Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    টেম্পল – ম্যাথিউ রীলি

    হাসান খুরশীদ রুমী এক পাতা গল্প571 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪.২ চারিদিকের পানিতে বিস্ফোরণ

    চারিদিকের পানিতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আলটো পুরাস নদীতে নামল গুজ। সমমালভূমির মাথা থেকে নেমে আসা জলপ্রপাতটা থেকে বেশি দূরে নয়।

    ইতোমধ্যে রাত নেমেছে, গ্রামে রাপার টহলের কথা ভেবে রেস এবং বাকি সবাই সিদ্ধান্ত নিল জলপ্রপাতের কাছেই কোথাও সী-প্লেনটাকে তীরে ভেড়ান হবে, তারপর কোয়েঙ্কো ধরে ফিরবে ওরা প্রাচীন ভিলকাফোরে।

    ডুগী গুজটাকে ঘন ঝোঁপের আড়ালে পার্ক করে চারজন বেরিয়ে এলো ওটা থেকে। ওরা উলিকে প্লেনে রেখে গেল, অচেতন এবং প্লেনের পেছনে পাওয়া মিথাডোনের ডোজ দিয়ে দিয়েছে।

    ওরা যখন জলপ্রপাতের পেছন দিকের পথ ধরে এগিয়ে গেল, যাহোক রেস ওদেরকে অসাধারণ কিছু করিয়ে ছাড়ল।

    ভ্যান লিওয়েন এবং ডগীর পকেটে কিছু এ্যানার্জি বার আছে, গুজের ভেতরে পাওয়া গেছে কাঠের কয়েকটা বাক্স, এগুলোর সাহায্যে প্রিমিটিভ দুর্গের কয়েকটা ফাঁদ তৈরি করা হল। ওদের মাথার উপর গাছের ডালে লাফালাফি করছে একদল বাদর, যদি ধরা যায়।

    দশ মিনিট পর দুটো ফাঁদে ভয়ানক ক্ষিপ্ত দুটো বাদর ধরা পড়ল। ভ্যান লিওয়েন এবং ডুগী নিয়ে যাচ্ছে বাক্স দুটো, সারাক্ষণ চেঁচাচ্ছে ওগুলো। জলপ্রপাতের পেছন দিয়ে এগিয়ে এসে হাঁ করা পাথুরে দরজা দিয়ে কোয়েঙ্কোতে নামল ওরা।

    দশ মিনিট পর ভিলকাফোরের দুর্গে উঠে এলো রেস।

    ন্যাশ, লরেন, কোপল্যান্ড, গ্যাবি লোপেজ এবং জোহান ক্রাউশ দুর্গের এক কোণে জড়ো হয়েছে। তাকিয়ে রয়েছে লরেনের দিকে। রেডিও কন্টাক্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছে ভ্যান লিওয়েন কিংবা ডুগীর সাথে।

    কোয়েঙ্কো থেকে হাতে আইডল নিয়ে রেসকে বেরিয়ে আসতে দেখে সবাই একযোগে ঘাড় ফেরাল।

    ওর পিছু নিয়ে রেনে, ভ্যান লিওয়েন এবং ডুগী দুর্গের ভেতর উঠে এলো। ওদের গায়ে মাথায় প্রচুর শ্যাওলা ও কাদা জমেছে। রেসের চেহারায় এখনো কিছুটা শুকনো রক্ত লেগে রয়েছে হেনরিক অ্যানিসটাজের রক্ত।

    ওর হাতে আইডলটা দেখল ন্যাশ।

    আইডলটা তা হলে নিয়েই এলেন! বলেই রেসের হাত থেকে ছো মেরে আইডলটা এক রকম কেড়েই নিল ন্যাশ।

    তার দৃষ্টি উল্লাসে চকচক করছে।

    ঠাণ্ডা চোখে তাকে দেখছে রেস। আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ও, ন্যাশকে এখনই জানাবে না তার সম্পর্কে কী জানে। তবে তাকে লক্ষ্য রাখবে, দেখবে কী করে সে।

    আসল আইডলটা সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে রেসের সাহায্যে, তবে সেটা যাতে কোনো ভাবেই ন্যাশ না পায় সেদিকটা অবশ্যই দেখবে রেস।

    সত্যি, কী সুন্দর, উল্লসিত গলায় বলল ন্যাশ।

    ওটা নকল, রেস বলল নীরস গলায়।

    হোয়াট?

    ওটা নকল। থাইরিয়ামের তৈরি নয়। আপনাদের নিউক্লিয়োটাইড রেজোন্যান্স ইমেজার অন করুন, দেখবেন এলাকায় এখনো থাইরিয়ামের একটা উৎস আছে। তবে এই আইডলটা সেই উৎস নয়।

    কিন্তু…কীভাবে?

    কুজকো থেকে পালানোর সময়, রেনকো কাঁপাক অপবাধী বাসেরিওকে সঙ্গে নেয় যাতে স্পিরিট অব দ্য পিপল-র একেবার নির্ভুল একটি প্রতিরূপ তৈরি করতে পারে। রেনকো পরিকল্পনা করে যে সে হার্নান্দের কাছে আত্মসমর্পণ করবে এবং নকল আইডলটা তার হাতে তুলে দিবে। সে জানে হার্নান্দো তাকে খুন করবে, কিন্তু সে এও জানত যে একদিন না একদিন হার্নান্দো আইডল হস্তগত করত, সে কখনো সন্দেহ করবে না এটা নকল আইডল।

    এমনটা ঘটছে যখন, যাহোক, তখন রেনকো এবং আলবার্তো সান্টিয়াগো, হার্নান্দো এবং তার লোকজনদের হত্যা করল, আর রেনকো, ম্যানুস্ক্রিপ্টে লেখা অনুসারে, টেম্পলে গিয়ে দুটো আইডলই লুকিয়ে রাখল।

    ন্যাশ নিজ হাতে ধরা আইডলটা চোখের সামনে তুলে ধরলেন, এবং প্রথমবারের মতো দেখলেন আইডলের তলদেশে গোলাকৃতি গর্ত রয়েছে। রেসের দিকে তাকালেন।

    তার মানে আসল আইডলটা টেম্পলের ভেতরে কোথাও না কোথাও আছে?

    এমনটাই তো সান্টিয়াগো ম্যানুস্ক্রিপ্টে লিখেছে, রেস বলল।

    কিন্তু…?

    কিন্তু আমি তাকে বিশ্বাস করি না।

    আপনি তাকে বিশ্বাস করেন না? কেন নয়?

    আপনার এনআরআই মেশিন কি কাজ করছে? লরেনকে রেস জিজ্ঞেস করল।

    হ্যাঁ কাজ করছে।

    সেট করো ওটাকে তারপর তোমাকে দেখাব আমি কি বুঝতে চাইছি।

    ওরা সাথে সাথে দুর্গের খোলা ছাদে চলে গেল, যেখানে লরেন নিউক্লিওটাইড রিজোন্যান্স ইমেজার স্থাপন করছে।

    যখন সে মেশিনটাকে সেট করছিল রেস তখন দূরের গ্রামগুলোর দিকে লক্ষ্য রাখছিল। অন্ধকার, হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল তখনো। দেখতে পেল শহরের ছোট্ট এক দালানের পেছন দিক থেকে বিশাল বড় এক বিড়ালের ছায়া ওর দিকে তাকিয়ে আছে।

    অল্পক্ষণ পরে, লরেন এন আর আই মেশিন প্রস্তুত করে ফেলল। সে একটা সুইচে চাপ দিতেই একটা সিলভারের বড় কুলুঙ্গি ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে চক্রাকারে ঘুরতে শুরু করল ধীরে ধীরে।

    তিরিশ সেকেন্ড পর, একটা তীক্ষ্ণ বীপ শব্দ ভেসে এলো! আর রডের চক্রাকারে ঘোরাটাও থেমে গেল। ন্যাশের হাতে ধরা আইডলটার দিকে তাক করা ছিল না। বরং, ন্যাশের দিক থেকে সরে গিয়ে পাহাড়ের দিকে নির্দেশ করছিল।

    আমি এখন একটা, লরেন বলল। স্ট্রং সিগন্যাল পাচ্ছি, খুবই উচ্চ ক্ষমতার অনুরণনের স্পন্দন পাচ্ছি।

    কো-অরডিনেট কী বলে? রেস বলল।

    ২৭০ ডিগ্রীতে অবস্থান করছে। ২৯ ডিগ্রী ভার্টিক্যাল অ্যাঙ্গেলে, ৫৮ মিনিট। রেঞ্জ ৭৯৩ মিটার। শেষ বারে যেমনটা ছিল, আমি যদি ভুল না করে থাকি, বলল সে রেসের দিকে তাকিয়ে।

    তুমি ঠিকই বলেছ, বলল সে। তুমি এটাও ভেবেছিলে আমরা টেম্পলের ভেতরে ভেবেছিলাম।

    ঠিক…লরেন বলল।

    রেস তার দিকে কঠিন দৃষ্টিতে তাকাল, যেমনটা তাকায় তার চেয়েও কঠিন। বিস্মিত হয়ে ভাবল সে যদি ন্যাশের মতো প্রতারণা করে, সিদ্ধান্ত নিল সে সম্ভবত তাই-ই করেছিল। তুমি কী মনে করতে পার আমরা কেন ওটা টেম্পলের ভেতরে ভেবেছিলাম?

    লরেন ভ্রু কুঁচকাল। মনে আছে, আমরা আগ্নেয়গিরি বেয়ে ওপরে উঠে টেম্পলটা দেখতে পেয়েছিলাম। তারপর আমরা হিসেব করে দেখেছিলাম টেম্পলের অবস্থান এন আর আই-র পথ মিলে যাচ্ছে। তার মানে আইডলটা টেম্পলের ভেতর ছিল।

    ঠিক তাই, রেস বলল। আমরা ঠিক এই কাজটাই করেছি। এবং ঠিক এইভাবেই আমরা ভুলটাও করেছিলাম।

    ওরা দুর্গের ভেতর ফিরে এলো।

    রেস একটা কলম এবং এটিভি-র ভেতর থেকে এক টুকরো কাগজ হাতে নিল। এটিভিটা তখনো দুর্গের মূল ফটকের সামনে পার্ক করা ছিল।

    কোপল্যান্ড, লম্বা রাসভারী বিজ্ঞানীকে ডাকল সে। আপনার কী মনে হয় এই সব যন্ত্রপাতীর ভেতর থেকে একটা সাধারণ ক্যালকুলেটর বের করে দিতে পারবেন?

    আমেরিকান কন্টেইনারের ভেতর একটি খুঁজে পেল কোপল্যান্ড, রেস হাতে তুলে দিল ওটা।

    ধন্যবাদ, রেস বলল, সবাইকে তার কাজ দেখার জন্য ঘিরে দাঁড়াতে সম্মতি দিল।

    কাগজটার ওপর একটা চিত্র আঁকল।

    ওকে, বলল সে। এটা হল ভিলকাফোর আর পাশ থেকে দেখা পশ্চিম দিকের মালভূমি। ঠিক আছে?

    হ্যাঁ, ঠিক আছে, লরেন বলল।

    রেস চিত্রটার ওপর কয়েকটা দাগ টানল।

    আর এটা হল গতকাল আমরা নিউক্লিওটাইড রিজোনেন্স ইমেজারের মাধ্যমে সিদ্ধান্তে গিয়েছিলাম। আইডল থেকে ৭৯৩ মিটার দূরে। ২৯ ডিগ্রী, ৫৮ মিনিট অ্যাঙ্গেলে, কিন্তু আমি এটাকে ৩০ ডিগ্রীতে প্রতিস্থাপিত করব। লক্ষ্যণীয় এই যে, আমরা যখন আগ্নেয়গিরি বেয়ে ওপরে উঠছি এবং টেম্পলটা দেখতে পাচ্ছি, আর সাথে সাথে আমরা টেম্পল সম্পর্কে ভেবে নিচ্ছি যে রিডিং-এর সাথে মিলে যাচ্ছে। ঠিক আছে?

    ঠিক…, ন্যাশ বললেন।

    আমরা ভুল করেছিলাম, রেস বলল। আপনার কি মনে আছে যখন আমরা পাহাড় বেয়ে উঠছিলাম তখন রক টাওয়ারের চারপাশে পেঁচান পথ ধরে তখন লরেন তার ডিজিটাল কম্পাসের মাধ্যমে একটা রিডিং নিয়েছিল?

    অস্পষ্টভাবে মনে আছে, ন্যাশ বললেন।

    আমার মনে আছে। আমরা যখন রক টাওয়ারের উপর উঠে রোপ ব্রিজের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে, লরেন তখন বলেছিল সে রিডিং পাচ্ছিল গ্রাম থেকে ৬৩২ মিটার উচ্চতা।

    তারপর সে আর একটি লাইন টেনে দিয়ে ৭৯৩ মি: পরিবর্তন করল সমকোণী ত্রিভুজের সমকোণের সম্মুখ বাহুর অতিভুজ, ত্রিভুজের সব চাইতে লম্বা বাহু Xm এর পাশে।

    স্কুলের ত্রিকোনমিতির কথা কি মনে আছে সবার? রেস জিজ্ঞেস করল। দুর্গের ভেতর তাকে ঘিরে থাকা প্রত্যেক পদার্থবিদ মাথা ঝকাল সলজ্জভাবে। এটা কোনো নিউক্লিয়ার ফিজিক্স নয়, রেস বলে চলল, কিন্তু এতে ব্যবহার করা হয়েছে।

    ওহু, আমি বুঝেছি… রেস ঘিরে থাকা সমবেত সকলের পেছন থেকে ডুগী বলে উঠল। অন্যরা তা করল না।

    বেস বলল, ত্রিকোনোমিতি ব্যবহার করে, আপনি যদি একটি ডান-কোণের ত্রিভুজের একটি কোণ এবং দৈর্ঘ্য জানতে পারেন তাহলে আপনি সহজেই অন্য দুই বাহুর দৈর্ঘ্য বের করতে পারবেন সাইন, কোসাইন এবং স্পর্শকগুলোর সাহায্যে।

    আপনাদের কী মনে আছে সোকাহটোয়া-র কথা? সাইন একটি কোণ অপর পার্শ্বের দৈর্ঘ্যের সমান এবং অতিভুজের দৈর্ঘ্য দ্বারা বিভক্ত। কোসাইন কোণের পার্শ্ব দৈর্ঘ্যের সমান এবং অতিভুজ দ্বারা বিভক্ত।

    এখানে আমাদের উদাহরণে দেখা যাচ্ছে x হল আমাদের এবং টেম্পলের দূরতু, আমরা কোসাইন ৩০° ব্যবহার করতে পারি। তারপর রেস দেখল :

    cos ৩০° = ৬৩২/ X

    তারপরে, বলর সে,

    X= ৬৩২/ cos ৩০°

    কোপল্যান্ডের দেয়া ক্যালকুলেটরে কয়েকটা নম্বর পাঞ্চ করল।

    এখন ক্যালকুলেটর অনুযায়ী কোসাইন ৩০° হল ০.৮৬৬। সুতরাং x হল ৬৩২ ভাগ ০.৮৬৬। এবং তা হল… ৭২৯।

    রেস তার চিত্রটা পরিস্থিতি অনুযায়ী আবার আঁকল, উত্তেজিতভাবে লিখল। লরেন তার দিকে তাকিয়ে রইল বিস্মিত হয়ে। রেনে শুধু তাকিয়ে রইল।

    কেউ কী দেখতে পেয়েছেন এখানে একটা সমস্যা আছে? রেস বলল।

    সকলেই নীরব রইল।

    রেস শেষবারের মতো তার চিত্রটা আঁকল, শেষ করল একটি X চিহ্ন এঁকে।

    কোপল্যান্ডের দেওয়া ক্যালকুলেটরের বোতাম টিপল সে।

    ক্যালকুলেটরের হিসেবে অনুসারে ৩০°-র কেসাইন হল ০.৮৬৬। অতএব X হল ৬৩২ ডিভাইডেড বাই ০৮৬৬ আর তা হল…৭২৯।

    রেস চিত্রটি ত্রুটিমুক্ত করল, উত্তেজিতভাবে লিখে গেল। লরেন তার দিকে বিক্ষিপ্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। রেনে শুধু তাকিয়ে আছে, ঝুঁকে আছে।

    আমরা একটা ভুল করেছিলাম, বলল সে, আমরা ভেবেছিলাম টেম্পলটা ৭৯৩ মিটার ওপর গ্রাম থেকে, আর আইডলটা ওখানে আছে। ধারণাটা ভালো কিন্তু আসল আইডল ওখানে নেই। টেম্পল ছড়িয়ে আরো কিছুটা দূরে আছে সেটা মালভূমির কোথাও।

    কিন্তু কোথায়? ন্যাশ বলল।

    আমরা ধারণা, বলল রেস, রক টাওয়ারের ওপরে রোপ ব্রিজটা যারা বানিয়েছে, সেই স্থানীয় আদিবাসীদের গ্রামে আইডলটা পাওয়া যেতে পারে। টেম্পল খোখালার সময় আমাদের জার্মান বন্ধুদেরকে ওরাই বোধ হয় আক্রমণ করেছিল।

    কিন্তু ম্যানুস্ক্রিপ্টে কী বলে? জানতে চাইল ন্যাশ। ওটায় না বলা হয়েছে দুটো আইডলই টেম্পলের ভেতর আছে?

    ম্যানুস্ক্রিপ্টে পুরো গল্পটা বলা হয়নি, বলল রেস। আমার ধারণা, আলবার্তো সান্টিয়াগো গল্পের শেষটুকু বানিয়ে লিখেছেন, যাতে কেউ ওটা পড়ে আইডলটার খোঁজ না পায়।

    হাতের কাগজটা উঁচু করে দেখাল ও যাতে সে কিছু চিত্র এঁকেছিল। এই ধরে এগোলে আইডলটা পাবার কথা। আপনাদের এনআরআই তাই বলছে, অঙ্কও তাই বলছে।

    নিচের ঠোঁটটা কামড়াচ্ছে ন্যাশ, চিন্তা করছে। তারপর বলল, ঠিক আছে। চলুন যাওয়া যাক।

    নদীর ধার থেকে ওরা যে বাদর দুটোকে ধরে এনেছে সেগুলো খুশি মনেই হোক বা রেগেমেগেই হোক, প্রচুর পরিমাণে প্রস্রাব সাপ্লাই দিল। ওই প্রস্রাব দুটো বাক্সের ভেতরে রাখা হয়েছে, ঝুলন্ত বাক্সগুলোর নিচে মুখ খোলা প্লাস্টিক ব্যাগ আটকান দুটো ব্যাগই ভরা পাওয়া গেল।

    সেই প্রস্রাব নিজেদের গায়ে মাখল ওরা। তীব্র ঝকাল দুর্গন্ধ, সবারই বমি পাচ্ছে, অ্যামোনিয়ার গন্ধ, দুর্গের ভেতর অসহ্য করে তুলেছে। অবাক হওয়ার কিছু নেই, রাপারা এই গন্ধ সহ্য করতে পারবে না, রেস ভাবল সে এবং অন্যরা তাদের গায়ে এই প্রস্রাব মাখবে।

    গায়ে মাখা শেষ হতেই সবাইকে অস্ত্র যোগান দিল ভ্যান লিওয়েন। সে এবং ডুগী আর দুজন গ্রিন বেরেট বেঁচে আছে—সবাই যেমন জানে বাজ কোচরেন টাওয়ারের মাথায় রয়েছে-ওরা নিল দুটো জি-১১। ন্যাশ, রেস এবং রেনেকে দেওয়া হল এম-১৬ রাইফেল, গ্ল্যাপালিং হুকও দেওয়া হল।

    এখনো কালো নাজি ব্রেস্টপ্লেট পরে আছে রেস, নীল বেসবল ক্যাপ মাথায় নিজের এ্যাপলিং হুকটা বেল্টে আটকে রাখল ও।

    কোপল্যান্ড এবং লরেন পেল একটা করে এস আই জি-সয়ার পি-২২৮ সেমি অটোমেটিক পিস্তল। ক্রাউশ এবং লোপেজ, সাধারণ বিজ্ঞানী, তাদের হাতে কোন অস্ত্র নেই।

    সবাই তৈরি হওয়ার পর দুর্গের দোরগোড়ার দিকে এগোল ভ্যান লিওয়ের। এটিভিতে ঢুকল ও তারপর ওটার পেছন দিকে হেঁটে এসে হ্যাচটা খুলল।

    প্রথমে বাইরে বেরুল জি-১১।

    তারপর ধীরে ধীরে খোলা হ্যাচ থেকে উঁচু করে মাথা বের করল ভ্যান লিওয়েন, সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত হয়ে উঠল চোখ দুটো।

    আট চাকার বড়সড় গাড়িটাকে ঘিরে রেখেছে রাপা।

    প্রকাণ্ড শরীরের পেছনে ঘন ঘন কুণ্ডলী পাকাচ্ছে লেজগুলো। হলুদ চোখে কঠিন ও ঠাণ্ডা দৃষ্টি।

    বারোটা পর্যন্ত গুনল ভ্যান লিওয়েন, রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে আছে, দেখছে ওকে।

    হঠাৎ, কাছের বিড়ালটা নাক ঝাড়ার মতো আওয়াজ করল। প্রস্রাবের গন্ধ পেয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে পিছাতে শুরু করল এটিভি-র কাছ থেকে।

    একের পর এক, বাকি বিড়ালগুলোও তাই করল। অনেকটা পিছিয়ে গিয়ে বড় একটা অর্ধ বৃত্ত তৈরি করল। ঘিরে রাখল আর্মর ভেহিকলটাকে।

    রাস্তায় নেমে এলো ভ্যান লিওয়েন, হাতের অস্ত্র প্রস্তুত, ওর পেছনে বেরিয়ে এলো অন্যরা, রেসও তাদের মধ্যে আছে।

    প্রত্যেকের মতে, সে-ও নড়ল ধীরে ধীরে, সাবধানে, বিড়ালগুলোর দিকে চোখ রেখে হাতের এম-১৬-র ট্রিগারে অঙ্গুল রেখে প্রস্তুত রইল।

    এটা ছিল সত্যি সত্যি উদ্ভুত একটা ব্যাপার, এক রকম দূরে সরে থাকা। মানুষ প্রস্তুত বন্দুক নিয়ে, আর বিড়ালগুলো প্রস্তুত সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক আগ্রাসন নিয়ে। রাইফেল এবং পিস্তল থাকার পরেও রেস নিশ্চিত গুলি করার পরও রাপাগুলো তাদেরকে খুব সহজেই মার্টিতে শুইয়ে দিতে পারবে।

    কিন্তু বিড়ালগুলো হামলা করল না।

    এটা এমন যেন, অদৃশ্য একটা পাঁচিল মানুষদের রক্ষা করছে, যে পাঁচিলটাকে টপকাতে স্রেফ রাজি হচ্ছে না রাপাগুলো। তার বদলে রেস ও অন্যদেরকে নিরাপদ দূর থেকে অনুসরণ করছে। নদীর কিনারা ঘেঁষা পথ ধরে সামনে এগোচ্ছে সমান্ত রাল দুটো রেখা ধরে।

    ক্রাইস্ট, কত বিশাল বিশাল সাইজের, কালো বিড়ালগুলোর মাঝখান দিয়ে হাঁটার সময় রেস ভাবছে।

    শেষবার রাপাগুলোকে দেখেছিল রেস কাঁচ লাগান হামভির জানালার ভেতর থেকে। কিন্তু এই মুহূর্তে ওর আর ওগুলোর মধ্যে কোনো জানালা কিংবা দরজা নেই। দ্বিগুণ বড় দেখাচ্ছে ওগুলোকে। ওগুলোর নিঃশ্বাস ফেলার আওয়াজ পাচ্ছে সে। আলবার্তো সান্টিয়াগো যেভাবে বর্ণনা করেছেন অনেকটা ঘোড়ার মতো, বুকের গভীর থেকে সশব্দে উঠে আসছে অনেকটা সময় নিয়ে।

    আমরা ওগুলোকে গুলি করছি না কেন? ফিসফিস করে বলল কোপল্যান্ড।

    এত তাড়াতাড়ি সে ধরনের কিছু করব না আমরা, জবাবে ভ্যান লিওয়েন বলল, এই মুহূর্তে আমাদেরকে খুন করার ইচ্ছেটা পূরণ করতে পরছে না ওরা, বাদরের প্রস্রাব অস্থির করে রেখেছে ওগুলোকে। এখন যদি ফায়ার ওপেন করি, ব্যাপারটা উল্টো হয়ে দাঁড়াবে, প্রস্রাব অপছন্দ করার চেয়ে অনেক বেশি জোরাল হয়ে উঠবে খুন করার ইচ্ছেটা।

    আটজনের দলটা দুরু দুরু-বুকে নদীর পথ ছেড়ে মালভূমির সরু প্যাসেজ থেকে গহ্বরের নিচে বেরিয়ে এলো, দূরত্ব বজায় রেখে রাপাগুলো অনুসরণ করে যাচ্ছে।

    সামনে অগভীর লেক তার মাঝখান থেকে উঁচু হয়ে আকাশ ছুঁতে চাইছে রক টাওয়ারটা। ক্যানিয়ানের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে সরু, কিন্তু অস্বাভাবিক লম্বা জলপ্রপাত বিরতিহীন ঝরছে।

    এখন বৃষ্টি হচ্ছে না, পূর্ণ চাঁদ গহ্বরের ভেতরে প্রচুর নীলচে আলো ঢেলে দিয়েছে ফলে আশ্চর্য রহস্যময় লাগছে পরিবেশটা।

    ভ্যান লিওয়েনের নেতৃত্বে পাচান পথ ধরে উপরে উঠছে ওরা আটজন।

    রাপার দলও উঠছে তবে সতর্ক ও আড়ষ্ট ভঙ্গিতে। গাঢ় কালো মাথা ও বিরাট আকারের কানের জন্য শয়তানের মতো লাগছে ওগুলোকে, যেন উঠে আসছে নরক থেকে, তৈরি হয়ে আছে ওদের কেউ একজন পা ফেলতে ভুল করলেই সাঁৎ করে মুখে তুলে নিয়ে নেমে যাবে গহ্বরের তলায়। তবে বাদরের প্রস্রাবের দুর্গন্ধটা শেষ পর্যন্ত দূরে সরিয়েই রাখল ওগুলোকে।

    অবশেষে জোড়া নিচু পাঁচিলের কাছে পৌঁছাল ওরা, একসময় যেগুলো রোপ ব্রিজটাকে ধরে রেখেছিল।

    রোপ ব্রিজটা এখন লেকের ওপারে, টাওয়ার পাঁচিলের গায়ের সঙ্গে সেঁটে ঝুলে রয়েছে, ঠিক যেখানে ফেলে রেখে গেছে নাজিরা।

    চোখ তুলে টাওয়ারের মাথায় তাকাল রেস। আহত বাজ কোচরেনকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।

    তারপরেও রক টাওয়ারে পৌঁছানোর কোনো উপায় নেই, তাই বোকার মতো এখানে দাঁড়িয়ে না থেকে, প্যাচান পথ ধরে ওদেরকে নিয়ে আরো উপরে উঠে যাচ্ছে ভ্যান লিওয়েন।

    ঘোরাপথ বেয়ে উঠছে ওরা, দক্ষিণ-পশ্চিম কোনের জলপ্রপাতটাকে পেছন দিয়ে পাশ কাটাল। এরপর হঠাৎ করে খুব বেশি খাড়া হয়ে গেছে পথটা, সেটা ধরে গরটার কিনারায় উঠে এলো ওরা।

    পশ্চিম দিকে তাকিয়ে আন্দেজ পর্বতমালার চূড়াগুলো দেখতে পেল রেস, রাজকীয় ভঙ্গিতে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে, রাতের আকাশে বসান ত্রিভুজাকৃতীর গাঢ় ছায়া। ওর দিকে ছোট একটা পুকুর, ক্ষীণ জলপ্রপাতকে খোরাক যোগাচ্ছে, পাশেই ঘন রেইনফরেস্টের একটা অংশ।

    ওর সামনে মেঠো একটা পথ, নিয়মিত ব্যবহারে ঢলের সৃষ্টি হয়েছে। সবুজ জঙ্গলের দিকে চলে গেছে।

    কিন্তু পথটা নয়, সরু পথের দুপাশে পড়ে থাকা জিনিস দুটো রেসের দৃষ্টি কেড়ে নিল। কাদায় গাঁথা কাঠের একজোড়া দণ্ড।

    প্রতিটি দণ্ডের মাথায় একটা করে মাথার খুলি আটকানো।

    বন্দুকের ব্যারেলের ওপর লাগান ফ্ল্যাশ লাইটের আলোর রেস দৃশ্যটা দেখে ঠাণ্ডায় জমে গেল।

    এর চেয়ে রোমহর্ষক দৃশ্য আর কিছু হতে পারে না, কারণ দণ্ডের গায়ে তাজা রক্ত দেখা যাচ্ছে, ঝুলে আছে মাংসের ফালিও। আকৃতিও অদ্ভুত, অবশ্যই মানুষের নয়। তার বদলে উভয় খুলি অদ্ভুতভাবে চওড়া, তীক্ষ্ণ দাঁত, তেকোনা নাক এবং বড় বড় দুই অক্ষিগোলক।

    ঢোক গিলল রেস।

    বিড়ালের খুলি ওগুলো।

    রাপার খুলি।

    .

    এ প্রিমিটিভ কিপ আউট সাইন, বললেন ক্রাউশ, লাঠির মাথায় আটকান খুলি দুটোর দিকে তাকিয়ে আছে।

    আমার মনে হয় না লোকজনকে দূরে সরিয়ে রাখাটা উদ্দেশ, বলল গ্যাবি লোপেজ, কাছাকাছি গিয়ে একটা খুলি শুকল। প্রস্রাবের গন্ধ পাচ্ছি আমি। তার মানে রাপাগুলোকে তাড়ানোর জন্যে এগুলো এখানে রাখা হয়েছে।

    খুলি দুটোকে পাশ কাটিয়ে ঘন জঙ্গলে ঢুকে পড়ল ভ্যান লিওয়েন। রেস এবং অন্যরা তার পেছনে। সবার হাতের ফ্ল্যাশলাইট পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

    খুলি দুটোকে পেছনে দেখে আরো তিরিশ গজ এগিয়ে চওড়া একটা পরিখার সমনে পৌঁছুল ভ্যান লিওয়েন এবং রেস, এ-ধরনের একটা পরিখা ভিলকাফোর শহরকেও ঘিরে রেখেছে।

    দুটো পরিখা শুকনো আর এর মধ্যে পার্থক্য, প্রথমতঃ পরিখার মতো শুকনো নয় এটা। বরং পানিতে পূর্ণ পরিখার কিনারা থেকে পানির সারফেস পনেরো ফুট নিচে। দ্বিতীয়তঃ অস্বাভাবিক বড় আকৃতির একদল কেইমান রয়েছে পানিতে।

    গ্রেট, পরিখার তলায় দৈত্যাকার কেইমানগুলোকে টহল দিতে দেখে বলে উঠল রেস। আবার কেইমান।

    আরেকটা ডিফেন্সিভ মেকানিজম? জিজ্ঞেস করল রেনে।

    এদিকে কেইমানই একমাত্র প্রাণী, যেগুলো দু-তিনটে একসঙ্গে আক্রমণ করলে হয়তো রাপাগুলোর সঙ্গে লড়ে জিততে পরবে, ক্রাউশ বলল। আদিম মানুষের কাছে রাইফেল কিংবা ট্রিপ ওয়্যার ছিল না, তাই হিংস্র প্যান্থার জাতীয় শত্রুকে দূরে সরিয়ে রাখার জন্যে বিকল্প ব্যবস্থা নিত তারা।

    পরিখার সামনে নিচে জঙ্গলের মতো আরেকটা জঙ্গল দেখতে পেল রেস। তারপর চোখে পড়ল, বড় একটা গাছের তলায় কয়েকটা কুঁড়েঘর।

    ছোট একটা গ্রাম হবে।

    জঙ্গলের বিস্তৃতিটুকু গ্রাম ও পরিখার ঠিক মাঝখানে। প্রিমিটিভ যুগের কুঁড়েঘরগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অদ্ভুত ভাবে গা ছমছমে উঁচু লাঠির মাথায় মশাল জ্বলছে, কমলা আভায় ডুবিয়ে রেখেছে গ্রামটাকে। ওই মশালগুলো ছাড়া পরিত্যক্ত বলে মনে হল গ্রামটা।

    একটা ডাল ভাঙার শব্দ হল।

    ঘুরে দাঁড়াল রেস, সঙ্গে সঙ্গে একপাল রাপা দেখতে পেল, দশগজ দূরে কাদা ভর্তি পথের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। বাঁদরের প্রস্রাবে ভেজান খুলিগুলোকে যেভাবে হোক পাশ কাটিয়ে এসেছে ওগুলো, রেস এবং তার দলবলের পেছনে পৌঁছে দাঁড়িয়ে পড়েছে, দেখছে অপেক্ষা করছে।

    পরিখার গ্রামের দিকটার কাঠের একটা সরু ব্রিজ রয়েছে। একদিকের মাথায় একপ্রস্ত রশি বাঁধা, অনেকটা রক টাওয়ারের রোপ ব্রিজের মতো। পরিখার উপর দিয়ে ওদের দিকে চলে এসেছে ওটা মার্টিতে গাঁথা একটা পাথরের সঙ্গে জড়ান।

    ভ্যান লিওয়েন এবং ডুগী রশিটা ধরে টানছে, লগ-ব্রিজ পজিশনে চলে এলো ওটার উপর দিয়ে এখন গ্রামে যাওয়া যাবে।

    ওরা আটজন ব্রিজটা পার হল এবং গ্রামকে ঘিরে থাকা গাছপালার ভেতর প্রবেশ করল।

    পরিখা পার হয়ে এসেই ব্রিজটা টেনে নিল ভ্যান লিওয়েন এবং ডুগী, ফলে এখন আর রাপাগুলো ওদের পিছু নিয়ে এপারে আসতে পারবে না।

    জঙ্গলের ভেতর থেকে সবাই একসঙ্গে চওড়া চৌরাস্তার মতো একটা ফাঁকা জায়গায় বেরিয়ে এলো ওরা। পাতায় ছাওয়া কুঁড়েঘর ও চারিদিকে গাছপালার উপর ফ্ল্যাশ লাইটের আলো ফেলল।

    চৌরাস্তার উত্তর দিকে বাঁশ দিয়ে তৈরি একটা খাঁচা দেখা যাচ্ছে, সেটার পায়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে গাছের চারটে মোটা কাণ্ড। খাঁচার সামনে, পরিখার মার্টির পাঁচিল কেটে প্রায় ত্রিশ ফুট লম্বা এবং পনেরো ফুট গভীর একটা গর্ত রয়েছে। কঞ্চি দিয়ে বানান একটা গেট গর্ত ও পরিখাটাকে আলাদা করে রেখেছে।

    শহরের চৌরাস্তার ঠিক মাঝখানের জিনিসটার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করল সবার।

    কোনো ধরনের পুণ্য স্থান বলে মনে হল। কাঠের বড়সড় একটা বেদির মতো কাঠামো, সম্ভবত গ্রামের সবচেয়ে চওড়া গাছের কাণ্ড কেটে বের করা হয়েছে।

    ওটা ফাটল এবং চোরাকুঠুরীতে পূর্ণ। চোরাকুঠুরীর ভেতরে প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের একটা সংগ্রহ দেখল রেস—মণিমুক্ত বসান সোনার মুকুট, রুপো ও সোনার তৈরি ইনকান যোদ্ধা ও তরুণীদের ছোট আইডল নানা ধরনের পাথরের আইডল, বিরাট একটা রুবি। রুবিটা মানুষের মুঠি সমান হবে।

    আধো অন্ধকারেও জ্বলজ্বল করছে জায়গাটা, সোনা ও রুপোগুলোর গায়ে লেগে প্রতিফলিত হচ্ছে চাঁদের আলো। চারপাশের ঝুলে থাকা গাছের পাতা ওটার দুপাশে থিয়েটারের পরদার মতো ঝুলে আছে।

    পুণ্যস্থানের ঠিক মাঝখানে সবচেয়ে অলঙ্কিত তাকটা দেখল ওরা। তাক-এর মুখ ছোট পরদা দিয়ে ঢাকা এবং অবশ্যই পুনস্থানের মূল আকর্ষণ ওটা। ভেতরে কী আছে দেখা যাচ্ছে না।

    চোখ পড়তেই ওটার দিকে ছুটল ন্যাশ। রেস জানে কী ভাবছে সে। হ্যাচকা টান দিয়ে, পরদাটা সরিয়ে ফেলল ন্যাশ।

    এবং সে দেখল। রেসও দেখল, তারপর ঢোক গিলল।

    ওই তো আইডলটা।

    আসল আইডল।

    জনগণের আত্মা।

    আইডলটার দিকে দম বন্ধ করে তাকিয়ে আছে রেস। প্রথমেই যে চিন্তাটা ওর এলো তা হল, চমৎকার আইডলটা তৈরি করেছে বাসেরিও, তার নকল আইডল একেবারে নিখুঁত। তবে যতই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে থাকুক বাসেরিও আসল আইডলটাকে ঘিরে যে জ্যোতি আছে সেটা ফুটিয়ে তুলতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে সে।

    ওটা জাঁকজমকপূর্ণ আইডলস্বরূপ।

    রাপার হিংস্র মাথাটা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। কালো-ও-রক্ত বেগুনি থাইরিয়াম পাথর মনে বিস্ময়ের সৃষ্টি করছে। সব মিলিয়ে আইডলটা ভয়ের সঙ্গে শ্রদ্ধাও জাগাচ্ছে।

    হাত বাড়িয়ে তাকে রাখা আইডলটা ধরতে যাবে ন্যাশ, ঠিক সেই সময় পাথরের তৈরি তীরের একটা মাথা দেখা গেল তার মাথার পাশে।

    তীরটা রয়েছে রাগে আগুন হয়ে ওঠা একজন আদিবাসীর ধনুকে পরান, নিশ্চিদ্র পর্দার মতো পাতার আড়াল থেকে এইমাত্র বেরিয়েছে সে, ধনুকের ছিলাটা টান দিয়ে নিয়ে গেছে নিজের কানের পাশে।

    জি-১১ তুলল ভ্যান লিওয়েন, আর তখনই তার চারপাশের জঙ্গল যেন জ্যান্ত হয়ে উঠল, তারার ঝোঁপঝাড় ভেঙে বেরিয়ে এলো আরো অন্তত পঞ্চাশজন আদিবাসী।

    তাদের প্রায় সবার হাতের তীরে-ধনুক রেস এবং অন্যাদের দিকে তাক করা।

    .

    ভ্যান লিওয়েন এখনো হাতের অস্ত্র নামায়নি। ডুগীও নামায়নি। কয়েক গজ দূরে দাঁড়িয়ে নিশ্চুপ।

    আড়ষ্ট একটা পরিস্থিতি। ফায়ার ওপেন করলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিশজন লোককে মেরে ফেলতে পারে ভ্যান লিওয়েন। আদিবাসীদের সংখ্যা কমপক্ষে পঞ্চাশজন, তীরে ছোঁড়ার জন্য তৈরি।

    রেস ভাবছে, ওরা দলে অনেক। এমন কি, ভ্যান লিওয়েন যদি কয়েকজনকে ফেলতেও পারে তাতে লাভ নেই। আদিবাসীরা ওদের সবাইকে হত্যা করবে।

    ভ্যান লিওয়েন, বলল রেস। না…।

    সার্জেন্ট ভ্যান লিওয়েন, বেদির পাশ থেকে ন্যাশ বললেন এবার। তীরটা। এখনো তার মাথায় পাশে স্থির হয়ে আছে। অস্ত্র নিচু করো।

    নির্দেশটা পালন করল ভ্যান লিওয়েন, নিচু করল হাতের অস্ত্র। সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে এলো আদিবাসীরা, সবার কাছ থেকে আমেরিকান হাই পাওয়ারও অস্ত্র কেড়ে নিচ্ছে।

    একজন বয়স্ক লোক, মুখে কাঁচা-পাকা লম্বা দাড়ি, শরীরের চামড়ায় ভাঁজ, সামনে এগিয়ে এলো। তার সঙ্গে তীর-ধনুক নেই। তাকেই সম্প্রদায়ের সর্দার বলে মনে হল।

    সর্দারের পাশে চলে এলো আরেক লোক এবং দেখার সাথে সাথে অবিশ্বাস দৃষ্টিতে পিটপিট করল রেস।

    এই দ্বিতীয় প্রবীণ লোকটি মোটেও আদিবাসী নয়, সামান্য বেঁটে ও অত্যন্ত শক্ত-সমর্থ একজন ল্যাটিন আমেরিকান। রোদে পুড়ে বিবর্ণ হয়ে গেছে গায়ের চামড়া, কাপড়চোপড় পরে আছে ইন্ডিয়ানদের অনুকরণে, কিন্তু মুখে নানা রকম গাঢ় রঙ মাখা সত্ত্বেও লোকটি তার অভিজাত শহুরে চেহারাটাকে লুকাতে পারেনি।

    পুণ্যস্থানের সমানে দাঁড়ান ন্যাশের দিকে এমন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সর্দার, যেন একটা চোরকে হাতেনাতে ধরে ফেলেছে, ঘড়ঘড়ে গলায় নিজের ভাষায় কী যেন বলল সে।

    তার পাশ থেকে ল্যাটিন-আমেরিকান ভদ্রলোক কথাগুলো মন দিয়ে শুনল, তারপর জবাবে কিছু পরামর্শ দিল।

    হাম্প, বলল সর্দার।

    রেনেকে পাশে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রেস, ওদের দুজনকে ঘিরে রেখেছে। পাঁচজন আদিবাসী তীরন্দাজ।

    তাদের মধ্যে হঠাৎ একজন এগিয়ে এলো, কৌতূহলী হাত বাড়িয়ে রেসের গাল স্পর্শ করল, যেন পরীক্ষা করছে আসল কিনা।

    মাথাটা ঝাঁকি দিয়ে দ্রুত পেছন দিকে সরিয়ে নিল রেস।

    এরপর ইন্ডিয়ানটা অদ্ভুত আচরণ শুরু করল, হতচকিত হয়ে চেঁচামেচি শুরু করে দিল, সবাই ঘাড় ফেরাল তার দিকে। ছুটে সর্দারের সামনে চলে গেল সে, তারস্বরে চেঁচাচ্ছে, রুমায়া। রুমায়া।

    সঙ্গে সঙ্গে রেসের সামনে চলে এলো সর্দার, শ্বেতাঙ্গ উপদেষ্টা তার পেছনে রেসকে ঠাণ্ডা দৃষ্টিতে খুঁটিয়ে দেখল বুড়ো, তার আরেক পাশ থেকে সেই লোকটা রেসের বাম চোখের দিকে আঙুল তুলে আবার চিৎকার জুড়ে দিল, রুমায়া। রুমায়া।

    অকস্মাৎ রেসের চিবুকটা খপ করে ধরে মশালের দিকে ফেরাল সর্দার।

    রেস বাধা দিল না।

    ওর বাম চোখের নিচে পিরামিড আকৃতির জন্মদাগটা দেখল সর্দার। তারপর আঙুলের মাথা দিয়ে চেপে চেপে ঘষল, যেন পরীক্ষা করছে তুলে ফেলা যায় কিনা। গেল না।

    রুমায়া… দম ছাড়ল সে।

    ল্যাটিন-আমেরিকান উপদেষ্টার দিকে ফিরে কুইচুয়ান ভাষায় কী যেন বলছে সে। বিড়বিড় করে জবাব দিল উপদেষ্টা, জবাব শুনে মাথা নাড়ল সর্দার, তারপর হাত তুলে চারকোনা আকৃতির গর্তটাকে দেখাল, যেটা পরিখার পাঁচিল কেটে তৈরি করা হয়েছে।

    তারপর ঘুরে দাঁড়াল সে, গলা চড়িয়ে নিজ সম্প্রদায়ের উদ্দেশে কিছু নির্দেশ দিল।

    ইন্ডিয়ানরা দ্রুত সবাইকে গাছপালার ভেতরে রাখা বাঁশের তৈরি খাঁচাটার দিকে নিয়ে যাচ্ছে, শুধু রেসকে বাদে।

    রেসকে নিয়ে যাচ্ছে, পরিখা সংলগ্ন মার্টির গর্তের দিকে।

    হাঁটার গতি বাড়িয়ে ল্যাটিন-আমেরিকান উপদেষ্টা রেসের পাশে চলে এলো।

    হ্যালো, রেসকে অবাক করে দিয়ে ইংরেজিতে বলল সে, বাচনভঙ্গিতে আঞ্চলিক টান।

    হাই, বলল রেস। আপনি আমাকে বলতে পারেন ঠিক কী ঘটছে এখানে?

    এখানকার এই লোকজন প্রাচীন ইনকান গোষ্ঠীর সরাসরি বংশধর। তারা বলছে, আপনি সূর্যের চিহ্ন বহন করছেন। ওই জন্মদাগটা, আপনার বাম চোখের নিচের দিকে। ওরা ধারণা করছে আপনি হয়তো ওদের ত্রাণকর্তা হিসেবে দ্বিতীয়বার অবতীর্ণ হয়েছেন, যে অবতারকে তারা নির্বাচিত একজন হিসেবে চেনে। তবে নিশ্চিত হওয়ার জন্যে আপনাকে তারা পরীক্ষা করবে।

    এবং কীভাবে ওরা আমাকে পরীক্ষা করবে?

    ওরা আপনাকে পানি ভর্তি ওই গর্তটায় নামিয়ে দেবে, তারপর খুলে দেবে গেট, গর্ত ও পরিখাটাকে যা আলাদা করে রেখেছে, ওই গেট দিয়ে মাত্র একটা কেইমানকে গর্তে ঢুকতে দেয়া হবে। তারপর ওরা দেখতে চায় মুখোমুখি সংঘর্ষে কে জিতে আসলে, ভবিষ্যদ্বাণী করা

    আমি জানি, বলল রেস। ব্যাপারটা আমার পড়া আছে। ভবিষ্যদ্বাণীতে বলা হয়েছে, সূর্যের চিহ্ন বিশেষ্ট নির্বাচিত একজন বিরাট গিরগিটির সঙ্গে লড়াই করে জিতবে, এবং রক্ষা করবে জনগণের আত্মাকে।

    ভদ্রলোক রেসের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকল। আপনি কি অ্যানথ্রোপলজিস্ট?

    একজন লিঙ্গুইস্ট। সান্তিয়াগোর ম্যানুস্ক্রিপ্ট আমি পড়েছি।

    ভুরু কোঁচকালেন লোকটা। আপনারা জনগণের আত্মা নিয়ে যেতে এসেছেন?

    আমি নই। ওরা, বলল রেস। ইঙ্গিতে ন্যাশকে দেখিয়ে দিল, ইতোমধ্যে ওদেরকে বাঁশের খাঁচায় ভরে ফেলা হয়েছে।

    কিন্তু কেন? টাকার হিসেবে তো কিছুই দাম নেই–

    জিনিসটা উল্কার পাথর কেটে বানান হয়েছে, বলল রেস। এখন জানা গেছে ওই উল্কাটা ছিল বিশেষ ধরনের একটা পাথরের তৈরি।

    ও, লোকটা বলল।

    আপনি কে? জানতে চাইল রেস।

    ও, হ্যাঁ, সত্যি আমি দুঃখিত, নিজের পরিচয় দিতে একদম ভুলে গেছি, বলল লোকটা, শিরদাঁড়া খাড়া করে। আমি ডক্টর মিগুয়েল মোরোস মারকুয়েজ। পেরু ভার্সিটির একজন আপলোজিস্ট আর গত নয় বছর ধরে এই আদিবাসীদের সঙ্গে আছি।

    .

    এক মিনিট পর রেসকে ঠেলে দেওয়া হল সল্প ঢালু পথে, যা কাদায় নেমে গেছে।

    পথের দুপাশে মার্টির উঁচু পাঁচিল, সামনে কাঠের একটা ছোট গেটের সামনে রেস আসতেই খুলে গেল সেটা, উপরের জমিনে দাঁড়ান দুজন ইন্ডিয়ান টেনে নিয়েছে ওটাকে। গেট পেরিয়ে সাবধানে গর্তটার দিকে এগোল ওরা কেইমান ভর্তি পরিখার দিকে।

    গর্তটা প্রায় চতুর্ভজ, লম্বা-চওড়ায় ত্রিশ ফুটের মতো।

    তিন দিকে মার্টির উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। চতুর্থ দেয়ালটার একদিকের পুরোটা দৈর্ঘ্য জুড়ে বাঁশ দিয়ে তৈরি বিরাট গেট দেখা যাচ্ছে। বাঁশগুলোর ফাঁক দিয়ে বাইরের পরিখায় গাঢ় ঢেউ দেখতে পাচ্ছে রেস।

    অরো একটা খারাপ দিক হল, গর্তটার মেঝেতে কাদার উপরে কালো পানি জমে আছে। এই পানি বাইরের পরিখা থেকে বাঁশের গেট পার হয়ে বাধাহীনভাবে আসতে পারছে। রেস যেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেখানেও যথেষ্ট পানি, প্রায় হাঁটু সমান। গর্তের অন্যান্য অংশের গভীরতা জানা নেই।

    এটা একেবারে নতুন পরিস্থিতি। এই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়লে তুমি কি করতে?

    এই সময় বাঁশের তৈরি গেটের একটা চৌকো অংশ, গেটের সঙ্গে আরেকটা গেট, টান দিয়ে উপর দিকে তুলতে শুরু করল গর্তের মাথায় দাঁড়ান দুজন ইন্ডিয়ান। পরিখা ও কেইমানদের গর্তটার মাঝখানে একটা ফাঁক তৈরি হল।

    ছোট গেটটাকে ধীরে ধীরে উপরে উঠে যেতে দেখছে রেস, ভীত দৃষ্টিতে ফাঁকটা ক্রমশ বড় হচ্ছে। এক মুহূর্ত পর পরিস্থিতি চরম পর্যায় পৌঁছে গেল, থামল এবং তারপর দীর্ঘ নীরবতা নেমে এলো চারপাশে।

    গর্তের কিনারায় সার বেঁধে দাঁড়ান আদিবাসীরা ঝুঁকে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে, একটা কেইমানের প্রবেশের অপেক্ষায় রইল।

    অস্ত্রের খোঁজে নিজের পকেটগুলোয় হাত চাপড়াল রেস। এখনো জিনস ও টি শার্ট পরে রয়েছে ও, পরে রয়েছে উলির দেওয়া কেভলার ব্রেস্টপ্লেট এবং অবশ্যই তার চশমা এবং ইয়াঙ্কি বেসবল টুপি মাথায়।

    ওর কাছে কোনো অস্ত্র নেই, শুধু বেল্টের সঙ্গে গ্রাপলিং হুকটা ঝুলছে।

    রেস ওটা আঁকড়ে ধরল। সঙ্গে লম্বা একপ্রস্থ রশি রয়েছে, এই মুহূর্তে রুপালি রঙের চারটে মোড়া অবস্থায় রয়েছে, হুকের হাতলের গায়ে সেঁটে আছে বন্ধ ছাতার আদলে।

    ওটার দিকে তাকিয়ে এক মুহূর্তে চিন্তা করল রেস। গর্ত থেকে উপরে ওঠার কাজে লাগতে পারে।

    এই সময় বড়সড় কিছু একটা খোলা গেট দিয়ে পিছলে ঢুকে পড়ল গর্তের ভেতরে।

    স্থির হয়ে গেল রেস।

    চার ভাগের তিন ভাগই বোধ হয় পানিতে ডোবা, তারপরও প্রকাণ্ড লাগছে ওটাকে।

    পানির উপর ওটার চোখ, নাকের ফুটো ও প্রতিরক্ষা আবরণসহ পিঠ দেখতে পাচ্ছে রেস, সবগুলো একই গতিতে পানি কেটে এগিয়ে আসছে। লম্বা লেজটা অলস ভঙ্গিতে এপাশ-ওপাশ ঝাঁপটাচ্ছে। ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে।

    ওটা কেইমান এবং সাইজটাও বিশাল।

    আঠারো ফুটের মতো হবে।

    গর্তের ভেতর পুরোপুরি চলে এসে সরীসৃপটা, বাঁশের তৈরি গেটটা পেছনে দিকে নেমে এসে বন্ধ হয়ে গেল এবং গর্তটা চারিদিক থেকে আটকে গেল।

    এখন শুধু রেস আর ওই কেইমান।

    মুখোমুখি।

    গুড গড়…

    প্রকাণ্ড জন্তুটার সামনে থেকে সরে দাঁড়াল রেস, তারপর পিছিয়ে এসে চৌকো গর্তটার এক কোণে থামল, হাঁটু দুটো পানিতে ডুবে আছে।

    স্থির হয়ে আছে কেইমানটা, একচুলও নড়ছে না।

    ক্রোকোডাইলের মতো দেখতে জন্তুটাকে এমন কী রেসের উপস্থিতি সম্পর্কে সচেতন বলে মনে হচ্ছে না।

    রেসের বুকের ভেতরে হৃৎপিণ্ড লাফাল, শব্দ শুনতে পাচ্ছে।

    কাথাম্প, কাথা, কাথাম্প।

    এখনো নড়ছে কেইমানটা।

    রেস স্থির আইডল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকল, কোণটায়।

    এবং তারপর হঠাৎ, সতর্কতা ছাড়াই, কেইমানটা নড়তে শুরু করল।

    তবে নড়াটা দ্রুত কিছু নয়। সামনের দিকে ছুটে আসেনি, কিংবা লাফ দেয়নি রেসকে লক্ষ্য করে। ডুব দিল কাদা পানির নিচে, ধীরে ধীরে, শান্ত ভঙ্গিতে।

    রেসের চোখ বড় হয়ে উঠল।

    হলি সিট।

    কেইমানটা সম্পূর্ণ ডুবে গেছে! ওটাকে এখন দেখতে পাচ্ছে না ও! চাঁদের নিলচে নরম আলো ছাড়াও ইন্ডিয়ানদের মশাল থেকে কাঁপা কাঁপা কমলা আলো আসছে, সেই আলোয় পানির সারফেসে ছোট ছোট ঢেউ ছাড়া আর কিছু দেখতে পাচ্ছে না ও।

    নীরবতা নেমে এলো।

    ঢেউগুলো মার্টির দেয়ালে বাড়ি খেয়ে নরম শব্দে ছলকাচ্ছে।

    রেসের শরীরের সমস্ত পেশি টানটান, কেইমানকে আবার দেখার জন্য অপেক্ষা করছে সে। এ্যাপলিং হুকটাকে খাটো লাঠির মতো করে ধরে আছে।

    পানির সারফেস স্থির হয়ে আছে।

    সম্পূর্ণ নীরবতা।

    রেস শুধু অনুভব করতে পারল তার ভেতর ভয় অনুভূত হচ্ছে।

    ভাবছে একটা কেইমান কতক্ষণ পানির নিচে থাকতে পারে—

    হামলাটা হল বাম দিকে থেকে, রেস যখন তাকিয়ে আছে ডান দিকে।

    পানির বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ওর পাশে ভেসে উঠল কেইমানটা, হাঁ করা চোয়াল চওড়া হয়ে আছে। দুই টনের বিশাল শরীরটা ঘূর্ণি খেল বাতাসে।

    রেস দেখল সরীসৃপটা সঙ্গে সঙ্গে ডাইভ দিল একপাশে, সারফেসে পড়ে পানি ছলকাল, উঠে আবার ওকে পাশ কাটাল কেইমান, ঝপাৎ করে পানিতে পড়ে আবার ডুব দিল।

    টলমল শরীর নিয়ে উঠে দাঁড়াল, রেস ঘুরল, কেইমানটা বিদ্যুৎবেগে লাফ দিচ্ছে দেখে সৎ করে সরে গিয়ে ডাইভ দিল আবার, ওর মুখের সামনে জোরাল আওয়াজের সঙ্গে বন্ধ হল সমস্ত চোয়াল।

    কাদায় সারা শরীর মাখামাখি হয়ে গেছে রেস। সেদিকে পাত্তা দিল না। মার্টির পাচিলের পাশে পানির উপর মাথা তুলে আবার দাঁড়াল ও, কিন্তু ঘুরতেই দেখতে পেল ওর মাথা লক্ষ্য করে লাফ দিতে যাচ্ছে কেইমানটা।

    নিচু হল রেস, পানির নিচে ঢুকে গেল মাথা। ওর উপর দিয়ে উড়ে গেল জন্তুটা। গর্তের ভেতর মার্টির দেয়ালে আছড়ে পড়ল ওটা। প্রথমে আঘাত করল নাকটা।

    মার্টির উপর মাথা তুলতেই ইন্ডিয়ানদের তুমুল উল্লাসধ্বনি শুনতে পেল রেস। সিধে হওয়ার পর দেখল আগের চেয়ে গভীর পানিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে, এ্যপলিং হুকে আটকান রশিটা তুলে ফেলছে ও।

    মুখ তুলে গর্তের কিনারার দিকে তাকাল সে।

    পনেরো ফুট, তার বেশি নয়।

    এখনো কোমর সমান পানিতে দাঁড়িয়ে আছে রেস। রশিটা খোলার সময় নিজের চারপাশে দ্রুত চোখ বুলাচ্ছে, দেখতে চাইছে কোথায় আছে কেইমানটা।

    দেখতে পাচ্ছে না।

    গর্তের কোথাও নেই।

    ওটা আবার পানির নিচে চলে গেছে…..

    চারপাশের পানি দেখছে রেস ভীত চোখে।

    ওহ শিট…ও ভাবল।

    এবং পর মুহূর্তে সে প্রচণ্ড গতির আঘাত অনুভব করল, তার পায় ব্যথাটা গোড়ালি থেকে বিদ্যুৎবেগে ছড়িয়ে পড়ল। এবং পরমুহূর্তে পানির নিচে নামিয়ে দেওয়া হল ওকে।

    চোখ মেলল রেস, কালো পানির ভেতর দিয়ে তাকিয়ে দেখল কেইমানটা ওর বাম পা মুখের ভেতরে আটকে রেখেছে।

    তবে আটকানোটা যুৎসই হয়নি, খাটো করে ধরার জন্য চোয়ালে একটু ঢিল দিচ্ছে।

    এটুকুই দরকার ছিল। ঢিল অনুভব করা মাত্র রেস টেনে নিল পা এবং কেইমানের মুখ বন্ধ হল, ভেতরে পা নেই।

    পানির উপর মাথা তুলল রেস, গ্র্যাপলিং হুকের রশিটা ওর পিছু নিয়ে আসছে বাতাসের জন্য হাঁস-ফাস করছে।

    পিছু নিয়ে আসছে কেইমানটাও এ্যাপলিং হুকের রশিটা দেখতে পেয়ে কামড় দিল সেটায়, সঙ্গে সঙ্গে কেটে গেল রশি ভারসাম্য হারিয়ে রেস আছড়ে পড়ল পানিতে।

    কেইমানটাকে এড়াবার জন্য তাড়াতাড়ি অগভীর পানির দিকে এগোচ্ছে রেস। কিন্তু ঘাড় ফেরাতেই দেখল পাশ থেকে ছুটে আসছে ওটা, সারি সারি দাঁত ভর্তি মুখটা খোলা। বাঁচার আর কোনো উপায় দেখতে না পেয়ে এ্যাপলিং হুকটা সামনের দিকে গুঁজে দিল রেস, ওর গোটা ডান হাতসহ সরাসরি কেইমানের হাঁ করা মুখের

    প্রকাণ্ড সরীসৃপের চোয়াল দুটো ঠিক যখন পরস্পরের সঙ্গে বাড়ি খেয়ে বন্ধ হতে যাচ্ছে, এ্যাপলিং হুকের হাতলে বসান রিলিজ বাটনে চাপ দিল রেস।

    ঠিক তখন, ক্ষুরের মতো ধারাল কেইমানের দাঁত রেসের বাইসেপে কামড় বসাতে যাওয়ার আধ সেকেন্ড আগে, ইস্পাতের তৈরি এ্যাপলিং হুকের চোখা নখরগুলো বাইরের দিকে খুলে গেল ক্ষিপ্রতার সাথে।

    কেইমেনের মাথাটা যেন বিস্ফোরিত হল।

    একজোড়া ইস্পাতের নখর ওটার দুটো আই সকেট ফুঁড়ে বেরিয়ে এসেছে। এবং সেই মুহূর্তে দুটো চোখই অক্ষিকোটর থেকে বেরিয়ে এসেছে। ছুটে ইস্পাতের নখর দুটো অক্ষিকোটরের জায়গায় স্থান নিয়েছে।

    গ্র্যাপলিং হুকের অন্য দুটো দাঁড়া বিস্ফোরিত হল কেইমানের মাথার ভেতরে, নরম চামড়া চিড়ে সহজেই ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল।

    দুটো দাঁড়া সরীসৃপের চোখের সকেটের ভেতর দিয়ে মগজে প্রবেশ করেছিল বলেই বিশাল বড় এই জন্তুটাকে খুব সহজেই হত্যা করা গেছে, চোয়াল থেমে গেছে। অর্ধেক খোলা অবস্থায়। এখন রেস গর্তের ভেতর বসে আঠারো ফুট লম্বা একটি বিশাল কেইমান ডান হাতে ধরে বসে আছে, ওঠার তেকোণা মুখটা ঝুলে আছে ওর দেখতে পাওয়া হাতের ওপর, ওর চামড়া থেকে জন্তুটার দাঁত মিলিমিটার দূরে, ওটার বিশাল কালো শরীরটা গর্ত থেকে বেরিয়ে এসেছে, নিথর নড়ছে না।

    গর্তের কিনারায় দাঁড়ান আদিবাসীরা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে।

    এবং তারপর, ধীরে ধীরে, শুরু হল হাততালি।

    ইন্ডিয়ানদের তুমুল করতালি ও হর্ষধ্বনির মধ্যে গর্তটা থেকে উঠে এলো রেস। সবার মুখে নোংরা হলদে দাঁত বের করা হাসি।

    খাঁচা খুলে ন্যাশ এবং অন্যদের মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে, গ্রামের চৌরাস্তায় তাদের সঙ্গে মিলিত হল রেস।

    মাথা ঝাঁকাল ভ্যান লিওয়েন ওর কাছে আসার পর।

    ঠিক কী করলেন বলুন তো? খাঁচার ভেতর থেকে আমরা তো কিছুই দেখতে পাইনি।

    আমি শুধু একটা বিশাল বড় সরীসৃপকে মেরেছি, সোজাসাপ্টা বলল রেস।

    অ্যানথ্রোপলজিস্ট মারকুয়েজ এগিয়ে এসে রেসের দিকে তাকিয়ে হাসলেন। ওয়েল ডান, স্যার! ওয়েল ডান! আপনার নামটা যেন কী বলেছিলেন?

    উইলিয়াম রেস।

    আনন্দ করুন, মিস্টার রেস। এই মাত্র আপনি এদের ঈশ্বর হলেন।

    .

    জন-পল ডিমোনাকোর সেলুলার বেজে উঠল।

    ডিমোনাকো এবং নেভি ইনভেস্টিগেটর, মিশেল, তখনো ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত ডারপার হেডকোয়ার্টারে ছিলেন। মিশেল অন্য একটি ফোনে কথা বলছিল।

    বলে দাও ওটা এসেছে বিটটেকারের কাছ থেকে… ডিমোনাকো ফোনে বলল। হঠাৎ তার চেহারাটা ফ্যাকাশে হয়ে উঠল। এক্ষুনি বান্টিমোর পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে ফোন করে তাদেরকে বল ওখানে এই মুহূর্তে বোম স্কোয়াড পাঠাতে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমি ওখানে আসছি।

    ডিমোনাকো ফোন রাখার সাথে সাথে মিশেল তার পাশে এলো।

    অ্যারোনসন ফোন করেছিল, নেভিম্যান বলল। ওরা ফ্রিডম ফাইটার লোকেশনে রেইড দিয়েছে। কিছুই পায় নি। খালি?

    কিছু মনে করো না, ডিমোনাকো কথাটা বলেই দরজার দিকে এগিয়ে গেল।

    কি ব্যাপার? তার দিকে দৌড়ে যেতে যেতে মিশেল বলল।

    বান্টিমোর থেকে এইমাত্র একটা কল পেলাম। আমাদের টেক্সাস ইনফরমেন্টগুলোর একটা থেকে সে কল করেছে। বলল সে বড়সড় একটা কিছু পেয়েছে।

    নব্বই মিনিট পর, ডিমোনাকো এবং মিশেল এসে পৌঁছল বাল্টিমোরের ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেকশনের একটি জরাজীর্ণ পুরানো গুদামঘরে।

    তিনটি পুলিশ ক্ৰজার, একজোড়া পরিষ্কার চওড়া বইক-এফবিআই গাড়ি আর একটির গায়ে বোম্ব স্কোয়ার্ড বিশাল বড় নেভি ভ্যান দালানটার বাইরে আগে থেকেই পার্ক করা ছিল।

    ডিমোনাকো এবং মিশোল গুদামঘরে ঢুকল, সিঁড়ি ভেঙ্গে উপরে উঠল।

    জায়গাটার মালিক হল উইলবার প্রান্সিজ জেমস, যাকে ব্লুই নামে চেনে। সকলেই, ডিমোনাকো বলল। আর্মিতে রেডিও অপারেটরের চাকরি করত, কিন্তু অফিস থেকে ইকুইপমেন্ট চুরির দায়ে চাকরি যায়–এম-১৬-র ফ্রিকুয়েন্সি স্কোর। তখন সে ছোটখাটো অসৎ কাজ করে থাকে যেমন টেক্সান এবং নির্দিষ্ট ক্রিমিনালদের সাথে, যারা অস্ত্র এবং তথ্য সবরাহ করে থাকে, তাদের সাথে যোগাযোগ ঘটিয়ে দেয়। দুমাস আগে আমরা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলি তিনটি চুরি যাওয়াও ভিএর নার্ভ গ্যাসের কৌটাসহ কিন্তু আমরা তাকে বলি ও যদি আমাদের হয়ে কাজ করে তাহলে তার বিপক্ষে কোনো চার্জ গঠন করা হবে না। তারপর থেকে সে খুব বিশ্বস্ত ছিল।

    ওরা এসে পৌঁছল ওয়েরহাউসের ওপরে অপ্রশস্ত ছোট্টখাটো একটি অ্যাপার্টমেন্টে, পাহারা দিচ্ছিল দুজন বান্টিমোর বিট পুলিশ। ভেতরে গেল ওরা। নোংরা দুর্গন্ধময়, সেঁতসেঁতে মেঝে আর ওয়ালপেপার খসে পড়া অ্যাপার্টমেন্ট।

    ডিমোনাকো মিলিত হল হ্যানসন এবং বান্টিমোর পুলিশ ডিপার্টমেন্টের বম্ব স্কোয়াডের লিডার বারকারের সাথে, লোকটা ছোটখাট কুঁজো।

    ব্লুই জেমস হাত দুটো ক্রস করে রেখে ঘরের এক কোণে বসেছিল। দৃঢ়তার সাথে ভুসভুস করে সিগারেট টানছিল। ছোটখাটো শেভ না করা বেঁটে মানুষ সে, মাথার চুল বিশ্রী রকমের বাদামী, গায়ের হাওয়াইয়ান শার্ট। মোজা পায়ে স্যান্ডেল পরেছে।

    কি পেয়েছ? হ্যানসনকে জিজ্ঞেস করল ডিমোনাকো।

    আমরা যখন এসে পৌঁছলাম, কিছুই পেলাম না, ব্লুই জেমসের দিকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল তরুণ এজেন্ট। কিন্তু আরো খোঁজাখুঁজির পর একসময়ে আমরা এটা পেয়েছি।

    হ্যানসন ছোট বই-এর আকৃতির মতো একটা প্যাকেজ তুলে দিল ডিমোনাকের হাতে। বাদামী কাগজে মোড়া, খোলা হয়নি। ওটার সাথে সাধারণ দেখতে একটি এ্যানভেলাপ ছিল, ওটা খোলা হয়েছে।

    দেয়ালের ফন্স প্যালেসে লুকান ছিল, হ্যানসন বলল।

    ডিমোনাকো ব্লুই-র দিকে ফিরে তাকাল। ভালো উদ্ভাবনী শক্তি, বলল সে। তুমি বুড়ো বয়সে আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠবে, ব্লুই।

    ধাক্কা দিয়েছে।

    এক্স-রে? ডিমেননকো জিজ্ঞেস করল বারকারকে।

    পরিষ্কার, বোম স্কোয়াডের লোকটা বলল। স্ক্যানে মনে হল ভেতরে সিঁড়ি কিংবা অন্য কিছু আছে।

    ব্লুই জেমস ঘোঁতঘোত করে উঠল। আমার জানা ছিল না তাই দেশে কেউ সিডি কিনলে অপরাধ হবে। তারপরেও ডিমোনাকো তোমাকে এই ধরনের কথাই শুনতে হবে।

    কি তোমার পছন্দনীয়, ভঙ্গুর হৃদয়ের ব্যাখ্যা? ডিমোনাকো বলল, সাদা এনভেলাপের দিকে তাকাল, ভেতর থেকে একটা কাগজ বের করে আনল। পড়ল :

    আমাদের হাতে যখন থাইরিয়াম চলে আসবে, আমি তোমার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করব। আমার কল পাওয়ার পর এই ডিস্কের ভেতরের পুরো কন্টেনটাই ই-মেইল করে পাঠিয়ে দিবে প্রতিটি অর্গানাইজেশনে।
    –বিটটেকার

    এরপরেই একনজরে মতো নাম এবং ঠিকানার লম্বা লিস্ট দেওয়া হয়েছে, সবগুলোই প্রায় টেলিভিশন নেটওয়ার্ক অথবা চ্যানেল, সিএনএন, এবিসি, এনবিসি, সিবিএস, ফক্স।

    ডিমোনাকো তার হাতের বাদামী কাগজে মোড়া প্যাকেটটা উল্টে দেখল। দেশের বেশির ভাগ টেলিভিশন নেটওয়ার্কে ই-মেইল কি পাঠাতে চায় আর্ল বিটটেকার?

    প্যাকেটের মোড়কটা ছিঁড়ে ফেলল।

    দেখল ভেতরে একটা চকচকে সিলভারের ডিস্ক রয়েছে।

    প্রথমেই সে লক্ষ্য করে দেখতে পেল ওটা কোনো সাধারণ সিডি নয়।

    ওটা একটা ভিসিডি, ভিডিও কম্পেক্ট ডিস্ক।

    ঘুরে তাকাল। ব্লুই, এসব কি?

    দ্য বেস্ট অব বিলি রে সাইরাস। শুধুমাত্র তোমার জন্য।

    ডিমোনাকো, মিশেল বলল, রুই-র ট্রিনিট্রন টেলিভিশনের ওপরে ভি-সিডি প্লেয়ারটা ইশারায় দেখাল। টিভি-র পাশেই একটা কালো আইবিএম কম্পিউটার। এই তিনটি জিনিসিই প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত অ্যাপার্টমেন্টে একেবারেই বেমানান।

    ডিমোনাকো ভিসিডি প্লেয়ারে একটা ডিস্ক ঢুকিয়ে দিয়ে প্লে বাটনে চাপ দিয়ে দিল।

    সাথে সাথে আর্ল বিটটেকারের চেহারাটা ভেসে উঠল টেলিভিশন স্ক্রিনে।

    বিশ্রী এবং শয়তানের মতো চেহারা, চেহারায় কাটা দাগ এবং ঘৃণা স্পষ্ট। বিটটেকারের আরক্তিম অন্তসারশূন্য চেহারা আর মাথায় দড়ির মতো পাকান সোনালি চুল এবং ঠাণ্ডা ছাইরঙা চোখ দেখে কিছুই মনে হয় না তবে যত ক্রোধ এবং বিদ্বেষ ওই চেহারার আড়ালে লুকিয়ে আছে। ডিমোনাকো এবং মিশেল টেররিস্টের পেছনে সুপারনোভাটাকে দেখতে পেল।

    ক্যামেরার লেন্সের দিকে তাকিয়ে সরাসরি কথা বলছে বিটটেকার।

    বিশ্ব মানব জাতিকে বলছি, আমার নাম আর্ল বিটটেকার, আর আমি একজন এ্যান্টি-ক্রাইস্ট।

    আপনারা এই ম্যাসেজটা দেখলেই জানতে পারবেন আপনি মারা যাবেন। আজ ঠিক দুপুর ১২টার সময়, ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম, আপনি মারা যাবেন আপনারই দেয়া ট্যাক্সে তৈরি অস্ত্রের হাতে। এই অস্ত্রটি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই বিশ্রী পৃথিবীকে সেখানে নিয়ে যাবে যেখানে থাকার কথা ছিল।

    বিশ্বের মানবজাতিকে বলছি, আপনাদের সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। যে বিশ্বে আপনারা বাস করছেন আমি সেই বিশ্বটাকে ঘৃণা করি। সেই বিশ্ব বেশিদিন অস্তিত্ব থাকা উচিত নয়। অনেকটা রোগাক্রান্ত কুকুরের মতো, তাকে শেষ করে ফেলা উচিত।

    এ অবস্থার জন্য আপনারা বিশ্বের সরকারগুলোকে দায়ী করতে পারেন। কমিউনিস্ট, ক্যাপিটালিস্ট আর ফ্যাসিস্টদের মতে, আপনারা সবাই ফুলে ফেঁপে উঠছেন যখন আপনাদের শাসনে থাকা লোকগুলো না খেয়ে থাকে। আপনারা সবাই ধনী হচ্ছেন যখন তারা আরো গরিব হচ্ছে, আপনারা থাকেন প্রাসাদে আর তারা বস্তিতে।

    মানুষের স্বভাবই হচ্ছে আরেকজন মানুষের ওপর শাসন করতে চাওয়া। এটা অনেক ধরন, অনেক রূপে আসে, অফিস পলিটিক্স থেকে শুরু করে জাতিগত বিচ্ছিন্নতা পর্যন্ত, আর আমরা সবাই এটা করি, যুক্তরাষ্ট্রের নিচু ফোরম্যান থেকে শুরু করে চিফ এক্সিকিউটিভ পর্যন্ত। কিন্তু এর বৈশিষ্ট্য একই থাকে। এটা শক্তি আর শাসন নিয়ে। কিন্তু এটা পৃথিবীর একটা ক্যান্সার আর এ ক্যান্সারটা অবশ্যই এখন দূর করতে হবে।

    টেলিভিশনে যারা এ খবর দেখছেন, নেভি বা ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সি-এর সাথে যোগাযোগ করুন আর জিজ্ঞেস করুন তাদের সুপার নোভার কি হয়েছে। তাদের এর অস্তিত্ব আর উদ্দেশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন। তাদের সতেরোজন সিকিউরিটি স্টাফের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন। আমার লোকেরা ভার্জিনিয়ার ডারপা হেডকোয়ার্টারে আক্রমণের সময় যারা নিহত হয়েছে। আমি নিশ্চিত কেউ এ ঘটনা সম্পর্কে আপনাদের জানায়নি, কারণ আজকাল সরকারগুলো এভাবেই কাজ করে। সব কিছু করার পর, আপনাদের সরকারকে জিজ্ঞেস করুন তারা এই জিনিসটা_ সে তার পেছনের যন্ত্রটা দেখালো খুঁজছে কিনা।

    বিটটেকার কঠিনভাবে লেন্সটার দিকে তাকাল।

    দুনিয়ার লোকেরা, আমি আপনাদের কাছে কোনো দাবি জানাচ্ছি না। আমি কোনো মুক্তিপণ চাচ্ছি না। আমি চাচ্ছি না কোনো রাজনৈতিক বন্দী কারাগার থেকে মুক্তি পাক। আমাকে কখনোই নয়। এটা ঘটন থামাতে আপনারা কিছুই করতে পারবেন না। আজ দুপুর বারোটায়, আমরা একসাথে নরকে যাচ্ছি।

    স্ক্রীন কালো হয়ে গেল।

    বিটটেকারের মাত্র বলা কথাগুলো হজম করায় একটা দীর্ঘ নীরবতা নেমে এলো। এমনকি ব্লুই জেমসও আতঙ্কিত।

    হায় ঈশ্বর… সে শ্বাস ফেলল।

    খুব চালাক, ডিমোনাকো বলল। সে শুধু বিস্ফোরণ ঘটানোর সময় বলেছে। দুপুর বারোটা। এখন তাকে শুধু থাইরিয়াম খুঁজে পেতে হবে আর ব্লুইর সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে আর তার পরিকল্পনা রাখতে হবে ঠিক।

    মিশেলের মুখোমুখি হল। আমার ধারণা আমরা তোমাদের সুপারনোভা খুঁজে পেয়েছি, কমান্ডার। তারপর ব্লুইকে বলল, আমাকে কী অনুমান করতে হবে তুমি এখনো ফোন পাওনি?

    তোমার কি ধারণা?

    তুমি এ সম্পর্কে কতটুকু জানো, ব্লুই? ডিমোনাকো তার গলার স্বর বদলে বলল।

    যতটুকু সব সময় জানি, জ্যাক শিট।

    যদি আপনি আমাকে এখনি কিছু না বললেন, তাহলে আমি যুক্তরাষ্ট্রের সতেরোজন সিকিউরিটি স্টাফকে হত্যায় সাহায্য আর প্ররোচনার জন্য আপনার বিরুদ্ধে চার্জ আনতে যাচ্ছি।

    আরে, ভাই, তুমি কী শোননি? পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এখন আবার সাহায্য আর প্ররোচনা কি?

    আমার ধারণা সব কিছু নির্ভর করছে আপনি কাকে এ যুদ্ধে বিজয়ী ভাবছেন, আমাদের নাকি বিটটেকারকে।

    বিটটেকার, ব্লুই সহজভাবে বলল।

    তাহলে মনে হচ্ছে পৃথিবীর শেষ কয়েকটা ঘণ্টা আপনার জেলে কাটছে, ডিমেননাকো বলল, দরজার পুলিশ দুজনের দিকে মাথা ঝাঁকালো। এ ছোট্ট বেজিটাকে এখান থেকে নিয়ে যাও।

    পুলিশ দুজন ব্লুইর দুই হাত ধরল।

    ওহ, এক মিনিট অপেক্ষা কর… ব্লুই বলল।

    দুঃখিত, ব্লুই।

    আচ্ছা ঠিক আছে, শুনুন! হত্যার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই, ঠিক আছে। আমি শুধু মধ্যস্থতাকারী, ওকে? আমি বিটিটেকারের পক্ষ থেকে ডিল করছি। একজন ল-ইয়ারের মতো। আমি যেটা বলব সেটা খুব সহজ নয় যেহেতু সে এখন অপর প্রান্ত থেকে সরে যাচ্ছে।

    সে অপর প্রান্ত থেকে সরে যাচ্ছে? ডিমোনাকো পুলিশ দুজনকে সরে যেতে ইশারা করল।

    অনেকটা এরকমই। আপনি কোথায় ছিলেন? প্রথমে সে জঘণ্য পাগলদের একটা পুরো দলকে টেক্কানদের সাথে যোগ দিতে দিয়েছে। জাপানিদের, বজ্জাত জাপানিদের। এ ছোট হারামজাদাগুলোকে আপনার দেখা উচিত। উন্মাদ কামিকাজি। তারা জাপানের কোন উন্মাদ গোষ্ঠী থেকে এসেছে। এরা পৃথিবীকে ধ্বংস করতে চায়। কিন্তু আল্লা, এদের কথাবার্তা পছন্দ করে আর এদের আন্দোলনে যোগ দিতে দেয়। কিন্তু তারপর, সে সবচেয়ে অদ্ভুত কাজটা করল, সে ফ্রিডম ফাইটারদের সাথে এক হল।

    কি?

    তাদের কারিগরি দক্ষতা পাবার জন্য। ঐ ফ্রিডম ফাইটারগুলো একদল উন্মাদ, কিন্তু এরা টেকনোলজি বুঝে। আমি ভি-সিডিতে দেখানো ম্যাসেজটার কথা বলছি। আপনার কী মনে হয় আমি এটা কিনে এনেছি?

    টেক্সানরা ফ্রিডম ফাইটারদের সাথে মিলেছে… ডিমোনাকো বলল। হোলি শিট।

    ব্লুই তখনো চিৎকার করছিল। শালা জাপানিরা। এখানে আসার পর থেকে, এ পাগলগুলো আলাকে বলছে যদি সে পৃথিবী উড়িয়ে দিতে চায়, তার গুরুতর কোন যন্ত্র দরকার। কোন বন্দুক পিস্তল নয়, বরং বোমা। পারমাণবিক অস্ত্র। আর তারপর যখন তারা সুপারনোভা জিনিসটা খুঁজে পেল…

    কিন্তু ডিমোনাকো আর শুনছিল না।

    সে মিশনের দিকে ঘুরল। টেক্সানরা ফ্রিডম ফাইটারদের হজম করে ফেলেছে। একারণেই তোমার বস অ্যারনসন ফ্রিডম ফাইটারদের এলাকায় কাউকে পায়নি। তাদের আর অস্তিত্ব নেই। ঈশ্বর, বিস্ময়ের কিছু নেই তারা টাংস্টেন বুলেট ব্যবহার করেছে। অস্তিত্বহীন একটা সন্ত্রাসী দলের চিত্র দাঁড় করিয়ে তারা সময় নিয়েছে। টেক্সান আর ফ্রিডম ফাইটাররা কোনো সন্ত্রাসী দলের সাথে যুদ্ধ করছে না। তারা এক সাথে মিলে গেছে…

    তুমি কি বলছ? মিশেল বলল।

    আমি বলছি আমরা মাত্রই দুনিয়ার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর তিনটা সন্ত্রাসী দলের ঐক্য দেখেছি। একটা চমৎকারভাবে শংখলিত যোদ্ধা দল, দ্বিতীয়টা সম্ভবত আমেরিকার প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে সবচেয়ে অগ্রসরমান প্যারা মিলিটারি দল। আর তৃতীয়টা জাপানের একটা আত্মঘাতী কেয়ামতকারী দল।

    আপনি সবগুলো যোগ করুন, ডিমোনাকো বলল, আর এক সাগর সমস্যার মাঝে হাবুডুবু খাবেন, কারণ এরা আপনার সুপারনোভা চুরি করেছে, আর মাত্র দেখা ভিডিওটা থেকে আমরা বুঝতে পারছি, তারা এখন থাইরিয়াম পাবার চেষ্টা করছে।

    .

    পাহাড়ের পাদদেশে ভোরের আলো ফুটতেই বিরাট খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন শুরু হয়ে গেল।

    কেইমানকে পরাজিত করার পর ক্লান্তির জন্য ইন্ডিয়ানদের আনন্দ উৎসবে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয় বলে একটা আবেদন জানিয়েছে রেস, বলেছে ওর বিশ্রাম দরকার। টানা একটা ঘুম দিলঈশ্বর, ঘুম দরকার ওর, প্রায় ছত্রিশ ঘণ্টা ঘুমায়নি সে চোখ খুলল ঠিক ভোর হওয়ার আগে।

    ওর সামনে যে খাদ্য সম্ভার সাজান হয়েছে তা শুধু একজন রাজার জন্যই মানানসই হতে পারে। জঙ্গলের এমন কোনো ফল নেই যেগুলো সবুজ চওড়া পাতায় ওর জন্য পরিবেশন করা হয়নি। এমনকী কেইমানের খানিকটা কাঁচা মাংসও। দেখতে পেল সে। ঝিরঝিরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, তবে তা কেউ গ্রাহ্য করছে না।

    গ্রামের পুণ্যস্থানের সামনে, খোলা জায়গায় বৃত্তাকারে বসানো হয়েছে রেস আর জঙ্গলের যোদ্ধাদের খাওয়া-দাওয়া করছে, আর কাঠের উঁচু ঘর থেকে আইডলটা দেখছে ওদেরকে।

    আদিবাসীরা ওদের সবার অস্ত্র ফিরিয়ে দিলেও, পরিবেশে খানিকটা সন্দেহের ভাব এখনো রয়ে গেছে। একডজন কিংবা সেরকম ইন্ডিয়ান যোদ্ধা সতর্ক ভঙ্গিতে বৃত্তের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে, হাতের তীর-ধনুক প্রস্তুত। বিশেষভাবে ন্যাশ ও তার লোকজনের উপর কড়া নজর রাখছে তারা।

    রেস বসেছে গোত্র প্রধান ও অ্যানথ্রোপলজিস্ট মিগুয়েল মোরোস মারকুয়েজের সঙ্গে।

    আপনি দয়া করে আমাদের কাছে এসেছেন, সেজন্যে সর্দার রোয়া আপনার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন, বুড়ো সর্দারের বক্তব্য অনুবাদ করে শোনাল মারকুয়েজ।

    হাসল রেস। চোর থেকে এক লাফে উঠে এসেছি সম্মানিত মেহমানে।

    তারচেয়েও বেশি, বলল মানকুয়েজ। তারচেয়ে অনেক বেশি। কেইমানটাকে আপনি হারাতে না পারলে আপনার সব কজন সঙ্গীকে নিরস্ত্র অবস্থায় রাপাদের সামনে পরিবেশন করা হত। এখন আপনার সঙ্গে ওরাও সম্মান ও খাতির-যত্ন পাচ্ছেন।

    ওরা আসলে আমার বন্ধু নয়, রেস বলল।

    অ্যানথ্রোপলজিস্ট মারকুয়েজের মুখোমুখি বসেছে গ্যাবি লোপেজ, একটা জ্যান্ত কিংবদন্তির সামনে উপস্থিত থাকতে পারার উত্তেজনা অনুভব করছে সে। পেরুতে ওদের প্রথমদিনেই রেসকে মারকুয়েজ জানিয়েছিল, নয় বছর আগে আদিম আমাজন ট্রাইব স্টাডি করার জন্য জঙ্গলে ঢোকার পর থেকে অ্যানথ্রপলজিস্ট মারকুয়েজ আর ফিরে আসেনি। ডক্টর মারকুয়েজ, বলল সে, প্লিজ, এই ট্রাইবটা সম্পর্কে বলুন আমাদের। নিশ্চয়ই এখানে আপনার বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছে।

    হাসল মারকুয়েজ। তা আর বলতে। এই ইন্ডিয়ানরা সত্যি আশ্চর্য মানুষ, গোটা দক্ষিণ আমেরিকায় শুধু এদেরকেই আগে কেউ কখনো দেখেনি। যদিও আমাকে বলেছে কয়েকশো বছর হল এই গ্রামে বসবাস করছে ওরা, আসলে এলাকার আর সব ট্রাইবের মতো এরাও যাযাবর। ছয় মাস কিংবা এক বছরের জন্যে প্রায়ই গোটা গ্রাম অন্য কোথাও উঠে যায়, খাবারের সন্ধানে কিংবা আরো একটু উষ্ণ আবহাওয়া পাবার আশায়। তবে এই গ্রামটায় সব সময় ফিরে আসে ওরা। ওরা বলে এই এরিয়ার সঙ্গে ওদের কী একটা নাকি যোগাযোগ আছে, সম্পর্ক আছে রক টাওয়ারের মাথায় টেম্পলের ওর রাপা ঈশ্বরদের সঙ্গে।

    জনগণের আত্মাটা ওরা পেল কীভাবে? জানতে চাইল রেস।

    দুঃখিত। আপনার প্রশ্নটা আমি বুঝতে পারলাম না।

    সান্টিয়াগোর ম্যানুস্ক্রিপ্টে বলা হয়েছে, বলল রেস, রাপাগুলোকে টেম্পলের ভেতর বন্দি করার জন্যে রেনকো কাঁপাক আইডলটাকে ব্যবহার করেছিল। রাপাগুলোর সঙ্গে বন্ধ টেম্পলের ভেতরে সে নিজেও রয়ে যায়। এই ইন্ডিয়ানরা কি পরে কোনো এক সময় টেম্পলে ঢুকে আইডলটা বের করে এনেছে?

    রেসের প্রশ্ন অনুবাদ করে গোত্র প্রধান রায়াকে শোনাল মারকুয়েজ। মাথা নেড়ে দ্রুত কুয়েচুয়েন ভাষায় কিছু বলল সর্দার।

    সর্দার রোয়া বলছেন, রাজকুমার রেনকো ছিল অত্যন্ত সাহসী ও বুদ্ধিমান মানুষ, নির্বাচিত একজনের কাছ থেকে ঠিক যেমনটি আশা করা হয়। সর্দার আরো জানাচ্ছেন, এই গোত্রের লোকেরা সরাসরি তাঁর বংশধর হিসাবে বিশেষ গর্ব অনুভব করে।

    সরাসরি বংশধর? জিজ্ঞেস করল রেস। কিন্তু এর মানে হল টেম্পল থেকে বেরিয়েছিল রেনকো…

    হ্যাঁ, তাই তো মনে হয়, জবাব দিল মারকুয়েজ, সর্দারের বক্তব্য তরজমা করছে।

    কিন্তু কী করে? জানতে চাইল রেস। টেম্পল থেকে বেরুল কীভাবে সে?

    ওর প্রশ্ন শুনে একজন ইন্ডিয়ান যোদ্ধার উদ্দেশে হুঙ্কার ছাড়ল সর্দার রোয়া। ছুটে একটা কুঁড়েতে ঢুকল লোকটা। কয়েক সেকেন্ড পরেই বেরিয়ে এলো সে, ছোট কী যেন একটা রয়েছে হাতে।

    লোকটা ফিরে এসে সর্দারের পাশে দাঁড়িয়ে তার হাতের জিনিসটা দেখতে পেল রেস। চামড়া দিয়ে বাধান একটা নোটবুক। বাধাইটা প্রাচীন তবে দেখে মনে হল বহুকাল স্পর্শ করা হয়নি বইটা।

    বলতে শুরু করল সর্দার। তরজমা করল মারকুয়েজ।

    মিস্টার রেস, রোয়া বলছেন আপনার প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে খোদ টেম্পলের নির্মাণ-শৈলিতে। হার্নান্দোর সঙ্গে রেনকো এবং আলবার্তোর বিখ্যাত লড়াইয়ের পরে, হ্যাঁ, আইডল নিয়ে রেনকো টেম্পলে ঢুকেছিল বটে। তবে এ-ও সত্যি যে আইডলটা নিয়ে আবার সে বেরিয়ে আসতে পেরেছিল। টেস্পলে ঢোকার পর কী ঘটেছিল তার সবটুক বর্ণনা আপনি এই বইয়ে পাবেন।

    সর্দারের হাতে ধরা নোটবুকটার দিকে তাকাল রেস। সে আকুলভাবে জানতে চাইছিল ওটার ভেতরে কি আছে।

    সর্দার ছোট্ট নোটবুকটা রেসের দিকে বাড়িয়ে দিল।

    সর্দার রোয়া এই বই আপনাকে উপহার হিসেবে দিচ্ছেন, বলল মারকুয়েজ। হাজার হোক গত চারশো বছরে আপনারা ছাড়া এই গ্রামে এমন কেউ আসেনি যে এটা পড়তে পারে।

    রেস সাথে সাথে নোটবুকটা খুলল, দেখল প্রায় অর্ধডজন ক্রিম রঙের পৃষ্ঠা যাতে আলবার্তো সান্টিয়াগোর হাতের লেখা রয়েছে।

    বিস্মিত দৃষ্টি তাকিয়ে রইল সে।

    এটাই হল সান্টিয়াগোর রোমাঞ্চ-কাহিনির শেষাংশ।

    আমার একটা প্রশ্ন আছে, হঠাৎ করে প্রশ্ন করল জোহান ক্রাউশ সামনের দিকে একটু ঝুঁকে। টেম্পলের ভেতর এত বছর ধরে রাপাগুলো বাচল কীভাবে?

    সর্দারের সঙ্গে পরামর্শ করে মারকুয়েজ জবাব দিল। রোয়া বলছেন সেটাও আপনারা ওই বই পড়েই জানতে পারবেন।

    কিন্তু– শুরু করল ক্রাউশ।

    হুঙ্কার ছেড়ে তাকে থামিয়ে দিল সর্দার।

    রোয়া আবার বলছেন, প্রশ্নটার উত্তর ওই বইয়েই পাওয়া যাবে, দৃঢ়কণ্ঠে বলল মারকুয়েজ। বোঝা গেল, রেসের বেলায় সর্দারের আতিথেয়তা উদার ও আন্তরিক, কিন্তু ওর সঙ্গীদেরকে তেমন খাতির করা হচ্ছে না।

    আরো জোরে শুরু হল। কয়েক মুহূর্তে পরে দূর থেকে ভেসে এলো বজ্রপাতের শব্দ। মেঘ ডাকার গম্ভীর আওয়াজ শুনতে পেল রেস। সেদিকে ঘুরে গেল ডুগী এবং ভ্যান লিওয়েন।

    ঝড় আসছে, রেস বলল।

    মাথা নাড়ল ডুগী, মুখ তুলে আকাশের দিকে তাকাল। আওয়াজটা আরো জোরাল হচ্ছে।

    না, মেঘ নয়, বলল ও, বেল্ট থেকে গ্লক-১১ পিস্তলটা বের করল।

    কি বলছেন আপনি?

    ওটা মেঝের গর্জন নয়, প্রফেসর।

    তাহলে কিসের আওয়াজ?

    ঠিক সেই মুহূর্তে, ডুগীর উত্তর দিতে পারার আগে, একটা বিশাল সুপার স্ট্যালিয়ন হেলিকপ্টার সগর্জনে ওদের মাথার উপর চলে এলো।

    ওটার পিছু নিয়ে এল আরেকটা, দুটোই গ্রামের গাছপালার মাখা ছুঁয়ে স্থির হল, রোটরের তীব্র বাতাসে ঝড় বয়ে যাচ্ছে আশপাশের ডালপালায়।

    রেস, ডুগী এবং ভ্যান লিওয়েন লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়াল ঠিক সেই সময় ইন্ডিয়ানরাও, তীর-ধনুকের দিকে হাত বাড়ালে।

    গ্রামের উপর ভেসে থাকা সুপার স্ট্যালিয়ন দুটোর গর্জন মাথা খারাপ করে দিচ্ছে। দুটো থেকেই নেমে এল আটটা করে রশি। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পুরোদস্তুর কমব্যাট ড্রেস পরা ষোলোজন লোককে পিছলে নেমে আসতে দেখা গেল, প্রত্যেকের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ভোরের ম্লান আলোয় অবাস্তব, ছায়া লাগছে।

    .

    হেলিকপ্টার থেকে রশি বেয়ে নামার সময় গুলি করতে করতে নামছে লোকগুলো।

    যে যেদিকে পারে ছুটছে লোকজন। গ্রামটাকে ঘিরে থাকা ঘন জঙ্গলে গা ঢাকা দিল ইন্ডিয়ানরা, গাছের আড়াল দিয়ে ওরা তীর ধনুক থেকে তীর ছুঁড়ল। ভ্যান লিওয়েন এবং ডুগী তাদের জি-১১ তুলে গুলি করল সেদিকে, ওদের চারপাশে বুলেট কাদায় গেঁথে যাচ্ছে।

    রেস হঠাৎ দেখতে পেল ডুগীর বাঁ পায়ে দুটো বুলেট আঘাত হেনেছে, তারপর ঘোরার সাথে সাথে দৃষ্টি কেড়ে নিল জার্মান জুলজিস্ট, ক্রাউশ, প্রথমে মনে হল লোকটা থরথর করে কাঁপছে, তারপর তার গোটা শরীর থেঁতলান মাংসে পরিণত হল, যেন সাব মেশিনগানের দশ লক্ষ্য বুলেট লেগেছে তাকে ছিন্নভিন্ন করতে।

    সুপার স্ট্যালিয়ন দুটো গ্রামের বিশ ফুট উপরে ঝুলে আছে, একটা গাছের আড়াল থেকে রেস দেখল ওগুলোর পাশে বড় বড় হরফে লেখা রয়েছে নেভি।

    এটা রোমানোর টিম।

    অবশেষে পৌঁছেছে তারা।

    ঠিক তারপর, আড়াল পাওয়ার জন্য ছুটল রেস, এই সময় একটা প্রশ্ন জাগল ওর মাথায়।

    রোমানোর সঙ্গে না তিনটে সুপার স্ট্যালিয়ন থাকার কথা?

    অপ্রত্যাশিতভাবে রেসের চারপাশের জমিনে বুলেটের একঝক ক্ষত তৈরি হল, জঙ্গলের দিকে ছুটছে রেস ঘাড় ফিরিয়ে ডান দিকে তাকাতেই ফ্রাঙ্ক ন্যাশকে দেখতে পেল। বেদিটাকে পেছনে ফেলে ছুটছে সে, তার পিছু নিয়ে দৌড়াচ্ছে লরেন এবং কোপল্যান্ড, জঙ্গলে ঢুকে পড়ল তারা।

    রেসের দৃষ্টি বেদিটার দিকে গেল। আইডলটা এখনো কাঠের তাক-এ রয়েছে।

    কিংবা তাই কি?

    এই মুহূর্তে ওর আশেপাশে গুলির আঘাতে গর্তের সৃষ্টি করছে, এর ভেতর গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে বেদিটার দিকে ছুটল রেস। ছো দিয়ে তাক থেকে তুলে নিল আইডলটাকে।

    এই আইডলটার গোড়া থেকে সিলিন্ডার আকৃতির একটা অংশ কাটা।

    এটা নকল আইডল।

    না… রেস শ্বাস নিয়ে বলল।

    মাথার উপর চপার থেকে আবার গুলি হচ্ছে। রোটরের বাতাস রেসের চারপাশে টর্নেডোর মতো আছড়ে পড়ছে।

    আবার ছুটল রেস, এবার দিক বদলে ন্যাশ এবং অন্য দুজনের পিছু নিয়েছে।

    কোথায় যাচ্ছেন? কাছাকাছি একটা গাছের আড়াল থেকে রেনে জানতে চাইল।

    ন্যাশ আইডলটা নিয়ে গেছে! পাল্টা চিৎকার করে বলল রেস। আসলটা…।

    ঠিক সেই সময় একেবারে বিনা নোটিশে, ঝুলে থাকা একটা প্রকাণ্ড সুপার স্ট্যালিয়ন মাঝ আকাশে বিস্ফোরিত হল। সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত হওয়ায় বিস্ফোরণের প্রচণ্ডতা একেবারে হকচকিয়ে দিল সকলকে।

    রেস মুখ তুলতেই দেখল রোমহর্ষক স্লো মোশনে মার্টিতে পড়ছে ওটা, নিচে ঝুলে থাকা লোকগুলোকে চাপা দিচ্ছে।

    নেভি সিল-এর লোকগুলো প্রথমে সবেগে নেমে এসে আছড়ে পড়ল মার্টিতে, আধ সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে বিশাল হেলিকপ্টার তাদের উপর ভেঙে পড়ল, মুহূর্তে চিড়েচ্যাপ্টা করে ফেলল সবাইকে। পরক্ষণে একটা আওয়াজের সঙ্গে আগুন ধরে গেল সেটায়।

    রেস দেখতে পেল তির্যক একটা পথ ধরে বিধ্বস্ত সুপার স্ট্যালন থেকে আকাশের দিকে উঠে গেছে ধোয়ার একটা রেখা দ্রুত মিলিয়ে যাচ্ছে বাতাসে।

    ওটা এয়ার-টু-এয়ার মিসাইলের স্মোক ট্রেইল দৃষ্টি দিয়ে অনুসরণ করে ওটার উৎস খুঁজে নিল রেস।

    এবং দেখতে পেল আরেকটা হেলিকপ্টার।

    তবে সুপার স্ট্যালিয়ন দুটোর মতো ট্রপস ট্রান্সপোর্টার নয়। এটা একটা দুই পাইলটচালিত চপার, অ্যাটাকিং বার্ড, মরু তার একেবারে বিকল নয়, প্রিজমের মতো দেখতে ককপিট। ওটা দেখতে অনেকটা যান্ত্রিক শিকারি পতঙ্গের মতো।

    যদিও রেস জানে না, সে তাকিয়ে আছে একটা ও এইচ-৬৬ কোমাঞ্চি ইউএস আর্মির নেক্সট জেনারেশন অ্যাটাক হেলিকপ্টার।

    ন্যাশের এয়ার সাপোর্ট।

    আছে এবং শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

    দ্বিতীয় কোমাঞ্চি অ্যাটাক চপার উদয় হতে দেখল রেস, অবশিষ্ট সুপার স্ট্যালিয়নকে লক্ষ্য করে গ্যাটলিং গানের জোড়া ব্যারেল থেকে গুলি করছে।

    দ্বিতীয় স্ট্যালিয়ন মেশিনগান ওপেন করল, এখনো ঝুলতে থাকা আটজন সিল। সৈনিককে কাভার দেওয়ার চেষ্টা করছে।

    প্রথম সিল সৈনিককে দড়ি ছেড়ে পা রাখল মার্টিতে, ঠিক তখনই তার কপালে গেঁথে গেল একটা তীর!

    বাকি সাতজন সিল দড়ি বেয়ে এখনো নিচে নামছে। মার্টিতে পা দেওয়ার আগে আরো দুজন তীরের আঘাতে মারা গেল। মার্টিতে নেমে ছুটতে শুরু করল বাকি পাঁচজন।

    মাথার উপর সুপার স্ট্যালিয়ন কোনো সমস্যায় পড়েছে। আকাশে দোল খাওয়ার ভঙ্গিতে আগুপিছু করছে, তারপর কোমাঞ্চি দুটোর দিকে ঘুরে গুলি করতে শুরু করল।

    তারপর হঠাৎ–-শোঁ! করে একটা আওয়াজ হল সুপার স্ট্যালিয়নের পাশে বসান মিসাইল পড় থেকে একটা সাইডউইন্ডার মিসাইল ছোঁড়া হয়েছে। পেছনে নিখুঁত হরিজন্টাল স্মোক ট্রেইল রেখে ছুটল সেটা, প্রচণ্ড শক্তিতে একটা কোমাঞ্চির চাদোয়ায় আঘাত করল, বিরাট বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অ্যাটাক হেলিকপ্টারকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলল আকাশ থেকে।

    কিন্তু এটা একটা সান্ত্বনা পুরস্কার। আসলে, যদি তা করে থাকে, এটা সুপার স্ট্যালিয়নের কপালও পুড়েছে, কারণ আকাশে এখনো রয়ে গেছে একটা কোমাঞ্চি।

    প্রথম আর্মি চপারে মিসাইল মাত্র লেগেছে, তারপর মাঝআকাশে দ্রুত ঘুরে গেল দ্বিতীয়টা সেই সঙ্গে রিলিজ করল নিজের একটা হেলফায়ার মিসাইল।

    হেলফায়ার অবিশ্বাস্য গতিতে ছুটে চলছে, লক্ষ্য সুপার স্ট্যালিয়ন। সেকেন্ডের মধ্যে নেভি হেলিকপ্টারের গায়ে মিসাইলটা আঘাত হানল।

    সুপার স্ট্যালিয়নের একটা পাশ উড়ে গেল সাথে সাথে, জ্বলন্ত আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ল চারদিকের জমিনে, তারপর নেভির বিরাট হেলিকপ্টারটা গোত্তা খেয়ে নেমে এলো একটা গাছের গোড়ায়, সঙ্গে সঙ্গে বিধ্বস্ত কপ্টারটা থেকে আগুন বের হতে থাকল।

    নিচু ও ঘন ঝোঁপ-ঝাড় ভেঙে পূর্বদিকে ছুটছে রেস, ফার্ন গাছের ভেজা পাতা বাড়ি লাগছে ওর মুখে। গ্রামের চৌরাস্তাটা দক্ষিণ প্রান্তে, ঘন ঝোঁপঝাড়ের ভেতর দিয়ে রেনেও ছুটে চলেছে। ফ্রাঙ্ক ন্যাশের নাগাল পাওয়ার জন্য সেদিকেই যাচ্ছে।

    ভ্যান লিওয়েন পাশ কাটাল ওরা। একটা কুঁড়ের পেছনে পজিশন নিয়ে দ্বিতীয় সুপার স্ট্যালিয়নের বেঁচে যাওয়া পাঁচ নেভি সিলের মধ্যে তিনজনের দিকে জি-১১ তাক করে গুলি করতে শুরু করল। এটা স্রেফ তার আত্মরক্ষার প্রস্তুতি, বাধ্য না হলে নিজ দেশের সৈন্যদেরকে খুন করবে না।

    নিচের দিকে গুলি করল, আহত করার চেষ্টা করল, হত্যার জন্য নয়। তারপরেও ওরা তার দেশি মানুষ, আগেই সে প্লেনে শুনেছে রেনের কাছ থেকে যে ফ্রাঙ্ক ন্যাশ এবং নেভিকে অপরিবর্তিত রেখে আর্মির মিশন, সে প্রশ্ন তুলেছিল তার আনুগত্যের ব্যাপারে। সে মানুষ হত্যা করতে চায়নি তার মতো করে, লাইন করে দাঁড়ান প্রাণীগুলো অর্ডার মেনে চলে, না হলে সত্যি সত্যিই তাই করত।

    তিনজন সীল কুঁজো হয়ে মন্দিরের কাছের গাছগুলোর আড়াল থেকে বেরিয়ে এল এম পি-৫ হাতে, যখন ওগুলো সময় সৃষ্টি করে ব্যবহার করল তখন দেখা গেল তার জি-১১ থেকে ভালো কাজ করছে। তারপর হঠাৎ করে সীল তাদের গুলি করা বন্ধ করে দিল একদল ইন্ডিয়ান কুড়াল, তীর, লাঠি, মুণ্ডর হাত দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে।

    ভ্যান লিওয়েন পিছিয়ে গেল।

    কোথায় যাচ্ছেন আপনারা? রেস এবং রেনেকে পাশ কাটাতে দেখে গলা চড়িয়ে জানতে চাইল সে।

    ন্যাশকে ধরতে যাচ্ছি। আসল আইডলটা চুরি করেছে সে!

    সে কী?

    কিন্তু ইতোমধ্যে গাছের জঙ্গলের ভেতর দিয়ে দূরে চলে গেছে রেস এবং রেনে। ভ্যান লিওয়েন পিছু নিল ওদের।

    ছুটছে গ্যাবি লোপেজও। সে দৌড়াচ্ছে প্রাণ বাঁচানোর দায়।

    অল্পক্ষণ পরেই নেভি সুপার স্ট্যালিয়ন উদয় হল, সে তখন বুক সমান উঁচু ঝোঁপের ভেতর দিয়ে দৌড়াচ্ছে। কিন্তু সে ভুল পথে দৌড়াচ্ছে। প্রত্যেকে যেখানে দৌড়াচ্ছে দক্ষিণ দিকে সে তখন দৌড়াচ্ছে বুক সমান উঁচু ঝোঁপের দিয়ে দক্ষিণ পুবে গ্রামের দিকে বারবার মাথা নিচু করছে বুলেটের হাত থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য, বুলেট এসে তার পায়ের গাছে আঘাত করছে।

    দুই নেভি সিল তার পেছনে কোথাও আছে, তাদেরই এমপি-৫ থেকে গুলি করছে।

    ছোটার ফাঁকে মাঝেমধ্যে ঘাড় ফিরিয়ে পেছন দিকে তাকাচ্ছে গ্যাবি, দেখতে চাইছে কারা ও কজন ধাওয়া করছে তাকে। তারপর আরো একবার ঘাড় ফিরিয়ে পেছন দিকে তাকিয়েছে, হঠাৎ অনুভব করল তার পায়ের নিচে মার্টি নেই।

    পাথরের মতো নিচে খসে পড়ছে সে।

    এক সেকেন্ড পর, পানিতে পড়ল সে।

    তরল কাদা ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে। চোখ মেলে দেখল আদিবাসীদের গ্রামকে ঘিরে থাকা পরিখায় বসে রয়েছে সে। লাফ দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়াল সে বুঝতে পারল গোড়ালি পর্যন্ত ডোবা পানিতে দাঁড়িয়ে আছে সে।

    হঠাৎ একটা চিন্তা মনে এলো তার : কেইমান।

    মরিয়া হয়ে চারদিকে চোখ বুলাল সে। দেখল পরিখাটা মোটামুটি বৃত্তাকার, তবে তার দুপাশেই বাঁকা হয়ে দুদিকে হারিয়ে গেছে, পরিখার খাড়া পাঁচিলগুলো টাওয়ারের মতো ঝুঁকে আছে, কিনারাগুলো কম করেও তার মাথা থেকে দশ ফুট উপরে।

    হঠাৎ তার চারপাশের পানি সাবমেশিন গানের গুলিতে ছলকে উঠল, কিছু না ভেবেই সামনের দিকে ডাইভ দিল গ্যাবি একঝাঁক বুলেট মাথার উপর দিয়ে গিয়ে পরিখার দেয়ালে আঘাত হানল।

    তারপর হঠাৎ আরো বেশি গুলির শব্দ শুনতে পেল, এবার বন্দুকের আওয়াজটা অন্যরকম, জি-১১ থেকে গুলিবর্ষণ। এক মুহূর্ত পরেই প্রথম সেট বুলেটের আওয়াজ থেমে গেল এবং নীরবতা নেমে এলো জায়গাটায়। পরিখার অগভীর পানিতে এখনো পড়ে রয়েছে গ্যাবি। একটা নীরবতা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। প্রথম কয়েক সেকেন্ড পর সাবধানে মাথা তুলল।

    দেখল দেঁতো হাসির একটা কেইমানের মুখের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সে।

    স্থির হয়ে গেল গ্যাবি।

    জন্তুটা ঠিক তার সামনে কাদায় বসে রয়েছে, দেখছে তাকে, লেজটা ধীর ভঙ্গিতে নাড়ছে ও তখন তার। মৃত্যু তার সামনে।

    ভোঁতা গর্জন তুলে দৈত্যাকার সরীসৃপ হামলা চালাল, বিরাট চোয়াল খুলে সারি সারি দাঁত দেখাচ্ছে, সবেগে ছুটে আসছে ওর দিকে।

    দড়াম! কিছু একটা কেইমানটার উপর এসে পড়ল। জিনিসটা কী জানে না গ্যাবি। কোনো ধরনের প্রাণীই মনে হল। এবং এই মুহূর্তে ওর সামনের কাদায় কেইমানটার সঙ্গে গড়াগড়ি খাচ্ছে ওটা, চারদিকে কাদা ও পানি ছিটাচ্ছে।

    প্রাণীটাকে দেখতে পেয়ে তার চোয়াল স্কুলে পড়ল।

    একজন মানুষ। কমব্যাট ইউনিফর্ম পরা এক লোক। পরিখার মাথা থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়েছে সে, কেইমানটা ওর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার আগ মুহূর্তে।

    ধস্তাধস্তি করার সময় কেইমান ও লোকটা গড়াচ্ছে, মুখ ঘুরিয়ে লোকটাকে কামড় দেওয়ার চেষ্টা করছে কেইমান, লোকটা হল ডুগী আর সুযোগ পেলেই জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে দম ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে।

    ও হল ডুগী। গ্যাবি লোকটাকে দেখে চিনতে পারল।

    সমানে চলছে ধস্তাধস্তি ও গড়াগড়ি। কেইমানটা চেষ্টা করছে মুখ খুলতে, কিন্তু ডুগী তার চোয়াল চেপে ধরায় পারছে না। যতই বড় ও শক্তিশালী হোক অ্যালিগেটর চোয়াল চেপে ধরলে একেবারে অসহায় হয়ে পড়ে।

    জি-১১ এখনো তার কাছে রয়েছে, কিন্তু একেবারে অকেজো, খালি শেষ কয়েকটা বুলেট দুই নেভি সিলকে গুলি করে ফেলে দিয়েছে শেষ কয়েকটা গুলি খরচ করে যারা গ্যাবিকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে চেয়েছিল। তারপর সে গ্যাবির সামনে দাঁড়িয়ে, আক্রমণ করতে যাচ্ছে, তার একটাই করার মতো কাজ ছল, তা হল লাফ দিয়ে কেইমানটার ঘাড়ে পড়া। সে ঠিক ওটার ওপর লাফিয়ে পড়েছে।

    গোটা শরীর বারকয়েক ঝাঁকি দিয়ে চোয়ালটা ডুগীর হাত থেকে ছুটিয়ে নিল। মুখ ফাঁক করল ওটা, এবারও যা করার মরিয়া হয়ে করল ডুগী, হাতের জি-১১টা গুঁজে দিল ক্রোকোডাইলের হাঁ করা মুখের একেবারে ভেতর দিকে।

    ঘোঁত আওয়াজ করল বিস্মিত কেইমান।..

    তার চোয়াল যতটা সম্ভব ফাঁক হয়ে আছে, অনেকটা গাড়ির বনেটের মতো। বিশাল জন্তুটা চোয়াল বন্ধ করতে পারছে না।

    সুযোগ বুঝে আটকান বাউই ছুরিটা টেনে নিল ডুগী।

    বোকার মতো কেইমানটা ওর সামনে দাঁড়িয়ে রইল, জি-১১ তার মুখটাকে খুলে রাখতে বাধ্য করছে।

    ডুগী বড় সরীসৃপটার পেছনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করল যাতে করে তার হাতের ছুরিটা ওটার মাথায় ঢুকিয়ে দিয়ে হত্যা করতে পারে, কিন্তু কেইমান লক্ষ্য করে দেখছে সে নড়ছে এবং ওটা দ্রুত একপাশে সরে গেল, ডুগীর দিকে নিজেকে নিক্ষেপ করল, আছড়ে ফেলল এবং ছুঁড়ে দিল কাদা পানিতে।

    তারপর কেইমানটা দ্রুত ওরে দিকে তেড়ে এলো, ডুগীর পায়ের ওপর ওটার সম্মুখ পাটা রেখে, যাতে কাদায় ডুবে যায়।

    আহহ! ডুগী চিৎকার করে উঠল কেইমানের ভার ওর ওপর পড়াতে। বিশাল সরীসৃপটা একটা ছোট্ট পদক্ষেপ দিল সামনে, আহত বাম দিকের থাইয়ের ওপর। ডুগী তীব্র ব্যথায় চেঁচিয়ে উঠল আর তার পাটা কাদার গভীরে ডুবে গেল।

    ওর মুখের সামনে এসে কেইমানটা বিশাল মুখটা হাঁ করল, ওর নাক থেকে দুই ফিট দূরে, জি-১১ ঢুকিয়ে দিল যাতে মুখটা হাঁ করে থাকে।

    জাহান্নামে যা, ভাবল ডুগী, দ্রুত সে জি-১১র পেছনে তার বাউই ছুরিটা ঢুকিয়ে দিল বিশাল বড় চোয়ালের ভেতর, এমনভাবে ছুরির বাটটা কেইমানের জিহ্বার ওপর রাখল যাতে ব্লেডটা জন্তুটার উপরের চোয়ালে গিয়ে ঢেকে যায়।

    খাও এটা, বলে হাতটা একপাশে সরাল ডুগী, দৈত্যকার কেইমানের মুখ থেকে জি-১১টা সাবধানে বের করে আনল।

    ফল ফলল তৎক্ষণাৎ।

    জি-১১ নেই, কেইমানের শক্তিশালী দুই চোয়াল এক হতে যাচ্ছে, উপরের চোয়াল ঝট করে নিচে নামল, নামল মুখের ভেতর দিকে গোঁজা খাড়া বাউই ছুরির ডগায়, প্রচণ্ড চাপ লাগায় সেই ডগা পৌঁছে গেল সরাসরি মগজে।

    রক্ত মাখা ছুরির ফলা খুলি ভেঙে বেরিয়ে এলো সরীসৃপের মাথার বাইরে, সঙ্গে সঙ্গে স্থির হয়ে গেল অত বড় কেইমানের শরীরটা।

    তাকিয়ে রইল কয়েক মুহূর্ত, ডুগী, দেখে বিশ্বাস করতে পারছে না। ভারী বোঝার মতো এখনো তার অর্ধেকটা গায়ে পড়ে রয়েছে দেহটা, বাতাস বেরুচ্ছে ভেতর থেকে যা এখন তার আর প্রয়োজন নেই।

    ওয়াহ… ডুগী ঘন ঘন হাঁপাচ্ছে।

    তারপর সে মাথাটা ঝাঁকি দিয়ে ধীরে ধীরে তার শরীরের ওপর থেকে বিশাল জন্তুটার শরীরটা নামাতে লাগল, গ্যাবি তখনো কাদায় পড়ে ছিল।

    উঠুন, বলল ডুগী, গ্যাবির হাত ধরল। এখান থেকে চলুন চলে যাই।

    .

    গ্রাম ও গর্তটার মাঝখান দিয়ে ঘন ঝোঁপ-ঝাড় ভেঙে ছুটছে ন্যাশ, আইডলটাকে বগলের নিচে আটকে রেখে ফুটবলের মতো।

    তার পিছু নিয়ে ছুটছে লরেন এবং কোপল্যান্ড দুজনের হাতেই এসআইজি স্যয়ার পিস্তল।

    গ্রামে এরিয়াল অ্যাটাক শুরু হওয়ার পর সবাই দিশেহারা হয়ে পড়লেও, সে এবং রেনে আর কোপাল্যান্ড পরিখার উপর দ্রুত একটা লগ-ব্রিজ ফেলে পার হয়েছে, তারপর ঘন জঙ্গলে ঢুকে পড়েছে।

    ন্যাশ বলছি! ন্যাশ বলছি! ছোটার সময় থ্রোট মাইক্রোফোনে চেঁচাচ্ছে সে। এরিয়াল টিম, কাম ইন!

    ঘাড় ফিরিয়ে পেছনের আকাশে তাকালে আর্মি, দেখল রক্ষা পাওয়া-আর্মি কোমাঞ্চি হেলিকপ্টারটা বিধ্বস্ত গ্রাম থেকে ওঠা ধোয়ার মধ্যে ঝুলে আছে। ওটার পেছনে আরো একটা হেলিকপ্টার দেখল, কোমাঞ্চির চেয়ে মোটাসোটা ও বড়। ব্ল্যাক হক-টু, আর্মির তৃতীয় চপার।

    কর্নেল ন্যাশ–আমি ক্যাপটেন হ্যাঁঙ্ক থমসন রিড ইউ, চলন্ত অবস্থায় তার এয়ারপিসে কথাগুলো ভেসে এলো। দুঃখিত-পৌঁছুতে অনেক দেরি হয়ে গেল আপনার সিগনাল হারিয়ে ফেলেছিলাম সারারাত ইলেকট্রিকাল স্টর্ম

    থমসন প্রাইজটা আমাদের হাতে। রিপিট করছি, প্রাইজটা আমাদের হাতে। আমি এখন গ্রাম থেকে পঞ্চাশ মিটার পুবে রয়েছি, যাচ্ছি আরো পুবে, গর্তটার দিকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তুলে নাও আমাদেরকে।

    নেগেটিভ, কর্নেল–এখানে কোথাও ল্যান্ড করার সুযোগ নেই–বড় বেশি গাছ।

    তাহলে অন্য গ্রামে দেখা করো আমাদের সঙ্গে, চিৎকার করে বলল ন্যাশ। যে গ্রামে দুৰ্গটা রয়েছে। সোজা পুবে যাও, গর্তটা পার হয়ে, নিচে তাকাবে। দেখতে না পাবার কোনো কারণ নেই। ওখানে ল্যান্ড করার মতো প্রচুর জায়গা আছে।

    টেন-ফোর, কর্নেল দেখা হবে ওখানে।

    আর্মির অবশিষ্ট দুটো চপার সঙ্গে সঙ্গে দিক বদলে ন্যাশের মাথার উপর দিয়ে ছুটল, ভিলকাফোরের দিকে যাচ্ছে।

    এক মিনিট পরেই বিশাল গহ্বরটার কাছে পৌঁছাল ন্যাশ, লরেন এবং কোপল্যান্ড এবং প্যাচানো পথ ধরে নিচে নামতে থাকল।

    রেস, রেনে এবং ভ্যান লিওয়েন, গ্রামের একটা অংশ ও গহ্বরটার মাঝখানে, ঘন। জঙ্গলের ভেতর দিয়ে ছুটছে। ন্যাশকে ধাওয়া করছে আইডলটার জন্য।

    রাপাগুলোকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।

    ভোরের আলো ফোঁটার পর নিশ্চয়ই গহ্বরের গভীরে কোথাও আশ্রয় নিয়েছে, ভাবল। রেস। আশা করল গায়ে শুকিয়ে যাওয়া বাঁদরের প্রসাব এখনো কাজে আসবে।

    ওরা তিনজন গহ্বরের পথটা ধরে ছুটে চলল।

    যখন পথটা ধরে মাত্র নামতে শুরু করছে, ন্যাশ, লরেন এবং কোপল্যান্ড তখন ওটার শেষ মাথায় পৌঁছে গেছে।

    সরু ফাটলটায় ঢুকল ছুটে পেরিয়ে এল পুরোটা দৈর্ঘ্য, প্রতি পদক্ষেপে পানি ছিটাচ্ছে। তিনজনের কেউই খেয়াল করল না লেকের অগভীর পানি থেকে অলস ভঙ্গিতে মাথা তুলে তাদেরকে দেখছে গাঢ় বিড়ালগুলো।

    ফাটল থেকে ঝড়ের বেগে নদীর তীর ঘেঁষে পথে বেরিয়ে এলো ওরা তিনজন, চারদিকে সকালের ঘন কুয়াশা ঝুলে আছে, দৃশ্যটা সুন্দর, তবে উপভোগ করার জন্য থামল না কেউ, হনহন করে ভিলকাফোর শহরের দিকে এগোচ্ছে।

    আরো দুমিনিটের মাথায় শহরের পশ্চিম দিকের পরিখার সামনে পৌঁছে গেল তিনজনের দলটা।

    দাঁড়িয়ে পড়ল তারা।

    ছুটে যাওয়া পথে শেষ।

    তাদের সামনে, ভিলকাফোর মাঝখানে, মাথার পেছনে তুলে প্রায় বারোজন নারী-পুরুষ দাঁড়িয়ে রয়েছে, তাদের পায়ের সামনে পাক খাচ্ছে ধূসর কুয়াশা। কেউ এক চুল নড়ছে না, কপ্টারগুলোর রোটর বিরতিহীন গর্জন করছে, অথচ তারা যেন সে ব্যাপারে সচেতন নয়।

    তাদের মধ্যে দুজন মার্কিন নেভি সিল-এর সদস্য। কমব্যাট ড্রেস পরা। তবে তাদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই, কয়েকজনের পরনে ব্লু নেভির ইউনিফর্ম। অন্যরা সাধারণ পোশাক পরা-ডোরপা-র বিজ্ঞানী।

    ওদের হেলিকপ্টারটাও দেখতে পেল ন্যাশ।

    সাধারণ একটা সুপার স্ট্যালিয়ন।

    নেভির তৃতীয় চপার।

    গ্রামের মাঝখানে নিঃশব্দে বসে আছে ওটা, সাতটা রোটর ব্লেড স্থির। পাশে বড় বড় হরফে সাদা রঙের নেভি লেখা দেখল ন্যাশ।

    এবং তারপর মুখ তুলে উপর দিকে তাকাল সে, বিরতিহীন যান্ত্রিক শুনলেও গর্জনের উৎস খুঁজছে।

    তাদের দেখতে পেল।

    দেখল দুটোই আর্মি হেলিকপ্টার, কোমাঞ্চি ও ব্ল্যাক হক টু, যে-দুটোকে উপরের গ্রাম থেকে নিচে পাঠিয়েছে সে। ভিলকাফোরের আকাশে স্থির হয়ে আছে ওগুলো, জোড়া ব্যারেলসহ গ্যাটলিং গান ও ভয়ালদর্শন মিসাইল নিচে দাঁড়ান অসহায় নেভি ডারপা টিমের দিকে তাক করা।

    মিনিট দুয়েক পর নদীর তীরে ঘেঁষা পথে বেরিয়ে এলো রেস এবং অন্যারা।

    ভিলকাফোরের প্রধান সড়কে পৌঁছে দেখল আর্মি চপার, এক হাতে ধরে আছে। চকচকে আইডলটা, অপর তাতে রুপালি রঙের এস আই জি স্যয়ার পিস্তল।

    আর্মি চপারের কুরা, সব মিলিয়ে ছয়জন, দুজন কোমাঞ্চি, চারজন ব্ল্যাক হক থেকে, হাতের এম-১৬ নেভি ডারিপা দিকে তাক করে রেখেছে।

    আহ প্রফেসর রেস, ভারি খুশি হলাম আমাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ায়, রেস এবং অন্যদের গ্রামের প্রধান সড়কে উঠে আসতে দেখে বলল ন্যাশ, নেভি এবং সাধারণ মানুষের অদ্ভুত সংমিশ্রণের দিকে তাকিয়ে রইল সে, যারা মাথার পেছনে হাত তুলে দাঁড়িয়ে আছে।

    ন্যাশের কথার কোনো জবাব দিল না রেস। বারোজন নেভির উপর চোখ বুলাল, খুঁজছে কাউকে।

    ওর হিসাবে বলে এটা যদি রোমানোর টিম হয়, আসল সুপারনোভা টিম, তা হলে,..

    স্থির হয়ে গেল সে।

    দেখতে পেয়েছে তাকে।

    দেখতে পেয়েছে তাকে, একজন সিভিলিয়ান, নেভি টিমের সঙ্গে দাঁড়িয়ে রয়েছে, পরনে সাধারণ হাইকিং কাপড়-চোপড় ও বুট। দশ বছর তাকে দেখেনি রেস তারপরও ঘন ভুরু এবং ঝুঁকে থাকা কাঁধ দেখে সাথে সাথে চিনতে পারল।

    সে তার ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আছে।

    .

    মার্টি… দম নিয়ে বলল রেস।

    প্রফেসর রেস– ন্যাশ বলল।

    তাকে গ্রাহ্য না করে ভাইয়ের সামনে এসে দাঁড়াল রেস। সামনা-সামনি দাঁড়িয়ে ওরা, নেই কোনো অস্বস্তি, দুই ভাই কিন্তু দুজনই একেবারে ভিন্ন মানুষ।

    একটা ব্যাপারে রেস নোংরা ছিল। রেসের সারা শরীরে যেখানে কাদা, বাঁদরের প্রস্রাবের গন্ধ বেরুচ্ছে, মার্টি সেখানে ধোপ দুরস্ত। চোখ বড় বড় করে রেসের দিকে তাকিয়ে আছে সে, নোংরা কাপড়ের দিকে, কাদা লাগা ক্যাপের দিকে, ঠিক যেন কালো ল্যাগুনের কোনো প্রাণী উঠে এসেছে।

    মার্টি রেসের তুলনায় ছোটখাটো, মোটামুটি যেখানে রেস খুব সহজ সেখানে মার্টি চেহারায় দেখা যায় কঠিন।

    উইল…মার্টি বলল।

    মার্টি, আমি দুঃখিত। আমি জানতাম না। ওরা আমাকে এখানে আনার জন্য চালাকি করেছে। ওরা বলেছিল যে ডারপার সাথে ওরা আছে এবং ওরা তোমাকে চেনে আর

    তারপর হঠাৎ রেস থেমে গেল আরেকজন নেভির লোক দেখে যাকে সে চিনতে পেরেছে।

    ভুরু কুঁচকে গেল।

    ও তো এড ডেভেরিউক্স।

    ডেভরিউক্স খাটো, কালো এবং একচল্লিশ বছর বয়সী হার্ভাডের সবচাইতে শ্রদ্ধের এনসিয়েন্ট ল্যাঙ্গুয়েজের প্রফেসর। কেউ কেউ বলে থাকে সেই-ই হল বিশ্বের সবচাইতে ভালো ল্যাটিন স্কলার। এই মুহূর্তে সে দাঁড়িয়ে আছে। নেভি এবং ডারপা লোকেদের সাথে বগলের তলায় একটা বড় চামড়ার বাধাই করা বই চেপে ধরে আছে। রেস বুঝতে পারল ওটা ম্যানুস্ক্রিপ্টের নেভি কপি।

    রেসের তখনই মনে পড়ল দুদিন আগে নিজের অফিসে ফ্রাঙ্ক ন্যাশের সাথে তার মিটিং-এর কথা, সেই শুরুর সময় মনে পড়ল ন্যাশ সুপারিশ করেছিল যে ডিভেরিউক্সকে এই মিশনে নিতে চায় তার বদলে, এই কারণে হার্ভাড প্রফেসর মিডিয়েভেল ল্যাটিন বিষয়ে তার তুলনায় অনেক ভালো।

    কিন্তু এখন… এখন রেস জানে ন্যাশ কেন ডিভেরিউক্সকে বাদ দিয়ে তাকে কেন নিয়েছে।

    কারণ ডিভেরিউক্সকে অনেক আগে নেওয়া হয়ে গেছে। ডারপা টিম আগেই নিয়ে নিয়েছে।

    এখান থেকে তুমি জীবিত ফিরে যেতে পারবে না, ন্যাশ, বলল নেভি ডারপার সব চাইতে বয়স্ক এক লোক। সম্পূর্ণ ন্যাড়া, চেহারায় কর্তৃত্ব ভাব ডক্টর জুলিয়াস রোমানো।

    এ-কথা বলছ কেন? জানতে চাইল ন্যাশ।

    আর্মড সার্ভিস কমিটি তোমাদের এই অভিযানের কথা জেনেছে, বলল রোমানো। সুপারনোভা একটা নেভি প্রজেক্ট। এখানে আসার কোনো অধিকার নেই তোমার।

    সুপারনোভা প্রজেক্ট থেকে নেভিকে অব্যহতি দেওয়ার পর দুদিন আগে ডারপা হেডকোয়ার্টার থেকে চুরি হয়েছে, ন্যাশ বলল। এর মানে ইউনাইটেড স্টেট আর্মিই হল একমাত্র আর্মড ফোর্স একটা সুপারনোভার মালিক।

    রোমানো বললেন, ইউ সান অভ আ

    ঠিক এই সময় রোমানোর মাথাটা একটা টমেটোর মতো ফেটে গেল, ফিনকে দিয়ে রক্ত ছুটল চারদিকে। আধ সেকেন্ড পর নিষ্প্রাণ দেহটা লুটিয়ে পড়ল মার্টিতে।

    গুলির শব্দ শুনে ঘাড় ফেরাল রেস। ফায়ারিং পজিশনে দাঁড়ান এসআইজি স্যয়ার পিস্তল নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ন্যাশ। নেভি এবং ডারপা লাইন বারবার এক পা সরল সে, হাতের পিস্তলটা পরবর্তী লোকের মাথার দিকে তাক করল।

    ব্লাম!

    পিস্তলটা গর্জে উঠতেই পড়ে গেল লোকটা।

    আপনি এসব কী করছেন? চেঁচিয়ে বলল রেস।

    কর্নেল! চিৎকার করে বলল ভ্যান লিওয়েন, হাতের জি-১১ উঠে আসছে।

    কিন্তু জায়গা থেকে নড়ার এক মুহূর্ত আগে তার মাথার পাশে উদয় হল একটা এসআইজি-স্যয়ার। পিস্তলধারী হল ট্রয় কোপল্যান্ড।

    অস্ত্রটা ফেলে দাও, সার্জেন্ট, কোপল্যান্ড বলল।

    দাঁতে দাঁতে চাপল ভ্যান লিওয়েন, হাতের জি-১১ ফেলে দিয়ে কোপল্যান্ডের দিকে তাকাল।

    লরেন এবং রেনেকেও কভার দেওয়া হচ্ছে।

    সম্পূর্ণ হতচকিত রেস ঘুরে তাকাল মার্টির দিকে। কিন্তু নেভি আর ডারপা টিমের শেষ মাথায় আগের মতোই স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে সে, চোখে নির্লিপ্ত দৃষ্টি, শুধু প্রতিটি গুলির শব্দে তার চোখের পাতা কেঁপে উঠছে।

    কর্নেল, এটা স্রেফ ঠাণ্ডা মাথায় খুন, বলল ভ্যান লিওয়েন।

    পাশে এক পা সরে পরবর্তী নেভির সামনে চলে গেল ন্যাশ, পিস্তল তাক করল।

    ব্রাম!

    না, বলল সে। এটা একটা স্বাভাবিক নির্বাচন ছাড়া আর কিছুই না। সারভাইভাল অভ দ্য ফিটেস্ট।

    ন্যাশ এগিয়ে এলো অ্যাড ডিভেরিউক্সের দিকে।

    ছোটখাটো হার্ভার্ডের প্রফেসর তার সামনে দাঁড়িয়ে ভীত। চশমার আড়ালে তাঁর চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেছে, ভয়ে সারা শরীর থরথর করে কাঁপছে। ন্যাশ তার এসআইজি ছোট্ট মানুষটার মাথায় ঠেকাল।

    ডিভেরিউক্স চেঁচিয়ে বলল, না-–!

    ব্লাম!

    আকস্মাৎ থেমে গেল তার চিৎকার, ভেঙেচুরে ঢলে পড়ল ডিভেরিউক্স।

    রেস বিশ্বাস করতে পারছে না ঘটনাটা।

    আমেরিকানরা খুন করছে আমেরিকানদেরকে। এটা একটা দুঃস্বপ্ন। পিছিয়ে পড়ল ডিভেরিউক্স মার্টিতে পড়ে যাওয়ার পর, মৃত।

    এর পরেই বাঁধাই করা বইটার উপর রেসের চোখ পড়ল, গুলি খাওয়ার আগ পর্যন্ত ডিভারাক্স ওটা ধরে রেখেছিল। ওটা এখন কাদার ওপর পড়ে আছে, পাতা খোলা, মান্ধাতা আমলের পাতায় অলঙ্কৃত হস্তাক্ষর এবং ক্যালিগ্রাফি

    ওটা সান্টিয়াগোর ম্যানুস্ক্রিপ্ট।

    কিংবা রেস সংশোধন করল, ১৯৯৯ সালে অন্য আরেক মঞ্চ ওটাকে আংশিক কপি করেছিল, সান্টিয়াগোর মৃত্যুর ত্রিশ বছর পর।

    কর্নেল, আপনি এসব কি করছেন? রেস বলল।

    আমি প্রতিযোগিতা কমিয়ে ফেলছি, প্রফেসর রেস।

    সরে দাঁড়াচ্ছে ন্যাশ, শান্ত দৃঢ়তার সঙ্গে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে একের পর এক গুলি করে যাচ্ছে। তার চোখ দুটো কঠিন ও ঠাণ্ডা সেখানে ভাবাবেগের লেশমাত্র নেই, শত্রুদের শেষ করছেন, তার স্বজাতী আমেরিকানদের একের পর এক।

    নেভি-ডারপার কয়েকজন প্রার্থনা শুরু করল ন্যাশকে পিস্তল তাক করতে দেখে। সিভিলিয়ানদের দু-একজনকে দেখা গেল ফোপাচ্ছে। অসহায়, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড দেখছে রেস। রেনে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে তাকিয়ে হত্যাকাণ্ড দেখছে।

    এক সময় বাকি থাকল আর মাত্র একজন, লাইনের শেষ মানুষটি।

    মার্টি।

    ন্যাশকে ভাইয়ের সামনে দাঁড়াতে দেখল রেস। সে সম্পূর্ণ অসহায়, মার্টিকে সাহায্য করার জন্য শক্তিহীন।

    আশ্চর্যজনকভাবে হাতের পিস্তল নিচু করল ন্যাশ। ঘুরে রেসের দিকে তাকাল সে, কথা বলার সময় ওর উপর থেকে চোখ সরাল না। লরেন, এটিভি থেকে আমার ল্যাপটপটা নিয়ে আসবে, প্লিজ?

    রেস ভুরু কোঁচকাল, কনফিউজড।

    কি ঘটছে এসব?

    এটিভির দিকে ছুটল লরেন, এখনো সেটা দুর্গের সামনে পার্ক করা রয়েছে। এক মিনিটের মধ্যে ল্যাপটপ নিয়ে ফিরে এলো সে ন্যাশের কাছে। লরেনের কাছ থেকে নিয়ে ল্যাপটপটা অবাক করে দিয়ে রেসের হাতে ধরিয়ে দিল ন্যাশ।

    অন করুন, বলল ন্যাশ।

    ইউএস আমি ইন্টারনাল নেট-এর ক্লিক করুন, ন্যাশ বলল।

    করল রেস।

    টাইটেল ফুটল স্ক্রিনে–

    ইউএস আর্মি ইন্টারনাল মেসেজ নেটওয়ার্ক

    তারপর স্ক্রিনে একটা পরিবর্তন হয়ে নিরাপদ লাইনের ই-মেইল মেসেজ লিস্ট দৃষ্টিগোচর হল।

    এবার নিশ্চয়ই একটা মেসেজ আছে যার ভেতর আপনার নাম উল্লেখ করা আছে। রেস নামে সার্চ দিন, ন্যাশ আদেশ করল।

    রেস নিজের নাম টাইপ করল আর সার্চ বাটনে চাপ দিল। সে অবাক হয়ে দেখল ন্যাশও একই সাথে এগুচ্ছে।

    হঠাৎ, কম্পিউটারটা চিপ শব্দ করে উঠল : ২ মেসেজ ফাউন্ড।

    লম্বা ই-মেইল লিস্ট থেকে দুটো বেছে নিল।

    ১.৩.৯৯   ১৮০১   সুপারনোভা মিশন
    ১৪.৯৯    ১৬৩৫   উইলিয়াম রেস ইস্যু

    দেখুন ওই একটায় আপনার নাম লেখা আছে? ন্যাশ বলল।

    রেস দ্বিতীয় মেসেজটা চোখ রাখল, ডাবল-ক্লিক করল ওটার ওপর। একটা মেসেজ স্ক্রীনে দেখা দিলঃ

    জানু৪, ১৯৯৯ ১৬ : ৫ ইউএস আর্মি ইন্টারনাল নেট ৬১৭৫৫৪৪ ৮৯৫১৬-০৭
    নং : ৮৭
    হইতে : স্পেশাল প্রজেক্ট ডিভিশন লিডার
    প্রতি : ন্যাশ, ফ্রাঙ্ক
    বিষয় : উইলিয়াম রেস ইস্যু

    রেসকে কুজকোয় রেখে যেও না। রিপিট। রেসকে কুজকোয় রেখে যেও না।
    তোমার সাথে জঙ্গলে নিয়ে যেও। আইডলটা পাওয়ার সাথে সাথে শেষ করে দিবে তাকে, আর পরিস্থিতি মোতাবেক দেহটাকে পরিত্যাগ করবে।
    জেনারেল অর্থার এইচ. ল্যাঙ্কেস্টার।
    ইউএস আর্মি স্পেশাল প্রজেক্টস ডিভিশন লিভার।

    আমি আপনাকে বলে বুঝাতে চাইছি যে আপনি অনেক আগেই মারা গেছেন, প্রফেসর রেস, ন্যাশ বলল।

    রেস খেয়াল করে দেখল ই-মেইলের দিকে তাকিয়ে থাকতে গিয়ে তার রক্ত হিম হয়ে আসছে।

    এটা তো ডেথ ওয়ারেন্ট, নিজেদের ডেথ ওয়ারেন্ট। আর্মি স্পেশাল প্রজেক্ট ডিভিশনের চার্জের জেনারেল অর্ডার করেছেন যখন সে মারা যাবে।

    জেসাস ক্রাইস্ট।

    শান্ত থাকার চেষ্টা করল।

    মেসেজের সময়ের দিকে তাকাল।

    ১৬ : ৩৫, জানুয়ারি ৪।

    ওইদিন দুপুরে সে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেছে।

    আর এই মেসেজটা এসে পৌঁছেছে কার্গো প্লেনে করে পেরু যাওয়ার পথে।

    পেরুতে যাওয়ার ফ্লাইটে।

    জেসাস, এটা যেন মনে হচ্ছে এক বছর আগের ঘটনা।

    হঠাৎ রেসের মনে পড়ল যখন, ফ্লাইটের সময়, ন্যাশের ল্যাপটপের বেলটা বেজে উঠেছিল। পরিষ্কার মনে পড়েছে তার। ঠিক সেই সময়ে সে যখন ন্যাশের দেওয়া ম্যানুস্ক্রিপ্ট অনুবাদের কাজ শেষ করেছে।

    ওর কাছে পরিষ্কার হতে শুরু করল।

    এই কারণেই ন্যাশ তাকে ভিলকাফোরে নিয়ে এসেছে। আসল ঘটনাটা হল এই যে মিশন শুরু হওয়ার সময় ন্যাশ বলেছিল যদি সে মানুস্ক্রিপ্টটার অনুবাদ শেষ করতে পারে তাদের অবতরণের আগে তাহলে রেসের প্লেন থেকে নামার দরকার নেই। কিন্তু ন্যাশ তাকে বহন করে নিয়ে এসেছে। কেন?

    কারণ ন্যাশের কোনো সাক্ষী নেই, তাই।

    এটা তার সিক্রেট মিশন, যে-কোনো আর্মি মিশন চেষ্টা করে যাবে নেভি মিশন বাতিল করে দিতে, ন্যাশ কোনো রিস্ক নেয় নি যে জীবিত কোনো সাক্ষ্য ছিল না।

    আমি আপনাকে দুদিন আগেই খুন করে ফেলেছি, ন্যাশ বলল, টেম্পলটা খোলার পর, কিন্তু তারপর জার্মান বিকেএ টিম এসে উপস্থিত, বাধা সৃষ্টি হল আমার নকশা মোতাবেক। ওরা শুধু টেম্পলটা খুলে দিল, আর, কে ভেবে থাকে যে তারা ভেতরেই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তারপর, তারপর বাড়তি ম্যানুস্ক্রিপ্টটা পেলাম, আমি নিজে নিজেই গর্ববোধ করলাম যে আপনাকে আমি খুন করিনি।

    আমি খুব খুশি হয়েছি এই ভেবে যে আপনি খুশি হয়েছেন, নিরস গলায় বলল রেস।

    তারপরই, তারচেয়ে বেশি কিছু উৎসুক ঘটনা ঘটল, সামনেই কম্পিউটার, রেস অন্য মেসেজটিতে যেখানে তার নামের উল্লেখ আছে, ডাবল ক্লিক করল, শিরোনামটা হল সুপারনোভা মিশন।

    স্ক্রিনে পুরোটা মেসেজ ভেসে উঠল।

    অদ্ভুত হলেও এই মেসেজটা রেস এর আগেও দেখেছে, ঠিক মিশন শুরু হওয়ার মুহূর্তে, যখন সে নিউইয়র্কের পথ ধরে মটরযাত্রা করে যাচ্ছিল।

    জানু ৩, ১৯৯৯ ২২:০১ ইউএস আর্মি ইন্টারনাল নেট ৬১৭ ৫৫৪৪ ৮৮ ২১১-০৫
    নং- ১৩৯
    হইতে : ন্যাশ, ফ্রাঙ্ক
    প্রতি : কুজকোর টিম মেম্বারদের
    বিষয় : সুপারনোভা মিশন
    রেসের সাথে যোগাযোগ করো এএসএপি।
    মিশন সফল করার জন্য দূরহ কাজ
    আগামীকাল জানুয়ারি ৪, ০৯৪৫ সময়ে নিউইয়র্ক-এ প্রত্যাশিত প্যাকেজ হাতে চলে আসবে। প্রত্যেক মেম্বার যন্ত্রপাতি পরিবহনে তুলে দিবে ০৯০০ সময়ে।

    রেসের ভুরু কুঁচকে গেল শব্দগুলো দেখে।

    রেসের সাথে যোগাযোগ করো এসএসএপি।

    মিশন সফল করার জন্য দূরহ কাজ।

    প্রথম যখন মেসেজটা দেখেছিল, রেস তখন ততটা মনোযোগ দিয়ে দেখেনি। সে শুধু ভেবেছিল ওটা তাকে উল্লেখ করা হয়েছে, উইলিয়াম রেস, যাতে সে যেন সাথে সাথে যোগাযোগ করে।

    কিন্তু ওটা যদি আসলে অন্য কাউকে যার সাথে আর্মির যোগাযোগ রয়েছে। তাহলে? অন্য কোনো রেস?

    এর মানে হল যোগাযোগ অবশ্যই করতে হবে…

    মার্টি।

    আতঙ্কে সে কম্পিউটার থেকে চোখ তুলে তাকাল, ঠিক সেই সময় এবং তার ভাই নেভি এবং ডারপা মৃতদেহগুলো টপকে এগিয়ে গেল আর ফ্রাঙ্ক ন্যাশ-এর সাথে করমর্দন করল।

    কেমন আছ, মার্টি ন্যাশ বলল।

    ভালো আছি, ফ্রাঙ্ক। তোমাকে শেষ পর্যন্ত ধরা গেল এটাই ভালো।

    রেস-এর মনের ভেতর একটা ঘূর্ণি খেল।

    দৃষ্টি ন্যাশ এবং মার্টি থেকে কর্দমাক্ত রাস্তার ওপর পড়ে থাকা মৃতদেহগুলোর দিকে গেল, সেখান থেকে দৃষ্টিটা চলে গেল এই ডেভারিউসের মৃতদেহের পাশে পড়ে থাকা ম্যানুস্ক্রিপ্টের ওপর।

    হঠাৎ ব্যাপারটা ধরতে পারল রেস।

    মধ্যযুগের শিল্পকর্ম, অলঙ্কৃত ক্যালিগ্রাফির দিকে তাকাল সে। পেরুতে ন্যাশের জন্য সে সান্টিয়াগোর ম্যানুস্ক্রিপ্ট অনুবাদ করেছিল সেটার জিরক্স কপি ছিল এই ম্যানুস্ক্রিপ্টের।

    ওহ, নো…

    মার্টি, তুমি নিশ্চয়ই…

    উইল, আমি সত্যি দুঃখিত যে এর মধ্যে জড়িয়ে পড়েছ তুমি, বলল মার্টি।

    যেভাবেই হোক ম্যানুস্ক্রিপ্টের একটা কপি পেতে চাইছিলাম, বলল ন্যাশ। গড়, ফ্রান্সের ওই মনাস্ট্রিতে নাজিরা হানা দিয়ে মূল ম্যানুস্ক্রিপ্টটা নিয়ে যাবার পর কী ঝামেলাই না হল! হঠাৎ করে দেখা গেল যার কাছে একটা সুপারনোভা আছে সে-ই লাইভ থাইরিয়াম পাবার জন্যে উন্মাদ হয়ে উঠেছে। জীবনে এরকম সুযোগ মাত্র একবারই আসে। তারপর, আড়ি পেতে ডারপার একটা মেসেজ শুনে আমরা বুঝলাম ম্যানুস্ক্রিপ্টটার দ্বিতীয় একটা কপির অস্তিত্ব আছে, তাই আরপ থেকে ওটার জেরক্স কপি তৈরি করে আমাদেরকে সাপ্লাইয়ের দায়িত্ব দেয়া হল একজনকে মার্টিকে।

    কিন্তু কীভাবে হল? ভাবছে রেস। মার্টি ডারপা-র একজন, আর্মির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তা হলে যোগাযোগটা কীভাবে হল? মার্টি, ন্যাশ এবং আর্মি স্পেশাল প্রজেক্টের সঙ্গে জড়াল কীভাবে?

    এই সময় মার্টির দিকে লরেনকে এগিয়ে যেতে দেখল সে, হালকা চুমো খেল ওর গালে।

    কি হচ্ছে…?

    এতক্ষণে মার্টির বাম হাতের আঙুলে একটা আঙুটি দেখল রেস।

    বিয়ের আঙটি।

    লরেন এবং মার্টির দিকে তাকাল আবার।

    না…

    তার মনে পড়ে গেল লরেনের কথা : আমার প্রথম বিয়েটা টিকেনি। তবে আমি সম্প্রতি আবার বিয়ে করেছি।

    আমার স্ত্রীর সাথে পরিচিত হও, উইল, মার্টি বলল, লরেনের একটা হাত ধরে সামনে এগিয়ে এলো। তোমাকে তো আমি বলিনি যে বিয়ে করেছি বলেছি?

    মার্টি।

    আমরা যখন টিনএজার ছিলাম তখনকার কথা মনে আছে, উইল? তুমি সব সময়ই জনপ্রিয় আর আমি সবসময়ই নিঃসঙ্গ। ঘন ভুরু আর কুঁজো কাধ নিয়ে যে শনিবার রাতে বাসায় বসে থাকে অন্যদিকে তুমি মেয়েদের নিয়ে বাইরে বেরিয়ে পর ফুর্তি করতে। কিন্তু তুমি একটা মেয়েকে কাছে পাওনি, তাই না, উইল?

    রেস চুপ করে রইল

    আর আমি তাকে পেয়েছি, মার্টি বলল।

    রেস হতবুদ্ধি হয়ে গেল। এটা কি সম্ভব যে মার্টি ছোটবেলায় খুব অভিজ্ঞতার কষ্টকর ছিল যার ফলে লরেনকে পাবার জন্য প্রতিযোগিতা করে, এমন কি রেস-এর সাথেও?

    না। এটা সম্ভব না।

    এই ধরনের কোনো পরিকল্পনায় লরেনের কোনো লাভ হবে না। যাকে সে বিয়ে করতে চায় না তাকে সে বিয়ে করবে না, এর মানে সে যে কাউকে বিয়ে করবে না যে তার কেরিয়ার নিয়ে ভাবে না।

    এরপরেই রেসের মনে অন্য আরেকটি দৃশ্য উদয় হল।

    দৃশ্যটা হল লরেন এবং ট্রয় কোপল্যান্ড দুরাত আগে হিউ-এর পাশে দাঁড়িয়ে ছিল, তরুণ-তরুণীর মতো ওরা যেভাবে ঘনিষ্ঠ হচ্ছিল ঠিক সে সময় রেস সেখানে অপ্রত্যাশিতভাবে ওদের মাঝে চলে এসেছিল।

    কোপল্যান্ডের সাথে লরেনের একটা সম্পর্ক আছে।

    মার্টি, তাড়াতাড়ি বলল রেস।

    শোনো ও তোমার সঙ্গে বেঈমানী করবে

    শাট আপ, উইল।

    কিন্তু মার্টি।

    বললাম না, শাট আপ উইল।

    চুপ করে গেল রেস। খানিক পর নিচু গলায় জিজ্ঞেস করল, ডারপা-র সঙ্গে বেঈমানী করাতে আর্মি তোমাকে কি দিল, মার্টি?

    ওরা আমাকে তেমন কিছু দেয় নি, মার্টি বলল। আমার স্ত্রী আবদার ধরল একটা উপকার করতে হবে। ওর বস, কর্নেল ন্যাশ বলল আর্মি সুপারনোভা প্রজেক্টে আমাকে একটা এগজিকিউটিভ পোস্ট দেয়া হবে। উইল, আমি একজন ডিজাইন ইঞ্জিনিয়ার। এ ধরনের ডিজাইন নিয়ন্ত্রণ করে, এমন কম্পিউটার সিস্টেমের ডিজাইন তৈরি করি। কিন্তু আমার যোগ্যতা ডারপা-য় কোনো কাজে আসছিল না। সারাটা জীবন, উইল, আমি আমার কাজে স্বীকৃতি চেয়েছি। সেটা বাসায়, স্কুলে এবং কাজে। আমার কাজের স্বীকৃতি। এখন অবশেষে, সেটা পেতে যাচ্ছি।

    মার্টি, প্লিজ, আমার কথা শোন। দুরাত আগে, আমি লরেনকে

    বাদ দাও, উইল। শো ইজ ওভার। আমি সত্যি দুঃখিত এইভাবে ব্যাপারটার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার জন্য কিন্তু এটা ঘটছে এবং আমি কোনো সাহায্য করতে পারব না। গুডবাই।

    রেসের সামনে দাঁড়াল ফ্রাঙ্ক ন্যাশ, ওর দৃষ্টিপথ থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল মার্টি, তার বদলে ন্যাশের এস আই জি-স্যয়ার পিস্তলের ব্যারেলটা দেখতে পাচ্ছে সে।

    আপনার সঙ্গ উপভোগ করেছি, প্রফেসর, সত্যি সত্যি, ন্যাশ বলল ট্রিগারে আঙ্গুলের চাপ দিতে দিতে।

    না, হঠাৎ বলল ভ্যান লিওয়েন, সরে এসে রেস ও ন্যাশের মাঝখানে দাঁড়াল। কর্নেল, আপনাকে আমি এই কাজ করতে দিতে পারি না।

    সামনে থেকে সরে যাও, সার্জেন্ট!

    না, স্যার, আমি সরব না।

    সরো বলছি।

    ন্যাশের পিস্তলের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে রইল ভ্যান লিওয়েন। স্যার, আমার অর্ডার পরিষ্কার। ওরা এসেছেন আপনার কাছ থেকে। আমি প্রফেসর রেসকে রক্ষা করার দায়িত্ব পেয়েছিলাম।

    তোমার অর্ডার এইমাত্র পরিবর্তন করা হল, সার্জেন্ট।

    না, সার। আমি সরছি না। প্রফেসর রেসকে খুন করতে হলে প্রথমে আমাকে খুন করতে হবে।

    এক মুহূর্তের জন্য ন্যাশ তার ঠোঁটটা সংকুচিত করল।

    হঠাৎ করে এসআইজি-র ট্রিগারে চাপ দিল, ভ্যান লিওয়েনের মাথা বিস্ফোরিত হল, শাওয়ারের মতো রক্তের ছিটে ভিজে গেল রেস।

    গ্রিন বেরেটের লাশটা মার্টিতে পড়ার পর একটা স্কুপের মতো দেখাচ্ছে। চোখ নামিয়ে সেদিকে তাকিয়ে আছে রেস।

    শুধু ওকে বাঁচাবার চেষ্টায় নিজের মৃত্যু ডেকে এনেছে সার্জেন্ট। তাকাল যে বন্দুকটা ওর দিকে তাক করা হবে সেটার ব্যারেলের দিকে। এখন সে মারা যাবে। রেসের মনে হল সে পাগল হয়ে যাবে।

    ইউ সান অভ আ বিচ! চোখ তুলে ন্যাশকে বলল সে।

    ন্যাশ আবার পিস্তলটা তুলল রেসের চেহারার দিকে। এই মিশন যে-কোনো মানুষের চেয়ে বড়, প্রফেসর। তার চেয়ে বড়, আমার চেয়ে বড়, এমনকী আপনার চেয়েও বড়।

    কথা শেষ করেই ট্রিগারে চাপ দিল ন্যাশ।

    .

    চোখের সামনে খয়েরি একটা ঝলকের মতো দেখতে পেল, তখনো শিস-এর আওয়াজ পায়নি সে।

    তারপর, পিস্তলের ট্রিগারে যখন টান দিল ন্যাশ, আর্মি কর্নেলের বাহু থেকে রক্তের একটা ফোয়ারা ছুটতে দেখা গেল, কারণ খয়েরি রঙের কাঠের তীরটা ওখানেই গেঁথেছে।

    ন্যাশের পিস্তল ধরা হাত ঝাঁকি খেয়ে এক পাশে সরে গেল, এসআইজি ছুটে গেল রেসের বাঁ দিকে। ব্যথায় গুঙিয়ে উঠে পিস্তল ছেড়ে দিল সে, আরো প্রায় বিশটা তীর ছুটে এলো ওদের চারদিকে, আর্মির দুজন লোক সঙ্গে সঙ্গে মারা গেছে।

    ঝাঁক ঝাঁক তীরের পিছু দেখল ভেসে এলো রক্ত হীম করা তীক্ষ্ণ রণহুঙ্কার যা সদ্য ভোরের বাতাস ফালা ফালা করে দিল।

    আওয়াজটার দিকে ঘাড় ফেরাল রেস।

    দেখল উপরের গ্রাম থেকে নিঃশব্দে আদিবাসীরা সবাই নেমে এসেছে–কম করেও পঞ্চাশজনের মতো–ভিলকাফোরের পশ্চিম দিকের গাছপালার ভেতর থেকে হামলা চালাচ্ছে তারা। যার যা অস্ত্র আছে ব্যবহার করেছে–তীর, বর্শা ও পাথর ছুঁড়ছে–ওদের চেহারায় প্রচণ্ড রাগের ছাপ স্পষ্ট, এমন রাগ এর আগে কারো দেখেনি রেস।

    আদিবাসীরা ভয় থেকে যে আক্রমণ করেছে তা নয়।

    হঠাৎ রেসের কাছাকাছি কোথাও থেকে একটা এম-১৬ গর্জে উঠল।

    হেলিকপ্টারের দুজন ক্রু ইন্ডিয়ানদের দিকে ফায়ার ওপেন করেছে। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সামনের লাইনের চারজন ইন্ডিয়ানের গায়ে গুলি লাগল, মুখ থুবড়ে কাদার মধ্যে পড়ে গেল তারা।

    কিন্তু লাফ দিয়ে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এলো তাদের সঙ্গীরা।

    বাহুতে গাঁথা তীর নিয়ে দ্রুত ঘুরল ন্যাশ, ওই জায়গায় মাংস ঝুলে আছে। নিজের লোকজনকে পিছু নেওয়ার ইঙ্গিত করল, পালাচ্ছে তারা, গন্তব্য আর্মির হেলিকপ্টার দুটো।

    স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রেস, রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে, শিকড় গেড়ে গেছে যেন। আক্রমণাত্মক আদিবাসীদের দিকে তাকিয়ে আছে।

    হঠাৎ কেউ যেন তার কাঁধটা খামছে ধরল।

    রেনে।

    প্রফেসর, আসুন, বলে রেনে তাকে টানতে টানতে গ্রামের আরেক দিকে খালি অবস্থায় বসে থাকা সুপার স্ট্যালিয়ন কপ্টারটার দিকে নিয়ে গেল।

    ***

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    Next Article জলঙ্গীর অন্ধকারে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }