Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ট্রেন টু পাকিস্তান – খুশবন্ত সিং

    খুশবন্ত সিং এক পাতা গল্প260 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২.১ কলিযুগ

    কলিযুগ

    সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকে মানো মাজরার দৈনন্দিন জীবনধারায় সময়সূচীর পরিবর্তন দেখা গেল। ট্রেনের যাতায়াত অনিয়মিত হলো, আবার অনেক ট্রেন রাতে যাতায়াত শুরু করল। অনেক সময় মনে হতো ঘড়ির এলার্ম যেন অসময়ে বাজছে! ঘড়িতে চাবি দেয়ার কথাও যেন আর কারও মনে থাকছে না। প্রথমে ডেকে দেয়ার জন্য ইমাম বখশ অপেক্ষা করে থাকেন মিত সিং-এর আহবানের জন্য। আবার ঘুম থেকে ওঠার জন্য মিত সিং অপক্ষো করে থাকেন মুয়াজ্জিনের আজানের অপেক্ষায়। সাধারণ লোকের ঘুম থেকে উঠতেই দেরি হয়ে যায়। তারা বুঝতে পারে না যে, সময়ের পরিবর্তন হয়েছে এবং মেইল ট্রেন হয়ত আর চলবে না। কখন খেতে হবে শিশুরা তা ভুলে গিয়ে যখন তখন খাবার খেতে চাইল। সন্ধ্যার দিকে সবাই সূর্য ডোবার আগে ঘরে ফিরে আসে এবং এক্সপ্রেস ট্রেন, যদি কখনও আসে, আসার আগেই তারা ঘুমিয়ে পড়ে। মাল ট্রেনের যাতায়াত বন্ধ হয়েছে। ফলে তাদের ঘুমের ব্যাঘাত আর হচ্ছে না। কিন্তু গভীর রাতে বা খুব ভোরে ভূতুড়ে ট্রেনের যাতায়াতে মানো মাজরার লোকের স্বপ্নের ব্যাঘাত ঘটতে শুরু করল।

    এখানেই শেষ নয়। গ্রামের জীবনযাত্রায় আরও পরিবর্তন ঘটেছে। এক ইউনিট শিখ সৈন্য রেল স্টেশনের কাছে তাঁবু ফেলেছে। ব্রিজের কাছে সিগন্যাল খুঁটির পাশে তারা বালির ব্যাগ দিয়ে ছয় ফুট উচু নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে চতুর্দিক তাক করে মেশিনগান বসিয়েছে। সশস্ত্ৰ পাহারা বসানো হয়েছে স্টেশনে। গ্রামের লোকদের রেলিং-এর ভিতরে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। দিল্লী থেকে আগত সব ট্রেন এখানে থামে। এসব ট্রেনের চালক ও গার্ড বদল করে ট্রেন পাকিস্তানের দিকে যায়। পাকিস্তান থেকে আগত ট্রেনের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ব্যবস্থা রয়েছে।

    একদিন সকালে পাকিস্তান থেকে একটা ট্রেন এসে মানো মাজরা স্টেশনে থামল। প্রথম দৃষ্টিতে মনে হলো, শান্তির সময় যে ধরনের ট্রেন যাতায়াত করত, এটাও সেই ধরনের ট্রেন। ছাদের ওপর কেউ বসে নেই। দুই বগির মধ্যে ফাঁকা জায়গায় কেউ বসে বা দাঁড়িয়ে নেই। পা-দানিতে দাঁড়িয়ে কেউ ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করছে না। কেমন যেন নতুন ধরনের ট্রেন! ট্রেনটা দেখলে কেমন যেন অস্বস্তি লাগে। ভূতের মতো। প্লাটফরমে দাঁড়ানোর পর ট্রেনের শেষ দিক থেকে একজন গার্ড নেমে এসে সোজা স্টেশন মাস্টারের কামরার দিকে গেল। দুজন লোক সৈন্যদের ক্যাম্পে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত অফিসারের সাথে কথা বলল। এরপর সৈন্যদের ডাকা হলো এবং স্টেশনের আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল এমন লোকদের মানে৷ মাজরায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হলো। একজন লোককে মোটর সাইকেলে করে চন্দননগরে পাঠানো হলো। প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে সাব- ইন্সপেক্টর সাহেব পঞ্চাশ জন সশস্ত্ৰ পুলিশ নিয়ে স্টেশনে এলেন। তাদের আসার পর পরই হুকুম চাঁদ তাঁর আমেরিকান গাড়ি নিয়ে স্টেশনে হাজির হলেন।

    দিনের বেলায় একটা ভূতুড়ে ট্রেনের আগমনকে কেন্দ্র করে মানো মাজরায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হলো। গ্রামের লোকেরা তাদের ছাদের ওপরে দাঁড়িয়ে দেখতে চেষ্টা করল স্টেশনে কি হচ্ছে। তারা শুধু দেখতে পেল স্টেশনের এক মাথা থেকে অন্য মাথা পর্যন্ত ভূতুড়ে ট্রেনের ছাদের কালো অংশ। স্টেশন বিল্ডিং ও রেলিং-এর জন্য ট্রেনের কিছু অংশ দেখা গেল না। মাঝে মাঝে দেখা গেল একজন সৈন্য বা পুলিশ স্টেশন থেকে বেরিয়ে আসছে আবার ভিতরে ঢুকছে।

    বিকেলের দিকে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে কিছু লোক ঐ ট্রেনটা নিয়ে আলোচনা করতে লাগল। তারা সব পিপুল গাছের তলায় জমায়েত হলো এবং একে একে সবাই গুরুদুয়ারায় গিয়ে উপস্থিত হলো। মহিলারা বিভিন্ন বাড়িতে গিয়েছিল কিছু সংবাদ সংগ্রহের আশায়। তারা যে সব কথা শুনেছে সেই সময় তারা তা বলেও এসেছিল। অতঃপর তারা সব জমায়েত হলো গ্রামের সর্দারের বাড়িতে। কিন্তু ট্রেন নিয়ে কোন সঠিক তথ্য জানতে না পেরে তারা যে যার বাড়িতে গিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল বাড়ির পুরুষদের আগমন অপেক্ষায়। তাদের কাছ থেকে যদি কিছু জানা যায়, এই আশায়।

    মানো মাজরায় কোন অস্বাভাবিক কিছু ঘটলে এ ধরনের চাঞ্চল্য দেখা যায়। মেয়েরা গিয়েছিল গ্রামের সর্দারের বাড়িতে। আর পুরুষরা গিয়েছিল গুরুদুয়ারায়। গ্রামে কোন স্বীকৃত নেতা ছিল না। গ্রামের সর্দার বানতা সিং ছিলেন একজন রাজস্ব সংগ্ৰাহক-ল্যামবরদার। কয়েক শতাব্দী ধরে এই পদটি তার পরিবারের লোকেরাই পেয়ে আসছে। অন্যের তুলনায় তার বেশি জমিজমাও নেই। অন্য কোন দিক থেকে সে কারও চেয়ে বড়ও নয়। এ পদের জন্য তার কোন গর্বও ছিল না। গ্রামের অন্য চাষীর মতো সে একজন পরিশ্রমী চাষী মাত্র। কিন্তু যেহেতু সরকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের লোক যে কোন বিষয়ে তার সাথে আলোচনা করে, সেহেতু তার একটা সরকারী মর্যাদা আছে। এজন্য কেউ তার নাম ধরে ডাকে না। তার পিতা, দাদা, পরদাদা বা তার ওপরের দাদাকে লোকে যেমন লামবারদারা সাহেব বলে ডাকত, তাকে লোকে তেমনি সম্বোধন করে।

    গ্রামের এই বৈঠকে মুখ খুললেন মসজিদের ইমাম বখশ ও ভাই মিত সিং! ইমাম বখশ একজন তাঁতী। পাঞ্জাবে তাঁতীদের নিয়ে ঠাট্টা করা হয়। তাদের মেয়েলি ও ভীতু স্বভাবের লোক বলে বিবেচনা করা হয় এবং বলা হয় তারা অসতী স্ত্রীর স্বামী। এদের মেয়েরা পরপুরুষের সাথে মেলামেশায় অভ্যস্ত। কিন্তু ইমাম বখাশের বয়স ও ধর্মপরায়ণতার কারণে সবাই তাকে সম্মান করে। তাঁর পরিবারে একাধিক দুঃখজনক ঘটনার কারণে সবাই প্রথমে তাঁকে সমবেদনা জানোত, এখন ভালবাসে। তাঁর স্ত্রী ও পুত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে মারা যায়। তাঁর চোখ কোন সময় ভাল ছিল না। কিন্তু হঠাৎ তা এমনই খারাপ হয়ে যায় যে, সে তাঁত বুনতে অক্ষম হয়ে পড়ে। সে পরিণত হয় ভিক্ষুকে। ছোট মেয়ে নূরানই তাঁকে দেখাশোনা করে। মসজিদেই সে দিনরাত পড়ে থাকে। আর মুসলমান ছেলেমেয়েদের কোরআন পড়া শেখায়। কোরআনের আয়াত লিখে সে গ্রামের লোকদের তাবিজ বানিয়ে দেয়। নানা রোগের জন্য পানিপীড়া দেয়। গ্রামের লোকেরা তাঁকে যে আটা, শাক-সবজি, খাবার, পুরান কাপড় দেয় তাতেই তাঁর ও তাঁর মেয়ের চলে। ইমাম বখশ খুব সুন্দর সুন্দর উপাখ্যান ও প্রবাদ জানেন। গ্রামের চাষীরা এসব তাঁর কাছ থেকে শুনতে খুবই ভালবাসে। তাঁর চেহারা এমন কমনীয় যে, লোকে তাঁকে সম্মান করে। লম্বা পাতলা গড়ন। টাক মাথা। সাদা দাঁড়ি পরিপাটি করে ছাঁটা। মাঝে মাঝে তিনি তাতে মেহেদী রং লাগায়। চোখের ছানিতে একটা রহস্যময় দার্শনিকের অভিব্যক্তি ধরা পড়ে। ষাট বছর বয়স হলেও তাঁকে শক্ত সমর্থ দেখায়। সব কিছু মিলিয়ে তিনি একজন মর্যাদাবান ব্যক্তিত্ব। তাঁর ধাৰ্মিকতার সুনাম সবার কাছেই। গ্রামের লোকদের কাছে তাঁর পরিচিতি ইমাম বখশ বা মসজিদের মোল্লা নয়। চাচা হিসাবেই তিনি সবার কাছে পরিচিত।

    মিত সিং-এর প্রতি লোকের অতটা শ্রদ্ধা-ভালবাসা ছিল না। তিনি ছিলেন। একজন কৃষক। কাজ থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য তিনি ধর্মকে বেছে নিয়েছেন। তার সামান্য কিছু জমি ছিল। তা তিনি বর্গা দেন। জমির সামান্য আয় এবং গুরুদুয়ারায় প্রাপ্ত নৈবদ্য দিয়ে তাঁর আরামেই চলে। তাঁর স্ত্রী বা ছেলেমেয়ে নেই। তিনি ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত নন, বা ধর্মালোচনায় তার গভীর পাণ্ডিত্য নেই। তার চেহারাও তাঁর পেশার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বেটে, মোটা ও লোমযুক্ত তাঁর দেহ। তাঁর বয়স ইমাম বখশর মতোই। কিন্তু ইমাম বখশের দাড়িতে যে পবিত্রতার ভাব দেখা যায়, মিত সিং-এর দাড়ি দেখতে তা মনে হয় না। মিত সিং-এর দাড়ি কালো, মাঝে মাঝে পাকা দাড়ি দেখা যায়। অপরিচ্ছন্নভাবেই তিনি থাকেন। তিনি যখন পবিত্র গ্রন্থ পড়েন তখনই মাথায় পাগড়ি বাঁধেন। অন্য সময় তিনি তাঁর লম্বা চুলে গিরে দিয়েই চলাফেরা করেন। তাঁর প্রায় অর্ধেক চুল ঘাড়ের ওপরই পড়ে থাকে। জামা তিনি প্রায় পরেনই না। তাঁর একমাত্র পরিধেয় বস্ত্র হলো এক জোড়া হাফ প্যান্ট, তাও আবার তেল চিটাচিট ময়লা। কিন্তু মিত সিং শান্তিপ্রিয় মানুষ। ইমাম বখশের প্রতি তার যে ভালবাসা আছে তা আমলিন হয়নি কোন কারণে। ইমাম বখশ কোন বিষয়ে কোন প্রস্তাব দিলে তিনি তা নিজের সম্প্রদায়ের লোকদের বলার জন্য ব্যাকুল হন। তাঁদের আলোচনায় বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার প্রবাহ সৃষ্টি হয়।

    গুরুদুয়ারায় অনুষ্ঠিত ঐ বৈঠকের পরিবেশ ছিল হতাশাজনক। সাধারণ লোকের বলার বিশেষ কিছু ছিল না। যারা কিছু বলছিল, তাদের কথার ধরন ছিল ভবিষ্যদ্বক্তার মতো। ইমাম বখশই আলোচনার সূত্রপাত করলেন, আল্লাহ দয়া করুন। আমাদের এখন দুঃসময়।

    কয়েকজন লোক দুঃখের নিঃশ্বাস ত্যাগ করে বলল, হ্যাঁ এখন দুঃসময়।

    মিত সিং আলোচনায় যোগ দিলেন। হাঁ। চাচা। এটা কলিযুগ, অন্ধকার যুগ।

    বেশ কিছুক্ষণ নীরবে কাটল। অস্বস্তির মধ্যে অনেকে নিজের নিতম্ব চুলকাতে লাগল। কেউ কেউ হাই তুলে মুখ বন্ধ করে খোদার কাছে প্রার্থনা জানাল, ইয়া আল্লাহু, ওয়া গুরু ওয়া গুরু।

    সরদার সাহেব, ইমাম বখশ আবার শুরু করলেন, কি ঘটছে। আপনার তো জানা উচিত। ডেপুটি সাহেব আপনাকে ডেকে পাঠালেন না কেন?

    আমি কি করে জানব চাচা? তিনি যখন ডাকেন তখনই আমি যাই। তিনি এখন স্টেশনে। সেখানে তো কাউকে যেতে দিচ্ছে না।

    একজন যুবক গ্রামবাসী চীৎকার করে উল্লাসের ভঙ্গিতে বলল, আমরা এখনই মরে যাচ্ছি না। কি ঘটছে তা শীগগির আমরা জানতে পারব। এটা একটা ট্রেন ছাড়া তো আর কিছু না। এর মধ্যে হয় সরকারী মাল আর না হয় অস্ত্ৰ আছে। এজন্য তারা পাহারা দিচ্ছে। তোমরা কি শোননি যে, অনেকের সব কিছু লুঠ হয়েছে?

    চুপ করা, যুবকটির শাশ্রুমণ্ডিত পিতা ক্রুদ্ধভাবে তাকে তিরস্কার করল। যেখানে প্রবীণরা আছে, সেখানে তোমার কথা বলার প্রয়োজন কি?

    আমি শুধু…

    বাস্, আর কোন কথা নয়। দৃঢ়ভাবেই যুবকটির পিতা বলল। কিছু সময় আর কেউ কথা বলল না।

    ইমাম বখশ দাড়িতে হাত বুলাতে বুলাতে ধীর কণ্ঠে বললেন, আমি শুনেছি, ট্রেনে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে।

    উপস্থিত সকলের কাছে দুৰ্ঘটনা শব্দটি উৎকণ্ঠার উদ্রেক করল। হ্যাঁ, অনেক দুৰ্ঘটনার কথা আমিও শুনেছি, মিত সিং তাঁর কথার সমর্থন করলেন।

    ইমাম বখশ যে বিষয়ের অবতারণা করেছিলেন, সেই বিষয়ে আলোচনার পরিসমাপ্তি ঘটানোর উদ্দেশ্যে বললেন, আমরা কেবল খোদার দয়া প্রার্থনা করতে পারি।

    খোদার দয়া প্রার্থনায় মিত সিং পিছনে পড়ে রইলেন এমন চিন্তা না করেই তিনি বললেন, ও গুরু, ও গুরু।

    তারা সব চুপচাপ বসে রইল। মাঝে মাঝে ইয়া আল্লাহ, ও গুরু শব্দে নীরবতা ভঙ্গ হলো। তাই জমায়েতের বাইরে যে সব লোক ছিল, তারা মেঝের ওপরই ঘুমিয়ে পড়ল।

    হঠাৎ একজন পুলিশ গুরুদুয়ারার সামনে এসে উপস্থিত হলো। সরদার ও অন্য চারজন লোক তাকে দেখে দাঁড়াল। যারা ঘুমিয়ে ছিল তাদের খোঁচা দিয়ে ওঠানোর চেষ্টা করা হলো। যারা তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিল তারা চোখ মেলে বিস্ময় প্রকাশ করে বলল, কি ব্যাপার? কি হলো? অতঃপর তারা তাড়াতাড়ি মাথায় পাগড়ি বেঁধে নিল।

    গ্রামের সর্দার কে?

    বানতা সিং দরজার কাছে এলেন। পুলিশ তাঁকে এক পাশে নিয়ে গিয়ে কানে কানে কিছু বলল। বানতা সিং ফিরে আসতেই পুলিশটি জোরে জোরে বলল, তাড়াতাড়ি, আধা ঘন্টার মধ্যেই। স্টেশনের মাঠে দু’টো আর্মি ট্রাক আছে। আমি ওখানেই থাকব।

    পুলিশটা বেশ দ্রুততার সঙ্গেই স্থান ত্যাগ করল।

    গ্রামের লোকেরা বানতা সিংকে ঘিরে ধরল। গোপন তথ্য জানতে পারায় তাঁকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি মনে হলো। তাঁর কথায় কর্তৃত্বের ভাবও ফুটে উঠল।

    তোমাদের ঘরে যে কাঠ ও বাড়তি কেরোসিন তেল আছে তা নিয়ে স্টেশনের কাছে ট্রাকের কাছে যাও। কাঠ ও তেলের জন্য তোমাদের টাকা দেয়া হবে।

    গ্রামবাসী অপেক্ষা করে রইল কেন তারা ঐ কাজ করবে তা জানার জন্য। বানতা সিং কড়া সুরেই আদেশ দিলেন, তোমরা কি কালা? আমার কথা তোমরা শোন নি? না তোমরা চাও যে, তোমাদের না যাওয়ার জন্য পুলিশ তোমাদের পাছায় চাবুক মারুক? যাও, তাড়াতাড়ি কর।

    গ্রামবাসীরা পরস্পরের সাথে ফিস ফিস করে কথা বলতে বলতে গ্রামের ছোট গলি পথের দিকে চলে গেল। সরদার নিজেও তাঁর বাড়ির দিকে ছুটলেন।

    কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা কাঠের বোঝা ও কেরোসিনের বোতল নিয়ে স্টেশনের পাশে এসে জমায়েত হতে শুরু করল। পাশাপাশি দু’টো বড় সামরিক ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল। একটা কাঁচা দেয়ালের ধারে লাইন করে পেট্রোলের খালি টিন রাখা ছিল। সেখানে একজন শিখ সৈন্য স্টেনগান হাতে পাহারারত ছিল। অন্য একজন শিখ সামরিক অফিসার একটা ট্রাকের পিছন দিকে বসে পা দোলাচ্ছিলেন। তার দাড়ি পরিপাটি করে পাকানো। অন্য ট্রাকে কাঠ বোঝাই করা তিনি লক্ষ্য করছিলেন। গ্রামবাসীর সম্ভাষণে তিনি মাঝে মাঝে মাথা নত করছিলেন। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন সরদার। তিনি কে কতটা কাঠ এনেছে তা লিখে রাখছিলেন। ট্রাকে কাঠ ও খালি টিনে কেরোসিন তেল ঢালার পর গ্রামবাসীরা ঐ অফিসারের কাছ থেকে সামান্য দূরে দাঁড়িয়ে রইল।

    ইমাম বখশ তাঁর মাথায় করে যে কাঠ এনেছিলেন তা ট্রাকে তুলে দিলেন। যে কেরোসিন তেল এনেছিলেন তা সরদারের হাতে দিলেন। মাথার পাগড়ি ঠিক করে বেঁধে নিয়ে তিনি উচ্চ স্বরে বললেন, সালাম সরদার সাহেব।

    অফিসারটি অন্যদিকে তাকিয়ে রইলেন।

    ঈমাম বখশ পুনরায় বললেন, সবকিছু ঠিক আছে তো সরদার সাহেব?

    অফিসারটি তার দিকে কটমট করে তাকিয়ে রুক্ষ মেজাজে বললেন, এখন যান। দেখছেন না আমি ব্যস্ত আছি।

    ইমাম বখশ তখনও তাঁর পাগড়ি ঠিক করছিলেন। অফিসারের কথা শুনে তিনি মৃদু পায়ে গ্রামবাসীর দলে মিশে গেলেন।

    দু’টো ট্রাক ভর্তি হওয়ার পর অফিসারটি বানতা সিংকে পরদিন সকালে টাকা নেয়ার জন্য ক্যাম্পে আসতে বললেন। ট্রাক দু’টো ধুলো উড়িয়ে স্টেশনের দিকে চলে গেল।

    আগ্রহী গ্রামবাসীরা সরদারকে ঘিরে ধরল। তিনি অনুভব করলেন যে, ইমাম বখশকে যে অপমান করা হয়েছে তার জন্য তিনি কিছুটা দায়ী। তার নিচুপতার কারণে গ্রামবাসীরা অধৈর্য হয়ে পড়ল।

    সরদার সাহেব, আপনি আমাদের কিছু বলছেন না কেন? আপনি কি মনে করেন যে, আপনি বড় একটা কিছু হয়ে গেছেন এবং সেজন্য আমাদের সাথে কথা বলছেন না, মিত সিং রাগের সাথেই বললেন।

    না ভাই না। আমি কিছু জানলে তোমাদের কাছে বলব না কেন? তোমরা শিশুর মতো কথা বলছি। সৈন্য ও পুলিশের সাথে আমি কি করে তর্ক করব? তারা আমাকে কিছুই বলেনি। তোমরা দেখলে না, ঐ শুয়োরের বাচ্চাটা কিভাবে চাচার সাথে কথা বলল? প্রত্যেকের সম্মান তার নিজের হাতে। পাগড়ি খুলে দিয়ে আমি কেন নিজেকে অপমানিত করব?

    ইমাম বখশ তাঁর বক্তব্যের সমর্থন করলেন, সরদার ঠিকই বলেছে। তোমার কথা বলার সময় কেউ যদি চিৎকার করে তাহলে চুপ থাকাই ভাল। চল বাড়ি ফিরে যাই। তোমাদের বাড়ির ছাদ থেকেই তোমরা দেখতে পাবে তারা কি করছে।

    গ্রামবাসীরা তাদের নিজ নিজ ঘরে গিয়ে ছাদের ওপরে উঠে কিছু দেখার চেষ্টা করল। সেখান থেকেই স্টেশনের কাছে ক্যাম্পের ধারে ট্রাক দু’টো দেখা গেল। সেখান থেকে ট্রাক দু’টো রেল লাইনের পাশ দিয়ে পূর্বদিকে গেল। ট্রেনের সিগনাল খুঁটি ছাড়িয়ে বাঁ দিকে মোড় নিয়ে ট্রাক দু’টো রেল রাস্ত পার হয়ে আবার বাঁদিকে মোড় নিল। অতঃপর স্টেশনের দিকে এসে ট্রাক দু’টো ভূতুড়ে ট্রেনের পাশে হারিয়ে গেল।

    সারা বিকাল ধরে গ্রামবাসীরা ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে এ ওকে জিজ্ঞস করল কেউ কিছু দেখতে পেয়েছে কিনা। এই উত্তেজনার মাঝে তারা তাদের দুপুরের খাবার তৈরি করতেও ভুলে গেল। মায়েরা তাদের শিশুদের আগের দিনের বাসি জিনিস খাওয়াল। ঘরের মাঝে অগ্নিকুণ্ড জ্বালাতে মেয়ের ভুলে গেল। পুরুষরা ভুলে গেল তাদের গৃহপালিত পশুকে খাবার দিতে, এমন কি সুন্ধ্যা এগিয়ে এলেও তাদের দুধ দোহনের কথা স্মরণ হলো না। সত্যি সত্যি যখন ব্রিজের খিলানের নিচে সূর্য ডুবে গেল তখনই তাদের দৈনন্দিন কাজ সম্পাদন না করার কথা স্মরণ হলো। অন্ধকার ঘনিয়ে আসলেই শিশুরা খাবার খাওয়ার বায়না ধরবে। কিন্তু স্টেশনের দিকে তখনও দাঁড়িয়ে আছে মহিলারা। যদি কিছু দেখা যায়, এই আশায়। গোয়ালে গরু ও মহিষের ডাক শোনা গেল মাঝে মাঝে। কিন্তু পুরুষরা তখনও ছাদে দাঁড়িয়ে স্টেশনের দিকে তাকিয়ে আছে। সবাই আশা করছিল কিছু একটা ঘটার।

    শেষে সূর্য ডুবে গেল ব্রিজের ওপারে। আকাশের সাদা মেঘ তামা, কমলা ও পাটল বর্ণ ধারণ করল। সন্ধ্যা গোধূলি এবং গোধূলি অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়ার সাথে সাথে আকাশের ঐ সব রং একটা ধূসর আভায় আচ্ছাদিত হলো। স্টেশনকে মনে হলো একটা কালো দেয়াল। ক্লান্ত হয়ে পুরুষ ও মেয়ের ছাদ থেকে ঘরের আঙ্গিনায় নেমে এলো। অন্যকেও তারা ছাদ থেকে নেমে আসার পরামর্শ দিল। নিজে বঞ্চিত থেকে অন্য কেউ কোন ঘটনা প্রত্যক্ষ করুক, এটা কেউ চাইল না।

    উত্তর দিকের আকাশে নীলাভ ধূসর আভা ক্রমেই কমলা রং ধারণ করল। ঐ কমলা রঙয়ের আভা প্রথমে তামাটে এবং পরে উজ্জ্বল পাটল বর্ণ ধারণ করল। অন্ধকার আকাশে আগুনের লেলিহান শিখা উর্ধ্বমুখী দেখা গেল। গ্রামের ওপর দিয়ে মৃদু বায়ু বয়ে যেতে লাগল। এই বায়ুতে প্রথম ভেসে এলো কেরোসিন পোড়ার গন্ধ, তারপর কাঠ পোড়ার গন্ধ এবং সব শেষে ভেসে এলো মূৰ্ছা যাওয়ার মতো কটু মানুষ পোড়ার গন্ধ।

    সমস্ত গ্রামটা মৃত্যুর নীরবতার মতো যেন নীরব হয়ে গেল। কেউ কাউকে কি ঘটছে তা জিজ্ঞাসা করল না। তারা সবাই বুঝতে পেরেছে। এ ধরনের ঘটনা তাদের কারও অজানা নেই। ট্রেনটা পাকিস্তান থেকে এসেছে, এ কথার মধ্যেই সবার অবগতির গূঢ় অর্থ নিহিত ছিল।

    মানো মাজরার ইতিহাসে ঐ সন্ধ্যায় প্রথমবারের মতো খোদার প্রশংসা ধ্বনি ইমাম বখশের কণ্ঠে আকাশে-বাতাসে ধ্বনিত হলো না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনোরা – হেনরিক ইবসেন
    Next Article পাঞ্চজন্য – গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }