Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    টেম্পল – ম্যাথিউ রীলি

    হাসান খুরশীদ রুমী এক পাতা গল্প571 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১. প্রথম পাঠ

    প্রথম পাঠ

    আমাদের প্রভুর ১৫৩৫ বছরের নবম মাসের প্রথম দিন। আমি আমার দেশের একজন বিশ্বাসঘাতকে পরিণত হয়েছি।

    কারণ : আমি স্বদেশীকে একটা জেলখানা থেকে পালাতে সাহায্য করি।

    তার নাম ছিল রেনকো কাপেক এবং তিনি ছিলেন একজন ইনকা রাজপুত্র, মানকো কাপেকের, যাকে মানুষ সাপা ইনকা বলে ডাকত, ছোট ভাই।

    লোকটা হ্যান্ডসাম, জলপাইরঙা ত্বক আর কুচকুচে কালো চুল। দেখতে স্বাতন্ত্র বা চোখের নিচে স্পষ্ট একটা জন্ম দাগ আছে। দেখতে উল্টান ত্রিভুজের মতো।

    সান ভিসেন্তেতে চড়ার পর আমার প্রথম দেখা হয় রেনকোর সাথে। ইনকাদের প্রাচীন রাজধানী কুজকোর পাশে, দশ মাইল উত্তরের উরুবামবা নদীতে।

    সান ভিসেন্তে হল পরিত্যক্ত প্রিজন জাহাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বাজে। নিউ স্পেনের নদীগুলোয় এমন ঝরঝরা জাহাজ আর একটাও নেই। এসব কাঠের গ্যালিয়ন সাগরে যাবার উপযুক্ততা হারিয়েছে অনেক আগেই। নদীর পাড়ে তুলে রেখে দেয়া হয়, আজেবাজে লোকজন এসে থাকে কখনো কখনো। বেশিরভাগ সময়ই ভয়ানক ইন্ডিয়ানরা।

    বাবা মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অমূল্য তিনশ পাতার হাতে লেখা পুরানো বাইবেলটা নিয়ে সশস্ত্র হয়ে এসেছি এসব লোকের আত্মিক মুক্তির জন্য। খোলের ভেতর বন্দীদের ঈশ্বরের বাণী শোনাতে হয়।

    এখানেই তরুণ রাজপুত্র রেনকোর সাথে দেখা। বাকিদের অবস্থা একেবারে বাজে। মানুষের মতো না, কুকুর বিড়ালের মতো বসবাস। এদিক দিয়ে রেনকো অনেকটা শিক্ষিত আর মার্জিত এমনটা আমি খুব কমই দেখেছি। তার ভদ্রতা চোখে পড়ার মতো।

    সে খুবই বুদ্ধিমান। আমাদের দেশের লোকজন নিউ স্পেনে এসেছে বছর তিনেক হবে, এর মধ্যে সে আমাদের ভাষায় কথা বলতে শিখে ফেলেছে। চালচলন আর লোকজনকে জানার আগ্রহ আছে প্রচণ্ড তার। ওকে শিখাতে ভালো লাগে আমার। সে কারণেই বন্ধুত্ব হয়ে গেল দ্রুত।

    তারপর একদিন তার মিশনের কথা খুলে বলল আমাকে।

    ধরা পড়ার আগে এই রাজপুত্র কুজকোতে ঘুরে বেড়াত। তাকে ইন্ডিয়ানরা আদর্শ বলে মানত। খুব বেশি কিছু না, কিন্তু আদর্শ। আত্মাকে শুদ্ধ করার মানুষ।

    কিন্তু সে ধরা পড়ল কানকাসের সাহায্যে স্থানীয় গভর্নরের পাতা অ্যামবুশে। উত্তরের জঙ্গলের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ উপজাতিয় দলের সামরিক শাখার সাথে।

    এ এলাকার অনেক গোত্রের মতো এরাও আমাদের আগমনকে ইনকাদের পবিত্রতা ভঙ্গ হিসাবে দেখে। তারা গভর্নরকে খবর দেয়, বিনিময়ে পায় মাসকুইটো আর মেটাল সোর্ড। নিউ স্পেনের উপজাতিদের মধ্যে এখনো ব্রোঞ্জ বা আয়রনের ধারণা আসেনি।

    রেনকো তার মিশন আর গভর্ণরের হাতে ধরা পড়ার কাহিনি বলছে আমাকে, আমি তার ঘাড়ের পেছনে তার সাথে ধরা পড়া আরেক চাঙ্কা উপজাতির দেখা পেলাম যে আমাদের সাথে সান ভিসেন্তেতে ধরা পড়েছে।

    কাস্তিনো লোকটা বুনো। লম্বা চুল আর অপরিচ্ছন্ন। রেনকোর সাথে মিলবে না কোনভাবেই। বাঁ গালের হাড় বেরিয়ে আছে, এটাই হল তার চিহ্ন। আমি যতবার তরুণ রাজপুত্রের সাথে দেখা করতে যাই, ততবার কাস্তিনো শ্বাপদের মতো পেছনে পেছনে থাকে।

    আইডল ফিরে পাবার মিশনটা নিয়ে কথা বলার সময় রেনকো খুব কষ্টে ছিল।

    যে জিনিসটা সে খুঁজছে, তা আটকা পড়ে আছে কুজকোর কোরিক্যাঞ্চায়। কিংবা সূর্যমন্দিরে। কিন্তু এই চারদেয়ালে বসে বসে যতদূর জানে কুজকোর পতন হয়েছে, এখন জায়গাটা লুট করছে স্প্যানিয়ার্ডরা।

    আমার কানেও এসেছে কুজকো দখলের খবর। বলা হয়ে থাকে অভিযানের সবচে জঘন্য কাজ ছিল ওটাই। শুনেছি স্প্যানিয়ার্ডরা নিজের নিজের সহযোদ্ধাকে খুন করছে কুজকোর ভেতরে থাকা সোনার তাল আরো নিয়ে আমার জন্য।

    আমি মাস ছয় হল এসেছি নিউ স্পেনে। এখানকার সব মানুষকে ক্যাথলিক ধর্মে দীক্ষিত করব, এই আশা নিয়ে। এই আশা তিক্ত দুরাশায় পরিণত হল আমার দেশের মানুষদের অমানুসিক কাজকর্ম দেখে।

    খুন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, এসব ঈশ্বরের নামে চলা মানুষের লড়াই নয়। ওরা বদমাশ, শয়তান। আমার চোখে পড়েছে এক মেয়েকে হেনস্থা করছে এক স্প্যানিয়ার্ড সৈন্য, মেয়েটার সোনার নেকলেসটার জন্য। ভেবে অবাক হই ঠিক পক্ষে আছি তো? স্পেনিশ সৈন্যরা আবার নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি করবে তাতে অবাক হবার কী আছে!

    এর মধ্যে রেনকোর পবিত্র আইডলটার কথাও শুনেছি আমি লোকমুখে।

    গভর্নরের ভাই আর চিফ লেফটেন্যান্ট হার্নান্দো পিজারো আইডলটার খবর বের করার জন্য পাগল হয়ে গেছে। হার্নান্দোর পুরস্কার তিরষ্কারের মুখে ইনকাদের একজনও সেই পবিত্র আইডলের কথা ফাঁস করে নি। আমি নিজের দেশের লোকজনকে বিশ্বাস করি না, করলে আমিও নিজের দেশের এমন একটা কথা প্রকাশ করতাম না।

    শুনেছি কুজকো লুটের খবর, ইনকা আইডলটা পাবার কথা শুনিনি।

    পাওয়া গেছে বাতাসের গতিতে কথাটা ছড়িয়ে পড়বে কারণ, যে কোনো সৈন্য বের করতে পারলে সাথে সাথে নাইটে ভূষিত হয়ে দেশে চলে গিয়ে বাকি জীবন আরাম-আয়েশ কাটিয়ে দিতে পারে।

    এখনো তেমন কোনো গল্প নেই।

    তার মানে কুজকোয় স্প্যানিয়ার্ডরা এখনো খোঁজ পায়নি।

    ব্রাদার আলবার্তো, রেনকো বলছে, আমাকে সহায়তা করুন। এই ভাসমান খাঁচা থেকে বেরিয়ে যেন আমার লক্ষ্য অর্জন করতে পারি। শুধু আমার পক্ষেই আমার লোকজনের আইডলকে উদ্ধার করা সম্ভব। স্প্যানিয়ার্ডরা কুজকো দখল করে রাখলে আজ অথবা কাল, সেটা পেয়ে যাবেই।

    আচ্ছা।

    কী বলব বুঝে পাই না আমি। এমন পরিস্থিতিতে কখনো আমি পালাতে সাহায্য করতে পারিনি। নিজেকে পলাতক এবং বিশ্বাসঘাতক করতে পারি। ধরা পড়লে সারা জীবন এই ভাসমান কয়েদখানায় আটকে থাকতে হবে। তাই আমি একটা কথা ব্যয় না করে এখান থেকে পালালাম।

    কিন্তু আমাকে ফিরে আসতে হবে। আমি রেনকোর থাকতে হবে আবার রেনকো অনুরোধ করবে, সেখানে থাকবে নমনীয়তা আর চোখে অভিমান।

    আমি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি। একদিকে আমার দেশের মানুষের চুরি, অন্যদিকে নিজের আদর্শকে বিকিয়ে দিতে না চাওয়া পুরো ইন্ডিয়ান ইনকা জাতি।

    শুনেছি হার্নান্দো, গ্রামের পর গ্রাম অত্যাচার করেছে এই এক জিনিসের খোঁজে। আমার সাথের মানুষজন আহত হচ্ছে, হচ্ছে খুন, আমি কি তখন জেরুজালেমের পথ বাতলে দিতাম শত্রুদের?

    অবশেষে সিদ্ধান্তে এলাম, আমার লজ্জা পাওয়া উচিত।

    তাই আমার বিশ্বাস আর আমার দেশের প্রতি ভালোবাসার পরও, সিদ্ধান্ত নিলাম রেনকোকে সহায়তা করব।

    .

    সে রাতে এক তরুণ ইনকান টুপাককে নিয়ে ফিরে এলাম রেনকোর কথামত। ঠাণ্ডায় নিজের শরীর আপাদমস্তক ঢেকে আসছিলাম আমরা।

    আবার ফিরে এলাম নদীতীরের গার্ড স্টেশন যেমনটা ঘটেছিল, কুজকোয় বেশিরভাগ সৈন্য লুটপাটে ব্যস্ত, একটা ছোট্ট সৈনিকের দল পাহারা দিচ্ছিল। সে রাতে মাদ্রিদের মোটাসোটা সৈন্য একাই মুখে মদের গন্ধ আর নখে ময়লা নিয়ে গ্রামের শেষপ্রান্তে জেলখানার পথে ব্রিজটা পাহারা দিচ্ছিল।

    আমার সাথের তরুণ টুপাকের দিকে তাকলাম–সে সময় ব্যাপারটা অদ্ভুত ছিল যে একজন ইন্ডিয়াও আমাদের মতো সাধুকে সাহায্য করে। গার্ড আমাদের চড়া গলায় নাম লিখতে আদেশ করল।

    আমি দুজনেরই নাম লিখছিলাম। তারপর আমরা দুজনই সরু ব্রিজ ধরে নদীর মাঝখানে ভাসমান জাহাজের পথ ধরলাম।

    নোংরা গার্ডটিকে সবেমাত্র পার হয়ে এসেছি। তরুণ টুপাক কাজে নামল সাথে সাথে। ঘুরে দাঁড়িয়ে জাপ্টে ধরল সৈনিককে। এক চাপে ভেঙে ফেলল ঘাড়। তার পরও, নিজের দেশের লোকটার জন্য মায়া লাগল আমার। কিন্তু এখন আর পেছন ফিরে তাকানোর উপায় নেই।

    দ্রুত লোকটার রাইফেল, পিস্তালো আর চাবি নিয়ে নিল টুপাক। তারপর সৈন্যটির পায়ে পাথর বেঁধে ফেলে দিল নদীতে।

    হালকা নীল চাঁদের আলোয় আমরা প্রায় জীর্ণ কাঠের ব্রিজ পেরিয়ে পরিত্যক্ত জাহাজে প্রবেশ করলাম।

    ভেতরের গার্ড উঠে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু টুপাক তারচে অনেক দ্রুত। গার্ড এগিয়ে আসার আগেই এক ঝটকায় গুলি করল সে। জেগে উঠল সব বন্দি সাথে সাথে।

    রেনকো উঠে পড়েছে আমরা যাবার আগেই।

    গার্ডের চাবি তালা খুলেছিল সহজেই। সব কামরার বন্দি বেরিয়ে আসার জন্য আকুতি শুরু করেছে। আমার চোখে চারদিকে ঘুরছিল।

    চ্যাঙ্কা আর কান্তিনো দাঁড়িয়ে আছে ওদের প্রকোষ্ঠে। তাকিয়ে আছে আমার চোখের দিকে। সেখানে অন্য এক দৃষ্টি।

    প্রকোষ্ঠ খোলা পেয়ে দ্রুত বেরিয়ে এসেই রেনকো মৃত সৈনিকের অস্ত্র নিয়ে আমার হাতে দিয়ে দিল।

    আসুন। বলল সে। নিজেকে যেন ফিরে পেলাম কাস্টিনোর মায়াজাল দৃষ্টি থেকে। রেনকো দ্রুত মৃত গার্ডের ইউনিফর্ম খুলে নিল। খুলে নিল প্যান্টলুন, এমনকি বুটও তারপর নিজে পরে ফেলল।

    তৈরি এক পলকে উঠে দাঁড়িয়েই বাছা বাছা ইনকা যোদ্ধাদের বের করা শুরু করল সে। তারপর, দ্রুত বেরিয়ে গেল দরজা দিয়ে রেনকো। বাকিদের কথা যেন তার কানেও পৌঁছছে না। আমাকে অনুসরণ করতে বলল সে।

    ছুটে জীর্ণ ব্রিজ পেরুতে থাকা বন্দিদের সাথে পালাচ্ছি আমিও। পাশের তাবু থেকে চার স্প্যানিয়ার্ড এসেছে ঘোড়ার পিঠে চেপে। তাদের মাসকুইটো গর্জন করছে রাতকে কাঁপিয়ে দিয়ে।

    গুলি ছুড়ল রেনকোও। তার মাসকুইটো ধরা দেখে মনে হবে চৌকষ কোনো পদাতিক সৈনিকের কাজ। ঘোড়া থেকে ছিটকে পড়ল এক আরোহী। বাকি ইনকা বন্দিরা আমাদের ছাড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। পরাভূত হল বাকি দুই ঘোড়ার সওয়ার।

    শেষ সওয়ার মুখোমুখি হল আমার। চোখে তীব্র ঘৃণা—-কোনো ইউরোপীয় যে এসব বুননকে সহায়তা করতে পারে, ভেবে পায় না যেন লোকটা। বন্দুক তুলল আমার বুক লক্ষ্য করে।

    করার কিছু ছিল না আমার। পিস্তল তুললাম দ্রুত। নিজের বুক ভেঙে গুলি করলাম একটা। পবিত্র বইয়ের কসম, হাত কেঁপেছিল আমার তখন। পড়ে গেল লোকটা ঘোড়ার পিঠ থেকে।

    আমি দাঁড়িয়ে রইলাম স্থবির, হাতে পিস্তল। তাকিয়ে আছি এক দৃষ্টিতে মৃতদেহটার দিকে। নিজেকে বোঝাতে পেরেছি আমি কোনো ভুল করিনি আমি নিজের জীবন রক্ষা করতে হবে আমাকে….

    ব্রাদার! ছাড়ল রেনকো। বলল হঠাৎ।

    বসে আছে সে একটা স্প্যানিশ ঘোড়ায়, চল! বলল সে। ওর ঘোড়াটা নাও! আমাদের কুজকো যেতে হবে!

    উত্তর-দক্ষিণের এক পাহাড়ি পথে দাঁড়িয়ে আছে শহরটা। কুজকো। দেয়ালঘেরা শহরে। সমান্তরালে বয়ে চলছে দুটো নদী হন্তানি আর তুলুমায়ো। এই নদী দুটো শহরকে পাশে রেখে রয়ে চলেছে–

    কুজকো উপত্যকার সবচে অভিজাত এলাকাটা হল পাহাড়ের উপর। সেখান থেকে দেবতার মতো নিচের দিকে তাকিয়ে আছে স্যাকসায়হুয়ামান দুর্গ।

    সারা পৃথিবীর কোথাও স্যাকসায়হুয়ামানের মতো দুর্গ দেখিনি আমি। এর আভিজাত্য আর গৌরবের সাথে তুলনা চলবে না স্পেন বা ইউরোপের কোনো দুর্গের।

    সত্যি ভয়াবহ বিশাল বড় দুর্গ। পিরামিড আকৃতির বিশাল বিশাল শত টনের ব্লক দিয়ে তৈরি একেকটা পিলার। তিনটি গোলাকার পিলারগুলো অন্তত একশ হাত উপরে উঠে গেছে।

    মর্টার নেই ইনকাদের। অসুবিধাও নেই, আছে পাথর ছোঁড়ার দারুণ প্রযুক্তি। বাড়ি বানানোর ব্যবস্থাও ভিন্ন। জোড়া দেয় না পাথর। বিশাল বিশাল পাথর নিখুঁতভাবে কেটে পাশাপাশি উপরে নিচে রাখে। এক চুলও নড়বে না।

    এমন পরিস্থিতিতে পতন হয়েছে কুজকোর।

    এখন, এই পয়েন্টে কুজকো দখল করা নিশ্চয়ই আধুনিক যুদ্ধবিদ্যায় এক অসাধারণ ব্যাপার।

    দখলের পর দাঁড়াল অদ্ভুত কিছু ব্যাপার ঘটল : দখলের সময় ভেতরে আমার দেশের লোক, স্প্যানিয়ার্ডরা–আর বাইরে শহরের লোক, ইনকারা অবস্থান নিয়েছে দেয়ালের বাইরে।

    অন্যভাবে বললে বলতে হয় ইনকানরা নিজেদের শহরটা এইভাবেই ছেড়ে দিল।

    কিন্তু অনেক জটিল পথ পরিক্রমা করে ঘটনা ঘটেছে। ১৫৩৩ সালে আমাদের স্পেনিশ লোকজন কুজকোতে আসে একেবারে বাধাহীনভাবে ইনকাদের বন্ধু হিসাবে। শহরের সমস্ত সম্পদ গ্রাস করে তারা। সরিয়ে দেয় ভেতরের মানুষকে।

    আমার লোকজনরা কখনো যা দেখেনি তা দেখল। লোকজন খুন হয়ে যায়, সম্ভ্রম হারায় মেয়েরা, হারিয়ে যায় তাল তাল সোনা। সোনা গলিয়ে ওয়াগান ভরার সময় ইনকানরা আমাদের লোকজনকে নাম দেয় সোনা যাজক

    ১৫৩৫ সালের মধ্যে রেনকোর ভাই, সাপা ইনকা মেনকো কাঁপাক তার দলবল নিয়ে বেরিয়ে যায় পাহাড়ে। পরিকল্পনা দল গঠন করে মাতৃভূমি কুজকো দখল শুরু করা।

    ইনকান আর্মি–১,০০,০০০ শক্তিশালী, কিন্তু হাতে ঢাল তলোয়ার, তীর ধনুক আর বর্শা। দখল করে নেয় পাথরের তৈরি দুর্গ স্যাকসয়াহুয়ামান। ভেতর থেকে প্রতিরোধ করছে তখন আমার দেশের লোকজন।

    এই অবরোধ চলেছিল।

    পরের তিন মাস।

    কুজকো উপত্যকার উত্তরে ঢুকছি আমরা। ঢুকছি পাথরের বিশাল সদর দরজা পেরিয়ে। দৃষ্টি বিমোহিত।

    তখন রাত, কিন্তু দিনেও একই ছিল। আগুনে পোড়া সবকিছু। চারদিকে ক্ষয়ের চিহ্ন। নরক ভেঙে পড়েছে যেন।

    আমি কখনো এত বড় সৈন্যদল দেখিনি-১,০০,০০০ সেনা, ক্রোধে উন্মত্ত। দোলাচ্ছে তাদের মশাল, দোলাচ্ছে বর্শা। ভেতর থেকেও আলোর আভাস পাওয়া যায়। শহর ঘিরে ফেলেছে ওরা।

    হযরত মূসার জন্য যেভাবে রেড সী ভাগ হয়ে গিয়েছিল, সেভাবে সরে গেল সেনারা রেনকোকে এগিয়ে আসতে দেখে।

    আমার ঘাড়ের সমস্ত লোম দাঁড়িয়ে গেল। তীব্র আনন্দ আর চিৎকার উঠল। সবার চোখেমুখে আনন্দের ছাপ।

    স্প্যানিশ সাজের লোকটাকে চিনতে তাদের একটুও ভুল হয়নি, রেনকো সাথে সাথে চিনেছে। ভুল হয়নি তার লক্ষ্যকে চিনতে।

    রেনকো আমি দলের দায়িত্ব নিলাম, ইনকানেদের চিৎকারে আমাদের চাপ বেড়ে গেল।

    ইন্ডিয়ান যোদ্ধাদের মধ্যে হেঁটে গেল সে, এগিয়ে গেল। পাশেই স্যাকসয়াহুয়ামান দুর্গ।

    তাদের হাতের বড় লাঠিগুলোর মাথায় মৃত স্প্যানিশ যোদ্ধার মাথা। কোথাও শুধু ধর। আমি এগিয়ে যাই রেনকোর সাথে। যথা সম্ভব কাছে থেকে।

    ভাগ হয়ে গেল সামনের লোকজন, দেখা দিল পাথরের দুর্গের প্রবেশপথ। সেখানে দাঁড়ান এক অন্যরকম ইন্ডিয়ান। লাল ক্যাপ মাথায়। গলায় ভারি সোনার হার, চোখমুখে অন্যরকম তেজ, মাথায় মনি খচিত মুকুট।

    ও হল মানকো। সাপা ইনকা।

    জড়িয়ে ধরল তারা পরস্পরকে। কথা বলল ইনকা ভাষা কুইচুয়ানে। রেনকো পরে অনুবাদ করে বলেছিল:

    ভাই সামা ইনকা মাসকুইটো। আমার, কোথায় ছিলে এ নিয়ে খুব উদ্বিগ্ন ছিলাম আমরা। শুনেছিলাম মারা গেছ বা বন্দি। শুধু তোমারই ভল্টে ঢোকার অনুমতি আছে

    হ্যাঁ, ভাই, আমি জানি। রেনকো বলল। শোন, এখন আর সময় নেই। এখনি যেতে হবে শহরে। নদীর পথ ব্যবহার করেছ?

    না। মানকো বলল। তোমার কথামতো স্বর্ণখাদকদের জানতে দিইনি সেটার অস্তিত্বের কথা।

    ভালো। বলল রেনকো। আবার বলার আগে একটু দ্বিধা করল। আরেকটা প্রশ্ন ছিল।

    কী?

    বাসারিও কি এখনো শহরের ভেতরে? জানতে চাইল রেনকো।

    বাসারিও? ভ্রু কোঁচকাল মানকো। আমিতে… জানি না…

    শহরের পতনের সময় ছিল ভেতরে?

    হ্যাঁ।

    কোথায় ছিল?

    কেন? কৃষক কারাগারে, বল মানকো। আগের বছরগুলোয় সেখানেইতো ছিল। সেটাই তার নিবাস। কেন? ওর মতো বদশামের সাথে কী দরকার?

    এখন এসব নিয়ে ভাবতে হবে না, ভাই, রেনকো বলল। প্রথমে আইডল না পেলে কিছু এসে যাবে না।

    কে যেন পেছন থেকে কথা বলে উঠল, ঘুরে দাঁড়ালাম আমি আর রেনকো।

    যা দেখলাম তা দেখে আমার ভেতর ভয়ে হিম হয়ে গেল : বিপরীত দিক থেকে এগিয়ে আসছে স্প্যানিশ সৈন্য। তিনশর কম হবে না। তাদের শরীর, তাদের ঘোড়ার শরীর বর্মে ঢাকা। মাসকুইটো থেকে গুলি করছে নির্বিচারে এগিয়ে আসছে মাস্কেটিয়ার হাতে। প্রথম সারির ইনকাদের তছনছ করে দিল ওরা।

    আমি ভালো করে ওদের দেখলাম। দুজনকে চিনলাম। ক্যাপ্টেন হার্নান্দো পিজারো, গভর্নরের ভাই এবং লোকটা সবচে নিষ্ঠুর।

    কিন্তু দ্বিতীয়জনকে দেখে আমার অন্তরাত্মা কেঁপে উঠল। দ্বিতীয় বার ওর দিকে তাকাতে পারলাম না। কিন্তু এর আমার ভেতর গেড়ে বসেছে।

    সান ভিনসেন্তেতে রেনকোর সাথে ছিল ত্রুটিশ চাঙ্কা, কাস্তিনো।

    বুঝে ফেললাম সাথে সাথে।

    কাস্তিনো নিশ্চয়ই রেনকোর সাথে আমার কথাবার্তা শুনে ফেলেছিল…

    সে করিকানচার ভল্টের দিকে নিয়ে যাচ্ছে হার্নান্দোর দলবলকে।

    এর মানে বোঝে রেনকো।

    ঈশ্বরের দোহাই বলল সে, এখনি যেতে হবে আমাকে ভাই, এখনি।

    গতি তোমার প্রতি, ভাই। বলল মানকো।

    সাপা ইনকাকে কুর্নিশ করে আমার দিকে ফিরল রেনকো। স্প্যানিশ ভাষায় বলল, আসুন। যেতে হবে এখনি।

    আমরা সাপা ইনকাকে ছেড়ে এগিয়ে গেলাম স্যাকসায়হুয়মানের দক্ষিণ দিকে। যাবার পথে আমি দেখতে পেলাম হারানান্দো শহরের উত্তর গেটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

    যাচ্ছি কোথায়? জিজ্ঞেস করলাম আমি ক্রুদ্ধ জনতার কাছ থেকে সরে গিয়ে।

    নিচু নদীর দিকে। আমার সহযোগী জবাবে এই বলল।

    শহরের দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর কাছে চলে এলাম। নদীর ওপারের দেয়ালের দিকে তাকালাম, দেখলাম একদল স্প্যানিশ সৈন্য মাসকুইটো এবং তলোয়ার হাতে এগিয়ে যাচ্ছে এবং তাদের পেছনে কমলা রঙ-এর গোলা বিস্ফোরণ হচ্ছে অবিরত।

    রেনকো থেমে সোজা নদীর দিকে নামা শুরু করল।

    দাঁড়াও আমি চেঁচিয়ে বললাম। যাচ্ছ কোথায়?

    নিচে। পানির দিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বলল।

    কিন্তু আমি… আমি পারব না। তোমার সাথে সেখানে যেতে পারব না।

    রেনকো আমার হাতটা শক্ত করে চেপে ধরল। আমার বন্ধু, আলবার্তো, এখন আর সময় নেই। জীবন রক্ষা করেছ, অনেক ধন্যবাদ। এখন আমার সাথেই আসতে হবে। এসব লোকের দিকে দেখ, আমার সাথে থাকলে তুমি বীর, না থাকলে স্বর্ণখেকো। মেরে ফেলবে। স্রেফ মেরে ফেলবে। আমার সাথে এসো, আলবার্তো, জীবন টিকে থাকবে।

    আমি তাকালাম ইনকা যোদ্ধাদের দিকে। হাতের ওই অস্ত্রগুলো থাকার পরও ভয়ঙ্কর লাগছে। দেখলাম এক স্প্যানিশ সৈন্যের মাথা, কাছেই।

    যাব। তোমার সাথেই যাব, বললাম আমি। তারপর ওর সাথে কোমড় পানিতে নেমে পড়লাম।

    শ্বাস নাও তাহলে বড় করে। বলল সে, আর আমার পিছু পিছু আসো।

    রেনকো ডুব দিল শ্বাস বন্ধ করে। আমি মাথা ঝাঁকি দিয়ে বড় করে শ্বাস টেনে ওর মতোই ডুব দিলাম।

    .

    নীরবতা।

    ইনকা যোদ্ধাদের কোনো চিৎকার কানে আসছে না আর।

    শহরের দেয়ালে, পানির নিচে একটা গোল পাইপ দেখা যাচ্ছে। সেদিকে এগিয়ে যাচ্ছি আমি রেনকোকে অনুসরণ করে।

    পথটা খুব সরু, আমার খুব সমস্যা হচ্ছিল। আর এর কোন শেষ নেই। কিন্তু এক সময় শেষ হল, আর একটু হলেই ফুসফুস ফেটে যেত আমার। উঠে এলাম। টানলাম তীব্রভাবে নতুন বাতাস।

    জায়গাটা মনে হয় কোন আন্ডারগ্রাউন্ড স্লয়ার। মাথার ওপর মশাল জ্বলছে কোমড় পানিতে দাঁড়িয়ে আমি। টানেল চলে গেছে সর্বত্র।

    সিস্টেমের দিকে ঝেড়ে দৌড় দিয়েছে রেনকো এর মধ্যেই। আমিও তাকে অনুসরণ করলাম ঐ

    টানেল ধরে আমরা ছুটে চলেছি। বাম থেকে ডানে, ডানে থেকে বাম। একবারও গোলকধাঁধায় পথ হারাল না রেনকো। ধীরস্থিরভাবে টানেলের বাঁকগুলো দৌড়ে পেরিয়ে যাচ্ছে।

    এক সময় থেমে গেল সে। তাকাল উপরে, ছাদের দিকে।

    ওর পেছনে আমি দাঁড়িয়ে পড়লাম। এই সুড়ঙ্গ আর অন্য কোনো সুড়ঙ্গের মধ্যে পার্থক্য দেখি না আমি।

    কারণ জানা নেই, রেনকো দুর্গন্ধময় পানির দিকে নেমে গেল। মানুষের হাতের মুঠো সাইজের একটা পাথর তুলে আনল। খাঁজ বেয়ে উঠে গেল ছাদের দিকে। আঘাত করা শুরু করল স্ল্যাবে।

    ধপ, ধপ, ধপ।

    একটু অপেক্ষা করল রেনকো। আঘাত করছে সে থেমে থেমে।

    ধপ ধপ, ধপ।

    সম্ভবত কোন কোড। নেমে এল সে। অপেক্ষার পালা এবার। কিছু একটা ঘটার অপেক্ষায় আছে সে।

    কোনো সাড়া নেই।

    অপেক্ষায় রইলাম আমরা। মাথার ওপর পাথরের বটার এক কোনে একটা চিহ্ন দেখতে পেলাম। দুটো V দিয়ে একটা বৃত্ত রচনা করা হয়েছে।

    অবশেষে উপর থেকে আবার আওয়াজ উঠল। তিনটা আঘাতের শব্দ। বুম বুম বুম। রেনকোর কোড অনুসারে সাড়া দিয়েছে কেউ।

    স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে উঠে গেল রেনকো আবার। এবার নতুন কোনো কোডে আঘাত শুরু করল।

    অল্পক্ষণ পরে নড়ে উঠল পুরো চারকোনা স্ল্যাবটা। একপাশে সরে গেল ঘড়ঘড় শব্দ করে। ভেতরে অন্ধকার।

    পানি থেকে লাফ দিয়ে উঠে সাথে সাথে ভেতরে প্রবেশ করল রেনকো। আমিও পিছু নিলাম।

    অসাধারণ এক ভল্ট। বিশাল বড় এক ভল্টের মতো চেম্বার। চারধারে সোনালি ছবি। দশফুট স্ল্যাবে দেয়াল সাজান। সম্ভবত চওড়াও তেমনি। সামনে মাত্র ছ ফুট লম্বা একটা দরজা।

    আমি কোরিকাঞ্চা ভল্টে দাঁড়িয়ে।

    একটা মাত্র মশাল জ্বলছে ভেতরে ঢোকার মুখে। একজন ইনকা যোদ্ধা ধরে আছে সেটা। তার পেছনে আরো তিনজন ইনকান যোদ্ধা। আমার দিকে তাকিয়ে আছে ওরা।

    ভল্টের ভেতর আরো একজন আছে। একজন বয়স্ক মহিলা, তাকিয়ে আছে। রেনকোর দিকে।

    মহিলা বেশ সুন্দরী, মাথার চুল পাকা আর গায়ের চামড়া কুঁচকে গেছে, আমার মনে হয় কম বয়সে খুব সুন্দরী ছিল মহিলা, কোন সন্দেহ নেই। পরনে সাদা সুতির পোশাক, মাথায় সোনা এবং মণি মাণিক্য খচিত মুকুট পরেছে। আমি বলতে পারি সাদা পোশাকে তাকে অ্যাঞ্জেলের মতো লাগছে–

    ধপ!

    পাই করে ঘুরে দাঁড়ালাম শব্দ শুনে। রেনকোও ঘুরল।

    ধপ!

    আওয়াজটা যেন উঠছে দেয়ালের অন্য প্রান্তে। পাথুরে দরজার বাইরে থেকে কেউ আঘাত করছে।

    আমি জমে গেলাম আতঙ্কে।

    স্প্যানিয়ার্ডরা।

    হার্নান্দো।

    ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে তারা।

    কথা বিনিময় হল বয়স্ক মহিলা আর রেনকোর মধ্যে কুইচুয়ান ভাষায়। রেনকো দ্রুত জবাব দিয়ে আমার দিকে ইশারা করল।

    ধপ! ধপ!

    তারপর দ্রুত বয়স্ক মহিলা তার পেছনে ভিত্তির দিকে ঘুরল। দেখতে পেলাম ভিত্তির ওপর কিছু একটাকে রক্তবর্ণ সিল্কের কাপড়ে ঢেকে রাখা।

    বয়স্ক মহিলা কাপড়ের আড়াল রেখেই তুলে দিল জিনিসটা রেনকোর হাতে। কাপড়ের ভেতরে কী আছে তা তখনো দেখিনি আমি। যাই হোক না কেন, আকৃতিতে মানুষের মাথার মতো হবে।

    রেনকো সম্মানের সাথে নিল।

    ধপ ধপ!

    এত দেরি করছে কেন সে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে আমাদের চারপাশের দেয়ালের দিকে তাকালাম।

    নিরাপদে নিজের হাতে আসার পর রেনকো ধীরে ধীরে কাপড়টা সরাল।

    এবং আমি দেখলাম ওটা।

    এক মুহূর্ত চেয়ে থাকলাম স্থির হয়ে।

    এত সুন্দর আর এত ভয়ানক কোনো আইডল কখনো দেখিনি।

    পুরোপুরি কালো, চৌকো কোনো বিচিত্র পাথর খোদাই করে তৈরি করা। ধারগুলো একেবারে তীক্ষ্ণ। আইডলের মাঝামাঝি মুখ ব্যাদান করা এক পাহাড়ি বিড়ালের খোদাই করা ছবি, রাগে ফুঁসছে। মাথাটা অনেকটাই বেরিয়ে আছে পাথর থেকে।

    বিড়ালের চেহারা বেয়ে নেমে গেছে লালচে একটা ছায়া, এর ফলে ভয়ানক লাগছে আইডলটাকে।

    রেনকো আইডলটা আবার কাপড় দিয়ে ঢেকে দিল। মহিলা সাথে সাথে এগিয়ে এসে রেনকোর গলায় পরিয়ে দিল একটা কিছু। ওটা চামড়ার একটা বেল্ট। বেল্টের অ্যামারাল্ডটা মানুষের কানের থেকেও বড়। রেনকো বো করে জিনিসটা নিয়ে আমার দিকে ফিরল।

    এখুনি যেতে হবে, আমাদের, বলল সে।

    তারপর আইডলটা শক্ত করে হাতে ধরে এগিয়ে গেল গর্তের দিকে। এগিয়ে আসছে চার যোদ্ধা স্ল্যাবটা নিয়ে, আমাদের বেরিয়ে যাবার পথটা আটকে দিবে। মহিলা নড়ছে না একটুও।

    আবার নীরবতা নেমে এসেছে ভল্টে।

    থেমে গেছে বাইরের আঘাত।

    আমার উৎসুকটা বেড়ে গেল, আগে কোনো একসময় ভয়ের কারণ জড়িয়ে আছে কোনো একটা ব্যাপারে।

    এর পরপরই একটা বিস্ফোরণ হল।

    বিশাল পাথরের ঢোকার মুখে সাদা আলোর ঝিলিক দেখা গেল।

    ঠিক সে মুহূর্তে ভল্টের ছ ফুটে দরজা বিস্ফোরিত হয় ভেতরের দিকে। হয়ে যায় লক্ষ্য টুকরা।

    আমি বুঝিয়ে বলতে পারব না। প্রচণ্ড ধাক্কায় এমন বিশাল বড় পাথর সাথে সাথে টুকরো টুকরো হয়ে যায় না…। এবং তারপর ধোয়া সরা শুরু করলে কালো ব্যারেলটা দেখা গেল। বিশাল কামান দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটান হয়েছে।

    তাড়াতাড়ি চল! গর্তের ভেতর থেকে বলল রেনকো।

    আমি গর্তে মাত্র ঢুকেছি ঠিক সে মুহূর্তে আন্দাজে মাসকুইটো দিয়ে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে এসে ঢুকল স্প্যানিশ সৈন্যরা।

    গর্তে ঢোকার আগ মুহূর্তে দেখলাম, অনেক প্রত্যাশার আইডল ঘরের কোথাও চোখে না পড়ায় ক্যাপ্টেন হার্নান্দো পিজারোর হতাশ মুখ। লম্বা লম্বা পা ফেলে পিস্তল হাতে ঘরের ভেতর বিক্ষিপ্ত ঘুরছে। বন্য দৃষ্টিতে তাকাল এদিকে।

    তারপর ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখলাম হার্নান্দো আমাদের দিকে তাকিয়েছে।

    ছুটছি আমি অন্ধকার টানেল ধরে, তাল মিলাতে ছুটছি রেনকোর সাথে। শুনছি উপরে, স্প্যানিশে তীব্র কথাবার্তা। সামনে আধো অন্ধকার।

    আমার সামনে আইডল হাতে রেনকো নোংরা পানির ওপর দিয়ে ছুটে চলেছে।

    আমাদের ছুটে চলার সাথে সাথে এগিয়ে যাচ্ছে ইনকাদের সেই অতি মূল্যবান আইডল। ছিটকে পড়ছে নোংরা পানি। গলি ঘুপচি আর গোলকধাঁধায় অন্ধের মতো।

    আমরা টানল ধরে ছুটে চলছি, নোংরা পানির ওপর দিয়ে, মাথা নিচু করে বাঁয়ে, কুঁজো হয়ে ডানে।

    একটু পরই যেভাবেই হোক বোঝা গেল, ভুল পথে চলেছি আমরা।

    রেনকো নদীর পথে যাচ্ছে না।

    কোথায় যাচ্ছি আমরা, রেনকো? আমি জিজ্ঞেস করলাম।

    শুধু এগোও! ও চেঁচিয়ে পেছন ফিরে বলল।

    একটা বাঁক ঘুরতেই টর্চের আলো পড়ল আমার মাথার ওপর দেয়ালে, তার পর পরই একটা মাসকুইটো থেকে গুলি ছুটে এল। ছজন মাসকুইটো এগিয়ে আসছে, দেখলাম চোখের কোণা দিয়ে। আমার পেছনে টানলে ধরে এগিয়ে আসছে, টর্চের আলোয় মাথার শিরস্ত্রাণগুলো ঝিলিক দিয়ে উঠছে।

    আমাদের পেছনেই আছে ওরা! আমি বললাম।

    তাহলে আরো দ্রুত দৌড়াও।

    আরো মাসকুইটো থেকে গুলি হল। রিস্ফোরণের শব্দ টানেলের দেয়ালে দেয়ালে আঘাত করে যেন প্রচণ্ড শব্দ তুলছে।

    আবার থেমে গেল রেনকো, উপরে দুটো ভি চিহ্ন দেখে, যেটা দেখেছিলাম আইডলের ভল্টেও, ওঠা শুরু করল। আমি দেরি না করে অনুসরণ করলাম তাকে।

    রেনকোর পেছন পেছন একটা পথে উঠে এসেছি। দু পাশে উঁচু দেয়াল।

    আমি দ্রুত স্ল্যাবটা লাগিয়ে দিলাম, একটা গুলি অল্পের জন্য আমার আঙুল মিস করল।

    সমস্যা নেই, আমার সাথে আস, বলল রেনকো। একটা সরু রাস্তায় টেনে তুলল আমাকে।

    আমরা যখন ছুটে চলেছি তখন একটু দূরে দূরে দলে দলে ছুটে আসছে স্প্যানিশ সেনা।

    সবচে অবাক করা ব্যাপার, সেই সভ্য সেনাবাহিনীর হাতে ভোলা দণ্ডের মাথায় শুধু ইনকাদের মাথা বা হাত-পা নেই, আছে গোপনাঙ্গও।

    এবার পথের পর পথ পেরুতে গিয়ে একফাঁকে তীর-ধনুক কুড়িয়ে নিল রেনকো। আমি এখনো তাকে অনুসরণ করছি মরিয়া হয়ে, চোখের আড়াল হতে দিতে চাই না।

    অবশেষে হাজির হলাম একটা হলের সামনে। ছুটে, সিঁড়িগুলো পার হয়ে উঠলাম ভেতরে।

    হলটা দোতলা। নিচতলা পুরো আছে, উপরতলা ব্যালকনিরচে সামান্য বেশি এগিয়ে এসেছে।

    কিন্তু আসল জিনিসে দৃষ্টি গেলে থমকে গেলাম আমি।

    মেঝেতে অজস্র চৌকো গত মাঝে চলে গেছে অনেকগুলো সরু পথ।

    আমরা এখন ইনকা জেলখানায় আছি।

    আমার মনে পড়ল এ ইনকারা এখনো লোহা আবিষ্কার করেনি, তাই বলে পিছিয়ে নেই তারা। জবাব এসেছে অন্যভাবে। পাথরের গর্তই সে জবাব।

    আমি ব্যালকনির দিকে তাকালাম। প্রহরীরা টহল দেয় বন্দীদের ওপর নজর রাখার জন্য।

    রেনকো একটা ধাপও বাদ দিচ্ছে না। সে এইমাত্র চাপা পাথরের ব্রিজের ওপর এসে নিচে গর্তের দিকে তাকাল। নিচ থেকে কান্না এবং চিৎকারের শব্দ ভেসে আসছে। সপ্তাহখানেক আগে থেকে অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই হতভাগ্য বন্দীদের এখান ফেলে রেখে গেছে।

    রেনকো একটা গর্তের মুখে গিয়ে দাঁড়াল। আমিও পাথরের ব্রিজ পার হয়ে তার দিকে এগিয়ে গেলাম, তাকালাম নোংরা গর্তের দিকে।

    গর্তগুলো পাঁচ পা দূরত্বে, মার্টির তৈরি দেয়াল। পালান অসম্ভব। গর্তের মাঝে মাঝারি আকৃতির একজন মানুষ বসে আছে। লোকটা হালকা-পাতলা, যন্ত্রণায় কাতর না, অন্যদের মতো চিৎকারও করছে না, বন্দীশালায় একজন হতভাগ্য মানুষ। গর্তের দেয়ালে সবসময় হেলান দিয়ে বসে থাকে, তাকিয়ে থাকে শুধু। ঠাণ্ডামাথার একজন অপরাধী। আমার গায়ের চামড়ায় শিরশির করে উঠল। বুঝে পাচ্ছি না ওর সাথে রেনকোর কি দরকার।

    বাসেরিও, বলল রেনকো।

    হাসল ক্রিমিনাল, ও, মহান রাজপুত্র রেনকো…?

    তোমার সাহায্য দরকার, বাসেরিও! বলল রেনকো।

    বন্দী যেন মনে মনে মজা পেল। বলল, আমি বুঝতেই পারছি না একজন ভালো রাজপুত্রের হঠাৎ আমার দক্ষতার প্রয়োজন পড়ল, হাসল ক্রিমিনাল। কী সহায়তা করতে পারি তোমাকে, রেনকো? এখন তো আর সাম্রাজ্য নেই, অপরাধের জগতে ডুবে যাবে নাকি?

    গর্ত থেকে বাইরের দিকে একবার তাকাল রেনকো। স্প্যানিয়ার্ডদের খুঁজছে। আমি তার উদ্বেগটা বুঝতে পারছি। আমরা এখানে অনেকক্ষণ হল এসেছি।

    মাত্র একবার প্রশ্ন করব, বাসেরিও, কঠিন গলায় বলল রেনকো যদি সহায়তা করতে রাজি থাক, এখান থেকে তুলে নিয়ে যাব, যদি রাজি না হও, এই গর্তে ফেলে রেখে যাব এখানেই মরবে।

    ভাল পথ দেখালে। ক্রিমিনাল মন্তব্য করল।

    তো?

    ক্রিমিনাল বাসরিও উঠে দাঁড়াল। গর্ত থেকে বের করো।

    সাথে সাথে দূরের দেয়াল থেকে মই নিয়ে এল রেনকো।

    আর আমি ভয় পাচ্ছি, হার্নান্দো যে কোনো সময় এসে পড়তে পারে, আর রেনকো অপরাধীর সাথে দরকষাকষি করছে! এগিয়ে গেলাম আমি দেখতে যে পথ দিয়ে আমরা ঢুকেছি। পাথরের দরজার ফ্রেম দিয়ে বাইরে তাকালাম। দেখলাম হার্নান্দো পিজারোর গাঢ় একটা ছায়া। আমার দিকে এগিয়ে আসছে।

    দৃশ্যটা দেখে আমার রক্ত ছলাক করে উঠল–কুদ্ধ বাদামী চোখ, হুকের মতো কালো গোঁফ, কালো দাড়ি বেশ কয়েক সপ্তাহ সেভ করা হয়নি।

    দ্রুত ঠিক করে ছুটতে ছুটতে বললাম, রেনকো!

    মাত্র মইটা নামাচ্ছিল রেনকো বাসারিওর গর্তে, ঘুরতেই, আমার পেছনে আসতে থাকা স্প্যানিশ সৈন্য দেখে ফেলেছে সে।

    ওর পেছনে তুনের দিকে হাতটা চলে গেল। তুলে এনেছে তীরের ফলা। মাথা নামিয়ে ফেললাম আমি। সৈন্যটার কপালের মাঝখানে বিধল।

    জেলখানার গর্তগুলোকে এড়িয়ে পাথুরে ব্রিজের দিকে ছুটে গেলাম, দ্রুত গোলকধাঁধা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি আমি।

    আমার পেছনে আরো বেশ কয়েকজন হল ঘরে নেমে এল, হার্নান্দোও তাদের সাথে আছে, বন্যার মতো হাতের মাসকুইটো দিয়ে গুলি ছুঁড়ছে।

    বাসেরিও গর্ত থেকে উঠে দাঁড়াল। সে আর রেনকো ছুটছে হলের অন্যপ্রান্তে।

    আলবার্তো, এ পথে! রেনকো চেঁচিয়ে আমাকে বলল, গোলকধাঁধার শেষ মাতল পাথরের দরজার দিকে আঙুল উঁচিয়ে বলল।

    দেখলাম হলের অন্যপাশে একটা পথ খোলা আছে, আরো দেখলাম পুলি দিয়ে ঝোলান আছে একটা চৌকোনো পাথরের টুকরো। বিশাল বড় টুকরোটা, অনেকটা মানুষের উচ্চতায়, ঠিক খোলা পথটার আকৃতির।

    আমি দৌড়ে গেলাম দরজাটার দিকে।

    পেছন দিক থেকে ভয়ানক এক ধাক্কায় ছিটকে পড়লাম আমি। আমি আছড়ে পড়লাম সরু পাথরের ব্রিজের ওপর। বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখলাম স্প্যানিশ সৈন্যটি আমাকে একের পর এক আঘাত করে যাচ্ছে।

    আমার পাশে হাঁটু গেড়ে বসল সে, ছোরাটা বের করল। আমার দিকে নামিয়ে আনল, ঠিক তখনই একটা তীর এসে বিধল তার বুকে। এত জোরে তীরটা আঘাত করেছে যে ওটার ধাক্কা সামলাতে না পেরে তার মাথার হেলমেটটা খসে পড়ল। ব্রিজ টপকে তীর সহ পড়ে গেল গর্তে, আমাদের নিচে।

    আমি নিচের গর্তে তাকালাম, চার বন্দীর মাঝে গিয়ে পড়ল সে। আমি ভাগ্যাহত সৈন্যটাকে দেখতে পেলাম না, তবে আতঙ্কের একটা চূড়ান্ত চিৎকার কানে এল। ক্ষুধার্ত বন্দীরা তাকে জীবন্ত কামড়ে খেতে লাগল।

    চোখ তুলে ওপরে তাকালাম, দেখলাম আমার পাশেই পেছনে নেমে এল রেনকো।

    চল! আমার হাতটা চেপে ধরে বলল সে। টেনে তুলে আমাকে দুপায়ের ওপর দাঁড় করিয়ে দিল।

    উঠে দাঁড়িয়ে দেখলাম বাসেরিও ইতোমধ্যে দূরের দোরগোড়ায় চলে গেছে।

    আমাদের চারপাশে মাসকুইটোর গুলির শব্দ হচ্ছে, ব্রিজের নিচে একের পর এক কমলা রঙের বিস্ফোরণ ঘটে যাচ্ছে।

    তারপরই হঠাৎ অনির্দিষ্টভাবে ছোঁড়া একটা গুলি এসে আঘাত করল বেরিয়ে যাবার পথটা আটকান দড়িতে।

    সাথে সাথে দড়ি কেটে বোল্ডারটা নেমে আসতে শুরু করল।

    ওটার নিচে দাঁড়িয়ে বাসেরিও আতঙ্কিত চোখে মাথার ওপরের বোল্ডারটার দিকে তাকাল, তারপর রেনকোর দিকে তাকাল।

    না, রেনকো দম আটকে তাকিয়ে দেখল বোল্ডারটা নেমে আসছে।

    আমাদের থেকে চল্লিশ কদম দূরে দোর গোড়া, এই গোলকধাঁধা থেকে বেরিয়ে যাবার একমাত্র পথটা বন্ধ হয়ে আসছে।

    দ্রুত দূরত্বটা হিসেব করে দৌড়ের গতি বাড়ালাম আমি বোল্ডারটা নেমে আসা দেখতে দেখতে।

    আমাদেরকে যেভাবেই হোক এই পথ দিয়ে বেরিয়ে যেতে হবে।

    দোরগোড়া দূরে, দ্রুত নেমে আসছে পথের দরজা। কয়েক মুহূর্ত পর আমরা এই ভূগর্ভস্থ গোলকধাঁধার ভেতর আটকে যাব। ফাঁদে পড়েছি, আমাদের রক্তচোষা দেশীরা দ্রুত ছুটে আসছে হাতের মাসকিটে গুলিবর্ষণ করতে করতে।

    কোনো উপায় নেই। কেউ বাঁচাতে পারবে না।

    রেনকো এই দিকটা ভেবে দেখেনি নিশ্চিত।

    মাসকুইটো হাতে যোদ্ধারা চিৎকার করতে করতে ছুটে আসছে, তরুণ প্রিন্স দ্রুত নিজের দিকে একবার তাকাল, চোরাচোখে এইমাত্র গার্ড স্পেনিশ সৈন্যটার স্টিলের হেলমেটের দিকে তাকাল।

    দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ল ওটার দিকে, আঁকড়ে ধরল ওটা, তারপর ঘুরল এবং পাশ দিয়ে ছুঁড়ে মারল, ছিটকে চলে গেল ধূলিমাখা পথ দিয়ে সোজা দরজার দিকে।

    হেলমেটটা ধূলিমাখা পথ দিয়ে পিছলে চলে গেল, চরকির মতো ঘুরল যেমনটা করে থাকে, আগুনের আলোতে হেলমেটের চুড়া ঝিকমিক করছে।

    দরজা বরাবর পাথরটা নেমে আসছে, নেমে আসছে দ্রুত খোলা পথটা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য।

    তিন ফিট।

    দুই ফিট।

    এক ফিট।

    হেলমেটটা ঘুরতে ঘুরতে গিয়ে পৌঁছে গেল দরজার মেঝের পাথরের কাছে। আটকে গেল একেবারে ঠিক জায়গায়, দরজা এবং ধূলিমাখা মেঝের মাঝে, থেমে গেল পাথরের নেমে আসা। পাথরটা এখন হেলমেটের উপরের অংশে এসে আটকে গেল এক ফুট উপরে ভারসাম্য রক্ষা করে।

    আমি রেনকোর দিকে তাকালাম অবাক চোখে।

    কি করে করছে কাজটা? জিজ্ঞেস করলাম আমি।

    বাদ দাও তো, বলল সে। চল যাওয়া যাক!

    আমরা একসাথে ব্রিজ থেকে দৌড়ে নেমে গেলাম ধূলিমাখা চওড়া জায়গার দিকে। ছুটে গেলাম সেখানে বাসেরিও আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল একটি দোরগোড়ায়। আমার মনের কোণে প্রশ্ন জাগল, রেনকো যখন আমাকে বাঁচাতে দৌড়ে গেল তখন কেন যে পালাল না। ভেবেছিল হয়তো রেনকোর সাথে থাকলে আরো ভালোভাবে বাঁচবে। কিংবা অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে…

    ভয়াবহভাবে চারপাশে মাসকিটের গুলি বর্ষিত হচ্ছিল। এর মাঝে রেনকো প্রথম পাথর এবং মেঝের মাঝখানের ফাঁক দিয়ে নিজেকে পিছলে বের করে দিল বাইরে। বাসেরিও তার পিছুপিছু গেল। আমার পিছলানটা সাবলীল হল না। আমি প্রথমে ধূলিময় মেঝেতে মাখা পিছলে দিলাম এবং এর ফলে ফাঁকটা দিয়ে বেরিয়ে যাবার সময় আমার বুকের সাথে মেঝে এবং অপরপার্শ্বের পার্শ্ব দেয়ালের একটা জগাখিচুড়ি পাকিয়ে যাবে।

    বাইরে বেরিয়ে নিজ পায়ে দাঁড়ানোর সাথে সাথে রেনকো দ্রুত লাথি কষালো পাথরে নিচে আঁটকে থাকা হেলমেটের গায়ে। চৌকোনো পাথরটা সম্পূর্ণভাবে দরজার মুখ বন্ধ করে দিল বিকট আওয়াজ তুলে।

    শ্বাস ফেললাম আমি।

    আমরা নিরাপদ! অন্তত এখনকার জন্য।

    এস, দেরি করা যাবে না, বলল রেনকো, এই খারাপ নগরীটাকে এখন বিদায় জানাতে হচ্ছে।

    আবার পথ ধরে ছুটে চলা।

    রেনকো আগে আগে ছুটছে, তার পেছনে বাসেরিও সবশেষে আমি। একটা জায়গায় এসে স্প্যানিশদের অস্ত্রাগার পেলাম। বাসেরিও একটা লম্বা ধনুক আর তীর ভরা তৃণ তুলে নিল। রেনকো একটা তৃণ তুলে নিল একটা খসখসে চামড়ার তৈরি থলি তুলে নিয়ে আইডলটা ওটার ভেতর রাখল, একটা তলোয়ার তুলে নিল সে। আমি তুলে নিলাম একটা বাঁকান চকচকে ফলাযুক্ত ভারী তলোয়ার। আমি একজন বিনয়ী মংক, তারপরেও আমার পরিবার এসেছে ইউরোপের চমৎকার অসিচালকদের পরিবার থেকে।

    এই পথে, বলল রেনকো, পাথরের তৈরি সিঁড়ি বেয়ে উঠতে লাগল।

    দ্রুত উঠে গেলাম আমরা, চলে এলাম পরপর কয়েকটা উঁচু-নিচু বাড়ির ছাদে। রেনকো একের পর এক ছাদ পেরিয়ে যেতে লাগল, টপকে গেল নিচু দেয়াল, লাফিয়ে উঠে গেল নিচু ছাদে।

    বাসেরিও এবং আমি তাকে অনুসরণ করে গেলাম তারপর একটা নিচু দেয়ালের সামনে এসে রেনকো মার্টিতে লাফিয়ে নামল। শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য ওর বুকটা হাঁপারের মতো ওঠা-নামা করছে।

    দেয়ালের ওপাশে তাকিয়ে দেখল। একই কাজ করলাম আমি। এসব কি দেখছি আমি : পাথর বাঁধান চত্বরে প্রায় দুই ডজন স্প্যানিশ সৈন্য এবং তাদের ঘোড়া দাঁড়িয়ে। কয়েকটি ঘোড়া ছাড়া ছাড়া ভাবে দাঁড়িয়ে, অন্য ঘোড়াগুলো বাধা রয়েছে ওয়াগন এবং এক্কা গাড়ির সাথে।

    চত্বরের শেষপ্রান্তের দেয়ালে রয়েছে একটা বিশাল কাঠের দরজা। দরজাটা আবার কুজকোর দেশী দরজা নয়। শহর বেদখল হওয়ার আগে আমার দেশের মানুষেরা তৈরি করেছিল পাথরের তোরণ।

    বিশাল দরজার সামনে দুই ঘোড়ায় টানা একটা ওয়াগন দাঁড়িয়ে আছে শহরের দিকে মুখ করে। ওয়াগনের ওপর বসান রয়েছে বিশাল আকারের একটা কামান, উল্টোদিকে তাক করা।

    আমাদের কাছাকাছি, যে দালানের জমিতে আমরা বসে আছি, জনা তিরিশের মতো দুস্থ ইনকা বন্দী দাঁড়িয়ে আছে। একটা লম্বা কালো দড়ি গলিয়ে দেয়া হয়েছে প্রত্যেক বন্দীর লোহার হাতকড়ার ভেতর দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে প্রত্যেক বিষণ্ণ বন্দীকে সার করে দাঁড় করিয়ে।

    এখন আমরা কী করব? আমি চিন্তিত গলায় রেনকোর কাছে জানতে চাইলাম।

    কেটে পড়ব।

    কীভাবে?

    ওই পথে, বলল সে, চত্বরের অদূরের দরজাটা দেখিয়ে।

    স্যুয়ার প্রবেশপথ কি হবে? বললাম আমি, মনে হল ওটাই একমাত্র পালানোর পথ।

    একজন চোর কখনো একই পথ দুবার ব্যবহার করে না, বলল বাসেরিও। বিশেষ করে যে পথটায় তিনি একবার ধরা পড়ে গেছেন। তাই না, প্রিন্স?

    ঠিক, বলল রেনকো।

    আমি অপরাধী বাসেরিও-র দিকে তাকালাম। চেহারায় ময়লা লেগে থাকলেও আসলে সে একজন সুদর্শন পুরুষ। চওড়া করে হাসে সে, চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে সবসময় মুখে হাসি দেখে বোঝা যায় সে এই অভিযানটা উপভোগ করছে। আমি তার আনন্দের সাথে অংশগ্রহণ করতে পারছি না।

    রেনকো তার তৃণের ভেতর কি যেন খুঁজতে লাগল। বের করে আনল কয়েকটা তীর যার মাথায় কাপড় পেঁচান আছে, মাথাটা তৈরি করা হয়েছে কন্দযুক্ত।

    ভালো, নিজের চারপাশে তাকাল, দেয়ালে মশাল দেখতে পেল একটা। খুব ভালো।

    ঠিক কি করতে চাইছ তুমি? আমি জানতে চাইলাম।

    আমার কথা শুনতে পেয়ে তাকাল না রেনকো। বরং চত্বরে বাঁধা দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি ঘোড়ার দিকে তাকিয়ে রইল।

    রেনকো, আমি ধাক্কা দিয়ে বললাম, কি করতে চাইছ তুমি?

    এবার রেনকো আমার দিকে ঘুরে তাকাল, মুখে চওড়া হাসি।

    খোলা চত্বরে পা রাখলাম আমি হাত দুটো সন্ন্যাসীদের আলখাল্লার ভেতরে ঢুকিয়ে, মাখার ভেজা চুলের ওপর আলখাল্লার হুডটা তোলা রয়েছে।

    চতুর পেরুনোর সময় মাখা নিচু করে হেঁটে গেলাম। পা দেখছি ক্ষিপ্র অথচ চতুরতার সাথে। পাশ দিয়ে চলে গেল কয়েকজন সৈন্য, সরে গেলাম দ্রুত একপাশে যখন ঘোড়ার গাড়ির চাকা আমার দিকে আসছে দেখে। সরে গেলাম মরিয়া হয়ে তবে কারও দৃষ্টি আকর্ষণ না করে।

    রেনকোর ধারণা যে চত্বরে অবস্থানরত সৈন্যরা জানবে না যে দলত্যাগী এক স্প্যানিশ সৈন্য আমি, ইনকাদের পক্ষে কাজ করছি। যতটা সময় পর্যন্ত ওরা আমার ভেজা কাপড়-চোপড় খেয়াল করবে না, ততক্ষণে আমি দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি ঘোড়ার কাছে চলে যেতে পারব এবং ওই তিনটিকে নিয়ে যেতে পারব কাছেই একটি গলির মুখে যেখানে রেনকো এবং বাসেরিও অপেক্ষায় আছে।

    কিন্তু প্রথম কাজটা হল দরজা পর্যন্ত পথটা পরিষ্কার করা, তার মনে হল কামান রাখা ওয়াগনটা ওখান থেকে সরাতে হবে। কাজটা কঠিন। এরজন্য প্রয়োজন দুর্ঘটনাবশত ওয়াগনের সাথে বাঁধা ঘোড়া দুটোকে ভয় পাইয়ে দেয়া। আলখাল্লার হাতার ভেতর লুকান রেনকোর দেওয়া ধারাল তীরের ফলা প্রস্তুত আছে, ঈশ্বর ক্ষমা করো, পাশ দিয়ে হেঁটে যাবার সময় ওই জম্ভগুলোর একটার গায়ে বিধিয়ে দেব।

    আমি ধীরে ধীরে চত্বরটার ওপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি, সতর্কতার সাথে আমি দৃষ্টি এড়িয়ে যাচ্ছি, কারও সঙ্গে দৃষ্টি বিনিময় করছি না।

    শহরের অন্য চত্বরগুলোর মতো এই চত্বরে খড় ছড়ান ছিটান আছে। তার উপর কাটা মুণ্ডু রাখা হয়েছে। রক্ত এখনো শুকোয় নি, গড়িয়ে পড়ছে খড়ের মেঝেতে। ওগুলোর পাশ দিয়ে হেঁটে যাবার সময় আমি ভয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছিলাম– কুজকো থেকে না বেরুতে পারলে আমার অবস্থা ওগুলোর মতোই হবে, অদৃষ্টে বোধ হয় এমনই লেখা আছে।

    দরজাটা দৃষ্টি সীমায় চলে এসেছে আর দরজার সামনে কামানওয়ালা ওয়াগনটা দাঁড়িয়ে আছে। ঘোড়াগুলো দেখতে পেলাম। হাতার ভেতর তীরটাকে শক্ত করে ধরলাম। দুপা এগুলোই

    এই! তুমি! আমার পেছনে কোথাও থেকে কুকুরের ঘেউ ঘেউ-এর মতো কেউ চিৎকার করে উঠল।

    আমি জমে গেলাম সাথে সাথে। মুখ তুলে তাকালাম।

    বিশাল বপুর এক সৈন্য আমার সামনে এসে দাঁড়াল, দুই জানোয়ার এবং আমার সাথে। নিখুঁতভাবে সে তার হেলমেটটা মাথায় পরেছে। তার গলার আওয়াজ কর্তৃত্বপূর্ণ। একজন ঊর্ধ্বতন সৈনিক।

    এখানে কি করছ? তীক্ষ্ণ গলায় জিজ্ঞেস করল।

    বললাম আমি, আমি সত্যি দুঃখিত, খুবই দুঃখিত… শহরের ভেতর আটকে পড়েছি আর আমি…।

    তোমার কোয়ার্টারে ফিরে যাও। এই জায়গাটা নিরাপদ না। শহরে ইন্ডিয়ানরা এসে পড়েছে। আমাদের ধারণা ক্যাপ্টেনের আইডলের পেছনে লেগেছে ওরা।

    আমার কথাটা বিশ্বাস হল না। আমি আমার লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি ছিলাম আর তখন আমাকে ফিরে যেতে হবে। ঘুরছিলাম ফেরার জন্য ঠিক তখনই হঠাৎ করে একটা শক্ত হাত আমার কাধটা চেপে ধরল।

    এক মিনিট, সন্ন্যাসী সৈন্যটি বলতে শুরু করল। কিন্তু সাথে সাথে থেমে গেল আমার গায়ের আলখাল্লাটি ভেজা অনুভব করে।

    কী ব্যাপার।

    একটা শিস কাটা শব্দ আমার চারপাশের বাতাস ভরে গেল, তারপর থক! –একটা তীর এসে সৈন্যটির চেহারায় আঘাত করল, নাকটা ছিন্নভিন্ন করে দিল, ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরিয়ে এসে আমার মুখে মাখামাখি হয়ে যায়।

    পাথরের মতো পড়ে গেল সৈন্যটি। চত্বরের অন্য সৈন্যরাও ওকে পড়ে যেতে দেখেছে। চারপাশে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি বিপদের উৎস খুঁজে বেড়াতে লাগল।

    তারপর হঠাৎ দ্বিতীয় শিসকাটা শব্দে বাতাস ভরে গেল, এবার এল অন্ধকার এক ছাদের ওপর থেকে আগুন লাগা তীর। ছুটে এসে আমার সামনের ওয়াগনের ওপর দিয়ে গিয়ে দরজায় আঘাত হানল।

    চারদিকে চিৎকার চেঁচামেচিতে ভরে গেল। দখলদার বাহিনীর সকলেই ছুটে I আসা তীরের অন্ধকার উৎসের দিকে গুলি ছুঁড়তে লাগল।

    আমি, ভালো করে চারপাশে তাকালাম।

    ওয়াগনের উপর কামানের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, কিংবা তাকিয়ে দেখলাম কামানের ব্রিজের কাছে সলতের দিকে।

    ফিউজ জ্বলে উঠল।

    আগুন লাগা তীর–বলতে পারব না, তবে বুঝতে পারছিলাম ওটা বাসেরিও ছুঁড়েছে–এতটা নিখুঁত তাক করে ছোঁড়া হয়েছিল কামানের ফিউজ জ্বলে উঠল।

    পরে কি হবে তার অপেক্ষায় রইলাম না। আমি শুধু দৌড়ে গেলাম ঘোড়া তিনটির দিকে যতটা দ্রুত সম্ভব। ঘোড়াগুলোর কাছে পৌঁছান মাত্র কামানওয়ালা ওয়াগনটা বিস্ফোরিত হল।

    এত তীব্র শব্দ করে বিস্ফোরিত হল, জীবনে কোনোদিন এমন শব্দ শুনিনি। প্রচণ্ড বিস্ফোরণের ফলে আমার পায়ের নিচের জমি কেঁপে উঠল।

    কামানের নল থেকে উত্তাল ধোয়ার মেঘ বেরিয়ে এল এবং কাঠের দরজায় একটা খাবলা মারল। ধোঁয়া সরে যাওয়ার পর দেখা গেল বিশাল দরজার নিচের অংশের দশফুটের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

    ওয়াগনের সাথে বাঁধা ঘোড়াগুলো সহ, হঠাৎ প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ছুটে চলতে শুরু করে। পেছনের পা বাতাসে ভাসিয়ে ছুটে গেল। কুজকোর গলি মুখে হারিয়ে গেল পেছনে ধ্বংসপ্রাপ্ত দরজাটা খুলে রেখে।

    তিনটি ঘোড়ার দিকে আমিও ছুটে গেলাম। দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করছিল ওগুলো। একটা ছুটে বেরিয়ে গেল, কিন্তু দুটো ঘোড়ার লাগাম ধরে ফেললাম।

    স্প্যানিশ সৈন্যরা তখনো অন্ধকার ছাদ লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে যাচ্ছে। আমি অন্ধকারের দিকে চোখ তুলে তাকালাম। রেনকো এবং বাসেরিওকে কোথাও দেখতে পাওয়া যাবে।

    সন্ন্যাসী! হঠাৎ কেউ যেন আমার পেছন দিক থেকে ডেকে উঠল।

    ঘুরে দেখলাম বাসেরিও দৌড়ে আসছে বিশাল বড় ধনুক হাতে।

    তুমি কিন্তু ঘোড়াগুলোকে ভয় পাইয়ে দেয়া ছাড়া আর কোনো কাজই করতে পার নি, সন্ন্যাসী? একটা ঘোড়ার পিঠে চড়ে বসতে বসতে সে হেসে বলল। যা কিছু তুমি করেছ তার সবটাই হল ঘোড়াগুলোকে ভয় পাইয়ে দেয়া।

    রেনকো কোথায়? আমি জানতে চাইলাম।

    আসছে, বলল বাসেরিও।

    তারপরেই একটানা কর্ণবিদারী চিৎকারে ভেসে গেল চত্বরটা জুড়ে। আমি সাথে সাথে ঘুরে তাকিয়ে দেখলাম একদল ইনকা বন্দীরা স্প্যানিয়ার্ডদের ওপর হামলে পড়ল। ইনকারা মুক্ত হয়ে গেছে, লম্বা কালো দড়ি দিয়ে আর বাধা নেই।

    হঠাৎ ওপর থেকে শুনতে পেলাম তীব্র মৃত্যু চিৎকার আর দেখতে পেলাম রেনকো একটা ছাদের ওপর উঠে দাঁড়িয়েছে, দাঁড়িয়ে আছে পড়ে থাকা এক দখলদারীর ওপর। দ্রুত পড়ে থাকা লোকটার পিস্তল তুলে নিল। তাকে ধাওয়া করে উঠে আসছে দালানের একপাশের সিঁড়ি বেয়ে আরো জনছয়েক স্প্যানিয়ার্ড।

    রেনকো নিচে আমার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলল, আলবার্তো! বাসেরিও! দরজার দিকে! দরজার দিকে যাও!

    তোমার কি হবে? আমি চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করলাম।

    আমি তোমার পেছনেই থাকব! রেনকো বলল। মাসকুইটোর গুলি এড়িয়ে। চলে যাও! যাও!

    দ্বিতীয় ঘোড়ার পিঠে চড়ে বসলাম আমি।

    চলে এসো! বাসেরিও ঘোড়র পেটে তো দিতে দিতে বলল।

    আমি আমার ঘোড়াটাকে গুঁতো দিলাম, জানোয়ারটার মুখটা ঘুরিয়ে দরজা বরাবর ছুটে চললাম।

    ছুটতে ছুটতে ব্রিজের ওপর ঘুরে তাকাতেই অবিশ্বাস্য এক দৃশ্য দেখতে পেলাম।

    দেখলাম একটা তীর, তীক্ষ্ণ তবে আগুন লাগা নয় ছাদের ওপর থেকে ছোঁড়া হয়েছে, ছুটে চলে চত্বরের ওপর দিয়ে। তীরের পিছুপিছু সাপের মতো এঁকে বেঁকে একটা বাঁধা দড়ি ছুটে আসছে। কালো দড়ি, যে দড়িটা দিয়ে ইনকা বন্দীদের বেঁধে রাখা হয়েছিল।

    আমার মাথার ওপর দিয়ে তীরটা চলে গেল, চাবুকের মতো তীক্ষ্ণ তীব্র শব্দ তুলে, কাঠের দরজার অক্ষত ওপরের অংশের দিকে ছুটে গেল। অল্পক্ষণ পরেই দরজায় আঘাত হানল তীরটা। দেখলাম তীরের পেছনের দড়িটা টানটান হয়ে গেছে।

    আর তারপরেই দেখতে পেলাম রেনকোকে দড়ির শেষপ্রান্তে, দাঁড়িয়ে ছাদের ওপর কাঁধে চামড়ার থলিটা নিয়ে। স্প্যানিশটার চামড়ার বেল্টটা খুলে নিয়ে দড়িটার ওপর ঝুলিয়ে দিয়ে নিজের হাতের সাথে শক্ত করে বাঁধল। তারপর ছাদ থেকে লাফিয়ে দড়ির ওপর এক হাতে চামড়ার বেল্ট ধরে পুরো চতুর পেরিয়ে পেছনে। নেমে এল।

    কয়েকজন স্প্যানিশ সৈন্য ওকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ছিল, কিন্তু অন্য হাতে অসম সাহসী রাজপুত্র নিজের হাতের পিস্তল থেকে গুলি করতে লাগল ওদের লক্ষ্য করে অবিশ্বাস্য গতিতে পেছনে নামতে নামতে।

    আমি আমার ঘোড়াটা আরো জোরে গুতো দিলাম, যাতে রেনকোর গতির সাথে তাল রেখে এগিয়ে যেতে পারি। দড়ির শেষপ্রান্তে এসে রেনকো বেল্টটা ছেড়ে দিল এবং সে এসে পড়ল ঘোড়ার পিঠে ঠিক আমার সামনে।

    আমাদের সামনে বাসেরিও দরজার ক্ষত অংশ দিয়ে ছুটে বেরিয়ে গেল। রেনকো এবং আমি ওর পিছুপিছু। দ্রুত গতিতে ছুটে চলেছি। দরজার দিকে গুলি বৃষ্টি হতে থাকল।

    আমরা বেরিয়ে এলাম বাইরে রাতের ঠাণ্ডা বাতাসে, শহরের উত্তর দিকে পাথরের তৈরি ব্রিজের দিকে ছুটে গেলাম। ব্রিজটা পার হওয়ার সময় শুধু শুনতে পেলাম উপত্যকা জুড়ে অসংখ্য ইনকানদের আনন্দ ধ্বনি।

    .

    কেমন এগোচ্ছে? হঠাৎ জানতে চাইল কেউ।

    ম্যানুস্ক্রিপ্ট থেকে মুখ তুলে তাকাল রেস একবার। ডানদিকের ছোট জানালা দিয়ে বাইরেটা দেখল, সেখানে বরফ ঢাকা পাহাড়ের সারি এবং অনন্ত নীল পরিষ্কার আকাশ দেখা যাচ্ছে।

    মাথাটা বাঁকাল একবার। গল্পটায় এতটাই মগ্ন হয়ে গিয়েছিল যে সে একটা আর্মি কার্গো প্লেনের ভেতর আছে সেটাই ভুলে গিয়েছিল।

    দেখল ট্রয় কোপল্যান্ড তার সামনে দাঁড়িয়ে। ন্যাশের অন্যতম ডারপা-র থেকে আসা লম্বা-মুখো নিউক্লিয়ার ফিজিসিস্ট।

    কেমন এগুচ্ছে? কোপল্যান্ড বললেন, ইশারায় রেসের কোলের ওপর রাখা কাগজের বাণ্ডিলগুলো দেখল। আইডলের লোকেশেন পাওয়া গেছে?

    আমি আইডলটার খোঁজ পেয়েছি রেস বলল, ম্যানুস্ক্রিপ্টের পাতা উল্টাতে উল্টাতে। তিনভাগের দুইভাগ পড়ে ফেলেছে। আমার মনে হয় আমি বের করতে পারব ওরা ওটাকে কোথায় রেখেছে।

    গুড, বললেন কোপল্যান্ড, ঘুরে দাঁড়ালেন। কী হল জানাবেন।

    হেই, পেছন থেকে তাঁকে ডাকল রেস। যাবার আগে একটা প্রশ্ন করতে পারি?

    শিওর।

    থাইরিয়াম-২৬১ কী কাজে ব্যবহার হয়?

    প্রশ্নটা শুনে ভুরু কোচকালেন কোপল্যান্ড।

    আমার মনে হয়, আমার জানার অধিকার আছে, বলল রেস।

    ধীরে ধীরে মাথা ঝাঁকালেন কোপল্যান্ড। হ্যাঁ…হ্যাঁ তা ঠিক। একটা বড় শ্বাস নিলেন। আপনাকে বোধহয় আগেই জানান হয়েছে যে থাইরিয়াম-২৬১ পৃথিবীতে পাওয়া যায় না। আমাদের কাছ থেকে বেশি দূরে নয় প্রিয়াডেস নামে এক বাইনারিস স্টার সিস্টেম থেকে আসে ওটা।

    অর্থাৎ, বুঝতেই পারছেন, জোড়া সূর্যের কারণে গ্রহগুলো বিভিন্ন ধরনের ফোর্স-এর দ্বারা প্রভাবিত হয়: ফটোসিনথেসিস দ্বিগুণ হয়ে যায়; মহাকর্ষের প্রভাব, সেই সঙ্গে অভিকর্ষের প্রতিরোধ প্রবণতা, বিপুল হয়ে ওঠে। ফলে বাইনারি সিস্টেমের গ্রহে পাওয়া এলিমেন্ট পৃথিবীতে পাওয়া এলিমেন্টের চেয়ে সাধারণত বেশি ভারী আর ঘন হয়। থাইরিয়াম-২৬১ ঠিক সে-ধরনের একটি এলিমেন্ট।

    জিনিসটা শিলায় পরিণত হওয়া অবস্থায় প্রথম পাওয়া গেছে ১৯৭২ সালে আরিজোনায়, উল্কার তৈরি একটা গর্তের দেয়ালে। ওই নমুনা লাখ লাখ বছর নিষ্ক্রিয় থাকলেও, ফিজিক্স কমিউনিটিকে গুরুত্ব শকওয়েভের মতো ধাক্কা দেয়।

    কেন?

    কারণ, দেখুন, মলিকিউলার লেভেলে স্থানীয় এলিমেন্ট ইউরেনিয়াম আর প্রটোনিয়ামের সঙ্গে থাইরিয়ামের চমৎকার মিল আছে। পৃথিবীর এই দুটো এলিমেন্টের চেয়ে মান আর মাত্রার দিক থেকে আলাদা, থাইরিয়াম বেশি ভারী। আমাদের এই দুটো অতি গুরুত্বপূর্ণ নিউক্লিয়ার এলিমেন্ট এক করলে যে ঘনত্ব পাওয়া যাবে, থাইরিয়াম তার চেয়েও বেশি ঘন। এর অর্থ, জিনিসটা অসম্ভব শক্তিশালী।

    রেসের শিরদাঁড়া বেয়ে ঠাণ্ডা স্রোত উঠে গেল। কোপল্যান্ড এই জিনিস নিয়ে কোথায় যেতে চায়?

    তবে, আগেই বলেছি, পৃথিবীতে শুধু শিলীভূত অবস্থায় পাওয়া গেছে থাইরিয়াম। ১৯৭২ সালের পর আরো দুজায়গায় নমুনা আবিষ্কৃত হয়েছে, তবে দুটোই কমপক্ষে ৪০ মিলিয়ন বছরের পুরানো। ওগুলো কোনো কাজে আসবে না, কারণ শিলায় পরিণত থাইরিয়াম নিষ্ক্রিয়, কেমিক্যালি ডেড।

    গত প্রায় সাতাশ বছর ধরে লাইভ খাইরিয়াম আবিষ্কারের অপেক্ষায় আছি আমরা, এমন একটা নমুনা, মলিকিউলার লেভেলে এখনো যেটা সক্রিয়। আর এখন মনে হচ্ছে আমরা সম্ভবত পেয়েছি ওটা, একটা উল্কার তৈরি গর্তে, পাঁচশো বছর আগে যে উল্কাটা পেরুর জঙ্গলে পড়েছিল।

    তা থাইরিয়ামের কাজ? জানতে চাইল রেস।

    অনেক কিছু, জবাব দিলেন, অনেক কিছু। যেমন ধরুন, শক্তির উৎস হিসেবে এটার অনন্ত সম্ভাবনা। রক্ষণশীল হিসেবে অনুমান করা হয়েছে, একটি থাইরিয়াম রিয়্যাক্টর ইলেকট্রিকাল এনার্জি তৈরি করবে যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্রান্ট-এর চেয়ে ছয়শো গুণ বেশি।

    আবার অতিরিক্ত একটা বোনাসও আছে। একটা ফিউশন রিয়্যাক্টরের মূল এলিমেন্ট হিসেবে থাইরিয়াম ব্যবহার করা হলে, সেটা শতকরা একশোভাগ বিয়োজিত হবে, আমাদের নিজস্ব নিউক্লিয়ার এলিমেন্টের কাছ থেকে যেটা আশা করা যায় না ওটার। অন্যভাবে দেখলে, এটা কোনো দূষিত বাই প্রডাক্ট নয়। পৃথিবীর কোনো পাওয়ার সোর্স-এর মতো নয় থাইরিয়াম। ইউরেনিয়াম বর্জ্য অবশ্যই রেডিওঅ্যাকটিভ রড-এর পরিত্যাগ করতে হবে। এমনকী গ্যাসোলিন ও কার্বন মনোক্সইড তৈরি করে। কিন্তু থাইরিয়াম একেবারে পরিষ্কার। যাকে বলে আদর্শ পাওয়ার সোর্স। আদর্শ। এটা এতটাই অভ্যন্তরীণভাবে পরিষ্কার থাকে যে, আমাদের মডেলের ওপর নির্ভর করে, একটি কড়া নমুনা যা নির্গত করে সূক্ষ পরিমাণে অপ্রতিরোধী রেডিয়েশন।

    রেস হাত তুলল। ঠিক আছে, ঠিক আছে। সবই শুনতে ভালো লাগে, কিন্তু শেষ বার আমি শুনেছি ডারপা আমেরিকায় পাওয়ার স্টেশন তৈরির কাজ করছে না। থাইরিয়াম আর কী করে?

    কোপল্যান্ড হাসলেন এমনভাবে যেন ধরা পড়ে গেছেন।

    প্রফেসর ডারপা-র টেকটিকাল টেকনোলজি অফিস গত দশ বছর ধরে নতুন একটা অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে, এমন একটা অস্ত্র, পৃথিবীর অন্য কোনো অস্ত্রের সঙ্গে তুলনা হয় না। ডিভাইসটার কোড নাম হল সুপারনোভা।

    কোপল্যান্ড বলার সাথে সাথে কিছু একটা রেসের মনের পেছনে ডালপালা ছড়াল। প্লেনে ওঠার আগে তার মনে পড়ল কোপল্যান্ড এবং ন্যাশের কথোপকথনের কথা। সেই কথোপকথনে তারা বলেছিল ফেয়ারফ্যাক্স ড্রাইভ ভেঙ্গে সুপারনোভা নামে একটি ডিভাইস চুরি হয়েছে।

    ঠিক কী জিনিস এই সুপারনোভা?

    সহজ ভাষায়, বললেন, মানবজাতির ইতিহাসে এরচেয়ে শক্তিশালী মারণাস্ত্র আগে কখনো তৈরি হয়নি। আমরা ওটাকে প্ল্যানেট কিলার বলি।

    কী বললেন?

    প্ল্যানেট কিলার। এত শক্তিশালী একটা নিউক্লিয়ার ডিভাইস, পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দিতে পারবে। তিন ভাগের এক ভাগ ধ্বংস হলে মাঝখানে রেখে পৃথিবী যে ঘুরছে, সেই কক্ষপথ ঠিক থাকবে না। গ্রহ তার ঘূর্ণন পথ থেকে ছিটকে যাবে, ছিটকে পড়বে মহাশূন্যে, সূর্য থেকে দূরে বহু দূরে চলে যাবে। সূর্যের কাছ থেকে সরে গেলে কিছুক্ষণের মধ্যে পৃথিবীর সারফেস, যতটুকু অবশিষ্ট থাকবে, এত ঠাণ্ডা হয়ে যাবে যে সেখানে প্রাণধারণ করা অসম্ভব হয়ে যাবে। সুপারনোভা প্রফেসর রেস, প্রথম এমন একটা অস্ত্র মানুষ বানিয়েছে, যা পৃথিবীর সমস্ত প্রাণ নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। এই কারণে ওটার নাম দেওয়া হয়েছে বিস্ফোরিত একটি তারার নামে।

    একটা ঢোক গিলল রেস। আসলে তার দুর্বল লাগছে।

    মনে কিলবিল করছে হাজারটা প্রশ্ন।

    যেমন, এ ধরনের অস্ত্র কেন কেউ তৈরি করবে? কি কারণ থাকতে পারে যে এ ধরনের অস্ত্র তৈরি যে অস্ত্রের মাধ্যমে পৃথিবীর সকলকেই হত্যা করবে? এবং তার দেশই বা কেন ওটা তৈরি করেছে?

    কোপল্যান্ড বলে চলল, ব্যাপারটা হল, প্রফেসর, বর্তমানে যে সুপারনোভা আমাদের কাছে আছে সেটা একটা প্রোটোটাইপ, ওয়ার্কেবল শেল। ডারপা হেডকোয়ার্টার থেকে চুরি যাওয়া ওই ডিভাইস তেমন কোনো কাজের জিনিস নয়। সুপারনোভা অপারেশন করতে গেলে আরেকটা জিনিস লাগে। থাইরিয়াম।

    ওহ, গ্রেট… চিন্তা করছে রেস।

    এদিক থেকে, বলল কোপল্যান্ড, নিউট্রন বোমার সঙ্গে সুপারনোভা খুব বেশি পার্থক্য নেই। এটা একটা ফিউশন ডিভাইস, তার মানে থাইরিয়াম অ্যাটম বিচ্ছিন্নকরণের মাধ্যমে অপারেট করে ওটা। থাইরিয়ামের সাবক্রিটিকাল মাসকে ভাঙার জন্যে দুটো কনভেনশনাল থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়। মুক্ত করে দেওয়া হয় মেগা-এক্সপ্লোশন।

    ঠিক আছে, এক সেকেন্ড, বলল রেস। সোজা কথায় আসি এ-ধরনের একটা অস্ত্র আপনারা তৈরি করছেন, যে অস্ত্র এই গ্রহ ধ্বংস করে ফেলতে পারে, নির্ভর করছে একটা উপাদানের ওপর যা আপনারা এখনো পাননি?

    ঠিক তাই? কোপল্যান্ড বললেন।

    কিন্তু কেন? আমেরিকা কেন এমন অখণ্ড বানাবে?

    মাথা দোলালেন কোপল্যান্ড এ প্রশ্নের জবাব দেয়া সহজ নয়। মানে

    এর দুটো কারণ আছে, হঠাৎ ভারী একটা কণ্ঠস্বর ভেসে এল রেসের পেছন থেকে।

    ফ্রাঙ্ক ন্যাশ।

    ইঙ্গিতে রেসের কোলের উপর পড়ে থাকা ম্যানুস্ক্রিপ্টটা দেখাল ন্যাশ। আইডলটা কোথায় নিয়ে গিয়ে রাখা হল, জানতে পেরেছেন?

    এখনো পারিনি।

    তা হলে সংক্ষেপে বলছি, আপনি যাতে কাজে ফিরে যেতে পারেন। প্রথমেই বলে রাখি, এটা একটা সিক্রেট। দেশের মাত্র ষোলোজন মানুষ জানে, তারমধ্যে এই প্লেনে আছেন পাঁচজন। এখন আপনারাও জানছেন এই শর্তে যে মিশনটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে থাকবেন আপনারা। আর যদি মিশন শেষ হওয়ার পর কেউ যদি কাউকে বলে দেন তাহলে আপনাকে পঁচাত্তর বছর জেলের ঘানি টানতে হবে। বুঝতে পারছেন, প্রফেসর?

    উহ-হুহ।

    গুড। সুপারনোভা তৈরি করার পেছনে দুরকমের যুক্তি আছে। প্রথমটার কথা বলি। আঠারো মাস আগে জানা গেছে জার্মানির সরকারি বিজ্ঞানীরা গোপনে সুপারনোভা তৈরির কাজে হাত দিয়েছে। প্রতিক্রিয়া ছিল খুবই সিম্পল: ওরা বানালে, আমরাও বানাব।

    গ্রেট লজিক, বলল রেস।

    ওপেনহেইমার এই যুক্তিই দিয়েছিলেন অ্যাটমিক বোমা তৈরির কারণ দেখাতে গিয়ে।

    আপনারা সবাই দৈত্যের পিঠে চড়ে আছেন, কর্নেল, শুকনো গলায় বলল রেস। দ্বিতীয় যুক্তিটা?

    ন্যাশ বলল, প্রফেসর, আপনি কি কখনো ডিয়েট্রিট ভন চোলটিজের নাম শুনেছিলেন?

    না।

    ১৯৪৪ সালে ফ্রান্স থেকে নাজিরা যখন চলে গেল তখন তিনি জার্মান বাহিনীর ইনচার্জ ছিলেন। মিত্রবাহিনী প্যারিস দখলে নেওয়ার পর হিটলার চোলটিজকে একটা সরকারি ঘোষণা পাঠাল। তাতে লেখা ছিল যে চোলটিজ যেন শহর ছেড়ে যাওয়ার আগে হাজারটা জায়গায় আগুনে বোমা পুঁতে রাখে এবং পরে চোলটিজ চলে যাওয়ার পর, প্যারিসকে উড়িয়ে দেওয়া হবে।

    ভন চোলটিজ সেই নির্দেশ মানেন নি। প্যারিস ধ্বংসকারী হিসেবে তিনি নিজের নামটা লেখাতে চাননি। কিন্তু হিটলারের নির্দেশের পেছনে কি লজিকটা ছিল। প্যারিস যদি তিনি না পান তাহলে কেউই পাবে না।

    তো, আপনি কি বলতে চাইছেন? রেস বলল।

    প্রফেসর, গত পঞ্চাশ বছরে আমেরিকার বৈদেশিক নীতিতে সুপার নোভা ঢুকে পড়েছে হাই লেভেল স্ট্রাটেজিক প্ল্যানে। ওই প্ল্যানটার নাম হল চোলটিজ প্ল্যান।

    মানে?

    এর মানে হল, আপনি কি জানেন কোল্ড ওয়ারের সময় ইউএস নেভির স্টান্ডিং অর্ডার দেওয়া ছিল যে কোনো সময় একাধিক নিউক্লিয়ার ব্যালাস্টিক মিসাইল সাবমেরিন পৃথিবীর বিভিন্ন স্ট্রাটেজিক লোকেশনে অবস্থান করছে? আপনি কি জানেন ওই সাবমেরিনগুলো ওখানে কিসের জন্য অবস্থান করছিল?

    কিসের জন্য?

    ওই সাবমেরিনগুলোকে খুবই সাধারণ একটা নির্দেশ দেওয়া ছিল। যদি সোভিয়েত ইউনিয়ন যে কোনো ভাবে ইউনাইটেড স্টেটসকে হঠাৎ আক্রমণ করে বসে, তাহলে ওই সাবমেরিনগুলো থেকে বৃষ্টির মতো নিউক্লিয়ার মিসাইল সোভিয়েত টার্গেটে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া ছিল, আরো নির্দেশ ছিল ইউরোপের প্রধান শহর এবং ইউএস-এর বিভিন্ন অঞ্চলেও পাঠানোর।

    কি বললেন?

    চোলটিজ প্ল্যান, প্রফেসর রেস। যদি আমরা না পাই, তাহলে কেউই পাবে না।

    কিন্তু এই গ্লোবাল স্কেলে… অবিশ্বাস্য গলায় বলল রেস।

    ঠিক তাই। একেবারে সঠিক। মিথ্যা এই প্রভাবশালী দেশ হল ইউনাইটেড স্টেটস। যদি কোনো দেশ পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে চায়, ওদেরকে আমরা জানিয়ে দেব যে আমাদের কাছে একটা সক্রিয় সুপার নোভা আছে। তারপরেও যদি এগিয়ে যায় ওরা এবং সংঘাত অনিবার্য ইউনাইটেড স্টেটস পরাজিত কিংবা তার চেয়েও খারাপ, তাহলে আমরা ডিভাইসটা ডিটোনেট করে দেব।

    রেস অনুভব করল তার পেটের ভেতর কিছু যেন চেপে ধরছে।

    এটা কি সত্যি? এটা কি পলিসি? আমেরিকা যদি বিশ্বকে কন্ট্রোল করতে না পারে তাহলে ধ্বংস করে দিবে?

    আপনারা ওই জিনিস বানালেন কিভাবে?

    প্রফেসর রেস, যদি চায়না আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করে তাহলে কি হবে? ওরা যদি জিতে যায় তাহলে? তাহলে কি চায়েনিজ শাসন ব্যবস্থা মেনে নিবে?

    তার চেয়ে মৃত্যু অনেক ভালো নয় কি?

    হ্যাঁ।

    আর পৃথিবীর মানুষ আপনার সাথে থাকবে, রেস বলল। আপনারা নিশ্চিত যে দুঃখজনকভাবে পরাজয় সব সময়ের জন্য।

    হয়তো, ন্যাশ বলল, গলার স্বর পরিবর্তন করে, অনিচ্ছাকৃত পরিণতির কারণে পরিস্থিতির ওপর প্রভাব পড়ে। গ্রহ ধ্বংস করার ডিভাইস তৈরির খবর ছড়িয়ে পড়াতে অন্য দলগুলো কাজে নেমে পড়ে, দলগুলো দেখল তাদের জেহাদী কাজে দরকষাকষির শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

    কী ধরনের দল?

    অবশ্যই টেররিস্ট গ্রুপ। যাদের হাতে সুপার নোভা থাকবে তারাই বিশ্বটাকে জিম্মি করতে পারবে।

    ঠিক, রেস বলল, আর এখন আপনার সুপার নোভা চুরি হয়ে গেছে, সম্ভবত টেররিস্ট গ্রুপরাই চুরি করেছে।

    ঠিক তাই।

    আপনি প্যান্ডোরার বক্সটা খুলে দিয়েছেন, তাই না, ডক্টর ন্যাশ?

    হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমার মনে হয় ঠিক তাই। আর তার জন্যই এটা অতি জরুরি যে আইডলটা কেউ পাওয়ার আগে আমাদের পেতে হবে।

    .

    এরপর ন্যাশ এবং কোপল্যান্ড, ম্যানুস্ক্রিপ্টসহ রেসকে রেখে গেল।

    এক মুহূর্তে রেস তার চিন্তাগুলোকে জড়ো করল। মনটা বিক্ষিপ্ত। সুপারনোভা। বিশ্ব ধ্বংস। টেররিস্ট গ্রুপ। মনোসংযোগ করতে অসুবিধা হচ্ছে তার।

    মাথা ঝেড়ে সব বের করে দিল, নিজেকে বাধ্য করল ম্যানুস্ক্রিপ্টে মনোসংযোগ করতে, সেই অংশে যে অংশে রেনকো এবং আলবার্তো সান্টিয়াগো দুজনে অবরুদ্ধ কুজকো ছেড়ে পালানোর অংশ।

    রেস একটা শ্বাস টানল, চশমা ঠিক করল তারপর আবারো ইনকাদের জগতে প্রবেশ করল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    Next Article জলঙ্গীর অন্ধকারে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }