Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    টেম্পল – ম্যাথিউ রীলি

    হাসান খুরশীদ রুমী এক পাতা গল্প571 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২.১ দ্বিতীয় পাঠ

    দ্বিতীয় পাঠ

    সারাটা রাত ধরে আমরা দৌড়ালাম, রেনকো, বাসেরিও এবং আমি, ঘোড়াগুলোকে স্পরের গুতোয় দৌড়ে নিয়ে গেলাম, আগের চাইতে আরো দ্রুত ছুটালাম ওদের। আমাদের পেছনে, খুব কাছেই আছে স্প্যানিয়ার্ডরা হার্নান্দো এবং তাদের অশ্বারোহী সৈন্য, গ্রাম্য পথ ধরে ছুটে আসছে, কুকুরের মতো খুঁজে বেড়াচ্ছে আমাদের।

    কুজকো ভ্যালির উত্তরের গেট পেরিয়ে আসতেই আমরা ডানদিকে ছুটলাম, উত্তর-পূর্ব দিকে। উরুবামবা নদীর কাছে চলে এলাম, এই নদী যেখানে রেনকোর পুরাতন জাহাজের কারাগার রয়েছে, পাইসাক শহর থেকে বেশি দূরে নয়।

    এবং তারপর আমাদের যাত্রা শুরু হল, বন-জঙ্গলের ভেতর দিয়ে আমাদের পলায়ন।

    প্রিয় পাঠক, আমি আপনাকে সমস্যায় ফেলব না, আমাদের এই কষ্টসাধ্য ছুটে চলায় বেশ কিছু ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে, বেশ কয়েক দিনও ছিল এইসব ঘটনা এবং ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েক জায়গায়। তারপরেও, আমি আপনাকে বলব শুধুমাত্র আমার কাহিনির প্রয়োজনে যা যা আসবে, তাই-ই।

    ভিলকাফোর নামে একটি গ্রামের দিকে আমরা ছুটে গেলাম, রেনকো জানাল যে, ওই গ্রামের প্রধান হলেন তার চাচা, উত্তরের পাহড়ের পাদদেশে গ্রামটা, ওই পাহাড়গুলো মিশেছে আবার পুবের রেইনফরেস্টের দিকে।

    ভিলকাফোর হল একটি গোপন দুর্গের শহর, শক্তভাবে নির্মিত এবং জোরদার নিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে, এই সবই দেখাশোনা করছে এই ক্রাইসিসের মধ্যে আমাদের আনুগত্য প্রাপ্ত ইনকারা। দুর্গের অবস্থানটা খুবই সতর্কতার সাথে পাহারায় রাখা হয়, রেইন ফরেস্টে অবস্থিত কয়েকটি পাথরের টোটেম অনুসরণ করার পর দুর্গটাকে পাওয়া যাবে, সেটা খুঁজে পাবে যে টোটেমের গোপনীয়তা সম্পর্কে জানে সে, কিন্তু রেইনফরেস্টে ঢুকতে গেলে, প্রথমে পাহাড়গুলোকে আড়াআড়িভাবে পেতে হবে।

    আর তাই আমরা পাহাড়ের ভেতর প্রবেশ করলাম, ভয়ঙ্কর সব পাথুরে স্তম্ভে পূর্ণ নিউ স্পেন। এতে করে প্রকাশ পায় না যে এই জায়গার পাহাড়গুলো কত সুন্দর, ঢালু পাহাড়ী পথ এবং চোখা চোখা শিখর, বরফে ঢাকা থাকে শিখরগুলো সারাটা বছর জুড়ে, দেখতে পাওয়া যায় শত শত মাইল দূর থেকে, এমনকি রেইন ফরেস্টের নিচু ঘন অঞ্চল থেকেও দেখা যায়।

    কয়েকদিন পর আমরা ঘোড়াগুলোকে পরিত্যাগ করলাম, পাহাড়ী পথ ধরে পায়ে হেঁটে। সতর্কতার সাথে পিচ্ছিল সরু পথ ধরে এগিয়ে যেতে লাগলাম। খরস্রোতা পাহাড়ী নদীর ওপর দড়ির ঝুলন্ত সেতু পেরিয়ে গেলাম।

    এবং প্রতিবারই কিছুক্ষণ পরপর গিরিসঙ্কটের অলিতে-গলিতে স্প্যানিয়ার্ডদের চিৎকার এবং মার্চ করে আসা পায়ের শব্দের প্রতিধ্বনি শুনতে পাচ্ছিলাম।

    আমরা পাহাড়ী উপত্যকায় অবস্থিত বেশ কিছু ইনকাদের গ্রাম ছেড়ে এসেছি। প্রতিটি গ্রামের নাম রাখা হয়েছে গ্রাম প্রধানের নামে, রুমাক, সিপো এবং হুনাকো।

    এই গ্রামগুলো থেকে আমার খাবার, গাইড এবং লামা পেলাম। গ্রামের মানুষেরা খুব মহৎ। প্রতিটি গ্রামের মানুষ চেনে রেনকোকে এবং তার মিশন সম্পর্কে জানে। তারা আমাদেরকে দ্রুত এগিয়ে এসে সাহায্য করেছে। আমাদের হাতে সময় থাকলে, রেনকো ওদেরকে কালো পাথরের আইডলটা দেখাত এবং ওরা আইডলটার সামনে বো করে নীরবে মার্টিতে শুয়ে থাকত।

    তবে আমাদের হাতে সময় থাকত খুবই কম।

    স্প্যানিয়ার্ডরা ছুটে আসছে পাগলা কুকুরের মতো। শহরটা ছেড়ে আসার পর, কাছের একটা পাহাড়ে উঠেছি মাত্র আমি শুনতে পেলাম আমাদের পেছনে গাদা বন্দুকের গুলির শব্দ। আমি, উপত্যকার দিকে তাকালাম।

    ভয়ঙ্কর এক দৃশ্য দেখলাম আমি।

    দেখলাম হার্নান্দো এবং সৈন্য বাহিনীকে, একশো মানুষের বিশাল একটা দল এগিয়ে আসছে উপত্যকার শেষ মাথা থেকে। যে গ্রামটাকে আমরা এই মাত্র ছেড়ে এসেছি সেই গ্রামে ঢুকছে ওরা, নিরস্ত্র ইনকাদের দিকে গাদা বন্দুকের গুলি মারতে লাগল।

    পরে হার্নান্দো তার দলটাকে তিনটি তিরিশজনের এক একটি ডিভিশনে বিভক্ত করে ফেলে। তারপর সে একটা ডিভিশনকে মার্চ করালে অন্য দুই ডিভিশন বিশ্রামে থাকত। বিশ্রাম ও দুই ডিভিশন মার্চ করতে পারে, এগিয়ে যেত প্রথম ডিভিশনকে ছাড়িয়ে, এইভাবে চক্রাকারে ঘুরত। এর ফলে মনে হত প্রচুর সৈন্য চলাচল করছে, এগিয়ে আসছে আমাদের দিকে খুব কাছাকাছি।

    এর সব কিছুই ঘটছিল যখন রেনকো, বাসেরিও এবং আমি সামনের দিকে ছুটে যাচ্ছিলাম পাথুরে পথ ধরে, পথে ক্লান্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাচ্ছি আমরা প্রতিটি মুহূর্তে। একটা ব্যাপারে আমি নিশ্চিত ছিলাম : স্প্যানিয়ার্ডদের হাতে আমরা ধরা পড়ব। প্রশ্নটা হল কখন।

    তারপরেও আমরা ধরা না পড়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

    যাত্রার এক পর্যায়, বলতে বাধ্য হচ্ছি, যখন গিরিখাতের ভেতর দিয়ে আমাদের স্বজাতির কথাগুলো ভেসে আসছিল তখন আমরা পাহাড়ী নদীর তীরে অবস্থিত কলকো গ্রামে এসে থামলাম। নদীটির নাম পাওকারটাম্বো।

    এখানে আসার পর একটা সূত্র পাওয়া গেল রেনকো কেন বাসেরিওর মতো ক্রিমিনালকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে।

    কলকোতে পাথরের খনি আছে। আগেই বলেছি এই ইন্ডিয়ানরা পাথরের বাড়ি নির্মাণে কুশলী কারিগর। ওদের সবগুলো বাড়িই পাথর কেটে তৈরি, কোনো কোনোটা আবার ছয় মানুষ উচ্চতা এবং ওজন একশো টনেরও বেশি। কোলকোতেই এই পাথরগুলো পাওয়া যায়।

    গ্রামের প্রধানের সাথে দ্রুত কথাবার্তা বলার পর রেনকোকে নিয়ে যাওয়া হল পাথরের খনিতে। পাহাড়ের পার্শ্ব ঘেঁষে একটা গর্ত নেমে গেছে নিচের দিকে। ফিরে আসল অল্পক্ষণ পরে হাতে ছাগলের চামড়ার একটা থলে নিয়ে। থলের পার্শ্ব দিয়ে তীক্ষ্ণ বস্তু বেরিয়ে আছে, পাথরের কোনো। রেনকো থলেটা বাসেরিওর হাতে তুলে দিল, তারপর আমাদের যাত্রা আবার শুরু হল।

    জানি না থলের ভেতর ঠিক কি আছে, তবে রাতে বিশ্রামের জন্য যখন আমরা থামলাম, বাসেরিও ক্যাম্পের এক কোনে চলে গেল, আগুন জ্বালাল আলোর জন্য। তারপর থলেটা নিয়ে আমাদের দিকে পিঠ দিয়ে কাজ করতে লাগল।

    এগারো দিনের এই পাশবিক যাত্রা শেষে আমরা পাহাড় থেকে খোলা জায়গায় বেরিয়ে এলাম এবং গাছের সারির মনোরম দৃশ্য চোখে পড়ল যা আমি আগে কখনো দেখিনি।

    আমাদের সামনে রেইনফরেস্ট, দূরের দিগন্ত পর্যন্ত সবুজের কার্পেট বিছিয়ে দিয়েছে যেন। সবুজ কার্পেটে শুধু বাধা সৃষ্টি করেছে সমতল মালভূমি। বাদামী রঙের নদী সাপের মতো এঁকেবেঁকে চলে গেছে রেইনফরেস্টের বুক চিড়ে।

    আমরা জঙ্গলে ঢুকে পড়লাম।

    এটা যেন পৃথিবীর নরক।

    দিনে আমরা রেইনফরেস্টের ছায়ায় ছায়ায় এগিয়ে গেলাম। ভেজা, স্যাঁতসেঁতে এবং ঈশ্বর জানে কতটা বিপজ্জনক। মোটা মোটা সাপ গাছ থেকে ঝুলে আছে, নিচে পায়ের কাছে ছোট ছোট তীক্ষ্ণ দাঁড়াল প্রাণী দ্রুত ছুটে চলে যাচ্ছে, এবং এক রাতে, আমি নিশ্চিত, আমি একটা প্যান্থারের অবয়ব দেখতে পেয়েছি, ছায়াটা অন্ধকারের ওপর স্থাপন করা হয়েছে, কাছের একটা গাছের ডালের ওপর দিয়ে হেঁটে গেল।

    তারপর, অবশ্যই, নদীগুলোতে সবচাইতে বেশি বিপদ যেন অপেক্ষা করে আছে।

    অ্যালিগেটর।

    ওদের তেকোনা মুখ দেখার পর একজন মানুষের রক্ত বরফে পরিমত করতে যথেষ্ট, তাদের শরীর কালো এবং ওজনদার আর বর্ম পরা, লম্বায় ছয় পদক্ষেপ সমান। ওদের চোখগুলো সব সময়ের জন্য আমাদের লক্ষ্য রাখছিল, পলক পড়ছিল না।

    আমরা নদী ধরে এগিয়ে গিয়ে কেনোতে চাপলাম, কেননাগুলো আমাদের দিয়েছিল নদীর পাশের গ্রাম পাকজু, টুপরা এবং রোয়ার বাসীরা। আমাদের পাশে বড় বড় সরীসৃপগুলো দেখার পর মনে হল নৌকাগুলো ছোট ছোট, আমরা মালভূমিতে নেমে পড়লাম দক্ষ গাইডের সাহায্যে।

    সন্ধ্যায় আগুনের পাশে বসে রেনকো আমাকে তার কুইচুয়া ভাষায় বেশ কিছু নির্দেশ দিল। পরে আমি তাকে তলোয়ার চালান শেখাই, কুজকো থেকে পালিয়ে আসার সময় ছিঁচকে চোরের মতো দুটো স্প্যানিস তলোয়ার চুরি করে নিয়ে এসেছিলাম।

    আমরা যখন তোয়ার নিয়ে চালনা শিখি তখন বাসেরিও তার ধণুক চালনা প্র্যাকটিস করে যেতে থাকল। বন্দী হওয়ার আগে (আমি জানি না কেন বন্দী হয়েছিল), বাসেরিও পুরো ইনকা সাম্রাজ্যের একজন দক্ষ তীরন্দাজ ছিল। আমি বিশ্বাস করি এটা। একদিন বিকেলে আমি রেইনফরেস্টে একটা ফল শূন্যে ছুঁড়ে দিল তারপর একটা তীর এসে ওটাকে আঘাত হানতে দেখলাম। এটাই ছিল তার দক্ষতা।

    একসময়, স্পষ্ট প্রতীয়মান হল যে আমাদের অনুসরণকারীদের আওয়াজ রেইনফরেস্টের ভেতর হারিয়ে গেল। হার্নান্দো এবং তার দলবলের ছুটে আসা শব্দ আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাচ্ছে। এক সময় আমার মনে হল হার্নান্দো আমাদের অনুসরণ করা বন্ধ করে দিয়েছে।

    কিন্তু না। প্রতিদিন, বিভিন্ন গ্রামের পলায়নকারীদের সাথে আমাদের দেখা হতে লাগল এবং তারা জানাল যে তাদের গ্রাম ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। হার্নান্দো এবং তার দলবল ছুটে আসছে।

    তাই আমরা আবার ছুটতে শুরু করলাম।

    এরপর আরেকদিন, রোয়া গ্রাম ছেড়ে আসার বেশিদিন পর না, আমি যখন আমাদের অভিযানের প্রধানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম, আমি থামলাম একটা গাছের ডালের পাশে, তখন দেখতে পেলাম বিড়ালের মতো দেখতে একটা প্রাণী আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

    চিৎকার দিয়ে আমি পিছিয়ে গেলাম, আছড়ে পড়লাম কাদায়।

    শুনতে পেলাম বাসেরিও-র চাপা হাসি।

    মুখ তুলে তাকালাম এবং দেখলাম একটা বিশাল পাথরের টোটেম। দাঁত খিচান বিড়ালটা আর কিছু নয় ওটা পাথর কেটে তৈরি বিড়ালের মতো প্রাণী। তবে পাথরের ভাঁজগুলো পানিতে প্রবাহিত হতে থাকে, অসতর্ক ভ্রমণকারীরা, যেমন আমি, দেখলে মনে করবে জীবন্ত।

    ভালো করে তাকিয়ে দেখলাম যে পাথরের টোটেমের সাথে যে আইডলটার জন্য আমাদের এই দৌড় সেই আইডলটার মতো সদৃশ্য নয়। জাগুয়ার জাতীয় কিছু হবে নখর বের করে রেখেছে, দাঁত মুখ খিচান, না, গর্জন করছে, অসতর্ক ভ্রমণকারীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে যেন।

    ইনকাদের এই বিড়ালের প্রতি দুর্বলতা দেখে আমি বেশ আশ্চর্যই হয়েছি।

    ওরা এই প্রাণীগুলোকে উপাস্য পাত্রে পরিণত করেছে, ঈশ্বরের মতো ওগুলোর সাথে ব্যবহার করে। আসলে, দক্ষ সৈনিকেরা তাদের ভেতর বিড়াল জাতীয় প্রাণীর স্বভাবের সাথে নিজেদের সৈন্যদের চলাফেরায় সমন্বয় করতে চায়। এ ধরনের দক্ষ সৈন্যদের জিঙ্গা নামে ডাকা হয়।

    কেন, আমি যে বিকালে পাথরের টোটেম দেখে ভড়কে গিয়েছিলাম, রেনকো সেদিন আমাকে বলেছিল যে তাদের মিথোলজিতে কালো বিড়ালকে আগমারা ভাষায় টিটি বলা হয়, কিংবা কুইচুয়া ভাষায় রাপা বলা হয়। প্রাণীটি রাতের অন্ধকারের মতো কালো এবং মানুষের মতো লম্বা এমনকি চার হাত-পায় দাঁড়ানোর পরও। ওগুলো হত্যাও করে ভয়ঙ্করভাবে। রেনকো এও বলেছে, এটাই হল সবচাইতে ভীতিকর বন্য প্রাণী, মনের আনন্দে হত্যা করে অন্য কোনো কারণ ছাড়াই।

    ওয়েল ডান, ব্রাদার আলবর্টো, রেনকো বলল আমি যখন কাদায় শুয়ে ছিলাম, টোটেমটার দিকে তাকিয়ে। ভিলকাফোরে যাওয়ার পথ নির্দেশক হিসেবে প্রথম টোটেমটা তুমি খুঁজে পেয়েছ।

    ওটা আমাদের কিভাবে পথ দেখাবে? পায়ের ওপর দাঁড়াতে দাঁড়াতে জিজ্ঞেস করলাম।

    রেনকো বলল, একটা কোড আছে, বয়স্ক সম্ভ্রান্ত ইনকা ছাড়া কেউ জানে না

    কিন্তু সে যদি তোমাকে বলে থাকে, তাহলে সে হত্যা করেছে, বাসেরিও দাঁত বের করে হাসল।

    রেনকো বাসেরিও-র দিকে তাকিয়ে হাসল। সত্য, বলল সে। তবে যে কাজের জন্য আমার মৃত্যু হবে, আমি চাইব কেউ একজন আমার মিশনটা চালিয়ে নিয়ে যেতে পারে। এবং সেই ব্যক্তির অবশ্যই টোটেমের কোডটা জানা থাকতে হবে। রেনকো আমার দিকে ফিরে তাকাল। আমি আশা করি তুমি এই দায়িত্বটা নিবে, আলবার্তো।

    আমি? ঢোক গিলে জিজ্ঞেস করলাম।

    হ্যাঁ, তুমি, রেনকো বলল। আলবার্তো, আমি তোমার ভেতর কোয়ালিটি দেখতে পেয়েছি, তুমি যদি কাজটা নাও করে থাক তুমি সম্মান পাবার যোগ্য এবং তোমার বীরত্ব অন্যান্যদের তুলনায় অনেক বেশি ভালো। কোনো দ্বিধা নেই যে আমার জনগণের নিয়তি বিশ্বাসের সাথে অর্পণ করা যায়, তোমার ওপর যার নিয়তি আমার মন্দ ভাগ্যের সাথে জড়িয়ে গেছে, যদি তুমি অনুমতি দাও।

    আমি মাথা নত করলাম তার দিকে এবং তার ইচ্ছা মেনে নিলাম।

    গুড, রেনকো হাসল, অন্য দিক দিয়ে, বাসেরিও-র দিকে দাঁত বের করে হেসে বলল, আমাকে দ্বিধায় ফেলে দিয়েছিল। এবার তুমি ওদিকে গিয়ে দাঁড়াও।

    বাসেরিও আমাদের থেকে কয়েক পা দূরে গিয়ে দাঁড়াল, রেনকো আমার দিকে কুঁকল এবং আমাদের সামনে পাথরে খোদাই করা পাথরের রাপা-র দিকে তাকাল। কোডটা খুবই সহজ : রাপার লেজ ধরে এগিয়ে যাও।

    রাপার লেজ ধরে এগিয়ে যাওয়া… বললাম আমি, টোটেমের দিকে তাকালাম। নিশ্চিত হলাম খোদাই করা পেছনের দিকে একটা সরু লেজ বেরিয়ে এসেছে, উত্তর দিকে নির্দেশ করছে ওই লেজ।

    কিন্তু, রেনকো হঠাৎ আঙুল তুলল, সবগুলো টোটেম একই পথ অনুসরণ করবে না। এটার নিয়ম হল বয়স্ক জ্ঞানী ব্যক্তিরাই জানে। তারপরেও, আমি জেনেছি, কারণ আইডলটার জন্য যখন করিকানচায় গেলাম তখন উচ্চপদস্থ একজন আমাকে বলেছেন।

    তাহলে নিয়মটা কি? আমি জানতে চাইলাম।

    প্রথম টোটেমের পর প্রতি দ্বিতীয় টোটেম বিশ্বাসযোগ্য নয়। সহজ পদ্ধতিটা হল সূর্য চিহ্নিত টোটেম দেখে এগিয়ে যেতে হবে।

    সূর্য চিহ্নিত?

    চিহ্নটা এটার মতো নয়, রেনকো বলল, দেখাল বা চোখের নিচে তেকোনা জনুদাগের দিকে, দেখে মনে হল বাদামী রঙের একটা পাহাড়।

    প্রতিটি দ্বিতীয় টোটেম, প্রথমটার পর, বলল সে, আমরা রাপার লেজ ধারে এগিয়ে যাব না, তবে সূর্য চিহ্নিত পথ ধরে এগিয়ে যাব।

    রাপার লেজ ধরে এগিয়ে গেলে কি হবে? আমি জিজ্ঞেস করলাম। আমাদের শত্রুরা কি শেষপর্যন্ত বুঝতে পারবে, তারা ভুল পথে এসেছে যখন একটাও টোটেম তাদের সামনে দেখবে নেই?

    রেনকো আমার দিকে তাকিয়ে হাসল। ওহ, নো, আলবার্তো। আরো টোটেম খুঁজে দেখা বাকি থাকবে, যদি কেউ ভুল পথে চলে যায়। তবে দুর্গ থেকে দূরে সরে যেতে থাকবে।

    আমরা টোটেম দেখে দেখে রেইনফরেস্ট দিয়ে এগিয়ে যেতে লাগলাম।

    নির্দিষ্ট জায়গা পরপর ওগুলো স্থাপন করা-তবে কয়েকটি আবার আগেরটির চেয়ে কয়েকশো পদক্ষেপ দূরে অবস্থিত, অন্যগুলো কয়েক মাইল দূরে দূরে–তাই আমরা সতর্কতার সাথে সোজা পথ ধরে এগিয়ে গেলাম। মাঝে মাঝে আমরা নদীর কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে এগিয়েছি, যখন টোটেমটা স্থাপন করা হয়েছে নদীর তীরে।

    টোটেম অনুসরণ করে গেলাম আমরা সরাসরি অববাহিকা পর্যন্ত যতক্ষণ না একটি নতুন মালভূমিতে এসে পৌঁছুলাম, যেখান থেকে পথ সোজা পাহাড়ে উঠে গেছে।

    এই মালভূমিটা উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে চলে গেছে, যতদূর দৃষ্টি যায়, জঙ্গলে ঢাকা মালভূমি, রেইনফরেস্ট থেকে পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত যাওয়ার জন্য ধাপ তৈরি করা আছে। পানি পড়ে গর্তের সৃষ্টি করেছে ওটা জুড়ে। সত্যি সত্যি দেখার মতো জায়গা।

    আমরা পুব দিকে মুখ করা ক্লিফের মতো দেখতে মালভূমিতে পা বাড়ালাম, টেনে নিয়ে যেতে লাগলাম আমাদের ক্যানোগুলো এবং বৈঠা। তারপর আমরা এসে উপস্থিত হলাম শেষ টোটেমটার কাছে যা আমাদের নিয়ে গেছে নদীর দিকে, সামনে বরফের টুপি পরা বিশাল পাহাড় যা রেইনফরেস্ট থেকে মাথা তুলে আছে।

    আমরা নদী পথে ক্যানো নিয়ে এগিয়ে গেলাম দুপুরের বৃষ্টির সাথে। অল্পক্ষণ পর, যেভাবেই হোক বৃষ্টি থেমে গেল, এবং কুয়াশায় ছড়িয়ে পড়তে জঙ্গলের ভেতর একটা ভৌতিক পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। সারা বিশ্ব যেন নিশ্চুপ, অদ্ভুতভাবে রেইনফরেস্টের আওয়াজ যেন মিলিয়ে গেছে। কোনো পাখি ডাকছে না। কোনো প্রাণী ছুটে যাওয়ার শব্দ নেই।

    আমার ভেতর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল।

    কিছু একটা যেন এখানে ঠিক নেই।

    রেনকো এবং বাসেরিও সেটা বুঝতে পেরেছে, তাই তারা আরো ধীরে ধীরে বৈঠা মারছে, নিঃশব্দে বৈঠা মারছে কাঁচের মতো স্বচ্ছ পানির ওপর, যেন অস্বাভাবিক এই নীরবতা যাতে ভঙ্গ না হয়।

    আমরা নদীটাকে বৃত্তাকারে ঘোরার পরই হঠাৎ দেখতে পেলাম নদীতীরে একটা শহর, বিশাল পাহাড়ের মাঝে শহরটা বিন্যস্ত করা আছে। ছোট্ট ছোট্ট কুড়েঘরের মাঝখানে একটা পাথরের কাঠামো গর্বিত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে, চারপাশে ধুলোর গর্ত ঘিরে রেখেছে পাথরের ওই কাঠামোটাকে।

    এটা হল ভিলকাফোরের দুর্গ।

    কিন্তু আমরা কেউই এই বিশাল দুৰ্গটাকে বিশেষ পাত্তা দিলাম না। এমন কি ওটাকে ঘিরে গ্রামটাকেও গ্রাহ্য করলাম না।

    না। আমাদের চোখ তখন স্থির নিবদ্ধ কতগুলো দেহের ওপর, শহরের মূল সড়কের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দেহগুলো, রক্তে একাকার।

    .

    দ্বিতীয় ষড়যন্ত্র
    সোমবার, জানুয়ারি ৪, ১৫৪০ ঘণ্টা

    পাতা ওল্টাল রেস, পরবর্তী পরিচ্ছেদ খুঁজল, কিন্তু আর কোনো পাতা নেই। এটাই মনে হচ্ছে ম্যানুস্ক্রিপ্টের শেষ পাতা।

    ড্যাম ইট, ভাবছে সে।

    হারকিউলিসের জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল সে, দেখল সবুজ পাখায় ইঞ্জিন বসান, আরো দেখল বরফ ঢাকা এ্যান্ডেজ পর্বতমালা নিচ দিয়ে সরসর করে চলে যাচ্ছে।

    ঘাড় ফিরিয়ে আইডল-এর উল্টোদিকে বসা ন্যাশের দিকে তাকাল রেস, ল্যাপটপ কম্পিউটারে কাজ করছেন।

    সবটুকু কি এখানে আছে? জিজ্ঞেস করল ও।

    বুঝলাম না? ভ্রু কুঁচকে ন্যাশ জিজ্ঞেস করল।

    ম্যানুস্ক্রিপ্ট। এখানে কি সবটুকুই আছে?

    তার মানে আপনি অনুবাদ করে ফেলেছেন?

    হুঁ।

    আইডলটার লোকেশন পেয়েছেন?

    তা বলা যায়, জবাব দিল রেস, ম্যানুস্ক্রিপ্টটা অনুবাদ করার সময় নোটটার দিকে তাকাল। পড়ল:

    • কুজকো ত্যাগ–পাহাড়ে প্রবেশ।

    • গ্রাম: রুমাক, সিপো, হুয়ানকো, ওকুইউ।

    • কোলকো, পাউকার্টাম্বো নদী, কোয়েরী করতে হবে।

    •১১ দিন–রেইনফরেস্টে আসা

    • নদী তীরবর্তী গ্রাম: পাক্স, টুপরা, রয়েয়া।

    • বিড়ালের মতো প্রাণীর আকৃতিতে পাথরের টোটেমগুলো নিয়ে গেছে ভিলকাফোরের দুর্গে।

    • টোটেম কোড : প্রথম টোটেমের জন্য রাপার লেজ অনুসরণ করুণ; প্রতি দ্বিতীয় টোটেমে সূর্যের চিহ্ন দেখে এগুবেন।

    • উত্তরের দিকে এগিয়ে যান টোটেম লক্ষ্য করে রেইনফরেস্ট বেসিন পর্যন্ত নিয়ে যাবে পাহাড়ের কাছে।

    • শেষ টোটেমটা নদী বরাবর পাহাড়ের দিকে ধ্বংসস্তূপের ভেতর দুর্গটা পেয়ে যাবেন।

    বলা যায় পেয়েছেন, এ-কথার মানে? ন্যাশ জিজ্ঞেস করলেন।

    ব্যাপারটা হল তাই, রেস বলল। ভিলকাফোরে পৌঁছার আগেই ম্যানুস্ক্রিপ্ট মধ্য লাইনেই শেষ হয়ে গেছে। নিশ্চয়ই পড়ার মতো আরো কিছু ছিল, কিন্তু নেই। সে আর যোগ করল না যে গল্পটা খুঁজতে শুরু করেছে যা সে আরো পড়তে চায়। আপনি কি নিশ্চিত এতটুকুই ছিল?

    আমার তাই ধারণা, ন্যাশ বলল। এটা আসল ম্যানুস্ক্রিপ নয়, তবে অর্ধেক শেষ হওয়ার একটি কপি, সান্টিয়াগে লেখার বহু বছর পর অন্য এক সন্ন্যাসী নকল করেছে। ওর সবটাই হল এটা, এইটুকুই ওই আসল্ট থেকে নকল করতে পেরেছিল।

    ভ্রু কুঁচকালেন। আমার আশা ছিল এটা থেকেই আইডলটার একটা লোকেশন পেয়ে যাব, কিন্তু যদি না পাই, গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিতগুলো জানতে চাইব: কোথায় দেখতে হবে, কোত্থেকে শুরু করতে হবে। সার্চ কোথায় শুরু করতে হবে জানা থাকলে লোকেশন পিন পয়েন্ট করার মতো টেকনোলজি আছে আমাদের। এবং যতটুকু পড়েছেন, তাতে আপনি আমাকে কোথা থেকে শুরু করব তা বলতে পারবেন। তাই বলুন আপনি কি জানতে পেরেছেন।

    রেস তার নোটটা ন্যাশকে দেখাল, এবং রেনকো কাপেক এবং তার কুজকো থেকে পালানোর কাহিনিটা বলল। তারপর সে ব্যাখ্যা করল যা পড়েছে তা থেকে, রেনকো তার পরিকল্পিত গন্তব্য আন্দেজের পাদদেশে দুর্গ-শহর ভিলকাফোরে গেছে। সে আরো বলল ন্যাশকে যে, বহুদিন ধরে তারা একটা ঘটনাই জানত, কিন্তু ম্যানুস্ক্রিপ্টের মধ্যে শহরের পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা কিভাবে লেখা হল।

    কী জিনিস? ন্যাশ জিজ্ঞেস করল।

    ধরে নিচ্ছি পাথুরে টোটেমগুলো এখনো আছে ওখানে, বলল রেস। আপনাকে জানতে হবে সূর্যের চিহ্ন জিনিসটা কী। আপনি যদি না জেনে থাকেন তাহলে আপনি টোটেম পড়তে পারবেন না।

    ভুরু কুঁচকে ওয়াল্টার চেম্বারের দিকে তাকাল ন্যাশ, অ্যাপলজিস্ট ও ইনকান এক্সপার্ট কয়েক আসন দূরে বসে রয়েছেন। ওয়াল্টার। ইনকান কালচারে সূর্যের চিহ্ন কাকে বলে জানেন?

    সূর্যের চিহ্ন? কেন, হ্যাঁ, জানি অবশ্যই।

    কি সেটা?

    কাঁধ ঝাঁকিয়ে ওদের কাছে চলে এল চেম্বার। জিনিসটা স্রেফ যেমন প্রফেসর রেসেরটা যেখানে রয়েছে। ইঙ্গিতে চশমার নিচে দেখিয়ে দিল। ঠিক বা চোখের নিচে তেকোনা দাগটা। রেস মাথা নত করল। ছোটবেলা থেকে সে তার এই জন্মদাগটাকে ঘৃণা করত। মনে করত ওটা কফির কালো দাগ।

    ইনকারা ভাবত জন্মদাগ হল বিশিষ্ট চিহ্ন, চেম্বার বলল। এই চিহ্ন দেবতা স্বয়ং সূর্যের চিহ্ন একটি বিশেষ জন্মদাগ, চেহারায় ঠিক বা চোখের নিচে ইনকারা বিশ্বাস করত চিহ্নটি পাঠিয়েছে সূর্য দেবতা। জন্মদাগ-ওয়ালা কোনো শিশুর মাকে সবাই সম্মান করবে। এ ধরনের চিহ্ন বিশেষ করে বাচ্চাদের মধ্যে থাকা মানেই হল সে কিছু একটা করবে বড় হয়ে।

    রেস বলল, তা হলে, কেউ যদি আমাদেরকে সূর্যের চিহ্ন অনুসরণ করে আইডলের কাছে যেতে বলে, তারা আমাদেরকে আইডলের বাম দিকে যেতে বলবে?

    ঠিক তাহ-ই, চেম্বারস দ্বিধা গলায় বলল। আমার তাই মনে হয়।

    আপনি কি ভাবছেন? ন্যাশ জিজ্ঞেস করলেন।

    গত দশ বছর প্রকৃত বিতর্কটা ছিল অ্যানথ্রোপলজিস্টদের মাঝে যে সূর্যের চিহ্নটা মুখের বাঁ দিকে ছিল নাকি ডান দিকে ছিল। ইনকারা সযত্নে পিকটোগ্রাফ করেছে সূর্যের চিহ্ন, সেটা হোক মানুষ কিংবা প্রাণী অথবা যেখানে ইচ্ছে, ঠিক বা চোখের নিচে। সমস্যা দেখা দিল, যখন স্প্যানিস ভাষায় রিলাসিয়ন এবং রয়েল কমেটেরিজ দুজনই বলেছে যে জন্মগত দাগ ওটা। সমস্যা হল রেনকো এবং আমারুর দুজনের চোখের নিচে দাগ আছে। অনেকটা মেষ রাশির মতো।

    তো, আপনি কি ভাবছেন?

    বাঁ দিকে, নিশ্চিত।

    আর আমরা কি দুর্গে যাবার পথটা খুঁজে পাব? ন্যাশ চিন্তিত গলায় বলল।

    আপনি আমার এই জাজমেন্টটা বিশ্বাস করতে পারেন, কর্ণেল দৃঢ় গলায় বলল চেম্বারস। আমরা যদি বাঁ দিকের প্রতিটি স্ট্যাচু অনুসরণ করে যাই, তাহলেই আমরা পেয়ে যাব দুৰ্গটা।

    তারপরই কাছেই কোথাও একটা বেল বেজে উঠল।

    রেস ঘুরল। ন্যাশের ল্যাপটপ থেকে আওয়াজটা আসছে। নিশ্চয়ই কোনো ই মেইল মেসেজ এসেছে। ন্যাশ ওটা রিসিভ করার জন্য তার সিটে ফিরে গেল।

    রেসের দিকে ফিরলেন চ্যাম্বারস। পুরোটাই উত্তেজনাকর, তাই না?

    উত্তেজনাকর, আসলে আমি এই শব্দটা ব্যবহার করতে চাই না, রেস বলল। কুজকোয় পৌঁছার আগেই সে ম্যানুস্ত্রিপ্টটা অনুবাদ করতে পেরেছে বলে মনে মনে খুশি। ন্যাশ যদি জঙ্গলে আইডলটার খোঁজে যায় তাহলে সে সেই দলে যোগ দিবে না।

    ঘড়ির দিকে একবার তাকাল।

    ৪.৩৫। অনেক দেরি হয়ে গেছে।

    ঠিক তখনই ন্যাশ তার পাশে এসে দাঁড়াল।

    প্রফেসর, বলল সে। আপনার যদি পড়া শেষ হয়ে থাকে, তাহলে আপনি ভিলকাফোর পর্যন্ত আমাদের সাথে যেতে পারেন।

    বলার ঢঙে কিছু একটা ছিল যার ফলে রেস থেমে যায় কিছু বলার আগে। ওটা ছিল আদেশ, কোনো প্রশ্ন নয়।

    আমার মনে হয় আপনি বলেছিলেন যে, আমি যদি নামার আগে ম্যানুস্ক্রিপ্টটা পড়া শেষ করতে পারি তাহলে আমার আর প্লেন থেকে বের হতে হবে না।

    আমি বলে থাকলে ওটাই ঠিক। আপনি আরেকটা ব্যাপার মনে করে দেখুন, আমি বলেছিলাম যে আপনি যদি প্লেন থেকে নেমে পড়েন, তাহলে গ্রিন বেরেটের একটা দল আপনার সাথে সাথে থাকবে। সেই পরিস্থিতিটা তৈরি হয়েছে।

    কেন? রেস জিজ্ঞেস করল।

    কুজকোতে আমাদের নিতে দুটো হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করেছি, ন্যাশ বলল। আমরা ওদুটোকে সান্টিয়গার ট্রেইল আকাশ থেকে অনুসরণের কাজে লাগাব। অপ্রত্যাশিতভাবে ভেবেছিলাম ম্যানুস্ক্রিপ্টে আইডলটা পাওয়ার জন্য আরো বেশি বিস্তারিত লেখা থাকবে, আরো চমৎকারভাবে। কিন্তু এখন আপনাকে আমাদের সাথে ভিলকাফোর ট্রিপে যেতে হবে যদি বর্ণনা এবং জমিনে সন্দেহ থেকে যায় তাই।

    এ ধরনের কথায় রেসের পছন্দ হল না। তার মনে হয় কথা মতো সে সবকিছু শেষ করেছে, আর আমাজন রেইনফরেস্টে যাওয়াটা তার জন্য নিশ্চিতভাবে অস্বস্তিকর।

    তার ওপর ন্যাশের বলার ভঙ্গি তাকে আরো বেশি সঙ্কিত করেছে। এখন সে বুঝতে পারছে যে ন্যাশ তাকে হারকিউলিসে চড়িয়ে কুজকো নিয়ে যেতে বাধ্য করবে, কিন্তু তার না বলার ক্ষমতা আছে, সে ক্ষমতাটাও এখন কমে এসেছে। বুঝতে পারল ফাঁদে পড়েছে, যেখানে সে যেতে চাইছে না সেখানেই তাকে যেতে হবে। চুক্তিতে এটা ছিল না।

    আমি কি কুজকোয় থাকতে পারব না? দুর্বলভাবে বলল সে। সেখান থেকে আপনার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে যাব?

    না, ন্যাশ বলল। অবশ্যই না। আমরা কুজকো হয়ে আসব, তবে আমরা ওভাবে যাব না। এই প্লেন এবং সকল ইউএস আমি পার্সনাল আমাদের জন্য কুজকোয় অপেক্ষায় থাকবে, আমরা যখন চপারে চেপে জঙ্গলের দিকে যাব তখন ওরা কুজকো ছেড়ে যাবে। দুঃখিত, প্রফেসর, আপনাকে আমার দরকার আছে। ভিলকাফোরে যাওয়ার জন্য আপনার সাহায্য আমার দরকার।

    ঠোঁট কামড়াল রেস। ক্রাইস্ট…

    ওয়েল…ঠিক আছে, অনিচ্ছাভরে বলল।

    গুড, ন্যাশ বলল, ভেরি গুড। আর আমি আগে বলতে শুনেছিলাম কি আপনার ব্যাগে কিছু ফরমাল কাপড়-চোপড় আছে?

    হ্যাঁ।

    তাহলে আমি বলি কি, কাপড়টা পাল্টে নিন। আপনি এবার জঙ্গলের ভেতর ঢুকবেন তাই।

    .

    পাহাড়ের উপর দিয়ে ছুটে চলেছে হারকিউলিস।

    প্লেনের নিচের কার্গো ডেকে সাদা টি-শার্ট, ব্লু জিনস আর কালো একজোড়া স্নিকার পরে টয়লেট থেকে বেরিয়ে এল রেস। বেসবল খেলায় লাঞ্চ টাইমের পোশাক পরেছে সে। মাথায় নেভি-ব্লু রঙের নিউইয়র্ক ইয়াঙ্কি বেসবল ক্যাপ পরেছে।

    সামনের ডেকে গ্রিন বেরেটদের দেখতে পাচ্ছে ও, মিশন শুরু হওয়ার সময় হয়ে আসায় আগ্নেয়াস্ত্র পরিষ্কার করে রাখছে। লাল চুলের এক বুড়ো কমান্ডো কর্পোরাল জেক বাজ কোচরেন তার হাতের এম- সিক্সটিন পরিষ্কার করতে করতে কার্টুন চরিত্রের মতো কথা বলে যাচ্ছে।

    আমি বলেছি, ওটা আপেল ছিল, কথা বলে যেতে লাগলেন তিনি। আপেল। ডরিনের সাথে সুইট সিক্সটিন। ভদ্রমহাদয়গণ, আমার কথাটা লক্ষ্য করুন, তাকে নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে দক্ষিণ ক্যারোলিনার সবচাইতে খরচে বেশ্যা

    ঠিক সেই সময় কোচরেন দেখল যে রেস দাঁড়িয়ে আছে, শুনছে, ল্যাভেটরি দোর গোড়ায়। কথা বলা বন্ধ করে দিল।

    গ্রিন বেরেট ঘুরে তার দিকে তাকাল এবং রেস অপ্রতিভ হয়ে উঠল।

    নিজেকে মনে হল বাইরের কেউ। দলের কেউ নয়। দলের কেউ হতে পারে না।

    নিজের বডিগার্ডের দিকে তাকাল, লম্বা, সার্জেন্ট ভ্যান লিওয়েন, এক চক্কর ঘুরল। তার দিকে তাকিয়ে হাসল রেস। হেই।

    ভ্যান লিওয়েনও হাসল। কেমন চলছে?

    ভালো। বেশ ভালো, রেস শান্ত গলায় বলল।

    এইমাত্র থেমে যাওয়া গ্রিন বেরেটদের পাশ কাটিয়ে সে চলে গেল সিঁড়ির দিকে, উঠে গেল মেইন প্যাসেঞ্জার ডেকের দিকে।

    সিঁড়ি দিয়ে উঠে যাওয়ার সময় শুনতে পেল গ্রিন বেরেট কোচরেন কার্গো বে থেকে বিড়বিড় করে কিছু বলছে।

    ধরেই নিল কথাগুলো শুনতে পায়নি কিন্তু সে যেভাবেই হোক শুনেছে।

    কোচরেন বলছিল, যত্তসব।

    দোতালায় উঠে এসে প্যাসেঞ্জার কমপার্টমেন্টে মাঝখানের আইল ধরে এগোচ্ছে রেস, ঠিক সেই সময় পিএ সিস্টেম থেকে একটা কণ্ঠস্বর বেরিয়ে এল। আমরা নামছি। কুজকো, আর বিশ মিনিট।

    ওয়াল্টার চেম্বারসকে পাশ কাটিয়ে নিজের সিটের দিকে যাচ্ছে রেস। দেখল চশমা পরা ছোটখাট বিজ্ঞানী ওর লেখা নোটটা আরেকটা কাগজের পাশে ধরে রেখেছেন। ঠিক ম্যাপ হবে ওটা ফেল্ট-টিপ পেন দিয়ে দাগ দেওয়া।

    মুখ তুলে রেসের দিকে তাকাল চেম্বারস।

    আহ, প্রফেসর, বলল সে, ঠিক আপনাকেই খুঁজছিলাম আমি। ক্লারিফিক্যাশনের জন্য। পাক্স, টুপরা এবং রয়আ, এই নোটগুলোর ব্যাপারে। রেসের নোটগুলো দেখিয়ে বলল। এইগুলো নিশ্চয়ই ধারাবাহিকভাবে আছে, তাই না? মানে বলতে চাইছি রেনকো পরপর ওই জায়গায় ওপর দিয়ে গেছে?

    ম্যানুস্ক্রিপ্টে ধারাবাহিকভাবে আছে সেভাবে।

    ওকে, গুড।

    হেই, ওয়াল্টার, রেস বলল, চেম্বারসের পাশের সিটে বসেছে সে। একটা ব্যাপারে আপনাকে জিজ্ঞেস করব।

    ইয়েস?

    ম্যানুস্ক্রিপ্টে টিটি বা রাপা নামে একটা প্রাণীর কথা বলেছে রেনকো। আসলে কী সেটা?

    আহ্, রাপা, মাথা ঝাঁকাল চেম্বারস। হুমম, হ্যাঁ, হ্যাঁ। ঠিক আমার ক্ষেত্রে না হলেও, এ-ব্যাপারে অল্প কিছু জানি।

    আচ্ছা?

    দক্ষিণ আমেরিকার আরো অনেক কালচারে যেমন দেখা গেছে, বড় আকারের বিড়াল জাতীয় প্রাণীর প্রতি ইনকাদেরও এক ধরনের মুগ্ধতা ছিল। তারা ছোট-বড় স্ট্যাচু বানিয়েছে, আবার কখনো বা গোটা পাহাড়ের মুখ খোদাই করে ওগুলোর আকৃতি ফোঁটাবার চেষ্টা করেছে। কেন, কুজকো শহরটাও পুমার আদলে তৈরি।

    তবে এই বিড়ালের প্রতি ইনকাদের আকর্ষণ অদ্ভুতই বলতে হবে, কারণ সবাই জানে, দক্ষিণ আমেরিকায় ওগুলোর খুব অভাব। বড় জাতের বিড়াল গল্প বলতে পাওয়া যায় জাগুয়ার, কিংবা প্যান্থার, আর পিউমা, সবই মাঝারি আকৃতির বাঘের মতো। বিশালাকৃতির বিড়াল পাওয়া যায় না।

    সিটে নড়েচড়ে বসল চেম্বারস। রাপা কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা গল্প। এগুলোকে দক্ষিণ আমেরিকার লক নেস আর বিগফুট-এর সংস্করণ বলা যেতে পারে। ওটা হল কিংবদন্তি প্রাণী, প্রকাণ্ড কালো বিড়াল।

    বিগফুট আর নেসির বেলায় আপনি শুনেছেন, দুবছর অন্তর দেখতে পাওয়া যায় ব্রাজিলের কৃষকরা হয়তো অভিযোগ করল তাদের গবাদি পশুকে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়েছে; পেরুর ইনকা ট্রেইলের ট্যুরিস্টরা হয়তো রিপোর্ট করল রাতের বেলা বিশাল আকৃতির বিড়াল দেখতে পেয়েছে তারা; কিংবা কলম্বিয়ার নিচু এলাকায় মাঝেমধ্যে স্থানীয় কোনো লোকের লাশ পাওয়া গেল। তবে আজ পর্যন্ত কেউ কোনো প্রমাণ যোগাড় করতে পারেনি। কিছু ফটো আছে, তবে একটাও গ্রহণযোগ্য নয়-ঝাপসা, আউট অভ ফোকাস, বোঝাই যায় না প্যান্থার নাকি ভালুক।

    তার মানে মিথ, রেস বলল। জায়ান্ট-ক্যাট মিথ।

    এত তাড়াতাড়ি মিথ বলে উড়িয়ে দেবেন না, রেস, বলল চেম্বারস। সারা পৃথিবীতে আছে তারা। ইন্ডিয়া। সাউথ আফ্রিকা। সাইবেরিয়া। ইংল্যান্ডের লোকেরাও বিশ্বাস করে জায়ান্ট-ক্যাট।

    ইংল্যান্ডে?

    দ্য বিস্ট অভ এক্সমুর, দ্য বিস্ট অভ বান। বিশাল বিড়াল রাতের বেলা টহল দেয়। কখনো ধরা পড়েনি। কখনো ফটো তোলা যায়নি। তবে কাদায় ওগুলোর পায়ের ছাপ দেখা গেছে। গুডনেস, সাইটিং-এর ঘটনাগুলো যদি সত্যি হয়, তা হলে হয়তো দেখা যাবে হাউন্ড অভ ব্যাস্কারভিলসে ওগুলো কুকুর নয়, প্রকাণ্ড একটা বিড়াল।

    কোনো রকমে হাসি চেপে চেম্বারসের পাশ থেকে উঠে এল রেস। ফিরে এসে নিজের সিটে মাত্র বসেছে, কেউ একজন ওর পাশে এসে বসল। লরেন।

    আহ্, ভাগ্যবান ক্যাপ, রেসের মাথায় নিল ইয়াঙ্কি ক্যাপের দিকে তাকিয়ে বলল সে। আমি জানি না তোমাকে এই কথা বলেছিলাম কিনা, তবে আমি ওই ক্যাপটাকে ঘৃণা করি।

    তুমি বলেছিলে, রেস বলল।

    কিন্তু তুমি এখনো পরে আছ।

    একটা ভালো ক্যাপ।

    লরেনের চোখ টি-শার্ট, জিনস এবং নাইকের ওপর ঘুরতে লাগল। রেস দেখল। লরেন পরেছে হাত গুটান মোটা খাকি শার্ট, খাকি ট্রাউজার এবং হাইকিং বুট।

    সুন্দর আউটফিট, একই কথা রেসের বলার আগে লরেন বলল।

    কি বলব? জবাবে বলল রেস। আজ কাজে যাওয়ার আগে ব্যাগ গোছানোর সময় জানা ছিল না জঙ্গলে যেতে হবে।

    হাসতে হাসতে মাথাটা পেছনের দিকে হেলে গেল লরেনের। অতীত দিনে এইভাবেই ও হাসত রেসের মনে পড়ল।

    ভুলে গিয়েছিলাম কতটা নিরস তুমি ছিলে, বলল লরেন।

    দুর্বল হাসি দিল রেস, মাথা নোয়াল।

    কেমন আছ তুমি, উইল? জানতে চাইল সে।

    ভালো, মিথ্যা বলল। আর তুমি? তুমি নিশ্চয়ই ভালো আছ। মানে, গি, ডারপা…।

    জীবন খুব ভালো, বলল সে। জীবন খুবই ভালো। শোনো, উইল… সেখানে তা ছিল। লরেন সব সময় সরাসরিতে চলে যাওয়ায় ওস্তাদ ছিল। ল্যান্ড করার আগে তোমাকে বলতে এলাম। অতীতে কি ঘটেছে তা নিয়ে খোঁচাখুঁচি করে এখানকার কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে চাই না। আমি তোমাকে আঘাত দিতে চাই না।

    তুমি আমাকে আঘাত করবে না, রেস বলল দ্রুত। নিজের জুতোর ফিতার দিকে তাকাল। বেশ, কোনো কিছুতেই তা মেরামত হবে না।

    না সত্য নয়।

    এতে তার অনেকটা নিয়েছে, লরেনের এবং ও কোনোরের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগের পর।

    ওদের সম্পর্কটা ছিল ক্লাসিক অ্যাফয়ার; অল আমেরিকান কলেজ উড়ানোর মিসম্যাচ। রেস ছিল স্মার্ট, তবে ছিল না টাকা। লরেন ছিল বুদ্ধিমান, এবং তার পরিবারের উড়ানোর মতো টাকা ছিল প্রচুর। রেস চলে গেল ইউ এস সি-ডে একটা অর্ধেকটা স্পোর্টস-এর ওপর স্কলারশীপ নিয়ে। ফিরে এসে ওদের হয়ে ফুটবল খেলবে বলে, ওরা তার জন্য অর্ধেকটা টিউশন ফি দিয়েছিল। বাকি অর্ধেকটা সে রাতে স্থানীয় নাইট ক্লাবে কাজ করে জোগাড় করত। লরেনের পরিবার তার টিউশন ফি পুরোটাই পরিশোধ করে একসাথে।

    ওদের দুজনের বন্ধুত্ব ছিল দুবছর। ফুটবলার হিসেবে উপযুক্ত কিন্তু ভাষায় তারা ভালো ছিল না, লম্বা, সৌন্দর্য বিজ্ঞানে তার সব কিছুই ছিল।

    রেস এসব পছন্দ করত। লরেনের সব কিছুই ছিল যা যা সে পছন্দ করত– বুদ্ধিমতি, কৌতুকপ্রিয়। ফুটবল পার্টিতে সে দাঁড়িয়ে থাকত যেন মেঘলা আকাশে সূর্য হয়ে। এবং সে যখন তার জন্য রুম খুঁজতে গেল, পেল, হাসল এবং রেস মজে গেল।

    রেস তার প্রেমে পড়ে গেল।

    লরেন এম আই টি তে এক বছরের স্কলারশিপ পেল, থিওরেটিক্যাল ফিজিক্স কিংবা অন্য কোনো বিষয়ের জন্য। লরেন চলে গেল। রেস অপেক্ষায় রইল। আর এখন সেটা ক্লাসিক লভ ডিসটেন্স রিলেশেনশিপ। ফোনে ফোনে ভালোবাসা। রেস ছিল আন্তরিক। সাপ্তাহিক ফোনের অপেক্ষায় থাকত সে।

    তারপর একদিন লরেন ফিরে এল।

    রেস এয়ারপোর্টে গিয়েছিল, লরেনের জন্য অপেক্ষা করেছিল। পকেটে করে রিং নিয়ে গিয়েছিল। হাজার বার বক্তৃতাটা রপ্ত করেছিল সে, ঘরে সে সঠিক সময় এক হাঁটু গেড়ে বিশেষ মুহূর্তে লরেনকে জিজ্ঞেস করতে পারে।

    কিন্তু যখন লরেন অ্যারাইভাল গেট দিয়ে বেরিয়ে এল, দেখল তার আঙুলে একটা ডায়মন্ডের রিং রয়েছে।

    উইল, আমি দুঃখিত, বলল লরেন। কিন্তু…ওয়েল…আমার সাথে আরেকজনের পরিচয় হয়েছে।

    রেস তার পকেট থেকে রিং-টা বের করল না।

    আর তাই সে বাকি সময়টা কলেজেই কাটিয়ে দিল, বইয়ে মুখ গুঁজে অকল্পনীয় দুঃখ নিয়ে সম্পূর্ণ একা কাটিয়ে দিল।

    ক্লাসে ফোর্থ হয়ে এ্যানসিয়েন্ট ল্যাঙ্গুয়েজে গ্র্যাজুয়েট হল সে। অবাক করে দিয়ে এন ওয়াই ইউ-তে তার একটা চাকরি হয়ে গেল, শিক্ষকের চাকরিটা নিয়ে নিল সে।

    আর এখন সে সম্মানীয় ল্যাঙ্গুয়েজ প্রফেসর হয়ে কাজ করছে নিউইয়র্ক সিটির পুরানো ক্ল্যাপবোর্ড অফিসে। অন্য দিকে লরেন ইউনাইটেড স্টেটস মিলিটারির সবচাইতে হাই টেকনোলজি উইপন্স ডিপার্টমেন্টের একজন থিওরেটিক্যাল ফিজিসিস্ট। হুমমমম।

    লরেনের সাথে আবার দেখা হোক ওটা চাইছিল না রেস। কল্পনাতেও ভাবে নি। কিন্তু তারপর, যখন ফ্র্যাঙ্ক ন্যাশ সকালে তার নামটা বলল, কিছু একটা তার ভেতরে জেগে উঠল। লরেনকে দেখাতে চাইছিল নিজেকে কি বানিয়েছে সে।

    আর এখন সে কি দেখছে, যা কিছু দেখেছে সব পরিষ্কার। তার তুলনায় নিজেকে আরো বেশি বিপজ্জনক বানিয়ে ফেলেছে।

    রেস চোখ পিটপিট করে চিন্তাটা সরিয়ে দিতে চাইল।

    বর্তমানে ফিরে এসে দেখল আঙ্গুলের ওয়েডিং রিং-এর দিকে তাকিয়ে আছে।

    ঈশ্বর, বোধশক্তি দাও, ভাবল সে।

    ফ্র্যাঙ্ক বলছিল যে তুমি ম্যানুস্ক্রিপ্টটা নিয়ে ভালো কাজ করেছ, লরেন বলল।

    কেশে গলার সাথে সাথে মনটাকে পরিষ্কার করল। যতটা পেরেছি করেছি। বলতে চাইছি, এটা কোনো থিওরেটিক্যাল ফিজিক্স নয়, তবে এটা… বেশ, আমি করেছি।

    গর্ব করতে পার তুমি যা করেছ, লরেন বলল। ওর দিকে তাকিয়ে হাসল। তোমার সাথে দেখা হওয়াতে ভালো লাগছে, উইল!

    রেসও হাসল।

    উঠে দাঁড়াল লরেন। যাহোক নিজের জায়গায় ফিরে যাওয়াটাই ভালো। আমরা মনে হয় নামতে যাচ্ছি।

    .

    শেষ বিকেলের দিকে কুজকো ভ্যালির প্রান্তসীমায়, ধুলো ঢাকা একটা প্রাইভেট এয়ারস্ট্রিপে ল্যান্ড করল ওদের হারকিউলিস।

    টিমের সবাই নেমে এসে টুপ ট্রাকে উঠল, সেটাও প্রকাণ্ড এই প্লেনের পেটে চড়ে দক্ষিণ আমেরিকায় পৌঁছেছে। বিরাট ট্রাক দেরি না করে ভাঙ্গাচোরা রাস্তা ধরে সগর্জনে ছুটল উত্তর দিকে। উরুবামবা নদীর দিকে।

    সারাটা পথ ঝাঁকি খেল ওরা। বডিগার্ড সার্জেন্ট ভ্যান লিওয়েনকে পাশে নিয়ে ট্রাকের পেছনে বসেছে রেস।

    টিমের অন্য সদস্যরা–তিনজন ডারপা-র লোক, ন্যাশ, লরেন এবং ঈগলের মতো দেখতে ফিজিসিস্ট কোপল্যান্ড; অ্যানথ্রোপলজিস্ট চেম্বারস; এবং গ্যাবি লোপেজ নামে একজন লাটিন-আমেরিকান তরুণী আর্কিওলজিস্ট-প্রত্যেকে বসে আছেন নিজেদের গ্রিন বেরেট বডিগার্ডের সাথে।

    যাত্রার এক পর্যায়ে একটা ঢালের ওপর দিয়ে ছুটল ট্রাক এবং রেস নিজের সিট থেকে কুজকো উপত্যকার পুরোটা দৈর্ঘ্য দেখতে পাচ্ছে।

    উপত্যকার বাদিকে, ঘাসে ঢাকা সবুজ পাহাড়ে ছড়িয়ে রয়েছে সাকসাইয়ামান-এর ধ্বংসাবশেষ, যে বিশাল দুর্গের কথা কেল্লার তিনটি বিশাল ধাপ এখনো আলাদাভাবে চেনা যায়, তবে সময় আর আবহাওয়া রাজকীয় ভাবগাম্ভীর্য কেড়ে নিয়েছে। চারশো বছর আগে রাজরাজড়াদের দৃষ্টিতে যে নির্মাণশৈলী অনুপম বলে গণ্য হয়েছে, তারই ভেঙে পড়া কাঠামো আজ শুধু টুরিস্টদের চোখের তৃপ্তি মেটাচ্ছে।

    ডানদিকে, এক সাগর টেরাকোটা ছাদ দেখতে পাচ্ছে রেস, ওদিকটা আধুনিক কুজকো শহর, ওটাকে ঘিরে থাকা প্রাচীর অনেক আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ছাদগুলোর পেছনে আকাশে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে পেরুর দক্ষিণের পাহাড়ের সারি, খয়েরী আর কর্কশ। উত্তরে আন্দেজের বরফ ঢাকা চূড়া দেখতে বেশ লাগছে।

    দশ মিনিট পর উরুবামবা নদীর তীরে পৌঁছাল ট্রাক। এখানে সাদা লিনেন স্যুট আর ক্রিম পানামা হ্যাট পরা তিরিশ কি তারও বেশি বয়সী এক লোক ওদের জন্য অপেক্ষা করছিল। নাম নাথান সেবাস্তিয়ান, ইউনাইটেড স্টেটস আর্মির একজন লেফটেন্যান্ট।

    সেবাস্তিয়ানের পেছনে টি আকৃতির একটা জেটির পাশে অলস ভঙ্গিতে নদীতে ভাসছে একজোড়া সামরিক হেলিকপ্টার।

    হেলিকপ্টার দুটো বেল টেক্সট্রন পডের ইউ এইচ-ওয়ান এন হিউ। তবে এই দুটো হিউকে সামান্য মডিফাই করা হয়েছে। লম্বা আর সরু ল্যান্ডিং স্ট্রীট সরিয়ে তার জায়গায় ফিট করা হয়েছে পডের মতো পনটুন, ফলে নদীর সারফেসে ভাসছে রেস দেখল, একটা চপারের ব্যাঙের মতো নাকের নিচে জটিল দেখতে ইলেকট্রনিক ডিভাইস ঝুলছে।

    জেটির পাশে পিছলে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল ট্রাক। রেস এবং অন্যান্যরা নামতে শুরু করল।

    লেফটেন্যান্ট সেবাস্তিয়ান সোজা ন্যাশের দিকে হেঁটে এল। আপনি যেমন নির্দেশ দিয়েছেন, কর্নেল, চপারগুলো রেডি করে রাখা হয়েছে।

    ওয়েল ডান, লেফটেন্যান্ট, বলল ন্যাশ। আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের খবর কী?

    দশ মিনিট আগে এএসএটি-এসএন স্ক্যান করা হয়েছে, স্যার। রোমানো আর তার টিম এই মুহূর্তে কলম্বিয়ার ওপরে উড়ছে, এন রুট টু কুজকো।

    জিসাস, এরইমধ্যে কলম্বিয়ার ওপর চলে এসেছে, ঠোঁট কামড়াল ন্যাশ। তার মানে আমাদের সাথে দূরত্ব কমিয়ে আনছে ওরা।

    কুজকোয় ওদের পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় হল তিন ঘণ্টা, স্যার।

    হাতঘড়ি দেখল ন্যাশ। কাটায় কাটায় ৫.০০ বাজে।

    সেক্ষেত্রে আমাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই, বলল সে। চপারগুলো লোড করে আকাশে উঠি চলল।

    লয়েডের কথা শেষ না হতেই, গ্রিন বেরেটরা বড় আকারের ছয়টা সেমসোনাইট ট্রাঙ্ক বয়ে নিয়ে এসে দুটো হিউতে তুলতে শুরু করল। কাজটা শেষ হতেই প্রতি চপারে বারোজন টিমের সদস্য দুভাগ হয়ে ছয়জন ছয়জন করে উঠে পড়ল।

    নদী থেকে আকাশে উঠল চপার দুটো, জেটিতে একা দাঁড়িয়ে থাকল নাথান সেবাস্তিয়ান, মাথার বিচ্ছিরি হ্যাটটা হাত দিয়ে চেপে ধরে।

    হিউ দুটো বরফ ঢাকা পাহাড় চূড়ার উপর দিয়ে ছুটে চলেছে।

    দ্বিতীয় চপারের পেছনে বসেছে রেস, দর্শনীয় গভীর পাহাড়ী খাদের দিকে তাকিয়ে আছে।

    অল রাইট, এভরিওয়ান, হেডসেটের মাধ্যমে ন্যাশের কথা শুনতে পেল সবাই। আমার মনে হয় আর ঘণ্টা দুয়েকের মতো দিনের আলো পাচ্ছি আমরা। আলো থাকতে থাকতেই আমি কাজ শেষ করে ফেলতে চাই। প্রথম কাজ, প্রথম টোটেমটা খুঁজে বের করা। ওয়াল্টার? গেবি?

    ন্যাশ, চেম্বারস এবং গেবি লোপেজ বসেছেন লয়েডের সঙ্গে চপারে। পাহাড়শ্রেণীকে পেছনে ফেলল চপারগুলো, পাশ কাটাল পাওকারটামবো নদীকে, ছুটছে সান্তিয়াগোর ম্যানুস্ক্রিপ্ট পাওয়া নদীর তীর অবস্থিত তিনটে গ্রামের দিকে পান্নু, টুপরা আর রোয়া।

    ম্যানুস্ক্রিপ্ট অনুসারে, প্রথম টোটেমটা পাওয়া যাবে সর্বশেষ শহর রোয়ার কাছাকাছি। এখন অ্যানথ্রোপলজিস্ট, এবং আর্কিওলজিস্ট চেম্বারস আর লোপেজের কাজ হল শহর তিনটির সঠিক অবস্থানটা খুঁজে বের করা।

    তা হলে এই, ভাবল সে, গন্তব্যে পৌঁছাতে রেনকো কোপেকের যেখানে এগারোদিন লেগেছিল, ওদের সেখানে লাগল পঞ্চাশ মিনিট। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে আন্দেজের এবড়োখেবড়ো চূড়াগুলোর উপর দিয়ে উড়ে আসার পর হঠাৎ বিস্ময়ে মুগ্ধ হয়ে রেস দেখল যত দূর চোখ যায়, বোধ হয় দিগন্ত ছাড়িয়ে আরো অনেক দূর পর্যন্ত, গাঢ় সবুজ একটা চাদর বিছান রয়েছে যেন। বিস্ময় বিহ্বল দৃশ্য। এখান থেকেই বিশাল অ্যামাজন রিভার বেসিনের শুরু।

    রেইনফরেস্টের মাথার উপর দিয়ে উত্তর-পুব দিকে উড়ে যাচ্ছে ওরা, হ্যাঁলিকপ্টার দুটো রোটর ব্লেড অনবরত কর্কশ আওয়াজ করছে নীরব বিকেলে।

    কয়েকটা নদী পেরুল ওরা, লম্বা আর মোটা বাদামী রেখা, সাপের মতো এঁকেবেঁকে দুর্ভেদ্য জঙ্গলে হারিয়ে গেছে। মাঝেমধ্যে নদীর তীরে পুরানো গ্রামের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পেল ওরা, কয়েকটা গ্রামের চৌরাস্তায় ভেঙে পড়া পাথুরে কাঠামোও রয়েছে, অন্যগুলো বুনো লতাপাতায় পাতায় চাপা পড়ে গেছে প্রায়।

    জার্নির এক পর্যায়ে রেসের চোখে পড়ল গাঢ় হয়ে আসা দিগন্তের কাছে বৈদ্যুতিক আলোর অস্পষ্ট হলুদ আভা।

    মাদ্রে দ্য ডিয়স গোল্ডমাইন, এক পাশের সিট থেকে রেসকে ওদিকটা দেখাল লরেন। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওপেন-কাট মাইনগুলোর একটা, এমনকি দুর্গম এলাকাও। চারপাশে সভ্যতার ছোঁয়া বলতে শুধু এটাকেই কাছাকাছি পাব আমরা। একটা বিশাল বড় মার্টির তৈরি শঙ্কু মার্টির গভীরে ঢুকান আছে শুনেছিলাম গত বছর বন্ধ হয়ে গেছে। মনে হয় আবার খুলেছে।

    ঠিক সেই মুহূর্তে উত্তেজিত কথা রেডিওতে শোনা গেল। চেম্বারস এবং লোপেজ পাগলের মতো কথা বলছে, হিউ দুটোর সরাসরি নিচের একটা গ্রাম সম্পর্কে রিপোর্ট করছে তারা।

    এরপর ফ্রাঙ্ক ন্যাশের কণ্ঠস্বর শুনতে পেল রেস। চপার দুটোকে ল্যান্ড করবার নির্দেশ দিল।

    দুটো হিউ পরিষ্কার নদী তীরে নামল, ঘাসগুলো মার্টির সাথে মিশে গেছে। ন্যাশ, চ্যাম্বারস এবং লোপেজ ওদের চপার থেকে বেরিয়ে এল।

    বেশ কিছু শ্যাওলা ঢাকা পাথরের মনুম্যান্ট রয়েছে ঘেসো জমিতে। কয়েক মিনিট মনুম্যান্টগুলো পরীক্ষা করে তুলনামূলক রিপোর্ট লিখল ওদের নোটবইয়ে, চেম্বারস এবং লোপেজ বুঝতে পারল ওটাই হল বোয়া গ্রাম।

    গ্রামটা নিশ্চিত হওয়ার পর রেস এবং বাকি দলের সকলে চপার থেকে বের হয়ে জঙ্গলের চারদিকে ছড়িয়ে খুঁজতে লাগল। দশমিনিট পর শহরের উত্তর পুব দিকে প্রায় পাঁচশো মিটার দূরে লরেন প্রথম দেখতে পেল একটা টোটেম।

    বিশাল টোটেমটার সামনে বিস্মিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল রেস।

    যতটা ভীতিকর ভাবছে সে তার চেয়ে বেশি ভীতিকর হল বাস্তব জীবনে।

    জিনিসটা নয় ফুট উঁচু, সম্পূর্ণ পাথর দিয়ে তৈরি। পাথর কুঁদে ওটার গায়ে ধ্বংসের চিহ্ন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে—চারশো বছর আগে কুশিফিক্স এবং খৃস্টান চিহ্ন এঁকে রেখেছে ঈশ্বর ভীরু সদস্যরা।

    পাথর কুঁদে ওটার গায়ে রাপা বানান হয়েছে, যাহোক, এমন জিনিস আগে কখনো দেখেনি সে। সম্পূর্ণ ভীতিকর।

    শিশির লেগে ভিজে আছে ওটা, ফোঁটাগুলো গড়াচ্ছে। এর ফলে পাথরের খাজগুলোতে অদ্ভুত একটা ইফেক্ট দিচ্ছে। জ্যান্ত করে তুলেছে খোদাইয়ের কাজটাকে।

    রেস একটা ঢোক গিলল জরাজীর্ণ পুরানো টোটেমের সামনে দাঁড়িয়ে।

    ঈশ্বর।

    .

    প্রথম টোটেম পাওয়ার পর গোটা টিম আবার ছুটে চলার জন্য চপার দুটোয় উঠে বসল।

    পথ দেখাচ্ছে ন্যাশের চপার, রাপার ট্রেইল ধরে ছুটছে ওরা, জঙ্গলের ওপর দিয়ে নিচু হয়ে।

    রাপার ট্রেইল ধরে ছুটছে ওরা, জঙ্গলের ঠিক মাথার উপর দিয়ে।

    মাথার ওপরের হেডসেটে ন্যাশকে বলতে শুনল রেস: ম্যাগনেটোমিটার অন করো। পরবর্তী টোটেম-এর রিডিং পেলে স্পটলাইট জ্বালাব।

    পেয়েছি—-

    রেস ভ্রু কুঁচকাল। ম্যাগনেটোমিটারটা কি কাউকে জিজ্ঞেস করবে, কিন্তু সে চাইছিল না লরেনের সামনে তার কোনো মূর্খতা প্রকাশ পাক যা আগে পেয়েছে।

    এই ডিভাইসটা মার্টির নিচে থাকা প্রাচীন জিনিসপত্র খুঁজছে আর্কিওলজিস্টরা ব্যবহার করে, লরেন দাঁত বের করে তার দিকে তাকিয়ে বলল।

    ডেম ইট, ভাবল সে।

    বাণিজ্যিকভাবে ওটাকে ব্যবহার করে রিসোর্স এ্যাক্সপোরেশন কোম্পানীগুলো মার্টির নিচে তেল এবং ইউরেনিয়াম খোঁজার জন্য। আরো বলল লরেন।

    কীভাবে কাজ করে ওটা?

    পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল্ডে যত সূক্ষ্ম পরিবর্তনই ঘটুক, একটা ম্যাগনেটোমিটারে তা ধরা পড়বে–এই পরিবর্তন ঘটে কোনো জিনিস ম্যাগনেটিক ফিল্ডের ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করলে। মেক্সিকোর আর্কিওলজিস্টরা অনেক আগে থেকেই এটা ব্যবহার করছে অ্যাজটাক ধ্বংসাবশেষ খোঁজার জন্য। আমরা ব্যবহার করছি পরবর্তী পাথরের টোটেম খোঁজার জন্য।

    কিন্তু আমরা যে টোটেম খুঁজছি সেগুলো তো সারফেসে রয়েছে, রেস বলল। গাছ আর প্রাণী থাকায় ম্যাগনেটোমিটারের মতো কাজ করতে সমস্যা হয় না?

    এতে সমস্যা হয়, লরেন বলল। কিন্তু এখানে হয় না। ন্যাশ তার রিডারটি সেট করে দিল একটা নির্দিষ্ট ঘনত্বের এবং গভীরতার জিনিস ডিটেক্ট করতে। গাছের ঘনত্ব প্রতি কিউবিক সেন্টিমিটারে ০.৮৫ গ্রাম, আর প্রাণীদের মাংস এবং হাড় থাকায় ঘনত্ব সামান্য একটু বেশি। আর রেইনফরেস্টের যে কোনো মোটা গাছের চেয়ে অন্তত দশগুণ বেশি ঘন ইনকান পাথর।

    ঠিক আছে, ন্যাশের গলা শুনল ওরা। একটা রিডিং পাচ্ছি। সামনের দিকে। করপোরাল, স্পটলাইট।

    এভাবেই চলল।

    পরবর্তী এক ঘণ্টা, আলো যখন কমছে আর পাহাড়ের ছায়া লম্বা ও গাঢ় হচ্ছে, ন্যাশ এবং চেম্বারস আর লোপেজের কথা শুনে রেস বুঝতে পারল একের পর এক টোটেম আবিষ্কার করছেন ওঁরা। ম্যাগনেটোমিটারে একটা করে টোটেম ধরা পড়লেই নিজেদের হিউটা সেটার উপর নিয়ে স্পটলাইটের চোখ ধাঁধান সাদা আলো ফেলছে। তারপর, কি ধরনের টোটেম আবিষ্কার করল তার ওপর নির্ভর করে, হয় রাপার লেজ অনুসরণ করছে ওঁরা, নয়তো ওটার বাম দিকে যাচ্ছে সূর্যের চিহ্নে নির্দেশমতো।

    দুটো হেলিকপ্টার প্রকাণ্ড ধাপ আকৃতির মালভূমিকে পাশে রেখে উত্তরে ছুটে চলেছে, আর রেইনফরেস্টকে আলাদা করে রেখেছে মালভূমিটা।

    সন্ধ্যা নামার ঠিক আগে ন্যাশকে বলতে শুনল রেস, ঠিক আছে, মালভূমির ওপর চলে আসছি আমরা, বলল সে, ওখানে বড় একটা জলপ্রপাত দেখতে পাচ্ছি আমি…

    রেস তার আসন থেকে উঠে সামনের দিকে এগিয়ে গেল, তার হেলিকপ্টারের উইন্ডশিল্ড দিয়ে বাইরে তাকাল। দেখল জলপ্রপাত যা মালভূমির ধারে অবস্থিত তার ওপর ন্যাশের হিউ ভাসছে।

    ঠিক আছে… এখন নদীটা অনুসরণ করো…

    দিনের সমস্ত আলো ফুরিয়ে অন্ধকার নেমে আসায় একটু পর সামনের ন্যাশের হেলিকপ্টারটার শুধু টেইল-লাইট দেখতে পেল রেস, ওদের নিচের চওড়া কালো নদীটার পথ অনুসরণ করার সময় কখনো এঁকেবেঁকে যাচ্ছে, কখনো উঁচু-নিচু হচ্ছে, পানির গায়ে খুদে ঢেউয়ের উপর খেলা করছে স্পটলাইটের আলো। এখন পশ্চিম দিকে যাচ্ছে ওরা, রেইনফরেস্টের উপর মাথা তুলে থাকা পাহাড়গুলোর দিকে।

    আর ঠিক এই সময় রেস দেখল ন্যাশের চপার বাঁক নিয়ে ডানদিকে ঘুরে গেল, পার হয়ে এল জঙ্গল ঢাকা নদীর একটা মোচড়।

    এক সেকেন্ড, বলল ন্যাশ।

    উইন্ডশিল্ড দিয়ে সামনে তাকাল রেস। ওর ডানদিকে ন্যাশের চপার নদীর তীরে, শূন্যে ভাসছে। দাঁড়াও… ফাঁকা একটা জায়গা দেখতে পাচ্ছি। মনে হচ্ছে। ঘাস আর শ্যাওলায় মোড়া তবে… দাঁড়াও ওই তো। ঠিক আছে, বন্ধুরা, আমি দেখতে পাচ্ছি ওটা। বড়সড় পিরামিড আকৃতির একটা দালানের দুর্গ বলেই মনে হচ্ছে। অল রাইট, স্ট্যান্ড বাই। স্ট্যান্ড বাই ফর ল্যান্ডিং।

    .

    ঠিক যখন ন্যাশের হিউটা ভিলকাফোর শহরে ল্যান্ড করতে যাচ্ছে, ওই একই সময়ে আরো অনেক বড় আকারের তিনটে সামরিক বিমান নামছে কুজকো এয়ারপোর্টে।

    প্লেনগুলো হল–বিশালাকৃতির একটি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার-III কার্গো প্লেন আর দুটো এফ-১৪ ফাইটার, বিশাল প্লেনের এসকর্ট। ল্যান্ডিং স্ট্রিপের শেষপ্রান্তে থামল ওগুলো। ওখানে আরো কিছু এয়ারক্রাফট রয়েছে, মাত্র কয়েক মিনিট আগে কুজকোয় পৌঁছেছে ওগুলো।

    তিনটে বিরাট সিএইচ-৫৩-ই সুপার স্ট্যালিয়ন হেলিকপ্টার রানওয়ের শেষ মাথায় দাঁড়িয়ে গ্লোবমাস্টারের জন্য অপেক্ষা করছে। সুপার স্ট্যালিয়ন চোখে পড়ার মতো। আকারে বড়, এবং শক্তিশালী, বিশ্বের সবচেয়ে হেভি-লিফট হেলিকপ্টার ওগুলো।

    ট্র্যান্সফারের কাজ দ্রুত সারা হল।

    গ্লোবমাস্টার থামতে না থামতে লাফ দিয়ে নিচে নামল তিনটে ছায়ামূর্তি, টারমাকের উপর দিয়ে চপারগুলোর দিকে ছুটছে। তাদের একজন বাকি দুজনের চেয়ে ছোটখাট আর কালো, চোখে সোনালি ফ্রেমের চশমা-বগলের তলায় কিছু একটা চেপে রেখেছে, দেখে মনে হয় চামড়া মোড়া একটা বই।

    তিনজনই লাফিয়ে একটা সুপার স্ট্যালিয়নে চড়ল। সঙ্গে সঙ্গে তিনটে চপারই টারমাক ছেড়ে উঠে পড়ল আকাশে, উত্তর দিকে ছুটল।

    তবে অন্তত একজনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে নয়।

    এয়ারপোর্ট থেকে বেশ খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে লোকটা, চোখে একজোড়া শক্তিশালী বাইনোকিউলার, পরনে সাদা লিনেনের স্যুট আর মাথায় ক্রিম কালারের পানামা হ্যাট।

    লেফটেন্যান্ট নাথান সেবাস্তিয়ান।

    .

    গোধূলির শেষে, বৃষ্টির মধ্যে, ভিলকাফোর ধ্বংসাবশেষের পাশের নদীর তীরে নামল ফ্রাঙ্ক ন্যাশের হিউ দুটো।

    নদীর সারফেসে স্থির হওয়ার পর পাইলটরা তাদের যান্ত্রিক পাখি দুটো ঘুরিয়ে নিল, যাতে পন্টুনগুলো তীরের নরম কাদায় উঠে পড়ে।

    লাফ দিয়ে ডাঙায় চলে এল গ্রিন বেরেট, প্রত্যেকের হাতে এম-১৬ তাদের পিছুপিছু কাদায় নামল সিভিলিয়ান সদস্যরা। সবার শেষে নামল রেস, নিরস্ত্র, অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে শহর ভিলকাফোরের ধ্বংসপ্রায় দুর্গের দিকে।

    গ্রাম বলতে চওড়া একটা ঘাসে ঢাকা মূল রাস্তা, প্রায় একশো গজ লম্বা নদী। রাস্তার দুপাশে ছাদহীন পাথুরে কুঁড়ে, শ্যাওলা আর আগাছায় ঢাকা গ্রাম। আসলে পুরো শহরটা গাছগাছালিতে ঢাকা পড়ে গেছে। যেন রেইনফরেস্ট শহরটাকে ঘিরে রেখেছে এবং জীবন্ত হয়ে উঠবে।

    রাস্তাটার শেষ মাথায় নদীর আর কাঠের ভাঙাচোরা একটা জেটি রয়েছে। আর শেষ মাথায়, ছোট্ট শহরটার উপর ঝুঁকে রয়েছে যেন রক্ষাকারী দেবতার ভঙ্গি নিয়ে পিরামিড সদৃশ্য প্রকাণ্ড দুর্গ।

    দুৰ্গটা আসলে দুতলা একটা বাড়ির চেয়ে বড় নয় আকারে। তবে অত্যন্ত নিরেটদর্শন পাথর দিয়ে তৈরি যা রেস আগে দেখেনি। দৈত্যাকার চৌকো বোল্ডারকে কেটেছেঁটে নির্দিষ্ট একটা আকৃতি দেওয়ার পর কারিগররা অন্যান্য বোল্ডারের পাশে খাপে খাপে বসিয়েছে, সেগুলোও একই আকৃতির। বালি, মার্টি কিংবা চুনের মিশ্রণ দরকার হয়নি।

    দুর্গের গায়ে বৃত্তাকার দুটো ব্যালকনি দেখা যাচ্ছে, উপরেরগুলো ক্রমশ ছোট হয়ে গেছে।

    কালের স্রোতে গোটা কাঠামোটা ক্ষত বিক্ষত ও বিধ্বস্ত। এক সময়ের পাথরের উঁচু দেয়ালে আঁকাবাঁকা ফাটল তৈরি হয়েছে, সে-সব ফাটল থেকে বেরিয়ে এসেছে আগাছা। দালানটার ভেতর পাথরের একটা দরজা অদ্ভুত ভঙ্গিতে একদিকে কাত হয়ে রয়েছে।

    দুর্গ ছাড়া প্রাচীন গ্রামে দেখার মতো আরো একটা জিনিস আছে।

    ভিলকাফোরকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে শুকনো একটা পরিখা, ঘোড়ার খুর আকৃতির বিরাট একটা গর্ত, গর্তের দুটো মুখই নদীর কিনারা থেকে শুরু হয়েছে। পাথরের বিরাট দুটো বাঁধ পরিখায় পানি ঢুকতে বাধা দিচ্ছে।

    পরিখাটা অন্তত পনেরো ফুট চওড়া, গভীরতাও তাই। জড়াজড়ি করে থাকা ঝোঁপ ঢেকে দিয়েছে পানিহীন মেঝেটা। গ্রামে যাওয়ার জন্য কাঠের দুটো সেতু আজও টিকে আছে। শহরের বাকি অংশে, ওই দুটো যেন অবৈধ হস্তক্ষেপ করেছে রেইনফরেস্টে। ওটার কাঠের পায়ায় সবুজ লতাপাতা পেঁচিয়ে ধরেছে।

    রেস ইনকান রাস্তার শেষ মাথায় নিশ্চয়ই দাঁড়িয়ে আছে, বৃষ্টি তার মাথার ক্যাপের বাড়তি অংশ বেয়ে পড়ছে।

    ওর মনে হল ও অন্য কোনো জগতে প্রবেশ করেছে।

    একটা অতীতের জগত।

    বিপজ্জনক জগত।

    ওকে পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যাবার সময় লরেন সাবধান করে দিয়ে বলল, পানির কাছাকাছি বেশিক্ষণ থেক না।

    ঘুরল রেস, বোঝেনি। ফ্ল্যাশ লাইট জ্বালল লরেন, আলোটা ফেলল ওর পেছনের নদীতে।

    ঠিক যেন কেউ লাইট সুইচ অন-অফ করছে।

    সঙ্গে সঙ্গে দেখতে পেল রেস। লরেনের ফ্ল্যাশলাইটের আলোয় চকচক করছে।

    চোখ।

    পঞ্চাশ জোড়ার কম হবে না, বেরিয়ে আছে কালো কালি পানি থেকে, তার দিকে তাকিয়ে আছে বৃষ্টি বিঘ্নিত নদীর সারফেস থেকে। বৃষ্টি বিঘ্নিত কালো পানির সারফেস থেকে বেরিয়ে আছে।

    সাথে সাথে লরেনের দিকে ঘুরল সে। অ্যালিগেটর?

    না, বলল ওয়াল্টার চেম্বারস, ওদের দিকে হেঁটে আসছেন। মেলানোসুচুস নিগার। ব্ল্যাক কেইমান। কন্টিনেন্টের সবচেয়ে বড় প্রজাতির কুমির। কেউ কেউ বলে বিশ্বের সবচেয়ে বড়। ওগুলো অ্যালিগেটরের চেয়েও বড়, বায়োলজিতে ওগুলো ক্রোকোডাইল। আসলে কালো কেইমান, ক্রোকোডাইলাস পোরোসাসের গোত্রের, অস্ট্রেলিয়ার লবণাক্ত পানির ক্রোকোডাইল।

    ওগুলো সাইজে কত বড় হয়? রেস জিজ্ঞেস করল। সে শুধু দেখতে পাচ্ছে তার সামনে কতগুলো চোখের তারা জ্বলতে। তাকে বলা হয়নি কত বড় সাইজে সরীসৃপ পানিতে রয়েছে আসলে।

    প্রায় বাইশ ফিট, আনন্দের সাথে জানাল চেম্বার।

    বাইশ ফিট। রেস মাথায় হিসেব করল। বাইশ ফিট মানে সাত মিটার।

    ওজন কত? জিজ্ঞেস করল সে।

    প্রায় ২৩০০ পাউন্ড। তার মানে প্রায় হাজার কিলোগ্রাম।

    হাজার কিলোগ্রাম, রেস ভাবল। এক মেট্রিক টন।

    চমৎকার।

    কালো নদী থেকে কেইমানগুলো ডাঙ্গায় উঠতে শুরু করল এবং রেস দেখতে পেল ক্রোকোডাইলের মতো পিঠের ঢাল এবং চোখা লেজ।

    ওরা দেখতে অনেকটা গাঢ় টিলার মতো পানি থেকে বেরিয়ে আসছে। বিশাল টিলা।

    পানি থেকে ওগুলো উঠে আসতে পারে না, আসতে পারে কি?

    উঠতে পারে, চেম্বারস বলল। তবে সম্ভবত উঠবে না। বেশিরভাগ ক্রোকোড়ালিয়ানরা পানির কিনারায় থাকে এবং হঠাৎ করে তার শিকার ধরে মাথা তুলে। কালো কেইমনীরা হল নিশাচর শিকারি, সন্ধ্যার পর ডাঙ্গায় খুব কম উঠতে দেখা যায়, কারণটা খুবই সহজ। তা হল ঠাণ্ডা অন্যান্য সরীসৃপের মতো ওরাও নিজেদের তাপমাত্রার দিকে খেয়াল রাখে।

    রেস কিনার থেকে সরে দাঁড়াল।

    কালো কেইমান, বলল সে। গ্রেট।

    .

    প্রাচীন ভিলকাফোরের মূল সড়কের শেষ মাথায় বুকে হাত বেঁধে একা দাঁড়িয়ে আছে ফ্রাঙ্ক ন্যাশ! ধসে পড়া গ্রামটার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে।

    পাশে এসে দাঁড়াল ট্রয় কোপল্যান্ড। কুজকো থেকে এইমাত্র কথা বলল সেবাস্তিয়ান। রোমানোরা খানিক আগে এয়ারপোর্ট ছেড়ে গেল। টমক্যাটের এসকর্ট নিয়ে গ্লোবমাস্টারে চড়ে পৌঁছায় সে। তারপর কয়েকটা চপারে চড়ে এদিকে রওনা হয়েছে।

    কী ধরনের চপার?

    সুপার স্ট্যালিয়ন। তিনটে।

    ক্রাইস্ট, বলল ন্যাশ। পুরো মাত্রায় লোড করা হলে সশস্ত্র পঞ্চানজন ট্রুপার ধরবে একেকটা সি এইচ-৬৩ই। আসছে তিনটে। তারমানে রোমানোরা সম্পূর্ণ শক্তি নিয়েই আসছে।

    কুজকো থেকে এখানে আসতে কতক্ষণ লেগেছে আমাদের? দ্রুত জানতে চাইল ন্যাশ।

    প্রায় দুঘণ্টা চল্লিশ মিনিটের মতো, বলল কোপল্যান্ড।

    হাতঘড়ি দেখল ন্যাশ।

    ৭:৪৫ মিনিট।

    ওদের স্ট্যালিয়ন আরো তাড়াতাড়ি পৌঁছাবে, বলল সে, যদি ঠিক মতো টোটেমগুলোকে ফলো করতে পারে। তাড়াতাড়ি এখান থেকে চলে যাওয়া দরকার আমাদের। আমার ধারণা ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে এখানে পৌঁছে যাবে ওরা।

    ছয়জন গ্রিন বেরেট চপার থেকে স্যামসনাইট ট্রাঙ্ক বের করে ভিলকাফোরের প্রধান সড়কে বয়ে নিয়ে আসছিল।

    ন্যাশ, লরেন এবং কোপল্যান্ড সঙ্গে সঙ্গে খুলল ওগুলো, ভেতর থেকে বেরুচ্ছে নানা ধরনের হাই-টেক ইকুইপমেন্ট: হেক্সিয়াম ল্যাপটপ কম্পিউটার, ইনফ্রা-রেড টেলিস্কোপিক লেন্স, নানান ধরনের ফিউচারিস্টিক স্টেইনলেস-স্টিল ক্যানিস্টার ইত্যাদি।

    দুই অ্যাকাডেমিক, চেম্বারস আর লোপেজ, মূল শহরে চলে গেল, দুর্গ আর ওটার চারপাশ পরীক্ষা করার জন্য উন্মুখ হয়ে ছিল।

    সবুজ রঙের একটা আর্মি পারকা পরেছে রেস, বৃষ্টি থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য, এগিয়ে গেল চপারের দিকে গ্রিন বেরেটদের মালপত্র নামাতে সাহায্য করতে।

    নদীতীরে গিয়ে দেখল বাজ কোচরেন দলের তরুণ সদস্য কর্পোরাল ডগলাস কেনেডিকে কিছু বোঝাচ্ছে। সার্জেন্ট ভ্যান লিওয়েন এবং গ্রিন বেরেট লিডার ক্যাপ্টেন স্কট- কে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।

    সত্যি করে বল তো, ডুগী, সে কি তোমাদের লীগ থেকে বেরিয়ে গেছে? কোচরেন বলল।

    আমি ঠিক জানি না, বাজ, অন্য কমান্ডোদের মধ্যে একজন বলল। আমার মনে হয় তিনি তাকে তার সাথে যেতে বলেছেন।

    হোয়াট এ গ্রেট আইডিয়া, কোচরেন বলল, কেনেডির দিকে ঘুরল।

    চুপ করো তোমরা, ডুগী কেনেডি বলল দক্ষিণের উচ্চারণে।

    না, ডুগস, তুমি কেন নিজে তার কাছে গিয়ে বলছ না, তাকে বল যেতে?

    তোমাকে বলেছি, চুপ থাক, কেনেডি বলল হিউ থেকে একটা স্যামসোনাইট কন্টেনার নামাতে নামাতে।

    ডগলাস কেনেডির বয়স তেইশ, হালকা পাতলা এবং বাচ্চা বাচ্চা চেহারার হেন্ডসাম ছেলে, সবুজ চোখ এবং মাথার চুল সম্পূর্ণ কামানো। তার ডাকনাম ডুগী এসেছে পুরাতন টিভি শো, ডুগী হাউসার এম. ডি-র লিড ক্যারেকটারের নামে এমনিতে সে একটু লাজুক প্রকৃতির, বিশেষ করে যখন মেয়েদের বিষয় আসে।

    কি হচ্ছে এখানে? রেস ওদের পাশে এসে বলল।

    কোচরেন ঘুরল, রেসের মাথা থেকে পা পর্যন্ত তাকাল, তারপর আবার মাথাটা ঘুরাতে ঘুরাতে বলল, ওহ্, আমরা ডুগীকে দেখতে পেলাম সুন্দরী তরুণী আর্কিওলজিস্টের দিকে তাকিয়ে আছে, আমরা তাকে শুধু এ বিষয়ে খোঁচাচ্ছিলাম।

    রেস এক পাক ঘুরে দেখল আর্কিওলজিস্ট গ্যারি লোপেজকে, ওয়াল্টার চেম্বারসের সাথে দুর্গের পাশে দাঁড়িয়ে আছে।

    সত্যি সত্যি দেখতে খুব সুন্দরী। মাথায় গাঢ় চুল, চামড়ার রঙ লেটিনদের মতো এবং শরীরের বাঁক আকর্ষণীয়। সাতাশ বছর বয়স, রেস শুনেছে, প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিওলজিস্ট ডিপার্টমেন্টের সবচাইতে কম বয়সী অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর। গ্যাবি লোপেজ খুবই বুদ্ধিমান তরুণী।

    কাঁধ ঝাঁকাল রেস। ডুগী কেনেডি একটা বাজে কাজ করেছে।

    কোচরেন, ডুগীর পিঠে চাপড় মারল, মুখ থেকে বের করল একদলা আঠাল টোবাকো।

    চিন্তা করো না, তুমি। তারপরেও তোমাদের একজনকে ওখানে পাঠিয়ে দেব। আমি বলতে চাইছি, একবার তাকিয়ে দেখ তরুণ চাকির দিকে, কোচরেন বলল, ইউনিটের তরুণ মেম্বারদের কথা বলছে বাইশ বছর বয়সী চাঁদমুখো কর্পোরাল চার্লস চাকি উইলসন নাম তার। গত সপ্তাহে কেন চাকি পুরোপুরি সদস্য হয়ে গেল এইটিজ ক্লাবের।

    এইটিজ ক্লাব কি? ডুগী জিজ্ঞেস করল।

    টেস্টি, ওটাই হল আসল কথা, ঠোঁট চাটতে চাটতে বলল কোচরেন। তাই না চাকি?

    শিওর বাজ।

    আপেল, দাঁত বের করে হাসল কোচরেন।

    আপেল, জবাবে চাকি বলল, হাসল।

    দুই সৈনিক হাসতে লাগল, আর রেস কোচরেনের দিকে সতর্ক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল, এই গ্রিন বেরেট প্লেনের ভেতর কি বলেছিল, কোচরেন ভেবেছে রেস শোনেনি।

    কর্পোরাল বাজ কোচরেনের বয়স ত্রিশের শেষের দিকে। লাল চুল এবং ভুরু মাংসল মুখে ভাঁজ পড়েছে, গালে দাড়ি আছে। লম্বা-চওড়া মানুষ, বুকের দিকে চওড়া হাত দুটো মোটা এবং শক্তিশালী।

    তার দিকে তাকানোর পর রেসের ভালো লাগেনি।

    বল ডুগী, কোচরেন হঠাৎ বলে উঠল, আমি ওপরে গিয়ে ওই সুন্দরী আর্কিওলজিস্টকে বলি আমাদের দলে একজন তরুণ বোবা সৈনিক আছে যে তাকে নিয়ে বাইরে গিয়ে বার্গার খাওয়াবে এবং সিনেমা

    না! চেঁচিয়ে বলল ডুগী, আতঙ্কিত।

    অন্য গ্রিন বেরেটেরা অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল।

    ওদের হাসিতে ডুগীর চেহারা লাল হয়ে গেল।

    আর আমাকে বোবা বলবে না, বিড়বিড় করে বলল সে। আমি বোবা নই।

    ভ্যান এবং স্কট ফিরে এল অন্য চপার থেকে। সাথে সাথে সৈনিকদের হাসি থেমে গেল।

    রেস দেখল ভ্যান লিওয়েন সতর্ক দৃষ্টিতে ডুগী থেকে অন্যদের দিকে তাকাল, দৃষ্টিতে ছিল এমন যে বড় ভাই ছোট ভাইদের দিকে তাকাচ্ছে। লক্ষ্য করে দেখল যে ক্যাপ্টেন স্কটের তুলনায় ভ্যান লিওয়েনের উপস্থিতিতে হাসি থেমে গেছে সৈনিকদের।

    কেমন এগুচ্ছে কাজকর্ম, কোচরেনকে জিজ্ঞেস করল স্কট।

    কোনো সমস্যা নেই, স্যার, কোচরেন বলল।

    তাহলে যার যার নিজেদের জিনিসপত্র তুলে নিয়ে গ্রামের দিকে রওনা দাও, স্কট বলল। ওরা পরীক্ষা করার জন্য অপেক্ষা করছে।

    .

    সৈনিকদের সঙ্গে মূল গ্রামে গেল রেস। বৃষ্টি পড়ছে।

    কাদায় ভরা রাস্তা ধরে এগোবার সময় লরেনকে দেখল ও, সবচেয়ে বড় স্যামসনাইট ট্রাঙ্কের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে, সঙ্গে ট্রয় কোপল্যান্ড।

    ট্রাঙ্কটা কালো পাঁচ ফুট লম্বা। ওটার পাশের প্যানেলগুলোর ভাঁজ খুলছে কোপল্যান্ড, ফলে এক ধরনের ওয়ার্কবেঞ্চে রূপ নিচ্ছে ওটা।

    একহারা বিজ্ঞানী ট্রাঙ্কের ঢাকনাটা খুললেন, ভেতর থেকে বেরিয়ে এল কোমর সমান উঁচু একটা কনসোল যা তৈরি করল কিছু ডায়াল, একটা কি-বোর্ড আর একটা কম্পিউটার স্ক্রিন। তার পাশে দাঁড়িয়ে কনসোলটার মাথায় সিলভার রডের মতো দেখতে একটা জিনিস যা দেখতে অনেকটা বুম মাইক্রোফোনের মতো সেটাকে আটকাচ্ছে কনসোলের সাথে লরেন।

    রেডি? জানতে চাইল লরেন।

    রেডি, জবাব দিলেন কোপল্যান্ড।

    স্যামসনাইট ট্যাঙ্কের একপাশে হাত দিয়ে একটা বোতামে চাপ দিল লরেন, কনসোলের চারদিকে লাল আর সবুজ আলো জ্বলে উঠল। সঙ্গে সঙ্গে কি-বোর্ড টেনে নিয়ে কাজ শুরু করে দিল কোপল্যান্ড।

    এটাকে নিউক্লিয়োটাইড রেজোন্যান্স ইমেজার, কিংবা এনআরআই বলে, জানতে চাওয়ার আগেই রেসকে বলল লরেন। আশেপাশে কোনো নিউক্লিয়ার পদার্থ আছে কিনা তা আমাদেরকে বলে দেবে, জিনিসটার চারপাশের রেজোন্যান্স হিসেব করে।

    কী বললে? জিজ্ঞেস করল রেস।

    লরেন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, যে-কোনো রেডিওঅ্যাকটিভ সাবস্টেন্স, হোক ইউরেনিয়াম, প্রটোনিয়াম কিংবা থাইরিয়াম, মলিকিউলার লেভেলে অক্সিজেনের সঙ্গে রিয়্যাক্ট করে যেগুলো। আসলে রেডিওঅ্যাকটিভ পদার্থ নিজের চারপাশের বাতাসে কম্পন কিংবা অনুরণন সৃষ্টি করে। এই মেশিনটা বাতাসের ওই রেজোন্যান্স ডিটেক্ট করে, আর এভাবেই আমাদেরকে জানিয়ে দেয় রেডিওঅ্যাকটিভ পদার্থের অবস্থান।

    এক মুহূর্ত পরেই টাইপের কাজ শেষ হল কোপল্যান্ডের। ন্যাশের দিকে ঘুরে গেল সে। এনআরআই রেডি।

    ডু ইট, নির্দেশ দিল ন্যাশ।

    কি-বোর্ডের একটা চাবি টিপল কোপল্যান্ড, সঙ্গে সঙ্গে মেশিনটার মাথায় ফিট করা সিলভার রড় ঘুরতে শুরু করল। ধীর গতিতে ঘুরছে ওটা, নিয়মিত ছন্দে, মাপা একটা ভঙ্গিতে।

    রেস দেখল লোপেজ এবং চেম্বারস তাদের অভিযান ফেলে রেখে কাছাকাছি চলে এসেছে। এখন একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে মেশিনটার দিকে। রেস লক্ষ্য করে দেখল টিমের সবাই কাছাকাছি চলে এসেছে প্রত্যেকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নিউক্লিয়োটাইড রেজোন্যান্স ইমেজারের দিকে।

    এবং হঠাৎ করেই ওর প্রতিয়মান হতে লাগল।

    এই মেশিনটার উপরই নির্ভর করছে সব।

    ইমেজার যদি কাছেপিঠে কোথাও আইডলটার অস্তিত্ব না পায়, তাহলে বুঝতে হবে এখানে এসে স্রেফ সময় নষ্ট করছে ওরা।

    ইমেজারের মাথার রড ঘূর্ণন বন্ধ করল।

    একটা রিডিং পাচ্ছি, হঠাৎ বলল ন্যাশ তার চোখ কনসোলের স্ক্রিনে আটকে আছে।

    রেস লক্ষ্য করে দেখল আটকে রাখা নিঃশ্বাস ফেলল ন্যাশ।

    কোথায়?

    এক সেকেন্ড… কিবোর্ডে কিছু টাইপ করল লরেন।

    ইমেজারের রড এখন নদীর উজান চিহ্নিত করছে, সোজা পাহাড়গুলোর দিকে, সোজা রেইনফরেস্টের গাছপালা কাছাকাছি পাথুরে মালভূমির খাড়া প্রাচীরে মিলিত হয়েছে সেদিকে।

    লরেন বলল, দুর্বল সিগনাল, কারণ অ্যাঙ্গেল ঠিক নেই। তবে আমি কিছু পেতে যাচ্ছি। দেখি ভেকটর অ্যাডজাস্ট করা যায় কিনা…।

    আরো কয়েকটা বোতামের চাপ দিল সে আর ধীরে ধীরে উপর দিকে উঠতে চাইছে রড। ওটা ত্রিশ ডিগ্রি কোণে পৌঁছাতে লরেনের চোখ দুটো যেন জ্বলে উঠল।

    ঠিক আছে, বলল সে। জোরাল সিগনাল পাচ্ছি। অত্যন্ত হাইফ্রিকোয়েন্সি রেজোন্যান্স। বেয়ারিং ২৭০ ডিগ্রি পশ্চিম ভার্টিকাল অ্যাঙ্গেল ২৯ ডিগ্রি, ৫৮ মিনিট। রেঞ্জ… ৭৯৩ মিটার।

    লরেন গাঢ় পাথুরে পাহাড়গুলোর দিকে তাকাল যা পশ্চিম দিকের গাছগুলোর আড়ালে অবস্থিত। দেখতে অনেকটা মালভূমির মতো। বৃষ্টি পড়ছে তার ওপর।

    ওটা ওখানে কোথাও আছে, বলল সে। পাহাড়ের কোথাও আছে।

    স্কটের দিকে ঘুরে গেলেন ন্যাশ। রেডিও অন করে যোগাযোগ করা পানামার সাথে। জানাও জিনিসটার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পেরেছি, টিম সেটা পরীক্ষা করে দেখছে। এ-ও জানাও আমরা খবর পেয়েছি শত্রুর দল আমাদের অবস্থান লক্ষ্য করে ছুটে আসছে। ওদেরকে নির্মূল করার জন্যে একটা ফুল প্রটেকটিভ ফোর্স পাঠাতে বলো, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।

    বাকি সবার দিকে ঘুরে গেল ন্যাশ। ঠিক আছে, ফোকস, স্যাডেল আপ। চল আইডলটা নিয়ে আসি।

    .

    সবাই তৈরি হচ্ছে।

    গ্রিন বেরেট নিজেদের এম-১৬ চেক করছে। ডারপা বিজ্ঞানীরা কম্পিউটার, কম্পাসসহ তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিচ্ছে। লরেন আর ট্রয় কোপল্যান্ডকে একটা হিউতে ঢুকতে দেখল রেস, নিশ্চয়ই নিজেদের কোনো গিয়ার নামাবে। তাড়াতাড়ি এগিয়ে গেল যদি তাদের সাহায্য দরকার পড়ে, সে হয়তো লরেনকে জিজ্ঞেস করবে ন্যাশ বলল যে ভিলকাফোর থেকে শত্রুপক্ষ ছুটে আসছে তার মানে কি।

    হেই– রেস চপারের দরজার কাছে এসে বলল। ওহ…

    দেখতে পেল একজোড়া কিশোর-কিশোরীর ব্যগ্রতা নিয়ে পরস্পরের মাথার চুলে আঙুল ঢুকিয়ে দিয়ে চুমো খাচ্ছে।

    রেসের অপ্রত্যাশিত আগমনে দুই বিজ্ঞানী নিজেদের ছেড়ে দিয়ে আলাদা হয়ে গেলেন। লরেন লজ্জায় লাল হয়ে উঠল। কোপল্যান্ড ভ্রু কুঁচকে তাকাল।

    আমি…সত্যি দুঃখিত, রেস বলল। আমি বুঝতে পারিনি।

    ঠিক আছে, লরেন, কপাল থেকে চুল সরাল। এটা আমাদের জন্যে অত্যন্ত আনন্দের একটা মুহূর্ত।

    মাথা ঝাঁকিয়ে ওখান থেকে দ্রুত সরে এল রেস, গ্রামের দিকে পা বাড়াল।

    অবশ্যই।

    দৃশ্যটা সে ভাবতে চাইছে না বলেই, গ্রামে অন্যদের সাথে যোগ দেওয়ার জন্য হাঁটা দিল, কোপল্যান্ডের চুলে আঙ্গুল ঢুকিয়ে লরেনের চুমোর কথা মনে করতে চাইছে না। লরেনের আঙ্গুলে বিয়ের আংটি দেখেছে ও।

    কোপল্যান্ড, অন্যদিকে, আংটি পরেনি।

    .

    কাদায় ভর্তি পথটা নদীর কিনারা ধরে এগিয়ে গেল গ্রুপটা। পাথুরের মালভূমির গোড়ার দিকে এগোচ্ছে ওরা, রাতের জঙ্গলের বিচিত্র সব আওয়াজ ঢুকছে কানে। ওদের চারপাশের পাতার সাগর ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে জোরাল বৃষ্টির জন্যে।

    ইতোমধ্যে রাত গাঢ় হয়ে উঠেছে এবং সামনের জঙ্গল ওদের টর্চের আলোয় আলোকিত। হাঁটতে হাঁটতে মুখ তুলতেই রেস দেখল, গাঢ় মেঘের মাঝে ছোট-বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে, সেই ফাঁক গলে নীলচে জোছনা নেমে এসে আলোকিত করে তুলেছে ওদের পাশে নদীটাকে। মাঝেমধ্যে দূরে কোথাও দেখতে পেল লরেন বিদ্যুৎ চমকানোর ঝিলিক। একটা ঝড় আসছে।

    লরেন ও কোপল্যান্ড পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ওদেরকে। লরেন সামনের দিকে বাড়িয়ে ধরে আছে একটা ডিজিটাল কম্পাস। হাতের এম-১৬ বুকের কাছে ধরে পাশে রয়েছে তার বডিগার্ড বাজ কোচরেন। ওদের ঠিক পেছনে রয়েছে ন্যাশ, চেম্বারস, লোপেজ এবং রেস। স্কট, ভ্যান লিওয়েন এবং চতুর্থ সৈনিক, করপোরাল চাকি উইলসন রয়েছে তাদের পেছনে।

    শেষ দুই গ্রিন বেরেট ডুগী কেনেডি এবং ইউনিটের শেষ সৈনিক আরেক করপোরাল জর্জ টেক্স রাইকার্ট, গ্রামে পাহারা হিসেবে রেখে আসা হয়েছে।

    রেস দেখল সে ন্যাশের পাশেপাশে হাঁটছে।

    আচ্ছা, আর্মি একটা ফুল প্রোটেকটিভ ফোর্স পাঠায়নি কেন? জানতে চাইল সে। আইডল যদি এতই গুরুত্বপূর্ণ, প্রিলিমিনারি টিম পাঠাল কেন?

    কাঁধ ঝাঁকাল ন্যাশ। ওপরমহলের কিছু ব্যক্তি এই মিশন নিয়ে সন্দিহান—- তাঁদের ধারণা চারশো বছরের পুরানো একটা ম্যানুস্ক্রিপ্টের সূত্র ধরে থাইরিয়ামের আইডল খুঁজে বের করা হাস্যকর প্রস্তাব। তাই ফুল অফেনসিভ ইউনিট না পাঠিয়ে ডিসকভারি মিশন পাঠিয়েছে। তবে এখন আমরা যখন জানতে পারলাম ওটা এখানে রয়েছে, ওরা নতুন ফোর্স পাঠাবে। এখন যদি কিছু মনে না করেন।

    বলেই ন্যাশ সামনে লরেন এবং কোপল্যান্ডের দিকে এগিয়ে গেল।

    রেস ধার ঘেঁসে হেঁটে যেতে লাগল, একা একা ফিফথ হুইলের বেশি মনে হচ্ছিল, একজন আগন্তুকের কোনো প্রয়োজন ছাড়া ওখানে যেতে পারে না।

    কিনারা ঘেঁষে হাঁটার সময় নদীর পৃষ্ঠের দিকে চোখ রাখছিল সে। দেখল ওদের পার্টির সঙ্গে গতি বজায় রেখে কয়েকটা কেইমানও এগোচ্ছে।

    বেশ কিছুক্ষণ পর লরেন আর কোপল্যান্ড পাথুরে মালভূমির গোড়ায় পৌঁছাল। বিশাল পাথরের খাড়া ভেজা পাচিল, উত্তর আর দক্ষিণে যত দূর দৃষ্টি যায়। রেস আন্দাজ করল শহর থেকে ছয়শো গজ দূরে চলে এসেছে ওরা।

    বাম দিকে, নদীর অন্যপাশে, পাথরের গা থেকে একটা জলপ্রপাত দেখতে পেল, খোরাক যোগাচ্ছে নদীটাকে।

    দেখল, নদীর পাশে চাপা ভেজা আর খাড়া পাহাড় প্রাচীরের গায়ে একটা ফাটল রয়েছে।

    চওড়ায় মাত্র আট ফুট হলেও, অনেক উঁচু, অন্তত তিনশো ফুটের কম নয়, এবং ওটার চিলগুলোও পুরোপুরি খাড়া।

    পানির পাঁচ-ছয় ইঞ্চি গভীর একটা প্রবাহ বেরিয়ে আসছে ওটার নিচের দিক থেকে, জমা হচ্ছে পাথরে ঢেকে থাকা একটা অংশে। পাহাড়ের ওপাশে হারিয়ে যাচ্ছে সেখান থেকে উপচান পানি গড়িয়ে নেমে যাচ্ছে নদীতে।

    পাথরের মুখে একটা প্রাকৃতিক প্যাসেজ। এটা, রেস ভাবল অতীতের কোনো ছোট ভূমিকম্পের ফল, উত্তর-দক্ষিণে প্রসারিত পাঁচিলটাকে সামান্য পুব-পশ্চিমে বাঁকিয়ে দিয়েছে।

    লরেন, কোপল্যান্ড এবং ন্যাশ প্যাসেজটার মুখে তৈরি পাথরের পুকুরে নামল।

    ওরা যখন পানিতে নামছেন, তখন নদীর দিকে তাকাল রেস, দেখল কেইমানগুলো থেমে গেছে, আর পার্টিটাকে অনুসরণ করছে না। প্রায় পঞ্চাশ গজ দূরে গভীর পানির উপর স্থির হয়ে আছে ওগুলো।

    ফাইন বাই মি, রেস ভাবল।

    তারপর হঠাৎ এক পাক ঘুরল রেস।

    কী যেন ঠিক নেই এখানে।

    আর শুধু কেইমানগুলোর আচরণ নয়। প্যাসেজটার চারপাশের গোটা এলাকা জুড়ে কী যেন একটা গোলমাল রয়েছে…

    ব্যাপারটা ধরতে পারল রেস।

    জঙ্গলের আওয়াজ থেমে গেছে। পাতার ওপর বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ ছাড়া পুরো জঙ্গল সম্পূর্ণ নীরব। গুবরে পোকা গুঞ্জন তুলছে না, কোনো পাখি ডাকছে না, খসখস করে নড়ছে না কোনো ডালপালা।

    লরেন, কোপল্যান্ড এবং ন্যাশ বোধ হয় এই নীরবতা খেয়াল করেনি। তারা প্যাসেজে ফ্ল্যাশলাইটের আলো ফেলে ভেতরে উঁকি মারছে।

    দেখে মনে হচ্ছে শেষ মাথা পর্যন্ত চলে গেছে, কোপল্যান্ড বলল।

    ন্যাশের দিকে ঘুরল লরেন। ঠিক দিকেই যাচ্ছে এটা।

    চলুন চুকি, বলল ন্যাশ।

    .

    সরু, কঠিন পাথুরে প্যাসেজ ধরে পথ করে নিচ্ছে দশ অ্যাডভেঞ্চার। তাদের পদক্ষেপে অগভীর পানি চুলকাচ্ছে। এক লাইনে এগোচ্ছে ওরা, সামনে রয়েছে বাজ কোচরেন, তার এম-১৬-র ব্যারেলে আটকান ছোট্ট ফ্ল্যাশলাইটের আলো বলা যায়, শুধু মাঝখানে একটু আঁকাবাঁকা এবং তারপর বোধ হয় মালভূমিটাকে কেটে দুশো ফুটের মতো এগিয়েছে।

    হাঁটার ফাঁকে মুখ তুলে উপরদিকে তাকাল রেস। সরু ফাটলটার দুদিকের পাচিলই খাড়া উঠে গেছে। শেষ মাথায় আকাশ দেখা যাচ্ছে। এত সরু একটা ফাটলের এমন উঁচু হওয়াটা অবিশ্বাস্য লাগে। উপরের দিকে তাকাতেই, আলোর বৃষ্টি রেসের মুখের ওপর এসে পড়ল।

    তারপর হঠাৎ প্যাসেজের ভেতর থেকে খোলা জায়গায় বেরিয়ে এল ওরা।

    সামনের দৃশ্যটা দেখে দম বন্ধ হয়ে এলো ওর।

    পাথরের বিরাট একটা ক্যানিয়নের গোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে ও, চওড়া সিলিন্ডার আকৃতির একটা গহ্বর, ডায়ামিটারে অন্তত তিনশো ফুটের কম নয়।

    ওর সামনে চকচকে পানির বিস্তৃতি, চাঁদের আলোর টানেল ছোট ছোট রূপালি ঢেউগুলোকে উদ্ভাসিত করে তুলছে। সিলিন্ডারের মতো গরে পৌঁছাবার পথ সম্ভবত, যে সুরু প্যাসেজ ধরে এইমাত্র এলো ওরা। গর্তের দূর প্রান্তে সরু একটা জলপ্রপাত দেখা যাচ্ছে, পানির প্রবাহ স্থির চাদরের মতো, চারশো ফুট উপর থেকে নেমে আসছে বৃত্তাকার ক্যানিয়ানের নিচে।

    তবে একটু পরেই সবার দৃষ্টি কেড়ে নিল ক্যানিয়নের মাঝখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে ওটা।

    পানির ভেতর থেকে উঁচিয়ে আছে সিলিন্ডারের মতো বিশাল পাথরের মাঝখান থেকে।

    নিচের দিকে জিনিসটা আশি ফুটের মতো চওড়া, অন্তত তিনশো ফুট উঁচু, বিশাল একটা পাথুরে টাওয়ার অনেকটা মাঝারি সাইজের স্কাইস্ক্রেপারের মতো জোছনার আলো মেখে চকচকে হয়ে থাকা লেক থেকে সোজা উঠে গেছে রাতের আকাশে। সন্ধ্যার হালকা বৃষ্টি বিপরীতে, বিশাল কালো পাথরটি দেখতে চমৎকার লাগছে।

    পাথুরে টাওয়ারটার দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ওরা দশজন।

    জিসাস ক্রাইস্ট… বলল বাজ কোচরেন।

    ডিজিটাল কমপাসের সর্বশেষ রিডিংটা ন্যাশকে দেখাল লরেন। গ্রাম থেকে ঠিক ৬০০ মিটার এসেছি আমরা। জমিনের উঁচুটুকুও যদি ধরি, আমি বলব প্রায় নিশ্চিত সম্ভাবনা আছে আমাদের আইডলটা রক টাওয়ারের ঠিক মাথায় বসে আছে।

    এদিকে! বাঁ দিক থেকে ভেসে এল কোপল্যান্ডের গলা।

    ঘুরল সবাই। ক্যানিয়নের ক্রমশ বাঁকা দেয়ালের বাইরের দিকটা কেটে একটা কারনিস কিংবা পথ তৈরি করা হয়েছে, সেটার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে কোপল্যান্ড।

    পথটা খাড়াভাবে উঠেছে, বৃত্তাকার আউটার ওয়াল ধরে প্যাঁচান ফ্যাশানে, এক অর্থে গবরের মাঝখানের রক টাওয়ারটাকেও ঘিরে রেখেছে ওটা, যদিও অন্তত একশো ফুট চওড়া ব্যবধান রেখে।

    লরেন আর ন্যাশ সবার আগে এগিয়ে গেল, গোড়ালি ডোবা পাথুরে পুকুর থেকে উঠে এসে হাঁটা দিল।

    .

    দলটা পথ ধরে এগিয়ে গেল।

    ঝিরঝির করে বৃষ্টি পড়ছে এখানে, তবে আকাশে আগের চেয়ে অনেক কম দেখা যাচ্ছে মেঘ, মাঝেমধ্যে ফাঁক গলে নীল জোছনা নামছে।

    ওপরে উঠেছে তো উঠছেই আঁকাবাঁকা পথ ধরে, ওরা সকলেই লক্ষ্য করে দেখল অসম্ভব নীরবতা বিরাজ করছে রক টাওয়ারটা ঘিরে।

    খাড়া টাওয়ারটার আকার অবিশ্বাস্য। বিশাল বড়। তবে কৌতুকের আকৃতি: ওপরের দিকে চওড়া হলেও নিচের দিক সরু। পুরো আকৃতিটা ভেতরের দিকে চাপা ঠিক নিচের দিকে।

    প্যাঁচান পথ ঘরে ওপরে উঠে গেল ওরা। রক টাওয়ারের চূড়াটা ধীরে ধীরে ততই উন্মোচিত হচ্ছে রেসের চোখের সামনে। আকৃতিটা গোল, গম্বুজের মতো, ঘন, সবুজ ঝোঁপ-ঝাড় ও লতা-পাতায় সম্পূর্ণ টাকা। কিনারা থেকে তিনশো ফুট নিচে ঝুলছে বৃষ্টিস্নাত, গিঁট বহুল ডালপালা।

    গহ্বরের মাথার কাছ পৌঁছে যাচ্ছে দলটা, একটা ব্রিজ আসলে ব্রিজ তৈরির আয়োজন যা সংযোগ সৃষ্টি করছে বাইরে, রক টাওয়ারে প্যাচান পথের দিকে।

    ক্যানিয়ানের ঠিক ঠোঁটের কাছে ওটা, পশ্চিম কিনারা থেকে নেমে আসা সরু জলপ্রপাত থেকে বেশি দূরে নয়।

    গহ্বরের দুই দিকে পরস্পরের দিকে মুখ করে রয়েছে সমতল দুটো পাথুরে সংকীর্ণ শৈলশিরা, মাঝখানে একশো ফুট ব্যবধান। প্রতিটি সংকীর্ণ শৈলশিরার একটা করে প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, যেগুলো থেকে এক সময় সম্ভবত কোনো ধরনের রশির তৈরি ব্রিজ ঝুলে থাকত।

    রেসের পায়ের সামনের প্ল্যাটফর্মটা ক্ষতবিক্ষত তবে দেখতে জিনিসটা এখনো অত্যন্ত মজবুত। এত বেশি পুরানো যে বোঝাই যায় ইনকাদের আমলের তৈরি।

    এতক্ষণে বোপ ব্রিজটা দেখতে পেল ও।

    গহ্বরের উল্টোদিকে ঝুলছে ওটা, টাওয়ারের দিকে। প্ল্যাটফর্মের নিচু দুই দেয়ালের মাঝখান থেকে নেমে গেছে টাওয়ারের গা ছুঁয়ে। রোপ ব্রিজের নিচের প্রান্তে জোড়া লাগান রয়েছে সুতো বেরিয়ে আসা হলুদ একটা রশি, যেটা গহ্বরের উপরে চওড়া একটা ধনুকের আকৃতি তৈরি করে পৌঁছে গেছে এপারে, এদিকের সংকীর্ণ শৈলশিরার রেসের প্ল্যাটফর্মের নিচু একটা পাচিলের সঙ্গে বাঁধা হয়েছে সেটাকে।

    রোয়া বেরিয়ে থাকা হলুদ রশিটা পরীক্ষা করলেন ওয়াল্টার। শুকনো ঘাস দিয়ে তৈরি রশি। বেণী বাধার নিয়মে বোনা। ক্লাসিক ইনকান রোপ কনস্ট্রাকশন। কথিত আছে, একটা ইনকান শহরের সব লোক হাত লাগালে মাত্র তিনদিনে একটা রোপ ব্রিজ তৈরি করে ফেলত। মেয়েরা ঘাস তুলে এনে লম্বা বেণী বানাত। তারপর পুরুষরা সেগুলোকে জোড়া লাগিয়ে আরো লম্বা আর মোটা করত।

    কিন্তু একটা বোপ ব্রিজ চারশো বছর টিকে থাকতে পারে না।

    না…না, তা পারার কথা না, চেম্বারস বলল।

    তার মানে ব্রিজটা অন্য কেউ বানিয়েছে, বলল লরেন।

    কিন্তু এরকম একটা অদ্ভুত আয়োজন কেন? প্রশ্ন করল রেস, হাত বাড়িয়ে দেখাল পানি ভর্তি গহ্বরের উপর দিয়ে চলে যাওয়া রোপ ব্রিজের সবচেয়ে নিচু অংশটা। ব্রিজের এই প্রান্তে আলাদা একটা রশি আটকে, পুরো জিনিসটাকে অপরদিকে ফেলে দেয়ার কী মানে?

    জানি না, জবাব দিল চেম্বারস। তবে এ-ধরনের কিছু বানাতে চাওয়ার একটাই কারণ থাকতে পারে, টাওয়ারের মাথায় কেউ যদি কিছু লুকিয়ে রাখতে চায়,..

    লরেনের দিকে ঘুরল ন্যাশ। আপনি কী বলেন?

    চোখ কুঁচকে টাওয়ারের দিকে তাকাল লরেন, হালকা বৃষ্টির মধ্যে কিছুটা অস্পষ্ট। এন আর আই রিডিং-এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে যথেষ্ট উঁচু ওটা, চোখ নামিয়ে ডিজিটাল কমপাসে তাকাল। আমরা রয়েছি গ্রাম থেকে ৬৩২ মিটার দূরে। উচ্চতার কথা মনে রেখে বলতে হয়, আইডলটা ওখানে থাকার প্রচুর সম্ভাবনা আছে।

    .

    ভ্যানে লিওয়েন আর কোচরেন টেনে তুলল রোপ ব্রিজটা, তারপর প্রান্তগুলো লুপ বানিয়ে প্ল্যাটফর্মের নিচু পাঁচিলের সঙ্গে শক্ত করে বাঁধল। ঝুলে থাকা ব্রিজটা এখন গহ্বরের উপর টানটান হয়ে বিস্তৃত, যোগাযোগ রক্ষা করছে রক টাওয়ার প্যাঁচান পথের সঙ্গে।

    বৃষ্টি হয়ে চলেছে।

    বিদ্যুৎচমকে আঁকাবাকা সাদা আলো মাঝেমধ্যেই উদ্ভাসিত করে তুলছে আকাশটাকে।

    সার্জেন্ট, বলল ক্যাপ্টেন স্কট। সেপটি রোপ।

    ভ্যান লিওয়েন সঙ্গে সঙ্গে তার ব্যাকপ্যাক থেকে একটা জিনিস বের করল। এক ধরনের গ্র্যাপলিং হুক ওটা, সঙ্গে কালো নাইলন রোপ-এর একটা কয়েল রয়েছে।

    দীর্ঘদেহী সার্জেন্ট দ্রুতহাতে এ্যাপলিং হুকের শ্যাফটটা এম-২০৩ গ্রেনেড লাঞ্চার দিল, গ্রেনেড লাঞ্চারটা তার এম-১৬ ব্যারেল ফিট করা। তারপর গহ্বরের ওপারে লক্ষ্যস্থির করল সে এবং ফায়ার করল।

    হু-উ-উস শব্দ তুলে ছুটে গেল এ্যাপলিং হুক। গম্বর পেরুবার সময় ধারাল সিলভার আঙটাগুলো বেরিয়ে এসে পজিশন নিল, বাতাসে ঝাঁপটা মারছে পেছনের কালো রশি।

    ওপারে পৌঁছে মোটা একটা গাছের ডালে কয়েক প্যাঁচ খেল হুকটা। নিজের দিকটা এবার প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে বাধল ভ্যান লিওয়েন, ফলে নাইলন রশিটা এখন খাদের উপর ঝুলে থাকল ঝুলন্ত রোপ ব্রিজের ঠিক চার ফুট উপরে।

    অল রাইট, শুনুন সবাই, একটু গলা চড়িয়ে বলল স্কট, ব্রিজ পেরোবার সময় একটা হাত রাখবেন সেফটি রোপে। আপনার পায়ের নিচে থেকে ব্রিজ যদি নেমে যায়, বোপটা আপনাকে পড়ে যেতে দেবে না।

    রেসকে ম্লান হয়ে উঠতে দেখল ভ্যান লিওয়েন। ভয় পাবার কিছু নেই, রশিটা ধরে থাকলেই হবে। আর আমি তো আছিই।

    গ্রিন বেরেটরা আগে গেল, একজনের পেছনে আরেকজন।

    সরু ব্রিজ তাদের ভারে নিচু হলো দোল খেল, তবে খসে পড়ছে না। তাদের পিছু নিয়ে টিমের বাকি সদস্যরা এগোল এবার, নাইলনের সেফটি রোপে হাত রেখে, বিরতিহীন বৃষ্টিতে শীত আরো কাবু করে ফেলছে ওদেরকে।

    রেসের সঙ্গে সবার শেষে ব্রিজ পেরুল, শেফটি রোপটা এতটা জোরে চেপে ধরেছে সে যে হাতের গিঁটগুলো সাদা হয়ে গেছে। ধীরপায়ে হাঁটার ফলে অপর প্রান্তের সংকীর্ণ শৈলশিরায় যখন পা রাখল, ততক্ষণে সামনের লোকগুলো গাছপালার আড়ালে হারিয়ে গেছে, সে শুধু দেখতে পেল পাথরের তৈরি একটা সিঁড়ি গাছপালার দিকে উঠে গেছে। ধাপ বেয়ে উঠছে সে অন্যদের পিছুপিছু।

    ওদের দুপাশে ভিড় করে রয়েছে সবুজ পাতা, ডগা থেকে পানির ফোঁটা ঝরছে। ভেজা পাথরের স্ল্যাব বেয়ে ওঠার সময় ভেজা ফার্ন গাছ তার মুখের ওপর আছড়ে পড়তে লাগল। প্রায় ত্রিশ সেকেন্ড ধাপ বেয়ে ওঠার পর বড়সড় কয়েকটা ঝোঁপের ভেতর দিয়ে ফাঁকা একটা জায়গায় এসে দাঁড়াল ওরা।

    বাকি সবাই আগেই পৌঁছেছে এখানে। তবে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সবাই। প্রথমে বুঝতে পারল না এভাবে সবার দাঁড়িয়ে থাকার কারণ কী। তারপর খেয়াল করল ওদের ফ্ল্যাশলাইট বা দিকে তাক করা।

    ফ্ল্যাশলাইটের আলো অনুসরণ করে তাকাতে জিনিসটা দেখতে পেল ও।

    হলি ক্রাইস্ট, দম নিল ও।

    রক টাওয়ারের সবচেয়ে উঁচু জায়গায়, শক্ত মার্টি শ্যাওলায় ঢাকা, আগাছার ভেতরে লুকান, বৃষ্টিতে ভিজে চকচক করছে পাথরের একটা কাঠামো।

    বৃষ্টি আর ছায়া আড়াল করে রেখেছে ওটাকে তবে পরিষ্কার বোঝা যায় এ ধরনের একটা কাঠামোর ডিজাইন করার পেছনে একটা উদ্দেশ ভয় দেখান ও শক্তি প্রদর্শন। এধরনের একটা কাঠামো বানানোর একটাই উদ্দেশ থাকে তা হল, ভয়, পরম ভক্তি এবং শ্রদ্ধা।

    ওটা একটা টেম্পল।

    .

    রেস গাঢ় পাথরের টেম্পলের দিকে তাকিয়ে থেকে একটা বড় ঢোক গিলল।

    দেখতে অশুভ।

    ঠাণ্ডা এবং নির্মম আর অশুভ।

    কাঠামোটা দেখতে তেমন বড় নয়। আসলে একতলা বাড়ির মতো উঁচু। তবে রেস বুঝতে পারছে আসলে ব্যাপারটা অন্য রকম।

    ওরা শুধু টেম্পলের মাথাটা দেখতে পাচ্ছে, আইসবার্গের মাথা, কারণ ধ্বংসাবশেষটুকু ওদের চোখের সামনে পড়ে রয়েছে তার নিচের অংশ প্রায় অক্ষতই বলা যায়। অদৃশ্য হয়ে গেছে ওদের পায়ের নিচের কাদায়।

    রেস বুঝতে পারল বিশাল কাঠামোটা ওদের পায়ের নিচের কাদায় ডুবে গেছে, চারশো বছরে ভেজা মার্টিতে পুঞ্জিভূত হয়ে গেছে।

    যা দেখল সে, তা ভয়ঙ্কর।

    টেম্পলের মাথার দিকটা মোটামুটি পিরামিড আকৃতিরই বলা যায়। দুটো চওড়া পাথরের ধাপ ছোট একটা ছয়কোনা কাঠামোর সামনে পৌঁছেছে, আকারে সেটা সাধারণ একটা গ্যারেজের চেয়ে বড় নয়। কিউব আকৃতির জিনিসটার দিকে তাকিয়ে একটা ধারণা পেয়েছে সে এক ধরনের ট্যাবারন্যাকেল, পবিত্র একটি ঘর, যেমনটি অ্যাজটেক আর মায়ান পিরামিডের মাথায় পাওয়া গেছে।

    ট্যাবারন্যাকেলের দেয়ালে ভীতিকর সব পিকটোগ্রাফ খোদাই করা হয়েছে: দাঁত মুখ খিচান ভঙ্গিতে একটা বিড়ালের মতো দেখতে প্রাণী, নখরগুলো কাস্তে আকৃতির; মরণাপন্ন মানুষ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। কালের আঁচড়ে অসংখ্য ফাটল তৈরি করেছে টেম্পলের দেয়ালে। না থামা বৃষ্টির ফোঁটা খোদাইয়ের কাজগুলোকে আরো জ্যান্ত করে তুলেছে, এমনটাই জ্যান্ত করে তুলেছিল পানি লেগে টোটেমের গায়ের খোদাইগুলো।

    তবে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ জাগায় ট্যাবারন্যাকেলের মাঝখানটা, যাহোক, পুরো কাঠামোটার বিহ্বল করার মতো, ঢোকার কোনো মুখ। চৌকো একটা প্রবেশপথ।

    কিন্তু এই প্রবেশপথটা তখন বন্ধ। কোন অতীতে কে জানে একদল লোক মুখটায় একটা প্রকাণ্ড বোল্ডার রেখে গেছে। বোল্ডারগুলো বিশাল বড়। রেস আন্দাজ করল জায়গা মতো বসাতে অন্তত দশজন লোককে ঘাম ঝরাতে হয়েছে।

    অবশ্যই প্রি-ইনকান, বলল চেম্বারস, খোদাইয়ের কাজ পরীক্ষা করছে।

    হ্যাঁ, ঠিক তাই, লোপেজ বলল।

    কী করে বুঝলে? লয়েড জিজ্ঞেস করল।

    পিকটোগ্রাফগুলোর মাঝখান ফাঁক খুব কম, বললেন চেম্বারস।

    খুব বেশি বিশদ বিবরণ দেখছি, বলল লোপেজ।

    ক্যাপ্টেন স্কটের দিকে ঘরে গেল ন্যাশ। গ্রামে যোগাযোগ করে, খবর নাও।

    ইয়েস, স্যার। কয়েক পা পিছিয়ে এসে নিজের প্যাক থেকে একটা পোর্টেবল রেডিও বের করল স্কট।

    লোপেজ এবং চেম্বারস তখনো কথা বলে যাচ্ছে।

    আপনার কি মনে হয়, জিজ্ঞেস করল লোপেজ।

    চাচাপয়ান?

    সম্ভবত, বলল চেম্বারস। আবার মোচি হতে পারে। বিড়ালের মতো প্রাণীটার ইমেজটা লক্ষ্য করুন।

    গেবি লোপেজ সন্দেহের দৃষ্টিতে তার মাথাটা ঘোরাল সেদিকে। তা হতে পারে, কিন্তু সেক্ষেত্রে জিনিসটা এক হাজার বছরের পুরানো হয়ে যায়।

    তা হলে গরটাকে ঘিরে থাকা প্যাচান পথ আর এখানকার টাওয়ারের ধাপগুলো সম্পর্কে কী বলবে? চেম্বারস জিজ্ঞেস করল।

    হ্যাঁ…হ্যাঁ, জানি। ভারি অদ্ভুত।

    ন্যাশ বাধা দিয়ে বলল, আমি সন্তুষ্ট হয়েছি দুজনের ওপর এজন্য যে আপনারা দুজনই আকর্ষণীয় কাজ করেছেন, কিন্তু এখন কি নিয়ে কথা বলছেন?

    বেশ, চেম্বারস বলল, এটা মনে হচ্ছে আমাদের সামনে একটা ব্যতিক্রমী জিনিস বেরিয়ে আসছে, কর্নেল।

    কী বলতে চান?

    বেশ, তাকিয়ে দেখুন, প্যাঁচান পথ আর টাওয়ারের সিঁড়ি নিঃসন্দেহে ইনকান ইঞ্জিনিয়ারদের কৃতিতু। ইনকারা আন্দেজের বহু জায়গায় নানা ধরনের ট্র্যাক আর ট্রেইল তৈরি করেছে, তাদের নির্মাণ কৌশল প্রমাণিত। এই দুটো জিনিসে ইনকাদের বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

    মানে?

    মানে পথ আর ধাপগুলো কমবেশি চারশো বছর আগে তৈরি। এই টেম্পল, অন্যদিক দিয়ে দেখলে, আরো অনেক আগে তৈরি করা হয়েছে।

    তো? অস্বস্তি বোধ করছে ন্যাশ।

    এটাই ব্যতিক্রম, বলল চেম্বারস। ইনকারা এমন একটা টেম্পলের যাবার পথ কী কারণে তৈরি করবে, যা তারা তৈরি করেনি?

    আর রোপ ব্রিজটার কথা ভুলবেন না, লোপেজ বলল।

    না, বলল চেম্বারস, ঠিক তাই। ঠিক তাই। বইয়ের পোকা, ছোটখাট বিজ্ঞানী গরটার কিনারার দিকে তাকাল। আমাদের তাড়াহুড়ো করা দরকার।

    কেন? জানতে চাইল ন্যাশ।

    কারণ, কর্নেল, আশেপাশে কোথাও স্থানীয় আদিবাসীরা থাকতে পারে, পবিত্র স্থানে আমাদের নাক গলান তারা ভালো চোখে না-ও দেখতে পারে।

    কী করে বুঝছেন? ন্যাশ বলল দ্রুত। কি করে জানলেন আশেপাশে নেটিভরা আছে।

    কারণ, চেম্বারস বললেন, এই রোপ ব্রিজটা তারাই তৈরি করেছে।

    চেম্বারস ব্যাখ্যা করল ব্যাপারটা। রশি দিয়ে বানান ঝুলন্ত ব্রিজ খুব তাড়াতাড়ি ক্ষয়ে কিংবা ছিঁড়ে যায়। ঘাস দিয়ে বানান রশির ব্রিজ ছিঁড়তে সময় নেবে মাত্র কয়েক বছর। টেম্পলে পৌঁছানোর যে ব্রিজটা ওদের সামনে ঝুলছে সেটা চারশো বছরের পুরানো হতেই পারে না। ওটা সম্প্রতি কোনো এক সময় বানান হয়েছে। এমন একদল লোক বানিয়েছে, যারা ব্রিজ বানাবার ইনকান মেথডটা জানে, সম্ভবত আদিম কেন গোষ্ঠী, বংশ পরম্পরায় এই জ্ঞান পেয়েছে।

    প্রায় গুঙিয়ে উঠলেন ন্যাশ।

    আদিম একটা গোষ্ঠী, রেস নিরুত্তাপ গলায় বলল। এখানে। এখন?

    ব্যাপারটা অসম্ভব নয়, বলল গেবি লোপেজ। অ্যামাজন বেসিনে হারিয়ে যাওয়া ট্রাইব প্রায়ই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। ১৯৮৭ ব্রাজিলিয়ান রেইনফরেস্টে ভিলাস বোয়াস ভাইরা খুঁজে পেয়েছে হারান ক্রিন আকরোরি ট্রাইবকে। ব্রাজিল সরকারের একটা নীতিই আছে, স্টোন এজ ট্রাইব খুঁজে বের করার জন্যে জঙ্গলে এক্সপ্লোরার পাঠাতে হবে।

    আপনি যেমনটা বললেন, তারপরও, এ ধরনের প্রাচীন উপজাতিগুলো ভয়ানক ঘৃণা করে। সরকারের পাঠানো এক্সপ্লোরাররা অনেকেই তাদের হাতে মারা গেছে। পেরুর বিখ্যাত অ্যানথ্রপলজিস্ট ডক্টর মিগুয়েল মোরাস মারকুয়েজ ফিরে আসেননি আর—

    শুনুন! প্রবেশ পথের কাছ থেকে হঠাৎ ওদের দৃষ্টি আকর্ষণ করল লরেন।

    ঘুরল সেদিকে সবাই। চৌকো দরজার মুখে বসান মস্ত বোল্ডারটার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে, এখানে কী যেন লেখা রয়েছে।

    রেস এবং অন্যান্যদের ও যেখানে দাঁড়িয়ে আছে ছুটে এলো তার কাছে। হাত দিয়ে বোল্ডারে সেঁটে থাকা খানিকটা মার্টি সরাল লরেন এবং রেস দেখল লরেন কিসের দিকে তাকিয়ে আছে।

    পাথরটার গায়ে কী যেন খোদাই করা রয়েছে।

    লরেন আরো খানিকটা মার্টি সরাতে, বোঝা গেল ওগুলো সাজান অক্ষরই প্রথম অক্ষর…।

    অক্ষরটা হল N?

    কী লেখা আছে….? জানতে চাইল ন্যাশ।

    হরফগুলো একটা অর্থ পাচ্ছে।

    No entrare

    চিনতে পারছে রেস।

    স্প্যানিশ ভাষায় নো এ্যান্ট্রারে মানে ভেতরে ঢুকো না।

    লরেন বোল্ডারের মাঝখান থেকে আরো খানিক কাদা সরাতে পুরো বাক্যটা বেরিয়ে এল, অপরিপকের মতো পাথরের গায়ে দাগগুলো দেওয়া হয়েছে। তাতে লেখা :

    না এস্ট্রারে অ্যাবসুলুটো
    মুয়েরটে অ্যাসোমারসে ডেন্ট্রো
    এএস

    বাক্যটা মনে মনে অনুবাদ করল রেস। তারপর একটা ঢোক গিলল।

    কী বলা হয়েছে লেখাটায়? জানতে চাইল ন্যাশ।

    তার দিকে ঘুরে গেল রেস। প্রথমে কিছুই বলল না। তারপর বলল সে, বলা হয়েছে কোনো অবস্থাতেই ভেতরে ঢুকবে না। ভেতরে মৃত্যু অপেক্ষা করছে।

    এএস-এর মানে কী? জানতে চাইল লরেন।

    আমার ধারণা, রেস বলল, এএস-এর মানে আলবার্তো সান্টিয়াগো।

    গ্রামে ডুগী কেনেডি অস্থিরভাবে নুড়ি পাথর লাথি মারছে। এখন অন্ধকার, বৃষ্টি তখনো পড়ছে আর অন্যদের সাথে সে পাহাড়ে যেতে পারবে যখন ইচ্ছে হবে।

    ডুগী কি ব্যাপার? কর্পোরাল জর্জ টেক্স রাইকার্ট গ্রামের পুব দিকের পরিখার কাছ থেকে জিজ্ঞেস করল। রাইকার্ট খাম্বার মতো লম্বা এবং রোগা। অস্টিন থেকে তাকে আনা হয়েছে এখানে। অ্যাকশনে যাবে না?

    আমি ঠিক আছি, ডুগী বলল। পাহাড়ে উঠে আমরা যে জিনিসের খোঁজে এসেছি সেটার পেছনে না ছুটে এইখানে গ্রামে থাকাটাই বেশি শ্রেয় মনে করছি।

    রাইকার্ট খ্যাকখ্যাক করে থামল। ডুগীর হিসেব কিতাব ভালো।

    টেক্স রাইকার্ট জানে না যে দক্ষিণের এক ছোট্ট শহরের ডুগী কেনেড়ি আসলে একেবারে অন্য রকম বুদ্ধিমান তরুণ।

    প্রাথমিক পর্যায় ফোর্ট বেনিং-এ পরীক্ষা করে দেখা গেছে তার আইকিউ ১৬০ অস্বাভাবিক কারণ সে হাই স্কুল গ্র্যাজুয়েট।

    পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে অর্কানসাসের লিটল রক স্কুলে, তরুণ ডগলাস কেনেডি স্কুল ত্যাগ করে তার অ্যাকাউন্টেন্ট বাবা প্রতিদিন সন্ধ্যায় চামড়ার ফিতে দিয়ে পিটতে পিটতে অজ্ঞান করে ফেলতেন।

    কেনেডি সিনিয়র তার ছেলের জন্য স্কুলের বই পর্যন্ত কিনে দিতে রাজি হতেন না, প্রায় রাতে তিনি তাঁর ছেলেকে রাতের অন্ধকারে দাঁড় করিয়ে রাখতেন। জোরে দরজা লাগালে এবং বাবার স্টিক বেশি রান্না করলে চার ফুটি ক্লোজেট হল তার সর্বোচ্চ শাস্তির জায়গা। হোমওয়ার্ক কোনো সময় শেষ করতে পারত না, আর কিশোর ডুগী হাই স্কুলে পড়াটা শেষ করতে পেরেছে তার প্রতিভার গুণে।

    গ্র্যাজুয়েট হওয়ার পরদিনই সে আর্মিতে যোগ দিল এবং আর বাড়িতে ফিরে গেল না। স্কুল কতৃপক্ষ দেখল একজন লাজুক ছেলে স্কুল থেকে বেরিয়ে যেতে আর বুড়ো রিক্রুটিং সার্জেন্ট দেখল একজন অধ্যাবসায়ী এবং বুদ্ধিমান ছেলেকে।

    ডুগী স্বভাবে লাজুকৃ তবে তার বুদ্ধি তার মনের শক্তি এবং আর্মি নেটওয়ার্কে সমর্থন দিয়ে যেতে লাগল খুব দ্রুত, সে একজন ভয়ঙ্কর সৈন্যতে রূপান্তরিত হল। দ্রুত র‍্যাঞ্চারে যোগ দিল। তারপর গ্রিন বেরেট এবং ফোর্ট ব্রাগে যোগ দিল এর পরপরই।

    মানে আমি কোনো অ্যাকশনের জন্য বিরক্ত করছি, পুব দিকের পরিখার কাছে রাইকার্ট যেখানে এসি-৭ ভি ঈগল আই সেন্সর নিয়ে শুয়ে আছে সেখানে ফিরে এসে ডুগী বলল।

    আমি তোমার আশা ফলপ্রসু করতে পারব না, রাইকার্ট বলল, থার্মাল ইমেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে ঈগল আই নড়াচড়া করছে। আমার মনে হয় না এই ট্রিপে এমন কোনো উত্তেজনার কিছু ঘটবে।

    মোশান সেন্সর থেকে জোরাল একটা বিপ বেরুল।

    ডুগী আর রাইকার্ট দ্রুত দৃষ্টি বিনিময় করল।

    পরমুহূর্তে দুজনেই ঘুরে গিয়ে রেইনফরেস্টের গভীর অংশটায়, মোশান সেন্সরের সামনে, চোখ বুলাল।

    কিছুই নেই ওদিকে।

    ফার্ন গাছের ঝকঝাক পাতা পরস্পরের উপর দিয়ে চলে গেছে আর ফাঁকা পড়ে রয়েছে জঙ্গল দূরে কোথাও পাখি ডেকে উঠল।

    ডুগী পায়ের কাছ থেকে এম-১৬ তুলল, সমস্ত ইন্দ্রিয় সজাগ রেখে পুব পরিখার উপর ফেলা লগব্রিজে সাবধানে পা রাখল সে। এক মুহূর্ত অপেক্ষা করল, তারপর আবার এগোল বনভূমির সন্দেহজনক জায়গাটার দিকে।

    রেইনফরেস্টের কিনারায় পৌঁছাল সে, তারপর ব্যারেলের ওপর বসান ফ্ল্যাশলাইটটা জ্বালাল।

    সঙ্গে সঙ্গে দেখতে পেল সে।

    চকচকে গায়ে ফুটকি আঁকা, এত বড় সাপ জীবনে কখনো দেখেনি! ত্রিশ ফুট লম্বা অ্যানাকোন্ডা, ভয়ঙ্কর দৌত্যকার সাপ, একটা গাটসর্বস্ব অ্যামাজনিয়ান গাছের শাখা বেয়ে অলস ভঙ্গিতে উঠে যাচ্ছে।

    ওটা এত বড়, ভাবল ডুগী, ওটার নড়াচড়াই মোশান সেন্সরকে অফ করেছিল।

    কী ওখানে? জানতে চাইল রাইকার্ট, তার পাশে এসে দাঁড়াল।

    কিছু না, বলল ডুগী। স্রেফ একটা সা–

    পরমুহূর্তে, কথা শেষ না করেই বন করে আধ পাক ঘুরল ডুগী।

    একটা সাপ মোশান সেন্সর সেট অফ করতে পারে না। সাপের রক্ত ঠাণ্ডা আর মোশান সেন্সর অপারেট করে থার্মাল-ইমেজিং সিস্টেমে। ওটা কাজ করে তাপ অনুভব করলে।

    আবার হাতের অস্ত্রটা বাগিয়ে ধরে সামনের জঙ্গলে ফ্লাশ লাইটের আলো ফেলল ওর সামনের জঙ্গলের পথে।

    এবং জমে গেল সে।

    তার সামনে ভেজা ঝোঁপের উপর একটা লোক শুয়ে রয়েছে। উপুড় হয়ে শুয়ে কালো পরসিলিনের হকি মাস্কের ভেতর দিয়ে ডুগীকে দেখছে সে, মাত্র দশ ফুট দূর থেকে। লোকটার ক্যামোফ্লাজ এত নিখুঁত, চারধারের গাঢ় গাছপালার ভেতরে কোনো রকমে চেনা যাচ্ছে তাকে।

    তবে লোকটার ক্যামোফ্লাজের দিকে ডুগীর খেয়াল নেই।

    তার দৃষ্টি আটকে আছে সাইলেন্সর লাগান এমপি-৫ সাবমেশিন গানের দিকে, সরাসরি ডুগীর নাক বরাবর ত্যাগ করা।

    ধীরে ধীরে মাস্ক ঢাকা ঠোঁটে একটা আঙুল তুলল লোকটা, ভঙ্গি করল—শ, ঠিক এই সময় ডুগী দেখল লোকটার পাশে একই ক্যামোফ্লাজ ড্রেস পরা আরেকজন শুয়ে আছে, তার পাশে আরেকজন এবং তারপর তৃতীয় জন, চতুর্থজন, পঞ্চম জন।

    সামনের ঝোঁপগুলোয় কালো কাপড়ে মোড়া একটা দল শুয়ে আছে।

    কী ব্যাপার বলুন তো শুরু করেই থেমে গেল রাইকার্ট কমান্ডোদের দেখতে পেয়ে। সঙ্গে সঙ্গে হাত চলে গেল অস্ত্রের দিকে কিন্তু একযোগে অনেকগুলো আগ্নেয়াস্ত্রের জোরাল ক্লিক শুনে ওকে আবার ভাবার সুযোগ দিল।

    ডুগী তার চোখ বন্ধ করে বিরক্তিতে।

    অন্তত বিশজন মানুষ লুকিয়ে আছে ঠিক ওদের সামনে।

    হতাশায় অসুস্থ বোধ করছে ডুগী।

    গ্রামটা তার এবং রাইকার্টের হাতছাড়া হল।

    ভেতরে মৃত্যু অপেক্ষা করছে। টেম্পলের পথ আগলে রাখা বোল্ডারটার দিকে ভুরু কুঁচকে তাকাল ন্যাশ।

    তার পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছে রেস, তাকিয়ে আছে টেম্পলের পাথরের গায়ে খোদাই করা গ্রাফিক ইমেজগুলোর দিকে, রোমহর্ষক দৃশ্য, হিংস্র বিড়ালের মতো প্রাণী আর যন্ত্রণায় কাতর মানুষ। আসলে, আরো আক্ষরিক অনুবাদ করা সম্ভব, বলল সে, ঘুরল। অ্যাসোমারসে-এর আক্ষরিক অর্থ ঝুলে থাকা। তা হলে বাক্যটির মানে দাঁড়ায়, ভেতরে মৃত্যু ঝুলে আছে।

    আর এটা কি সান্টিয়াগো লিখেছে ন্যাশ বলল।

    তাই বুঝতে হবে।

    এই সময় ক্যাপ্টেন স্কট ন্যাশের পাশে ফিরে এল। স্যার, একটা সমস্যা হয়েছে। রাইকার্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না।

    কথা বলার সময় তার দিকে ফিরল না ন্যাশ, এখনো বোল্ডারটার দিকে তাকিয়ে আছে। পাহাড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়াছে?

    সিগনালে কোনো সমস্যা নেই, স্যার। রাইকার্ট ধরছে না। কিছু একটা হয়েছে।

    দুই ভুরু কুঁচকে গেল ন্যাশের। তবে কী এরই মধ্যে তারা…

    রোমানো? জিজ্ঞেস করল স্কট।

    ড্যাম ইট, বলল ন্যাশ। এত দ্রুত তারা আসে কী করে?

    আমরা এখন কী করব।

    তারা যদি গ্রামে পৌঁছে থাকে, তা হলে জেনে গেছে এখানে আমরা। স্কটের দিকে দ্রুত ঘুরল ন্যাশ। পানামা, বেইস-এর সঙ্গে যোগাযোগ করো। বলল সে। বিল, প্ল্যান বি শুরু করতে বাধ্য হচ্ছি আমরা, পাহাড়ের ভেতরে ঢুকতে যাচ্ছি। বল, এয়ার সাপোর্ট টিমকে রেডিও মেসেজ দিতে, পাইলটরা যেন আমাদের পোর্টেবল বিকন অনুসরণ করে আসে। এখান থেকে তাড়াতাড়ি সরতে হবে।

    .

    লরেন, কোপল্যান্ড আর দুজন গ্রিন বেরেট তাড়াহুড়া করে বোল্ডারটার তিনদিকে কমপজিশন-টু এক্সপ্লোসিভের কয়েকটা বল ফিট করল।

    সি-২ সফট প্লাস্টিক এক্সপ্লোসিভ, দুনিয়ার প্রায় সব আর্কিওলজিস্ট প্রাচীন কাঠামোর নাগাল পাওয়ার জন্য বাধা সরাতে এটা ব্যবহার করে, মূল দালান কোঠার যাতে ক্ষতি না হয়।

    সবাই যখন কাজে ব্যস্ত হয়ে উঠল, টেম্পলের পেছনটা দেখার জন্য এগোল ন্যাশ, ভাবছে ভেতরে ঢোকার আরেকটা পথ থাকলে মন্দ হয় না। ন্যাশ না ডাকলেও তার পিছু নিল রেস।

    অলস পায়ে হেঁটে কিউবের মতো কাঠামোটার পেছনে চলে যাচ্ছে দুজন। পথটা সমতল পাথর, ট্যাবারন্যাকেলটাকে ঘিরে রেখেছে একটা রেলিংবিহীন ব্যালকনির মতো।

    টেম্পলের পেছনে পৌঁছাতে দেখা গেল মার্টির একটা বাঁধ ওদের কাছ থেকে ঢালু হয়ে নেমে গেছে, একেবারে টাওয়ারের কিনার পর্যন্ত।

    মার্টির টিলাটার মাথায় দাঁড়িয়ে নিচের পথটার দিকে তাকাল রেস, র‍্যাকট্যাঙ্কুলার পাথরের ব্লক সাজিয়ে তৈরি করা।

    সবগুলো একই আকৃতির পাথর, চৌক আকৃতির ব্লকের মাঝে সহজে চোখে পড়ল।

    গোলাকৃতি একটি পাথর।

    ন্যাশও দেখেছে সেটা, এবং ওরা দুজন একসাথে কুঁজো হয়ে পরীক্ষা করতে লাগল ভালো করে।

    ডায়ামিটারে আড়াই ফুট ওটা, চওড়া কাঁধের মানুষের মতো চওড়া, পথের সারফেসের সঙ্গে একই লেবেলে বসান। রেসের মনে হল, পথের উপর সিলিন্ডার আকৃতির একটা গর্ত আছে, সেই গর্তের মুখে নিখুঁতভাবে বসে আছে পাথরটা।

    রোমানো কী কাজে লেগেছে এটা, বলল ন্যাশ।

    রোমানো কে? প্রশ্ন করল রেস, ন্যাশকে একেবারে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে দিয়েছে।

    ন্যাশের বলা ঘটনাটা রেসের মনে আছে, ফ্রেঞ্চ পিরানিজের মঠে খ্রিস্টান সন্ন্যাসীদের খুন করেছে জার্মান খুনিরা; খুনিদের লিডার হেনরিক অ্যানিসটাজের ফটোও দেখান হয়েছে ওকে।

    কিন্তু রোমানো নামে কারো কথা বলেনি ন্যাশ। লোকটা কে এবং ভিলকাফোর শহরে কী করছে সে? আরো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, তার কাছ থেকে ন্যাশ পালাচ্ছে কেন?

    রেসের দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে আছে ন্যাশ, চোখ-মুখ আরো অন্ধকার হয়ে উঠছে।

    প্রফেসর, প্লিজ…

    কে রোমানো?

    এক্সকিউজ মি, রেসকে এক রকম ধাক্কা দিয়ে এগোল ন্যাশ, টেম্পলের সামনে ফিরে যাচ্ছে।

    রেস শুধু মাথাটা ঝাঁকাল তারপর এগিয়ে গেল। টেম্পলের সামনে ফিরে এসে চওড়া পাথরের উপর বসল।

    সে বেশ ক্লান্ত এবং তার মন আবেগপ্রবণ হয়ে আছে। তখন নয়টা বাজে, বারো ঘণ্টা চলার পর প্রচণ্ড ক্লান্ত সে।

    টেম্পলের সিঁড়িতে হেলান দিয়ে বসল তারপর আর্মি পার্কা দিয়ে নিজেকে প্রায় ঢেকে দিল। হঠাৎ প্রচণ্ড অবশাদ ঘিরে ধরল তাকে। ঠাণ্ডা পাথরের ধাপে মাথাটা রেখে চোখ বন্ধ করল।

    এর পরপরই শুনতে পেল শব্দটা।

    অদ্ভুত একটা আওয়াজ। তীক্ষ্ণ আঁচড়ানোর শব্দ।

    দ্রুত, দৃঢ় এবং প্রায় অস্থির তবে অস্বাভাবিক চাপা আওয়াজ। আসছে মনে হয় তার মাথার তলার পাথরের সিঁড়ির নিচ থেকে।

    ভুরু কুচকে গেল রেসের।

    নখ দিয়ে পাথরে আঁচড়ানোর শব্দ হচ্ছে যেন।

    সাথে সাথে উঠে বসল সে, ন্যাশ এবং অন্যান্যদের দিকে তাকাল।

    ভাবল সে বলবে পাথরে আঁচড়ানোর কথা কিন্তু সে কোনো সুযোগ পেল না, কারণ সেই মুহূর্তে, সেই চমৎকার মুহূর্তে দেখল হক পাখির মতো দেখতে দুটো অ্যাটাক হেলিকপ্টার বৃষ্টির ভেতর রক টাওয়ারের উপর স্থির হয়ে আছে, ও দুটো রোটর ব্লেড প্রচণ্ড শব্দে ঘুরছে, বন্দুক থেকে অগ্নিবর্ষণ হচ্ছে আর স্পট লাইটের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠছে টাওয়ারের ওপরটা।

    ঠিক সেই মুহূর্তে অটোমেটিক বন্দুক থেকে গুলিবর্ষণ হতে শুরু হল রেসের চারপাশে। একঝাক বুলেট তার মাথার ইঞ্চিখানেক ওপরে পাথরের দেয়ালে আঘাত হানল।

    নিজেকে বাঁচানোর জন্য টেম্পলের কোনায় ঝাঁপিয়ে পড়ল, পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখল ছোটখাটো একটা ছায়া সৈন্যদল বেরিয়ে আসছে ফাঁকা জায়গাটা থেকে, অন্ধকার এই রাতে ওদের হাতের অস্ত্র থেকে গুলিবর্ষণের ফলে আগুনের ফুলকি বেরিয়ে আসছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    Next Article জলঙ্গীর অন্ধকারে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }