Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ট্রেন টু পাকিস্তান – খুশবন্ত সিং

    খুশবন্ত সিং এক পাতা গল্প260 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২.৩ বর্ষাকালের শুরু

    বর্ষাকালের শুরু কথাটার অন্য শব্দ বৃষ্টি নয়। এর মূল আরবী শব্দের অর্থ ঋতু বা কাল। সেই হিসাবে বলা যায় গরমকাল, শীতকাল। কিন্তু গরমকালের পর দক্ষিণপশ্চিম বায়ু শুরু হলে যে মৌসুমের সৃষ্টি হয়। সেই মৌসুমকে বলা যায় বর্ষা ঋতু। শীতকালেও সাধারণত বৃষ্টি হয়। কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ঠাণ্ডা বৃষ্টির ধারা দেখা যায়। এতে মানুষ ঠাণ্ডা অনুভব করে এবং শীতে কাঁপতে থাকে। শস্যের জন্য শীতকাল উত্তম হলেও মানুষ এর সমাপ্তির জন্য প্রার্থনা করে। সৌভাগ্যবশত এর স্থিতিকাল বেশি দিন থাকে না।

    গ্ৰীষ্মকালের বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ পৃথক। এর আগে কয়েক মাস ধরে সব কিছু এমনভাবে শুকিয়ে যায় যে, বৃষ্টি আসলে গভীরভাবে এবং আরাম করে তা পান করে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ থেকে সূৰ্য ক্রমশ উত্তপ্ত হয় এবং বসন্তকাল বর্ষাকালের পথকে প্রশস্ত করে দেয়। ফুল শুকিয়ে ঝরে পড়ে। সেখানে সৃষ্টি হয় ফুল গাছের। প্রথমে জঙ্গলে দেখা যায় কমলা রঙের আভাযুক্ত বৃষ্টি, কোরাল গাছের সিঁদুরে রং এবং বীজ থেকে উখিত সাদা শ্যামল পাতা। তারপর শ্যামল পাতার ওপর লাল রঙের পোকা, আড়ম্বরপূর্ণ গোলমোহর গাছ ও সোনালী জলপ্রপাতের মতো নরম সোদাল ফুলের গাছের সমারোহ। এসব গাছের ফুল একদিন ঝরে পড়ে। পাতাও ঝরে পড়ে। পাতা-ফুলহীন এসব গাছের ডালপালা আকাশের দিকে উথিত থেকে যেন পানির প্রত্যাশা করে। কিন্তু পানি পাওয়া যায় না। অতি ভোরেই সূর্য যেন পূর্ব আকাশে উঠে মাটি চুষে নেয়ার আগেই ভোরের শিশির বিন্দুকে শুকিয়ে নেয়। মেঘশূন্য ধূসর আকাশে সারা দিন ধরে সূর্য তার প্রখর কিরণ ছড়িয়ে দেয়। ফলে শুকিয়ে যায় কুয়া, স্রোতধারা ও হ্রদ। ঘাস ও ছোট ছোট ঝোপ-জঙ্গল সূর্যের উত্তাপে উত্তপ্ত হয় এবং এক সময় তাতে আগুন ধরে যায়। এ আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং শুষ্ক বন পুড়ে ছাই হয়ে যায় দেশলাইয়ের কাঠির মতো।

    দিনের পর দিন অবিরামভাবে সব কিছু ঝলসিয়ে দেয়ার ব্ৰত নিয়ে সূর্য পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে ঢলে পড়ে। মাটিতে ফাটল দেখা দেয়। বড় বড় ফাটল হা করে আকাশের দিকে তাকিয়ে যেন পানির প্রত্যাশা করে। কিন্তু পানি নেই কোথাও। শুধু দেখা যায় দুপুরে মরীচিকোসম হ্রদের ওপর কুজুটিকার ঝিকিমিকি আভা-এক দিক থেকে অন্য দিকে দ্রুত পালিয়ে যায়। গরিব গ্রামবাসীরা তাদের মৃতপ্রায় তৃষ্ণাৰ্ত পশুগুলোকে বাইরে নিয়ে যায় পানি খাওয়ানোর জন্য। ধনী লোকেরা চোখে সানগ্লাস পরে। তারা প্রখর সূর্যের তাপ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আঁশযুক্ত চিকের পিছনে আশ্রয় নেয়। পরিবেশকে ঠাণ্ড রাখার জন্য ঐ চিকে তাদের ভৃত্যরা পানি ঢেলে দেয়।

    সূর্যের সাথে মৃদু বায়ুর যেন একটা গভীর সম্পর্ক আছে। বাতাস গরম না হওয়া পর্যন্ত সূর্য তাতে তাপ দেয় এবং উত্তপ্ত বাতাসকে সূর্য পাঠিয়ে দেয় নিজের অস্তিত্বকে প্রমাণ করতে। প্রশ্বর উত্তপ্ত আবহাওয়ায় এই লুহাওয়া কেমন যেন একটা আনন্দঘন অনুভূতির প্রকাশ ঘটায়। এই গরমে ঘামাচি হয়। দেহ অলস হয়ে পড়ে এবং ঘুমে চোখ বুজে আসে। এমন সময় স্ট্রোকও হতে পারে। আর তা হলে এমন নিঃশব্দে জীবন প্ৰদীপ নিভে যায়। যেমন কীটা গাছে আটকানো একটা নরম আঁশ মৃদুমন্দ বাতাসে উড়ে নিচে পড়ে যায়।

    এরপর মিথ্যা প্রত্যাশার কাল। বাতাস কিছুটা ঠাণ্ডা হয়। লুহাওয়া অনুভূত হয় না। দক্ষিণ সীমান্ত বলয়ে দেখা যায় একটা কালো পাহাড় সামনের দিকে এগিয়ে আসছে। মাথার ওপর শত শত ঘুড়ি ও কাককে উড়তে দেখা যায়। বৃষ্টি আসছে কি..? না, এটা ধূলিঝড়। আকাশ থেকে যেন বালি পড়তে থাকে। পঙ্গপালের দুৰ্ভেদ্য পাহাড় যেন সূর্যকে ঢেকে ফেলে। গাছে ও ক্ষেতে যা কিছু আছে, সব কিছুই তারা ধ্বংস করে দেয়। এর পরেই আসে ঘূর্ণিঝড়। একটা আঘাতেই বন্ধ দরজা ও জানালা খুলে যায়। বাতাসের ঘূর্ণায়মান গতির কারণে দরজা-জানালা বন্ধ হয়, আবার খুলে যায়। জানালা-দরজার কাঁচ ভেঙ্গে টুকরা টুকরা হয়ে যায়। খড় বা টিনের চাল নিমেষে কাগজের টুকরার মতো আকাশে উড়ে যায়। গাছ শিকড় সমেত উপড়ে পড়ে ইলেকট্রিক লাইনের তারের ওপর। ছেড়া তারে ছোঁয়া লাগার কারণে মানুষ মারা যায়। বাড়িতে আগুনও লেগে যায়। এক বাড়ির আগুন ছড়িয়ে অন্য বাড়িতে লাগে। সব কিছু ঘটে যায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই। চক্রবর্তী রাজা গোপালাচারী-এই শব্দ কটা উচ্চারণ করার আগেই সব ঘটনা শেষ হয়ে যায়। আকাশে ভাসমান ধুলো আস্তে আস্তে বই, আসবাবপত্র ও খাদ্যের ওপর পড়ে। চোখ, কান, গলা ও নাকের মধ্যেও ধুলো ঢুকে যায়।

    বৃষ্টির আশা ত্যাগ না করা পর্যন্ত এ ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের পুনরাবৃত্তি ঘটে চলল। তাদের মোহমুক্তি ঘটল। তারা তৃষ্ণাৰ্ড, ঘর্মাক্ত ও বিষন্ন হয়ে পড়ল। তাদের ঘাড়ের ওপর ঘামাচিকে মনে হয় শিরিশ কাগজের মতো। এ সময় তাদের সান্ত্বনা পাওয়ার মতো আরও একটা ঘটনা ঘটল। সর্বত্র বিরাজ করল বিস্ময়কর নীরবতা। এ সময় শোনা গেল এক ধরনের পাখির অদ্ভুত ভীক্ষ ডাক। জঙ্গলের শীতল বাসা থেকে এ পাখি এখন সূর্যের আলোয় এলো কেন? ক্লান্ত দৃষ্টিতে লোকে জীবনহীন আকাশের দিকে তাকায়। হ্যাঁ, ঐ পাখির সাথে তার একটা সাখীও আছে। পাখি দু’টো দেখতে সাদা-কালো বুলবুল পাখির মতো, তাদের আছে উদ্ধত কুঁটি ও লম্বা লেজ। লোমশ ভরা উদ্ধত কুঁটির এই কোকিল উড়ে এসেছে সুদূর আফ্রিকা থেকে, বর্ষা আসার আগেই। কিছুটা কি ঠাণ্ড বাতাস অনুভূত হচ্ছে না? বৃষ্টি ভেজা সঁ্যাতসেতে মাটির গন্ধ কি পাওয়া যাচ্ছে না? মেঘের গর্জনে কি পাখির ডাক মিলিয়ে যাচ্ছে না? আকাশের অবস্থা দেখতে লোকেরা দৌড়ে ছাদে চলে গেল। একই ধরনের কালো মেঘ পূর্ব দিক থেকেও ভেসে আসতে দেখা গেল। এক ঝাক বক মেঘের পাশ দিয়ে উড়ে গেল। এক ঝলক বিদ্যুতের চমকে দিনের আলো নিম্প্রভ হয়ে গেল ক্ষণিকের জন্য। কালো মেঘের একটা আস্তরণ সূর্ষের নিচ দিয়ে ভেসে গেল। ঘন ঐ মেঘের ছায়া বেশ স্পষ্টভাবেই এসে পড়ল মাটির ওপর। আর একবার বিদ্যুতের ঝালকানি এবং তার পরেই কয়েক ফোঁটা বৃষ্টির পানি শুকনো মাটিতে পড়েই শুকিয়ে গেল। শুকনো মাটিতে বৃষ্টি পড়ার পর বৃষ্টিভেজা গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ল। আর একবার বিদ্যুতের ঝলক এবং ক্ষুধার্ত ব্যান্ত্রের মতো মেঘের ডাক। অবশেষে বৃষ্টি এলো। যেন বিস্তীর্ণ জলরাশি, ঢেউয়ের পরে ঢেউ। লোকগুলো মেঘের দিকে মুখ ফিরিয়ে প্রবল বৃষ্টির ফোঁটায় সারা দেহকে ভিজিয়ে নিল। স্কুল ও অফিস বন্ধ হলো। সব কাজ থেমে গেল। পুরুষ, মহিলা ও শিশুরা পাগলের মতো রাস্তায় ছোটাছুটি করল। হাত তুলে হো হো শব্দ করে আনন্দ প্রকাশ করল।

    বর্ষাকালের বৃষ্টি সাধারণ বৃষ্টির মতো নয় যে, এলো আর গেল। একবার বৃষ্টি শুরু হলে তা দুমাস বা তার বেশি সময় ধরে থাকে। বর্ষার বৃষ্টি সাদরে গৃহীত হয়। দলে দলে লোক বনভোজনের জন্য বেরিয়ে পড়ে, আমগাছের নিচে পাথর ও পাতার ওপর খড়কুটো বিছিয়ে দেয়। গাছের ডালে চড়ে মহিলা ও শিশুরা দোল খায়। সারাটা দিন খেলা করে, গান গেয়ে কাটিয়ে দেয়। ময়ূরাগুলো পেখম তুলে সদৰ্পে তার সঙ্গীদের সাথে ঘুরে বেড়ায়। ওদের ভীষ্ম চিৎকার বনে প্রতিধ্বনিত হয়। কিন্তু কিছুদিন পর উৎসাহের এই প্ৰাবল্যে ভাটা পড়ে। বিস্তীর্ণ এলাকা কাদা ও জলাভূমিতে পরিণত হয়। কুয়ো ও জলাশয় পানিতে পূর্ণ হয়ে ছাপিয়ে পড়ে। শহর এলাকার নর্দমা বন্ধ হয়ে পানির স্রোত উপচে পড়ে রাস্তার ওপর। গ্রামে মাটির দেয়াল দেয়া কুঁড়েঘর পানিতে গুলো গিয়ে ঘরের চাল ভেঙ্গে পড়ে ঘরের বাসিন্দাদের ওপর। গ্ৰীষ্মকালে সূর্যের প্রখর তাপে বরফ গলা শুরু হলেও বর্ষার সময় নদীতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে কন্যা ঘটায়। রাস্তা, রেললাইন, পুল পানির নিচে চলে যায়। নদী তীরের ঘর-বাড়ি নদীতেই বিলীন হয়ে যায়।

    বর্ষার মৌসুমে জীবন-মৃত্যুর প্রবাহও বৃদ্ধি পায়। প্রায় এক রাতেই জমিতে ঘাস গজায়, পাতাহীন গাছ ধারণ করে সবুজ রং। সাপ, বিছা, কাঁকড়া এমনিতেই জন্মে যায়। কেঁচো, গুবরে পোকা এবং ছোট ছোট ব্যাঙ মাটিতে ছড়িয়ে থাকে এলোমেলোভাবে। রাতে অসংখ্য পতঙ্গ আলোর চারপাশে ছড়িয়ে থাকে। খাবার জিনিস ও পানিতে তাদের উপস্থিতি দেখা যায়। পেট না ভরা পর্যন্ত টিকটিকি নানা ধরনের পতঙ্গ গিলতে থাকে এবং এক সময় তা সিলিং থেকে মেঝোয় পড়ে যায়। ঘরের মধ্যে মশার শুন শুন ধ্বনি মানুষকে পাগল করে দেয়। এসব থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য লোকে কীটনাশক ছিটায়। ফলে মৃত পতঙ্গের স্তুপ পড়ে যায় মেঝের ওপর। পরদিন সন্ধ্যায় আলোর চারপাশে একই ধরনের পতঙ্গের উপস্থিতি দেখা যায়। আগুনের শিখায় ভোরা মৃত্যুকে বরণ করে।

    বর্ষাকালে কোন আগাম নোটিস না দিয়েই বৃষ্টি শুরু হয় এবং তা আবার থেমে যায়। আকাশে মেঘ উড়ে বেড়ায়। হিমালয়ে যাওয়ার আগে ঐ মেঘ সমতল ভূমিতে খুশিমতো বৃষ্টি ঝরায়। পর্বতে ওঠার সময় মেঘ শীতল হওয়ার পূর্বে শেষতম পানির বিন্দুটিও ধারায় ফেলে দেয়। বিদ্যুতের চমক ও মেঘের গর্জন অবশ্য কখনও শেষ হয় না। এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় আগস্টের শেষে বা সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিকে। এরপর বর্ষাবিদায় নেয় শরৎ মৌসুমের জন্য।

    অবিরাম মেঘের গর্জনে হুকুম চাঁদের ঘুম ভেঙ্গে গেল। তিনি চোখ খুললেন। কামরার মধ্যে দেখলেন ধূসর আলো। ঘরের কোণায় একটা ল্যােম্প জ্বলছিল মিট মিট করে। চিমনি থেকে যে আলো বিজুব্রিত হচ্ছিল তা পুরো ঘরকে আলোকিত করার মতো যথেষ্ট ছিল না। একবার বিদ্যুতের ঝলকানি এবং ভার পরে মেঘের গর্জন শোনা গেল। ঘরের মধ্য দিয়ে বয়ে গেল ঠাণ্ড ও ভেজা বাতাস। বাতাসের ঝাপটায় আলোর শিখা কেঁপে উঠে নিভে গেল। ছন্দায়িত শব্দে বৃষ্টির ফোঁটা ঝরতে লাগল। অবিরামভাবে।

    বৃষ্টি। অবশেষে সত্যি বৃষ্টি এলো। ভাবলেন ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব। বর্ষার এ মৌসুমে বৃষ্টি হয় নি। আকাশে মেঘ দেখা দিয়েছে কিন্তু তা ছিল অনেক ওপরে। তাও আবার জমাট বাঁধা মেঘ নয়। ফলে তা সহজেই বাতাসে উড়ে গেছে। তৃষ্ণার্তা পৃথিবী আরও তৃষ্ণার্ত হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে বৃষ্টি শুরু হওয়ার অর্থ বৃষ্টি খুব দেরিতে হয়েছে। সম্ভবত সেই কারণেই এই বৃষ্টিকে সবাই স্বাগত জানিয়েছে। এই বৃষ্টির সুবাস ভাল, এর শব্দ ভাল, একে দেখতেও ভাল এবং সর্বোপরি এর উপকারিতা অনেক ভাল। কিন্তু সত্যি কি ভাই? হুকুম চাঁদের মধ্যে চঞ্চলতা দেখা গেল। মৃতদেহগুলো! হাজারখানেক মৃতদেহ পোড়ানোর শব্দ ও আগুনের ধোঁয়া বৃষ্টির পানিতে নিভে গেল। তাঁর কাছ থেকে মাত্ৰ শত গজ দূরেই রয়েছে মৃতদেহগুলো। তাঁর কপালে ঘাম দেখা দিল। তিনি শীত অনুভব করলেন। ভয়ও পেলেন। বিছানার অপর পারে গিয়ে দেখলেন, মেয়েটিও নেই। বাংলোয় তিনি একই ছিলেন। বালিশের তলা থেকে হাতঘড়ি নিয়ে ডায়ালের ওপর গোল করে হাত রাখলেন। রেডিয়াম দেয়া ঘড়ির কাটায় তখন সাড়ে ছটা বাজার নির্দেশ করছে। তিনি অনেক সময় বিশ্রাম নিয়েছেন। বেশ আগেই সকাল হয়েছে। আকাশ হয়ত মেঘে ঢাকা, তাই অনুমান করা যায়নি। বারান্দায় কে যেন একজন কেশে উঠল। কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়ে তিনি একটা ঝাঁকি দিয়ে উঠে বসলেন।

    তাঁর মাথা ব্যথা করছিল। চোখ বন্ধ করে তিনি দু’হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরলেন। আস্তে আস্তে মাথা ব্যথার উপশম হলো। তিনি হুইস্কি পান করেছিলেন অনেক, কিন্তু খাবার কিছুই খাননি। কয়েক মিনিট পরে চোখ খুলে তিনি কামরার চারদিকে তাকিয়ে দেখলেন। দেখলেন ঐ মেয়েটিকে। সে চলে যায়নি। হাতলযুক্ত বড় বেতের চেয়ারটায় সে ঘুমিয়ে রয়েছে, তার গায়ে জড়ানো জরি দেয়া কালো শাড়ি। হুকুম চাঁদ নিজের কাছেই অপরাধী বোধ করলেন। মেয়েটি দু’টো রাত এখানেই আছে এবং দু’টো রােতই সে ঘুমিয়ে কাটিয়েছে ঐ বেতের চেয়ারটায়। প্রায় মড়ার মতো পড়ে আছে সে। শুধু শ্বাস-প্ৰশ্বাসের সাথে বুকটা ওঠানামা করছে। তাঁর মনে হলো তিনি বৃদ্ধ এবং অপবিত্র। এই বালিকার সাথে তিনি কিভাবে ঐসব কাজ করতে পেরেছেন ঃ তাঁর মেয়ে বেঁচে থাকলে সেও প্রায় ঐ বয়সের হতো। স্বীয় অপরাধের জন্য তাঁর অনুশোচনা হলো। তিনি এ কথা জানেন যে, তাঁর এই অনুশোচনা ও উত্তম সিদ্ধান্ত বেশিক্ষণ স্থায়ী থাকে না। এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে। সম্ভবত তিনি আবার মন্দ পান করবেন, ঐ মেয়েকেই তিনি কাছে ডাকবেন, তার সাথেই রাত কাটাবেন এবং সেজন্য আবার দুঃখ প্ৰকাশ করবেন। এটাই জীবন এবং এটাই হতাশা।

    তিনি আস্তে আস্তে উঠে দাঁড়ালেন। টেবিলের ওপর রাখা এ্যাটাচি কেন্সটা খুললেন। এ্যাটাচি কেসের ঢাকনার ভিতর দিকে লাগানো আয়নায় তিনি নিজেকে ভাল করে দেখলেন। দুচোখের কোণায় তিনি দেখলেন হলদে রঙের পিচুটি। মাথার চুলের গোড়া সাদা ও বেগুনি রং ধারণ করেছে। শৌভ না করা থুতনির নিচে দেখা গেল মাংসের কয়েকটি ভাঁজ। সত্যি তিনি বৃদ্ধ হয়েছেন, দেখতেও তেমন সুশ্ৰী নন। তিনি। জিহ্বা বের করে দেখলেন। জিহ্বার মাঝ থেকে ওপরের দিকে দেখা গেল ফ্যাকাশে হলুদ রঙের আভা। জিহ্বার অগ্রভাগ থেকে কয়েক ফোঁটা পানি টেবিলের ওপর এসে পড়ল। তিনি নিজের শ্বাস-প্ৰশ্বাসের গন্ধও অনুভব করলেন। মেয়েটির নাসিকা গর্জনও শুনলেন তিনি। তার নাসিকা গৰ্জনে বিস্ময়ের কিছু নেই। সারা রাত সে একটা চেয়ারে ঘুমিয়েছে, চেয়ারটা আরামদায়কও নয়। যকৃতের জন্য উপকারী লবণ জাতীয় ওষুধের একটা বোতল বের করে হুকুম চাঁদ বড় চা চামচের কয়েক চামচ, ওষুধ একটা গ্লাসে ঢাললেন। থার্মোফ্রাস্কের মুখ খুলে গ্লাসে পানি ঢাললেন। গ্লাসে পানি ঢালার সাথে সাথে বুদ্ধদে গ্লাস ভরে উপচে তা টেবিলের ওপর পড়ল। বুদুন্দ পানিতে মিশে না যাওয়া পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করলেন এবং তারপর পুরো গ্লাসের ওষুধ পান করলেন। কিছু সময় ধরে তিনি মাথা কাত করে দাড়িয়ে রইলেন। টেবিলের ওপর হাত দু’টো ফেলে রাখলেন আলতোভাবে।

    লবণাক্ত ঐ ওষুধ পান করে তিনি বেশ আরাম বোধ করলেন। বড় রকমের একটা ঢেঁকুর তোলার পর তাঁর আরামের মাত্রা আরও বেড়ে গেল। মাথা ধরা ও ঘাড়ের ওপর চিন চিনা করে যে ব্যথা করছিল তাও আস্তে আস্তে সেরে গেল। এখন দরকার কয়েক কাপ গরম চা। তারপর তিনি তাঁর পূর্ব অবস্থায় ফিরে আসতে পারবেন। হুকুম চাদ বাথরুমে গিয়ে খোলা দরজার দিকে মুখ বাড়িয়ে বেয়ারার উদ্দেশে বললেন:

    শোভিংয়ের পানি নিয়ে এসো। এখানেই নিয়ে এসো।

    বেয়ারা আসলে হুকুম চাদ চায়েন্ন ট্রে ও শোভ করার জন্য গরম পানির মগটা বেড়ারুমে নিয়ে টেবিলের ওপর রাখলেন। নিজে এক কাপ চা ঢাললেন এবং শেডিং করার জিনিসপত্র বের করলেন। তিনি থুতনিতে শোভিংক্রিম ঘষে শেড় করার সময় দুএক চুমুক চা পান করলেন। চায়ের কাপে চামচের শব্দ মেয়েটির ঘুমের কোন ব্যাঘাত ঘটোল না। মুখটা সামান্য হয় করে সে ঘুমিয়ে রইল। তাকে প্রায় মড়ার মতোই দেখাচ্ছিল। শুধু নিশ্বাস নেয়ার সময় বুকটা উঁচু হচ্ছিল সামান্য। মনে হচ্ছিল তার স্তন দু’টো বডিসের খালি অংশ পূরণ করার লক্ষ্যে ওপরের দিকে উঠছিল। কিন্তু বৃথা তার ঐ চেষ্টা। তার সারা মুখে চুল এলোমেলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে। প্রজাপতির মতো দেখতে একটা চুলের ক্লিপ পড়ে রয়েছে চেয়ারের পায়ার কাছে। তার শাড়ির ভাঁজ এলোমেলো, শাড়িতে লাগানো চুমকি ছড়িয়ে রয়েছে মেঝের ওপর। হুকুম চাঁদ যখন চায়ে চুমুক দিতে দিতে শেভ করছিলেন, তখন মেয়েটির দিক থেকে চোখ ফেরাতে পারছিলেন না। ঐ মেয়ের জন্য নিজেকে তৈরি করা ছাড়া তিনি আর কিছু চিন্তা করতে পারছিলেন না। মেয়েটি যদি চায় তিনি তার সাথে ঘুমিয়ে থাকুন তাহলে তিনি তাই করবেন। এই চিন্তা তাঁকে অস্থির করে তুলন। মেয়েটির যোগ্য করে তুলতে তাকে আকুণ্ঠ পান করতে হবে।

    বারান্দায় কাশি ও পায়ের শব্দে হুকুম চাঁদের চিন্তা ভঙ্গ হলো। ঐ কাশি ছিল হুকুম চাঁদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য এবং ঐ কাজটা করলেন একজন সাবইন্সপেক্টর। হুকুম চাদ, চাপান শেষ করে কাপড় নিয়ে ঢুকলেন বাথরুমে, পোশাক পরিবর্তনের জন্য। কিছুক্ষণ পর বাথরুমের অন্য দরজা দিয়ে তিনি বারান্দায় এসে দাঁড়ালেন। সাব-ইন্সপেক্টর সাহেব, খবরের কাগজ পড়ছিলেন। তিনি তাকে দেখে চেয়ার থেকে উঠে স্যালুট করলেন।

    স্যার, এই বৃষ্টির মধ্যে, আপনি কি বাইরে হাঁটতে বেরুচ্ছেন?

    না না। আমি সার্ভেন্ট কোয়ার্টারের ঐ দিকটা একবার ঘুরে এলাম। বেশ সকালেই আপনি এলেন। আমার মনে হয় সব কিছুই ঠিক আছে।

    এ সময় বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া। কোথাও শান্তি নেই। একটার পর একটা গণ্ডগোল লেগেই আছে…।

    ম্যাজিষ্ট্রেট সাহেবের হঠাৎ করে মনে পড়ল ঐ মৃতদেহগুলোর কথা।

    রাতে কি বৃষ্টি হয়েছিল? রেল স্টেশনের পাশে সব কাজ কি ঠিকমত হয়েছে?

    সকালে বৃষ্টি শুরু হওয়ার সময় আমি ওখানে ছিলাম। সব কিছু পুড়ে যেতে বেশি কিছু বাকি নেই। ছাইয়ের একটা বড় টিবি দেখা যায়, ওতে কিছু হাড় পুড়তে এখনও বাকি আছে। এখানে ওখানে কিছু মাথার খুলি ছড়িয়ে আছে। এসব নিয়ে এখন কি করা যায় বুঝতে পারছি না। গ্রামের মাতব্বরকে অবশ্য নির্দেশ দিয়েছি কাউকে যেন ব্রিজ বা ক্টেশনের কাছে যেতে না দেয়া হয়।

    কতগুলো মৃতদেহ পুড়িয়েছেন? আপনি কি গুণে দেখেছেন?

    না স্যার। শিখ অফিসারটি বলছিল এক হাজারের বেশি মৃতদেহ ছিল। আমার মনে হয়, একটা বগিতে যে কজন লোক বসতে পারে তার ভিত্তিতে সে ঐ হিসাব করেছে। ট্রেনের ছাদ, পাদানি ও দুই বগির মাঝে যারা ছিল তাদের সংখ্যা চার-পাঁচ শ হবে বলে সে বলেছে। আক্রমণের সময় তারা পড়ে গেছে বলে তার ধারণা। ছাদে শুকনো রক্তের দাগ আছে।

    হরে রাম, হরে রাম। পনেরো শ নির্দোষ লোক। কলিযুগ আর কাকে বলে? দেশে একটা দুঃখজনক অধ্যায়ের সূচনা হলো। সীমান্তের এটা মাত্র একটা স্থান। অন্যান্য স্থানেও অনুরূপ ঘটনা ঘটছে বলে আমার ধারণা। আমার বিশ্বাস, আমাদের লোকেরাও এ ধরনের কাজ করছে। আশপাশের গ্রামের মুসলমানদের অবস্থা কেমন?

    ঐ কথা আমি আপনাকে জানাতে এসেছি স্যার। কয়েকটা গ্রামের মুসলমানরা উদ্বাস্তু ক্যাম্পে যেতে শুরু করেছে। চন্দননগর থেকে কিছু মুসলমানকে সরানো হয়েছে। খবর পাওয়া মাত্র বেলুচি ও পাঠান সৈন্য ভর্তি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর লরি তাদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মানো মাজরা গ্রামের মুসলমানরা এখনও গ্রামে। আছে। আজ সকালে চল্লিশ-পঞ্চাশ জনের একদল শিখ সীমান্তের নদী অতিক্রম করে গ্রামে এসে পৌঁছেছে। তাদের গুরুদুয়ারায় আশ্রয় দেয়া হয়েছে বলে গ্রামের সর্দার আমাকে জানিয়েছে।

    ওদের এখানে থামতে দেয়া হলো কেন? হুকুম চাঁদ জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি তো ভাল করেই জানেন যে, আগত উদ্বাস্তুদের অবশ্যই জলন্ধর উদ্ধাস্তু ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ আছে। এটা খুব সাংঘাতিক ব্যাপার। ওরা মানো মাজরায় হত্যাযজ্ঞ শুরু করে দিতে পারে।

    না স্যার। অবস্থা এখনও পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আছে। ঐ উদ্বাস্তুরা পাকিস্তানে খুব বেশি কিছু হারায় নি এবং বাহ্যত তারা পথে হয়রানির শিকার হয়নি। মানো মাজরার মুসলমানরা গুরুদুয়ারায় তাদের জন্য খাবার পাঠিয়েছে। যাদের আত্মীয়স্বজন গণহত্যার শিকার হয়েছে তাদের কেউ এলে পরিস্থিতি অবশ্য ভিন্ন রকম হয়ে দাঁড়াবে। সীমান্তের নদী হেঁটে পার হয়ে উদ্বাস্তু আসতে পারে, একথা আমার মাথায় আসেনি। সাধারণত বর্ষার সময় নদী প্রায় এক মাইল চওড়া হয়ে যায়। নভেম্বরডিসেম্বর মাসের আগে কেউ হেঁটে নদী পার হওয়ার চিন্তা করে না। এ বছর বৃষ্টি প্রায় হয়নি। নদীর কয়েকটা পয়েন্ট থেকে হেঁটে পার হওয়া যায়। নদী-সীমান্ত পাহারা দেয়ার মতো যথেষ্ট পুলিশ আমার কাছে নেই।

    হুকুম চাঁদ ডাকবাংলোর সামনে মাঠের দিকে তাকিয়ে রইলেন। অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরছে। ছোট ডোবাগুলো বৃষ্টির পানিতে ভরে গেছে। দিগন্ত বিস্তৃত আকাশ ধূসর হয়ে আছে।

    ঠিক আছে। বৃষ্টি হতে থাকলে নদীর পানি বেড়ে যাবে এবং লোকে আর নদী অতিক্রম করতে পারবে না। ব্রিজের কাছে বসেই শরণার্থীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ कला यादि।

    হঠাৎ বিদ্যুতের ঝলকানি এবং তার পরেই মেঘের ডাক। বৃষ্টির ধারাও যেন বেড়ে গেল। দমকা হাওয়ায় বৃষ্টির ছিটেফোঁটা বারান্দায় এসে পড়ল।

    এই এলাকা থেকে মুসলমানদের অবশ্যই সরিয়ে নিতে হবে। তারা এটা পছন্দ করুক বা না করুক। যত শীগগির এ কাজ করা যায় ততই মঙ্গল।

    আলোচনায় ছেদ পড়ল। বেশ কিছুক্ষণ ধরে কেউ কোন কথা বললেন না। দুজনেই বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে রইলেন। হুকুম চাঁদ আবার কথা বলতে শুরু করলেন।

    ঝড় শুরু হলে তা না থামা পর্যন্ত মাথা নত করে থাকাই শ্রেয়। মাঠের ঘাসগুলো দেখুন। মৃদুমন্দ বাতাসে এর ডগা হেলে পড়ছে বাতাসের গতির দিকে। কিন্তু এর গোড়া শক্ত হয়ে আছে গর্বিতভাবে। কিন্তু যখন ঝড় আসে তখন সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায়, বাতাসের গতির সাথে ঘাসের পাতাগুলোও ছড়িয়ে পড়ে এদিক ওদিক। একটু থেমে তিনি বললেন, জ্ঞানী লোকেরা স্রোতকে অনুসরণ করে সাঁতার দিয়ে কূলে ওঠে।

    সাব-ইন্সপেক্টর সাহেব বেশ মনোযোগ দিয়ে ঐ কথাগুলো শুনলেন। কিন্তু তাঁর সমস্যার সাথে ঐ কথার কোন তাৎপর্য আছে কিনা বুঝতে পারলেন না। তিনি যে কিছু বুঝতে পারেন নি সে কথা হুকুম চাঁদও তার শূন্য চাহনি দেখে বুঝে নিলেন। কথাগুলো তাঁর কাছে আরও সরলভাবে ব্যক্ত করা দরকার।

    রামলালের খুন সম্পর্কে আপনি কি করেছেন? এজন্য আর কাউকে গ্রেফতার করেছেন?

    হ্যাঁ স্যার। জুগ্‌গা বদমায়েশ গতকাল কয়েকজনের নাম বলেছে। এরা সবাই এক সময় তার দলের লোক ছিল। এরা হলো মাল্লি এবং আরও চারজন। এরা সবাই নদী থেকে প্রায় দুমাইল দূরে কাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তবে জুগ্‌গা তাদের সাথে ছিল না। ওদের গ্রেফতার করার জন্য আজ সকালেই আমি কয়েকজন কনষ্টেবলকে পাঠিয়েছি।

    হুকুম চাঁদ তাঁর কথা শুনলেন বলে মনে হলো না। বহু… বহু দূরে যেন তাঁর দৃষ্টি নিবন্ধ ছিল।

    জুগ্‌গা ও অন্য লোকটার প্রতি আমরা অন্যায় করেছি। ইন্সপেক্টর সাহেব বললেন, একজন মুসলমান তাঁতীর মেয়ের সাথে জুগ্‌গার একটা সম্পর্ক আছে, এ কথা আগে আপনাকে বলেছি। প্রায় রাতেই সে ঐ মেয়েকে নিয়ে ব্যস্ত থাকত। ডাকাতির পর মাল্লি জুয়ার বাড়ির আঙ্গিনায় ঐ চুড়ি ফেলে যায়।

    হুকুম চাঁদ তখনও ছিলেন অন্যমনস্ক।

    স্যার, আপনি যদি মত দেন তাহলে আমরা জুগ্‌গা ও ইকবালকে ছেড়ে দিতে পারি মাল্লি ও তার সঙ্গীদের পাওয়ার পর।

    মাল্লি ও তার সঙ্গীরা মুসলমান না শিখ? হুকুম চাঁদ অধৈর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন।

    ওরা সবাই শিখ।

    ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব পুনরায় চিন্তামগ্ন হলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি মনে মনে বললেন, ওরা যদি মুসলমান হতো তাহলে সুবিধা হতো সব দিক থেকে। লীগপন্থী ঐ লোকটা এবং ওদের দিয়ে মানো মাজরার শিখদের বোঝানো যেত তারা যেন গ্রামের মুসলমানদের চলে যেতে দেয়।

    আরও কিছুক্ষণ আলোচনায় বিরতি। সাব-ইন্সপেক্টর সাহেবের মনেও ঐ ধরনের একটা পরিকল্পনা খেলে গেল। তিনি কোন কথা না বলে উঠে দাঁড়ালেন। হুকুম চাঁদ কোন চান্স নিতে চাইলেন না।

    শুনুন। তিনি বললেন, মাল্লি ও তার সঙ্গীদের ধরার প্রয়োজন নেই। খাতায় তাদের নামও তুলবেন না। তবে তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখবেন। প্রয়োজন হলে আমরা তাদের গ্রেফতার করব। ঐ বদমায়েশ বা অন্য লোকটাকে এখন ছেড়ে দেবেন না। ওদের প্রয়োজন হতে পারে।

    ইন্সপেক্টর সাহেব স্যালুট করলেন।

    দাঁড়ান, আমি এখনও কথা শেষ করিনি। হুকুম চাঁদ তাঁর হাত তুলে ইশারা করলেন। প্রয়োজনীয় কাজ সেরে আপনি মুসলমান উদ্বাস্তু শিবিরের কমান্ডারের কাছে খবর পাঠাবেন, মানো মাজরার মুসলমানদের সরিয়ে নেয়ার জন্য তিনি যেন ট্রাক পাঠিয়ে দেন।

    সাব-ইন্সপেক্টর সাহেব। আর একবার স্যালুট করলেন। একটা জটিল ও সঙ্কটপূৰ্ণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হুকুম চাঁদ যে একজন বিশ্বস্ত লোকের ওপর ভার দিয়েছেন, সে সম্পর্কে তিনি পূর্ণ সচেতন ছিলেন। তিনি বর্ষতি চাপিয়ে দিলেন গায়ে।

    এই বৃষ্টির মধ্যে আমি আপনাকে যেতে দিতাম না। কিন্তু বিষয়টা এমনই জরুরী যে, আপনার সময় নষ্ট করা উচিত নয়। মাঠের দিকে তাকিয়ে হুকুম চাঁদ বললেন।

    আমি জানি স্যার। সাব-ইন্সপেক্টর সাহেব। আবার স্যালুট করলেন। আমি এখনই কাজ শুরু করছি। তিনি তাঁর সাইকেলে উঠে কর্দমাক্ত রাস্তা দিয়ে চলে গেলেন।

    আকাশের দিকে শূন্য দৃষ্টি মেলে হুকুম চাঁদ তাকিয়ে রইলেন। তখনও বৃষ্টি ঝরছিল আকাশ থেকে বিরামহীনভাবে। ঠিক বা ভুল সিদ্ধান্ত কোন সময় তাঁকে ভারাক্রান্ত করেনি। তিনি একজন ম্যাজিস্ট্রেট-কোন মিশনারি কাজ তার নয়। প্রতিদিনের সমস্যার উত্তর তাকে খুঁজতে হয়। অজানা পরিপূর্ণ উত্তরের সাথে সামঞ্জস্য বিধান করার প্রয়োজন তাঁর নেই। কি হতে পারে এমন ধরনের চিন্তার ঘটনা তার জানা নেই। কি ঘটছে। এটাই তিনি জানেন। জীবনকে তিনি নিয়েছেন স্বাভাবিকভাবে। একে নিজের মতো করে নিতে বা এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে তিনি চান না। ইতিহাসের বিবর্তনে মানুষ ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় অনেক অবদান রেখেছে। তার বিশ্বাস, তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে মানুষের সৎ প্রচেষ্টা থাকা দরকার। এসব তাৎক্ষণিক প্রয়োজন বলতে তিনি বোঝেন, বিপদে পড়লে কিভাবে জীবন রক্ষা করতে হয়, সামাজিক কাঠামো সংরক্ষণ, সমাজের রীতিনীতির প্রতি শ্ৰদ্ধা জ্ঞাপন ইত্যাদি। তার তাৎক্ষণিক কাজ হলো মুসলমানদের জীবন রক্ষা করা। যেভাবেই হোক তিনি সে কাজ করবেন। তাছাড়া এ যাবত তিনি কোন কাজই রাগের মাথায় করেন নি। তাঁর স্বাক্ষরে যে দুজন লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের অন্য কোন কারণেও গ্রেফতার করা যেত। একজন আন্দোলনকারী এবং অন্যজন অসৎ চরিত্রের লোক। সঙ্কটের সময় তাদের আটকে রাখাই শ্ৰেয়। কোন বড় কাজে যদি তার সামান্য ভুল হয় তাহলে সেই ভুলকে ভুল বলা ঠিক হবে না। হুকুম চাদ আনন্দ অনুভব করলেন। তাঁর পরিকল্পনা মোতাবেক যদি সব কাজ সুষ্ঠুভাবে হয়! সাল কিছুর নির্দেশ যদি তিনি নিজে দিতে পারতেন, তাহলে কোন অঘটন ঘটত না। তাঁর অধীনস্থ কর্মচারীরা তাঁর মনের কথা সব সময় বুঝতে পারে না বলেই তাঁকে মাঝে মাঝে জটিল অবস্থায় পড়তে হয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনোরা – হেনরিক ইবসেন
    Next Article পাঞ্চজন্য – গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }