Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    টেম্পল – ম্যাথিউ রীলি

    হাসান খুরশীদ রুমী এক পাতা গল্প571 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩.৩ পঞ্চম ষড়যন্ত্র

    পঞ্চম ষড়যন্ত্র
    মঙ্গলবার জানুয়ারি ৫, ১৮১৫ ঘণ্টা

    কে তুমি?

    জার্মান ভাষায় প্রশ্ন করল ওডিলো হেরহার্ডট। কষে একটা চড় মারল রেনের মুখে।

    একবার তো বললাম, চিৎকার করে বলল সে। আমার নাম রেনে বেকার। আমি বুন্ডেস্ট ক্রিমিনাল এমটি-র স্পেশাল এজেন্ট।

    নদীর উপর দিয়ে ছুটছে সাদা হেলিকপ্টার, যাচ্ছে, পুবদিকে। রেস ও রেনেকে হাতকড়া পরিয়ে রিয়ার কম্পার্টমেন্টে বসান হয়েছে। ওদের সামনে বসেছে হেরহার্ডট, অ্যানিসটাজ এবং কুৎসিত দেখতে লোকটা। সামনের কেবিনে নিঃসঙ্গ পাইলট কপ্টার চালাচ্ছে।

    রেসের দিকে ফিরল হেরহার্ডট। এবার বল, তুমি কে?

    ইনি আমেরিকান–রেনে বলল।

    আবার তাকে চড় কষাল হেরহার্ডট। জোরে।

    প্রশ্নটা আমি তোমাকে করিনি। রেসের দিকে ফিরল। এবার বল, কে তুমি? এফবিআই? কিংবা নেভি? নাকি সীল টিম জাহান্নামে যাও, যেভাবে আমাদের বোটগুলো ধ্বংস করছিলে, তুমি নিশ্চয়ই সীল টিম।

    আমরা ডারপা, রেস বলল।

    হেরহার্ডট ভুরু কোঁচকাল। হাল্কা হাসল সে।

    না। তোমরা তা নও, বলল সে, সামনের দিকে ঝুঁকল, গোলাকার মাংসল মুখটা রেসের সামনে ঝুলিয়ে রাখল।

    রেসের মনে হল সে অসুস্থ বোধ করছে।

    হেরহার্ডট লোকটা যেমন বিরক্তির তেমন কুৎসিত, আর কিম্ভুতকিমাকার মোটা। শয়তানমুখো লোকটার গায়ে দুর্গন্ধ। কথা বলার সময় দুই ঠোঁটের মাঝে সব সময় থুতু লেগে থাকে, আর ওর নিঃশ্বাসে রয়েছে ঘোড়ার বিষ্টার গন্ধ।

    আমি ডক্টর ফ্রাঙ্ক ন্যাশের হয়ে কাজ করি, বলল রেস। ইউএস আর্মির রিটায়ার্ড কর্নেল কাজ করছেন ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্ট এজেন্সিতে।

    ফ্রাঙ্ক ন্যাশ? রেসের মুখে গরম নিঃশ্বাস ছেড়ে জানতে চাইল হেরহার্ডট।

    হ্যাঁ।

    আর কে, তাহলে, তুমি, সে কারণে, এত বেশি সাহস দেখিয়েছ? বলতে বলতে রেসের মাথা থেকে ইয়াঙ্কি ক্যাপটা খুলে ফেলল।

    আমার নাম উইলিয়াম রেস, রেস বলল, হেন্ডকাফ পরা হাতে ক্যাপটা ধরল সে। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির পুরাতন ভাষার একজন প্রফেসর।

    ও, আচ্ছা, বলল হেরহার্ডট মাথা ঝাঁকাচ্ছে। তাহলে ওরা তোমাকে নিয়ে এসেছে ম্যানুস্ক্রিপ্টটা অনুবাদ করানোর জন্যে। ভেরি গুড, ভেরি গুড। তোমাকে খুন করার আগে, মিষ্টার উইলিয়াম রেস, নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির পুরাতন ভাষার প্রফেসর, তোমার একটা ছোট্ট ভুল ধারণা আমি ভেঙে দিতে চাই।

    কী ভুল ধারণা?

    ফ্রাঙ্ক ন্যাশ ডারপা-র কেউ না।

    কি? রেস ভুরু কুঁচকে বলে উঠল।

    আর সে অবসরপ্রাপ্ত আর্মি কর্নেল নয়। সম্পূর্ণ বিপরীতে, সে খুবই সক্রিয়। তোমার জন্যে তথ্য হল, কর্নেল ফ্রান্সিস কে ন্যাশ একজন ইউনাইটেড স্টেটস আর্মির স্পেশাল প্রজেক্ট ইউনিটের প্রধান।

    কি বললেন?

    রেস বুঝতে পারল না ব্যাপারটা। তাহলে কেন ন্যাশ তাকে বলল সে একজন ডারপার, যেখানে কিছুই না?

    আ-হা! হেরহার্ডট কক কক করে উঠল, হাত তালি দিল। আমি একজন বিশ্বাসঘাতকের মৃত্যুর আগে চেহারাটা দেখতে চাই।

    রেস এবার সম্পূর্ণ বিভ্রান্ত।

    কি নিয়ে ভাববে সেটাই জানে না সে।

    ন্যাশ যদি ডারপা-র সাথে না-ই থাকে, তাতে কি? সুপারনোতা ছিল আর্মির প্রজেক্ট, আর ন্যাশ আছে আর্মি স্পেশাল প্রজেক্টের সাথে।

    যদি না…।

    অ্যানিসটাজের দিকে ফিরল হেরহার্ডট।

    তার মানে। আমেরিকান আর্মিও পৌঁছে গেছে এখানে। এ-ব্যাপারে তুমি কী ভাবছ?

    নিশ্চয়ই আরেকজন গুপ্তচর আছে, বলল অ্যানিসটাজ, রেস এবং রেনের উপস্থিতিকে গুরুত্বই দিচ্ছে না।

    ডারপা-য়?

    হেরহার্ডট বলল।

    মাথা ঝাঁকাল অ্যানিসটাজ। আমরা জানি আমেরিকান টেরোরিস্ট গ্রুপের সঙ্গে লিঙ্ক আছে, তবে এটার বিষয়ে জানা ছিল না।

    হুম! বাতাসে হাত ঝাপটে প্রসঙ্গটা বাতিল করে দিল হেরহার্ডট। এর অবশ্য কোনো গুরুত্বই নেই, কারণ আইডলটা এখন আমাদের হাতে।

    এ থেকে আপনারা আসলে কী অর্জন করতে চান? তিক্ত কণ্ঠে জানতে চাইল রেনে। আপনারা কী দুনিয়াটাকে ধ্বংস করে ফেলতে চান।

    হাসল হেরহার্ডট। সত্যি কথা বলতে কী, দুনিয়াটাকে আমি ধ্বংস করতে চাই না ফ্রাউলিন বেকার। এখনো আমি চাই এটাকে নতুন করে বানাতে, নতুন নিয়মে চালাতে।

    কিসের সাথে? একশো বিলিয়ন ডলার। এটাই কি সব? টাকা?

    মাই ডিয়ার ফ্রাউলিন বেকার, এই কি তোমার দৃষ্টিসীমা? টাকা। এটা টাকার ব্যাপার নয়। এটা হল টাকা দিয়ে কি করা যায়। একশো বিলিয়ন ডলার কিছুই না। ঠিক আছে তারপরেও তার মানে হল শেষ।

    আর শেষটা কি?

    হেরহার্ডটের চোখ সরু সরু হয়ে গেল। একশো বিলিয়ন ডলার আমাকে একটা নতুন বিশ্ব কিনে দিবে।

    নতুন বিশ্ব?

    সাহসী ফ্রাউলিন বেকার, আমি কি চাই তা নিয়ে ভাবছেন কি? শুধু একটা নতুন বিশ্ব? বস্তা পচা নাজি উদ্দেশ প্রতিষ্ঠা করা যে আরিয়ান নেশানের হারেনতোক মাথায় এবং আন্টারমেনশেন নিচে নিব? বাহ!

    তাহলে তুমি কি চাও? কিভাবে তুমি নতুন বিশ্ব কিনবে?

    একশো বিলিয়ন ইউ এস ডলার ওয়ার্ল্ড ফাইনানশিয়াল মার্কেটে ডাম্প করা হবে প্রতিটি এক সেন্টকে দরকষাকষি করে।

    কি বললে? রেনে জিজ্ঞেস করল।

    আমেরিকান অর্থনীতি এই মুহূর্তে খুব অনিশ্চিত অবস্থায় আছে, গত পঞ্চাশ বছরে এমন অনিশ্চিত ছিল না। বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে প্রায় আটশো এবং তিরিশ বিলিয়ন ডলার করা হয়েছে, সামগ্রিক বাজেটে ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। কিন্তু ইউনাইটেড স্টেটস নির্ভর করছে ভেজা মুদ্রা ব্যবস্থাই ভবিষ্যতে সব ঋণ পরিশোধ করে দিবে।

    কিন্তু যদি মুদ্রার তেজীভাব নাটকীয়ভাবে পড়তে থাকে, ধরো বর্তমান মুদ্রা শক্তির এক চতুর্থাংশে নেমে আসে, তাহলে ইউনাইটেড স্টেটস-এর পক্ষে সম্ভব হবে না ওই ঋণ শোধ করা।

    দেউলে হয়ে যাবে, ডলার মূল্যহীন হয়ে যাবে। আমি সংকল্প করেছি আমার একশো বিলিয়ন ডলার দিয়ে আমেরিকার ইকোনোমি একেবারে পঙ্গু করে দিব।

    হেরহার্ডটের চোখ দুটো ক্রোধে জ্বলজ্বল করছিল। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ থেকে এই বিশ্বটা আমেরিকার বিশ্ব, জোর করে আমেরিকার কালচার গেলান হচ্ছে, ব্যবসায় তাদের আধিপত্য নিশ্চিত করা এবং পরিচালনা করা এবং তা ক্ষমা করা হল আমেরিকা সরকারের অন্যতম কাজ। আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি যে আমার একশো বিলিয়ন ইউ এস ডলার বিশ্ব বাজারে ডাম্প করলে আমেরিকান ডলার উদ্ধারের পরিধি বদলে পঙ্গু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আমেরিকানদের সহযোগিতায় কিছুই হবে না। আমেরিকার জনগণের কোনো শক্তি নেই কোনো কিছু কেনার, কারণ তাদের মুদ্রা ব্যবস্থা ক্ষমতা প্রয়োগ করবে না যা কাগজে লেখা হয়ে গেছে। ইউনাইটেড স্টেটস পরিণত হবে ভিখারীতে এবং বিশ্ব শুরু হবে নতুন করে। এটাই আমি করতে যাচ্ছি, ফ্রাউলিন বেকার। আমি নিজে নতুন বিশ্ব কিনব।

    রেস বিশ্বাস করতে পারছে সে এসব কি শুনছে।

    তুমি নিশ্চয়ই অবিচল– বলল সে।

    না? হেরহার্ডট বলল। ১৯৯৭ সালের জর্জ সোবরাসকে দেখ, মালায়শিয়ান প্রাইম মিনিস্টার জনগণের সামনে দোষারোপ করেন সোরোসের যে বিপুল পরিমাণ এশিয়ান মুদ্রা ডাম্পিং করার ফলে এশিয়ান ইকোনোমি ক্রাইশিস শুরু হয়। এবং এর জন্য একজন মানুষ, তার আমার দশভাগেরও এক ভাগ সম্পদ নেই যা আমি ব্যবহার করতে যাচ্ছি। কিন্তু তারপর, অবশ্যই, আমি পরিণত হব বড় মাছে।

    এই কারণেই কি তোমাকে ওরা টাকা দেয় না? রেনে বলল।

    ওরা দিবে। কারণ পৃথিবীর একমাত্র মানুষ যে অপারেশন সুপারনোভা নিয়ন্ত্রণে রেখেছি।

    কিন্তু তারা যদি না দেয়?

    তাহলে আমি ডিভাইস ডিটোনেট করে দিব, হেরহার্ডট বলল সহজভাবে।

    নাজি জেনারেল তার চেয়ারটা ঘোরাল এবং চপারে উইন্ডস্ক্রিন দিয়ে সোজা বাইরে তাকাল। রেস এবং রেনে তার দৃষ্টি অনুসরণ করল।

    সত্যিকারের একটা সুন্দর দৃশ্য তারা দেখতে পেল।

    দেখল আমাজন রেইনফরেস্ট দিগন্ত পর্যন্ত বিস্তৃত, সীমাহীন সবুজ একটা চাদর যেন।

    তবে কাছাকাছি দূরত্বে সবুজ চাদর একটু ছেঁড়া ওখানকার মার্টিতে খয়েরী রঙের বিশাল একটা গোলাকার গবর দেখা যাচ্ছে।

    গহ্বরটা নদীর ধারে, বিশাল ডায়ামিটারে আধ মাইলের কম নয়। ট্রাকের পথ ওঠা-নামার জন্য অল্প ঢালু লম্বা একটা পথ তৈরি করা হয়েছে; গর্তটার গা পেঁচিয়ে নেমে গেছে একেবারে তলায়। কিনারায় স্ট্যান্ড-এর উপর ঝুলছে ফ্লাডলাইট, গোধূলির ঝাপসা ভাব কাটিয়ে আলোকিত ফুটবল স্টেডিয়ামের মতো করে তুলেছে জায়গাটাকে।

    বিশাল গর্তের মাঝখানে, মাকড়সার জালের মতো টানটান করে বিস্তৃত কেবল এর সমষ্টি বড় বড় সাদা বাক্স আকৃতির একটা কেবিনকে শূন্যে ঝুলিয়ে রেখেছে। এক ধরনের কন্ট্রোল বুঁদ ওটা, চারদিকেই একটা করে চওড়া জানালা দেখা যাচ্ছে।

    ওই কন্ট্রোল বুদে যাওয়ার পথ হল গর্তের এক মাথা থেকে আরেক মাথা পর্যন্ত লম্বা দুটো সাসপেনশন ব্রিজ। উত্তর ও দক্ষিণ, যা বিপরীতমুখী দুই প্রান্ত থেকে শুরু ব্রিজ দুটো-দুটোরই মাঝখানে বেশ খানিকটা ঝুলে পড়া ভাব। প্রতিটি ব্রিজ কম করেও চারশো গজ লম্বা, মোটা ইস্পাতের কেবল দিয়ে তৈরি।

    এটাই সেই সোনার খনি।

    মাদ্রে দ্ৰ দিয়া গোল্ড মাইন।

    .

    বিরাট ওপেন-কাট মাইনের কিনারা থেকে বেশি দূরে নয়, নদীর সারফেসে পন্টুন এর সাহায্যে ভাসছে হেলিপ্যাডটা, বেল জেট রেঞ্জার হেলিকপ্টার সেটার উপর এসে নামল।

    নদীর সরাসরি দক্ষিণে মাইনটা। নদী ও মাইনের মাঝখানে ভাঙাচোরা কিছু পুরানো দালান আছে–ওয়্যারহাউসের মতো দেখতে তিনটে কাঠামো কালো অত্যন্ত করুণ চেহারা হয়েছে।

    সবচেয়ে বড় কাঠামোটা বেরিয়ে এসেছে নদীতে। ওটার পুরোটা দৈর্ঘ্য জুড়ে গ্যারেজের মতো বেশ কয়েকটা চওড়া দরজা রয়েছে, ভেতরে যাতে বোট ও সীপ্লেনকে ঢোকান যায়। অতীতের বছরগুলোতে, রেস ধারণা করল, মাইনিং কোম্পানির বোট ও সী-প্লেন এখানে এসেই সোনা তুলত হোল্ডে।

    আজ, যাই হোক, ওটার কাজ একেবারে ভিন্ন।

    আমেরিকান স্যাটেলাইট ক্যামেরাগুলোকে ফাঁকি দেয়ার জন্য নাজিরা তাদের বোট আর সী-প্লেন এখানে লুকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেছে।

    ভাসমান হেলিপ্যাডে কপ্টারটা নামা মাত্র একটা সুইচ টিপল পাইলট।

    সঙ্গে সঙ্গে বাঁ দিকের মরচে ধরা গ্যারেজের একটা দরজা খুলে গেল। আন্ডারওয়াটার কেবল মেকানিজম-এর কল্যাণে চৌকো পন্টুন, যার উপর কপ্টার বসে রয়েছে, পানির উপর দিয়ে খোলা দরজার দিকে এগোল।

    রেস দেখল, বড়সড় ওয়্যারহাউসের ভেতর টেনে নেওয়া হচ্ছে কপ্টারটাকে।

    এক সেকেন্ড পর উপরের আকাশ হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে গেল, তার বদলে ওয়্যারহাউসের ছাদ দেখা যাচ্ছে, মরচে ধরা ইস্পাতের বিম আর গাঢ় রঙের কড়িকাঠের জটিল সমষ্টি।

    ওয়্যারহাউসের চারদিকে চোখ বুলাচ্ছে রেস।

    জায়গাটা সত্যি সত্যি বিশাল বিশাল ঘোরা জায়গা, একটা প্লেনের হ্যাঙ্গারের মতো সিলিং-এর বিমে আটকান শঙ্কুর মতো দেখতে হালজেন লাইট থেকে আলো আসছে।

    ওয়্যারহাউসের মেঝেটা একেবারে অন্য রকম। নদীটা ঢুকে এসেছে ওয়্যারহাউসের ভেতর। দু-ফুট চওড়া ডেকওয়ের উপর দিয়ে ডাঙায় উঠতে হয়, সেটার অন্তত বারো জায়গায় শাখা গজিয়েছে- প্রতিটি শাখা সোনা নিতে একটি করে বোট ও সী-প্লেন ভিড়ত।

    সেন্টাল ডেকওয়ের পুরোটা দৈর্ঘ্য জুড়ে একটা চওড়া কনভেয়ার বেল্ট দেখা যাচ্ছে। ডাঙার দিকের দেয়ালে বড় একটা গর্ত আছে, সেটার ভেতর ঢুকছে বেল্টটা, তারপর লুপ হয়ে ফিরে এসে ডেকওয়ের শেষপ্রান্তে চলে গেছে।

    রেস বুঝতে পারল কনভেয়ার বেল্টের মার্টির দিকের শেষ অংশটা পাওয়া যাবে কোণাকৃতি মাইনের গভীরে, সম্ভবত একটি লোডিং লেজ রয়েছে কোথাও, কিংবা একেবারে আগ্নেয়গিরির নিচে।

    এইভাবেই সে বের করল, সোনা কমভেয়ার বেল্টে চাপিয়ে নিচে মাইনের ভেতর দিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, তারপর ওই কমভেয়ার বেল্টে করে লম্বা টানেল বেয়ে উপরে তুলে আনা হয়, যতক্ষণ পর্যন্ত এখানে ওয়্যারহাউসে আনা না হয়, তারপর নৌকো কিংবা প্লেনে তোলা হত।

    চপারটাকে মাথায় নিয়ে ছোট একটা ডকের মাথায় থামল ধীরগতির পন্টুন, ওটার উপর বসে থাকা চপারের রোটর এখনও নিস্তেজ ভঙ্গিতে ঘুরছে, হ্যালোজেন আলোতে চকচক করছে।

    চপারের পেছন থেকে রেস দেখল, ওয়্যারহাউসের ডাঙার অংশে কাঁচ মোড়া একটা অফিস রয়েছে, সেটা থেকে চারজন লোক বেরিয়ে এলো।

    তাদের তিনজনের পরনে সাদা ল্যাব কোট–বিজ্ঞানী। চতুর্থ লোকটা পরেছে কমব্যাট ফেটিগ, হাতে জি-১১ রাইফেল লোকটা সৈনিক।

    তিন বিজ্ঞানীর মধ্যে একজন, খেয়াল করল রেস, আকারে খুবই ছোট অন্য দুজনের তুলনায়, অনেক বয়সও হয়েছে তার। বয়সের ভারে কুঁজো হয়ে পড়ায় আরো ছোট দেখাচ্ছে তাকে। মাথা ভর্তি রূপালি চুল, চোখ দুটো আকারে বিরাট ও গোল লাগছে মোটা গ্লাসের চশমার কারণে। রেস আন্দাজ করল, এ-ই বোধ হয় ডক্টর ফ্রিজ ওয়েবার, মেধাবি নাজি বিজ্ঞানী, যার বিষয়ে শ্রোয়েডার এবং ন্যাশকে আলোচনা করতে শুনেছে ও।

    কাঁচের দেয়ালের অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা চারজন লোক ছাড়া ওয়্যারহাউসের বাকিটা পুরোপুরি খালি।

    ভাবল রেস, তার মানে এখানে বেশি লোক নেই। আইডলটা আনতে প্রায় সবাইকেই পাঠান হয়েছিল ভিলকাফোরে। ওখান থেকে ফিরেছে শুধু চারজন অ্যানিসটাজ, হেরহার্ডট কুৎসিত দর্শন ও পাইলট।

    আন্টারসায়েরফুয়ে বার ঝাঁকি খেয়ে চপারটা স্থির হওয়ার পর হেরহার্ডট বলল কুৎসিত দর্শন। তোমার যদি সমস্যা না থাকে তাহলে তুমি এজেন্ট বেকার এবং প্রফেসর রেসকে রিফিইজ পিট-এর নিয়ে যাও। গুলি করে মেরে পুঁতে ফেলবে লাশ দুটো।

    .

    রেস এবং রেনেকে ধাক্কা দিয়ে নিয়ে চলল, প্রকাণ্ড ওয়্যারহাউস থেকে দূরে, রেইনফরেস্টের ভেতর দিয়ে মেঠো একটা পথ এটা।

    ওদের পেছনে কুৎসিতদর্শন এবং নাজি সৈন্য রয়েছে। খনিতে রইল মাত্র। একজন সৈন্য, জি-১১ দিয়ে ধাক্কিয়ে নিয়ে যেতে লাগল।

    কোনো আইডিয়া আছে, এই বিপদটা কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়? হাঁটতে হাঁটতে রেনেকে জিজ্ঞেস করল রেস।

    জানা নেই, ঠাণ্ডা সুরে জবাব দিল সে। আমি ভাবছিলাম এক-আধটা প্ল্যান নিশ্চয় আপনার কাছ থেকে পাওয়া যাবে। শার্টের হাতার ভেতর একটা দুটো প্ল্যান নিশ্চয়ই আছে।

    প্ল্যান নেই।

    তার মানে আমাদেরকে মরতে হবে?

    দেখে তো তাই মনে হচ্ছে।

    পথটা বাঁক ঘুরতেই নাক কোঁচকাল রেস, উৎকট দুর্গন্ধে বমি পাচ্ছে। খানিক পরেই পথটার শেষ মাথায় এসে থামল ওরা চারজন। সামনে, প্রায় পঞ্চাশ গজ জায়গা জুড়ে গাছপালার ফাঁকে আবর্জনার স্তূপ ছড়িয়ে রয়েছে—পুরানো টায়ার, ফেলে দেওয়া পচা খাবার, ধাতব যন্ত্রাংশ, এমনকী কয়েকটা জন্তুর লাশও।

    রিফিউজ পিট।

    হাঁটু গাড়ন, দুজনেই, ভারি গলায় বেঁকিয়ে উঠল কুৎসিতদর্শন।

    হাঁটু গেড়ে বসল ওরা।

    যে যার হাত মাথার ওপর তুলুন।

    সে নির্দেশও পালন করল ওরা।

    ক্লিক, ক্লিক!

    নাজি সৈন্য তার জি-১১ সেফটি রিলিজ করল, আওয়াজটা শুনতে পেল। এবার জি-১১ সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এরপর ওর পেছনে পায়ের আওয়াজ পেল সে। এগিয়ে আসছে। তারপর অ্যাসল্ট রাইফেলের শক্ত স্পর্শ পেল মাথার পেছনে।

    সবকিছু এভাবে ঘটবে তা ভাবেনি ও, মনের ভেতর চিৎকার করে উঠল। সব কিছু অসম্ভব দ্রুত ঘটে যাচ্ছে। এক-আধুট সময় নষ্ট করবে না তারা? কোনো সুযোগই কি পাওয়া যাবে না…একটা সুযোগ

    রেসের মুখটা সামনের দিকে এগিয়ে গেল, বন্দুক থেকে সরে গেল, ঠোঁট কামড়ে চোখ বন্ধ করল সে, বোকা হয়ে গেল এই পরিস্থিতির জন্য, সব শেষের অপেক্ষায় রইল।

    দ্রুত সময় এসে গেল।

    ব্লাম।

    কিছুই ঘটেনি।

    রেসের চোখ তখনো বন্ধ।

    জি-১১ থেকে গুলি বেরিয়েছে ঠিকই, কিন্তু কী কারণে যেন, অদ্ভুত এক কারণে যেন, যেখানে থাকার কথা সেখানেই আছে ওর মাথা।

    এবং তারপরেই—দড়াম! রেসের হাঁটু গাড়া কাঠামোর পাশেই কাদায় মুখ থুবড়ে পড়ল একটা শরীর।

    রেস চোখ পেছন দিকে তাকাল। দেখল নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে কুৎসিতদর্শন। হাতের জি-১১ তাক করা আছে সেই জায়গায় যে জায়গায় একটু আগে নাজির মাথাটা ছিল।

    সদ্য নিহত নাজি কাদায় মুখ দিয়ে পড়ে আছে, মাথার পেছনের গতটা থেকে ক্ষীণ ধারায় বেরিয়ে আসছে রক্ত ও মগজ।

    উলি, বলে রেনে ছুটে গেল কুৎসিতদর্শনের দিকে। পরস্পরকে উষ্ণ আলিঙ্গন করল ওরা।

    ঘুরে দাঁড়াল রেসের মন।

    উলি…?

    নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বসন্তের দাগ ভর্তি নাজির চওড়া বুকে কিল মারল রেনে। সত্যি করে বলল, তুমি কি আরো দেরী করতে? আমি তো প্রায় শেষ হতে বসেছিলাম।

    সত্যি আমি দুঃখিত, রেনে

    কুৎসিতদর্শন উলি বলল। বোট-হাউস থেকে যথেষ্ট দূরে না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়েছি আমি। তা না হলে বাকি সবাই জেনে ফেলত।

    রেস হঠাৎ ঘুরে উলি নামে লোকটার মুখোমুখি হল।

    আপনি বিকেএ। সে জিজ্ঞেস করল।

    হ্যাঁ, বিশাল মানুষটি বলল হাসতে হাসতে। এবং আপনার ভালো উদ্দেশই আপনাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে, নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির প্রফেসর উইলিয়াম রেস। কাটামারানে রেনেকে বাঁচাতে গিয়ে আপনি ঠিক মানুষটিকে বাধা দিয়েছেন। আমি যদি আসল নাজি হতাম, আমি আপনার মগজে একটা বুলেট ঢুকিয়ে দিতাম। আমার নাম হল স্পেশাল এজেন্ট উলি পীক, কিন্তু এখানে আমার নাম হল আন্টারশারফুয়েরার উলি কাহর।

    ঠিক তারপরই হঠাৎ করে রেসের মনে পুরোটা বোধগম্য হল।

    ম্যানুস্ক্রিপ্ট, রেস বলল, তুমি হলে অন্যতম যে বিকেএ-র ম্যানুস্ক্রিপ্টের কপি পেয়েছিলে।

    ঠিক তাই, উলি বলল।

    রেসের মনে পড়ল কার্ল শ্রোয়েডার, ফ্রাঙ্ক ন্যাশকে বলেছিল বিকেএ-র পরিকল্পনার কথা যে আইডলের কাছে যেন নাজিরা যেতে না পারে। তার পরিষ্কার শ্রোয়েডারের কথা মনে আছে : ওই কাজটা করো, আমরা সান্টিয়াগোর ম্যানুস্ক্রিপ্টের একটা কপি পেয়ে গেছি এবং ওটার সাহায্যে রাস্তা বুঝে নেব।

    যদিও তাই-ই ছিল, যে রেস বুঝতে পারল বিকেএ-র একজন স্টর্মস্ট্রুপার অর্গানাইজেশনে ছিল।

    বিকেএ-র ম্যানুস্ক্রিপ্টের কপিটা ছিল আসলে সান্টিয়াগোর ম্যানুস্ক্রিপ্টের জেরোক্স কপি! কিন্তু আসল ম্যানুস্ক্রিপ্টটা কয়েকদিন আগে ফ্রেঞ্চ পিরানিজের স্যান স্যাবাস্তিয়ান অ্যাবে থেকে স্টর্মস্ট্রুপাররা চুরি করেছিল। তারপরেও ম্যানুস্ক্রিপ্টের জেরোক্স কপিটা বিকেএ-র উচিত কারো মাধ্যমে পাঠিয়ে দেওয়া তাদের কাছে নাজি অর্গানাইজেশনের ভেতরের একজনের মাধ্যমে।

    স্পাই!

    উলি!

    আসুন, নিহত নাজিকে টপকে বলল উলি। এরপর লাশের অস্ত্রগুলো নিয়ে ওদের দুজনকে দিল সে। নিজের জি-১১ ও দুটো কনভেনশনাল গ্রেনেড পেল রেনে, রেসের দিকে একটা কালো কেভলার ব্রেস্টপ্লেট এবং গ্লুক-২০ পিস্তল ছুঁড়ে দিল সে। জলদি, জলদি! সুপারনোভা আর্ম করার আগেই হেরহার্ডটকে থামাতে হবে!

    হেনরিক অ্যানিসটাজ এবং ওডিলো হেরহার্ডটকে বোট-হাউসের কাঁচমোড়া অফিসগুলোর একটায় দাঁড়িয়ে আছে, চারপাশে কয়েক স্তরে সাজান রেডিও এবং কমিউনিকেশন ইকুইপমেন্ট।

    তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে ডক্টর ফ্রিঞ্জ ওয়েবার এডলফ হিটলারের অ্যাটমিক বোম প্রজেক্টের ভূতপূর্ব সদস্য, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় এই নাজি বিজ্ঞানী মানুষের ওপর অ্যাক্সপেরিম্যান্ট করেছিল যার জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারপরেও তার শরীর বাতের ব্যথ্যয় কুঁজো হয়ে গেছে এই উনআশি বছর বয়সে, মনের জোরে তিনি বেঁচে আছেন।

    আইডলটা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ভালো করে দেখছে ওয়েবার।

    সত্যি ভারি সুন্দর! বলল সে।

    উনআশি বছরে, ফ্রিৎজ ওয়েবার হেরহার্ডট থেকে দুই বছরের বড় এবং লম্বার দুই ফুট ছোট। চশমাহীন তীক্ষ্ণ দৃষ্টি তার চোখের এবং আইস্টাইনের মতো চুল কাঁধ পর্যন্ত নেমে এসেছে।

    ইউরোপিয়ান এবং আমেরিকান সরকারগুলো কী বলছে? তাকে জিজ্ঞেস করল হেরহার্ডট।

    জার্মান ও মার্কিন সরকার টাকা সংগ্রহের জন্যে আরো সময় চেয়েছে। বাকিদের কোনো খবর নেই, জবাব দিল ওয়েবার। এটা সময় পাবার একটা কৌশল। প্রথমে ওদেরকে জানতে হবে নিজেদের টিম আইডলটা পায়নি।

    সেক্ষেত্রে ওদেরকে দেখিয়ে দিলেই তো হয় আইডলটা, ঘোঁত ঘোত করে বলল হেরহার্ডট, ঘুরে অ্যানিসটাজের দিকে তাকাল। এখনই ওটার একটা ডিজিটাল ইমেজ তৈরি করো। সময় ও তারিখ রাখার ব্যবস্থা করবে। তারপর সরাসরি বন ও ওয়াশিংটনে পাঠাবার জন্যে কম্পিউটারে ভরবে। প্রেসিডেন্টদের বল, তাদের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছে দেখে ডিভাইসটা আর্ম করা হয়েছে, ডিটোনেটিং টাইম সেট করা হচ্ছে এখন থেকে ঠিক ত্রিশ মিনিট পর। কাউন্টডাউন শুধু তখনই থামান হবে যখন আমাদের জুরিখ অ্যাকাউন্টে হাজার বিলিয়ন ডলার। ট্রান্সফার করা হয়েছে বলে নিশ্চত খবর পাব আমরা।

    ইয়েস, স্যার, বলল অ্যানিসটাজ, ঘুরে কামরার আরেকদিকে ডিজিটাল ক্যামেরার সুইচ অন করতে গেল।

    ডক্টর ওয়েবার, বলল হেরহার্ডট।

    ইয়েস, ওবারস্টগ্রুপেনফুয়েরার?

    ওবারস্টগ্রুপেনফুয়েরার ডিজিটাল ইমেজের কাজ শেষ হলে, আমি চাই আইডলটা নিয়ে কন্ট্রোল বুদে বলে যাবেন আপনি এবং সময় নষ্ট না করে সুপারনোডাটা আর্ম করবেন। ত্রিশ মিনিটের কাউন্টডাউন সেট করবেন, চালু করবেন ঘড়িটা।

    ইয়েস, ওবারস্টগ্রুপেনফুয়েরার।

    রেস, রেনে এবং উলি ধুলোর পথ ধরে বোট-হাউসের দিকে ছুটছে।

    উলি এবং রেনের জি-১১ রাইফেল সঙ্গে নিয়েছে, রেসের গ্লক নিয়েছিল রিফিউজ পিটে মৃত নাজিটার কাছ থেকে।

    সে বলেছিল তার কোনো দরকার নেই। ইতোমধ্যে টি-শার্টের নিচে নাজিদের কালো কেভলার ব্রেস্টপ্লেটটা পরে নিয়েছে। নাজিদের বডি আর্মার হিসেবে সে আগে লক্ষ্য করেনি। কিন্তু তখন সে ওটা পরে আছে এবং খুব কাছ থেকে দেখতে পাচ্ছে।

    প্রথমত অসম্ভব হালকা সহজেই পরা যায়। নড়াচড়াতেও কোনো বাধা সৃষ্টি করছে না। ইংরেজি A আকৃতির একটা ইউনিট আছে ব্রেস্টপ্লেটটার পেছনদিকে, শোল্ডারব্লেড দুটো ঢেকে রেখেছে। এটিও হালকা।

    হাইটেক বডি আর্মার তার জন্য বেমানান, রেস এখনো পর্যন্ত মাথায় ইয়াঙ্কি ক্যাপ পরে যাচ্ছে।

    ডিজিটাল ইমেজ কমপ্লিট, বলল অ্যানিসটাজ রেডিও ও ইলেকট্রনিক ইকুইপমেন্টের আড়াল থেকে পাঠিয়ে দিচ্ছি এখনি।

    ওয়েবারের দিকে তাকাল হেরহার্ডট, সুপারনোভা আর্ম করুন।

    আইডলটা লি ওয়েবার ছিনিয়ে তার পিছু নিল হেরহার্ডট, দ্রুত অফিসের দিকে পা বাড়াল।

    ওইদিকে! উত্তজনায় চেঁচিয়ে উঠল রেনে, হাত তুলে অস্বাভাবিক লম্বা ঝুলন্ত ব্রিজ দুটো দেখাচ্ছে, নদীর তীর ঘেঁষা দালান এবং গর্তের মাঝখানে, শূন্যে ঝুলে থাকা কন্ট্রোল বুদটাকে সংযুক্ত করে রেখেছে।

    মাইনের দিকে তাকিয়ে দুটো সচল আইডল দেখতে পেল রেস–একজন লম্বা অন্যজন মোটা, ছোটখাট ও সাদা ল্যাব কোট পরে আছে–স্টিল কেবলের তৈরি, আধুনিক ব্রিজের উপর দিয়ে ছুটছে তারা।

    ছোট লোকটা বুকের সঙ্গে কী যেন একটা চেপে ধরে রেখেছে। জিনিসটা নীল বেগুনি কাপড় দিয়ে মোড়া। আইডল।

    উলি এবং রেনে মেঠোপথ ছেড়ে ঝোঁপ-ঝাড়ের ভেতর ঢুকে পড়ল, গর্তটার দিকে ছুটছে। ওদের পিছু পিছু রেসও।

    কয়েক সেকেন্ড পরেই বিশাল মাইনের কিনারায় পৌঁছাল তিনজন।

    ওরা হেরহার্ডট এবং ওয়েবার, বলল উলি। আইডল নিয়ে সুপারনোভার কাছে যাচ্ছে।

    আমরা কি করব? জানতে চাইল রেস।

    মাইনের ওপর ওই যে কন্ট্রোল বুদে আছে সুপারনোভা উত্তর-দক্ষিণের ওই দুই ব্রিজ ছাড়া ওখানে যাবার অন্য কোনো পথ নেই। এখন যেভাবেই হোক ওই কেবিনে গিয়ে সুপারনোভাটাকে ডিজআর্ম করতে হবে।

    কিন্তু কীভাবে?

    ডিভাইসটা ডিজআর্ম করতে হবে, জানাল উলি, আর্মিং কম্পিউটারে একটা কোড ঢোকাতে হবে।

    কী সেই কোড?

    আমার জানা নেই, দুঃখিত সুরে বলল উলি। কারো জানা নেই। একমাত্র ফ্রিৎজ ওয়েবার ছাড়া। সে-ই ডিভাইসটার ডিজাইন তৈরি করেছে, কাজেই সেই জানে ডিজআর্মিং কোডটা।

    গ্রেট, বলল রেস।

    ঘুরে ওর দিকে তাকাল উলি। ঠিক আছে, শুনুন আমি কীভাবে দেখছি। ব্যাপারটাকে। তিনজনের মধ্যে একা আমি শুধু কন্ট্রোল বুদে বিনা বাধায় যেতে পারব। কেবল ব্রিজ ধরে আপনাদের কাউকে যেতে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে তারা ফেলে দেবে ব্রিজ, নাগালের বাইরে নিয়ে যাবে বুদ। তারপর আপনারা যদি টাকা না দেন তাহলে ওরা সুপারনোভা উড়িয়ে দিবে।

    ওরা আশা করছে এখনই ওদের কাছে ফিরব আমি, রিপোর্ট করব আপনাদেরকে খুন করা হয়েছে। ফিরে গিয়ে কন্ট্রোল বুদটা দখল করার চেষ্টা করব আমি। তারপর আমি চেষ্টা করব প্ররোচিত করব যাতে ডিভাইসটা ডিজআর্ম করে।

    এদিকে আমরা তখন কী করব? জানতে চাইলে রেস।

    প্ল্যানটাকে সফল করতে হলে, উলি বলল, ওয়েবারকে একা পেতে হবে আমার। আমি চাই তোমার দুজন বোট-হাউসে গিয়ে অ্যানিসটাজ আর বাকি লোকদের ব্যবস্থা করো।

    মাইনের মেঝে থেকে ঠিক সাতশো ফুট উপরে একটা কম্পিউটার কনসোল-এর অনেকগুলো বোতামে চাপ দিল ডক্টর ফ্রিজ ওয়েবার। তার পাশেই রয়েছে একটা লেয়ার কাটিং মেশিন, ওটার ভ্যাকিউম-সিলড চেম্বারে থাইরিয়ামের তৈরি আইডলটা ওপর কাজ করা হবে।

    ওয়েবারের পেছনে দাঁড়িয়ে রয়েছে হেরহার্ডট। আর হেরহার্ডটের পেছনে, কন্ট্রোল বুদের ঠিক মাঝখানটায়, দাঁড়িয়ে আছে ছয় ফুট লম্বা একটা সিলভার এবং গ্লাসের ডিভাইস।

    দুটো থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়ারহেড, প্রতিটি তিন ফুট উঁচু এবং দেখতে মোটামুটি কোনাকৃতি। আওয়ারগ্লাস ফরমেশন, মতো ওয়ারহেড়ের উপরে অংশ নিচের দিকে মুখ করা, নিচের অংশ উপরের দিকে। দুটো ওয়ারহেডের মাঝখানে, আওয়ার গ্লাসের গলায়, টাইটানিয়ামের তৈরি কঙ্কালসার একটি কাঠামো রয়েছে, তাতেই থাইরিয়ামের সাবক্রিটিকাল ম্যাস বসান হবে।

    আর এটাই সুপারনোভা।

    একজোড়া সীসায় মোড়া সিলিন্ডারের কন্টেইনার, প্রতিটি সাধারণ আকৃতির গারবেজ বিনের মতো, ডিভাইসের পাশে রাখা হয়েছে। ওগুলো ওয়ারহেড ক্যাপসুল–রেডিয়েশন প্রফ কন্টেইনার, নিরাপদে পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হয়।

    এখন ওয়েবার জানে কনভেনশনাল নিউক্লিয়ার ওয়ারহেডে কমবেশি সাড়ে চার পাউন্ড পুটোনিয়াম দরকার হয়। সুপারনোভায় দরকার হবে, তার হিসাব অনুসারে, অনেক কম, মাত্র আধ পাউন্ড থাইরিয়াম।

    এই মুহূর্তে সেজন্যই দুটো ক্রেই ওয়াইএমপি সুপার-কম্পিউটার এবং একটা হাই পাওয়ার লেজার বিম-এর সাহায্যে থাইরিয়ামের ছোট সিলিন্ডার আকৃতির একটা অংশ আইডলটা থেকে বের করে নিচ্ছে সে, এই যন্ত্রগুলো এত সূক্ষ্মভাবে কাজ করে যে এক মিলিমিটারকে এক হাজার ভাগও করা সম্ভব।

    ১৯৪০ সালে লস অ্যালামস-এ জে, রবার্ট ওয়েনহেইমার-এর যুগান্তকারী কৃতিত্বের পর নিউক্লিয়ার সায়েন্স দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে এসেছে।

    দুই ক্রের মতো মাল্টি-টাস্কিং সুপার-কম্পিউটারের মাধ্যমে, জটিল অংকের হিসেবের মাধ্যমে আকার, ওজন এবং মিনিটে শেষ হয়ে যাওয়া রেডিও একটিভ কোরের শক্তির অনুপাত বের করতে পারে। ভেতরের গ্যাস পরিষ্কারকরণ, প্রোটোন সমৃদ্ধকরণ এবং আলফা-ওয়েভ বৃদ্ধি ও সবই একসাথে সমাধান করতে পারে।

    আর প্রয়োজনীয় গাণিতিক হিসাব-নিকাশ মান্ধাতার আমলের কম্পিউটারের সাহায্যে ওপেনহেইমার ও তার মাস্টার মাইন্ড সঙ্গীদের সময় লেগেছিল ছয় বছর–সেটা এখন ওয়াইএমপি সুপার-কম্পিউটারের সাহায্যে করা যাচ্ছ মাত্র কয়েক সেকেন্ড।

    এটা সত্যি যে, ওয়েবারের সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল মূল ডিভাইসটা তৈরি করা। এমনকী সুপার-কম্পিউটারের সাহায্য পেয়েও কাজটা শেষ করতে দুই বছরের কিছু বেশি সময় লেগেছে তার।

    থাইরিয়ামের আণবিক ওজনের উপর ভিত্তি করে, একটি প্রিসেট ওয়েট-ভর ভলিউম অনুপাত অনুসারে কাটা চলছে পাথরটা, সেই ফাঁকে কাছাকাছি একটা সুপার-কম্পিউটারের অত্যন্ত জটিল একটি গাণিতিক ফর্মুলা ঢোকাল ওয়েবার।

    কয়েক মুহূর্ত পর লেয়ার কাটার জোরাল একটা বিপ দিল। তারপর সেট হল স্ট্যান্ডবাই মোড়-এ। কাজটা শেষ হল।

    উঠে এলো ওয়েবার, বন্ধ করল লেজার কাটার। তারপর, এ-ধরনের কাজের জন্য মানুষের হাত যথেষ্ট নিপুণ ও নিখুঁত না হওয়ায় একটা রোবোটিক আর্ম ব্যবহার করে আইডলের ভেতর থেকে ছোট সিলিন্ডার আকৃতির একটা অংশ তুলে আনল সে।

    থাইরিয়ামের ওই অংশটুকু ভ্যাকিউম-সিলড চেম্বারে ঢোকান হল, তারপর শুরু হল ওটার উপর ইউরেনিয়াম অ্যাটমের বোম্বার্ডমেন্ট এবং আলাদা ওয়েভের আঘাত ওটাকে সাব ক্রিটিক্যাল ম্যাস-এ পরিণত করছে।

    অল্পক্ষণ পর পুরো চেম্বারটায় সুনোভার কাছে তুলে নিয়ে এলো রোবোটিক আর্ম, থাইরিয়ামের সাবক্রিটিক্যাল ম্যাস সহ চেম্বারটা টাইটেরিয়াম ফ্রেমে বসান হল, যেটা ঝুলে আছে দুটো থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়ারহেডের মাঝখানে।

    সুপারনোভা এখন সম্পূর্ণ। দুটো ওয়ারহেডের মাঝখানে থাইরিয়ামের সাবক্রিটিক্যাল ম্যাস আকারে ছোট হলে কী হবে, শক্তির বিচারে যেন ঈশ্বরের ক্ষমতা রয়েছে তাদের ভেতর।

    ব্যাপারটা হল, ওটা তাই।

    কন্ট্রোল বুদের চারপাশের স্ক্রিনে মিছিলের মতো বেরুচ্ছে অঙ্ক ও ডাটা। একটা স্ক্রিনে, ডুয়াল অ্যাক্সিস রেডিওগ্রাফিক হাইড্রোডায়নামিক ফ্যাসিলিটি শিরোনামের নিচে, ঝকঝক এক আর শূন্য অনবরত নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে।

    ওয়েবার এসব গ্রাহ্য না করে কম্পিউটার কি-বোর্ডে টাইপ করতে শুরু করল সুপার নোভার সঙ্গে সংযুক্ত ওটা। স্ক্রিনে একটা লেখা ফুটল; ইসনার্ট আর্মি কোড।

    ওয়েবার তাই করল।

    সুপারনোভা আর্মড।

    ওয়েবার টাইপ করল। ইনিশিয়েলাইজ টাইমার ডিটোনেশন সিকোয়েন্স।

    টাইমার ডিটোনেশন সিকোয়েন্স ইনিশিয়োলাইজড। জনসার্ট টাইমার ডিউরেশন।

    ওয়েবার টাইপ করল : 00:৩0:00

    সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেল স্ক্রিন।

    তোমার হাতে সময় আছে।
    ০০:৩০:০০
    কয়েক মিনিট আছে ডিজআর্ম কার্ড ঢোকানোতে
    এখানে ডিজআর্ম কোড ঢোকাও

    স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে, বড় করে শ্বাস নিল ওয়েবার।

    তারপর এন্টার কি-তে আঙুলের চাপ দিল।

    ০০:২৯:৫৯

    ০০:২৯:৫৮

    ০০:২৯:৫৭

    .

    আন্টারশারফুয়েরার দেরি করছে কেন? জিজ্ঞেস করল হেনরিক অ্যানিসটাজ কারো উদ্দেশ করে নয়। বোট-হাউস অফিস থেকে বাইরের বিশাল গহ্বরটার দিকে তাকিয়ে রয়েছে সে। এতক্ষণে তো তার ফিরে আসার কথা।

    অ্যানিসটাজ ঘুরল। এই তুমি, বলে কম্পিউটারের কাছে দাঁড়ান ল্যাব কোট পরা দুই টেকনিশিয়ানের একজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করল সে, তারপর একটা রেডিও ছুঁড়ে দিল তার দিকে। পিটে যাও, দেখ কী কারণে এত দেরি করছে আন্টারশারফুয়েরার।

    ইয়েস, স্যার।

    রেনে এবং রেস বোট-হাউসের দেয়ালে এসে ধাক্কা খেল একত্রে।

    এক মুহূর্ত আগে, ওদেরকে ছেড়ে গেছে উলি। বিরাট বোট-হাউসের কোণ ঘুরে গরটার দিকে যাচ্ছে সে, উত্তর প্রান্তের কেবল ব্রিজে উঠবে।

    পাশেই গ্যারেজের চওড়া দরজা, উঁকি দিয়ে তাকাল রেনে।

    বোট-হাউসের ভেতরটা খালি পড়ে আছে বিশেষ করে ওর ডানদিকের কাঁচ মোড়া অফিস ও বাদিকের মুরিং স্লট-এর মাঝখানের মেঝেটা।

    কিছুই নড়ছে না। কাউকে দেখতে পেল না।

    রেসের দিকে মাথা ঝাঁকাল।

    রেডি?

    জবাবে হাতের গ্লুকটা আরো জোরে আঁকড়ে ধরল রেস।

    রেডি।

    তারপর কথা না বলে মাথা নিচু করে বোট-হাউসে ঢুকে পড়ল রেনে, তার জি ১১ উঁচু করে কাঁধের ওপর চেপে ধরা।

    রেস ওর পিছুপিছু ঢুকল, কিন্তু ঢোকার সাথে সাথে ওর পেছনে একটা দরজা খুলে গেল এবং সাথে সাথে সে মেঝেতে নেমে গেল, একটা পুরানো তেলের ব্যারেলের আড়ালে লুকাল।

    সাদা ল্যাব কোট পরা তরুণ নাজি টেকনিশিয়ান বাইরে বেরিয়েছে। আড়ষ্টভঙ্গিতে একটা রেডিও ধরে রয়েছে সে। দ্রুত খোলা দরজা দিয়ে বেরিয়ে রিফিউজ পিটের দিকে হাঁটা ধরল।

    চোখ বড় বড় হয়ে গেল রেসের।

    রিফিউজ পিটে গিয়ে একজন নাজির লাশ ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবে না লোকটা।

    শিট, রেস বলল। উলি…

    এখন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। টেকনিশিয়ান তরুণের পিছু নিতে পারে ও-আর তারপর কি করবে? ঠাণ্ডা মাথায় খুন করতে পারে তাকে। এরকম একটা কাজে মনের সায় পাওয়া যায় না। রেস নিজেও নিশ্চিত নয় যে সে ওই কাজটা অর্থাৎ মানুষ খুন করতে পারবে। বিকল্প উপায় হল উলিকে সাবধান করা, সেটাই ভালো।

    আর সেই মুহূর্তে রেনেকে অনুসরণ করে বোট-হাউসে ঢোকার চেয়ে রেস পাশের ওয়্যারহাউসের মতো দেখতে দালানটার দিকে ছুটে গেল।

    উত্তরপ্রান্তের কেবল ব্রিজে পৌঁছাল উলি।

    তার সামনে থেকে বিস্তৃতি ওটা, সাতশো ফুট গভীর গহ্বরের উপর ঝুলে আছে। ইস্পাতের কেবল দিয়ে তৈরি হ্যান্ডরেইল একজোড়া রেললাইনের মতো অদৃশ্য হয়ে গেছে চারশো গজ দূরে, শেষ মাথায় কন্ট্রোল বুদের খুদে দোর গোড়া দেখা যাচ্ছে।

    আন্টারশারফুয়েরার, হঠাৎ পেছন থেকে তাকে ডাকল কেউ।

    ঘুরল উলি।

    সামনে হেনরিক অ্যানিসটাজকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল সে।

    এখানে কী করছ তুমি?

    জানতে চাইল অ্যানিসটাজ।

    আমি দেখতে যাচ্ছিলাম কন্ট্রোল বুদে ওবারস্টগ্রুপেনফুয়েরার এবং ডক্টর ওয়েবারের কোনো সাহায্য দরকার কিনা। উলি জবাব দিল, একটু তাড়াতাড়ি দেওয়া হয়ে গেল যেন।

    বন্দি দুজনের ব্যবস্থা করেছ?

    ইয়েস, স্যার, করেছি।

    ডাইটার কোথায়? জানতে চাইল অ্যানিসটাজ।

    সে ইয়ে, মানে ডব্লিউ সি-তে গেছে, মিথ্যা বলল উলি।

    ঠিক সেই মুহূর্তে রিফিউজ পিটে পৌঁছাল অ্যানিসটাজের পাঠান ল্যাব টেকনিশিয়ান।

    সঙ্গে সঙ্গে ডাইটারের লাশটা দেখতে পেল, কাদায় মুখ গুঁজে পড়ে আছে, মাথার পেছনের গর্তটা থেকে মগজ ও রক্ত চুঁইয়ে বেরুচ্ছে।

    কাছে পিঠে কোনো আমেরিকান নেই। না, উলিও নেই।

    রেডিওটা অন করে ঠোঁটের কাছে তুলল ল্যাব টেকনিশিয়ান।

    হের ওবারগ্রুপেনফুয়েরার অ্যানিসটাজের এয়ারপিসে টেকনিশিয়ানের কণ্ঠস্বর ভেসে এলো।

    হ্যাঁ বল।

    উত্তর প্রান্তের কেবল ব্রিজের গোড়ায় উলির সঙ্গে তখনো দাঁড়িয়ে রয়েছে অ্যানিসটাজ। নাজি কমান্ডারের বাম হাতের চারটে আঙুল উরুতে নিঃশব্দে ভ্রম বাজাচ্ছে।

    ডাইটার খুন হয়েছে, স্যার। আবার বলছি, ডাইটার খুন হয়েছে। এখানে আমি বন্দি বা আন্টারশারফুয়েরার কাউকে দেখতে পাচ্ছি না।

    ধন্যবাদ, বলল অ্যানিসটাজ, অসংখ্য ধন্যবাদ।

    উলির দিকে তাকিয়ে আছে।

    অ্যানিসটাজের কালো চোখের ঠাণ্ডা দৃষ্টি উলির অসহ্য লাগছে। বন্দিরা কোথায়, আন্টারশারফুয়েরার?

    মাফ করবেন, হের ওবারগ্রুপেনফুয়েরার?

    আমি বলছি, বন্দিরা কোথায়?

    দেখল অ্যানিসটাজের ডান হাতে একটা গ্লক বেরিয়ে এসেছে।

    বোট-হাউসের ভেতর দিয়ে এগোচ্ছে রেনে, বন্দুক উঁচিয়ে।

    রেস ওর পেছন পেছন আসেনি, সে ভেবে অবাক হচ্ছে, কি হয়েছে তার। তবে সে অপেক্ষা করেনি, তা যাক, হাতের কাজটা একাই সারার চেষ্টা করবে সে।

    বোট-হাউসের ভেতরটা নীরব শান্ত। টানেল থেকে বেরিয়ে যে কনভেয়ার বেল্টটা উপর দিকে উঠে গেছে সেটা তার ডান দিকে স্থির হয়ে রয়েছে। দেখল ওটার সামনের অফিসে কাউকে দেখা যাচ্ছে না।

    একটা ইঞ্জিন চালু হল।

    দ্রুত ঘুরল রেনে।

    পার্ক করা বেল জেট রেঞ্জার হেলিকপ্টারের রোটর এই মাত্র ঘুরতে শুরু করল।

    তারপর পাইলটকে দেখতে পেল সে। ককপিটের মেঝেতে কাত হয়ে শুয়ে চপারের কী যেন মেরামত করছে, তার উপস্থিতি সম্পর্কে সচেতন নয়।

    অকস্মাৎ কানের পরদা ফাটান তীব্র আওয়াজ তুলে হেলিকপ্টার রোটরের ব্লেডগুলো বনবন করে ঘুরতে শুরু করল বিশাল বোট-হাউসের ভেতর। নিজের অজান্তে প্রায় লাফিয়ে উঠল রেনে।

    চপারের এই গর্জন শুরু না করলে সে হয়তো লোকটার পায়ের আওয়াজ শুনতে পেত।

    কিন্তু সে আওয়াজ করল না।

    চপারের পাইলটের দিকে নিঃশব্দ পায়ে জি-১১ রাইফেল তাক করে যে-ই এগোতে যাবে, অত্যন্ত ভারী কী যেন একটা আঘাত করল তার মাথায়, মুখ থুবড়ে বোট-হাউসের মেঝেতে পড়ে গেল সে।

    হের ওবারগ্রুপেনফুয়েরার, শুরু করল উলি, মুখ ব্যাদান করে থাকা বিরাট গরটার কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে সে। হাত দুটো উপরে তুলছে। এ আপনি কী

    ব্লাম!

    অ্যানিসটাজের গ্লক গর্জে উঠল–একটি বুলেট সোজা তার পেটে ঢুকল। সঙ্গে সঙ্গে কোমরের কাছ থেকে ভাঁজ হয়ে গেল শরীরটা, তারপর ঢলে পড়ল উলি।

    হাতে পিস্তল নিয়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে অ্যানিসটাজ। তো আন্টারশারফুয়েরার এবং তুমিও আসলে বিকেএ-র একজন চর?

    একটা গড়ান দিয়ে নাজি কমান্ডারের পায়ের কাছে চলে এলো উলি, যন্ত্রণায় দাঁতের সঙ্গে দাঁত চেপে রেখেছে।

    কোনো জবাব নেই, বলল অ্যানিসটাজ। বেশ, তারপর। কেমন হয় এখন যদি তোমার ডান হাতের আঙুল একটা একটা করে উড়িয়ে দিই, যতক্ষণ না বলছ কার হয়ে কাজ করছ? আর যখন ওই হাতের কাজ শেষ করব, তারপর আমি অন্য হাতটারও শুরু করব।

    আহ! গুঙিয়ে উঠল উলি।

    ভুল জবাব, বলে উলির হাতের দিকে পিস্তল তাক করল অ্যানিসটাজ, চাপ দিল ট্রিগারে।

    বিস্ফোরিত হল পিস্তল।

    ঠিক সেই সময় ঝড়ের বেগে একটা কোণ ঘুরে অ্যানিসটাজের পেছনে বেরিয়ে এলো রেস। প্রচণ্ড গতিতে ধাক্কা খেল ও। হাতের গ্লকটা ছিটকে পড়ে গেল।

    তবে দুজনেই আড়ষ্ট ভঙ্গিতে ছিটকে পড়ল, বাউন্স খেল ঝুলে থাকা নিচু জেটিতে, যে জেটি কেবল ব্রিজটাকে ধরে রেখেছে। অ্যানিসটাজ ডান পা কিনারা থেকে গহ্বরের দিকে ঝুলে পড়ল, যদি পড়ে যায় ভেবে খপ করে রেসের একটা বাহু সাঁড়াশির মতো খামচে ধরল সে, কী ঘটছে রেস বুঝতে পারার আগেই দুজনেই এখন কিনারা থেকে নিচের মাইনে পড়ে যাচ্ছে।

    কিনারা থেকে নেমে গেছে গহ্বরের পাঁচিল।

    ভাগ্যক্রমে মাইনের মার্টির পাঁচিল পুরোপুরি খাড়া নয়, কমবেশি সত্তর ডিগ্রি ঢালু। সরাসরি ঝপ করে নেমে যায়নি ওরা, তবে দ্রুতগতিতেই পড়ছে। পিছলে নামার সময় দুজনেই পা ছুঁড়ে বিস্তর ধুলো ওড়াচ্ছে। প্রায় নব্বই ফুট নিচে নামার পর নিরেট ও শক্ত জমিনে বাড়ি খেল ওরা।

    বোট-হাউসের মেঝেতে ঢলে পড়ল রেনেও, কয়েক মুহূর্ত চোখের সামনে শুধু সরষে ফুল দেখল।

    এক সেকেন্ড পর শরীরটাকে গড়িয়ে চিৎ হতেই নাজিদের দ্বিতীয় ল্যাব টেকনিশিয়ানকে দেখতে পেল সে, তার হাতের পাইপটা সবেগে ওর উপর নেমে আসছে। আবার গড়ান দিল পাইপটা আঘাত করল মাথা থেকে ইঞ্চিখানেক দূরে ফ্লোরবোর্ডে।

    এক সামারসল্ট দিয়ে সিধে হল সে, চারদিকে চোখ বুলিয়ে নিজের অস্ত্রটা খুঁজছে। চার ফুট দূরে পড়ে রয়েছে তার জি-১১ নাগালের বাইরে। পেছন দিক থেকে আঘাতের ফলে হাত থেকে ওটা ছিটকে পড়ছে।

    ওর দিকে পাইপ তুলল আবার টেকনিশিয়ান।

    একেবারে শেষ মুহূর্তে নিচু হল রেনে, একটুর জন্য পাইপটা তার মাথার নাগাল পেল না। পরমুহূর্তে সিধে হয়ে টেকনিশিয়ানের নাক বরাবর ঘুষি চালাল সে, পিছু হটল লোকটা, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।

    রেনের মনে হল দেয়ালে পিঠের ধাক্কা খাওয়ার সময় নিশ্চয়ই কন্ট্রোল প্যানেলের বোতামে চাপ দিয়ে ফেলেছে লোকটা, কারণ ঠিক তখনই বিরাট বোট হাউসের ভেতর ভারী কোনো মেশিন সচল হওয়ার আওয়াজ শোনা গেল। আর তারপরই রেনে দেখল বিনা নোটিশে চওড়া কনভেয়ার বেল্টটা ওয়্যারহাউসের দৈর্ঘ্য জুড়ে ধীর ভঙ্গিতে চলতে শুরু করেছে।

    ***

    রেস এবং অ্যানিসটাজ ঝাঁকি খেল।

    খাড়া ঢাল বেয়ে নব্বই ফুট নেমে আসার পর আচ্ছন্ন বোধ করছে দুজনেই, তারপর যখন পড়িমরি করে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে চেষ্টা করছে, এই সময় ওদের নিচের জমিন ওদেরকে নিয়ে সামনের দিকে ছুটল।

    টলমল করছে রেস, পায়ের নিচের জমিনের দিকে তাকাল।

    পুরোটা নিরেট জমিন! কনভেয়ার বেল্টের নিচের প্রান্ত এটা, এই একই বেল্টের আরেক প্রান্ত বোট-হাউসের সারফেসে পৌঁছেছে।

    এই মুহূর্তে চলছে বেল্টটা।

    উপরের দিকে উঠছে।

    ঠিক সময়মত ঘুরল রেস, দেখল অ্যানিসটাজের বাম হাতের চার আঙুলে পাকান ঘুসিটা ওর মুখের দিকে উড়ে আসছে। জার্মান কমান্ডোর ঘুসিটা জায়গা মতো আঘাত হানল। ঘুসি খেয়ে চওড়া কনভেয়ার বেল্টে আলুর মতো ছিটকে পড়ল ও। এক পা এগিয়ে এসে ওর সামনে দাঁড়াল অ্যানিসটাজ, তারপর এক নিমেষে কালো হয়ে গেল জগৎটা।

    প্রথমে রেস বুঝতে পারল না কী ঘটেছে। তারপর উপলব্ধি করল। কনভেয়ার বেল্টটা ওকে এবং অ্যানিসটাজেকে নিয়ে লম্বা ও অন্ধকার একটা টানেলে ঢুকেছে, এই টানেল ওদেরকে বোট-হাউসে পৌঁছে দেবে।

    বোট-হাউসের ভেতরে বিকট আওয়াজ করছে বেল জেট রেঞ্জারে দ্রুত গতির রোটর।

    মরিয়া হয়ে টেকনিশিয়ানের সঙ্গে লড়ছে রেনে। প্রতিপক্ষ তার পাইপ চালাচ্ছে বারবার। হঠাৎ পিছু হঠল রেনে, পাইপের আঘাত লক্ষ্যচ্যুত হল। তবে দেখতে পেল চপারের পাইলট এখন সরাসরি তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।

    চপারের মেঝে থেকে আড়ষ্ট ভঙ্গিতে নেমে আসার চেষ্টা করছে পাইলট, এই সময় রিফিউজ পিটে উলির খোঁজে গিয়েছে সে ফিরে এসে বোট-হাউসের দরজায় দাঁড়াল দ্বিতীয় ল্যাব টেকনিশিয়ান।

    দুজনকেই দেখতে পেল রেনে। তারপর, ক্ষিপ্রতায় এতটুকু বিরতি না দিয়ে, পাইপের আরেকটা বাড়ি এড়িয়ে গেল সে, কোমরের বেল্ট থেকে টেনে বের করে গ্রেনেড, এই গ্রেনেড দুটো তাকে উলি দিয়েছিল রিফিউজ পিটে মৃত নাজির কোমর থেকে, পিন খুলল, গড়িয়ে দিল বোট-হাউসের মেঝেতে দুটোই।

    ছোট ছোট লাফ দিয়ে ছুটল ওগুলো, দুটো দুদিকে যাচ্ছে, একটার টার্গেট হেলিপ্যাড পন্টুন ও চপার, অপরটার টার্গেট দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা তরুণ। টেকনিশিয়ান।

    ওয়ান, ওয়ান থাউজেন্ড…

    টু, ওয়ান থাউজেন্ড….

    থ্রি, ওয়ান থাউজেন্ড….

    দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা টেকনিশিয়ান বুঝতে পারল তার দিকে কী ছুটে আসছে, তবে এক সেকেন্ড দেরিতে। একেবারে শেষ মুহূর্তে সরে যাওয়ার চেষ্টা করল সে, যদিও যথেষ্ট ক্ষিপ্রতার সঙ্গে নয়। গ্রেনেডটা বিস্ফোরিত হল। সেটার সঙ্গে সেও-ও।

    দ্বিতীয় গ্রেনেড ড্রপ খেতে খেতে হেলিপ্যাড পন্টুনে উঠল, তারপর থামল সরাসরি সাদা ঝকঝকে বেল জেট রেঞ্জারের নিচে। এক সেকেন্ড পর ফাটল ওটা, মুহূর্তে চপারের গম্বুজ উড়িয়ে দিল, সঙ্গে সঙ্গে মারা গেল ওটার মেঝেতে উঠে বসা পাইলট। বিস্ফোরণে হেলিকপ্টারের ল্যান্ডিং স্কিডগুলোও ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে, ফলে চপারের কাঠামোটা চার ফুট নেমে এলো। পন্টুনের উপর পেট দিয়ে পড়ল ওটা, ঘুরন্ত রোটর ব্লেড এখনো একটা ঝাপসা ঝলকের মতো দেখাচ্ছে।

    অন্ধকারের ভেতর দিয়ে ওপরে উঠতে উঠতে পরস্পরের সঙ্গে প্রাণপণে লড়ছে রেস এবং অ্যানিসটাজ।

    রেস আপ্রাণ লড়ে যাচ্ছে, যতটা শক্তি তার শরীরে আছে, পাগলের মতো ঘুসি মারছে, কিছু আঘাত হানছে, বেশির ভাগই মিস হচ্ছে। তবে অ্যানিসটাজ তার থেকে ভালো যোদ্ধা, এবং শিঘ্রই সে রেসকে মার্টিতে ফেলে ঘুসি মারতে থাকল।

    একটু পরেই অ্যানিসটা একটা বাউই নাইফ বের করল গোড়ালির কাছে স্ট্রাপ দিয়ে বাঁধা রয়েছে। খাড়া ঢাল বেয়ে উঠে যাওয়া অন্ধকার টানেলে রয়েছে ওরা, তারপরেও লম্বা ছুরির চকচকে ফলাটাকে ওর মুখ বরাবর নেমে আসতে দেখল রেস।

    অ্যানিসটাজের কব্জি ধরে ফেলল ও। চেষ্টা করছে ফলাটাকে দূরে সরিয়ে রাখতে। কিন্তু ওর চেয়ে অ্যানিসটাজ সুবিধাজনক অবস্থানে আছে এবং এক চুল এক চুল করে বাম চোখের উপর নেমে আসছে ছুরির ডগা।

    অকস্মাৎ কর্কশ সাদা আলো যেন ঝাঁপিয়ে পড়ল দুজনের উপরে, একই সঙ্গে ঢালু বেল্ট সিধে ও সমতল হয়ে গেল, ভারসাম্য হারাল দুজনেই। অ্যানিসটাজের ছুরিটা সরিয়ে দেয়ার একটা সুযোগ পেয়ে গেল রেস।

    দ্রুত চারদিকে তাকাল ও।

    আবার বোট-হাউসে ফিরে এসেছে।

    তবে এখনো সচল কনভেয়ার বেল্টে রয়েছে ও, আর অ্যানিসটাজ তাকে চেপে ধরে আছে।

    ব্যাপারটা দুজনের জন্যই দুর্ভাগ্যজনক, কনভেয়ার বেল্টটা বেল জেট রেঞ্জার হেলিকপ্টারের ঘুরন্ত ব্লেডের দিকে এগোচ্ছে। গ্রেনেড বিস্ফোরণে স্কিড হারিয়ে পন্টুনে নেমে এসেছে ওটার পেট, রোটর ব্লেডগুলো সবেগে ঘুরছে সচল কনভেয়ার বেল্টের তিন ফুট উপরে।

    রোটর ব্লেডগুলো এখন মাত্র দশ ফুট দূরে। দ্রুত ঘুরছে।

    নয় ফুট।

    অ্যানিসটাজও ওটাকে দেখতে পেল।

    আট ফুট।

    রেস দেখল দেয়ালের কাছে ল্যাব টেকনিশিয়ানের সঙ্গে লড়ছে রেনে। রোটর ব্লেডের গর্জন বদ্ধ ওয়্যারহাউসের ভেতর বিরতিহীন বজ্রপাতের মতো শোনাচ্ছে।

    সাত ফুট।

    এবার কৌশল বদল করল অ্যানিসটাজ। প্রচণ্ড শক্তিতে বুকের কাছে টি-শার্ট খামছে ধরে রেসকে উঁচু করল সে, ধরে রাখার প্রসারিত বাহুর শেষপ্রান্তে, যাতে রেসের গলাটা হেলিকপ্টারের দুরন্ত ব্লেডের সঙ্গে একই লেভেলে থাকে।

    ছয় ফুট।

    এখনো ল্যাব টেকনিশিয়ানের সঙ্গে লড়ছে রেনে। মারামারি করার এক ফাঁকে রেস ও অ্যানিসটাজকে কনভেয়ার বেল্টের উপর দেখতে পেল সে, রেসকে যতটুকু পারা যায় উঁচু করে ধরে রেখেছে অ্যানিসটাজ।

    আতঙ্কে বিস্ফোরিত হয়ে উঠল রেনের চোখ দুটো।

    চপারের ব্লেড দিয়ে রেসকে জবাই করতে চাইছে অ্যানিসটাজ।

    পাঁচ ফুট।

    দেয়ালে বসান কন্ট্রোল প্যানেলটা আগেই দেখেছে। ওই প্যানেলই সচল করেছে এবং থামাবেও কনভেয়ার বেল্টটাকে…

    চার ফুট।

    ঘাড় ফেরাতে নিজের পেছনে রোটর ব্লেডগুলো দেখতে পেল রেস, বুঝল অ্যানিসটাজ কী করতে চাইছে।

    তিন ফুট।

    নিজেকে ছাড়াবার চেষ্টা করছে রেস, কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না। অ্যানিসটাজ ওর তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। ওর চোখের দিকে তাকাল রেস, ঘৃণা ছাড়া আর কিছু নেই সেখানে।

    দুই ফুট।

    নিশ্চিত মৃত্যু এগিয়ে এসেছে। রেস মরিয়া হয়ে চিৎকার করল। আহহহহহ!!

    এক ফুট।

    টেকনিশিয়ানের আরেকটা আঘাত থেকে বাঁচার জন্য মাথা নিচু করল রেনে এবং পরমুহূর্তে পাশ কাটিয়ে তার পেছনে চলে গেল, তারপর ঝাকড়া চুল খামছে ধরে মাথাটা সজোরে ঠুকে দিল দেয়ালে বসান কন্ট্রোল প্যানেলে।

    কনভেয়ার বেল্ট থেমে গেল।

    থেমে গেল রেসও। তীব্র গতিতে চলমান হেলিকপ্টারের রোটর আলোর একটা ঝলকের মতো দেখাচ্ছে ওর নাকের আধ ইঞ্চি সামনে।

    বিস্ময়ে ফ্যাকাসে হয়ে গেল আনিসটাজের মুখ।

    কি ঘটছে এসব?

    সুযোগটা কাজে লাগাল রেস, হাঁটু দিয়ে নাজির দুপায়ের মাঝখানে গুঁতো মারল।

    গর্জে উঠল অ্যানিসটাজ।

    দুহাতে কলার চেপে ধরল রেস।

    একটু হাস, বলল রেস।

    পরক্ষণে নিচু করল শরীরটা, কনভেয়ার বেল্টের উপরে গড়ান দিয়ে চিৎ হল ঘুরন্ত চপারের রোটর ব্লেডের তলায়, এখনো ছাড়েনি কলারটা। নিজের দিকে অ্যানিসটাকে টানল ও, তারপর শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে উঁচু করে গলাটা ঠেলে দিল হেলিকপ্টারের ঘুরন্ত ব্লেডের সামনে।

    রোটর ব্লেড অ্যানিসটাজের গলাটাকে মাখনে চেইন সো চালাবার মতো আলাদা করে ফেলল।

    রক্তের বন্যায় ভিজিয়ে দিল কনভেয়ার বেল্টে শুয়ে থাকা রেসের জাম-কাপড়। এখনো অ্যানিসটাজের কোটের কলারটা ধরে আছে ও।

    রেস সাথে সাথে লাশটা ছেড়ে দিল-ইকক!—গড়ান দিয়ে কনভেয়ার বেল্ট থেকে নেমে পড়ল সে।

    মাথা ঝাঁকাল সে। বিশ্বাস করতে পারছে না সে এইমাত্র কি করল। সে একজন মানুষ হত্যা করেছে।

    ওয়াহ…

    মুখ তুলতে কন্ট্রোল প্যানেলে পাশে রেনেকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল রেস, পায়ের কাছে হাত-পা ছড়িয়ে পড়ে রয়েছে তার নাজি টেকনিশিয়ান। মাথাটা কন্ট্রোল প্যানেলে ঠুকে দেওয়ায় জ্ঞান হারিয়েছে সে।

    রেনে রেসের দিকে তাকিয়ে একবার হাসল, তাকে থামস আপ করল।

    তার অংশে রেস পরিশ্রান্ত হয়ে মেঝেতে বসে পড়ল।

    মেঝেতে মাথা ঠেকতেই রেনে তার পাশে এসে দাঁড়াল।

    এখন না, প্রফেসর, দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলল সে। এখন বিশ্রামের সময় নয়। জলদি, আমাদের হেরহার্ডটকে থামাতে হবে সুপারনোভা ডিটোনেট করা থেকে।

    মাইনের উপর, শূন্যে ঝুলন্ত কন্ট্রোল বুদ, সুপারনোভার ল্যাপটপের স্ক্রিনে সময় ছুটছে নিচের দিকে।

    ০০:১৫:০১

    ০০:১৫:০০

    ০০:১৪:৫৯

    রেডিওর বোম টিপল হেরহার্ডট। ওবারগ্রুপেনফুয়েরার?

    কোনো সাড়া নেই।

    অ্যানিসটাজ কোথায় তুমি?

    তখনো কোনো উত্তর নেই।

    ফ্রিজ ওয়েবারের দিকে ফিরল হেরহার্ডট। কোনো সমস্যা হয়েছে। অ্যানিসটাজ, সাড়া দিচ্ছে না। আপনি ডিভাইসটার চারদিকে প্রটেকটিভ কাউন্টার মেযার ইনিশিয়েট করুণ। সিল করে দিন কন্ট্রোল বুদ।

    ইয়েস, স্যার!

    উলিকে ধরাধরি করে কাঁচ মোড়া একটা অফিসে নিয়ে এসে মেঝেতে শুইয়ে দিল রেনে ও রেস।

    দেয়ালে বসান বড় একটা ডিজিটাল টাইমারে টিক টিক করে সময় ছুটছে নিচের দিকে।

    ০০:১৪:৫৫

    ০০:১৪:৫৪

    ০০:১৪:৫৩

    ডেম ইট, বলল রেস। কাউন্টডাউন সত্যি শুরু হয়ে গেছে!

    দেরি না করে উলির গুলি খাওয়া পেটে হাত লাগল রেনে। এক কোনে ফ্যাক্স মেশিন শব্দ করে চালু হয়ে গেল।

    রেস, হাতে একটি জি-১১ অ্যাসল্ট রাইফেল, এগিয়ে গেল ফ্যাক্স মেশিনের দিকে, একটা কাগজ বেরিয়ে আসছে সেটা থেকে। পড়ল :

    ফ্রম দ্য অপিস অভ।
    দ্য প্রেসিডেন্ট অভ ইউনাইটেড স্টেটস
    সিকিওর ফেসিমাইল ট্রান্সমিশন
    অরিজিনেটিং ফ্যার নং : ১-২০২-৫৫৫-৬১২২
    ডেস্টিনেশন ফ্যাক্স নং : ৫১-৩-৪৫৪-৯৭৭৫
    তারিখ : ৫ জানুয়ারি ১৯৯৯
    সময় : ১৮:৫৫:৪৫ (স্থানীয়)
    সেন্ডার কোড : ০০৪ (ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজর)

    মেসেজ নিচে দেয়া হল :

    তাঁর অ্যাডভাইজারদের সাথে পরামর্শ করে, আর সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করে, প্রেসিডেন্ট আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন আপনাকে জানানোর জন্য যে তিনি কোনো পরিস্থিতিতে কোনো টাকা দিবেন না যে কোনো ডিভাইস ডিটোনেট করান থেকে বিরত রাখে।

    ডব্লিউ ফিলিপ লিপানস্কি
    ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার :
    টু দ্য প্রেসিডেন্ট অভ দ্য ইউনাইটেড স্টেটস

    ঈশ্বর, দম নিয়ে রেস বলল। তাহলে ওরা কোনো টাকা দিচ্ছে না…

    রেনে এগিয়ে এসে ফ্যাক্সটা দেখল। গড, কত জোরাল কথাগুলো। ওরা চেষ্টা করছে ওর কলটা ভুয়া ছিল। ভাবতেই পারছে না যে সুপারনোভা বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে সে।

    সে কি সুপারনোভা বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে?

    অবশ্যই, মেঝেতে বসে থাকা উলি বলল, রেস এবং রেনে ঝট করে ঘুরল ওর দিকে।

    উলি দাঁতে দাঁত চেপে বলল। ওই ব্যাপারে সে বারবার একই কথা বলে যাচ্ছে। ও পাগল হয়ে গেছে। একটা জিনিসই চাইছে তার নতুন বিশ্ব। আর তার যদি ওটা না হয়, তাহলে সে উড়িয়ে দিবে এই বিশ্বটা।

    কিন্তু কেন? রেস বলল।

    কারণ একটা মুদ্রা ব্যবস্থা নিয়ে সে ব্যবসা করছে–এই মুদ্রা ব্যবস্থা নিয়ে সব সময়ই সে ব্যবসা করে জীবন এবং মৃত্যু। হেরহার্ডট বৃদ্ধ মানুষ, বুড়ো এবং শয়তান। এই বিশ্ব তার কোনো কাজে লাগবে না। সে যদি টাকা আর তার নতুন বিশ্ব না পায়, দ্বিতীয় চিন্তা না করে পুরানো বিশ্বটাকে উড়িয়ে দিবে।

    ওয়ান্ডারফুল, রেস বলল। আর আমরাই একমাত্র যারা ওকে থামাতে পারি?

    হ্যাঁ!

    তাহলে কীভাবে তা করব? রেনে বলল উলির দিকে ফিরে। কিভাবে আমরা কাউন্টডাউন থামাব?

    আর্মিং কম্পিউটার ডিভাইসে ডিজআর্ম কোড ঢোকাতে হবে, উলি বলল। তবে আগেই আমি যেমনটা বলেছি, একমাত্র ওয়েবার কোডটা জানে।

    তাহলে তো, যেভাবেই হোক, রেস বলল, কোডটা তার কাছ থেকে আদায় করতে হবে।

    কয়েক মুহূর্ত পর দেখা গেল বিশাল গহ্বরটার কিনারা ধরে ছুটছে রেস দক্ষিণ দিকের কেবল ব্রিজে দিকে।

    প্ল্যানটা সহজ।

    উত্তর দিকের ব্রিজের মুখে অপেক্ষা করবে রেনে। রেস দক্ষিণ দিকের মুখে পৌঁছালে দুজন একযোগে কন্ট্রোল বুঁদ লক্ষ্য করে এগোবে।

    এই প্ল্যানের পেছনে লজিক আছে। কন্ট্রোল বুদের দিকে বিস্তৃত ব্রিজ দুটো যেমন অত্যাধুনিক, তেমনি মজবুত। প্রতিটি ব্রিজ তৈরি করা হয়েছে হাই-টেনসাইল ষ্টিল থ্রেড দিয়ে এবং কন্ট্রোল বুদের সঙ্গে সংযুক্ত যে কোনো একটা ব্রিজ নিচে ফেলে দিতে হলে চারটে আলাদা প্রেশার কাপলিং বিচ্ছিন্ন করতে হবে। যদি রেস এবং রেনে একই সময়ে দুটো ব্রিজ ধরে এগোয়, দুজনের মধ্যে অন্তত একজনের সম্ভাবনা থাকবে কন্ট্রোল বুদে পৌঁছানোর। হেরহার্ডট এবং কিংবা ওয়েবার দুটো ব্রিজেরই কাপলিং খুলে ফেলার আগে পৌঁছতে হবে ওদের।

    সাড়ে ছয় মিনিট দৌড়ানোর পর দক্ষিণ ব্রিজের গোড়ায় পৌঁছাল রেস।

    মাইনের উপরে ব্রিজটা চারটে ফুটবল মাঠের সমান লম্বা, অথচ চওড়ায় এত কম যে প্রতি বার মাত্র একজন লোক যেতে বা আসতে পারবে।

    ওহ গড, রেস ভাবল।

    প্রফেসর, আপনি কি রেডি? রেনের কণ্ঠস্বর ভেসে এলো এয়ারপিসে। অনেকক্ষণ পর সে তার রেডিওটা ব্যবহার করল, রেস তো ভুলেই গেছে যে তার কাছেও একটা আছে।

    যেমনটা সব সময় থাকে, বলল রেস।

    তাহলে চলুন।

    রোপ ব্রিজে পা রাখল রেস।

    শেষ মাথায় বাক্স আকৃতির সাদা কেবিনটা দেখতে পাচ্ছে ও, ঝুলে আছে মাইনের মেঝের ওপর মেঝে থেকে অনেক উপরে। ব্রিজ যেখানে ওটার সঙ্গে মিলিত হয়েছে, সেই দেয়ালে দরজাটাও দেখতে পাচ্ছে। এই মুহূর্তে দরজাটা বন্ধ।

    কন্ট্রোল বুদের লম্বাটে চারকোনা জানালাগুলোতে কোনো নড়াচড়া নেই।

    না। বুদটা ঠিক বসে আছে নীরবে, বাতাসে সঠিক ভাবেই ঝুলছে, সাতশো ফিট ওপরে।

    সাবধানে, ব্রিজটা পার হচ্ছে রেস।

    ঠিক সেই মুহূর্তে দক্ষিণ দিকের কেবল ব্রিজ ধরে এগোচ্ছে রেনে।

    তার চোখের দৃষ্টি আটকে আছে ব্রিজের শেষ মাথায় বন্ধ একটা দরজার দিকে। তাকিয়ে আছে উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে, দরজাটা যে কোনো মুহূর্তে খুলে যাবে।

    কিন্তু দরজাটা যেমন বন্ধ ছিল তেমন বন্ধ আছে।

    কন্ট্রোল বুদের একটা জানালার পেছন থেকে ওডিলো হেরহার্ডট দেখল উত্তর ব্রিজ ধরে ছুটে আসছে রেনে।

    উল্টো দিকের জানালা অর্থাৎ দক্ষিণে ব্রিজে রেসকেও দেখেছে সে।

    এখন বাছাই করতে হবে হেরহার্ডটিকে।

    রেসকে পছন্দ হল তার।

    রেস এবং রেনে ঝুলন্ত ব্রিজ ধরে ছুটে আসছে, কন্ট্রোল বুদের দিকে।

    রেনে, রেসের তুলনায় একটু বেশি দ্রত। দৌড়াচ্ছে দ্রুত, হাতের বন্দুক উঁচিয়ে।

    ব্রিজের অর্ধেক দূরত্ব পেরিয়ে এসেছে ঠিক সেই সময় দরজাটা খুলে গেল। কন্ট্রোল বুঁদ থেকে বাইরে বেরিয়ে এলো ওডিলো হেরহার্ডট।

    থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল রেনে। জমে গেল।

    ছোটখাটো ডক্টর ফ্রিঞ্জ ওয়েবারকে নিজের সামনে ঢাল-এর মতো করে ধরে রেখেছে হেরহার্ডট। কুঁজো বিজ্ঞানী ধস্তাধস্তি করলেও, মোটাসোটা হেরহার্ডট এক হাতে দলাটা পেঁচিয়ে ধরেছে, অপর হাতে রয়েছে একটা গ্রুক-২০ সেমি অটোমেটিক পিস্তল, বিজ্ঞানীর মাথায় তাক করা সেটা।

    ওটা করো না। রেনে মনে মনে প্রার্থনা করল, চাইছে বিজ্ঞানী যেন। মারা না যায়, সেই-ই একমাত্র ব্যক্তি যে সুপারনোভার ডিজআর্ম কোড জানে।

    প্রার্থনায় আন্তরিকতার অভাব ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে, রেনের উদ্দেশে শীতল বিদ্রুপাত্মক একচিলতে হাসি হেসে ট্রিগার টেনে দিল ওডিলো হেরহার্ডট।

    .

    হেরহার্ডটের হাতের বন্দুকটা থেকে প্রচণ্ড শব্দ বের হল। গর্ত জুড়ে শব্দটা প্রতিধ্বনিত হতে লাগল।

    ওয়েবারের মাথা থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসা রক্ত ও মগজ রেলিং টপকে মাইনের নিচে গর্তে পড়ল। হেরহার্ডটের হাতে ওয়েবারের শরীরটা নিস্তেজ হয়ে গেলে, রেলিঙের উপর দিয়ে তার লাশটা নিচে ফেলে দিল আর ব্রিজের উপর অসহায় দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে রেনে, ডিগবাজি খেয়ে পতন দেখছে লাশটার। সাতশো ফুট গভীর মেঝেতে পড়তে কিছু সময় নিল, অস্পষ্ট তো একটা আওয়াজ শুনতে পেল সে।

    গুলির আওয়াজ শুনল রেস। এক সেকেন্ড পর ওয়েবারের শরীরটাকে গর্তের নিচে পড়তে দেখল।

    গুড গড…!

    কন্ট্রোল বুদের দিকে আরো জোরে ছুটল ও…

    কন্ট্রোল বুদের উত্তর দিকে ওডিলো হেরহার্ডটের কাজ এখনো শেষ হয়নি।

    ওয়েবারের লাশ ব্রিজ থেকে নিচে ফেলে দেয়ার পর এখন ব্যস্ত হাতে প্রেশার হোসগুলো খুলছে সে, যেগুলো কন্ট্রোল বুদের সঙ্গে কেবল ব্রিজটাকে আটকে রেখেছে।

    না! চেঁচিয়ে উঠল রেনে, দুদিকের হ্যান্ডরেল শক্ত করে ধরে আছে।

    তীক্ষ টং-হিসস আওয়াজ তুলে একটা প্রেশার কাপলিং খুলে এলো, সঙ্গে সঙ্গে রেনের বাম দিকের হ্যান্ডরেইল স্রেফ খসে পড়ল নিচে।

    রেনের মাথার ভেতর একটা হিসাব চলছে। হেরহার্ডট বাকি তিনটে কাপলিং খোলার আগে কোনোভাবেই কন্ট্রোল বুদে পৌঁছাতে পারবে না সে।

    ঘুরল সে, তারপর যত দ্রুত সম্ভব ক্যাবল ব্রিজ ধরে ফিরতি পথ ধরে ছুটল।

    টং-হিসস!

    আরেকটা কাপলিং মুক্ত হল, খসে পড়ল ব্রিজের দ্বিতীয় হ্যান্ডরেইলও।

    দুটো কাপলিং বাকি।

    রেলবিহীন ব্রিজের উপর দিয়ে প্রাণপণে দৌড়াচ্ছে রেনে, সাতশো ফুট নিচে একবারও তাকাচ্ছে না। কয়েক সেকেন্ড পর তৃতীয় কাপলিং খুলে গেল, রেনের পায়ের নিচের বোর্ড বাম দিকে কাত হতে শুরু করেছে।

    সন্তুষ্টির হাসি নিয়ে শেষ কাপলিংটাও খুলে ফেলল হেরহার্ডট। ব্রিজ ও কন্ট্রোল বুদের মধ্যে এখন আর কোনো সম্পর্ক রইল না। রেনে বেকারকে নিয়ে নিচে পড়ে যাচ্ছে ব্রিজটা।

    শেষ মাথায় পৌঁছাতে আর যখন পঞ্চাশ ফুট বাকি, এই সময় রেনের নিচ থেকে খসে পড়ল ব্রিজ, যেই মাত্র অনুভব করল পড়ে যাচ্ছে ওটা, সঙ্গে সঙ্গে সামনের দিকে ডাইভ দিল সে, আঙুল দিয়ে স্টিলের ফ্লোরবোর্ড খামচে ধরল শক্ত করে।

    গর্তের ঢালু দেয়ালের গায়ে বাড়ি খেল কেবল ব্রিজ। রেনে মাইনের পূর্ব দিকের দেয়ালে বাড়ি খেল, আবার ফিরে এলো, কিন্তু যেভাবেই হোক ও শক্ত করে ধরে ঝুলতে থাকল।

    কেবল ব্রিজের শেষ মাথায় পৌঁছেছে মাত্র, এই সময় রেসের হেডসেট থেকে রেনের চিৎকার ভেসে এলো।

    প্রফেসর, রেনে বলছি, আমার ব্রিজ ফেলে দিয়েছে। আমি নেই। এখন সব দায়িত্ব আপনার।

    বেশ ভালো, রেস ভাবল। এটাই আমি শুনতে চেয়েছিলাম।

    একহাতে পিস্তল বাগিয়ে ধরে, বড় করে শ্বাস নিয়ে অপর হাতে দরজার নবটা ধরল সে, ঘোরাল, তারপর গুক-১১ দিয়ে কপাট ঠেলে ভেতরে ঢুকল…সেই সঙ্গে পা দিয়ে ফেলল একটা তারে।

    বিপ!

    বিপের আওয়াজ শোনার আগেই হেরহার্ডটকে দেখতে পেয়েছে রেস।

    কন্ট্রোল রুমের আরেক প্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে নাজি জেনারেল, উত্তর দরজার কাছে, পিস্তল ধরা হাতটা অলস ভঙ্গিতে শরীরের পাশে ঝুলছে। রেসের দিকে তাকিয়ে হাসছে।

    হেরহার্ডটের বাম দিকে রয়েছে সুপারনোভা-ওটার সিলভার আর গ্লাসের গা চকচক করছে, দুটো থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়ারহেডের মাঝখানে ভ্যাকিউম চেম্বারে রয়েছে সিলিন্ডার আকৃতির থাইরিয়াম।

    সুপারনোভার পাশে, দেয়াল ঘেঁষে রাখা হয়েছে দুটো ক্রেই ওয়াইএমপি সুপার কম্পিউটার। বড় ডিভাইসটার পাশের মেঝেতে পড়ে রয়েছে একজোড়া ওয়ারহেড ক্যাপসুল,ওগুলো ওয়ারহেডগুলোকে পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হয়। আর পরিত্যক্ত অবস্থায় কাছাকাছি একটা বেঞ্চে পড়ে রয়েছে আইডলটা, গোড়া থেকে গর্ত করে তুলে নেওয়া হয়েছে একটা অংশ।

    আওয়াজটা বেরিয়েছে সুপারনোভার সামনের অংশে সংযুক্ত ল্যাপটপ থেকে। রেস দেখল কাউন্টডাউন টাইমার শূন্যের দিকে নামছে :

    ০০:০৫:০০

    ০০:০৪:৫৯

    ০০:০৪:৫৮

    কাউন্টাডাউনের নিচের বাক্যটাও পড়ল সে : অলটারনেট ডিটোনেশন সিকোয়েন্স ইনিসিলাজড।

    অলটারনেট ডিটোনেশন সিকোয়েন্স?

    ধন্যবাদ, ছোটখাটো মানুষ, সাহসী হওয়ার জন্য মরিয়া, অবজ্ঞাভরে বলল হেরহার্ডট।

    এই কেবিনে ঢুকে নিয়তির কাছ থেকে নিজের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে নিয়েছ তুমি।

    ভুরু কোঁচকাল রেস।

    হেরহার্ডটের চোখ বাঁ দিকে লাফাল।

    রেস তার দৃষ্টি অনুসরণ করে কন্ট্রোল বুদের পুব দেয়ালে হলুদ রঙের আটটা ড্রাম দেখতে পেল, প্রতিটি দুশো গ্যালনের। সাবধান! এবং বিপজ্জনক। হাইপারগলিক ফ্লুইডা লেখা রয়েছে ড্রামগুলোর একপাশে।

    ওগুলোর সামনের অংশে স্টেনসিল করা হরফগুলোও পড়ল রেস : হাইড্রাজিন, নাইট্রোজেন টেট্রক্সাইড।

    চারটে ড্রাম রয়েছে হাইড্রজিন; বাকি চারটিতে নাইট্রোজেন টেট্রক্সাইড। কেবল ও হোস-এর জটিল একটা জাল প্রতিটি প্লাস্টিক ব্যারেলকে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।

    হাইপারগলিক ফ্লুইড, রসায়ন বিদ্যার কল্যাণে রেস জানে এই তরল পদার্থ পরস্পরের সংস্পর্শে এলে বিস্ফোরিত হয়।

    একটা হাইড্রাজিন ড্রামের মাথায় বসান হয়েছে দ্বিতীয় কাউন্টডাউন টাইমারটা। এই টাইমার, যাহোক, নিশ্চল হয়ে রয়েছে, পাঁচ সেকেন্ডে স্থির হয়ে আছে।

    ০০:০০:০৫

    এবং তারপর, ঠিক তারপর, রেস খেয়াল করল কালো ও মোটা একটা কর্ড পড়ে রয়েছে মেঝেতে, সুপারনোভার আর্মিং কম্পিউটার থেকে বেরিয়েছে ওটা, মেঝের উপর দিয়ে সাপের মতো এঁকেবেঁকে এগিয়ে এসে সংযুক্ত হয়েছে হলুদ আটটা ড্রামের সঙ্গে।

    ০০:০৪:০০

    ০০:০৩:৫৯

    ০০:০৩:৫৮

    কীভাবে? জিজ্ঞেস করল রেস, হাতের মুঠোয় ধরে রেখেছে জি-১১, সরাসরি হেরহার্ডট বুকের দিকে তাক করা। কীভাবে নিজের মৃত্যু ডেকে আনলাম?

    দরজাটা খুলে একটা মেকানিজমের ট্রিগারে টান দিয়েছ তুমি, এর ফলে হয় এভাবে নয়তো ওভাবে, মরতে তোমাকে হবেই।

    হাউ, গড ডেমইট?

    হাসল হেরহার্ডট। এই কামরায় বিস্ফোরণযোগ্য দুটো ডিভাইস রয়েছে। প্রফেসর সুপারনোভা ও হাইপারগলিক ফুয়েল। একটা গোটা গ্রহকে উড়িয়ে দেবে, আরেকটা শুধু এই কেবিনটাকে। আমি জানি সুপারনোভা ডিজআর্ম করতে চাও তুমি। কিন্তু তা করতে তুমি সফল হলে তোমাকে তার জন্যে বিশেষ মূল্য দিতে হবে।

    কী মূল্য?

    পৃথিবীর বিনিময়ে তোমার জীবন। দরজা খুলে যে মেকানিজমটা তুমি সচল করেছ, প্রফেসর সেটা সুপারনোভার আর্মি কম্পিউটারের সঙ্গে হাইপারগলিক ফ্লুইডের টাইমার চালু হয়ে যাবে। পাঁচ সেকেন্ড লাগবে ওই ফুয়েল পরস্পরের সঙ্গে মিশতে। আর সেটি ঘটলেই বিস্ফোরিত হবে ড্রামগুলো, কেবিনটা উড়ে যাবে, সেই সঙ্গে তুমিও।

    কাজেই এখন তোমার বাছাই করার একটা সুযোগ আছে, প্রফেসর মানবতার ইতিহাসে তুলনাবিহীন একটা সুযোগ। কাঁটায় কাঁটায় তিন মিনিট ত্রিশ সেকেন্ডের মধ্যে বাকি দুনিয়া সহ মরতে পার তুমি কিংবা চাইলে নিজের জীবনটা তোমাকে বিসর্জন দিতে হবে।

    পরিষ্কার শুনতে পেলেও বিশ্বাস হচ্ছে না রেসের।

    যে কোনো একটা বেছে নিতে হবে…

    পৃথিবীকে বাঁচানোর উপায় আছে…

    কিন্তু এই কাজ করতে হবে, তোমার নিজের জীবনের বিনিময়ে…

    কন্ট্রোল বুদের দুই প্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে ওরা দুজন। জি-১১ তাক করে দক্ষিণ দরজার সামনে রেস, ঝুলে থাকা হাতে গ্লক নিয়ে উত্তর দরজার সামনে হেরহার্ডট।

    ০০:০৩:২১

    ০০:০৩:২০

    ০০:০৩:১৯

    কিন্তু আমি তো জানি প্রেসিডেন্টসহ বাকি সবাই মুক্তিপণ দিতে রাজি হয়েছে তোমাকে— দ্রুত বলল রেস।

    না, তাদের ইচ্ছে নেই, হেরহার্ডট বাধা দিয়ে বলল, পাশের বেঞ্চ থেকে একটা কাগজের সিট টেনে নিয়ে রেসের দিকে ছুঁড়ে দিল।

    সিটটা মার্টিতে উড়ে এসে পড়ল। ওটা একটা ফ্যাক্স যা এর আগে রেস মাইন অফিসে দেখেছিল। হেরহার্ডটের নিশ্চয়ই ফ্যাক্স মেশিন আছে এই অফিসে।

    আর তা ছাড়া, এখন টাকা সে দিতে চাইলেও, নাজি বলল, ডিভাইসটা ডিজআর্ম করতে পারব না আমি। শুধু ওয়েবার জানত ডিজআর্ম কোড এবং সে, আমার বন্ধু, মারা গেছে। না এখন হয় তুমি, নয়তো কিছু না। এখন যাই ঘটুক না কেন, অন্তত এইটুকু সন্তুষ্টি থাকবে আমার যে এই কেবিন থেকে তুমি প্রাণ নিয়ে বেরুতে পারছ না।

    কিন্তু তোমার কী হবে? রেসের কণ্ঠস্বরে বিদ্রূপ। তুমিও তো মরবে।

    আমি বুড়ো হয়ে গেছি রেস। বুড়ো এবং ক্ষয়প্রাপ্ত। মৃত্যুর কোনো মানে নেই আমার কাছে।

    ফ্যাক্ট হল এই যে, আমার সাথে আমি বাকী বিশ্বের সবাইকে নিয়ে যেতে পারব, যাহোক, এর মানে অনেক কিছু…

    সেই মুহূর্তে র‍্যাটেল স্নাকের মতো ক্ষিপ্রতায়, হেরহার্ডট তার গ্লকটা রেসের দিকে তাক করল এবং টেনে দিল।

    ব্লাম!

    রেসের কব্জিতে জোর ঝাঁকি মারল গ্লক ১১, মাত্র একটা গুলি করেছে ও।

    বুলেটটা হেরহার্ডটের চওড়া বুকে ঢুকে গেল, ছলকে রক্ত বেরুচ্ছে ক্ষতটা থেকে, বুলেটের ধাক্কা খেয়ে পেছনের দেয়ালে সেঁটে গেল তার পিঠ।

    মেঝেতে ঢলে পড়ল হেরহার্ডট, হাতের পিস্তল থেকে বেরুন গুলিটা সিলিঙে কোথাও লাগল। ধোয়ার সতর্কতা বাজল, এবং হঠাৎ সিলিঙে সিরিজের মতো আগুনের ফুলকি দেখা গেল এবং কেবিনে পানির শাওয়ার নেমে এলো।

    হেরহার্ডট পানির শাওয়ারের মধ্যে চিত হয়ে শুয়ে রইল, মুখ খুলে নিঃশ্বাস ফেলছে সে, চোখ দুটো যেন কোটর ছেড়ে বেরিয়ে আসবে।

    দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ছিল রেস, জমে গেছে ফায়ারিং পজিশনে, পানি তার মুখে এসেও পড়ছে, স্তম্ভিত সে।

    ও আগে কাউকে গুলি করেনি। এমনকি এর আগে রিভার চেজেও না। অসুস্থ বোধ করছে। ঢোক গিলল একটা।

    সুপারনোভার টাইমারের দিকে ছুটে গেল রেসের দৃষ্টি।

    ০০:০৩:০০

    ০০:০২:৫৯

    ০০:০২:৫৮

    ঝট করে বের হয়ে এলো মোহ থেকে, দ্রুত পরীক্ষা করে দেখল পড়ে থাকা নাজি লিয়ারকে।

    হেরহার্ডট তখনো বেঁচে আছে, কিন্তু আশা নেই। মুখ থেকে রক্ত গলগল করে বেরিয়ে আসছে, বুক থেকে বুদবুদ বের হচ্ছে।

    কিন্তু তার চোখ দুটো চকচক করছিল, পাগলের মতো তাকিয়ে ছিল সে রেসের দিকে, যেন রেসকে এই অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়াতে রোমাঞ্চিত হচ্ছে, বিদেশে একটি কন্ট্রোল বুদে একাকী, করার কিছু নেই মৃত্যুপথযাত্রী নাজির, একটা টিকিং সুপারনোভা, এবং আট ড্রাম হাইপারগোলিক ফুয়েল বিস্ফোরক যা নির্দিষ্ট সময় তাকে খুন করবে এমনকি সে মূল বোমার্টিকে নিষ্ক্রিয় করতেও পারে।

    ঠিক আছে, উইল, শান্ত হও।

    ০০:০২:৩০

    ০০:০২:২৯

    ০০:০২:২৮

    পৃথিবী ধ্বংস হতে আর আড়াই মিনিট আছে।

    শান্ত হও, বোকা কোথাকার!

    সুপারনোভার সামনে পায়চারি শুরু করল রেস, আর্মিং কম্পিউটারের স্ক্রিনে চোখ।

    তোমার হাতে সময় আছে
    ০০:০২:২৭
    কয়েক মিনিট আছে ডিজআর্ম কোড ঢোকানোতে
    এখানে ডিজআর্ম কোড ঢোকাও

    রেস আতঙ্কিত দৃষ্টিতে টাইমারের দিকে তাকিয়ে রইল। বৃষ্টি পড়ছে তার মাথার ওপরে।

    কি করবে তুমি, উইল?

    এবার তার কোনো চয়েস নেই, আছে কি?

    সে মারা যাবে পৃথিবীর অন্যদের সাথে কিংবা সে চেষ্টা করবে সুপারনোভাকে কিভাবে থামান যায় সেটা খুঁজে বের করা এবং ওই পথেই তার মৃত্যু হবে।

    ডেম ইট, ভাবল সে।

    সে কোনো বীর নয়।

    রেনকো এবং ভ্যান লিওয়েন বীর ছিল। সে কেউ নয়। শুধু একজন মানুষ। একজন ইউনিভার্সিটি প্রফেসর যে সব সময় দেরী করে কাজে গেছে, যে সব সময় ট্রেন ধরতে পারে নি। ঈশ্বর, সে এখনো পার্কিং ফাইন দিয়ে এসেছে।

    সে কোনো বীর নয়।

    এবং সে অন্যদের মতো মরতে চায় না।

    পাশাপাশি, সে জানে না সুপারনেভার আর্মিং কম্পিউটারের কোড ভাঙার কোড। সে হ্যাঁকার নয়। না, সহজ ব্যাপারটা হল যে ফ্রিজ ওয়েবার মারা গেছে, এবং সেই ছিল একমাত্র যে কোডটা জানাতে পারত যার দ্বারা সুপারনোভা নিরস্ত্র করা যায়।

    ০০:০২:০১

    ০০:০২:০০

    ০০:০১:৫৯

    চোখ বুজে বড় করে শ্বাস নিল রেস।

    অবশ্যই বীরের মতো মৃত্যু হওয়া উচিত।

    আর তাই সে সুপার নোভার সামনে সোজা বসে পড়ল, এবং পরিষ্কার মনে ডিসপ্লে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।

    ঠিক আছে, উইল, দীর্ঘশ্বাস নাও। দীর্ঘ শ্বাস নাও।

    স্ক্রিনের দিকে তাকাল, লেখাটা পড়ল: ডিজআর্ম কোড এখানে ঢুকাও।

    ঠিক আছে।

    আটটা শূন্যস্থান পূরণ করতে হবে। পূরণ করতে হবে একটা কোড দিয়ে।

    কোডটা কে জানত?

    ওয়েবার জানত কোডটা।

    একমাত্র সে-ই জানত কোডটা।

    ঠিক এই সময় একটা কণ্ঠস্বরে চমকে উঠল রেস।

    প্রফেসর কী ঘটছে?

    রেনে কথা বলছে।

    জেসাস, রেনে, চমকে দিয়েছিলেন আপনি। কী ঘটছে? বেশ, হেরহার্ডট গুলি করেছে ওয়েবারকে, তারপর আমি গুলি করেছি হেরহার্ডট আর আমি এখন সুপারনোভার সামনে একা বসে ভাবছি কীভাবে এটাকে ডিজআর্ম করা যায়। আপনি কোথায়?

    আমি অফিসে ফিরে খাদটা দেখছি, বলল রেনে।

    কোনো আইডিয়া আছে কীভাবে এটাকে অকেজো করা যায়?

    না। একমাত্র ওয়েবার

    আমি জানি সব। শুনুন, আটটা শূন্যস্থান পূরণ করতে হবে এবং দ্রুত পূরণ করতে হবে।

    ঠিক আছে, চিন্তা করতে দিন…

    ০০:০১:০৯

    ০০:০১:০৮

    ০০:০১:০৭

    আর এক মিনিট, রেনে।

    ঠিক আছে। ঠিক আছে। ওই টেলিফোন সংলাপ বলা হয়েছে তাদের সুপারনোভা ইউএস মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, ঠিক? তার মানে কোডটা হবে নিউমেরিকল।

    কীভাবে জানছেন আপনি?

    কারণ আমি জানি আমেরিকান সুপারনোভার কোডটা নিউমেরিকল! রেসের চুপ। করে থাকাটা খেয়াল করল সে। আমাদের লোক আছে। ওদের এজেন্সিগুলোতে।

    বেশ, ঠিক আছে। তা হলে নিউমেরিকল কোডই। এইট ডিজিট কোড। এক ট্রিলিয়ন সম্ভাব্য কম্বিনেশন পাওয়া যাবে।

    ০০:০১:০০

    ০০:০০:৫৯

    ০০:০০:৫৮

    ওয়েবারই একমাত্র মানুষ যে কোডটা জানত, ঠিক আছে? রেনে বলল। কোডটার সঙ্গে নিশ্চয়ই তার কোনো সম্পর্ক থাকবে।

    কিংবা সংখ্যাটা এলোমেলো হতে পারে, শুকন গলায় বলল রেস।

    সম্ভাবনা কম, বলল রেনে। যারা নিউমেরিকল কোড ব্যবহার করে তারা সাধারণত সংখ্যা বাছাইয়ে এলোমেলো পছন্দ করে না। এমন সংখ্যা ব্যবহার করবে, তাদের জীবনে যেগুলোর তাৎপর্য আছে। যেমন, স্মরণীয় কোনো তারিখ, কিংবা তেমন কোনো তারিখ। ওয়েবার সম্পর্কে আমরা কী জানি?

    কিন্তু রেস কথাগুলো শুনছিল না।

    কিছু একটা তার মনে খোঁচা দিচ্ছিল যখন রেনের কথাগুলো শুনছিল, কিছু একটা যা সে বলতে চাইছে।

    ঠিক আছে, বলল রেনে, জোরেসোরে ভাবতে লাগল। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় নাজিদের হয়ে কাজ করত সে। মানুষের ওপর অ্যাক্সপেরিম্যান্ট নিয়ে কাজ করত?

    কিন্তু রেস অন্য কিছু আরো বিশদভাবে ভাবছিল।

    ওরা যে নাম্বারটা ব্যবহার করেছিল সেটা তাদের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ, ওরা যে নাম্বারটা ব্যবহার করেছিল সেটা নিশ্চয়ই চিন্তাভাবনা করে বের করেছিল কোনো মনে রাখা ঘটনা বা তারিখ…

    হঠাৎ করে তার মাথায় এলো।

    ওটা ছিল নিউইয়র্ক টাইমস-এর একটা প্রবন্ধ যা সে পড়েছিল গতকাল সকালে কাজে যাওয়ার আগে অর্থাৎ ইউনিভার্সিটিতে তার অফিসে স্পেশাল কোর্সের সাথে দেখা হওয়ার আগে।

    প্রবন্ধে লেখা ছিল যে চোরেরা খুব সহজ পথ খুঁজে পেয়েছে এবং একাউন্টের কোড ভেঙ্গে ফেলার কাজে কারণ পঁচাশি ভাগ মানুষ এটিএম নাম্বারে তাদের জন্মদিন কিংবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ব্যবহার করে থাকে।

    ওর জন্মদিন কবে? রেস জিজ্ঞেস করল হঠাৎ করে।

    ওহ, আমি জানি, বলল রেনে। আমি তার ফাইলে দেখেছি। ১৯১৪ সালের কোনো একদিন। কী সেটা। হ্যাঁ, মনে পড়েছে। আগাস্ট ৬। আগস্ট, ৬, ১৯১৪।

    ০০:০০:৩০

    ০০:০০:২৯

    ০০:০০:২৮

    কী মনে হয় আপনার? জানতে চাইল রেস চিৎকার করে বৃষ্টি শব্দের কারণে।

    এটা সম্ভবনা আছে, বলল রেনে।

    ব্যাপারটা নিয়ে এক সেকেন্ড চিন্তা করল রেস। এই ফাঁকে চোখ বুলাল কামরার চারদিকে, দেখল হেরহার্ডট দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে বসে রয়েছে, তার রক্ত ভর্তি মুখের ভেতর থেকে আওয়াজ বেরুচ্ছে।

    না, মাথা নেড়ে বলল রেস। এটা নয়।

    কী?

    ০০:০০:২১

    ০০:০০:২০

    ০০:০০:১৯

    রেস এখন স্ফটিকের মতো স্বচ্ছভাবে চিন্তা করতে পারছে।

    এটা বড় বেশি সাধারণ। আদৌ যদি কোনো তারিখ ব্যবহার করে, সেটার বিশেষ কোনো তাৎপর্য থাকতে হবে, তবে সেটা একই সঙ্গে কোনোভাবে চাতুর্যেরও পরিচয় মিলবে। হয়তো দুনিয়ার মানুষকে বিদ্রূপ করার মতো কিছু। জন্মদিনের মতো একটা তারিখ নয়। অর্থবহ কিছু একটা ব্যবহার করেছে সে।

    প্রফেসর, আমাদের হাতে সময় নেই। আর কী থাকতে পারে?

    ফ্রিঞ্জ ওয়েবার সম্পর্কে যা যা শুনেছে তার মতোই স্মরণ করার চেষ্টা করল রেস।

    মানুষের ওপর এ্যাক্সপেরিম্যান্ট করে।

    ০০:০০:১৫

    নুরেমবার্গে তার বিচার হয়।

    ০০:০০:১৪

    এবং বিচারে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

    ০০:০০:১৩

    মৃত্যুদণ্ড কার্যকরী করা হয়।

    ০০:০০:১২

    মৃত্যুদণ্ড।

    মৃত্যুদণ্ড…

    নিশ্চয়ই এটাই, ভাবল রেস।

    ০০:০০:১১

    কিন্তু তারিখটা কী?

    ০০:০০:১০

    রেনে। জলদি। ওয়েবারের তথাকথিত ফাঁসি কবে হয়েছিল?

    ০০:০০:০৯

    ওহ…নভেম্বর ২২, ১৯৪৫।

    ০০:০০:০৮

    নভেম্বর ২২,১৯৪৫।

    ০০:০০:০৭

    চেষ্টা করে দেখি!

    ০০:০০:০৬

    সামনে ঝুঁকল রেস, সুপারনোভার কি-বোর্ডে নাম্বার পাঞ্চ করল।

    ডিজআর্ম কোড এখানে ঢোকাও
    ১১২২১৯৪৫

    কোডটা টাইপ করল, ওর চারপাশে বৃষ্টি পড়ছে এবং টাইমারের কাউন্টডাউন দ্রুত শূন্যের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল। রেস দ্রুত এন্টার কি চাপ দিল আঙ্গুল দিয়ে।

    বিপ!

    আওয়াজ হতেই হেরহার্জেটের মুখ থেকে বেরোন শব্দ থেমে গেল।

    রেসের মুখে চওড়া হাসি ফুটছে।

    ওহ্ মাই গড, আই ডিড ইট…

    তারপর হঠাৎ সুপারনোভার স্ক্রিন বদলে গেল :

    ডিজআর্ম কোড এখানে ঢোকাও
    বিস্ফোরণের কাউন্টডাউন থেমে গেছে
    ০০:০০:০৪
    মিনিটে
    বিকল্প বিস্ফোরণ ক্রম সক্রিয়

    আল্টারনেট ডিটোনেশন সিকোয়েন্স?

    ওহ্ ডেম… রেস শ্বাস ফেলে বলল।

    অন্য টাইমারের দিকে চলে গেল রেসের দৃষ্টি, ঘরের উল্টোদিকের একটা হাইড্রাজিন ড্রামের ওপর বসান রয়েছে, স্ক্রিনে সেট হয়ে আছে সময় ০০:০০:০৫।

    সচল হল দ্বিতীয় টাইমার ০০:০০:০৪।

    বিস্ময়ে বিস্ফারিত হয়ে উঠল হেরহার্ডটের চোখ দুটো।

    আরো বড় দেখাল রেসের চোখ।

    ওহ্ ম্যান, বলল সে।

    ঠিক চার সেকেন্ড পর, কাউন্টডাউন শেষ হওয়া মাত্র, ড্রামগুলোর হাইপারগলিক ফুইড পরস্পরে সংস্পর্শে এল, সেই সঙ্গে কন্ট্রোল বুদের সবগুলো দেয়াল প্রচণ্ড শক্তিতে উড়ে গেল।

    চুরমার হয়ে গেল সবগুলো জানালা, কয়েক লক্ষ্য টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ল আকাশে, ওগুলো কিছু নিল গম্বুজ আকৃতির একটা বিরাট শিখা।

    চারদিকে ছুটল রাশি রাশি আবর্জনা। দরজা, সুপানোভার অংশবিশেষ, ভাঙা বেঞ্চের গুঁড়ো, মেঝের টুকরো ইত্যাদি এত প্রচণ্ড গতি পেল যে ওগুলোর কিছু মাইনের কিনারা পার হয়ে ছড়িয়ে পড়ল বিশাল গর্তটাকে ঘিরে থাকা ঝোঁপ-জঙ্গলের ভেতরে। ফাটল ধরা থার্মেনিউক্লিয়ার ওয়ারহেড দুটো, সুপারনোভাসহ, কোনো রকম বিপদের কারণ না ঘটিয়ে উড়ে এসে পড়ল মাইনের মেঝেতে। ওগুলোর ভেতরে থাকা অ্যাটমকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য হাইপারগলিক বিস্ফোরণ যথেষ্ট নয়।

    এক মুহূর্তে পর দেখা গেল কন্ট্রোল বুঁদ বলতে কিছুই অবশিষ্ট নেই, আছে শুধু কালো রঙের কঙ্কালসার কাঠামোটা, পুড়ে এমন কয়লা হয়ে গেছে যে চেনা যাচ্ছে না, আলগাভাবে ঝুলে আছে মাইনের উপর। ওটার দেয়াল অদৃশ্য হয়েছে, মেঝে এবং সিলিংও নেই।

    উইলিয়াম রেসও নেই।

    .

    ষষ্ঠ ষড়যন্ত্র
    মঙ্গলবার, জানুয়ারি ৫, ১৯১০ ঘণ্টা।

    পরিত্যক্ত মাইনের দিকে ধীরগতিতে এগোচ্ছে দুটো রিভারক্রাফট।

    একটা লম্বা স্পীডবোট অন্যটি একটি ছোট্ট তোবড়ান সী-প্লেন, একটি মাত্র পন্টুন ডান দিকে ডুবে রয়েছে।

    সারা বিশ্ব যেন শান্ত, নদীও শান্ত।

    লিওনার্দো ভ্যান লিওয়েন এবং ডুগী কেনেডি তাদের ককপিট থেকে চোখ বুলাচ্ছে সামনের পরিত্যক্ত মাইনের উপর। দুজনেই তারা ধীর ধীরে জলযান নদীর তীরে ভিড়ল।

    এখানে আসার পথে হাইপারগলিক বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনেছে ওরা, এখন দেখতে পাচ্ছে বিরাট মাইনের উপর, শূন্যে ঝুলন্ত বাক্স আকৃতির একটা পোড়া কাঠাম থেকে কালো ধোঁয়া বেরুচ্ছে।

    আশপাশে কেউ নেই।

    কোথাও কিছু নড়ছে না।

    ঘটুক না কেন কোনো খুঁত না রেখে সব শেষ করে দিয়েছে।

    দুই গ্রিন বেরেট জলযান থেকে লাফ দিয়ে তীরে নেমে সাবধানে ওয়্যারহাউসের মতো দেখতে পুরানো কিছু দালানের দিকে এগোচ্ছে ওরা, হাতে উদ্যত অস্ত্র।

    হঠাৎ, রেনে একটা দালান থেকে বেরিয়ে এলো। বেরিয়েই ওদেরকে দেখতে পেল সে, ধীরপায়ে এগিয়ে ওরা তিনজন ক্যানিয়নের কিনারায় দাঁড়িয়ে কন্ট্রোল বুদের যেটুকু অবশিষ্ট আছে দেখছে।

    কী ঘটেছে এখানে? জানতে চাইল ভ্যান লিওয়েন।

    সুপারনোভাকে আর্ম করার জন্যে আইডলটাকে ব্যবহার করেছে হেরহর্ডাট। তারপর সেটা ডেটোনেট করার জন্যে সেট করে সে, রেনে ম্লান এবং দুঃখভরা গলায় বলল। প্রফেসর রেসকে ডেটোনেশন সিকোয়েন্স থামিয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু সুপারনোভা অকেজো হবার পরপরই উড়ে গেল কেবিনটা।

    বিধ্বস্ত কন্ট্রোল বুদটার দিকে তাকাল ভ্যান লিওয়েন উইলিয়াম রেসকে যেখানে শেষবার জীবিত দেখা গেছে।

    ডিভাইসটা ওখানে ছিল? জিজ্ঞেস করল সে।

    উ-হুঁ, বলল রেনে। সত্যি বিশ্বাস করার কথা নয়। কাউন্টডাউন বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। আশ্চর্য একজন মানুষ।

    আর আইডলটা?

    বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে গেছে, জানা কথা সুপারনোভা ও প্রফেসর রেসের সঙ্গে।

    ওদের ডান দিক থেকে খসখসে একটা শব্দ ভেসে এলো।

    ভ্যান লিওয়েন এবং ডুগী ঝট করে সেদিকে তাকাল, হাতের অস্ত্র তৈরি।

    তবে তাকাবার পর ঘন ঝোঁপ-ঝাড় ও গাছপালা ছাড়া কিছুই দেখতে পেল না।

    পরমুহূর্তেই ড্রামের মতো দেখতে, কোনো ধরনের ক্যাপসুল হবে, সাধারণ গারবেজ বিন-এর মতো সাইজ, একটা গাছের মগডাল থেকে খসে পড়ল। খসে পড়ল নরম ও উঁচু ঝোঁপের মাথায়, ওদের কাছ থেকে বিশ গজ দূরে।

    ভ্রু কুঁচকে ভ্যান লিওয়েন, রেনে এবং ডুগী সেদিকে এগিয়ে গেল।

    কন্ট্রোল বুঁদ বিস্ফোরিত হওয়ার সময় ক্যাপসুলটা নিশ্চয়ই ওটার ভেতরেই ছিল, তারপর বিস্ফোরণের ধক্কায় উড়ে এসে এত দূরে পড়েছে।

    ওয়ারহেড ক্যাপসুল গড়িয়ে এসে নিচু একটা ঝোঁপের উপর স্থির হল। আর তারপরেই, কী আশ্চর্য, আগুপিছু গড়ানোর ভঙ্গিতে দোল থেকে শুরু করল সেটা, যেন ভেতরে কেউ আছে, বেরিয়ে আসতে চাইছে–

    হঠাৎ ক্যাপসুলটার ঢাকনি খুলে গেল। হুড়মুড় করে সেটা থেকে বেরিয়ে এলো কুণ্ডলী পাকান রেস, বেরিয়ে এল কাদা ও পানিতে।

    এক হাজার ওয়াটের মতো উজ্জ্বল ও নিঃশব্দ হাসিতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠল রেনের মুখটা আর দুই গ্রিন বেরেট। ছুটল রেসের দিকে।

    কাদায় পিঠ দিয়ে পড়ে আছে প্রফেসর, ক্লান্ত ও বিধ্বস্ত দেখাচ্ছে ওকে। তবে সুতি ক্যাপ ও কালো কেভলার ব্রেস্টপ্লেটটা এখনো পরে আছে।

    চোখ মেলে তিন কমরেডকে দেখল সে, ওদের আসতে দেখে, দুর্বল হাসি হাসল ওদের দিকে।

    তারপর ডান হাতটা পেছন থেকে সামনে নিয়ে এলো সে, সামনের পানি কাদায় একটা জিনিস রাখল ও। জিনিসটার গায়ে পানির ফোঁটা চকচক করছে। কালো ও নীলবেগুনি পাথরটা চিনতে কারো অসুবিধে হল না। গায়ে রাপার ভয়ঙ্কর ও কুৎসিত অবয়ব খোদাই করা।

    এটাই হল আইডল।

    .

    গুজ এখন আকাশে, আমাজন রেইনফরেস্টের ওপর দিয়ে ছুটে চলছে।

    রাতের অন্ধকারে পশ্চিম দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ের দিকে ফিরে যাচ্ছে, ভিলকাফোরের দিকে।

    পাইলটের সিটে ডুগী বসে, প্লেনটা চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তার পেছনে কেবিনের দরজা খোলা, সেখানে বসে রয়েছে ভ্যান লিওয়েন, রেস, রেনে এবং আহত উলি।

    রেস কেন্ট্রোল বুঁদ থেকে তার বেঁচে আসাটা নিয়ে ভাবছিল।

    পাঁচ সেকেন্ডের ভেতর সুপারনোভাকে ডিজআর্ম করার সঙ্গে সঙ্গে হাইপারগলিক ফুয়েল মেশানোর পর পালাবার কোনো উপায় আছে কিনা দেখার জন্য মরিয়া হয়ে কেবিনের চারদিকে চোখ বুলাল।

    এইসব ঘটার পর, প্রথমেই দৃষ্টি আটকে গেল ওয়ারহেড ক্যাপসুলের উপর প্রতি বর্গইঞ্চিতে ১০,০০০ পাউন্ড প্রেশার সহ্য করার ক্ষমতা রয়েছে ওই কন্টোইনারের, এক্সপ্লোসিভ নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড বহন করা হবে তাই মজবুত করেই ওগুলো তৈরি করা হয়।

    আর কোনো পথ না দেখে ওটাকে লক্ষ্য করেই ডাইভ দিল সে, তার আগে ওয়ার্ক বেঞ্চে বসান আইডলটা ছো মেরে তুলে নিয়ে ক্যাপসুলের ভেতর ঢুকে ঢাকনিটা বন্ধ করে দিল, ঠিক যে মুহূর্তে পাঁচ সেকেন্ড কাউন্টডাউন শেষ হয়েছে।

    ফুয়েলের মিশ্রণ ঘটার সঙ্গে সঙ্গে কন্ট্রোল বুঁদ উড়ে গেল, ক্যাপসুলসহ আকাশে উঠে পড়ল সে। ভাগ্যগুণে মাইনকে ঘিরে গায়ে গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলোর নরম মাথায় ওর পতন ঘটে।

    তারপরেও ও বেঁচে আছে এবং এটাই সব।

    এখন সে সী-প্লেনের পেছনের সিটে বসে আছে, রেস হাতে ধরে আছে। ছেঁড়াফাটা লেদার দিয়ে মোড়া একটা বই, এটা বোট-হাউস থেকে পেয়েছে ও। মাইনের কিনারায়, একটা অফিস কামরার শেলফে ছিল।

    ভিলকাফোর পৌঁছানোর আগে এই বইটারই খোঁজ করেছিল সে।

    এটাই হল সান্টিয়াগোর ম্যানুস্ত্রিপ্ট।

    ষোলোশো শতাব্দীতে আলবার্তো সান্টিয়াগোর নিজের হাতে লেখা, স্যান সেবাস্তিয়ান অ্যাবে থেকে চুরি করেছিল হেনরিক এনিমটেন, বুন্ডেস ক্রিমিন্যাল এস্ট-এর স্পেশাল এজেন্ট উলি পিক এটা থেকেই একটা কপি করেছিল।

    সী-প্লেনের পেছনের সিটে বসে রেস ম্যানুস্ক্রিপ্টটার দিকে তাকিয়ে রইল।

    তাকিয়ে রইল আলবার্তো সান্টিয়াগোর হাতের লেখার দিকে। আঁচড় এবং আঁকাঝোকা খুবই পরিচিত, তবে এখন সে তাকিয়ে আছে উন্নতমানের হাতে তৈরি কাগজের উপর নীল কালিতে সময় ও ধৈর্য নিয়ে সুন্দর হস্তাক্ষরে রেখার দিকে।

    সে এখনই পড়তে চেয়েছিল, কিন্তু না, অপেক্ষা করতেই হবে। আগে অন্য কাজগুলো শেষ করে নিতে হবে।

    ভ্যান লিওয়েন, ডাকল সে।

    ইয়েস!

    ফ্রাঙ্ক ন্যাশ সম্পর্কে সব কথা বলুন আমাকে।

    জী, কী বললেন?

    বললাম তো ফ্রাঙ্ক ন্যাশ সম্পর্কে কথা খুলে বলুন আমাকে।

    তাঁর সম্পর্কে ঠিক কী জানতে চান?

    আপনি তাঁর সঙ্গে আগেও কাজ করেছেন?

    আমার ইউনিটকে ব্র্যাগ থেকে তুলে নিয়ে আসা হয়েছে এই মিশনের জন্য।

    আপনি কি জানেন ন্যাশ আর্মি স্পেশাল প্রজেস্ট ইউনিটের একজন কর্নেল?

    হ্যাঁ নিশ্চয়ই।

    তা হলে আপনি এ-ও জানেন যে তিনি আমাদেরকে নিজের সম্পর্কে মিথ্যে কথা বলেছেন? কাল সকালে আমার অফিসে আমাকে একটা ডারপা আইডি দেখান ন্যাশ, নিজেকে আর্মির একজন কর্নেল বলে পরিচয় দেন, বলেন বর্তমানে কাজ করছেন ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্ট এজেন্সিতে, এটা তো?

    এটা যে তিনি আপনাকে বলেছেন তা আমি জানতাম না।

    জানতেন না?

    রেসের দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকাল ভ্যান লিওয়েন। প্রফেসর রেস, এই মিশনে আমাকে ধার করে আনা হয়েছে, এখানে আমি অতিথি, ঠিক আছে? আমাকে বলা হয়েছে এই অ্যাসাইনমেন্ট সফল হওয়ার ওপর নির্ভর করছে। আমাকে বলা হয়েছে আপনাকে প্রটেক্ট করতে। তাই আমি আমার কাজ করছি। কর্নেল ন্যাশ যদি আপনার কাছে মিথ্যা বলে থাকে, আমি দুঃখিত, কিন্তু আমি কিছুই জানি না।

    রেস দাঁতে দাঁত চেপে ধরল। তাকে জাহান্নামে পাঠান হয়েছে। মিশনে আসার জন্য তার সঙ্গে চালাকি করা হয়েছে।

    রাগের সাথে আরো যোগ হয়েছে, অবশ্যই সে বদ্ধপরিকর সব কিছু জানার জন্য, ন্যাশ ডারপা-র কেউ না জানার পর প্রচুর প্রশ্ন মনে জেগেছে তার। প্রথমত লরেন এবং কোপল্যান্ডের খবর কি? ওরা কি আর্মি স্পেশাল প্রজেক্টের সাথে আছে?

    এমনকি প্রশ্ন জাগে রেস নিজে কিভাবে এই মিশনের একটা অংশ হয়ে গেল। যদিও, ন্যাশ দাবি করে থাকে ভাই মার্টি ওর কথা বলেছে। কিন্তু রেস তার ভাইকে গত দশ বছরেও দেখেনি।

    অদ্ভুত, রেস দেখল সে মার্টিকে নিয়ে ভাবছে।

    ওরা খুব কাছাকাছি ছিল সেই ছোটবেলা থেকে। যদিও মার্টি ওর চেয়ে তিন বছরের বড় ছিল, ওরা সব সময়ই একসাথে খেলাধুলা করত–ফুটবল, বেস বল, শুধুই দৌড়ান। কিন্তু উইল সবসময়ই খেলাধুলায় ভালো ছিল, বয়সের পার্থক্য সত্ত্বেও।

    অন্য দিকে মার্টি দুজনের চেয়ে চালাক ছিল। স্কুলে সে বেশ ভালো করছিল আর এর ফলে সবার থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল। হেন্ডসাম ছিল না এমনকি নয় বছর বয়সে তাকে বাবার মতো দেখতে লাগত, কুঁজো কাঁধ এবং ঘন গাঢ় ভুরু, সাথে স্থায়ী কাটাকাটা অভিব্যক্তি রিচার্ড নিক্সনের কথা মনে করিয়ে দেয়।

    উল্টোদিকে রেস পেয়েছে মায়ের মতো সহজ সুন্দর চেহারা-বালুর মতো বাদামী চুল এবং আকাশী নীল চোখ।

    তরুণ বয়সে উইল বন্ধুদের সঙ্গে শহরের বাইরে গেলেও মার্টি বাসায় থাকত তার কম্পিউটার এবং পুরস্কার পাওয়া এলভিস প্রিসলির রেকর্ডগুলো নিয়ে। উনিশ বছর বয়স পর্যন্ত মার্টির কোনো মেয়ে বন্ধু ছিল না। যাও একজন মেয়েকে সে পছন্দ করেছিল, সুন্দরী তরুণী চিয়ারলিডার জেনিফার মিশেল, পরে দেখা গেল সে উইলের দিকে ঝুঁকছে। এতে মার্টি বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে।

    কলেজে গেল এবং দেখা গেল তার স্কুলের যন্ত্রণাদায়ক বন্ধুরা কেউ হয়ে গেল ব্যাংকার, কেউ হয়ে গেল রিয়েল এস্টেট এজেন্ট, মার্টি সোজা গিয়ে ঢুকল এম আই টি-র কম্পিউটার ল্যাবে হল একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার।

    অন্যদিকে রেস বুদ্ধিমান কিন্তু সবসময়ই অপেক্ষাকৃত কম ভালো ছাত্র, তাই সে একটা অর্ধেক স্পোর্টস স্কলারশিপ নিয়ে ইউ এস সি তে গিয়ে ঢুকল। সেখানে সে কোর্ট এবং হারান লরেন ও কোনোরকে আর এর দুই-এর মাঝে সে নিয়ে পড়তে লাগল।

    এরপর ওদের বাবা-মায়ের ডিভোর্স হয়ে গেল।

    হঠাৎ করে ঘটে গেল ব্যাপারটা। একদিন, রেসের বাবা অফিস থেকে বাসায় এসে বলল তার মাকে যে তিনি তাকে ত্যাগ করছেন। এটা জানা গেল যে তিনি গত এগারো মাস যাবৎ সেক্রেটারির সাথে তার অ্যাফেয়ার চলছে।

    ব্যস, দু টুকরো হয়ে গেল পরিবারটা।

    সে সময় মার্টির বয়স ছিল পঁচিশ, তখন পর্যন্ত সে তার বাবাকে বলে আসছে। আসলে সে তো তার বুড়ো মানুষটার ছেলে, দেখতেও এবং স্বভাবেও

    কিন্তু রেস তার বাবাকে ক্ষমা করতে পারেনি। ১৯৯২ সালে যখন বাবা হার্ট অ্যাটাকে মারা গেল, রেস বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়াতেও যায় নি।

    এটাই হল আমেরিকার চিরায়ত নিউক্লিয়ার পরিবার।

    মাথা নাড়া দিয়ে রেস বেরিয়ে এলো ওই চিন্তা থেকে, বাস্তবে ফিরে এলো, একটা সী-প্লনে করে পেরুর জঙ্গলের ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে সে।

    লরেন আর কোপাল্যান্ড? ভ্যান লিওয়েনকে প্রশ্ন করল সে। ওরাও কি আর্মির স্পেশাল প্রজেক্টের সদস্য।

    হ্যাঁ, ভ্যান লিওয়েন শান্ত গলায় জবাব দিল।

    সান অভ আ বিচ।

    বেশ, রেস প্রশ্ন পরিবর্তন করল, সুপারনোভা প্রজেক্ট সম্পর্কে কী জানেন বলুন আমাকে?

    শপথ করে বলছি আমি অনেক কিছু জানি না। ভ্যান লিওয়েন বলল।

    রেস ভুরু কুঁচকে ঠোঁট কামড়ে ধরল।

    রেনের দিকে ঘুরল সে। আমেরিকানদের সুপারনোভা প্রজেক্ট সম্পর্কে কতটুকু জানেন আপনি?

    খুবই অল্প।

    রেস তার ভ্রু জোড়া ওপরের দিকে তুলল।

    রেনে দীর্ঘ শ্বাস ফেলল।

    রুদ্ধদ্বার কক্ষের গোপন মিটিঙে কংগ্রেশনাল আর্মমেন্টস কমিটি প্রজেক্টটা পাস করে ১৯৯২ সালের জানুয়ারিতে। আবারো ১৯৯২ সালের মার্চ মাসে আরেকটি রুদ্ধদ্বার কক্ষের গোপন মিটিঙে ১.৮ বিলিয়ন ডলারের বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাবকরা হয় কো-অপারেটিভ জয়েন্ট ভেঞ্চার হবে, অংশ নেবে ডিফেন্স এডভান্স রিসার্চ প্রজেক্ট এজেন্সি এবং ইউনাইটেড স্টেটস নেভি। প্রজেক্টের লিডার হবে

    এক সেকেন্ড, বাধা দিয়ে বলল রেস। সুপারনোভা তা হলে নেভির প্রজেক্ট?

    ঠিক তাই।

    তার মানে এ প্রসঙ্গেও মিথ্যে কথা বলেছে ফ্রাঙ্ক ন্যাশ। সুপারনোভা এমন কী আর্মির প্রজেক্টই নয়।

    ওটা নেভির প্রজেক্ট।

    এবং তারপর, হঠাৎ, একটা কথা মনে পড়ে গেল রেসের, যা গতকাল রাতে শুনেছে ও, যখন হামভির ভেতরে বন্দি ছিল, রাপাগুলো বিকেএ সদস্যদের উপরে হামলা করার আগে।

    একটা নারীকণ্ঠ, সম্ভবত রেনেই, জার্মান ভাষায় রেডিওতে কথা বলেছিল, তার একটি বাক্য তাকে সেই সময় বিস্মত ও চিন্তিত করে তোলে, ওই বাক্যটি ন্যাশকে অনুবাদ করে শোনায়নি ও।

    ওয়াজ ইস্ট মিট ডেম আন্দেরান আমেরিকানিশেন টিম? ও সিন্ড ডাই জেটজ?

    আরেকটি আমেরিকান টিমের খবর কী? তারা এখন কোথায়?

    আরেকটা আমেরিকান টিম…

    দুঃখিত, রেনে, বলল সে, সুপারনোভা প্রজেক্টের লিডারের নামটা যেন কী বলছিলেন?

    তার নাম রোমানো। ডক্টর জুলিয়াস মিশেল রোমানো।

    আর তাহলে এই।

    অবশেষে রহস্যময় রোমানোর পরিচয় পাওয়া গেল।

    রোমানোর টিমই হল অন্য আমেরিকান টিম। একটি নেভি টিম।

    ক্রাইস্ট…

    ব্যাপারটা পরিষ্কার হওয়া দরকার, বলল রেস। সুপাননোভা মার্কিন নেভির একটা প্রজেক্ট, নেতৃত্বে রয়েছে জুলিয়াস রোমানো নামে এক লোক, ঠিক?

    হ্যাঁ, ঠিক তাই, রেনে বলল।

    এবং রোমানো ও তার টিম পেরুতে রয়েছে, খুঁজে বেড়াচ্ছে থাইরিয়াম আইডলাটা?

    ঠিক তাই।

    কেন? কী কারণে ইউএস আর্মির স্পেশাল প্রজেক্ট ডিভিশন মার্কিন নেভিরই একটা টিমের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে একটা আইডল নিয়ে যা নেভির নিজস্ব একটা অস্ত্রে মূল চাবি?

    রেনে বলল, আপনার এই প্রশ্নের উত্তর একটু জটিল যেমনটা প্রথম উদয় হয়েছিল তার তুলনায়, প্রফেসর রেস।

    চেষ্টা করুণ।

    ঠিক আছে, রেস দীর্ঘ একটা শ্বাস টেনে বলল। গত ছয় বছরে জার্মান ইন্টেলিজেন্স নীরবে লক্ষ্য রাখছিল ইউনাইটেড স্টেটস আর্মড ফোর্সের তিনটি ব্রাঞ্চের দিকে- আর্মি, নেবা এবং এয়ার ফোর্স জড়িয়ে পড়েছিল খুবই বাজে তবে শক্তিশালী পাওয়ার স্ট্রাগলে।

    ওরা যে লড়াই করছে তা শুধু অস্তিত্বের জন্য করেছে। ওরা লড়াই করছে ইউনাইটেড স্টেটসের মহৎ আর্মড সার্ভিসের জন্য, তাই যখন ইউ এস কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত ওদের মধ্য থেকে একদিকে অপসারণ করা হবে, মনস্থ করা হয়ে ছিল ২০১০ সালে করা হবে, ওটা তাদের ব্রাঞ্চ ছিল না বুলেটটা নেবে। ওরা লড়াই করেছিল নিজেদের অপরিহার্য করার জন্য।

    কংগ্রেস ২০১০ সালের ভেতর আর্মড সার্ভিস চেয়েছিল? রেস জিজ্ঞেস করল।

    ১৯৯৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর একটি সিক্রেট ডিপার্টমেন্ট অব ডিফেন্সের লেখা একটি কাগজ আর তাতে সেক্রেটারি অভ ডিফেন্স এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর দিল, ডিপার্টমেন্ট অভ ডিফেন্স ২০১০ সালের কথা সুপারিশ করে প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠিয়ে দিল যে ইউনাইটেড স্টেটস মিলিটারির একটি ব্রাঞ্চ প্রয়োজনাতিরিক্ত।

    বেশ… রেস সন্দেহ মনে বলল। তুমি কি করে এর সবকিছু বলতে পারলে? রেস তাকে একটা বাঁকা হাসি উপহার দিল। শান্ত হোন, প্রফেসর। ইউ এস নেভি-ই শুধু বিশ্বে একমাত্র নেভি নয় যে অন্য দেশের পানির তলার কমিউনিকেশন কেবলে আড়ি পাতবে।

    ও, রেস বলল।

    ডিপার্টমেন্টের ভিত্তিতে পরিবর্তন এসেছে যুদ্ধে। দেশের আর্মড ফোর্সে পুরানো ল্যান্ড-সী-এয়ার ডিভিশন মডার্ন ওয়ার্ল্ডে কোনো কাজে লাগবে না। দুটো মহাযুদ্ধ আর হাজার বছরের হাতাহাতি লড়াই থেকে ভুল শিক্ষা। এরপরে সিদ্ধান্ত হয় যে কোন সার্ভিসটা বন্ধ করে দেওয়া হবে?

    এরপরের সময় থেকে, রেনে বলে যেতে লাগল, আর্মড সার্ভিসের প্রতিটি ব্রাঞ্চ প্রমাণ করেছে তাদের মূল্য, অন্য দুটোর ব্যয়ের তুলনায়।

    উদাহরণ? রেস বলল উৎসাহের সাথে।

    উদাহরণ, এয়ার ফোর্স বলছে তাদের আছে স্টিলথ বোম্বার এবং আকাশযুদ্ধে তারাই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু নেভি উল্টো বলছে তারা কেরিয়ার ব্যাটেল গ্রুপ। সর্বোপরি ওরা বলছে যে নিয়মিত যোদ্ধা এবং স্টিলথের মতো বোম্বার আর বি-এ থাকার পরেও ওরা যোগ করেছে। আধুনিক চলমান ল্যান্ডিং স্ট্রিপ। এক ডজন কেরিয়ার ব্যাটেল গ্রুপ থাকার পর, নেভি বলছে, কার দরকার এয়ার ফোর্সের?

    অন্য দিকে, আর্মি দাবি করছে ওদের আছে স্পেশালাইজড গ্রাউন্ড ট্রপস এবং ম্যাকানাইজ ইনফেনট্রি ফোর্স। কিন্তু নেভি এবং এয়ার ফোর্স দুই-ই পাল্টা বলছে যে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্র এখন আকাশ এবং সমুদ্রে, স্থলে নয়। ওরা গালফ ওয়ার এবং কোশোভো যুদ্ধের দিকে তাকিয়ে দেখতে বলছে-যুদ্ধটা হয়েছে আকাশ থেকে, স্থল থেকে নয়।

    নেভির খুব কাছের সংযুক্তি হল ইউনাইটেড স্টেটস মেরিন কর্পস। মেরিন কর্পস যেদিন থেকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, আমেরিকার সংবিধান নিশ্চিত করেছে যে তাদেরকে কখনই এলিমিনেট করা হবে না। আর তাদের রয়েছে গ্রাউন্ড এবং ম্যাকানইজড ইনফেনট্রি উভয় সামর্থ্য, তারপরেও চাপ দিয়ে যাচ্ছে আর্মির ওপর এর সত্যতা মেনের নেওয়ার জন্য।

    এসব, আই সি বি এম-এর দিকে তাকিয়ে দেখুন। তিনটি আর্মড সার্ভিস ব্যবহার করে থাকে মিশাইল লাঞ্চিং ফ্যাসিলিটিজ : নেভির আছে সাবমেরিন লাঞ্চিং সিস্টেম; এয়ার ফোর্সের আছে এয়ার এবং ল্যান্ড-লাঞ্চড সিস্টেম; আর আর্মির আছে ল্যান্ড এবং মোবাইল সিস্টেম। একটা দেশের কি গুরুত্বের সাথে তিনটি আলাদা আলাদা নিউক্লিয়ার মিসাইল সিস্টেম প্রয়োজন আছে যেখানে দুটো কিংবা একটা হলেই যথেষ্ট?

    তাহলে কাকে হারাতে হচ্ছে? রেস জিজ্ঞেস করল বাধা দিয়ে।

    আর্মি, রেনে স্বাভাবিকভাবেই বলল। কোনো সন্দেহ নেই। বিশেষ করে যখন সাংবিধানিকভাবে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে মেরিন কর্পস-এর ব্যাপারে। প্রতিটি বিশ্লেষণে আমি যা দেখেছি, আর্মি সবসময়ই তৃতীয় স্থানে ছিল।

    তাই তাদের প্রমাণ করতে হবে তাদের প্রয়োজনীয়তা, রেস বলল।

    তারা চরমভাবে চাইছে তাদের প্রয়োজনীয়তার প্রমাণ। কিংবা অন্য সার্ভিসের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেওয়া।

    কি বলতে চাইছেন, অন্য সার্ভিসের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেওয়া?

    প্রফেসর, রেনে বলল, তুমি কি জান গত বছরের শেষের দিকে ভ্যানডেমবার্গ এয়ারফোর্স বেসে একটা চুরি সংঘটিত হয়েছিল?

    না।

    কিছু টপ-সিক্রেট প্ল্যানের নতুন ডব্লিউ-৪৮ নিউক্লিয়ার ওয়্যারহ্যাড চুরি গেছে। ডব্লিউ-৮৮ ছোট সংস্করণের ওয়ারহ্যাড়। চুরির সময় ছয়জন সিউঁকিরিটির লোক মারা যায়। চুরির পর অফিসিয়াল ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট আর পরবর্তী মিডিয়া কভারেজ দেখে দাবি করা হয়েছে এটা চাইনিজ এজেন্টদের কাজ। চুরি অফিসিয়াল রিপোর্ট বলছে যে মানুষ হত্যা এবং ঢাকার টেকনিক দেখে বোঝা যাচ্ছে যে এটা একটা মাত্র ইউনিটই এই অপরাধটা করে থাকতে পারে। সেটা হল আর্মি স্পেশাল ফোর্স ইউনিট, গ্রিন বেরেট।

    রেস একবার ভ্যান লিওয়েনের দিকে চকিত তাকাল। গ্রিন বেরেট সার্জেন্ট তার দিকে অসহায়ভাবে কাধ বাকাল। এটা সে আগেই জানত।

    আর্মি ঢুকে পড়েছে এয়ারফোর্স বেসে? অবিশ্বাস গলায় রেস জিজ্ঞেস করল।

    রেনে বলল, দেখুন, প্রফেসর, আর্মি নিজেই নতুন একটি ছোট্টখাটো মিনিয়াচারাইজ ওয়ারড্যাড নিয়ে কাজ করছে। সফলভাবে সম্পূর্ণতা হল যে ডব্লিউ ৮৮ তাদের নিজের প্রজেক্টের গুরুত্ব কমিয়ে দিচ্ছিল, আর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল ২০১০ সাল পর্যন্ত তাদেরকে রাখা হবে।

    ভুরু কুঁচকাল রেস, তাহলে আমরা কীভাবে সুপারনোভা প্রজেক্টের জন্য প্রয়োগ করব?

    খুবই সাধারণ, রেনে বলল। সুপারনোভা হল আল্টিম্যাট উইপন। যাহোক না কেন আর্মড সার্ভিসের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারই ২০১০ থেকে তাদের বাঁচাবে। সামগ্রিকভাবে স্পষ্ট যে, সুপারনোভা হল অফিসিয়ালি একটা নেভি প্রজেক্ট, আর্মি এটা নিয়েছে নিজেদের ডিভাইস তৈরির জন্য, খুব সম্ভবত যে তথ্য তারা ব্যবহার করছে তার সবই পাচ্ছে নেভি প্রজেক্টের ভেতরের সোর্স থেকে।

    কিন্তু কারো কাছে কোনো খাইরিনাম এখন পর্যন্ত নেই, রেস বলল।

    সে কারণে সকলেই এখানে নেমে এসেছে ওই আইডলটার জন্য।

    বেশ, তাহলে সোজাসাপ্টায় আসা যাক, রেস বলল। ধরে নিলাম সুপারনোভা হচ্ছে একটি নেভি প্রজেক্ট, আর্মি গোপনভাবে তাদের নিজেদের ডিভাইস তৈরি করছিল। তাহলে, যখন জানা গেল যে থাইরিয়ামের কথা, এতে করে ফ্রাঙ্ক ন্যাশ এবং স্পেশাল প্রজেক্ট ইউনিটকে কাজ দেওয়া হল, নেভি ওটার খোঁজ পাওয়ার আগেই তারা যেন খোঁজ পায়।

    ঠিক তাই।

    গড ড্যাম, রেস দম নিল। কত উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত যেতে পারেন? ভাবল গতকালকের নিউইয়র্কের রাস্তায় মটর শোভাযাত্রার কথা। ওটা করতে নিশ্চয়ই একজন উচ্চ র‍্যাঙ্কের কারো হাত ছিল।

    সবকিছু করেছে, ফিসফিস করে বলল রেনে, সবটাই ঘটেছে ইউএস আর্মির উচ্চতম পর্যায়ের অফিসারের দ্বারা। এবং এর জন্য সত্যি সত্যি আমি ভীত। আমি কখনোই দেখিনি আর্মিকে এতটা বেপরোয়া হতে। আমি বোঝাতে চাইছি, ঈশ্বর, তাকিয়ে দেখুন এই মিশনটার দিকে। এই মিশালটাই। পুরো বাড়িটাই যেন দৌড়াচ্ছে। যদি আর্মি ওই পাথরটা পেয়ে যায়, রেসের পাশে খালি আসনটার ওপর রাখা আইডলটার দিকে ইশারা করল, তাহলে তারা তাদের ভবিষ্যতের অস্তিত্ব দেখিয়ে দিবে নিশ্চিত। আর এর মানে হল ফ্রাঙ্ক ন্যাশ যে করেই হোক ওটা পেতে চাইবে। যেভাবেই হোক।

    রেস আইডলটা তুলে নিল। ওর হাতের ওপর ওটা চিকচিক করছে, রাপার মাথা যেন গর্জন করছে।

    দুঃখিত মনে ওটার দিকে তাকিয়ে রইল, তাকাল নিচের দিকে নতুন করে পাওয়া একটা গর্তের দিকে।

    তাহলে দেখতে পাচ্ছি সত্যি সত্যিই একটা সমস্যা রয়ে গেছে, তাই না? বলল সে।

    কি সেটা? রেনে জিজ্ঞেস করল।

    এই আইডলটা।

    কি হয়েছে এর?

    দেখ, এই জিনিসটা দেখ, রেস বলল। এই আইডলটা থাইরিয়ামের তৈরি নয়। এই আইডলটা ভুয়া।

    ওটা কী? ঠোক গিলে বলল রেনে।

    নকল? প্রতিধ্বনি তুলল ভ্যান লিওয়েন।

    হ্যাঁ, নকল, রেস নিশ্চিত করল। ভালো করে দেখুন একবার। কালো চকচকে আইডলটা ভ্যান লিওয়েনের দিকে ছুঁড়ে দিল ও। কী দেখছেন?

    কাঁধ ঝাঁকাল বিশালদেহী সার্জেন্ট। ইনকান আইডল দেখতে পাচ্ছি, যেটার জন্যে এখানে আমাদের আসা।

    তাই কি? ঝুঁকল রেস সামনের দিকে, ভ্যান লিওয়েনের বেল্ট থেকে ওয়াটার ক্যানটিনটা টেনে নিল। আমি কি এটা নিতে পারি?

    ছিপি খুলে আইডলের মাথায় কাত করে ধরল ক্যানটিনটা।

    পানি গিয়ে পড়ল রাপার মাথার ওপর, চেহারার ওপর দিয়ে নেমে গেল, তারপর প্লেনের মেঝেতে টপটপ করে পড়তে লাগল।

    তাতে কী হল… বলল ভ্যান লিওয়েন।

    ম্যানুস্ক্রিপ্টে বলা আছে, বলল রেস, আইডলটার গায়ে পানি লাগলে ওটা। থেকে মৃদু একটা গুঞ্জন বেরোবে। এটা থেকে কোনো শব্দ বেরুচ্ছে না।

    তো?

    তার মানে এটা থাইরিয়ামের তৈরি নয়। থাইরিয়ামের তৈরি হলে পানির অক্সিজেনের কারণে অনুরণন তৈরি হত। এটা আসল আইডল হতে পারে না, এটা নকল।

    কিন্তু আপনি জানলেন কখন? জিজ্ঞেস করল রেনে।

    রেস বলল, যখন আমি আইডলটাকে, কেবিন উড়ে যাওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে, ওয়ার্কবেঞ্চ থেকে তুলে নিয়েছিলাম, তারপর ক্যাপসুল থেকে বেরিয়ে কাদা পানিতে এসে পড়লাম। আইডলটাও ভিজে গেল, অথচ একবারও ওটা থেকে কোনো শব্দ বের হয়নি।

    তার মানে নাজিদের সুপারনোভা বিশ্বকে ধ্বংস করতে পারত না? জিজ্ঞেস করল ভ্যান লিওয়েন।

    না, বলল রেস। শুধু আমরা কজন, হয়তো কয়েকশো হেক্টর রেইনফরেস্ট ধ্বংস হত থার্মোনিউক্লিয়ার বিস্ফোরণে। পৃথিবী বহাল তবিয়তেই থাকত।

    এটা যদি থাইরিয়ামের তৈরি না হয়, ভ্যান লিওয়েন জানতে চাইল। কী দিয়ে তৈরি?

    আমি জানি না, বলল রেস। সম্ভবত ভলক্যানিক কোনো পাথর দিয়ে।

    এটা যদি নকল হয়, ভ্যান লিওয়েনের হাত থেকে আইডলটা নিয়ে বলল রেনে তাহলে বানাল কে? এ কাজ কে করতে পারে? ভুলে যাবেন না, জিনিসটা পাওয়া গেছে এমন একটা মন্দিরে, যেটার ভেতরে গত চারশো বছরে কেউ ঢোকেনি।

    কে বানিয়েছে আমি মনে হয় বুঝতে পেরেছি, বলল রেস।

    পেরেছেন?

    মাথা ঝাঁকাল সে।

    কে?

    রেনে এবং ভ্যান লিওয়েন একযোগে জানতে চাইল।

    রেস চামড়া বাইন্ডিং-এর একটা ম্যানুস্ক্রিপ্ট তুলে ধরল হাত উঁচিয়ে, সান্টিয়াগোর আসল ম্যানুস্ক্রিপ্ট, একই ম্যানুস্ক্রিপ্টের জন্য আলবার্তো সান্টিয়াগোর বহু বহু সময় ব্যয় করেছে।

    প্রশ্নটার জবাব হল, সে বলল? এই পাতায় ম্যানুস্ক্রিপ্ট লেখা আছে।

    .

    ছোট্ট সী-প্লেনের পেছনে গা এলিয়ে দিল রেস।

    ভিলকাফোরে ফিরে যাবে তারা একটু পরই। কিন্তু ফিরে যাবার আগে সে আরেকবার ম্যানুস্ক্রিপ্টটা পড়ে ফেলতে চায়। বাকিটুকু শেষ করতে চায়।

    অনেক প্রশ্ন ভিড় করেছে তার মনে। রেনকো নকল আইডল নিয়ে কী খেলা খেলবে এখন, এটাই খোঁচাচ্ছে।

    তারচে বড় কথা, মনের ভেতর ভিড় করছে অন্য ভাবনা।

    মূল আইডলটা কোথায়।

    এমারেল্ড নেকলেসটার কথা মনে পড়ে তার। গলায় যেন ঝুলে আছে সেটা। মনে পড়ে, টেম্পলে পাওয়া কঙ্কালটার কথা।

    রেনকো…

    এমারেল্ড ছেড়ে দিয়ে ভাবনা গুছিয়ে নিচ্ছে রেস। চোখ পরিষ্কার করে নিয়ে মনোযোগ দিচ্ছে ম্যানুস্ক্রিপ্টের যেখান থেকে পড়া শেষ করেছিল, সেখানে।

    আলবার্তো সান্তিয়াগো মাত্র রেনকোর বোন লেনার জীবন রক্ষা করেছে রাপাদের হাত থেকে, লেনা জানিয়ে দিয়েছে রেনকোকে, স্প্যানিয়ার্ডরা দিনের শুরুতেই চলে আসবে ভিলকাফোরে,…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    Next Article জলঙ্গীর অন্ধকারে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }