Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ট্রেইটরস ইন দ্য শ্যাডোস : এম্পায়ার অব দ্য মোগল -অ্যালেক্স রাদারফোর্ড

    লেখক এক পাতা গল্প453 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১১. তখতইয়া তক্তা!–সিংহাসন না-কি কফিন!

    কালো একটি ঘোড়ার উপর দীর্ঘদেহী একজন মানুষকে দেখিয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে আকবর তাহাব্বুর খানকে বলেলেন, ‘দ্যাখো! মেবারের রানা কেবল একজন উপদেষ্টা সাথে নিয়ে এসেছেন। এ বিষয়ে আমরা দুজনেই একমত হয়েছিলাম। পামগাছে ছাওয়া ছোট মরুদ্যানটির দিকে রানা এগোতেই তার ঘোড়ার রত্নখচিত লাগামে সকালের রোদ পড়ে ঝিকমিক করে উঠলো। দুই সেনাবাহিনীর মধ্যখানে এই জায়গাতেই ওরা তাদের সাক্ষাতের স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। রানার সাথের একমাত্র অশ্বারোহী সঙ্গীটিকে দেখে বেশ কমবয়সি মনে হল। অবশ্য সেটা রানার বিষয়। পামগাছের ছায়ার নিচে এসে রানা ধীরে ধীরে ঘোড়া থেকে নামলেন। তারপর পেছন পেছন তার সঙ্গীকে নিয়ে হেঁটে সামনে যেখানে আকবর আর তাহাব্বুর খান দাঁড়িয়েছিলেন সেদিকে এগোতে শুরু করলেন। ওরা একটি শামিয়ানার নিচে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। এর আগের সন্ধ্যায় আকবরের লোকেরা শামিয়ানাটি এখানে খাটিয়েছিল।

    আকবর এক পা সামনে এগোতেই অবাক হয়ে দেখলেন রানা মাথা নুইয়ে তাকে সম্মান দেখাতে শুরু করছেন। আকবর বললেন, এখন লৌকিকতা বাদ দিন। আপনি কি বলতে চান তা জানতে আমি আগ্রহী। কৌতূহলি মানুষের চোখ-কানের নজর থেকে আমরা এখন অনেক দূরে। কাজেই মন খুলে কথা বলুন যাতে, আমরা পরস্পরের উদ্দেশ্য পরিষ্কার বুঝতে পারি।’

    ‘আমি অবশ্যই সবকিছু পরিষ্কার করে বলবো। আমি এসেছি মারওয়াড়ের রাজপ্রতিভূ আর আমার নিজের তরফ থেকে। আমরা উভয়েই মনে করি আপনার নামে যার নাম, সেই মহান সম্রাট আকবরের মতোই সাম্রাজ্যের সকল মানুষের প্রতি আপনার সহনশীলতা এবং বিবেচনাবোধ রয়েছে।’

    আরেকবার রানা তাকে প্রশংসা করায় আকবর মৃদু হেসে বললেন, আমার সেই মহান পূর্বপুরুষের প্রতি আমারও গভীর শ্রদ্ধাবোধ আছে। আমার শুধু কামনা যদি আমি তাঁর মহত্ত্বের সামান্য পরিমাণও অর্জন করতে পারতাম, তাহলে নিজেকে ধন্য মনে করতাম। তবে তার তুলনায় আমি কিছুই না।’

    ‘আপনার এই বিনয় আপনাকেই মানায়, জাহাপনা। তবে এর বিচারের ভার অনুগ্রহ করে আমার হাতে ছেড়ে দিন। আপনি আমাকে মন খুলে কথা বলতে বলেছেন। আমি আমার এখানে আসার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করছি। হিন্দু প্রজাদের বিরুদ্ধে আপনার বাবার গোঁড়ামি সাম্রাজ্যকে ধ্বংস করে দেবে। রাজপুত রাজ্যগুলোর মতো দীর্ঘদিনের মিত্রকে শত্রুতে পরিণত করবে আর তুচ্ছ অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে ধন-সম্পদের অপচয় হবে। এটি করতে গিয়ে তিনি বিদেশি হামলাকারীদের জন্য হিন্দুস্তানকে একটি অরক্ষিত, সহজ লক্ষ্যবস্তু করে তুলবেন। নীতিগতভাবে তিনি যা সঠিক মনে করেন এবং এর পেছনে যে কঠিন বিশ্বাস রয়েছে তার চরম প্রকৃতির বিষয়ে তিনি অত্যন্ত বিশ্বস্ত। আর তিনি এমন একগুঁয়ে যে তার মত বদলানো যায় না। এছাড়া আমাদের বিরুদ্ধে আর আমাদের অন্য হিন্দুভাইদের বিরুদ্ধে তাঁর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের অর্থ এই দাঁড়ায় যে, অনেকেই আর স্বেচ্ছায় তাঁকে তাদের শাসক হিসেবে মেনে নেবে না। যদিও আমরা বিশ্বাস করি আগে আমরা পরস্পরের মধ্যে লড়াই করলেও তখনকার সময়ের তুলনায় হিন্দুস্তানের রাজ্যগুলো মোগল অধিরাজত্বে অনেক শক্তিশালী হয়েছে, তবুও তাকে সরাতে হবে আর আকবর, আপনিই হচ্ছেন সবার স্বাভাবিক পছন্দ।

    রানা তার অভিপ্রায় এবার সুনিশ্চিত করে বলার পর আকবর এমন অভিভূত হলেন যে, তার মুখে সাথে সাথে কোনো উত্তর যোগাল না। রানার চিঠি তার মাঝে যে আকাক্ষা জাগিয়ে তুলেছিল তা নিয়ে তিনি খুব একটা ভাবেন নি। তাহাব্বুর খানের সাথে আলোচনা আর নিজের মনের সাথে দীর্ঘ তর্ক-বিতর্কের পর তার আকাঙ্ক্ষা পূরণের ইচ্ছা আরো গম্ভীর হয়। তবে যখন এসেছে তা মুখে প্রকাশ করার তিনি ইস্ততত করতে লাগলেন। বিষয়টি নিয়ে তার মনে যখন ঝড় চলছিল, তখন তাহার খান বলে উঠলো, আমাকে মার্জনা করবেন, তবে আমরা কী করে জানবো যে আপনি আমাদের প্রতিশ্রুতিকে সম্মান জানাবেন?

    রানার কালো চোখে আগুন জ্বলে উঠলো। একজন রাজপুতের দেয়া কথা কি সব সময় ঠিক হয় নি? তবে আপনারা যদি আমাকে সন্দেহ করেন, সেজন্য বলছি, আমার পাশে যে তরুণকে দেখেছেন সে আমার ছেলে। যদি তিনি চান, তাহলে আমার প্রতিশ্রুতির আন্তরিকতা প্রমাণের জন্য তাকে আমি শাহজাদার জিম্মায় ছেড়ে দেবো।’

    অবশেষে আকবর পুরোপুরি মনস্থির করে কথা বললেন, আমি নিজেও মনে করি আমার বাবা তাঁর কর্মকাণ্ড দিয়ে সাম্রাজ্যের ক্ষতি করছেন। আপনার কথা আর আমার উপর যে আস্থা রেখেছেন তা প্রকাশ করায়, তা থেকে আমি শক্তি পেয়েছি। এখন তাহাব্বুর খান আর আমি দুজনে মিলে আপনাদের আর সাম্রাজ্যের অন্যান্য জায়গা থেকে যাদেরকে আমাদের পতাকার তলে টেনে আনতে পারবো, তাদের সকলকে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।’

    শেষ পর্যন্ত কথাটি তিনি বলেই ফেললেন। তার বাবার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত এবং অপরিবর্তনীয় পদক্ষেপটি নেবার জন্য রাজি হলেন, যদিও জানেন যে, তার বাবা এজন্য কখনও তাকে ক্ষমা করবেন না। যেমন মোহাম্মদ সুলতানকে করেননি। তবে তিনি যেরকম প্রত্যাশা করেছিলেন, সেরকম ভয়ে কেঁপে উঠেন নি, বরং তার মাঝে এক নতুন শক্তির সঞ্চার হল আর সেই সাথে আত্মবিশ্বাসও জেগে উঠলো। তিনি তার বাবাকে দেখিয়ে দেবেন তাকে ছোট করে, তার সহনশীলতা আর সাম্রাজ্যের মঙ্গলের জন্য মানুষের সাথে আপস-মীমংসা আর তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ করার ইচ্ছাকে অবজ্ঞা করে তিনি ভুল করেছেন।

    আকবর বললেন, আমি আপনার মৈত্রীর প্রস্তাব গ্রহণ করছি। আমরা সবাই মিলে আমার পূর্বপুরুষ আকবরের সময়ে মোগল সাম্রাজ্য যেরূপ গৌরবময় অবস্থায় ছিল, তা আবার ফিরিয়ে আনবো। আমি জানি রাজপুতরা কথা দিয়ে কথা রাখে। কাজেই রাজপুতদের আন্তরিকতা প্রমাণের জন্য আপনার ছেলেকে জিম্মি হিসেবে রাখার প্রয়োজন নেই।’ কথা বলা শেষ করে আকবর হেঁটে সামনে এগিয়ে রানাকে আলিঙ্গন করলেন। কয়েক মুহূর্ত পর তাকে ছেড়ে দিয়েই আবার বললেন, এখন আমাদের অভিযানের পরিকল্পনা শুরু করতে হবে, তাই না? প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আমি যতবেশি সম্ভব আমার নিজের সেনাবাহিনীর সদস্যদের আমার পতাকাতলে আনার চেষ্টা করবো। আর তাহাব্বুর খান আর আমি আশা করি ওদের সবাই আমার দলে আসবে, কি বল তাহাব্বর?’ তার দুধ-ভাই মাথা নেড়ে সায় দিল।

    রানা বললেন, আমি যখন জানবো আপনি এটা করতে সফল হয়েছেন, তখন আমিও আমার সেনাবাহিনী নিয়ে আপনার সাথে যোগ দেব। এছাড়া মারওয়াড় আর অন্য যেকোনো রাজপুত রাজ্যকে রাজি করাতে পারলে তাদেরকেও এতে সামিল করবো। তবে আমাদেরকে দ্রুত কাজ করতে হবে। আমার চরেরা আমাকে নিশ্চিত করে জানিয়েছে–এটা আপনারও জানা উচিত যে, আপনার বাবা মুয়াজ্জমের সেনাবাহিনীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আজমিরে ফিরে গেছেন। আপনার ভাই আযম বাংলার সুবেদার পদে যোগ দেবার জন্য চলে যাওয়ার পর আওরঙ্গজেবের সাথে এখন বড়জোর আটশোর মতো সৈন্য রয়েছে। আপনার নিজের বিপুল সংখ্যক সেনা অন্যদের তুলনায় আজমির আর আপনার বাবার অনেক কাছে রয়েছে। এটা আপনার জন্য একটা বড় সুযোগ, তিনি কিছু বুঝার আগেই আপনি এখুনি তাকে বন্দী করে সিংহাসন দখল করতে পারেন। আর এতে নিশ্চিত অনেক কম প্রাণহানি হবে।

    *

    আকবর দেসুরিতে তার শীতল কামরায় ফিরে গেলেন। মাত্র দুই ঘণ্টা আগে তার সেনা কর্মকর্তারা তার বাবাকে সিংহাসনচ্যুত করার পরিকল্পনায় রাজপুতদের সাথে মৈত্রী করার বিষয়ে তাকে প্রায় সর্বসম্মত সমর্থন দিয়েছে। তিনি তার সৈন্যদের সামনে গিয়েছিলেন। রণহস্তির হাওদার উপর দাঁড়িয়ে তিনি অঙ্গীকার করলেন যখন তিনি সম্রাট হবেন তখন সকলকে পুরস্কৃত করা হবে আর এর নিদর্শনস্বরূপ পরদিন সকালে দেসুরি ছেড়ে যাওয়ার আগে আজ সন্ধ্যায় একটি ভোজের ঘোষণা দিলেন। তার কথা শুনে সবাই প্রবল উল্লাসে চিৎকার করে উঠলো।

    তবে এরপরই জানা গেল ইকবাল বেগ তার কয়েকজন সৈন্যসহ ঘোড়া ছুটিয়ে বের হয়ে গেছে–সম্ভবত বিদ্রোহের খবর তার বাবাকে দেওয়ার জন্যই সে চলে গেছে। তাদের চলে যাওয়ার খবরটি হানিফ খান দিয়েছিল। সেই সাথে সে ইকবাল বেগের চলে যাওয়াকে নিন্দা জানিয়ে আকবরের প্রতি তার নিজের আনুগত্যের কথা বললো, আবার সেই সাথে আওরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে তার অবস্থানও তুলে ধরলো। অবশ্য আকবর তাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেন নি। হানিফ খানকে সতর্ক নজরদারিতে রাখতে হবে। আর এটা তাকে নিশ্চিত করতে হবে।

    এটা জানাকথা যে বিদ্রোহের খবরটি শীঘ্রই তার বাবার কানে গিয়ে পৌঁছাবে। সত্যি বলতে কি এই বিদ্রোহটি শাহজাহানের বিরুদ্ধে আওরঙ্গজেব যে বিদ্রোহ করেছিলেন ঠিক সেরকমই। এখানে ইকবাল বেগ না হলে অন্য কেউ হত। আর তাতে কী আসে যায়? রাজপুতদের সাথে নিয়ে তিনি আজমির পৌঁছার আগে তার বাবা অতিরিক্ত সেনা ডেকে আনার সময় পাবেন না। তবে বাবাকে সম্মান দেখিয়ে অবশ্যই একটা চিঠি লিখে সমস্ত বিষয় ব্যাখ্যা করে জানাতে হবে, তিনি কী করতে যাচ্ছেন আর কেনইবা করতে চাচ্ছেন। নিচু টেবিলের সামনে বসে আকবর একটা টুকরা কাগজ নিলেন। দ্রুত চিঠি লিখে ঘোড়া বদল করে করে রাজকীয় সংবাদবাহক পাঠালে তার চিঠিটা ইকবাল বেগের আগেই তার বাবার হাতে পৌঁছে যেতে পারে।

    *

    জানালা দিয়ে অস্তগামী সূর্যের আলো আজমির দুর্গের দেওয়ান-ই-আমের ভেতরে এসে পড়ছে আর অনেক থামের লম্বা লম্বা অন্ধকার ছায়া সাদা মার্বেল পাথরের মেঝের উপর পড়ছিল। আওরঙ্গজেব তার ছেলের সংক্ষিপ্ত চিঠিটি পড়ছিলেন। তিনি এই প্রথম আকবরের বিদ্রোহের কথা শুনলেন আর চিঠিতে যা পড়ছিলেন তা তার বিশ্বাসই হচ্ছিল না। তবে হাতের লেখা আকবরের আর সিলমোহরও তার। যতই তিনি বিষয়টা নিয়ে ভাবলেন ততই তার মনে শীতল রাগ দেখা দিল। কি করে তার এই ছেলে–যে কি-না মারওয়াড়ের বিরুদ্ধে একটি সমরাভিযানও সফল করতে পারে নি সে আওরঙ্গজেবের চেয়ে নিজেকে সাম্রাজ্য শাসন করার উপযুক্ত মনে করতে পারলো? তার কী দুঃসাহস যে, এমন বিশ্বাসঘাতকতা করে তার বাবা আর তার ধর্মের শত্রু রাজপুতদের সাথে হাত মেলাতে পারলো? তিনি সব সময় আকবরকে নমনীয় আর দুর্বল ভাবতেন, বিদ্রোহ করা তো দূরের কথা সে কখনও সবার আড়ালেও তার বাবার মতের বিরুদ্ধে কোনোদিন উঠে দাঁড়ায় নি। এটা নিশ্চয়ই রাজপুতদের বিশ্বাসঘাতকতা, তারা তাকে মহান বানিয়ে তার মতিভ্রম ঘটিয়েছে। পুরো চিঠি জুড়ে হিন্দু আর মুসলিমের মাঝে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা আর জিজিয়া কর তুলে দেবার বিষয়ে মেকি আর লোক দেখানো ধার্মিক লোকের মতো মন্তব্য করা হয়েছে। তার মতোই একই নামের সম্রাট আকবরের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা আর পানির মতো পাতলা সুফিবাদের প্রতি তার বিশ্বাসের কারণে সে রাজপুতদের কথায় সহজেই প্রভাবিত হয়ে পড়েছে। তারা তাকে আগেকার সময়ের তথাকথিত সমতা এবং ধর্মসহিষ্ণুতার দিকে ফিরে যেতে অনুরোধ করেছে।

    তবে তার ছেলে তার চেয়েও বেশি মনের আসল ভাবনা গোপন রেখে চলেছিল? এটা তিনি কখনও সম্ভব হতে পারে ভাবেন নি। এটা হয়তো নীতি বিবর্জিত রাজপুতদের চতুরতা দিয়ে প্ররোচিত আবেগ তাড়িত একটি বিদ্রোহ শুধু নয়। হয়তো আকবর বেশ আগে থেকে এটা পরিকল্পনা করে রেখেছিল। সে তার ভাইদেরও তার সাথে জড়িত করেনি তো? এখন মনে পড়ে গেল তার নিজের পরিকল্পনার কথা, কিভাবে তিনি সাম্রাজ্যের একটি অংশ দেবার লোভ দেখিয়ে, তার ভাই মুরাদ আর শাহ সুজাকে রাজি করিয়েছিলেন, দারা শিকো আর তাঁদের বাবার বিরুদ্ধে তাঁর সাথে হাত মেলাতে। তার মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে কত সহজে তারা তার প্রস্তাবটি লুফে নিয়েছিলেন।

    তবে মুয়াজ্জম বেশ সতর্ক আর আত্মবিশ্বাসহীন। মারওয়াড়িদের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় বেশ সতর্কতার সাথে বাবার দিক নির্দেশনা মেনে চলেছিল আর রাজদরবারে সহজে মুখ খুলতে না–তাকে মনে হয় এতো সহজে সন্তানোচিত দায়িত্ব পালনের পথ থেকে প্রলুব্ধ করে কুকর্মে প্ররোচিত করা যাবে না। আর এর পরিণতিতে কী হতে পারে সে ভয়তো আছেই।

    তবে আজমের ব্যাপারে কী হতে পারে? আজম আর আকবর একই মায়ের পেটের আপন ভাই আর বয়সেও কাছাকাছি, মুয়াজ্জম তা নয়। সে বেশ বদমেজাজি আর আকস্মিক আবেগে চলে। যদিও জানির সাথে বিয়ের পর মনে হয় সে একটু শান্ত হয়েছে। তবে তাঁর সেনাপতিদের সূত্র থেকে তিনি জানতে পেরেছেন যে, আজম ইতোমধ্যেই এলাহাবাদ ছাড়িয়ে তার সৈন্যদল নিয়ে গঙ্গার বুকে নৌকা বেয়ে বাংলার সুবেদারের নতুন পদে যোগ দেওয়ার জন্য চলে গেছে। এতে বুঝা যাচ্ছে আকবরের ভাইয়েরা হয়তো এতে জড়িত নয় আর এই বিদ্রোহ আসলে কেবল রাজপুত আর তার ছেলের মধ্যেই সীমিত। এই হঠকারিতার জন্য তাদেরকে অবশ্যই ভুগতে হবে।

    এই পরিস্থিতিতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, সে সম্পর্কে ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করতে গিয়ে তিনি মনে একটি ধাক্কা খেয়ে বুঝতে পারলেন, আকবরের সেনাবাহিনী রাজপুত লুটেরা জোটের সাথে মিলে তাকে বাইরের সাহায্য থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে। তার চেয়ে ভাল হবে বরং আজমির দুর্গে অবস্থান করে তাঁর সেনাদলকে দুর্গ রক্ষায় মোতায়েন করবেন, তারপর সুযোগ বুঝে লোকজনসহ এখান থেকে বের হওয়ার একটা পথ খুঁজবেন। দুর্গটি বেশ সুরক্ষিত এবং তাঁর আটশো সেনাও এখান থেকে বড় ধরনের সেনাবাহিনীর আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যুদ্ধ চালাতে পারবে। আজমির কোষাগার থেকে সোনা বিলিয়ে সৈন্যদের মনোবল চাঙ্গা রখার ব্যবস্থা করবেন। আর এখুনি মুয়াজ্জমকে খবর দিতে হবে, যেন সে তার সৈন্য নিয়ে অবিলম্বে তার কাছে চলে আসে, তবে তাকে এর কারণটি বলা যাবে না। তার ছেলের প্রতিক্রিয়া থেকে শীঘ্রই বুঝা যাবে এই বিদ্রোহে সে জড়িত কি-না।

    এছাড়া তাকে ভেবে বের করতে হবে তার স্বপক্ষে আরো সমর্থক যোগাড় করা যায় কি-না আর সেই সাথে আকবর আর তার মিত্রদের পরিকল্পনা কিভাবে বানচাল করা যায় তাও ভেবে বের করতে হবে। লড়াইয়ের ময়দানে যেমন যুদ্ধ হয় তেমনি তা মানুষের মনেও হয়। সুতীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর আল্লাহর সহায়তা নিয়ে তিনি যেকোনো বিদ্রোহীর চেয়ে শ্রেয়তর প্রমাণিত হবেন। এমন সময় দরজায় কেউ করাঘাত করতেই তাঁর চিন্তার সূত্র কেটে গেল। একজন কোরচি হাজির হয়ে বললো, ‘জাঁহাপনা, ইকবাল বেগ এসেছেন। তিনি এখুনি আপনার সাথে দেখা করতে চাচ্ছেন। তিনি বলেছেন তার কাছে আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি খবর রয়েছে।

    ‘তাকে বল সে অনেক দেরি করে ফেলেছে। আমি আমার ছেলের বিশ্বাসঘাতকতার সমস্ত খবর পেয়েছি আর সে ব্যাপারে ব্যবস্থাও নিচ্ছি।’

    সেই সন্ধ্যায় আজমির দুর্গে তাঁর কামরায় একাকী আওরঙ্গজেব ভেড়ার মাংসের তন্দুরি মশলা, দই আর নান রুটি দিয়ে অতি সাধারণ রাতের খাবার খাচ্ছিলেন। খাবার চিবোতে চিবোতে তিনি তাঁর ছেলের বিদ্রোহ কিভাবে সবচেয়ে ভালোভাবে দমন করা যায় তা নিয়ে ভাবছিলেন, এমন সময় কামরার ছায়াঘেরা দরজার ঝালর কেঁপে উঠলো আর আপাদমস্তক চাদরে ঢাকা একটি মূর্তি উদয় হল। কে আসতে পারে এসময়ে না বলে কয়ে? তার হাত চলে গেল কোমরে গোঁজা ছোরার দিকে, তারপর সাথে সাথে দেখলেন তাঁর বোন জাহানারা এসেছেন। মুয়াজ্জমের শিবির থেকে ফেরার পর জাহানারাও আজমিরে তাঁর কাছে চলে এসেছিলেন। তিনি এগিয়ে কামরার আরো ভেতরে আলোর কাছে আসতেই দেখা গেল তার চোখে পানি আর দুই হাত বিক্ষিপ্তভাবে অনবরত কচলাচ্ছেন। তিনি বললেন, “আওরঙ্গজেব, আমি এইমাত্র আকবরের ব্যাপারটা শুনলাম। আমি সবসময় তাকে একজন মর্যাদাবান মানুষ ভাবতাম…বল ব্যাপারটা আসলে সত্যি না। আমার মনে হয়না আমি এটা সহ্য করতে পারবো…এটা কি করে হতে পারে…’ তার মুখ থেকে কথা হারিয়ে গেল।

    ‘হ্যাঁ, এটা সত্যি। আকবর বিদ্রোহ করেছে।

    ‘তুমি এখন কী করবে? আমরা আবার আমাদের পরিবারে রক্তপাত আর ঘৃণা আনতে দিতে পারি না..অবশ্যই না..’।

    তার শক্ত মনের বোনকে এরকম ভেঙ্গে পড়তে তিনি আর কখনও দেখেন নি। আওরঙ্গজেব তাঁর বোনের দুই হাতের কব্জি ধরলেন। তার সারা শরীর কাঁপছিল, আওরঙ্গজেব তাঁর চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে বললেন, ‘শান্ত হোন। আমার উপর বিশ্বাস রাখুন। আমি ইতোমধ্যেই তাকে ধরে ফেলার পরিকল্পনা করে ফেলেছি। সব ঠিক হয়ে যাবে।’

    তা কেমন করে হবে?

    কারণ আমি এটা করে ছাড়বো। আকবর কিংবা হঠাৎ গজিয়ে উঠা আর কেউ আমাকে ভয় দেখাবে কিংবা আমার সাম্রাজ্যকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে, তা আমি হতে দেব না। সে তার কৃতকর্মের জন্য অবশ্যই ভুগবে।

    ‘আকবর তোমার ছেলে, অথচ তুমি এমনভাবে তার সম্পর্কে কথা বলছো, যেন। সে একজন বাইরের লোক।

    ‘এখন সে আমার কাছে একজন অচেনা মানুষ।

    ‘আওরঙ্গজেব, দয়া করে…এত শীতল হইও না। তাকে কিছু হলেও দয়া দেখাও।

    ‘কেন.হব? আমার কাছ থেকে সিংহাসন দখল করার জন্য সে বিধর্মী রাজপুতদের আমার বিরুদ্ধে ভিড়িয়েছে। আমার কাছে এসে বস, আমি তোমাকে সবকিছু খুলে বলছি সে কি করেছে। তারপর ভেবে দেখো সে কঠিন শাস্তি পাওয়ার যোগ্য কি-না।’

    বিদ্রোহের বিষয়টি আর এর সমর্থকদের সম্বন্ধে তিনি যা জানতেন সবকিছু বলার পর তার বোনের অস্থিরতা মনে হল একটু কমে এল। এখন আর তার দুই হাত একবার মুঠো করে আবার খুলে দেওয়া ছেড়ে স্থির হয়ে কোলের উপর পড়ে রইল। আওরঙ্গজেবের বলা শেষ হওয়ার পর কিছুক্ষণ সময় পার হওয়ার পর জাহানারা কথা বললেন, আমাকে ক্ষমা কর। তোমার মনের এই অস্থির অবস্থায় আমার এখানে আসাটা উচিত হয় নি। তবে…’ এতটুকু বলে একটু থামলেন, যেন কি ভাবে কথাটা বলবেন তা মনে মনে সাজাচ্ছেন। তারপর বললেন, “আমার অবশ্য তোমাকে কিছু কথা বলা উচিত, যা আমি জানি তুমি শুনতে চাও না।

    বল।

    জাহানারা বেশ ধীরে সুস্থে আর ভেবে চিন্তে তাঁর কথা শুরু করলেন আর সেই সাথে ডান হাতের আঙুল দিয়ে শালের এক প্রান্ত পেঁচাতে লাগলেন। আকবরের বিদ্রোহ করাটা ভুল হয়েছে। সম্পূর্ণ ভুল। ছেলে হয়ে এভাবে বাবাকে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করা কোনো যুক্তি দিয়ে বিচার করা যায় না। আমি এটা তাকে বলবো, ঠিক যেরকম অনেক বছর আগে তুমি আমাদের বাবার বিরুদ্ধে একটা সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছিলে। আর আমি–’।

    ‘কিন্তু সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যাপার। আমি যখন বাবার বিরদ্ধে গিয়েছিলাম, তখন সেটা করেছিলাম আমাদের সাম্রাজ্য রক্ষা করার জন্য। তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন আর দারা আর তার খারেজি মতবাদে প্রভাবিত হয়ে পড়েছিলেন। এটা ছিল আল্লাহর প্রতি আমার কর্তব্য।

    এ বিষয়ে আমরা কখনও একমত হতে পারবো না, তবে পুরোনো যখম খুঁচিয়ে তোলার এখন সময় নয়। তুমি কর্তব্যের কথা বলছো? বর্তমান আর ভবিষ্যৎ ঝগড়া নিবারণ করা কী আমাদের কর্তব্য নয়? আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি…যদি আমরা একসাথে কাজ করি তাহলে এই বিদ্রোহ শুরু হওয়ার আগেই আমরা থামাতে পারি। আমাকে আকবরের শিবিরে যেতে দাও…আমি তাকে দেখাবো সে কিরকম ভুলভাবে চালিত হয়েছে।’

    না। আমি এটা সম্পূর্ণ নিষেধ করছি।

    জাহানারা দমে গেলেন। আওরঙ্গজেবের চেহারা একগুঁয়ে দেখাল। জাহানারার মনে পড়লো ছোটবেলায় তিনি এরকমই জেদি ছিলেন। তিনি বললেন, তুমি যদি আমাকে কিছু করতে না দাও, তবে দয়া করে বেশি দেরি হওয়ার আগেই তুমি নিজে তোমার তরফ থেকে মিটমাটের প্রথম পদক্ষেপটি নাও। যদি এটা কর, আমি নিশ্চিত আকবর আর রাজপুতরাও আসলে এতে সাড়া দেবে। তারা হয়তো ইতোমধ্যে এ ধরনের তাড়াহুড়া করার জন্য আফসোস করছে।

    ‘তুমি যা করতে বলছে, তা করলে আমাকে ওরা দুর্বল মনে করবে। বিদ্রোহীদের প্রতি এগিয়ে যাওয়াটা আমার কাজ নয়। বরং তাদেরকেই আত্মসমর্পণ করে উচিত বিচারের জন্য নিজেদেরকে উপস্থাপন স্বীকার করতে হবে, যাতে পুরো সাম্রাজ্য–পুরো পৃথিবী বুঝতে পারে বিশ্বাসঘাতকের কী হয়।

    যদি তাদের নেতা তোমার ছেলে হয় তাও?

    বরং আরো বেশি, কারণ, সে শুধু শাসকের সাথে একজন প্রজার যে আনুগত্যের বন্ধন আছে তা ছিন্ন করে নি, সে ছেলের সাথে বাবার সম্পর্কের বন্ধনও ছিন্ন করেছে। আমি তোমাকে মিথ্যা আশ্বাস দেব না–সবচেয়ে বেশি আকবর আশা করতে পারে, তা হল তার ভাই মোহাম্মদ সুলতানের মতো বাকি জীবন গোয়ালিয়র দুর্গে বন্দী হয়ে কাটান।

    ‘তুমি কি বলছো একবার ভেবে দেখ। শুধু একজন শাসকের মতো নয় বাবার মতোও আচরণ কর। এককালে তুমি বিশ্বাস করতে, সেটা সঠিক হোক আর ভুল হোক, যে তোমার আর তোমার মতামতের প্রতি বাবার কোনো শ্রদ্ধা ছিল না। আকবরও হয়তো তোমার ব্যাপারে তাই ভাবতে পারে। আমি জানি সে অসন্তুষ্ট হয়েছে, কারণ তুমি তার খুব বেশি সমালোচনা কর। তুমি যদি তাকে আরো ভালোবাসতে, তার প্রতি আরো আস্থা রাখতে, তাহলে হয়তো সে কখনও অন্যের কথায় কান দিত না কিংবা তার প্রশংসা শুনতে তৈরি থাকতো না। আমি প্রায়ই এ ব্যাপারে তোমার সাথে কথা বলতে চেয়েছি, কিন্তু তোমাকে যতটুকু জানি তাতে ভয় হত যে, এতে হয়তো ভালো না হয়ে বরং আরো ক্ষতি হতে পারে। তাই বিষয়টা আমি নিজের মধ্যে চেপে রাখি। এখন নিজেকে দোষী মনে হচ্ছে কেন, আরো কঠিনভাবে চেষ্টা করলাম না।

    ‘এতে খুব একটা ক্ষতি-বৃদ্ধি হত না। প্রশংসার পরিবর্তে নিন্দাই বেশিরভাগ সময় আকবরের প্রাপ্য ছিল। আমি কেবল চেষ্টা করেছিলাম তাকে সঠিক পথে আনতে–তবে মনে হয় সফল হতে পারি নি।

    তাই যদি তোমার উদ্দেশ্য হত, সেক্ষেত্রে তুমি যদি এত কঠোর না হতে তাহলে হয়তো সে রাজপুতদের চাটুবাক্যে এত সহজে প্রভাবিত হত না। তোমার ছেলেদের মধ্যে একমাত্র কমবক্সের প্রতি তুমি যা কিছু আদর ভালোবাসা দেখাও।

    তার কারণ সে একটা শিশু মাত্র। যখন কমবক্স বড় হবে তখন আমি আশা করবো সেও আমাকে মান্য করবে আর আমার মতামতের প্রতি সম্মান। দেখাবে।

    ‘তোমার চেহারা দেখে আমি বুঝতে পারছি এত কথা বলে আমি তোমার ধৈর্যচ্যুতি ঘটাচ্ছি। আর এও জানি এবার যা বলতে যাচ্ছি তা তোমাকে আরো বিরক্ত করে তুলবে। এটা আমি আগেও বলেছি আর অবশ্যই আবারও বলবো। এই বিদ্রোহর জন্য হিন্দুদের প্রতি তোমার আচরণও কিছুটা দায়ী। তুমি কি দেখতে পাচ্ছ না, যদি তুমি আরো সহিষ্ণুতা দেখাতে, তাহলে সাম্রাজ্য শাসন করাটা আরো স্বচ্ছন্দ হত, আর তুমি আর রাজপুতদের মতো তোমার প্রজারা, উভয়েই আরো সন্তুষ্ট থাকতে?

    ‘শাসনের সাথে স্বাচ্ছন্দ্য আর সন্তুষ্টির কী সম্পর্ক? ন্যায় আর কর্তব্য হচ্ছে এখানে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

    ‘আমি তো কর্তব্যের কথাই বলতে চাচ্ছি–ভালোভাবে শাসন করার কর্তব্য, তোমার অধীনস্থ সমস্ত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা, শুধু কিছু মানুষকে শাস্তি দেওয়া কিংবা কেউ কেউ যেমন বলে নির্যাতন করা নয়।’

    যারা শাস্তি পাওয়ার যোগ্য নয় তাদেরকে আমি কখনও শাস্তি দেই না।’

    ‘পৃথিবী সম্পর্কে তোমার ধারণা কখন এত শীতল হল? একজন সম্রাট হিসেবে তোমার অনেক ভালো কিছু করার ক্ষমতা আছে। তারপরও তুমি কেবল ছায়া ছড়াতে পছন্দ করছে। আমার কথায় তুমি কষ্ট পেলে আমি দুঃখিত, তবে এখানে তোমার মা থাকলে তিনিও একথা বলতেন। তুমি অতি সহজে নিন্দা করতে পার, তবে প্রশংসা করার বেলায় বেশ ধীর…এমন রুঢ় আর ক্ষমাহীন আচরণ কর যে, তোমার ছেলেরাসহ লোকজন সবাই তোমাকে ভয় পায়। সেজন্যই তারা মন খুলে কথা বলে না কিংবা সুপরামর্শও দেয় না। আজ্ঞাবহ মানুষের মতো কেবল তোমার কথায় সায় দেয়।

    আওরঙ্গজেব কিছু বললেন না। এতে সাহস পেয়ে জাহানারা আবার বলতে শুরু করলেন, ‘দয়া কর আওরঙ্গজেব–যদি তুমি দেখ যে আকবরকে ক্ষমা করা কঠিন, তাহলে এই বিদ্রোহ দমন করতে যাতে রক্তপাত না হয় সেজন্য যা কিছু তুমি করতে পার কর। আমাদের পরিবার আবার ভেঙ্গে টুকরা টুকরা হোক। আমি আর তা সহ্য করতে পারবো না। যত চেষ্টাই করুন তার গলা ভেঙ্গে গেল, একটু দয়া কর, আমি তোমার কাছে ভিক্ষা চাচ্ছি…’।

    জাহানারা আপনার মনের অবস্থা আমি বুঝি। আপনি সারা জীবন আমাদের পরিবারকে এক করে রাখার চেষ্টা করে কাটিয়েছেন। আমি সেটা জানি, যদিও অনেক সময় তা প্রকাশ করি নি। তবে, যাইহোক, এতটুকু বলার পর আওরঙ্গজেব একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তারপর বললেন, যা ঘটছে তার জন্য আমার দোষ খুঁজতে গিয়ে আপনি একজন পুরুষের জগৎ সম্পর্কে একজন নারীর অজ্ঞতার সাথে প্রতারণা করছেন। আমি সম্রাট আর আমাকে একাই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তা যতই বেদনাদায়ক হোক। আকবর আর তার বিধর্মী মিত্রদেরকে কোনো ধরনের দয়ামায়া দেখানো হবে না, তাদেরকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। একটু থামলেন, তারপর চোখ নামিয়ে মেঝের দিকে তাকিয়ে গলার স্বর নরম করে বললেন, এই বিষয় নিয়ে আর তর্ক-বিতর্ক করা অনর্থক বরং আমরা উভয়েই কষ্ট পাব। তার চেয়ে ভালো হয় যদি আপনি দয়া করে আপনার ঘরে ফিরে যান।’ জাহানারা উঠে ধীরে ধীরে কামরা থেকে বের হয়ে গেলেন। নিজের ঘরে ফিরে মনে সান্ত্বনা পাওয়ার জন্য একটি সুফিবাদের বই তুলে নিলেন। তবে তাঁর দুই-চোখ ভরে পানি চলে আসায় বইয়ের শব্দগুলো ঠিকমত দেখতে পারছিলেন না। সারাটি জীবন তিনি তাঁর পরিবারকে এক করে রাখার চেষ্টা করে এসেছেন আর বার বার ব্যর্থ হয়েছেন। শাহজাহান আর মমতাজ সারাজীবন পরস্পরকে ভালোবেসে আর একসাথে দুঃখ-কষ্ট ভোগ করে কাটিয়েছিলেন, অথচ তাঁদের সন্তানদের একদিন এই পরিণতি হবে কে তা ভেবেছিল?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য সাইলেন্ট পেশেন্ট – অ্যালেক্স মাইকেলিডিস
    Next Article এম্পায়ার অভ দ্য মোগল : দ্য সার্পেন্টস্ টুথ – অ্যালেক্স রাদারফোর্ড

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }