঠে পড়ল।

    এরপর চেমিঙ্গো হেলেনকে টানতে টানতে তাদের গায়ের দিকে নিয়ে যেতে লাগল।

    সর্দার পিঙ্গু বলল, আজ রাতেই ওকে মারা হবে। সেই সঙ্গে নাচ গান ও উৎসব হবে।

    গ্রেগরিদের সফরিটা তখন বনপথ পার হয়ে সেই ফাঁকা জায়গাটায় এসে পড়ে।

    গ্রেগরি বলল, বোঙ্গায় গিয়ে আমাদের আতন থোমকে ধরতেই হবে। সেখানে তার হাত থেকে হেলেনকে উদ্ধার করতে হবে। তাছাড়া আমাদের হাতে ম্যাপ নেই। ম্যাপটা থাকলেও আমরা না হয় আশেয়ারে গিয়ে ওদের ধরতাম।

    উলফ বলল, আমি ও পথ চিনি। গ্রেগরি যদি আমাকে এক হাজার পাউন্ড আর হীরের অর্ধেক ভাগ দিতে রাজী হয় তাহলে আমি আশেয়ারে ওকে নিয়ে যাব।

    টারজান বলল, তুমি একটি কুটিলমনা বদমাস লোক। তারপর সেখান থেকে চলে গেল।

    গ্রেগরি দার্ণৎকে জিজ্ঞাসা করল, টারজান কোথায় গেল।

    দার্ণৎ বলল, ও গেল কোন এক আদিবাসীদের গায়ের সন্ধানে। সেখানে কিছু নিগ্রোভৃত্য পাওয়া যেতে পারে। এইভাবে সে তোমার ও মেয়ের কোন সন্ধান পেয়ে যেতে পারে।

    টারজান গাছের ডালে ডালে যখন যেতে লাগল তখন দিন শেষ হয়ে আসছিল। সে দেখল মোট তিনটে লোক তার শত্রু। তারা হলো আতন থোম, লাল টাস্ক আর উলফ। কিন্তু মাগরা একটা রহস্য তার কাছে। তাকে সে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। সে অবশ্য দু’বার বুলেটের হাত থেকে তার জীবন বাঁচিয়েছে একথা ঠিক। কিন্তু আসলে সে আতন থোমের দলের লোক এবং তার চর।

    একটা হরিণ শিকার করতে যেতেই দূর থেকে আদিবাসীদের ঢাকের আওয়াজ কানে এল টারজনের।

    হেলেনের হাত পা বেঁধে চেমিঙ্গোরা তাদের গায়ের একটা নোংরা কুঁড়ে ঘরে বন্দী করে রেখেছিল। হঠাৎ সে ঢাকের শব্দ শুনে চমকে উঠল। হেলেন বুঝল, ওরা, নরখাদক নিগ্রো। একটু পরেই তাকে হত্যা করে তার মাংস খাবে ওরা।

    হেলেনকে এবার কয়েকজন নিগ্রোযোদ্ধা হাত পা বাঁধা অবস্থায় ঘর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে সর্দার পিঙ্গুর ঘরের সামনে একটা লম্বা বাঁশের খুঁটোর সঙ্গে বেঁধে দাঁড় করিয়ে রাখল। এই ভয়ঙ্কর দৃশ্যটাকে এক দুঃস্বপ্নের মত মনে হচ্ছিল হেলেনের। হঠাৎ একটা বর্শার ফলকের অগ্রভাগ তার গায়ের এক জায়গায়। চামড়াটা ভেদ করতেই তার হুঁস হলো।

    আতন থোম তখন তাদের শিবিরে লাল টাস্কের সঙ্গে কথা বলছিল। তারাও ঢাকের আওয়াজটা শুনেছিল।

    লাল টাস্ক বলল, ঐ ঢাকের আওয়াজ শুনলে আমার বড় ভয় হয়।

    আতন থোম বলল, আগামীকাল রাতে আর এ ঢাকের আওয়াজ শুনতে হবে না। কারণ তখন আমরা আশেয়ারের পথে অনেক দূর এগিয়ে যাব।

    এদিকে গ্রেগরিদের শিবিরে তখনো টারজান ফিরে না আসায় মাগরা ব্যস্ত হয়ে বলল, টারজান এখনো ফিরে এল না।

    লাভাক বলল, এতক্ষণ ধরে যে ঢাকগুলো বাজছিল দূরে তা হঠাৎ থেমে গেল।

    অসহায় হেলেনকে ঘিরে যখন নরখাদক আদিবাসীরা নাচতে লাগল এক বন্য বর্বর উল্লাসে আর মাঝে মাঝে তাদের বর্শার ফলকের অগ্রভাগ দিয়ে হেলেনের গাটাকে স্পর্শ করছিল তখন তার মনে হচ্ছিল।

    এর থেকে বর্শার আঘাতে তার মৃত্যু ঘটলে ভাল হত।

    এদিকে টারজান ঢাকের শব্দ লক্ষ্য করে পিঙ্গুদের গাঁটার সামনে এসে পড়ল। সে বন্ধ গেটটা লাফ দিয়ে পার হয়ে গাঁয়ের মধ্যে পড়ে একটা গাছের উপর উঠে পড়ল। তাকে কেউ দেখতে পেল না। নাচের জায়গায় যে আগুন জ্বলছিল তার আলোয় টারজান দেখল যাকে ঘিরে আজ এই হত্যার উৎসব শুরু হয়েছে। সে হচ্ছে বন্দিনী হেলেন। নাচতে নাচতে একজন আদিবাসী মুহূর্তের উত্তেজনায় তার বর্শা উঁচু করে হেলেনের বুকটাকে বিদ্ধ করার জন্য উদ্যত হলো। হেলেন তার চোখদুটো বন্ধ করে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হলো।

    সহসা কোথা থেকে একটা তীর রহস্যময়ভাবে এসে সেই আদিবাসীর বুকটা বিদ্ধ করতেই সে পড়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে সব বাজনা থেমে গেল। আহত লোকটার আর্ত চীৎকার হেলেন চোখ খুলে দেখল তার পায়ের তলায় একটা লোক তীর বিদ্ধ অবস্থায় মরে পড়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে আর একজন একটা ছুরি হাতে এগিয়ে এল হেলেনের দিকে। টারজান তখন গাছের উপর থেকে এমন ভয়ঙ্করভাবে বিজয়োল্লাসসূচক এক চীৎকার করে উঠল যে আদিবাসীরা স্তব্ধ হয়ে গেল সবাই।

    সে চীৎকার শুনে যে লোকটা ছুরি হাতে হেলেনকে বধ করতে এসেছিল সে থেমে গেল। এমন সময় গাছের উপর থেকেই টারজান বলতে লাগল, শ্বেতাঙ্গ বনদেবতাকে নিয়ে যাবার জন্য অরণ্যদানব এসেছে। সাবধান সবাই।

    এই বলে সে গাছ থেকে নেমে ওদের সামনে এসে দাঁড়াল। অন্য সব আদিবাসীরা এতে ভয় পেয়ে। সরে দাঁড়ালেও সর্দার পিঙ্গুর ছেলে চেমিঙ্গো একটা ছুরি হাতে এগিয়ে এসে বলল, চেমিঙ্গো অরণ্যদানবকে ভয় করে না।

    টারজান হেলেনের বাঁধনগুলো খুলে দিয়ে চেমিঙ্গোর দিকে এগিয়ে গেল। একটা হাত দিয়ে চেমিঙ্গোর একটা হাত আর অন্য একটা হাত দিয়ে তার পেটটা ধরে মাথার উপর তাকে তুলে ধরল টারজান।

    এবার টারজান চেমিঙ্গোকে তুলে ধরে বলল, গেট খুলে দাও, তা না হলে পিঙ্গুর ছেলে চেমিঙ্গো মরবে।

    পিঙ্গু এগিয়ে গিয়ে টারজানকে বলল, তুমি আমার ছেলেকে মেরো না। আমরা গেট খুলে দিচ্ছি।

    টারজান বলল, তোমরা যদি গেট খুলে দিয়ে আমাদের যাবার পথ পরিষ্কার করে দাও তাহলে তোমার ছেলের কোন ক্ষতি করব না।

    পিঙ্গু গেট খোলার আদেশ দিল। গেট খুলে দিতেই টারজান হেলেনকে নিয়ে বাইরে গিয়ে পিঙ্গুকে ছেড়ে দিল।

    টারজান আর হেলেন গাঁয়ের সীমানা ছেড়ে গ্রেগরিদের ক্যাম্পের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল। টারজান হেলেনকে বলল, তুমি কি করে এখানে এসে পড়লে?

    হেলেন বলল, আমি গতকাল রাতে আতন থোমের শিবির ছেড়ে বোঙ্গা যাবার উদ্দেশ্যে পথ চলতে থাকি। কিন্তু আমি ভুল পথে এসে পড়ি। আর এই গাঁয়ের একদল আদিবাসী আমায় ধরে আনে এখানে। কিন্তু তুমি কি করে এলে?

    টারজান তখন তার সব কথা বলল।

    পরদিন সকালে সূর্য ওঠার পর গ্রেগরিদের শিবিরে সবাই যখন প্রাতরাশ খাচ্ছিল তখন মাগরা বলল, টারজান এখনো ফেরেনি।

    এমন সময় দার্ণাৎ দেখল টারজান আর হেলেন শিবিরের দিকে আসছে। গ্রেগরিও শিবিরের বাইরে থেকে হেলেনকে দেখতে পেয়ে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরল তাকে। তার চোখে জল এসেছিল। লাভাক, দার্ণৎ সবাই আনন্দে ঘিরে দাঁড়াল তাকে। একমাত্র উলফ দূরে দাঁড়িয়ে রইল।

    অবশিষ্ট হরিণের মাংসটুকু টারজান আর হেলেন খেল। খাবার পর হেলেন আতন থোমের শয়তানির কথা এবং তার সব অভিজ্ঞতা খুলে বলল। গ্রেগরি বলল, তার এই শয়তানির জন্য আতন খোমকে চরম মূল্য দিতে হবে।

    দার্ণৎ আর লাভাক দু’জনেই বলল, এর জন্য তাকে মারতে হবে।

    এবার ওদের দলটা আতন থোমের দলটাকে ধরার জন্য এগিয়ে যেতে লাগল আশেয়ারে পথে। দু’দিনের মত ওদের খাবার আছে দেখে একদিন টারজান গ্রেগরিকে বলল, আমি এখন যাচ্ছি। আজ বা কাল ফিরব।

    তোমরা এগোতে পার। আমি ঠিক তোমাদের ধরে ফেলব।

    ওরা আবার এগিয়ে চলল। দার্ণৎ বলল, টারজান আমাদের ঠিক ধরে ফেলবে।

    সেদিন বিকালেই ফিরে এল টারজান।

    টারজান বলল, আমি আতন থোমের সফরিটার খোঁজ করতে গিয়েছিলাম এবং খোঁজ পেয়েছি।

    উলফ বলল, পথ চিনতে ভুল হতে পারে যে কোন মানুষের।

    টারজান গম্ভীরভাবে বলল, ভুন নয়, ইচ্ছাকৃতভাবে তুমি আমাদের ভুল পথে চালিত করেছ। তুমি আমাদের ঠকিয়েছ। এই লোকটাকে দল থেকে তাড়িয়ে দাও গ্রেগরি।

    উলফ বলল, একা আমি এই জঙ্গলের মধ্যে কোথায় যাব?

    গ্রেগরি বলল, তাড়াহুড়ো করে কিছু করা ঠিক হবে না।

    টারজান বলল, ঠিক আছে। তোমরা যা খুশি করবে ওকে নিয়ে। কিন্তু পথ-প্রদর্শকের কাজ থেকে ইস্তফা দেয়া হলো আজ থেকে।

    আতন থোমের সফরিটা একটা গভীর বন থেকে বেরিয়ে একটা ফাঁকা প্রান্তরে এসে পড়ল। ওরা দেখল ওদের সামনে বিস্তৃত হয়ে রয়েছে এক বিরাট শূন্য প্রান্তর আর তাদের ডান দিকে ছিল একটা নদী। ওদের সামনে দূরে প্রান্তরটার শেষ প্রান্তে যে কতকগুলো পাহাড় ছিল তার মধ্যে এটাকে একটা মৃত আগ্নেয়গিরি মনে হচ্ছিল।

    থোম বলল, ঐ দেখ লাল টাস্ক, ঐটা হচ্ছে তুয়েন বাকা পাহাড়। পাহাড়টার ওপারেই আছে আশেয়ার, সেই নিষিদ্ধ নগরী।

    লাল টাস্ক বলল, আর আছে হীরক দেশের পিতা মালিক।

    আতন থোম বলল, আজ মাগরা থাকলে ভাল হত।

    লাল টাস্ক বলল, ওরা না এলেই ভাল। হীরের ভাগ দিতে হবে না।

    থোম বলল, কিন্তু মাগরার মাকে আমি কথা দিয়েছিলাম।

    লালি টাস্ক বলল, সে অনেক দিনের কথা। মাগরার মা মারা গেছে আর মাগরাও সে কথা জানে না।

    নিগ্রোভৃত্যরা তখন নিজেদের মধ্যে কি সব আলোচনা করছিল। মবুলু তাদের কাছ থেকে আতন থোমের কাছে এসে বলল, আমার লোকেরা এখান থেকে যাবে না মালিক।

    আতন থোম বলল, সেকি, আমি ত তাদের আশেয়ারে যাবার জন্যই নিযুক্ত করেছি।

    মবুলু বলল, বোঙ্গা থেকে আশেয়ার তখন অনেক দূরে থাকায় তারা রাজী হয়েছিল। কিন্তু এখান থেকে আশেয়ার অনেক কাছে বলে তারা আর যেতে চাইছে না। তুয়েন বাকা হচ্ছে নিষিদ্ধ নগরীর। আশেয়ারের অভিশপ্ত সীমারেখা তাই তারা ভয় পেয়ে গেছে।

    থোম বলল, তুমি হচ্ছ তাদের সর্দার। তুমি তাদের যেতে বাধ্য করবে।

    মবুলু বলল, না, আমি তা পারব না। আজ এখানেই শিবির গড়ে তোলা হোক।

    সে রাতে নদীর কলতান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে অনেক হীরের স্বপ্ন দেখল আতন থোম। হীরক দেশের পিতাকে সে খুঁজে বার করবেই। সকাল হতেই সে নিগ্রোভৃত্যদের ডাকাডাকি করতে লাগল। কিন্তু কারো কোন সাড়াশব্দ পেল না। সে তখন উঠে নিজের নিগ্রোভৃত্যদের তাঁবুতে গেল। কিন্তু গিয়ে দেখল, নিগ্রোভৃত্যরা শিবির ছেড়ে সব পালিয়েছে।

    সে গিয়ে তখন লাল টাস্ককে উঠিয়ে বলল, কুকুরগুলো সব আমাদের ছেড়ে হঠাৎ পালিয়েছে।

    লাল টাস্ক বলল, আল্লা! তাহলে মালিক আমরা মাত্র দু’জনে সেখানে যেতে পারি না।

    থোম বলল, চুপ করো, আমরা নিষিদ্ধ নগরী আশেয়ারে যাবই। মাগরা সবচেয়ে দামী হীরের গয়না পরবে। আমরা দুজনে সবচেয়ে ধনী হব। ভারতের রাজা মহারাজাদের হার মানিয়ে দেব আমি। প্যারিসের রাস্তাগুলোকে সোনা দিয়ে ভরিয়ে দেব।

    এক জোর অট্টহাসিতে পাগলের মত ফেটে পড়ল থোম। বলল, এস, এই নদীর ধার দিয়ে বরাবর এগিয়ে চলব আমরা।

    নদীর ধারের পথটা উঁচুনিচু এবং বড় বড় পাথরে ভরা। লাল টাস্ক থোমের পিছু পিছু যেতে লাগল নীরবে। কিছু দূর যাবার পর ওরা দেখল পথটা সরু হয়ে গেছে আর তার বাঁ দিকে খাড়াই পাহাড়। একবার পা ফসকে গেলে ওরা পড়ে যাবে খরস্রোতা নদীর জলে। নদীর ওপারেও খাড়াই পাহাড়।

    লাল টাস্ক বলল, মালিক ফিরে চল। জগতের সব হীরে পেলেও এ বিপদের ঝুঁকি নেয়া উচিৎ হবে না।

    থোম বলল, না এগিয়ে চল। এই পথই আশেয়ারে চলে গেছে। আমি মরে গেলে তবে ফিরে যাবে। চুপ করো। হৈ চৈ করো না। তুমি একটা কাপুরুষ।

    হঠাৎ লাল টাস্ক বলল, আল্লা, শোন মালিক, বনের ভিতর থেকে কারা যেন আমাদের দেখছে। জায়গাটা খুব খারাপ। কি একটা শব্দ হচ্ছে। মনে হচ্ছে শব্দটা আসছে কবরের ভিতর থেকে।

    আতন থোম আর লাল টাস্ক সেই রাতটা কোনরকমে সেই খাদের কাছে কাটিয়ে পরদিন সকালে যে পথে এসেছিল সেই পথেই ফিরতে লাগল।

    আতন থোম বলল, লোকজন না হলে আশেয়ারে যাওয়া যাবে না। আমি বোঙ্গায় ফিরে গিয়ে কিছু সাহসী লোকজন যোগাড় করব।

    নদীতে একটা বড় নৌকা ছিল। কুড়িজন নিগ্রো ক্রীতদাস নাবিক হিসেবে কাজ করছিল। যোদ্ধারা আতন থোম আর টাস্ককে সেই নৌকাতে চাপাল।

    আতন থোম জোরে হেসে উঠল। টাস্ক বলল, হাসলে কেন মালিক?

    থোম বলল, হাসলাম কারণ এ নৌকা যাবে নিষিদ্ধ নগরী আশেয়ারে।

    নৌকাটা যখন আশেয়ারের দিকে এগিয়ে চলছিল তখন এক সময় থোম সেই সব যোদ্ধাদের নেতাকে বলল, তোমরা কেন আমাদের বন্দী করলে? আমাদের দিয়ে কি করবে?

    যোদ্ধাদের নেতা বলল, তোমাদের বন্দী করেছি কারণ নিষিদ্ধ নগরী আশেয়ারের খুব কাছে তোমাদের পেয়েছি। এই নিষিদ্ধ নগরীতে একবার কেউ এলে আর সে ফিরে যেতে পারে না। আমরা আমাদের রানী আটকার কাছে নিয়ে যাব। যা করার তিনিই করবেন।

    এরপর নৌকা নদী ছেড়ে একটা বিরাট হ্রদে গিয়ে পড়ল। তার দু’দিকে বন আর প্রান্তর দেখা যাচ্ছিল। তার ফাঁকে ফাঁকে দুদিকে দুটো নগরের বড় বড় প্রাসাদ দেখা যাচ্ছিল।

    অবশেষে নিষিদ্ধ নগরী আশেয়ারের ঘাটে এসে নৌকাটা ভিড়তেই যোদ্ধারা আতন থোম আর লাল টাস্ককে নামতে বলল।

    আতন থোম বলল, আমি একবার রানীর সঙ্গে দেখা করতে চাই। এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের কথা তাঁকে নিজের মুখে জানাতে চাই।

    অফিসার গিয়ে প্রহরীদের বলল, ওদের অনেক বেয়াদবি সহ্য করেছি। আর না। ওদের একটা ঘরের মধ্যে তালাবন্ধ করে রেখে দাও। বেঁচে থাকার জন্য যেটুকু প্রয়োজন সেই রকম খাদ্য তাদের দেবে।

    শিকল বাঁধা অবস্থায় ওদের একটা অন্ধকার ঘরে ঠাণ্ডা পাথরের মেঝের উপর ফেলে রাখা হলো।

    একদিন দরজা খুলে কয়েকজন প্রহরী সেই কারাকক্ষের মধ্যে এসে বলল, চল আমাদের সঙ্গে। রানী তোমাদের ডেকেছেন।

    বিরাট প্রাসাদের একটি বড় ঘরের মধ্যে তাদের নিয়ে যাওয়া হলো। একটা বড় পাথর কেটে তৈরি করা সিংহাসনে রানী বসে ছিল। তার দু’দিকে যোদ্ধারা অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়েছিল। তার সামনে অনেক ক্রীতদাস যে কোন হুকুম তামিল করার অপেক্ষায় ছিল নতজানু হয়ে।

    রানীকে দেখতে সুন্দরী, বয়স তিরিশ থেকে পঁয়ত্রিশ। তার মাথার চুলগুলো বিন্যাস্ত অথচ ছড়ানো ছিল মাথার চারদিকে। তার উপর সাদা পালকের একটা মুকুট ছিল।

    রানী থোমকে জিজ্ঞাসা করল, তোমরা আশেয়ারে এসেছ কেন?

    থোম বলল, আমরা এখানে আসতে চাইনি। আমরা পথ হারিয়ে তুয়েন বাকার কাছে এসে পড়ি। তারপর ফিরে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ তোমার যোদ্ধারা আমাদের ধরে বন্দী করে।

    রানী বলল, তোমরা নাকি বলেছ তোমাদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে। সেটা কি? বাজে কথা বলে আমার সময় নষ্ট করলে তার ফল কিন্তু ভাল হবে না।

    আতন থোম বলল, আমাদের একদল শক্তিশালী শত্রুর কবল থেকে পালিয়ে আসছিলাম আমরা। আমরা জানতে পারি তারা আশেয়ারে আসছে। তারা এখানে এসে হীরে চুরি করে নিয়ে যেতে চায়। আমি তাদের ধরতে সাহায্য করতে চাই তোমাদের।

    রানী আটকা বলল, তাদের সঙ্গে সেনাদল আছে কি?

    থোম বলল, সম্ভবত আছে। তাদের প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র আছে।

    রানী আটকা তার এক সামন্তকে বলল, এই লোকটি যদি সত্যি কথা বলে থাকে তাহলে একে কারাগারে না রেখে নগরের মধ্যে ঘোরাফেরার স্বাধানী দিয়ে আটক রাখা হোক।

    সেদিন দুপুরের দিকে হঠাৎ বাতাসে কিসের গন্ধ পেয়ে সচকিত হয়ে উঠল টারজান। বলল, একদল আদিবাসী আসছে।

    গ্রেগরি বলল, ওরা এসেগেছে। ওদের দলে অনেক কুলী আর মালপত্র রয়েছে।

    ওগাবি বলল, বোঙ্গাতে এই লোকগুলোকেই প্রথমে আপনারা ঠিক করেছিলেন। পরে আতন থোম চালাকি করে তার দলে নিয়ে যায়। ওরা তাদের দল ছেড়ে এসেছে।

    টারজান বলল, শ্বেতাঙ্গদের সফরি ত্যাগ করার জন্য তোমাদের শাস্তি পেতে হবে। তার জন্য তোমাদের সকলকে আমাদের সঙ্গে আশেয়ারে যেতে হবে।

    মবুলি বলল, তুয়েন বাকা হচ্ছে নিষিদ্ধ নগরী যাবার পথে অভিশপ্ত সীমারেখা। আমার লোকেরা যেতে চায়নি সেখানে। তাই তারা সফরি ছেড়ে পালিয়ে এসেছে।

    টারজান বলল, তোমরা মালপত্রও সব নিয়ে এসেছ। তার শাস্তিস্বরূপ তোমাদের এখন আমাদের সঙ্গে তুয়েন বাকা যেতে হবে।

    মবুলি বলল, আমার লোকরা ভয় পাচ্ছে।

    টারজান বলল, যেখানে টারজান যাচ্ছে সেখানে ভয়ের কোন কারণ নেই।

    এরপর তিনদিন ধরে গ্রেগরিদের সফরি আশেয়ারের পথে এগিয়ে চলল।

    বড় বড় পাথরে ভরা পথটা দিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে একটা অদ্ভুত জন্তুর পায়ের ছাপ দেখল টারজান। যেন একটা বিরাটকায় সরীসৃপের গন্ধ পেল। কিছুদূর পা চালিয়ে সাবধানে গিয়ে সে দেখল একজন শ্বেতাঙ্গ যোদ্ধা সামনে একটা বিরাটকায় সরীসৃপ দেখে ভয়ে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

    টারজান বুঝল এই শ্বেতাঙ্গ নিশ্চয় এ অঞ্চলের অদিবাসী। তার কাছ থেকে এখানকার অনেক তথ্য পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সরীসৃপটা এখনি তাকে গিলে খেলে সে তথ্য আর পাওয়া যাবে না। সে তাই ছুরি হাতে গিয়ে সরীসৃপার গলার কাছে এক দুর্বল অংশে ছুরিটা বসিয়ে দিল। সূরীসৃপটা তবু কায়দা হলো না, সে লড়াই করে যেতে লাগল। টারজানও বারবার ছুরিটা তার গায়ে কমাতে লাগল।

    দু’জনের চেষ্টায় সরীসৃপটা মরে গেলে শ্বেতাঙ্গ যোদ্ধা টারজনের সামনে দাঁড়িয়ে বলল, তুমি শত্রু না মিত্র?

    টারজান বলল, আমি তোমার বন্ধু। আমি হচ্ছি টারজান। তুমি কে?

    যোদ্ধা বলল, আমি খোবোজ নগরীর অধিবাসী, নাম থেটান।

    টারজান বলল, আমি আশেয়ারে যেতে চাই।

    যোদ্ধা বলল, তুমি এমন একটা ব্যাপারের কথা বললে যাতে আমি কোন সাহায্য তোমায় করতে পারব না। আশেয়ারের লোকেরা আমাদের চিরশত্রু। সেখানে তোমাকে নিয়ে গেলে আমাদের দুজনকে তারা হয় মেরে ফেলবে না হয় বন্দী করে রেখে দেবে। আমি বরং আমাদের রাজার কাছে তোমাকে নিয়ে যেতে পারি।

    টারজান মবুলিদের বলল, তোমরা সব মালপত্র নদীতে দাঁড়ানো নৌকাতে তুলে দাও।

    নৌকাটা এগিয়ে চলল।

    সহসা লাভাক সামনে অদূরে একটা নৌকা দেখতে পেয়ে বলল, ঐ দেখ!

    নৌকাটা তাদের দিকেই এগিয়ে আসছিল। থেটান বলল, আশেয়ারের নৌকা। আশেয়ারের যোদ্ধারা আছে ওতে।

    ছয়টা নৌকা যোদ্ধাদের নিয়ে তাদের দিকে আসছিল।

    থেটান বলল, ওরা আমাদের ধরে ফেলবে।

    টারজান বলল, এখন লড়াই করা ছাড়া কোন উপায় নেই।

    আশেয়ারের নৌকাগুলো কাছে আসতেই টারজনের সংকেত পেয়ে গ্রেগরির দলের লোকেরা বর্শা আর বন্দুকের গুলি ছুঁড়তে লাগল আশেয়ারের যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে। কিন্তু গুলি করতে অসুবিধে হচ্ছিল ওদের। নৌকাটা দুলছিল। তবু আশেয়ারের যোদ্ধারা অনেকে নিহত হলো। তাদের হাত থেকে ছোঁড়া একটা ছোট বর্শা এসে গ্রেগরিদের একজন নাবিককে বিদ্ধ করল। নাবিকরাও তখন টারজানদের হয়ে লড়াই করতে লাগল।

    এমন সময় আশেয়ারের একটা বড় নৌকা জোরে এসে টারজানদের নৌকাটাকে ধাক্কা মারতে সেটা উল্টে গেল। যাত্রীরা সব জলে পড়ে গেল।

    আশেয়ারের নৌকাগুলো সব চলে গেলে দেখা গেল সবাই জল থেকে উঠেছে। একমাত্র দার্ণৎ আর হেলেনকে পাওয়া গেল না। থেটান বলল, আশেয়ারের যোদ্ধারা তাদের জল থেকে তুলে তাদের নৌকায় চাপিয়ে নিয়ে পালিয়েছে।

    তখন অন্ধকার হয়ে গেছে। লাভাক বলল, এখন ত বাচলাম, এরপর আমাদের ভাগ্যে কি আছে তা একবার ভেবে দেখ।

    টারজান বলল, সামনে কি আছে তা আমরা কেউ জানি না। সুতরাং খারাপের মধ্যেও ভালটাই আশা করতে হবে।

    আশেয়ার নগরীতে আলো দেখতে পেল ওরা। ওদের নৌকাটা থোবোজের দিকে এগিয়ে আসছিল। থেটান বলল, আশেয়ারের নৌকাগুলোর আলো দূরে মিলিয়ে যাচ্ছে বাঁদিকে। তার মানে নগরে ফিরে যাচ্ছে ওরা।

    সারারাত এইভাবে চলার পর সকাল হতে থোবোজের ঘাটে গিয়ে পৌঁছল গ্রেগরিদের নৌকাটা। ঘাটের উপর থেকে মাথায় কালো পালকের উষ্ণীষপরা যোদ্ধারা বিদেশীদের দেখে গর্জন করে উঠল, কে তোমরা?

    থেটান উত্তর দিল, রাজা হেরাতের ভাইপো থেটানের বন্ধু এরা।

    যোদ্ধাদলের নেতা বলল, বিদেশীদের কোনক্রমে ঢুকতে দেয়া হয় না এই নগরীতে। আগে আমি তোমাদের সবাইকে বন্দী করে নিয়ে যাব রাজার কাছে। পরে রাজা যা করেন তাই হবে।

    হেলেন আর দার্ণৎকে প্রথমে আশেয়ারের রাজপ্রাসাদের একটা অন্ধকার ঘরে আটক রাখা হলো।

    ওদের দুজনকে দরবার হলে রানীর সামনে নিয়ে যাওয়া হলে আতন থোম আর লাল টাস্ককে মঞ্চের মধ্যে দেখে বিস্ময়ের আবেগে চীৎকার করে উঠল হেলেন। দার্ণৎকে দেখিয়ে বলল, ঐ দেখ।

    রানীর সিংহাসনের সামনে ওদের নিয়ে যাওয়া হলে রানী আটকা কড়াভাবে ওদের জিজ্ঞাসা করল, কেন তোমরা এই নিষিদ্ধ নগরীতে এসেছ?

    হেলেন বলল, আমার ভাই ব্রিয়ান গ্রেগরির খোঁজে আমরা এসেছি।

    রানী আটকা বলল, মিথ্যা কথা। তোমরা হীরকদের পিতাকে চুরি করে নিয়ে যেতে এসেছ।

    আতন থোম বলল, মেয়েটির কোন দোষ নেই। ওর সঙ্গীরাই হীরকদের পিতাকে চুরি করে নিয়ে যেতে এসেছে।

    দার্ণৎ বলল, মেয়েটিই সত্যি কথা বলছে। ঐ লোকটাই মিথ্যা কথা বলছে। ও-ই হীরে চুরি করতে এসেছে।

    রানী আটকা বলল, তোমরা সবাই মিথ্যা কথা বলছ। মেয়েটিকে মন্দিরে নিয়ে যাও। সেখানে ও সেবাদাসীর কাজ করবে। লোকটাকে বন্দী করে রাখগে।

    দার্ণৎকে প্রহরীরা নিয়ে যাবার জন্য ধরতে এলে সে নিজেকে ছিনিয়ে নিয়ে হঠাৎ আতন থোমের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তার গলাটা টিপে ধরল।

    কিন্তু থোমকে মেরে ফেলার আগেই যোদ্ধারা দাৎকে সরিয়ে দিল জোর করে।

    প্রহরীরা থোম আর টাস্ককেও ধরতে যাচ্ছিল। কিন্তু সামন্ত আকামেন রানীর কানে কানে কি বলতে রানী বলল, আমি আকামেনের উপর এই লোকটির ভার দিলাম।

    দার্ণৎকে ওরা হোরাস হ্রদের জলের তলায় সুড়ঙ্গপথ দিয়ে মন্দিরে নিয়ে গেল। সেখানে প্রহরীরা পুরোহিতদের হাতে ওকে তুলে দিয়ে এল। পুরোহিতরা আবার দার্ণৎকে প্রধান পুরোহিত বৃদ্ধ ব্রুলারের সিংহাসনের সামনে নিয়ে গিয়ে বলল, রানী আটকা এই বন্দীকে পাঠিয়ে দিয়েছে। এ হীরকদের পিতার শুচিতা নষ্ট করতে এসেছিল।

    ব্রুলার রেগে গিয়ে বলল, এত লোককে আমি খাওয়াব কি করে? যাই হোক, ওকে একটা খাঁচায় ভরে রেখে দাও।

    দার্ণৎ দেখল, বড় ঘরখানার মধ্যে দু’দিকে অনেক বড় বড় খাঁচায় এক একজন শীর্ণকায় লোককে বন্দী করে রাখা হয়েছে। লোকগুলোর মাথায় একরাশ করে রুক্ষ চুল আর মুখে দাড়ি গজিয়ে উঠেছে। দার্ণৎকে একটা খাঁচায় ভরা হলে পাশের খাঁচা থেকে একজন শীর্ণকায় অনশনিক্লষ্ট দাড়িওয়ালা লোক দার্ণৎকে লক্ষ্য করে বলল, তুমিও কি হীরে চুরি করতে এসেছিলে?

    দার্ণৎ বলল, না, আমরা একটা লোকের খোঁজে এসেছিলাম।

    খাঁচায় সেই বন্দী লোকটি বলল, কে সে লোক?

    দার্ণৎ বলল, ব্রিয়ান গ্রেগরি নামে একটি লোক এখানে বন্দী আছে অনেক দিন ধরে।

    লোকটি বলল, মজার কথা ত! আমিই ত ব্রিয়ান গ্রেগরি। আমাকে খুঁজতে তুমি আসবে কেন?

    দার্ণৎ বলল, তুমিই তাহলে ব্রিয়ান গ্রেগরি? আমি হচ্ছি ফরাসী নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন দার্ণৎ।

    ব্রিয়ান বলল, ফরাসী নৌবাহিনী আমার খোঁজ করবে কেন?

    দার্ণৎ বলল, আমি যখন কোন একটা কাজে লোয়াঙ্গো গিয়েছিলাম তখন তোমার বাবা এখানে আসার জন্য এক অভিযানের প্রস্তুতি চালাচ্ছিলেন। আমি তাঁর অভিযানে যোগদান করি।

    ব্রিয়ান বলল, তাহলে বাবা আসছিলেন আমার জন্য?

    শুধু তোমার বাবা নয়, তোমার বোনও এসেছে। তোমার বাবা জলপথে আসার সময় নৌকা ডুবি হওয়ায় জলে পড়ে যান। তারপর কি হয়েছে জানি না। তবে তোমার বোন আমার সঙ্গে এখানে বন্দী হয়।

    ব্রিয়ান বলল, আমার জন্যই এত সব কষ্ট।

    দার্ণৎ বলল, ঐটাকে বলে হীরকদের পিতা?

    ব্রিয়ান বলল, ঐ বড় কৌটোটাতে বিরাট একতাল হীরে আছে। প্রধান পুরোহিত ব্রুলার ওটাকেই হীরকদের পিতা বলে।

    দার্ণৎ বলল, খাঁচায় যে সব বন্দী রয়েছে তারা কি সবাই বিদেশী?

    ব্রিয়ান বলল, না, কিছু আশেয়ারের লোকও আছে যারা রানীর বিরাগভাজন হয়ে পড়ে কোনক্রমে। কিছু থোবোজের লোক আছে। আমার পাশে আছে হার্কুফ। সে ছিল এই মন্দিরেরই এক পুরোহিত। ব্রুলারের সঙ্গে কোন কারণে ঝগড়া হওয়ার জন্যই তার এই অবস্থা।

    এদিকে থোবোজের রাজপ্রাসাদের একটি ঘর থেকে টারজান, থেটান, লাভাক আর গ্রেগরিকে রাজদরবারে রাজা হেরাতের সিংহাসনের সামনে বন্দী অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হলো। রাজার পাশে রানী মেনথেব বসে ছিল। সিংহাসনের দু’পাশে কালো পালক মাথায় যোদ্ধারা দাঁড়িয়েছিল।

    হেরাতের চেহারাটা বেশ উঁচু আর পুরু। তার চিবুকে অল্প একটু দাড়ি ছিল।

    হেরাৎ থেটানকে বলল, তুমি আমাদের দেশের সব আইন কানুন জেনেও বিদেশীদের সঙ্গে করে এনেছ। তুমি আমার ভাইপো হলেও তোমাকে আইনের খাতিরে ক্ষমা করতে পারি না।

    থেটান বলল, তুয়েন বাকার পাদদেশে একদিন এক বিরাট সরীসৃপের কবলে পড়ে আমার জীবন চলে যাচ্ছিল। তখন টারজান নামে এই লোকটি তার নিজের জীবন বিপন্ন করে সেই জন্তুটাকে বধ করে আমাকে বাঁচায়। পরে জানলাম, এই লোকটি আর তার সঙ্গীরা আশেয়ারের শত্রু। ওরা বিদেশী হলেও আমাদের শত্রু নয়। তাই তাদের বন্ধু ভেবে নিয়ে এসেছি।

    থেটানের কথা শুনে নরম হলো হেরা। বলল, তোমার অপরাধ আমি ক্ষমা করলাম। কিন্তু বিদেশীদের এখন বন্দী থাকতে হবে। তাদের অবশ্য আমি বাঁচার একটা সুযোগ করে দেব। তিনটি শর্ত পূরণের উপর তাদের জীবন নির্ভর করছে। প্রথমতঃ তাদের একজনকে এক আশেয়ারের যোদ্ধাকে হত্যা করতে হবে লড়াই করে। দ্বিতীয়তঃ তাদের একজনকে একটা সিংহকে বধ করতে হবে। তৃতীয়তঃ তাদের একজনকে আশেয়ারের মন্দির হতে হীরকদের পিতাকে নিয়ে আসতে হবে।

    হেরাৎ বলল, মেয়েটিকে অন্দরমহলে মেয়েদের কাছে নিয়ে যাও। তার যেন কোন ক্ষতি না হয়। পুরুষদের এখন বন্দী করে রাখ। শর্ত পালনের জন্য পরে তাদের একে একে ডেকে পাঠাব।

    পরদিন সকালে কারাগারের মধ্যে ওদের ঘুম ভাঙ্গলে একজন প্রহরী ঘরের মধ্যে ঢুকে বলল, তোমাদের মধ্যে একজন এস, আশেয়ারের সেই যোদ্ধার সঙ্গে লড়াই করে তাকে মারতে হবে।

    লাভাক আর গ্রেগরি একে একে দু’জনেই যেতে চাইল।

    কিন্তু টারজান তাদের কথা না শুনে প্রহরীর সঙ্গে চলে গেল।

    প্রাসাদের উঠোনে এক জায়গায় লড়াইয়ের ব্যবস্থা হয়েছিল। আশেয়ারের সেই যোদ্ধাকে আনা হলো টারজনের সামনে। থেটান উৎসাহ দিল টারজানকে। হেরাৎ বলল, এ লড়াইয়ে ওর জীবন যাবেই।

    আশারীয় যোদ্ধাটা এসে টারজানকে প্রথমে বুকের উপর সমস্ত শক্তি দিয়ে চেপে ধরল। ভাবল এইভাবে সে তাকে চেপে মেরে ফেলবে। টারজান চুপচাপ দাঁড়িয়ে মজা দেখতে লাগল। আশারীয় যোদ্ধা যখন দেখল তাতে কিছুই হলো না তখন সে আশ্চর্য হয়ে বলল, তুমি কি মানুষ না কোন পশু?

    টারজান বলল, আমি হচ্ছি বাঁদরদলেল রাজা টারজান। আমি তোমাকে বধ করব।

    আশারীয় যোদ্ধা আবার টারজানকে আক্রমণ করতে টারজান তাকে মাথার উপর তুলে একপাকে ঘুরিয়ে মাটির উপর আছড়ে ফেলে দিল। তাকে মেরে ফেলতে পারত টারজান তখনি। কিন্তু তাকে নিয়ে সে খেলা করতে চাইল। টারজান লোকটার দিকে ধীর গতিতে এগিয়ে গেলে লোকটা উঠে টারজনের কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে পালিয়ে গিয়ে বসে পড়ল। টারজান আবার তার কাছে গেলে লোকটা তার কোমর থেকে একটা ছুরি বার করে নিজের বুকে বসিয়ে দিল।

    হেরাৎ আশ্চর্য হয়ে বলল, আশারীয় যোদ্ধার আজ কি হলো তা বুঝতে পারছি না।

    থেটান বলল, ও হেরে গেল। বিদেশী বন্দী জিতে গেল।

    হেরাৎ বলল, যদিও ও নিজের হাতে আশারীয় যোদ্ধাকে বধ করেনি তা হলেও জয়ী। ওকে ডেকে আন।

    রানী মেনথেব বলল, এ ধরনের শক্তিশালী মানুষ আমি আগে কখনো দেখিনি।

    টারজান তার সামনে এসে দাঁড়ালে হেরাৎ বলল, তুমি এখন থেকে স্বাধীন। অন্য দুটি শর্ত এখনো পূরণ না হলেও আমি তোমাকে স্বাধীনতা দান করলাম। অন্য দু’জন একে একে শর্ত পূরণ করতে পারলে তারাও ছাড়া পাবে।

    টারজান বলল, আমাদের দলের মেয়েটির কি হবে?

    হেরৎ বলল, সে ভালই আছে। অন্য শর্ত দুটি পূরণ হলে সেও ছাড়া পাবে। তুমি এখন থেটানের অতিথি হিসেবে থাকবে। তোমার সঙ্গীরা শর্ত পালন করতে পারুক বা না পারুক তাদের পরীক্ষা হয়ে গেলেই তুমি এ দেশ থেকে চলে যেতে পারবে। এখন ঠিক করো তোমার সঙ্গীদের মধ্যে কে সিংহ মারবে?

    টারজান বলল, আমি মারব।

    রানী বলল, তুমি ত স্বাধীনতা পেয়ে গেছ। আবার কেন জীবন দিতে যাবে?

    টারজান বলল, তা হলেও আমি সিংহ মারব।

    হেরাৎ রাণীর দিকে তাকিয়ে বলল, ঠিক আছে, ও যদি মরতে চায় ত তাই মরবে।

    সেদিন সকালবেলায় দেখা গেল একমাত্র পিঞ্জরাবদ্ধ বন্দীরা ছাড়া মন্দিরের মধ্যে আর কোন লোকই নেই।

    মাথায় অদ্ভুত শিরস্ত্রাণ পরা একটা লোক একটা ত্রিশূলের উপর একটা বড় মাছ গেঁথে ওদের সামনে এসে বলল, এই হলো তোমাদের খাবার।

    বিয়ান বলল, ওর নাম হলো টোম। হোরাস হ্রদে ও মাছ ধরে বেড়ায়। সেই মাছ খেয়ে আমরা বেঁচে থাকি।

    জাইথেব হেলেনকে জোর করে ধরতে গেল। হেলেন টেবিল থেকে ফুলদানিটা তুলে নিয়ে তাই দিয়ে সজোরে জাইথেবের মাথায় এমনভাবে মারল যে জাইথেব পড়ে গেল। হেলেন বুঝতে পারল জাইথেব। মারা গেছে।

    জাইথেবের কোমর থেকে চাবির গোছাটা আর ছোরাটা নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল হেলেন। যাবার আগে জাইথেবের মৃতদেহটা আলমারির পাশে লুকিয়ে রাখল যাতে হঠাৎ কেউ দেখতে না পায়।

    মন্দিরের ভিতরে গিয়ে সে সোজা ব্রিয়ান আর দার্ণৎতের সঙ্গে দেখা করল। খাঁচার তালা খুলে ওদের। দু’জনকে মুক্ত করে দিয়ে বলল, আমি জাইথেবকে হত্যা করেছি। ও আমাকে ধরতে এসেছিল।

    হেলেন বলল, এখন এখান থেকে এই মুহূর্তে পালিয়ে যেতে না পারলে মরতে হবে।

    ব্রিয়ান বলল, আমার পাশের খাঁচাটায় হার্কুফ আছে। ও আগে এখানকার এই পুরোহিত ছিল। ও এখান থেকে বেরিয়ে যাবার গুপ্ত পথ জানে। ওকে মুক্ত করে দাও।

    হেলেন একে একে বন্দীদের সব খুঁচাগুলো খুলে দিল। হার্কুফ সব বন্দীদের নিয়ে একটা সুড়ঙ্গ পথ ধরে অন্ধকারে আগে আগে যেতে লাগল।

    ওরা ছিল সংখ্যায় মোট ন’জন সারারাত ধরে পথ চলে ওরা যখন সুড়ঙ্গ পথ পার হয়ে বাইরের জগতের মুক্ত আলো হাওয়ায় এসে দাঁড়াল তখন ভোর হয়ে গেছে।

    ব্রিয়ান হার্কুফকে জিজ্ঞাসা করল, এটা কোন্ জায়গা?

    হার্কুফ বলল, এটা আশেয়ার নগরীর মাথায় যে একটা পাহাড় আছে তারই পাশে এসে পড়েছি আমরা। আমরা দিনেরবেলায় পাহাড়ের গুহায় লুকিয়ে থাকব। রাত্রি হলে পথ চলব। তাহলে আমরা সকাল হতেই থোবোজে পৌঁছব। তুয়েন বাকা পাহাড় থেকে যে পথটা বেরিয়ে এসেছে সেই পথ ধরেই এগিয়ে যাব আমরা।

    পরদিন দুপুরবেলায় টারজানকে দু’জন প্রহরী ডেকে নিয়ে এল প্রাসাদের উঠোনে একটা ঘেরা নিচু জায়গার কাছে। ঘেরা জায়গার মধ্যে দুটো সিংহকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। টারজানকে লড়াই করতে হবে তার মধ্যে। গোলাকার সেই নিচু জায়গাটার উপর থেকে রাজা, রানী, সামন্তরা ও অনেক দর্শক দেখতে লাগল লড়াইটা।

    টারজনের বীরত্বপূর্ণ চেহারাটা দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল রাজা হেরাৎ। রানীকে সে বলল, তোমার রুচিটা সত্যিই ভাল মেনথেব। লোকটা সত্যিই বীর এবং মানুষ হিসেবে মহান। তার মত লোকের এভাবে মৃত্যু হওয়া উচিৎ নয়।

    টারজান দেখল দুটো সিংহ এক সঙ্গে তাকে আক্রমণ করলে জয়লাভ করা শক্ত হবে তার পক্ষে। সে দেখল দুটো সিংহের মধ্যে একটা সিংহ এগিয়ে আসছে তার দিকে। সে তাই আগে এগিয়ে আসা সিংহটাকে আক্রমণ করে ঘায়েল করে সেই সিংহটাকে অন্য সিংহটার মুখের কাছে ঠেলে দিল। তখন অন্য সিংহটা ঠেলে দেয়া সিংহটাকে আক্রমণ করে কামড়ে ছিঁড়ে মেরে ফেলল। ভাবল সেই সিংহটা তাকে শত্রু ভেবে কামড়াতে আসে।

    এবার সেই বিজয়ী সিংহটা টারজানকে লক্ষ্য করতে থাকে। এখন উপরের বেড়ার ধারে ঝুঁকে দেখতে গিয়ে অসাবধানতাবশত হঠাৎ লড়াই-এর জায়গাটার মধ্যে পড়ে যায় মেনথেব; টারজান ছুটে গিয়ে মেনথেবেকে ধরে দরজার কাছে দাঁড় করিয়ে দিয়ে সিংহটার দিকে ছুরি হাতে এগিয়ে গেল।

    এদিকে রানী পড়ে যাওয়ায় হেরাৎ চেঁচামিচি করে যোদ্ধাদের ডাকতে লাগল। সে বলল, সিংহটা টারজান আর রানী দু’জনকেই মেরে ফেলবে।

    টারজান সিংহটার ঘাড়ে উঠে তার কালো কেশরগুলো এমনভাবে ধরল যে শত চেষ্টা করেও সিংহটা তার পিঠ থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারল না টারজানকে। টারজান তার ছুরিটা অন্য হাত দিয়ে সিংহটার পাঁজরে বসাতে লাগল বারবার। অবশেষে ছুরিটা আমূল বিদ্ধ হতেই পড়ে গেল সিংহটা।

    হেরাৎ আবেগের সঙ্গে বলে উঠল, লোকটা দানব না দেবতা।

    হেরাতের কাছে ওরা যেতেই হেরাৎ টারজানকে বলল, তুমি আমার রাণীর জীবন বাঁচিয়েছ। তুমি তার জন্য দ্বিগুণ স্বাধীনতা লাভ করলে। তুমি এখানে থাকতে পার, আবার ইচ্ছা করলে চলে যেতেও পার।

    টারজান বলল, আমাকে আশেয়ারে গিয়ে ব্রুলার আর হীরকদের পিতাকে এখানে নিয়ে আসতে হবে। গ্রেগরির মেয়ে আর আমার সবচেয়ে অন্তরঙ্গ বন্ধু সেখানে আছে।

    হেরাৎ বলল, ঠিক আছে যাও। কোন সাহায্য দরকার হলে বলবে।’

    টারজান বলল, আমি একাই যাব। তব কোন সাহায্যের দরকার হলে ফিরে এসে জানাব।

    আশেয়ারের রাজপ্রাসাদের একটি ঘরে লাল টাস্ক উত্তেজিতভাবে বলে উঠল, আমি এ কাজ পারব না। আমাকে মরতে হবে এর জন্য।

    আতন থোম তাকে আশ্বস্ত করে বলল, এতে বিপদের কোন ঝুঁকি নেই। সব ঠিক হয়ে আছে। এ কাজ করতে পারলে তুমি আশেয়ারের ভাবী রাজার আপনজন হয়ে উঠবে। তার ফলে হীরকদের পিতার খুব কাছাখাছি চলে আসবে। তাছাড়া আকামেন তোমাকে সাহায্য করবে। সে তোমাকে রাণীর শোবার ঘরে নিয়ে যাবে। তারপর তোমাকে কি করতে হবে তা তুমি জান।

    এমন সময় দরজা ঠেলে আকামেন এসে ঘরে ঢুকল। থোম বলল, সব ঠিক, লাল টাস্ক এ কাজ করবে।

    আকামেন বলল, রানী এখন শুয়েছে। দরজার সামনে কোন প্রহরী নেই।

    লাল টাস্ক গিয়ে ছুরি হাতে ঘরে ঢুকল। আকামেন বাইরে দাঁড়িয়ে রইল। কিন্তু ছুরি হাতে লাল টাস্ক রাণীর বিছানার দিকে এগিয়ে যেতেই পর্দা ঠেলে একদল যোদ্ধা ঘরে ঢুকেই লাফিয়ে পড়ল টাস্কের উপর। রানী আটকা উঠে বসল বিছানার উপর। বলল, এই লোকটা, আকামেন আর আতন থোমকে আমার দরবার ঘরে নিয়ে যাও। সামন্তদের সব ডাক।

    রাণীর সিংহাসনের সামনে তিনজনকে দাঁড় করালে রানী আকামেনকে বলল, তুমি এই দু’জন লোকের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছ আমাকে হত্যা করার জন্য। কারণ তুমি রাজা হতে চাও। তাদের একজন আমাকে কথাটা জানিয়ে দেয়। তোমাদের এখনি প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত না করে খাঁচায় আবদ্ধ করে রাখার হুকুম দিচ্ছি। তোমাদের বন্দীদশা আরো দুঃসহ করে ভোলার জন্য তোমাকে অর্ধেক করে খাবার দেয়া হবে। তোমাদের একটা করে হাত আর পা কেটে ফেলা হবে। এইভাবে তোমাদের আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, বিশ্বাসঘাতকতার পরিণাম কী ভীষণ এবং বিপজ্জনক হতে পারে।

    ব্রুলারের মন্দিরে বন্দীদের খাঁচায় আবদ্ধ করে রাখা হলো আকামেন, থোম আর টাস্ককে। তার খাঁচা থেকে হীরের কৌটোটাকে দেখতে পাচ্ছিল আতন থোম।

    টারজান আর থেটান, গ্রেগরি আর লাভাক যে ঘরে শৃঙ্খলিত অবস্থায় বন্দী ছিল সেই ঘরে গিয়ে তাদের বলল, হেরাৎ তোমার মুক্তি দিয়েছেন।

    টারজান বলল, তোমরা এখন মুক্ত অবস্থায় শহরের মধ্য ঘুরে বেড়াতে পারবে। আমি আশেয়ার থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত এখানেই থাকবে তোমরা।

    গ্রেগরি বলল, আশেয়ারে যাবে কেন?

    টারজান বলল, তোমার মেয়ে আর দার্ণৎতের খোঁজে। তার উপর তোমাদের মুক্তির জন্য ব্রুলার আর হীরকদের পিতাকে এখানে নিয়ে আসতে হবে।

    লাভাক বলল, সিংহদুটো মারা হয়েছে?

    টারজান বলল, হ্যাঁ, তারা এখন মৃত।

    গ্রেগরি আর লাভাক দু’জনেই টারজনের সঙ্গে আশেয়ারে যেতে চাইল।

    টারজান বলল, একজনকে এখানে থাকতেই হবে। একজন আমার সঙ্গে যেতে পার। আচ্ছা লাভাক এস।

    তখনি যাত্রা শুরু করল ওরা।

    এদিকে আশেয়ার থেকে যে নয়জন বন্দী পালিয়ে এসেছিল তারা পথ হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। তাদের পাগুলো ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছিল। হার্কুফ বলল, এখন ভোর হয়ে গেছে। এখন আর পথ চলব না আমরা। এখন লুকিয়ে থাকার জন্য একটা গুহা খুঁজতে হবে।

    এদিকে টারজান আর লাভাক আশেয়ারের পথে যেতে যেতে এক জায়গায় বাতাসে মানুষের গন্ধ পেয়ে থমকে দাঁড়াল। টারজান বুঝল, কয়েকজন শ্বেতাঙ্গের একটি দল মন্থর গতিতে কোথায় যাচ্ছে। তাদের দলে একটি শ্বেতাঙ্গ মেয়েও আছে।

    টারজান এক জায়গায় লাভাককে দাঁড় করিয়ে রেখে একা সেই গন্ধসূত্র ধরে এগিয়ে গিয়ে দেখল দূরে নয়জন পলাতকের একটি দলকে ধরার জন্য ছয়জন আশারীয় যোদ্ধা বর্শা উঁচিয়ে ছুটছে। একটা বর্শার আঘাতে একজন পলাতক পড়ে গেল। তখন বাকি সবাই থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল।

    সঙ্গে সঙ্গে আশারীয় যোদ্ধারা গিয়ে তাদের ঘিরে ফেলল। বর্শার বাঁট দিয়ে পলাতকদের মারতে লাগল। যোদ্ধাদের একজন হেলেনকে মারতে গেলে দার্ণৎ একটা ঘুষিতে তাকে ফেলে দিল। এমন সময় একজন যোদ্ধা তার বর্শাটা দার্ণৎতের বুকে বসিয়ে দিতে গেল। ঠিক সেই সময় একটা তীর গিয়ে যোদ্ধার পিঠে লাগতেই সে পড়ে গেল। আশারীয় যোদ্ধারা চারদিকে তাকিয়ে দেখল কেউ কোথাও নেই। কে বা কারা কোথা থেকে তীর মারল তা বুঝতে পারল না তারা কিছুই। কিন্তু তারা কিছু বোঝার আগেই আর একটা তীর এসে আর একজন যোদ্ধাকে বিদ্ধ করল।

    দার্ণৎ বলল, তোমরা আমাদের ছেড়ে দিয়ে চলে যাও। তা না হলে তোমরা সবাই মারা যাবে।

    যোদ্ধারা বলল, তোমাদের ছেড়ে দিয়ে গেলেও রানী আটকার হাতে আমাদের মরতে হবে।

    এই বলে তারা যেমন এক সঙ্গে বর্শা তুলে দার্ণৎদের মারতে উদ্যত হলো অমনি পর পর কয়েকটা তীর এসে বাকি যোদ্ধাদের বিদ্ধ করে মেরে ফেলল তাদের সবাইকে।

    এবার টারজান ওদের সামনে এসে দাঁড়াতেই দার্ণৎ জড়িয়ে ধরল তাকে। বলল, আমি আগেই হেলেনকে বলেছিলাম এ টারজান ছাড়া আর কেউ হতেই পারে না।

    হেলেন বলল, বাবা কোথায়? মাগরা কোথায়? তারা কি ডুবে গেছে সেই নৌকা ডুবির সময়?

    টারজান বলল, না,তারা থোবোজের রাজবাড়িতে বন্দী আছে। অবশ্য নগর মধ্যে স্বাধীনভাবে ঘুরতে পারবে তারা। তাদের মুক্তির জন্য আমাকে আশেয়ারে গিয়ে প্রধান পুরোহিত ব্রুলারকে আর হীরকদের পিতাকে থোবোজে নিয়ে যেতে হবে।

    এক ঘণ্টা পরে তারা এক সঙ্গে আশেয়ারের পথে রওনা হলো।

    সেদিন রাত্রিবেলায় গ্রেগরি থেটানকে বলল, আমরা দু’জনইে চলে যেতে চাই। তুমি আমাদের এ বিষয়ে সাহায্য করতে পার?

    থেটান বলল, তোমরা টারজনের বন্ধু। সে আমাকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছে। আমি তোমাদের চলে যেতে সাহায্য করব। তোমরা হোরাস হ্রদের পশ্চিম দিকের পথ ধরে আশেয়ারের পথে চলে যাবে। থোবোজে আর ফিরে এস না।

    আধ ঘণ্টার মধ্যেই থেটান গ্রেগরি আর মাগরাকে নিয়ে গুপ্ত পথ দিয়ে নগরপ্রান্তে চলে গেল। সেখানে তাদের আশেয়ারের পথটা দেখিয়ে দিয়ে বিদায় দিল।

    টারজানরা সংখ্যায় মোট ছয়জন হলো। ওরা আশেয়ারে ফ্রলারের মন্দিরে যাবার গুপ্ত পথের মুখে, এসে দাঁড়াল। একটা পাহাড়ের পাশ দিয়ে সুড়ঙ্গ পথটা শুরু হয়েছে।

    হার্কুফ বলল, মন্দিরের চাবিকাঠি আমার কাছে আছে। ব্রুলার কোথায় শোয় আমি জানি। ও যখন উপাসনার শেষে ঘুমোয় তখন মন্দিরে কেউ থাকে না। পুরোহিতরা আপন আপন ঘরে শুতে যায়। হীরের কৌটোটা লারের সিংহাসনের সামনে পড়ে থাকে। ব্রুলারকে ধরে ফেলতে পারলে ও তাকে হত্যার ভয় দেখালে সে কোন শব্দ না করে চলে আসতে পারে আমাদের সঙ্গে।

    টারজান বলল, তোমরা সবাই এই জায়গাটায় পাহাড়ের ধারে লুকিয়ে থাক কোন গুহায়। আমি হার্কুফকে নিয়ে যাব। এক ঘণ্টার মধ্যে আমরা ফিরে না এলে তোমরা নিজেদের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা করে নিও। তুয়েন বাকার সীমানাটা যে-কোনভাবে পার হয়ে যাবে।

    অন্যদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সুড়ঙ্গের মধ্যে ঢুকে পড়ল টারজান আর হার্কুফ।

    এদিকে গ্রেগরি আর মাগরা সেই পথে আসতে আসতে আশেয়ার থেকে পালিয়ে আসা তিনজন বন্দীর দেখা পেল। তারা গ্রেগরিকে জিজ্ঞাসা করল, তোমরা কে?

    গ্রেগরি বলল, তুয়েন বাকা থেকে বেরিয়ে যাবার পথে খুঁজছি আমরা।

    পলাতকরা বলল, আমরাও তাই খুঁজছি। এস আমাদের সঙ্গে।

    গ্রেগরি বলল, আমাদের সঙ্গীরা আশেয়ারের পথে গিয়েছে। তাদের খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত আমরা কোথাও যেতে পারব না।

    পলাতকরা বলল, আমরা তাদের দেখেছি। তারা ছিল সংখ্যায় ছয়জন। তার মধ্যে একজন মহিলা ছিল।

    গ্রেগরি বলল, তারা কে কে তা জান?

    পলাতকরা বলল, তারা ছিল মোট ছয়জন, টারজান, দার্ণৎ, লাভাক, ব্রিয়ান গ্রেগরি, হার্কুফ আর হেলেন।

    গ্রেগরি অবাক হয়ে গেল। ওরা কিভাবে মুক্ত হলো তার কিছুই বুঝতে পারল না গ্রেগরি। যাই হোক, হেলেন আর ব্রিয়ান জীবিত আছে এবং তারা টারজনের দেখা পেয়েছে জেনে খুশি হলো।

    এদিকে টারজান আর হাক্‌ফ যখন সুড়ঙ্গপথের মধ্যে ঢোকে তখন আশেয়ারের এক পুরোহিত একটা বড় পাথরের পাশ থেকে লুকিয়ে তা দেখে।

    টারজান আর হাফ সুড়ঙ্গপথটা পার হয়ে মন্দিরে ওঠার মুখে ধরা পড়ে গেল। তাদের অতর্কিত আক্রমণে ফেলে দিয়ে বেঁধে ফেলল যোদ্ধারা। তারপর তাদের মন্দিরের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হলো। এক একটি খাঁচার মধ্যে আবদ্ধ করে রাখা হলো তাদের। তারা গিয়ে দেখল দার্ণৎ, ব্রিয়ান, হেলেন আর লাভাকও খাঁচায় ভরা রয়েছে।

    এমন সময় মন্দিরের সব তালাচাবির রক্ষক এসে একটা খাঁচা খুলে টারজানকে বলল, রানী তোমায় ডাকছেন।

    রানী আটকা তখন সামন্তদের দ্বারা পরিবৃত হয়ে তার সিংহাসনে বসেছিল। টারজান তার সামনে গিয়ে দাঁড়াতে তার আপাদমস্তক ভাল করে নিরীক্ষণ করে বলল, তাহলে তুমিই হচ্ছ সেই মানুষ যে আমার অনেক যোদ্ধাকে মেরেছ এবং একটা নৌকা দখল করে নিয়েছ।

    টারজান চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকায় আটকা রেগে গিয়ে বলল, কি, কথা বলছ না কেন?

    টারজান বলল, বৃথা কথা বলে কি হবে? আমি সেদিন অনেকগুলো যোদ্ধাকে মেরেছি। গতকাল বনে আমি তোমার আরো ছয়জন যোদ্ধাকে মেরেছি।

    রানী আবার জিজ্ঞাসা করল, আশেয়ারে তুমি কেন এসেছ? কেন তোমরা শত্রুতা করছ আমার সঙ্গে।

    টারজান বলল, আমার যে সব সঙ্গীরা বন্দী আছে এখানে আমি তাদের মুক্ত করতে এসেছি। আমি তোমাদের শত্রু নাই। আমি শুধু আমার বন্ধুদের মুক্তি চাই।

    রানী আটকা বলল, আর হীরকদের পিতা?

    টারজান বলল, তার প্রতি আমার কোন লোভ নেই।

    রানী আকটা বলল, আতন থোম হীরে চুরি করতে এসেছিল আর তুমি ত তার চর।

    টারজান বলল, সে আমার শত্রু।

    আটকা কি ভেবে নিয়ে বলল, তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে তুমি সত্য কথা বলছ। আমি তোমাকে বন্ধু হিসেবে পেতে চাই। কতকগুলো বাঁদর-গোরিলা তোমার হয়ে যুদ্ধ করেছিল। তুমি আমার বশ্যতা স্বীকার করো। তোমাকে দিয়ে আমার অনেক কাজ হবে। তুমি মুক্ত।

    টারজান বলল, আর আমার বন্ধুরা? তারাও মুক্ত ত?

    আটকা বলল, অবশ্যই না। ব্রিয়ান গ্রেগরি হীরকদের পিতাকে চুরি করে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। তোমার অন্য সঙ্গীরা তাকে সাহায্য করতে এসেছিল। সুতরাং তাদের মুক্তি দেয়ার কোন কথাই উঠতে পারে না।

    টারজান বলল, তারা মুক্তি পেলেই আমি এখানে থাকতে পারি।

    আটকা রেগে গিয়ে বলল, এই লোকটাকে নিয়ে যাও। খাঁচায় বন্দী করে রাখো।

    প্রহরীরা টারজানকে নিয়ে গিয়ে আবার সেই খাঁচায় আবদ্ধ করে রাখল।

    ব্রুলারের সিংহাসনের পাশে মঞ্চের উপর চেয়ারের মত যে একটা সিংহাসন ছিল তার উপর বসল রানী আটকা। সে জোর গলায় ঘোষণা করল একমাত্র মেয়েটি ছাড়া অন্য সব পলাতক বন্দীদের একে একে বলি দেয়া হবে। আর হোরাস হ্রদের তলায় যে পীড়নাগার আছে তার মধ্যে ডুবিয়ে মারা হবে মেয়েটিকে, কারণ জাইথেবকে খুন করেছিল সে।

    সেখান থেকে জলের ভিতর দিয়ে হেলেনকে নিয়ে যাবার জন্য তিনজন টোম বা ডুবুরি এসে হেলেনকে তার পরনের পোশাক খুলে ডুবুরির পোশাক আর শিরস্ত্রাণ পরতে বলল। তার পর তাকে নিয়ে মন্দির থেকে চলে গেল।

    রাত গম্ভীর হলে মন্দিরের পুরোহিতরা তাদের আপন আপন ঘরে শুতে গেলে টারজান তার দেহের অসীম শক্তি দিয়ে খাঁচার দুটো রড বেঁকিয়ে ফাঁকা করে খাঁচা থেকে বেরিয়ে এল। তারপর হাকুফের খাঁচাটাকেও একইভাবে ফাঁকা করে তাকে মুক্ত করে দিল।

    হার্কুফ টারজানকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতে লাগল। ডুবুরিদের ঘরে গিয়ে ওরা দেখল তারা সবাই ঘুমোচ্ছে। তাদের ঘর থেকে দুটো ডুবুরির পোশাক আর শিরস্ত্রাণ নিয়ে নিল। দুটো ডুবুরি পোশাক আর দুটো শিরস্ত্রাণ পরে নিল। তারপর সেখান থেকে বেরিয়ে জলের তলা দিয়ে একটা বড় পাকা বাড়ির দিকে এগিয়ে গেল। বাড়িটার ছাদের উপরে গিয়ে ওরা বুঝল এ বাড়ির নিচের তলায় একটা ঘরে বন্দী আছে হেলেন।

    এদিকে সেই বাড়ির পীড়নাগারে হেলেনকে নিয়ে গিয়ে বাইরে থেকে দরজাটা বন্ধ করে দেয় ডুবুরিরা। ঘরের মধ্য একটা মই ছিল। ঘরটার মধ্যে জল ঢুকছিল। হেলেন বুঝল এই ঘরেতে অনেক বন্দীকে রেখে তাকে ধীরে ধীরে ডুবিয়ে মারা হয়। ঘরের মেঝেটা প্রথমে জলে ডুবে গেল। হেলেন মইয়ের একটা সিঁড়িতে উঠল। এইভাবে যতই জল উঠতে থাকে ততই মইয়ের একটা উঁচু সিঁড়িতে উঠতে থাকে হেলেন। তখন জলে ভরে গেছে গোটা ঘরটা।

    হেলেন যখন জলের উপর ভাসতে শুরু করেছে তখন টারজান আর হার্কুফ দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে হেলেনকে উদ্ধার করে নিয়ে এল কিন্তু তাদের মুখে ও মাথায় শিরস্ত্রাণ আর ডুবুরি পোশাক থাকায় তাদের চিনতে পারল না।

    এদিকে ডুবুরিদের মধ্যে একজন হঠাৎ জেগে উঠে যখন দেখল তাদের দুটো জল পোশাক আর শিরস্ত্রাণ চুরি হয়ে গেছে তখন সে ছুটে মন্দিরে গিয়ে পুরোহিতদের জাগাল। পুরোহিতরা তখন খাঁচাগুলো পরীক্ষা করে দেখলো দুটো খাঁচা শূন্য। বন্দীরা পালিয়ে গেছে অথচ তালাচাবি ঠিক আছে। শুধু রেলিংগুলো বাঁকানো।

    সঙ্গে সঙ্গে ছয়জন ডুবুরি ত্রিশূল হাতে পলাতক বন্দীদের খোঁজে বেরিয়ে পড়ল। তারা বুঝল বন্দীরা যখন জল পোশাক আর শিরস্ত্রাণ নিয়ে গেছে তখন অবশ্যই হেলেন নামে সেই বন্দিনী মেয়েটাকে উদ্ধার করতে গেছে।

    তাদের ধারণাই ঠিক। টারজান আর হার্টফ যখন হেলেনকে নিয়ে সেই বাড়িটা থেকে বেরিয়ে আসছিল তখন তাদের দেখতে পেল ডুবুরি যোদ্ধারা। তারা গিয়ে টারজানকে ঘিরে ফেলল।

    জলের ভিতরে কিভাবে লড়াই করে ছয়জন যোদ্ধাকে ঘায়েল করবে তা ভেবে পেল না টারজান। তবু সেই প্রথমেই দু’জন যোদ্ধাকে মেরে ফেলল ত্রিশূল দিয়ে। আর দু’জন যোদ্ধা টারজানকে ধরতেই হেলেন তার ত্রিশূলটা একটা যোদ্ধার বুকে বসিয়ে দিল। এইভাবে পাঁচজন যোদ্ধা মারা গেল একে একে। একজন পালাচ্ছিল কিন্তু সে গিয়ে খরব দিয়ে আরো যোদ্ধা আনবে বলে তাকে ধরে মেরে ফেলল টারজান।

    এরপর মন্দিরের পথে না গিয়ে জলের তলা দিয়ে অন্য পথ ধরল হার্কুফ। তারা ঠিক করল আশেয়ার নগরী থেকে কিছুটা দূরে হোরাস হ্রদের কূলে এক জায়গায় উঠবে তারা।

    গ্রেগরি আর মাগরা টারজান ফিরে না আসা পর্যন্ত সেখানেই অপেক্ষা করতে লাগল।

    হঠাৎ মাগরা গ্রেগরিকে হাত বাড়িয়ে দেখাল, একটা গুহা মনে হচ্ছে না?

    ওরা এগিয়ে গিয়ে দেখল সত্যিই একটা বড় গুহা। ভিতরে ঢুকে দেখল ভিতর দিকে একটা বারান্দা চলে গেছে। অন্ধকার হলেও কিছু কিছু দেখা যাচ্ছিল। মাগরা ভিতের ঢুকতে নিষেধ করছিল, গ্রেগরিকে। কিন্তু গ্রেগরি শুনল না।

    মাগরা বলল, মনে হয় অন্ধকারে চুপিসারে কারা যেন আমাদের পিছু নিয়েছে।

    হঠাৎ একটা হাত এসে মাগরার ঘাড়টা ধরে কোথায় নিয়ে গেল তাকে। চীৎকার করার সুযোগও পেল না। গ্রেগরি পিছন ফিরে দেখল মাগরা নেই। কিছুক্ষণের মধ্যেই আর একটা হাত এসে গ্রেগরিকে ধরল।

    গ্রেগরি আর মাগরাকে ধরে একই জায়গায় নিয়ে আসা হলো। ওরা বুঝল সাদা পোশাক পরা থোবোজের একদল অধিবাসী এই গুহাতেই ছিল।

    হোরাস হ্রদের কূলে উঠে টারজান বলল, আমি একটা নৌকা পেলে আশেয়ারে চলে যেতাম। সেখানে আমার কাজ আছে।

    সন্ধ্যার অন্ধকার ঘন হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে টারজান, হেলেন ও হাকুফের কথা না শুনে হোরাসের জলে ঝাঁপ দিল। হেলেন আর হার্কুফ সেখানেই রয়ে গেল।

    টারজান আশেয়ারের কূলের দিকে অর্ধেকটা পথ আঁতার কেটে যেতেই একটা নৌকার আলো দেখতে পেল। একটা নৌকার মশালের আলো তার কাছে পড়তেই সে জলে ডুব দিল। জলে ডুবে ডুবে অনেকটা গিয়ে জলের উপর মাথা তুলল। সে ভাবল আশেয়ারের নৌকা হলে সে আবার ধরা পড়বে।

    টারজান আবার সাঁতার কেটে এগিয়ে যেতে থাকলে হঠাৎ নৌকাটার কাছে এসে পড়ল। কারণ তখন কোন আলো ছিল না নৌকাটাতে। নৌকা থেকে দু’জন যোদ্ধা টারজানকে ধরে তুলে নিল নৌকাতে। টারজান এবার দেখল যোদ্ধাদের মাথায় কালো পালক রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে সে থেটানের গলার আওয়াজ শুনতে পেল।

    থেটান বলল, আমরা আলো না জ্বেলে আশেয়ারের সীমানাটা পার হচ্ছিলাম। আমরা যাচ্ছিলাম কিছু ক্রীতদাসদের খোঁজে। তুমি কোথায় যাচ্ছিলে?’

    টারজান বলল, আমি যাচ্ছিলাম আশেয়ারের ঘাট থেকে একটা নৌকা চুরি করে আনতে।

    থেটান বলল, তুমি কি পাগল হয়েছ?

    টারজান বলল, কিন্তু আমাকে আশেয়ারে যেতেই হবে। সেখানে আমার সঙ্গীরা বন্দী হয়ে আছে। তাদের উদ্ধার করতে হবে। তারপর সেখান থেকে ব্রুলার আর হীরকদের পিতাকে হেরাতের কাছে নিয়ে যেতে হবে। সেখানে মাগরা আর গ্রেগরি আছে।

    থেটান বলল, তারা আগেই পালিয়েছে। হেরাৎ ক্ষেপে গেছে।

    থেটান যখন দেখল সে কোনক্রমেই টারজানকে প্রতিনিবৃত্ত করতে পারবে না। তখন সে বলল, আমি তোমাকে আমার নৌকায় করে আশেয়ারের ঘাটে দিয়ে আসবে।

    টারজান বলল, দু’জন সঙ্গী আছে একটা গুহার মধ্যে। তাদেরও নিয়ে যেতে হবে।

    থেটান তার নৌকাটা নিয়ে টারজনের কথামত হ্রদের একদিকের কূলে গিয়ে ভেড়াল। টারজান হেলেন আর হাকুফের নাম ধরে ডাকতে লাগল। হেলেন আর হার্কুফ বেরিয়ে এসে টারজানকে এত তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে দেখে আশ্চর্য হয়ে গেল।

    টারজান তাদের নিয়ে নৌকায় চাপাল। নৌকা ছেড়ে দিল। নৌকাটা হ্রদের মাঝামাঝি যেতেই আশেয়ারের চারটে নৌকা থেটারেন নৌকাটাকে ঘিরে ফেলল। অনেকগুলো মশালের আলো তাদের উপর পড়ল। আশারীয় যোদ্ধারা যুদ্ধের ধ্বনি দিতে লাগল।

    টারজান সঙ্গে সঙ্গে জল পোশাক আর শিরস্ত্রাণ পরে ফেলল। হেলেন আর হার্কুফকেও তা পরতে বলল। তারপর হ্রদের জলে হেলেনের হাত ধূরে ঝাঁপ দিল। আশেয়ারের যোদ্ধাদের এড়িয়ে যাবার জন্য গভীর জলে ডুব দিল তারা।

    সকাল হতেই টারজান হেলেনকে নিয়ে মন্দিরের দিকে রওনা হলো। কিছুটা যেতেই হাকুফের দেখা। পেয়ে গেল। হাফই তখন আশেয়ারের পথে ওদের নিয়ে যেতে লাগল। কিছুটা পথ যেতেই ওরা একটা। পুরনো ভাঙ্গ নৌকা ডুবে থাকতে দেখল। হাকু সেটা দেখতে পেয়ে তার উপরে লাফ দিয়ে কিসের খোঁজ করতে লাগল। হঠাৎ একটা মণিমুক্তা খচিত কৌটো পেয়ে আনন্দে লাফাতে লাগল হার্কুফ।

    পরে একটা জায়গায় থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে হার্কুফ বলল, এখানে অপেক্ষা করব। রাত না হওয়া পর্যন্ত আমরা মন্দিরে যাব না। মন্দিরের পুরোহিতরা যখন উপাসনা করতে যাবে, যখন মন্দির ফাঁকা থাকবে তখনি ওরা মন্দিরে গিয়ে ঢুকবে এবং বন্দীদের মুক্ত করবে।

    মন্দিরের একটা খোলা জানালা দিয়ে ভিতরের দিকে তাকাতে লাগল হার্কুফ। অবশেষে উপাসনার সময় হয়ে গেলে সে টারজানকে বলল, এখানে হেলেন দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করবে আমাদের জন্য।

    এই বলে হেলেনের পায়ের কাছে সেই কৌটোটা নামিয়ে রেখে টারজানকে মন্দিরে নিয়ে চলে গেল হার্কুফ।

    টারজান আর হার্কুফ তাদের ত্রিশূলে একটা করে মাছ গেঁথে নিয়ে মন্দিরের ভিতরে ঢুকে বন্দীদের খাঁচার সামনে গিয়ে দেখতে লাগল। তখন মন্দিরে ফ্রলার বা কোন পুরোহিত ছিল না।

    টারজান এই অবকাশে এক একটা খাঁচার রডগুলো ভেঙ্গে সব বন্দীদের মুক্ত করে দিল। আতন থোম খাঁচা থেকে ছাড়া পেয়েই হীরের সেই বড় কৌটোটা তুলে নিয়ে বুকে করে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করতেই লাল টাস্ক আর ব্রিয়ান গ্রেগরি তাকে ধরে ফেলল। যে হীরকদের পিতার জন্য তারা এতদিন ধরে এত কষ্ট করে এসেছে। সেই পিতাকে তারা কিছুতেই নিয়ে যেতে দেবে না।

    টারজান আর হার্কুফ বাড়তি দুটো জল পোশাক এনেছিল। সেই দুটো দার্ণৎ আর ব্রিয়ানকে পরতে বলল টারজান যাতে তারা জলপথে হোরাস হ্রদের তলা দিয়ে পালাতে পারে তাদের সঙ্গে। টারজান বাকি বন্দীদের বলল, তোমরা বারান্দার তলা দিয়ে যে গুপ্ত পথ চলে গেছে সেই পথ দিয়ে চলে যাও।

    আতন থোম তখন সেই হীরের বড় কৌটোটা বুকে করে গুপ্ত পথ ধরে ছুটতে লাগল। লাল টাস্ক আর ব্রিয়ানও তাদের পিছু পিছু ছুটতে লাগল। টারজান ব্রিয়ানকে আতন থোমের সঙ্গে যেতে নিষেধ করল। কিন্তু ব্রিয়ান শুনল না। সে বলল, আমি নরকে এতদিন কি বৃথাই এত কষ্ট ভোগ করেছি।

    টারজান তখন বলল, তাহলে তোমার যা খুশি করো। আমরা যোদ্ধারা আসার আগেই জলপথে চলে যাব।

    টারজান, হার্কুফ, দার্ণৎ আর লাভাক জল পোশাক পরে তৈরি হলো।

    রানী আটকা তখন সামন্তদের সঙ্গে এক ভোজসভায় ছিল প্রাসাদের মধ্যে। এমন সময় একজন পুরোহিত গিয়ে এই দুর্ঘটনার কথা জানায়। রানী তা শুনে একদল যোদ্ধাকে মন্দিরে পাঠিয়ে দেয়।

    লার মন্দিরে এসে চেঁচামেচি করাতে হার্কুফ তার ত্রিশূলটা ব্রুলারের বুকে বসিয়ে দিল। এমন সময় আশেয়ারের যোদ্ধারা এসে গেল। যোদ্ধাদের ফাঁদে ফেলার একটা পরিকল্পনা করেছিল হার্কুফ। তারা চারজন যখন একটা ঘরের ভিতর দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল তখন যোদ্ধারা তাদের তাড়া করে সেই ঘরে ঢুকতেই ঘরের দরজা দুটো দু’দিক থেকে বন্ধ হয়ে গেল। তারপর বাইরে হাওয়া ঘর থেকে পাম্প চালিয়ে ঘরটা জলে ভরে দিল। ফলে যোদ্ধাগুলো সব জলে ডুবে মারা গেল।

    এদিকে হেলেন যেখানে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল জলের তলায় যেখানে হঠাৎ ভূতের মত ডুবুরির পোশাক পরা একটা লোক কোথা থেকে এসে তাকে জোর করে টেনে নিয়ে যেতে লাগল জলের মধ্যে দিয়ে।

    অবশেষে সেই ভূতুড়ে যোদ্ধা জলপপাশাক পরা লোকটা হেলেনকে নিয়ে হ্রদের পারে সেই পাহাড়ের গুহাটায় নিয়ে গেল যেখানে মাগরা আর গ্রেগরিকে থোবোজের পুরোহিতরা আটকে রেখেছিল। হেলেনকে দেখে আশ্চর্য হয়ে গেল গ্রেগরি। বলল, হেলেন তুই! ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, তুই এখনো বেঁচে আছিস।

    হেলেন বলল, তুমি এখানে কি করছ বাবা? টারজান আমাকে বলেছিল, তুমি আর মাগরা থোবোজে বন্দী হয়ে আছে।

    মাগরা বলল, বন্দীই ছিলাম। আমরা পালিয়ে এসেছি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এর থেকে সেখানে বন্দী থাকাই ভাল ছিল।

    এবার যে সাদা পোশাক পরা লোকটা হেলেনকে ধরে এনেছিল সে লোকটা তার শিরস্ত্রাণ খুলে ফেলতে দেখা গেল লোকটা বুড়ো আর তার মাথার চুলগুলো সাদা।

    হেলেন বলল, আমাকে বন্দী করে রেখেছিল ওরা। ডুবুরির পোশাক পরে পালিয়ে আসি আমি।

    থোবোজদের আসল দেবতা হলো ঐ বৃদ্ধ চোন। চোন বলল, আমি একটা লোককে কেটে তার নাড়ী-ভূঁড়ি নিয়ে দেবতাদের কাছে জানতে চাইব এরা আমাদের শত্রু কিনা। মেয়েটা মিথ্যা কথা বলছে। যদি ওরা শত্রু না হয় তাহলে মেয়েটা আমার সেবাদাসী হবে। আর যদি দৈববাণীতে বলে এরা আমাদের শত্রু তাহলে ওদের বলি দেয়া হবে।

    মাগরা বলল ও যদি আসল দেবতা হয় তাহলে ও জানত আমরা শত্রু নই। তুমি মোটেই দেবতা। নও। তুমি দুষ্ট প্রকৃতির একটা লোক।

    পুরোহিতরা মাগুরাকে মারতে উদ্যত হলো। কিন্তু চোন তাদের বাধা দিয়ে বলল, না, মারবে না।

    এদিকে গুপ্ত পথ পার হয়ে আতন থোম হীরের কৌটোটা বুকে করে ছুটতে লাগল। তার পিছনে লাল টাস্কও ছুটছিল।

    পাহাড়ের ধার দিয়ে ছুটতে ছুটতে একটা ফাঁকা জায়গায় গিয়ে পড়ল ওরা। সেখানে বাঁদর-গোরিলা উঙ্গো তার দলের সঙ্গে খেলা করছিল। সে আতন থোম আর লাল টাস্ক ছুটতে দেখে রেগে যায় প্রথমে।

    টারজান, দার্ণৎ, লাভাক আর হার্কুফ প্রথমে হেলেন যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল সেখানে এল। হেলেনকে সেখানে দেখতে না পাওয়া গেলেও হার্কুফ সেই হীরের কৌটোটা পেয়ে গেল।

    এমন সময় জলপোশাক আর ঘোড়ার মুখোশ পরা ছয়জন তোক কোথা থেকে এসে আক্রমণ করল ওদের। ওদের ঘিরে ফেলল চারদিক দিয়ে। টারজান একজনকে সঙ্গে সঙ্গে মেরে ফেলতে আক্রমণকারীদের একজন দার্ণৎকে আক্রমণ করল। টারজান দার্ণৎতের সাহায্যে এগিয়ে গেলে আক্রমণকারীদের একজন লাভাকের পেটের মধ্যে তার মুখোশের তীক্ষ্ণ শিংটা ঢুকিয়ে দিলে লাভাক সঙ্গে সঙ্গে মারা গেল। টারজান তখন তার ত্রিশূল দিয়ে আর একজন আক্রমণকারীকে বধ করলে বাকি আক্রমণকারীরা পালিয়ে গেল।

    টারজান তখন বলল, ব্রুলার মারা গেছে। হীরের কৌটোটা চুরি হয়ে গেছে। এবার আমি আমার কথামত হেরাতের কাছে ফিরে যাব।

    হার্কুফ বলল, আমার হাতে যে কৌটোটা রয়েছে এটাই হলো হীরকদের পিতা।

    টারজান হার্কুফকে বলল, তুমি কৌটোটা নিয়ে যাও হেরাতের কাছে। বলবে, আমি একটা নৌকা পেলে থোবোজে গিয়ে দেখা করব তার সঙ্গে।

    হার্টফ থোবোজে গিয়ে হেরাতের হাতে হীরের কৌটোটা তুলে দিয়ে সব কথা বলল। বলল, টারজনের সাহায্য ছাড়া হীরকদের পিতাকে উদ্ধার করতে পারতাম না। তারা এখন বিপন্ন। তাদের উদ্ধারের জন্য এখনি আমাদের সাহায্য পাঠানো উচিৎ।

    হেরাৎ বলল, ব্রুলার মারা গেছে। হীরকদের পিতাকে পেয়ে গেছি। আমাদের যুদ্ধের নৌকাগুলো সব প্রস্তুত করো। আমরা এখনই আশেয়ার আক্রমণ করব। আমাদের যত যুদ্ধের নৌকা আছে সব সাজাও।

    হার্কুফ চলে গেলে টারজান ও দার্ণৎ আশেয়ারের পথে পা বাড়াল। টারজান হোরাস হ্রদের পাশে পাশে পাহাড়ের ধার ঘেঁষে চলতে লাগল। যেতে যেতে হঠাৎ থমকে দাঁড়াল টারজান। উঙ্গোর দলের একটা বাঁদর-গোরিলাকে দেখতে পেল। টারজান দেখল একটা বাঁদর-গোরিলা একটা গুহার সামনে উঁকি মেরে কি দেখছে। টারজান বুঝল গুহার ভিতরে নিশ্চয় এমন কিছু আছে যা কৌতূহল জাগাচ্ছে।

    এদিকে চোন সেই গুহামন্দিরের মধ্যে গ্রেগরিকে বেদীর উপর শুইয়ে তার পেট কেটে নাড়ীভুড়ি বার করতে যাচ্ছিল।

    এমন সময় ব্রিয়ান আর টাস্ক বাঁদর-গোরিলাদের ভয়ে সেই গুহামন্দিরে ঢুকে পড়ল।

    এদিকে একদল বদর-গোরিলা এসে গুহামন্দিরে ঢুকতেই সব ওলোট-পালট হয়ে গেল। পুরোহিতরা ভয়ে পালাতে লাগল। জুখো আর গয়ান নামে দুটো বাঁদর-গোরিলা হেলেন আর মাগরাকে গোলমালের সময় ধরে তুলে নিয়ে গেল।

    বাইরে গিয়ে জুথো আর গয়ানদের ঝগড়া লেগে গেল নিজেদের মধ্যে। সেই অবসরে মাগরা আর হেলেন সেখান থেকে ছুটে পালাতে লাগল। কিন্তু আশেয়ারের একটা নৌকা হ্রদের কূলের কাছ দিয়ে যেতে যেতে তাদের দেখতে পেয়ে নৌকা থামিয়ে কূলে লাফ দিয়ে নেমে তাদের ধরে ফেলল। তারপর তাদের নৌকায় চাপিয়ে নৌকা ছেড়ে দিল। তাদের আশেয়ারে রানীর কাছে নিয়ে গেল তারা।

    এদিকে টারজান দার্ণৎকে নিয়ে গুহামন্দিরে ঢুকেই গ্রেগরিকে মুক্ত করল।

    টাস্ক গ্রেগরিদের সঙ্গে হেলেনের খোঁজ করতে থাকাকালে হঠাৎ দেখল আতন থোম হীরের কৌটোটা নিয়ে পালাচ্ছে। সে তখন সবাইকে ফেলে থোমের পেছনে ছুটতে লাগল। আতন থোম টাস্ককে খুব কাছে আসতে দেখে একটা পাথর নিয়ে তার মাথায় সজোরে ছুঁড়ে দিতে মাথাটা গুঁড়ো হয়ে গেল টাস্কের।

    বাতাসে মেয়েদের গন্ধসূত্র ধরে হেলেন আর মাগরার খোঁজ করতে করতে আর একটা গুহায় ঢুকে পড়ল টারজান। সেখানে জুযথা আর গয়ানকে দেখে হেলেন আর মাগরার কথা জিজ্ঞাসা করল। তারা বলল, নৌকা থেকে লোক এসে ধরে নিয়ে গেছে।

    তখন টারজান আশেয়ারে যেতে চাইল। চোন বলল, আমার পুরোহিতরা তোমার সঙ্গে যাবে।

    টারজান, দার্ণৎ, চোন তার দলের পুরোহিতদের আর উঙ্গোর বাঁদর-গোরিলাদের সঙ্গে আশেয়ারের নগরদ্বারের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল।

    এদিকে হেরাও অনেক নৌকা বোঝাই যোদ্ধা নিয়ে এগিয়ে আসতে লাগল আশেয়ারের দিকে। আশেয়ারের নৌকা বোঝাই যোদ্ধারা আগে থেকেই থোবোজের নৌকা দেখে অপেক্ষা করছিল। হোরাস হ্রদের উপরে সেখানে দু’দলে প্রচণ্ড যুদ্ধ লেগে গেল।

    ঠিক তখনি আশেয়ারের নগরদ্বারে টারজান তার দলবল নিয়ে যোদ্ধাদের হারিয়ে দিয়ে ঢুকে পড়ল প্রাসাদের মধ্যে। সে রানী আটকার কাছে সোজা চলে গিয়ে বলল, যে দুটি মেয়েকে বন্দী করে রাখা। হয়েছে তাদের ছেড়ে দাও। তা না হলে আমি কাউকে ছাড়ব না।

    আটকা বলল, সত্যিই তুমি বিজয়ী। এই মুহূর্তে তাদের ছেড়ে দেয়া হবে।

    মাগরা আর হেলেনকে টারজনের সামনে আনা হলে গ্রেগরি বলল, আবার আমরা পুনর্মিলিত হলাম। এখন আমরা সম্পূর্ণ নিরাপদ।

    এমন সময় হেরাৎ আশেয়ারের সব যোদ্ধাকে হারিয়ে প্রাসাদের মধ্যে প্রবেশ করল বিজয়গর্বে। এই প্রথম থোবোজের এক রাজা শত্রুরাজ্য জয় করে আশেয়ারের মাটিতে পা দিল। চোন আর টারজান অভ্যর্থনা জানাল হেরাকে। ওরা যখন কথাবার্তা বলছিল তখন একদল থোবোজের যোদ্ধা আতন থোমকে টানতে টানতে ধরে আনল। বলল, এর কাছে একটা হীরের কৌটো রয়েছে।

    চোন বলল, এটাই কি আসল হীরকদের পিতা?

    কিন্তু সে জানত না আসল হীরের কৌটোটা হার্কুফ তার আগেই থোবোজে নিয়ে গেছে।

    চোন কৌটোর ঢাকনাটা খুলতে গেলে আতন থোম বাধা দিয়ে বলল, খুলো না, ওটা আমি প্যারিসে নিয়ে বিক্রি করব। গোটা প্যারিস শহরটাকে কিনব। ওটা আমার।

    ঢাকনা খুলে চোন দেখল আসলে একতাল কয়লা ভরা আছে তার মধ্যে।

    এই দেখে আতন থোম নিজের বুক চাপড়াতে চাপড়াতে পড়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু ঘটল তার।

    ব্রিয়ান বলল, হায় হায়, এর জন্য এত কষ্ট ভোগ করলাম, কত লোক প্রাণ দিল। তবে আসলে কিন্তু কয়লাই হীরের পিতা।

    টারজান বলল, মানুষ হলো প্রকৃতপক্ষে এক আশ্চর্য জন্তু।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমোতাহের হোসেন চৌধুরীর নির্বাচিত প্রবন্ধ সংকলন
    Next Article মার্ক টোয়েন গল্পসমগ্র

    Related Articles

    মণীন্দ্র দত্ত

    মার্ক টোয়েন গল্পসমগ্র

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026
    Our Picks

    সাইলাস মারনার – জর্জ ইলিয়ট

    January 20, 2026

    কলিকাতার কথা (আদিকাণ্ড) – প্রমথনাথ মল্লিক

    January 20, 2026

    দশরূপা – সৌমিত্র বিশ্বাস

    January 20, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }