Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ট্রাকবাহনে ম্যাকমাহনে – নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেন এক পাতা গল্প185 Mins Read0
    ⤶

    ট্রাকবাহনে ম্যাকমাহনে – ৮

    ও কে! ও কে! ও কে গো?

    সবে একটু চোখের পাতাটা জড়িয়ে এসেছে, হঠাৎ ধপাধপ ধপাধপ করে দরজায় ধাক্কা দিতে লাগল কেউ। প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা। ডাকাত পড়ল নাকি? কত্তা গিন্নি উঠে পড়লেন—সাড়া নিলেন। আমি টর্চটি জ্বেলেছি, ওঁরাও কুপি জ্বালিয়ে ফেলেছেন। খুবই ভয় পেয়েছেন। কিন্তু বাইরের মানুষটির সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলবার পরে যেন ওঁদের ভয়টা কাটল। মনে হচ্ছে চেনা মানুষ।

    —কী ব্যাপার?

    —একটা ছেলে এসেছে। বলছে এ ডি সি এসেছেন ডাক্টর সেনের খবর নিতে। বড় রাস্তায়, গাড়িতে আছেন। চলুন আপনাকে নিয়ে যাই। নিয়ে যেতে বলছে।

    অত্যন্ত উত্তেজিত মনে হল কত্তাগিন্নিকে। এ ডি সি আসা সোজা কথা? আছি তো তৈরিই রাস্তার জন্য। জুতো আর কোট গলিয়ে বেরিয়ে পড়ি।

    এ ডি সি? মানে দেউরি। এত রাত্তিরে? পৌনে দশটা বাজে। পাহাড়ি গ্রামে এটা ঘোর মধ্যরাত্রি। ব্যাপার কী?

    লামার বাড়ি থেকে বেরিয়ে অনেকটা পথ উঠতে হয়। মিনিট পনেরোর হাঁটা। এবড়ো-খেবড়ো, পাথুরে, পাহাড়ি পায়ে-চলা রাস্তা। এর ক্ষেতের ভিতর দিয়ে, ওর উঠোনের মাঝখান দিয়ে, অনেকগুলো উঁচু উঁচু বেড়া টপকে এবং পাঁচিল ডিঙিয়ে (যার দু-একটি আবার মই বেয়ে উঠে ডিঙোতে হয়), খুব মজার রাস্তা বেয়ে হাজির হলুম সেই বড় রাস্তায়। ভাগ্যিস পায়ে ছিল কেড্স জুতো। নইলে এই বেড়া ডিঙোনো সম্ভব হত না। গ্রামটি পুরোপুরি ঘুমিয়ে পড়েছে। কোথাও একটিও আলো চোখে পড়ল না। আকাশের আবছা চন্দ্রালোকই ভরসা। আমার সঙ্গে অবশ্য টর্চ। সেই ছেলেটিও টর্চ নিয়েই এসেছিল।

    বড় রাস্তায় গাড়িতে ছিলেন তিনজন—এ ডি সি শ্রীদেউরি, ই এ সি শ্রী বি কুমার, (যিনি হেসে হেসে বললেনঃ ‘আমি বাইশ-বছর অরুণাচলে আছি—এতদিনে একটা ভাল পোস্টিং হয়েছে! আফটারঅল, তাওয়াং ইজ আ রোড-কনেকটেড প্লেস!’) এবং এম ও, ডাঃ কর, যাঁর বাড়িতে একদিন লাঞ্চ খেয়েছি তাওয়াং-এ, এবং যিনি ডাঃ লালওয়ানীকে বেডিং ধার দিয়ে আমার শোবার বন্দোবস্ত করে দিয়েছিলেন। একজন এই নেফা অঞ্চলেরই মানুষ, একজন উত্তরপ্রদেশের, আরেকজন উড়িষ্যার। তাঁরা যার খোঁজ করতে এসেছেন, সে-মানুষটা বাংলার।

    দেউরি বললেন—আমি তো ছিলাম না তাওয়াং-এ, ফিরে এসে শুনি আপনি চলে গেছেন সাম্প্রং গ্রামে। মোম্পাদের মধ্যে বাস করবার শখ হয়েছে। আপনি অ্যান্থ্রপলজিতেও কাজ করেন তা তো জানতাম না? যা হোক আমার বড়ই উদ্বেগ হল। একে তো আপনাকে কোনও যত্ন আত্তি করা হয়নি। গুডবাইটুকুও করা হল না, তার ওপরে কে জানে কোথায় চলে গেছেন আপনি? ভাবলুম যাই সরেজমিনে তদন্ত করে আসি। এঁরা বললেন এঁরাও আসবেন। তাই দলবল নিয়ে চলে এলাম। চলুন দেখে আসি কে কোথায় উঠেছেন, কেমন আছেন!

    কী আর বলব? এই উদ্বেগ, এই আন্তরিকতা, এবং কর্মক্লান্ত দিনের পরে, এই আসা,—এ কোনও উত্তর হয় না।

    আবার সেই দুর্গম পথে চড়াই ভেঙে সবাই মিলে ফেরা হতে লাগল। লোকের বাড়ির উঠোন দিয়ে, আপেল বাগিচার বেড়া ডিঙিয়ে, আলুক্ষেতের আল বেয়ে, ঘুমন্ত ঘরবাড়ির ছায়া দিয়ে গল্প করতে করতে হেঁটে হেঁটে লামার বাড়িতে ফেরা। লামা আগেই খবর পাঠিয়েছেন সেই ছেলেটিকে দিয়ে। যাতে স্ত্রী তৈরি থাকেন অতিথিদের জন্যে।

    যখন পৌঁছোলুম, দেখি ইন্দ্রসভা সেজে ঘর হাসছে। যেন কোনও শেখ-এর বিলাস তাঁবু। হ্যাজাক জ্বলছে, কার্পেটে-কুশনে শোবার ঘরটি বৈঠকখানা হয়ে গেছে। মুহূর্তে মুহূর্তে রূপ বদলায় এই ঘর। কখনও রান্নাঘর, কখনও শোবার, কখনও সভার। এই ছিল লালচে অন্ধকারে ডোবা। এই হয়ে গেছে রাজসভা। ঘুমন্ত কারমো আর কিন্দন উঠে হাসিমুখে অতিথি সৎকার করছে। হঠাৎ এতগুলি ক্লাস-ওয়ান অফিসার ওদেরই ঘরে এসেছেন, ওদের বিশ্বাস হচ্ছে না। সবাই মিলে একসঙ্গে বসে মাখন-চা আর রক্‌শি খেয়ে আড্ডা দিয়ে রাত সাড়ে এগারোটার সময়ে উঠলেন। সেই ছেলেটি ওদের সঙ্গে গাড়ি অবধি গেল। পেম্মা খাণ্ডুও যাচ্ছিল, কিন্তু লামাকে যেতে বারণ করলেন ওঁরাই! আবার আগুন নিবিয়ে, বিছানা পেতে দোর বন্ধ করে শুয়ে পড়া হল। ঠিক স্বপ্ন দেখার মতো মনে হচ্ছে ওঁদের আসাটা। আবার ঘর অন্ধকার। সেই লালচে আভা। নেভানো আগুনের মৃদু উদ্ভাস, আর পোড়া কাঠের উটকো ছুটকো শব্দ।

    পাখি সব করে রব

    পাখির ডাকে ঘুম ভাঙল। ঘরে কেউ নেই। এর মধ্যেই বেরিয়ে পড়েছে। কী সুন্দরই যে একটা সকাল হল। ঘর থেকে বেরিয়ে এলুম, সামনেই কাঠের উঠোন। উঠোনকে উঠোন, বারান্দাকে বারান্দা! মস্ত চওড়া একটা বড় মঞ্চের মতন। ওপাশে ঘেরা রেলিং। তার নীচেই পীচফলের বাগান। দূরে তুষারমৌলি শিখরের সারি, স্নোরেঞ্জ। তার নীচের দিকে ঢালু বনপাহাড়ির গায়ে পাতলা মসলিনের ওড়নার মতন ভোরের কুয়াশা জড়িয়ে আছে। ঘুম থেকে উঠে চোখ মেলেই এই দৃশ্য আর পাখির শিস—দোয়েল পাখিই মনে হচ্ছে—আমি কেমন করে জানাব আমার জুড়াল হৃদয় প্রভাতে।

    দেবেন ঠাকুরের কথা মনে পড়ে গেল। হিমালয়ের এই শান্তিই বালক রবীন্দ্রনাথের আত্মার গভীরে প্রবেশ করেছিল।

    ঘরের ড্রাম থেকেই ওই সসপ্যান (কিয়ো) ডুবিয়ে ঠাণ্ডা জল নিয়ে মুখ ধুতে যাচ্ছি, কারমো ডেকে গরম জল মিশিয়ে দিল তাতে। মুখ ধুলুম ওই কাঠের বারান্দার রেলিং থেকে, পীচফলের বাগানের ওপর। তারপর নমক্ চা হাতে করে আবার এই খোলা জায়গাটাতে চলে এলুম। এটা উঠোন-কাম-বারান্দা। একধারে হাতের তাঁত রয়েছে। তাতে মোটা কম্বলের মতন গরম কাপড়ের থান বোনা হচ্ছে। পাশে থলে ভর্তি উলের বল রাখা। থানটি ফুটখানেক চওড়া। সংসারের যাবতীয় পোশাক পরিচ্ছদ ওই থান কেটে, জুড়ে তৈরি হবে। বড় বড় পাত্র ভরা গম, যব, ভুট্টার দানা রাখা। বিরাট বিরাট লাউ কুমড়োও রাখা। বাসনপত্র। ছাতা। সংসারের সর্বস্ব এরা বারান্দায় রেখে, নিজেরা ঘরের মধ্যে ঢুকে শীতের হাত থেকে লুকোয়। এখানে কেউ কারুর জিনিস চুরি করে না। লামা বললে উলের দাম খুব বেড়ে গেছে, তিন টাকা কিলো ছিল এখন বিশ্বরুপেয়া রয়েছে। চট্টকে সকালে দেখলুম না, শিম্পুকে দেখি সম্ভ্রান্ত ভঙ্গিতে একটা বাটি থেকে চা খাচ্ছে।

    সকালে উঠেই বিছানা তুলে ফেলা প্রথম কাজ। তারপরই ঘরটি হয়ে যায় রান্নাঘর। ঘরটার একদিকে পাহাড়ই বোধ হয়, পাথরের দেওয়াল। বাকি তিনদিক কাঠের তৈরি। মেঝেও কাঠের। ছোট একটা পাঁচ ফুট মতন দরজা—পাথরের চৌকাঠ, দুফুট উঁচুতে উঠে, একধাপ সিঁড়ি পেরিয়ে ঢুকতে হয়। ঢুকে ফের দুধাপ সিঁড়ি পেরিয়ে নামতে হয় ঘরে। ঘর অন্ধকার। ক্রমশ চোখে সয়ে আসে। কিন্তু বেশ গরম থাকে জানলা নেই বলে। মাথার ওপরে কাঠের কড়িবরগা, পিচ মাখান। কিন্তু পেম্মা খাণ্ডুর বাড়িতে আরেকটাও ঘর লাগান হয়েছে, বাইরে। নতুন বসানো ঘর। এই ঘরে তিন-চারটে আধুনিক জানলা আছে তাতে গেরুয়া পর্দা আছে ভেতরে তিনটি বিছানা পাতা। শুনলুম তিনজন তিব্বতি লামা এসেছেন, তাঁদের জন্যেই বানান হয়েছে ওই ঘর। ওখানে তাঁরা বেশ কয়েকমাস যাবৎ অতিথি। বসতবাটির মধ্যে তাঁদের যাতায়াত নেই, যা দেখলুম।

    ঘুম থেকে উঠেই এদের রান্না খাওয়া শেষ। সাতটার মধ্যে সবাই পেট ভরে ভাত, পা, চা, ডিমভাজা খেয়ে কাজে বেরিয়ে গেল। তারপরে আম্মার ঘর-কন্না শুরু। মেয়ে সাহায্য করছে। পীচবাগানে কয়েকজন মেয়ে এসে কাজে লাগল দেখলুম। মেয়েরা এখানে বিড়ি সিগারেট খায়। কিন্তু লামারা ধূমপান করে না। এ বাড়িতে কেউই করে না দেখলুম।

    —”মোম্পারা গাঁজা ভাং খায় না,” লামা বললে, “কেবল বিড়ি সিগ্রেট নস্যি আর রশি। কখনও বা আরা, লোপানি, সিং-ছাং বা-ছাং।” পেম্মা গে-র স্ত্রী খুব কর্মঠ সত্যিই। যব, গম ঝাড়ছে, শুকোচ্ছে, রোদে মেলে দিচ্ছে, গুটিয়ে বস্তায় ভরছে তুলছে। লামা সকালে গুম্ফায় চলে গেছেন। আমি বাইরে একটু হাঁটতে বেরুই। টুং টাং শব্দ—এখানেও তেমনি চমরীর পাল নিয়ে চরাতে যাচ্ছে দুটি বালক। চমরী মরে গেলে এরা নাকি কেঁদে ভাসায়। পুরনো পরম আত্মীয়রাই চমরী জন্ম নিয়ে ঘরে আসে কিনা! চমরী লক্ষ্মী।

    .

    পালিশ করা, তামা-পেতলের পাত বসানো চমৎকার কুনকে করে শস্য তোলে লামার বউ। এমন একটা কুনকে পেলে নিয়ে যেতুম। নিয়ে যেতুম এই চায়ের বাটিও। চকচকে পালিশ করা কাঠের বোল-এ করে চা খায়, ডেনিশ পাত্রের মতো গড়ন। তেমনই খুরোওলা, ঢাকনিওলা বাটিতে করে খাদ্য খায়। ঢাকনি কেন? যাতে ঠাণ্ডা না হয়ে যায়।

    এখানকার সকালের সঙ্গে তাওয়াং-এর সকালের প্রধান তফাত, এখানে বনের মধ্যে পাখি ডাকে। বড় বড় গাছ-গাছালি, পাখ্-পাখালি আছে। তাওয়াং-এ দুটোই নেই। পাহাড়গুলো একই হলে কী হবে, উচ্চতার তফাতে স্থান মাহাত্ম্য পালটে যায়।

    পেম্মা এবার ফিরবে। আমিই বরং দেখে আসি গুম্ফাটা দিনের বেলায় কেমন লাগে। একবার যাই গুম্ফায়। উড়কিন স্কুলে গেছে, ক্লাস থ্রিতে পড়ে। আন্নি-মেয়ে তৈরি হচ্ছে আনিগুম্ফায় ফিরে যাবার জন্য। কারমো তার বড় মেয়েকে নিয়ে ফলের বাগানে কাজ করছে কী সব। একসময়ে পাতায় করে কিছু বাগানের পীচফল তুলে এনে দিল আমাকে। লাল সবুজ রঙের কাঁচা, ডাঁশা টক-মিঠে পীচফল। নুন দিয়ে খেতে বেশ লাগে। ব্যাগে ভরে নিই মেয়েদের জন্য। কাঁচা পীচফল তো কেউ দেখেনি ওরা। আমি গুম্ফায় যেতে আমার সঙ্গেই পেম্পা ফিরে এল।

    সত্যিই যা ভেবেছিলাম তাই—দিনের বেলায় ঠাকুর দেবতাদের অনেক কম ভয়াল দেখাচ্ছে।

    ইতিমধ্যে একজন প্রতিবেশী এসে আমাকে তিনটে ডিম ও একটি খাদা উপহার দিলেন। তারপরে এলেন গিন্নির দুই রূপসী বড় বোন। একজনের পিঠে নাতি বাঁধা। ছেলে-বউ কাজে গেছে। এর দুই স্বামী। আরেকজনের হাত ধরে এসেছে বছর চার-পাঁচের এক নাতনি। খুব মিষ্টি দুটো বাচ্চাই। নাতনির কোমরে আবার রিক্সাওলার ঘণ্টার মতন মস্ত একটা ঘণ্টি বাঁধা ‘নমস্তে করো”–বললেই সে নমস্তে করে আর “সালাম করো”, বললেই সালাম। করেই হেসে ঠাকুমার পিছনে লুকোয়। এঁরই তা হলে তিন স্বামী? সুন্দরী বটে। এঁরা দুজনেই ষাট পেরিয়েছেন, কিন্তু গোটা চল্লিশের বেশি দেখায় না। এখানেই তো ‘শাংগ্রিলা’ খানিক খানিক ছড়িয়ে আছে। এরাও এনেছেন খাদা আর পাঁচটা করে ডিম, বোনের বাড়ির অতিথিকে আদর অভ্যর্থনা জানাতে হবে তো? ডিমগুলো এই সংসারে রেখে দিয়ে, খাদাগুলো ব্যাগে ভরে নিচ্ছি। ‘খাদা’ হল ব্যাণ্ডেজের গজকাপড়ের মতো অতি পাতলা মাড় দেওয়া একটা জ্যালজ্যালে সাদা গামছার মতন জিনিস, যেটা তিব্বতে মালার বদলে ব্যবহৃত হয়। বিলেতে পনির-ছাঁকনি, চিজ-ক্লথ ঠিক এমনি দেখতে। মানুষ কি দেবতা যাকেই হোক সম্মান দেখাতে চাইলে এরা ‘খাদা’ দেয়। ডিমটাও তাই। আমরা যেমন সন্দেশ, মালা দিই।

    জীবনে এই প্রথম একত্রে বহুপতিচারিণী সচ্চরিত্রা বিবাহিতা স্ত্রী দেখছি। দুঃখের বিষয় : ভাষার অন্তরায়ের কারণে তেমন ভাবে কোনও প্রশ্নই করা গেল না। লামার মাধ্যমে তো সব প্রশ্ন হয় না? কিছুক্ষণের মধ্যে অতিথিরাও বাগানে কাজ করতে লেগে গেল কারমোর সঙ্গে এরা বসে থাকে না। বেড়াতে এলেও না! সাধে এত রূপ?

    জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার

    —”বেড়াতে যাবেন? আশপাশের গ্রাম-টামে?” পেম্পা গে লামা বলে ওঠে—”লামা দেখার এত শখ যখন, তখন চলুন লামা ছোছে-রিমপো-ছে-রে সঙ্গে দেখা করিয়ে আনি। আপনি একজন প্রকৃত তিব্বতি পাক্কা লামা দেখে যান। দলাই লামা, কি পাঞ্চেন লামার মতো না হলেও, এঁরা কিন্তু ভি আই পি লামা! এঁদের অনেকগুলি পূর্বজন্ম মনে থাকে। ইনি দলাই লামারই সঙ্গে ১৯৫৯-এ এখানে এসেছেন। এঁদের অনেকের পুঁথি পড়বার বিদ্যে নিয়েই জন্ম হয়, অনেকে আবার পূর্বজন্মের কিছু চিহ্ন নিয়ে জন্মান। এঁর সেই জন্ম চিহ্ন আছে। আশ্চর্যরকম ভবিষ্যৎ বলতে পারেন। চলুন রিমপো-ছে-কে এখন গেলে পাওয়া যাবে। হেঁটে যেতে পারবেন তো আপনি? না, ঘোড়াটা ঠিক করে দেব?

    –“কই? কোথায় তোমার ঘোড়া? দেখাওনি তো? খুব দূরে যেতে হবে নাকি?” গুম্ফার সামনে একটুখানি মাঠ। গুম্ফার চারিপাশে পাইনবন। সেই মাঠে একটি সুন্দর বাদামি বেঁটে ঘোড়া ঘাস খাচ্ছিল। চট্ট কুকুরও দেখলুম খেলছে ওখানে।

    —”ওইটেই আমার ঘোড়া।”— লাজুক হেসে পেম্মা জানায়।—বেশিদূর নয়। ঘোড়া লাগে না। হাঁটতে হাঁটতে আমরা পাহাড়ের আর এক ধারে, ঢালুর কাছে চলে এলুম। গ্রামের প্রান্তে। জানি না এটাও সাস্প্রং না অন্য কোনও গ্রাম। এবারে অনেকগুলো বেড়া, এবং উঠান পেরুতে হবে এখানেও। কিছু হণ্টন, কিছু উল্লম্ফন। কেন যে মিঃ কুমার কাল বলেছিলেন তাওয়াং “গুড পোস্টিং” কেন না “রোড কনেকটেড প্লেস” সেটা এত অল্পেই টের পেলুম। তবু তো এটা উদোম বুনো পাহাড় পর্বত নয়, রীতিমতো গ্রাম-বসতিতে পোষ মানানো সভ্যজগৎ।

    একটা বাংলোবাড়ি। তার সামনে, ক্ষেতে একজন কাজ করছিল, সে বললে খবর নিয়ে আসছে লামা দেখা করবেন কিনা। আমরা উঠোনে দাঁড়িয়ে আছি। দেখি উঠোনে একটা দীর্ঘ কাঠের খুঁটি। তার মাথায় একটি ছোট্ট কাঠের খাঁচা, খাঁচার সামনে খানিকটা বারান্দা মতন করা আছে। সেখানে একটি বাঁদর বসে আছে। আমাদের দেখেই বাঁদর নেমে এল, বোধ হয় খাদ্যের আশায়। কাছে তো কিছুই ছিল না, যে দেব তাকে!

    সে তখন আবার উঠে গেল, এবং একটা ভাঙা আয়না কোথা থেকে নিয়ে, চিৎ হয়ে শুয়ে শুয়ে নিজের মুখটি দেখতে লাগল। ভারি বিমর্ষ সেই মুখ। বাঁদরের পায়ে সরু শিকলি।—আহা, হাতে কিছু খাবার থাকলে খুব ভাল হত। বেচারি!

    ইতিমধ্যেই আমার আশপাশে কিছু লোক জমা হয়েছে। পেম্মা গে তাদের বলল, “কিছু খাবার দিতে পারো, বাঁদরের জন্য” একটি ছোট ছেলে দৌড়ে চলে গেল।

    —”বাঁদর নয়, উনি বাঁদরি। বাঁদররা দল বেঁধে ভুট্টা চুরি করতে এসেছিল। তাড়া খেয়ে ওর মা ওকে ফেলে রেখেই পালিয়েছিল। লামা রিমপো-ছে ওকে বাচ্চা থেকে মেয়ের মতো যত্ন করে পুষেছেন।” লামা জানাল আমাকে। শেকলপরা বাঁদরি একমনে চিৎ হয়ে শুয়ে ভাঙা আয়নাতে মুখ দেখছে। মা তাকে ফেলে পালিয়ে গেছে।

    .

    আমার মনে হল একেবারেই আমাদের অন্তর্জীবনের প্রতিচ্ছবি। এটা তো পুরোপুরি একটা কবিতার শক্তিশালী ইমেজ। মনুষ্য জীবন তা এইই।

    .

    একটু পরেই ছেলেটি ফিরে এল, কোত্থেকে চিনে বাদাম আর ভুট্টার খই নিয়ে। বাঁদরি নীচে এসে বাদামগুলি বেছে বেছে খুঁটে খুঁটে খেল। ফের ওপরে উঠে গিয়ে তার ভাঙা আয়নাটি হাতে তুলে নিল সে।

    লোকটি এসে খবর দিল। আনন্দে উদ্ভাসিত মুখে পেম্মা গে বলল—চলুন, রিমপো-ছে ডাকছেন আমাদের। আপনার ভবিষ্যৎটা জেনে নিতে ভুলবেন না। ইতিমধ্যে আমারও তো জীবন কাহিনি এক্সচেঞ্জ করা হয়ে গেছে? পেম্মা খাণ্ডু এবং কারমোর ইচ্ছে : হয় আমার স্বামীর সঙ্গে পুনর্মিলন হোক। এক্ষুনি। নয়তো আমি একটা শাদি করে নিই। এক্ষুনি। এমন আওয়ারা হোকে ঘুম্‌না ঠিক নেহি। আমি যে মোটেই আওয়ারা হয়ে ঘুরছি না, বাসা বেঁধে ডিমে তা দিচ্ছি, সেটা বোঝাবার মতো অত ভাষাজ্ঞান আমাদের কারুরই নেই। ওর হিন্দিও বলে “আমাকে দ্যাখ্” আমার হিন্দিও বলে “আমাকে দ্যাখ।” কে কাকে দেখবে! তবে মুশকিল হল রিমপো-ছে-র কাছে গিয়ে।

    এঁরা পুনর্জাত লামা। শিশু অবস্থাতেই তিব্বতে দলাই লামার দূতেরা গিয়ে খুঁজে খুঁজে এঁদের ঘর থেকে তুলে আনে। দলাই লামাই চিহ্ন বলে দেন, কোথায়, কবে, কোন গ্রামে, কার ঘরে জন্মাবেন পরবর্তী কোন লামা। তাঁর দেহে একটা জন্মচিহ্ন থাকবে। “পুনর্জাত” তিব্বতি এই খানদানি লামাদের জাতই আলাদা, মানই আলাদা। এঁরা সব সময়ে পুঁথি পড়েন।শুভ-অশুভ, পরজন্ম-পুনর্জন্ম, পাপ-পুণ্য, ভূত-ভবিষ্যৎ, আত্মা-পরমাত্মার চিন্তায়, ধৰ্ম- আলোচনায় মগ্ন থাকেন। একবার এক দলাই লামা নাকি জন্মেছিলেন এই তাওয়াং-এর কাছেই, উরগিলিং বলে একটা গুম্ফার পাশে। একটা কর্পূরগাছ আছে সেইখানে। সেই খবর তিব্বতের লামারা স্বপ্নে জেনে গিয়েছিলেন, উরগিলিং-এ লোক পাঠিয়ে শিশুটিকে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই উরগিলিং গুম্ফা, সেই বৃদ্ধ কর্পূর গাছ এখনও আছে। সময় থাকলে দেখেও আসা যেত, জিপ যায়।

    এই বৌদ্ধ ধর্ম ব্যবস্থায় তন্ত্র অত্যন্ত জরুরি, এখানে নারীর ভূমিকা মোটেই গৌণ নয়। লোকেশ্বরী, তারা, মহাকালী, কালী, তান্ত্রিক দেবীদের প্রবল প্রতাপ, অশেষ মহিমা। স্বয়ং যমরাজ আছেন এঁদের পুরুষ সঙ্গী। আমার বদলে আমার বন্ধু সংযুক্তাদি এখানে এলে আমার চেয়ে বেশি কাজে দিত—নেদারল্যান্ডে এখন সে তন্ত্র নিয়েই পড়াশুনো করছে। এখানে প্রত্যেক গুম্ফায় প্রচুর পুঁথিপত্র আছে, আছে তাংখায় আঁকা নানা প্রাচীন ছবি। আর মুখে মুখে প্রচলিত প্রচুর মিথ, ফোকলোর, কিংবদন্তি। মিথগুলো সংগ্রহ করবার প্রবল বাসনা হয়েছিল আমার, কিন্তু সময় ছিল না। পরে কখনও ফিরে আসব—ভেবেছিলুম। কিন্তু পাঁচটা বছর তো কেটেই গেল! জাং লামার সামগ্রুং-এ জল আনার গল্পটা যেমন সগর রাজার ছেলেরা আর ভগীরথের গল্পের মতন, একটা আর্কিটাইপাল গল্প, তেমনি তাওয়াং-এর নাম কেন তাওয়াং হল, তার চার-পাঁচটা ব্যাখ্যান-আখ্যান,–মোটকথা হাজার হাজার গল্প এখানে বাতাসে উড়ছে তুলোর বীজের মতো। ধরে নিলেই হল। কিন্তু আমি একে ভাষার ভিখারি, তথা সময়ের কাঙাল—আমার ঝুলি তাই ভরল না।

    .

    পেম্মা গে বলল,—”ইনি বহুৎ বড়া লামা—এঁর নাম ছোছে-রিপো-ছে, বয়েস সাতচল্লিশ, তিব্বতের “সেরা” নামের গুম্ফা থেকে এসেছেন। এঁর হাতে জন্মদাগ আছে, সেই দাগের হদিশ দিয়েই ওঁকে তুলে এনেছিল লামার লোকেরা। এঁরও পুরোপুরি পূর্বজন্ম স্মরণ আছে, নিজের গুম্ফা। সেই গুম্ফার সম্পত্তির হিসেব, পূর্বজন্মের বাপ-মার নামধাম সব বলতে পেরেছিলেন। আশ্চর্য কিছু নয়। যাঁরাই পুনর্জাত লামা, তাঁরাই পারেন। ইনি খুব সৎ লোক। সেরা গুম্ফায় কত সোনার বুদ্ধমূর্তি, কত সোনার দেবীমূর্তি, তিব্বতে সব কিছু ছেড়ে চলে এসেছেন। এখানে নিতান্ত দীন দরিদ্রের মতো বাস করেন। সর্বদা গরিবদুঃখীর বাড়িতে যান। ব্যক্তিগত কোনও উচ্চাশা নেই। খুব পড়াশুনো আছে, আরও পড়াশুনো করেন। মমতার শরীর। অনেক জীবজন্তু পোষেন। এটা এই লামার দ্বাদশ জন্ম চলছে। এগারোটা জন্মই ওঁর স্মরণে আছে, মুখস্থ আছে। সমস্ত ইতিহাস বলতে পারেন।”—সসম্ভ্রমে পেম্মা বলল।

    মমতার শরীর তাতে সন্দেহ নেই। যখন ওঁর ঘরে গেলুম, তার আগে বারান্দায় দুটো কুকুর ভয়ানক রেগে চিৎকার করতে লাগল। তাদের শেষটা শেকল পরিয়ে বাঁধতেই হল। মন্দিরের ভেতরে ঢুকে দেখি লামার সঙ্গে এক আসনে তাকিয়া ঠেশ দিয়ে গালচের ওপরে গা এলিয়ে আহ্লাদ করছেন আরেকজন কুকুর মহারাজ। এঁরা কোন জন্মে কী ছিলেন কে জানে? এবং চতুর্থ একজন খুদে লোমভরা বস্তু এসে আমারই কোলে উঠে বসলেন। লামাটির তপঃক্লিষ্ট চেহারা দেখে বয়েস বোঝা যায় না। পেম্মার মতো নধরকান্তি নন। আস্তে আস্তে, গম্ভীর হয়ে কথা বলছিলেন অনেক। কিন্তু সেসব হিন্দিতে অনুবাদ করবার শক্তি নেই পেম্মার। অতএব লামার সঙ্গে আমার বিশেষ কথোপকথন সম্ভব হল না। কেবল পেম্মার সঙ্গেই কথা বললেন। আমার ভবিষ্যৎ জিজ্ঞেস করতে অনেকবার পেম্মা আমাকে মনে করিয়ে দিলেও আমি সেটা পেরে উঠলুম না। অথচ জানতে যে একদম ইচ্ছা করছিল না, তা বলব না কিন্তু কিছুতেই ব্যক্তিগততম প্রসঙ্গটি তুলতে সম্মত হলুম না। ইগোতেই বাধল। তা হলে আমারও অহং আছে? অর্থাৎ আমিও মুক্তপ্রাণী নই?—”সব অহংকারই বন্ধন। কঠিন বন্ধন আপন শোকের অহংকার।” চুপ করে রইলুম। লামার পূর্বজন্মের লক্ষণ-স্বরূপ জন্মচিহ্নটা দেখালে পেম্মা দক্ষিণ বাহুতে লাল জড়ুল।

    .

    খুব যত্ন করে চমৎকার জাপানি কাপ ডিশে আমাদের নমক-চা ও বিস্কুট খাওয়ালেন। বেরিয়ে আসছি, দেখি বাড়ির সামনে স্বাস্থ্যসুন্দর একটি ঘোড়া চরছে।

    —”ওই দ্যাখো তোমার মতন এঁরও ঘোড়া রয়েছে।”

    —”কী যে বলেন?” পেম্মা লজ্জা পেয়ে বলল—”ওঁর কি ঘোড়া একটা? ওঁর সাতটা ঘোড়া। তিনটে নিজেই কিনেছেন, গ্রামের লোকেরা চারটে উপহার দিয়েছে।”

    —”উনি সাতটা ঘোড়া দিয়ে কী করবেন? উনি কি সূর্যদেব? না হপ্তায় সাত দিনে সাতটা ঘোড়া চড়েন?”

    —”নাঃ ওই আছে। এই আর কী। লোকে দিয়েছে, আছে। লোকে পুণ্যলোভে দেয়।” সাতটি অশ্ব, চারটি সারমেয়, একটি বানরি এবং বেশ কয়েকটি গ্রামভর্তি বিশ্বস্ত মানুষ—পূর্বজন্মে যাই হয়ে থাকুন, যা দেখেছি, এ জন্মে রিপো-ছে-র সময়টা কাটছে ভাল। কিন্তু ভাষা না বুঝতে পারার বড় কষ্ট!

    নাস্তা রেডি

    আবার “মানি” ঘুরিয়ে ঈশ্বরকে স্মরণ করে পেম্মা গে-র পেছু পেছু বাড়িতে ঢুকলুম। বারোটা বাজে। আম্মাও বাগান ছেড়ে ফিরে এসে আবার উনুন ধরালেন। এবারে লাঞ্চ তৈরি হবে।

    পরিবারের লোক নয় এমনও দু-একটি ছেলে মেয়ে এল, একজন তো এক থালা ভুট্টার খই (আমার মেয়েরা যাকে পপকর্ণ বলে) নিয়ে পা ছড়িয়ে খেতে বসে গেল। আম্মা এক বিরাট লাউ নিয়ে একটা ছোরা বাগিয়ে কুটনো কুটতে বসলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই খানা প্রস্তুত। আটা মেখে রুটি না করে লেচিটা সেদ্ধ করে খেলে বেসন হয়, তেমনি একটা জিনিস, শুনলুম mil- let থেকে তৈরি—ভাতের বদলে সেটি, পা, মাখম-চা এবং রক্‌শি। দুপুরেও রকশি। এ বাড়িতে কাউকে ছাং খেতে দেখছি না।

    —”রোজ দুপুরে কিন্তু এমন হয় না। কেউ যেদিন গোরু ভেড়া চরাতে যায়, দূরে দূরে খেতির কাজে যায়, সেদিন সঙ্গে টিফিন নিয়ে যায়।”

    —”কী টিফিন?”

    –“কেন? চওঁরী মাংসের পুর দেওয়া মোমো, কিংবা ঝ্যান্ আর লঙ্কার চাটনি?”

    –“কখন ফেরে?”

    —”ফেরে সন্ধে হলে। ফিরে চা খায়, রক্‌শি খায়। আরাম করে। সাতটা বাজলে রাত কা খানা খায়েগা। খানার পরে আরেকটু রক্‌শি খায়। জপতপ করে। আটটার মধ্যে বিছানা। লামাদের অবশ্য রুটিন একটু অন্য। রশিটা বাদ।”

    .

    আম্মারা সকাল থেকে কী কী করেন? ঘুম থেকে উঠে প্রথমে বিছানা তোলা। ঝাড় লাগানো। তারপরে উনুন ধরানো।

    পানি গরম।

    মুখ ধোয়া।

    চায় বানানা।

    সবজি, ঝ্যান, পা বানানা

    খানা খতম করে বেরিয়ে পড়া। খেতিকাম দেখা, চওঁরী-বকরি দেখা। ছেলেরা চলে যায় বাঁশ কাটতে, কাঠ কাটতে, তক্তা চিরতে, লাকড়ি আনতে, গোরু-ভেড়া চরাতে। আম্মা খেতিকামের পরে ফিরে এসে উলের থান বোনেন তাঁতে,—কাঁটাতেও বোনেন সোয়েটার, টুপি, মোজা, মাফলার। যব, গম ঝাড়েন, বাছেন রোদে দেন। কোনও কোনওদিন রশি তৈরি করে। মিরচকা আচার, চওঁরী দুধের ঘি বানান। মাংস শুকনো করেন। ভরে রাখেন। আম্মার কত কাজ! আম্মাদের কাজের কি শেষ আছে? সাধে কি আম্মাদের বাপ-মাকে পণ দিয়ে তবে তাদের ঘরে আনতে হয়?

    .

    স্নান করাটা এদের রুটিনে নেই। বছরে মাত্র একদিন! বসন্ত কালে।

    .

    এরা বড় স্বল্পভাষী। নিজেদের মধ্যেও খুব একটা কথাবার্তা বলতে দেখছি না। মোটামুটি চুপচাপ। খালি হাসে। কিছু বললে খুব নিচু গলায় বলে।

    চিত্রকর

    খেয়ে উঠে, আমি আর পেম্মা খাণ্ডু গ্রামে ঘুরতে বেরুই। পেম্মা বলল, চলুন এবার আপনাকে তাংখা আঁকা দেখিয়ে আনি। ওইদিকে একজন—”পেন্টিং করনেওয়ালা জাতকা ঘর হ্যায়।”

    বেরুবার সময়েও একবার “মানি’টা ঘুরিয়া যাই। ওঁ মণি পদ্মে হুম্।

    ওর গুম্ফা পেরিয়ে, একটা আলুর ক্ষেত পার হয়ে, আমরা একজনদের বাড়ির আওতার মধ্যে ঢুকে পড়ি। মস্ত সবজি বাগান। বাড়িটা ভেতর দিকে। পথে দেখা একটি চোদ্দো-পনেরো বছরের মেয়ের সঙ্গে। তার হাত ধরে নাচতে নাচতে যাচ্ছে বছর তিন-চারের একটি দেবশিশু। পেম্মা তার সঙ্গে কী কথাবার্তা বলে। সে হেসে উত্তর দেয়। আমাকে নমস্তে করে। তারপরে চলে যায়। পেম্মা বলে—”বাড়িতে আছে। এই হচ্ছে পেন্টিংকরনেওয়ালার বউ, আর ওইটে ছেলে।”

    –“এতটুকু বউ? তার অতবড় ছেলে? ওর বয়েস কত?”

    —”উনিশ বিশ হবে।”

    —”আর যে আঁকে, তার?”

    —”ওই, বিশ বাইশ হবে।”

    নীচের ঘর খোলা। হাট দরজা। ঘরে কেউ নেই। বাসনপত্র সাজানো। উনুনে চায়ের ঝারি।

    পেম্মা ছোট সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠে। আমি নীচে অপেক্ষা করি।

    একইরকম ঘর। কেবল এর সামনের বারান্দাটা সরু, মাথায় চালা আছে। সামনে ক্ষেতি বাগিচা। পাহাড় দূরে। পেম্মা এসে আমাকে ওপরে নিয়ে যায়। দোতলার ঘরটি সেই ইয়েশি আনির বাড়ির পুজোর ঘরের মতোই। ছোট। খুব আলো আছে, মস্ত জানলা। একদিকে পুজোর ব্যবস্থা। কাঠের বেদীতে বুদ্ধমুর্তির সামনে রূপোর বাটিতে জল রাখা। দেবদেবীর তাংখা অনেকগুলি ঝুলছে, ঘিয়ের প্রদীপ, ধূপ জ্বলছে।

    এক বৃদ্ধ সেখানে বসে বসে সুর করে পুঁথি পড়ছেন। ভারি সুন্দর দৃশ্য। আমাকে নমস্কার করলেন।

    তার পাশে, ঠাকুর দেবতাদের দিকে পাশ ফিরে জানলার দিকে মুখ করে এক তরুণ আপন মনে ছবি আঁকছে, সামনে একটা বড় পেতলের থালায় অনেক বাটি বাটি ভর্তি মাটির রং গুলে রেখেছে। তুলি রেখে দু-হাত তুলে নমস্কার করল, লজ্জা-লজ্জা হেসে।

    দুটি ছবি সে আঁকছে একসঙ্গে।

    দুটিতেই যেখানে যেখানে নীল রং লাগানোর, সেই কাজটি করছে। নীল রং দিয়ে জায়গাগুলো ভরা। একটি তাংখা মহাকালীর, অন্যটি গৌতমবুদ্ধের ছবি। অত্যন্ত সুন্দর লাগল আমার। এর দাম কত? পেম্মা জেনে নিয়ে বলল চল্লিশ টাকা। এ টাকা তক্ষুনি দিতে চাইলুম—কিন্তু লৌ ছং (ছেলেটির নাম তাই) নিল না। বলল, অর্ডার দিয়ে যান পরে এঁকে দেব। এগুলো অর্ডারি মাল, আর্টস এন্ড ক্রাফ্টস সেন্টারের জন্য। (সেখানে এই তাংখার দাম দেড়শো। সে কথা কি লৌ ছং জানে না?) এখানে ক্যামেল রং-এর চিহ্ন দেখা গেল না।

    পেম্মা জানায় লৌ ছং-এর বাবা তুন্‌ড্রলা বড় বৃদ্ধ হয়েছেন আর তুলি ধরতে পারেন না, তাই দিন রাত পুজো আচ্চা পুঁথিপাঠ নিয়ে আছেন। লৌ ছং উপযুক্ত পুত্র হয়েছে সে উপার্জন করে বাবাকে খাওয়ায়, স্ত্রী পুত্রের ভরণ-পোষণ করে। ওর মা নেই। ছবি এঁকেই লৌ ছং-এর বাবা সংসার চালিয়েছেন, লৌ ছং-ও তাই চালাচ্ছে। লৌ ছং আমাদের চা খাওয়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল, আমি ওর কাজে বিঘ্ন করতে চাইলুম না। ওখান থেকে বেরিয়ে পড়লুম। এবার ফিরতে হবে।

    দূর মেরা মনজিল

    ব্যাগসমেত দাঁড়াতে হবে সেইখানে, যেখানে এ ডি সি-র জিপ এসেছিল। বার বার করে হাত ধরে বিদায় নিলুম লামার পরিবারের কাছে। এতটা সহৃদয়তা, ভাষা ছাড়াই যেটা অন্তরে পৌঁছে যাচ্ছে, তার মূল্য দেবার মতো কোনওই সম্পদ নেই আমার শহুরে ঝুলিতে, আমার ‘ফুটানিকা ডাব্বা’তে।

    উড়কিন খামো লাফাতে লাফাতে এল আমাদের পেছন পেছন বড় রাস্তা অবধি, কারমো আর কিন্দন নিজের বাড়ির চৌকাঠেই বিদায় দিলে।

    ওরাও আমাকে খাদা দিয়েছে, আর ফল দিয়েছে।

    রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি, অনেকে এসে পেম্মার কাছে খোঁজ নিয়ে যাচ্ছে ব্যাপার কী? এখনই চলে যাচ্ছে কেন তোমার অতিথি? ওই তিনজন তিব্বতি লামার মতো থাকবে না এখন আট-দশ মাস?

    হঠাৎ হর্ন দিয়ে শান্ত স্তব্ধ পাহাড়ি বিকেলটাকে চমকে দিয়ে ট্রাক এসে পড়ল। বাস নয়! বাস মেলেনি, ট্রাকেই যাওয়া

    সুভাষবাবু বেরিয়ে এলেন।

    –“কই, ব্যাগ-ট্যাগ কই? ভাবলুম বুঝি এবার আন্নি হয়ে আন্নি গুম্ফাতেই চলে যাবেন বুঝি!”

    —”সে কপাল করলে তো? কই, কুকুরছানা কই? ভুলে গেছেন?”

    —”সে কপাল করলে তো? ভুলব কী? এ ডি সি, ই এ সি এম ও, এ ডি সি-র ড্রাইভার, প্রত্যেকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। ডক্টর সেনের কুকুরছানাটা নিয়ে যেতে হবে কিন্তু—দু-দিনের জন্যে এসে কেন যে আপনারা মায়া বাড়ান ম্যাডাম। চলুন চলুন উঠে পড়ুন দেরি হয়ে যাচ্ছে—”

    —”কই? কই? কুকুরছানা দেখি?”

    —”কোনটা?”

    —”মানে?”

    —”দুটো এনেছি। একটা লাসা আসো আছে। ওগুলোই লোকে কেনে। তিব্বতি হাউন্‌ড তো সভ্য অঞ্চলে কেউ দেখেনি। ওরা চমরী পাহারা দেয়। এখানে সরকারি আপিস পাহারা দিচ্ছে। তাই আপনি জানতে পারলেন।”

    —”লাসা আপসো সেই বেঁটে গুড়গুড়ে লোমঝুলঝুলেগুলো? ও আমার ভাল লাগে না। ওদের মোটেই আত্মবিশ্বাস নেই, কেবল খিটখিট করে। কামড়াতে যায়। বেড়াল-বেড়াল কুকুর আমার পছন্দ নয়। বেড়াল হবে বেড়ালের মতো, আর কুকুরের মতো কুকুর।”

    —”তা হলে তো খুব ভাল। ওরা অন্যটাই চাইছিল–প্লেসে নিয়ে চারশো টাকায় বেচতে পারবে। বলছে অবশ্য পুষবে।”

    –“কারা?”

    —”এই গাড়িতে এক ড্রাইভার যাচ্ছে কিনা আমাদের, ফ্যামিলি নিয়ে, ছুটিতে। একটা কুকুরছানা সে নেবে। আপনার প্রথম চয়েস ছিল।”

    —”আমি আমারই নেব।”

    গোল একটা উলের বলের মতো নরম গরম তুলতুলে জিনিস ট্রাকের ওপর থেকে কেউ আমার কোলে ছুড়ে দিল। কোলে নিয়ে ট্রাকে উঠলুম। সে ছোট্ট জিভ বের করে আমার হাত চেটে দিয়ে, কাজল-পরা চোখে চেয়ে রইল। পিছনে পড়ে রইল সাম্প্রং গুম্ফার মানুষখেকো ঝিল আর প্রাণদায়িনী ঝর্না, লৌ ছং আর তার তুলি, পেম্মা খাণ্ডু আর তার পাকা পীচফলের মতো বউ। ট্রাকের ধুলোয় গ্রামটা মুছে গেল, স্বপ্নের মতো। বাঁক ফিরতেই বন।

    গোধূলির আলো লয়ে দুপুরে সে করিয়াছে খেলা

    ঝিমিয়ে পড়েছিলুম, একটুখানি। সুভাষবাবু বললেন—”ওই দেখুন পেছনদিকে তাকিয়ে। কে আপনাকে বিদায় জানাচ্ছে।”

    তাকিয়ে দেখি দূরে আশ্চর্য এক দৃশ্য। বন-পাহাড়ির মাথার ওপরে অনেক উঁচুতে মুকুটের মতো ঝলমল করছে সূর্যের আলোয় সাদা রঙের তাওয়াং গুম্ফা। হঠাৎ মন কেমন করে উঠল। জন্মের মতো বিদায়, তাওয়াং। আরেকটা মন বলল, ক্যা হ্যায় তুম্হারা, মুসাফির?

    ট্রাক নেমে যাচ্ছে। পথের পাশে একরকম ছোট ছোট গাছের জঙ্গল—”এ সমস্তই রডোডেনড্রনের বন! যখন ফুটবে, না? একদম পাগল করে দেবে রঙে রঙে—”

    —”এত ছোট ছোট গাছ?”

    —”এখানকার জাতটা ওইরকম, বেঁটে জাত— “

    আরেকটা বাঁকে আরেকবার চেঁচালেন সুভাষবাবু—”দেখে নিন! লাস্ট অ্যান্ড ফাইনাল ভিউ—আর তাওয়াং গুম্ফা দেখা যাবে না—এই শেষ।”

    এবার আরও দূর থেকে। আরেকটা বিকেল গড়িয়েছে। আলোর রংটা অস্ত-সূর্যের, তাওয়াং গুম্ফাটা যেন তামা দিয়ে তৈরি মনে হচ্ছে।

    এবার আরও মন কেমন করা। দুটো পাহাড় পেরিয়ে। এখনও রাজকীয়। তাওয়াং ক্রমশ দূর হয়ে যাচ্ছে, অবাস্তব হয়ে যাচ্ছে, এর পরে নিশার স্বপন হয়ে যাবে।

    হিন্দি চিনী ভাই ভাই

    —”এই ঝর্নাটা, বুঝলেন, লাল রঙের হয়ে গিয়েছিল যুদ্ধের সময়ে। এখানে তখন রক্তগঙ্গা বয়েছিল। আরেকটু নীচে, বাঁধের গায়ে মৃত সৈন্যের বডিতে বডিতে দেওয়াল গড়ে উঠেছিল। উঃ কী দিনই গেছে!”

    সবুজ ঢালের গায়ে ছবির মতো শান্ত সব গ্রাম। গ্রাম আর ঝর্না, নদী, আর কাঠের সেতু। এসব যাবার সময়ে দেখা হয়নি, অন্ধকার ছিল।

    —”আমরা রূপার পথ ধরে যাব।”

    “রূপা? কী সুন্দর নাম।“

    —”সুন্দর নাম, সুন্দর শহরও। আমাদের মোরারজি আসছেন তো ওখানে। উনি অবশ্য প্লেনে আসবেন। “

    —”এ অঞ্চলে চিনে সৈন্যেরা এসে দখল নিয়েছিল?”

    —”নেয়নি? বমডিলা পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল না? তবে কী জানেন, এখানে আজ যদি আবার চিনেরা আসে, গাঁয়ের লোকেরা ওদের মাথায় করে রাখবে।”

    —”সে কী কথা? এই না বললেন মেরে রক্তগঙ্গা করেছিল?”

    —”সে তো সিবিলিয়ানদের নয়। গাঁয়ের লোকেদের সঙ্গে অত্যন্ত সদ্ব্যবহার করেছিল। প্রথমেই মিন্টু লুঠ করে, তারপর মুঠো মুঠো টাকা গাঁয়ের লোকদের মধ্যে বিলি করে—ব্যস, গরিবলোক তো ওদের কেনা হয়ে গেল!”

    মুখ খুললেন আরেকজন ভদ্রলোক, আমাদের তৃতীয় সঙ্গী,—”শুধু টাকা বিলিই তো নয়, র‍্যাশন? এসেই র‍্যাশন বিলি করেছে। নিজেদের মিলিটারি র‍্যাশন পর্যন্ত বিলিয়ে দিয়েছে ওদের মধ্যে।”

    —”আর মেয়েদের সঙ্গে ব্যাভার? সেদিকটাও দেখবার মতন। একটাও মেয়েকে বেইজ্জতি করেনি।”

    —”বাচ্চাদের হাতে লজেন্স বিস্কুট তুলে দিয়েছে। কিছু লুঠপাট করেনি।”

    —”আর আমাদের জোয়ানরা? সে আর বলে কাজ নেই—

    —”এ যে শুনছি সেই দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়কার গল্প—শত্রুপক্ষ জাপানিরা এসে, মণিপুরে অসামান্য ভাল ব্যবহার করে লোকাল পিলের মন কেড়ে নিল, আর দেশভক্ত আই এন এ সৈন্যদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে লোকজন খেপে উঠল —”

    —”কেন, বাংলাদেশের যুদ্ধের সময়?”

    —”হলে কী হবে, কথাগুলো তো বলা চলবে না। বললেই লোকে বলবে দেশদ্রোহী। বদমাশ।”

    যাবার সময়েই দেখেছিলুম নুরুয়ানাঙ-এ রাস্তার ধারে একটা ভাঙা ছোট এরোপ্লেন পড়ে আছে। এরা কেউ জানে না ওটা ১৯৪২-এর, না ১৯৬২-র। বেশ চকচকে নতুন নতুন দেখতে। কাদের, কে জানে?

    দ্বা সুপর্ণা

    পথের রূপ অনবরতই পালটাচ্ছে—রূপার কাছে এসে পথ দু ভাগ হয়ে যায়। রূপার দিক দিয়ে যেতে দিল না। মোরারজির জন্য প্রেপারেশন হচ্ছে—

    —”একটু ঘুরে আসি? একটু উঁকি মেরে আসি? আবার না-হয় এই রাস্তা দিয়েই যাব”—বহু সাধ্য-সাধনা করতে, মিলিটারি পুলিশ কী মনে করে একটু হেসে নম্বর টুকে রেখে যেতে দিল!—”এখুনি ফিরবে কিন্তু!”— আমাকে ‘রূপা’ দেখানোর জন্যেই এত কাণ্ড। এঁরা সবাই বহুবার দেখেছেন।

    একচক্কর ঘুরিয়ে আনা হল ট্রাক রূপার বড় রাস্তা দিয়ে। তারপর দিরাং-এর রাস্তা ধরা হল। নিজেদের ট্রাক, তাই। হত যদি আমার একটা র‍্যাশনট্রাক, বেরিয়ে যেত ইচ্ছেমতো ঘোরা।

    কোলের মধ্যে ঘুমিয়ে আছে, ঘুমের মধ্যে দুঃস্বপ্ন দেখে ভুক্‌ভুক্ করে অপদেবতা তাড়াচ্ছে বুম্‌লা তাওয়াং। ওর নাম দিলুম বুম্‌লা তাওয়াং। যাওয়া তো হল না বুমলা পাস দেখতে। একটু দেখা, আর একটু না-দেখায় মেশানো একটা মুগ্ধ স্মৃতি—খানিকটা পাওয়া বাকিটা চাওয়ায় আটকে থাক।

    —”দিয়াং জং-এ রাতটা কাটাব আমরা। আই বি-তে ঘর ঠিক করা আছে। একটা ঘরে ছেলেরা, অন্য ঘরে মেয়েরা। অর্থাৎ হরি ড্রাইভারের বউ, বাচ্চা আর ডক্টর সেন! ডক্টর সেনের কোথাওই কোনও অসুবিধা হবে না, সেটা আমি বলতে পারি, তবে বিহুরানীর হতেও পারে। হঠাৎ, একজন ডক্টরেটের সঙ্গে—”

    –“বিহুরানী? অসমিয়া?”

    —”উঁহু! বিহারি ড্রাইভার, বিয়ে করেছে এক বাঙালিকে। বাঙালি মেয়ে অসমিয়া নাম, বিহুরানী।“

    —”বাঙালি মেয়ের অসমিয়া নাম আর বিহারি স্বামী? বাঃ।”

    —”এবং তিব্বতি কুকুর!”

    —”তারা কোথায়?”

    —”ওই তো ট্রাকেই, পিছনদিকে। “

    নদীর পাশ দিয়েই পথ, তবু অনেক দূর থেকে খুব সুন্দর আরও একটা নদীর ধার দেখা যাচ্ছে—”ওটা কোন জায়গা? খুব চওড়া আর খুব তেজি নদী একটা—”

    —”এই তো দিরাং।”

    —”এরা বড্ড সংস্কৃত-সংস্কৃত নাম দেয়। সব কিছুই অনুস্বারে শেষ, তাওয়াং, কামাং, দিরাং, জাং, সাম্প্রং? এসব শব্দের কি কোনও মানে থাকে? না শুধু ধ্বনিসর্বস্ব?”

    —”মানে থাকে বই কী। তাওয়াং শব্দেরই তো তিনটে মানে—”তা’ মানে ঘোড়া, আর ‘ওয়াম’ মানে—যেখানে ভালভাবে পালন করা যায়—অর্থাৎ আস্তাবল।”

    —”আরেকটা মানে আছে, তা’ থেকে নেমে দেবতা এদের ‘অং’ করেছিলেন অর্থাৎ ঘোড়া থেকে নেমে আশীর্বাদ করেছিলেন, তাই তা-অং নাম।”

    —”আর তৃতীয় মানে হচ্ছে তান্ত্রিক দেবতা তাদ্রিন এখানে বেড়াতে এসে মোম্পাদের যত্নে প্রসন্ন হয়ে ওদের কষ্ট যাতে লাঘব হয় তাই বর দিয়েছিলেন। কী বর? ঘোড়া! তার আগে এদের ঘোড়া ছিল না। সেই থেকে জায়গাটার নাম তা-অং, অর্থাৎ ঘোড়া-রূপ আশীর্বাদ।”

    —”বুঝলুম, রূপক কর্মধারয়? এবার বলুন দিরাং মানে কী? ওই নাম কেন?”

    —”দিরাং? দিরাং নাম তো ওই নদীর নামে। দিরাং নদীর ধারের গ্রাম তো?”

    –“দিরাং নদীরই বা নাম দিরাং কেন?”

    —”দিরাং শব্দের মানে দুটি পাখি।”

    —”দুটি পাখি? বাঃ! কী নাম!“

    .

    দ্বা সুপর্ণা?

    একটি পাখির খুঁটে খাওয়া আরেকটি চোখের চাওয়া।

    একটি ভোগী, আরেকটি যোগী।

    দিরাং নদীর যেমন তেজ, তেমনি রূপ।

    পার্বত্য বেগ, আর উপত্যকার ব্যাপ্তি দুটোই ধরে ফেলেছে, দিরাং নাম ভুল হয়নি।

    আমার মধ্যেও কি অমন দুটো পাখি নেই? ওই দুটো পাখিই—?

    একটি প্রপাত, আরেকটি সরসী?

    একটা কেবল নুড়ি কুড়িয়ে জড়ো করে, পাতা কুড়িয়ে জড়ো করে। আরেকটা হাল ছুঁড়ে ফেলে পাল ছিঁড়ে ফেলে নৌকো খুলে দেয়।

    একটা কেবলই জড়িয়ে ধরে, আরেকটা কেবল ছেড়ে যায়।

    —”যাকে ছেড়ে এলেম,
    তাকে নিচ্ছি চিনে।
    সরে এসে দেখছি
    আমার এতকালের সুখদুঃখের ঐ সংসার
    আর তার সঙ্গে
    সংসারকে পেরিয়ে কোন্ নিরুদ্দিষ্ট।”

    কোলের মধ্যে শুয়ে, স্বপ্ন দেখন্ত বুম্‌লা তাওয়াং ভুক ভুক করে বললে : ছাড়তে আর শিখলে কোথায়?

    জড়াচ্ছই তো কেবল।

    তাওয়াংকেই কি ছেড়ে যেতে পারলে?

    ⤶
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleতিন ভুবনের পারে – নবনীতা দেবসেন
    Next Article ভ্রমণ সমগ্র ১ – নবনীতা দেবসেন

    Related Articles

    নবনীতা দেবসেন

    মায়া রয়ে গেল – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    নবনীতা দেবসেনের গল্প

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    করুণা তোমার কোন পথ দিয়ে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    হে পূর্ণ, তব চরণের কাছে – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণের নবনীতা – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    নবনীতা দেবসেন

    ভ্রমণ সমগ্র ১ – নবনীতা দেবসেন

    September 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }