Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    টেম্পল – ম্যাথিউ রীলি

    হাসান খুরশীদ রুমী এক পাতা গল্প571 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩.২ দুর্গের ওপর

    দুর্গের ওপর, ডুগী শপথ নিল।

    শেষ গুলিটার পর তার গুলি শেষ। দুর্গের প্রাচীরের আড়ালে গিয়ে রিলোড় করতে লাগল।

    নদীর দিকে, উল্টান এটিভি-র ভেতর থেকে বাইরে ঝুলছে ভ্যান লিওয়েন, নিজের ওজন নিয়ে ঝুলছে সে, সতর্ক এই জন্য যে তার পেছনে কুয়াশার ভেতর রাপাদের থাকার সম্ভাবনা আছে।

    ওজনটা ওপরের দিকে তুলুন! ন্যাশ চেঁচিয়ে বলল গাড়ির ভেতর থেকে। আমরা ওটাকে ওপরে উঠাতে চাই!

    ওরা দ্রুত এগিয়ে গেল এবং সাথে সাথেই এটিভি ভারসাম্য নিয়ে নিল, উঠতে শুরু করল।

    ভ্যান লিওয়েন দ্রুত বেরিয়ে আসতে লাগল—হাম্প-বিশাল বড় আট চাকার গাড়ির ওপর দাঁড়াল এবং সে তার পাশের দরজার দিকে এগিয়ে গেল দ্রুত।

    .

    কুয়াশার ভেতর দিয়ে এখন ছুটছে রেস, হঠাৎ যেন ওর চোখের সামনে থেকে পর্দা সরে গিয়ে উন্মোচিত হল একটা মঞ্চ, কুয়াশার চাদর ফাঁক হয়ে বেরিয়ে পড়ল দুৰ্গটা।

    এরপরপরই কাছাকাছি কোথাও একটা জি-১১-র সেফটি রিলিজ করার ক্ল্যাক ক্ল্যাক আওয়াজ ঢুকল কানে। স্থির হয়ে গেল সে, ধীরে ধীরে ঘুরল, দেখল ওর পেছনে কুয়াশার ভেতরে দাঁড়িয়ে রয়েছে আরো একজন নাজি কমান্ডো হাতের জি ১১ টা ওর মাথা বরাবর তাক করা।

    ইতোমধ্যে পরিচিত হয়ে ওঠা ডুগীর স্নাইপার রাইফেলের আওয়াজ শোনার অপেক্ষায় রয়েছে রেস। কিন্তু আওয়াজটা এলো না।

    কেন গুলি করছে না আর?

    তারপর ভয়ানক এক গর্জন শুনতে পাওয়া গেল, যা রেস ভাবল বিড়ালের হুঙ্কার।

    তবে গর্জনটা কোনো বিড়াল করেনি।

    এটা একটা ইঞ্জিন স্টার্ট নেয়ার শব্দ।

    ব্যাপারটা চোখের পলকে ঘটে গেল, কুয়াশা ভেদ করে এটিভি ছুটে এসে নাজির পিঠে ধাক্কা মারল।

    ছিটকে পড়ল নাজি, বড় ভেহিকল তাকে চাপা দিয়ে ছুটল। এমন কী রেসকে লাফ দিয়ে সরে যেতে হল ওটার পথ থেকে। ওকে পাশ কাটিয়ে সোজা ছুটল এটিভি, তারপর ঝাঁকি খেয়ে থামল ঠিক দুর্গের প্রবেশপথের সামনে, একটু বাঁকা হয়ে যাতে বাম দিকের টানা দরজাটা দুর্গের দরজার মুখোমুখি থাকে।

    এক সেকেন্ড পর এটিভি-র হ্যাচ খুলে যেতে দেখল রেস, সেটা থেকে উপরে উঠল সার্জেন্ট ভ্যান লিওয়েনের মাথা।

    হেই, প্রফেসর, আপনি আসবেন নাকি?

    এক লাফে এটিভি-র পেছনে উঠে পড়ল রেস, মাথাটা প্রথমে ডাইভ দিল হ্যাচ লক্ষ্য করে। গাড়ির ভেতর ঢুকতেই নিজের পেছনে স্টিলের হ্যাচ বন্ধ করে দিল ভ্যান লিওয়েন।

    .

    আইডলটা নিয়ে গেছে ওরা, বলল ভ্যান লিওয়েন, দুর্গের মেঝেতে বসে রয়েছে সে, বাকি সবাইও বসে আছে তার চারপাশে, অর্ধেক ফ্ল্যাশ লাইটের আলোয় আলোচনায় বসেছে ওরা। এটিভি-র খোলা দরজাটা তার পেছনে, দুর্গের পাথুরে দোরগোড়াটাকে পুরোপুরি ঢেকে দিয়েছে।

    ওহ, বলল লরেন। ওই থাইরিয়াম যদি তারা একটা ওয়ার্কেবল সুপারনোভায় ফিট করে, সব শেষ,

    এখন আমাদের করণীয় কী? জোহান ক্রাউশ বলল।

    আমরা ওদের কাছ থেকে ছিনিয়ে আনব, দৃঢ়কণ্ঠে বলল ন্যাশ।

    কিন্তু কীভাবে? জানতে চাইল ট্রয় কোপল্যান্ড।

    আইডলটা ফিরে পেতে চাইলে ওদের পিছু নিতে হবে, বলল ভ্যান লিওয়েন। এই সময়টাতেই সবচেয়ে অরক্ষিত অবস্থায় তারা। এখানে এসেছিল আইডলটা কেড়ে নেয়ার জন্যে, এখন তারা ফিরে যাচ্ছে যেখানে সুপারনোভাটা রেখেছে। স্ন্যাচ এবং গ্র্যাব মিশনের এই সময়টা তাদের জন্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক।

    ওদের আস্তানাটা তা হলে কোথায়?

    কাছাকাছি কোথাও হবার কথা, দৃঢ় সুরে বলল রেস। অবাক হয়ে মেনে নিল এমনকি নিজেও। এখানে ওদের আসার ধরনটা অন্তত তাই বলে।

    এখানে ঠিক কীভাবে ওরা এলো, প্রফেসর? অবিশ্বাস্য গলায় বলল কোপল্যান্ড।

    আমি ঠিক জানি না, রেস বলল, তবে আমার মনে হয় আমি ভালো একটা ধারণা করেছি। এক, এখানে আসার জন্যে এমন ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করেছে তারা, যাতে আপনাদের এসএটি-এসএন নেটওয়ার্ক, তাই উড়ে আসেনি তারা। দুই, উড়ে যদি না আসে নিশ্চয়ই হেঁটেও আসেনি। ত্রিশজন লোককে রেইনফরেস্টের ভেতর দিয়ে দ্রুত, সহজে পৌঁছে দিতে পারে?

    ওই, ড্যাম, কেন যে আগে মনে পড়েনি… লরেন বলল।

    কী? অস্বস্তি নিয়ে জিজ্ঞেস করলেন কোপল্যান্ড।

    নদীপথ, বলল লরেন।

    ঠিক তাই, বলল রেস। বোটে চড়ে এখানে এসেছে তারা। এর মানে হল, তাদের অপারেশনাল হেডকোয়ার্টার খুব বেশি দূরে নয় থামিয়ে দিল সে নিজেকে।

    কোথায় সেটা? জানতে চাইল ন্যাশ। কোথায় তাদের বেশ অপারেশন রেস?

    কিন্তু তার কথায় কান নেই রেসের। কী যেন একটা মনে করেতে চাইছে ওর।

    বেস অব অপারেশন…

    কোথায় শুনেছে শব্দ দুটো?

    প্রফেসর রেস? ডাকলেন ন্যাশ।

    অপেক্ষার সময় নেই। না, শোনেনি, সে।

    শব্দ দুটো দেখেছে।

    হঠাৎই মনে পড়ে গেল।

    লরেন টেলিফোন সংলাপের সেই ট্রান্সক্রিপ্টটা কি এখনো আছে তোমাদের কারো কাছে? যার মধ্যে নাজিদের মুক্তিপণ প্রসঙ্গটা ছিল? পেরু আর কলোনিয়া অ্যালমানিয়ার মাঝখানে টেলিফোন আলাপটা, বিকেএ যেটা ইন্টারসেপ্ট করেছিল?

    কথা শেষ হবার আগেই নিজেদের ইকুইপমেন্ট হাতড়াতে শুরু করেছে লরেন।

    পেয়েছি, কাগজটা রেসের হাতে ধরিয়ে দিল সে।

    সেটার প্রথম কয়েকটা লাইনে নতুন করে চোখ বুলাল রেস।

    কণ্ঠস্বর ১: কারণ অপারেশন শুরু হয়ে গেছে–বাকিটা-হবে-আমার—

    কণ্ঠস্বর ২:ডিভাইস সম্পর্কে?প্রস্তুত?

    কণ্ঠস্বর ৩: আমেরিকান মডেল আওয়ারগ্লাস ফর্মেশনে নেওয়া হয়েছে–দুটো

    থার্মোনিউক্লিয়ার ডিটোনেট ওপরে এবং নিচে টাইটেনিয়াম অ্যালোয় ইনার চেম্বারে বসান হয়েছে। ফিল্ড টেস্ট নির্দেশিত করছে–ডিভাইস অপারেশনাল। এখন আমাদের দরকার–থাইরিয়াম।

    কণ্ঠস্বর ২: চিন্তা করবেন না, অ্যানিসটাজ দায়িত্বে আছে—

    কণ্ঠস্বর ১:- ম্যাসেজের খবর কি?

    কণ্ঠস্বর ২: আইডল হাতে পাওয়ার সাথে সাথে বেরিয়ে যাব–ইয়োরোপীয়ান ইউনিয়নের প্রত্যেক প্রাইম মিনিস্টার এবং প্রেসিডেন্ট–সেই সাথে ইন্টারনাল অ্যামার্জেন্সি হটলাইনের মাধ্যমে ইউনাইটেড স্টেটসের প্রেসিডেন্ট–আমেরিকান ওয়ান হান্ড্রেড বিলিয়ন ডলার মুক্তিপণ– নাহলে আমরা ডিভাসটা ডিটোনেট করে দিব…

    রেসের চোখ স্থির হয়ে রইল প্রতিলিপির প্রথম দুই লাইনের ওপর।

    কণ্ঠস্বর ১: ~ কারণ অপারেশন শুরু হয়ে গেছে–বাকিটা–হবে–আমার

    আমার… রেস উঁচু গলায় বলল। আমার…আমার।

    লরেনের দিকে তাকাল সে। এখানে আসার পথে হিউ থেকে একটা পরিত্যক্ত সোনার খনি দেখেছিলাম আমরা? কী যেন নাম ওটার? আলোয় ঝলমল করছিল? দেখে মনেই হচ্ছিল না যে পরিত্যক্ত?

    মাদ্রে দ্য ডিয়স গোল্ডমাইন, বলল লরেন।

    ওটা কি নদীর ধারে?

    হ্যাঁ, অলটো পুরুস নদীর কিনারায়। আমাজনের ওপেন-কাট টাইপের প্রায় সব খনিই নদীর ধারে, কারণ এদিক থেকে সোনা নিয়ে যাবার বাহন বলতে হয় বোট নয়তো সিপ্লেনকে বোঝায়?

    এখান থেকে কত দূরে হবে খনিটা?

    ঠিক বলতে পারব না। ষাট, সত্তর মাইল হবে।

    ন্যাশের দিকে ফিরল রেস। ওখানেই যাচ্ছে তারা কর্নেল, মাদ্যে দ্য ডিয়স গোল্ডমাইনে। বোটে চড়ে। ঝোঁপ-ঝাড় ভেঙে পুবদিকে এগোচ্ছে হেনরিক অ্যানিসটাজ, সর্বশেষ ঝোঁপের কয়েকটা ডাল একপাশে সরিয়ে দিল সে।

    সেই সঙ্গে তার চোখের সামনে উন্মুক্ত হল দিগন্ত পর্যন্ত সবুজ কার্পেটের মতো বিস্তৃত আমাজন রেইনফরেস্ট।

    সমমালভূমির কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে অ্যানিসটাজ, ঝোঁপ-ঝাড়ে ঢাকা একটা পাহাড়-প্রাচীরের মাথায়, যেখান থেকে নিচের রেইনফরেস্ট দেখা যাচ্ছে যত দূর দৃষ্টি পৌঁছায়। তার ডানদিকে ঝরছে দুশো ফুট লম্বা জলপ্রপাত, সমমালভূমির কিনারা থেকে নামছে কেইমান ভর্তি নদীটায়, যে নদী প্রাচীন ভিলকাফোরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে।

    জলপ্রপাতের দিকে তাকালই না অ্যানিসটাজ।

    তার দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে নদীর চওড়া অংশে ভাসমান বেসটাকে।

    আপন মনে হাসল সে।

    হ্যাঁ…।

    তারপর আইডলটাকে বুকের সঙ্গে সেঁটে ধরে রশির তৈরি মই বেয়ে পাহাড় প্রাচীর থেকে নদীর দিকে নামতে শুরু করল।

    বেশ, তারপর, বলল কোপল্যান্ড। কিন্তু এখন এই বাস্টার্ডদের ধরার উপায় কী? পনেরো মিনিট হল এখান থেকে রওনা হয়েছে তারা, এরই মধ্যে অনেক দূর চলে গেছে। তা ছাড়া বাইরে রাপা আছে।

    তাদের বোট যেখানে আছে বলে ধারণা করছি সেখানে পৌঁছাবার অন্য একটা পথ আছে, বলল রেস একটা রুট, যেটা ধরে গেলে রাপাগুলোকে এড়াতে পারব আমরা।

    কোন রুট? প্রশ্ন করলেন ন্যাশ।

    সাথে সাথে মেঝেতে হাঁটু গাড়ল রেস, দুর্গের মার্টির মেঝে হাতড়াচ্ছে।

    কী করছেন আপনি?

    একটা জিনিস খুঁজছি।

    কী, সেটা?

    জবাব না দিয়ে মেঝেটায় তল্লাশি চালাচ্ছে রেস। ম্যানুস্ক্রিপ্ট অনুসারে জিনিসটা এখানেই কোথাও থাকার কথা। একমাত্র প্রশ্ন হল ইনকারা জিনিসটা চিহ্নিত করার জন্য একই প্রতীক চিহ্ন ব্যবহার করেছে কিনা।

    এই যে, হঠাৎ বলল সে, মার্টির মেঝেতে হাত বুলিয়ে ধুলো-মার্টির পাতলা আবরণের নিচে পাথরের একটা স্ল্যাব পেয়েছে ও।

    স্ল্যাবটার এক কোণে প্রতীক চিহ্নটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে–বৃত্তের ভেতর এক জোড়া v1

    একটু সাহায্য করুন, বলল সে।

    ভ্যান লিওয়েন আর ডুগী এগিয়ে এলো। শক্ত হাতে ধরে স্ল্যাবটাকে ধরে টানতে থাকে।

    পাশের পাথরে ঘষা খেয়ে গম্ভীর আওয়াজ করছে স্ল্যাব, নিজের আস্তানা ছেড়ে অনিচ্ছাসত্ত্বেও ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসছে, উন্মুক্ত করছে কালির মতো কালো একটা গর্ত।

    এটা একটা কোয়েঙ্কো, বলল রেস।

    কী? জিজ্ঞেস করল ন্যাশ।

    আমি ম্যানুস্ক্রিপ্টে এটার কথা পড়েছি। কোয়েঙ্কো মানে গোলকধাঁধা পাথর কেটে ভিলকাফোর গ্রামের নিচে তৈরি করা হয়েছে, এস্কেপ রুট হিসেবে। এটা একটা টানেল সিস্টেম, সমমালভূমির শেষ মাথায় জলপ্রপাতের কাছে পৌঁছান যাবে–গোলকধাঁধার রহস্যটা যদি আপনার জানা থাকে।

    তার মানে কি রহস্যটা আপনার জানা আছে?

    হ্যাঁ।

    কীভাবে? বিদ্রুপের সুরে জিজ্ঞেস করলেন।

    কারণ আমি ম্যানুস্ক্রিপ্টটা পড়েছি।

    তো, কে যাবে, বলল লরেন।

    ভ্যান লিওয়েন আর কেনেডি, ন্যাশ বলল। আর যে বন্দুক বহন করতে পারে। সে যোগ করল আরো, দুজন বিকেএ এজেন্টের দিকে তাকাল, আর জার্মান প্যাট্রাপার মোল্কে। রেনে, শ্রোয়েডার এবং মোল্কে সকলে সম্মতিসূচক মাথা নাড়ল।

    কোপল্যান্ডের দিকে ফিরল ন্যাশ। তোমার কি খবর, ট্রয়?

    আমি জীবনেও বন্দুক ধরে দেখিনি, কোপল্যান্ড বলল।

    ঠিক আছে। তোমাদের পাঁচজন দেখতে এমন

    আমি একটা বন্দুক চালাতে পারব। রেস বলল।

    কি বললেন? কোপল্যান্ড বলল।

    ঠিক আছে, রেস কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল, কিছু বন্দুক ধরেছি। আমার ভাই মাঝেমধ্যে বাসায় নিয়ে আসত। আমি ওগুলোর ব্যাপারে অভ্যস্ত ছিলাম না তবে–

    প্রফেসর রেস আমার সাথে দৌড়তে পারেন, ভ্যান লিওয়েন বলল, এগিয়ে এসে, রেসের সাথে দৃষ্টি বিনিময় করল, হাতে তুলে দিল একটা এস আইজি– সায়ার পিস্তল। রক টাওয়ারের ওপর তার কাজ দেখে এটা তুলে দিলাম।

    ন্যাশের দিকে ঘুরল। এই-ই তাহলে, স্যার?

    ন্যাশ মাথা নাড়ল। যা মনে চায় তাই করো, শুধু আইডলটা নিয়ে এসো। কয়েক মিনিটের মধ্যে আমাদের এয়ার সার্পোট চলে আসবে। যখনই ওরা চলে আসবে, আমি ওদেরকে তোমাদের কাছে পাঠাব। তোমরা যদি কোনোভাবে আইডলটা হাতে নিতে পার তাহলে নাজি বেজন্মাদের কিছুক্ষণের জন্য চাপিয়ে রাখতে পারবে, এয়ার সাপোর্ট টিম তোমাদেরকে বের করে নিয়ে আসতে পারবে। ঠিক আছে?

    বুঝেছি, ভ্যান লিওয়ন বলল, এম-১৬ শক্ত করে ধরে। তাহলে চলুন।

    .

    পথ দেখাচ্ছে ভ্যান লিওয়েন। ছুটে চলেছে মরু কোয়েঙ্কোর পাথরের পথ ধরে যা ভিলকাফোরের নিচ দিয়ে গেছে।

    এম-১৬ টা কাঁধে ঝুলিয়ে নিয়েছে ও, বন্দুকের ব্যারেল সংযুক্ত ছোট ফ্ল্যাশ লাইটের আলো ওদের সামনের টানেল আলোকিত করে রেখেছে।

    ওদের পেছনে রেস, ডুগী, মোন্ধে এবং দুইজন বিকেএ এজেন্ট দ্রুত ছুটে চলেছে। ডুগী এবং তিনজন জার্মান তাদের হাতের এম-১৬ বাগিয়ে ধরে আছে। রেস শুধু নিয়েছে এসআইজি-সায়ের।

    সে বলতে চাইল না, ভয়ে রেস মন থেকে বের করে দিল। কিন্তু সে ভ্যান লিওয়েন এবং ডুগী এবং জার্মানরা আইডলটার পেছনে, নাজিদের পেছনে ছুটে চলেছে সেখানেই যেতে চেয়েছিল। কিছু একটা করতে হবে।

    কোয়াঙ্কো তার মনকে সাহায্য করছে না স্থির থাকার জন্য।

    এটা অনেকটা ভীতিকর ভুনজিওন, দুঃস্বপ্নের গোলকধাঁধা সাথে রয়েছে ঘন পাথরের দেয়াল আর পিছল কাদার মেঝে।

    বড় বড় লোমওয়ালা মাকড়শা ঘুরে বেড়াচ্ছে অন্ধকারে, তার ভেতর ছয়টা পাশ দিয়ে চলে গেল, সেই সাথে মোটা তাজা সাপ কাদার ভেতর দিয়ে সড়সড় করে চলে গেল টানেলের মেঝে দিয়ে। এটা অনেকটা ক্লাস্ট্রোফোবিক, জাহান্নামের মতো ক্লাস্ট্রোফেবিক; প্রতিটি প্যাসেজওয়ে তিনফিট চওড়া লক্ষ্য করে দেখল।

    ভ্যান লিওয়েন দ্রুত দৌড়ে যাচ্ছে সামনে।

    ডানদিকের তৃতীয় টানেলটা ধরব আমরা, বলল রেস, পেছন দিক থেকে। তারপর আঁকাবাঁকা পথ, বামদিক থেকে শুরু।

    রেস এবং অন্যারা যখন মার্টির নিচের গোলকধাঁধার ভেতর দিয়ে ছুটে চলেছে ঠিক ওই একই সময় সমমালাভূমির নিচে নেমে এলো হেনরিক অ্যানিসটাজ।

    নদীর কিনারায় পৌঁছে ছোট্ট একটা লাফ দিয়ে সরাসরি রাবারের তৈরি জোডিয়াক স্পিডবোটে চড়ল তারা।

    রেডিওর মাইক অন করল সে। ডিমলিশন টিম রিপোর্ট।

    কোনো জবাব এলো না।

    কুয়েঙ্কো ধরে ছুটছে দলটা।

    সেটা কখনো বামে মোচড় নিয়েছে, কখনো ডানে। কোথাও মাকড়সার জাল দুর্ভেদ্য, মোটা সাপ চল্লিশ ফুটি, যেখানে কাদা নেই সেখানে আছে কালচে শ্যাওলা।

    হেই, ভ্যান লিওয়েন, টানেলের দীর্ঘপথ দিয়ে দৌড়ে যেতে যেতে রেস বলল।

    হ্যাঁ? জবাব দিল ভ্যান লিওয়েন।

    ৮০ ক্লাবটা কি?

    ৮০ ক্লাব?

    তোমরা যখন গতরাতে চপারগুলো থেকে মাল নামাচ্ছিলে তখন কোচরেন কথাটা বলেছিল, কিন্তু সে কিছুই বলেনি। মারা যাওয়ার আগে আমি জেনে যেতে চাই।

    দৌড়তে দৌড়তে ভ্যান লিওয়েন নাক টানল, আমি আপনাকে বলব, কিন্তু এটা অমার্জিত।

    চেষ্টা করে দেখ।

    ঠিক আছে… ভ্যান লিওয়েন বলল। ওটা এমনই। ৮০ ক্লাবের মেম্বার হতে হলে আপনাকে অবশ্যই ১৯৮০ সালে জন্ম নেওয়া মেয়ের সাথে অন্তরঙ্গ হতে হবে।

    ওহ্, ম্যান! রেস বলল।

    বলেছিল এটা একেবারে অমার্জিত, ভ্যান লিওয়েন বলল।

    ওরা দৌড়ে চলেছে।

    সাত মিনিট যাবত ওরা ছয়জন কোয়াঙ্কোর ভেতর দিয়ে দৌড়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই হঠাৎ করে ভ্যান লিওয়েন একটা বাঁক ঘুরল এবং আঁছড়ে পড়ল পাথরের দেয়ালে।

    আসলে ওটা আসল দেয়াল নয়।

    একটা ডোরস্টোন।

    দুর্গে যে রকম ডোরস্টোন আছে, প্রায় সেরকমই চৌকো একটা বোল্ডার, নিচের দিকটা পাতিলের মতো, ভেতর দিক থেকে গড়িয়ে খোলা যায়।

    রেস এবং কমবে ভ্যান লিওয়েন বোল্ডারটা এক পাশে সরাল এবং সেই সঙ্গে ওদের উপর যেন আঁছড়ে পড়ল বিশাল একটা জলপ্রপাতের গর্জন।

    জলপ্রপাতটা ওদের থেকে মাত্র দশ ফুট দূরে, চোখে-মুখে উড়ে এসে লাগছে। পানির মিহি কণা।

    চারদিকে ভালো করে চোখ বুলাল রেস।

    ইনকা আমলের একটা পথের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে ওরা, জলপ্রপাতের পেছনদিকে পাথরের দেয়াল কেটে তৈরি।

    এরই মধ্যে সমমালভূমির কিনারায় পৌঁছে গেছে ওরা।

    জলপ্রপাতের গর্জন এখানে অবিশ্বাস্য রকমের জোরাল। অন্য সব আওয়াজকে চাপা দিয়ে রেখেছে। কথা বলার সময় চিৎকার করতে হল ভ্যান লিওয়েনকে।

    এদিকে! বায়ে ঘুরে গেল ও।

    ভিজে পাথুরে পথটা পিচ্ছিল হয়ে আছে, অঝোর ধারায় নেমে আসা পানির পর্দা পেছন দিয়ে সাবধানে এগোল ওরা। পানির পর্দার প্রান্তে পৌঁছাতে দেড় মিনিট সময় লাগল ওদের।

    দ্রুত হাঁটার পরও পর্দার প্রান্তে পৌঁছুতে পুরো একটা মিনিট লেগে যাচ্ছে।

    জলপ্রপাতটা খুব চওড়া, কোয়েঙ্কো থেকে ওটার ঠিক মাঝ বরাবর বেরিয়ে এসেছে ওরা।

    নিরেট জমিনে সবার আগে পৌঁছাল ভ্যান লিওয়েন, কর্দমাক্ত নদীর কিনারায় পিছলে যাওয়া পা দুটোকে কোনো রকমে নিয়ন্ত্রণে রাখল। হলি সিট, বলল সে।

    কী হয়েছে? ওর পাশে চলে আসার সময় জিজ্ঞেস করল রেস এবং নদীর দিকে তাকাল।

    প্রথমে সে দেখতে পেল হেনরিক অ্যানিসটাজের ছোট্ট জোডিয়াক স্পিড বোটটা পানিতে মসৃণ ফিতের মতো একটা চওড়া দাগ রেখে দ্রুত দূরে সরে যাচ্ছে।

    কি বলতে চাইছেন আপনিই, বলল সে।

    তারপর বাকি বোটগুলোও দেখতে পেল ওরা।

    হলি সিট।

    .

    ওটা দেখতে অনেকটা প্রকৃত আর্মাডার মতো লাগছে। জলপ্রপতের উৎসের কাছে চওড়া বাদামী নদীতে অন্তত বিশটির মতো নৌযান রয়েছে, সবগুলো নৌযানই একই আকৃতির এবং একই আকারের।

    পাঁচটা লম্বা মতো অ্যাসল্ট বোট দ্রুতগতিতে সামরিক দূরত্বে অবস্থান নিয়ে ছুটে চলেছে। দেখতে কঠিন, চিকন, খোলামেলা অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি হালের আক্রমণাত্মক নৌযানগুলো দ্রুতগতির কারণে এসএএস-রা ব্যবহার করে থাকে।

    আর্মাডার কেন্দ্রের পাশে বড় বড় নৌযানগুলোর পাশ দিয়ে অসতর্কভাবে এগিয়ে যাচ্ছে চারটে ভিয়েতনাম যুদ্ধে ব্যবহৃত পাইবার নামক মিলেটারি প্যাট্রোল বোট। পাইবার হল ৩৫ ফুট লম্বা অতি দ্রুত গতিসম্পন্ন গানবোর্ট যার বডিতে আর্মার প্লেটিং লাগান আছে। টুরেটের ওপর বসান আছে ২০ মিমি মেশিন গান আর সাইড-মাউন্টেড টর্পেডো পড় আছে। সার্ভিসম্যানদের কাছে ওটাকে সংক্ষিপ্তভাবে বলা হয়ে থাকে পিবিআর (প্যাট্রোল বোট রিভার), তারপরেও পাইবারকে বেশি চেনে ভিয়েতনাম যুদ্ধে ব্যবহারের কারণে। হলিউডের চলচ্চিত্র অ্যাপোকেলিপসি নাউ এই গানবোট অমর করে রেখেছে।

    তিনটি বিশাল আকারের হেলিকপ্টার আক্রমণাত্মক নৌযানগুলোর কেন্দ্রে অবস্থিত ল্যান্ডিং বার্জের ওপর ল্যান্ড করল। দুটো বার্জের মধ্যে একটা হেলিপ্যাডে মাসকুইটো লাইট অ্যাটাক হেলিকপ্টার আছে। চপারগুলো তৃতীয় বার্জের ওপর ল্যান্ড করেছে।

    মাঝখানের হেলিপ্যাড বার্জের পেছন থেকে দেখলে আকর্ষণীয় লাগে না তিনটি আন্ট্রা-হাই-টেক মাসকুইটোর পাশে, বরং দেখলে মনে হয় ছোট সী প্লেনের মতো।

    সীপ্লেনটা দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে ব্যবহৃত গ্রুম্যান জেআরএফ-৫ গুজ, দুটো কমপেক্ট প্রপেলার চালিত রিভার প্লেন।

    গ্রুম্যান শুজ ছোট্টখাট্টো একটা প্লেন, ডিজাইনটাও ক্লাসিক। পার্শ্ব থেকে ওটার বো দেখতে ল্যাব্রাডোর স্নাউটের মতো, ছোট অথচ উপরটা সমতল তবে নিচের দিকটা গোলাকৃতি। দুই পাশের দুই ডানার নিচ থেকে বেরিয়ে আসা দুটো স্ট্যাবিলাইজিং পন্টুনের ওপর ভর করে পানিতে ভেসে থাকে। লক্ষ্যণীয় বিষয় হল গুজের ভেতর ঢোকার জন্য দুটো পথ আছে, একটা পার্শ্ব দরজা আরেকটা নাকের ওপর পপ-আপ হ্যাচ।

    এই গুজে অবশ্য একটা আলাদা জিনিস লাগান আছে। বাঁ দিকে একটা লাইট ওয়েট টুইন ব্যারেলড ২০ মি মি গালিং গান বসান আছে।

    নাজি ফ্লিটের ঠিক মাঝখানে আর্মাডার ফোকাল পয়েন্ট, আর অ্যানিসটাজের জোডিয়াক, বিশাল বড় এক সাদা দুই কাঠামো বিশিষ্ট নৌযান।

    কমান্ড নৌযান।

    দেখতে অসাধারণ, অসম্ভব পাতলা, মোটামুটি ১৫০ ফুট লম্বা। ওটার বিশাল বড় দুই হাল আদি অকৃত্রিম সাদা রঙ যেখানে ঢালু জানালাগুলো টিনটেড জেট ব্ল্যাক রঙের। ছাদের ওপর সোনার চক্রাকারে ঘুরছে। হেলিপ্যাড়ে একটা সাদা বেল জেট র‍্যাঞ্জার হেলিকপ্টার দাঁড়িয়ে আছে যার ফলে যানটাকে বিশাল বড় মনে হচ্ছে।

    হেলিকপ্টারের ফলে বিশাল বড় নৌযানটির চারপাশে পানি আন্দোলিত হচ্ছে, ওটার সঙ্গে বাঁধা স্পীডবোট রেস তার জীবনে দেখেনি। কমান্ড বোট এবং হেলিকপ্টারের মতো ওটাও সাদা রঙ করা–ম্যাচিং সেট যেন। স্পীড বোটটি পানির কাছে বাঁধা, ওটার অতিরিক্ত লম্বা হাল বো-কে শঙ্কুর মতো চোখা করে তুলেছে। ড্রাইভার সিটের ওপর একটা ব্যাকওয়ার্ড স্লেনটিং স্পয়েলার আর্চ রয়েছে, টপ স্পীডে চলার সময় যাতে এই হাই পাওয়ার স্পীডবোটটি ওপরে উঠে না যায় তার জন্য এ্যারোডাইনামিক প্রিকশন ডিজাইনে বানান হয়েছে। রেস দেখতে পেল স্পীড বোটটির গায়ে স্কায়ার শব্দটি লেখা আছে।

    বিচিত্রবর্ণের ফ্লিটটি এগিয়ে যাবার সময় পেছনে পাতলা রিবনের মতো, ছোটটা একটি অ্যাসল্ট ভ্যাহিকল তবে রেগুলার জেট স্কিজ নয়।

    সাধারণ জেট-স্কিজ থেকে এগুলো হয়তো নয় ফুট লম্বা। ওগুলো মসৃণ, ঘৃণ্য, দ্রুত গতিসম্পন্ন হয়। স্যাডেলের মতো আসন, বুলেটের মতো নাকের আকার এবং যখন ছুটতে শুরু করে তখন পানির ওপর দিয়ে উড়তে থাকে, শুধুমাত্র পেছনের হালটা পানি স্পর্শ করে থাকে আর বড় বড় জাহাজগুলোর পাশ দিয়ে যাবার সময় যেন চাবুক মেরে যায়।

    রেস এবং অন্যরা লক্ষ্য করে দেখল অ্যানিসটাজের জোডিয়াক কমান্ড বোটটার পৌঁছানোর সাথে সাথে জঘন্য সেই নাজি ফিল্ড কমান্ডার তাতে উঠে এলেন। সাথে সাথে বড় সাদা দুই কাঠামো বিশিষ্ট নৌযান পাওয়ার অন হল। পাওয়ার অন হতেই অন্য নৌযানগুলো চলতে শুরু করল।

    ওরা চলে যাচ্ছে! ডুগী চেঁচিয়ে বলল।

    ওই যে! হাত লম্বা করে তিনটে পরিত্যক্ত জেট রাইডার দেখাল ভ্যান লিওয়েন, নদীর কিনারায় পড়ে রয়েছে, জলপ্রপাতের কাছ থেকে বেশি দূরে নয়, সন্দেহ নেই নাজি ডিমলিশন টিমের সদস্যরা এগুলো এখানে রেখে গিয়েছিল।

    আসুন সবাই! বলল ভ্যান লিওয়েন।

    জেট রাইডারের দিকে ছুটল ওরা ছয়জন।

    .

    নদীর পৃষ্ঠদেশ ওদের তলদেশ দিয়ে পাশাপাশি দৌড়াচ্ছে যেন।

    তিনটি চুরি করা জেট রাইডার দর্শনীয়ভাবে সাদা পানির স্প্রে পেছনের দিকে ছিটিয়ে ছুটে চলেছে নাজি আর্মাডার পাশাপাশি।

    রেস, ভ্যান লিওয়েনের সাথে ছুটে চলেছে জোর কদমে। সে ছুটে চলেছে যখন এখনই গ্রিন ব্যারেট তার পেছনে বসল মোটরসাইকেলে একজন পিলিয়ন প্যাসেঞ্জার হিসেবে, একহাতে রেসের ওয়েস্ট জড়িয়ে ধরে অন্য হাতে ধরে রেখেছে নিজের এম-১৬, প্রস্তুত গুলি করার জন্য।

    ডুগী কেনেডি ওদের ডান পাশের পানি আলতোভাবে স্পর্শ করল, জোর কদমে ছুটে চলেছে জার্মান প্যারাট্রুপার মোলকের সাথে, আর এদিকে রেনে এবং স্রোয়েডার ছুটে চলে বাঁদিকে নদীর ওপর দিয়ে, রেনে চলাচ্ছে, শ্রোয়েডার শটগান প্রস্তুত রেখেছে।

    নাজি আর্মাডা ওদের তুলনায় তিনশো গজ দূরে, চওড়া বাদামী নদীর বুকে শক্তি দ্রুত বাড়াল এবং দেখতে লাগছে একটি ক্যারিয়ার ব্যাটেল গ্রুপের মতো, মাঝে রয়েছে বিশাল বড় কমান্ড বোট এবং রিজিড রাইডার আর পাইবার পরিবেষ্টিত হয়ে।

    তিনটি হেলিপ্যাড বার্জ অন্য বোটগুলো পিছুপিছু আসছে, রিয়ার ওপরের দিকে তুলে, ছোট ছোট জেট রাইডার নামল ওটাতে।

    রেস কঠিনভাবে চালিয়ে যাচ্ছে, বাতাস এবং পানি তার মুখে আঘাত হানছে। চোখের কোন দিয়ে সে দেখতে পেল নদীর তীরের গাছগুলোকে ঝাপসা সবুজ লাগছে, দেখল তার পাশাপাশি ভেসে যাচ্ছে অদ্ভুত কিসিমের কাঠের টুকরো।

    কাঠের টুকরো আঘাত করো না উইল। কাঠের টুকরোর আঘাত করো না…

    আর তারপরই সে বুঝতে পারল।

    ওগুলো কাঠের টুকরো নয়।

    ওগুলো কেইমান।

    কেইমানগুলোকে আঘাত করো না উইল। কেইমানগুলোকে আঘাত করো না…

    ভ্যান লিওয়েন! প্রচণ্ড বাতাসের মধ্যে চেঁচিয়ে বলল সে। প্ল্যানটা কী?

    ইজি! আমরা কমান্ড বোটটা দখলে নিব, আইডলটা উদ্ধার করব, তারপর বোটটা দখলে রাখব যতক্ষণ পর্যন্ত না এয়ার সাপোর্ট এসে পৌঁছুচ্ছে।

    একবার যখন দখলে নিব তখন ওটা ধরে রাখব।

    যা বলেন, রেস বলল।

    সামনে, নাজি আর্মাডা একটা চক্কর দিয়ে নদীর বাঁকে চলে গেল, সেই সাথে রেসের দৃষ্টির আড়ালে চলে গেল। আকাশ থেকে আল্টো পুরুস নদীটাকে আঁকাবাঁকা সাপের মতো লাগে, বাঁকের কোনো শেষ নেই, ঘোরারও কোনো শেষ নেই।

    অল রাইট, এভরিবডি, থ্রোট মাইকে বলল ভ্যান লিওয়েন। সামনের গাছগুলো দেখতে পাচ্ছেন? ওদিকেই যাচ্ছি আমরা।

    যে বাঁক ঘুরে নাজিরা অদৃশ্য হয়ে গেছে, সেটার কিনারায় প্রচুর গাছপালা দেখতে পাচ্ছে রেস। গাছগুলোর গোড়ায় কোনো বালি, মার্টি বা আবর্জনা নেই, যেন সরাসরি পানি থেকে খাড়া হয়েছে ওগুলো।

    তারপর ব্যাপারটা বুঝল সে। এটা বর্ষাকাল আর কদিন ধরে অনবরত বৃষ্টি হওয়ায় আমাজন অববাহিকার নদীগুলোর সারফেস নাটকীয় ভাবে উঁচু হয়ে গেছে। ফলে জঙ্গলের গাছগুলো বেশ কয়েক ফুট করে ডুবে গেছে আকস্মিক বন্যায়।

    এর মানে, রিভার ক্রাফটের মতো জেট রাইডার নিয়ে জঙ্গলের ভেতর দিয়েও এগোন সম্ভব, সেটাই সোজা ও সংক্ষিপ্ত পথ হবে। নদীর স্বাভাবিক বাঁক না ঘুরলেও পারে ওরা।

    ডুগীর জেট রাইডার জঙ্গলের রেখা লক্ষ্য করে ছুটল। রেস তার পাশে, রেনে ঠিক তার পেছনে।

    দুপাশের গাছের কাণ্ডগুলো শাঁ শাঁ করে পিছিয়ে যাচ্ছে।

    তিনটে জেট রাইডারের চালক সুবিধে মতো কখনো ডানে কখনো বয়ে কাত হয়ে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে নিজের পথ তৈরি করে নিচ্ছে, ওগুলোর প্রায় চ্যাপ্টা কাঠামো নামমাত্র স্পর্শ করছে পানির সারফেস। গাছপালার ফাঁক, ফোকর দিয়ে নাজিদের আর্মাডা মাঝেমধ্যে দেখতে পাচ্ছে ওরা, এখনো বাঁক ঘোরা শেষ হয়নি ওগুলোর।

    একাগ্রচিত্তে চালাবার চেষ্টা করছে রেস। যে স্পিডে ওরা চলেছে তাতে ভীত হওয়ার কারণ আছে।

    খুব দ্রুত ছুটছে। খুবই অবিশ্বাস্য, অবিশ্বাস্য দ্রুত।

    তিনটি ট্রাঙ্ক অসম্ভব গতিতে ওকে ছাড়িয়ে চলে গেল। রিভার বাইকের তলদেশে ঢেউ এসে আঘাত করতে লাগল। দ্রুত, হালকা এবং মন্থরগতিতে পানির ওপর দিয়ে ভ্রমণ করছে, খুব কমই হ্যাঁন্ডেলবারে স্পর্শ করতে হয়েছে বা কিংবা ডান দিকে মোড় নেওয়ার জন্য।

    রেস তার জেট রাইডারের একেবারে ওপরে বসেছে আর পেছনে ডুগী তার রিভার বাইকে গতি বাড়াল যখন, তখন হঠাৎ করে সে দেখতে পেল ডুগী এবং মোলকে কোনো কারণ ছাড়াই মাথা নিচু করেছে। আর তারপরই সে চিৎকার করে বলে উঠল, ভ্যান লিওয়েন, মাথা নিচু করো! ওই দুজন মাথা নিচু করার পর গাছের ডাল হঠাৎ করে চলে গেল মাথার ওপর দিয়ে।

    ধন্যবাদ! চিৎকার করে বলল ভ্যান লিওয়েন।

    নো প্রবলেম!

    এর একটু পরেই গাছের গাঢ় কাণ্ডের ফাঁকে আলো দেখতে পেল সে। কুয়াশায় ঝাপসা শেষ বিকেলের আলো।

    অল রাইট, এভরিওয়ান, থ্রোট মাইকে বলল ভ্যান লিওয়েন। অ্যারোহেড ফরমেশন। ডুগী এবং মোলকে তোমরা সামনে থাক। এজেন্ট শ্রোয়েডার এবং বেকার আপনারা বাম দিকে থাকুন। প্রফেসর রেস ও আমি ডানদিকটা কাভার করব। ওকে, রেডি সবাই? এম-১৬টা উঁচু করে দেখাল এক হাতে আর অন্য হাতটি রেসকে ধরে রেখেছে।

    সামনে রেস দেখতে পেল ডুগী এবং মোলকে তাদের এম-১৬ উঁচু করে ধরেছে।

    রেডি, ডুগীর কণ্ঠস্বর শোনা গেল পেছন দিক থেকে।

    তিন জার্মান জানাল, রেডি, রেডি, রেডি।

    প্রফেসর?

    আমি সব সময়ই প্রস্তুত, রেস বলল।

    তাহলে শুরু করা যাক, ভ্যান লিওয়েন বলল।

    .

    তিনটে আমেরিকান জার্মান জেট রাইডার তীরের নিখুঁতভাবে অ্যারোহেড ফরমেশন তৈরি করে জঙ্গলের কিনারা থেকে অকস্মাৎ বেরিয়ে এলো নাজিদের আর্মাডার পাশে। সাথে সাথে রেস লক্ষ্য করে দেখল চার নাজি জেট রাইডারের মাঝে এসে পড়েছে ওরা।

    আকস্মিক হামলায় হকচকিয়ে গেল চার নাজি, ঘুরে তাকাল, দৃষ্টিতে বিস্ময় ওদের। যে-যার অস্ত্রের দিকে হাত বাড়াবার আগেই ভ্যান লিওয়েন বলে উঠল, ডুগী বা দিকটা দেখুন! দুই গ্রীন বেরেট দুই দিক থেকে এম-১৬ দিয়ে গুলিবর্ষণ শুরু করল। সাথে সাথে চার নাজি তাদের রিভার বাইক ছুটিয়ে দিতে গেল কিন্তু চুরি করা তিনটি জেট রাইডার তাদেরকে ছাড়িয়ে গেল।

    গুলির সাথে সাথে নাজিরা পড়ে গেল, রেস ঘুরে দেখল মুহূর্তের মধ্যে রক্ত লাল হয়ে উঠল পানি।

    কেইমান…

    এবং তারপর হঠাৎ ২০ মি.মি. বুলেট হোল তৈরি হল অন্য পাশের পানিতে ছুটে যাওয়া জেট রাইডারের আর সাথে সাথে সে তার বিহ্বলতা কাটিয়ে উঠল।

    দ্রুত ঘুরে দাঁড়াল সে। দেখল একটা রিজিড রাইডার আর একটা পিবার প্যাট্রল বোট এগিয়ে আসছে পেছনে পেছনে। বিশ মিলিমিটার কামান দিয়ে গুলি ছুড়ছে পিবারটা মুহুর্মুহু।

    অ্যাক্সিলারেটর দাবিয়ে দেয়ার সাথে সাথে রেসের রিভারবাইক ছুটল আরো দ্রুত। ভ্যান লিওয়েন পেছন ফিরে এম-১৬ দিয়ে গুলি ছোঁড়া শুরু করল।

    পিবারের উইন্ডশিল্ড চূর্ণ হয়ে গেছে। তিন-চারজন এসে পড়েছে পানিতে।

    তারপর আকস্মিকভাবে নদীর আরেকটা বাকে এ পুরো নৌবহরটা দিক পরিবর্তন করল। সবাই, বাঁদিকে ঘুরো। ভ্যান লিওয়েন চিৎকার করল।

    বামে? রেস বিভ্রান্ত হয়ে চিৎকার করল।

    আবার গাছগুলোর মাঝ দিয়ে। আমাদের কমান্ড বোটে যেতে হবে।

    ঐ মুহূর্তে তাদের পেছনে দুটো নাজি রিভারবাইক উদয় হতেই তাদের চারপাশে আরো গোলাবৃষ্টি শুরু হল।

    চারপাশ দিয়ে বুলেট উড়তে লাগলো, রেসের মাথার অপর দিয়ে শিস কেটে বেরিয়ে যেতে লাগলো। আর তারপর হঠাৎ থ্যাচ! রেস দেখতে পেল তরুণ গ্রিন বেরেট আঘাত পেতেই ডুগীর বাম কাঁধ হতে ভয়ানক রক্তের স্রোত ছিটকে বেরোচ্ছে।

    আহু হ হ হ! রেডিওতে ডুগীর আর্তনাদ শোনা গেল কিন্তু কোনোভাবে সে তার গতি ধরে রাখতে পারলো।

    ভুম, ভুম, ভুম, আমেরিকান রিভারবাইক তিনটা গাছের সারিতে ঢুকে পড়ল। প্রথমে রেনে আর শ্রোয়েডার, ডুগী আর মোলকে দ্বিতীয় রেস আর ভ্যান লিওয়েন সবার শেষে।

    এক সেকেন্ড পর নাজি বাইক দুটো তাদের পথ অনুসরণ করল।

    ভয়ঙ্কর গতিতে গাছগুলোর মাঝদিয়ে যাবার সময় বুলেটগুলো রেসের ঠিক মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে গাছের গুঁড়িতে বিধ ছিল। নিচু ডালপালাগুলো তার দিকে ছুটে আসছিল। প্রতিবার সে একেকটা ডালকে এগিয়ে আসতে দেখে, আর ভ্যান লিওয়েনের উদ্দেশে চিৎকার করে তাকে নিচু হবার জন্য আদেশ দেয় তখনো উল্টোদিকে তাকিয়ে ছিল।

    ভ্যান লিওয়েন তাদের পেছনে খুব কাছাকাছি চলে আসা নাজি রিভারবাইক দুটোর দিকে তার এম-১৬ দিয়ে কঠিনভাবে গুলি করছিল। কিন্তু নাজিরা গাছের আড়ালে আশ্রয় নিল, আর দীর্ঘক্ষণ গুলি চালানোর পর হঠাৎ ভ্যান লিওয়েনের গুলি শেষ হয়ে গেল।

    তাদের সুযোগ দেখে, নাজি জেট রাইডার দুটো কাছে এলো।

    একজন দ্রুত রেস আর ভ্যান লিওয়েনের রিভারবাইকের পাশে চলে এলো, ডান পাশ বরাবর গতি বাড়াতে থাকল আর নাজি রাইডার তৎক্ষণাৎ তার ব্যাগ থেকে একটা গ্লক বের করল। অন্য কিছু না থাকায়, ভ্যান লিওয়ন তার খালি এম ১৬ টাকে একটা বেসবল ব্যাটের মত ঘুরালো, আঘাতে নাজিটার হাত থেকে পিস্ত লটা পড়ে গেল, তখনই তীব্র গতির জেট রাইডার দুটোর চারপাশের গাছগুলো জি ১১-এর অগ্নিবর্ষণে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল।

    দ্বিতীয় নাজি জেট রাইডার গাছপালা থেকে তাদের বাঁদিকে বেরিয়ে এসে তাদের রিভারবাইকের পাশে ঢু মারতেই ভ্যান লিওয়েন আর রেস তৎক্ষণাৎ মাথা নিচু করল।

    আঘাতের কারণে রেস তার সিট থেকে প্রায় ছিটকে বেরিয়ে যাচ্ছিল কিন্তু। কোনভাবে সে নিজেকে বাঁচাতে পারল। সে গতি বাড়াল, দ্রুত এগিয়ে আসা একটা গাছের সাথে সংঘর্ষ এড়াতে দ্রুত বাক নিল। তারপর সে বামে তাকাল নতুন আক্রমণকারীকে দেখার চেষ্টা করল, আর নিজেকে একটা জি-১১ সুপার মেশিনগানের ব্যারেলের মুখে দেখতে পেল।

    রেস ব্যারেল থেকে চোখ সরিয়ে এর অস্ত্রধারীর মুখের দিকে তাকাল, লোকটা খুশিতে দাঁত বের করে শয়তানী হাসি হাসছে।

    আর তারপর স্মাক!—জেট রাইডারটা পূর্ণ গতিতে একটা কালো গাছের গুঁড়ির সাথে ধাক্কা খেতেই নাজিটা চোখের আড়ালে চলে গেল আর তার রিভারবাইক একটা অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হল।

    রেসের মাথা ঘুরে গেল।

    এটা খুব দ্রুত ঘটে গেছে!

    মনে হল যেন গাছটা ঝট করে তাদের পাশ কাটিয়ে গেছে আর যাবার পথে নাজিটাকে নিয়ে গেছে।

    তাদের ঠিক ডান পাশের অপর নাজিটাও বিস্ফোরণের দিকে তাকিয়ে থাকল। ভ্যান লিওয়েন তাকে তাকিয়ে থাকতে দেখে দ্রুতগতিতে, এম-১৬ হাতে নিয়ে লোকটার জেট রাইডারে লাফিয়ে পড়ল, ঠিক তার পেছনে রাইডারটার স্যাড়লে নামল।

    নাজি রাইডার বিস্ময়ে ঘুরে তাকালো। তাকাতেই, ভ্যান লিওয়েন তাদের সামনের নদীর দিকে তাকাল আর তার চোখ বড় হল, এবং তারপর সে একটা বিড়ালের রিফ্ল্যাক্সের মতো মাথা নামিয়ে নিয়ে, নাজিটা সামনে তাকানোর জন্য ঘুরতেই একটা ছুটে আসা ডাল তার মাথা সমান উচ্চতায় আঘাত করল।

    ডালটা তার নাকের ব্রিজে আঘাত করে, এবং মাথার পেছনে আঘাত লাগলে লোকটাকে তৎক্ষণাৎ হত্যা করল। ভ্যান লিওয়েনের বাঁকানো দেহের ওপর দিয়ে ডিগবাজি খেয়ে রিভারবাইকের পেছনে গিয়ে পড়ল লোকটার দেহ।

    কয়েক সেকেন্ড পর, ভ্যান লিওয়েন আর রেস, পৃথক জেট রাইডারে করে, ডুগী আর মোলকের দ্রুতগামী রিভারবাইকের পাশে চলে এলো। রেনে আর শ্রোয়েডার ঠিক তাদের সামনের গাছপালার নিরাপত্তায় এগিয়ে যাচ্ছে।

    ডুগী, তুমি ঠিক আছো? ভ্যান লিওয়েন তার গলার মাইকে জিজ্ঞেস করল।

    আমি ঠিক আছি। বুলেটটা ভেতর দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে, ডুগীর কণ্ঠ ফিরে এলো।

    যখন ভ্যান লিওয়েন ডুগীকে পরীক্ষা করছিল, তখন রেস অন্য নাজিদের ওপর নজর রাখছিল। তাদের পেছনে গাছপালর মাঝ দিয়ে আর কেউ আসছে না। কিন্তু তার ডান পাশের গাছপালার ঝলকানির মাঝ দিয়ে, দেখতে পারল একে জোড়া রূপালী রিজিড রাইডার অ্যাসল্ট বোট তাদের সমান্তরাল নদী দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সশস্ত্র নাজি কমান্ডোরা তাদের ডেকের সারিতে দাঁড়িয়ে জঙ্গলের ভেতর উঁকি দিচ্ছে তাদের খুঁজছে, তাদের আবার উদয় হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

    ভ্যান লিওয়েন বলল, ঠিক আছে সবাই শুনুন ডুগী আহত হয়েছে, কিন্তু সে চালিয়ে যেতে পারবে। প্ল্যান হল এরকম। আমাদের কমান্ড বোটটা চাই ঠিক আছে? আমরা যেভাবে এটা পেতে যাচ্ছি, তা হল : তোমরা দুজন বিকে এ. রেনে আর শ্রোয়েডারকে দেখালো, আমি চাই তোমরা দুজন পিবারগুলোর একটা দখল কর। যদি আমরা ক্রুজারটা দখল করতে চাই, আমাদের ভালো ফায়ারিং সাপোট দরকার হবে আর এর মানে হল ঐ ২০ মিমি কমানগুলোর একটা আমাদের হাতে পেতে হবে। চিন্তা কর তোমরা পারবে কিনা?

    আমরা চেষ্টা করতে পারি, শ্রোয়েডার বলল।

    গুড ডুগী, তুমি, আমি আর মোলকে কমান্ড বোটের জন্য যাব, তুমি পারবে?

    আমি পারব, ডুগী মুখ বিকৃত করে বলল।

    আর আমি, রেস জানতে চাইলো।

    আপনার জন্য একটা বিশেষ কাজ আছে, প্রফেসর ভ্যান লিওয়েন বলল, আপনার স্পেশাল ফোর্সের ট্রেনিং না থাকায় আমার ধারণা আপনি কোন বোট দখলে যেতে চাইবেন না।

    ভালো ভেবেছে।

    তাই আমি ভেবেছি, এর পরিবর্তে আপনি আমাদের জন্য টোপ হিসেবে কাজ করবেন।

    টোপ?

    আমি চাই আপনি ঐ নাজি গানবোটগুলোর সামনে যত দ্রুত সম্ভব ঘুরে বেড়াবেন আর ওদের গুলির টার্গেট হবেন আপনি, যখন আমরা কমান্ড বোর্ডটা আর একটা গিবার দখলে যাব, আমরা বোট দুটো পেয়ে গেলে, আপনাকে মেইন ক্রুজারে তুলে নেব।

    রেস ঢোক গিলল, ঠিক আছে…।

    একথা বলে সে বাঁ দিকে তাকালো আর রেনের চোখে ধরা পড়ল। রেনের চেহারায় আশংকার ছাপ দেখতে পেল আর মাথা ঝুঁকিয়ে তাকে নিশ্চিত করল।

    আপনি ঠিক থাকবেন, সে নরম গলায় তার ইয়ারপিসে বলল।

    ধন্যবাদ, সে বলল।

    ও সামনে তাকাল আর দেখল তাদের গাছের সারির নিরাপদ আশ্রয় প্রায় একশ গজ দূরের অর্ধনিমজ্জিত গাছের একটা ফাঁকা জায়গায় শেষ হয়ে গেছে।

    গাছগুলোর ফাঁকা জায়গার পর সে ধূসর দিনের আলো আর প্রধান নদী দেখতে পেল।

    নদীতে নাজি থাকবে।

    ঠিক আছে, সবাই, ভ্যান লিওয়েন বলল, গতি বাড়াও আর সাবধান থেকো। তোমরা জান তোমাদের কি করতে হবে।

    রেস তার রক্তের গতি অনুভব করল। এক সেকেন্ড পর তারা ছয়জন গাছগুলোর প্রান্ত থেকে পূর্ণগতিতে বেরিয়ে এলো আর তীব্র দিনের আলোর মুখোমুখি হল।

    .

    নাজিরা তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল।

    রেস আর অন্যরা গাছের সারি থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসতেই সুপার-মেশিন গানের গুলির ঢেউ তাদের ঘিরে ফেলল।

    সাবধান! ডুগী মাথা নিচু করে চিৎকার করল, কিন্তু মলকে ছিল বীর। বুলেটগুলো ডুগীর মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গেল আর তরুণ জার্মান সৈনিকের দেহে ধাক্কা খেল, তার বুক চিড়ে গেল, মোলকে দ্রুতগামী রিভারবাইকের পেছন থেকে সরে যাবার আগে ভয়ঙ্করভাবে ঝাঁকি খেল।

    তার পাশে মোলকেকে গুলিতে ছিন্নভিন্ন হতে দেখে রেসের চোখ বড় বড় হয়ে গেল। সামনের দৃশ্য দেখে ওরা আরো ছড়িয়ে পড়ল।

    হেলিপ্যাড বার্জগুলোতে বিশ্রামে থাকা তিনটা মাসকুইটো চপারের দুটো এখন তার সামনে পানির ওপর ঝুলে আছে, যখন বাকি নাজি নৌবহর তাদের পেছনে নদীতে তাড়া করেছে।

    ড্যাম ইট!

    হেলিকপ্টারগুলোর পাশের ২০ মিমি মেশিনগানের এক পশলা অগ্নিবৃষ্টি। তার পেছনের গাছের গুঁড়িগুলো ঝাঁঝরা করল আর তার চারপাশের পানি ছিটিয়ে তুলল।

    ছড়িয়ে পড়! ছড়িয়ে পড়! ভ্যান লিওয়েন চিৎকার করল।

    চারটা আমেরিকান-জার্মান জেট রাইডার তখনি ছড়িয়ে পড়ল, দুটো গেল বামে, দুটো ডানে, আর হঠাৎ রেস নিজেকে ডুগী কেনেডির পাশে ছুটে যেতে দেখতে পেল, যে এখন তার রিভারবাইকে একা বসে আছে, তার আহত কাধ রক্তের শক্ত দলায় পরিণত হয়েছে।

    ভ্যান লিওয়েন, রেনে আর শ্রোয়েডার অন্য দিকে ছুটে গেল। রিভারবোর্টগুলোর ক্ষুদ্র নৌবহরের পেছনে দৃষ্টির বাইরে সরে গেল।

    রেস আর ডুগী নাজি বোটগুলোর মাঝ দিয়ে মাথা নিচু করে আঁকাবাঁকা হয়ে ছুটল। একটা মাসকুইটো তাদের ওপর বাতাসে ঘুরল। এরপর অগ্নিবর্ষণকারী মেশিনগানগুলো নিয়ে তাদের সামনে এলো।

    মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে, রেস বাঁদিকে বাঁক নিল আর হেলিপ্যাড বার্জ দুটোর মাঝ দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গেল। তার পেছনে গুলির সারির বাৰ্জটায় আঘাত করল। এর দৈর্ঘ্য বরাবর আগুনের ফুলকি ছিটানো।

    রেস বার্জ দুটোর মাঝে পানির সরু গলি দিয়ে এগিয়ে গেল, তারপর আকস্মিকভাবে সে এগুলোর সামনে খোলা জায়গায় বেরিয়ে এলো আর ডানে ঘুরল। ডানপাশের বার্জের বো-এর ঢেউয়ে বাতাসে লাফিয়ে উঠল।

    ডুগীর জেট রাইডারকে তার পাশে একই গতিতে এগোতে দেখল, তবে ঝুলে থাকা মাসকুইটো হেলিকপ্টারের নিচে আর একটা দ্রুতগামী নাজি পিবারের পাশে।

    প্রফেসর, তাড়াতাড়ি! ডুগী তার রক্তমাখা বাম হাতে তার সিগ-সয়্যার পিস্তল বের করতে করতে চিৎকার করল। আমাকে কাভার দিন! আমি ঐ পিবারটাতে উঠতে যাচ্ছি!

    কমান্ড বোটের কি হবে? রেস তার থ্রোট মাইকে চিৎকার করল। প্ল্যানের কি হবে?

    আমরা গাছপালার ভেতর থেকে বের হয়ে যাবার সাথে সাথে প্ল্যান বাতিল হয়ে গেছে। আসুন।

    ঠিক আছে।

    এর সাথে রেস দ্রুত তার নিজের সিগ-সয়্যার পিস্তল বের করল আর পিবারটার স্টার্ন প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো নাজি ক্রু দুজনকে গুলি করল।

    গুলি করতেই তারা আশ্রয়ের জন্য মাথা নিচু করল, ডুগী তাড়াতাড়ি তার জেট রাইডারকে দ্রুতগামী পিবের পাশে নিয়ে এলো আর উঁচু সামনের ডকে লাফিয়ে ওঠল।

    রেস বিস্মিত হয়ে দেখল ডুগী পিবারের ছাদ ঘেরা সামনের অংশে উঠে গেল, দুটো দোলা দিয়ে লাফিয়ে সে গানবোটের হুইল হাউজের ছাদে ওঠে পড়ল তারপর খোলা স্টার্ন প্ল্যাটফর্মে লাফিয়ে নামল। তার এম-১৬ দিয়ে নাজি ক্রু দুজনকে পরপারে পাঠিয়ে দিল।

    প্রফেসর, এখানে ওঠে আসুন। এ মেশিনগানটা চালানোর জন্য আপনাকে দরকার! ডুগী পিবারের টারেটের ওপর ২০ মিমি কামানটা দেখাল।

    রেস পানিতে আলতোভাবে আঁচড় কেটে, পিবারটার দিকে রওনা হল। পিবারের ওপর ডুগী একজন নাজির একটা জি-১১ তুলে নিল আর হুইলের দায়িত্ব নিল, নিজের ভয়ঙ্কর গতি রক্ষার সাথে সাথে তার ওপরের মাসকুইটো হেলিকপ্টারটার দিকেও গুলি ছুড়ছিলো।

    রেস দ্রুতগামী পিবারটার পাশে চলে এলো।

    জেট রাইডারকে দ্রুতগামী পেট্রোল বোটের পাশে নিয়ে এলো, পিবারের পার্শ্ব ঢেউয়ের কারণে সে মরিয়াভাবে রিভারবাইকটার কন্ট্রোল রাখার চেষ্টা করছিল।

    রেস শক্ত হাতে চালাতে থাকল, পিবারটার সাথে তাল রাখতে চেষ্টা করল, তার দৃষ্টি তিন ফুট দূরের দ্রুতগামী গানবোটের পাশের হ্যান্ডরেইলে আটকে থাকল।

    এটাই সে চেয়েছিল। রেইলটা তার হাত দিতে।

    ঠিক তারপরই একপশলা বুলেট পিবের পাশে আঘাত হানল–ঠিক তার সামনে।

    সে তৎক্ষণাৎ ঘুরে গেল সে।

    দেখল আরেকটা পিবারকে তার দিকে এগিয়ে আসতে, এর ডেকে আরো পাঁচজন নাজি।

    সোজা তার দিকেই আসছিল।

    আর এর গতিও কমছিল না।

    ওটা ডুগীর পিবারে ঢু মারতে যাচ্ছিল, রেস ওটার পথে থাকুক বা না থাকুক!

    রেস ডুগীর বোট দেখার জন্য আবার ঘুরল, তার চোখ আবার হ্যান্ড-রেইলে আটকে থাকল।

    ওটাই করো, মনের ভেতর চিৎকার করে ওঠল তার।

    রেস জেট রাইডার থেকে লাফ দিল, হ্যান্ডরেইলটা আঁকড়ে ধরল, পাগুলো তার পেছনে পানিতে ঝুলছে। সে দ্রুত তার পা দোলালো আর রেইলের ওপর দিয়ে ওঠল, সাথে সাথে কড়াৎ।–দ্বিতীয় গানবোটটা ডুগীর পিবারের পোর্ট-সাইড রেইলে আঘাত করল।

    পুরো বোট কেঁপে ওঠতেই রেস ডেকে গড়াগড়ি খেল।

    প্রফেসর এখানে! ডুগী চিৎকার করল।

    রেস তখনো ডেকের ওপর পেটে ভর দিয়ে শোয়া। সে মাথা তুলে তাকাল, ডুগীকে হুইল হাউজ থেকে তার দিকে হাত নাড়তে দেখল, হঠাৎ এক জোড়া কমব্যাট বুট তার দৃষ্টিপথে বাধা হয়ে দাঁড়াল। ডুগীকে তার দৃষ্টির আড়ালে পাঠিয়ে দিল।

    বুটগুলো ডেকে ওঠার সাথে সাথে একটা গুলির শব্দ হল আর বুটের মালিক তৎক্ষণাৎ ধরাশায়ী হল, তার বড়-চোখের চেহারার লোকটা ঠিক রেসের সামনে ডেকে পড়ল, তার কপালের মাঝে একটা মাত্র বুলেটের গর্ত। মৃত নাজির পেছনের পটভূমিতে রেস ডুগীকে তার অক্ষত ডান হাতে জি-১১ বাড়ানো অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল।

    ক্রাইস্ট, রেস ভাবল, যখন সে দ্বিতীয় পিবারটাকে তার নিজের বোটে হ্যান্ডরেইলের ঠিক পাশে দেখতে পেল, ওটার ডেকে চারজন নাজিকে সারিবদ্ধ দেখল, তার বোটে ওঠার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে।

    অন্যদিকটা দেখার জন্য ঘুরল, দেখল বিশাল হেলিপ্যাড বার্জগুলোর একটা অন্য পাশ থেকে কাছে চলে এসেছে, তাদের পালানোর পথ বন্ধ করে দিয়ে আটকে ফেলছে।

    ব্যাপারটা ভালো হচ্ছে না, সে নিজের মনে বলল।

    ডুগীও একই কথা ভাবছিল।

    পিবারটাকে বাঁয়ে ঘুরাল, ওটাকে দিয়ে নাজি বোটের সাথে জোরে ধাক্কা মারল, এক মুহূর্তের জন্য ওটার স্টার্ন ডেকের কমান্ডোরা ভারসাম্য হারাল, নিজের জি-১১ তুলে গুলি করার জন্য কয়েকটা মূল্যবান সেকেন্ড কেড়ে নিল।

    কিন্তু সে নাজি পিবারের ডেকে গুলি করল না, প্রধান কারণ এত দূরে তার মেশিনগান ঘুরানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় ছিল না। বরং, সে নাজি বোটের বো-এর দিকে তাক করল যেখানে কোন নাজি দাঁড়িয়ে ছিল না।

    করছটা কি? রেস চিৎকার করল।

    ডুগীর জি-১১ গর্জে ওঠল।

    সম্ভবত দুই ডজন গুলি বের হল।

    নাজি পিবারের বোর্ডে ইস্পাতের নোঙরের চারপাশে তৎক্ষণাৎ আগুনের ফুলকি উড়তে থাকল।

    আর তারপর হঠাৎ স্ন্যাক-পিবারটার নোঙরের ছোট ধাতুর ল্যাজটাতে ডুগীর গুলি আঘাত করল আর নোঙরটা ডেক থেকে পড়ে গেল। পিবারের বো-এর পাশ ঘেঁষে পানিতে নিমজ্জিত হল, এর নাইলন দড়িও ওটার পিছু নিল।

    পিবারের নাজি চারজন তাদের নোঙর পড়ে যেতে দেখল, জি-১১ তুলে ডুগী আর রেসের মুখোমুখি হবার জন্য ঘুরল।

    ঘটনাটা ঘটল তখনি।

    যার সাথেই আটকে যাক, একটা নিমজ্জিত গাছের মূল বা হয়তো একটা পুরো নিমজ্জিত গাছই রেস জানতে পারেনি, কিন্তু এটা যাই হোক, নোঙরটা নিশ্চিতভাবেই বড় কিছুতেই আটকে গেল।

    মনে হল যেন ভয়ঙ্কর শক্তিশালী কোন দানব দ্রুতগামী পিবারটার নোঙর ধরে টান দিল, কারণ এক মুহূর্তের মধ্যে, নাজি পিবারটা পঁয়ষট্টি নটিকল মাইল থেকে শূন্যতে নেমে এল। পুরো বোটটা উল্টে গেল, খোল ওপরের দিকে, বো পানিতে ডুবে গেল দ্রুত।

    স্টার্ন পানি থেকে উঠে গেল আর পুরো বোটটা নাকানি-চুবানি খেল। বাতাসে উল্টে গেল, ধাক্কায় এর হুইল হাউজের ছাদের ওপর পড়ল। চারদিকে পানির বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পানিতে আছাড় খেল।

    রেস ধীরে ধীরে ডুবতে থাকা উল্টে যাওয়া নাজি বোটটাকে দেখার জন্য পেছনে তাকাল।

    .

    লিওনার্দো ভ্যান লিওয়েন তার জেট রাইডারকে নিয়ে নাজি রণতরীর বহরের মাঝ দিয়ে এঁকে-বেঁকে একবার ঢুকছে একবার বেরুচ্ছে। হেলিপ্যাড বার্জ পিবার আর রিজিড রাইডারগুলোর পেছনে থেকে পর্যায়ক্রমে দৃশ্যমান আবার অদৃশ্য হতে হচ্ছে।

    প্রচণ্ড গোলাবর্ষণ চারদিক থেকে তাকে ঘিরে ফেলল যখন সে মরিয়া হয়ে রিজিড রাইডার অ্যাসল্ট বোট আর মাসকুইটো অ্যাটাক চপারটাকে অতিক্রম করতে চেষ্টা করল যেগুলো তার পিছু নিয়েছিল।

    বিস্ময়করভাবে তার পেছনের রিজিভ রাইডারের ওপর মাত্র একজন নাজি ছিল এটাই সেই বোট যার আরোহীদের সে আগেই হত্যা করেছিল।

    সত্যি কথা হল, ভ্যান লিওয়েন তার পেছনের বোট বা চপারটাকে তেমন গুরুত্ব দিল না।

    বিশাল সাদা কাটামারান।

    নাজি কমান্ড বোট।

    ভ্যান লিওয়েনের বিশ গজ পেছনে রিজিড রাইডারের একমাত্র ক্রু আমেরিকান সৈনিদের রিভারবাইকের দিকে গুলি করছিল। তার বুলেটগুলো চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছিল, কারণ তার লম্বা অ্যাসল্ট বোটটা ঢেউয়ে ধাক্কায় পাগলের মতো লাফাচ্ছিল।

    তারপর হঠাৎ একমাত্র ক্রু তার পেছনে কোথাও থেকে একটা ধুপ! শব্দ শুনল সাথে সাথে সে। দ্রুত ঘুরে দেখতে পেল শ্রোয়েডারের ঘুষি তার মুখের দিকে ধেয়ে আসছে।

    রেনে বেকার তার জেট রাইডারে শক্ত হাতে চালাচ্ছিল, পানির ছিটেগুলো তার মুখে হাজার হাজার সুই ফোঁটার মতো করে আঘাত করছিল।

    ঠিক তার বামে, সে শ্রোয়েডারকে মাত্র ওঠা রিজিড রাইডারের হুইলে দেখতে পেল আর শ্রোয়েডার তাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাল।

    যখন সে নিশ্চিত হল শ্রোয়েডার নাজি বোটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে রেনে তৎক্ষণাৎ তার রিভারবাইকের গতি বাড়াল আর রিজিড রাইডারের সামনে চলে এলো, এটাকে তাদের ওপরের হেলিকপ্টারের আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে সে ভ্যান লিওয়েনের সাথে কমান্ড বোটের পিছু নিল।

    বিশাল নাজি কমান্ড বোট নৌবহরটার নেতৃত্ব দিচ্ছে।

    প্রায় হাফ ডজন নাজি এর পেছনের রেইলে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে সেখানকার হেলিপ্যাড থাকা সাদা হেলিকপ্টার রেটের ব্লেডের নিচে থেকে ভ্যান লিওয়েনের দিকে গুলি ছুড়ছিল।

    কিন্তু বড় গ্রিন বেরেট দক্ষভাবে তার দ্রুতগামী জেট রাইডারটাকে ডানে আর বাঁয়ে এঁকেবেঁকে চালাচ্ছিল, গুলি এড়াতে মাথা নামিয়ে রাখল তারপর হঠাৎ, কোনো সতর্কতা ছাড়াই, সে কমান্ড বোর্টের ঠিক পেছনে থাকা একটা হেলিপ্যাড বার্জের পেছনে লুকিয়ে পড়ল।

    বার্জটার আড়ালে থেকে, ভ্যান লিওয়েন গতি বাড়াল, ধীরে ধীরে তার দ্রুতগামী জেট রাইডারে বড় বোটটাকে অতিক্রম করে গেল।

    কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে, সে বার্জটার বো এর কাছে চলে এলো, একটা গভীর শ্বাস নিল সে।

    তারপর, যখন সে প্রস্তুত হল, সে জোরে তার হ্যাঁন্ডেলবারটি বয়ে চাপ দিল।

    একটা ফাইটার জেটের এর শিকারের পেছনে তীব্র গতিতে ছুটে যাওয়া ফাইটার জেটের মতো, তার জেট রাইডার দ্রুত হেলিপ্যাড বার্জের বো-এর সামনে চলে এলো এবং দুই কাঠামোওয়ালা বড় কমান্ড বোর্টের পেছনে।

    বিশাল ক্রুজারটার স্টার্নের ওপর থাকা নাজিরা তৎক্ষণাৎ তার ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করল। কিন্তু ভ্যান লিওয়েন বিস্মিত হয়ে দেখল, তারা, তার বায়ে নিজের জেট রাইডারের ওপর থাকা রেনের এম-১৬-এর গুলিতে শুয়ে পড়ল ওরা।

    নাজিরা পড়ে যাবার সাথে সাথে ওরা দুজন দৌড়ে ক্রুজারটার ব্রিজের নিচে চলে গেল, ১৫০ ফুট খোলের ছায়ায় হারিয়ে গেল।

    জেট রাইডার দুটো ক্রুজারটার গাঢ় অন্ধকারের দিকে অগ্রসর হল, দ্রুত বোটটার বো-এর কাছে চলে গেল।

    ভ্যান লিওয়েন ডান পাশের খোলের কাছে চলে এলো। রেনে গেল বাপাশে তারপর ও দেখল ভ্যান লিওয়েন পৌঁছে গেছে এবং ওপরের বো-এর রেইল আঁকড়ে ধরে নিজেকে কমান্ড বোর্টের বোতে টেনে তুলল, ভ্যান লিওয়েন অদৃশ্য হয়ে গেল।

    এক সেকেন্ড পর, সে একটা গভীর শ্বাস নিয়ে পাশের রেইলে পৌঁছে গেল আর ওপরে ওঠা শুরু করল।

    ক্রুজারের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসতেই তীব্র বাতাস তার মুখে ঝাঁপটা দিল আর সে এর বাঁ পাশের বোতে দাঁড়াল।

    ভ্যান লিওয়েনকে অন্য বোতে দেখল, তার থেকে প্রায় পঞ্চাশ ফুট দূরে, তার এম-১৬ হাতে ধরে প্রস্তুত।

    কমান্ড বোটটা নৌবহরের মাথায় থাকায়, নাজিরা ভাবেনি যে, একটা কেউ সামনে থেকে ক্রুজারে ওঠবে, তাই সেখানে কোন কমান্ডো ছিল না।

    এখন পর্যন্ত অন্তত নেই।

    রেনে কাটামারানটা ওটার পাশে নিয়ে এলো। এটা ছিল বিশাল, সত্যিই বিশাল। বিশাল কাঠমোটা দুটো বিশাল কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। অবিশ্বাস্য অ্যারোডিনামিক ওটা দুই স্তরে তৈরি, যার দুটোই গাঢ় রঙিন আভাযুক্ত ঢালু জানালার নিচে লুকানো বড় বোটটার দুপাশ থেকেই প্রশস্ত সাইড প্যাসেঞ্জারে নিচে নেমে গেছে।

    এখন কোথায়? ও চিৎকার করল।

    আমরা বোটটার দখল নেব আর চপারগুলো আসার আগ পর্যন্ত এটা ধরে রাখব? ভ্যান লিওয়েন জবাব দিল।

    আইডলটার কি হবে? যদি আমরা বোটটা নিতে না পারি, আমাদের অন্তত

    সেই মুহূর্তে দুজন নাজি কমান্ডো তাদের জি-১১ দিয়ে গুলি করতে করতে পোর্ট-সাইড প্যাসেজওয়ে দিয়ে বেরিয়ে এলো। কিন্তু তারা কোমরের কাছ থেকে গুলি করছিল, উঁচুতে। ভ্যান লিওয়েন শুধু তার এম-১৬ টা চারদিকে ঘুরালো, নিখুঁত শটে তাদের হত্যা করল।

    তুমি কি বলেছিলে? সে রেনের দিকে চিৎকার করে জিজ্ঞেস করল।

    কিছু না, সে বলল এখন যাও আমি তোমাকে কাভার দেব।

    আর এর সাথে তারা দুজন স্টারবোর্ড প্যাসেজওয়ে অনুসরণ করে নামতে শুরু করল।

    রেস আর ডুগী তাদের পিবার পেট্রোল বোটে করে পানির ওপর ছুটে চলছিল।

    একটা মাসকুইটো চপার তাদের ওপর থেকে গুলিবর্ষণ করছিল, ওদের দ্রুতগামী বোটের ওপর ঝুলে ছিল, হঠাৎ ঘুরে সামনে চলে এসে সরাসরি গুলি করল। এমন কি চপারের একটা সাইড ভোরও ভোলা ছিল, তা দিয়ে একজন নাজি তার জি-১১ দিয়ে তাদের ওপর গুলি করছিল।

    ডানে একটা হেলিপ্যাড বার্জ গুড়গুড় শব্দে চলছিল, তাদের আটকে ফেলছিল, কোন দিকেই পালাবার পথ রাখে না।

    পেট্রোল বোট চালানোর সাথে সাথে, ডুগী তার জি-১১ দিয়ে চপারের দিকে গুলি করল।

    পিবারের সামনের গান টারটের দিকে যাবার ব্যর্থ চেষ্টা করছিল, কিন্তু চপারের গুলিবর্ষণ তাকে হুইল হাউজে আটকে রাখল।

    ঈশ্বর আমি যেতে পারব না, মাসকুইটোটা আবার তার মাথার উপর দিয়ে উড়ে যেতেই সে চিৎকার করল, এর রোটরের প্রচণ্ড শব্দ ছাপিয়ে হুইলহাউজের ছাদে লক্ষ্য লক্ষ্য গুলির আঘাতের শব্দ শোনা গেল।

    চপারটার কোন একটা ব্যবস্থা করা দরকার। রেস চিৎকার করে বলল।

    জানি, আমি জানি, ডুগী চিৎকার করে বলল। প্রফেসর, তাড়াতাড়ি! নিচে দেখুন যদি কোন গ্রেনেড বা অন্য কিছু পান।

    রেস সাথে সাথে তা পালন করল, হুইলহাউজের সামনের হ্যাচ আর দ্রুত গানবোটের পেটের ভেতর নেমে গেল।

    নিজেকে একটা খালি, ধূসর ধাতব দেয়ালের ছোট ঘরে খুঁজে পেল।

    এর ঢালু দেয়ালগুলোতে জাল আর কাঠের বাক্সের সারি ঘরের ঠিক মাঝে সে একটা ধূসর বাক্সের মতো জিনিস দেখতে পেল। বাক্সটা ছিল প্রায় তিন ফুট উঁচু আর তিন ফুট প্রশস্ত, অনেকটা তাসের টেবিলের মতো, আর প্রথম দৃষ্টিতে সে অন্য একটা বাক্সই ভাবল, কোন ধরনের অ্যামিউনিশন কন্টেইনার কোন কিছু।

    কিন্তু এটা কোন ধরনের কন্টেইনার ছিল না। কাছ থেকে দেখে, রেস দেখল এটা মেঝের সাথে লাগানো।

    তারপর সে বুঝতে পারল। এটা একটা ডাইভারস হ্যাচ। ভিয়েতনামে স্পেশাল ফোর্সগুলো এবং সিল-রা অন্য রিভার বোটের চেয়ে পিবার ব্যবহার করতে পছন্দ করে, কারণ একমাত্র এগুলোরই খোলের ভেতর লুকানো এসব বিশেষ হ্যাচ রয়েছে। এগুলো ব্যবহার করেন ডুবুরিরা, কাউকে না জানিয়ে যে কোন জায়গায় নেমে যেতে পারে।

    রেস দ্রুত বিভিন্ন তাক আর সারি খোঁজা শুরু করল কোন অস্ত্র পাবার জন্য।

    প্রথম যে জিনিসটা খুঁজে পেল সেটা হল ব্রিটিশ এল২২ অ্যান্টি পারসোনাল হ্যান্ড গ্রেনেডের একটা বাক্স। দ্বিতীয় জিনিসটা হল একটা কেভলার বাক্স যার দুপাশে ইংরেজিতে লেখা।

    প্রপার্টি অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস আর্মি
    অর্ডনেন্স ইস্যু কে/৫৬-৩০৫সিডারপা
    ৬ x এম–২২ চার্জেল

    রেস বাক্সটা খুলে দেখল অত্যাধুনিক ছয়টা ধাতু আর প্লাস্টিকের শিশি পৃথক পৃথক ফোম মোড়ানো পকেটে আরামে বসে আছে। প্রত্যেকটা শিশি বেশ ছোট, প্রায় লিপিস্টিকের আকার এবং আকৃতির, আর এগুলো এক অদ্ভুত ধরনের চকচকে হলুদ তরলে পূর্ণ।

    রেস কাঁধ ঝাঁকিয়ে কেভলার বাক্সটা তুলে নিল, এবং ওটা আর সাধারণ গ্রেনেডের বাক্সটা হুইলহাউজে ডুগীর কাছে নিয়ে এলো।

    আহ প্রফেসর, কেভলারের বাক্সটা দেখে ডুগী বলল, আমি… উহ… আপনার জায়গায় থাকলে এই বাচ্চাগুলোকে এত তাড়াতাড়ি ছুড়তাম না।

    কেন?

    কারণ আপনি আমাদেরও মেরে ফেলবেন।

    মানে?

    এগুলো হল এম-২২ উচ্চ তাপমাত্রার এক্সপ্লেসিড চার্জ। কঠিন জিনিস এগুলোর ভেতরের হলুদ তরলগুলো দেখুন। আইসোটপিক তরল ক্লোরিন। এগুলোর এক আউন্স দুইশ গজ ব্যাসার্ধের ভেতর সবকিছুকে বাতাসে পরিণত করে ফেলবে। এই নাজি বেজম্মারা নিশ্চয়ই তাদের কেউ কয়েক বছর আগে বাল্টিমোরে শিপমেন্ট ট্রাক থেকে এম-২২ গুলো চুরি করেছিল।

    ওহ, রেস বলল।

    আমাদের এত শক্তিশালী কিছু দরকার নেই, ডুগী হাসল। অধিক প্রচলিত এল 22 হ্যান্ড গ্রেনেডগুলোর একটা তুলে নিল। আমাদের এটারই প্রয়োজন।

    এক মুহূর্ত পর, মাসকুইটো তাদের ওপর দিয়ে আবার উড়ে গেল, পিবারের দেয়ালগুলোতে বুলেটের ছিদ্র তৈরি করতে করতে।

    কিন্তু এবার, এটা মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাবার সময় ডুগী তার গ্রেনেডের পিন খুলে অক্ষত হাতে বেসলের মতো ওটাকে চপারটার খোলা দরজা দিয়ে ভেতরে ছুঁড়ে দিল।

    গ্রেনেডটা মিসাইলের মতো উড়ে গেল আর তারপর মাসকুইটোর দরজার ভেতরে অদৃশ্য হয়ে গেল।

    এক সেকেণ্ড পর মাসকুইটোর দেয়ালগুলো বিস্ফোরিত হল আর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছোট অ্যাটাক চপারটা পাগলের মতো সামনে এগোলো, নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচের পানিতে প্রথমে নাক ডুবানোর আগে বিস্ফোরণের অগ্নিশিখায় পরিণত হল।

    নাইস থ্রো, রেস বলল।

    ভ্যান লিওয়েন আর রেনে দ্রুত প্রশস্ত স্টারবোর্ডের সাইড প্যাসেজ ধরে নিচে নেমে গেল। তাদের এম-১৬ গুলো কাঁধের সাথে চেপে ধরা।

    দ্রুত এগোলো, মেশিনগানগুলো এদিক থেকে ওদিক ঘুরালো যতক্ষণ না ওরা বিশাল ক্রুজারটার পেছনের হেলিপ্যাড ডেকের খোলা জায়গায় বেরিয়ে না এলো।

    ভ্যান লিওয়েন সাদা বেল জেট রেঞ্জার চপারটাকে তাদের সামনে ডেকের ওপর বসে থাকতে দেখল, পাশে এর পাইলটা দাঁড়ান।

    লোকটা তৎক্ষণাৎ তাদের দেখতে পেল, বন্দুকের জন্য হাত বাড়াল। ভ্যান লিওয়েন তাকে ফেলে দিল, ঠিক সময়ে ডানে ঘুরে দেখল ছয়জন নাজির একটা দল তাদের জি-১১ থেকে গুলি করতে করতে কাটামানারানের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে।

    সুপার-মেশিনগানের গুলি তাদের চারপাশের ডেকে ছড়িয়ে পড়ল, পেছনের কাঠের হ্যান্ডরেইলগুলোর ছাল তুলে ফেলল।

    ভ্যান লিওয়েন মাথা নিচু করল, দেখল রেনে যেখান থেকে এসেছে কোনায় লাফ দিয়ে পড়ল।

    সে, যাই হোক, অনেক দূরে চলে এসেছিল।

    সে নাজিদের দিকে আবার তাকিয়ে দেখল তারা তার দিকে এগিয়ে আসছে। তারা মাত্র পনেরো গজ দূর থেকে অত্যাধুনিক মেশিনগান দিয়ে গুলি করছিল। প্রচণ্ড আক্রমণের মুখোমুখি হয়ে কোন কিছু ভাবতে না পেরে লিও ভ্যান লিওয়েন তার মাথায় একমাত্র যে ভাবনাটা এলো তাই করল।

    সে ওপর থেকে লাফ দিল।

    কমান্ড বোটের পেছনে নদীতে ছুটতে থাকা তার রিজিড রাইডারের হাল থেকে, কার্ল শ্রোয়েডার আতঙ্কিত হয়ে দেখল ভ্যান লিওয়েন বিশাল কাটামারানের পাশ দিয়ে পানিতে ঝাঁপ দিল।

    কিন্তু শ্রোয়েডার তাকিয়ে থাকার সময় পেল না।

    ঐ মুহূর্তে হতাশ থেকে দুটো নাজি রিজিভ রাইডার তার দিকে এগিয়ে আসতেই শিলাবৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণ হতে লাগল, বোটের পাশগুলো ফুটো হয়ে গেল, ডাইভ দিয়ে আড়াল নিতে বাধ্য করল।

    শক্তভাবে ডেকে আঘাত পেল, বোটের মেঝেতে কিছু একটা খুঁজতে থাকল যা দিয়ে সে নাজি রিজিড রাইডারের সাথে যুদ্ধ করতে পারবে।

    প্রথম যে জিনিসটা দেখতে পেল তা হল একটা জি-১১, কেভলার বক্সের ডেকের ওপর সামনে পড়ে রয়েছে। শুরুটা ভালোই।

    কিন্তু জি-১১ টার পেছনে, সে অন্যকিছু দেখতে পেল।

    ভ্রুকুটি করল।

    .

    ভ্যান লিওয়েন বাতাসে যেন উড়ে গেল, তার নিচের গতিশীল নদীর সাথে সংঘর্ষের অপেক্ষায় রইল।

    তা কখনো এলো না।

    বরং সে শক্ত কোনো কিছুর ওপর পড়ল, কঠিন কোনো কিছু, এমন কোনো কিছু যেটাকে প্লাস্টিক বা ফাইবার গ্লাস বলে অনুভূত হল।

    নিজের চারদিকে তাকাল আর নিজেকে একটা স্ক্যার্যাব স্পিডবোটের ডেকে শোয়া দেখতে পেল, যেটা কমান্ড বোটের পেছনের ডান পাশের রেইলের সাথে বাঁধা।

    এক সেকেন্ড পর, তিনজন নাজি কমান্ডো কমান্ডো বোটের রেইলের ওপর দিয়ে তাদের জি-১১ তাক করল নাক বরাবর মেশিনগান ধরল এবং সে মুহূর্তে সে তাদের চোখের দিকে তাকাতেই ভ্যান লিওয়েন বুঝতে পারল তার যুদ্ধ শেষ।

    নাজি তিনজনের আঙুল তাদের মেশিনগানগুলোর ট্রিগারে চাপ পড়ল।

    .

    প্রথমে, শ্রোয়েডার বুঝতে পারল এটা কি?

    একটা অদ্ভুত দর্শন ব্যাকপ্যাক-আকারের ডিভাইস প্রায় আয়তাকার, সাথে এর ওপরে এক সারি ডিজিটাল পরিমাপ যন্ত্র, কিলোহার্জ, মেগাহার্জ এবং গিগাহার্জের বিভিন্ন পরিমাপ।

    ফ্রিক্রোয়েন্সি পরিমাপ…

    এবং তারপর এটা তার কাছে পরিষ্কার হল।

    এটা নাজিদের জ্যামিং ডিভাইস, এই ডিভাইসটা ব্যবহার করেই তারা আমেরিকানদের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিউট্রাল করে দেয় যখন ভিলকাফোরে পৌঁছায়।

    ডিভাইসটার সামনে ইলেক্টিশিয়ানদের একটা ধূসর টেপ দিয়ে একটা কাগজ আটকানো যাতে জার্মান ভাষায় লেখা রয়েছে।

    সাবধান!
    ইএমপি লেভেল ১.২ গিগাহার্জের ওপরে সেট করবে না

    ইএমপি শব্দটা দেখে শ্রোয়েডারের চোখগুলো বড় বড় হয়ে গেল।

    জেসাস।

    পালস জেনারেটর।

    নাজিদের একটা তড়িৎ চুম্বকীয় পালর্স জেনারেটর আছে।

    কিন্তু কেকন তারা পালসের সীমা ১.২ গিগাহাজ পর্যন্ত সেট করেছে? আর তারপর এটা তার মাথায় এলো।

    শ্ৰোয়েডার সাথে সাথে তার সামনে পড়ে থাকা জি-১১ টা ছো মেরে তুলে নিল আর ওটার বডিতে স্পেসিফিকেশান মার্ক দেখতে পেল।

    হেকলার এন্ড কোচ ডয়েসল্যান্ড
    ৫০ ভি, ৩.৫ এমভি : ৯২০ সিপিইউ : ১.২৫ গিগাহার্জ

    সেকেন্ডের ভেতরে দ্রুত স্মরণ করতে পারল ইলেকট্রোম্যাগটিফ পালসের থিওরি ইএমপি যে কোন কিছু বাতিল করে দেয় যার ভেতরে থাকে একটা মাইক্রোপ্রসেসর কম্পিউটার, রেডিও ট্রান্সমিটার, টেলিভিশন।

    শ্রোয়েডার বুঝতে পারল, জি-১১ অ্যাসল্ট রাইফেল, যেহেতু জি-১১-ই বিশ্বের একমাত্র মেশিনগান যাতে একটা মাইক্রোপ্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। একমাত্র মেশিনগান এতই জটিল যে এটার প্রয়োজন হয়েছে।

    নাজিরা চায়নি তাদের লোকেরা ইএমপি জেনারেটরে বেশি উঁচু লেভেল সেট করুক কারণ যদি তারা করত, ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক পালস তাদের জি-১১ গুলোকে ধ্বংস করে দেবে।

    শ্রোয়েডার মুচকি হাসল।

    ঠিক একই মুহূর্তে যখন ভ্যান লিওয়েন স্ক্যারাবের ডেক থেকে নাজিদের জি-১১ অ্যাসল্ট রাইফেলগুলোর নলের দিকে তাকাল, কার্ল শ্রোয়েডার পালস জেনারেটরে টোকা দিল আর গিগাহার্জ ডায়ালটাকে ১.৩-এ ঘুরালো।

    ক্লিক, ক্লিক, ক্লিক।

    ভ্যান লিওয়েনের হাল ছেড়ে দেয়া চেহারা সম্পূর্ণ বিস্ময়ে রূপ নিল যখন তার ওপরের জি-১১ তিনটা গুলি করতে ব্যর্থ হল।

    নাজিদের আরো হতবাক মনে হল। তারা জানত না কি ঘটছে।

    ভ্যান লিওয়েন এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করল না।

    এক সেকেন্ডের ভেতরে সে তার এম-১৬ এক হাতে আর তার এমআইজি সয়্যার অন্য হাতে তুলে নিল। সে একসাথে দুটোর ট্রিগার টানল।

    দুটো অস্ত্রই গর্জে উঠল।

    নাজি তিনজন তৎক্ষণাৎ গুলির আঘাতে রেইলের পেছনে উল্টে গেল, মাথা রক্তের ঝরনার মতো বিস্ফোরিত হল।

    বুলেটগুলো রেইলে আঘাত করে, সবদিকে ছুটে গেল, সেগুলোর একটা স্ক্যারাবকে কমান্ড বোটের সাথে আটকে রাখা দড়ির ভেতর দিয়ে গেল।

    স্পিডবোর্টটা সাথে সাথে বিশাল ক্রুজার থেকে পড়ে গেল আর নাজিরা তাদের অচল জি-১১ গুলো হাতে নিয়ে শুধু স্ক্যারাটাকে পেছনের পানিতে পড়ে দেখল।

    নদীর অন্য পাশে ডুগী কেনেডি তার পিবারের সামনের গান টারেটের সুইভেল চেয়ারে বসে পেট্রোল বোটের ডাবল ব্যারেল ২০ মিমি. কামান দিয়ে নরক তৈরি করে চলছিল।

    টারেটটাকে চারদিকে ঘুরাল। আগুনের শিলাবৃষ্টিকে উড়িয়ে বাঁ পাশে নদীতে থাকা একটা রিজিড রাইডারকে সুইস পনির বানিয়ে ফেলল।

    তার সামনে থাকা হেলিপ্যাড বার্জগুলোর একটার দিকে নজর দিল যার ওপর তখনো একটা মাসকুইটো হেলিকপ্টার ছিল, এটাকে ২০ মিমি গুলিবর্ষণ করল, পুরো বোট আর চপারকে একসাথে আগুনে গোলায় পরিণত করল।

    ঠিক আছে এই নাও, নাজি কুকুরের বাচ্চারা।

    তিন গজ পেছনে পিবারটার হুইলহাউজে রেস শক্ত হাতে বোটটা চালাচ্ছিল, আগের মতো তন্নতন্ন করে নদীটা খুঁজছিল।

    ঠিক তখনই তৃতীয় এবং শেষ মাসকুইটো অ্যাটাক চপারটা আরেকবার নিচু দিয়ে উড়ে গেল, এর পার্শ্ব কামান থেকে গোলাবর্ষণ করতে করতে রেস দ্রুত মাথা নামিয়ে নিল। সামনের ফরওয়ার্ড ডেকে, ডুগী রিভলডিং গান টারেটাকে ঘুরাল, চপারটার দিকে কানে তালা দেয়া ২০ মিমি. গুলি করল, কিন্তু মাসকুইটো দ্রুত বাঁক নেয়াতে ফসকে গেল, মাসকুইটার বুলেটগুলো শুধু এর চারপাশের বাতাসে আঘাত করল।

    ওই মুহূর্তে, রেস আরেকটা পিবার গানবোটকে তাদের পেছনে দৃশ্যমান হতে দেখল।

    এর রেইলে কোন নাজি অস্ত্রধারী নেই, এর ২০ মিমি গান টারেট থেকে কোনো গুলিবর্ষণ হল না।

    ওটা দূরত্ব বজায় রেখে নীরবে ভাসতে থাকল, ঠিক তাদের পেছনে রইল, অন্তত তিনশ গজ দূরে।

    আর তারপর রেসের পাশে ঝুলতে থাকা একটা গুটি বর্গাকৃতি খোল থেকে ধোয়ার কুণ্ডলী বেরোতে দেখল। আকস্মিকভাবে লম্বা এবং সাদা কিছু একটাকে খোল থেকে বেরিয়ে পানিতে লাফিয়ে পড়তে দেখল।

    এটা কি আমি যা ভাবছি তাই-ই? সে বলল, আর ঠিক সে মুহূর্তে আরেকটা নাজি রিজিড রাইডার তাদের বোটের পেছনে হাজির হল, তার এবং যে পিবারটা থেকে অদ্ভুত বস্তুটা নিক্ষিপ্ত হয়েছে এর মাঝে। চারজন নাজি রিজিড রাইডারের খোলা ডেকের ওপর দাঁড়িয়ে রেস এবং ডুগীকে তাদের বেরেটা পিস্তল দিয়ে গুলি করছে।

    হঠাৎ, এতটাই আকস্মিকভাবে রেস লাফিয়ে ওঠল, দুই পিবারের মাঝের রিজিড রাইডারটা বিস্ফোরিত হল।

    কোন সতর্কীকরণ ছাড়াই।

    কোন আপাত কারণ নেই।

    লম্বা কাঠামোতে অ্যালুমিনিয়ামের অ্যাসল্ট বোটটা ধোয়া, পানি আর প্যাচান ধাতুর একটা উষ্ণ প্রস্রবণের মতো বাতাসে লাফিয়ে ওঠল।

    আপাত দৃষ্টিতে কোন কারণ নেই, রেস ভাবল, অন্য পিবারটা এর খোল থেকে শুধু একটা বস্তু নিক্ষেপ করেছে।

    ও আর ডুগী একই সাথে ব্যাপারটা ধরতে পারল।

    টর্পোডো… তারা দুজনই বলল, পরস্পর দুটি বিনিময় করল।

    কথাগুলো বলার পরই, নাজি পিবারটার পাশের খোল থেকে আরেকবার ধোয়ার কুন্ডলী ওঠল আর একটা লম্বা সাদা টর্পোডো ছিটকে বেরোল। পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ল, আর তীব্রগতিতে এগিয়ে এলো, সরাসরি তাদের বোটের দিকে।

    সেরেছে, ডুগী নিঃশ্বাস ফেলল।

    রেস পিবারটার থ্রটল সামনের দিকে ঠেলে দিল।

    টর্পোডোটা পানির ভেতর দিয়ে এগিয়ে আসতে থাকল।

    রেস দ্রুতগামী পিবারটাকে দূরে সরিয়ে নিতে চাইলো, পানিতে বাঁ দিকে ঘুরল, বাকি নৌবহরের দিকে, এ আশায় যে হয়তো অন্য কোন বোট তাদের আর টর্পেডোটার মাঝে চলে আসবে।

    কিন্তু এতে কোন কাজ হল না।

    সবচেয়ে কাছাকাছি বোটগুলো হল অবশিষ্ট দুটো হেলিপ্যাড বার্জ, এর একটার– সাথে গ্রুম্যান জিআরএফ-৫ সী প্লেনের পেছনে বাধা, ঠিক তাদের ডানে, আর অন্যটা সামনে, তাদের বামে।

    বার্জ দুটোই ফ্লাইট ডেকগুলো খালি, তাদের প্রশস্ত রেইলবিহীন হেলিপ্যাডগুলো শূন্য।

    রেস ইঞ্জিনের গতি বাড়াল।

    ওর পিবার দ্রুত সামনে এগোলো, একটা বিক্ষিপ্ত ঢেউয়ে ধাক্কা খেল, লাফিয়ে বাতাসে উড়ে গেল আর তারপর হঠাৎ বিপজ্জনকভাবে কাত হয়ে আবার নিচে নামল, পানিতে আঘাত করল।

    টর্পেডোটা তাদের দিকে এগিয়ে আসতে লাগল।

    প্রফেসর! ডুগী চিৎকার করল। কিছু করার জন্য মাত্র দশ সেকেন্ডের মতো পাচ্ছেন।

    দশ সেকেন্ড, রেস ভাবল।

    শিট।

    তার বাঁ দিকে হেলিপ্যাড বাৰ্জটা দেখল, একটা বুদ্ধি পেল, এর দিকে ঘুরে গেল। আট সেকেন্ড।

    পিবারটা এর প্রায় ত্রিশ গজ দূরের প্রশন্ত সমতল বার্জের ডান পাশ বরাবর তীব্র গতিতে চলতে থাকল।

    রেসের চোখগুলো বার্জের ওপর লেগে থাকল। এটা পানির ওপরের একটা ল্যান্ডিং প্যাডের চেয়ে একটু বড়, শুধু একটা প্রশস্ত সমতল হেলিপ্যাড যা পানির পৃষ্ঠের প্রায় তিন ফুট ওপরে। ভাসমান, সাথে এর বোতে একটা ছোট কাঁচ-ঘেরা হুইল হাউজ।

    ছয় সেকেন্ড।

    আকস্মিকভাবে, রেস তার স্টিয়ারিং হুইল শক্তভাবে ঘুরালো, পিবারটা পানির ওপর বাঁ দিকে মোড় নিল, দ্রুত ঢেউয়ের ওপর দিয়ে ছুটে চলল, হেলিপ্যাড বার্জটার দিকে ভয়াবহ গতিতে এগোনোর পথে প্রতিবার কয়েক মিটারে বাতাসে লাফিয়ে ওঠছিল।

    পাঁচ সেকেন্ড।

    টর্পোডোটা কাছাকাছি চলে এলো।

    চার সেকেন্ড।

    আপনি কি করছেন? ডুগী চিৎকার করে জিজ্ঞেস করল।

    তিন।

    রেস থ্রটলটাকে যতদূর যায়, সামনে এগিয়ে দিল।

    দুই।

    পিবারটা বার্জের স্টারবোর্ডের পাশে সংঘর্ষের জন্য ছুটে চলল, হঠাৎ পিবারটা একটা ঢেউয়ে ধাক্কা খেল আর একটা স্টান্ট গাড়ির মতো ঢাল থেকে লাফিয়ে ওঠল, অনেক উঁচুতে ওঠে গেল।

    দ্রুতগামী গানবোটটা পানি ছেড়ে লাফিয়ে ওঠল, এর প্রপেলারগুলো পেছনে ঘূর্ননরত, আক্ষরিক অর্থে উড়ন্ত, আর একটা হাড়-কাঁপানো ধুপ! শব্দের সাথে এর খোলটা ঠিক বার্জের খালি হেলিপ্যাডের ওপর ল্যান্ড করল।

    কিন্তু পিবারটা তখনো দ্রুতগতিতে চলছিল আর একটা কান ফাটান তীক্ষ্ণ কাঁচকাঁচ, আর্তনাদ করে, পেট্রোল বোটটা খালি হেলিপ্যাড ডেকের ওপর দিয়ে ছেড়ে গেল, পুরো ডক জুড়ে আগুনের ফুলকি ছিটল যতক্ষণ না–ধুম!–পিবারটা বার্জের বা প্রান্ত দিয়ে বেরিয়ে গেল আর অপর পাশের পানিতে লাফিয়ে পড়ল যেখানে এর প্রপেলারগুলো আবার পানির স্পর্শ পেল। হেলিপ্যাড বার্জ থেকে দ্রুত দূরে সরে গেল, ঠিক তখনই পেছনের টর্পোডোটা অসহায় বার্জটাকে আঘাত করল আর বিস্ফোরিত হল।

    বার্জটার দেয়ালগুলো একসাথে বিস্ফোরিত হল। টর্পোডোর আঘাতের ফলে বাৰ্জটা দুমড়ে মুচড়ে গেল, খোলের বাঁকা টুকরা আর হাজার হাজার কাঁচের টুকরায় বিস্ফোরিত হল।

    ওয়া-হু উ উ উ! ডুগী গান টারেট থেকে চিৎকার করল।চমৎকার রাইড!

    দম বন্ধ করে, রেস তাদের পেছনে নদীতে তাকিয়ে দেখল যখন ধ্বংস হওয়া বার্জের টুকরোগুলো তার হুলহাউজের ছাদে বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ছে। ওয়াও সে বলল।

    .

    রেনে বেকার কমান্ডো বোটের একটা সাইড ডোর দিয়ে পেছনে গেল, সতর্কভাবে একটা সাদা আলোকিত সংকীর্ণ করিডোরে নেমে এলো।

    সামনের একটা দরজা হঠাৎ খুলে গেলে সাথে সাথে একটা ফাঁকের ভেতর ঢুকে গেল। দুজন নাজি বের হল এবং দ্রুত তার পাশ কাটিয়ে চলে গেল, তাদের একজন বলছিল, রেনে আমাদের নিজেদের ইএমপি আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। তার করিডোর দিয়ে দৌড়ে চলে গেল, ওর উপস্থিতি টের পেল না।

    রেনে সামনে এগোল কাটামারানটার ভেতরের চাকচিক্য অবিশ্বাস্য-গাঢ় কাঠের প্যানেল সহ সাদা দেয়াল আর বিলাসবহুল নীল কার্পেট।

    কিন্তু ও গুরুত্ব দিল না।

    শুধু একটা জিনিস খুঁজছে।

    আইডলটা।

    পানি খেয়ে লাফ দেবার পর আর হেলিপ্যাড বার্জের ল্যান্ডিং প্যাডের ওপর শুকনো জায়গায় ছেড়ে যাবার পর, রেস আর ডুগীর পিবার এখন আবার পানিতে চলছে, সাথে ডুগী তার গান টারেট থেকে তাদের ওপর উন্মত্তভাবে ঘুরতে থাকা শেষ মাসকুইটো হেলিকপ্টারের দিকে গুলি করছিল।

    কিন্তু মাসকুইটোটা বেশ দ্রুতগামী। শেষপর্যন্ত যতক্ষণ না তার ২০ মিমি কামানের গুলি ফুরিয়ে গেল আর বারবার ক্লিক করতে থাকল, প্লেনটা তার গুলিগুলো এড়িয়ে গেল।

    ডুগী ভ্রুকুটি করল। ও, শিট।

    দ্রুত টারেট থেকে বেরিয়ে এলো, তার জি-১১ তুলে নিল আর হুইলহাউজে রেসের সাথে যোগ দিল।

    আমাদের ঐ চপারটাকে ফেলে দিতে হবে, সে বলল! ওটা যতক্ষণ ওপরে থাকবে, ওদের ছাড়ানোর আমাদের কোন সুযোগ নেই।

    তোমার পরামর্শ কি?

    ডুগী তাদের ডান পাশে প্রায় পঞ্চাশ গজ দূরে চলতে থাকা শেষ হেলিপ্যাড বাটার দিকে দেখাল, যেটার পেছনে গ্রুম্যান গুজ সী-প্লেনটা বাঁধা ছিল।

    আমার পরামর্শ হল আমাদেরও এর সাথে ওপরে ওঠা উচিত, সে বলল।

    কয়েক সেকেন্ড পর, তাদের পিবার প্রশস্ত, সমতল হেলিপ্যাড বার্জটার পাশাপাশি চলতে থাকল।

    দুটো বোট এক মুহূর্তের জন্য পরস্পরকে স্পর্শ করল আর ডুগী বার্জার ল্যান্ডিং ডেকে ঝাঁপিয়ে পড়ল।

    ওকে প্রফেসর, সে চিৎকার করল, এবার আপনার পালা!

    রেস মাথা ঝাঁকাল, হুইল ছাড়ল, এবং ঠিক তখনই একটা সংঘর্ষের ধাক্কায় পুরো পেট্রোল বোটটা কেঁপে ওঠল।

    রেস ডেকে পড়ে গেল, সময় মতো তাকিয়ে দেখল বাকি দুটো নাজি পিবারের একটা তার বোটের বাম পাশে আবার গুতো দিচ্ছে।

    পিবার দুটোর ডানের হেলিপ্যাড বার্জের ওপর, ডুগী ছা দিয়ে তার জি-১১ তুলে নিল আর ট্রিগার টানল। কিন্তু কোন কারণে, এটা গুলিও হল না।

    ড্যাম ইট! শিট! সে রেস আর অন্য পিবারটাকে তার বার্জ থেকে দূরে সরে যেতে দেখে চিৎকার করল।

    রেস গিয়ে পড়ল নরকে।

    অন্য পিবারের ওপর নাজিরা ক্লোজ রেঞ্জে পিস্তল দিয়ে তার হুইলহাউজে গুলি করতেই চারপাশে গুলি আঘাত হানল। পিবের সামনের উইন্ডশীল ভেঙে চুর্ণ হয়ে ভাঙা কাঁচের টুকরো তার ওপর বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ল।

    হঠাৎ আরেকটা বিপদজ্জনক ধাক্কা অনুভব করল যখন দ্বিতীয় পিবারটা তার পোর্ট সাইড রেইলে ধাক্কা খেল। চারপাশে তাকাতেই নাজি পিবারটাকে তার বোটের পাশে দেখতে পেল, বেরেটা হাতে চারজন কামান্ডোকে স্টার্ন ডেকে দেখতে পেল, তার পিবে ওঠতে এবং তাকে হত্যা করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    পাই করেও ঘুরল, অন্যদিকে তাকাল, আর দেখল তার নিজের বোট আর ডুগীর হেলিপ্যাড বার্জের দূরত্ব অন্তত ত্রিশ ফুট, অনেক দূরে।

    এখন যা করার নিজেকেই করতে হবে।

    সিআইজি বের করল।

    তোমার কি মত উইল?

    কিছুই দেখতে পাচ্ছ না।

    প্রথম নাজি তার পিবারের ওপর লাফিয়ে পড়ল।

    রেস দ্রুত ঘুরল আর নাজিটা তার পিস্তুল দিয়ে গুলি করতেই বোটের ভাঙা উইন্ডশীল্ড দিয়ে পিবারের উঁচু সামনের ডেকে লাফিয়ে পড়ল, তার বুলেটগুলো রেসের মাথার ইঞ্চিখানেক ওপর দিয়ে উইন্ডশীল্ডের ফ্রেমে আঘাত করল।

    রেস পিবারটার ফোর ডেকের ওপর শুয়ে পড়ল, গুলির লাইনের বাইরে থাকল, অন্তত মুহূর্তটার জন্য।

    বোটের পেছনের ডেকে অন্য নাজিদের নামার শব্দ শুনতে পেল।

    শিট।

    পেছনের দিকে তাকাল আর চারজন নাজি কমান্ডোর মাথা এগিয়ে আসতে দেখল। দূত গড়িয়ে গড়িয়ে দূরে সরে গেল এবং হঠাৎ তার পিঠে চোখা কোন কিছু আঘাত করল।

    রেস ঘুরল।

    ওটা পিবারটার নোঙর।

    নাজিরা তখনো এগিয়ে আসছে।

    কিছু একটা করো!

    ঠিক আছে…।

    রেস তার এসআইজি সয়্যারটা নোঙরের দড়ির দিকে তাক করল আর গুলি করল।

    বুলেটটা নোঙরটার ঠিক ওপরের দড়ি কেটে ফেলল আর স্টেইনলেস স্টিলের ওজন সাথে সাথে এটা থেকে মুক্ত হয়ে ডেকের সামনের দিকে ঠক করে নেমে গেল।

    রেস তার মাথার ক্যাপ খুলল আর তার দাঁতের ফাঁকে শক্ত করে এটা কামড়ে ধরল।

    প্রথম নাজি হুইলহাউজে হাজির হল, তার বেরেটা তুলে গুলি করল।

    রেস বুলেট থেকে বাঁচার জন্য ডাইভ দিল, ডাইভ দেবার সময় নোঙরের দড়ি তার হাতে তুলে নিল, তারপর কোন কিছু না ভেবে, দ্রুত ফোরডেক দিয়ে গড়িয়ে বো-এর দিকে এগিয়ে গেল।

    গড়ানোর সময় তার চারপাশের ফোরডেকে বুলেটের গর্তে ভরে গেল। বুলেটগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তু মিস করল।

    ঠিক যে মুহূর্তে নাজি চারজন পিবারটার হুইলহাউজে আবির্ভূত হল, উইলিয়াম রেস পেট্রোল বোটের বো থেকে গড়িয়ে নিচের খড়স্রোতা পানিতে পড়ল।

    .

    রেস সজোরে পানিতে আছড়ে পড়ল প্রথমে পিঠের ওপর।

    দ্রুতগামী সারফেসে উন্মত্তভাবে লাফাতে থাকায় পানির একটা দর্শনীয় ছিটে ছলকে ওঠল, এর ওপর দ্রুতগতিতে স্কিপিং করতে করতে সে মরিয়া হয়ে নোঙরের দড়ি আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করল। হঠাৎ তার পুরো শরীরে ঢেউ লেগে লাফিয়ে ওঠল এবং পিবারের বো-এর পাশে দড়াম করে আঘাত খেল।

    মাথার ক্যাপের কিনারা শক্ত করে কামড়ে ধরে, সর্বশক্তি দিয়ে দড়িটা আঁকড়ে ধরে থাকল।

    রাইডটা কঠিন ছিল, ঘুষি মারছিল, প্রহার করছিল, কিন্তু সে জানত যদি সে আরো একটা জিনিস না করে, তাহলে এটা আরো খারাপ হবে।

    ফোরডেকে তার ওপরে নাজি বুটের ধুপধুপ শব্দ শুনতে পেল। ওরা যদি তাকে বো থেকে ঝুলতে দেখে, তাহলে নিশ্চিতভাবেই সে মৃত মানুষে পরিণত হবে। যেখানে সে ঝুলে আছে তারা তাকে গুলি করবে।

    এটা করতে হবে, উইল!

    ঠিক আছে, সে ভাবল। তাহলে করা যাক।

    রেস নিজেকে নিচের দ্রুতগামী ঢেউয়ের বিরুদ্ধে শক্ত করল, মুখে আঘাত করতে থাকা পানির ছিটা থেকে রক্ষা পেতে চোখ কুঁচকে রাখল। তারপর সে নোঙরের দড়ি ভালোভাবে আঁকড়ে ধরে তার শরীরের সমস্ত পেশী শক্ত করল।

    তারপর সে নিজেকে দ্রুতগামী পিবারের বো-এর নিচে ডুবে যেতে দিল!

    প্রথমে তার পা নিচে গেল।

    তারপর তার কোমর, তারপর তার পেট, তারপর তার বুক।

    ধীরে ধীরে, তার কাঁধের কিনারা নিচে চলে গেল, তারপরই অনুসরণ করল ঘাড়।

    একটা শেষ, গভীর শ্বাস নিয়ে, রেস তার মাথা সারফেসের নিচে ডুবিয়ে দিল।

    চারপাশে আতঙ্কজনকভাবে নীরব হয়ে গেল।

    আউটবোর্ড মোটরের কোনো গর্জন নেই। চপারের কোনো শব্দ নেই, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের কোনো গুলির শব্দ নেই শুধু বোট ইঞ্জিনগুলো কম্পমান গুঞ্জন পানির নিচে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

    রেসের দৃষ্টিসীমা জুড়ে পিবারটার খাড়া ধূসর খোল। তার মুখের পাশ দিয়ে শুধু ঈশ্বরই জানে কি ছোট ছোট ফুটকি ঘণ্টায় লক্ষ্য মাইল ছুটে গেল, তার পায়ের নিচে ঘন সবুজ অন্ধকারে অদৃশ্য হয়ে গেল।

    ধীরে ধীরে, ভেবে চিন্তে, একটু একটু করে, রেস নিজেকে নোঙরের দড়ির শেষ প্রান্তে নামিয়ে আনল, পিবারটার খোল বরাবর পেছন দিকে এগিয়ে যেতে থাকল, প্রাণের মায়ায় দমবন্ধ করে রাখল, তখনো দাঁত দিয়ে তার ক্যাপ আঁকড়ে ধরে ছিল।

    সে যখন খোলটার দৈর্ঘ্যের প্রায় এক তৃতীয়াংশ চলে গেল তখন প্রথম সরীসৃপাকৃতি তার চারপাশের সবুজ অন্ধকার থেকে দৃশ্যমান হল।

    একটা কেইমান।

    দ্রুতগামী পিবারের পাশে অতর্কিতে আক্রমণ করল, ঝুলতে থাকা পায়ের ঠিক পাশে ওটার খোলা মুখ। আর র‍্যাটল-স্নেকের মতো একটা দ্রুতগতিতে স্নিকারের ওপর হিংস্রভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ল।

    কেইমানটার চোয়ালগুলো একত্রিত হবার আগমহর্তে পানি ছাড়া আর কিছুই ধরতে পারল না, বড় সরীসৃপটা, দ্রুতগামী পিবারের সাথে তাল মেলাতে না পেরে, তার পেছনের অস্পষ্ট সবুজ অন্ধকারে পুরস্কার ছাড়াই হারিয়ে গেল।

    রেসের মরিয়াভাবে বাতাসের প্রয়োজন হল। তার ফুসফুস জ্বলছে। অনুভব করল তার গলা দিয়ে পিত্তরস ওঠে আসছে।

    গতি বাড়াল তার যতক্ষণ না, সে যা খুঁজছিল তা পেল। ডাইভারস হ্যাচ।

    হ্যাঁ!

    হ্যাচের ভেতর মুঠি দিয়ে ওপরের দিকে ঘুষি দিল, ভেতরের ঢাকনা খুলে ফেলল, ভেতর দিয়ে তার মাথা তুলল।

    পিবারটার নিচের কেবিনের সারফেস ভেঙে ফেলল।

    রেস দ্রুত তার মুখ থেকে ইয়াংকি ক্যাপ সরিয়ে নিল আর বুক ভরে শ্বাস নিল।

    যখন সে তার দম ফিরে পেল সে নিজেকে বাক্সের মতো হ্যাচের ভেতর দিয়ে টেনে তুলল, ক্লান্তভাবে কেবিনের মেঝেতে ধপ করে বসে, ক্লান্ত-বিধ্বস্ত, কিন্তু বেঁচে থাকতে পেরে খুশি।

    .

    ডুগী কেনেডি শেষ হেলিপ্যাড বার্জার খোলা ডেক দৌড়ে পার হল।

    রেসকে পিবারের বো-এর দিকে নিচে যেতে দেখেছে মাত্র, হুইলহাউজের নাজি চারজনের ওপর গুলি করল। এখন সে বড় হেলিপ্যাড বার্জটার পেছনে বাধা সী প্লেনটার জন্য থামতেই ওরা গুলি করল।

    সে বার্জের স্টার্নের কিনারায় চলে এলো এবং দ্রুত গুজটার দড়ি খুলে দিল। কয়েক সেকেন্ড পর প্লেনটার ককপিটে ওঠে বসল।

    সী-প্লেনের বো-এর ওপর উঠে পড়ল এবং প্লেনের নাকের ওপর হ্যাচটা খুলে ফেলল। সেই হ্যাচটা দিয়ে প্রথমে মাথা ঢুকাল, তার কিছুক্ষণ পর প্লেনের ককপিটের ভেতর ঢুকে পড়ল।

    ডুগী ইগনিশন সুইচ চালু করল এবং গুজের টু-উইং প্রপেলার তৎক্ষণাৎ চালু হয়ে গেল, প্রথমে ধীরে ধীরে ঘুরল, তারপর হঠাৎ দ্রুত অস্পষ্ট বৃত্ত তৈরি করল।

    সী-প্লেনটা হেলিপ্যাড বাৰ্জটা থেকে দূরে সরে গেল, নাজিদের বুলেটগুলো এর শরীরে পিং পিং শব্দে আঘাত করল।

    ডুগী নদীর সারফেসে গুজের নাক ঘুরালো যাতে এটা তার সদ্য ত্যাগ করা পিবারটার ডেকের দিকে মুখ করে থাকে।

    তার কন্ট্রোল স্টিকের ট্রিগার চেপে ধরল।

    তাৎক্ষণিকভাবে, গুজটার পাশে বসান গ্যাটলিং গান থেকে ২০ মিমি মেশিন গানের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু হল।

    পিবারের ওপর নাজিদের তিনজন সাথে সাথে পড়ে গেল, গুজের শক্তিশালী গুলিবর্ষণ তাদের বুক, ঝাঁঝড়া করে ফেলল।

    চতুর্থ জনও পড়ে গেল, কিন্তু নিজের ইচ্ছায়, ফায়ারিং লাইন থেকে দ্রুত মাথা নিচু করল।

    ঈশ্বর, আমার এই টুয়েন্টি মিলিমিটার গানগুলো ভালো লেগেছে, ডুগী বলল।

    বোটটাতে গুলির আঘাতের সময় রেস পিবারের ওপর, হুইলহাউজের হোট ধাতুর ব্যাক-আপ দরজার পেছনে দাঁড়িয়েছিল।

    অবশেষে গুলিবর্ষণ থামল, রেস দরজা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখল চারজন নাজির মাত্র একজন জীবিত। পিবারের ডেকে শুয়ে বেরেটা রিলোড করছে।

    এবার তার সুযোগ।

    রেস তার নার্ভ শান্ত করার জন্য এক মুহূর্ত সময় নিল। তারপর ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলল, নিজের এসআইজি সয়্যারটা বিস্মিত নাজির দিকে তাক করে ট্রিগার টানলো।

    ক্লিক!

    এসআইজি-র স্লাইড ফাঁকা জায়গায় ফিরে গেল।

    কোন বুলেট নেই।

    রেগে গিয়ে রেস তার পিস্তলটা ছুঁড়ে ফেলল। নাজিটাকে নিজের পিস্তলে নতুন ম্যাগজিন ভরতে দেখে, তার ভাবনায় থাকা একমাত্র কাজটাই করল সে।

    লাফ দিয়ে তিন পা এগোলো আর লোকটার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।

    কঠিনভাবে তাকে আঘাত করল নাজিটাকে আর দুজনই দ্রুতগামী পিবারটার ডেকের ওপর পেছনে স্টার্নের দিকে চলে গেল।

    ওরা উঠে দাঁড়াল আর নাজিটা উল্টো পিঠে চপেটাঘাত করল। কিন্তু রেস মাথা নামিয়ে নেয়াতে নাজির আঘাত তার মাথার ওপর দিয়ে চলে গেল।

    রেস কমান্ডোর মুখে আঘাত করল, ক্রুদ্ধভাবে তার দিকে এগিয়ে গেল। ঘুসিটা জায়গা মতো লাগল এবং নাজি আঘাতের কারণে পিছিয়ে গেল।

    রেস তাকে আবার আঘাত করল, আবার, এরপর প্রতিটা ঘুসির আঘাতে চিৎকার করে নাজি পিছিয়ে যেতে থাকল।

    আমার—

    ঘুসি।

    –বোট

    ঘুসি।

    _থেকে

    ঘুসি।

    –ভাগো!

    শেষ ঘুসিতে নাজিটা পিবারের স্টার্ন রেলিং-এ আঘাত পেয়ে ওটার ওপর দিয়ে উল্টে বোটের পেছনের পানিতে পড়ে গেল।

    রেসের বুক ঘন ঘন ওঠা-নামা করছে, আঙুলগুলো থেকে রক্ত ঝরছে, পড়ে যাওয়া নাজির দিকে তাকিয়ে শক্ত করে ঢোক গিলল। কয়েক মুহূর্ত পর, পরিচিতি ঢেউয়ের স্রোতকে সৈনিকটার দিকে এগোতে দেখল আর নাজিটা আর্ত-চিৎকার শুরু করতেই সে ঘুরে দাঁড়াল।

    .

    রেনে সতর্কভাবে কমান্ড বোটের একটা সংকীর্ণ করিডোর ধরে চুপিসারে এগিয়ে গেল, তার হাতে এম-১৬ হঠাৎ সে তার ডানের একটা ঘর থেকে আওয়াজ পেল।

    সামনে এগলো, দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিল।

    একটা অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সজ্জিত লাবরেটরির মাঝে একজন পরিচিত লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল। একজন বয়স্ক লোক, কিন্তু বিশাল, মোটা, ষাঁড়ের মতো মোটা ঘাড় আর মোটা কোমর, সাদা ধোয়া শার্ট তার বিশাল পেটের ওপর টানটান হয়ে আছে।

    রেনে তার দম বন্ধ করে রাখল বৃদ্ধ লোকটার দিকে তাকিয়ে রইল।

    ওডিলো হেরহার্ডট।

    স্টর্মস্ট্রুপারদের নেতা।

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়ঙ্করতম নাজিদের একজন।

    বয়স এখন পঁচাত্তর নিশ্চিত কিন্তু দেখলে পঞ্চাশের বেশি মনে হয় না। চেহারায় ইন্দো-ইউরোপীয় বৈশিষ্ট্য এখনো প্রতীয়মান। সাদা ব্লন্ড চুল ওপরের দিকে পাতলা হয়ে গেছে, কুৎসিত বাদামী মতো বেরিয়ে পড়েছে। লোকদের খেঁকিয়ে আদেশ দেবার সময় তার নীল চোখগুলো চকচক করে।

    তাহলে জেনারেটরটা খুঁজে বের করে বন্ধ করো, গর্দভ! রেডিওতে চিৎকার করল। সে মোটা আঙুল দিয়ে একজন কমান্ডোকে দেখাল। হাউপ্টস্টার্মফুয়েরার! এখনই অ্যানিসটাজকে এখানে আসতে বল?

    নাজি জেনারেলের চারপাশে ল্যাবরেটরি কাঁচ আর ক্রোমিয়ামের মিশ্রণে তৈরি। দেয়ালগুলোতে সারি সারি ক্রে ওয়াইএমপি সুপার-কম্পিউটার, ভ্যাকুয়াম-সিল সাদা চেম্বারের একটি টেবিলের পেছনে বসে আছে। সাদা কোট পরা ল্যাব টেকনিশিয়ানরা দৌড়াদৌড়ি করছে। কমান্ডোরা পিস্তল হাতে মেইন গ্লাস ডোর দিয়ে বেরিয়ে গেল যা পেছনের হেলিপ্যাড ডেকের দিকে খোলে।

    কিন্তু রেনের দৃষ্টি শুধু হেরহার্ডটের বাম হাতে থাকা বস্তুটার দিকে।

    একটা ছেঁড়া পার্পল কাপড়ে জড়ানো একটা বস্তু।

    আইডলটা।

    ঠিক সেই মুহূর্তে হেলিপ্যাড ডেক থেকে হেনরিখ অ্যানিসটাজ দৌড়ে এলো এবং হেরহার্ডটের সামনে সোজা হয়ে দাঁড়ালো।

    আপনি আমাকে ডেকেছেন স্যার।

    কি হচ্ছে? হেরহার্ডট বলল।

    ওরা সবখানে, হের ওবারইগ্রুপেনফুয়েরার। নিশ্চিতভাবেই ওরা কয়েক ডজন, হয়তো আরো বেশি ক্ষতি করছে।

    আমরা চলে যাচ্ছি; হেরহার্ডট বলল, আইডলটা অ্যানিসটাজকে দিল আর পথ দেখিয়ে তাকে হেলিপ্যাড ডেকে নিয়ে এলো। তাড়াতাড়ি, আমরা আইডলটাকে হেলিকপ্টারে করে খনিতে নিয়ে যাব। যদি সরকারের মাথাগুলো সময়ের মধ্যে আমাদের দাবিতে সাড়া না দেয় তাহলে সুপারনোভার ভেতর থাইরিয়াম ঢুকিয়ে এর বিস্ফোরণ ঘটাব।

    ***

    নতুনভাবে উদ্ধারকৃত পিবারের হুইলহাউজ থেকে রেস তার চারপাশের জলজ যুদ্ধক্ষেত্রটা পর্যবেক্ষণ করল।

    নৌবহরটার যতটুকু বাকি রয়েছে তা নদী ধরে সামনে এগুচ্ছে কিন্তু আগের তুলনায় এটা এখন ছায়া।

    এখনো তিনটে পিবার ভাসছে, কিন্তু এর একটা রেসের অধীনে। মাত্র একটা হেলিপ্যাড বার্জ অবশিষ্ট্য আছে, সাথে পাঁচটা রিজিড রাইডারের তিনটা, আর ওগুলোর একটা শ্রোয়েডারের।

    ভ্যান লিওয়েনের স্ক্যার্যাব নৌবহরের সামনে দ্রুতগতিতে ছুটে গেল এবং শেষ মাসকুইটো চপারটার ওপর থেকে তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে।

    তার প্রায় চল্লিশ গজ পেছনে, রেস ডুগীর গুজ সী প্লেনটাকে হেলিপ্যাড বার্জের সামনে বেরিয়ে আসতে দেখল। দীর্ঘ পানির খোঁজে এটা মূল নদীর দিকে এগিয়ে গেল যেখান থেকে টেক অফ করতে পারবে।

    রেস সামনে ঘুরল।

    তার পিবারের প্রায় ত্রিশ গজ সামনে, বামে, সে বিশাল নাজি কমান্ডো বোটটাকে দেখতে পেল।

    সেই মুহূর্তে, রেস হঠাৎ দুজন লোককে পেছনের ডেকে দেখতে পেল, স্টার্নে বসে থাকা সাদা বেল জেট রেঞ্জার হেলিকপ্টরের দিকে ছুটছে।

    তৎক্ষণাৎ তাদের একজনকে চিনতে পারল অ্যানিসটাজ।

    অন্য লোকটা অবশ্যই অ্যানিসটাজের চেয়ে বয়স্ক, মোটা, পেশীবহুল ঘাড় এবং প্রায় টাকঅলা মাথা। রেস জানত না সে কে, কিন্তু অনুমান করল শ্রোয়েডার যার কথা আগে বলেছে, স্টর্মট্টপারদের নেতা অটো হেরহার্ডট বা এ রকমের কিছু।

    অ্যানিসটাজ হেরহার্ডট লাফিয়ে বেল জেট রেঞ্জারের পেছনের কম্পার্টমেন্টে ওঠল, আর সাথে সাথে চপারটার রোটর ব্লেডগুলো ঘুরতে শুরু করল।

    রেস বুঝতে পারল।

    তারা আইডলটা সরিয়ে নিচ্ছে…।

    এরপর যখন সে কমান্ডো বোটের স্টার্নের কার্যক্রম দেখছিল, রেস, তার চোখের কোণে একটা নড়াচড়া দেখতে পেল, একটা স্পষ্ট ছায়া কমান্ডো বোটের স্টারবোর্ড প্যাসেজওয়ে ধরে দ্রুত নামছে।

    চোখ বড় বড় হয়ে গেল।

    রেনে।

    দ্রুত সাইড প্যাসেজওয়ে ধরে নামছিল, পেছনের দিকে তার এম-১৬ শক্ত করে বুকের কাছে ধরা।

    ও আইডলটার পিছু নিয়েছে…

    নিজেই। এম-১৬ দিয়ে নাজি চপারটার দিকে গুলি করতে শুরু করল।

    চপারটার কাছে দাঁড়ানো দুজন নাজি সেনা সাথে সাথে পড়ে গেল। কিন্তু অন্যরা তাদের একে-৪৭ দিয়ে তার দিকে ফিরতি গুলি শুরু করল।

    গুলির হাত থেকে বাঁচার জন্য মাথা নিচু করল আর পেছনে কোণে লুকাল এবং নাজিরা তার পিছু নিল।

    রেস আতঙ্কিত হয়ে দেখল রেনে হোঁচট খেতে খেতে স্টারবোর্ড সাইড প্যাসেজওয়ে ধরে পিছিয়ে কমান্ডো বোটের বো-এর দিকে যাচ্ছে।

    পিছিয়ে যেতে যেতে সে তার এম-১৬ দিয়ে উন্মত্তভাবে গুলি করছে—নাজিদের প্যাসেজওয়ের পেছনে আটকে রাখতে দৃঢ় সংকল্প, যতক্ষণ না সে প্যাসজওয়ের সামনে প্রান্তে পৌঁছতে পারে।

    ওই মুহূর্তে রেস তাকে দেখতে পেল।

    একজন নাজি কমান্ডো। কমান্ডো বোটের প্রশস্ত ছাদের ওপর দিয়ে রেনের অবস্থানের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে।

    লোকটা তার রাইফেল উঁচুতে ধরে আছে, আর ধীর-সতর্ক পদক্ষেপে এগিয়ে যাচ্ছে। রেনের দৃষ্টি এড়িয়ে, ওপর থেকে তার ওপর গোপনে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য।

    রেনের তাকে দেখার কোনো সুযোগই নেই। কোনোভাবেই সে জানবে না লোকটা কোথায়।

    শিট রেস বলল, চারপাশে কোনো উপায়ের জন্য তাকলো।

    তার চোখ তার বোটের পেছনে দ্রুত এগিয়ে আসা ডুগীর সী-প্লেনের ওপর পড়ল, তার পিবার আর কমান্ডো বোটের মাঝে চলে আসছে, দ্রুত গতিতে ছুটে আসছে পরিষ্কার পানি পথে।

    রেস তৎক্ষণাৎ সুযোগটা দেখতে পেল, চোখের পলকে সে ভাঙা উইডশীতের ভেতর দিয়ে দ্রুত সামনের লাফিয়ে পড়ে ছাদে ওঠল।

    তারপর ডুগীর গুজ তার পিবারের পাশ কাটতেই রেস দ্রুতগামী সী-প্লেনের ডানার ওপর লাফিয়ে পড়ে ভারসাম্য রক্ষা করে চলল।

    দৃশ্যটা বিস্ময়কর। গুজ সী-প্লেনটা নাজি কমান্ডো বোট আর পিবারের মাঝ দিয়ে দ্রুত ছুটে চলেছে, এবং সিক্ত জিনস এবং টি-শার্ট আর নিউইয়র্ক ইয়াঙ্কি ক্যাপ পরিহিত উইলিয়াম রেসের ছোট দেহটা এর ডানা বরাবর দৌড়াচ্ছে। শরীরটা বাতাসের ধাক্কায় বেঁকে গেছে।

    রেস দ্রুত দৌড়াল, তার পাগুলো দ্রুত নড়ছে তবে নিশ্চিভাবে গুজটার পঞ্চাশ ফুট ডানা বরাবর।

    কমান্ডো বোটটাকে তার সামনে হাজির হতে দেখলও; রেনেকে দেখল প্যাসেজওয়ের অন্যপ্রান্তে তিনজন নাজিকে আটকে রাখতে; নিঃসঙ্গ নাজিটাকে দেখল বিশাল ক্রুজারের ছাদে, তার অবস্থানের কাছাকাছি।

    আর তারপর একটা রেসিং কার যেমন করে প্রতিদ্বন্দ্বীকে অতিক্রম করে, গুজ কমান্ডো বোটের পাশে চলে এলো আর রেস বা ডানার প্রান্তে পৌঁছে লাফ দিল, বাতাসে উড়ল এবং নিচে নামল বিড়ালের মতো রেনের দিকে গোপনে এগোতে থাকা নাজির ঠিক ডান পাশে।

    রেস এক মুহূর্তে দেরি করল না। অস্ত্র ছাড়াই লোকটার দিকে দ্রুত এগিয়ে গেল, ঝাঁপিয়ে পড়ল, দুজনেই কমান্ডো বোটের ছাদ থেকে সামনের দিকে উড়ে গেল।

    কাটামারানের ফোরডেকের ওপর একটা স্তূপে গিয়ে পড়ল, স্টারবোর্ড প্যাসজওয়ের সামনের প্রান্তে যেখানে রেনে আছে তার চেয়ে দূরে নয়।

    টালমাতাল রেস যেখানে পড়েছে সেখানে গড়াগড়ি খেল এবং আতঙ্কিত হয়ে দেখল নাজিটা ওঠে দাঁড়িয়েছে।

    এক মুহূর্তের জন্য, রেস লোকটার চেহারা দেখতে পেল। সন্দেহাতীতভাবে এটা তার দেখা সবচেয়ে কুৎসিত চেহারা গুলোর একটা লম্বা আর ভারসাম্যহীন এবং গুটি বসন্তের দাগে পূর্ণ। দৃশ্যটা ক্রোধের একটা ছবি, বিশুদ্ধ হিংস্রতা।

    কিন্তু এটা ছিল ক্ষণস্থায়ী একটা মুহূর্ত কারণ পর মুহূর্তে নাজির কুৎসিত চেহারার স্থলে লোকটার একে-৪৭ এর বাট ভেসে ওঠল। তার মুখের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে আর তারপর-ধুপ!-সে অন্ধকার ছাড়া আর কিছু দেখতে পেল না।

    রেনে সময়মত ঘুরে দেখল রেসের মাথা পেছনে হেলে পড়েছে আঘাতের কারণে। শরীর ডেকের ওপর পড়ল, এবং শক্তভাবে আঘাত পেল।

    রেনে কুৎসিত নাজিটাকে রেসের শরীরের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল, হঠাৎ তার দিকে মুখ তুলে তাকাল।

    মুচকি হেসে রাইফেল তুলতে দেখল ও।

    .

    গুজ সী-প্লেনটা কমান্ডো বোটের সমানে বেরিয়ে এলো, নৌবহরের সামনের খোলা পানিতে।

    ডুগী থ্রটলটাকে সামনে ঠেলছিল, ছোট সী-প্লেনটার টেক অফের জন্য প্রয়োজনীয় গতি পাবার চেষ্টা করছিল, যখন হঠাৎ তার বাঁ দিকে কোনো এক জায়গায় প্রচণ্ড শব্দ হল। আকস্মিকভাবে ও অনুভব করল পুরো প্লেনটা নাটকীয়ভাবে কাত হয়ে গেছে। বাইরে তাকিয়ে দেখল যেখানে তার বাম পাশে স্ট্যাবিলাইজিং পন্টুন থাকার কথা সেখানে কিছুই নেই।

    এক সেকেন্ড ও যায়নি এক জোড়া নাজি রিজিড রাইডার তার দুপাশ থেকে বো-ওর দিকে বেরিয়ে এলো। ওর সামনে এঁকে-বেঁকে চলাচল করতে লাগল, ডেক থেকে কমান্ডোরা ভারি মেশিনগান দিয়ে ওর উইভিস্ক্রীনে গুলি করল।

    ডুগী মাথা নামিয়ে নিল। উইশীল্ড মাকড়সার জালে পরিণত হল।

    তারপর তাকিয়ে দেখল তার ডান পাশের রিজিড রাইডারের নাজিদের একজন একটা এম-৭২ এ২ বহনযোগ্য রকেট লাঞ্চার তার কাঁধে তুলে গুজটার দিকে তাক করল।

    হায়, ঈশ্বর… ডুগী শ্বাস ফেলল।

    নাজিটা ফায়ার করল।

    ডুগী তার স্টিয়ারিং ইওক কঠিনভাবে বামে ঘুরাল, ঠিক সে মুহূর্তে রকেট লাঞ্চারের ব্যারেল দিয়ে এক ঝলক ধোঁয়া বের হল।

    গুজটা পাগলের মতো এতই উন্মত্তভাবে বাঁক নিল যে এর পন্টুনবিহীন বাম ডানার প্রান্তটা পানি স্পর্শ করল।

    ফল স্বরূপ, মিসাইলটা রকেট লাঞ্চার থেকে বেরিয়ে ডুগীর উঁচু হয়ে যাওয়া ডান ডানার ঠিক নিচ দিয়ে বেরিয়ে গেল, মাত্র কয়েক ইঞ্চির জন্য লক্ষ্যবস্তু মিস করে গাছের সারির দিকে এগিয়ে গেল, আর একটা হতভাগ্য গাছের গুঁড়িকে নরকে পরিণত করল।

    ডুগীর ছোট গুজটা নদীর সারফেসে কাত হয়ে চলতে থাকল, ওটার পেট আর এর অবশিষ্ট একটা পন্টুনের ওপর ভর দিয়ে ছুটে চলল।

    ঠিক তারপরই শেষ মাসকুইটো চপারটা আকাশ থেকে গর্জে ওঠল, ছোট সী প্লেনটার চারপাশে এর কামানের গোলা ছুটে এলো।

    গড ড্যাম ইট। আবার ডাশবোর্ডের নিচে নিচু হতে হতে সে চিৎকার করল। পরিস্থিতি কী এর চেয়ে খারাপ হতে পারে?

    এরপর সে একটা অশুভ, অথচ খুবই পরিচিত শব্দ শুনতে পেল।

    পুউফ!

    সিটের ওপর ঘুরল সে।

    সময় মতো দেখল অবশিষ্ট নাজি পিবার দুটোর একটা তার পেছনে চলে এসেছে। আর সাইড মাউন্টেড পড় থেকে একটা টর্নেডো ছুঁড়েছে।

    টর্পোডোটা পানিতে ছিটকে পড়ল, সারফেসের নিচ দিয়ে দ্রুত এগিয়ে আসতে লাগল।

    ডুগী ওটার দিকে গুলি করল।

    রিজিড রাইডার দুটো তার দুপাশে থেকে দ্রুত এগিয়ে আসছে, গুজের ডানাগুলো বরাবর, তাকে আটকে ফেলছে।

    শিট, ডুগী বলল। শিট, শিট, শিট।

    টর্পেডোটা কাছে চলে এলো।

    গুজের থ্রটল সামনে ঠেলে দিল।

    ছোট সী-প্লেনটা পানির ওপর দিয়ে ছুটতে শুরু করল, ঘিরে আছে শত্রুর যানের পাশে দুটো রিজিড রাইডার এবং একশ গজ পেছনে পিবারটা, আর ওপর দিয়ে কালো মাসকুইটো চপারটা বেয়ে চলেছে।

    ডুগী মরিয়া হয়ে চারপাশের অবস্থা বিচার করল। ছোট প্লেনটা যখন গতি ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, রিজিড রাইডার দুটো সহজভাবে এর পাশে গতিশীল, সুপার চার্জড ইঞ্জিনগুলো গর্জন করছে, কুরা তাকে কষ্ট করতে দেখে। বিবৃত আনন্দ পাচ্ছে।

    এত তাড়াতাড়ি হেসো না, ফ্যাসিস্টের দল, ডুগী জোরে জোরে বলল, এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

    টর্পেডোটা এখন তার লেজ থেকে মাত্র ২০ ফুট দূরে। ডুগী যতদূর সম্ভব থ্রটলটা ঠেলে দিল।

    পনেরো গজ, আর সে আশি নট তুলতে পারল।

    দশ–নব্বই।

    পাঁচ–একশ।

    ডুগী দেখতে পেল রিজিড রাইডার দুটোর নাজিরা অসহায় গুজটার মরিয়া চেষ্টা দেখে হাসছে।

    দুই গজ–একশ দশ। টপ স্পিড।

    টর্পেডোটা গুজটার নিচে ঢুকল।

    না। ডুগী চিৎকার করল। কাম অন বেবি! আমার জন্য এটা করো।

    গুজটা নদীর সারফেস ধরে ছুটল।

    নাজিরা হাসছে।

    ডুগী শপথ নিল।

    এবং তারপর হঠাৎ, ছোট গুজটা তাই করল, ডুগী ছাড়া আর কেউ সেটা ভাবেনি।

    সারফেস থেকে ওঠে উড়াল দিল।

    এটা নদীর সারফেস থেকে অল্প একটু ওঠল, হয়তো এক ফুট বা সর্বোচ্চ দুই, কিন্তু যথেষ্ট।

    এর প্রাথমিক লক্ষ্য হারিয়ে টর্পেডোটা পানিতে নতুন লক্ষ্য খোঁজা শুরু করল।

    এটা ডুগীর ডান পাশের রিজিড রাইডারটা খুঁজে পেল।

    গুজটা সারফেস থেকে ওঠতেই টর্পেডোর বিস্ফোরণে রিজিড রাইডারটা পানি থেকে শূন্যে লাফিয়ে ওঠল।

    গুজটার পেছনের অংশ আবার পানি স্পর্শ করল, এর পেছনে পানির ফোয়ারা ছিটাল।

    ওপরের মাসকুইটোটা দেখল কি ঘটেছে, সামনে এগলোলা, গুজটার সামনে চলে এলো, বাতাসে পাশে ঘুরল, যাতে দ্রুগামী সী-প্লেনটার সামনে, এক ঝাঁক গুলি করল।

    ডুগী ড্যাশবোর্ডের নিচে মাথা নামালো। বেজম্মা চপার, চিৎকার করল, দেখি এটা তোমার কেমন লাগে!

    সাথে সাথে সে স্টিয়ারিং ইওকটা বামে ঠেলে দিল।

    গুজটা তীক্ষ্ণভাবে বাঁক নিল, এর পন্টুনবিহীন বাম ডানার প্রান্ত আবার পানি স্পর্শ করল, অবশিষ্ট রিজিড রাইডারের পথে চলে এলো।

    রিজিড রাইডারের স্কিপার যথেষ্ট দ্রুত রিঅ্যাক্ট করল না।

    আকাশে ছোঁড়া মিসাইলের মতো রিজিড রাইডারটা সী-প্লেনের ঢালু ডানাগুলোর দিকে এগিয়ে যেতেই সম্পূর্ণভাবে পানি ছেড়ে ওঠে পড়ল।

    অ্যাসন্ট বোটটা গুজের ডানা বরাবর ছুটতে থাকল, এর রূপালি খোলা সী প্লেনের বাঁকা হওয়া ডানার সাথে ঘষা খেয়ে তীক্ষ্ণ কিচকিচ শব্দ করল। ওটাকে লাঞ্চিং র‍্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করল, তারপর শো! রিজিড রাইডারটা এর ডান ডানার প্রান্ত হতে শূন্যে ওঠে পড়ল আর উড়ে গিয়ে তীক্ষ্ণভাবে ঘুরে যাওয়া গুজটার সামনে ঝুলতে থাকা মাসকুইটো হেলিকপ্টারের ছায়ায় চলে গেল।

    রিজিড রাইডারটা ভয়ানক গতিতে এর সামনের অংশে আঘাত করতেই মাসকুইটোটা নাকে ঘুসি খাওয়া একজন বক্সারের মতো পিছিয়ে গেল। চপারের ক্যানোপি এক মুহূর্তে চূর্ণ হয়ে গেল। এক সেকেন্ড পর পুরো হেলিকপ্টারটা। বিস্ফোরিত হয়ে একটা জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হল।

    ডুগী তার পেছনের ধ্বংসযজ্ঞের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল; দেখল টর্পেডো বিস্ফোরিত কালো হয়ে যাওয়া রিজিড রাইডারটা ধীরে ধীরে পানিতে ডুবে যাচ্ছে, দেখল মাসকুইটো আর অন্য রিজিড রাইডারের সংঘর্ষের পর অবশিষ্ট থাকা অংশটুকু প্রচুর পানি ছিটিয়ে নদীতে ভেঙে পড়ল।

    কেমন দেখলে, নাজি বেজন্মারা, মৃদু গলায় বলল।

    .

    হতবুদ্ধি, বিভ্রান্ত, আর মাথাব্যথা নিয়ে উইলিয়াম রেসকে নাজি কমান্ড বোটের পেছনের ডেকে নিয়ে যাওয়া হল।

    রেনে তার পাশে পাশে হাঁটছে, কুৎসিত নাজিটা তাকে ধাক্কা দিয়ে সামনে এগিয়ে দিচ্ছে।

    আর রেনে কুৎসিত চেহারার নাজিটার কাছে আত্মসমর্পণ করতেই বড় নাজি স্টারকোর্ড প্যাসেজওয়ের অন্য প্রান্তের কমরেডদের গুলি থামানোর আদেশ দেয়। দুই বন্দীকে প্যাসেজওয়ে ধরে পেছনের হেলিপ্যাড ডেকে নিয়ে আসতে বলে। যেখানে রয়েছে আগের সাদা বেল জেট রেঞ্জার হেলিকপ্টারটা টেক অফের জন্য প্রস্তুত।

    অ্যানিসটাজ তৎক্ষণাৎ তাদের দেখল, লাথি দিয়ে হেলিকপ্টারের সাইড ডোর খুলল।

    ওদের আমার কাছে নিয়ে এসো, চিৎকার করল সে।

    ভ্যান লিওয়েন নৌবহরের সামনে নদীর সারফেসে দৌড়াচ্ছিল।

    স্ক্যার্যাবটার হালে বসাও, বুলেটাকৃতির খোলটার মাত্র পেছনের এক তৃতীয়াংশ পানি স্পর্শ করে আছে, এর ৪৫০ হর্স পাওয়ারের ইঞ্চিন দুটো তার কানে তালা লাগাচ্ছিল।

    সিটের ওপর ঘুরে দেখল সাদা বেল জেট রেঞ্জার হেলিকপ্টার কমান্ডো বোটের স্টার্ন ডেক থেকে ওঠে পড়েছে।

    ড্যাম ইট একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

    কার্ল শ্রোয়েডার ছিল সমস্যার দুনিয়ায়।

    তার রিজিড রাইডার নৌবহরের পেছনে শেষ দুটো নাজি পিবারের মাঝ দিয়ে ছুটে চলেছে, অবিরাম গুলিবর্ষণের মাঝে।

    মরিয়াভাবে তাদের বুলেটগুলো এড়াতে মাথা নিচু করল, কিন্তু তারা বেশ কাছে অনেক দ্রুত।

    এবং তারপর হঠাৎ ঠক, ঠক, ঠক–রিজিড রাইডারে বুলেটের একসারি গর্তের সৃষ্টি হল, ডান গায়ে আঘাত পেল, উরুতে তিনটা ফুটো তৈরি করল।

    দাঁত কিড়মিড় করে, আর্তনাদ চেপে গেল।

    কোনোভাবে সে এক হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে বোটটা চালাতে পারল, কিন্তু এতে কোন কাজ হল না। নাজি পিবারগুলো তার একদম কাছে চলে এলো।

    সামনের দিকে তাকাল, নৌবহরের বাকি অংশের দিকে নজর দিল–কমান্ডো বোট, স্ক্যার্যাব, গুজ সী-প্লেন আর হেলিপ্যাড বার্জগুলোর একটাতার একশ গজ সামনে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।

    কমান্ডো বোর্ট থেকে উড়ে যাওয়া সাদা বেল জেট রেঞ্জার হেলিকপ্টারটাও দেখল। মাত্র কয়েক মিনিট আগে, রেস আর রেনেকে এর ভেতর ঢুকতে দেখেছে–

    ঠিক সেই মুহূর্তে আরেকটা গুলিবর্ষণের ঢেউ স্রোয়েডারের বোটের ওপর আছড়ে পড়ল। তার পেছনে এক সারি গর্ত গর্তের সৃষ্টি হল, বুলেটপ্রুফ ভেস্ট ফুটো করে ফেলল, যেন ওটা টিস্যু পেপার দিয়ে তৈরি। শ্রোয়েডার যন্ত্রণায় চিৎকার করে ডেকের ওপর পড়ে গেল।

    মুহূর্তে সে বুঝতে পারল সে মারা যাচ্ছে।

    তার ক্ষতগুলো জ্বলছে, তার সবগুলো নার্ভ আর্তনাদ করছে, পুরো শরীর শকের পূর্বপ্রান্তে, কার্ল শ্রোয়েডার তার সাথে যত বেশি সম্ভব নাজিকে নিয়ে যাবার জন্য মরিয়া হয়ে কিছু খুঁজতে লাগল।

    দৃষ্টি রিজিড রাইডারের মেঝের ওপর পড়ে থাকা কেভলার বক্সের ওপর আটকে গেল। তখনি সে দেখতে পেল, এর পাশে ইংরেজিতে কিছু লেখা রয়েছে।

    ধীরে ধীরে, শ্ৰোয়েডার কেভলার বক্সের পাশের মার্কিংটা পড়ল।

    পড়া শেষ হল, চোখগুলো বড় বড় হয়ে গেল ওর।

    শ্রোয়েডারের রিজিড রাইডার বাকি নৌবহর থেকে পিছিয়ে পড়ল, সাথে নাজি পিবার দুটো এর দুই পাশে ভিড় করে আছে।

    কার্ল শ্রোয়েডার এখন পিঠের ওপর আসল্ট বোটের ডেকে শুয়ে আছে, তার মাথার ওপর জমা হওয়া ঝড়ো মেঘগুলোর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, পড়ন্ত বিকেলের আকাশ অন্ধকার করে ফেলেছে, এবং দেহ থেকে ধীরে ধীরে জীবন বেরিয়ে যাচ্ছে।

    আকস্মিকভাবে, তার আকাশ দেখার পথে অশুভ দেখতে এক নাজির চেহারা বাধা হয়ে দাঁড়ালো। শ্রোয়েডার বুঝতে পারল পিবারগুলোর একটা তার পাশে চলে এসেছে।

    গ্রাহ্য করল না সে।

    অবশ্য নাজিটা শান্তভাবে একে-৪৭ তার কাঁধে ঠেকাতেই, শ্রোয়েডার শুধু লোকটার রাইফেলের ব্যায়েলের দিকে তাকাল, অনাগ্রহী, ভাগ্যের কাছে আত্মসমর্পণ করল।

    বিস্ময়করভাবে সে হেসে উঠল।

    নাজিটা ইতস্তত করল।

    পাশে তাকাল, শ্রোয়েডারের বাঁ দিক পড়ে থাকা কেভলার বক্সটার দিকে।

    বাক্সটার ঢাকনা খোলা।

    এর ভেতরে, সে পাঁচটা ছোট ধাতু আর প্লাস্টিকের শিশি দেখল, প্রত্যেকটা অল্প পরিমাণ হলুদ তরলে পূর্ণ। প্রতিটা শিশি একটা ফোম মোড়া পকেটে বসে আছে।

    নাজিটা তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারল ওগুলো কি।

    এম-২২ আইসোটোপিক চার্জ।

    কিন্তু বাক্সটায় একটা ষষ্ঠ খোপ আছে।

    কিন্তু সেটা খালি।

    নাজিটার চোখ বাম দিকে সরে গেল, দেখল শেষ শিশিটা শ্রোয়েডারের রক্তমাখা হাতের মুঠোয়।

    শ্রোয়েডার ইতোমধ্যে চার্জটার মাথার রাবারের সিল ভেঙে ফেলেছে, ইতোমধ্যে এর রিলিজ মেকানিজমকে ঢেকে রাখা লাল সেফটি ল্যাচ খুলে দিয়েছে।

    এখন বুড়ো আঙুল দিয়ে রিলিজ বাটনে চাপ দিবে। আকাশের দিকে শান্তভাবে তাকিয়ে থেকে ওটা নামায়ে দিল।

    নাজিটার চোখ আতঙ্কে বড় বড় হয়ে গেল। ওহ, না…

    শ্রোয়েডার তার চোখ বন্ধ করল। এখন পুরোটাই রেনে আর আমেরিকান প্রফেসরের ওপর দায়িত্বে রইল। আশা করল তারা সফল হবে। আশা করল আমেরিকান সৈন্য দুজন তার বোটের যথেষ্ট সামনে, বিস্ফোরণের ব্যাসার্ধের বাইরে আছে। সে আশা করল…

    শ্রোয়েডার শেষ বারের মতো দীর্ঘশ্বাস ফেলল, রিলিজ বাটনটাকে নিচে নেমে যেতে দিল এবং আই এম-২২ আইসোটেপিক চার্জ-এর সাথে সাথে বিস্ফোরিত হল।

    .

    পৃথিবী কেঁপে উঠল।

    একটা বিশাল-বিশাল-সাদা-তপ্ত বিস্ফোরণ রিজিড রাইডার থেকে বিস্ফোরিত হল এবং সবদিকে ছড়িয়ে পড়ল।

    নদীর দুপাশের গাছের সারিতে আঘাত হানল, এক মুহূর্তে পুড়িয়ে ছাই করে ফেলল।

    নদীর সারফেসের নিচে আঘাত করল, দুরন্ত গতিতে নিচের দিকে অকল্পনীয় তাপের বুদবুদ সৃষ্টি করল, এর স্পর্শে পানি ফুটতে শুরু করল, ধূমকেতুর মতো নিচের দিকে যাবার পথে এটা যে কোন কিছুকে হত্যা করল।

    ওটা আকাশের দিকে ওঠল, উঁচুতে, অনেক উঁচুতে, একটা ক্যামেরার ফ্ল্যাশবাল্বের মতো ঝলসে ওঠল, একটা আলোর স্তম্ভ যা অবশ্যই মহাকাশ থেকে দেখা গিয়েছে।

    সবচেয়ে খারাপ হল, সাদা-তপ্ত আলোর বিস্তৃত দেয়াল নদীর সারফেস বরাবর এগিয়ে গেল, অবশিষ্ট নৌ বহরের পিছু নিল।

    ভ্যান লিওয়েনের স্ক্যার্যাব আর ডুগীর গুজ নৌবহরের সামনে এগিয়ে চলেছে–তাদের পেছনে সাদা আলোর প্রচণ্ড ঢেউ নদীটাকে গিলে ফেলল, তারা এর সামনে, বাইরে।

    নিশ্চিতভাবেই, তারা ছিল ভাগ্যবান। এম-২২ চার্জ বিস্ফোরিত হবার সময় তার স্রোয়েডারের রিজিড রাইডারের তিনশ গজ সামনে।

    অন্য বোটগুলো–শেষ হেলিপ্যাড বাটা, অবশিষ্ট পিবার দুটো এবং কমান্ডো বোটটা–ছিল না।

    আর এমন সাদা-তপ্ত আলোর বিস্তৃত দেয়াল কোন বিশাল পৌরাণিক দানবের মতো এদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল, ওদের বামন করে ফেলল। তারপর হঠাৎ, এক মুহূর্তে, সাদা বিশাল দেয়ালটা হেলিপ্যাড বার্জ আর পিবারগুলো গিলে ফেলল, এদের পুরো গিলে ফেলার আগেই স্পর্শে বিস্ফোরিত হল আর এর ভয়ঙ্কর চার্জ।

    এর পরবর্তী টার্গেট কমান্ড বোট। একটা পলায়নরত ম্যাক ট্রাককে যেভাবে একটা ক্লান্ত রাইনো দৌড়ে অতিক্রম করতে চেষ্টা করে, বিশাল কাটামারানটা আগত উত্তপ্ত শক্তি থেকে বাঁচার চেষ্টায় দ্রুত সামনে এগলো।

    কিন্তু বিস্ফোরণটা ছিল খুব দ্রুত গতিসম্পন্ন, প্রচণ্ড শক্তিশালী।

    বার্জ আর পিবারগুলোর সাথে যা করেছিল, আলোর দেয়ালটা কমান্ড বোটটাকে আঁকড়ে ধরল, বিশাল যানটাকে এক মুহূর্তে গ্রাস করে ফেলল।

    ওটা যত দ্রুত উঠেছিল, আলোর বিশাল দেয়ালটা থিতিয়ে গেল আর অদৃশ্য হল। দ্রুতই এটা সম্মুখ ভরবেগ হারালো এবং দূরে ডুবে গেল।

    ভ্যান লিওয়েন শেষবারের মতো তার পেছনের ঝলসে যাওয়া আর ধোঁয়া ওঠা জংলা নদীটার দিকে তাকাল। সে গাছের সারির ওপরে একগুচ্ছ কালো ধোঁয়ার মেঘ ওঠতে দেখল কিন্তু প্রায় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বৃষ্টি শুরু হওয়ায় এটা দ্রুতই ভেঙে গেল।

    এবার সে নিজের কথা ভাবল আর বুঝতে পারল তার স্ক্যার্যাব আর ডুগীর গুজটাই শুধু নদীতে অবশিষ্ট আছে।

    আসলে, অন্য আর একমাত্র অবশিষ্ট বস্তুটা ছিল তাদের সামনের গাছগুলোর ওপর দিয়ে অদৃশ্য হতে থাকা একটা ছোট সাদা ফুটকি।

    সাদা বেল জেট রেঞ্জার হেলিকপ্টার।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    Next Article জলঙ্গীর অন্ধকারে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }